বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/পদ্মাবতীর স্বয়ম্বর

উইকিসংকলন থেকে

পদ্মাবতীর স্বয়ম্বর।

সবিনয়ে বলে শুক, শুন ভগবান।
পদ্মার বিয়ের কথা, অপূর্ব্ব আখ্যান॥
মহারাজ বৃহদ্রথ, মহিষীরে কয়।
ডাগর হইল পদ্মা, দেখে লাগে ভয়॥

যৌবন হইল পূর্ণ, কি করি উপায়।
বিবাহ না দিলে আর, জাতি ধর্ম যায়॥
কৌমুদী বলে হে নাথ! ভাবনা কি তার।
উমাপতি বরে, রমাপতি বর তার॥
এ কথা কি সত্য প্রিয়ে! যদি তাই হয়।
জামাতা হবেন হরি, অল্প সুখ নয়॥
মহানন্দে বৃহদ্রথ, অতি সমাদরে।
স্বয়ম্বরা হবে কন্যা, নিমন্ত্রণ করে॥
পদ্মার যৌবন রূপ, করিয়ে শ্রবণ।
যুটিল সিংহলে কত, তরুণ রাজন্॥
অস্ত্র শস্ত্রে শোভা করে মণিময় হারে।
পরিচ্ছদ কত মত, বর্ণিতে কে পারে॥
সিংহলে বিয়ের ধূম, নিত্য নৃত্য গীত।
হেরিয়ে সভার শোভা, সবে পুলকিত॥
নৃপ সব সমাগতে, হাঁসিতে হাঁসিতে।
কন্যা কর্ত্তা দিল আজ্ঞা, কন্যারে আনিতে॥
আগে করি বন্দীগণ দাসীগণ সনে।
সভা মাঝে এলো পদ্মা, প্রফুল্ল বদনে॥
সুকোমল দেহ খানি, সোনার বরণ।
দন্তু হেরে মুক্তা হারে, মোহে নৃপগণ॥

কোথা সে উর্ব্বশী রম্ভা? কে করে তুলনা॥
দেখ নাই দেখিবে না, হেন চন্দ্রাননা॥
গজেন্দ্রগামিনী লয়ে, রত্নমালা করে।
স্বয়ম্বর হেতু সভা মাঝে পরিহরে॥
বদন, নিতম্ব, কটি, দেখে আঁখি, স্তন।
কামে বিমোহিত সব বিচলিত মন॥
যেবা দেখে কামভাবে নারীভাব হয়।
শঙ্করের বর যথা অন্যথার নয়॥
বট গাছে বসি প্রভো! করি নিরীক্ষণ।
পদ্মার সঙ্গিনী হল যত নৃপগণ॥
বিষাদ অন্তরে পদ্মা, করে কি উপায়।
শঙ্করেরে মনে মনে, বিস্তর ধ‍্যেয়ায়॥
দেখেছি শুনেছি সব, ওহে ভগবান্।
বসন ভূষণ ত্যজি, হরিরে ধ্যেয়ান্॥

ইতি পদ্মার স্বয়ম্বর কথা।