কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/কল্কির বৈকুণ্ঠ গমন
কল্কির বৈকুণ্ঠ গমন।
গন্ধর্ব্ব কিন্নর ঋষি দেবতা ব্রাহ্মণ।
কল্কির নিকটে সবে করে আগমন॥
সভা মাঝে দেখে কল্কি দেন উপদেশ।
হেঁসে হেঁসে সবা সনে আলাপ অশেষ॥
শ্যাম কলেবরে যেন নব জলধরে।
মণি যুক্তা অলঙ্কারে কিবা শোভা করে॥
আজানুলম্বিত বাহু বক্ষে রত্ন-হার!
মন্তকে কিরীট সূর্য্য সম আভা তার॥
অপরূপ রূপ তাঁর দেব মুনি হেরে।
ভক্তি-সহকারে স্তব আরম্ভণ করে॥
হে নব নীরদ শ্যাম! জগত-তারণ।
বক্ষেতে কৌস্তুভরাজি হে চন্দ্র-বদন!॥
কলি কলুষ নাশক হে জগদাধার!।
বিদিত অখিল-লোকে তুমি বিশ্বেশ্বর॥
দেবেশ ভূতেশ বিভো! শক্তিরো তাপার।
হতেছি শরণাগত কর প্রভু পার॥
শাসন হতেছে বড় সব ধরাতল।
থাকে যদি কৃপা তবে বৈকুণ্ঠেতে চল॥
চারি পুত্ত্রে ডেকে কল্কি দিয়ে রাজ্য ধন।
বলেন বৈকুণ্ঠে যাই কাঁদে প্রজাগণ॥
তোমা বিনা ত্রিজগতে কেবা আছে আর।
তুমি রাখ তুমি মার মহিমা অপার॥
তোমার অধীন প্রাণ পুত্ত্র পরিবার।
আমাদের লয়ে চল সঙ্গে আপনার ॥
প্রজাদের বুঝাইয়ে মধুর বচনে।
চলিলেন বনে কল্কি পদ্মা রমা সনে॥
যেথা মুনিগণ সদ্য অবস্থান করে।
যেথা সুরধনি-বারি অবারিত ঝরে॥
যেথা অধিষ্ঠান করে যত দেবগণ।
সেই হিমালয়ে কল্কি করেন গমন॥
বেষ্টিত অমরগণে জাহ্নবীর তীরে।
রূপান্তর হন্ কল্কি স্মরি আপনারে ॥
জ্যোতির্ম্ময় শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম ধারী।
শোঙ্কিত কৌস্তুভ মণি গোলোকবিহারী ॥
অপরূপ ধরে রূপ বৈকুণ্ঠ যাইতে।
পুষ্পবৃষ্টি দেব সব লাগিল করিতে॥
সাগর জঙ্গম কাঁদে, কাঁদে ধরাতল।
জীব মাত্র কেঁদে কেটে হইল বিহ্বল ॥
পদ্মা রমা এ আশ্চর্য্য করি দরশন।
প্রবেশি অনলে, পতি-লোক প্রাপ্ত হন্॥
কল্কির আদেশে ধর্ম্ম সত্যযুগ রন্।
নিরাপদে ধরাতলে করে বিচরণ॥
সুখেতে দেবাপি মরু পালে প্রজাগণ।
বনেতে বিশাখযূপ করিল গমন॥
কল্কির বিরহে খেদে ছাড়ি রাজ্য ধন।
কত রাজা তাঁর ধ্যানে চলিলেন বন ॥
নর নারায়ণ ঘরে চলিলেন শুষ্ক।
কল্কি-যশ গেয়ে মুনিগণ পান সুখ॥
যাঁহার শাসনকালে ছিল নাকো দনী।
রোগ শোক ভয় ব্যাধি পাষণ্ড বিহীন॥
ছিল না অকাল মৃত্যু আর স্বার্থ পর।
সতত মঙ্গলময় জীব নির্ম্মৎসর॥
কল্কি অবতার কথা করিনু কীর্ত্তন।
যশ আয়ু স্বর্গপ্রদ আর স্বস্ত্যয়ন॥
শোক তাপ দূরে যায় করিলে শ্রবণ।
ইচ্ছা মত পায় ফল ধর্ম্ম পুত্র ধন॥
যত দিন এ পুরাণ হইবে কীর্ত্তন।
তত দিন সমুজ্জ্বল রহিবে ভুবন॥
মিলিয়া শৌনক সব লোমহরষণে।
ধন্য ধন্য বলে সবে কল্কি-কথা শুনে॥
শুনিতে গঙ্গার স্তব পুনশ্চ সুধায়।
কহ সূত সেই স্তব শুনিব সবায়॥ইতি