বিষয়বস্তুতে চলুন

ওরা থাকে ওধারে

উইকিসংকলন থেকে

অজ্ঞাত লেখক
ওরা থাকে ওধারে

অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন রিলিজ

এস, এম, প্রোডাকসন্স্‌ নিবেদিত

ওরা থাকে ওধারে

ভূমিকায়:

মলিনা দেবী, সুচিত্রা সেন, বাণী গঙ্গোপাধ্যায়, অপর্ণা দেবী, মঞ্জুলা বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তম কুমার, ছবি বিশ্বাস, ধীরাজ ভট্টাচার্য, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, তুলসী চক্রবর্তী, বিজয় বসু, চন্দনকুমার, শরৎ চট্টোপাধ্যায়, জয়নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন ভট্টাচার্য, অনাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রভাস সরকার, সুহাস দেব এবং আরো অনেকে।

সংগঠনে:

রচনা, চিত্রনাট্য ও গান: প্রেমেন্দ্র মিত্র,

প্রযোজনা ও পরিচালনা: সুকুমার দাশগুপ্ত,

প্রধান যন্ত্রশিল্প: সরোজ মিত্র, চিত্রশিল্পী: বন্ধু রায়,

শব্দযন্ত্রী: সমর বসু, শিল্প নির্দ্দেশক: সত্যেন রায়চৌধুরী,

সুরসৃষ্টি: কালিপদ সেন, যন্ত্রীসংঘ: ক্যালকাটা অর্কেষ্ট্রা,

তড়িং নিয়ন্ত্রণ: দেবু মণ্ডল, রসায়নাগারাধ্যক্ষ: উমা মল্লিক,

সম্পাদক: বিশ্বনাথ মিত্র, দৃশ্যসজ্জা: ডি, এস. পিলাই,

রূপসজ্জ: বসন্ত দত্ত, স্থির চিত্র: সুবোধ দত্ত,

ব্যবস্থাপক: প্রবোধ সরকার

সহকারীবৃন্দ:

সহকারী পরিচালক: নীতীশ রায়, বিমল শী, বিজয় বসু,

চিত্রশিল্পী: বিজয় গুপ্ত, বিজয় রায়, সম্পাদক: প্রণব ঘোষ

দৃশসজ্জা: রবি ঘোষ, প্রফুল্ল মল্লিক, তড়িৎ নিয়ন্ত্রণ: ধীরেন দাশ

শব্দযন্ত্রী: অনিল দাশগুপ্ত, রসায়নে: অনিল মুখোপাধ্যায়, হারাধন দাশ, গোপাল ঘোষ, সুরেন জানা,

রূপসজ্জা: গণেশ দাশ, ব্যবস্থাপক: সমর বসু, মনু সেন, প্রভাস সরকার, বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য

—অরোরা ষ্টুডিওতে গৃহীত—

পরিবেশক: ডিল্যুক্স ফিল্ম ডিস্‌টিবিউটার্স লিঃ


ওরা থাকে ওধারে

দড়াম করে দরজাটা খুলে যায়।... ... ... ...

সামনে শিবদাস আর তার পেছনে সেলাই এর কল হাতে নেপাল,—“ভারী একটা ভাঙ্গা সেলাইএর কল তার আবার ফুটানি।” নেপাল পারলে বোধহয় ছুড়েই ফেলে দেয়! ‘আস্তে, মশাই আস্তে’ ও কল ভাঙ্গলে আপনাকে বিক্রি করেও দাম উঠবেনা। কথাটা বলেন এ বাড়ীর কর্ত্তা হরিমোহন বাবু—

‘কি কইলেন’ নেপাল রুখে দাড়ায়। ঝগড়াটা তারপর যথারীতি শেষ হয়। সেলাইএর কলের বদলে নেপাল নিজেদের ইলেকট্রিক ইস্ত্রিটা ওবাড়ির প্লাগ থেকে একরকম ছিঁড়েই নিয়ে আসে। হরিমোহন বাবুদের তরফ থেকে কার্ত্তিক তার শোধ নেয় র‍্যাশন ব্যাগটা এবাড়ি থেকে কেড়ে নিয়ে গিয়ে। তারপর দলাদলির টানাটানি চলে। শিবদাসের ছোট ছেলে নানু ও হরিমোহনের ছোটমেয়ে রিনি একসঙ্গে স্কুল থেকে গল্প করে ফিরতে না ফিরতেই দুধারের টানাটানিতে হচকচিয়ে যায়। এরপরে শিবদাসের ভাগনী মিলু আর হরিমোহন বাবুর বড় ছেলে চঞ্চলের পালা। এরকম ঝগড়া নতুন নয়। ঝগড়া যখন লাগে তখন মনে হয় নিচে ওপরে নামবার ওঠবার সিঁড়িটা এক না হলে দুধারের দুই ফ্ল্যাটের কেউ আর জীবনে কারুর মুখ দর্শন করতেন না।

এধারে থাকেন সপরিবারে শিবদাসবাবু—স্বামী-স্ত্রী, ছোটছেলে নানু, ভাগনী প্রমীলা ওরফে মিলু ও শ্যালক নেপাল। ওধারে থাকেন সস্ত্রীক হরিমোহন বাবু, বড়ছেলে চঞ্চল ও ছোটমেয়ে রিনি। একটি লঙ্কা ফোড়ন আছে দূর সম্পর্কের আত্মীয় কার্ত্তিক।

একদিকে খাস কলকাতিয়া অপরদিকে পদ্মাপার। ঝগড়ার পর শিবদাসবাবু দরজায় তালা দিয়ে সপরিবারে ষ্টেশনে কাকে আনতে যান।

যাঁকে আনতে গেছেন শিবদাসের দিদি সেই যশোদা দেবী এদিকে ট্রেণ আগে আসায় একলাই মোটঘাট নিয়ে বাড়িতে এসে হাজির। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রথম কলকাতায় এ বাড়ীতে আসছেন। ঢুকেছেন আবার হরিমোহনের বাসায়! কিন্তু তাতে বিশেষ ভ্রূক্ষেপ নেই তাঁর। দেখা যায় চিঠির মারফৎ এবাড়ির সবাই তাঁর বেশ পরিচিত। অবস্থাটা বেশ জটিল হয়ে পড়ে। যাদের সঙ্গে বাক্যালাপ বন্ধ তাঁদেরই আত্মীয়া বাড়িতে চড়াও। ফেরানও যায় না, অথচ হাসিমুখে খাতির করাও কঠিন ব্যাপার। এ অগ্নি-পরীক্ষা যখন চলছে তারই মধ্যে শিবদাস বাবুরা সপরিবারে ফিরে এসে শোনেন তাঁদেরই আত্মীয়া শত্রুপক্ষের ঘরে গিয়ে ওঠেছেন। কুরুক্ষেত্রের আর এক সংগ্রাম-পর্ব্ব শুরু হতেই কিন্তু একটু রক্তপাতেই একেবারে শান্তি পর্ব্বে পৌঁছায়। ঝগড়া হতে যতক্ষণ ভাব হতেও তাই। তখন একেবারে হরিহরাত্মা। কে তখন দেখলে বলবে খানিক আগে এখানেই যেন ফুটন্ত তেলে বেগুন পড়েছিল। সাধারণ মধ্যবিত্ত দুটি পরিবার। সুখে দুঃখে পরস্পরের সঙ্গে অভেদ্য ভাবে জড়ান। এ বাড়ির সেলাইএর কল আর ও বাড়ির ইলেকটিক ইস্ত্রি বদলাবদলি করে চলে। ভালো-মন্দ যা কিছু দু বাড়িতে ভাগাভাগি হয়। এ বাড়ির ছেলে ও বাড়ির মেয়েকে পড়ায়। হয়ত দু-বাড়ির সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট করবার সাধও পরস্পরের মনে মনে আছে। কিন্তু গড়ের মাঠের এক খেলায় সব বুঝি বানচাল হয়ে যায়। মাঠে বল নিয়ে কাড়াকাড়ি আর বেতারে তারই বর্ণনা শুনতে শুনতে দুবাড়িতে প্রায় মারামারি এবং ছাড়াছাড়ি।

বিপদ একলা আসে না।... ... ...

এরই সঙ্গে হরিমোহনের চাকরী যায়। পাওনাদারের অপমান অসহ্য হয়ে ওঠে। হরিমোহনবাবুদের লুকিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালান ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। খবরটা ওবাড়িতে অবশ্য পৌঁছায়—এবং তারপর যা হয় তা কাগজে পড়ার চেয়ে স্বচক্ষে দেখা ও স্বকর্ণে শোনাই ভাল।

গান

(১)


নানু—
হ্যালো! হ্যালো! হ্যালো!
ডাকতে ডাকতে প্রাণটা গ্যালো?
হ্যালো!
এমন করে’ ডাকলে
সাড়া দিত প্রাণ থাকলে
ইট পাথরের দ্যাল—ও
হ্যালো!
কানে রিসিভার
শুধু তোলাই সার
ওধার নির্ব্বিকার
যতই টেপো কিম্বা ঠ্যালো?
হ্যালো!
রিনি— নম্বর নিজ হ্যালো!
নানু— যাক্ তবু ভালো।
সিটি ওয়ান ও
আবার কি হোলো।
শেষ না হতে কোথায় গ্যালো!
হ্যালো!
(কড়র কড় কং)
(কড়র কড় কং)
নানু— এবার রেগে টং
দাঁড়িয়ে আছি সং
রিনি— নো রিপ্লাই সরি
নানু— বালাই নিয়ে মরি
মধুর বারতা শুনে প্রাণ জুড়ালো।
হ্যালো! হ্যালো!
ডাকতে ডাকতে গলা চিরে গ্যালো!
হ্যালো!
একি এযে অবাক!
শুনছি এ কার ডাক
আকুল মিনতি বুঝি পৌছালো।
না, না তা নয় হায়!
নুনের ছিটে কাটা ঘায়
রং নম্বর —আরেক দায়।
উঁহু—ব্যাপারটা আরো ঘোরালো।
রিনি— হ্যালো! হ্যালো!
নানু— শুনুন হ্যালো!
রিনি— গলাটা যেন কেমন শোনালো
কিন্তু তুমি বেশ
হঠাৎ নিরুদ্দেশ
আসল কথাটা কি বলে ফ্যালো।
নানু— বলছি, একটু ভুল...
বিলকুল বিলকুল!
কথাটা খুব সোজা
উচিত ছিল বোঝা
ঝরে গেলে জোড়া লাগে না ফুল।
নানু— আহা শুনুন বলি
রিনি— শুনব কি আর, চলি।
কেঁদে সোহাগ না চাওয়াই ভালো
নানু— হ্যালো!
দেখুন, এ বিলাপ যার জন্য
ধন্য সে জন ধন্য
ভাগ্য দোষে কিন্তু আমি অন্য
মার্জনা তাই চাই।
রিনি— ছি ছি কি লজ্জা
মরে যাই।
আগে বলতে হয় তাই।
নানু— সময় পেলাম কোথা ছাই!

দুজনে শোনরে অবুজ শোন
হেলাভরে যেন ধরিসনেকা ফোন।
নয়ক’ শুধু তার
আজগুবি কারবার
কার সাথে জট্‌ লাগবে কোথায়
দারুণ প্যাচালো।
হ্যালো! হ্যালো!

(২)


কেন, থেকে থেকে
আমারে দোলায়।
জানিনা সে কোন
সাগরের হাওয়া
ভোলায় সব ভোলায়।
তরী নই,
বলি আমি তরী নই,
তরু আমি তীরে শুধু বাধা রই
সে যে শোনে না
মানা মানে না
একে একে বন্ধন খোলায়।
কুলে যার বাধা আছে বাসা,
তার একি অকুলের পিপাসা!
যত ভাবি
তরু আমি তরী নই,
মানে কই
মন হায় মানে কই।
মাটি বেঁধে রাখে
সাগরের ঢেউ তবু হায় বুকে উথলায়।

(৩)


ওই আসে ওই আসে আসে ওই
দিকে দিকে শুনি তারই হৈ হৈ!

কোটালের বান ও কি, না তুফান
সাবধান ওরে সব সাবধান
যায় বুঝি ভেস্তে সব প্ল্যান
কত আর বলব পই পই।
আছে যারা ঘুমিয়ে
থাক্‌ না থাক্‌ না।
হাঁড়িতে যা থাকে থাক
মুখে থাক্‌ ঢাক্‌না।
দুম দুম তানা দ্রুম
তা না দ্রুম
ভেঙ্গে গেল কাঁচা ঘুম।
হুড়মুড় দুদ্দাড়
সব বুঝি ছারখার
ধা ধা ধিন ধা ধিন
দারুণ অপয়া দিন
আর সামলান ভার
নাই কোন পারাপার
কোথায় কলসি আন
দড়ি কই?


অরোরার পক্ষ হইতে শ্রীসত্যকিংকর রায় কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত এবং মহাজাতি আর্ট প্রেস, ১৩৬বি, আশুতোষ মুখার্জ্জী রোড, ভবানীপুর, কলিকাতা-২৫ হইতে মুদ্রিত।

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।