কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/বৌদ্ধ-যুদ্ধ
বৌদ্ধযুদ্ধ।
কল্কি-রণে ছিন্ন ভিন্ন বৌদ্ধ-সেনাগণ।
কেঁদে কেটে প্রাণ নিয়ে করে পলায়ন॥
কল্কির ধিক্কার শুনে মহারাজ জিন।
ষাঁড়ে চড়ে এলো যুদ্ধে কিন্তু বল হীন ॥
জিনের আঘাতে কল্কি পড়ে ধরাতলে।
নৃপতি বিশাখযূপ লয়ে গেল তুলে॥
চোক বুঁজে পড়ে কল্কি হাপুলুটি খায়।
সংজ্ঞা পেয়ে লাফ দিয়ে জিন কাছে যায়॥
সেনা মাঝে পড়ে হানে হাজার হাজার।
হাতী ঘোঁড়া রথ উট সীমা নাই তার।
গার্গ্য ভর্গ্য কবি মারে কোটি কোটি সেনা।
মারিল সুমন্ত্র প্রাজ্ঞে না যায় গণনা॥
হেঁসে কল্কি জিনে বলে মোর কাছে আয়।
দৈব বোলে জান্ মোরে প্রাণ তোর যায়॥
জিন বলে বৌদ্ধ-হাতে দৈবের বিনাশ।
দেখিতেছি তোর সব বিফল আয়াস॥
মার দেখি থাকে শক্তি যেই তুই হোস্।
দর্কার নাহিক করে কি করি তোর রোস্॥
ক্রোধে জিন শরে শরে ছয়লাপ করে।
কল্কিও বিনষ্টে, যেন হিম দিবাকরে॥
শেষে কল্কি মারে জিনে চুলে মুট ধরি।
দুই জনে কোস্তা কুস্তি করে মারামারি॥
ভাঙিল জিনের কটি কল্কি গদাঘাতে।
কেঁদে উঠে জিন-সেনা চীৎকার শব্দেতে॥
গুদ্ধোদন জিন-ভাই গদা লয়ে করে।
কল্কিরে মারিতে এসে আপনিই মরে॥
বিপ্র সনে শুদ্ধোদনে লেগে গেল রণ।
দুজনে সমান বলী কেছ নয় কম॥
অকস্মাৎ গদাঘাতে কবি মূর্চ্ছা যায়।
বিপরীত দেখে শুদ্ধো স্মরিল মায়ায়॥
আগে করি মায়া দেবী বৌদ্ধ শুদ্ধোদন।
লক্ষ কোটী ম্লেচ্ছ-সৈন্যে উপস্থিত হন্॥
মারা দেবী দেখে পড়ে কল্কি-সেনাগণ।
দেখে কল্কি সম্মুখে করিল আগমন॥
দেখে মায়া কল্কিদেবে করিল প্রবেশ।
মায়া বিনা বৌদ্ধদের বল হলো শেষ॥
হায় দেবী কোথা গেলে কাঁদে বৌদ্ধগণ।
এক দণ্ডে ম্লেচ্ছ-সেনা হইল নিধন॥
দেখিয়ে কল্কির রূপ ভয়ে বৌদ্ধ মরে।
স্বর্গ মর্ত্ত্য ধরাতলে আনন্দ না ধরে॥
জীবাদির হর্ত্তা কর্ত্তা বিষ্ণু অবতার।
কল্কিদেব করিবেন মঙ্গল সবার॥