গল্পগুচ্ছ/শেষের রাত্রি

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


tషి 8 গল্পগুচ্ছ শেষের রাত্রি “মাসি!” “ঘমোও যতীন, রাত হল যে।” “হোক-না রাত, আমার দিন তো বেশি নেই। আমি বলছিলম, মণিকে তার , বাপের বাড়ি— ভুলে যাচ্ছি, ওর বাপ এখন কোথায়—” “সীতারামপারে।” “হাঁ, সীতারামপারে। সেইখানে মণিকে পাঠিয়ে দাও, আরও কতদিন ও রোগীর সেবা করবে ! ওর শরীর তো তেমন শক্ত নয়।” “শোনো একবার ! এই অবস্থায় তোমাকে ফেলে বউ বাপের বাড়ি যেতে চাইবেই বা কেন ।” "ডাক্তারেরা কী বলেছে সে কথা কি সে—” “তা সে নাই জানল— চোখে তো দেখতে পাচ্ছে। সেদিন বাপের বাড়ি যাবার কথা যেমন একট ইশারায় বলা অমনি বউ কে’দে অস্থির।” মাসির এই কথাটার মধ্যে সত্যের কিছু অপলাপ ছিল সে কথা বলা আবশ্যক । মণির সঙ্গে সেদিন তাঁর এই প্রসঙ্গে যে আলাপ হইয়াছিল সেটা নিম্পনলিখিত মতো । - “বউ, তোমার বাপের বাড়ি থেকে কিছু খবর এসেছে বুঝি ? তোমার জাঠততো ভাই অনাথকে দেখলাম যেন।" “হাঁ, মা বলে পাঠিয়েছেন, আসছে শুক্লবারে আমার ছোটো বোনের অন্নপ্রাশন । "سجrafتي يخرج “বেশ তো বাছা, একগাছি সোনার হার পাঠিয়ে দাও, তোমার মা খুশি হবেন।” “ভাবছি আমি যাব। আমার ছোটো বোনকে তো দেখি নি, দেখতে ইচ্ছে করে।” “সে কী কথা। যতীনকে একলা ফেলে যাবে! ডাক্তার কী বলেছে শুনেছ তো ?” “ডাক্তার তো বলছিল, এখনো তেমন বিশেষ—” “তা যাই বলক, ওর এই দশা দেখে যাবে কী করে।” “আমার তিন ভাইয়ের পরে এই একটি বোন, বড়ো আদরের মেয়ে—শনেছি থম করে অন্নপ্রাশন হবে- আমি না গেলে মা ভারি-” “তোমার মায়ের ভাব বাছা, আমি বঝেতে পারি নে। কিন্তু, যতীনের এই সময়ে তুমি যদি যাও তোমার বাবা রাগ করবেন, সে আমি বলে রাখছি।” “তা জানি । তোমাকে এক লাইন লিখে দিতে হবে মাসি, যে, কোনো ভাবনার কথা নেই— আমি গেলে বিশেষ কোনো—” “তুমি গেলে কোনো ক্ষতিই নেই সে কি জানি নে। কিন্তু, তোমার বাপকে যদি লিখতেই হয়, আমার মনে যা আছে সব খালেই লিখব।” “আচ্ছা বেশ– তুমি লিখো না। আমি ওঁকে গিয়ে বললেই উনি—” “দেখো বউ, অনেক সয়েছি—কিন্তু, এই নিয়ে যদি তুমি যতীনের কাছে বাও শেষের রাত্রি &సి& কিছুতেই সইব না। তোমার বাবা তোমাকে ভালোরকমই চেনেন, তাঁকে ভোলাতে পারবে না।” 齡 এই বলিয়া মাসি চলিয়া আসিলেন । মণি খানিক ক্ষণের জন্য রাগ করিয়া বিছানার উপর পড়িয়া রহিল। পাশের বাড়ি হইতে সই আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “এ কী সই, গোসা কেন।” “দেখো দেখি ভাই, আমার একমাত্র বোনের অন্নপ্রাশন—এরা আমাকে যেতে দিতে চায় না।” "ওমা, সে কী কথা। যাবে কোথায়। স্বামী যে রোগে শাষছে!” “আমি তো কিছই করি নে, করতে পারিও নে। বাড়িতে সবাই চুপচাপ, আমার প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে। এমন করে আমি থাকতে পারি নে, তা বলছি।” "তা, আমি ভাই, তোমাদের মতো লোক-দেখানে ভান করতে পারি নে। পাছে কেউ কিছ মনে করে বলে মুখ গজড়ে ঘরের কোণে পড়ে থাকা আমার কম নয়।” "তা, কী করবে শানি।” "আমি যাবই, আমাকে কেউ ধরে রাখতে পারবে না।” “ইস, তেজ দেখে আর বাঁচি নে !— চললাম, আমার কাজ আছে।” ३ বাপের বাড়ি যাইবার প্রসঙ্গে মণি কাঁদিয়াছে—এই খবরে যতীন বিচলিত হইয়া বালিশটাকে পিঠের কাছে টানিয়া তুলিল এবং একটা উঠিয়া হেলান দিয়া বসিল। বলিল, “মাসি, এই জানলাটা আর একটু খলে দাও, আর এই আলোটা এ ঘরে দরকার নেই।” জানলা খলিতেই সন্তব্ধ রারি অনন্ত তাঁথপথের পথিকের মতো রোগীর দরজার কাছে চুপ করিয়া দাঁড়াইল। কত যাগের কত মৃত্যুকালের সাক্ষী ঐ তারাগুলি যতীনের মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল। যতীন এই বহৎ অন্ধকারের পটের উপর তাহার মণির মখখানি দেখিতে পাইল । সেই মুখের ডাগর দটি চক্ষ মোটা মোটা জলের ফোঁটায় ভরা—সে জল আর শেষ হইল না, চিরকালের জন্য ভরিয়া রহিল। অনেক ক্ষণ সে চুপ করিয়া আছে দেখিয়া মাসি নিশ্চিত হইলেন। ভাবিলেন, যতীনের ঘমে আসিয়াছে। এমন সময় হঠাৎ সে বলিয়া উঠিল, “মাসি, তোমরা কিন্তু বরাবর মনে করে এসেছ মণির মন চঞ্চল, আমাদের ঘরে ওর মন বসে নি। কিন্তু, দেখো—” "না বাবা, ভুল বুঝেছিলম-সময় হলেই মানুষকে চেনা যায়।” “भानि !” “যতীন, ঘমোও বাবা।” “আমাকে একটা ভাবতে দাও, একটা কথা কইতে দাও । বিরক্ত হোরো না, মাসি।” tషి 5 গল্পগুচ্ছ “আচ্ছা, বলো বাবা।” “আমি বলছিলাম, মানুষের নিজের মন নিজে বুঝতেই কত সময় লাগে। একদিন যখন মনে করতুম আমরা কেউ মণির মন পেলাম না, তখন চুপ করে সহ্য করেছি। roso vSeo-” - “না বাবা, অমন কথা বোলো না— আমিও সহ্য করেছি।” “মন তো মাটির ঢেলা নয়, কুড়িয়ে নিলেই তো নেওয়া যায় না। আমি জানতুম, মণি নিজের মন এখনো বোঝে নি; কোনো-একটা আঘাতে যেদিন বুঝবে সেদিন আর--” “ঠিক কথা, যতীন।” “সেইজন্যেই ওর ছেলেমানষিতে কোনোদিন কিছ মনে করি নি।" মাসি এ কথার কোনো উত্তর করিলেন না ; কেবল মনে মনে দীঘনিশ্বাস ফেলিলেন। কতদিন তিনি লক্ষ্য করিয়াছেন, যতীন বারান্দায় আসিয়া রাত্ত কাটাইয়াছে, ব্যষ্টির ছাঁট আসিয়াছে তব ঘরে যায় নাই। কতদিন সে মাথা ধরিয়া বিছানায় পড়িয়া; একান্ত ইচ্ছা, মণি আসিয়া মাথায় একটা হাত বলাইয়া দেয়। মণি তখন সখীদের সঙ্গে দল বধিয়া থিয়েটার দেখিতে যাইবার আয়োজন করিতেছে। তিনি যতীনকে পাখা করিতে আসিয়াছেন, সে বিরক্ত হইয়া তাঁহাকে ফিরাইয়া দিয়াছে। সেই বিরক্তির মধ্যে কত বেদনা তাহা তিনি জানিতেন। কতবার তিনি যতীনকে বলিতে চাহিয়াছেন, ‘বাবা, তুমি ঐ মেয়েটার দিকে অত বেশি মন দিয়ো না— ও একট চাহিতে শিখকে-মানুষকে একট কাঁদানো চাই। কিন্তু এ-সব কথা বলিবার নহে, বলিলেও কেহ বোঝে না। যতীনের মনে নারীদেবতার একটি পীঠস্থান ছিল, সেইখানে সে মণিকে বসাইয়াছে। সেই তীর্থক্ষেত্রে নারীর অমতপাত্র চিরদিন তাহার ভাগ্যে শান্য থাকিতে পারে, এ কথা মনে করা তাহার পক্ষে সহজ ছিল না। তাই পজা চলিতেছিল, অৰ্ঘ্য ভরিয়া উঠিতেছিল, বরলাভের আশা পরাভব মানিতেছিল না। মাসি যখন আবার ভাবিতেছিলেন যতীন ঘুমাইয়াছে এমন সময় হঠাৎ সে বলিয়া উঠিল, “আমি জানি, তুমি মনে করেছিলে, মণিকে নিয়ে আমি সখী হতে পারি নি। তাই তার উপর রাগ করতে। কিন্তু, মাসি, সখে জিনিসটা ঐ তারাগুলির মতো— সমস্ত অন্ধকার লেপে রাখে না, মাঝে মাঝে ফাঁক থেকে যায়। জীবনে কত ভুল করি, কত ভুল বুঝি, তব, তার ফাঁকে ফাঁকে কি স্বগের আলো জনলে নি। কোথা থেকে আমার মনের ভিতরটি আজ এমন আনন্দে ভরে উঠেছে!" মাসি আস্তে আস্তে যতীনের কপালে হাত বলাইয়া দিতে লাগিলেন। অন্ধকারে তাঁহার দুই চক্ষ বাহিয়া যে জল পড়িতেছিল তাহা কেহ দেখিতে পাইল না। “আমি ভাবছি মাসি, ওর অলপ বয়স, ও কী নিয়ে থাকবে।” “অলপ বয়স কিসের যতীন ? এ তো ওর ঠিক বয়স। আমরাও তো বাছা, অলপ বয়সেই দেবতাকে সংসারের দিকে ভাসিয়ে অন্তরের মধ্যে বসিয়েছি— তাতে ক্ষত্তি হয়েছে কী। তাও বলি, সখেরই বা এত বেশি দরকার কিসের।” “মাসি, মণির মনটি যেই জাগবার সময় হল অমনি আমি-" “ভাব কেন, যতীন। মন যদি জাগে তবে সেই কি কম ভাগ্য।” শেষের রারি ●冷鸟 হঠাৎ অনেক দিনের শোনা একটা বাউলের গান যতীনের মনে পড়িয়া গেল

  • 303 মন, যখন জাগলি না রে

তখন মনের মানষে এল বারে। उद्भ চলে যাবার শব্দ শনে ভাঙল রে ঘমে, ও তোর ভাঙল রে ঘমে অন্ধকারে ॥ “মাসি, ঘড়িতে ক'টা বেজেছে।" “নটা বাজবে ।” “সবে নাটা ? আমি ভাবছিলাম বুঝি দটো তিনটে কি ক’টা হবে। সন্ধ্যার পর থেকেই আমার দাপরে রাত আরম্ভ হয়। তবে তুমি আমার ঘমের জন্যে অত ব্যস্ত হয়েছিলে কেন ।” * “কালও সন্ধ্যার পর এইরকম কথা কইতে কইতে কত রাত পৰ্যন্ত তোমার আর ঘমে এল না, তাই আজ তোমাকে সকাল-সকাল ঘমোতে বলছি।” "মণি কি ঘামিয়েছে।” “না, সে তোমার জন্যে মসরির ডালের সাপ তৈরি করে তবে ঘমোতে যায়।” “दहला कौ प्रानि, भांश कि उठ्द–” "সেই তো তোমার জন্যে সব পথ্যি তৈরি করে দেয় । তার কি বিশ্রাম আছে।” “আমি ভাবতুম, মণি বুঝি—” "মেয়েমানবের কি আর এ-সব শিখতে হয়। দায়ে পড়লেই আপনি করে নেয়।” "আজ দুপারবেলা মেরিলা মাছের ষে ঝোল হয়েছিল তাতে বড়ো সন্দের একটি তার ছিল। আমি ভাবছিলাম তোমারই হাতের তৈরি।” “কপাল আমার ! মণি কি আমাকে কিছু করতে দেয়। তোমার গামছা তোয়ালে নিজের হাতে কেচে শকিয়ে রাখে। জানে যে, কোথাও কিছু নোংরা তুমি দেখতে পার না। তোমার বাইরের বৈঠকখানা যদি একবার দেখ তবে দেখতে পাবে, মণি দলবেলা সমস্ত ঝেড়ে মুছে কেমন তকতকে ক’রে রেখে দিয়েছে; আমি যদি তোমার এ ঘরে ওকে সবাদা আসতে দিতুম তা হলে কি আর রক্ষা থাকত। ও তো তাই চায়।” "মণির শরীর বঝি—” & “ডাক্তাররা বলে, রোগীর ঘরে ওকে সবাদা আনাগোনা করতে দেওয়া কিছু নয়। ওর মন বড়ো নরম কি না, তোমার কাট দেখলে দদিনে যে শরীর ভেঙে পড়বে।” "মাসি, ওকে তুমি ঠেকিয়ে রাখ কী করে।” “আমাকে ও বন্ড মানে বলেই পারি। তব বারবার গিয়ে খবর দিয়ে আসতে হয়— ঐ আমার আর-এক কাজ হয়েছে।” আকাশের তারাগলি যেন কর্ণাবিগলিত চোখের জলের মতো জলজল করিতে লাগিল। যে জীবন আজ বিদায় লইবার পথে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে যতীন তাহাকে মনে মনে কৃতজ্ঞতার প্রণাম করিল—এবং সম্মখে মৃত্যু আসিয়া অন্ধকারের ভিতর হইতে যে দক্ষিণ হাত বাড়াইয়া দিয়াছে যতীন স্নিগ্ধ বিশ্বাসের সহিত তাহার উপরে 曾>b গল্পগুচ্ছ আপনার রোগব্লান্ত হাতটি রাখিল। একবার নিশবাস ফেলিয়া, একটুখানি উসখসে করিয়া যতীন বলিল, “মাসি, মণি যদি জেগেই থাকে তা হলে একবার যদি তাকে-” “এখনি ডেকে দিচ্ছি, বাবা।” "আমি বেশি ক্ষণ তাকে এ ঘরে রাখতে চাই নে—কেবল পাঁচ মিনিট—দটো-একটা কথা যা বলবার আছে—” মাসি দীঘনিশ্বাস ফেলিয়া মণিকে ডাকিতে আসিলেন। এ দিকে যতীনের নাড়ী দ্রত চলিতে লাগিল। যতীন জানে, আজ পর্যন্ত সে মণির সঙ্গে ভালো করিয়া কথা জমাইতে পারে নাই। দই যন্ত্র দুই সরে বাঁধা, এক সঙ্গে আলাপ চলা বড়ো কঠিন। মণি তাহার সঙ্গিনীদের সঙ্গে অনগ'ল বকিতেছে হাসিতেছে, দরে হইতে তাহাই শুনিয়া যতীনের মন কতবার ঈষায় পীড়িত হইয়াছে। যতীন নিজেকেই দোষ দিয়াছে—সে কেন অমন সামান্য যাহা-তাহা লইয়া কথা কহিতে পারে না। পারে না যে তাহাও তো নহে, নিজের বন্ধবোন্ধবদের সঙ্গে যতীন সামান্য বিষয় লইয়াই কি আলাপ করে না। কিন্তু, পরিষের যাহা-তাহা তো মেয়েদের যাহা-তাহার সঙ্গে ঠিক মেলে না। বড়ো কথা একলাই একটানা বলিয়া যাওয়া চলে, অন্য পক্ষ মন দিল কি না খেয়াল না করিলেই হয়; কিন্তু তুচ্ছ কথায় নিয়ত দই পক্ষের যোগ থাকা চাই। বশি একাই বাজিতে পারে, কিন্তু দইয়ের মিল না থাকিলে করতালের খচমচ জমে না। এইজন্য কত সন্ধ্যাবেলায় যতীন মণির সঙ্গে যখন খোলা বারান্দায় মাদর পাতিয়া বসিয়াছে, দুটো-চারটে টানাবোনা কথার পরেই কথার সত্র একেবারে ছিাড়িয়া ফাঁক হইয়া গেছে; তাহার পরে সন্ধ্যার নীরবতা যেন লজায় মরিতে চাহিয়াছে। যতীন বঝিতে পারিয়াছে, মণি পালাইতে পারিলে বাঁচে; মনে মনে কামনা করিয়াছে, এখনই কোনো-একজন তৃতীয় ব্যক্তি যেন আসিয়া পড়ে। কেননা, দুই জনে কথা কহা কঠিন, তিন জনে সহজ । মণি আসিলে আজ কেমন করিয়া কথা আরম্ভ করিবে যতীন তাহাই ভাবিতে লাগিল। ভাবিতে গেলে কথাগুলো কেমন অস্বাভাবিক-রকম বড়ো হইয়া পড়ে— সে-সব কথা চলিবে না। যতীনের আশঙ্কা হইতে লাগিল আজকের রাত্রের পাঁচ মিনিটও ব্যর্থ হইবে। অথচ, তাহার জীবনের এমনতরো নিরালা পাঁচ মিনিট আর কটাই বা বাকি আছে। “একি বউ, কোথাও যাচ্ছ নাকি।” “সীতারামপারে যাব।” “সে কী কথা । কার সঙ্গে যাবে।" “অনাথ নিয়ে যাচ্ছে।” “লক্ষী মা আমার, তুমি যেয়ো, আমি তোমাকে বারণ করব না-কিন্তু আজ নয় ।” 嫁 শেষের রারি tఫిషి “টিকিট কিনে গাড়ি রিজাভ করা হয়ে গেছে।” - “তা হোক, ও লোকসান গায়ে সইবে—তুমি কাল সক্কালেই চলে যেয়ো— আজ যেয়ো না।” “মাসি, আমি তোমাদের তিথি বার মানি নে, আজ গেলে দোষ কী।" "যতীন তোমাকে ডেকেছে, তোমার সঙ্গে তার একটা কথা আছে।” “বেশ তো, এখনো সময় আছে—আমি তাঁকে বলে আসছি।” “না, তুমি বলতে পারবে না যে ষাচ্ছ।” “তা বেশ, কিছু বলব না, কিন্তু আমি দেরি করতে পারব না। কালই অন্নপ্রাশন— আজ যদি না যাই তো চলবে না।” “আমি জোড়হাত করছি বউ, আমার কথা আজ এক দিনের মতো রাখো। আজ মন একটা শান্ত করে যতীনের কাছে এসে বোসো— তাড়াতাড়ি কোরো না।” “তা, কী করব বলো, গাড়ি তো আমার জন্যে বসে থাকবে না। অনাথ চলে গেছে— দশ মিনিট পরে সে এসে আমাকে নিয়ে যাবে। এই বেলা তাঁর সঙ্গে দেখা সেরে আসি গে।” “না, তবে থাক—তুমি যাও । এমন করে তার কাছে যেতে দেব না। ওরে অভাগিনী, তুই যাকে এত দুঃখ দিলি সে তো সব বিসজান দিয়ে আজ বাদে কাল চলে যাবে—কিন্তু, যত দিন বেচে থাকবি এ দিনের কথা তোকে চিরদিন মনে রাখতে হবে- ভগবান আছেন, ভগবান আছেন, সে কথা একদিন বঝেবি।” “মাসি, তুমি অমন করে শাপ দিয়ো না বলছি।” “ওরে বাপ রে, আর কেন বেচে আছিস রে বাপ! পাপের যে শেষ নেই— আমি আর ঠেকিয়ে রাখতে পারলাম না।” মাসি একটা দেরি করিয়া রোগীর ঘরে গেলেন। আশা করিলেন যতীন ঘামাইয়া পড়িবে। কিন্তু, ঘরে ঢুকিতেই দেখিলেন, বিছানার উপর যতীন নড়িয়া-চড়িয়া উঠিল। মাসি বললেন, “এই এক কাণ্ড ক'রে বসেছে।" “কী হয়েছে। মণি এল না ? এত দেরি করলে কেন, মাসি।” “গিয়ে দেখি, সে তোমার দধে জনাল দিতে গিয়ে পড়িয়ে ফেলেছে বলে কান্না। আমি বলি, হয়েছে কি, আরও তো দধে আছে। কিন্তু, অসাবধান হয়ে তোমার খাবার দধে পড়িয়ে ফেলেছে, বউয়ের এ লক্ষজা আর কিছুতেই যায় না। আমি তাকে অনেক ঠাণ্ডা করে বিছানায় শইয়ে রেখে এসেছি। আজ আর তাকে আনলাম না। সে একটা ঘমোক ৷” মণি আসিল না বলিয়া যতীনের বকের মধ্যে যেমন বাজিল তেমনি সে আরামও পাইল। তাহার মনে আশঙ্কা ছিল যে, পাছে মণি সশরীরে আসিয়া মণির ধ্যানমাধরেীট কুর প্রতি জলম করিয়া যায়। কেননা, তাহার জীবনে এমন অনেকবার ঘটিয়াছে। দধে পড়াইয়া ফেলিয়া মণির কোমল হৃদয় অনন্তাপে ব্যথিত হইয়া উঠিয়াছে, ইহারই রসটকুতে তাহার হদয় ভরিয়া ভরিয়া উঠিতে লাগিল। "! הלוחs" “কণী বাবা।” ●00 গল্পগুচ্ছ “আমি বেশ জানছি, আমার দিন শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু, আমার মনে কোনো খেদ নেই। তুমি আমার জন্যে শোক কোরো না।” r “না বাবা, আমি শোক করব না। জীবনেই যে মঙ্গল আর মরণে যে নয় এ কথা আমি মনে করি নে ৷” “মাসি, তোমাকে সত্য বলছি, মৃত্যুকে আমার মধর মনে হচ্ছে।” অন্ধকার আকাশের দিকে তাকাইয়া যতীন দেখিতেছিল, তাহার মণিই আজ মৃত্যুর বেশ ধরিয়া আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। সে আজ অক্ষয় যৌবনে পাণ—সে গহিণী, সে জননী; সে রুপসী, সে কল্যাণী। তাহারই এলোচুলের উপরে ঐ আকাশের তারাগলি লক্ষীর স্বহস্তের আশীবাদের মালা। তাহাদের দুজনের মাথার উপরে এই অন্ধকারের মঙ্গলবস্ত্রখানি মেলিয়া ধরিয়া আবার যেন নতন করিয়া শভেদটি হইল। রাত্রির এই বিপলে অন্ধকার ভরিয়া গেল মণির অনিমেষ প্রেমের দটিপাতে। এই ঘরের বধ মণি, এই একটুখানি মণি, আজ বিশবরপ ধরিল; জীবনমরণের সংগমতীথে ঐ নক্ষত্ৰবেদীর উপরে সে বসিল; নিস্তব্ধ রাত্রি মঙ্গলঘটের মতো পণ্যেধারায় ভরিয়া উঠিল। যতীন জোড়হাত করিয়া মনে মনে কহিল, এত দিনের পর ঘোমটা খলিল, এই ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আবরণ ঘনচিল। অনেক কাঁদাইয়াছ— সন্দের, হে সন্দের, তুমি আর ফাঁকি দিতে পরিবে না। “কট হচ্ছে মাসি, কিন্তু যত কষ্ট মনে করছ তার কিছুই নয়। আমার সঙ্গে আমার কন্টের ক্রমশই যেন বিচ্ছেদ হয়ে আসছে। বোঝাই নৌকার মতো এতদিন সে আমার জীবন-জাহাজের সঙ্গে বাঁধা ছিল; আজ যেন বাঁধন কাটা পড়েছে, সে আমার সব বোঝা নিয়ে দরে ভেসে চলল। এখনও তাকে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু তাকে যেন আর আমার বলে মনে হচ্ছে না—এ দুদিন মণিকে একবারও দেখি নি, মাসি।” "পিঠের কাছে আর-একটা বালিশ দেব কি যতীন।” “আমার মনে হচ্ছে মাসি, মণিও যেন চলে গেছে। আমার বাঁধন-ছোড়া দুঃখের নৌকাটির মতো।” “বাবা, একটা বেদানার রস খাও, তোমার গলা শুকিয়ে আসছে।” “আমার উইলটা কাল লেখা হয়ে গেছে—সে কি আমি তোমাকে দেখিয়েছি— ঠিক মনে পড়ছে না।” “আমার দেখবার দরকার নেই, যতীন।” “মা যখন মারা যান আমার তো কিছুই ছিল না। তোমার খেয়ে তোমার হাতে আমি মানবে। তাই বলছিলম—” “সে আবার কী কথা। তোমার তো কেবল এই একখানা বাড়ি আর সামান্য কিছ সম্পত্তি ছিল। বাকি সবই তো তোমার নিজের রোজগার।” “কিন্তু, এই বাড়িটা—” “কিসের বাড়ি আমার! কত দালান তুমি বাড়িয়েছ, আমার সেটকু কোথায় খজেই পাওয়া যায় না।” শেষের রারি GRO > “মণি তোমাকে ভিতরে ভিতরে খব—” “সে কি জানি নে যতীন। তুই এখন ঘমো।” । “আমি মণিকে সব লিখে দিলম বটে, কিন্তু তোমারই সব রইল মাসি। ও তো তোমাকে কখনো অমান্য করবে না।” “সেজন্য অত ভাবছ কেন, বাছা।” “তোমার আশীবাদেই আমার সব, তুমি আমার উইল দেখে এমন কথা কোনোদিন মনে কোরো না---” "ও কী কথা যতীন। তোমার জিনিস তুমি মণিকে দিয়েছ বলে আমি মনে করব ! আমার এমনি পোড়া মন! তোমার জিনিস ওর নামে লিখে দিয়ে যেতে পারছ বলে তোমার যে সুখ সেই তো আমার সকল সখের বেশি, বাপ ।” “কিন্তু, তোমাকেও আমি—” “দেখ যতীন, এইবার আমি রাগ করব। তুই চলে যাবি, আর তুই আমাকে টাকা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে যাবি!” "মাসি, টাকার চেয়ে আরও বড়ো যদি কিছ তোমাকে—” "দিয়েছিস যতীন, ঢের দিয়েছিস। আমার শান্য ঘর ভরে ছিলি, এ আমার অনেক জন্মের ভাগ্য। এতদিন তো বকে ভরে পেয়েছি, আজ আমার পাওনা যদি ফরিয়ে গিয়ে থাকে তো নালিশ করব না। দাও, সব লিখে দাও, লিখে দাও— বাড়িঘর, জিনিসপত্র, ঘোড়াগাড়ি, তালুক-মলক—যা আছে সব মণির নামে লিখে দাও— এ-সব বোঝা আমার সইবে না।” “তোমার ভোগে রচি নেই—কিন্তু, মণির বয়স অলপ, তাই—“ “ও কথা বলিস নে, ও কথা বলিস নে। ধনসম্পদ দিতে চাস দে, কিন্তু ভোগ করা---" - "কেন ভোগ করবে না মাসি।” "না গো না, পারবে না, পারবে না! আমি বলছি, ওর মাথে রচেবে না! গলা শকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে, কিছতে কোনো রস পাবে না।” যতীন চুপ করিয়া রহিল। তাহার অভাবে সংসারটা মণির কাছে একেবারে বিবাদ হইয়া যাইবে এ কথা সত্য কি মিথ্যা, সখের কি দুঃখের, তাহা সে যেন ভাবিয়া ঠিক করিতে পারিল না। আকাশের তারা যেন তাহার হাদয়ের মধ্যে আসিয়া কানে কানে বলিল, এমনিই বটে—আমরা তো হাজার হাজার বছর হইতে দেখিয়া আসিলাম, সংসার-জোড়া এই-সমস্ত আয়োজন এত বড়োই ফাঁক।” যতীন গভীর একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, “দেবার মতো জিনিস তো আমরা কিছুই দিয়ে যেতে পারি নে।” “কম কী দিয়ে যাচ্ছ বাছা । এই ঘরবাড়ি-টাকাকড়ির ছল করে তুমি ওকে যে কী দিয়ে গেলে তার মল্য ও কি কোনোদিন বাকবে না। যা তুমি দিয়েছ তাই মাথা পেতে নেবার শক্তি বিধাতা ওকে দিন, এই আশীবাদ ওকে করি।" “আর-একটা বেদানার রস দাও, আমার গলা শকিয়ে এসেছে। মণি কি কাল এসেছিল— আমার ঠিক মনে পড়ছে না।” “এসেছিল। তখন তুমি ঘামিয়ে পড়েছিলে। শিয়রের কাছে বসে বসে অনেক ক্ষণ 4o ২ গল্পগুচ্ছ বাতাস করে তার পরে ধোবাকে তোমার কাপড় দিতে গেল।” “আশচষ*! বোধ হয় আমি ঠিক সেই সময়ে স্বপন দেখছিলাম, যেন মণি আমার ঘরে আসতে চাচ্ছে—দরজা অলপ একটা ফাঁক হয়েছে—ঠেলাঠেলি করছে, কিন্তু কিছুতেই সেইটুকুর বেশি আর খুলছে না। কিন্তু, মাসি, তোমরা একটন বাড়াবাড়ি করছ— ওকে দেখতে দাও যে আমি মরছি— নইলে মৃত্যুকে হঠাৎ সইতে পারবে না ।” “বাবা, তোমার পায়ের উপরে এই পশমের শালটা টেনে দিই—পায়ের তেলো ঠান্ডা হয়ে গেছে।” “না মাসি, গায়ের উপর কিছ দিতে ভালো লাগছে না।” “জানিস যতীন ? এই শালটা মণির তৈরি, এতদিন রাত জেগে জেগে সে তোমার জন্যে তৈরি করছিল। কাল শেষ করেছে।” যতীন শালটা লইয়া দই হাত দিয়া একটা নাড়াচাড়া করিল। মনে হইল, পশমের কোমলতা যেন মণির মনের জিনিস ; সে যে যতীনকে মনে করিয়া রাত জাগিয়া এইটি বনিয়াছে, তার মনের সেই প্রেমের ভাবনাটি ইহার সঙ্গে গাঁথা পড়িয়াছে। কেবল পশম দিয়া নহে, মণির কোমল আঙুলের পশ্য দিয়া ইহা বোনা। তাই মাসি যখন শালটা তাহার পায়ের উপর টানিয়া দিলেন তখন তাহার মনে হইল, মণিই রাত্রির পর রাত্রি জাগিয়া তাহার পদসেবা করিতেছে। “কিন্তু মাসি, আমি তো জানতুম মণি শেলাই করতে পারে না— সে শেলাই করতে ভালোই বাসে না।" “মন দিলে শিখতে কতক্ষণ লাগে। তাকে দেখিয়ে দিতে হয়েছে- ওর মধ্যে অনেক ভুল শেলাইও আছে।" "তা, ভুল থাক-না। ও তো প্যারিস একজিবিশনে পাঠানো হবে না— ভুল শেলাই দিয়ে আমার পা ঢাকা বেশ চলবে ।” শেলাইয়ে যে অনেক ভুল-ত্রুটি আছে সেই কথা মনে করিয়াই যতীনের আরও বেশি আনন্দ হইল। বেচারা মণি পারে না, জানে না, বারবার ভুল করিতেছে, তব ধৈর্য ধরিয়া রাত্রির পর রাত্রি শেলাই করিয়া চলিয়াছে— এই কপেনাটি তাহার কাছে বড়ো করণ, বড়ো মধর লাগিল। এই ভুলে-ভরা শালটাকে আবার সে একটা নাড়িয়াक्लाफूिम्ला नष्ट्रेल । “হাঁ যতীন, আজ রাত্রে থাকবেন।” “কিন্তু, আমাকে যেন মিছামিছি ঘনমের ওষুধ দেওয়া না হয় । দেখেছ তো ওতে আমার ঘমে হয় না, কেবল কস্ট বাড়ে। আমাকে ভালো ক'রে জেগে থাকতে দাও । জান মাসি ? বৈশাখ-বাদশীর রাত্রে আমাদের বিয়ে হয়েছিল— কাল সেই বাদশী আসছে— কাল সেইদিনকার রাত্রের সব তারা আকাশে জালানো হবে। মণির বোধ হয় মনে নেই-আমি তাকে সেই কথাটি আজ মনে করিয়ে দিতে চাই; কেবল তাকে তুমি দ মিনিটের জন্যে ডেকে দাও। চুপ করে রইলে কেন। বোধ হয় ডাকার তোমাদের বলেছে আমার শরীর দলবল, এখন যাতে আমার মনে কোনো-কিন্তু, আমি তোমাকে শেষের রাত্রি r දoළු নিশ্চয় বলছি মাসি, আজ রাত্রে তার সঙ্গে দটি কথা কয়ে নিতে পারলে আমার মন খাব শান্ত হয়ে যাবে-তা হলে বোধ হয় আর ঘমোবার ওষধ দিতে হবে না। আমার মন তাকে কিছু বলতে চাচ্ছে বলেই এই দল রাত্রি আমার ঘুম হয় নি।— মাসি, তুমি অমন করে কোদো না। আমি বেশ আছি, আমার মন আজ যেমন ভরে উঠেছে আমার জীবনে এমন আর কখনোই হয় নি। সেইজন্যই আমি মণিকে ডাকছি। মনে হচ্ছে, আজ যেন আমার ভরা হদয়টি তার হাতে দিয়ে যেতে পারব। তাকে অনেক দিন অনেক কথা বলতে চেয়েছিলাম, বলতে পারি নি, কিন্তু আর এক মহেতে দেরি করা নয়, তাকে এখনি ডেকে দাও-এর পরে আর সময় পাব না—না মাসি, তোমার ঐ কান্না আমি সইতে পারি নে। এতদিন তো শান্ত ছিলে, আজ কেন তোমার এমন হল !" "ওরে যতীন, ভেবেছিলাম আমার সব কান্না ফরিয়ে গেছে—কিন্তু দেখতে পাচ্ছি এখনো বাকি আছে— আজ আর পারছি নে ৷” “মণিকে ডেকে দাও— তাকে বলে দেব, কালকের রাতের জন্যে যেন—“ “যাচ্ছি, বাবা। শম্ভু দরজার কাছে রইল, যদি কিছু দরকার হয় ওকে ডেকো।” মাসি মণির শোবার ঘরে গিয়া মেজের উপর বসিয়া ডাকিতে লাগিলেন, "ওরে, আয়— একবার আয়— আয় রে রাক্ষসী, যে তোকে তার সব দিয়েছে তার শেষ কথাটি রাখ– সে মরতে বসেছে, তাকে আর মারিস নে ৷” যতীন পায়ের শব্দে চমকিয়া উঠিয়া কহিল, ”মণি!” “না, আমি শম্ভু ! আমাকে ডাকছিলেন ?" “একবার তোর বউঠাকরনকে ডেকে দে।” “কাকে ?” “বউঠাকরনকে।" “তিনি তো এখনো ফেরেন নি।" “কোথায় গেছেন ?” “সীতারামপারে।" “আজ গেছেন ?” “না, আজ তিন দিন হল গেছেন।" ক্ষণকালের জন্য যতীনের সবাঙ্গ ঝিমঝিম করিয়া আসিল—সে চোখে অন্ধকার দেখিল। এতক্ষণ বালিশে ঠেসান দিয়া বসিয়াছিল, শ্যইয়া পড়িল। পায়ের উপর সেই পশমের শাল ঢাকা ছিল, সেটা পা দিয়া ঠেলিয়া ফেলিয়া দিল । অনেক ক্ষণ পরে মাসি যখন আসিলেন যতীন মণির কথা কিছুই বলিল না। মাসি ভাবিলেন, সে কথা উহার মনে নাই। হঠাৎ যতীন এক সময়ে বলিয়া উঠিল, “মাসি, তোমাকে কি আমার সেদিনকার সবনের কথা বলেছি।” “কোন প্ৰবন।” 08 গল্পগুচ্ছ “মণি যেন আমার ঘরে আসবার জন্য দরজা ঠেলছিল—কোনোমতেই দরজা এতটুকুর বেশি ফাঁক হল না, সে বাইরে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল, কিন্তু কিছুতেই চকতে পারল না। মণি চিরকাল আমার ঘরের বাইরেই দাঁড়িয়ে রইল। তাকে অনেক করে ডাকলম, কিন্তু এখানে তার জায়গা হল না।” মাসি কিছ না বলিয়া চুপ করিয়া রহিলেন। ভাবিলেন, যতীনের জন্য মিথ্যা দিয়া যে একটখানি সবগ রচিতেছিলাম সে আর টিকিল না। দুঃখ যখন আসে তাহাকে স্বীকার করাই ভালো— প্রবঞ্চনার দ্বারা বিধাতার মার ঠেকাইবার চেস্টা করা किष्ट्र नम्न ।' "মাসি, তোমার কাছে যে স্নেহ পেয়েছি সে আমার জন্মজন্মান্তরের পাথেয়, আমার সমস্ত জীবন ভরে নিয়ে চললাম। আর-জন্মে তুমি নিশ্চয় আমার মেয়ে হয়ে জন্মাবে, আমি তোমাকে বকে করে মানুষ করব।”

  • বলিস কী যতীন, আবার মেয়ে হয়ে জন্মাব ? নাহয়, তোরই কোলে ছেলে হয়েই জন্ম হবে- সেই কামনাই করা-না।”

“না, না, ছেলে না। ছেলেবেলায় তুমি যেমন সন্দেরী ছিলে তেমনি অপরাপ সন্দেরী হয়েই তুমি আমার ঘরে আসবে। আমার মনে আছে, আমি তোমাকে কেমন করে সাজাব ।” “আর বকিস নে যতীন, বকিস নে— একট ঘনমো।” “তোমার নাম দেব লক্ষীরানী।” “ও তো একেলে নাম হল না।” “না, একেলে নাম না। মাসি, তুমি আমার সাবেক-কেলে— সেই সাবেক কাল নিয়েই তুমি আমার ঘরে এসো।” "তোর ঘরে আমি কন্যাদায়ের দুঃখ নিয়ে আসব, এ কামনা আমি তো করতে পারি নে ৷” “মাসি, তুমি আমাকে দবলৈ মনে কর – আমাকে দুঃখ থেকে বাঁচাতে চাও?” “বাছা, আমার যে মেয়েমানুষের মন, আমিই দব’ল— সেইজন্যেই আমি বড়ো ভয়ে ভয়ে তোকে সকল দুঃখ থেকে চিরদিন বাঁচাতে চেয়েছি। কিন্তু, আমার সাধ্য কী আছে। কিছই করতে পারি নি।” “মাসি, এ জীবনের শিক্ষা আমি এ জীবনে খাটাবার সময় পেলাম না। কিন্তু, এ সমস্তই জমা রইল, আসছে বারে মানুষ যে কণী পারে তা আমি দেখাব । চিরটা দিন নিজের দিকে তাকিয়ে থাকা যে কী ফাঁকি তা আমি বঝেছি।” “যাই বল বাছা, তুমি নিজে কিছ নাও নি, পরকেই সব দিয়েছ।” "মাসি, একটা গব আমি করব, আমি সখের উপরে জবদন্তি করি নি— কোনোদিন এ কথা বলি নি, যেখানে আমার দাবি আছে সেখানে আমি জোর খাটাব। या नाई नि ठा काम्नाकर्णाफ़ कब्र नि । श्राभि नई छिनिन फ्रट्झाइलएभ बाव्र छैनरग्न কারও স্বত্ব নেই—সমস্ত জীবন হাতজোড় করে অপেক্ষাই করলাম; মিথ্যাকে চাই নি বলেই এতদিন এমন করে বসে থাকতে হল-এইবার সত্য হয়তো দয়া করবেন। ও কে ও—মাসি, ও কে।” - “কই, কেউ তো না যতীন।” শেষের রারি ●●● “মাসি, তুমি একবার ও ঘরটা দেখে এসো গে, আমি যেন—” “না বাছা, কাউকে তো দেখলাম না।” “আমি কিন্তু স্পষ্ট যেন—” “কিচ্ছ না, যতীন—ঐ যে ডাক্তারবাব এসেছেন।” “দেখন, আপনি ওঁর কাছে থাকলে উনি বড়ো বেশি কথা কন। কয়রান্ত্রি এমনি করে তো জেগেই কাটালেন। আপনি শতে যান, আমার সেই লোকটি এখানে থাকবে ।” “না মাসি, না, তুমি যেতে পাবে না।” “আচ্ছা বাছা, আমি নাহয় ঐ কোণটাতে গিয়ে বসছি।” “না, না, তুমি আমার পাশেই বসে থাকো— আমি তোমার এ হাত কিছতেই ছাড়ছি নে—শেষ পর্যন্ত না। আমি যে তোমারই হাতের মানুষ, তোমারই হাত থেকে ভগবান আমাকে নেবেন।” - “আচ্ছা বেশ, কিন্তু আপনি কথা কবেন না যতীনবাব। সেই ওষধটা খাওয়াবার সময় হল—” “সময় হল ? মিথ্যা কথা । সময় পার হয়ে গেছে—এখন ওষুধ খাওয়ানো কেবল ফাঁকি দিয়ে সাম্পত্ত্বনা করা। আমার তার কোনো দরকার নেই। আমি মরতে ভয় করি নে। মাসি, যমের চিকিৎসা চলছে, তার উপরে আবার সব ডাক্তার জড়ো করেছ কেন— বিদায় করে দাও, সব বিদায় করে দাও । এখন আমার একমাত্র তুমি—আর আমার কাউকে দরকার নেই- কাউকে না— কোনো মিথ্যাকেই না।” “আপনার এই উত্তেজনা ভালো হচ্ছে না।” “তা হলে তোমরা যাও, আমাকে উত্তেজিত কোরো না।—মাসি, ডাক্তার গেছে ? আচ্ছা, তা হলে তুমি এই বিছানায় উঠে বোসো— আমি তোমার কোলে মাথা দিয়ে একটু শই।” “আচ্ছা, শোও বাবা, লক্ষীটি, একটা ঘমোও।” “না মাসি, ঘমোতে বোলো না—ঘমোতে ঘমোতে হয়তো আর ঘমে ভাঙবে না। এখনো আর-একটা আমার জেগে থাকবার দরকার আছে – তুমি শব্দ শনত্তে পাছ না ? ঐ যে আসছে! এখনই আসবে।” ● “বাবা যতীন, একটা চেয়ে দেখো—ঐ যে এসেছে। একবারটি চাও।” “কে এসেছে । বপন ?” “স্বপ্ন নয় বাবা, মণি এসেছে—তোমার বশরে এসেছেন।” “তুমি কে।” “চিনতে পারছ না বাবা, ঐ তো তোমার মলি।” “মণি, সেই দরজাটা কি সব খালে গিয়েছে।” “সব খলেছে, বাপ আমার, সব খলেছে।” {0} গাছ "া সি আর গায় উদ্য ও মান নয় ও ম না! ও শাখা ৫ शाल झीढ़!" # "াল ন ফাঁদ বড় সে গায় গৈ গাছ-৫ মা হাড় ধে gत शाशौ िब्लू-शान है और न ठे हा मा शाश्-क्ष ोशी ?' स्त्र" আক ১০১১ ' ്