কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/মরু ও দেবাপির কথা
মরু ও দেবাপির কথা।
শ্রীরামের পুত্ত্র কুশ কুশের অতিথি।
এই বংশে ধ্রুব, পিতা শীঘ্র মহামতি॥
মরু মম নাম, বুধ, সুমিত্রও বলে।
কলাপ গ্রামেতে থাকি আমি যে সে কালে॥
ব্যাস-মুখে শুনি কথা তব অবতার।
লক্ষ বর্ষ ধরি তপ করি আপনার॥
আপনি ঈশ্বর, দেখ্লে কোটি পাপ যায়।
কীর্ত্তি যশ লাভ হয় ধর্ম্মজ্ঞান তায়॥
জীবের কামনা সিদ্ধ কি বলিব আর।
এই জন্য আসিয়াছি কাছে আপনার॥
কল্কি বলে জানিলাম জন্ম সূর্য্যবংশে।
ইনি কে কোথায় বাস জন্ম কোন তাংশে॥
দেবাপি মধুর স্বরে করে নিবেদন।
শুন প্রভো বলি আমি জন্ম বিবরণ॥
তব নাভিপদ্ম হতে প্রলয়ের পর।
হয়েন চতুরানন অত্রি অনন্তর॥
অত্রি হতে চন্দ্র, চন্দ্র হতে বুধ হয়।
এ বংশে যযাতি ক্রমে বংশ বৃদ্ধি পায় ॥
তপস্যার যাই, শান্তনুরে দিয়ে রাজ্য ভার।
থাকিমু কলাপ গ্রামে পূজি সারাৎসার॥
মরু মুনিগণ সনে করি আগমন।
আপনার পাদপদ্ম করিতে দর্শন॥
আমি মুক্তি পাব, দেখা করেছি যখন।
এড়াইব যম-দায়ে নিশ্চয় তখন॥
মরু ও দেবাপি কথা শুনে কল্কি হাঁসে।
জেনেছি ধর্ম্মজ্ঞ বড় বলিয়া আশ্বাসে॥
বিনাশী অধর্ম্মাচারী দুষ্ট ম্লেচ্ছগণ।
তোমাকেই দিয়ে অযোধ্যার সিংহাসন॥
নিজে গিয়ে মথুরায় নিবারিব ভয়।
কর্ব্বো আমি সত্যযুগ দেখ পুনরায়॥
শস্ত্রবিদ্যে সুনিপুণ তোমরা দুজন।
ছাড় মুনি বেশ ব্রত পর এ বসন॥
রথে চড়ে মোর পাশে কোর্ব্বে বিচরণ।
বিনাশিবে অধার্ম্মিকে লয়ে সৈন্যগণ॥
বিশাখযূপের কন্যা পরমা সুন্দরী।
তারে বিয়ে করে মরো! হও হে সংসারী॥
নৃপতি রুচিরেশ্বর কন্যা শান্তা তাঁর।
দেবাপে! বিবাহ কোরে লও রাজ্য ভার॥
দেবাপি ও মরু রাজা মুনির সাক্ষ্যাতে।
স্বীকার দুজনে করে কল্কির কথাতে।
শ্রীকল্কির কার্য্য এই হলে সমাপন॥
স্বর্গ হতে দুই রথ আইল তখন॥
একি একি বলে উঠে যত সভ্যগণ।
দিব অস্ত্রে পূর্ণ, বিশ্বকর্মার গঠন॥
কল্কি বলে জীবলোক রক্ষার কারণ।
যম বৈশ্রবণ অংশে তোমরা দুজন॥
চন্দ্র বংশে ভবে আবির্ভূত হও।
এ কথা মুনির কিছু অবিদিত নও॥
গুপ্তভাবে এত দিন কোরে ছিলে বাস।
মম সঙ্গ লাভে আত্ম হইল প্রকাশ॥
সে সব কথায় আর কিবা প্রয়োজন।
সুররাজ দত্ত রথে কর আরোহণ॥
রমাপতি বাক্যে তুষ্ট হয়ে দেবগণ।
পুষ্প বৃষ্টি করে, স্তব করে মুনিজন॥
হেন কালে আসে এক ভিক্ষুক ব্রাহ্মণ।
সোণার বরণ দেহ কমল বদন॥
শিরে জটা হাতে দণ্ড পরে বৃক্ষ-ছাল।
ধর্ম্মের আবাস যেন দেখে ভাগে কাল॥
ইতি মরু ও দেবাপির কথা॥