বিষয়বস্তুতে চলুন

কালিদাস ও ভবভূতি (রাজেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ)/কালিদাস ও বিক্রমাদিত্য

​ কালিদাস ও বিক্রমাদিত্য।—মহাকবি কালিদাস কোন সময়ে ভারতভূমি অলঙ্কৃত করিয়াছিলেন—এ বিষয়ে, বর্ত্তমানে, প্রধানতঃ তিন প্রকার মত দেখিতে পাই।

 ১। যে সময়ে প্রচুর পরিমাণে প্রাচীন ​শিলালিপি প্রভৃতি আবিষ্কৃত না হইয়াছিল বা হইলেও বিশেষভাবে পড়িয়া উঠা যাইত না, তখনকার কতিপয় পণ্ডিতগণের মতে, কালিদাস, উজ্জয়িনীপতি বিদ্যোৎসাহী বিক্রমাদিত্যের সভাসদ্—সুতরাং তাঁহার সমসাময়িক ছিলেন। নরপতি বিক্রমাদিত্য খৃঃ পূঃ ৫৭ বৎসরে ‘সংবৎ’ নামে যে অব্দ প্রচলন করেন, বর্ত্তমানে ঐ সংবতের—১৯৬২ বৎসর চলিতেছে। খৃষ্টীয় ১৯০৫ যদি ১৯৬২ হইতে বাদ দেওয়া যায়, তবেই বিক্রমাদিত্যের কাল খৃঃ পূঃ ৫৭ বৎসর হয়, ইহাই কালিদাসের সময়।

 ২। আবার— কতিপয় ঐতিহাসিক কালিদাসকে খৃষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর লোক বলিয়া সন্তুষ্ট হয়েন।

 ৩। এতদ্ব্যতীত অপরাপর সকল প্রত্নতত্ত্ববিদ্‌গণের মতেই মহাকবি কালিদাস খৃঃ ৬ষ্ঠ শতাব্দীর লোক। ইহা ছাড়া এখন আর একটী নূতন মত দেখিতেছি—সেই মতে কালিদাস ৫ম শতাব্দীর লোক হইয়া পড়েন—কিন্তু এমতটী তত বিচার-সহ নহে। যাহা হউক—এই পূর্ব্বোক্ত ​তিনটীমতের মধ্যে শেষোক্ত মতটীই আমাদের গ্রাহ্য। অর্থাৎ খৃঃ পূঃ ৫৭, খৃষ্টীয় ৩য় শতাব্দী এবং খৃষ্টীয় ৬ষ্ঠ—শতাব্দী—ইহার মধ্যে ৬ষ্ঠ শতাব্দীই যে কালিদাসের আবির্ভাব কাল—তৎ সম্বন্ধে আপাততঃ আপত্তির কারণ নাই। এ বিষয়ে আমার খুব জোর করিয়া বেশী কিছু বলিতে যাওয়া বেয়াদুবী—কেন না এই বিষয়গুলি যাহাদের একচেটে, তাঁহাদের মতই অধিক আদরণীয়।