কালান্তর/বাতায়নিকের পত্র

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


বাতায়নিকের পত্র এক দিকে আমাদের বিশ্বজগৎ, আর-এক দিকে আমাদের কর্মসংসার । সংসারটাকে নিয়ে আমাদের যত ভাবনা, জগৎটাকে নিয়ে আমাদের কোনো দায় নেই। এইজন্তে জগতের সঙ্গে আমাদের অহেতুক আত্মীয়তার সম্বন্ধটাকে যতটা পারি আড়াল করে রাখতে হয়, নষ্ট লে সংসারের ভাগে মনোযোগের কমতি প’ড়ে কাজের ক্ষতি হয় । তাই আমাদের আপিস থেকে বিশ্বকে বারো মাস ঠেকিয়ে রাখতে রাখতে এমনি হয় যে, দরকার পড়লেও আর তার উদ্দেশ পাওয়া যায় না । দরকার পড়েও । কেননা বিশ্বটা সত্য। সত্যের সঙ্গে কাজের সম্বন্ধ নাও যদি থাকে, তবু অল্প সম্বন্ধ আছেই । সেষ্ট সম্বন্ধকে অন্তমনস্ক হয়ে অস্বীকার করলেও তাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না । অবশেষে কর্মে ক্লাস্তি আসে, দিনের আলো স্নান হয়, সংসারের বদ্ধ আয়তনের মধ্যে গুমট অসহ্য হয়ে উঠতে থাকে । তখন মন তার হিসাবের পাকা থাত৷ বন্ধ ক’রে বলে ওঠে, "বিশ্বকে আমার চাই, নইলে আর বঁচি নে ? কিন্তু নিকটের সব দরজাগুলোর তালায় মরচে পড়ে গেছে, চাবি আর খোলে না । রেলভাড়া ক’রে দুরে যেতে হয় । আপিলের ছাদটার উপরেক্ট এবং তার আশেপাশেই যে আকাশ নীল, যে ধরণী শু্যামল, যে জলের ধারা মুখরিত, তাকেই দেখবার জন্তে ছুটে যেতে হয় এটোয়া কাটোয়৷ ছোটোনাগপুরে । এত কথা হঠাৎ আমার মনে উদয় হল কেন বলি। তোমরা সবাই জান, পুরাকালে এক সময়ে আমি সম্পূর্ণ বেকার ছিলুম। অর্থাৎ আমার প্রধান সম্বন্ধ ছিল বিশ্বজগতের সঙ্গে। তার পরে কিছু কাল থেকে সেই আমার প্রথম বয়সের সমস্ত অকৃত কর্মের বকেয়া শোধে লেগে Y &\9 কালান্তর গিয়েছিলুম। অর্থাৎ এখনকার প্রধান সম্বন্ধ হল সংসারের সঙ্গে। অথচ তখনকার সঙ্গে এখনকার দিনের যে এত বড়ো একটা বিচ্ছেদ ঘটেছে, কাজ করতে করতে তা ভূলে গিয়েছিলুম। এই ভোলবার ক্ষমতাই হচ্ছে মনের বিশেষ ক্ষমতা । সে দু নৌকোয় পা দেয় না ; সে যখন একটা নৌকোয় থাকে তখন অন্ত নৌকোটাকে পিছনে বেঁধে রাখে ; এমন সময় আমায় শরীর অসুস্থ হল । সংসারের কাছ থেকে কিছু দিনের মতো ছুটি মিলল। দোতলা ঘরের পুব দিকের প্রান্তে খোলা জানলার ধারে একট লম্বা কেদারায় ঠেস দিয়ে বসা গেল । স্থটো দিন না যেতেই দেখা গেল, অনেক দূরে এসে পড়েছি, রেলভাড়া দিয়েও এত দূরে আসা যায় না । যখন আমেরিকায় যাই, জাপানে যাই, ভ্রমণের কথায় ভ'রে ভ’রে তোমাদের চিঠি লিখে পাঠাই। পথ-খরচাটার সমান ওজনের গৌরব তাদের দিতে হয় । কিন্তু এই-যে আমার নিখরচার যাত্রা কাজের পার থেকে আকাজের পারে, তার ও ভ্রমণবৃত্তাস্ত লেখা চলে – মাঝে মাঝে লিখব। মুশকিল এই যে, কাজের মধ্যে মধ্যে অবকাশ মেলে, কিন্তু পুরো অবকাশের মধ্যে অবকাশ বড়ো দুর্লভ। আরো একটা কথা এই যে, আমার এই নিখরচার ভ্রমণবৃত্তাস্ত বিনা-কড়ি দামের উপযুক্ত নেহাত হাস্ক হওয়া উচিত— লেখনীর পক্ষে সেই হাল্কা চাল ইচ্ছা করলেই হয় না, কারণ লেখনী স্বভাবতই গজেন্দ্রগামিনী । জগৎটাকে কেজো অভ্যাসের বেড়ার পারে ঠেলে রেখে অবশেষে ক্রমে আমার ধারণা হয়েছিল, আমি খুব কাজের লোক । এই ধারণাটা জন্মালেই মনে হয়, আমি অত্যন্ত দরকারি, আমাকে না হলে চলে না । মানুষকে বিন মাইনেয় খাটিয়ে নেবার জন্তে প্রকৃতির হাতে যে-সমস্ত উপায় আছে এই অহংকারটা সকলের সেরা । টাকা নিয়ে যারা কাজ করে তারা সেই টাকার পরিমাণেই কাজ করে, সেটা একটা বাধা >良8 বাতায়নিকের পত্র পরিমাণ ; কাজেই তাদের ছুটি মেলে, বরাদ ছুটির বেশি কাজ করাকে তারা লোকসান ব’লে গণ্য করে । কিন্তু অহংকারের তাগিদে যারা কাজ করে তাদের আর ছুটি নেই ; লোকসানকেও তার লোকসান জ্ঞান করে না । আমাকে নইলে চলে না, এই কথা মনে করে এত দিন ভারি ব্যস্ত হয়ে কাজ করা গেছে, চোখের পলক ফেলতে সাহস হয় নি । ডাক্তার বলেছে, “এইখানেই বাস করে, একটু ৰামে ।’ আমি বলেছি, ‘আমি থামলে চলে কই ? ঠিক এমন সময়ে চাকা ভেঙে আমার রথ এই জানলাটার সামনে এসে থামল । এখানে দাড়িয়ে অনেক দিন পরে ঐ মহাকাশের দিকে তাকালুম । সেখানে দেখি মহাকালের রথযাত্রায় লক্ষ লক্ষ অগ্নিচক্র ঘুরতে ঘুরতে চলেছে ; না উড়ছে ধুলো, না উঠছে শব্দ, না পথের গায়ে একটুও চিহ্ন পড়ছে। ঐ রথের চলার সঙ্গে বাধা হয়ে বিশ্বের সমস্ত চলা অহরহ চলেছে । এক মুহুর্তে আমার যেন চটক ভেঙে গেল। মনে হল স্পষ্ট দেখতে পেলুম, আমাকে না হলেও চলে । কালের ঐ নি:শব্দ রথচক্র কারো অভাবে, কারো শৈথিল্যে, কোথাও এক তিল বা এক পল বেধে যাবে, এমন লক্ষণ তো দেখি নে। 'আমি-নইলে চলে-না’র দেশ থেকে ‘আমি-নইলে-চলে’র দেশে ধ" করে এসে পৌঁচেছি, কেবলমাত্র ঐ ডেস্কের থেকে এই জানলার ধারটুকুতে এসে । কিন্তু কথাটাকে এত সহজে মেনে নিতে পারব না । মুখে যদি বা মানি, মন মানে না। আমি থাকলেও যা আমি গেলেও তা, এইটেই যদি সত্য হবে তবে আমার অহংকার এক মুহুর্তের জন্তেও বিশ্বে কোথাও স্থান পেলে কী করে ? তার টিকে থাকবার জোর কিসের উপরে ? দেশকাল জুড়ে আয়োজনের তো অস্ত নেই, তবু এত ঐশ্বর্যের মধ্যে আমাকে কেউ বরখাস্ত করতে পারলে না । আমাকে না হলে 》及● কালাস্তর চলে না তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এই ষে আমি আছি । আমি যে আছি সেই থাকার মূলাই হচ্ছে অহংকার। এই মূল্য যত ক্ষণ নিজের মধ্যে পাচ্ছি তত ক্ষণ নিজেকে টিকিয়ে রাখবার সমস্ত দায়, সমস্ত দুঃখ অনবরত বহন করে চলেছি। সেইজন্ত বৌদ্ধর বলেছে, এই অহংকারটাকে বিসর্জন করলেই টিকে থাকার মূল মেরে দেওয়া হয়, কেননা তখন আর টিকে থাকার মজুরি পোষায় না। ষাই হোক, এই মূল্য তো কোনো-একটা ভাণ্ডার থেকে জোগানো হয়েছে। অর্থাৎ আমি থাকি এরই গরজ কোনো-এক জায়গায় আছে ; সেই গরজ অনুসারেই আমাকে মূল্য দেওয়া হয়েছে । আমি থাকি এই ইচ্ছার আল্পচর্য সমস্ত বিশ্ব করছে, বিশ্বের সমস্ত অণুপরমাণু। সেই পরম-ইচ্ছার গৌরবই আমার অহংকারে বিকশিত। সেই ইচ্ছার গৌরবেই এই অতিক্ষুদ্র আমি বিশ্বের কিছুর চেয়েই পরিমাণ ও মূল্যে কম নই। এই ইচ্ছাকে মানুষ ছুই রকম ভাবে দেখেছে । কেউ বলেছে এ হচ্ছে শক্তিময়ের খেয়াল, কেউ বলেছে এ হচ্ছে আনন্দময়ের আনন্দ । আর যারা বলেছে এ হচ্ছে মায়া অর্থাং যা নেই তারই থাকা, তাদের কথা ছেড়ে দিলুম। আমার থাকাট শক্তির প্রকাশ না প্রীতির প্রকাশ, এইটে যে যেমন মনে করে সে সেই ভাবে জীবনের লক্ষ্যকে স্থির করে । শক্তিতে আমাদের যে মূল্য দেয় তার এক চেহারা, আর প্রতিতে আমাদের যে মূল্য দেয় তার চেহারা সম্পূর্ণ আলাদা। শক্তির জগতে আমার অহংকারের যে দিকে গতি প্রীতির জগতে আমার অহংকারের গতি ঠিক তার উল্টে দিকে । শক্তিকে মাপা যায় ; তার সংখ্যা, তার ওজন, তার বেগ সমস্তেরই আয়তন গণিতের অঙ্কের মধ্যে ধরা পড়ে। তাই যার শক্তিকেই চরম >发白 বাতায়নিকের পত্র ব’লে জানে তারা আয়তনে বড়ো হতে চায়। টাকার সংখ্যা, লোকের ংখ্যা, উপকরণের সংখ্যা, সমস্তকেই তারা কেবল বহুগুণিত করতে থাকে । এইজন্তেই সিদ্ধিলাভের কামনায় এরা অন্তের অর্থ, অস্তের প্রাণ, অন্তের অধিকারকে বলি দেয়। শক্তিপূজার প্রধান অঙ্গ বলিদান । সেই থলির রক্তে পৃথিবী ভেসে যাচ্ছে । বস্তুতন্ত্রের প্রধান লক্ষণই হচ্ছে তার বাহ প্রকাশের পরিমাপ্যতা— অর্থাৎ তার সসীমতা । মামুষের ইতিহাসে যত-কিছু দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা তার অধিকাংশই এই সীমানার চৌহদি নিয়ে । পরিমাণের দিকে নিজের সীমান অত্যন্ত বাড়াতে গেলেই পরিমাণের দিকে অষ্ঠের সীমানা কাড়তে হয় । অতএব শক্তির অহংকার যেহেতু আয়তন-বিস্তারেরই অহংকার সেইজন্তে এই দিকে দাড়িয়ে খুব লম্ব। দূরবীন কষলেও লড়াইয়ের রক্তসমুদ্র পেরিয়ে শাস্তির কূল কোথাও ¢न १zउठ *ॉf७ध्न ! यांच्च न] { কিন্তু এই-ষে বস্ততান্ত্রিক বিশ্ব, এই-যে শক্তির ক্ষেত্র, এর আয়তনের অঙ্কগুলো যোগ দিতে দিতে হঠাৎ এক জায়গায় দেখি তেরিজটা একটানা বেড়ে চলবার দিকেই ছুটছে না । বেড়ে চলবার তত্ত্বের মধ্যে হঠাৎ উচোট খেয়ে দেখা যায় সুষমার তত্ত্ব পথ আগলে । দেখি কেবলই গতি নয়, যতিও আছে । ছন্দের এই অমোঘ নিয়মৰুে শক্তি যখন অন্ধ অহংকারে অতিক্রম করতে যায় তখনি তার আত্মঘাত ঘটে । মামুষের ইতিহাসে এইরকম বার বার দেখা যাচ্ছে । সেইজন্তে মানুষ বলেছে : অতি দৰ্পে হত। লঙ্ক । সেইজন্তে ব্যাবিলনের অত্যুদ্ধত গৌধচুড়ার পতনবার্তা এখনো মাছুষ স্বরণ করে । তবেই দেখছি, শক্তিতত্ত্ব, যার বাহ প্রকাশ আয়তনে, সেটাই চরম তত্ত্ব এবং পরম তত্ত্ব নয় । বিশ্বের তাল মেলাবার বেলায় আপনাকে তার > え" কালান্তর থামিয়ে দিতে হয়। সেই সংযমের সিংহদ্বারই হচ্ছে কল্যাণের সিংহদ্বার। এই কল্যাণের মূল্য আয়তন নিয়ে নয়, বহুলতা নিয়ে নয়। যে একে অস্তরে জেনেছে সে ছিন্ন কন্থায় লজ্জা পায় না, সে রাজমুকুট ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে পথে বেরিয়ে পড়তে পারে। শক্তিতত্ত্ব থেকে সুষমাতত্ত্বে এসে পৌছিয়েই বুঝতে পারি, ভুল জায়গায় এত দিন এত নৈবেদ্য জুগিয়েছি। বলির পশুর রক্তে যে শক্তি ফুলে উঠল সে কেবল ফেটে মরবার জন্তেই। তার পিছনে যতই সৈন্ত, যতই কণমান লাগাই-না কেন, রণতরীর পরিধি যতই বুদ্ধির দিকে নিয়ে চলি, লুঠের ভাগকে যতই বিপুল করে তুলতে থাকি, অঙ্কের জোরে মিথ্যাকে সত্য করা যাবে না, শেষ কালে ঐ অতি বড়ো অঙ্কেরই চাপে নিজের বস্তার নীচে নিজে গুড়িয়ে মরতে হবে । যাজ্ঞবল্ক্য যখন জিনিসপত্র বুঝিয়ে-মুঝিয়ে দিয়ে এই অঙ্ক-কষার রাজ্যে মৈত্রেয়ীকে প্রতিষ্ঠিত করে বিদায় নিচ্ছিলেন, তখনই মৈত্রেী বলেছিলেন, যেনাহং নামৃত স্তাম কিমহং তেল কুর্যাম্ ! বহু, বহু, বহু— সব বহুকে জুড়ে জুড়েও, অঙ্কের পর অঙ্ক যোগ ক’রে করেও তবু তো অমৃতে গিয়ে পৌছনো যায় না । শব্দকে কেবলই অত্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে এবং চড়িয়ে দিয়ে যে জিনিসটা পাওয়া যায় সেট হল হুংকার ; আর শব্দকে মুর দিয়ে, লয় দিয়ে, সংযত সম্পূর্ণতা দান করলে যে জিনিসটা পাওয়া যায় সেইটেই হল সংগীত। ঐ হুংকােরট হল শক্তি, এর পরিমাণ পাওয়া যায় ; আর সংগীতটা হল অমৃত, হাতে বহরে ওকে কোথাও মাপবার জো নেই। এই অমৃতের ক্ষেত্রে মানুষের অহংকারের স্রোত নিজের উণ্টে৷ দিকে, উংসর্জনের দিকে । মানুষ আপনার দিকে কেবলই সমস্তকে টানতে টানতে প্রকাওতা লাভ করে, কিন্তু আপনাকে সমস্তর দিকে উৎসর্গ করতে করতে সে সামঞ্জস্ত লাভ করে । এই সামঞ্জস্তেই ১২৮ বাতায়নিকের পত্র শাস্তি । কোনো বাহ ব্যবস্থাকে বিস্তীর্ণতর করার দ্বারা, শক্তিমানের সঙ্গে শক্তিমানকে জোড়া দিয়ে পুঞ্জীভূত করার দ্বারা, কখনোই সেই শাস্তি পাওয়া যাবে না যে শাপ্তি সত্যে প্রতিষ্ঠিত, যে শাস্তি আলোভে, যে শাস্তি সংযমে, যে শাস্তি ক্ষমায় । প্রশ্ন তুলেছিলুম, আমার সত্তার পরমমূল্যটি কোন সত্যের মধ্যে। শক্তিময়ের শক্তিতে না আনন্দময়ের আনন্দে ? শক্তিকেই যদি সেই সত্য ব’লে বরণ করি তা হলে বিরোধকেও চরম ও চিরস্তন ব’লে মানতেই হবে । যুরোপের অনেক আধুনিক লেখক সেই কথাই স্পধাপুর্বক প্রচার করছেন। তারা বলছেন, শাস্তির ধর্ম, প্রেমের ধর্ম, দুর্বলের আত্মরক্ষা করবার কৃত্রিম দুর্গ ; বিশ্বের বিধান এই দুর্গকে খাতির করে না, শেষ পর্যন্ত শক্তিরই জয় হয়— অতএব ভীরু ধর্মভাবুকের দল যাকে অধৰ্ম ব’লে নিন্দা করে, সেই অধৰ্মই কৃতার্থতার দিকে মানুষকে নিয়ে যায়। অন্ত দল সে কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে না ; সমস্ত মেনে নিয়েই তারা বলে— অধৰ্মেণৈধতে তাবৎ ততো ভদ্রাণি পশুতি । তত: সপত্নান জয়তি সমূলস্ত বিনগুতি । ঐশ্বর্যগর্বেও মামুষের মন বাহিরের দিকে বিক্ষিপ্ত হয়, আবার দারিদ্র্যের দুঃখে ও অপমানেও মামুষের সমস্ত লোলুপ প্রবৃত্তি বাইরের দিকে ঝুকে পড়ে। এই দুই অবস্থাতেই মাস্থ্য সকল দেবতার উপরে সেই শক্তিকে আসন দিতে লজ্জিত হয় না, যে ক্রুর শক্তির দক্ষিণহস্তে অন্যায়ের এবং বামহস্তে ছলনার অস্ত্র । প্রতাপসুরামত্ত য়ুরোপের পলিটিকস্ এই শক্তিপূজা । এইজন্ত সেখানকার ডিপ্লোমেলি কেবলই প্রকাশ্বতাকে এড়িয়ে চলতে চায় ; অর্থাৎ সেখানে শক্তি যে মূর্তি ধারণ করেছে সে সম্পূর্ণ উলঙ্গ মূর্তি নয় ; কিন্তু তার লেলিহান রসনার উলঙ্গতা 2 ) శిలి কালান্তর কোথাও ঢাকা নেই। ঐ দেখো পীসূ-কনফারেন্সের সভাক্ষেত্রে তা লক্লক করছে। অপর পক্ষে একদা আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় উচ্ছ্বস্থলতার সময় ভীত পীড়িত প্রজা আপন কবিদের মুখ দিয়ে শক্তিরই স্তবগান করিয়েছে। কবিকঙ্কণচণ্ডী, অন্নদামঙ্গল, মনসার ভাসান, প্রকৃতপক্ষে অধর্মেরই জয়গান। সেই কাব্যে অন্যায়কারিণী ছলনাময়ী নিষ্ঠুর শক্তির হাতে শিব পরাভূত। অথচ অদ্ভুত ব্যাপার এই যে, এই পরাভবগানকেই মঙ্গলগান নাম দেওয়া হল । আজকের দিনেও দেখি আমাদের দেশে সেই হাওয়া উঠেছে। আমরা ধর্মের নাম করেই এক দল লোক বলছি, ধর্মভীরুতাও ভীরুতা । বলছি, যারা বীর, অন্তায় তাদের পক্ষে অন্যায় নয়। তাই দেখি সাংসারিকতায় যারা কৃতাৰ্থ এবং সাংসারিকতায় যারা অকৃতাৰ্থ, ছুইয়েরই মুর এক জায়গায় এসে মেলে। ধর্মকে উভয়েই বাধা বলে জানে, সেই বাধা গায়ের জোরে অতিক্রম করতে চায় । কিন্তু গায়ের জোরই পৃথিবীতে সব চেয়ে বড়ো জোর নয়। এই বড়ো দুঃসময়ে কামনা করি, শক্তির বীভৎসতাকে কিছুতে আমরা ভয়ও করব না, ভক্তিও করব না ; তাকে উপেক্ষ করব, অবজ্ঞা করব । সেই মনুষ্যত্বের অভিমান আমাদের হোক, যে অভিযানে মানুষ এই স্থল বস্তুজগতের প্রবল প্রকাগুতার মাঝখানে দাড়িয়ে মাথা তুলে বলতে পারে, আমার সম্পদ এখানে নয় ; বলতে পারে, শৃঙ্খলে আমি বন্দী হই নে, আঘাতে আমি আহত হই নে, মৃত্যুতে আমি মরি নে ? বলতে পারে, যেনাহং নামৃতঃ তাম্ কিমহং তেন কুর্ষাম্। আমাদের পিতামহেরা বলে গেছেন ; এতদস্মৃতমভয়ং শাস্ত উপালীত । যিনি অমৃত, যিনি অভয় তাকে উপাসনা করে শাস্ত হও । তাদের উপদেশকে আমরা মাথায়ু লই, এবং মৃত্যু ও সকল ভয়ের অতীত যে শাস্তি সেই শাস্তিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করি। >\be বাতায়নিকের পত্র २ কারো উঠোন চষে দেওয়া আমাদের ভাষায় চূড়ান্ত শাস্তি বলে গণ্য। কেননা উঠোনে মানুষ সেই বৃহৎ সম্পদকে আপন করেছে যেটাকে বলে ফাক । বাহিরে এই ফাক স্থলভ নয়, কিন্তু সেই বাহিরের জিনিসকে ভিতরের করে, আপনার করে না তুললে তাকে পেয়েও না পাওয়া হয় । উঠোনে ফাকটাকে মানুষ নিজের ঘরের জিনিস করে তোলে ; ঐখানে স্বর্যের আলো তার ঘরের আপনার আলো হয়ে দেখা দেয়, ঐখানে তার ঘরের ছেলে আকাশের চাদকে হাততালি দিয়ে ডাকে । কাজেই উঠোনকেও যদি বেকার না রেখে তাকে ফসলের খেত বানিয়ে তোলা যায় তা হলে যে বিশ্ব মানুষের আপন ঘরের বিশ্ব, তারই বাসা C5なも (7S和1 豪習| সত্যকার ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে প্রভেদ এই যে, ধনী এই ফাকটাকে বড়ো করে রাখতে পারে । যে-সমস্ত জিনিসপত্র দিয়ে ধনী আপনার ঘর বোঝাষ্ট করে তার দাম খুব বেশি, কিন্তু যে ফাকটী দিয়ে তার আঙিনা হয় প্রশস্ত, তার বাগান হয় বিস্তীর্ণ সেইটেই হচ্ছে সব চেয়ে দামি । সদাগরের দোকানঘর জিনিসপত্রে ঠাসা ; সেখানে ফণক রাখবার শক্তি তার নেই। দোকানে সদাগর রূপণ, সেখানে লক্ষপতি হয়েও সে দরিদ্র । কিন্তু সেই সদাগরের বাসের বাড়িতে ঘরগুলো লম্বায় চওড়ায় উচুতে সকল দিকেই প্রয়োজনকে ধিক্কার ক’রে ফাকটাকেই বেশি আদর দিয়েছে, আর বাগানের তো কথাই নেই। এইখানেই সদাগর ধনী । শুধু কেবল জায়গার ফাক নয়, সময়ের ফাকাও বহুমূল্য। ধনী তার অনেক টাকা দিয়ে এই অবকাশ কিনতে পায় । তার ঐশ্বর্যের প্রধান লক্ষণ এই যে, লম্বা লম্বা সময় সে ফেলে রাখতে পারে। হঠাৎ কেউ তার সময়ের উঠোন চবতে পারে না । > 3 > কালান্তর আর-একটা ফাকা যেটা সব চেয়ে দামি সে হচ্ছে মনের ফঁাকা । যা-কিছু নিয়ে মন চিন্তা করতে বাধ্য হয়, কিছুতেই ছাড় পায় না, তাকেই বলে ছশ্চিন্তা । গরিবের চিস্তা, হতভাগার চিস্ত মনকে একেবারে আঁকড়ে থাকে ; অশখগাছের শিকড়গুলো ভাঙা মন্দিরকে যে রকম আঁকড়ে ধরে । দুঃখ জিনিসটা আমাদের চৈতন্তের ফাক বুজিয়ে দেয়। শরীরের সুস্থ অবস্থা তাকেই বলে যেটা হচ্ছে শারীর চৈতন্তের ফাকা ময়দান। কিন্তু হোক দেপি বা পায়ের ক’ড়ে আঙুলের গাটের প্রাস্তে বাতের বেদনা, অমনি শারীর চৈতন্তের ফাক বুজে যায়, সমস্ত চৈতন্ত ব্যথায় ভরে ওঠে। মন যে ফাক চায় দু:খে সেই ফাক পায় না । স্থানের ফাকা না পেলে যেমন ভালো করে বাচা যায় না, তেমনি সময়ের ফণকা, চিস্তার ফণকা না পেলে মন বড়ো করে ভাবতে পারে না ; সত্য তার কাছে ছোটো হয়ে যায় । সেই ছোটো-সত্য মিড্‌মিটে আলোর মতো ভয়কে প্রশ্রয় দেয়, দৃষ্টিকে প্রতারণা করে এবং মামুষের ব্যবহারের ক্ষেত্রকে সংকীর্ণ করে রাখে । আজকের দিনে ভারতবাসী হয়ে নিজের সকলের চেয়ে বড়ো দেীর্ভাগ্য অনুভব করছি এই জানলার কাছটাতে এসে । আমাদের ভাগ্যে জানলার ফাক গেছে বুজে ; জীবনের এ কোণে, ও কোণে একটুআধটু যা ছুটির পোড়ে। জায়গা ছিল তা কাটগাছে ভরে গেল । প্রাচীন ভারতে একটা জিনিস প্রচুর ছিল, সেটাকে আমরা খুব মহামূল্য বলেই জানি, সে হচ্ছে সত্যকে খুব বড়ো করে ধ্যান করবার এবং উপলব্ধি করবার মতে মনের উদার অবকাশ । ভারতবর্ষ এক দিন সুখ এবং দুঃখ, লাভ এবং অলাভের উপরকার সব চেয়ে বড়ো ফাকায় দাড়িয়ে সেই সত্যকেই সুস্পষ্ট করে দেখছিল, যং লবধবা চাপরং লাভং মন্ততে নাধিকং তত: | কিন্তু আজকের দিনে ভারতবর্ষের সেই ধ্যানের বড়ো অবকাশটি নষ্ট ృ\రి" * বাতায়নিকের পত্র হল। আজকের দিনে ভারতবাসীর আর ছুটি নেই ; তার মনের অস্তরতম ছুটির উৎসটি শুকিয়ে শুকিয়ে মরে গেল, বেদনায় তার সমস্ত চৈতষ্ঠকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছে । তাই আজ যখনই এই বাতায়নে এসে বসেছি আমনি দেখি, আমাদের আঙিন থেকে উঠছে দুর্বলের কান্না ; সেই দুর্বঙ্গের কাল্লায় আমাদের উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিম, সমস্ত অবকাশ একেবারে পরিপূর্ণ। আজকের দিনে দুর্বল যত ভয়ংকর দুর্বল, জগতের ইতিহাসে এমন আর কোনো দিনই ছিল না। বিজ্ঞানের কৃপায় বাহুবল আজ নিদারুণ দুর্জয়। পালোয়ান আজ জল স্থল আকাশ সর্বত্রই সিংহনাদে তাল ঠুকে বেড়াচ্ছে। আকাশ এক দিন মামুষের হিংসাকে আপন সীমানায় ঢুকতে দেয় নি। মামুষের কুরতা আজ সেই শূন্তকেও অধিকার করেছে। সমুদ্রের তলা থেকে আরম্ভ করে বায়ুমণ্ডলের প্রাস্ত পর্যন্ত সব জায়গাতেই বিদীর্ণ হৃদয়ের রক্ত বয়ে চলল । এমন অবস্থায়, যখন সবলের সঙ্গে দুর্বলের বৈষম্য এত অত্যন্ত বেশি তখনে যদি দেখা যায়, এত বড়ো বলবানেরও ভীরুতা ঘুচল না, তা হলে সেই ভীরুতার কারণটা ভালো করে ভেবে দেখতে হবে । ভেবে দেখা দরকার এইজন্তে যে, যুরোপে আজকের যে শাস্তিস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে সেই শাস্তি টেকসই হবে কি না সেটা বিচার করতে হলে এই সমস্ত বলিষ্ঠদের মনস্তত্ত্ব বুঝে দেখা চাই । যুদ্ধ যখন প্রবল বেগে চলছিল, যখন হারের আশঙ্কা জিতের আশার চেয়ে কম ছিল না, তখন সেই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় সন্ধির শর্তভঙ্গ, অস্ত্রাদিপ্রয়োগে বিধিবিরুদ্ধতা, নিরস্ত্র শক্রদের প্রতি বায়ুরথ থেকে অস্ত্রবর্ষণ প্রভৃতি কাওকে এ পক্ষ ‘ক্রাইম’ অর্থাৎ অপরাধ বলে অভিযোগ করেছিলেন। মানুষ ক্রাইম কখন করে ? যখন সে ধর্মের গরজের চেয়ে రిO কালান্তর আর-কোনো একটা গরজকে প্রবল বলে মনে করে। যুদ্ধে জয়লাভের গরজটাকেই জর্মনি দ্যায়াচরণের গরজের চেয়ে আশু গুরুতর বোধ করেছিল। এ পক্ষ যখন সেজন্তে আঘাত পাচ্ছিলেন তখন বলছিলেন, জর্মনির পক্ষে কাজটা একেবারেই ভালো হচ্ছে না ; হোক-না যুদ্ধ, তাই বলে কি আইন নেই, ধর্ম নেই ? অার, যখন বিজিত প্রদেশে জর্মনি লঘু পাপে গুরু দণ্ড দিতে দয়াবোধ করে নি তখন আশু প্রয়োজনের দিক থেকে জর্মনির পক্ষে তার কারণ নিশ্চয়ই ছিল । কিন্তু এ পক্ষে বলেছিল, আশু প্রয়োজন-সাধনাটাই কি মামুষের চরম মনুষ্যত্ব ? সভ্যতার কি একটা দায়িত্ব নেই ? সেই দায়িত্বরক্ষার চেয়ে যার উপস্থিত কাজউদ্ধারকেই বড়ো মনে করে তারা কি সভাসমাজে স্থান পেতে পারে ? ধর্মের দিক থেকে এ-সকল কথার একেবারে জবাব নেই। শুনে আমাদের মনে হয়েছিল, যুদ্ধের অগ্নিতে এবার বুঝি কলিযুগের সমস্ত পাপ দগ্ধ হয়ে গেল ; এত দিন পরে মামুষের দশ ফিরবে, কেননা তার মন ফিরছে । মন না ফিরলে কেবলমাত্র অবস্থা বা ব্যবস্থা -পরিবর্তনে কখনোই কোনো ফল পাওয়া যায় না । কিন্তু আমাদের তখন হিসাবে একটা ভূল হয়েছিল । আমাদের দেশে শ্মশানবৈরাগ্যকে লোকে সন্দেহের চক্ষে দেখে । তার কারণ, প্রিয়জনের আশু মৃত্যুতে মন যখন দুর্বল তখনকার বৈরাগ্যে বিশ্বাস নেই, সবল মনের বৈরাগ্যই বৈরাগ্য । তেমনি যুদ্ধফলের অনিশ্চয়তায় মন যখন দুর্বল তখনকার ধর্মবাক্যকে ষোলো আনা বিশ্বাস করা যায় না । যুদ্ধে এ পক্ষের জিত হল। এখন কী করলে পৃথিবীতে শাস্তির ভিত পাকা হয় তাই নিয়ে পঞ্চায়েত বসে গেছে । কৰ-কাটাকাটি, প্রস্তাব চালাচালি, রাজ্য-ভাগাভাগি চলছে । এই কারখানাঘর থেকে কী আকার এবং কী শক্তি নিয়ে কোন যন্ত্র বেরবে তা ঠিক বুঝতে পারছি নে । Svరి8 বাতায়নিকের পত্র আর-কিছু না বুঝি একটা কথা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে আসছে ; এত আগুনেও কলিযুগের অস্ত্যেষ্টিসৎকার হল না, মন-বদল হয় নি। কলিযুগের সেই সিংহাসনটা আজ কোনখানে ? লোভের উপরে। পেতে চাই, রাখতে চাই, কোনোমতেই কোথাও একটুও কিছু ছাড়তে চাই নে। সেইজন্যেই অতিবড়ো বলিষ্ঠের ভয়, কী জানি যদি দৈবাৎ এখন বা সুদূর কালেও একটুখানি লোকসান হয়। যেখানে লোকসান কোনোমতেই সইবে না সেখানে আইনের দোহাই, ধর্মের দোহাই মিথ্যে । সেখানে অন্যায়কে কর্তব্য ব’লে আপনাকে ভোলাতে একটুও সময় লাগে না ; সেখানে দোষের বিচার দোষের পরিমাণের দিক থেকে নয়, আইনের দিক থেকে নয়, নিজের লোভের দিক থেকে । এই ভয়ংকর লোভের দিনে সবলকে সবল যখন ভয় করতে থাকে, তখন উচ্চতানের ধর্মের দোহাই দিয়ে রফারফির কথা হতে থাকে ; তখন আইনের মধ্যে কোনো ছিদ্র কোনো জায়গায় যাতে একটুও না থাকতে পারে সেই চেষ্টা হয়। কিন্তু দুর্বলকে যখন সেই সময়েই সেই লোভেরই তাড়ায় সবল এতটুকু পরিমাণেও ভয় করে, তখন শাসনের উত্তেজনা কোনো দোহাই মানতে চায় না ; তখন আইনের মধ্যে বড়ো বড়ো ছিদ্র খনন করা হয় । প্রবলের ভয়ে এবং দুর্বলের ভয়ে মস্ত একটা তফাত আছে। দুর্বল ভয় পায় সে ব্যথা পাবে, আর প্রবল ভয় পায় সে বাধা পাবে। সকলেই জানেন, কিছুকাল থেকে পাশ্চাত্য দেশে Yellow Peril বা পীতসংকট নাম নিয়ে একটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই আতঙ্কের মূল কথাটা এই যে, প্রবলের লোভ সন্দেহ করছে পাছে আর কোথাও থেকে সেই লোভ কোনো-এক দিন প্রবল বাধা পায় । বাধা পাবার সম্ভাবনা কিলে ? যদি আর-কোনো জাতি এই প্রবলদেরই মতো সকল বিষয়ে বড়ো হয়ে ওঠে। তাদের মতে ৰড়ে হওয়া একটা সংকট— এইটে নিবারণ > II কালান্তর করবার জন্তে অন্তদের চেপে ছোটো করে রাখা দরকার । সমস্ত পাশ্চাত্য জগৎ আজ এই নীতি নিয়ে বাকি জগতের সঙ্গে কারবার করছে। এই নীতিতে নিরস্তুর যে ভয় জাগিয়ে রাখে তাতে শাস্তি টিকতে পারে না । জগদবিখ্যাত ফরাসী লেখক আনাতোল ফ্রাস লিখছেন– It does not, however, appear at first sight that the Yellow Peril at which European economists are terrified is to be compared to the White Peril suspended over Asia. The Chinese do not send to Paris, Berlin, and St. Petersburg missionaries to teach Christians the Fung-Chui, and sow disorder in European affairs. A Chinese expenditionary force did not land in Quiberon Bay to demand of the Government of the Republic extra-territoriality, i. e., the right of trying by a tribunal of mandarins cases pending between Chinese and Europeans. Admiral Togo did not come and bombard Brest Roads with a dozen battleships, for the purpose of improving Japanese trade in France...... He did not burn Verseilles in the name of a higher civilisa tion. The army of the Great Asiatic Powers did not carry away to Tokio and Peking the Louvre paintings and the silver service of the Elysee. No indeed Monsieur Edmond Thery himself admits that the yellow men are not sufficiently civilised to imitate the whites so faithfully. Nor does he foresee that they will ever rise to so high a moral culture. How could it be possible for them to possess our virtues 2 They are not Christians. But men entitled to speak consider that the Yellow Peril is none the less to be dreaded for all that it is economic, Japan and China, organised by Japan, threaten us in all the markets of Europe, with a competition fright ويO\ {< বাতায়নিকের পত্র ful, monstrous, enormous, and deformed, the mere idea of which causes the hair of the economists to stand on end. অর্থাৎ লোভ কোথাও বাধা পেতে চায় না । সেইজন্তে যে নীচে আছে তাকে চিরকালই নীচে চেপে রাখতে চায়, এবং যে প্রবল হয়ে ওঠবার লক্ষণ দেখাচ্ছে তাকে অকল্যাণ বলেই গণ্য করে । যত ক্ষণ এই লোভ আছে তত ক্ষণ জগতে শাস্তি আনে পীসকনফারেন্সের এমন সাধ্য নেই। কলে অনেক জিনিস তৈরি হচ্ছে কিন্তু কলে-তৈরি শাস্তিকে বিশ্বাস করি নে। কমিক-খনিকদের মধ্যে যে অশাস্তি তারও কারণ লোভ, এক রাজ্য - অন্ত রাজ্যের মধ্যে যে অশান্তি তারও কারণ লোভ, আবার রাজা ও প্রজার মধ্যে যে অশাস্তি তারও কারণ লোভ। তাই শেষকালে দাড়ায় এই, লোভে পপি, পাপে মৃত্যু । এমন অবস্থায় সবলপক্ষীয়ের যখন আপোবনিম্পত্তির যোগে শাস্তিকামনা করে তখন তারা নিজেদের পারে পাকা বাধ বেঁধে এবং অন্তদের পারে পাকা খাদ কেটে লোভের স্রোতটাকে নিজেদের দিক থেকে অন্ত দিকে সরিয়ে দেয় । বসুন্ধরাকে এমন জায়গায় পরস্পর বখরা করে নিতে চায় যে জায়গাটা যথেষ্ট নরম, অনায়াসেই যেখানে দাত বসে, এবং ছিড়তে গিয়ে নখে যদি আঘাত লাগে নখ তার শোধ তুলতে পারে । কিন্তু জোর করে বলা যায় এমন ভাবে চিরদিন চলবে না ; ভাগ সমান হবে না, লোভের ক্ষুধা সব জায়গায় সমান করে ভরবে না, পাপের ছিদ্র নানা জায়গায় থেকে যাবে ; হঠাৎ এক দিন ভরাডুবি হবে । বিধাতা আমাদের একটা দিকে নিশ্চিস্ত করেছেন, ঐ বলের দিকটায় আমাদের রাস্তা একেবারে শেষ ফাকটুকু পর্যস্ত বন্ধ ; ষে আশা রাস্ত না পেলেও উড়ে চলে সেই আশারও ডান কাটা পড়েছে । আমাদের জন্তে কেবল একটা বড়ো পথ আছে, সে হচ্ছে দুঃখের উপরে যাবার ১৩৭ কালান্তর পথ। রিপু আমাদের বাইরে থেকে আঘাত দিচ্ছে দিক, তাকে আমরা অস্তরে আশ্রয় দেব না । যারা মারে তাদের চেয়ে আমরা যখন বড়ো হতে পারব তখন আমাদের মার-খাওয়া ধন্ত হবে । সেই বড়ো হবার পথ না লড়াই করা, না দরখাস্ত লেখা । অথ ধীরা অমৃতত্বং বিদিত্বা ধ্ৰুবম অধ্রুবেধিহ ন প্রার্থয়ন্তে ॥ Nව অন্তের সঙ্গে কথা কওয়া এবং অন্তের সঙ্গে চিঠি লেখার ব্যবস্থা আছে সংসার জুড়ে। আর নিজের সঙ্গে ? সেট কেবল এই বাতায়নটুকুতে। কিন্তু নিজের মধ্যে কার সঙ্গে কে কথা কয় ? একটা উপমা দেওয়া যাক । মাটির জলের খানিকট স্বল্প হয়ে মেঘ হয়ে আকাশে উড়ে যায়। সেখান থেকে সেই নির্মল দূরত্বের সংগীত এবং উদার বেগ নিয়ে ধারায় ধারায় পুনর্বার সে মাটির জলে ফিরে আসতে থাকে । এই জলেরই মতো মানুষের মনের একটা ভাগ সংসারের উর্ধের্ব আকাশের দিকে উড়ে যায়, সেই আকাশচারী মনটা মাঝে মাঝে আবার যদি এই ভূচর মনের সঙ্গে মিলতে পারে তবে তাতেই পূর্ণত ঘটে। কিন্তু এমন-সকল মরুপ্রদেশ আছে যেখানে প্রায় সমস্ত বৎসর ধরেই অনাবৃষ্টি । বাষ্প হয়ে বা উপরে চলে গেল বর্ষণ হয়ে তা আর ধরায় নেমে আসে না । নীচের মনের সঙ্গে উপরের মনের আর মিলন হয় না । সেখানে খাল-কাট। জলে কাজ চলে যায় ; কিন্তু সেখানে আকাশের সঙ্গে মাটির শুভসংগমের সংগীত এবং শঙ্খধ্বনি কোথায় ? সেখানে বর্ষণমুখরিত রসের উৎসব হল না। সেখানে মনের মধ্যে চিরবিরহের একটা শুষ্কতা রয়ে গেল । E مb 0 < বাতায়নিকের পত্র এ তো গেল অনাবৃষ্টির কথা । এ ছাড়া মাঝে মাঝে কাদাবৃষ্টি রক্তবৃষ্টি প্রভৃতি নানা উৎপাতের কথা শোনা যায় । আকাশের বিশুদ্ধতা যখন চলে যায়, বাতাস যখন পৃথিবীর নানা আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে থাকে, তখনই এইসব কাণ্ড ঘটে । তখন আকাশের বাণীও নির্মল হয়ে পৃথিবীকে পবিত্র করে না । পৃথিবীরই পাপ পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে । আজকের দিনে সেই দুর্যোগ ঘটেছে। পৃথিবীর পাপের ধূলিতে আকাশের বর্ষণ ও আবিল হয়ে নামছে। নির্মল ধারায় পুণ্যস্নানের জন্তে অনেক দিনের যে প্রতীক্ষা তাও আজি বারে বারে ব্যর্থ হল । মনের মধ্যে কাদা লাগছে এবং রক্তের চিহ্ন এসে পড়ছে ; বার বার কত আর भूछ्व । রক্তকলঙ্কিত পৃথিবী থেকে ঐ-যে আজ একটা শাস্থির দরবার উঠেছে, উর্ধ্ব-আকাশের নির্মল নি:শব্দত। তার বেসুরকে ধুয়ে দিতে পারছে না । শাস্তি ? শাস্তির দরবার সত্য সত্যই কে করতে পারে ? ত্যাগের জন্তে যে প্রস্থত। ভোগেরই জন্তে, লাভেরই জন্তে যাদের দশ আঙল অজগর সাপের দশটা লেজের মতো কিলবিল করছে তার শাস্তি চায় বটে, কিন্তু সে ফাকি দিয়ে, দাম দিয়ে নয় । যে শক্তিতে পৃথিবীর সমস্ত ক্ষীরসর বাটি চেটে নিরাপদে খাওয়া যেতে পারে সেই শাস্তি । দুর্ভাগ্যক্রমে পৃথিবীর এই ক্ষীরসরের বড়ে বড়ো ভাওগুলো প্রায় আছে দুর্বলদের জিন্মায়। এইজন্ত যে ত্যাগশীলতায় সত্যকার শাস্তি সেই ত্যাগের ইচ্ছা প্রবলদের মনে কিছুতেই সহজ হতে পারছে না । যেখানে শক্ত পাহারা সেখানে লোভ দমন করতে বেশি চেষ্টা করতে হয় না । সেখানে মামুব সংযত হয় এবং নিজেকে খুব ভালো ছেলে বলেই মনে করে। কিন্তু আলগা পাহারা যেখানে সেখানে ভয়ও থাকে না, লজ্জাও t:) কালান্তর চলে যায়। এমন-সব জায়গা আছে যেখানে ভালো ছেলে বলে নিজের পরিচয় দিলে লাভ আছে ; কিন্তু দুর্বলের সঙ্গে যেখানে কারবার সেখানে বেচার প্রবল পক্ষের ভালো হওয়া সম্পূর্ণ নি:স্বাৰ্থ ব'লেই যে কত কঠিন তার দৃষ্টাস্তের অভাব নেই। বিখ্যাত ফরাসী লেখক আনাতোল ফ্রাসের লেখা থেকে একটা জায়গা উদ্ভূত করি। তিনি চীনদেশের সঙ্গে যুরোপের সম্বন্ধ-আলোচনা উপলক্ষে লিখছেন— In our own times, the Christian acquired the habit of sending jointly or separately into that vast Empire, whenever order was disturbed, soldiers who restored it by means of theft, rape, pillage, murder, and incendiarism, and of proceeding at short intervals with the pacific penetration of the country with rifles and guns. The poorly armed Chinese either defend themselves badly or not at all, and so they are massacred with delightful facility...... In 1901, order having been disturbed at Peking, the troops of the five Great Powers, under the command of a German Field-Marshal, restored it by the customary means. Having in this fashion covered themselves with millitary glory, the five Powers signed one of the innumerable treaties by which they guarantee the integrity of the very China whose provinces they divide among themselves. পীকিনে যে ভাঙচুর লুটপাট ও উৎপাত হয়েছিল মামুষের দুঃখ এবং অপমানের পক্ষে সে বড়ো কম নয়, কিন্তু সে সম্বন্ধে লজ্জা পাওয়া এবং লজ্জা দেওয়ার পরিমাণ আধুনিক যুরোপীয় যুদ্ধঘটিত আলোচনার তুলনায় কতই অণুপরিমাণমাত্র তা সকলেই জানেন । এর থেকে স্পষ্ট দেখা যায়, ভালো হওয়ার যে কঠিন আদর্শ মামুষের মনুষ্যত্বকে উর্ধের্ব ধারণ ক’রে রাখে দুৰ্বলের সংসর্গে সেইটে নেমে যায়। মানুষ নিজের অগোচরে নিজের সঙ্গে একটা সন্ধিপত্র লেখাপড়া করে নেয় ; বলে, ভালোমন্দর У 8. o বাতায়নিকের পত্র বিচার নিয়ে নিজের সঙ্গে নিজের যে-একটা নিরস্তর লড়াই চলছে অমুকঅমুক চৌহদির মধ্যে সেটাকে যথেষ্ট পরিমাণ ঢিল দেওয়া যেতে পারে। ভারতবর্ষে আমরাও এ কাজ করেছি ; শূদ্রকে ব্রাহ্মণ এত দুর্বল করেছিল যে তার সম্বন্ধে ব্রাহ্মণের না ছিল লজ্জা, না ছিল ভয় । আমাদের সংহিতাগুলি আলোচনা করলে এ কথা ধরা পড়বে। দেশ জুড়ে আজ তার যে ফল ফলেছে তা বোঝবার শক্তি পর্যন্ত চলে গেছে, ছুৰ্গতি এত গভীর । যে দুর্বল, সবলের পক্ষে সে তেমনি ভয়ংকর, হাতির পক্ষে যেমন চোরাবালি । এই বালি বাধা দিতে পারে না ব’লেই সম্মুখের দিকে অগ্রসর করে না, কেবলই নীচের দিকে টেনে নেয় । শক্তির আয়তন যত প্রকাও, তার ভার যতই বেশি, তার প্রতি আশক্তির নীচের দিকের টান ততই ভয়ংকর। যে মাটি বাধা দেয় না তাকে পদাঘাত যত জোরেই করবে, পদের পক্ষে ততই বিপদ ঘটবে। যে জায়গায় হাওয়া হালকা সেই জায়গাই হচ্ছে ঝড়ের কেন্দ্র । এই জন্তে যুরোপের বড়ো বড়ো ঝড়ের আসল জন্মস্থান এশিয়া, আফ্রিকা । ঐখানে বাধা কম, ঐখানে স্তায়পরতার যুরোপীয় আদর্শ খাড়া রাখবার প্রেরণ দুর্বল। এবং আশ্চর্য এই যে, সেই দ্যায়পরতার আদর্শ যে নেমে চলেছে, বলদৰ্পে মামুষ সেটা বুঝতেই পারে না। এইটেই হচ্ছে দুৰ্গতির পরাকাষ্ঠ । এই অসাড়ত, এই অন্ধতা এত দূর পর্যন্ত যায় যে, এক-এক সময়ে তার কাও দেখে বড়ো দুঃখেও হালি আসে । যুরোপের মুড়িখানা থেকে পোলিটিকাল মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে এমন একদল যুবক আমাদের দেশে আছে। তারা নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি করে। তাই দেখে অনেকবার এই কথাই ভেবেছি, মামুষের স্বদেশী পাপের তো অভাব নেই, এর উপরে যারা বিদেশী পাপের আমদানি করছে তারা f > 8 S কালান্তর আমাদের কলুষের ভার আরো দুৰ্বহ করে তুলছে। এমন সময়ে আমাদের বাংলাদেশের ভূতপূর্ব শাসনকর্তা এই-সমস্ত পোলিটিক্যাল হত্যাকাও উপলক্ষ্য করে বলে বসলেন, খুন করা সম্বন্ধে বাংলাদেশের ধর্মবুদ্ধি যুরোপের থেকে একেবারে স্বতন্ত্র। তিনি বলেন, বাঙালি জানে, খুন করা আর-কিছুই নয়, মানুষকে এক লোক থেকে আর-এক লোকে চালান করে দেওয়া মাত্র । , যে পাশ্চাত্যদের কাছে বাঙালি ছাত্র এই-সমস্ত অপকর্ম শিখেছে অবশেষে তাদেরই কাছ থেকে এই বিচার ! পলিটিক্সের হাটে তারা মানুষের প্রাণ যে কিরকম ভয়ংকর সস্তা করে তুলেছেন, সেটা বোধ হয় অভ্যাসবশত নিজে তেমন করে দেখেন না, বাইরের লোকে যেমন দেখতে পায় । এই-সব পলিটিকস-বিলাসীদের কি কোনো বিশেষ মনস্তত্ত্ব নেই ? তাদের সেই মনস্তত্ত্বের শিক্ষাটাই আজ সমস্ত পৃথিবীময় খুন ছড়িয়ে চলেছে, এ কথা তারাও ভুললেন ? ওরা আমাদের থেকে আলাদা, একেবারে ভিতরের দিক থেকে আলাদা, এই কথা যারা বলে তারা এরা- ওরার সম্বন্ধকে গোড়া ঘেঁষে কলুষিত করে । এদের সম্বন্ধে যে নিয়ম ওদের সম্বন্ধে সে নিয়ম চলতেই পারে না ব'লে তারা নিজের ধর্মবৃদ্ধিকে ঠাও রাখে ; অন্যায়ের মধ্যে, নিষ্ঠুরতার মধ্যে যতটুকু চক্ষুলজ্জা এবং অস্বস্তি আছে সেটুকু তারা মেরে রাখতে চায় । যত দিন ধরে প্রাচ্যদের সঙ্গে পাশ্চাত্যদের সম্বন্ধ হয়েছে তত দিন থেকেই এইসব বুলির উৎপত্তি । গায়ের জোরে যাদের প্রতি অন্যায় করা সহজ, তাদের সম্বন্ধে অন্তায় করতে পাছে মনের জোরেও কোথাও বাধে, সেইজন্তে এরা সে রাস্তাটুকুও সাফ রাখতে চায়। ১ ১৯১২ খৃস্টাব্দে বৃটিশ দ্বীপে প্রতি লক্ষ লোকে ১৭ অংশ লোকের খুনের অভিযোগে বিচার হয়েছিল। ১৯১১ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশে প্রতি লক্ষ লোকে •৮ জংশ লোকের খুনের চাঙ্গে বিচার হয়েছিল। হাতের কাছে বই না থাকাতে সম্পূর্ণ তালিকা দিতে পারলাম না। > 8२ বাতায়নিকের পত্র আমি পূর্বেই বলেছি, স্থৰ্বলের সঙ্গে ব্যবহারে আমাদের বিচারবুদ্ধি নষ্ট হয়— নিজেদের এক আদর্শে বিচার করি, অন্তদের অন্য আদর্শে । নিজেদের ছাত্রেরা যখন গোলমাল করে তখন সেটাকে স্নেহপূর্বক বলি যৌবনোচিত চাঞ্চল্য, অন্যদের ছাত্ররাও যখন মাঝে মাঝে অস্থির হয়ে ওঠে সেটাকে চোখ রাঙিয়ে বলি নষ্টামি। পরজাতিবিদ্বেষের লেশমাত্র লক্ষণে ভয়ংকর রাগ হয় যখন সেটা দেখি ছুর্বলের তরফে, আর নিজের তরফে তার সাত গুণ বেশি থাকলেও তার এত রকমের সংগত কারণ পাওয়া যায় যে, সেটার প্রতি স্নেহুই জন্মায়। আবার আনাতোল ফ্রাসের দ্বারস্থ হচ্ছি। তার কারণ, চিত্ত তার স্বচ্ছ, কল্পনা তার দীপ্যমান, এবং যেটা অসংগত সেটা তার কৌতুকদৃষ্টিতে মুহূর্তে ধরা পড়ে ; পররাজ্যশাসনের বালাই তার কোনো দিন ঘটে নি। চীনেদের কথাই চলছে – They are polite and ceremonious, but are reproached with cherishing feeble sentiments of affections for Europeans. The grievances we have against them are greatly of the order of those which Mr. Du Chaillu cherished towards his Gorilla. Mr. Du Chaillu, while in a forest, brought down with his rifle the mother of a Gorilla. In its death the brute was still pressing its young to its bosom. He tore it from its embrace, and dragged it with him in a cage across Africa, for the purpose of selling it in Europe. Now, the young animal gave him just cause for complaint. It was unsociable, and actually starved itself to death. “I was powerless,” says Mr. Du Chaillu, “to correct its evil nature.” তাই বলছি, সবলের সব চেয়ে বড়ো বিপদ হচ্ছে জর্বলের কাছে। দুর্বল তার ধর্মবুদ্ধি এমন করে অপহরণ করে যে, সবল তা দেখতেই পায় না, বুঝতেই পারে না। আজকের দিনে এই বিপদটাই পৃথিবীতে সব 8\రి কালান্তর চেয়ে বেড়ে উঠছে। কেননা হঠাৎ বাহুবলের অতিবৃদ্ধি ঘটেছে। দুর্বলকে শাসন করা ক্রমেই নিরতিশয় অবাধ হয়ে আসছে। এই শাসন বৈজ্ঞানিক প্রণালীতে এতই আটঘাট-বাধা যে এর জালে যে বেচারা পড়েছে কোথাও কোনো কালে এতটুকু ফাক দিয়ে একটুখানি বেরবার তার আশা নেই। তবুও কিছুতেই আশ মিটছে না, কেননা লোভ যে ভীরু, সে অতিবড়ো শক্তিমানকেও নিশ্চিন্ত হতে দেয় না । শক্তিমান তাই বসে বসে এই ঠাওরাচ্ছে যে শাসনের ইস্কু-কলে এমনি কষে প্যাচ দিতে হবে যে, নালিশ জানাতে মানুষের সাহস হবে না, সাক্ষ্য দিতে ভয় পাবে, ঘরের কোণেও চেচিয়ে কাদলে অপরাধ হবে। কিন্তু শাসনকে এত বেশি সহজ করে ফেলে যারা, নিজের মনুষ্যত্বের তহবিল ভেঙে এই অতিসহজ শাসনের মূল্য তাদের জোগাতে হবে। প্রতিদিন এই-যে তহবিল ভেঙে চলা এর ফলটা প্রতিদিন নানা আকারে নিজের ঘরেই দেখা দেবে। এখনো দেখা দিচ্ছে কিন্তু তার হিসাব কেউ মিলিয়ে দেখছে না । এই তো প্রবল পক্ষ সম্বন্ধে বক্তব্য । আমাদের পক্ষে এসব কথা বেশি করে আলোচনা করতে বড়ো লজ্জা বোধ হয়, কেননা বাইরে থেকে এর আকারটা উপদেশের মতো, কিন্তু এর ভিতরের চেহারাটা মার খেয়ে কান্নারই রূপান্তর। এক দিকে ভয়, আর-এক দিকে কান্না, ছৰ্বলের এইটেই হচ্ছে সকলের চেয়ে বড়ো লজ্জা । প্রবলের সঙ্গে লড়াই করবার শক্তি আমাদের নেই কিন্তু নিজের সঙ্গে লড়াই আমাদের করতেই হবে । আর যাই করি, ভয় আমরা করব না, এবং কথা বলা যদি বন্ধ করে দেয় তবে সমুদ্রের এ পার থেকে ও পার পর্যস্ত নাকি সুরে কারা আমরা ভুলব না । দুঃখের আগুন যখন জ্বলে তখন কেবল তার তাপেই জ’লে মরব আর তার আলোটা কোনো কাজেই লাগাব না, এটা হলেই সব চেয়ে X 88 বাতায়নিকের পত্র شمالي বড়ো লোকসান। সেই আলোটাতে মোহ-আঁধার বুচুক, একবার ভালো করে চেয়ে দেখো । নিজের মনকে একবার জিজ্ঞাসা ব্যুরো, ঐ বীভৎস শক্তিমান মানুষটাকে যত বড়ো দেখাচ্ছে সে কি $శ বড়ো । বাইরে থেকে সে ভাঙচুর করতে পারে, কিন্তু ভিতর থেকে মানুষের জীবনের সম্পদ লেশমাত্র যোগ করে দিয়ে যাবার সাধ্য ওর আছে ? ও সন্ধি করতে পারে, কিন্তু শাস্তি দিতে পারে কি ? ও অভিভূত করতে পারে, কিন্তু শক্তি দান করতে পারে কি ? আজ প্রায় ছ হাজার বছর আগে সামান্ত একদল জালজীবীর অখ্যাত এক গুরুকে প্রবল রোমসাম্রাজ্যের একজন শাসনকর্তা চোরের সঙ্গে সমান দওকাষ্ঠে বিধে মেরেছিল । সে দিন সেই শাসনকর্তার ভোজের অল্পে কোনো ব্যঞ্জনের ক্রটি হয় নি এবং সে আপন রাজপালঙ্কে আরামেই ঘুমতে গিয়েছিল । সে দিন বাইরে থেকে বড়ো দেখিয়েছিল কাকে ? আর আজ ? সেদিন সেই মশানে বেদন এবং মৃত্যু এবং ভয়, আর রাজপ্রাসাদে ভোগ এবং সমারোহ। আর আজ ? আমরা কার কাছে মাথা নত করব ? কৰৈ দেবায় ছবিষ বিধেম ? বাংলার মঙ্গলকাব্যগুলির বিষয়টা হচ্ছে, এক দেবতাকে তার সিংহাসন থেকে খেদিয়ে দিয়ে আর-এক দেবতার অভু্যদয় । সহজেই এই কথা মনে হয় যে, ছুই দেবতার মধ্যে যদি কিছু নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকে তা হলে সেটা ধর্মনীতিগত অাদর্শেরই তারতম্য নিয়ে । যদি মামুষের ধর্মবুদ্ধিকে নূতন দেবত পুরাতন দেবতার চেয়ে বেশি তৃপ্তি দিতে পারেন তা হলেই তাকে বরণ করবার সংগত কারণ পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে দেখি একেবারেই উণ্টে । এক কালে পুরুষদেবতা > 0 X 8 & ་་་་་་་་། কালান্তর যিনি ছিলেন তার বিশেষ কোনো উপদ্রব ছিল না । খামক মেয়েদেবতা জোৰু করে এসে বায়না ধরলেন,'আমার পুজো চাই ।” অর্থাৎ যে জায়গায় আমার ধর্থল নেই, সে জায়গা আমি দখল করবই।’ তোমার দলিল কী ? গায়ের জোর । কী উপায়ে দখল করবে ? যে উপায়েই হোক । তার পরে যে-সকল উপায় দেখা গেল মানুষের সদবুদ্ধিতে তাকে সন্ধুপায় বলে না। কিন্তু পরিণামে এই-সকল উপায়েরই জয় হল । ছলনা অন্তায় এবং নিষ্ঠুরতা কেবল যে মন্দির দখল করল তা নয়, কবিদের দিয়ে মন্দিরা বাজিয়ে চামর দুলিয়ে আপন জয়গান গাইয়ে নিলে। লজ্জিত কবিরা কৈফিয়ত দেবার ছলে মাথা চুলকিয়ে বললেন, ‘কী করব, আমার উপর স্বপ্নে আদেশ হয়েছে।” এই স্বপ্ন এক দিন আমাদের সমস্ত দেশের উপর ভর করেছিল। সেদিনকার ইতিহাস স্পষ্ট নয় । ইতিহাসের যে-একটা আবছায়া দেখতে পাচ্ছি সেটা এই রকম— বাংলা সাহিত্য যখন তার অব্যক্ত কারণসমুদ্রের ভিতর থেকে প্রবালদ্বীপের মতো প্রথম মাথা তুলে দেখা দিলে তখন বৌদ্ধধর্ম জীর্ণ হয়ে, বিদীর্ণ হয়ে, টুকরো টুকরো ছয়ে নানা প্রকার বিকৃতিতে পরিণত হচ্ছে । স্বপ্নে যেমন এক থেকে আর হয়, তেমনি করেই বুদ্ধ তখন শিব হয়ে দাড়িয়েছিলেন । শিব ত্যাগী, শিৰ ভিক্ষু, শিব বেদবিরুদ্ধ, শিব সর্বসাধারণের । বৈদিক দক্ষের সঙ্গে এই শিবের বিরোধের কথ। কবিকঙ্কণ এবং অন্নদামঙ্গলের গোড়াতেই প্রকাশিত আছে। শিবও দেখি বুদ্ধের মতো নির্বাণমুক্তির পক্ষে ; প্রলয়েই তার আনন্দ । কিন্তু এই শাস্তির দেবতা, ত্যাগের দেবতা টিকল না। যুরোপেও আধুনিক শক্তিপূজক বলছেন, যিশুর মতো অমন গরিবের দেবতা, নিরীহ দেবতা, অমল নেহাত ফিকে রক্তের দেবতা নিয়ে আমাদের চলবে না । আমাদের এমন দেবতা চাই জোর করে যে কেড়ে নিতে পারে ; যেমন ○8や বাতায়নিকের পত্র ক’রে হোক যে নিজেকে জাহির করতে গিয়ে না মানে বাধা, না পায় ব্যথা, না করে লজ্জা । কিন্তু দুরোপে এই-যে বুলি উঠেছে সে কাদের পানসভার বুলি ? যারা জিতেছে, যারা লুটেছে, পৃথিবীটাকে টুকরো টুকরো ক’রে যারা তাদের মদের চাট বানিয়ে থাচ্ছে। আমাদের দেশের মঙ্গলগানের আসরেও ঐ বুলিই উঠেছিল। কিন্তু এ বুলি কোনখান থেকে উঠল ? যাদের অল্প নেই, বস্ত্র নেই, আশ্রয় নেই, সন্মান নেই, সেই হতভাগাদের স্বপ্নের থেকে । তার স্বপ্ন দেখল । কখন ? যখন— নারায়ণ, পরাশর, এড়াইল দামোদর, উপনীত কুচট্যানগরে । তৈল বিন কৈলু স্নান, করিলু উদক পান, শিশু কাদে ওদনের তরে । আশ্রম পুখরি-আড়া, নৈবেদ্য শালুক পোড়া, পূজা কৈছু কুমুদ প্রস্থনে । ক্ষুধাভয় পরিশ্রমে, নিদ্রা যাই সেই ধামে, চওঁী দেখা দিলেন স্বপনে ॥ সেদিনকার শক্তির স্বপ্ন স্বপ্নমাত্র, সে স্বপ্নের মূল ক্ষুধা ভয় পরিশ্রমের মধ্যে । শোলা গেছে, ইতিহাসের গান অমিত্রাক্ষরে হয় না, এর চরণে চরণে মিল। সেই পাচ শো বছর পূর্বের এক চরণের সঙ্গে আজ-পাচ শো বছর পরের এক চরণের চমৎকার মিল শোনা যাচ্ছে না কি ? যুরোপের শক্তিপূজক আজ বুক ফুলিয়ে বড়ো সমারোহেই শক্তির পুজো করছেন— মদে তার দুই চক্ষু জবাফুলের মতে টকটক্‌ করছে, খাড়া শাণিত, ৰলির পশু খুঁপে বাধা । তারা কেউ কেউ বলছেন জামরা যিশুকে মানি নে" ; আবার কেউ কেউ ভারতচন্দ্রের মতো গোজামিলন দিয়ে ৰলছেন, ➢ ፀዊ কালান্তর இ? যিশুর সঙ্গে শক্তির সঙ্গে ভেদ করে দেওয়া ঠিক নয়, অর্ধনারীশ্বর ঘূর্তিতে দুজনকেই সমান মানবার মন্ত্র আছে। অর্থাৎ, এক দল মদ খাচ্ছেন রাজাসনে ব’লে, আর-এক দল পুলপিটে চড়ে । আর আমরাও বলছি, শিবকে মানব না। শিবকে মান কাপুরুষতা । আমরা চণ্ডীর মঙ্গল গাইতে বসেছি। কিন্তু সে মঙ্গলগান স্বপ্নলব্ধ। ক্ষুধা-ভয়-পরিশ্রমের স্বপ্ন। জয়ীর চণ্ডীপূজায় আর পরাজিতের চণ্ডীগানে এই তফাত । স্বপ্নেতেই যে আমাদের চণ্ডীগানের আদি এবং স্বপ্নেতেই যে তার অন্ত তার প্রমাণ কী ? ঐ দেখোন ব্যাধের দশা, তার স্ত্রী ফুল্পরার বারমাস্তা একবার শোনো । কিন্তু, হল কী ! হঠাৎ খামখেয়ালি শক্তি বিনা কারণে তাকে এমন-একটা আঙটি দিলেন যে, ঘরে আর টাকা ধরে না। কলিঙ্গরাজের সঙ্গে এই সামান্ত বাধ যখন লড়াই করল, তখন খামক স্বয়ং হনুমান এসে তার পক্ষ নিয়ে কলিঙ্গের সৈন্তকে কিলিয়ে লাথিয়ে একাকার করে দিলে। একেই বলে শক্তির স্বপ্ন, ক্ষুধা এবং ভয়ের বরপুত্র। হঠাৎ একটা কিছু হবে । তাই সেই অতিঅদ্ভুত হঠাতের আশায় আমরা দলে দলে উচ্চৈঃস্বরে ‘মা মা’ ক’রে চণ্ডীগান করতে লেগে গেছি। সেই চণ্ডী স্তায় অন্তায় মানে না ; সুবিধার খাতিরে সত্যমিথ্যায় সে ভেদ করে না ; সে যেন-তেন প্রকারে ছোটোকে বড়ো, দরিদ্রকে ধনী, অশক্তকে শক্তিমান করে দেয়। তার জন্তে যোগ্য হবার দরকার নেই, অস্তরের দারিদ্র্য দূর করবার প্রয়োজন হবে না : যেখানে যা যেমনভাবে আছে আলস্তভরে সেখানে তাকে তেমনি ভাবেই রাখা চলবে । কেবল করজোড়ে তারস্বরে বলতে হবে— মা, মা, মা ! যখন মোগলপাঠানের বস্তা দেশের উপর ভেঙে পড়ল, তখন সংসারের যে বাহ রূপ মামুষ প্রবল করে দেখতে পেলে সেটা শক্তিরই > 8br বাতায়নিকের পত্র রূপ । সেখানে ধর্থের হিসাব পাওয়া যায় না, সেখানে শিবের পরিচয় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। মানুষ যদি তখনো সমস্ত দুঃখ এবং পরাভবের মাকখানে দাড়িয়ে বলতে পারে ‘আমি সব সহ করব তবুও কিছুতেই একে দেবতা বলে মানতে পারব না', তা হলেই মামুষের জিত হয়। চাদসদাগর কিম্বা ধনপতির বিদ্রোহের মধ্যে কিছু দূর পর্যন্ত মামুষের সেই পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। মারের পর মার খেয়েছে কিন্তু ভক্তিকে ঠিক জায়গা থেকে নড়তে দেয় নি । মিথ্য। এবং অন্তায় চার দিক থেকে তাদের আক্রমণ করলে ; চণ্ডী বললেন, ভয়ে অভিভূত ক’রে, দুঃখে জর্জর করে, ক্ষতিতে দুর্বল ক’রে, 'মারের চোটে মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে তোমাদের কাছ থেকে জোর করে আমার পূজা আদায় করবই।’ নইলে ? নইলে আমার প্রেষ্টিজ যায় ’ ধর্মের প্রেস্ট্রিজের জন্তে চণ্ডীর খেয়াল নেই, তার প্রেষ্টিজ হচ্ছে ক্ষমতার প্রেস্ট্রিজ । অতএব মারের পর মার, মারের পর মার । অবশেষে দুঃখের যখন চূড়ান্ত হল, তখন শিবকে সরিয়ে রেখে শক্তির কাছে আধমরা সদাগর মাথা ইেট করলে । শক্তি তাদের এত দিন যে এত দুঃখ দিয়েছিল সে ছুঃখে তেমন অপমান নেই যেমন অপমান শেষকালে এই মাথা হেঁট ক’রে । যে আত্ম অভয়, যে আত্মা অমর, সে আপন প্রতিষ্ঠা থেকে নেমে এসে ভয়কে মৃত্যুকে দেবতা ব’লে, আপনার চেয়ে বড়ো ব'লে মানলে । এইখানেই শক্তির সকলের চেয়ে বীভৎস পরিচয় পাওয়া গেল । আমরা আজ যুরোপের দেবতাকে স্বপ্নে পুজো করতে বলেছি, এইটেতেই যুরোপের কাছে আমাদের সব চেয়ে পরাভব হয়েছে। যদি সে আমাদের আঘাত করতে চায় করুক, আমরা সহ করব, কিন্তু তাই বলে পুজো করব ? সে চলবে না ; কেননা পুজো করতে হবে ধর্মরাজকে । সে দুঃখ দেবে, দিক গে। কিন্তু, হারিয়ে দেবে ? কিছুতে না । মরার > 83 কালান্তর বাড়া গাল নেই ; কিন্তু মরেও অমর হওয়া যায় এই কথা যদি কিছুতে ভুলিয়ে দেয়, তা হলে তার চেয়ে সর্বনেশে মৃত্যু আর নেই। মহাস্তং বিভুম্ আত্মানং মত্বা ধীরো ন শোচতি । মামুষের ইতিহাসের রথ আজ যত বড়ো ধাক্কা থেয়েছে এমন আর কোনো দিনই খায় নি। তার কারণ আধুনিক ইতিহাসের রধট কলের গাড়ি, বহু কৌশলে ওর লোহার রাস্ত বাধা, আর এক-একটা এঞ্জিনের পিছনে গাড়ির শ্রেণী প্রকাও লম্বা হয়ে বাধা পড়েছে। তার পরে ওর পথ চলেছে জগৎ জুড়ে, নানা জায়গায় নানা পথে কাটাকাটি। কাজেই কলে কলে যদি একবার সংঘাত বাধল, যদি পরস্পরকে বাচিয়ে চলতে না পারল, তা হলে সেই দুর্যোগে ভাঙচুরের পরিমাণ অতি ভয়ানক হয়ে ওঠে এবং পৃথিবীর এক প্রাস্ত থেকে আর-এক প্রাস্ত পর্যস্ত থরথর করে কাপতে থাকে । এই কলের গাড়ির সংঘাত এবারে খুব প্রবল ধাক্কায় ঘটেছে ; কি মাল কি সওয়ারি নাস্তানী বুদ হয়ে গেল । তাই চারি দিকে প্রশ্ন উঠেছে, এ কী হল, কেমন করে হল, কী করলে ভবিষ্যতে এমন আর না হতে পারে ? মামুষের ইতিহাসে এই প্রশ্ন এবং বিচার যখন উঠে পড়েছে তখন আমাদেরও কি ভাবতে হবে না ? তখন, শুধুই কি পরের নামে নালিশ করব ? নিজের দায়িত্বের কথা স্মরণ করব না ? আমি পূর্বেও আভাস দিয়েছি, এখনও বলছি, ছৰ্বলের দায়িত্ব বড়ে ভয়ানক । বাতাসে যেখানে যা-কিছু ব্যাধির বীজ ভাসছে ছবল তাকেই আতিথ্য দান ক’রে তাকে নিজের জীবন দিয়ে জিইয়ে রাখে। ভীরু > (te বাতায়নিকের পত্র কেবল ভয়ের কারণকে বাড়িয়ে চলে, অবনত কেবল অপমানকে সৃষ্টি করে । চোখে যেখানে আমরা দেখতে পাই নে সেখানে আমাদের ব্যথা পৌছয় না ; মাটির উপর যে-সব পোকামাকড় আছে তাদের আমরা অবাধে মাড়িয়ে চলি, কিন্তু যদি সামনে একটা পাখি এসে পড়ে তার উপরে পা ফেলতে সহজে পারি নে। পাখির সম্বন্ধে যে বিচার করি পিপড়ের সম্বন্ধে সে বিচার করি নে । অতএব মানুষের প্রধান কর্তব্য, তাকে এমনটি হতে হবে যাতে তাকে মানুষ বলে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। এ কর্তব্য কেবল তার নিজের সুবিধের জন্তে নয়, পরের দায়িত্বের জন্তেও । মানুষ মানুষকে মাড়িয়ে যাবে এটা, যে লোক মাড়ায় এবং যাকে মাড়ানো হয় কারও পক্ষে কল্যাণের নয়। আপনাকে যে খর্ব করে সে যে কেবল নিজেকেই কমিয়ে রাখে তা নয়, মোটের উপর সমস্ত মানুষের মূল্য সে হ্রাস করে । কেননা, যেখানেই আমরা মানুষকে বড়ো দেখি সেখানেই আপনাকে বড়ে বলে চিনতে পারি ; এই পরিচয় যত সত্য হয় নিজেকে বড়ো রাখবার চেষ্টা মানুষের পক্ষে তত সহজ হয় । ! প্রত্যেক মামুষের ষে দেশে মূল্য আছে সমস্ত জাতি সে দেশে আপনিই বড়ো হয়। সেখানে মানুষ বড়ো করে বঁচিবার জন্তে নিজের চেষ্টা পূর্ণমাত্রায় প্রয়োগ করে, এবং বাধা পেলে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে থাকে। সে মানুষ যারই সামনে আজুক তার চোখে সে পড়বেই, কাজেই ব্যবহারের বেলায় তার সঙ্গে ভেবেচিন্তে ব্যবহার করতেই হবে । তাকে বিচার করবার সময় কেবলমাত্র বিচারকের নিজের বিচারবুদ্ধির উপরেই যে ভরসা তা নয়, যথোচিত বিচার পাবার দাবি তার নিজের মধ্যেই অত্যস্ত প্রত্যক্ষ । অতএব যে জাতি উন্নতির পথে বেড়ে চলেছে তার একটা লক্ষণ এই St S কালান্তর যে, ক্রমশই সে জাতির প্রত্যেক বিভাগের এবং প্রত্যেক ব্যক্তির অকিঞ্চিৎকরতা চলে যাচ্ছে। যথাসম্ভব তাদের সকলেই মনুষ্যত্বের পুরো গৌরব দাবি করবার অধিকার পাচ্ছে। এইজন্তেই সেখানে মানুষ ভাবছে, কী করলে সেখানকার প্রত্যেকেই ভদ্র বাসায় বাস করবে, ভদ্রোচিত শিক্ষা পাবে, ভালো খাবে, ভালো পরবে, রোগের হাত থেকে বাচবে, এবং যথেষ্ট অবকাশ ও স্বাতন্ত্র্য লাভ করবে । কিন্তু, আমাদের দেশে কী হয়েছে ? আমরা বিশেষ শিক্ষা দীক্ষা ও ব্যবস্থার দ্বারা সমাজের অধিকাংশ লোককেই খাটো করে রেখেছি। তারা যে খাটো এটা কোনো তর্ক বা বিচারের উপরে নির্ভর করে না, এটাকে বিধিমতে সংস্কারগত করে তুলেছি। এমনি হয়েছে যে, যাকে ছোটো করেছি সে নিজে হাত জোড় করে বলছে, ‘আমি ছোটো । সমাজে তাদের অধিকারকে বড়োর সমতুল্য করতে চেষ্টা করলে তারাই সব চেয়ে বেশি আপত্তি করে । এমনি করে অপমানকে স্বীকার করে নেবার শিক্ষা ও অভ্যাস সমাজের স্তরে স্তরে নানা আকারে বিধিবদ্ধ হয়ে আছে । যারা নীচে পড়ে আছে সংখ্যায় তারাই বেশি ; তাদের জীবনযাত্রার আদর্শ সকল বিষয়েই হীন হলেও উপরের লোককে সেটা বাজে না । বরঞ্চ তাদের চালচলন যদি উপরের আদর্শ অবলম্বন করতে যায়, তা হলে সেটাতে বিরক্তি বোধ হয় । তার পরে এই-সব চির-অপমানে-দীক্ষিত মানুষগুলো যখন মানবসভায় স্বভাবতই জোর-গলায় সম্মান দাবি করতে না পারে, যখন তারা এত সংকুচিত হয়ে থাকে যে বিদেশী উদ্ধত ভাবে তাদের অবজ্ঞা করতে অস্তরে বাহিরে বাধা বোধ না করে, তখন সেটাকে কি আমাদের নিজেরই কৃতকর্ম বলে গ্রহণ করব না ? আমরা নিজের সমাজে যে অঙ্গায়কে আটেঘাটে বিধিবিধানে বেঁধে > & ३ ইতায়নিকের পত্র চিরস্থায়ী করে রেখেছি সেই অন্তায় যখন পলিটিক্সের ক্ষেত্রে অন্তের হাত দিয়ে আমাদের উপর ফিরে আসে, তখন সেটার সম্বন্ধে সর্বতোভাবে আপত্তি করবার জোর আমাদের কোথায় ? জোর করি সেই বিদেশীরই ধর্মবুদ্ধির দোহাই দিয়ে । সে দোহাইয়ে কি লজ্জা বেড়ে ওঠে না । এ কথা বলতে কি মাথা হেঁট হয়ে যায় না যে 'সমাজে আমাদের আদর্শকে আমরা ছোটো করে রাখব, আর পলিটিক্সে তোমাদের আদর্শকে তোমরা উচু করে রাখো' ? “আমরা দাসত্বের সমস্ত বিধি সমাজের মধ্যে বিচিত্র আকারে প্রবল করে রাখব আর তোমরা তোমাদের ঔদার্যের দ্বারা প্রভূত্বের সমান অধিকার আমাদের হাতে নিজে তুলে দেবে ; যেখানে আমাদের এলেকা সেখানে ধর্মের নামে আমরা অতি কঠোর কৃপণতা করব, কিন্তু যেখানে তোমাদের এলেকা সেখানে সেই ধর্মের দোহাই দিয়ে অপর্যাপ্ত বদান্ততার জন্তে তোমাদের কাছে দরবার করতে থাকব এমন কথা বলি কোন মুখে ? আর যদি আমাদের দরবার মঞ্জুর হয় ? যদি আমরা আমাদের দেশের লোককে প্রত্যহ অপমান করতে কুষ্ঠিত ন নই, অথচ বিদেশের লোক এসে আপন ধর্মবুদ্ধিতে সেই অপমানিতদের সম্মানিত করে, তা হলে ভিতরে বাছিরেই কি আমাদের পরাভব সম্পূর্ণ হয় না ? আজকের দিনে যে কারণে হোক দুঃখ এবং অপমানের বেদন নিরতিশয় প্রবল হয়ে উঠেছে ; এই উপলক্ষে আমাদের মনে একটা কথা আশা করবার আছে, সেটা হচ্ছে এই যে, ধর্মবুদ্ধিতে যখন অন্ত পক্ষের পরাভব হচ্ছে তখন সেইখানে আমরা এদের উপরে উঠৰ । তা হলে এদের হাতের আঘাতে আমাদের গৌরব-হানি করবে না বরং বাড়াবে । কিন্তু সেখানেও কি আমরা বলব, ‘ধর্মবুদ্ধিতে তোমরা আমাদের চেয়ে বড়ো হয়ে থাকে, নিজেদের সম্বন্ধে আমরা যে রকম ব্যবহার করবার LL O কালান্তর আশা করি নে আমাদের সম্বন্ধে তোমরা সেই রকম ব্যবহারই করো’ ? অর্থাৎ, ‘চিরদিনই নিজের ব্যবস্থায় আমরা নিজেদের খাটো করে রাখি, আর চিরদিনই তোমরা নিজ গুণে আমাদের বড়ো করে তোলো।’ সমস্ত বরাতই অন্তের উপরে, আর নিজের উপরে একটুও নয় ? এত অশ্রদ্ধা নিজেকে, আর এতই শ্রদ্ধা অন্তকে ? বাহুবলগত অধমতার চেয়ে এই ধর্মবুদ্ধিগত অধমত কি আরো বেশি নিকৃষ্ট নয় ? অল্প কাল হল একটা আলোচনা আমি স্বকৰ্ণে শুনেছি, তার সিদ্ধাস্ত এই যে, পরস্পরের মধ্যে পাকা দেওয়ালের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও এক চালের নীচে হিন্দু মুসলমান আহার করতে পারবে না, এমন কি সেই আহারে হিন্দু-মুসলমানের নিষিদ্ধ কোনো আহার্য যদি নাও থাকে। যারা এ কথা বলতে কিছুমাত্র সংকোচ বোধ করেন না, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের সময় তারাই সন্দেহ করেন যে বিদেশী কর্তৃপক্ষেরা এই বিরোধ ঘটাবার মূলে। এই সন্দেহ যখন করেন তখন ধর্মবিচারে তারা বিদেশীকে দণ্ডনীয় মনে করেন । এর একমাত্র কারণ, ধর্মের দাবি নিজের উপরে র্তাদের যতটা বিদেশীর উপরে তার চেয়ে অনেক বেশি । স্বদেশে মানুষে মামুষে ব্যবধানকে আমরা দু:সহরূপে পাকা করে রাখব সেইটেই ধর্ম, কিন্তু বিদেশী সেই ব্যবধানকে কোনো কারণেই কোনো মতেই নিজের ব্যবহারে লাগালে সেটা অধৰ্ম । আত্মপক্ষে দুর্বলতাকে স্বষ্টি করব ধর্মের নামে, বিরুদ্ধপক্ষে সেই দুর্বলতাকে ব্যবহার করলেই সেটাকে অন্তায় বলব । যদি জিজ্ঞাসা করা যায়, পাকা দেওয়ালের অপর পারে যেখানে মুসলমান খাচ্ছে দেওয়ালের এ পারে সেখানে হিন্দু কেন খেতে পারে না, তা হলে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই আবখ্যক হবে না। হিন্দুর পক্ষে এ প্রশ্নে বুদ্ধি খাটানো নিষেধ এবং সেই নিষেধটা বুদ্ধিমান জীবের পক্ষে কত অদ্ভূত ও লজ্জাকর তা মনে উদয় হবার শক্তি পর্যন্ত চলে গেছে। > & 8 বাতায়নিকের পত্র সমাজের বিধানে নিজের বারো-আনা ব্যবহারের কোনোপ্রকার সংগত কারণ নির্দেশ করতে আমরা বাধ্য নই, যেমন বাধ্য নয় গাছপালা কীটপতঙ্গ পশুপক্ষী। পলিটিক্সে বিদেশীর সঙ্গে কারবারে আমরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে শিখেছি, সে ক্ষেত্রে সকল রকম বিধিবিধানের একটা বুদ্ধিগত জবাবদিহি আছে ব'লে মানতে অভ্যাস করছি ; কিন্তু সমাজে পরস্পরের সঙ্গে ব্যবহার, যার উপরে পরস্পরের গুরুতর সুখদুঃখ শুভাশুভ প্রত্যহ নির্ভর করে, সে সম্বন্ধে বুদ্ধির কোনো কৈফিয়ত, নেওয় চলে, এ কথা আমরা ভাবতেও একেবারে ভুলে গেছি। এমনি ক’রে যে দেশে ধর্মবুদ্ধিতে এবং কর্মবুদ্ধিতে মামুষ নিজেকে দাসামুদাস করে রেখেছে সে দেশে কর্তৃত্বের অধিকার চাইবার সত্যকার জোর মামুষের নিজের মধ্যে থাকতেই পারে না । সে দেশে এই-সকল অধিকারের জন্তে পরের বদান্ততার উপরে নির্ভর করতে হয় । কিন্তু আমি পূর্বেই বলেছি, মানুষ যেখানে নিজেকে নিজে অভ্যস্ত ছোটে এবং অপমানিত ক’রে রাখে সেখানে তার কোনো দাবি স্বভাবত কারও মনে গিয়ে পৌছয় না। সেইজন্তে তাদের সঙ্গে যেসকল প্রবলের ব্যবহার চলে সেই প্রবলদের প্রতিদিন দুৰ্গতি ঘটতে থাকে । মামুষের সঙ্গে আচরণের আদশ তাদের না নেমে গিয়ে থাকতে পারে না। ক্রমশই তাদের পক্ষে অন্তায় ঔদ্ধত্য এবং নিষ্ঠুরতা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে থাকে । নিজের ইচ্ছাকে অন্তের প্রতি প্রয়োগ করা তাদের পক্ষে একান্ত সহজ হওয়াতেই মানবস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা নিজের অগোচরেই তাদের মনে শিথিল হয়ে আসে। ক্ষমতা যতই অবাধ হয় ক্ষমতা ততই মানুষকে নীচের দিকে নিয়ে যায় । এই জন্তে ক্ষমতাকে যথোচিত পরিমাণে বাধা দেবার শক্তি যার মধ্যে নেই তার ছৰ্বলতা সমস্ত মামুষেরই শত্রু । আমাদের সমাজ মামুষের ভিতর থেকে সেই Y (R & কালান্তর বাধা দূর করবার একটা অতি ভয়ংকর এবং অতি প্রকাও যন্ত্র । এই যন্ত্র এক দিকে বিধান-অক্ষৌহিণী দিয়ে আমাদের চার দিকে বেড়ে ধরেছে ; আর-এক দিকে, যে বুদ্ধি, যে যুক্তি দ্বারা আমরা এর সঙ্গে লড়াই করে মুক্তিলাভ করতে পারতুম সেই বুদ্ধিকে, সেই যুক্তিকে একেবারে নিমূল করে কেটে দিয়েছে। তার পরে অন্ত দিকে অতি লঘু ক্রটির জন্তে অতি শুরু দণ্ড । খাওয়া শোওয়া ওঠা বসার তুচ্ছতম স্খলন সম্বন্ধে শাস্তি অতি কঠোর। এক দিকে মুঢ়তার ভারে অন্ত দিকে ভয়ের শাসনে মানুষকে অভিভূত করে জীবনযাত্রার অতিক্ষুদ্র খুটিনাটি সম্বন্ধেও তার স্বাভিরুচি ও স্বাধীনতাকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। তার পরে ? তার পরে ভিক্ষা, ভিক্ষণ না মিললে কান্না । এই ভিক্ষ যদি অতি সহজেই মেলে, আর এই কান্ন। যদি অতি সহজেই থামে, তা হলে সকল প্রকার মারের চেয়ে, অপমানের চেয়ে সে আমাদের বড়ো দুৰ্গতির কারণ হবে । নিজেকে আমরা নিজে ছোটো করে রাখব, আর অন্তে আমাদের বড়ে অধিকার দিয়ে প্রশ্রয় দেবে, এই অভিশাপ বিধাতা আমাদের দেবেন না ব’লেই আমাদের এত দুঃখের পর দুঃখ । জাহাজের খোলের ভিতরটায় যখন জল বোঝাই হয়েছে তখনই জাহাজের বাইরেকার জলের মার সাংঘাতিক হয়ে ওঠে। ভিতরকার জলটা তেমন দৃশ্যমান নয়, তার চালচলন তেমন প্রচও নয় ; সে মারে ভারের দ্বারা, আঘাতের দ্বারা নয়, এই জন্তে বাইরের ঢেউয়ের চড়-চাপড়ের উপরেই দোষারোপ করে তৃপ্তি লাভ করা যেতে পারে । কিন্তু হয় মরতে হবে নয় এক দিন এই সুবুদ্ধি মাথায় আসবে যে, আসল মরণ ঐ ভিতরকার জলের মধ্যে, ওটাকে যত শীঘ্র পরিা যায় সেঁচে ফেলতেই হবে। কাজটা যদি ছুঃসাধ্যও হয় তবু এ কথা মনে রাখা চাই যে, সমুদ্র সেচে ফেলা সহজ নয়, তার চেয়ে সহজ থোলের জল সেচে ফেলা । এ কথা মনে রাখতে হবে, বাইরে বাধাবিঘ্ন বিরুদ্ধতা )●や বাতায়নিকের পত্র চিরদিনই থাকবে, থাকলে ভালো বই মন্দ নয়, কিন্তু অস্তরে বাধা থাকলেই বাইরের বাধা ভয়ংকর হয়ে ওঠে । এইজন্তে ভিক্ষার দিকে না তাকিয়ে সাধনার দিকে তাকাতে হবে ; তাতে অপমানও যাবে, ফল ও পাব । আষাঢ় ১৩২৬ Ꮌ © Ꮔ