বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/বিষ্ণুযশার মোক্ষ ও সুমতির সহমরণ

উইকিসংকলন থেকে

নারদ আগমন, বিষ্ণুযশার মোক্ষ ও সুমতির সহমরণ।

সুত বলে হরি কথা করিনু কীর্ত্তন।
শশিধ্বজ মুক্তি যথা এহে ঋষিগণ॥
বেদ ধর্ম্ম সত্যযুগ কল্কি অধিকারে।
দেব দেবী কোরে মূর্ত্তি পূজে ঘরে ঘরে॥
পাষণ্ড তিলধারী দেখা নাহি যায়।
কল্কির রাজত্ব কালে বঞ্চক পলায়॥
পদ্মা রমা সনে কল্কি সদা সুখে রন্।
স্থিত হেতু যজ্ঞ কর্ত্তে পিতা আসি কন্॥
নত শিরে রাখে কল্কি পিতার বচন।
যজ্ঞেশ্বরে যজ্ঞ করি করে আরাধন॥
রাজসুয় বাজপেয় অশ্বমেধ আদি।
ব্যাস রাম রূপে ডাকি সব যজ্ঞ সাধি॥
ভক্তি করে লয়ে গঙ্গা যমুনা সঙ্গমে।
খাইয়ে দক্ষিণা দেন যতেক ব্রাহ্মণে॥

সেকালে বসুরে অগ্নি, খাওয়ান মরুত।
দিলেন, বরুণ জল তুষ্ট বিপ্র যত॥
রম্ভা নাচে হুহু গায় যজ্ঞ অবসানে।
বাল বৃদ্ধ নারী তুষ্ট কল্কি ধন দানে॥
পিতৃ মতে গঙ্গাতীরে থাকে কল্কি পরে।
নারদ তুম্বুরু তথা আসি দেখা করে॥
পিতা পুত্ত্রে পূজা করি নারদেরে বলে।
আজি কি সৌভাগ্য, দেখা পূর্ব্বজন্ম ফলে॥
বলে কল্কি মুক্তি আজি সাধু দরশনে।
আজি যজ্ঞ-ফল ফলে তব আগমনে।
স্বচক্ষে দেখিয়ে আজি পূজি নিজ করে।
দেব পিতৃ হন্‌ তুষ্ট নিশ্চয় অন্তরে॥
বিষ্ণু পূজা করা হয় যাঁহারে পূজিলে।
বিষ্ণু দেখা ফল হয় যাঁহারে দেখিলে॥
ছুঁইলে যাঁহারে হয় পাপরাশী নাশ।
আজি সেই সাধু-সঙ্গে হলো মোর বাস॥
সাধু হরি এক, ভৌতিক এ দেহময়।
দুষ্টেরে নাশিতে যেন কৃষ্ণ জন্ম হয়॥
বিষ্ণু ভক্তি রূপ তরি জীবে করি দান।
কর্ণধার হয়ে পার কর ভগবান্॥

সংসার যাতনা গিয়ে কিসে শুভোদয়।
বলুন নির্ব্বাণ পদ যাতে মুক্তি হয়॥
বিষ্ণুযশা বাক্যে মুনি চিন্তা করে মনে।
মায়ার প্রভাব কত সংসারে কে জানে॥
স্বয়ং বিষ্ণু পূর্ণ ব্রহ্ম কলি পুত্ত্র যাঁর।
তিনি গতি মুক্তি চান নিকটে আমার॥
বিষ্ণু যশে তত্ত্বপথ বলেন নির্জ্জনে।
মায়া জীবে ভরা মন দেহ অবসানে॥
বলিতেছি মূল কথা কর হে শ্রবণ।
সহজে বুঝিবে তুমি মায়া প্রবন্ধন॥
জীব বলে মায়ে! যদি দেহে আমি নই।
তবে মায়া মূলা অহমিকা বুদ্ধি কই?॥
মায়াবলে মায়ামূলা দেছ ধর্‌লে তুই।
আমার সম্পর্ক ভিন্ন ও ইচ্ছাতে নই॥
মায়াবলে মোর বলে জগত সংসার।
বাঁচে জীব চেষ্টাশীল জ্ঞান দেই তার॥
জীব বলে জানে তোরে মোর বলে বল।
যেমন সূর্য্যেরে ঘেরে সদা থাকে জল॥
যেমন সৈরিণী নিজ স্বামি-নিন্দা করে।
করিস্ তেমনি তুই থেকে মোরে ধরে॥

তখন ত্যেজিলে মায়া মোর দেহ হতে।
শাপ দিয়ে গেল চলে রাগিতে রাগিতে॥
সেই শাপে দেশে দেশে ঘুরিয়া বেড়াই।
পৃথিবীতে স্থান মোর থাকিবার নাই॥
হে ঠাকুর! তব পুত্ত্রে ছেড়ে মায়া বশ।
ঘর বাড়ী আশা ছেড়ে গাও হরি যশ॥
এ জগৎ বিষ্ণায় বিষ্ণু জগন্ময়।
আত্মাতেই দিয়ে আত্মা ছাড় হে বিষয়॥

বোলে কোয়ে কল্কিদের বিপ্রে দিয়ে জ্ঞান।
নারদ কপিলাশ্রমে করেন প্রস্থান॥
ব্রহ্মযশা পুত্ত্রতত্ত্ব নারদের মুখে।
পেয়ে বদরিকাশ্রমে চলিলেন সুখে॥
ত‍্যজেন ভৌতিক দেহ দেখিয়ে সুমতি।
প্রবেশে অনলে হর্ষে কোলে মৃতপতি॥
সুরপুরে দেবগণ করি দরশন।
প্রসংশা করিল কত তুষ্ট নারায়ণ॥
শুনে কল্কি কেঁদে শ্রাদ্ধ করি সমাধান।
পদ্মা রমা সনে প্রভু শম্ভলেতে যান॥

একদা পরশুরাম কল্কিরে দেখিতে।
এলেন শম্ভলে মহেন্দ্র শিখর হতে ॥
দেখে কল্কি উঠিলেন পদ্মা রমা সনে।
মহানন্দে পূজা করে তোষেন ভোজনে ॥
শোয়ান্ সোণার খাটে দিয়ে আভরণ।
পদ-সেবা কোরে কল্কি করে নিবেদন॥
সব সিদ্ধ হয়েছে প্রসাদে আপনার।
হে গুরো! কি বলে রমা শুন কথা তার॥
রমা বলে বার ব্রতে কিসে পুত্ত্র পাই।
হে গুরো! বলুন মোরে কৃপা ভিক্ষা চাই॥

ইতি নারদ আগমন, বিষ্ণুযশার মোক্ষ ও
সুমতির সহমরণ।