কমলাকান্তের দপ্তর (দ্বিতীয় সংস্করণ)/অষ্টম সংখ্যা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অষ্টম সংখ্যা । фрадицинамикрепиддиапишаф স্ত্রীলোকের রূপ। । অনেক ভামিনী রূপের গৌরবে পা মাটীতে দেন না। ভাবেন, যে দিক দিয়া অঙ্গ দোলাইয়া চলিয়া যান, লাবণ্যের তরঙ্গে সে দিকের সংজ্ঞা ডুবিয়া যায় ; নূতন জগতের স্বষ্টি হয়। তাহার মনে করেন, তাহাদের রূপের ঝড় যে দিকে বয়, সে দিকে সকলের ধৈর্য্য-চাল উড়িয়া যায়, ধৰ্ম্মকোটা ভাঙ্গিয়া পড়ে ; যখন পুরুষের মন-চড়ায় তাহাদের রূপের বান ডাকে, তখন তাহাদের কৰ্ম্ম-জাহাজ, ধৰ্ম্ম-পালী, বুদ্ধি-ডিঙ্গি, সব ভাসিয়া, যায়। কেবল সৌন্দৰ্য্যাভিমানিনী কামিনীকুলেরই এইরূপ প্রতীতি নহে ; পুরুষেরাও যখন মহিলাগণের মোহিনী শক্তির বশীভূত হইয় তাহাদিগের রূপের মহিমা বর্ণনারম্ভ করেন, তখন যে তাহারাও কি বলেন, ভাবিলে বিস্মিত হইতে হয়। তখন গগনের জ্যোতিষ্ক, পৃথিবীর পর্বত, পশু পক্ষী, কীট পতঙ্গ, লতা গুল্মাদি সকলকেই লইয়া উপমার জন্য টানাটানি পাড়ান—আবার, অনেককেই অপমানিত । করিয়া ফিরিয়া পাঠান। রূপসীর মুখমণ্ডলের সহিত তুলনা করিয়া প্তাহারা পূর্ণশশীকে নিমন্ত্রণ করিয়া, আবার মসীবৎ স্নান বলিয়া ফেরত পাঠান ; গরিব চাদ, আপনার কলঙ্ক আপনি বুকে করিয়া । রাতারাতি আকাশের কাজ সারিয়া পলায়ন । করে। সুন্দরীর ললাটের সিন্দূরবিন্দু দেখিয়া র্তাহার। উষার সীমন্ত-শোভা তরুণ তপনের নিন্দ করেন ; রাগে সূৰ্য্যদেব, পৃথিবী দগ্ধ করিয়া চলিয়া যান । রসময়ীর আস্যের হাস্যরাশি অবলোকন করিয়া প্রফুল্ল কমলে সৌর-রশ্মির লাস্য র বিকসিত কুমুদে কৌমুদীর মৃত্য র্তাহার। আর । ভালবাসেন না ; সেই অবধি কমল কুমুদে কীট পতঙ্গের অধিকার। কামিনীর কণ্ঠহার নিরীক্ষণ করিয়া তাহার। নিশার তারকামালার প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেন ; বোধ করি ভবিষ্যতে জৌতিষের । অনুশীলন ত্যাগ করিয়া, স্বর্ণকারের বিদ্যায় মন দিবেন। রঙ্গিণীর শরীর সঞ্চালনে তাহারা এত సాల কমলাকাত্তের 1 লাবণ্যলীলা বিলোকন করেন যে, জ্যোৎস্নাময়ী রজনীতে মন্দ মন্দ আন্দোলিত বৃক্ষপত্রে বা নিয়ত কম্পিত সিন্ধু-হিল্লোলে চন্দ্রিকার খেলায় তাহাদিগের আর মন উঠে না। এই জন্যই বা, রাত্রে নিদ্রা যান, এবং নীন্দীকে কলসী কলসী করিয়া শুষিতে থাকেন । আবার যখন রমণীর নয়ন বর্ণন করেন, তখন সরোবরের মলয়-মারুতে দোদুল্যমান নীলোৎপল দূরে থাকুক, বিশ্বমণ্ডলের কিছুই তাহাদিগের ভাল লাগে না। এই নারীমূর্তির স্তাবককুলের উপমানুভবশক্তির কিছু প্রশংসা করিতে হয়। এক চক্ষু, তাহাদিগের কল্পনাপ্রভাবে কখন পক্ষী, যথা খঞ্জন, চকোর ; কখন মৎস্য, যথা সফর ; কখন উদ্ভিদ, যথা পদ্ম, পদ্মপলাশ, ইন্দীবর ; কখন জড় পদার্থ, যথা আকাশের তারা । এক চন্দ্র, কখনও রমণীর মুখমণ্ডল, কখনও তাহার পায়ের নখর • উচ্চ কৈলাস-শিখর, এবং ক্ষুদ্র কোমল * অামার বিবেচনায় চন্ত্রের সহিত নখরের তুলনা অতি সুন্দর-কেন না উত্তম পদবিন্যাস হইতে পারে—যথা নখর নিকর হিমকর-করস্থিত কোকিল-কুজিত কুঞ্জকুটীরে — এটি আমার নিজের রচনা।—ইভীষ্মদেব। কমলাকাথের দপ্তর। । | s* কোরক, একেরই উপমাস্থল ; কিন্তু ইহাতেও । কুলায় না বলিয়া দাড়িম্ব, কদম্ব, করিকুস্ত এই বিষয় উপমাশূঙ্খলে বদ্ধ হইয়াছে । জলচর ক্ষুদ্র পক্ষী হংস, এবং স্থলচর প্রকাণ্ড চতুষ্পদ হস্তী, ইহাদিগের গমনে বৈষম্য থাকাই স্বাভাবিক উপলব্ধি ; কিন্তু কবিদিগের চক্ষে উভয়েই রমণী-কুলচরণ-বিন্যাসের অনুকারী। আবার যে সে হাতীর গমনের সহিত, এই হংসগামিনীদিগের গমনসাদৃশ্য নির্দেশ করা বিধেয় নহে; যে হাতী হাতীর রাজা, সেই হাতীর সঙ্গেই গজেন্দ্রগামিনীগণের গতি তুলনীয়। শুনিয়াছি হাতী, এক দিনে অনেক দূর যাইতে পারে ; অশ্বাদি কোন পশু তত পারে না । যাহাদিগকে দূরে। যাইতে হয়, তাহার এই গজেন্দ্রগামিনীদিগের পিঠে চড়িয়া যান না কেন ? যে দিকে রেইলওয়ে হয় নাই, সে দিকে বাছিয়া বাছিয়া গজগামিনী মেয়ের ডাক বসাইলে কেমন হয় ? : আমিও এক কালে কামিনী-ভক্ত কবিদলভুক্ত ছিলাম। আমি তখন এই অখিল সংসারে রমণীর ন্যায় সুন্দর বস্তু আর দেখিতে পাইতাম । ગ কমলাকাত্তের দপ্তর। اه না। চম্পক, কমল, কুন্দ, বন্ধুজীব, শিরশিকদম্ব, গোলাপ প্রভৃতি পুষ্পচয় তখন কামিনী-কান্তিগ্রথিত কুসুম-মালিকার ন্যায় মনোহর বোধ হইত না। বলিতে কি, বসন্তের কুসুমবতী বসুমতী অপেক্ষাও আমি কুসুমময়ী মহিলাকে ভালবাসিতাম ; বর্ষার উচ্ছসিত-সলিল চিররঙ্গিণী তরঙ্গিণী অপেক্ষাও রসবর্তী যুবতীর পক্ষপাতী ছিলাম। কিন্তু এক্ষণে আর আমার সে ভাব নাই। আমার দিব্যজ্ঞান হইয়াছে। আমি মায়াময়ী মানবীমণ্ডলের কুছক-জাল ছিন্ন করিয়া বাহির হইয়া পলায়ন করিয়াছি। জালিয়ার পচা জালে রাঘব বোয়াল পড়িলে, যেমন জাল ছিড়িয়া পলায়ন করে, আমি তেমনি পলায়ন করিয়াছি ; ক্ষুদ্র মাকড়সার জালে যেমন গুবরে পোকা পড়িলে জাল ছিড়িয়া পলায়ন করে, আমি তেমনি পলায়ন করিয়াছি ; তুরস্ত গোরু, এক বার দড়ি ছিড়িতে পারিলে যেমন উৰ্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করে, আমি তেমনি দৌড় মারিয়া পলায়ন করিয়াছি। সকলই আফিমের প্রসাদে ! ছে মাতঃ আফিম দেবি ! তোমার কৌটা অক্ষয় কমলাকাত্তের দপ্তর । నన হৌক । তুমি বৎসর বৎসর সোণার জাহাজে চড়িয়া চীন দেশে পূজা খাইতে যাও । জাপান, সাইবিরিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, সকলই তোমার অধিকারভুক্ত হৌক ; তোমার নামে দেশে দেশে দুর্গোৎসব হউক। কমলাকান্তকে পায়ে রাখিও । আমি তোমার কৃপায় সাধারণের । উপকারার্থে নিজের মন খুলিয়া দুই চারিটি কথা বলিব । । কথা শুনিয়া কেবল স্ত্রীলোকে কেন, অনেক পুরুষেও আমাকে পাগল বলিবেন । বলুন । ক্ষতি নাই। নূতন কথা যে বলে, সেই পাগল বলিয়া গণ্য হয় । । গালিলিওঁ- বলিলেন, পৃথিবী ঘূরিতেছে। ইতালীয় ভদ্র সমাজ, ধাৰ্ম্মিক সমাজ, বিদ্বান সমাজ, শুনিয়া হাসিলেন ; শুনিয়া স্থির। করিলেন, গালিলিওর মতিভ্রম হইয়াছে । কালের । স্রোত বহিয়া গেল। ইতালীর ভদ্র সমাজ, ধাৰ্ম্মিক সমাজ, বিদ্বান সমাজ, আর পৃথিবী ঘূরিতেছে শুনিলে হাসেন না, গালিলিওকে আর

  • yw-w_w

মতিভ্রান্ত জ্ঞান করেন না।* __ \, е е কমলাকাত্তের দপ্তর । সকলে সৌন্দর্য্য বিষয়ে স্ত্রীলোকের প্রাধানা স্বীকার করেন । বিদ্যা, বুদ্ধি, বলে পুরুষের শ্রেষ্ঠত স্বীকার পাষ্টয়াও, রূপের টীকা স্ত্রীলোকের মস্তকে দেন। আমার বিবেচনায় এটি মস্ত ভুল। আমি দিব্যচক্ষে দেখিয়াছি যে, পুরুষের রূপ অপেক্ষ স্ত্রীলোকের রূপ অনেক দূর নিকৃষ্ট। হে মানময়ী মোহিনীগণ! কুটিল কটাক্ষে কালকুট বর্ষণ করিয়া আমাকে এই দোষে দগ্ধ করিও না ; কালসপী-বিনিন্দিত বেণীদ্বারা আমাকে বন্ধন করি ও না , ভ্র-ধনুতে কোপে তীক্ষ শর যোজনা করিয়া আমাকে বিদ্ধ করিও না। বলিতে কি, তোমাদের নিন্দ করিতে ভয় করে । পথ বুঝিয়া যদি তোমরা নত-ফাদ পাতিয়া রাখ, তবে কত হস্তী বদ্ধচরণ হইয়া, তোমাদের নাকে খুলিতে পারে—কমলাকান্ত কোন ছার ! তোমাদের নথের নোলক খসিয়া পড়িলে, মানুষ খুন হইবার অনেক সম্ভাবনা ; চন্দ্রহারের একখানি । চাদ যদি স্থানচ্যুত হইয়া কাহারও গায়ে লাগে, তবে তাহার হাত পা ভাঙ্গা বিচিত্র নহে। অতএব তোমরা রাগ করিও না। আর হে রমণীপ্রিয়, কমলাকাত্তের দপ্তর। To e > কল্পনাপ্রিয়, উপমাপ্রিয় কবিগণ, তোমাদিগের স্ত্রীদেবীর মুখময়ী সুবর্ণময়ী প্রতিমা ভাঙ্গিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি বলিয়া, তোমরা আমাকে মারিতে উদ্যত হইও না। আমি সপ্রমাণ করিয়া দিব যে, তোমরা কুসংস্কান্নাবিষ্ট পৌত্তলিক। তোমরাউপাস্য দেবতার প্রকৃত মূৰ্ত্তি পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক বিকৃত প্রতিমূৰ্ত্তির পূজা করিতেছ। । যাহার সুন্দর কেশপাশ আছে, সে আর পরচুলা ব্যবহার করে না। যাহার উজ্জ্বল ভাল দাত আছে, তাহার কৃত্রিম দন্তের প্রয়োজন হয় না। যাহার বর্ণে লোকের মন হরণ করে, তাহার আর রং মাখিয়া লাবণ্য বৃদ্ধি করিতে হয় না। যাহার নয়ন আছে, তাহার আর কাচের চক্ষুর আশ্রয় লইতে হয় না। যাহার চরণ আছে, তাহাকে আর কাষ্ঠপদ অবলম্বন করিতে হয় না। এইরূপ যাহার যে বস্তু আছে, সে তাহার জন্য লালায়িত হয় না । যে বুঝিতে পারে যে, প্রকৃতি । কোন পদার্থে তাহাকে বঞ্চিত করিয়াছেন, সেই তদ্বিষয়ে আপনার অভাব মোচনার্থে যত্ন করিয়া থাকে। এই সকল দেখিয়া শুনিয়া আমি স্থির কমলাকাত্তের দপ্তর । א • כל করিয়াছি যে, স্ত্রীলোকদিগের মধ্যে সৌন্দর্ঘ্যের অত্যন্ত অভাব। তাহারা সৰ্ব্বদা আপন আপন রূপ বাড়াইতে ব্যস্ত ; কি উপায়ে আপনাকে সুন্দরী দেখাইবে, ইহা লইয়াই উন্মাদিনী ; ভাল ভাল অলঙ্কার কিসে পাইবে, নিয়ত ইহাই তাহাদিগের ভাবনা, ইহাই তাহাদিগের চেষ্টা ; এমন কি, বলা যাইতে পারে যে,অলঙ্কারই তাহাদিগের জপ, অলঙ্কারই তাহাদিগের তপ, অলঙ্কারই তাহাদিগের ধ্যান, অলঙ্কারই তাহাদিগের জ্ঞান স্বীয় দেহ সজ্জিত করিতে এত যাহাদিগের যত্ন, তাহাদিগের প্রকৃত সৌন্দর্য্য যে অধিক আছে, এরূপ বোধ হয় না। যাহার নাক স্বন্দর নহে, সেই নাকে নথরূপ রজ্জতে নোলকজগন্নাথকে দোলায় ; যাহার কান সুন্দর নহে, । সেই ঢাকাই-কানরূপ নানা ফলফুল পশুপক্ষীবিশিষ্ট্র বাগানের যোড়া কানে ঝুলাইয়া দেয় । যাহার হৃদয় ভাল নহে, সেই সেখানে সাতনর ফাসির দড়ি টাঙ্গাইয়া পুরুষজাতির, বিশেষতঃ স্তন্যপায়ী বালকদিগের ভীতি বিধান করে। যে অলঙ্কার বিনাও আপনাকে সুন্দরী বলিয়া জানে, কমলাকাত্তের দপ্তর । । ১০৩ ৷ সে কখন অলঙ্কারের বোঝা বহিতে এত ব্যগ্র হয় । না । পুরুষে ভূষণ বিনা সন্তুষ্ট থাকে ; স্ত্রীলোকে ভূষণ বিনা মনুষ্যসমাজে মুখ দেখাইতে লজ্জা পায়। অতএব স্ত্রীলোকদিগের নিজের ব্যবহার । দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, পুরুষাপেক্ষ স্ত্রীজাতি সৌন্দর্য বিষয়ে নিকৃষ্ট । স্ত্রীজাতি অপেক্ষ যে পুরুষজাতির সৌন্দর্য্য অধিক, প্রকৃতির স্বষ্টি-পদ্ধতি সমালোচনা করিয়া দেখিলে আরও স্পষ্ট প্রতীতি হইবে। যে বিস্তীর্ণ চন্দ্রককলাপ দেখিয়া জলদমুকুট ইন্দ্ৰধনু হারি মানে, সে চন্দ্রককলাপ ময়ূরের আছে; ময় রীর নাই । যে কেশরে সিংহের এত শোভা, তাহ সিংহীর নাই। (যে বিশাল দন্তে হস্তীর এত - সৌন্দৰ্য্য, হস্তিনীর তাহা নাই ) যে ঝুঁটিতে বৃষভের কান্তি বৃদ্ধি করে, গাভীর তাহ নাই। কুকুটের যেমন সুন্দর তাম-চুড়া ও পক্ষ সকল আছে, কুকুটার তেমন নাই। এইরূপ দেখিতে পাইবে । ষে, উচ্চ শ্রেণীর জীবদিগের মধ্যে স্ত্রী অপেক্ষ । পুরুষ স্বত্র । মনুষ্য স্বষ্টি করিতে প্রবৃত্ত হইয়া । স্বষ্টিকর্তা যে এই নিয়মের ব্যতিক্রম করিয়াছেন, । S. o 8 কমলাকাত্তের দপ্তর । এমন বোধ হয় না। হে মূল “বিদ্যান্থন্দর"-কার । তোমার মনে কি এই তত্ত্বটি উদিত হইয়াছিল ? এজন্যই কি তুমি নায়কের নাম সুন্দর রাখিয়াছিলে ? তুমি কি বুঝিয়াছিলে যে, স্ত্রীলোক যত কেন বিদ্যাবতী হউক না, পুরুষের স্বাভাবিক সৌন্দৰ্য্য ও বুদ্ধির নিকটে তাহাকে পরাভব স্বীকার করিতে হইবে । সৌন্দর্যের বাহার যৌবনকালে। কিন্তু,রুপান্ধভামিনীগণ! তোমাদিগের যৌবন কতক্ষণ থাকে? জোয়ারের জলের মত আসিতে আসিতেই যায়। কুড়ি হইলেই তোমরা বুড়ী হইলে । অল্প দিনের মধ্যেই তোমাদিগের অঙ্গ সকল শিথিল হইয়৷ পড়ে। বয়স আসিয়া শীঘই তোমাদিগের গলার লাবণ্যমালা ছিড়িয়া লয়। চল্লিশ পয়তাল্লিশে পুরুষের যে স্ত্র থাকে, বিশ পঁচিশের উৰ্দ্ধে তোমাদিগের তাহ থাকে না। তোমাদিগের রূপের স্থিতি সৌদামিনীর ন্যায়, ইন্দ্ৰধনুর ন্যায়, মুহুর্ভেক জন্য না হউক, অত্যর কালের জন্য সন্দেহ নাই। যাহারা রূপোপভোগে উন্মত্ত,আমি আহারে বসিলেই তাছাদের যন্ত্রণা অনুভূত কমলাকাস্তের দপ্তর । * : * করিতে পারি –আমার জীবনে ঘোর দুঃখ এই যে, অন্ন ব্যঞ্জন পাতে দিতে দিতেই ঠাণ্ড হইয়া যায়। তেমনি, স্ত্রীলোকের সৌন্দৰ্যরূপ বুকড়ি চালের ভাত, প্রণয়-কলাপাতে ঢালিতে ঢালিতে । ঠাও হইয়া যায়—আর কাহার সাধ্য খায় ? শেষে বেশভূষ রূপ তেঁতুল মাখিয়া, একটু আদরলবণের ছিটা দিয়া, কোনরূপে গলাধঃকরণ করিতে হয় । । হে সৌন্দৰ্য্যগৰ্ব্বিত কামিনীকুল । সত্য করিয়া বল দেখি, এই রূপ ক্ষণস্থায়ী বলিয়াই কি তোমাদিগের রূপের এত আদর ? ভাল করিয়া দেখিতে, না দেখিতে, ভাল করিয়া উপভোগ করিতে না করিতে, অন্তহিত হইয়া যায়। - বলিয়া, তোমাদিগের রূপের জন্য কি পুরুষেরা পিপাসিত চাতকের ন্যায় উন্মত্ত ? অপরিজ্ঞাত । হারাধন বলিয়াই কি তোমরা উহার প্রকৃত মূল্যনির্ণয়ে অশক্ত ? কেবল ক্ষণস্থায়ী পদাৰ্থ বলিয়৷ নয়, অপর কারণেও স্ত্রীলোকের সৌন্দর্ষ্য মনোহর মূৰ্ত্তি ধারণ করে। যে সকল গ্রন্থকারদিগের মত ভূমণ্ডলে গ্রাহ হইয়াছে, তাহারা সকলেই గి మ్రి কমলাকাস্তের দপ্তর । পুরুষ, এ কারণে আমার বিবেচনায় অনুরাগনেত্ৰে কামিনীকুলের রূপ বর্ণনা করিয়াছেন । কথাই আছে, “যার যাতে মজে মন, কিবা হাড়ি কিবা ডোম।” যে রমণীগণ প্রণয়ের পদার্থ, তাহাদিগকে কে সহজ চক্ষুতে দেখিবে ? সুন্দর মুকুরের প্রভাবে দৃষ্ট বস্তু কুৎসিত হইলেও সুন্দর দেখাইবে । মনোমোহিনীর রূপ নিরীক্ষণকালে তাহাকে প্রীতিরঞ্জনে মাখাইয়া দেখিব । পুরুষপেক্ষ তাহার মাধুর্য্য কেন না অধিক বোধ হইবে ? : i হে প্রণয়দেব, পাশ্চাত্য কবির তোমাকে অন্ধ বলিয়াছেন। কথাটা মিথ্যা নয়। তোমার প্রভাবে লোকে প্রিয় বস্তুর দোষ দেখিতে পায় । ন। । তোমার অঞ্জনে যাহার নেত্র রঞ্জিত হই- . য়াছে, সে বিশ্ববিমোহন পদার্থ-পরম্পরায় পরিবৃত থাকে। বিকট মূৰ্ত্তিকে সে মনোহর দেখে । কর্কশ স্বরকে সে মধুময় ভাবে। প্রেতিনীর অঙ্গভঙ্গীকে মৃদু-মন্দ-মলয়-মারুতে দোদুল্যমান ললিতা লবঙ্গলতার লাবণ্যলীলা অপেক্ষাও সুখকর জ্ঞান করে। এজন্যই চীনদেশে খাদা নাকের আদর। কমলাকান্তের দপ্তর। । So to এজন্যই বিলাতী বিবিদের রাঙ্গা চুল ও বিড়াল চোকের আদর। এজন্যই কাফি দেশে স্কুল । ওষ্ঠাধরের আদর। এজন্যই বাঙ্গালদেশে উল্কিচিত্রিত মিশি-কলঙ্কিত চাদবদনের আদর। এজন্যই মানবসমাজে স্ত্রীরূপের আদর। আর যদি স্ত্রীলোকেরা পুরুষের ন্যায় মনের কথা মুখে আনিতেন, তাহা হইলে, হে প্রণয়দেব, নিজের গুণে হউক না হউক, অন্ততঃ তোমার গুণেও আমরা শুনিতে পাইতাম যে, পুরুষের সৌন্দর্ঘ্যের কাছে স্ত্রীলোকের রূপ কিছুই নয়। যদিও অন্তরের গুপ্ত ভাব বাক্যদ্বারা ব্যক্ত করিতে মহিলাগণ অত্যন্ত সঙ্কুচিত, তথাপি কাৰ্য্য দ্বার তাহাদিগের আন্তরিক গুঢ় তত্ত্বগুলি কিয়ৎ পরিমাণে প্রকাশিত হইয় পড়ে । কে না দেখিয়াছে। যে, সুন্দরীরা পরস্পরের সৌন্দর্য্য স্বীকার করিতে চাহেন না, অথচ পুরুষের ভক্ত হইয়া বসেন ? ইহাতে কি বুঝাইতেছে না যে, মনে মনে র্তাহারা স্ত্রীলোকের রূপাপেক্ষ পুরুষের রূপের পক্ষপাতিনী ? । রূপ, রূপ করিয়া স্ত্রীলোকের সৰ্ব্বনাশ হুই কমলাকাস্তের দপ্তর। مياه لا য়াছে সকলেই ভাবে রূপই কামিনীকুলের মহামূল্য ধন, রূপই কামিনীকুলের সৰ্ব্বস্ব। সুতরাং মহিলাগণ যাহা কিছু কাম্য বস্তু প্রার্থন করেন, লোকে কেবল রূপের বিনিময়েই দিতে চায়। ইহাতেই মনুষ্যসমাজের কলঙ্ক বারাঙ্গনবগের স্বষ্টি । ইহাতেই পরিবার মধ্যে স্ত্রীলোকের দাসীত্ব । অস্থায়ী সৌন্দর্য্যই যোষিদ্‌মণ্ডলীর এক মাত্র সম্বল, সংসার-সাগর পার হইবার এক মাত্র কাণ্ডারী, এ কথা আর আমি শুনিতে চাহি না। অনেক দিন শুনিয়াছি। শুনিয়া কান ঝালাপাল৷ হইয়া গিয়াছে। শুনিতে আর পারি না । আমি শুনিতে চাই যে, নারীজাতির রূপাপেক্ষা শত গুণে, সহস্র গুণে, লক্ষ গুণে, কোটা গুণে মহত্ত্বের গুণ আছে । আমি শুনিতে চাই যে, তাহারা মূৰ্ত্তিমতী মহিষ্ণুতা, ভক্তি ও প্রীতি। যাহার দেখিয়াছেন যে, কত কষ্ট সহ করিয়া জননী সন্তানের লালন পালন করেন, যাহারা দেখিয়াছেন যে, কত যত্নে মহিলাগণ পীড়িত আত্মীয়বর্গের সেবা শুশ্রুষা করেন, তাহার কামিনী কমলাকাস্তের দপ্তর। . د ۰ ذ কুলের সহিষ্ণুতার কিঞ্চিৎ পরিচয় পাইয়াছেন। র্যাহারা কখন কোন সুন্দরীকে পতি পুত্রের জন্য জীবন বিসর্জন, ধৰ্ম্ম বাহমুখ বিসর্জন করিতে দেখিয়াছেন, তাহারা কিয়দুর বুঝিয়াছেন যে, কি রূপ প্রীতি ও ভক্তি স্ত্রীহদয়ে বসতি করে । , যখন আমি উৎকৃষ্ট্র। যোষিদ্বগের বিষয়ে চিন্তা করিতে যাই, তখনই আমার মানস-পটে, সহমরণপ্রবৃত্ত সতীর মূর্তি জাগিয় উঠে ! আমি দেখিতে পাই যে, চিতা জ্বলিতেছে, পতির পদ সাদরে বক্ষে ধারণ করিয়া প্রজ্বলিত হুতাশন মধ্যে সাধ্বী বসিয়া আছেন । আস্তে আস্তে বহ্নি বিস্তত হইতেছে, এক অঙ্গ দগ্ধ করিয়া অপর অঙ্গে প্রবেশ করিতেছে। অগ্নিদগ্ধা স্বামিচরণ ধ্যান করিতেছেন, মধ্যে মধ্যে হরিবোল। বলিতে বলিতেছেন বা সঙ্কেত করিতেছেন। দৈহিক ক্লেশ-পরিচায়ক লক্ষণ নাই। আনন প্রফুল্ল। ক্রমে পাবকশিখা বাড়িল, জীবন ছাড়িল, কায়া ভস্মীভূত হইল। ধন্য সহিষ্ণুতা ! ধন্য প্রীতি। ধন্য ভক্তি । । যখন আমি ভাবি যে, কিছু দিন হইল আমা У о Y S e কমলাকাস্তের দপ্তর । দিগের দেশীয় অবল অঙ্গনাগণ কোমলাঙ্গী হইয়াও এইরূপে মরিতে পারিত, তখন আমার মনে নূতন আশার সঞ্চার হয়, তখন আমার বিশ্বাস হয় যে, মহত্ত্বের বীজ আমাদিগের অন্ত রেও নিহিত আছে। কালেও কি আমরা মহত্ত্ব দেখাইতে পারিব না ? হে বঙ্গ পৌরাঙ্কনাগণ— তোমরা এ বঙ্গদেশের সার রত্ন ! তোমাদের মিছা রূপের বড়াইয়ে কাজ কি ? مسببساكسوسوم