গল্পগুচ্ছ/চোরাই ধন

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

গল্পগুচ্ছ চোরাই ধন মহাকাব্যের যাগে সাঁকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপরাষতা দিয়ে, সে কথা আমার মন্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মল্য দিয়েছি দিনে দিনে। দাপত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পর্ষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম হোঁসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া । ষেন পেয়েছে পাহারওয়ালার সরকারি প্রতাপ উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উদিটা খালে নিলেই অতি অভাজন তারা। বিবাহটা চিরজীবনের পালাগান; তার ধয়ো একটামাত্র, কিন্তু সংগীতের বিস্তার প্রতিদিনের নব নব পর্যায়ে। এই কথাটা ভালোরকম করে বুঝেছি সনেরার কাছ থেকেই । ওর মধ্যে আছে ভালোবাসার ঐশবযা, ফরোতে চায় না তার সমারোহ ; দেউড়িতে চার-প্রহর বাজে তার সাহানা রাগিণী । আপিস থেকে ফিরে এসে একদিন দেখি আমার জন্যে সাজানো আছে বরফ-দেওয়া ফলসার সরবৎ, রঙ দেখেই মনটা চমকে ওঠে; তার পাশেই ছোটো রপোর থালায় গোড়ে মালা, ঘরে ঢোকবার আগেই গন্ধ আসে এগিয়ে। আবার কোনোদিন দেখি আইস ক্লীমের যন্ত্রে জমানো, শাঁসে রসে মেশানো, তালশসি এক-পেয়ালা, আর পিরিচে একটিমাত্র সফমখেী। ব্যাপারটা শনতে বেশি কিছ নয়, কিন্তু বোঝা যায় দিনে দিনে নতুন করে সে অনুভব করেছে আমার অস্তিত্ব। এই পরোনোকে নতুন করে অনুভব করার শক্তি আর্টিস্টের। আর ইতরে জনাঃ প্রতিদিন চলে দস্তুরের দাগা বলিয়ে। ভালোবাসার প্রতিভা সনেত্রার, নবনবোন্মেষশালিনী সেবা। আজ আমার মেয়ে অরণার বয়স সতেরো, অর্থাৎ ঠিক ষে বয়সে বিয়ে হয়েছিল সনেত্রার। ওর নিজের বয়স আটত্রিশ, কিন্তু সযত্বে সাজসজা করাটাকে ও জানে প্রতিদিন পুজোর নৈবেদ্য-সাজানো, আপনাকে উৎসগ করবার আহ্নিক অনুষ্ঠান। সনেরা ভালোবাসে শান্তিপরে সাদা শাড়ি কালো-পাড়-ওয়ালা। খন্দর নি খদ্দরকে। ও বলে, দিশি তাঁতির হাত, দিশি তাঁতির তাঁত, এই আমার আদরের । তারা শিল্পী, তাদেরই পছন্দে সতো, আমার পছন্দ সমস্ত কাপড়টা নিয়ে। আসল কথা, সনেরা বোঝে হালকা সাদা রঙের শাড়িতে সকল রঙেরই ইশারা খাটে সহজে । ও সেই কাপড়ে নতনত্ব দেয় নানা আভাসে, মনে হয় না সেজেছে। ও বোঝে, আমার অবচেতন মনের দিগন্ত উদ্ভাসিত হয় ওর সাজে— আমি খুশি হই, জানি নে কেন খুশি হয়েছি। প্রত্যেক মানুষেই আছে একজন আমি, সেই অপরিমেয় রহস্যের অসীম মল্য জোগায় ভালোবাসায়। অহংকারের মেকি পয়সা তুচ্ছ হয়ে যায় এর কাছে। সনেরা আপন মনপ্রাণ দিয়ে এই পরম মাল্য দিয়ে এসেছে আমাকে, আজ একুশ বছর ধরে। tछाब्रादे थन ጳጫጫ ওর শত্র ললাটে কুকুমবিন্দর মধ্যে প্রতিদিন লেখা হয় অক্লান্ত বিস্ময়ের বাণী। ওর নিখিল জগতের মমশন অধিকার করে আছি আমি, সেজলে আমাকে আরকিছু হতে হয় নি সাধারণ জগতের যে-কেউ হওয়া ছাড়া। সাধারণকেই অসাধারণ করে আবিস্কার কয়ে ভালোবাসা । শাস্ট্রে বলে, আপনাকে জানো। আনন্দে আপনাকেই জানি আর-একজন যখন প্রেমে জেনেছে আমার জাপনকে । रे বাবা ছিলেন কোনো নামজাদা ব্যাকের অন্যতম অধিনায়ক, তারই একজন অংশীদার হলেম আমি। বাকে বলে ঘামিয়ে-পড়া অংশীদার একেবারেই তা নয়। আন্টেপষ্ঠে লাগম দিয়ে জমতে দিলে আমাকে আপিসের কাজে । আমার শরীর-মনের সঙ্গে এই কাজটা মানানসই নয়। ইচ্ছা ছিল, ফরেস্ট বিভাগে কোথাও পরিদশকের পদ দখল করে বসি, খোলা হাওয়ায় দেীড়ধাপ করি, শিকারে শখ নিই মিটিয়ে। বাবা তাকালেন প্রতিপত্তির দিকে ; বললেন, যে কাজ পাচ্ছ সেটা সহজে জোটে না বাঙালির ভাগে " হার মানতে হল। তা ছাড়া মনে হয়, পরেষের প্রতিপত্তি জিনিসটা মেয়েদের কাছে দামী। সনোর ভগ্নীপতি অধ্যাপক; ই পরিএল সাভিস তার, সেটাতে ওদের মেয়েমহলের মাথা উপরে তুলে রাখে। যদি জংলি নিসাপেকেট্রর সাহেব হয়ে সোলার হ্যাট পরে বাঘ-বালকের চামড়ার মেঝে দিতুম ঢেকে, তাতে আমার দেহের গরেখে কমিয়ে রাখত, সেই সঙ্গে কমাত আমার পদের গৌরব অার-পাঁচজন পদপথ প্রতিবেশীর তুলনায় । কী জানি, এই লাঘবে মেয়েদের আত্মাভিমান কৰি কিছর ক্ষয় করে । এ দিকে ডেমেক-বাঁধা পথাবরত্বের চাপে দেখতে দেখতে আমার যৌবনের ধারা আসছে চোঁতা হয়ে । অন্য কোনো পর্য হলে সে কথাটা নিশ্চিত্ত মনে ভুলে গিয়ে পেটের পরিধি-বিস্তারকে দাবিপাক বলে গণ্য করত না। আমি তা পারি নে। আমি জ্ঞানি, সনেরা মন্ধে হয়েছিল শধ্যে আমার গলে নয়, আমার দেহসৌষ্ঠবে। বিধাতার স্বরচিত যে বরমালা অঙ্গে নিয়ে একদিন তাকে করশ করেছি নিশ্চিত তার প্রয়োজন BBB BDDBB BDDDDS BBB LSB BS BBBB BDD DBB DDD DDS দেখতে দেখতে আমিই চলেছি ভাঁটার মুখে-শাধ ব্যাকে জমছে টাকা । আমাদের মিলনের প্রথম আভু্যদয়কে আর-একবার প্রত্যক্ষ চোখের সামনে আমল আমার মেয়ে অরণা। আমাদের জীবনের সেই উষায়পরাগ দেখা দিয়েছে ওদের তারণোর নবপ্রভাতে। দেখে পলেকিত হয়ে ওঠে আমার সমস্ত মন। শৈলেনের দিকে प्ष्म प्र्माथ, श्रामान्न हर्नाझनकाब्र बग्नम ७द्र प्झरश् आदिङ्घठ । त्योक्स् नऐ चथर्नाल, সেই অজস্র প্রফুল্লতা, আবার ক্ষঙ্গে ক্ষণে প্রতিহত রোশয় লারমান উৎসাহের উৎকণ্ঠা। সেইদিন আমি যে পথে চলতেম সেই পথ ওয়ও সামনে, তেমনি করেই জয়লার थाट्ञम धम वण कद्रयाब्र माना फेननक ० नच्छेि कबरह, एकवण वरथन्छे जचरभाकद्र नई आधिहै । स्रनग्न नरक अग्नचा खारन भरन भरन, टाब्र याथा रवारक रबरब्रग्न मद्यथ ॥ ७क-uकौनम कौ बर्गान ट्कन मदहे व्रच जमणा चटcब्र कदना निरग्न ठून करञ arन १ट्न आमान्न नाटकन्न काटइ ६धाछाप्न । ७द्ध प्रा निर्एब्र इट्ठ भाग्न, खाधि •ाद्रि म । अग्रणाद्र धठमब्र कथा ७द्र धा एव ६षात्क ना उा मग्न; किन्फू फाद्र क्थ्पिाम, ७ लयम्ञ्चदै ती HRF٦ن:س ه . ITw વૈ૧૪ গল্পগছ ‘প্রভাতে মেঘডম্বরম, বেলা হলেই যাবে মিলিয়ে। ঐখানেই সনেত্রার সঙ্গে আমার মতের অনৈক্য। খিদে মিটতে না দিয়ে খিদে মেরে দেওয়া যায় না তা নয়, কিন্তু মরে। মধ্যাহ্নে ভোরের সরে লাগাতে গেলে আর লাগে না। অভিভাবক বলেন, বিবেচনা করবার বয়েস হোক আগে, তার পরে, ইত্যাদি । হায় রে, বিবেচনা করবার বয়েস ভালোবাসার বয়েসের উল্টো পিঠে। কয়েকদিন আগেই এসেছিল ‘ভরা বাদর মাহ ভাদর" | ঘনবষণের আড়ালে কলকাতার ইটকাঠের বাড়িগুলো এল মোলায়েম হয়ে, শহরের প্রখর মখেরতা আশ্রনগদগদ কণ্ঠস্বরের মতো হল বাপাকুল। ওর মা জানত অরণা আমার লাইব্রেরি ঘরে পরীক্ষার পড়ায় প্রবত্ত। একখানা বই আনতে গিয়ে দেখি, মেঘাচ্ছন্ন দিনাতের সজল ছায়ায় জানলার সামনে সে চুপ করে বসে; তখনো চুল বাঁধে নি, পাবে হাওয়ায় বটির ছাঁট এসে লাগছে তার এলোচুলে। সনেত্রাকে কিছু বললেম না। তখনি শৈলেনকে লিখে দিলেম চায়ের নিমন্ত্রণচিঠি। পাঠিয়ে দিলেম আমার মোটরগাড়ি ওদের বাড়িতে। শৈলেন এল, তার অকস্মাৎ আবিভাব সনেত্রার পছন্দ নয়, সেটা বোঝা কঠিন ছিল না। আমি শৈলেনকে y তোমকে ডেকে পঠানাে কোয়স্টম রিটা যথাসাধ বকে নিতে? अभिाद्भ সেকেলে বিদ্যেসাধ্যি অত্যন্ত বেশি অথব হয়ে পড়েছে।” ༣ཏི་ཤྲཱི་༨ বলা বাহুল্য, বিদ্যাচচা বেশিদর এগোয় নি। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস অরণা তার বাবার চাতুরি পটই ধরেছে আর মনে মনে বলেছে, এমন আদশ বাবা অন্য কোনো পরিবারে আজ পর্যন্ত অবতীর্ণ হয় নি। কোয়ান্টম থিওরির ঠিক শরতেই বাজল টেলিফোনের ঘন্টা-ধড়ফড়িয়ে উঠে বললেম, “জরুরি কাজের ডাক। তোমরা এক কাজ করো, ততক্ষণ পালার টেনিস খেলো, ছয়টি পেলেই আবার আসব ফিরে।” টেলিফোনে আওয়াজ এল, “হ্যালো, এটা কি বারোশো অমক নম্বর।” আমি বললেম, “না, এখানকার নম্বর সাতশো অমুক।” পরক্ষণেই নীচের ঘরে গিয়ে একখানা বাসি খবরের কাগজ তুলে নিয়ে পড়তে শর করলেম, অন্ধকার হয়ে এল, দিলেম বাতি জেৰলে। সনেরা এল ঘরে। অত্যন্ত গম্ভীর মুখ। আমি হেসে বললেম, “মিটিয়রলজিস্ট তোমার মুখ দেখলে ঝড়ের সিগনাল দিত।” ঠাটায় যোগ না দিয়ে সনেরা বললে, “কেন তুমি শৈলেনকে অমন করে প্রশ্রয় দাও বারে বারে ।” 冒》 আমি বললেম, “প্রশ্রয় দেবার লোক আদশ্যে আছে ওর অন্তরাত্মায়।” “ওদের দেখাশোনাটা কিছুদিন বন্ধ রাখতে পারলে এই ছেলেমানষিটা কেটে যেত আপনা হতেই ৷” - “ছেলেমানষির কসাইগিরি করতে যাবই বা কেন। দিন যাবে, বয়স বাড়বে, এমন ছেলেমানষি আর তো ফিরে পাবে না কোনো কালে ।” “তুমি গ্রহনক্ষত্র মান না, আমি মানি। ওরা মিলতে পারে না।” চোরাই ধন “গ্রহনক্ষত্র কোথায় কী ভাবে মিলেছে চোখে পড়ে না, কিন্তু ওরা দুজনে যে মিলেছে অন্তরে অন্তরে সেটা দেখা যাচ্ছে খাব পষ্ট করেই।” “তুমি বঝেবে না আমার কথা। যখনি আমরা জন্মাই তখনি আমাদের যথার্থ দোসর ঠিক হয়ে থাকে। মোহের ছলনায় আর-কাউকে যদি স্বীকার করে নিই তবে তাতেই ঘটে অজ্ঞাত অসতীত্ব। নানা দুঃখে বিপদে তার শাসিত।” "যথার্থ দোসর চিনব কী করে।” “নক্ষত্রের স্বহস্তে স্বাক্ষর-করা দলিল আছে।” আর লকোনো চলল না। আমার বশর অজিতকুমার ভট্টাচার্য। বনেদি পণ্ডিত-বংশে তাঁর জন্ম। বাল্যকালকেটেছে চতুষ্পাঠীর আবহাওয়ায়। পরে কলকাতায় এসে কলেজে নিয়েছেন এম.এ. ডিগ্রি গলি- "লত জ্যোতিষে তাঁর যেমন বিশ্বাস ছিল তেমনি বাংপত্তি। তাঁর বখাঞ্জি নৈয়ায়িক, ঈশ্বর তাঁর মতে অসিন্ধ; আমার বশরও দেবদেবী किझ" তার প্রমাণ পেয়েছি। তাঁর সমস্ত বেকার বিশ্বাস ভিড় করে এসে প৷ে র উপর, একরকম গোঁড়ামি বললেই হয়। এই ঘরে জন্মেছে সনে, থৈকে তার চার দিকে গ্রহনক্ষত্রের কড়া পাহারা। আ৷ অধ্যাপকের প্রিয় ছাত্র, সনেত্রাকেও তার পিতা দিতেন শিক্ষা। পরস্পর মে, যোগ হয়েছিল বারবার। সংযোগটা যে ব্যথ হয় নি সে খবরটা বেতার বিদ্যদবাতায় আমার কাছে ব্যক্ত হয়েছে। আমার শাশুড়ির নাম বিভাবতী। সাবেক কালের আওতার মধ্যে তাঁর জন্ম বটে, কিন্তু স্বামীর সংসগে তাঁর মন ছিল সংস্কারমন্তে, স্বচ্ছ। স্বামীর সঙ্গে প্রভেদ এই গ্রহনক্ষত্র তিনি একেবারেই মানতেন না, মানতেন আপন ইস্টদেবতাকে। এ নিয়ে স্বামী একদিন ঠাট্টা করতে । বলেছিলেন, “ভয়ে ভয়ে তুমি পেয়েদাগুলোর কাছে সেলাম ঠুকে বেড়াও, আমি মানি স্বয়ং রাজাকে।” স্বামী বললেন, “ঠকবে। রাজা থাকলেও যা, না থাকলেও তা; লাঠি-ঘাড়ে নিশ্চিত আছে পেয়াদার দল।" শাশুড়ি-ঠাকরন বললেন, “ঠকব সেও ভালো। তাই বলে দেউড়ির দরবারে গিয়ে নাগরা জনতোর কাছে মাথা হে’ট করতে পারব না।” আমার শাশুড়ি আমাকে বড়ো স্নেহ করতেন। তাঁর কাছে আমার মনের কথা ছিল অবারিত। অবকাশ কঝে একদিন তাঁকে বললেম, “মা, তোমার নেই ছেলে, আমার নেই মা। মেয়ে দিয়ে আমাকে দাও তোমার ছেলের জায়গাটি। তোমার সম্মতি পেলে তার পরে পায়ে ধরব অধ্যাপকের।” তিনি বললেন, “আধ্যাপকের কথা পরে হবে বাছা, আগে তোমার ঠিকুজি এনে দাও আমার কাছে।” দিলেম এনে। তিনি বললেন, “হবার নয়। অধ্যাপকের মত হবে না। অধ্যাপকের মেয়েটিও তার বাপেরই শিষ্যা।” ૧૪૦ গল্পগুচ্ছ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “মেয়ের মা ?” বললেন, “আমার কথা বোলো না। আমি তোমাকে জানি, আমার মেয়ের মনও, জানি, তার বেশি জানবার জন্যে নক্ষত্ৰলোকে ছোটবার শখ নেই আমার।” আমার মন উঠল বিদ্রোহী হয়ে । বললেম, এমনতরো অবাস্তব বাধা মানাই অন্যায়। কিন্তু, যা অবাস্তব তার গায়ে ঘা বসে না। তার সঙ্গে লড়াই করব কী দিয়ে। এ দিকে মেয়ের সম্বন্ধের কথা আসতে লাগল নানা দিক থেকে । গ্ৰহতারকার অসম্মতি নেই এমন প্রস্তাবও ছিল তার মধ্যে। মেয়ে জিদ করে বলে বসল, সে চিরকাল কুমারী থাকবে, বিদ্যার সাধনাতেই যাবে তার দিন । বাপ মানে বুঝলেন না, তাঁর মনে পড়ল লীলাবতীর কথা। মা বুঝলেন, গোপনে জল পড়তে লাগল তাঁর চোখ দিয়ে। অবশেষে একদিন মা আমার হাতে একখানি কাগজ দিয়ে বললেন, “সনেত্রার ঠিকুজি। এই দেখিয়ে তোমার জন্মপত্রী সংশোধন করিয়ে নিয়ে এসো। আমার মেয়ের অকারণ দুঃখ সইতে পারব না।” । পরে কী হল বলতে হবে না। ঠিকুজির অঙ্কজাল খে৭ - ৰুে উদ্ধার করে আনলেম । চোখের জল মাছতে মুছতে মা বললেন, “পাল্যক 釁" তার পরে গেছে একুশ বছর কেটে। •, ត្, 8 # হাওয়ার বেগ বাড়তে চলল, বটির বিরাম নেই। সনেরাকে । *আলোটা লাগছে চোখে, নিবিয়ে দিই।" নিবিয়ে দিলেম। বষ্টিধারার মধ্যে দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পের ঝাপসা আভা এল অন্ধকার ঘরে। সোফার উপরে সনেত্রীকে বসালেম আমার পাশে। বললেম, “সনি, আমাকে তোমার যথার্থ •দোসর বলে মান তুমি ?” “এ আবার কী প্রশন হল তোমার। উত্তর দিতে হবে নাকি।” “তোমার গ্রহতারা যদি না মানে ?” “নিশ্চয় মানে, আমি বঝি জানি নে ?” “এতদিন তো একত্রে কাটল আমাদের, কোনো সংশয় কি কোনোদিন উঠেছে তোমার মনে ।” “অমন সব বাজে কথা জিজ্ঞাসা কর যদি রাগ করব।” “সনি, দুজনে মিলে দুঃখ পেয়েছি অনেকবার। আমাদের প্রথম ছেলেটি মারা গেছে আর্ট-মাসে। টাইফয়েডে আমি যখন মরণাপন্ন, বাবার হল মৃত্যু। শেষে দেখি উইল জাল করে দাদা নিয়েছেন সমস্ত সম্পত্তি। আজ চাকরিই আমার একমাত্র ভরসা। তোমার মায়ের স্নেহ ছিল আমার জীবনের ধ্রুবতারা। পজোর ছটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে নৌকোডুবি হয়ে স্বামীর সঙ্গে মারা গেলেন মেঘনা নদীর গভে । দেখলেম, বিষয়বধিহীন অধ্যাপক ঋণ রেখে গেছেন মোটা অঙ্কের; সেই ঋণ স্বীকার করে নিলেম। কেমন করে জানব এই-সমস্ত বিপত্তি ঘটায় নি আমারই এস্ট্রগ্রহ? আগে থাকতে যদি জানতে আমাকে তো বিয়ে করতে না।” চোরাই ধন - ●もf> সনো কোনো উত্তর না করে আমাকে জড়িয়ে ধরলে । আমি বললেম, “সব দুঃখ-দলক্ষণের চেয়ে ভালোবাসাই যে বড়ো, আমাদের জীবনে তার কি প্রমাণ হয় নি।" ” - “মনে করো, যদি গ্রহের অনগ্রহে তোমার আগেই আমার মৃত্যু হয়, সেই ক্ষতি কি বেচে থাকতেই আমি পরেণ করতে পারি নি।” “থাক থাক, আর বলতে হবে না।” “সাবিত্রীর কাছে সত্যবানের সঙ্গে এক দিনের মিলনও যে চিরবিচ্ছেদের চেয়ে বড়ো ছিল, তিনি তো ভয় করেন নি মৃত্যুগ্রহকে " চুপ করে রইল সনেয়া। আমি বললেম, “তোমার অরণ্য ভালোবেসেছে শৈলেনকে, এইটুকু জানা যথেষ্ট; বাকি সমস্তই থাক অজানা, কী বল, সনি।" সনেয়া কোনো উত্তর করলে না । # “তোমাকে যখন প্রথম ভালোবেসেছিলাম, বাধা পেয়েছি। আমি সংসারে দ্বিতীয়বার সেই নিঠর দুঃখ আসতে দেব না কোনো গ্রহেরই মন্ত্রপায় । ওদের দজেনের ঠিকুজির অঙ্ক মিলিয়ে সংশয় ঘটতে দেব না কিছুতেই।” > ঠিক সেই সময়েই সিড়িতে পায়ের শব্দ শোনা গেল। শৈলেন নেমে চলে যাচ্ছে সন্যো তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে বললে, “কী বাবা শৈলেন : এখনি তুমি বাচ্ছ নাকি।” শৈলেন ভয়ে ভয়েই বললে, “কিছ দেরি হয়েই গেছে, ঘড়ি ছিল না, বকতে পারি নি।” সনেরা বললে, “না, কিছু দেরি হয় নি। আজ রাতে তোমাকে এখানেই খেয়ে যেতে হবে ।” একেই তো বলে প্রশ্ৰয় । সেই রাত্রে আমার ঠিকুক্তি-সংশোধনের সমস্ত বিবরণ সন্যোকে শোনালেম। সে বলে উঠল, “না বললেই ভালো করতে ।” “কেন ।” “এখন থেকে কেবলই ভয়ে ভয়ে থাকতে হবে - “কিসের ভয় । বৈধবাযোগের " অনেকক্ষপ চুপ করে রইল সানি । তার পর বললে, “না, করব না ভয় । আমি যদি তোমাকে ফেলে আগে চলে যাই তা হলে আমার মাতু হৰে বিগণ মাতু - कर्णाठ*क s०8o