কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/নরপতিগণের স্তব
নরপতিগণের স্তব।
জগতের কারখানা মায়া আপনার।
আবার মায়ার বলে হয় ছারখার॥
প্রাণি শূন্য ত্রিভুবন দেখি জলময়।
মীনরূপে ধর্ম রক্ষা কর দয়াময়॥
জয় জগদীশ জয় জগত আধার।
জগত জীবন প্রভো মায়ার সংসার॥
যবে দানবেরা ইন্দ্রে পরাজয় করে।
মহাবলী হিরণ্যাক্ষ দেবেরে সংহারে॥
তখন বরাহ মূর্ত্তি করিয়ে ধারণ।
দৈত্য নাশী রাখ পৃথ্বী অহে ভগবন॥
এখন কর হে ত্রাণ মোরা দুরাচারী।
কটাক্ষে দেখ হে প্রভো গোলকবিহারী॥
সমুদ্র মন্থনে যবে রাখিতে মন্দরে।
দেবগণ পরস্পর ভেবে ভেবে মরে॥
অমৃত খাওয়াও দেবে কূর্ম্মরূপ ধরি।
মোরা অতি দীন প্রভো! তুষ্ট হও হরি॥
হিরণ্যকশ্যপে ব্রহ্মা দিয়েছিল বর।
মরিবে না শস্ত্রে, হাতে দেবতা কিন্নর॥
দৈত্যরাজ পেয়ে বর সারে দেবগণে।
দৈত্যভয়ে ভীত দেব পূজে নারায়ণে॥
নরসিংহ মূর্ত্তি ধরে তুমি নাশ তারে।
তোমার মহিমা প্রভো বলিতে কে পারে॥
বলিরে ছলনা কর বামনাবতারে।
মারিলে হৈহয়ে, যারা মত্ত অহঙ্কারে॥
ভৃগুবংশে রামরূপে হয়ে অবতার।
ধরা ক্ষেত্রি শূন্য কর কড়ি এক বার॥
রাবণ বধিতে জন্ম দশরথ ঘরে।
সীতা হেতু জলনিধি বাঁধিল বানরে॥
বলভদ্র রূপে প্রভো আসি যদুকুলে।
দৈত্য নাশি পাপ শূন্য হল ধরাতলে॥
ঘৃণা করি বেদ ধর্ম বুদ্ধ অবতার।
মিথ্যা মায়া পরিহার ত্যজিয়ে সংসার॥
কলিকুল বৌদ্ধ ম্লেচ্ছে নাশিতে আপনি।
কল্কিরূপে অবতীর্ণ ধর্ম্মসেতু জানি॥
আর কি বলিব মোরা হইতে উদ্ধার।
নরক এ নারী যোনি নিতম্বের ভার॥
মোরা পাপী দুরাচারী অহঙ্কারী নর।
রূপা কর কৃপানাথ দয়ার সাগর॥
ইতি নরপতিগণের স্তব।