কালিদাস ও ভবভূতি (রাজেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ)/কালিদাস
কালিদাস।—পৃথিবীতে কবিদের বর্ণনীয় জিনিষ মাত্র দুইটী। মানুষের মনের ভিতর, আর মনের বাহির। ‘নীরেন্দ্র-প্রতিম’ সুনীল প্রশান্ত আকাশ, নীল-নীরদ-প্রভ অনন্ত জলনিধি, পূর্ব্বাপর সমুদ্রাবগাহি অভ্রভেদি পর্ব্বতমালা—এই সমুদয় বাহ্য জগতের প্রধান প্রধান বস্তু, আর প্রীতি, স্নেহ, দয়া, সৌজন্য, প্রেম, আত্মোৎসর্গ, সমবেদনা প্রভৃতি মনোজগতের প্রধান প্রধান বস্তু— এই সবই যেন মহাকবি কালিদাসের নিজের সম্পত্তি। তিনি ইহাদের যেটীর যেখানে ইচ্ছা ‘যথেষ্ট বিনিয়োগ’ করিতেছেন। সব যেন— বেতের মতন ঘুরিয়া তাঁহার বর্ণনার অনুকূল হইয়া আসিতেছে। সুন্দর জিনিষ ছাড়া তিনি স্পর্শ করেন নাই। তিনি কখনও, তাঁহার প্রিয় দর্শকদিগকে, পার্থিব জগতের সুন্দরতম নারীহৃদয়ের পবিত্র প্রণয়, নানা আকারে, ম্যাজিক লণ্ঠনের মত দেখাইয়া,—পরতে পরতে ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেখাইয়া তাঁহাদিগকে মুগ্ধ করিতেছেন, আবার কখনও বা সসাগরা পৃথিবীর অধিপতিকে গুরুগৃহে গোপালকের বৃত্তিতে নিযুক্ত করিয়া সমাজ হইতে অবিনয়ের মূলোচ্ছেদ করিতেছেন ও সেই সঙ্গে সঙ্গে দেবতা ও ব্রাহ্মণে—অতর্কিত ভাবে, সকলের আস্থা জন্মাইয়া দিতেছেন। কখনও পিতা ‘চির-প্রার্থিত’ পুত্ত্রের অঙ্গস্পর্শে আনন্দে ‘উপাত্ত-সম্মীলিত-লোচন’ হইতেছেন, আবার কোথাও বা কবি, আসন্নপ্রসবা ভার্য্যার পরিত্যাগে সন্তপ্ত অপুত্ত্র নরপতিকে দিয়া,‘আলক্ষ্য দন্ত-মুকুল’ ‘অব্যক্তবর্ণ-রমণীয়বচঃ-প্রবৃত্তি’ ‘অঙ্কাশ্রয়প্রণয়ী’ ছেলেকে কোলে লওয়াইতেছেন ও সেই সাথে সাথে, রাজার মনে, অসহ্য অপুভ্রতাবেদন অনুভব করাইতেছেন। কোথাও পালিত কন্যার পতি-গৃহ গমনকালে, সর্ব্বত্যাগী, জীবন্মুক্ত মহর্ষিও স্নেহের আকর্ষণে, ‘উৎকণ্ঠায়’ ‘অন্তঃ স্তম্ভিতবাষ্পবৃত্তি-কলুষ’ হইতেছেন। কিয়ৎকালের জন্য মহর্ষিত্ব ভুলিয়া, স্নেহময়ী জননীর ন্যায়, বিয়োগশোকে আতুর হইয়া পড়িতেছেন, আবার কোথাও বা কবি, লোকাপবাদে ‘দোলাচলচিত্তবৃত্তি স্বামীর দ্বারা—না, না, মানুষ নয়, দেবেরও দেবতা, নিষ্কলঙ্কচরিত্র, প্রণয়পারাবার, পত্নীময়-জীবিত পতির দ্বারা, জীবনের চিরসহচরী সতী সাধ্বী স্বর্ণপ্রতিমার বিসর্জ্জন দেওয়াইয়া কর্ত্তব্য কার্য্যের দুষ্করত্ব প্রতিপাদন করিতেছেন। কোথাও ফুলের ঘায়ে মূর্চ্ছিত প্রিয়তমার অকালমৃত্যুতে, ধরণীর ঈশ্বর ‘সহজ ধীরতা’য় জলাঞ্জলি দিয়া বালকের মতন উচ্চ কণ্ঠে—
গৃহিণী সচিবঃ সখী মিথঃ
প্রিয়শিষ্যা ললিতে কলাবিধৌ।
করুণাবিমুখেন মৃত্যুনা
হরতা ত্বাং বদ কিং ন মে হৃতম্॥
বলিয়া আর্ত্তনাদ করিতেছেন। কোথাও বা সৌন্দর্য্যে জগজ্জয়ী পতির অকস্মাৎ মরণে বালবিধবা, ‘বসুধালিঙ্গনধূসরস্তনী’ হইয়া ‘দেহি দর্শনং’ বলিতে বলিতে নয়নজলে পৃথিবী ভাসাইতেছেন। ওদিকে আবার প্রিয়তমার চিন্তায় ‘উন্মত্ত’ ‘চেতনাচেতন-কৃপণ’ বিরহ-বিধুর যক্ষ অচেতন মেঘের গলা ধরিয়া কাঁদিতেছে। আবার ঐ দিকে ঐ স্বর্গে দেব সভায়, দেবের বদলে, প্রণয়স্বপ্নে মানুষের নাম করায় উন্মাদিনীর—দেবতাদের রেজেষ্টরী হইতে নাম কাটা যাইতেছে। আবার ঐ দেখ, কোথাও স্বপ্রিয়াভ্রমে প্রেমিক ‘স্তবকাভিনম্রা’ লতাকে আলিঙ্গন করিতে যাইতেছে। কোথাও বা বিরহিণী সাধ্বীর আর্ত্তনাদে ময়ূর নৃত্য ছাড়িতেছে, ভ্রমর ফুলে বসিতেছে না, মৃগবধূ তৃণকবল স্পর্শ করিতেছে না—। কোথাও আবার ‘কিঞ্চিৎ আবর্জ্জিত-দেহ-যষ্টি’ ‘পুষ্পস্তবকাবনত্রা,’ কুমারী, ‘বসন্ত পুষ্পাভরণে’ দেহ সাজাইয়া,— ‘সঞ্চারিণী’ ‘পল্লবিনী’ ‘লতার’ ন্যায় ঐ দেখ, চিরবাঞ্ছিতের চরণে, বড় আশায় বুক বাঁধিয়া, কুসুমাঞ্জলি অর্পণ করিতে যাইতেছে। প্রণামকালে তাহার ‘নীলালকমধ্যশোভি’ ‘নবকর্ণিকার’ কুসুম হঠাৎ খসিয়া পড়িতেছে। অকস্মাৎ বালিকার শরীর কণ্টকিত হইয়া ‘স্ফুরদ্বাল-কদম্বের’ ন্যায় শোভা পাইতেছে। সে মূর্ত্তির—সে দেবী মূর্ত্তির অমোঘ আকর্ষণে,পরম জিতেন্দ্রিয়ও আজ ‘কিঞ্চিৎ পরিলুপ্ত-ধৈর্য্য’ হইয়াছেন, ‘চন্দ্রোদয়ারম্ভে’ ‘অম্বুরাশি’ যেমন ঈষদ্ তরঙ্গায়িত হয়, সেই প্রকার তাঁহার প্রাণও আজ যেন কেমন একটু তরঙ্গময় হইয়া পড়িয়াছে। এই প্রকার কত দেখাইব? সংসারে যাহা কিছু সুন্দর, যাহা কিছু প্রাণের উন্মাদজনক, অন্তঃকরণের আকর্ষক, সব যেন কালিদাস, মানুষের মনের মত, কল্পনার মত, না না—কল্পনার অতীতের মত ছাঁচে ঢালিয়া সামাজিকদিগকে উপহার দিতেছেন। বর্ণনীয় বিষয়ের সহিত সামাজিকদিগকে এমন করিয়া মিশাইয়া ফেলিতেছেন, এমন করিয়া ভাবের সিমেণ্ট দিয়া এক করিয়া গাঁথিতেছেন যে, মর্ত্তে থাকিয়াও মনে হয়, যেন ইন্দ্রের সভায় উর্ব্বশীর নৃত্য দেখিতেছি, অথবা প্রেমোন্মত্ত রাজার সঙ্গে বন্য হস্তীর কাছে প্রিয়া বিষয়ক প্রশ্ন-জিজ্ঞাসায় মাতিয়া উঠিয়াছি, কিংবা সেই সুদূর মালিনী তীরে, পৃথিবীপতির পার্শ্বে দাঁড়াইয়া, তদীয় ‘প্রিয়াপরিভুক্ত লতামণ্ডপে’ দাঁড়াইয়া, তাঁহার কণ্ঠে কণ্ঠ মিশাইয়া করুণ-স্বরে বলিতেছি—
“তস্যাঃ পুষ্পময়ী শরীরলুলিতা শয্যা শিলায়ামিয়ং
ক্লান্তো মন্মথলেখ এষ নলিনীপত্রে নখৈরঙ্কিতঃ।
হস্তাদ্ভ্রষ্টমিদং বিসাভরণমিত্যাসজ্জমানেক্ষণো
নির্গন্তুং সহসা ন বেতসগৃহাৎ শক্নোমি শূন্যাদপি॥”
কালিদাসের কবিতার একটা প্রধান গুণ এই যে, তাঁহার কবিতার বর্ণিত চরিত পাঠ করিলে পাঠকের অজ্ঞাতসারে, তদীয় হৃদয় অনেকটা সেই রকম হইয়া উঠে। কালিদাসের সৃষ্ট পাত্র গুলি পাঠকের মনে এত অধিক জায়গা জুড়িয়া বসে যে, পাঠককেই অনেকটা সেই রকম করিয়া তুলে। পাঠকের বা দর্শকের মনে এতটা আধিপত্য ভবভূতি ছাড়া আর কোনও কবিই করিতে পারেন নাই। কালিদাসের এই আধিপত্যের মূল হইল, তাঁহার ওজন-জ্ঞান। মানুষ কতটুকু চায়, তিনি তাহা জানিতেন। নিক্তির কাঁটায় কাঁটায় তাহা ওজন করিয়া লইতে পারিতেন। এই অনন্য-সাধারণ ক্ষমতা ছিল বলিয়াই কালিদাস ‘কালিদাস’ তিনি ‘ভারবি’ বা ‘মাঘ’ নহেন। তিনি ‘বাণ’ বা ‘শ্রীহর্ষ’ নহেন। ছাটিয়া ছুটিয়া মানানসই করিবার ক্ষমতা তাঁহার ন্যায় আর কোনও কবিরই ছিল না। কোথায় কতটুকু বর্ণনার দরকার, কোনস্থলে কতটুকু বই খাপ খাইবে না, কোথায় কোন জিনিষটী বসাইলে ভাল মানাইবে, গোলদার হইয়া খুলিবে, ইহা তিনি যেমন বুঝিতেন, আর কোন কবিই তেমনটী বুঝিতেন না। এক জন প্রসিদ্ধ সমালোচক বলিয়াছেন যে, “কালিদাস চিত্রকরের চক্ষে জগৎ দেখিতেন, আর কবির কলমে লিখিতেন”—এ কথা ঠিক। জগতের যাবতীয় স্বাভাবিক পদার্থই কল্পনার রঞ্জনে রঙ্গিন করিব, বর্ণনার চাতুর্য্যে সুন্দর করিয়া তুলিব, কবিজনসুলভ এ দুর্ব্বুদ্ধি তাঁহার ছিল না। যাহা ভাল, যাহা চিরদিনের মত মানুষের মনের সিংহাসন অধিকার করিতে পারিবে, সে সকল জিনিষ বাছাই করিতে তিনি ‘বৃহস্পতি’ ছিলেন। বাজে জিনিষ তাঁহার অস্পৃশ্য ছিল। অস্পৃশ্য ছিল বলিয়াই অপরাপর কবির কাব্যের ন্যায়, তাঁহার কাব্য পড়িতে আমরা ক্লান্ত হই না। হাপাইয়া পড়ি না। একবার তাঁহার কাব্য হাতে লইলে, সমাপ্ত না করিয়া উঠিতে পারি না। তাঁহার কবিতার প্রকাণ্ডত্বে নূতনত্বে ও সুন্দরত্বে আমাদিগকে বিস্ময়-বিমুগ্ধ করিয়া তুলে। যখন দেখি, প্রজার জন্য, ধনুকভাঙ্গা-পণে জেতা প্রিয়তমা সাধ্বী ভার্য্যাকে রাম বনে পাঠাইতেছেন, যখন দেখি, পিতার আজ্ঞা পালনের জন্য, রাজতক্ত ছাড়িয়া—তিনি নিজে বাকল পরিতেছেন, যখন দেখি ‘মাভূৎ পরীবাদ-নবাবতারঃ” বলিয়া গদগদকণ্ঠে ‘মৃৎপাত্রশেষ-বিভূতি’ রাজা রঘু ‘গুরুদক্ষিণার্থী ব্রহ্মচারীর আতিথ্য করিতেছেন—তখন, তাঁহার বর্ণনার প্রকাণ্ডত্বে, নূতনত্বে এবং সুন্দরত্বে কেমন যেন অবাক্—কেমন যেন উদ্ভ্রান্ত হইয়া পড়ি। আনন্দে—বিস্ময়ে—ভক্তিতে মনঃপ্রাণ নত হইয়া আইসে। সংসার ভুলিয়া যাই। তন্ময় হইয়া পড়ি। পাঠকের এই ‘তন্ময়ত্ব’ কালিদাসের কাব্য ছাড়া অন্য কোথাও আছে কি না জানি না।
কালিদাসের রামের কাছে ভারবির অর্জ্জুন বা মাঘের শ্রীকৃষ্ণ নিষ্প্রভ, কালিদাসের দিলীপের কাছে নৈষধের নল অকিঞ্চিৎকর, কালিদাসের কুশের নিকটে বাণভট্টের তারাপীড় বা শ্রীহর্ষ উল্লেখযোগ্যই নহে। কালিদাসের শকুন্তলা, কালিদাসের মালবিকা, কালিদাসের উর্ব্বশী এক একটী অনুপম সৃষ্টি।
যখন কালিদাসের বিক্রমোর্ব্বশীতে দেখি যে, মেঘময়ী উর্ধ্বশীর উপরে বসিয়া, রাজা আকাশ পথে নিজের রাজধানীতে ছুটিতেছেন, যখন রঘুবংশে দেখি যে, আকাশ পৃষ্ঠে বিমানে বসিয়া রাম সীতাকে দেখাইতেছেন,
“বৈদেহি পশ্যামলয়াদ্ বিভক্তং
মৎসেতুনা ফেনিলম্বুরাশিম্।
ছায়াপথেনেব শরৎপ্রসন্নং
আকাশমাবিস্কৃত-চারুতারম্॥”
যখন দেখি, তিনি আদরিণী সীতাকে অতি সন্তর্পণে
“পশ্যানবদ্যাঙ্গি! বিভাতি গঙ্গা,
ভিন্নপ্রবাহা যমুনা-তরঙ্গৈঃ”—
বলিয়া গঙ্গা-যমুনার সঙ্গম দেখাইতেছেন, তখন তাঁহার কল্পনার দৌড় দেখিয়া আনন্দে—বিস্ময়ে বিহ্বল হইয়া পড়ি। মর্ত্তধাম ছাড়িয়া প্রাণ এক অচিন্তিতপূর্ব্ব অমৃতময় রাজ্যে উপস্থিত হয়। এ প্রকার কত দেখাইব?
অসাধারণ ক্ষমতা বলে, কালিদাস রামায়ণ মহাভারতের উপরও টেক্কা মারিয়াছিলেন। রামায়ণ মহাভারতে যে যে বিষয় খুটাইয়া খুটাইয়া বর্ণনা করায় পাঠকের ধৈর্য্য চ্যুতি ঘটে, কালিদাস, তাহা সাম্লাইয়া লইয়া, পাঠকের মনের মত ছাঁচে ঢালাই করিয়াছেন। এতটা সামর্থ্য যদি কালিদাসের না থাকিবে, আত্মসত্তায় এতটা বিশ্বাস যদি তাঁহার না থাকিবে, তবে, দীর্ঘকাল হইতে, বহুশত বৎসর হইতে, যে দেশে রামায়ণ মহাভারত পাঠত, গীত এবং ভক্তির সহিত শ্রুত হইতেছে, সেই দেশের সেই সমাজে, তিনি, সেই রামায়ণ মহাভারতের উপরও ‘কারি গরি’ করিতে যাইবেন কেন? তিনি বুঝিয়াছিলেন যে, রামায়ণ মহাভারত যে প্রকার লম্বা, যে প্রকার উৎকট উৎকট কল্পনায় রঞ্জিত, তাহাতে তাহাদের দ্বারা ষোল আনা আনন্দরসের অনুভব হয় না বা হইতে পারেও না। তবে তাঁহার একটী বিষয়ে জ্ঞান খুব ভাল ছিল, তিনি জানিতেন যে, ব্যাস বাল্মীকির কলমের উপর কলম চালাইতে হইলে, সর্ব্বপ্রথম কর্ত্তব্য হইতেছে, তাঁহাদের উপেক্ষিত বিষয়গুলি সযত্নে কুড়াইয়া লওয়া—অর্থাৎ ব্যাস-বাল্মীকি যে যে বিষয়ের সম্যক্ বর্ণনা করেন নাই, তাহার সম্যক্ বর্ণনা। আর তাঁহারা যে যে যিষয়, কল্পনার তুলিতে সুচারুরূপে অঙ্কিত করিয়াছেন, তাহা একেবারে স্পর্শ না করা। কালিদাসের সমগ্র গ্রন্থাবলীতেই এই ধ্রুব সত্য বিদ্যমান। রামায়ণ মহাভারতে যাহার বিস্তৃত বর্ণনা আছে, কালিদাসের কাব্যে তাহার অতি সামান্যভাবে নামোল্লেখ দেখা যায় মাত্র। আবার রামায়ণ মহাভারতে যাহা নাই, অথবা যাহা সামান্যভাবে বর্ণিত হইয়াছে, কালিদাস তাহার সবিস্তর বর্ণনা করিয়াছেন। সুতরাং ব্যাস-বাল্মীকির বর্ণনার সহিত কোনও নির্দিষ্ট বিষয় লইয়া কালিদাসের কোনও প্রকার সংঘর্ষ উপস্থিত হয় নাই, কাজে কাজে উপমাও চলে না। কালিদাস নিজেই সে পথ মারিয়া রাখিয়া গিয়াছেন।
রামায়ণ মহাভারতের আর একটা ত্রুটি এই যে, কোথাও একটা ছোট্ট কথা খুব জাঁকালো করিয়া, লম্বা করিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে,— আবার হয়ত একটা বিশেষ কথা—প্রধান কথা— একেবারে এক লাইনে সারিয়া দেওয়া হইয়াছে। কালিদাস তাঁহার নিজের গ্রন্থে সে দোষ সারিয়া লইয়াছেন। যেখানে যতটুকু দরকার, তারপর আর একটী অক্ষরও বেশী বলেন নাই। সামাজিকগণ কতটুকু চান, তাহা কালিদাস জানিতেন। পৌরাণিক রচনায় সে জ্ঞানটুকু ছিল না। ছাঁটা ছিল না। কালিদাসের ন্যায় ওজন কাঁটায় কাঁটায় সই—ছিল না। যাহা হউক এই ক্ষণে আমি, ভবভূতি সম্বন্ধে সংক্ষেপে দুই চারিটি কথা বলিয়া কালিদাস ও ভবভূতির তুলনার পর অদ্যকার প্রবন্ধ শেষ করিব।