কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/পদ্মা লইয়া কল্কির শম্ভলে গমন
পদ্মা লইয়া কল্কির শম্ভলে গমন।
রাজাগণ গেলে কল্কি ঘরে যাই বলে।
শুনে ইন্দ্র বিশ্বকর্ম্মে পাঠায় শম্ভলে॥
বানাবে আশ্চর্য্য পুরী আমার মতন।
কসুর হইলে শাস্তি পাবে বিলক্ষণ॥
তাড়া পেয়ে বিশ্বকর্ম্মা বানাইল পুরী।
দেখে লোক চক্ষু স্থির শিল্পের চাতুরী॥
হর্ম্ম্য বাপী বন-লতা শোভে সরোবর।
যেমন অমরাপুরী কে বলে অন্তর॥
কারুমতী পুর ত্যজি সাগরের তীর।
পদ্মা সনে এলে কল্কি লেগে গেল ভীড়॥
চেঁচিয়ে কৌমুদী কাঁদে বৃহদ্রথ মনে।
ভাসিল নয়ন-জলে পদ্মার কারণে॥
ভক্ত হেতু তুষ্টে রাজা কি করে উপায়।
পদ্মা সনে কমলারে করেন বিদায়॥
লক্ষ ঘোঁড়া, দুশো দাসী রথ দু-হাজার।
হাজার দশেক গজ দেন সঙ্গে তাঁর॥
পদ্মা সনে পদ্মাপতি প্রণমে শ্বশুরে।
আশীর্ব্বাদ করে রাজা জামাই কন্যারে॥
রাজা রাণী তাঁহাদের কোরে বিসজ্জন।
নিজ কারুমতী পুরে করে আগমন॥
জম্বুকে সমুদ্র পার যাইতে দেখিয়া।
একেবারে স্তব্ধ হন বিস্মিত হইয়া॥
আপনিও পদ্মা সনে সাগরের জলে।
সখী সঙ্গে মহানন্দে পার হয়ে চলে॥
শুকে বলে বাপ মায়ে দেও সমাচার।
ইন্দ্রের আদেশে পুরী হয়েছে আমার॥
আকাশেতে উঁড়ে শুক শম্ভলেতে যায়।
মোহিত হইয়ে পড়ে নগর শোভায়॥
ঘরে ঘরে যায় শুক বন বনান্তর।
গাছে গাছে বসে শেষে বিষ্ণুযশা ঘর॥
বিয়ে আদি দিল সব শুভ সমাচার।
বিষ্ণুযশা শুনে হর্ষে করিল প্রচার॥
শুনিয়ে বিশাখযুপ ডেকে প্রজাগণ।
ফল ফুল গাছে পুরী করে সুশোভন॥
পরম সুন্দর হলো শম্ভল নগর।
পদ্মা সনে পদ্মাপতি আসে অনন্তর॥
পিতা মাতা পদে নত ব্রহ্মযশা খুসী।
সুমতি দেখিলা বন্ধু পরম রূপসী॥
শম্ভল কল্কিরে যেন পতি রূপে করে।
বড় বড় বাড়ী গুলো যেন পয়োধরে।
কলি বিনাশন কল্কি পদ্মারে লইয়ে।
সতত বিহার করে কামে মত্ত হয়ে॥
পরে কমলার গর্ভে কবি পুত্ত্র দ্বয়।
বৃহৎকীর্ত্তি বৃহৎরাহু এই নাম হয়॥
প্রাজ্ঞের ঔরসে দুটি সন্নতির পেটে।
যজ্ঞ বিজ্ঞ নাম দুটি জিতেন্দ্রিয় বটে॥
প্রসবে মালিনী শাসন ও বেগবান্।
সুমন্ত্র ঔরসে জন্ম ভক্ত সুবিদ্বান॥
কল্কিতে পদ্মার গর্ভে জয় ও বিজয়।
মহাবল দুই পুত্ত্র উৎপাদন হয়।
যজ্ঞ কর্ত্তে দেখে কল্কি বলেন বাপেরে।
ধন আনি কোরে দিব নৃপ জয় করে॥
আজ্ঞা দেও যাই আমি দিগ্বিজয় আশে।
পিতারে প্রণাম কোরে সেনা সনে ভাসে॥
কীকট নগরে যান বৌদ্ধের আলয়।
বেদ ধর্ম্ম শূন্য তারা কেহ কার নয়॥
জাত নাই কুল নাই শ্রাদ্ধ নাহি করে।
আপনারে বড় মানে খালি ধন হরে॥
নারী, ধনে, ভক্ষদ্রব্যে, ভরা সে নগর।
লোক জনে পরিপূর্ণ পরম সুন্দর ॥
মহাবল জিন শুনে কল্কি আগমন।
আপনা লইয়ে সেনা বহির্গত হন্ ॥
নিশানে রদ্দুর গেল কনক ভূষণে।
শোভে ধরাতল অস্ত্রধারী রথীগণে ॥
ইনি পদ্মা লইয়া কল্কির শম্ভলে গমন।