কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/কল্কির বিহার
কল্কির বিহার।
শুনিলে রুক্মিণী-ব্রত অহে বিপ্রগণ!।
কল্কির বিহার কথা বলিব এখন॥
সুত বলে মন দিয়ে যে করে শ্রবণ।
ধর্ম্ম অর্থ মোক্ষ আর পার পুত্ত্র ধন॥
ভাই বন্ধু পুত্ত্র লয়ে কল্কি ভগবান্।
শম্ভলে হাজার বর্ষ করে অবস্থান॥
অপূর্ব্ব নির্ম্মিত পুরী কিবা শোভা পায়।
পথ ঘাট পরিষ্কার সভা মনোময়॥
কত যে নিশান উড়ে হাজার হাজার।
ইন্দ্রের অমরাবতী তুলনা ইহার॥
আটষট্টি হাজার তীর্থ শম্ভলেতে হয়।
কল্কি পদার্পণে যম সদা করে ভয়॥
সুগন্ধ কুসুমে বর্ন শোভিত যেমন।
জগতের মোক্ষ স্থান হইল তখন॥
তীর্থে আসি নর নারী কল্কি দরশনে।
পূজা করে মহানন্দে সুখী মনে মনে॥
এ দিকেতে দিন দিন স্ত্রৈণ হন্ হরি।
বিহার করিতে যান চড়ে কামচারী॥
সুররাজ দত্ত এই রথ মনোময়।
মদোন্মত্তে হয়ে মত্ত দিবা নিশি রয়॥
কখন পর্ব্বতে শৃঙ্গে নিকুঞ্জে কখন।
কখন নদীর তীরে, গৃহে কদাচন॥
দিবানিশি পদ্মা মুখে পদ্ম মধু খান।
পদ্মার সৌরভ সদা করেন আঘ্রাণ॥
ইন্দ্রনীল বিভূষিত পর্ব্বত গুহায়।
পদ্মা রমা সনে কল্কি এক দিন যায়॥
পদ্মা রমা সখি সাথে করিতে রমণ।
কল্কির পশ্চাতে ধায় প্রফুল্লিত মন॥
শতগুণে সুরূপসী শত শত নারী।
ভ্রমে পড়ি পদ্মা রমা মূর্চ্ছা যান হেরি॥
রমণীরতন লয়ে মদন বিহারী।
প্রেমময় প্রেমালাপ প্রেমের চাতুরী॥
হাঁসে গায় শোভা পায় কত নৃত্য করে।
এ দিকেতে পদ্মারমা প্রাঁণে জ্বলে মরে॥
আঁকিয়ে পতির মূর্ত্তি করে নমস্কার।
স্তব করে কত রমা দিয়ে অলঙ্কার॥
কামাতুরা হয়ে পটে আলিঙ্গন করে।
একে বারে অবসন্না হন্ রস ভরে॥
এদিকেতে পদ্মা যেন খেপা ভোলানাথ।
ধূলায় লোটায় অঙ্গ খালি বলে নাথ॥
ফেলে দিয়ে আভরণ কামে জ্বরে শরে।
কোথা গেলে এসো নাথ! ডাকেন কাতরে॥
আপনারে ভুলে কল্কি মাতেন মদনে।
দিবানিশি থাকিলেন রমণী রমণে॥
কখন থাকেন কল্কি পয়োধরোপরে।
হাঁসিতে হাঁসিতে কভু আলিঙ্গন করে॥
কখন রমণী লয়ে যান সরোবরে।
মত্ত মাতঙ্গের ন্যায় বাল-ক্রীড়া করে॥
কল্কির অপার খেলা লেখা নাহি যায়।
পড়িলে শুনিলে মোক্ষ, মোহাদি পলায়॥ইতি