বিষয়বস্তুতে চলুন

কালিদাস ও ভবভূতি (রাজেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ)/প্রবরসেন, সেতুকাব্য, ভূপতি রামদাস

​ প্রবরসেন, সেতু কাব্য, ভূপতি রামদাস।—রাজতরঙ্গিণীতে ‘শ্রেষ্ঠ সেন’ নামে এক নরপতির নির্দ্দেশ পাওয়া যায়। ‘তরঙ্গিণীতে’ উহাকে ‘প্রথম প্রবর সেন’ বলা হইয়াছে। এই প্রথম প্রবরসেনের পৌত্ত্র ‘অভিনব প্রবরসেন’ বা ‘দ্বিতীয় প্রবরসেন’ নৃপতির রচিত বলিয়া ‘সেতু বন্ধ’ নামে এক প্রাকৃত ভাষায় লিখিত কাব্য ​প্রচলিত আছে। কবিবর বাণ তদীয় ‘হর্ষচরিতের’ ভূমিকার ঐ কাব্যের যথেষ্ট স্তুতি করিয়াছেন— বলিয়াছেন—

“কীর্ত্তিঃ প্রবরসেনস্য প্রযাতা কুমুদোজ্জ্বলা।
সাগরস্য পরং পারং কপিসেনেব সেতুনা॥”

বহুকাল হইতে একটা জনশ্রুতি আছে যে, ঐ ‘সেতুকাব্য’ প্রবরসেনের নহে, কালিদাসের প্রণীত। এই প্রবাদের হেতুও যথেষ্ট আছে—১মতঃ টীকাকার ভূপতি রামদাস নিজে বলিয়াছেন যে, কালিদাসই “সেতুবন্ধের” প্রণেতা। ২য়তঃ অনেক প্রাচীন হস্ত লিখিত পুথির প্রত্যেক (আশ্বাসক) সর্গের শেষে লেখা আছে ‘ইঅ সিরিপবরসেন বির ইএ কালিদাস কএ দহমুহবহে মহাকব্বে”। ইহা দেখিয়া প্রতীতি হয় বটে যে, কালিদাসই প্রকৃত গ্রন্থকর্তা, প্রবরসেন নহেন।