বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/কল্কির বর লাভ

উইকিসংকলন থেকে

কল্কির বর লাভ।

কল্কির শুনিয়ে স্তব তুষ্ট ভগবান।
পার্ব্বতীরে সঙ্গে করি হন বিদ্যমান॥

গাত্র ছুঁয়ে বলে হেঁসে অহে সর্ব্বাত্মন।
কি বর প্রার্থনা কর বল হে এখন॥
ভূমণ্ডলে তব স্তোত্র পড়িবে যে জন।
ইহ পর লোকে কার্য্য হইবে সাধন॥
বিদ্যার্থির হবে বিদ্যা ধর্ম্মার্থির ধর্ম্ম।
যা চাবে তা পাবে সুখে যেবা বুঝে মর্ম্ম॥
পক্ষীরাজ গরুড়ের অংশভূত হয়।
কামচারী বহুরূপী লও এই হয়॥
লও এই শুক পক্ষী দিতেছি তোমায়।
সর্ব্ব শাস্ত্রে পারদর্শী থাকিবে সহায়॥
করাল এ করবাল মুটো রত্নময়।
কমাতে ধরার ভার লও দয়াময়॥

মনোমত পেয়ে বর কল্কি অবতার।
দেব দেব মহাদেবে করে নমস্কার॥
শিব কথা শুনি কল্কি অশ্ব আরোহণে।
পিতা মাতা কাছে আসি বলে ভ্রাতৃগণে॥
পড়া সাঙ্গ বরপ্রাপ্ত রামের বচন।
গার্গ্য ভর্গ‍্য বিশালাদি শুনে তুষ্ট হন॥

নৃপতি বিশাখযুপ করে দরশন।
কল্কি অবতারে কলি করে পলায়ন॥
ব্রাহ্মণেরা পড়ে বেদ ব্রত ঘরে ঘরে।
নারী করে পতি সেবা অকালে না মরে॥
সভা মাঝে বলে রাজা আকুলিত মনে।
এখনি চল হে সবে কল্কি দরশনে॥
দেখে কল্কি কবি প্রাজ্ঞ ঘেরে জ্ঞাতিগণ।
ভক্তিভাবে নতশিরে প্রণমে রাজন॥
বিশাখযূপেরে কল্কি বলেন থাকিতে।
প্রকাশিয়ে ধর্ম্মকথা লাগেন কহিতে॥
মোর অংশে জন্মে যত কালে ধর্ম্মহীন।
এখন মিলেছে এসে দেখ হে প্রবীণ॥
হে নৃপ পূজিবে মোরে স্থিরচিত্ত হয়ে।
অশ্বমেধ মহা যজ্ঞ আর রাজসূয়ে॥
আমি ধর্ম্ম সনাতন লোক অত্যুত্তম।
কাল, ভাব, কর্ম্ম আদি করে অনুগম॥
এই রাজ্য ভার দিয়ে দেবাপি মরুরে।
বৈকুণ্ঠে যাইব আমি সত্য যুগ করে॥
শুনিয়ে বিশাখযূপ করি নমস্কার।
জিজ্ঞাসে বৈষ্ণব ধর্ম্ম শুনিবারে সার॥

শুনে কল্কি মহা হর্ষে পারিষদগণে।
কীর্ত্তন করেন ধর্ম্ম মধুর বচনে॥

ইতি কল্কির বর লাভ।