বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/ব্রাহ্মণধর্ম্ম সঙ্কীর্ত্তন

উইকিসংকলন থেকে

 ব্রাহ্মণ ধর্ম্ম সঙ্কীর্ত্তন।

জগত মঙ্গল হেতু ধর্ম্মের কাহিনী।
সভা মাঝে বলে কল্কি সুত বলে জানি॥

কল্কি বলে যবে রাজা হইবে প্রলয়।
তবে ব্রহ্মা মোর দেহে পাইবেন লয়॥
তখন কেবল আমি রব বিদ্যমান।
আমাতেই প্রবেশিরে যাবতীয় প্রাণ॥
গাছ পালা গিরি গুহা কিছুই না রবে।
সমুদায় ধরাতল জলপূর্ণ হবে॥
ঘুমাইয়ে যবে কাল জগত কাটায়।
আমা বিনা অন্য কিছু দেখা নাহি যায়॥
মহানিশা শেষভাগে করিতে সৃজন।
ভীষণ বিরাট মূর্ত্তি করিনু ধারণ॥
বেদ মুখ ব্রহ্মা হন মোর মূর্ত্তি হতে।
আমার আদেশে লাগে জগত সৃজিতে॥

প্রজাপ্রতি মনু, দেব, ক্রমে সৃষ্টিচয়।
সত্ব রজ তম মায়া আমা হতে হয়॥
ছবির জঙ্গম সব স্বজন মায়ায়।
প্রলয়কালেতে সব মোরে লয় পায়॥
যাগ যজ্ঞ তপ দান বেদ অধ্যয়ন।
সদা মোরে সেবা করে নাম সঙ্কীর্ত্তন॥
আমার স্বরূপ দেহ আত্মা তাঁহাদের।
আমি যে সন্তুষ্ট এত না হই দেবের॥
প্রকাশি ব্রাহ্মণ বেদ সৃষ্টি রক্ষা হয়।
তাঁহাদের হাতে এই মম দেহ রয়॥
সে কারণ ব্রাহ্মণেরে করি নমস্কার।
পূর্ণ সনাতন বলি সেবে অনিবার॥
রাজারা জিজ্ঞাসে প্রভো! বিপ্রের লক্ষণ।
বাক্যে এত ধরি কেন করুন্ কীর্ত্তন ॥
পবিত্র ব্রাহ্মণধর্ম্ম ভক্তি মোর পক্ষে।
প্রিয়া সনে যুগে যুগে এসে করি রক্ষে॥
সুধবা ব্রাহ্মণ-কন্যা কাটে সুত যেই।
সাম জযুর্ব্বেদী বিপ্রে পৈতে হয় সেই॥
দুই ভাগ হয় পিঠ পৈতে দিলে গলে।
ধরে যদি বাম কাঁধে কেবা পারে বলে॥

মৃত্তিকা চন্দন ভস্মে তিলক কপালে।
ত্রিপুণ্ড্র হইলে, ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব বলে॥
দেখা মাত্র খণ্ডে পাপ বিপ্র বাক্য বেদ।
ব্রাহ্মণের হাতে স্বর্গ হয়েন ভূদেব॥
হাতে হব্য গায়ে ঘর্ম্ম তীর্থ সমুদয়।
নাভিতে প্রকৃতি তিন বিরাজিত রয়॥
সাবিত্রীই কণ্ঠ-হার ব্রহ্মসংজ্ঞা মন।
বুকে ধর্ম্ম পীঠে পাপ থাকে অনুক্ষণ॥
থাকিয়ে আশ্রম চেরে মম ধর্ম্ম ঘোষে।
রক্ষা নাই পার নাই যদি বিপ্র রোষে॥
জ্ঞানেতে প্রবীণ হয় বালক ব্রাহ্মণ।
তপে বৃদ্ধ মম প্রিয়, পূজিবে রাজন্॥
পালিতে এঁদের বাক্য হই অবতার।
শুনিলে বিপ্রের কথা ভয় নাই তার॥

ইতি ব্রাহ্মণধর্ম সঙ্কীর্ত্তন।