কমলাকান্তের দপ্তর (দ্বিতীয় সংস্করণ)/দ্বাদশ সংখ্যা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

দ্বাদশ সংখ্যা । একটি গীত । গান শুনিবার সময় নয়—দুধ যোগাবার বেলা হলো।” কমলাকান্ত 1 “এসো এসো বঁধু এসে । প্রসন্ন । “ছি ছি ছি ! আমি কি তোমার বঁধু p” . কমলাকান্ত। “বালাই ! ষাট, তুমি কেন বধু হইতে যাইবে ? আমার গীতে আছে”— এসো এসো বধু এসো আধ অচিরে বসো— স্থর করিয়া আমি কীৰ্ত্তন ধরতে প্রসন্ন দুধের কেঁড়ে রাখিয়া বসিল, আমি গীতটি আদ্যোপাস্ত গায়িলাম । অনেক দিবসে, মনের মানসে, তোমা ধনে মিলাইল বিধি । মণি নও মাণিক নও যে হার করে গলে পরি, ফুল নৎ যে কেশের করি বেশ । । নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি, লইয়। ফিরিতাম দেশ দেশ ॥ বঁধু তোমায় যখন পড়ে মনে, আমি চাই বৃন্দাবন পানে, । আলুইলে কেশ নাহি বাধি । রন্ধনশালাতে ঘাই, তুয়। বঁধু গুণ গাই, ধুয়ার ছলনা করি কঁদি ” । - মিল ত চমৎকার, “দেখি” আর “বিধি” মিলিল । কিন্তু বাঙ্গালা ভাষায়, এইরূপ মোহ, মন্ত্র আর একটি শুনিব, মনে বড় সাধ রহিয়াছে। যখন এই গান প্রথম কর্ণ ভরিয়া শুনিয়াছিলাম, মনে হইয়াছিল, নীলাকাশতলে ক্ষুদ্র পক্ষী হইয়া এই গীত গাই—মনে হইয়া ছিল, সেই বিচিত্র হুষ্টিকুশলী কবির স্বষ্টি দৈবংশী লইয়া, মেঘের উপর যে বায়ুস্তর—শব্দশূন্য, দৃশ্যশূন্য, পৃথিবী যেখান হইতে দেখা যায়। రి 8ఆ কমলাকাত্তের দপ্তর । না, সেইখানে বসিয়া, সেই মুরলীতে, একা এই গীত গাই—এই গীত কখন ভুলিতে পারিলাম না ; কখন ভুলিতে পারিব না। - ‘এসো এসো বঁধু এসো—” লোকের মনে কি আছে বলিতে পারি না, কিন্তু আমি কমলাকান্ত চক্রবর্তী, বুঝিতে পারি না যে,ইন্দ্রিয়-পরিতৃপ্তিতে কিছু স্থখ আছে। ষে পশু ইন্দ্রিয় পরিতৃপ্তি জন্য পরসন্দর্শনের জাকাঙ্গী, সে যেন কখন কমলাকান্ত শৰ্ম্মার দপ্তর-মুক্তাবলী পড়িতে বসে না । আমি বিলাসপ্রিয়ের মুখে “এসে এসো বঁধু এসো” বুঝিতে পারি না । কিন্তু ইহা বুঝিতে পারি যে, মনুষ্য शत्रूट्वाद्र खमा इ३शाझिन-4क झमग्न बना হৃদরের জন্য হইয়াছিল—সেই হৃদয়ে হৃদয়ে সংঘাত,হৃদয়ে হৃদয়ে মিলন,ইহা মনুষ্য-জীবনের মুখ । ইহজন্মে মনুষ্যহৃদয়ে একমাত্র তৃষা, অন্য হৃদয়ঙ্কামনা । মনুষ্য-হৃদয় অনবরত হৃদয়াস্তরকে ডাকিতেছে, “এসে এসো বঁধু এসে " ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রবৃত্তি সকল শরীর রক্ষার্থ—মহতী প্রবৃত্তি সকলের উদ্দেশ্য, “এসে এসো বঁধু এসো।” - কমলাকাস্তের দপ্তর | o - তুমি চাকরি কর, খাইবার জন্য—কিন্তু যশের আকাঙ্ক্ষা কর, পরের অনুরাগ লাভ করিবার জন্য—জনসমাজের হৃদয়কে তোমার হৃদয়ের । সঙ্গে মিলিত করিবার জন্য। তুমি যে পরোপকার কর, সে পরের হৃদয়ের ক্লেশ আপন হৃদয়ে । অনুভূত কর বলিয় । তুমি যে রাগ কর, সে । তোমার মনোমত কাৰ্য্য হইল না বলিয়া ; হৃদয় হৃদয়ে আসিল না বলিয়া । সৰ্ব্বত্র এই রব— “এসে এসো বঁধু এসো।” সৰ্ব্ব কৰ্ম্মের এই মন্ত্র, “এসে এসো বঁধু এসে - জড় জগতের নিয়ম আকর্ষণ। বৃহৎ গ্রহ, উপগ্রহকে ডাকি তেছে, “এসে এসো বঁধু এসো।” সোঁর পিণ্ড । বৃহৎ গ্রহকে ডাকিতেছে—“এসে এসো বঁধু । এসো।” জগৎ জগদম্ভরকে ডাকিতেছে, “এঞ্জে। এসো বঁধু এসো।” পরমাণু পরমাণুকে অবিরত । ডাকিতেছে,—“এসে এসো বঁধু এসো।” জড়পিও সকল, গ্রহ উপগ্রহ ধূমকেতু—সকলেই । এই মোহযাত্ৰ ৰriা পড়িয় ঘুরিতেছে। প্রকৃতি । পুরুষকে ডাকিতেছে, “এসো এসে বধু এসো।" জগতের এই গম্ভীর অবিশ্রান্তধ্বনি—“এসো Ց ՅԵ- r কমলাকাস্তুের দপ্তর এসো বঁধু এসো ” কমলাকান্তের বঁধু কি আসিবে ? - - . “আধ অচিরে বসে ।” . এই তৃণশষ্পসমাচ্ছন্ন, কণ্টকাদিতে কর্কশ সংসারারণ্যে, হে বাঞ্ছিত ! তোমাকে তার কি আসন দিব, আমার এই হৃদয়াবরণের অৰ্দ্ধেকে উপবেশন কর । তোমার দুঃখ, তোমার, কুশকণ্টকাদি আচ্ছাদন জন্য আমি এই আপন অঙ্গ অনাবৃত করিতেছি—আমার অচিরে বসে । যাহাতে আমার লজ্জারক্ষা, মানরক্ষা, যাহাতে আমার শোভা, হে মিলিত ! তুমিও তাহার অৰ্দ্ধেক গ্রহণ কর–আধ অচিরে বসো । ছে পরের হৃদয়, হে স্বন্দর, হে মনোরঞ্জন, হে সুখদ । কাছে এসো, আমাকে স্পর্শ কর, আমি তোমাতে সংলগ্ন হইব—দুরে আসনগ্রহণ করিও না—এই আমার শরীরলগ্ন অঞ্চলাদ্ধে বসে। হে কমলাকান্ত ! হে দুবিনীত ! হে আজন্মবিবাহশূনা, তুমি এতদৰ্থে শান্তিপুরে কল্কাদার অাচলের আধখান। - বুঝিও না । তুমি যে অঞ্চলাদ্ধে বসিবে, তাহার ভাতি আজিও জন্মে নাই। মনের নগ্নত্ব জ্ঞান কমলাকাস্তের দপ্তর। ఫిమ বস্ত্রে আবৃত ; অৰ্দ্ধেকে তোমার হৃদয় আবৃত রাখ, অৰ্দ্ধেকে বাঞ্জিতকে বসাও। ভূমি মুর্ধ-তথাপি তোমার অপেক্ষ। মুখ যদি কেহ থাকে, তাহাকে ডাক—“এসে এসো বঁধু এলো—অাধ অচিরে বসে l”

  • নয়ন ভরিয়া তোমায় দেখি ।” ।

কেহ কখন দেখিয়াছে ? তুমি অনেক ধন । উপার্জন করিয়াছ—কখন নয়ন ভরিয়া আত্মধন দেখিতে পাইয়াছ ? তুমি যশস্বী হইবার জন্য প্রাণপাত করিয়াছ—কিন্তু আত্মযশোরাশি দেখিয়া কবে তোমার নয়ন ভরিয়াছে ? রূপতৃষ্ণায় তুমি ইহজীবন অতিবাহিত করিলে— । যেখানে ফুলটি ফুটে, ফলটি দোলে; যেখানে । পাখাটি উড়ে, যেখানে মেঘ ছুটে, গিরিশৃঙ্গ উঠে, নদী রহে, জল ঝরে, তুমি সেইখানে রূপের অনুসন্ধানে ফিরিয়াছ—যেখানে বালক, প্রফুরমুখমণ্ডল আন্দোলিত করিয়া হাসে, যেখানে । যুবতী ব্রীড়াভরে ভাঙ্গ ভাঙ্গ হইয়া শঙ্কিতু । গমনে যায়, যেখানে প্রৌঢ় নিতান্ত ফুটিত । ১৫ of কমলাকাত্তের দপ্তর। মধ্যাহ্ন পদ্মিনীবৎ অকাতরে রূপের বিকাশ করে, তুমি সেইখানেই রূপের সন্ধানে ফিরিয়াছ, কখন নয়ন ভরিয়া রূপ দেখিয়াছ ? দেখ নাই কি যে, কুহুম দেখিতে দেখিতে শুকায়, ফল দেখিতে দেখিতে পাকে, পড়ে,পচে, গলে ; পার্থী উড়িয়া যায়, মেঘ চলিয়া যায়, গিরি ধুমে লুকায়, নদী শুকায়, চাদ ডুবে নক্ষত্র নিবিয়া যায়। শিশুর হাসি রোগে হরণ করে, যুবতীর ব্রীড়া—কিসে ন। যায় ? প্রৌঢ়া বয়সে শুকাইয়া যায়। ইহা ংসারের দুরদৃষ্ট—কেহ কিছু নয়ন ভরিয়া দেখিতে পায় না । অথবা এই সংসারের শুভাদৃষ্ট—কেহ কিছু নয়ন ভরিয়া দেখিতে পায় না। গতিই সংসারের স্থখ–চাঞ্চল্যই সংসারের - সৌন্দর্য্য। নয়ন ভরে না । সে নয়ন আমরা পাই নাই । পাইলে সংসার দুঃখময় হইত ; পরিতৃপ্তি রাক্ষসী আমাদের সকল সুখকে গ্রাস করিত। যে কারিগর এই পরিবর্তনশীল সংসার, আর এই অতৃপ্য নয়ন স্বজন করিয়াছেন, তাহার কারিগরির উপর কারিগরি, এই বাসন, নয়ন ভরিয়া তোমায় দেখি । জগৎ পরিবর্তনশীল, কমলাকাত্তের দপ্তর । $ t? নয়নও অতৃপ্য, অথচ বাসনা—নয়ন ভরিয়া তোমায় দেখি । হে রূপ ! হে বাহ সৌন্দর্য্য ! হে অন্তঃপ্রকৃতির সহিত সম্বন্ধবিশিষ্ট ! কাছে আইস, নয়ন ভরিয়া তোমায় দেখি । দূরে বসিলে দেখা হইবে না , কেন না, দেখা কেবল নয়নে নহে। ংস্পৰ্শ বা নৈকট্য ব্যতীত মনের বৈদ্যুতী বহে না—আমরা সৰ্ব্ব শরীরে দেখিয়া থাকি । মনে হইতে মনে বৈদ্যুতী চলিলে তবে নয়ন ভরিবে । হায় ! কিসেই বা নয়ন ভরিবে । নয়নে যে পলক আছে ! । অনেক দিবসে, মনের মানসে । তোমা ধনে মিলাইল বিধি হে!" আমি কখন কখন মনে করিয়া থাকি, কেবল দুঃখের পরিমাণ জনাই দয়া করিয়া বিধাতা দিবসের স্বষ্টি করিয়াছিলেন । নহিলে কাল অপরিমেয়, মনুষ্য-দুঃখ অপরিমিত হইত। আমরা এখন বলিতে পারি যে, আমি দুই দিন,দুই মাস, বা দুই বৎসর দুঃখভোগ করিতেছি ; কিন্তু দিন রাত্রির পরিবর্তন না থাকিলে, কালের পথ চিহ্ন *> é रे কমলাকাত্তের দপ্তয় । শূন্য হইলে, কে না বুঝিত যে, আমি অনন্ত কাল দুঃখভোগ করিতেছি? অাশা তাহা হইলে দাড়াইবার স্থান পাইত না—এত দিন পরে আবার দুঃখান্ত হইবে, এ কথা কেহ ভাবিতে পারিত না—বৃক্ষাদিশূন্য অনন্ত প্রাস্তরবৎ জীবনের পথ অনুত্তীর্য্য হইত—জীবনযাত্রা দুৰ্ব্বিসহ যন্ত্রণাস্বরূপ হইত। অতএব এই বৃহৎ জগৎকেন্দ্র সূর্ষের পথ আমাদের সুখ দুঃখের মানদণ্ড । দিবসগণনায় সুখ আছে । স্থখ আছে বলিয়াই দুঃখী জন দিবস গণিয়া থাকে। দিবস গণনা দুঃখবিনোদন । কিন্তু এমন দুঃখীও আছে যে,সে দিবস গণে না ; দিবস-গণনা তাহার পক্ষে চিত্তবিনোদন নহে । আমি কমলাকান্ত চক্ৰবৰ্ত্তী—পৃথিবীতে ভুলিয়া মনুষ্যজন্ম গ্রহণ করিয়াছি—স্থখহীন, আশাহীন, উদ্দেশ্যশূন্য, আকাঙ্ক্ষাশূন্য আমি কি জন্য দিবস গণিব ? এই সংসারসমুদ্রে আমি ভাসমান তৃণ, সংসার-বাতায় আমি ঘূর্ণামান ধূলিকণা, সংসারারণ্যে আমি অফলৎ বৃক্ষ–সংসারাকাশে আমি ৰারিশূন্য মেঘ—আমি কেন দিবস গণিব ? গণিৱ । আমার এক দুঃখ, এক সন্তাপ, এক কমলাকাস্তের দপ্তর। । $te ভরসা আছে। ১২০৩ শাল হইতে দিবস গণি । যে দিন বঙ্গে হিন্দুনাম লোপ পাইয়াছে, সেই দিন হইতে দিন গণি । যে দিন সপ্তদশ অশ্বরোহী বঙ্গজয় করিয়াছিল, সেই দিন হইতে দিন গণি । হায় ! কত গণিব। দিন গণিতে গণিতে মাস হয়, মাস গণিতে গণিতে বৎসর হয়, বৎসর গণিতে গণিতে শতাব্দী হয়, শতাব্দীও ফিরিয়া ফিরিয়া সাত বার গণি । कई, অনেক দিবসে মনের মানসে বিধি মিলাইল, কই ? যাহা চাই, তাহ মিলাইল কই ? মনুষ্যত্ব মিলিল কই ? ७कखाडीौग्नङ् गिलिल कई ? बैक, कई ? दिमग्न কই ? গৌরব কই ? শ্ৰীহৰ্ষ কই ? ভট্টনারায় কই ? হলায়ুদ্ধ কই ? লক্ষণসেন কই ? আর কি মিলিবে না? হায়! সবারই ইপসিত মিলে, কমলাকান্তের মিলিবে না ? । “মণি নও মাণিক নও, যে হার করে গলে পরি—" | বিধাতা জগৎ জড়ময় করিয়াছেন কেন ? রূপ জড়পদার্থ কেন ? সকলই অশরীরী হইল । না কেন ? হইলে হৃদয় হৃদয়ে কেমন মিলিত । যদি রূপের শরীরে প্রয়োজন ছিল, তবে তোমার । 3 es কমলাকাহের দপ্তর। আয়ার বিধাতা এক শরীর করেন নাই কেন ? তাহা হইলে আর ত বিচ্ছেদ হইত না । এখন কি এক শরীর হয় না ? আমার শরীরে এত্ত স্থান আছে—তোমাকে তাহাতে কোথাও কি রাখিতে পারি না ? তোমাকে কণ্ঠলগ্ন করিয়া হৃদয়ে বিলম্বিত করিয়া রাখিতে পারি না ? হায় ! তুমি মণি নও, মাণিক নও যে, হার করিয়া গলে পরি । । আর বঙ্গভূমি ! তুমিই বা কেন মণি মাণিক্য হইলে না, তোমায় কেন আমি হার করিয়া, কণ্ঠে পরিতে পাইলাম না ! তোমায় যদি কণ্ঠে পরিতাম, মুসলমান আমার হৃদয়ে পদাঘাত না করিলে তাহার পদরেণু তোমাকে স্পর্শ করিতে । পারিত না । তোমায় স্ববর্ণের আসনে বসাইয়া, হৃদয়ে দোলাইয়া দেশে দেশে দেখাইতাম । ইউরোপে, আমেরিকে, মিসরে, চীনে, দেখিত, “आमात्र नागै ना कबिउ बिरि তোম হেন গুণনিধি । লইয়া কিরিতাম দেশ দেশ ” প্রথমে আহবান, {{.এসো -এসো ཐཱ་ཧཱ། ། এলো’ পরে আদর, “আধ অচিরে বসো" পরে ভোগ “নয়ন ভারিয়া তোমায় দেখি ।” তখন সুখভোগকালীন পূৰ্ব্বদুঃখস্মৃতি—“অনেক দিবসে, মনের মানসে, তোমা ধনে মিলাইল বিধি ।” । মুখ বিধ সম্পূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ | অসম্পূর্ণ মুখ যথা, । “মণি নও মাণিক নও, ষে হার করে গলে পৰি ।” পরে সম্পূর্ণ মুখ, । “আমায় নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি, লইয়া ফিরিতাম দেশ দেশ - । সম্পূর্ণ, অসহ স্বখের লক্ষণ, শারীরিক চাঞ্চল্য,মানসিক অস্থৈৰ্য্য। এ স্থখ কোথায় রাখিব, লইয়া কি করিব, আমি কোথায় যাইব, এ মুখের ভার লইয়া কোথায় ফেলিব ? હી স্বখের चांद्र এক স্থানে ধরে না ; যেখানে যেখানে পৃথিবীতে স্থান আছে, সেইখানে সেইখানে এ স্থখ লইয়৷ যাইব, এ জগৎ সংসার এই মুখে পুরাইব । ఫి ఆ কমলাকাস্তের দপ্তর । ংসার এ সুখের সাগরে ভাসাইব ; মেরু হইতে মেরু পর্য্যন্ত সুখের তরঙ্গ নাচাইব, আপনি ডুবিয়া, উঠিয়া, ভাসিয়া, হেলিয়া, ছুটিয়া বেড়াইব । এ স্বখে কমলাকান্তের অধিকার নাই—এ সুখে বাঙ্গালির অধিকার নাই । সুখের কথাতেই বাঙ্গালির অধিকার নাই । গোপীর দুঃখ, বিধাতা গোপীকে নারী করিয়াছেন কেন— আমাদের দুঃখ, বিধাতা আমাদের নারী করেন নাই কেন—তাহা হইলে এ মুখ, দেখাইতে হইত না । . + মুখের কথায় বাঙ্গালির অধিকার নাই— কিন্তু দুঃখের কথায় আছে । কাতরোক্তি যত গভীর, যতই হৃদয়বিদারক হউক না কেন, তাহ৷ বাঙ্গালির মৰ্ম্মোক্তি —আর কাতরোক্তি কোথায় বা নাই ? নবপ্রসুত পক্ষিশাবক হইতে মহাদেবের শৃঙ্গ ধ্বনি পৰ্য্যন্ত সকলই কাতরোক্তি । সম্পূর্ণমুখে সুখীও মুখকালে পূৰ্ব্বদুঃখ স্মরণ করিয়া কাতরোক্তি করে। নছিলে মুখের সম্পর্ণতা কি ? দুঃখস্মৃতি ব্যতীত মুখের সম্পূর্ণতা কোথায় । স্থখও দুঃখময়— । কমলাকাস্তের দপ্তর। ›¢ግ “তোমার যখন পড়ে মনে, । আমি চাই বৃন্দাবন পানে, আলুইলে কেশ নাহি বাধি।” এই কথা সুখ দুঃখের সীমা রেখা । যাহার নষ্ট্র সুখের স্মৃতি জাগরিত হইলে সুখের নিদশন এখনও দেখিতে পায়, সে এখনও স্বর্থী— তাহার সুখ একেবারে লুপ্ত হয় নাই । তাহার বন্ধু, তাহার প্রিয়, বাঞ্ছিত—গিয়াছে, কিন্তু তাহার বৃন্দাবন আছে—মনে করিলে, সে সেই সুখভূমি পানে চাহিতে পারে। যাহার সুখ । গিয়াছে—সুখের নিদর্শন গিয়াছে—বঁধু গিয়াছে, বৃন্দাবনও গিয়াছে, এখন আর চাহিবার । স্বান নাই—সেই দুঃখী,অনন্ত দুঃখে দুঃখী । বিধব৷ যুবতী, মৃত পতির যত্বরক্ষিত পাদুকা হারাইলে, যেমন দুঃখে দুঃখী হয়, তেমনই দুঃখে দুঃখী । । আমার এই বঙ্গদেশের সুখের স্মৃতি আছে —নিদর্শন কই ? দেবপালদেব, লক্ষণসেন, জয়দেব, শ্ৰীহৰ্ষ,—প্রয়াগ পর্য্যস্ত রাজ্য, ভারতের অধীশ্বর নাম, গৌড়ী রীতি, এ সকলের । স্মৃতি আছে, কিন্তু নিদর্শন কই ? মুখ মনে, 8 Sёь কমলাকাস্তের দপ্তর। পড়িল, কিন্তু চাহিব কোন দিকে ? সে গোঁড় কই ? সে যে কেবল যবনলাঞ্ছিত ভগ্নাবশেষ । আর্য্য রাজধানীর চিহ্ন কই ? আর্য্যের ইতিহাস কই ? জীবনচরিত কই ? কীৰ্ত্তি কই ? কীৰ্ত্তিস্তম্ভ কই ? সমরক্ষেত্র কই ? সুখ গিয়াছে— স্থখ-চিহ্নও গিয়াছে, বঁধু গিয়াছে, বৃন্দাবনও গিয়াছে—চাহিব কোন দিকে ? চাহিবার এক শ্মশান-ভূমি আছে,—নবদ্বীপ । সেইখানে সপ্তদশ যবনে বাঙ্গালা জয় করিয়াছিল । বঙ্গমাতাকে মনে পড়িলে, আমি সেই শ্মশান-ভূমি প্রতি চাই । যখন দেখি, সেই ক্ষুদ্র পল্লীগ্রাম বেড়িয়া অদ্যপি সেই কলধৌতবাহিনী গঙ্গা তর তর রব করিতেছেন, তখন গঙ্গাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করি—তুমি আছ, সে রাজলক্ষী কোথায় ? তুমি যাহার পা ধুয়াইতে, সেই মাতা কোথায় ? তুমি যাহাকে বেড়িয়া বেড়িয়া নাচিতে, সেই আনন্দরূপিণী কোথায় ? তুমি যাহার জন্য সিংহল, বালী, আরব, সুমিত্র হইতে বুকে করিয়া ধন বহন করিয়া আনিতে, সে ধনেশ্বরী কোথায় ? তুমি কমলাকাত্তের দপ্তর। । “s যাহার রূপের ছায়া ধরিয়া রূপসী সাজিতে, সে অনন্তসৌন্দৰ্য্যশালিনী কোথায় ? তুমি যাহার প্রসাদি ফুল লইয়া ঐ স্বচ্ছ হৃদয়ে মালা পরিতে, সে পুষ্পাভরণা কোথায় ? সে রূপ, সে ঐশ্বৰ্য্য কোথায় ধুইয়া লইয়া গিয়াছ ? বিশ্বাসঘাতিনি, তুমি কেন আবার শ্রবণমধুর কল কল তর তর রবে মন ভুলাইতেছ? বুঝি তোমারই অতল গৰ্ভমধ্যে, যবনভয়ে ভীত৷ সেই লক্ষী ডুবিয়াছেন, বুঝি কুপুত্ৰগণের আর মুখ দেখিবেন না বলিয়া ভুবিয়া আছেন। মনে মনে আমি সেই দিন কল্পনা করিয়া কাদি । মনে মনে দেখিতে পাই, মার্জিত বর্ষাফলক উন্নত করিয়া, অশ্বপদশব্দমাত্রে নৈশ নীরব বিঘ্নিত করিয়া, যবনসেন নবদ্বীপে আসিতেছে।" কালপূর্ণ দেখিয়া নবদ্বীপ হইতে বাঙ্গালার লক্ষী অন্তৰ্হিত হইতেছেন। সহসা আকাশ অন্ধকারে ব্যাপিল ; রাজপ্রাসাদের চূড়া ভাঙ্গিয়া পড়িতে লাগিল। পথিক ভীত হইয় পথ ছাড়িল ; নাগরীর অলঙ্কার খসিয়া । পড়িল ; কুঞ্জবনে পক্ষিগণ নীরব হইল ; গৃহমন্নুরকণ্ঠে অৰ্দ্ধব্যক্ত । { কমলাকাস্তের দপ্তর به وی و কেকার অপরাদ্ধ আর ফুটিল না। দিবসে নিশীথ উপস্থিত হইল, পণ্যবীথিকার দীপমালা নিবিয়া গেল, পূজাগৃহে বাজাইবার সময়ে শঙ্খ বাজিল না ; পণ্ডিতে অশুদ্ধ মন্ত্র পড়িল ; সিংহাসন হইতে শালগ্রামশিলা গড়াইয়া পড়িল। যুবার সহসা বলক্ষয় হইল ; যুবতী সহসা বৈধব্য আশঙ্কা করিয়া কাদিল ; শিশু বিনারোগে মাতার ক্রোড়ে শুইয়া মরিল । গাঢ়তর, গাঢ়তর, ঢ়িতর অন্ধকারে দিক ব্যাপিল ; আকাশ, অট্টালিকা, রাজধানী, রাজবক্স দেবমন্দির, পণ্যবীথিকা, সেই অন্ধকারে ঢাকিল—কুঞ্জতীরভূমি, নদী নদীসৈকত, নদীতরঙ্গ সেই অন্ধকারে— অর্ণধার, অর্ণধার, অর্ণধার হইয়া লুকাইল । আমি চক্ষে সব দেখিতেছি—আকাশ মেঘে ঢাকিতেছে—ঐ সোপানাবলী অবতরণ করিয়া রাজলক্ষী জলে নামিতেছেন। অন্ধকারে নির্বাণোমুখ আলোকবিন্দুবৎ, জলে, ক্রমে ক্রমে সেই তেজোরাশি বিলীন হইতেছে। যদি গঙ্গার অতল-জলে না ভূবিলেন, তবে আমার সেই দেশলক্ষী কোথায় গেলেন ? ।