বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/কলি বিবরণ

উইকিসংকলন থেকে

কল্কি পুরাণ।

কলি বিবরণ।

ইন্দ্রাদি দেবতা যাঁরে, করে আরাধনা।
এমন অনন্তদেবে, করি উপাসনা॥
কি বেদে কি তন্ত্রে আগে বন্দিয়াছে যাঁরে।
বিঘ্নবিনাশন হেতু নমিতেছি তারে।


যাঁহা হতে হল সব পাতক নিধন।
ঘোড়া চড়ে সদ্য তিনি করেন গমন॥
সত্য আদি যুগ সৃষ্টি করেছে যে জন।
কল্কি নামে হরি তিনি করুন্ রক্ষণ॥


নৈমিষ অরণ্যবাসী শৌনকাদি মুনি।
জিজ্ঞাসে কল্কির কথা সুতমুখে শুনি॥
সুত বলে শুন শুন কথা সুধাময়।
পূর্ব্বকালে প্রজাপতি নারদেরে কয়॥

নারদ ব‍্যাসেরে বলে শুনে শুক পরে।
শুকমুখে শুনে রাজা পরীক্ষিত তরে॥


শ্রীকৃষ্ণ বৈকুণ্ঠে গেলে বড় বাড়ে কলি।
সূত বলে শুন ঋষি সেই কথা বলি॥
পাতকে সৃজিল ব্রহ্মা ঘোর কৃষ্ণকায়।
বংশ কথা কৈতে তার হৃদি কেঁপে যায়॥
মিথ্যা ভার্য্যা, দম্ভ পুত্ত্র কন্যা তার মায়া।
ডাগর হইলে দম্ভ মায়া হল জায়া॥
মায়া পেটে জন্মে লোভ তনয়া নিকৃতি।
সময়ের গুণে পরে দোঁহে হল প্রীতি॥
ক্রোধ পুত্ত্র হিংসা কন্যা হইল তাঁহার।
ভাই বোনে বিয়ে করি কলি অবতার॥
কাল লম্বা পেট মোটা অতি কদাকার।
খেলা সোনা বেশ্যা মদে থাকে অনিবার॥
গাত্র গন্ধে ভূত প্রেত পলাইয়া যায়।
দেখে মূর্ত্তি সুরাসুর সবে ভয় পায়॥
দুরুক্তি ভগিনী গর্ভে কলির ঔরসে।
ভয় পুত্ত্র মৃত্যু কন্যা হল কালবশে॥

তাহাদের সমাগমে অপত্য নিরয়।
যাতনা হইল কন্যা অধর্ম্মের জয়॥
ক্রমেতে কলির বংশ অত্যন্ত বাড়িল।
যাগ যজ্ঞ বেদ পাঠ সকলি নাশিল॥
লোক সব দুরাচারী মত্ত অহঙ্কারে।
শোক দুঃখ জরা ব্যাধি ঘেরিল সবারে॥
বেদ হীন দ্বিজ দীন শূদ্রে সেবা করে।
বেচে মদ মাংস বেদ পরনারী হরে॥
কলিকালে আয়ু কম ধনিরা-কুলীন।
সুদ খোর বিপ্র পূজ্য কুকাজে প্রবীণ॥
তাপসী সন্ন্যাসী ভণ্ড গুরু নিন্দাকারী।
গৃহাসক্ত গণ্ডমূর্খ চোর দুরাচারী॥
স্ত্রীপুরুষ রাজি মাত্র বিয়ে করা হয়।
ভাই বন্ধু পিতা মাতা কেহ কার নয়॥
কেশ বেশ পরিষ্কার কুকাজেতে রত।
গালাগালি মারামারি করে অবিরত॥
কাঁধে পৈতে দ্বিজ বলে দণ্ডী দণ্ড করে।
নাম মাত্র তীর্থ সব আয়ু থাক্‌তে মরে॥
ধর্ম কর্ম্ম দূরে থাক উদরের তরে।
পূজা পাঠ করে দ্বিজ চাঁড়ালের ঘরে॥

পতি রৈতে উপপতি করে নারীগণ।
বৈধব্য যন্ত্রণা কেউ না জানে কেমন॥
অনিয়মে জল বর্ষে শস্য হানি করে
অন্ন বিনে দৈন্য প্রজা রাজা সব হরে॥
কলির প্রথম পাদে কৃষ্ণে দ্বেষ করে।
দ্বিতীয়েতে নামমাত্র কেহ নাহি ধরে॥
তৃতীয়ে জারজ জন্ম চেরে একাকার।
স্বর্গে থাকি দেবগণ না পান আহার॥
সেই খেদে দেবতারা, ধরণীরে ধরে।
ব্রহ্মার সমীপে গিয়ে নিবেদন করে।

ইতি কলি বিবরণ কথা।