কমলাকান্তের দপ্তর (দ্বিতীয় সংস্করণ)/ত্রয়োদশ সংখ্যা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

“፳። !. - ::: r of * శజ్ఞ్గ ...تیره هم می سم به همانطينييمياويکيپ******* আমি শয়নগৃহে, চারপায়ীর উপর বসিয়া, হক হাতে, ঝিমাইতেছিলাম। একটু মিট, মিট করিয়া ক্ষুদ্র আলো জ্বলিতেছে—দেয়ালের উপর চঞ্চল ছায়, প্রেতবৎ নাচিতেছে। আহার । প্রস্তুত হয় নাই—এজন্য হুক হাতে, নিমীলিতলোচনে আমি ভাবিতেছিলাম যে, আমি যদি নেপোলিয়ন হইতাম, তবে ওয়াটালু জিতিতে পারিতাম কি না। এমত সময়ে একটি ক্ষুদ্র শুদ হইল, “মেও ” /চাহিয়া দেখিলাম—হঠাৎ কিছু বুঝিতে পারিলাম না। প্রথমে মনে হইল, ওয়েলিংটন হঠাৎ ৷ বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হইয়া, আমার নিকট আফিঙ্গ ভিক্ষা করিতে আসিয়াছে। প্রথম উদ্যমে, । পাষাণবং কঠিন হইয়া, বলিব মনে করিলাম যে, ডিউক মহাশয়কে ইতিপূৰ্ব্বে যথোচিত পুরস্কার । : 있 - কমলাকাস্তের দপ্তর । দেওয়া গিয়াছে, এক্ষণে আর অতিরিক্ত পুরস্কার দেওয়া যাইতে পারে না । বিশেষ অপরিমিত লোভ ভাল নহে । ডিউক বলিল, “মেও !” । তখন চক্ষু চাহিয়া ভাল করিয়া দেখিলাম, যে ওয়েলিংটন নহে। একটি ক্ষুদ্র মার্জার ; প্রসন্ন আমার জন্য যে দুগ্ধ রাখিয়া গিয়াছিল, তাহা নিঃশেষ করিয়া উদরসাৎ করিয়াছে ; আমি তখন ওয়াটালুর মাঠে ব্যুহ-রচনায় ব্যস্ত, অত। দেখি নাই। এক্ষণে মার্জার সুন্দরী, নির্জল দুগ্ধপানে পরিতৃপ্ত হইয়া আপন মনের সুখ এজগতে প্রকটিত করিবার অভিপ্রায়ে, অতি মধুর স্বরে বলিতেছিলেন, “মেও ” বলিতে পারি না, বুঝি, তাহার ভিতর একটু ব্যঙ্গ ছিল ; বুঝি, মার্জার মনে মনে হাসিয়া আমার পানে চাহিয়া ভাবিতেছিল, “কেহ যরে বিল ছেচে, কেহ খায় কই।” বুঝি সে “মেও ” শব্দে একটু মন বুঝি বার অভিপ্রায় ছিল । বুঝি বিড়ালের মনের ভাব, “তোমার দুধ ত খাইয়া বসিয়া আছি— এখন বল কি ?” - । বলি কি ? আমি ত ঠিক করিতে পারিলাম কমলাকাস্তের দপ্তর। ১৬৩ না । দুধ আমার বাপেরও নয়। দুধ মঙ্গলার, দুহিয়াছে প্রসন্ন। অতএব সে দুগ্ধে আমারও যে। অধিকার, বিড়ালেরও তাই ; সুতরাং রাগ করিতে পারি না। তবে চিরাগত একটি প্রথা আছে যে, বিড়ালে দুধ খাইয়া গেলে, তাহাকে তাড়াইয়া মারিতে যাইতে হয়। আমি যে সেই চিরগত প্রথার অবমাননা করিয়া মনুষ্যকুলে কুলাঙ্গার স্বরূপ পরিচিত হইব, ইহাও বাঞ্ছনীয় নহে। কি জানি, এই মার্জারী যদি স্বজাতিমণ্ডলে কমলাকান্তকে কাপুরুষ বলিয়া উপহাস করে ? অতএব পুরুষের ন্যায় আচরণ করাই বিধেয় । ইহা স্থির করিয়া, সকাতরচিত্তে, হস্ত হইতে হু কী নামাইয়া, অনেক অনুসন্ধানে এক ভগ্ন যষ্টি আবিষ্কত করিয়া সগৰ্ব্বে মার্জারী প্রতি ধাবমান-হুইলাম । মার্জারী কমলাকান্তকে চিনিত ; সে যষ্টি দেখিয়া বিশেষ ভীত হওয়ার কোন লক্ষণ প্রকাশ করিল না। কেবল আমার মুখপানে চাহিয়া হাই তুলিয়া, একটু সরিয়া বসিল । বলিল, “মেও ” প্রশ্ন বুঝিতে পারিয়া যষ্টি ত্যাগ করিয়া । পুনরপি শয্যায় আসিয়া, ছক লইলাম। তখন '\98 কমলাকাত্তের দপ্তর। । দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হইয়া, মার্জারের বক্তব্য সকল বুঝিতে পারিলাম । বুঝিলাম যে, বিড়াল বলিতেছে, “মার পিট কেন ? স্থির হইয়া, হু কা হাতে করিয়া, একটু বিচার করিয়া দেখ দেখি ? এ সংসারের ক্ষীর, সর, দুগ্ধ, দধি, মৎস্য, মাংস, সকলই তোমরা খাইবে, আমরা কিছু পাইব না কেন ? তোমরা মনুষ্য, আমরা বিড়াল, প্রভেদ কি ? তোমাদের ক্ষুৎপিপাসা আছে—আমাদের কি নাই ? তোমরা খাও, আমাদের আপত্তি নাই ; কিন্তু আমরা খাইলেই তোমরা কোন শাস্ত্রানুসারে ঠেঙ্গ। লাঠি লইয়া মারিতে আইস, তাহ। আমি ৰহু অনুসন্ধানে পাইলাম না । তোমরা আমার কাছে কিছু উপদেশ গ্রহণ কর । বিজ্ঞ চতুষ্পদের কাছে শিক্ষালাভ ব্যতীত তোমাদের জ্ঞানোন্নতির উপায়ান্তর দেখি না। তোমাদের বিদ্যালয় সকল দেখিয়া আমার বোধ হয়, তোমরা এত দিনে এ কথাটি বুঝিতে পারিয়াছ। । “দেখ, শয্যাশায়ী মনুষ্য ! ধৰ্ম্ম কি ? পরোপকারই পরম ধৰ্ম্ম। এই দুগ্ধটুকু পান করিয়া কমলাকাত্তের দপ্তর । *电台 আমার পরম উপকার হইয়াছে। তোমার আহরিত দুগ্ধে এই পরোপকার সিদ্ধ হইল—অতএব । তুমি সেই পরম ধৰ্ম্মের ফলভাগী –আমি চুরিই করি, আর যাই করি, আমি তোমার ধৰ্ম্মসঞ্চয়ের মূলীভূত কারণ । অতএব আমাকে প্রহার না করিয়া, আমার প্রশংসা কর । আমি তোমার ধৰ্ম্মের সহায় ! “দেখ, আমি চোর বটে, কিন্তু আমি কি সাধ করিয়া চোর হইয়াছি ? খাইতে পাইলে কে চোর হয় ? দেখ, যাহারা বড় বড় সাধু, চোরের নামে শিহরিয়া উঠেন, তাহারা অনেকে চোৰুের অপেক্ষাও অধাৰ্ম্মিক। তাহাদের চুরি করিবার প্রয়োজন নাই বলিয়াই চুরি করেন না। কিন্তু । তাহাদের প্রয়োজনাতীত ধন থাকিতেও চোরের প্রতি যে মুখ তুলিয়া চাহেন না, ইহাতেই চোরে । চুরি করে। অধৰ্ম্ম চোরের নহে-চোরে যে চুরি । করে, সে অধৰ্ম্ম কৃপণ ধনীর। চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষ শত গুণে দোষী ।. চোরের দণ্ড হয় ; চুরির মূল ষে কৃপণ, তাহার* দও হয় না কেন ? । ఆ ఆ কমলাকাস্তুের দপ্তর । “দেখ, আমি প্রাচীরে প্রাচীরে মেও মেও । করিয়া বেড়াই, কেহ আমাকে মাছের কাটাখানাও ফেলিয়া দেয় না । মাছের কাটা, পাতের ভাত, নরদামায় ফেলিয়া দেয়, জলে ফেলিয়া দেয়, তথাপি আমাকে ডাকিয় দেয় না । তোমাদের পেট ভরা, আমার পেটের ক্ষধা কি প্রকারে জানিবে ! হায় ! দরিদ্রের জন্য ব্যথিত হইলে তোমাদের কি কিছু অগৌরব আছে ? আমার মত দরিদ্রের ব্যথায় ব্যথিত হওয়া, লজ্জার কথা সন্দেহ নাই। যে কখন অন্ধকে মুষ্টি-ভিক্ষা দেয় না, সেও একটা বড় রাজা ফাপরে পড়িলে রাত্রে ঘুযায় না—সকলেই পরের ব্যথায় ব্যথিত হইতে রাজি। তবে ছোটলোকের দুঃখে কাতর ! ছি ! কে হইবে ? - “দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার, আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়। যাইতেন, তবে তুমি কি তাহাকে ঠেঙ্গা লইয় মারিতে আসিতে ? বরং যোড় হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব ? তবে আমার বেলা লাঠি কেন ? তুমি বলিবে, তাহার। कमलांकांरखब्र शॐज़ $అa অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষ তাহাদের ক্ষুধা বেশী ? তা ত নয়—তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ—দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর—আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহবানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর—ছি ! ছি! “দেখ, আমাদিগের দশা দেখ, দেখ প্রাচীরে প্রাচীরে, প্রাঙ্গণে প্রাঙ্গণে, প্রাসাদে প্রাসাদে, মেও মেও করিয়া আমরা চারি দিক দৃষ্টি করিতেছি—কেহ আমাদিগকে মাছের কাটাখানা ফেলিয়া দেয় না। যদি কেহ তোমাদের সোহাগের বিড়াল হইতে পারিল–গৃহমার্জার হইয়া, বৃদ্ধের নিকট যুবতী ভাৰ্য্যার সহোদর, বা মূখ। ধনীর কাছে সতরঞ্চ খেলওয়ারের স্থানীয় হইয়৷ থাকিতে পারিল—তবেই তাহার পুষ্টি । তাহার লেজ ফুলে, গায়ে লোম হয়, এবং তাহাদের রূপের ছটা দেখিয়া, অনেক মার্জার কবি হইয়া পড়ে । , কমলাকাত্তের দপ্তর । بومیان “আর আমাদিগের দশা দেখ—আহারাভাবে উদর কৃশ, অস্থি পরিদৃশ্যমান, লাঙ্গল বিনত দাত বাহির হইয়াছে—জিহা বুলিয়া পড়িয়াছে—অবিরত আহারাভাবে ডাকিতেছি, “মেও ! মেও । খাইতে পাই না —” আমাদের কাল চামড়া দেখিয়া ঘৃণা করিও না ! এ পৃথিবীর মৎস্য মাংসে আমাদের কিছু অধিকার আছে। খাইতে দাও—নছিলে চুরি করিব।” আমাদের কৃষ্ণ চৰ্ম্ম, শুষ্ক মুখ, ক্ষীণ সকরুণ মেও মেও শুনিয়া তোমাদিগের কি দুঃখ হয় না ? চোরের দণ্ড আছে, নির্দয়তার কি দণ্ড নাই ? দরিদ্রের আহার সংগ্রহের দণ্ড আছে, ধনীর কাপণ্যের দণ্ড নাই কেন ? তুমি কমলাকান্ত, দূরদর্শী, কেন না আফিঙ্গখোর, তুমিও কি দেখিতে পাও না যে, ধনীর দোষেই দরিদে চোর হয় ? পাচ শত দরিদ্রকে বঞ্চিত করিয়া এক জনে পাচ শত লোকের আহার্ষ্য সংগ্ৰহ করিবে কেন ? যদি করিল, তবে সে তাহার খাইয়া যাহা বাহিয়া পড়ে, তাহা দরিদকে দিবে না কেন ? যদি না দেয়, তবে দরিদ্র অবশ্য তাহার কমলাকাত্তের দপ্তর। । *t 3 নিকট হইতে চুরি করিবে ; কেন না অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্য এ পৃথিবীতে কেহ আইসে । नाङ्ग्रे ।” আমি আর সহ করিতে না পারিয়া বলিলাম, “থাম ! থাম মার্জারপণ্ডিতে ! তোমার কথাগুলি ভারি সোশিয়ালিষ্টিক ! সমাজ বিশৃঙ্খলার মূল । যদি যাহার যত ক্ষমতা, সে তত ধনসঞ্চয় করিতে না পায়, অথবা সঞ্চয় করিয়! চোরের জ্বালায় নিৰ্ব্বিত্নে ভোগ করিতে না পায়, তবে কেহ আর । ধনসঞ্চয়ে যত্ব করিবে না । তাহাতে সমাজের । ধনবৃদ্ধি হইবে না ।” মার্জার বলিল, “না হইল ত আমার কি ? সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি । ধনীর । ধনবৃদ্ধি ন হইলে দরিদ্রের কি ক্ষতি ?” । আমি বুঝাইয়া বলিলাম যে, “সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত সমাজের উন্নতি নাই।” বিড়াল রাগ করিয়া বলিল যে, “আমি যদি খাইতে না পাইলাম, তবে সমাজের উন্নতি লইয়া । कि করিব ?” বিড়ালকে বুঝান দায় হইল । যে বিচারক । st No a কমলাকাস্থের দপ্তর । ব। নৈয়ায়িক, কস্মিন কালে কেহ তাহাকে কিছু বুঝাইতে পারে না । এ মার্জার সুবিচারক, এবং স্থতার্কিক ও বটে, সুতরাং ন বুঝিবার পক্ষে ইহার অধিকার আছে। অতএব ইহার উপর রাগ না করিয়া বলিলাম, “সমাজের উন্নতিতে দরিদ্রের প্রয়োজন না থাকিলে না থাকিতে পারে, কিন্তু ধনীদিগের বিশেষ প্রয়োজন, অতএব চোরের দণ্ডবিধান কর্তব্য ।” মার্জাৰী মহাশয় বলিলেন, “চোয়কে ফঁাসি দেও, তাহাতেও আমার আপত্তি নাই, কিন্তু তাহার সঙ্গে আর একটি নিয়ম কর। যে বিচারক চোরকে সাজা দিবেন, তিনি আগে তিন দিবস উপবাস করিবেন। তাহাতে যদি তাহার চুরি করিয়া খাইতে ইচ্ছা না করে, তবে তিনি স্বচ্ছন্দে চোরকে ফসি দিবেন । তুমি আমাকে মারিতে লাঠি তুলিয়াছিলে, তুমি অদ্য হইতে তিন দুি উপবাস করিয়া দেখ। তুমি যদি ইতিমধ্যে নশীৰ্বাবুর ভাণ্ডার-ঘরে ধরা না পড়, তবে আমাকে ঠেঙ্গাইয়। মারিও, আমি আপত্তি করিৰ न! ।।' কমলাকাস্তের দপ্তর। । ১৭১ বিজ্ঞ লোকের মত এই যে, যখন বিচারে পরাস্ত হইবে, তখন গম্ভীরভাবে উপদেশ । প্রদান করিবে। আমি সেই প্রথানুসারে মার্জারকে বলিলাম যে, “এ সকল অতি নীতিবিরুদ্ধ কথা, ইহার আন্দোলনেও পাপ আছে। তুমি এ সকল দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ করিয়া ধৰ্ম্মাচরণে মন দাও । তুমি যদি চাহ, তবে পাঠার্থে তোমাকে অামি নিউমান ও পার্করের গ্রন্থ দিতে পারি। আর কমলাকান্তের দপ্তর পড়িলেও কিছু উপকার হইতে পারে—আর কিছু হউক বা না হউক, আফিঙ্গের অসীম মহিমা বুঝিতে পারবে। এক্ষণে স্বস্থানে গমন কর, প্রসন্ন কাল কিছু ছানা দিবে বলিয়াছে জলযোগের সময় আসিও, উভয়ে ভাগ করিয়া খাইব। অদ্য আর কাহারও হাড়ি খাইও না ; বরং ক্ষুধায় যদি নিতান্ত অধীর হও, তবে পুনৰ্ব্বার আসিও, এক সরিষাভোর আফিঙ্গ । निद ।” o মার্জার বলিল “আফিল্পে বিশেষ প্রয়োজন নাই, তবে হাড়ি খাওয়ার কথা, ক্ষুধানুসারে বিবেচনা করা যাইবে।” । २१२ কমলাকাস্তের দপ্তর। মার্জার বিদায় হইল। একটি পতিত আত্মাকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিয়াছি, ভাবিয়া কমলাকান্ত পাদ্রির সুড় আনন্দ হইল । কমলাকান্ত চক্রবর্তী ।