কবিতা (কেশবচন্দ্র কুণ্ডু)/বন ফুল

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন





বন ফুল।

কলিতে ফুটিয়া রয়েছে সে যে
কুসুম কানন মাঝে,
চারি ধারে কাঁটা, যাবে কে কাছে?
ঘুরে অলি ফিরিয়া গেছে!

কাননেতে ফুল নানান জাতি,—
 আলো করে আছে
 নানা রূপ গাছে
নানান রকম রূপেতে মাতি;
কেহই তাহার মতন নয়
বনের কুসুম হলে কি হয়?

ভুলিয়া সরম বেহায়া মেয়ে,
গোলাপ কি বেল জাতি কি জুঁয়ে
আছে বটে রূপ সেথায় লয়ে;
 থাকিলে কি হয়
 কে বা কবে লয়
খুঁজিয়া বাহার বেহায়া চেয়ে।

 বনের সে ফুল ফুল
 ফুল মাঝে ফুল
নামটি যেমন শুনিতে কানে
তেমনি সে রূপ তেমনি গুণে
 বনের সে ফুল
 বিকাশে মুকুল,
মুকুল বিকাশ দেখাতে রয়
কেহই তাহার মতন নয়!

কুসুমের রাণী কমল বটে
অদূর তড়াগে রয়েছে ফুটে,
হলেও সে রাণী হয় কি হয়?

ভ্রমরা যে এলে
ভয়ে দুলে দুলে
রবি চেয়ে কত কথা গো কয়
বনের সে ফুল তেমন নয়।

বোঝেনাক প্রেম কাহারে কয়,
আপন গরবে আপনি রয়;
নিদাঘে যখন
প্রখর তপন
ধরায় অনল ঢালিয়া দেয়,—
সুখের কুসুম শুখাতে রয়,
বনফুল শুধু হাসিতে থাকে,
নিদাঘেতে দুঃখ কি দিবে তাকে?

যতনে যে রয় অযতনে মরে,
দুখিনীর দুখে কে কবে কি করে,
তাপেতে শুখায়
সোহাগীরা হায়
ছখিনীর দুঃখ কিছুই নয়;
হাসি মুখে সে যে সকলি সয়।

কাঁটা গাছে ফুল জনম লয়ে
অযতনে জ্বালা নানান সয়ে,
যতনেতে রূপ লুকায়ে রাখি
বিরলেতে বসে একলা থাকি,
যুবতীর হৃদে
যেন ঘোর নিদে
হেলায় সে দুঃখ সহিয়া শত
লালসাবিহীন প্রেমের মত।

ফুটি ফুটি করি
ফুটিতে না পারি,
নীহারকণায় সান্ধ্য সমীরে,
দিনে দিনে শেষ আপনি বেড়ে,
যোগিনী সে হয়ে ফুলের মাঝে
ফুটেছিল যেন দেবের কাজে!