কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/বিষ্ণুভক্তি কথা
বিষ্ণুভক্তি কথা।
সভামাঝে শশিধ্বজ বলেন কল্কিরে।
তপস্যা করিতে আমি যাব হরিদ্বারে॥
ছেলে পিলে নাতি পুতি রৈল তবাশ্রয়।
আবার কি দিব আমি আত্ম পরিচয়॥
জান তুমি অন্তর্যামী দ্বিবিদের কথা।
জাম্বুবান নামে কল্কি হেঁট করে মাথা॥
তাই দেখে নৃপগণ করে নিবেদন।
কেন প্রভো হইলেন বিরস বদন॥
কল্কি বলে শশিধ্বজে জিজ্ঞাস কারণ।
শশিধ্বজ প্রকাশিয়ে করেন বর্ণন॥
শ্রীরাম রাবণ যুদ্ধে লক্ষ্মণের করে।
মুক্তি পায় ইন্দ্রজিত সেই রণে মরে॥
ব্রহ্ম বীর বধ হেতু অনলের ঘরে।
ঠাকুর লক্ষ্মণ মরে ঐকাহিক জ্বরে॥
দ্বিবিদ আরাম কোরে মৃত্যু বর পায়।
জন্মান্তরে মুক্তি পাবে কহিলেন তায়॥
“সাগর উত্তর তীরে দ্বিবিদ বানরে।
লক্ষ্মণের ঐকাহিক জ্বর নষ্ট করে॥”
তাল পাতে এই মন্ত্র লিখে যেবা পড়ে।
উভয়ের ঐকাহিক জ্বর নষ্ট করে॥
দ্বিবিদ, সুতের পুত্ত্র লোম হরষণ।
হরি-কথা কয় সদা হরি-সঙ্কীর্ত্তন॥
একদিন বলরাম কুরুক্ষেত্রে হেরে।
সহসা নাশিয়ে প্রাণ মুক্তি দান করে॥
জাম্ববানে এই হরি বামনাবতারে।
তুষ্ট হয়ে দেন বর মুক্তি জন্মান্তরে॥
সত্রাজিত রাজা ছিনু কৃষ্ণ অবতারে।
মণি চুরি অপবাদ দিলাম তাঁহারে ॥
প্রসেলে বিনাশে সিংহ সিংহে জাম্ববান্।
মোর অপবাদে কৃষ্ণ লয় তাঁর প্রাণ॥
কৃষ্ণে চিনি জাম্ববান্ কন্যা জাম্ববতী।
কৃষ্ণে সমর্পিয়ে পরে স্বর্গে হলো গতি॥
মণি ও রমণী লয়ে আসি দ্বারকায়।
সভামাঝে ডেকে মণি দিলেন আমায়॥
তখন লাজেতে মরি কি করি বিধান।
মণি সনে সত্যভামা করি সম্প্রদান॥
রূপে আলো করে কন্যা হেরি ভগবান্।
তারে লয়ে হস্তিনায় করেন প্রস্থান॥
মণি-লোভে শতধন্বা মারিল আমায়।
মিথ্যা দোষারোপে মুক্তি হইল না তায়॥
রমা কন্যা দিয়ে মুক্তি এই অবতারে।
বাসনা করেছি বড় যাই হরিদ্বারে॥
শ্বশুর বিনাশ হেতু এ অধোবদন।
শুনিলে হে রাজাগণ! কথা পুরাতন॥
এমন অপূর্ব্ব কথা যে করে শ্রবণ।
যশ সুখ মোক্ষ লাভ করে সেই জন॥
ইতি বিষ্ণুভক্তি কথা।