কালান্তর/শিক্ষার মিলন

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

শিক্ষার মিলন এ কথা মানতেই হবে যে, আজকের দিনে পৃথিবীতে পশ্চিমের লোক জয়ী হয়েছে। পৃথিবীকে তারা কামধেনুর মতে দোহন করছে, তাদের পাত্র ছাপিয়ে গেল। আমরা বাইরে দাড়িয়ে ইা করে তাকিয়ে আছি ; দিন দিন দেখছি, আমাদের ভোগে অন্নের ভাগ কম পড়ে যাচ্ছে। ক্ষুধার তাপ বাড়তে থাকলে ক্রোধের তাপও বেড়ে ওঠে ; মনে মনে ভাবি, যে মানুষটা খাচ্ছে ওটাকে একবার সুযোগমতো পেলে হয়। কিন্তু ওটাকে পাব কি, ঐ’ই আমাদের পেয়ে বসেছে ; সুযোগ এ পর্যস্ত ওরই হাতে আছে, আমাদের হাতে এসে পৌছয় নি। কিন্তু কেন এসে পৌছয় নি ? বিশ্বকে ভোগ করবার অধিকার ওরা কেন পেয়েছে ? নিশ্চয়ই সে কোনো একটা সত্যের জোরে। আমরা কোনো উপায়ে দল বেঁধে বাইরে থেকে ওদের খোরাক বন্ধ ক’রে নিজের খোরাক বরাদ্দ করব, কথাটা এতই সোজা নয়। ড্রাইভারটার মাথায় বাড়ি দিলেই যে এঞ্জিনটা তখনি আমার বশে চলবে, এ কথা মনে করা ভুল। বস্তুত, ড্রাইভারের মূর্তি ধরে ওখানে একটা বিদ্যা এঞ্জিন চালাচ্ছে। অতএব, শুধু আমার রাগের আগুনে এঞ্জিন চলবে না ; বিদ্যাট দখল করা চাই, তা হলেই সত্যের বর পাব । মনে করে, এক বাপের দুই ছেলে। বাপ স্বয়ং মোটর হাকিয়ে চলেন। তার ভাবখান এই, ছেলেদের মধ্যে মোটর চালাতে যে শিখবে মোটর তারই হবে । ওর মধ্যে একটি চালাক ছেলে আছে, তার কৌতুহলের অস্ত নেই। সে তন্ন তন্ন করে দেখে, গাড়ি চলে কী ক'রে। অন্ত ছেলেটি ভালোমাম্বুব, সে ভক্তিভরে বাপের পায়ের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ; তার দুই হাত মোটরের হাল যে কোনূ দিকে কেমন )అని শিক্ষার মিলন করে ঘোরাচ্ছে তার দিকেও খেয়াল নেই। চালাক ছেলেটি মোটরের কলকারখানা পুরোপুরি শিখে নিলে এবং এক দিন গ্রাড়িখানা নিজের হাতে বাগিয়ে নিয়ে উধ্বস্বরে বাশি বাজিয়ে দৌড় মারলে । গাড়ি চালাবার শখ দিন রাত এমনি তাকে পেয়ে বসল যে, বাপ আছেন কি নেই সে হশই তার রইল না। তাই ব'লেই তার বাপ যে তাকে তলব ক’রে গলে চড় মেরে তার গাড়িটা কেড়ে নিলেন তা নয় ; তিনি স্বয়ং যে রথের রধী তার ছেলেও যে সেই রথেরই রথী, এতে তিনি প্রসন্ন হলেন । ভালোমমুষ ছেলে দেখলে, ভায়াটি তার পাকা ফসলের খেত লণ্ডভণ্ড করে তার মধ্যে দিয়ে দিনে ছুপুরে হাওয়াগাড়ি চালিয়ে বেড়াচ্ছে ; তাকে রোথে কার সাধ্য, তার সামনে দাড়িয়ে বাপের দোহাই পাড়লে 'মরণং ধ্ৰুবং’ । তখনে। সে বাপের পায়ের দিকে তাকিয়ে রইল আর বললে, ‘আমার আর-কিছুতে দরকার নেই।” কিন্তু, দরকার নেই ব’লে কোনো সত্যকার দরকারকে যে মানুষ খাটো করেছে তাকে দুঃখ পেতেই হবে । প্রত্যেক দরকারেরই একটা মর্যাদা আছে, সেইটুকুর মধ্যে তাকে মানলে তবেই ছাড়পত্র পাওয়া যায় । দরকারকে অবজ্ঞা করলে তার কাছে চিরঞ্চণী হয়ে স্থদ দিতে দিতে জীবন কেটে যায়। তাকে ঠিক পরিমাণে মেনে তবে আমরা মুক্তি পাই । পরীক্ষকের হাত থেকে নিস্কৃতি পাবার সব চেয়ে প্রশস্ত রাস্ত হচ্ছে পরীক্ষায় পাশ কর । বিশ্বের একট। বাইরের দিক আছে, সেই দিকে সে মন্ত একটা কল । সে দিকে তার বাধা নিয়মের এক চুল এদিক-ওদিক হবার জো নেই। এই বিরাট বস্তুবিশ্ব আমাদের নানা রকমে বাধা দেয় ; কুঁড়েমি ক’রে বা মূর্খত ক’রে যে তাকে এড়াতে গেছে বাধাকে সে ফাকি দিতে পারে নি, নিজেকেই ফাকি দিয়েছে ; অপর পক্ষে বস্তুর নিয়ম যে শিখেছে শুধু যে বস্তুর বাধা তার কেটেছে তা নয়, বস্তু স্বয়ং তার সহায় হয়েছে— >●● কালান্তর বস্তুবিশ্বের দুর্গম পথে ছুটে চলবার বিদ্যা তার হাতে, সকল জায়গায় সকলের আগে গিয়ে সে পৌছতে পারে বলে বিশ্বভোজের প্রথম ভাগটা পড়ে তারই পাতে। আর, পথ হাটতে হাটতে যাদের বেলা হয়ে যায় তারা গিয়ে দেখে যে, তাদের ভাগ্যে হয় অতি সামান্তই বাকি নয় সমস্তই ফাকি । এমন অবস্থায়, পশ্চিমের লোক যে বিদ্যার জোরে বিশ্ব জয় করেছে সেই বিদ্যাকে গাল পাড়তে থাকলে দুঃখ কমবে না, কেবল অপরাধ বাড়বে। কেননা, বিদ্যা যে সত্য। কিন্তু এ কথা যদি বল, শুধু তো বিদ্যা নয়, বিদ্যার সঙ্গে সঙ্গে শয়তানিও আছে, তা হলে বলতে হবে, ঐ শয়তানির যোগেই ওদের মরণ । কেননা, শয়তানি সত্য নয় । জন্তুরা আহার পায় বাচে, আঘাত পায় মরে, যেটাকে পায় সেটাকেই বিনা তর্কে মেনে নেয় । কিন্তু, মামুষের সব চেয়ে বড়ো স্বভাব হচ্ছে মেনে না নেওয়া । জন্তুরা বিদ্রোহী নয়, মানুষ বিদ্রোহী। বাইরে থেকে ষ ঘটে, যাতে তার নিজের কোনো হাত নেই, কোনো সায় সেই, সেই ঘটনাকে মানুষ একেবারে চূড়ান্ত বলে স্বীকার করে নি ব’লেই চীবের ইতিহাসে সে আজ এত বড়ো গৌরবের পদ দখল করে বসেছে। আসল কথা, মানুষ একেবারেই ভালোমানুষ নয় । ইতিহাসের আদিকাল থেকে মানুষ বলেছে, বিশ্বঘটনার উপরে সে কর্তৃত্ব করবে । কেমন করে করবে ? না, ঘটনার পিছনে যে প্রেরণ আছে, যার থেকে ঘটনা গুলো বেরিয়ে এসেছে, তারই সঙ্গে কোনোমতে যদি রক্ষা করতে বা তাকে বাধ্য করতে পারে তা হলেই সে আর ঘটনার দলে থাকবে না, ঘটয়িতার দলে গিয়ে ভতি হবে । সাধনা আরম্ভ করলে মন্ত্রতন্ত্র নিয়ে । গোড়ায় তার বিশ্বাস ছিল, জগতে যা-কিছু ঘটছে এ-সমস্তই একটা অদ্ভুত জান্থশক্তির জোরে, অতএব তারও যদি জাদুশক্তি থাকে তবেই শক্তির সঙ্গে শক্তির যোগে সে কর্তৃত্ব লাভ করতে পারে । )も8 শিক্ষার মিলন সেই জাদুমন্ত্রের সাধনায় মামুষ যে চেষ্টা শুরু করেছিল আজ বিজ্ঞানের সাধনায় তার সেই চেষ্টার পরিণতি । এই চেষ্টার মূল কথাটা হচ্ছে— মানব না, মানাব। অতএব, যারা এই চেষ্টায় সিদ্ধি লাভ করেছে তারাই বাহিরের বিশ্বে প্রভু হয়েছে, দাস নেই। বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডে নিয়মের কোথাও একটুও ক্রটি থাকতে পারে না, এই বিশ্বাসটাই বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস । এই বিশ্বাসের জোরেই জিত হয়। পশ্চিমের লোকে এই বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসে ভর করে নিয়মকে চেপে ধরেছে, আর তারা বাহিরের জগতের সকল সংকট তরে যাচ্ছে । এখনো যারা বিশ্বব্যাপারে জাদুকে অস্বীকার করতে ভয় পায় এবং দায়ে ঠেকলে জাজ্বর শরণাপন্ন হবার জন্তে যাদের মন ঝোকে, বাহিরের বিশ্বে তারা সকল দিকেই মার খেয়ে মরছে, তারা আর কর্তৃত্ব পেল না । পূর্বদেশে আমরা যে সময়ে রোগ হলে ভূতের ওঝাঁকে ডাকছি, দৈন্ত ইলে গ্রহশাস্তির জন্মে দৈবজ্ঞের স্বারে দৌড়চ্ছি, বসন্তুমারীকে ঠেকিয়ে রাখবার ভার দিচ্ছি শীতলা দেবীর পরে, আর শক্রকে মারবার জন্তে মরণ উচাটন -মন্ত্র আ ওড়াতে বসেছি, ঠিক সেই সময়ে পশ্চিম মহাদেশে ভলটেয়ারকে একজন মেয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘শুনেছি না কি, মন্ত্রগুণে পালকে পাল ভেড়া মেরে ফেলা যায় ; সে কি সত্য ? ভলটেয়ার জবাব দিয়েছিলেন, "নিশ্চয়ট মেরে ফেলা যায়, কিন্তু তার সঙ্গে যথোচিত পরিমাণে সেকো বিষ থাক! চাই।' যুরোপের কোনো কোণে-কানাচে জাদুমন্ত্রের পরে বিশ্বাস কিছুমাত্র নেই, এমন কথা বলা যায় না, কিন্তু এ সম্বন্ধে সেকো বিষটার প্রতি বিশ্বাস সেখানে প্রায় সর্ববাদীসম্মত । এইজন্তেই ওরা ইচ্ছা করলেই মারতে পারে, আর আমরা ইচ্ছে না করলেও মরতে পারি | अखि ७ कथा दली बांहला ८ष, बिचअखि झटष् जनैदिशैन बिचনিয়মেরই রূপ ; আমাদের নিয়ন্ত্রিত বুদ্ধি এই নিয়ন্ত্রিত শক্তিকে উপলব্ধি }\, t কালান্তর করে। বুদ্ধির নিয়মের সঙ্গে এই বিশ্বের নিয়মের সামঞ্জস্ত আছে, এইজন্তে এই নিয়মের পরে অধিকার আমাদের প্রত্যেকের নিজের মধ্যেই নিহিত— এই কথা জেনে তবেই আমরা আত্মশক্তির উপর নিঃশেষে ভর দিয়ে দাড়াতে পেরেছি। বিশ্বব্যাপারে যে মাৰ্ছৰ আকস্মিকতাকে মানে সে নিজেকে মানতে সাহস করে না, সে যখন তখন যাকে-তাকে মেনে বসে ; শরণাগত হবার জন্তে সে একেবারে ব্যাকুল। মানুষ যখন ভাবে, বিশ্বব্যাপারে তার নিজের বুদ্ধি খাটে না, তখন সে আর সন্ধান করতে চায় না, প্রশ্ন করতে চায় না, তখন সে বাইরের দিকে কর্তাকে খুজে বেড়ায় ; এই জন্তে বাইরের দিকে সকলেরই কাছে সে ঠকছে, পুলিসের দারোগ থেকে ম্যালেরিয়ার মশা পর্যস্ত। বুদ্ধির ভীরুতাই হচ্ছে শক্তিহীনতার প্রধান আডড । পশ্চিমদেশে পোলিটিকাল স্বাতন্ত্র্যের যথার্থ বিকাশ হতে আরম্ভ হয়েছে কখন থেকে ? অর্থাৎ, কথন থেকে দেশের সকল লোক এই কথা বুঝেছে যে, রাষ্ট্রনিয়ম ব্যক্তিবিশেষের বা সম্প্রদায়বিশেষের খেয়ালের জিনিস নয়, সেই নিয়মের সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের সন্মতির সম্বন্ধ আছে ? যখন থেকে বিজ্ঞানের আলোচনায় তাদের মনকে ভয়মুক্ত করেছে। যখন থেকে তারা জেনেছে, সেই নিয়মই সত্য যে নিয়ম ব্যক্তিবিশেষের কল্পনার দ্বারা বিকৃত হয় না, খেয়ালের দ্বারা বিচলিত হয় না । বিপুলকায় রাশিয়া সুদীর্ঘ কাল রাজার গোলামি করে এসেছে, তার দুঃখের আর অস্ত ছিল না। তার প্রধান কারণ, সেখানকার অধিকাংশ প্রজাই সকল বিষয়েই দৈবকেই মেনেছে, নিজের বুদ্ধিকে মানে নি । আজ যদি বা তার রাজা গেল, কাধের উপরে তখনি আর-এক উৎপাত চড়ে বসে তাকে রক্তসমুদ্র সাৎরিয়ে নিয়ে ছভিক্ষের মরুডাঙায় আধমরা করে পৌছিয়ে দিলে। এর কারণ স্বরাজের প্রতিষ্ঠা বাহিরে নয়, যেআত্মবুদ্ধির প্রতি আস্থা আত্মশক্তির প্রধান অৰলম্বন সেই আস্থার উপরে। ծ ՖՆ শিক্ষার মিলন আমি এক দিন একটি গ্রামের উন্নতি করতে গিয়েছিলুম। গ্রামের লোকদের জিজ্ঞাসা করলুম, “সেদিন তোদের পাড়ায় আগুন লাগল, একখানা চালাও বাচাতে পারলি নে কেন ? তারা বললে, ‘কপাল |’ আমি বললেম, ‘কপাল নয় রে, কুয়োর অভাব। পাড়ায় একখান কুয়ো দিস নে কেন ? তারা তখনই বললে, ‘আঞ্জে, কর্তার ইচ্ছে হলেই হয়।’ যাদের ঘরে আগুন লাগাবার বেলায় থাকে দৈব, তাদেরই জল দান করবার ভার কোনো-একটি কর্তার। সুতরাং, যে ক’রে হোক এরা একটা কর্তা পেলে বেঁচে যায় । তাই, এদের কপালে আর-সকল অভাবই থাকে, কিন্তু কোনো কালেই কর্তার অভাব হয় না । বিশ্বরাজ্যে দেবতা আমাদের স্বরাজ দিয়ে বসে আছেন। অর্থাৎ, বিশ্বের নিয়মকে তিনি সাধারণের নিয়ম করে দিয়েছেন । এই নিয়মকে নিজের হাতে গ্রহণ করার দ্বারা আমরা প্রত্যেকে যে কর্তৃত্ব পেতে পারি তার থেকে কেবলমাত্র আমাদের মোহ আমাদের বঞ্চিত করতে পারে, আর-কেউ না, আর-কিছুতে না । এইজন্তেই আমাদের উপনিষং এই দেবতা সম্বন্ধে বলেছেন : যাৰাতথ্যতো২ধান ব্যদবাং শাশ্বতীভ্য: সমাভ্য: অর্থাৎ, অর্থের বিধান তিনি যা করেছেন সে বিধান যথাতথ, তাতে খামখেয়ালি এতটুকুও নেই, এবং সে বিধান শাশ্বত কালের, আজ এক রকম কাল এক রকম নয় । এর মানে হচ্ছে, অর্থরাজ্যে র্তার বিধান তিনি চিরকালের জন্তে পাকা করে দিয়েছেন । এ না হলে মামুষকে চিরকাল তার আঁচলধরা হয়ে দুর্বল হয়ে থাকতে হত ; কেবলই এ-ভয়ে ও-ভয়ে সে-ভয়ে পেয়াদার ঘুষ জুগিয়ে ফতুর হতে হত, কিন্তু তার পেয়াদার ছদ্মবেশধারী মিথ্যা বিভীষিকার হাত থেকে আমাদের বাচিয়েছে যে দলিল সে হচ্ছে তার বিশ্বরাজ্যে আমাদের স্বরাজের দলিল ; তারই মহা আশ্বাসবাণী হচ্ছে : যাৰতথ্যতোইখান BBBBS BBBBS BBSBS S BB DDD DDB BBB DDD BBBB ১৬৭ জন্ত অর্থের যে বিধান করেছেন তা যখাতধ। তিনি তার হুর্ব চন্দ্র গ্রন্থ নক্ষত্রে এই কথা লিখে দিয়েছেন, ‘বঙ্গরাজ্যে আমাকে না হলেও তোমার চলবে, ওখান থেকে আমি আড়ালে দাড়ালুম ; এক দিকে রইল আমার বিশ্বের নিয়ম, আর-এক দিকে রইল তোমার বুদ্ধির নিয়ম, এই দুয়ের যোগে তুমি বড়ো হও ; জয় হোক তোমার ; এ রাজ্য তোমারই হোক, এর ধন তোমার, অস্ত্র তোমারই। এই বিধিদত্ত স্বরাজ যে গ্রহণ করেছে অন্ত সকল রকম স্বরাজ সে পাবে, আর পেয়ে রক্ষা করতে পারবে । কিন্তু, নিজের বুদ্ধিবিভাগে যে লোক কৰ্তাভজা, পোলিটিকাল বিভাগেও কর্তাভজা হওয়া ছাড়া তার আর গতি নেই। বিধাতা স্বয়ং যেখানে কর্তৃত্ব দাবি করেন না সেখানেও যার কর্তা জুটিয়ে বলে, যেখানে সম্মান দেন সেখানেও যারা আত্মাবমাননা করে, তাদের স্বরাজে রাজার পর রাজার আমদানি হবে, কেবল ছোট্ট ঐ 'স্ব'টুকুকে বাচানোই দায় হবে । মানুষের বুদ্ধিকে ভূতের উপদ্রব এবং অন্ধুতের শাসন থেকে মুক্তি দেবার ভার যে পেয়েছে, তার বাসাটা পূর্বেই হোক আর পশ্চিমেই হোক, তাকে ওস্তাদ বলে কবুল করতে হবে । দেবতার অধিকার আধ্যাত্মিক মহলে, আর দৈত্যের অধিকার বিশ্বের অধিভৌতিক মহলে । দৈত্য বলছি আমি বিশ্বের সেই শক্তিরূপকে যা স্বৰ্ষনক্ষত্র নিয়ে আকাশে আকাশে তালে তালে চক্রে চক্রে লাঠিম ঘুরিয়ে বেড়ায় । সেই আধিভৌতিক রাজ্যের প্রধান বিদ্যাট আজ শুক্রাচার্যের হাতে। সেই বিষ্ঠাটার নাম সজীবনীবিদ্যা । সেই বিস্কার জোরে সম্যকরূপে জীবনরক্ষা হয়, জীবনপোষণ হয়, জীবনের সকল প্রকার স্বৰ্গতি দূর হতে থাকে ; অল্পের অভাব, বস্ত্রের অভাব, স্বাস্থ্যের অভাব মোচন হয় ; জড়ের অত্যাচার, জন্তুর অত্যাচার, মাছুষের অত্যাচার থেকে এই বিস্তাই রক্ষণ করে। > ðbዎ -শিক্ষার মিলন এই বিদ্যা যথাতৰ বিধির નિટ લ ૧ામ আমাদের বুদ্ধির সঙ্গে মিলৰে তখনই স্বাতন্ত্র্যলাভের গোড়াপত্তন হবে- অন্ত উপায় নেই । এই শিক্ষা থেকে ভ্ৰষ্টতার একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। হিন্দুর কুয়ো থেকে মুসলমানে জল তুললে তাতে জল অপবিত্র করে। এটা বিষম মুশকিলের কথা । কেননা, পবিত্রতা হল আধ্যাত্মিক রাজ্যের আর কুয়োর জলট হল বস্তুরাজ্যের । যদি বলা যেত, মুসলমানকে স্বণ করলে মন অপবিত্র হয় তা হলে সে কথা বোঝা যেত ; কেননা, সেটা আধ্যাত্মিক মহলের কথা । কিন্তু মুসলমানের ঘড়ার মধ্যে অপবিত্রত আছে বললে তর্কের সীমানাগত জিনিসকে তর্কের সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে বুদ্ধিকে ফাকি দেওয়া হয় । পশ্চিম-ইস্কুলমাস্টারের আধুনিক হিন্দু ছাত্র বলবে, আসলে ওটা স্বাস্থ্যতত্ত্বের কথা । কিন্তু স্বাস্থ্যতত্ত্বের কোনো অধ্যায়ে তো পবিত্রতার বিচার নেই । ইংরেজের ছাত্র বলবে, অধিভৌতিকে যাদের শ্রদ্ধা নেই আধ্যাত্মিকের দোহাই দিয়ে তাদের ভূলিয়ে কাজ করাতে হয়। এ জবাবটা একেবারেই ভালো নয়, কারণ যাদের বাইরে থেকে ভুলিয়ে কাজ আদায় করতে হয় চিরদিনই বাইরে থেকে তাদের কাজ করাতে হয় ; নিজের থেকে কাজ করার শক্তি তাদের থাকে না, সুতরাং কর্তা না হলে তাদের চলেষ্ট না । আর-একটি কথা, এই ভূল যখন সত্যের সহায়তা করতে যায় তখনো সে সত্যকে চাপ দেয়। 'মুসলমানের ঘড়া হিন্দুর কুয়োর জল অপরিষ্কার করে’ না ব’লে যেই বলা হয় “অপবিত্র করে তখনই সত্যনির্ণয়ের সমস্ত পৰ বন্ধ করা হয় । কেননা, কোনো জিনিস অপরিস্কার করে কি না করে সেটা প্রমাণসাপেক্ষ। সে স্থলে হিন্দুর ঘড়ী, মুসলমানের ঘড়া ; হিন্দুর কুয়োর জল, মুসলমানের কুয়োর জল ; হিন্দুপাড়ার স্বাস্থ্য, মুসলমানপাড়ার স্বাস্থ্য— বখানিয়মে ও যথেষ্ট পরিমাণে তুলনা করে পরীক্ষা করে দেখা চাই। পবিত্রতাঘটিত দোষ অস্তরের কিন্তু স্বাস্থ্যঘটিত 岱●希 कॉब्लांखुद्भ দোষ বাইরের, অতএব বাইরে থেকে তার প্রতিকার চলে। স্বাস্থ্যতত্ত্ব হিসাবে ঘড়া পরিষ্কার রাখার নিয়ম বৈজ্ঞানিক নিয়ম, তা মুসলমানের পক্ষেও যেমন হিন্দুর পক্ষেও তেমনি ; সেটা যাতে উভয় পক্ষে সমান গ্রহণ করে উভয়ের কুয়ো উভয়েই ব্যবহার করতে পারে, সেইটেই চেষ্টার বিষয় । কিন্তু বাহাবস্তুকে অপরিস্কার না বলে অপবিত্র বলার দ্বারা চিরকালের জন্তেই এ সমস্তাকে সাধারণের বাইরে নির্বাসিত করে রাখা হয়। এটা কি কাজ সারার পক্ষেও ভালো রাস্তা ? এক দিকে বুদ্ধিকে মুগ্ধ রেখে আর-এক দিকে সেই মূঢ়তার সাহায্য নিয়েই ফাকি দিয়ে কাজ চালানে, এটা কি কোনো উচ্চ অধিকারের পথ ? চালিত যে তার দিকে অবুদ্ধি, আর চালক যে তার দিকে অসত্য এই দুয়ের সম্মিলনে কি কোনো কল্যাণ হতে পারে ? এই রকম বুদ্ধিগত কাপুরুষতা থেকে দেশকে বচাবার জন্তে আমাদের যেতে হবে শুক্রাচার্যের ঘরে । সে ঘর পশ্চিমদুয়ারি বলে যদি খামক ব’লে বলি 'ও ঘরটা অপবিত্র’, তা হলে যে বিদ্য। বাহিরের নিয়মের কথা শেখায় তার থেকে বঞ্চিত হব, আর যে বিদ্যা অস্তরের পবিত্রতার কথা বলে তাকে ও ছোটো করা হবে । এই প্রসঙ্গে একটা তর্ক ওঠবার আশঙ্কা আছে। এ কথা অনেকে বলবেন, পশ্চিমদেশ যখন বুনো ছিল, পগুচর্ম প'রে মৃগয়া করত, তখন কি আমরা নিজের দেশকে অন্ন জোগাই নি, বস্ত্র জোগাই নি ? ওরা যখন দলে দলে সমুদ্রের এ-পারে ও-পারে দস্যবৃত্তি করে বেড়াত, আমরা কি তখন স্বরাজশাসনবিধি আবিষ্কার করি নি ? নিশ্চয় করেছি। কিন্তু কারণটা কী ? আর তো কিছুই নয়, বস্তুবিদ্যা ও নিয়মতত্ত্ব ওরা যতটা শিখেছিল আমরা তার চেয়ে বেশি শিখেছিলেম । পশুচর্ম পরতে যে বিদ্য লাগে তাত বুনতে তার চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যার দরকার ; পশু মেরে খেতে যে বিষ্ঠা খাটাতে হয় চাষ করে খেতে তার চেয়ে ➢ ግe শিক্ষার মিলন অনেক বেশি বিদ্যা লাগে । দস্যবৃত্তিতে যে বিদ্যা রাজ্য- চললে ও পালনে তার চেয়ে অনেক বেশি। আজ আমাদের পরস্পরের অবস্থাটা যদি একেবারে উণ্টে গিয়ে থাকে, তার মধ্যে দৈবের কোনো ফাকি নেই। কলিঙ্গের রাজাকে পথে ভাসিয়ে দিয়ে বনের ব্যাধকে আজ সিংহাসনে যে চড়িয়ে দিয়েছে সে তো কোনো দৈব নয়, সে ঐ বিদ্যা । অতএব আমাদের সঙ্গে ওদের প্রতিযোগিতার জোর কোনো বাহ ক্রিয়াকলাপে কমবে না ; ওদের বিদ্যাকে আমাদের বিদ্যা করতে পারলে তবেই ওদের সামলানো যাবে। এ কথার একমাত্র অর্থ, আমাদের সর্বপ্রধান সমস্ত শিক্ষণসমস্ত । অতএব, শুক্রাচার্যের আশ্রমে আমাদের যেতে হচ্ছে । এই পর্যন্ত এগিয়ে একটা কথায় এসে মন ঠেকে যায় । সামনে এই প্রশ্নটা দেখা দেয়, ‘সব মানলেম, কিন্তু পশ্চিমের যে শক্তি রূপ দেখে এলে তাতে কি তৃপ্তি পেয়েছ ? না, পাই নি । সেখানে ভোগের চেহারা দেখেছি, আনন্দের না। অনবচ্ছিন্ন সাত মাস আমেরিকায় ঐশ্বর্যের দানবপুরীতে ছিলেম। দানব মন অৰ্থে বলছি নে, ইংরাজিতে বলতে হলে ছয়তো বলতেম, টাইটানিক ওয়েল্থ । অর্থাৎ, যে ঐশ্বর্ষের শক্তি প্রবল, আয়তন বিপুল । হোটেলের জানলার কাছে রোজ ত্রিশপয়ত্রিশতলা বাড়ির ভ্ৰকুটির সামনে বসে থাকতেম আর মনে মনে বলতেম, লক্ষী হলেন এক, আর কুবের হল আর — অনেক তফাত । লক্ষ্মীর অস্তরের কথাটি হচ্ছে কল্যাণ, সেই কল্যাণের দ্বারা ধন ঐ লাভ করে । কুবেরের অস্তুরের কথাটি হচ্ছে সংগ্রহ, সেই সংগ্রহের দ্বারা ধন বহুলত্ব লাভ করে । বহুলত্বের কোনো চরম অর্থ নেই। দুই দুগুণে চার, চার দুগুণে আট, আট জুগুণে বোলো, অঙ্কগুলো ব্যাঙের মতো লাফিয়ে চলে— সেই লাফের পাল্লা কেবলই লম্বা হতে থাকে। এই নিরস্তর উল্লম্ফনের ঝোকের মাঝখানে যে প’ড়ে গেছে তার রোখ চেপে » ፃ » কালান্তর যায়, রক্ত গরম হয়ে ওঠে, বাহাদুরির মত্ততায় সে ভো হয়ে যায়। আর, যে লোক বাইরে বসে আছে তার যে কত বড়ো পীড়া এইখানে তার একটা উপমা দিই। এক দিন আশ্বিনের ভরা নদীতে আমি বজরার জানলায় বসে ছিলেম, সেদিন পূর্ণিমার সন্ধ্যা । অদূরে ভাঙার উপরে এক গহনার নৌকোর ভোজপুরি মাল্লার দল উৎকট উৎসাহে আত্মবিনোদনের কাজে লেগে গিয়েছিল । তাদের কারও হাতে ছিল মাদল, কারও হাতে করতাল । তাদের কণ্ঠে সুরের আভাসমাত্র ছিল না, কিন্তু বাহুতে শক্তি ছিল সে কথা কার সাধ্য অস্বীকার করে ? খচমচ শব্দে তালের নাচন ক্রমেই দুন চৌদুন লয়ে চড়তে লাগল । রাত এগারোটা হয়, দুপুর বাজে, ওরা থামতেই চায় না । কেননা, থামবার কোনোই সংগত কারণ নেই। সঙ্গে যদি গান থাকত তা হলে সমও থাকত। কিন্তু অরাজক তালের গতি আছে, শান্তি নেই ; উত্তেজনা আছে, পরিতৃপ্তি নেই। সেই তালমাতালের দল প্রতি ক্ষণেই ভাবছিল, ভরপুর মজা হচ্ছে। আমি ছিলেম তাণ্ডবের বাইরে ; আমিই বুঝছিলেম, গানহীন তালের দৌরাত্ম্য বড়ো অসহ্য । । তেমনি ক’রেই আটলান্টিকের ও পারে ইটপাথরের জঙ্গলে ব’লে আমার মন প্রতিদিনই পীড়িত হয়ে বলেছে, তালের খচমচর অস্ত নেই, কিন্তু মুর কোথায় ? আরো চাই, আরো চাই, আরো চাই – এ বাণীতে তো সৃষ্টির মুর লাগে না । তাই সে দিন সেই ভ্ৰকুটকুটিল অভ্ৰভেদী ঐশ্বর্যের সামনে দাড়িয়ে ধনমানহীন ভারতের একটি সস্তান প্রতিদিন ধিক্কারের সঙ্গে বলেছে, ততঃ কিম্‌ ! এ কথা বারবার বলেছি, আবার বলি, আমি বৈরাগ্যের নাম ক’রে শূন্ত ঝুলির সমর্থন করি নে। আমি এই বলি, অন্তরে গান ব’লে সত্যটি যদি ভরপুর থাকে তবে তার সাধনায় স্বর তাল রসের সংযমরক্ষা করে,

  • १ २ শিক্ষার মিলন

বাহিরের বৈরাগ্য অন্তরের পূর্ণতার সাক্ষ্য দেয়। কোলাহলের উচ্ছম্বল নেশায় সংযমের কোনো বালাই নেই। অস্তরে প্রেম ব’লে সত্যটি যদি থাকে তবে তার সাধনায় ভোগকে হতে হয় সংযত, সেবাকে হতে হয় খাটি । এই সাধনার সতীত্ব থাক। চাই । এই সতীত্বের যে বৈরাগ্য অর্থাৎ সংযম সেই হল প্রকৃত বৈরাগ্য। অন্নপূর্ণার সঙ্গে বৈরাগির ষে মিলন সেই হল প্রকৃত মিলন । যখন জাপানে ছিলেম তখন প্রাচীন জাপানের যে রূপ সেখানে দেখেছি সে আমাকে গভীর তৃপ্তি দিয়েছে। কেননা, অর্থহীন বহুলতা তার বাহন নয়। প্রাচীন জাপান আপন হৃংপদ্মের মাঝখানে সুন্দরকে পেয়েছিল। তার সমস্ত বেশভূষা, কর্ম, খেলা, তার বাসা, আসবাব, তার শিষ্টাচার, ধর্মানুষ্ঠান, সমস্তই একটি মূল ভাবের দ্বারা অধিকৃত হয়ে সেই এককে, সেই মুন্দরকে বৈচিত্র্যের মধ্যে প্রকাশ করেছে । একান্ত রিক্ততাও নিরর্থক, একাস্ত বহুলতাও তেমনি । প্রাচীন জাপানের যে জিনিসটি আমার চোখে পড়েছিল তা রিক্ততাও নয়, বহুলতাও নয়, ভ। পূর্ণত। এই পূর্ণতাই মামুষের হৃদয়কে আতিথ্য দান করে ; সে ডেকে আনে, সে তাড়িয়ে দেয় না । আধুনিক জাপানকেও এর পাশাপাশি দেখেছি। সেখানে ভোজপুরি মাল্লার দল আড করেছে ; তালের ষে প্রচণ্ড থচমচ উঠেছে মুন্দরের সঙ্গে তার মিল হল না, পূর্ণিমাকে তা ব্যঙ্গ করতে লাগল । পূর্বে যা বলেছি তাঁর থেকে এ কথা সবাই বুঝবেন যে, আমি বলি নে রেলওয়ে টেলিগ্রাফ কল কারখানার কোনোই প্রয়োজন নেই। আমি বলি, প্রয়োজন আছে কিন্তু তার বাণী নেই ; বিশ্বের কোনো স্বরে সে সায় দেয় না, হৃদয়ের কোনো ডাকে সে সাড়া দেয় না । মামুষের যেখানে অভাব সেইখানে তৈরি হয় তার উপকরণ, মামুষের যেখানে পূর্ণতা সেইখানে প্রকাশ হয় তার অমৃতরূপ। এই অভাবের দিকে উপকরণের 5 qе কালান্তর মহলে মামুষের ঈর্ষ বিদ্বেষ ; এইখানে তার প্রাচীর, তার পাহারা ; এইখানে সে আপনাকে বাড়ায়, পরকে তাড়ায় ; সুতরাং এইখানেই তার লড়াই। যেখানে তার অমৃত— যেখানে মানুষ, বস্তুকে নয়, আত্মাকে প্রকাশ করে, সেখানে সকলকে সে ডেকে আনে ; সেখানে ভাগের দ্বারা ভোজের ক্ষয় হয় না ; সুতরাং সেইখানেই শান্তি । যুরোপ যখন বিজ্ঞানের চাবি দিয়ে বিশ্বের রহস্তনিকেতনের দরজা খুলতে লাগল তখন যে দিকে চায় সেই দিকেই দেখে বাধা নিয়ম। নিয়ত এই দেখার অত্যাসে তার এই বিশ্বাসট ঢিলে হয়ে এসেছে যে, নিয়মেরও পশ্চাতে এমন কিছু আছে যার সঙ্গে আমাদের মানবত্বের অন্তরঙ্গ মিল আছে। নিয়মকে কাজে খাটিয়ে আমরা ফল পাই, কিন্তু ফল পাওয়ার চেয়েও মানুষের একটা বড়ো লাভ আছে। চা-বাগানের ম্যানেজার কুলিদের পরে যে নিয়ম চালনা করে সে নিয়ম যদি পাক৷ হয় তা হলে চায়ের ফলনের পক্ষে কাজে লাগে । কিন্তু, বন্ধু সম্বন্ধে ম্যানেজারের তো পাকা নিয়ম নেই। তার বেলায় নিয়মের কথাই ওঠে না। ঐ জায়গাটাতে চায়ের আয় নেই, ব্যয় আছে। কুলির নিয়মট আধিভৌতিক বিশ্বনিয়মের দলে, সেইজন্যে সেট চা-বাগানেও থাটে । কিন্তু, যদি এমন ধারণা হয় যে, ঐ বন্ধুতার সত্য কোনো বিরাট সত্যের অঙ্গ নয়, তা হলে সেই ধারণায় মানবত্বকে শুকিয়ে ফেলে। কলকে তো আমরা অস্ট্রিীয় ব’লে বরণ করতে পারি নে ; তা হলে কলের বাইরে কিছু যদি না থাকে তবে আমাদের যে আত্ম আত্মীয়কে খোজে সে দাড়ায় কোথায় ? এক রেখে বিজ্ঞানের চর্চা করতে করতে পশ্চিমদেশে এই আত্মাকে কেবলই সরিয়ে সরিয়ে ওর জন্তে আর জায়গা রাখলে না। একঝোক আধ্যাত্মিক বুদ্ধিতে আমরা দারিদ্র্যে দুর্বলতায় কৰ্ণত হয়ে পড়েছি, আর ওরাই কি এককোক আধিভৌতিক চালে এক পায়ে লাফিয়ে মহম্মত্বের সার্থকতার মধ্যে গিয়ে পেচচ্ছে ? › ግ8 শিক্ষার মিলন বিশ্বের সঙ্গে যাদের এমনিতরে। চা-বাগানের ম্যানেজারির সম্বন্ধ তাদের সঙ্গে যে-লে লোকের পেরে ওঠা শক্ত। সুদক্ষতার বিদ্যাট এরা আয়ত্ত করে নিয়েছে। তালোমানুষ লোক তাদের সন্ধানপর আড়কাঠির হাতে ঠকে যায়, ধরা দিলে ফেরবার পথ পায় না। কেননা ভালোমানুষ লোকের নিয়মবোধ নেই, যেখানে বিশ্বাস করবার নয় ঠিক সেইখানেই আগেভাগে সে বিশ্বাস করে বসে আছে – তা সে বুহম্পতিবারের বারবেলা হোক, রক্ষামস্ত্রের তাবিজ হোক, উকিলের দালাল হোক, আর চা-বাগানের আড়কাঠি হোক। কিন্তু, এই নেহাত ভালোমামুষেরও একটা জায়গা আছে যেটা নিয়মের উপরকার ; সেখানে দাড়িয়ে সে বলতে পারে, ‘সাত জন্মে আমি যেন চা-বাগানের ম্যানেজার না হই, ভগবান, আমার পরে এই দয়া করে । অথচ, এই অনবচ্ছিন্ন চাবাগানের ম্যানেজার-সম্প্রদায় নিখুত ক’রে উপকার করতে জানে । জানে তাদের কুলির বসতি কেমন করে ঠিক যেন কাচিছাট সোজা লাইনে পরিপটি করে বানিয়ে দিতে হয় ; দাওয়াইখান ডাক্তারখানা হাটবাজারের যে ব্যবস্থা করে সে খুব পরিপাটি। এদের এই নিৰ্মামুষিক স্থব্যবস্থায় নিজেদের মুনফা হয়, অন্তদের উপকারও হতে পারে, কিন্তু নাস্তি তত: সুখলেশ: সত্যং । is কেউ না মনে করেন, আমি কেবলমাত্র পশ্চিমের সঙ্গে পূর্বের সম্বন্ধ নিয়েই এই কথাটা বলছি । ষান্ত্রিকতাকে অস্তরে বাহিরে বড়ো ক’রে তুলে পশ্চিমসমাজে মানবসম্বন্ধের বিশ্লিষ্টত ঘটেছে। কেননা, স্কু দিয়ে স্বাটা, আঠা দিয়ে জোড়ার বন্ধনকেই ভাবনায় এবং চেষ্টায় প্রধান ক’রে তুললে অস্তরতম যে অক্সিক বন্ধনে মাছুষ স্বতঃপ্রসারিত আকর্ষণে পরস্পর গভীরভাবে মিলে যায় সেই পৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন বন্ধন শিথিল হতে থাকে । অথচ, মাছুষকে কলের নিয়মে বাৰার আশ্চর্য সফলতা আছে ? তাতে পণ্যদ্রব্য রাশীকৃত হয়, বিশ্ব জুড়ে হাট ৰসে, মেঘ ভেদ করে ➢ ግ¢ কালান্তর” কোঠাবাড়ি ওঠে। এ দিকে সমাজব্যাপারে শিক্ষা বল, আরোগ্য বল, জীবিকার সুযোগসাধন বল, নানা প্রকার হিতকর্মেও মামুষের বোলো আন জিত হয়। কেননা, পূর্বেই বলেছি, বিশ্বের বাহিরের দিকে এই কল জিনিসটা সত্য । সেইজন্যে এই যান্ত্রিকতায় যাদের মন পেকে যায় ফললাভের দিকে তাদের লোভের অস্ত থাকে না । লো গু যতই বাড়তে থাকে, মামুবতে মানুষ খাটো করতে ততই আর দ্বিধা করে না । কিন্তু, লোভ তো একটা তত্ত্ব লয়, লোভ ইচ্ছে রিপু। রিপুর কর্ম নয় স্বাক্ট করা । তাই, ফললাভের লোভ যখন কোনো সভ্যতার অস্তরে প্রধান আসন গ্রহণ করে তখন সেই সভ্যতায় মানুষের আত্মিক যোগ বিশ্লিষ্ট হতে থাকে। সেই সভ্যতা যতই ধনলাভ করে, বরলাভ করে, সুবিধাসুযোগের যতই বিস্তার করতে থাকে, মামুষের আত্মিক সত্যকে ততই সে দুর্বল করে । এক মানুষ ভয়ংকর নিরর্থক ; কেননা, একার মধ্যে ঐক্য নেই। বহুকে নিয়ে যে এক সেই হল সত্য এক । বহু থেকে বিচ্ছিন্ন যে সেই লক্ষ্মীছাড়া এক ঐক্য থেকে বিচ্ছিন্ন এক । ছবি এক লাইনে হয় না, সে হয় নানা লাইনের ঐক্যে : ছবির মধ্যে প্রত্যেক লাইনটি ছোটে৷ বড়ো সমস্ত লাইনের আত্মীয়। এই আত্মীয়তার সামরস্তে ছবি হল স্মৃষ্টি । এঞ্জিনিয়র সাহেব নীল রঙের মোম গ্রামার উপর বাড়ির প্ল্যান অঁাকেন, তাকে ছবি বলি নে ; কেননা, সেখানে লাইনের সঙ্গে লাইনের অস্তরের আত্মিক সম্বন্ধ নয়, বাহির মহলের ব্যবহারিক সম্বন্ধ । তাই ছবি হল স্বজন, প্ল্যান হল নিৰ্মাণ । তেমনি ফললাভের লোভে ব্যবসায়িকতাই যদি মানুষের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে তবে মানবসমাজ প্রকাগু প্ল্যান হয়ে উঠতে থাকে, ছবির আর কিছু বাকি থাকে না। তখন মানুষের মধ্যে আত্মিক সম্বন্ধ খাটো হতে থাকে। তখন ধন হয় সমাজের রখ, ধনী হয় সমাজের মুৰী, আর ➢ ፃፀ শক্ত বাধনে বাধা মানুষগুলো হয় রখের বাহন। গড়গড়, শৰে এই রধটা এগিয়ে চলাকেই মাছুষ বলে সভ্যতার উন্নতি । তা হোক, কিন্তু এই কুবেরের রথযাত্রায় মাছবের আনন্দ নেই, কেননা, কুবেরের পরে মানুষের অস্তরের ভক্তি নেই। ভক্তি নেষ্ট ব’লেই মামুষের বঁাধন দড়ির रौीं५म इब्र, नाफ़ौद्ध वैt५न एम्र न1 । नष्क्लेिब्र वैशिष्टनव्र धैकTटक यांकूव नहेरठ পারে না, বিদ্রোহী হয় । পশ্চিমদেশে আজ সামাজিক বিদ্রোহ কালো হয়ে ঘনিয়ে এসেছে, এ কথা সুস্পষ্ট । ভারত আচারের বন্ধনে যেখানে মানুষকে এক করতে চেয়েছে সেখানে সেই ঐক্যে সমাজকে নিজীব করেছে ; য়ুরোপে ব্যবহারের বন্ধনে যেখানে মানুষকে এক করতে চেয়েছে সেখানে সেই ঐক্যে সমাজকে সে বিশ্লিষ্ট করেছে। কেননা, আচারই হোক আর ব্যবহারই হোক, তারা তো তত্ত্ব নয় ; তাই তারা মানুষের আত্মাকে বাদ দিয়ে সকল ব্যবস্থা করে। তত্ত্ব কাকে বলে ? যিশু বলেছেন, "আমি আর আমার পিত। এক ।” এ হল তত্ত্ব । পিতার সঙ্গে আমার যে ঐক্য সেই হল সত্য ঐক্য, ম্যানেজারের সঙ্গে কুলির যে ঐক্য সে সত্য ঐক্য নয়। চরম তত্ত্ব আছে উপনিষদে– ঈশাবাস্তমিদং সৰ্বং যং কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ । তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীখা মা গৃধঃ কস্তস্বিদ্ধনম্। পশ্চিমসভ্যতার অন্তরাসনে লোভ রাজা হয়ে বসেছে, পূর্বেই তার নিনা করেছি । কিন্তু, নিন।াটা কিলের ? ঈশোপনিষদে তত্ত্বস্বরূপে এরই উত্তরটি দেওয়া হয়েছে। ঋষি বলেছেন, মা গৃধঃ, লোভ কোরো না। কেন করব না ? যেহেতু লোভে সত্যকে মেলে না । নাইব৷ মিলল, আমি ভোগ করতে চাই। ভোগ কোরো না, এ ৰখা তো বলা হচ্ছে না । ভুঞ্জীখ্যাঃ, ভোগই করবে ; কিন্তু সত্যকে ছেড়ে আনন্দকে ভোগ করবার পন্থা নেই। তা হলে সত্যটা কী ? সত্য

  • २ እግፃ কালান্তর

হচ্ছে এই ঈশবাস্তমিদং সৰ্বং’, ‘সংসারে যা-কিছু চলছে সমস্ত ঈশ্বরের দ্বারা আচ্ছন্ন। ষা-কিছু চলছে সেইটেই যদি চরম সত্য হত, তার বাইরে আর কিছুই না থাকত, তা হলে চলমান বস্তুকে যথাসাধ্য সংগ্রহ করাই মামুষের সব চেয়ে বড়ো সাধনা হত। তা হলে লোভই মামুষকে সব চেয়ে বড়ো চরিতার্থতা দিত। কিন্তু, ঈশ সমস্ত পূর্ণ করে রয়েছেন, এইটেই যখন শেষ কথা তখন আত্মার দ্বারা এই সত্যকে ভোগ করাই হবে পরম সাধনা ; আর, তেন ত্যক্তেন ভুল্পীথা:, ত্যাগের দ্বারাই এই ভোগের সাধন হবে, লোভের দ্বারা নয় । সাত মাস ধরে আমেরিকায় আকাশের বক্ষোবিদারী ঐশ্বর্যপুরীতে বলে এই সাধনার উন্টো পথে চলা দেখে এলেম । সেখানে "যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগং সেটাই মস্ত হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে, আর "ঈশাবাস্তমিদং সৰ্বং সেইটেই ডলারের ঘন ধুলায় আচ্ছন্ন। এইজন্তেই সেখানে 'ভুঞ্জীথt:' এই বিধানের পালন সত্যকে নিয়ে নয়, ধনকে নিয়ে ; ত্যাগকে নিয়ে নয়, লোভকে নিয়ে । ঐক্য দান করে সত্য, ভেদবুদ্ধি ঘটায় ধন । তা ছাড়া সে অস্তরাত্মাকে শৃঙ্গ রাখে। সেইজন্তে পূর্ণতাঁকে বাইরের দিক থেকে ছিনিয়ে নিতে ইচ্ছা করে, সুতরাং কেবল সংখ্যাবৃদ্ধির দিকে দিনরাত উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়তে হয়, ‘আরো ‘আরো" হাকতে হাকতে হাপাতে হাপাতে নামতার কোঠায় কোঠায় আকাঙ্ক্ষার ঘোড়দৌড় করাতে করাতে ঘূর্ণি লাগে ; ভূলেই যেতে হয়, অন্ত যা-কিছু পাই আনন্দ পাচ্ছি নে। তা হলে চরিতার্থতা কোথায় ? তার উত্তর এক দিন ভারতবর্ষের ঋষির দিয়েছেন। তারা বলেন, চরিতার্থতা পরম একের মধ্যে । গাছ থেকে আপেল পড়ে— একটা, দুটো, তিনটে, চারটে । আপেল-পড়ার অস্তবিহীন সংখ্যাগণনার মধ্যেই আপেল-পড়ার সত্যকে পাওয়া যায়, এ কথ! যে বলে প্রত্যেক সংখ্যার কাছে এসে তাকে তার মন ধাক্কা দিয়ে বলবে, ততঃ কিম্‌! তার দৌড়ও খামবে না, তার প্রশ্নের উত্তরও "לר צ শিক্ষার মিলন মিলবে না । কিন্তু অসংখ্য আপেল পড়া যেমনি একটি আকর্ষণতত্ত্বে এসে ঠেকে অমনি বুদ্ধি খুশি হয়ে বলে ওঠে, বাস, হয়েছে । এই তো গেল আপেল-পড়ার সত্য । মামুষের সত্যটা কোথায় ? সেন্সস রিপোর্টে ? এক দুই তিন চার পাচে ? মামুষের স্বরূপ প্রকাশ কি অন্তহীন সংখ্যায় ? এই প্রকাশের তত্ত্বটি উপনিষৎ বলেছেন— যস্ত সর্বাণি ভুতানি আত্মন্তেবায়ুপগুতি। সর্বভুতেষু চাত্মানং ন ততো বিজুণ্ডপ সতে । * যিনি সর্বভুতকে আপনারই মতো দেখেন এবং আত্মাকে সর্বভূতের মধ্যে দেখেন তিনি প্রচ্ছন্ন থাকেন না । আপনাকে আপনাতেই যে বদ্ধ করে সে থাকে লুপ্ত ; আপনাকে সকলের মধ্যে যে উপলব্ধি করে সেই হয় প্রকাশিত। মমুঝত্বের এই প্রকাশ ও প্রচ্ছন্নতার একটা মস্ত দৃষ্টান্ত ইতিহাসে আছে । বুদ্ধদেব মৈত্রী বুদ্ধিতে সকল মামুষকে এক দেখেছিলেন, র্তার সেই ঐক্যতত্ত্ব চীনকে অমৃত দান করেছিল। আর, যে বণিক লোভের প্রেরণায় চীনে এল এচ ঐক্যতত্ত্বকে সে মানলে না ; সে অকুষ্ঠিতচিত্তে চীনকে মৃত্যুদান করেছে, কামান দিয়ে ঠেলে ঠেলে তাকে আফিম গিলিয়েছে । মানুষ কিসে প্রকাশ পেয়েছে আর কিলে প্রচ্ছন্ন হয়েছে, এর চেয়ে স্পষ্ট ক’রে ইতিহাসে আর-কখনো দেখা যায় নি । আমি জানি, আজকের দিনে আমাদের দেশে অনেকেই বলে উঠবেন, ওই কথাটাই তো আমরা বারবার বলে আসছি । ভেদবুদ্ধিটা যাদের এত উগ্র, বিশ্বটাকে তাল পাকিয়ে পাকিয়ে এক-এক গ্রাসে গেলবার জন্তে যাদের লোভ এত বড়ো ই করেছে, তাদের সঙ্গে BmYBB BYYBS BBBBB BBB KJBS BSS S BBBBS LES আধ্যাত্মিক নয়, আমরা আধ্যায়িক । ওরা অবিভাকেই মানে, আমরা বিস্তাকে । এমন অবস্থায় ওদের সমস্ত শিক্ষাদীক্ষা বিষের মতো পরিহার করা চাই।’ ➢ ግል কালান্তর এক দিকে এটাও ভেদবুদ্ধির কথা, অপর দিকে এটা সাধারণ বিষয়বুদ্ধির কথাও নয়। ভারতবর্ষ এই মোহকে সমর্থন করেন নি । তাই মন্ত্র বলেছেন— مصے” ন তথৈতানি শক্যস্তে সংনিয়ন্ত মসেবয়া । বিষয়েমু প্রজুষ্টানি যথা জ্ঞানেন নিত্যশ: | বিষয়ের সেবা ত্যাগের দ্বারা তেমন করে সংযমন হয় না, বিষয়ে নিযুক্ত থেকে জ্ঞানের দ্বারা নিত্য-নিত্য যেমন করে হয় । এর কারণ, বিষয়ের দায় আধিভৌতিক বিশ্বের দায়, সে দায়কে ফাকি দিয়ে আধ্যাত্মিকের কোঠায় ওঠা যায় না ; তাকে বিশুদ্ধরূপে পূর্ণ করে তবে উঠতে হয়। তাই উপনিষং বলেছেন : অবিস্তয়া মৃত্যুং তীর্ত, বিদ্যয়ামৃতমশ্ন তে। অবিস্কার পথ দিয়ে মৃত্যু থেকে বাচতে হবে, তার পরে বিদ্যার তীর্থে অমৃতলাভ হবে । শুক্রাচার্য এই মৃত্যু থেকে বচাবার বিদ্যা নিয়ে আছেন, তাই অমৃতলোকের ছাত্র কচকেও এই বিদ্যা শেখবার জন্তে দৈত্য-পাঠশালার খাতায় নাম লেখাতে হয়েছিল । আত্মিক সাধনার একটা অঙ্গ হচ্ছে জড়বিশ্বের অত্যাচার থেকে আত্মাকে মূক্ত করা। পশ্চিম-মহাদেশের লোকেরা সাধনার সেই দিকটার ভার নিয়েছে। এইটে হচ্ছে সাধনার সব-নিচেকার ভিত, কিন্তু এটা পাকা করতে না পারলে অধিকাংশ মামুষের অধিকাংশ শক্তিই পেটের দায়ে জড়ের গোলামি করতে ব্যস্ত থাকবে। পশ্চিম তাই হাতের আস্তিন গুটিয়ে খস্ত কোদাল নিয়ে এমনি ক’রে মাটির দিকে ঝুকে পড়েছে যে উপর-পানে মাথা তোলবার ফুসত তার নেই বললেই হয় । এই পাকা ভিতের উপর উপর-তলা যখন উঠবে তখনই হাওয়া-আলোর যারা ভক্ত তাদের বাসাটি হবে বাধাহীন । তত্ত্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞানীরা বলেছেন, না-জানাই বন্ধনের কারণ, জানাতেই মুক্তি। >bre শিক্ষার মিলন বস্তুবিশ্বেও সেই একই কথা । এখানকার নিয়মতত্ত্বকে যে না জানে সেই বদ্ধ হয়, যে জানে সেই মুক্তিলাভ করে। তাই বিষয়রাজ্যে আমরা বে বাহ বন্ধন, কল্পনা করি সেও মায়া ; এই মায় থেকে নিষ্কৃতি দেয় বিজ্ঞানে। পশ্চিম-মহাদেশ বাহবিশ্বে মায়ামুক্তির সাধনা করছে ; সেই সাধনা ক্ষুধা তৃষ্ণ শীত গ্রীষ্ম রোগ দৈন্তের মূল খুঁজে বের করে সেইখানে লাগাচ্ছে বা ; এই হচ্ছে মৃত্যুর মার থেকে মানুষকে রক্ষা করবার চেষ্টা । আর, পূর্বমহাদেশ অন্তরাত্মার যে সাধন করেছে সেই হচ্ছে অমৃতের অধিকার লাভ করবার উপায় । অতএব, পূর্বপশ্চিমের চিত্ত যদি বিচ্ছিন্ন হয় তা হলে উ ওয়েই ব্যর্থ হবে ; তাই পূর্বপশ্চিমের মিলনমন্ত্ৰ উপনিষৎ দিয়ে গেছেন । বলেছেন – বিস্তাং চাৰিপ্তাং চ যন্ত বেদোতয়ং সন্থ । অবিস্তয়া মৃত্যুং তীত্ব বিস্কয়ামৃতমশ্ন তে । যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগং, এইখানে বিজ্ঞানকে চাই ; ঈশাবাস্তমিদং সৰ্বং, এইখানে তত্ত্বজ্ঞানকে চাই । এই উভয়কে মেলাবার কথা যখন ঋষি বলেছেন তখন পূর্বপশ্চিমকে মিলতে হবে। এই মিলনের অভাবে পূর্বদেশ দৈন্তপীড়িত, সে নিজাব ; আর পশ্চিম অশান্তির দ্বারা ক্ষুব্ধ, সে নিরাননা এষ্ট ঐক্যতত্ত্ব সম্বন্ধে আমার কথ। ভুল বোঝবার আশঙ্কা আছে । তই যে কথাটা একবার আভাসে বলেছি সেইটে আর-একবার স্পষ্ট বলা ভালো। একাকার হওয়া এক হওয়া নয়। যারা স্বতন্ত্র তারাই এক হতে পারে। পৃথিবীতে যারা পরজাতির স্বাতন্ত্র্য লোপ করে তারাই সর্বজাতির ঐক্য লোপ করে। ইস্পীরিয়ালিজম হচ্ছে অজগর সাপের ঐক্যনীতি ; গিলে খাওয়াকেই সে এক করা ব’লে প্রচার করে। পূর্বে আমি বলেছি, আধিভৌতিককে আধ্যাত্মিক যদি আত্মসাৎ করে বসে তা হলে সেটাকে সমন্বয় বলা চলে না ; পরস্পরের স্ব-ক্ষেত্রে উভয়ে (ל לכל কালাস্তুর वडङ्ग शांक्टन उzबहे गशश्वग्न गठा रुग्न । ८ठमनि गाइव ८षशाटन স্বতন্ত্র সেখানে তার স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করলে তবেই মাচুর্য যেখানে এক সেখানে তার সত্য ঐক্য পাওয়া যায় । সেদিনকার মহাযুদ্ধের পর যুরোপ যখন শাস্তির জন্তে ব্যাকুল হয়ে উঠল তখন থেকে সেখানে কেবলই ছোটো ছোটো জাতির স্বাতন্ত্র্যের দাবি প্রবল হয়ে উঠছে । যদি আজ নবযুগের আরম্ভ হয়ে থাকে তা হলে এই যুগে অতিকায় ঐশ্বর্য, অতিকায় সাম্রাজ্য, সংঘবন্ধনের সমস্ত অতিশয়ত টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাবে। সত্যকার স্বাতন্ত্র্যের উপর সত্যকার ঐক্যের প্রতিষ্ঠা হবে । যারা নবযুগের সাধক ঐক্যের সাধনার জন্তেই তাদের স্বাতন্ত্র্যের সাধন করতে হবে ; আর তাদের মনে রাখতে হবে, এই সাধনায় জাতিবিশেষের মুক্তি নয়, নিখিল মানবেব মুক্তি । ት যার অন্তকে আপনার মতো জেনেছে, ন ততো বিজুগুপসতে, তারাই প্রকাশ পেয়েছে – এই তত্ত্বটি কি মানুষের পুথিতেই লেখা আছে ? মামুষের সমস্ত ইতিহাসই কি এই তত্ত্বের নিরস্তর অভিব্যক্তি নয় ? ইতিহাসের গোড়'তেই দেখি, মামুষের দল পর্বতসমুদ্রের এক-একটি বেড়ার মধ্যে একত্র হয়েছে । মামুব যখন একত্র হয় তখন যদি এক হতে না পারে তা হলেই সে সত্য হতে বঞ্চিত হয়। একত্রিত মহন্তদলের মধ্যে যারা যদুবংশের মাতাল বীরদের মতো কেবলই হানাহানি করেছে, কেউ কাউকে বিশ্বাস করে নি, পরম্পরকে বঞ্চিত করতে গিয়েছে, তারা কোন কালে লোপ পেয়েছে। । আর, যারা এক আত্মাকে আপনাদের সকলের মধ্যে দেখতে চেয়েছিল তারাই মহাজাতিরূপে প্রকাশ পেয়েছে । বিজ্ঞানের কল্যাণে জলে স্থলে আকাশে আজ এত পথ খুলেছে, এত রখ ছুটেছে যে, ভূগোলের বেড়া আজ আর বেড়া নেই। আজ, কেবল নানা ব্যক্তি নয়, নানা জাতি কাছাকাছি এসে ফুটল ; আমলি মানুষের ծ ց Հ শিক্ষার মিলন गरडाब्र गभश्छा बरफ श्रब्र प्मथ निल । टेबलांनिक अंखि बांटमब्र একত্রে করেছে তাদের এক করবে কে ? মানুষের যোগ যদি সংযোগ হল তো ভালোই, মইলে সে জ্বর্ষোগ। সেই মহাদুৰ্যোগ আজ ঘটেছে। একত্র হবার বাহশক্তি হু-হু ক'রে এগোল, এক করবার আস্তর শক্তি পিছিয়ে পড়ে রইল। ঠিক যেন গাড়িটা ছুটেছে এঞ্জিনের জোরে, বেচারা ড্রাইভারট। 'আরে আরে, ই হা’ করতে করতে তার পিছন পিছন দৌড়েছে, কিছুতে নাগাল পাচ্ছে না। অথচ, এক দল লোক এঞ্জিনের প্রচণ্ড বেগ দেখে আনন্দ করে বললে, ‘লাবাস, একেই তো বলে উন্নতি । এ দিকে, আমরা পূর্বদেশের ভালোমানুষ, যারা বীরমনা গমনে পায়ে হেঁটে চলি, ওদের ঐ উন্নতির ধাক্কা আজও সামলে উঠতে পারছি নে । কেননা, যারা কাছেও আসে, তফগতেও থাকে, তারা যদি চঞ্চল পদার্থ হয় তা হলে পদে পদে ঠকাঠক ধাক্কা দিতে থাকে । এই ধাক্কার মিলন সুখকর নয়, অবস্থাবিশেষে কল্যাণকর হতে ৪ পারে । যাই হোক, এর চেয়ে স্পষ্ট আজ আর কিছুই নয় যে, জাতিতে জাতিতে একত্র হচ্ছে অথচ মিলছে না । এরই বিষম বেদনায় সমস্ত পৃথিবী পীড়িত। এত দুঃখেও ছঃখের প্রতিকার হয় না কেন ? তার কারণ এই যে, গণ্ডীর ভিতরে যারা এক হতে শিখেছিল গণ্ডীর বাইরে তারা এক হতে শেখে নি । মানুষ সাময়িক ও স্থানিক কারণে গওঁীর মধ্যে সত্যকে পায় ব’লেই সত্যের পূজা ছেড়ে গণ্ডীর পূজা ধরে ; দেবতার চেয়ে পাওকে মানে ; রাজাকে তোলে, দারোগাকে কিছুতে ভুলতে পারে না। পৃথিবীতে নেশন গড়ে উঠল সত্যের জোরে ; কিন্তু স্তশিলালিজম সত্য নয়, অথচ সেই জাতীয় গভীদেবতার পূজার অনুষ্ঠানে চারি দিক থেকে নরবলির জোগান চলতে লাগল। যত দিন বিদেশী বলি জুটত তত দিল কোনো לאשל কালান্তর কথা ছিল না ; হঠাৎ ১৯১৪ খৃস্টাব্দে পরম্পরকে বলি দেবার জন্তে স্বয়ং যজমানদের মধ্যে টানাটানি পড়ে গেল। তখন থেকে ওদের মনে সন্দেহ জাগতে আরম্ভ হল, ‘একেই কি বলে ইষ্টদেবতা ? এ যে ঘর পর কিছুই বিচার করে না।’ এ যখন এক দিন পূৰ্বদেশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোমল অংশ বেছে তাতে দাত বসিয়েছিল এবং "ভিক্ষু যথা ইক্ষু খায়, ধরি ধরি চিবায় সমস্ত’– তখন মহাপ্রসাদের ভোজ খুব জমেছিল, সঙ্গে সঙ্গে মদমত্ততারও অবধি ছিল না । আজ মাথায় হাত দিয়ে ওদের কেউ কেউ ভাবছে, ‘এর পুজো আমাদের বংশে সইবে না।’ যুদ্ধ যখন পুরোদমে চলছিল তখন সকলেই ভাবছিল, যুদ্ধ মিটলেই অকল্যাণ মিটবে। যখন মিটল তখন দেখা গেল, ঘুরে ফিরে সেই যুদ্ধটাই এসেছে সন্ধিপত্রের মুখোষ পারে। কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ডে যার প্রকাও লেজটা দেখে বিশ্বব্ৰহ্মাও অঁাংকে উঠেছিল আজ লঙ্কাকাণ্ডের গোড়ায় দেখি, সেই লেজটার উপর মোড়কে মোড়কে সন্ধিপত্রের স্নেহসিক্ত কাগজ জড়ানো চলেছে। বোঝা যাচ্চে, ঐটাতে আগুন যখন ধরবে তখন কারও ঘরের চাল আর বাকি থাকবে না। পশ্চিমের মনীষী লোকেরা ভীত হয়ে বলছেন যে, যে দুর্ব দ্ধি থেকে দুর্ঘটনার উৎপত্তি এত মারের পরেও তার নাড়ী বেশ তাজা আছে। এই ছৰ্ব দ্ধিরষ্ট নাম ন্যাশনালিজম, দেশের সর্বজনীন আত্মম্ভরিতা। এ হল রিপু, ঐক্যতত্ত্বের উন্টে দিকে, অর্থাৎ আপনার দিকটাতেই এর টান । কিন্তু, জাতিতে জাতিতে আজ একত্র হয়েছে, এই কথাটা ধখন অস্বীকার করবার জো নেই, এত বড়ো সত্যের উপর যখন কোনো একটামাত্র প্রবল জাতি আপন সাম্রাজ্যরথ চালিয়ে দিয়ে চাকার তলায় একে ধুলো ক’রে দিতে পারে না, তখন এর সঙ্গে সত্য ব্যবহার করতেই হবে । তখন ঐ রিপুটাকে এর মাঝখানে আনলে শকুনির মতো কপট দ্যুতের ডিপ্লমালিতে বারে বারে সে কুরুক্ষেত্র বাধিয়ে দেবে। >bro শিক্ষার মিলন বর্তমান যুগের সাধনার সঙ্গেই বর্তমান যুগের শিক্ষার সংগতি হওয়া চাই। রাষ্ট্ৰীয় গণ্ডী-দেবতার বারা পূজারি তারা শিক্ষার ভিতর দিয়ে নানা ছুতোয় জাতীয় আত্মম্ভরিতার চর্চা করাকে কর্তব্য মনে করে। জর্মনি একদা শিক্ষাব্যবস্থাকে তার রাষ্ট্রনৈতিক ভেদবুদ্ধির ক্রীতদাসী করেছিল ব’লে পশ্চিমের অন্তান্ত নেশন তার নিন্দ করেছে। পশ্চিমের কোম্ বড়ো নেশন এ কাজ করে নি ? আসল কথা, জর্ধনি সকল বিভাগেই বৈজ্ঞানিক রীতিকে অগুণন্ত সকল জাতির চেয়ে বেশি আয়ত্ত করেছে ; সেইজন্তে পাক নিয়মের জোরে শিক্ষাবিধিকে নিয়ে স্বাজাত্যের ডিমে তা দেবার ইনকুবেটার যন্ত্র সে বানিয়েছিল । তার থেকে যে বাচ্ছা জন্মেছিল দেখা গেছে অন্তদেশী বাচ্ছার চেয়ে তার দম অনেক বেশি। কিন্তু তার প্রতিপক্ষ পক্ষীদের ডিমেতেও তা দিয়েছিল সে দিককার শিক্ষাবিধি। আর, আজ ওদের অধিকাংশ খবরের কাগজের প্রধান কাজটা কী ? জাতীয় আত্মম্ভরিতার কুশল কামনা করে প্রতিদিন অসত্যপীরের সিন্নি মান । স্বাজাত্যের অহমিকা থেকে মুক্তিদান করার শিক্ষাই আজকের দিনের প্রধান শিক্ষা । কেননা, কালকের দিনের ইতিহাস সর্বজাতিক সহযোগিতার অধ্যায় আরম্ভ করবে। যে-সকল রিপু, যে-সকল চিস্তার অভ্যাস ও আচারপদ্ধতি এর প্রতিকুল তা আগামীকালের জন্তে আমাদের অধোগ্য ক’রে তুলবে। স্বদেশের গৌরববুদ্ধি আমার মনে আছে, কিন্তু আমি একান্ত আগ্রহে ইচ্ছা করি যে, সেই বুদ্ধি যেন কখনো আমাকে এ কথা না ভোলায় যে, এক দিন আমার দেশে সাধকেরা যে মন্ত্র প্রচার করেছিলেন সে হচ্ছে ভেদবুদ্ধি দূর করবার মন্ত্র। শুনতে পাচ্ছি সমুদ্রের ও পারে মানুষ আজ আপনাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছে, ‘আমাদের কোন শিক্ষণ, কোন চিন্তা, কোন কর্ণের মধ্যে মোহ প্রচ্ছন্ন হয়ে ছিল যার জন্তে আমাদের আজ এমন নিদারুণ শোক ? তার উত্তর আমাদের দেশ থেকেই দেশে দেশান্তরে পৌঁছুক যে, মানুষের এককে 〉b”。 কালাস্তর তোমরা সাধনা থেকে দুরে রেখেছিলে, সেইটেই মোহ, এবং তার থেকেই শোক । যস্মিন সর্বাণি ভূতানি আত্মৈবাভূদ্র বিজানতঃ । তত্ৰ কে! মোহ: কঃ শোক একত্বমস্থপশুত: | আমরা শুনতে পাচ্ছি সমুদ্রের ও পারে মানুষ ব্যাকুল হয়ে বলছে, ‘শাস্তি চাই।' এই কথা তাদের জানাতে হবে, শাস্তি সেখানেই যেখানে মঙ্গল, মঙ্গল সেখানেই যেখানে ঐক্য। এইজন্ত পিতামহেরা বলেছেন ঃ শাস্তং শিবমদ্বৈতম | অদ্বৈতই শাস্ত, কেননা অদ্বৈতই শিব। স্বদেশের গৌরববুদ্ধি আমার মনে আছে, সেইজন্তে এই সম্ভাবনার কল্পনাতেও আমার লজ্জা হয় যে, অতীত যুগের ষে আবর্জনাভার সরিয়ে ফেলবার জন্তে আজ রুদ্রদেবতার হুকুম এসে পৌচেছে এবং পশ্চিমদেশ সেই হুকুমে জাগতে শুরু করেছে, আমরা পাছে স্বদেশে সেই আবর্জনার পীঠ স্থাপন করে আজ যুগান্তরের প্রত্যুষেও তামসী পূজাবিধি দ্বারা তার অর্চনা করবার আয়োজন করতে থাকি । যিনি শাস্ত, যিনি শিব, যিনি সর্বজাতিক মানবের পরমাশ্রয় অদ্বৈত, তারই ধানমন্ত্র কি আমাদের ঘরে নেই ? সেই ধ্যানমস্ত্রের সহযোগেই কি নবযুগের প্রথম প্রভাতরশ্মি মানুষের মনে সনাতন সত্যের উদবোধন এনে দেবে না ? এইজন্তেই আমাদের দেশের বিস্তানিকেতন পূর্বপশ্চিমের মিলননিকেতন ক'রে তুলতে হবে, এই আমার অস্তরের কামনা । বিষয়লাভের ক্ষেত্রে মামুষের বিরোধ মেটে নি, সহজে মিটতেও চায় না। সত্যলাভের ক্ষেত্রে মিলনের বাধা নেই । যে গৃহস্থ কেবলমাত্র আপন পরিবারকে নিয়েই থাকে, আতিথ্য করতে যার কৃপণতা, সে দীনাত্মা । শুধু গৃহস্থের কেন, প্রত্যেক দেশেরই কেবল নিজের ভোজনশালা নিয়ে চলবে না, তার অতিথিশালা চাই যেখানে বিশ্বকে অভ্যর্থনা ক’রে সে বঙ্গ হবে । শিক্ষাক্ষেত্রেই তার প্রধান অতিথিশালা । والحbج শিক্ষার মিলন দুর্ভাগা ভারতবর্ষে বর্তমান কালে শিক্ষার যত-কিছু সরকারি ব্যবস্থা আছে তার পনেরো-আনা অংশই পরের কাছে বিদ্যাভিক্ষার ব্যবস্থা । ভিক্ষ যার বৃত্তি, আতিথ্য করে না ব’লে লজ্জা করাও তার ঘুচে যায়। সেইজন্তেই ব্রিশ্বের আতিথ্য করে না ব’লে ভারতীয় আধুনিক শিক্ষালয়ের লজ্জা নেই। সে বলে, “আমি ভিখারি, অামার কাছে আতিথ্যের প্রত্যাশ কারও নেই।’ কে বলে নেই ? আমি তো শুনেছি পশ্চিমদেশ বারম্বার জিজ্ঞাসা করছে, "ভারতের বাণী কই ? তার পর সে যখন আধুনিক ভারতের দ্বারে এসে কান পাতে তখন বলে, "এ তে সব আমারই বাণীর ক্ষীণ প্রতিধ্বনি, যেন ব্যঙ্গের মতো শোনাচ্ছে।’ তাই তো দেখি, আধুনিক ভারত যখন ম্যাকসমূলরের পাঠশাল থেকে বাহির হয়েই আর্যসভ্যতার দম্ভ করতে থাকে তখন তার মধ্যে পশ্চিম গড়ের ব’দ্যের কড়িমধ্যম লাগে, আর পশ্চিমকে যখন সে প্রবল ধিক্কারের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে তখনো তার মধ্যে সেই পশ্চিমরাগেরই তারসপ্তকের নিখাদ তীব্র হয়ে বাজে । আমার প্রার্থনা এই যে, ভারত আজ সমস্ত পূর্বভূভাগের হয়ে সত্যসাধনার অতিথিশালা প্রতিষ্ঠা করুক । তার ধনসম্পদ নেই জানি, কিন্তু তার সাধনসম্পদ আছে ; সেই সম্পদের জোরে সে বিশ্বকে নিমন্ত্রণ করবে এবং তার পরিবর্তে সে বিশ্বের সর্বত্র নিমন্ত্রণের অধিকার পাবে । দেউড়িতে নয়, বিশ্বের ভিতর-মহলে তার আসন পড়বে । কিন্তু আমি বলি, এই মানসম্মানের কথা এও বাহিরের, এ’কেও উপেক্ষা করা চলে । এই কথাই বলবার কথা যে, সত্যকে চাই অস্তরে উপলব্ধি করতে এবং সত্যকে চাই বাহিরে প্রকাশ করতে— কোনো সুবিধার জন্তে নয়, সম্মানের জন্তে নয়, মামুষের আত্মাকে তার প্রচ্ছন্নতা থেকে মুক্তি দেবার জন্তে । মামুষের সেই প্রকাশতত্ত্বটি আমাদের শিক্ষার মধ্যে প্রচার করতে হবে, কর্মের মধ্যে প্রচলিত করতে Sbro কালাস্তর হবে, তা হলেই সকল মানুষের সন্মান করে আমরা সন্মানিত হব— নবযুগের উদবোধন করে আমরা জরামুক্ত হব । আমাদের শিক্ষালয়ের সেই শিক্ষামন্ত্রটি এই— যস্ত সর্বাণি ভুতানি আত্মন্তেবায়ুপগুতি। এ সর্বভূতেষু চাত্মানং ন ততো বিজুগুপসতে ॥ ভfদ্র ১৩২৮ >bアg