বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/পদ্মার সঙ্গে কল্কির বিবাহ

​

পদ্মার সঙ্গে কল্কির বিবাহ।

সূত বলে, পদ্মাদেবী কল্কিরে দেখিয়া।
গদগদে স্তব করে লজ্জিত হইয়া।
জগন্নাথ রমাপতে ধর্ম্ম বর্ম্মধারী।
আমারে প্রসন্ন হও প্রভো কৃপা করি॥
চিনিতে পেরেছি আমি আমি আপনার।
রক্ষা কর এ দাসীরে তাহে সারাৎসার॥
আমি পুণ্যবর্তী লভেছি চরণ।
মোরে অনুমতি দেব! করুন এখন॥

​

পিতৃ কাছে এসে পদ্মা করে নিবেদন।
শুনে বৃহদ্রথ হর্ষে করিল গমন॥
সঙ্গে যায় পাত্র মিত্র বিপ্র পুরোহিত।
পূজার সামগ্রী সব আর নৃত্য গীত॥
মহা সমারোহে চলে কল্কিরে আনিতে।
সোণার নিশান উড়ে সবে পুলকিতে॥
শুক মনে আছে বসে সরোবর ধারে।
শ্যাম কলেবরে শোভে ইন্দ্রচাপ করে॥
সে শ্যাম সুন্দর সঙ্গে কি শোভা ভুবণে।
দেখিতে অপূর্ব্ব সুন্দর পীত বসনে॥
কল্কি মুখ দেখে রাজা আনন্দেতে ভাসে।
বিধিমত পূজা করি সকরুণ ভাষে॥
মান্ধাতা তনয় সনে মিলে ছিলে বনে।
সেই মত মিলি আমি ধন্য এ জীবনে॥
ঘরে আনি পূজা করি অতি সমাদরে।
দিলেন পদ্মারে রাজা পদ্মনাভ-করে॥
সোণার বরণ পদ্মা শ্যাম অঙ্গ কল্কি।
যেন নীল পীতে রাজী, শোভা বল্‌ব কি॥
পেয়ে প্রিয়তমা কল্কি সাধুর আদরে।
রহিলেন কিছু দিন সিংহল ভিতরে॥

​

পদ্মা সখী নারী রাজা পদ্মা স্বয়ম্বরে।
ছুটে এসে কেঁদে পড়ে কল্কিপদ ধরে॥
বলে কল্কি রেবা জলে স্নান কর গিয়ে।
হইল পুরুষ ভাব জল মাত্র ছুঁয়ে॥
কল্কির প্রভাব দেখি যত রাজাগণ।
প্রণাম করিয়ে স্তব করে আরম্ভণ॥

 ইতি পদ্মার সঙ্গে কল্কির বিবাহ।