এব্রাহাম লিঙ্কনের বক্তৃতাবলী
এব্রাহাম লিঙ্কনের
বক্তৃতাবলী
এই পুস্তিকার মলাটে মুদ্রিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শতম প্রেসিডেণ্ট এব্রাহাম লিঙ্কনের আবক্ষ মুর্তি। ছবিটি এঁকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চত্বাৱিংশতম প্রেসিডেণ্ট ডোয়াইট ডি, আইজেনহাওয়ার। তার বহু সখের মধ্যে একটি হচ্ছে ছবি আঁকা।
এব্রাহাম লিঙ্কনের বক্তৃতাবলী
একজন বিশিষ্ট আমেরিকানের
রচনা ও ভাষণের সংকলন
ভূমিকা
“আমরা এই স্থানে যাহা বলিতেছি পৃথিবীর জনসাধারণ তাহার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিবে না বা অধিককাল তাহা স্মরণেও রাখিবে না...”
১৮৬৩ সালের ১৯শে নভেম্বর পেনসিলভ্যানিয়ার অন্তর্গত গেটীসবার্গে এই ভাবেই গভীর বিনয়ের সহিত এব্রাহাম লিঙ্কন তাঁহার ভাষণ দিয়াছিলেন। ইহাই ছিল তাঁহার প্রকৃত বিশ্বাস। সেই বিশেষ স্থানে সেইমাত্র এক মহারণে মানুষ মৃত্যু বরণ করিয়াছে; সেই সমরই যেখানে গেটীসবার্গের নাম অক্ষয় করিয়া রাখিবে, সেখানে কি করিয়া আশা করা যায় যে জনসাধারণ তাঁহার কয়েকটি সামান্য কথা মনে করিয়। রাখিবেন?
কিন্তু লিঙ্কন এ ব্যাপারে ভুল করিয়াছিলেন। সেইদিন তিনি অনাড়ম্বরে যে কয়েকটি সহজ কথা বলিয়াছিলেন তাহা সত্যই দীর্ঘদিন যাবত স্মরণীয় হইয়া রহিয়াছে; এবং যতদিন পর্যন্ত গেটীসবার্গ বক্তৃতায় সংক্ষেপে এবং সুষ্ঠভাবে প্রকাশিত আদর্শ জনসাধারণ পোষণ করিয়া চলিবেন ততদিন পর্যন্ত, চিরকালই, তাহা স্মরণীয় হইয়া থাকিবে।
তাঁহার জীবদ্দশায় তিনি আরও যে সকল কথা বলিয়াছিলেন বা লিখিয়াছিলেন সেগুলিও যে “দীর্ঘদিন যাবত স্মরণীয় হইয়া থাকিবে” লিঙ্কন তাহা আশা করেন নাই—যেমন আশা করেন নাই গেটীসবার্গ বক্তৃতার ক্ষেত্রে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর সর্বাপেক্ষ। সঙ্কটজনক সময়ে প্রেসিডেণ্টরূপে থাকিয়া লিঙ্কন অবশ্যই জানিতেন যে তিনি ইতিহাসে এক অধ্যায় রচনা করিতেছেন। তিনি তাঁহার উপর ন্যস্ত বিরাট দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তাই দেশবাসীর উদ্দেশে বাণী দানের সময় তিনি সযত্নে শব্দ চয়ন করিয়। ভাষণ রচনা করিতেন। তিনি যখন যেখানেই বক্তৃতা করিতেন সেখানকার নরনারীর মনকে তাহ। স্পর্শ করিত।
যাহাতে তাঁহার। যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারেন এবং সেগুলি মানিয়া চলেন তজ্জন্য তিনি “জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা গঠিত, জনগণের সরকার”-এর প্রধান কার্যনির্বাহক হিসাবে তিনি তাঁহার স্বদেশবাসীদিগকে প্রভাবিত করিতে চেষ্টা করিতেন। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি বক্তৃতা দিতেন এবং লিখিতেন। কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নহে, সমগ্র বিশ্বেই আগামী কালের অসংখ্য নরনারী যে তাঁহার বাক্যাবলী পড়িবে, অনুশীলন করিবে এবং অনুধ্যান করিবে সেই ধারণা এই নিরহঙ্কার ব্যক্তির মনের কোন কোণে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না— তিনি কয়েক বৎসর পূর্বে এক বন্ধুকে লিখিয়াছিলেন, “আমি অকপটে বলিতে বাধ্য যে আমি নিজেকে প্রেসিডেণ্ট পদের উপযুক্ত বলিয়া মনে করি না।”
শুধুমাত্র প্রেসিডেণ্ট থাকাকালীন সময়েই নহে সমগ্র জীবন ব্যাপিয়া তিনি যাহা বলিয়াছেন বা লিখিয়াছেন প্রায় শতাব্দীকাল পূর্বে তাঁহার মৃত্যুর পর হইতে অদ্যাবধি সময় পর্যন্ত সে-সকলই সাগ্রহে সংগৃহীত হইয়া সযত্নে রক্ষিত হইয়াছে এবং প্রকাশিত ও পুনঃপ্রকাশিত হইয়াছে। তাঁহার একজন বিখ্যাত জীবনীকার, কার্ল স্যাণ্ডবার্গের উক্তি অনুসারে লিঙ্কনের মুদ্রিত বক্তৃতা এবং রচনাবলীতে মোট ১,০৭৮,৩৬৫টি শব্দ আছে।
লিঙ্কনের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী সমারোহ উপলক্ষে মার্কিন জনসাধারণের অন্যতম মহান উত্তরাধিকার, শব্দ এবং চিন্তার এই মহামূল্য খনি হইতে নির্বাচিত অংশবিশেষ এই পুস্তিকায় সন্নিবিষ্ট হইয়াছে।
লিঙ্কনের সম্পূর্ণ রচনাবলী সঙ্কলনের সম্পাদনায় খ্যাতিমান রয় পি, বেসলার-এর ভাষায় এগুলিতে প্রকাশিত হইয়াছে “মহান মন এবং হৃদয়ের মহিমা, যাহা নীতিতে ন্যায়পরায়ণতা, কার্যে সাধুতা এবং বাক্যে সৌন্দর্যের প্রত্যাশী। তাহাতে সৃষ্টিধর্মী চেতনা রূপ লাভ করিয়াছিল এবং তন্মধ্যেই ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকার বাস্তবতা জীবন লাভ করিয়া অদ্যাপি প্রাণবন্ত রহিয়াছে। লিঙ্কন এই বাস্তবতার সহিত ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত; তাঁহার প্রকাশভঙ্গী অননুকরণীয়। তাঁহার কথাগুলি সেহেতু এখনও স্মরণীয় রহিয়াছে। তাঁহার যুগের তিনি সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি— আদর্শ পুরুষ। ফলে আমরা যখন তাঁহাকে অনুধাবন করিতে যাই তখন তাঁহাকে অতীত দিনের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকারদের অপেক্ষা মহত্তর চরিত্ররূপে দেখি। সাধারণ নাগরিক এবং প্রেসিডেণ্ট হিসাবে তিনি যে সকল কাজ করিয়াছেন হয়ত কোন কালে সে সকলের বাস্তব তাৎপর্য ম্লান হইতে পারে; কিন্তু যে ভাস্বর আত্মা তাঁহার কথাগুলিকে উদ্ভাসিত করিয়া রাখিয়াছে, আমাদের তাঁহাকে বিস্মৃত হইলে চলিবে না, এবং তাঁহার মহত্ত্বকেও স্বীকার করিতে হইবে।”
দ্রষ্টব্য মিঃ রয় পি, রেসলারের উক্ত উদ্ধৃতিটি এরাহাম লিঙ্কন ও তাঁহার বক্তৃতা ও রচনাবলী: মিঃ বেসলার সম্পাদিত এবং দি ওয়ার্লড্ পাবলিশিং কোং কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তক হইতে তাহাদের অনুমতিক্রমে গৃহীত।
ডানদিকের ছবিটি জনৈক শিল্পী কর্তৃক অঙ্কিত, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন, ডি, সি’তে রক্ষিত লিঙ্কনের বীরোচিত মর্মর-মূর্তির প্রতিলিপি।
পরিচ্ছেদ (মূল গ্রন্থে নেই)
সূচীপত্র
এই লেখাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্গত কারণ এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রকাশিত কর্ম (১৭ ইউনাইটেড স্টেটস কোড ১০৫ দেখুন).
