কল্কিপুরাণ (ভুবনচন্দ্র বসাক)/শশিধ্বজের যুদ্ধ
শশিধ্বজের যুদ্ধ।
ঘোঁড়া চড়ে খাঁড়া হাতে কল্কি নারায়ণ।
ভল্লাট নগরে যান করিবারে রণ॥
সেথা রাজ্য শশিধ্বজ কৃষ্ণ পরায়ণ।
যুদ্ধ হেতু সেনা সনে অগ্রসর হন্॥
তা দেখে প্রশান্তা রাণী বলে প্রাণ-পতি।
রণে ক্ষান্ত হও তিনি অগতির গতি॥
বলে রাজা প্রাণ প্রিয়ে জান না জান না।
এইত পরম ধর্ম্ম দেবের বাসনা॥
রণে গুরু শিষ্য নাই মার খান্ হরি।
ক্ষত্রিয়ের এই ধর্ম্ম মারি কিবা মরি॥
মরিলে যাইব স্বর্গে সুখ হবে কত।
নতুবা এ রাজ্য ভোগ আছেত, প্রস্তুত।
হে নাথ! জানিনু সব মোহের কারণ।
সেই হেতু ঘটিতেছে প্রভু-সনে রণ॥
শশিধ্বজ বলে প্রিয়ে! কেমনে বোঝাই।
তাঁর দেখি সুখ দুঃখ রাগ দ্বেষ নাই॥
লীলা হেতু অবতীর্ণ কিন্তু ব্রহ্মময়।
তাঁহার মায়াতে সুধু হয় জন্ম লয়॥
এখন চলিনু প্রিয়ে কল্কি-সনে রণে।
পূজা কর আজি তুমি সেই ভগবনে॥
সুশান্তা সন্তোষ বড় স্বামির বচনে।
ভক্তিভাবে প্রণমিল পতির চরণে॥
হয়ে তুষ্ট শশিধ্বজ করে আলিঙ্গন।
বিষ্ণু নাথ স্মরি চলে করিবারে রণ॥
লেগে গেল বড় যুদ্ধ কল্কি-সেনা সঙ্গে।
মার মার কাট কাট মত্ত রণ-রঙ্গে॥
শশিধ্বজের তনয় সে সূর্য্যকেতু নামে।
ধনুর্দ্ধারী মহাবলী লাগে মরু সনে॥
কোকিল অনুজ তার পরম সুন্দর।
দেবাপির সনে রণ গদা-যুদ্ধে দড়॥
নৃপতি বিশাখযূপ শশিধ্বজ সনে।
রুচিরাশ্ব রজস্যানে, ভর্গ্য শান্ত রণে।
শূল প্রাস গদা শক্তি ভূষণ্ডী তোমরে।
কেহ ঋষ্টি কেহ খড়্গা কেহ খোন্তা ধরে॥
চামর পতাকা ছত্রে শোভে রণস্থল।
ধূলায় গগণ তল অন্ধকার হল॥
দেবতা গন্ধর্ব্বগণ যুদ্ধ দেখ্তে আসে।
মাংস খেকো জীবগণ আনন্দেতে হাঁসে॥
শঙ্খধ্বনি পশু-রবে মহাকোলাহল।
মার মার শব্দে রণে মাতিল সকল॥
হাত কাটে পদ কাটে কার বা কন্ধর।
কেহ ভাগ্নে কেহ কাঁদে বাড়ে যম-ঘর॥
কাটা গেল এত সেনা রক্ত-নদী বয়।
সূর্য্যকেতু গদাঘাতে মরু মূর্চ্ছা যায়।
দেবাপি পড়িল রণে সৈন্য ভেগে যায়।
আর আর কল্কি-যোদ্ধা দেখিয়া পলায়॥
হেনকালে শশিধ্বজ দেখেন কল্কিরে।
সূর্য্য সম প্রভা তাঁর শ্যাম কলেবরে॥
অন্বুজ নয়ন প্রভো পীতাম্বর ধারী।
মস্তকে কিরীট শোভে মোহন মুরারী॥
সমুখে দণ্ডায়মান ঘেরে রাজগণে।
পূজে ধর্ম্ম সত্যযুগ সেই ভগবানে॥
ইতি শশিধ্বজের যুদ্ধ।