বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/কুথোদরী বধ

উইকিসংকলন থেকে

কুথোদরী বধ।

বৌদ্ধ ম্লেচ্ছে করি জয় কল্কি দয়াময়।
কীট নগরে যান লয়ে সৈন্য চয়॥
চক্রতীর্থে উপনীত সেথা করি স্নান।
ধন রত্নে ঘেরে সৈন্যে কিবা শোভা পান॥
রক্ষা কর রক্ষা কর অত্যন্ত কাতরে।
সহসা চেঁচিয়ে উঠে কম্পিত অন্তরে॥
ছোট ছোট মুনিগণে দেখে আগমন।
ভয় নাই ভয় নাই বলে নারায়ণ॥
কোথা হতে, এলে কেন? কও কোথা ডর।
বিনাশিব সুরাসুর হলে পুরন্দর॥
বালখিল্প মুনি শুনি কল্কির বচন।
নিকুম্ভ কন্যার কথা করে নিবেদন॥

হে বিষ্ণু-তনয়! বলি, শুন ভয় যথা।
ভয়ঙ্করী কুথোদরী নিশাচরী কথা॥
সেটা কুম্ভকর্ণ-পৌত্রী কালকঞ্জ নারী।
বিকঞ্জ নামেতে পুত্ত্র হইয়াছে তারি॥

শুয়ে পুত্ত্রে মেনা দেয় মাথা হিমাচলে।
নিষদ অচলে পদ ঘন শ্বাস চলে॥
সে নিশ্বাসে সকলেই হয়েছে কাতর।
পলায়ে এসেছি হেথা প্রভো রক্ষা কর॥

মুনিগণ কথা শুনি কল্কি সৈন্য লয়ে।
রেতে রেতে উপস্থিত হন হিমালয়ে॥
প্রভাত হইলে দেখে দুগ্ধ নদী বয়।
জেনেও জিজ্ঞাসে কল্কি কেন দুগ্ধময়॥
অশ্বারোহী গজারোহী পদাতিক যত।
স্তব্ধ হয়ে রৈল সব কল্কিরে বেষ্টিত॥
মুনিগণ কল্কিদেবে বলে সমাদরে।
কুথোদরী-স্তন-দুগ্ধ অবারিত ক্ষরে॥
বেগবতী দুগ্ধনদী সাত ঘটা বাদে।
শুকিয়ে হইবে তট চল নির্ব্বিবাদে॥
কেমন সে নিশাচরী পরস্পর কয়।
এক মেনা দুধে যার হেন নদী বয়॥
কত বল তার দেহে না জানি কেমন।
চোক মুখ নাক কান কত যে ভীষণ॥

আগে দেখাইয়ে পথ দেয় মুনিগণ।
সৈন্য সনে কল্কিদেব করেন গমন॥
দ্যাখে সে রাক্ষসী শুয়ে পুত্ত্রে মেনা দেয়।
এক মেনা দুধে এই দুগ্ধ-নদী বয়॥
মেঘের সমান কালো কুলোপানা কান।
গিরি গুহা ভ্রমে পশু করে অবস্থান॥
এমন নিশ্বাস তার যেন ঝড় বয়।
হাতী ঘোঁড়া উড়ে যায় দেখে লাগে ভয়॥
বানরেরা থাকে চুলে ছারপোকা মত।
কে পারে বলিতে আড়ে দীর্ঘে লম্বা কত॥
দেখে কল্কি ভেগে যায় নিজ সৈন্যচয়।
তাড়াতাড়ি ডেকে নিয়ে অগ্রসর হয়॥
মার মার শব্দে সরে করে শরাঘাত।
রাক্ষসীর ভাঙে ঘুম পাইয়ে আঘাত॥
হাঁ করিয়ে নিশাচরী গেলে সৈন্যগণ।
হাতী ঘোঁড়া মায় কল্কি উদরস্থ হন॥
দেবতা গন্ধর্ব্বগণ করি দরশন।
হাহাকার রবে সবে করেন ক্রন্দন॥
মুনিগণ দেয় শাপ মন্ত্র জপ করে।
ব্রহ্মবাদী ব্রাহ্মণেরা শোকে ভূমে পড়ে॥

অবশিষ্ট সেনা কাঁদে নিশাচর হাঁসে।
দেখিতে এ দশা কেহ নাহি যায় ত্রাসে॥
নিজেরে স্মরিয়ে কল্কি শ্রীমধুসুদন।
রাক্ষসী উদরে বাণ করে বরিষণ॥
পেট মধ্যে রথকাষ্ঠ জ্বেলে করে আল।
কুক্ষিভেদ করিলেন ধরি করবাল॥
তাদিয়ে বান্ধর ভাই আর সেনাগণ।
ক্রমেতে বাহির হয়ে পেলেন জীবন॥
যোনি নাসা কর্ণ দিয়ে রথী তুরঙ্গম।
বেরিয়ে করয় নিশাচরী বিনাশন॥
হস্ত পদ কাটে ক্রমে আর নাক কান।
উদর মস্তক কাটে তবু থাকে প্রাণ॥
বিকঞ্জ জননী-দশা করি দরশন।
সুধু হাতে দৌড়ে যায় করিবারে রণ॥
পাঁচ বছরের শিশু দেখে রণ কেবা।
সাপুটিয়া মেরে ফেলে কাছে যায় যেবা॥
দেখে কল্কি রাম দত্ত ব্রহ্ম অস্ত্র হানে।
বিকঞ্জ রাক্ষস সেই মরে এক বাণে॥
মর্ত্ত্যে মুনিগণ তুষ্ট স্বর্গে দেবগণ।
হাঁসিল মেদিনী, জীব পাইল জীবন॥

পুত্ত্র সাথে কুথোদরী নাশি কল্কি কন।
হরিদ্বারে কিছু কাল করিব হরণ॥
প্রাতে উঠে দেখে কল্কি মুনি শত শত।
করিয়ে গঙ্গায় স্নান হন সমাগত॥
গঙ্গা তটে পিণ্ডারকে করি অবস্থান।
জাহ্নবীর হেরে শোভা আর নিত্য স্নান॥

ইতি কুথোদরী বধ।