কমলাকান্তের দপ্তর (দ্বিতীয় সংস্করণ)/ষষ্ঠ সংখ্যা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ষষ্ঠ সংখ্যা । চন্দ্রীলোকে । এই তৃণ-শপ-শোভিত হরিৎক্ষেত্রে, এই কলবাহিনী ভাগীরথী-তীরে, এই স্ফুটচন্দ্রীলোকে, আজি দপ্তরের ত্রীবৃদ্ধি, কলেবর-বৃদ্ধি করিব। এইরূপ চন্দ্রালোকেই না, টৈ লস শৰ্ম্ম। টয়ের উচ্চ প্রাচীরে আরোহণ করিয়া, ক্রিসীদাকে স্মরণ করিয়া উষ্ণ শ্বাস ত্যাগ করিতেন ! এইরূপ চন্দ্রালোকেই না থিসবী সুন্দরী এইরূপ মৃদু শিশির-পাত-সিক্ত শম্প মৃদু পদে দলিত করিয়া পিরামসের সঙ্কেত স্থানাভিমুখে অভিসারিণী হইতেন ? অভিসারিণী শব্দটিতে অভি একটি উপসর্গ আছে, স্ব একটি ধাতু আছে এবং স্ত্রীত্যবাচক একটি ‘ইনী’ আছে ; এই জীবনে কমলাকান্ত শৰ্ম্ম কত উপসর্গ দেখিলেন, কত লোকের ধাতু ছাড়িল গঠিল দেখিলেন, কত ইনীও এলেন গেলেন, কিন্তু কমলাকাস্তুের দপ্তর। । : هاند সোপসর্গ ধাতুবিশিষ্ট্র একটি ইনীও কখন দেখিলাম না । কমলাকান্ত উপসর্গে কোন ইনীর ধাতু বিগড়াইল না। কমলাভিসারিণী, এরূপ নায়িক। কখন হইল না। যাহারা দধি দুগ্ধ বিক্রয়ার্থ আগমন করে, তাহাদিগকে শ্ৰীমদ্ভাগবতে “পসারিণী” বলিয়াছে, কখন অভিসারিণী বলিয়াছে, এরূপ স্মরণ হয় না, তাহা যদি বলিত, তাহা হইলে অনেক অভিসারিণী দেখিয়াছি বলিতে পারিতাম । চন্দ্র তুমি হাম্ভ করিতেছ? হেসে হেসে ভেসে উঠিতেছ? তোমরা সাতাইশ ইনী শুদ্ধ আমাকে দেখিয়া, আমার প্রতি চক্ষু টিপিয়া উপহাস করিতেছ? দক্ষ রাজার যেমন কৰ্ম্ম— । একেবারে সাতাইশটিকে এক চন্দ্রে সমর্পণ করিলেন, আর এখন কমলাকান্ত শৰ্ম্ম বিবাহের জন্য লালায়িত অমল-ধবল কিরণরাশি স্থধাংশে । আর সকল তোমার থাক, তুমি । অন্ততঃ অশ্লেষা মঘাকে ছাড়িয়া দেও, আমি ওই । দুইটিকে বড় ভালবাসি। আমার মত নিষ্কৰ্ম্ম । লোক উহাদের কল্যাণে অন্ততঃ দুই দিন গৃহবাস €8 কমলাকাত্তের দপ্তর। সুখ উপলব্ধি করিতে পারে। আমি ঐ ভগিনীদ্বয়কে আমার ভবনে চিরকাল জন্য স্থান দান করিয়া, সুখে কাল কৰ্ত্তন করিব। ইহাদিগের আরও অনেক গুণ আছে—লোকে নিজে অক্ষমত নিবন্ধন কোন কৰ্ম্ম করিতে না পারিয়া স্বচ্ছন্দে ইহাদিগের দোহাই দিয়া লোকের কাছে আস্ফালন করিতে পারে। আমিও নশীবাবুর কাপড় কিনিতে যদি নিবুদ্ধিত বশতঃ প্রতারিত হইয়া আসি, তবে আমার সহধৰ্ম্মিণীদ্বয়ের স্কন্ধে সমস্ত দোষ অপর্ণ করিয়া সাফাই করিতে পারিব । চন্দ্রদেব ! তুমি আমার কথায় কর্ণপাত করিলে না ? এখনও মন্দাকিনীর মন্দান্দোলিত বক্ষ-বসন করম্পর্শে প্রতিভাসিত করিতেছ ? এখনও মন্দ সমীরণের সহ পরামর্শ করিয়া বৃক্ষের অগ্রভাগে পলকে পলকে ঝলক বর্ষণ করিবে ? এখনও তৃণ-ক্ষেত্রে মণি মুক্ত। মরকত অকাতরে ছড়াইয়া দিবে ? উলুবনে মুক্তা, আর কেহ ছড়াক আর না ছড়াক, দেখিতেছি তুমি ছড়াইয়া থাক। আর আজ আমি ছড়াইব । । এই সংসারের লোক, এই বল্লালসেনের কমলাকাত্তের দপ্তর । - છ૬ প্র-পর-অপ-পৌত্রেরা এবং তাছার নির দুর-বিঅধি-দৌহিত্রেরা আমাকে জ্বালাতন করিয়া তুলিয়াছে। আমার বক্ষের উপরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইয়াছে। বি, এ, না হলে বিয়ে হয়। না। এই বার সংসার ভূবিল। উচ্চ শিক্ষায় ফল কি ? ছাপর খাট—রূপার কলসী, গরদের কাচা, এবং স্বর্ণালঙ্কার-ভূষিতা, পট্ৰ-বসনাবৃতা, একটি বংশখণ্ডিকা ! হরি হরি বল, ভাই! ভূণগ্রাহী। পাণ্ডিত্যাভিমানী বি, এ, উপাধিধারী উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত নব বঙ্গবাসীর, কলসী বস্ত্র বংশ খট্রাসমেত সজ্ঞানে গঙ্গালাভ হুইল !* প্রথমে উপাধি পাইয়াছিলেন, এ বার সমাধি পাইলেন। তিনি বিলাতী ব্রহ্মে লীন হইলেন। বঙ্গীয় যুবক । ংসারী হইলেন। র্তাহার উচ্চশিক্ষা তাহাকে । তাহার চরমধামে পৌঁছিয়া দিয়াছে। তিনি । সহস্ৰ তোলক পরিমিত রজতপাত্র, শত তোলক পরিমিত স্বর্ণালঙ্কার এবং সংসার-কুটারের এক । মাত্র দণ্ডিকা, একটি বংশ-খণ্ডিকা পাইয়াছেন,. —: বোধ হয় এই রাত্রি হইতেই कबलाकाउब्र ব্যক্তি । কের বড় বাড়াবাড়ি হইয়াছিল।-ঐভীষ্মদেব খোসনবীশ । । কমলাকাস্তের দপ্তর :ি ئیموئ\ তিনি তাহার চিরবাঞ্ছিত হেমকূট পৰ্ব্বত নিকটস্থ কিষ্কিন্ধ্যাপুরীর সরকারি ওকালতী পাইয়াছেন, হরি হরি বল, ভাই ! তাহার এত দিনে সমাধি হইল ! তিনি উচ্চশিক্ষা লাভার্থ বহু যত্বে কামস্কাটক। দেশের নদী সকলের নাম কণ্ঠাগ্রে করিয়াছিলেন। এই উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি নিশীথ-প্রদীপে অনন্যমনে শাহারা মরুভূমির বালুকাপুঞ্জের সংখ্যা ধারণ করিয়াছিলেন। এইউচ্চশিক্ষার জন্যই শালিমানের উদ্ধে বায়ান্ন পুরুষ নিক্ষে সাড়ে তিপ্ৰপান্ন পুরুষের কুলচি মুখস্থ করিয়াছেন । এই উচ্চশিক্ষা-বলে তিনি শিখিয়। ছেন যে, টাউনহলে বক্ত তা করিতে পারিলেই পরম পুরুষাৰ্থ ; ইংরেজের নিন্দ যে কোন প্রকারে করিতে পারিলেই রাজনীতির একশেষ হইল। এবং বংশ-দণ্ডিকার স্থাপন করিয়া উয়েদার গোষ্ঠীর বৃদ্ধি করিয়৷ দেশ জঙ্গলময় করিতে পারিলেই কলির জীবধৰ্ম্মের চরিতার্থত হইত। ” এরূপ বংশ-দণ্ডিকা-প্রয়াসী আমি নহি । আমি উইল করিয়া যাইব, সাত পুরুষ বিবাহ করিতে না হয় তাও কৰ্ত্তব্য, তথাপি এরূপ বংশদণ্ডিক কমলাকাত্তের দপ্তর । ৬৭ আশ্রয়ে স্বৰ্গ-প্রাপ্তির বাঞ্ছাও কেহ না করে । যদি জীবপ্রবাহ বৃদ্ধি করাই বিবাহের উদ্দেশ্য হয়, তবে আমি মৎস্যাদি বিবাহ করিব ; যদি টাকার জন্য বিবাহ করিতে হয়, তবে আমি টাকশালের অধ্যক্ষকে বিবাহ করিব ; আর যদি সৌন্দর্য্যার্থে বিবাহ করিতে হয়, তবে—ঘোস্টাটানা চাদবদনীদের উদ্দেশে প্রণাম করিয়া, ঐ আকাশের চাদকে বিবাহ করিব । ভাগীরথি ! যদি তুমি শান্তনুবক্ষে অথবা তদপেক্ষ উচ্চতর হিমালয়-ভবনে, অথবা আরো উচ্চতর ধূর্জটার জটা-কলাপে বিরাজ করিতে, তাহা হইলে কে আজ তোমার উপাসনা করিত ? তুমি নীচগা হইয়া, মর্ত্যে অবতরণ করিয়া সহস্রধা হইয়া সাগরোদেশে গমন করিয়াছিলে বলিয়াই সগর-বংশের উদ্ধার হইয়াছে ; সমীরণ ! তুমি যদি অঞ্জনার অঞ্চল লইয়। চিরক্রীড়াসক্ত থাকিতে, অথবা মলয়াচলে স্বীয় প্রমোদভবনে চন্দন-শাখা নমিত করিয়া বা এলা লতা কম্পিত করিয়া পরিভ্রমণ করিতে, তাছা হইলে কে তোমাকে “ত্বমেব জগজ্জীবনং পালনখ” ÝbᏉ কমলাকাত্তের দপ্তর । বলিয়া আর তোমার স্তব স্তুতি করিত ? এই বালবসন্ত-বিহারী বিহঙ্গমকুলের কাকলি যদি কেবল নন্দন-কাননেই প্রতিধ্বনিত হইত, তাহা হইলে কমলাকান্ত চক্রবর্তী তাহাদের নাম করিয়া এই রাত্রিকালে স্বীয় মসী লেখনীর অনর্থক ক্ষয় করিবে কেন ? স্বধাংশে ! তুমি তোমার ক্ষীরোদসাগর-তলে, অমৃত-ভাণ্ডারে, প্রবাল-পালঙ্কে যৌক্তিক-শয্যায় শয়িত থাকিতে,তাহ হইলে কে তোমার সহিত রমণী-মুখ-মণ্ডলের তুলনা করিত ? অথবা তোমার ঐ সাতাইশটি ক্রমান্বয় ভর্তৃকা লইয়া খলু সার শ্বশুর-মন্দির দক্ষালয়ে বাস করিতে, তাহা হইলে আজি কমল শৰ্ম্ম কি তোমার দর্শনাভিলাষী হইয়া—এই শ্মশান নিকট বটতলায় তীরস্থ হইয়া বাস করে ? শশী—যদি তোমার ব্যাকরণ পড়া থাকে, তবে আমাকে মাপ করিও, আমি প্রাণান্তেও শশিন বলিতে পারিব না— আমি এত ক্ষণ তোমার গুণের অনুধ্যান করিতেছিলাম ; শশী, তুমি অনাথার কুটারদ্বারে প্রহরী রূপে অনিমেষনয়নে বসিয়া থাক, আধভাষী শিশু যখন নাচিতে কমলাকাত্তের দপ্তর। - \ర్చి নাচিতে তোমায় ধরিতে যায়, তুমি তাহার সঙ্গে নাচিতে নাচিতে খেলা কর, বালিকা যখন স্বচ্ছ সরোবর-হৃদয়ে তোমায় এক বার দেখিতে পাইয়া, এক বার না পাইয়া, তোমার সন্দর্শন লাভার্থ, ইতস্ততঃ সরোবরকুলে দোঁড়িতে থাকে, তখন তুমি এক এক বার ঈষৎ দেখা দিয়া তাহার সহিত কেবল লুকোচুরি খেলিতে থাক, নববধু যখন মন্দ বাত সহিত প্রাসাদোপরি একাকিনী দীর্ঘশ্বাস ফেলিতে থাকে, তখন তুমি নারিকেল কুঞ্জান্তরাল হইতে অতি ধীরে ধীরে তাহার হৃদয় ভরিয়া অমৃত বর্ষণ করিয়া তাহাকে ক্রমে শীতল কর ; যখন তরঙ্গিণী আশা-তরঙ্গিত-হৃদয়ে ধীর প্রবাহে মন্দগতিতে সিন্ধু-অভিগামিনী হয়, তখন। তুমিই তাহাকে স্বর্ণ-ভূষণে ভূষিত করিয়া আশীববাদ করিয়া পথ প্রদর্শন করিয়া থাক ; গোলাপ যখন বসন্ত-রাগে এক বৃন্তে চারি দিক দেখিয়। হেলিতে দুলিতে থাকে, তখন তুমিই তাহাকে মালতী লতাকে চুম্বন করিতে কানে কানে পরামর্শ দেও। আবার সেই তুমিই, অসদভিসন্ধিৎস্থ । নর যখন কুলকামিনীর ধৰ্ম্মনাশে প্রবৃত্ত হয়, তখন । * o - কমলাকান্তের দপ্তর । তোযার কোমল মুখমণ্ডলে এমনি ভ্ৰকুটি করিতে থাক যে, সে তোমার মুখ পানে আর দৃষ্টিক্ষেপ করিতে সমর্থ হয় না ; তুমিই নরহত্যাকারীর । তরবারিফলকে বিদ্যুৎ চমকাইয়া দেও, তাহার পাপ শোণিত-বিন্দুতে চৌষট্টি রৌরব প্রতিফলিত করিয়া দেখাইয়া দেও। তুমি ক্রীড়াশীল শিশুর চলং স্বর্ণস্থালী, তরুণের আশা-প্রদীপ ; যুবক যুবতীর যামিনীযাপনের প্রধান সম্ভোগ-পদার্থ ; এবং স্থবিরের স্মৃতি-দৰ্পণ । তুমি অনাথার প্রহরী, স্থির দীপধারী ; তুমি পথিকের পথ-প্রদর্শক ; গৃহীর নৈশস্বৰ্য্য ; তুমি পাপীর পাপের সাক্ষী ; পূণ্যাত্মার চক্ষে তাহার যশঃপতাকা । তুমি গগনের উজ্জ্বল মণি ; জগতের শোভা । আর এই শ্মশানবিহারী ঐকমলাকান্তের একমাত্র সম্বল ; তুমি ভালর তাল, মদের মন্দ ; রসে রস, বিরসে বিষ। তুমি কমলাকাস্তের সহধৰ্ম্মিণী ; শশী, আমি তোমায় বড় ভালবাসি, আমি তোমাকেই বিবাহ করিব। সকলে হরি হরি বল, ভাই । আজ এইখানে বাসর যাপন—সকলে এক বার হরি বল, ভাই ! কমলাকাত্তের দপ্তর। as বয ভোলানাথ ! চন্দ্র যে পুরুষ ? তবে ডবল মাত্র। চড়াইতে হইল । চন্দ্র আমাদিগের আর্য্য মতে পুরুষ বটে, কিন্তু বিলাতীয় শৰ্ম্মাদিগের মতে ইনি কোমলাঙ্গী। আমাদিগের মতে চন্দ্র ছি,* ইংরাজি মতে চন্দ্র শী, এখন উপায় ? হি কি শী তাহ। স্থির হইবে কি প্রকারে ? বাস্তবিক এই বিষয়ে সংসারের লোকের সঙ্গে আমার কখন মতের ঐক্য হইল না। আমার এ বিষয়ে নানা সন্দেহ হয়। যে ওয়াজিদালিশাহ লক্ষ্মেী নগরী হইতে স্বচ্ছন্দে চতুৰ্দ্দোলারোহণে মুচিখোলায় আগমন করিয়া, হংস হংসী কপোত কপোতী লইয়া ক্রীড়া করেন, গোলাপ সহিত বারি-হ্রদে নিত্য স্নান করিয়া, স্বীয়ানুরূপী পিঞ্জরস্থ বুলবুলিকে সমৃতপলান্ন প্রদান করেন, তিনি হি না শী ? এবং যে মহিষী দেশ-বাৎসল্যে ঐহিক সুখ সম্পত্তি বিসর্জন করিয়া— রাজপুরুষগণের শরণাপন্ন হওয়াপেক্ষা ভিক্ষার _ * - ... mąstup नहि नकाशन्कबन्न क्लाउनिज्ञाहिइशः इस्त्राचि সৰ্ব্বনাম—হি পুংলিঙ্গ—ী স্ত্রীলিঙ্গ-শ্ৰীভীষ্মদেব। : * R কমলাকাত্তের দপ্তর। শ্ৰেয়ঃ বোধে, নেপালের পাৰ্ব্বতীয় প্রদেশে আশ্রয় লইয়াছেন, তিনি শী না হি ? তবে ত সাহসকে হি-শীর প্রভেদক করা যায় না । তবে যুদ্ধ-নৈপুণ্যে হি-শীর প্রভেদ হইবে ? যে জোয়ান ওলিয়ান্স দুর্গ আক্রমণকালে সৰ্ব্বপ্রথমে পদার্পণ করিয়াছিল, যে ফান্সের পুনরুদ্ধার করিয়াছিল, তাহাকে শী বলিব না ছি বলিব ? আর যে বেডফোর্ড—তাহাকে পাকচক্রে ফেলিবার জন্য সেই জোয়ানের কারাগারে পুরুষের বস্ত্র সংরক্ষণ করিয়াছিল, তাহাকেই বা হি বলিব না শী বলিব ? না যুদ্ধ-কৌশলে বুঝিতে পারিলাম না। তবে শুনা যায় যে বলীয়ান, সেই পুরুষ আর যে জাতি দুৰ্ব্বল, তাহারাই স্ত্রীলোক । ভাল—কোমৎ আপনাকে নীতিরাজ্যের সৰ্ব্বেসৰ্ব্ব স্থির করিয়া, ইউরোপীয় পণ্ডিতমণ্ডলীর নিকট কর যাচঞা করিয়াছিলেন, সেই অতুল প্রতাপশালীকে যে মাদম ক্লোতিলড দেবো স্বীয় প্রতাপের আয়ত্ত করিয়াছিলেন, তাহাকে শী বলিব না হি বলিব ? রোমক পত্তনের কৈসরগণ এক এক জন পৃথিবীর রাজা, যে মৈদরী রাজ্ঞী কমলাকাত্তের দপ্তর । । סיף ক্লিওপেটরা এরূপ তিন জন কৈসরের উপর রাজত্ব করিয়াছেন ; তাহাকে শী বলিব, না হি বলিব ? বাস্তবিক জগতে কে ছি, কে শী, তাহা স্থির করা যায় না। সে দিন কীৰ্ত্তন হইতেছিল, যখন কীৰ্ত্তন-গায়িক বলিল—“সিংহিনী হইয়া শিবাপদ সেবিব ?" এবং বঙ্গ নব্য-সম্প্রদায়ের মন্ত্রস্তব্ধবং, চিত্ৰপুত্তলিকার ন্যায় তাহার মুখ নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন, আমার বাস্তবিক সেই কীৰ্ত্তন গায়িকাকে সিংহবৎ বোধ হইয়াছিল এবং সেই সমস্ত বাঙ্গালি যুবককেই আমি শিব স্বরূপ মনে করিয়াছিলাম । তখন যদি আমাকে কেহ জিজ্ঞাসা করিত, এর কোনগুলি হি, কোনগুলিই বা শী ; তাহা হইলে, আমি অবশ্য বলিতাম যে, সেই কীৰ্ত্তনকারিণীই হি এবং তাহার জড়বৎ শ্রোতৃবৰ্গই শী। বাস্তবিক বঙ্গীয় যুবকের। কোথাও ছি, কোথাও শী, এবং সৰ্ব্বত্র বিকল্পে ইট হন। তাহার নিত্য বিধিও আছে। যথা— ইয়ারকিতে হি শয্যাগৃহে শী, এবং বিষয় কৰ্ম্মে । ইট। তাহারা বক্ত তার সময়ে হন হি, সাহে-- বের কাছে শী, মদ খাইলে হন, ইট, । ফলে

  • 8 কমলাকাত্তের দপ্তর ।

ইট যাহাই হউক, ছি, শীর বিষয়ে আমার আপনা আপনি অনেক সন্দেহ হয়। মধু চাটুয্যে আমার নাম সংযোগ করিয়া কি বিদ্রুপ করিয়াছিল বলিয়া, যে প্রসন্ন, স্বচ্ছন্দে পূর্ণদুগ্ধ-কুম্ভ তাহার মস্তকে নিক্ষেপ করিয়া, চাটুয্যের বক্ষ-কবাটের বল পরীক্ষা করণার্থ কোনরূপ বিশেষ আয়ুধ প্রয়োগ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিল, সে প্রসন্ন সংসারের মতে হুইল শী—আর আমি—নশী বাবু কি না এক দিন বলিয়াছিলেন—“যে চক্রবত্তী ঝিমুতে ঝিমুতে আজ বিছানাটা পোড়ালে, এক দিন একটা লঙ্কাকাণ্ড করিবে দেখছি”—সেই ভয়ে আফিঙ্গের মাত্র। কমাইয়া দিলাম,সেই আমি হইলাম হি ? এইরূপ বিচারের জন্যই সংসারের সঙ্গে আমার বিবাদ, বিসম্বাদ । ফল কথা,যখন আমি নিজে হি কি শী, তাহ নিশ্চয় করা দুষ্কর, তখন চন্দ্র হি কিম্বা শী তাহার স্থিরতা কি প্রকারে হইবে ? যদি চন্দ্র হি হয়েন, ত আমি শী—কেন না আমার সহিত চন্দ্রের ভালবাসা জন্মিয়াছে। এবং আমার চন্দ্রকে বিবাহ করিতেই হইবে। আর জামি যদি প্রকৃত এক জন কমলাকান্ত চক্রবর্তী কমলাকাত্তের দপ্তর। . *● হই, তাহ হইলে চন্দ্র শী। চন্দ্র বিলাতীয় মতে শী। আমি তাহ হইলে চন্দ্রকে বিলাতীয় মতে পাণিগ্রহণ করিব । । এখন নানা মতে নানা কার্য্য হইতেছে ; আমি বিলাতীয় মতে বিবাহ করিব। এখন দশাবতার দশকৰ্ম্মান্বিত হইয়াছেন। মৎস্য, কুৰ্ম্ম, বরাহ টেবিলের শোভা সম্বৰ্দ্ধন করিতেছেন। নৃসিংহরাম কমলাকান্ত রূপ দৈত্যকুলের প্রহলাদগণের tশ্রয়ীভূত হইয়াছেন। বামনাবতারে বঙ্গীয় যুবকগণ, আমার সোণারচাদ শশীকে স্পর্শ করিতে স্পৰ্ব করে । প্রথম রামের স্থানে ই হার মাতৃ-সেবা, দ্বিতীয় রামের স্থানে পত্নী-সেবা, এবং শেষ রামের নিকটে বারুণী-সেবা শিক্ষা করিয়াছেন। ই হারা বৌদ্ধ-মতে সংসারের অনিত্যত স্থির করিয়া, কস্কিমতে সংহারমূর্তি ধারণ করিয়াছেন। এখনকার কালে শাক্তমতে ভোজ্য প্রস্তুত হইয়া, তাহ শৈব ত্ৰিশূলে বিদ্ধ করিয়া গলাধঃকরণ করিতে হয় ; তাহার পর সৌর পান সেবনীয় । আবার জিরুশালমের প্রথম গৌরাঙ্গের উপদেশ মত ভজনশালা করিতে হয় । মে৷ে কমলাকাত্তের দপ্তর । গৌরাঙ্গ নবদ্বীপবাসীর মত হরিসংকীৰ্ত্তন করিতে হয়, রাধানগরের ছোট গৌরাঙ্গের মত সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করিতে হয় । সুতরাং শশী, পূর্ণশশী,আজি আমি তোমাকে ইংরাজি মতে, শী স্থির করিয়া, হোস বাহালে সুস্থ শরীরে, খোস তবিয়তে ইচ্ছাপূৰ্ব্বক বিবাহ করিলাম। আমি পুত্র পৌত্ৰাদি ক্রমে পরম সুখে অন্যের বিনা সরিকতে তোমাতে ভোগ দখল করিতে থাকিব। ইহাতে তুমি কিম্বা তোমার স্থলাভিষিক্ত কেহ কখন কোন আপত্তি কর বা করে, তাহ নামঞ্জুর হুইবে । তোমার সাতাইশটিতে আজ হইতে আমার সম্পূর্ণ স্বত্বাধিকার হইল । আর অমন করিয়া, পা টিপিয়া, পা টিপিয়া,ঢলে পড়িয়া রোহিণীর সঙ্গে কথা কহিলে কি হইবে ? আর অমন করে মুচ কে হেসে পাতলা মেঘের ঘোমটা টেনে, তর তরু করিয়া কত দূর চলিয়া যাইবে ? ইতি কোর্টশিপ সমাপ্ত ঃ– এক্ষণে গান্ধৰ্ব্ব বিবাহ। আমি বরমাল্য প্রদান করিলাম, তুমি করমাল্য প্রদান কর । কমলাকাস্তুের দপ্তর । । จจ কন্যাকৰ্ত্ত। হৈল কন্যা, বরকত্ত্ব বর। নিজ মন পুরোহিত, শ্মশানে বাসর ॥ এক বার হরি বল, ভাই ! হরি হরি বোল। আজ অবধি আর চন্দ্রকে দেখিয়া কমল মুদিত হইবে না। • কমল ফুল্ল হইতে দেখিলে আর চন্দ্র স্নান হইবে না। এই বার ভারতবর্ষীয় কবিগণের কবিত্ব লোপ হইল—পূৰ্ব্বে কমল মুদিত আঁখি চন্দ্রেরে হেরিলে, এখন চন্দ্রেরে দেখিতে দেখ কমল অাখি মিলে । sه চন্দ্রের হৃদয়ে কালি কলঙ্ক কেবল, কিন্তু কমল-হৃদয়ে চন্দ্র কেবল উজ্জ্বল । আহা ! আমি আমার চন্দ্রকে হারাইয়া দিয়াছি। বর বড় না, ক’নে বড়, এই দেখ বর বড়— - চন্দ্রে সবে ষোল কলা হ্রাস বৃদ্ধি তায়, । চক্রবর্তী পরিপূর্ণ এক কাদি কলায় । । সেই কলা কভু লুপ্ত কভু বর্তমান । । কমলের বাগানের সব মৰ্ত্তমান ! ! Abr কমলাকাত্তের দপ্তর । দেখ শশী এখন নির্জন হইল। তোমাকে গোটাকত কথা বলিতে ইচ্ছা করি। তুমি তোমার রূপ-গৌরবে গৰ্ব্বিত হইয়। যেখানে সেখানে ও রূপের ছড়াছড়ি করিও না । যখন পুত্ৰ-শোকাতুর মাত-বক্ষে করাঘাত করিয়া তোমার দিকে লক্ষ্য করিয়া ক্ৰন্দন করিতে থাকে, তখন তুমি তাহার কাছে রূপ দেখাইয়া কি করিবে ? তখন কলঙ্কিনি ! তোমার রূপরাশি গাঢ় মেঘান্তরালে লুক্কায়িত করিয়া রাখিও । যখন ংসার-জ্বালাজালে লোকে দগ্ধ হইয়া, তোমার দরবারে আসিয়া অভিযোগ করিবে, তখন তোমার সৌন্দর্য্য-বিকাশ তাহার কাছে করিও না ; যে সংসারদগ্ধ, তাহার পক্ষে সে সৌন্দৰ্য্য তীব্র বিষ-ক্ষেপ রূপ হইবে । বরং রক্ত রাগে তাহার সহিত আলাপ করিও । যে সকলকে ঘৃণা করিয়াছে, কাহারও প্রীতি সে সহ করিতে পারে না । - আর যে ঐহিক চরম স্থখের সীমা উপলব্ধি করিয়া আত্মবিসর্জনে প্রস্তুত হইয়াছে, তাহাকে আর বৃথা আশা দিয়া সান্ত না করিও না। তুমি | কমলাকাত্তের দপ্তর। ۹ه এক্ষণে আমার এক-ভোগ্য, তুমি আর কি দেখাইয়। অপরকে সান্ত না করিবে ? কিন্তু কমলকান্তের সময় অসময় নাই । ঘটন বিঘটন নাই, স্থখ দুঃখ নাই। তুমি সৰ্ব্বদাই আমার নিকট আসিবে ; তোমার নিজকথা আমাকে বলিবে, আমার কথা শুনিয়া যাইয়া, আপনার অন্তরে আপনার অস্থি-মজ্জার সহিত সেই কথা মিশাইয়া, রাখিয়া দিবে। তুমি জ্যোৎস্ন। রাত্রিতে আমার সহিত দেখা করিতে আসিও, ও কোমল কান্তি লইয়া অন্ধকারে বিচরণ করিও না। অদ্য আমাদের যে স্থখের দিন, তাহা তুমি আমি ব্যতীত কে বুঝিতে পারিবে ? অদ্য হইতে মাস গণনা করিয়া প্রতি মাসের শেষে আমরা এই গঙ্গাতীরে শল্প-বাসর সমাপন করিব। সকল পূর্ণ মাসেই তুমি হঠাৎ আমার কাছে আগমন করিও না ; পঞ্জিকাকারগণের সহিত দিন ক্ষণের পরামর্শ করিয়া কমলাভিসারিণী হইও, নচেৎ এক দিন রাহু তোমাকে পথিমধ্যে হঠাৎ মসীময়ী করিয়া ক্লিষ্ট করিবে। আর এই বিবাহ-রাত্রিতে নব বন্ধুকে অধিক উপদেশ প্রদান করিতে গেলে to o কমলাকাত্তের দপ্তর । ধৰ্ম্ম-যাজকতার ভান হয় । সুতরাং অলমতিবিস্তরেণ । এখন এক বার, কমল শশীর বাসর ঘরে, ডাক রে কোকিল পঞ্চমস্বরে ! এখন শশী একবার, এই মর্ত্য লোকে অবতীর্ণ হইয়া তরঙ্গের উপর অপসর-ছাদে নৃত্য কর দেখি ! এক বার কাল মেঘের ভিতর বেগে দৌড়াইয়া গিয়া, এক বার অনন্ত গগনের অনন্ত পথে উল্টাইয়া পড় দেখি ! এক বার গভীর মেঘে ক্ষুদ্র ছিদ্র করিয়া রন্ধ-পথে এক চক্ষু দিয়া আমার দিকে মধুর দৃষ্টিপাত কর দেখি ! এক বার নক্ষত্রে নক্ষত্রে কলহ বাধাইয়া দিয়া, তাহারা যেমন পরস্পর সংগ্রাম করিতে আসিবে, অমনি তাহাদের উভয় দলের ব্যুহ বিদীর্ণ করিয়া বেগে ধাবিত হও দেখি ! এক বার দ্রুত সঞ্চালনে শ্রান্তি বোধ করিয়া মুক্তাবিনিন্দিত । স্বেদবিন্দুসিক্ত কপালে ঘোমটা তুলিয়া দিয়া গগন-গবাক্ষে স্থির দৃষ্টিতে বসিয়া বায়ু সেবন কর দেখি ! এক বার অজস্র সুধাবর্ষণ করিয়া চকোর কমলাকাস্তের দপ্তর। ৮১ ৷ চক্রের অপরিতৃপ্ত রসনার তৃপ্তিসাধন কর দেখি ; ৷ এক বার শুভক্ষণে কমলাকাস্তের হৃদয়ে আবিভূতি । হও, কমলাকান্ত শয়ন করিল। . শশী, তুমি ক্ষীরোদ-সাগরজা, ত্রিভুবন-বিহারিণী হইয়াও বালিকা-স্বভাব-সুলভ অভিমানের ভজনা করিলে ? কমলাকান্ত কোন দোষে দোষী বলিতে পারি না—কখন এক বার স্ত্রী-পুরুষ-ভেদজটিলতা-জাল-চ্ছেদনার্থ উদাহরণচ্ছলে প্রসন্নর নাম করিয়াছিলাম বলিয়া, এত অভিমান আজিকার রজনীতে ভাল দেখায় না। দেখ, তুমি কলঙ্কিনী, তবু আমি তোমাকে গ্রহণ করিলাম। তোমাকে বিবাহ করিয়াছি বলিয়া অদ্যাবধি Lunatic* নাম ধরিলাম। জ্যোতিৰ্ব্বিদেরা বলিয়া - থাকেন, তুমি পাষাণী—তবু আমি তোমাকে বিবাহ করিলাম। তাহারা বলেন, তোমাতে মনুষ্যত্ব নাই, তবু আমি তোমাকে বিবাহ করিলাম। তবু রাগ ?—তবে এই সংসার-গরল-খণ্ডন, এই গিরি-তরু-শিরসি-মগুন, ঐ কর লেখা আমার মাথায় তুলিয়া দাও । পার যদি, ঐ অনন্তনীল Tম চক্রগ্রস্ত, চাদে পাওয়া বা পাগল । . . ৮২ কমলাকাত্তের দপ্তর । বৃন্দাবনে, মেঘের ঘোমটা টানিয়া, এক বার রাই মানিনী হইয়া বসে ! আমি এক বার স্ত্রীলোকের পায়ে ধরিয়া এ জড়জীবন সার্থক করিয়া লই ।* আজি আমি শত দোষে দোষী হইলেও তোমা হইতেই আমার সকল পাপ্লের প্রায়শ্চিত্ত হইবে। তুমি আমার চান্দ্রায়ণের চন্দ্র-ফলক ! আমার বৈতরণীর নবীন বৎস । অমন করিলে আমি শত সহস্র বিবাহ করিব । এখন কমলাকান্ত নূতন বিবাহের রীতি পদ্ধতি শিক্ষা করিয়াছে । কমল এখন স্বয়ং বর, কৰ্ত্তা, পুরোহিত, ঘটক হইতে শিখিয়াছে। কমল এখন যেখানে সেখানে বিধাহ করিতে পারে। যখন দেখিব, নব পল্লবিক শাখা-স্কন্ধ হইতে মুখ বাড়াইয়া করপত্র সঞ্চালনে আহবান করিতেছে, তখনই আমি তাহাকে বিবাহ করিব । যখন দেখিব, পদ্মমুখী স্বচ্ছ সরসী-দর্পণে আপনার মুখ বঙ্কিম গ্রীবায় নিরীক্ষণ করিয়া হাসিতেছে, তখনই আমি স্থলকমলে, জলকমলে মিশাইয়া দিব । যখন

  • আমি জানি কমলাকাস্ত একদিন প্রসন্ন গোয়ালার পায়ে ধরিয়াছেন। কিন্তু সে দুরে জন্ত —ঐ ভীষ্মদেব । কমলাকাত্তের দপ্তর } ها و

দেখিব নিঝরিণী রামধনুক ধরিয়া আনিয়া তাহাই লোফালুফি করিয়া খেলা করিতেছে, তখনই তাহাকে সেই ধনুঃ স্পর্শ করাইয়া শপথ দিয়া আমার সঙ্গিনী করিয়া লইব । যখন দেখিব, অনন্ত শয্যায় স্বর্ণদৗ মণিভূষায় শ্বেতাম্বরে ভূষিত হইয়। উত্তর দক্ষিণ শয়নে নিদ্র। যাইতেছে, তখনই তাহাকে পাণিগ্রহণে ধীরে ধীরে জাগরিত করিয়া অৰ্দ্ধাঙ্গের ভাগিনী করিব । যখন দেখিব, কুঞ্জলতা কানে ঝুমৃক দোলাইয়া শ্যাম চিকুররাশি ঢারি দিকে ছড়াইয়া নিস্তব্ধভাবে মৃদু সৌর কিরণে ঈষত্তপ্ত হইতেছে, তখনই তাহার কেশগুচ্ছ মধ্যে মস্তক সন্নিবেশিত করিয়া তাহার। কুম্ভক সরাইয়া দিয়া তাহার বরকে চিনাইয়া । . দিব । কমলাকান্ত চক্রবর্তী এখন বিবাহ করিতে শিখিল, ঘটকালী শিখিল, আর কাহারও উপসনা করিবে না । যদি তোমরা আমার পরামর্শে । শ্রদ্ধা কর, ত আমার মত বিবাহ কর—আমি বেশ ঘটকালী জানি, তোমাদের মনের মত সামগ্রী মিলাইয় দির । ।