কালিদাস ও ভবভূতি (রাজেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ)/ভবভূতি
অবয়ব
(পৃ. ৩৭)
ভবভূতি।— আমাদের দেশে ঊনবিংশ শতাব্দীর মনীষিগণের মধ্যে পণ্ডিতকুলরবি, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের আসন বোধ হয় অতি উচ্চে। তিনি তাঁহার “সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাবে” লিখিয়া গিয়াছেন যে, ‘কবিত্বশক্তি অনুসারে গণনা করিতে হইলে কালিদাসের অব্যবহিত পরেই ভবভূতির নাম নির্দ্দেশ হওয়া উচিত।” আমাদের অদ্যকার সভাপতি মহাশয়ও একস্থলে বলিয়াছেন ‘সংস্কৃত সাহিত্যে ‘উত্তররামচরিতের’ মত উৎকৃষ্ট নাটক—মনোহর উপদেশ পূর্ণ সরস কাব্য আর নাই।” এই দুইটী উক্তিই সারগর্ভ। ভারতবর্ষের যে কোনও ভাবুক বিদ্বান ব্যক্তি, যদি নিবিষ্ট-মনে একবার, মহা কবি ভবভূতিকে দেখেন—তাঁহার অমৃতময়ী বীণার ঝঙ্কারে—কর্ণপাত করেন—তবে সকলেই এই একই সিদ্ধান্তে—উপনীত হইবেন। বস্তুতঃ কালিদাসের পর যদি কাহাকেও মহা-কবির কিরীট পরাইতে হয়, তবে একমাত্র ভবভূতিই তিনি।