বিষয়বস্তুতে চলুন

কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/ভক্তি ভক্ত মাহাত্ম্য

ভক্তি ভক্ত মাহাত্ম্য।

বৈষ্ণব পরম ধর্ম্ম বলে রাজাগণ।
কেমনে করিলে রণ বল হে রাজন্॥

তব সম সাধু, নিয়ে প্রাণ বুদ্ধি ধন।
সতত জীবের কর মঙ্গল সাধন॥

শশিধ্বজ বলে শুন বলি রাজাগণ।
প্রকৃতি হইতে বেদ জগত সৃজন॥
বেদে ধর্ম্মাধর্ম্ম আর ভক্তির উদয়।
তাই দেখে মম মন রণে মত্ত হয়॥
অবধ্য ব্যক্তিরে বধ কর্লে পাপী বলে।
বধ্য রক্ষা করিলেও সেই ফল ফলে॥
বেদজ্ঞ ব্যাসের কথা প্রায়শ্চিত্ত নাই।
সৈন্য নাশি কল্কিদেবে ঘরে আনি তাই।
মম মতে ভক্তিমার্গ ইহাকেই কয়।
তোমাদের এ বিষয়ে ও মত কি নয়?॥
দেখ যদি সর্ব্ব স্থল হয় বিষ্ণুময়।
কেবা কারে নাশে বিনষ্ট কেহই নয়॥
যুদ্ধ যজ্ঞে জীব হিংসা হিংসা মিথ্যা নয়।
বেদে লেখা বলে মনু মুনিগণ কয়॥
যজ্ঞ যুদ্ধে শ্রীবিষ্ণুর পূজা আমি করি।
ইহাতেই হয় সুখ অন্তে পাই হরি॥

বলেন নৃপতিগণ বলি হে রাজন্!।
যিনি গুরু শাপে ত্যজে আপন জীবন॥
অতুল ঐশ্বর্য্য সত্বে নিমি রাজ যেই।
জন্মিল বিরাগ দেহে বল কেন সেই॥
শিষ্য-শাপে মৃত সে বশিষ্ঠ দেহ ধরে!
বিষ্ণু-মায়া ত্রিসংসারে বুঝতে কে পারে?॥

শশিধ্বজ বলে ভক্তি মুক্তি অনুসারে।
বহু জন্ম তীর্থ ভ্রমি থাকিয়ে সংসারে॥
দৈবে সাধুসঙ্গ লাভ তাহাতে ঈশ্বর।
ত্যেজিবে ভোগ বাসনা কার্য্যে হবে ভর॥
তার পর হরি পূজা হরি সঙ্কীর্ত্তন।
হরি রূপ ধ্যান জ্ঞান হরিতেই মন॥
বার ব্রত পূজা পাঠ করে অনুষ্ঠান।
হরি-সঙ্কীর্ত্তনে মন সদা হরি ধ্যান॥
মুক্তি ফল দেখে তাঁরা মুক্তি নাহি চান।
হরি সেবা ধর্ম্ম কর্ম্মে তীর্থেতে কাটান॥
যেই রূপ হয় দেখে কৃষ্ণ অবতার।
ভক্তেরও অবতার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর॥

ভক্তির মাহাত্ম্য সব করিনু বর্ণন।
কাম আদি মায়া মোহ হয় বিনাশন॥
ইন্দ্রিয় দেবতাদের আনন্দ বর্দ্ধন।
কৃষ্ণ তুল্য ব্যাস আদি ইহার কারণ॥
হরিভক্তি প্রভাবেতে জীবে মুক্তি হয়।
রচিল ভুবন চন্দ্র কথা সুধাময়॥
 ইতি ভক্তি ভক্ত মাহাত্ম্য।