বিষয়বস্তুতে চলুন

গোপীচন্দ্রের গান (প্রথম খণ্ড)/সন্ন্যাস খণ্ড

উইকিসংকলন থেকে

সন্ন্যাস খণ্ড

রাজা বলে শুনেক খেতু খেতুআ প্রানের ভাই।
কিবা কর ভাই খেতুআ নিছন্তে বসিয়া।
পাচ খানি কলার নোকা জোগাও তো আনিয়া॥
কেসালিক ডাঙ্গাত্র নিগি মারোআ গাড়িয়া।
ধুপ ধুনা ঘৃত কলা জোগাইলে নিগিয়া॥
রাজার জত দেওয়ান পাত্র নাজির উজির আসিল সাজিয়া॥
সাদু গুরু বৈষ্টম কত আসিল সাজিয়া।
এই শব্দ শুনলে মএনা ফেরুসাএ থাকিয়া॥[]
ফেরুসা হইতে বুড়ি মএনা আসিল চলিয়া।
হুঙ্কারেতে দেবগনক আ’নলে ডাক দিয়া।১০
রাজার মস্তক খেউরি করে মারোআএ বসিয়া॥

নেউজ পাতে মহারাজ বসিল ভিড়িয়া।
বুড়ি মএনা নাপিতক দ্যাএছে বলিয়া॥
ওরে নাপিত,—কামাইও মোর জাদুর মাথা না করিও ঘিন।[]
সোনা দিয়া খুর বান্দিব মানিক দিব চিন॥১৫
কামাইও মোর জাদুর মাথা রাখিও ব্রহ্মাচুলি।
অবসে উবাইবে উঞার গুরুর ক্যাঁথা ঝুলি॥
জখন ডাহিনি মএনা হুকুম ভালা দিল।
গঙ্গাজলে মহারাজার মস্তক ভিজাইল॥

জখন রাজার মাথাএ তুলি দিলে খুর।২০
ঝিঞ্জির ছিড়ি আসিল নও বুড়ি কুকুর॥
এক সোতা দুই সোতা তিন সোতা দিল।
জখন রাজার মস্তকের ক্যাশ মৃত্তিঙ্গাএ পড়িল।
কেসি গঙ্গা নদি হইয়া বহিতে নাগিল॥[]
জাদুর দিগে চায় মএনা রাঙ্কির মুছে পানি।২৫
এ হানে সোনার চান্দ জায় কোন খানি॥
মস্তক মুড়ি রাজার হরসিত মন।
মএনা বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।
ক্যামন করি সন্ন্যাস করাওঁ মএনা সুন্দর॥
পাচ গাছি করি মারোআ গাড়িলে সারি সারি।৩০
তাহার তলে রাখিলে সোনার ঘট চাইলন বাতি॥
পাচ নোটা কুআর জলে ছিনান করিয়া।
রসাই ঘর খানি নইলে পরিস্কার করিয়া।
কলা কচু নিমের পাতা ঘৃতে ভাজিয়া॥
জতমোনে সিদ্দাক নিমন্ত্রন করিল।৩৫
সগ্‌গে থাকি সিদ্দা সকল মত্তে নামিল॥
ইন্নাথ, ভিন্নাথ, কানফাড়া, গোরকনাথ আসিয়া খাড়া হইল॥
ধনু বান ধরি আইল শ্রীরাম লক্‌খন।
আলক রত চড়ি আইল গোরকের বিদ্যাধর॥
পাচ ভাই পাণ্ডব মঞ্চপে নামিল।৪০
হাড়ি হাড়ি বলি মএনা হুঙ্কার ছাড়িল॥

জতমোনে সিদ্দা রাজাক দেখিল।
মএনার তরে কথা বলিতে নাগিল॥
মএনা কএছে শুন সিদ্দা কার প্রানে চাও।
অন্ন জল খাও বদন ভরিয়া।৪৫
আশিব্বাদ দ্যাও আমার ছাইলা বলিয়া॥
শুবে শুবে আড়ির বেটা আইসে ফিরিয়া॥
অন্ন জল খাইলে সিদ্দা বদন ভরিয়া॥
অন্ন জল খাইয়া মুখে দিলে পান।
সিদ্দায় মএনায় কথা কহে ভর পুর্ন্নিমার চান॥৫০
পাচ নোটা কুআর জলে রাজাক ছিনান করাইয়া।
মারোআর তলে নিয়া গ্যাল ধরিয়া॥
একখান রেজি ছুরি আনিল জোগাইয়া।
ঐ রেজি নিগিয়া ইন্নাথক দিল।
ইন্নাথের হাতের রেজি কানফাড়াক দিল।৫৫
হরিবোল বলিয়া রাজার দুই কর্ন ছেদিল॥
দরশনের বৈরাগি সাজিবার নাগিল॥
একখান বস্তু মএনা জোগাইলে আনিয়া।
ঐ বস্ত্র নিগিয়া মএনা হাড়ি হস্তে দিল।
হরিবোল বলি বস্ত্র পরিতে নাগিল॥৬০
আড়াই হাত ফাড়ি রাজার পরিবাস সাজাইল।
সোআ তিন হাত কাপড় ফাড়ি রাজার খিল্ক। বানাইল॥
চৌদ্দ অঙ্গুলি কাপড় ফাড়ি কপ্নি সাজাইল।
আড়াই অঙ্গুলি ফাড়িয়া এ ডোর সাজাইল।
হরিবোল বলি রাজার সিকই কাটিল॥৬৫
হরিবোল বলিয়া রাজাক ডোর কপ্নি পরাইল॥[]

শনিবারে হৈল রাজার শন্যে মহাস্থিতি।
রবিবার দিন হৈল ভাঙের অধোগতি॥
সোমবারত দিনে রাজার মুড়িয়া গ্যাল মাথা।
মঙ্গলবার দিনে রাজার সিয়াইল ঝুলি ক্যাঁথা॥৭০
বুধবারে গোরেকনাথ হরিনাম মন্ত্র দিল।
বিশ্‌শইদবার দিনে রাজাক ডোর কপিন পরাইল॥
শুক্কুরবারে দুই পর সমএ সন্ন্যাস সাজাইল।

পুত্র শোকে মএনা বুড়ি কান্দিতে নাগিল।
কান্দি কাটি ছেইলাক নিগি হাড়ির হস্তে দিল॥৭৫
নিগা নিগা আমার পুত্র তোমার হৈল শিস।
বার বছর পুরিয়া গ্যালে আমাগ আনিয়া দেইস॥
অমর গিয়ান দেইস বৈদেশে নিজিয়া।
বার বছর অন্ত্রে আমার ছেইলাক দেইস আরো আনিয়া॥

ঝুলি ক্যাঁথা দিলে রাজার কন্ধে তুলিয়া।৮০
হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া॥
নড়িতে চড়িতে করলু মুড়িয়া দু প্রহর।
কতকখনে চলি জাব ডারাইপুর সহর॥
কিছু ভিক্‌খা করেক বেটা সভার মাঝে।
গুরু শিস্‌স খাব আমরা পন্তের উপরে॥৮৫
রাজা বলে শুন গুরু গুরুপা জলন্তরি।
ক্যামন করি খুজি ভিক্‌খা আমি নিন্নয় না জানি॥
হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
দক্‌খিন দেশি রতিত হামরা নাম ব্রম্মচারি।
ভিক্‌খা করিতে আমরা গমর না করি॥৯০
এই তুম্মা নেরে জাদু হস্তে করিয়া।
তুরু তুরু বলিয়া সিঙ্গনা বাজাও তুলিয়া॥
ভিক্‌খা দিবে তোকে বিস্তর করিয়া॥
পইলা ভিক্‌খা আনেক তোর জননির মহল জাএয়া॥
গুরুদেবের চরনে রাজা প্রনাম করিয়া।৯৫
মএনার মহলক নাগি চলিল হাটিয়া॥[]
হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
জাও জাও সোনার চান দুক্‌খিনির দুলালিয়া॥
তিলকে জাইবা ছাইলা ডণ্ডকে আসিবা।
ঘড়িক বিলম্ব হইলে আমার নাগাল না পাইবা॥১০০
তুই থাকিবু তখন আপনার মহলে।
মুই জাইম তখন কৈল্লাস ভুবনে॥

পথের মধ্যে হাড়ি সিদ্দা বসিয়া থাকিল।
ভিক্‌খা বলি মহারাজ জননির মহল গ্যাল॥
পুত্র শোকে মএনা বুড়ি আছে তো বসিয়া।১০৫
হ্যানকালে গ্যাল রাজা ভিক্‌খা বলিয়া॥
ভিক্‌খা দ্যাও ভিক্‌খা দ্যাও জননি লক্‌খি রাই।
তোমার হস্তের ভিক্‌খা পাইলে বৈদেশে জাই॥
জ্যানকালে বুড়ি মএনা পুত্রক দেখিল।
রুদ্ধ বাহু দেখি[] মএনা কান্দিতে নাগিল॥১১০
মএনা বলে—ওরে ছাইলা,—
তোমার গুরুর সইতে গ্যালেন জাদু বৈদেশ নাগিয়া।
তোর গুরুক ছাড়ি ক্যান একলা আসিলেন চলিয়া॥
রাজা বলে শুন মা আমি বলি তোরে।
আমার গুরু বসিয়াছে পন্থের মাঝারে॥১১৫
ভিক্‌খা বলি পাঠেয়া দিলে আপনার মহলে॥
ভিক্‌খা দ্যাও ভিক্‌খা দ্যাও জননি লক্‌খি রাই।
তোমার হস্তের ভিক্‌খা পাইলে মা বৈদেশে জাই॥
ছাইলাক দেখিয়া মএনার দয়া জনমিল।
পঞ্চ নোটা গঙ্গার জলে ছিনান করিল॥[]১২০
এক ভাত পঞ্চাশ ব্রঞ্জন অন্ধন করিয়া।
সুবন্নের থালোতে রন্ন দিল পারশ করিয়া॥

চৌকিয়া পিড়া দিলে বসিবার নাগিয়া।
সুবন্ন ভিঙ্গারে গঙ্গাজল দিল আগা করিয়া।[]
ছাইলাক ডাকায় বুড়ি মএনা কান্দিয়া কাটিয়া॥১২৫
আইস আইস জাদুধন দুখুনির দুলালিয়া।[]
রন্ন খাএয়া জাও জাদু বৈদেশ নাগিয়া॥
জখন ধম্মিরাজ রন্নের নাম শুনিল।
পঞ্চ নোটা গঙ্গার জলে ছিনান করিল॥
ছিনান করি রাজা রাহ্নিক করিল।১৩০
রাহ্নিক করিয়া রাজা রন্নের কাছে গ্যাল॥
সুবন্নের থালে রন্ন দেখি কান্দিতে নাগিল॥[১০]
জখনে আছিলাম মা রাজ্যের ঈশ্বর।
সুবন্নের থালে রন্ন মা খাইয়াছি বিস্তর॥
এখন হইলাম কপিনপিন্দা কোড়াকের ভিকারি।১৩৫
সুবন্নের থালে রন্ন খাইতে না পারি॥
সুবন্নের থালের অন্ন কদুর থালে নিয়া।
সুবন্ন ভিঙ্গারের গঙ্গাজল করঙ্গ তুম্মায় নিয়া॥
রন্ন খায় ধম্মিরাজ পত্রে বসিয়া॥[১১]

রন্ন খাবার তরে রাজা পত্রত বসিল।১৪০
পন্থে থাকি হাড়ি সিদ্দা ধিয়ানত দেখিল॥
ধিয়ানে দেখিয়া হাড়ির মন বিদুর হৈল॥
প্রথম শিস্‌স করিলাম আমি হরিনাম মন্ত্র দিয়া।
আমাক ছাড়ি রন্ন খায় জননিক মহল জাএয়া॥
তেমনি হাড়ি সিদ্দা এই নাওঁ পাড়াব।১৪৫
শুন্যের গঙ্গাজল রাজার শুন্যে চালি দিব॥
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে রিদয়ে জপিয়া।
করঙ্গ তুম্মাক দিলে হাড়ি ছিদ্র করিয়া॥
করঙ্গ তুম্মাক দিয়া গঙ্গার জল পালায়ত রুসিয়া॥
গাভির নাকান জল রাজা খায় চুম্বুক দিয়া।[১২]১৫০
কপালে আছিল লক্‌খি রাজার পলাইল ছাড়িয়া॥
বার বৎসর দুক্‌খ রাজার কপালে নিখিল।
রাহু কেতু শনি গর্ব্বে বাস হইল॥

বার বৎসর ভরি রাজার কেউতে ঘিরি নইল॥[১৩]
রন্ন খাএয়া ধম্মিরাজ মুক্‌খে দিলে গুআ।১৫৫
মায় পুতে কয় কথা পাঞ্জারের শুআ॥[১৪]
বার কাহন কড়ি নিলে হরিদ্রাএ মাখেয়া।
মএনা বলে হারে জাদু রাজ দুলালিয়া॥
বার কাহন কড়ি দ্যাওঁ তোর ঝোলার ভিতর।
কড়ির কথা না বলিস তোর গুরুর বরাবর॥[১৫]১৬০
একথা বলিয়া মএনা কোন কাজ করিল।
পুত্রের গলা ধরি মএনা কান্দিতে নাগিল॥

সরুআতে সরু বেটা দুবলাতে হিন।
তবনি পাওয়া জায় পরদেশের চিন॥[১৬]
জাদুরে—পরভুম জাইও বেটা পরদেশত জাইও।১৬৫
পরের নারিক দেখি বেটা হাস্য না করিও॥
আগে মা বলিয়া জাদু পাছত ভিক্‌খা নিও।
তোর গুরুদেবের সঙ্গে বেটা দপ্প না করিও॥
বৈরাগি বৈষ্টমক দেখি না করিও হেলা।
গৈড় হইয়া প্রনাম জানাইস জার গলাএ হরিনামের মালা॥[১৭]১৭০
ডম্ব কথা না বলিস তোর গুরুর বরাবর।
ছাই ভস্‌স করিয়া তোক পাঠাইবেক জমের ঘর॥
পরদেশে জাইও জাদু পরার পতিআশ।
আগে খায় গিরি নোক পশ্চাৎ তলাস॥
পাখিগুলি দেখিয়া ডিমা না মারিও।১৭৫
পরদেশে জাইয়া জাদু না পরিও ফুল।[১৮]
হাতের হিঞালি দিয়া নইবে জাতি কুল॥
কান্দি কাটি বুড়ি মএনা ছাইলাক বুঝাইল।
করদস্ত হৈয়া রাজা বিদায় ভালা চাইল॥

বিদায় দ্যাও মা বিদায় দ্যাও জননি লক্‌খি রাই।১৮০
তোমার বিদায় পাইলে মা বৈদেশে জাই॥
জননির বিদায় নিলে রাজা কান্দিয়া কাটিয়া।
জাইছে এখন ধম্মিরাজ গুরুকে নাগিয়া॥
গুরুর নিকট জাএয়া রাজা উপনিত হইল।
তুরু তুরু বলি সিদ্দা গোজ্জিয়া উঠিল॥১৮৫
হাড়ি সিদ্দা কহিছে—তিল ভর আসিবেন জাদু ভিক্‌খা ধরিয়া॥
এত ক্যানে দেরি কল্লু ফেরুসাতে জাএয়া॥
গুরু—ভিক্‌খা বুলি পাঠাইয়া দিলেন মা জননির মহলক নাগিয়া।
জননির রন্ন খাএয়া আসিনু ভিক্‌খা ধরিয়া॥
জ্যান কালে মহারাজ রন্ন কবুল করিল।১৯০
একথা শুনিয়া সিদ্দা বড় খুসি হৈল॥
বাম হস্ত ধরিয়া হাঁড়ি পন্থ মেলা দিল।
এক কোরোস দুই কোরোস তিন কোরোস গ্যাল॥
রাজার তরে কথা সিদ্দা বলিতে নাগিল॥
বাইরে বাইরে নিগাওঁ তোমা বৈদেশ নাগিয়া।১৯৫
কিছু ভিক্‌খা আনলু জাদু ফেরুসাতে জাএয়া॥
আর কিছু আনেক ভিক্‌খা তোর রানির মহল জাএয়া।[১৯]

গুরু শিস্‌সে খাবু বেটা বৈদেশত জাএয়া॥
গুরুর বাক্য মহারাজ ব্রথা না করিল।
ভিক্‌খা বলি ধম্মিরাজ রানির মহল গ্যাল॥২০০
সোআামির শোকে রদুনা পদুনা রানি আছে বসিয়া।
হ্যানকালে গ্যাল রাজা দারতে নাগিয়া॥
ভিক্‌খা ভিক্‌খা বলি রাজা চ্যাঁচাইতে নাগিল।
ধম্মিরাজার বাক্য রানি আন্দরে শুনিল॥
জ্যান কালে রদুনা রানি রাজাকে দেখিল।২০৫
কান্দি কাটি কথা দোনো বইনে বলিতে নাগিল॥[২০]
দিদি,—ওদিক ক্যান প্রানপতি না গ্যাল চলিয়া।
নিবা আগুন জলের আসিল মোর মহল নাগিয়া॥
হিরা রতন মোহর মানিক আছে কোটা ভরিয়া।
তাক ছাড়ি জায় প্রানপতি উদাসিনি হৈয়া॥২১০

কি ভিক্‌খা আছে দিদি কি ভিক্‌খা দিব।
দুই বইনে দুকনা রেজি নেই হস্তে করিয়া।
রাজার চরনে মরি দিদি গলাএ ছুরি দিয়া॥
দুই বইনে দুকনা রেজি নিলে হাস্তে করিয়া।
কান্দি কাটি জাএয়া রাজার চরনে পড়িলা॥২১৫
কান্দে রদুনা রানি ধরিয়া রাজার পাও।
এহ্যান বয়সের ব্যালা ছাড়িয়া না জাও॥
ছাড়িয়া না জাইও[২১] রাজা দুর দেশান্তর।
কার জন্যে বান্দিলেন সয়াল-মন্দির ঘর॥[২২]
সয়াল মন্দির ঘর বান্দিছ[২৩] নাই পড়ে কালি।২২০
এমত বয়সে ছাড়ি জাও ব্রথায় গাবুরালি॥
ব্রথা গাবুরালি রাজার মাটিতে পড়ে পিত।
খাবার গাসত সোআদ নাই চক্‌খে নাই সে নিন॥
নিন্দের সপনে রাজা হব চৈতন[২৪]
পালঙ্গে হস্ত ফ্যালায়া দেখিব নাই প্রানধন॥২২৫

খালি পালঙ্গ দেখি প্রভু মুঞি জুড়িম কান্দন॥
আমাকেও সঙ্গে নিয়া জাও পরানের রঘুনাথ।
আমি নারি সঙ্গে গ্যালে আন্দিয়া দিব ভাত॥
ভোকের কালে রন্ন দিব তিয়াস কালে পানি।
হাসিয়া খেলিয়া প্রভু পোহাব রঞ্জনি॥২৩০
জারের কালে ওড়ন দিব গিরিস কালে বাও।
সন্ধ্যা কালে দুই বইনে ঠাসিব হস্ত পাও॥
পাও খানি ডাবিব রাজা হাত খানি ডাবিব।
রঙ্গ কৌতুকের ডালা এখিলি জোগাব॥[২৫]
রাজা বলে শুন রানি জবাবে বুঝাই।২৩৫
একলাই বৈরাগি হলে জাহা তাহা রব।
তুমি নারি সঙ্গে গ্যালে বড়ই লজ্জা পাব॥

তোমার রূপ আমার রূপ দুইজনকে দেখিয়া।
দশ গিরস্তে বলবে সব বৈরাগি নারিচোরা।[২৬]
নারিচোরা বলিয়া গিরস্তে না দ্যায় ঠাঞি।২৪০
ভাল গিরির ছেইলা হইলে বাসা দান দিবে।
গোঞার গিরস্ত হইলে আমাক জবাবে খ্যাদাবে॥
ছোট বড় গিরির বেটা বুদ্ধি আলচিরা।
দশ গিরস্তে বলবে এটা বৈরাগি নারিচোরা॥
নারিচোরা রতিত হ’লে গিরস্তে না দ্যায় ঠাঞি।২৪৫
তোর আমার বড়ুআর বেটি কবার দোসর নাই॥
রাজা বলে—ওগো নাগরি ধম্মপথে জাইতে আমাগ না করিও বাধা।
অবসে বৈষ্টম ধম্ম লেইখাছে বিধাতা॥
আগে মরন পাছে মরন মরন একবার।
একবারে শোধিতে নারে গোদা জমের ধার॥২৫০
না জানি চণ্ডালিয়া জমের কতেক মাল ধারি।
রাজা হৈয়া জমের দায় শোধিতে না পারি॥
রাজা হৈয়া না করে রাজ্যের বিচার।
পুত্র হৈয়া না করে জাঁয় পিতার উদ্ধার॥
নারি হৈয়া না করিবে জাঁয় সামির ভকতি।২৫৫
শিস্‌স হৈয়া না ধরে গুরুর আরতি॥
এই কয় ঝন মইলে রানি জাবে রধোগতি॥

রানি বলে শোন প্রভু আমি বলি তোরে।
তুমি জ্যামন আমি ত্যামন সব্ব লোকে জানে।
গলার পৈতা জ্যামন না ছাড়ে ব্রাহ্মনে॥২৬০
তোকে মোকে শোবা করি খোপের কৈতর।
খোপ খালি করি জাএক বৈদেশ সহর॥
গিরির ঘরের খোপের কৈতর তাওঁরা বোঝে মন।
ঠোটে নালি বাটে বাকে সদাক্‌খন॥
পাও আছে হস্ত নাই ঠোটে উকুন মারে।২৬৫
মুক্‌খে বচন না পারে আর সদা বাকম্ বলে।
ও জে দুইটা জিব শয়ালতে ঘোরে॥
শয়ালতো ঘোরে পঙ্খি চিলাও চিলানি।
সেও ভাগ্য নাই করি রানি রভাগিনি॥
বোনের পশু চাইতে রাজা বড়ই নিদারুন।২৭০
এমত বয়সে ছাড়ি জাও চিতে দিয়া ঘুন॥
এখন রাজা বল্‌তেছে—
ওগো রানি! তুমি কি নিত্তান্ত করিয়া আমার সঙ্গে জাইবা।

আমার সঙ্গে জাবু রানি পন্থের শোন্ কাহিনি।
খিদা নাগলে রন্ন পাবু না তিয়াস কালে পানি॥[২৭]২৭৫
শালবন শিমুলবন চলিতে মান্দার।
জে দিক্‌ হাটে হাড়ি গুরু দিনতে আন্দার॥
সেই পথে কত আছে দুজ্জন বাঘের ভয়।
স্ত্রী আর পুরুসে কখন পন্থ নাহি বয়॥
স্ত্রী আর পুরুসে জদি পন্থ বইয়া জায়।২৮০
হ্যান বা দুষ্টের বাঘ আছে নারি ধরি খায়॥
খাইবে না খাইবে বাঘে ফ্যালাবে মারিয়া।
ব্রথা কাজে ক্যান মরবু আমার সঙ্গে জাইয়া॥
রানি কএছে শুন রাজা রসিক নাগর।
কাঁয় কয় এ গিলা কথা কে আর পইতায়।২৮৫
পুরুসের সঙ্গে গ্যালে কি তিরিক বাঘে খায়॥
এমন দুষ্ট বনের বাঘ তিরি পুরুস বাছিয়া খায়॥
জেখানেতে বনের বাঘ খাইবে ধরিয়া।
নিশ্চয় করি প্রানের পতি মোক পালাইস ছাড়িয়া॥[২৮]

রানি বল্‌তেছে ওগো প্রানপতি—২৯০
খাক না ক্যানে বনের বাঘে তাক না করি ডর।[২৯]
নিস্কলঙ্কে মরন হউক সোআমির পদের তল।
সোআমির পদে মরন হৈলে মরবার সফল॥
সোআমির পদে মরন হউক কলঙ্ ঝ্যান্‌না ওঠে।
কলঙ্ খানের বাদে আমার প্রান খানেক কাঁপে॥২৯৫
রাজা বলে ঠেকিলাম ঠেকিলাম মায়া জালে।
কি আমার প্রমাদ ঘটিল নারিলোকের সঙ্গে॥
আমার সঙ্গে জাবু রানি মুড়াও জাএয়া মাথা।
আমি নিছি ডোর কপ্‌নি তোক নিতে হবে ক্যাঁথা॥[৩০]
সেই জে মোর গুরুর ক্যাথা আগলদিগল।৩০০
খার পানি নাহি পড়ে নকুড়ি বছর॥[৩১]
সাত দরিয়ার জল হৈলে গুরুর ক্যাঁথা ভিজায়।
চৈত্র বৈসাখের ঔদে ঐ ক্যাঁথা শুকায়॥
ছয় মাস পন্থ রানি সরার গোন্দো পায়॥
এন্দুর সলেয়ার বাসা আর মাকৰ্শার জালি।৩০৫

ওরসের ল্যাখা নাই উকুন ডালি ডালি॥[৩২]
কোন বা গাঁওয়ার লোক গুরুর ক্যাঁথা ওড়ে।
এক দিন ছিলাম আমি গুরুর ক্যাথার তলে।
চৌপর রাইতে নিদ না হয় সলেয়ার কামড়ে॥
হাড়ি গুরুর ক্যাঁথা দেখি নর লোকের মুক্‌খে না আইসে রাও।৩১০
এক এক উকুন ব্যাড়ায় ওন্দা বিলাইর ছাও॥
শোনেক রদুনা রানি ক্যাঁথার অবতার।
পাগল| হস্তি নাই পারে ক্যাঁথাক নড়াবার॥
ভাল নারি দুই জন জাবেন মোর নগের দোসর।
সরা ক্যাঁথাখান তুলি দিম তোমার ঘাড়ের উপর॥৩১৫
রানি বলে শোন প্রভু আমি বলি তোরে।
হয় না ক্যানে সরার ক্যাঁথা ফুল চন্দনের বাস।
ঘরের সোআমি সন্ন্যাস হৈয়া জায় নারির কিবা আশ॥[৩৩]
বড় বড় বাংলা গিলা দেখতে লাগে ত্রাস।
সরা ক্যাঁথা বৃক্‌খের তলে নিন্দের হাভিলাস॥৩২০
এতে জদি গুরুর ক্যাঁথা বড় ভয় করে।
ব্রম্মায় পুড়িয়া ক্যাঁথা গঙ্গাএ ভাসাইয়া দিব।[৩৪]
দুই বইনের সাড়ি চিরি ক্যাঁথা বানাইয়া নিব॥

সোনার গুনায় রুপার গুনায় করিব সিয়ানি।
হাজার টাকা দিব আনি দর্জ্জিরঘরের বানি॥৩২৫
চারু পাকে চাইর মানিক[৩৫] মুঞিঁ দ্যাওঁ নাগাইয়া।
আন্ধার রাতি গলার ক্যাঁথা ওঠে জ্যান জলিয়া॥
হাট জাব পন্থ[৩৬] জাব হবে আন্ধার রাতি।
কোন কাঙ্গালের মহল্লে পাব তৈল্ল ঘিয়ের বাতি॥
ঐজে রভাগির ক্যাঁথা[৩৭] মুখের আগত থুইয়া।৩৩০
তিন ঝনায় রন্ন খাব ঐ আলোত বসিয়া॥
রাজা বলে শোনেক রানি হরিচন্দ্র রাজার বেটি।
সোনার ক্যাঁথা ধরি জাবার চাইস গিরি নোকের বাড়ি॥
ভাল গিরস্ত হৈলে বাসাত জ্যান দিবে।
আর কন্দুআ গিরস্ত হৈলে জোঙ্গাবে খ্যাদাবে॥৩৩৫
ঐরুপে মানে জাব শুড়ির ভাটিঘরা।
শুড়ির ভাটিঘরাত মাতোআল ঘিরিয়া নবে।
মদ ভাং খাএয়া রানি তোর প্রান বধিবে শ্যাসে॥
ঐঠে হৈতে জাব কুমারের পওঁনঘরা।
পওঁনঘরাতে রব পড়িয়া।৩৪০
ভাল্ ভাল্ গিরস্ত রানি বুদ্ধি আলোকচিয়া।
খাট খাট নাটি নিবে বগলে ডাবিয়া।
আমাকে মারিবে ডাকু মুড়িয়া ডাঙ্গ দিয়া॥
আমাকে মারিয়া ডাকু তোমাগ নিগাইবে ছিনাইয়া।
ব্রথা কাজে ক্যান মরবু আমার সঙ্গে জাএয়া॥৩৪৫
রানি বলে ওগো মহারাজ,—
জখন ডাকু মারিবে তোমাক মুড়িয়া ডাঙ্গ দিয়া।
দুই বইনে দুকনা এজি নিমো হস্তে করিয়া॥

তোমার চরনে মরিমো গলাএ ছুরি দিয়া॥
রাজা বলে ওগো রানি,—৩৫০
আগে জদি আমার প্রান ডাকু ফ্যালাইল মারিয়া।
পচ্ছাৎ তুমি কি করিবে নারিবদ্দ দিয়া॥
রানি বলে শোন রাজা ধম্ম অবতার।
এত জদি জানেন প্রভু জরু প্রানের বৈরি।
তবে ক্যানে বিয়াও কল্লেন এক শত রানি॥৩৫৫
এক শত রানিকে প্রভু গলাএ বান্ধিয়া।
এলায় নিয়া জাবেন তুমি সন্ন্যাস নাগিয়া॥
বার বছর জাএন গোসাঞি রুদাসিন হৈয়া।
রাজ্য পাট সিঙ্গাসন কে নিবে পালিয়া॥
জখন ছিলাম আমরা আচলে শিশুমতি।[৩৮]৩৬০
তখন ক্যানে ধম্মি রাজা না হইলেন সন্ন্যাসি॥
এখন হইলাম আসিয়া আমি তোমার যোগ্যমান।
মোক ছাড়িয়া হবু বৈরাগ মুঞি তেজিম পরান॥[৩৯]

কাকে দিবেন রাজ্যভার কাকেও দিবেন বাড়ি।
কাকে সপিয়া জাএন তোমার দালান কোঠা বাড়ি॥৩৬৫
কে হবে তোর পাটের রাজা কে হবে কাজি।
কোন মরদে সাদিয়া লবে তোর বিলাতের কড়ি॥
বাইস খামাতের লোক কার দেওয়ান জাবে।[৪০]

এক শত রানিগুলা কার মুখ চাবে।
তোমার ভাই জে গোলাম খেতুআ কার পান জোগাবে॥৩৭০
রাজা বলে শোনেক রানি আমি বলি তোরে।
গোলাম না কইস গোলাম না কইস হয় মোর ছোট ভাই।[৪১]
একে দুদে পালন কৈচ্ছে মএনামতি মাই॥
আমি দশ মাসে রানি খেতুআ দশ মাসে।
কাকো আটে কাকো না আটে নছিবের দোসে॥৩৭৫
নছিবেতে ফলে ধন সুকানে ডিঙ্গা চলে।
নছিব বিরোধ হৈলে নানা রোগে ধরে॥
সাত বরনের গাভি ছ্যাক এক বরনের দুধ।
আমি হছি রাজার ছেইলা ভাই ক্যানে অসুৎ॥
এক থোবের বাশ রানি নছিবোতে ল্যাখা।৩৮০
কেও হয় ফুলের সাজি কেহ হাড়ির ঝ্যাটা॥
একেত ফুলের সাজি হাতে মাতে রয়।
ছাড়ঙ। হাড়ির ঝ্যাটা হাট খোলা সামটায়॥
খেতুক দিম রাজ্যভার খ্যাতুক দিম বাড়ি।
ভাই খেতুক সপিয়া জাইম তোমা হ্যান সুন্দরি॥[৪২]৩৮৫

রানি কএছে শুন রাজা বিলাতের নাগর।
আন্ধার করিয়া জাও সুন্দরির মহল॥
জে দিন হইতে গোলাম ছোড়া দলিচায় দিবে পাও।
বিস খাব রুপের নারি গলাএ দিব দাও॥
তোমার বাদে ছাড়িলাম দয়ার বাপ মাও।৩৯০
বাপ মরে ভাই মরে তাও না ন্যাওঁ মনে।
তুই সোআমি ছাড়িয়া গ্যালে পাসরিব ক্যামনে॥
রাজা বলে শোন নারি রদুনা সুন্দরি।
কত রঙ্গে কর মায়া সহিতে না পারি॥
খেতু হবে পাটরাজা তোমরা মাহাদেই।৩৯৫
এমন করি দোহাই ফিরাও রাজা পাটে নাই॥
দুদের হাবিলাস জলেতে রাখিও।
আমার নাম বলি ভাই খেতুক ডাকাইও॥
তিন দিন রঙ্গ তামাসা হইলে আমাক পাসরিবু॥
রানি কএছে শোন রাজা বিলাতের নাগর।৪০০
অন্য গাছের ছাল জ্যান অন্য গাছে নাগে।
পরের ছাওয়া নাকি পরেকে বাবা বোলে৷
হস্ত পদ বান্ধিয়া মোরে ডুবাও সাগরে।
তবুও সপিয়া না জাও গোলাম খেতুর ঘরে॥
এমনি জদি তোমার রানি জায় তো মরিয়া।৪০৫
তবু গোলামের ভাত খাব না পাটতে বসিয়া॥
নদির পাড়ে ঘর বান্দি দ্যাও সুমরনে মরি।
তবুতে। গোলামের ভাত কবুল না করি॥
হামরা খাইনু ভাত রে গোলাম ফ্যালায় পাত।
ঐ গোলামক জরু দিলে দ্যাশের হইবে নাশ॥৪১০

হামরা খাইনু মাছ জে গোলাম খাইল কাটা।
ঐ গোলামক জরু দিলে দ্যাশের হৈবে খোটা॥
বার বছর জাএন সোআমি উদাসিন হৈয়া।
তোমার কোলার একটি ছাইলা দ্যাও আমার কোলাএ দিয়া।
জাইগ ক্যানে ধশ্মিরাজ সন্ন্যাস নাগিয়া॥[৪৩]৪১৫
নালিব পালিব ছাইলাক কোলে তুলি নিব।
পুত্র ধনক দেখি সোআমি তোমাক পাসরিব॥
একটি পুত্র দে মোক সোআমি একটা পুত্র দে।
কামাইস খাবার আসা নাই মোক মাটি দিবে কে॥
পুত্র হ্যান ধন প্রভু ব্যাচাইলে হবে কড়ি।৪২০
মরন কালে হইবে আমার শিওরের পসরি॥
তোমার মাথার দণ্ড ছত্র ছাইলার মাথা এ দিয়া।
দুই বইনে দেখিমো তামাসা দুই নয়ন ভরিয়া॥
তোমার চড়িবার ঘোড়া ছাইলাক চড়াএঞা।
দুই বইনে দেখিব তামাসা ময়দানে খাড়া হৈয়া॥৪২৫
তোমার হাতের শ্রি আঙ্গুট ছাইলার আঙ্গুলে দিয়া।
তোমার থাকিবার পালঙ্গে ছাইলাক থুইয়া।
নয়া রাজার মাও হইয়া রাজ্য খাব বসিয়া॥

জ্যান কালে ধম্মিরাজ ছাইলার নাম শুনিল।
কপালে মারিয়া চড় কান্দিতে নাগিল॥৪৩০
কি কথা শুনা’লে রানি আবার বল শুনি।
নিভায়া কাষ্ঠতে জ্যান জালাইল অগিনি॥
ছাইলার কথা কলু রানি আমার কথা শুন্।
এগিলা কথা তুলিলে পাঞ্জারে বিন্দায় ঘুন॥
চিনি চম্বা কলা নয় জলে গুলিয়া খাব।৪৩৫
হাটতো না ব্যাড়াএ ছাইলা কিনি আনিয়া দিব॥
মালির ঘরের পুতুলা নয় কিনিয়া আনি দিব।
মাটির পুতুলা নয় গড়ায়ে কোলে দিব॥[৪৪]
তোর কপালে নাই ছাইলা রাজায় কোথায় পাব॥
ইয়াতে জদি রদুনা রানি হাউস আছে তোক।৪৪০
নয়া গুরুর মন্ত্র ন্যাওঁ রিদএ জপিয়া।
আড়াই মাসি সন্তান হওঁ তোর কোলাএ বসিয়া॥
হাট জাবু বাজার জাবু আমায় নিগাইস কোলে।
কেও জিগ্‌গাসা ক’ল্লে কএয়া দেইস ছাইলা হয় আমারে॥

জখনে ধন্মিরাজ রানিকে মাও দাও দিল।৪৪৫
কান্দিকাটি রানি কথা বলিতে নাগিল॥[৪৫]
কি অপরাধ পাইলেন সোআমি পানের উপর।
পাশ্‌শ জুতা গনি মার মস্তকের উপর॥
আমি কইলাম পুতের কথা তুমি মাগ দুদ।
বিয়াস্তা সোআমি হএন ক্যামনে বল্‌ল পুত॥৪৫০
ক্যানে বান্দিঘরক দেখিলেন এ মাএর সামান।
জুআয় না পরানের পতি মাও বলিবার॥

একথা বলিয়া রানি কোন কথা করিল।
গালাএ এজি দিয়া রানি চরনে মরি গ্যাল॥
রাজার চরনে রানি গ্যালত মরিয়া।৪৫৫
কান্দে এখন ধম্মিরাজা উদ্ধবাহু হৈয়া॥[৪৬]
ভিক্‌খা বলি পাঠে দিলেন রানির মহলক নাগিয়া।
সেই জে রদুনা রানি চরনে গ্যালত মরিয়া॥
তেউনিয়া ধম্মিরাজা এই নাওঁ পাড়াব।
ক্যামন গুরুর মন্ত্রের জোর মহলে জানিব॥৪৬০
জে রানির জন্য জাই আমি পরদেশ সহর।
সেই রানি মিত্তু হইল আমার চরনের উপর॥
জদি কালে রানি জিতায় হাড়ি লঙ্কেশ্বর।
হাসিয়া জবাব দিবে আমি ছাড়ি বাড়িঘর॥[৪৭]
জদিবা রানি নাহি জিয়ায় হাড়ি লঙ্কেশ্বর।৪৬৫
আগারে গাড়িব হাড়িক ঘোড়ার পৈঘর॥
উহার মস্তক গাড়িব মিঠা নারিকল॥
আমার মাও মএনাক অরন্য বাস দিয়া।

সুক্‌খে রাজাই করিব আমি পাটত বসিয়া॥
জখন ধম্মিরাজ ডম্প কথা বলিল।৪৭০
ধিয়ানে ছিল হাড়ি চম্‌কিয়া উঠিল॥
হাড়ি বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।
ডম্প কথা বলে বেটা আপনার মহল॥
এক পায়ে দু পায়ে হাড়ি গমন করিল।
সুন্দরির মহলে জাইয়া দরশন দিল॥৪৭৫
জখন ধন্মিরাজা গুরুদেবক দেখিল।
গুরু গুরু বলি কান্দন জুড়িল॥
রাজা কহেছে শুন গুরু বলি নিবেদন।
জেই জেটে গুরু মুড়িয়া জাওঁছো মাতা।
ফিরি ফিরি দেখি আমার তেতুলের তলে বাসা॥৪৮০
গুরু জার জন্যে জাওঁ মুঞি রুদাসিনি হৈয়া।
সেই রানি মরি গ্যাল মোক চরনে পড়িয়া॥
জদি কালে রানিক জিয়াও আমার বরাবর।
হাসিয়া জবাব দিবে ছাড়িম বাড়ি ঘর॥
হাড়ি বলে হারে বেটা আজ দুলালিয়া।৪৮৫
এক ঝাড়ি জল আনো বিরসে ভরিয়া॥
রানিক জিব দান ছ্যাওছোঁ বেটা এইখানে বসিয়া।
হস্তেতে ঝাড়ি লইয়া রাজা গ্যাল চলিয়া॥
হাড়ি বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।
তবুনিয়া হাড়ি সিদ্দা এ নাম পাড়াব।৪৯০
অদুনা পদুনা কন্যার মুক্তি বদলাইব॥
অদুনার মুণ্ড কাটি পছনার ধড়ে দিয়া।

পদুনার মুণ্ড কাটি অদুনার ধড়ে দিয়া।
রসের পাচেরা দিয়া রাখিলে ঢাকিয়া॥
হুহু বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।৪৯৫
শরিলে রক্ত আসি শরিলে মিশাইল॥
রহোবন করিয়া রানির হাড়া জোড়াইল॥
এক ঝাড়ি জল রাজা আইল ধরিয়া।
হুহু বলি হাড়ি জল পড়া দিল।
গা মোড়া দিয়া রানি উঠিয়া বসিল॥[৪৮]৫০০
ভাল গিয়ান আছে গুরুর শরিলের ভিতর।
নিশ্চয় করি ধম্মিরাজা ছাড়িম বাড়ি ঘর॥
এই সব গিয়ান জদি আমরা দুই বইনে পাই।
বালাই দ্যাওঁ তোর রাজ্যের আমরাও বৈস্টমি হএ জাই॥
ছোট রানি আছে রাজার বুদ্ধির নাগর।৫০৫
তিনি উত্তর জানাএছে গুরুর বরাবর॥

মহারাজা জায় আনার বৈদেশক নাগিয়া।
ক্যামন করি রহিব হামরা মহল আগুরিয়া॥
হাড়ি বলে শুন মা কার প্রানে চাও।
রামজালে ব্রম্মজালে বাড়িটা ঘিরিও।৫১০
বার জায়গাএ চৌকি দিবেন ত্যার জায়গাএ থানা।
রতিত বৈস্‌টম আসিতে এই বাড়িত মানা॥
জাহা দেখিবেন নারি দুইটি দরশনধারি।
কাটিয়। ফ্যালাইবেন রতিত পুরুস প্রানের বৈরি॥
স্ত্রী রাজা স্ত্রী বাদসা স্ত্রী লঙ্কেশ্বর।৫১৫
স্ত্রী বই পুরুষ না রাখিবেন পাটের উপর॥
হাড়ি বলে শুন মা জননি লক্‌খি রাই।
সত্যের পাসা দেই হস্তে তুলিয়া।
বার বৎসর খ্যালেন পাসা তোমার সোআমির নাম লইয়া॥
এ কড়াএ তৈল দিয়া জোড় রত্ন বাতি।৫২০
এই পৃদিপ জলিবে তোমার কিবা দিবারাতি॥
দুগ্ধ চাউল থোও তোমার চালে টাঙ্গেয়া।
জোড় জোড় দাম্বা থোও দরজাএ টাঙ্গেয়া॥
সারি শুআ পঙ্খি থোও দরজাএ টাঙ্গেয়া॥
পসার টলিবে জে দিন পসার হবে চুরি।৫২৫
নিশ্চয় জান তোমার সোআমি জাইবে জমপুরি॥
জে দিন তোমার প্রানপতি আসিবেক ফিরিয়া।
বিনি আনলে অন্ন পড়িবেক উতলিয়া॥
দরজাএ জোড় দাম্বা উঠিবে বাদ্য হইয়া।
নিশ্চয় জানিবা তোমার সোআমি আসিবে ফিরিয়া॥৫৩০
ন্যাও ন্যাও গুরুধন তোমার হইল শিস।
বার বৎসর হইলে আমাক আনি দেইস॥
দুই আঙ্গুলে রাজার কান্দে তুলি দিলে ভার।
এ বায় বাতাসে রাজা নাগিল হালিবার॥

জখন ধম্মিরাজ চতুরার বাহির হইল।৫৩৫
দক্‌খিন দুআরি বাঙ্গলা ভাঙ্গিয়া পড়িল॥
হাটি হাটি পৃদিপ রাজার সমস্ত নিবিতে লাগিল॥
জমুনার ঘাট সেও বন্দি হইল।
চৌদ্দখান মধুকর জলে ডুবিল॥
গুরু ই শিস্‌স পন্ত মেলা দিল।৫৪০
জত আছে সন্য সেনা সাজিয়া বাহির হইল॥
জোড় বাংলার নাট মন্দির হালিয়া পড়িল॥
রাজার জত সন্য সেনা কান্দিতে নাগিল।
খ্যাওয়া ঘাটে কান্দে রাজার বাইস কানো নাও।
বাইস কানো নাও কান্দে তেইস কানো দাড়ি।৫৪৫
গলেআর মাজি কান্দে বিসাসয় কাণ্ডারি॥
পিন্‌জারির মধ্যে কান্দে টিঠির ময়ুর।
শিকার করিতে কান্দে নও বুড়ি কুকুর॥
দুগ্ধ খাইতে কান্দে রাজার সোল কানো গাই।
পঞ্চাস কানো তালুক কান্দে আসি কানো ঠাঞি॥৫৫০
শয়ান করিতে কান্দে পুস্পের পালংকি।
বুড়া রাজার কালের কান্দে বাইস কানো হস্তি॥
বাইস কানো হস্তি কান্দে রুপুত করিয়া সুঁড়।
হস্তির উপর মাহুত কান্দে জ্যান পিপিড়ার মুট॥[৪৯]

বসিবার মাছিয়া কান্দে শঙ্খ চক্র মোড়া।৫৫৫
তাজিবা তুরোকি কান্দে নও শ হাজার ঘোড়া॥
কত শত রাইয়ত রাজার কান্দিতে নাগিল।
তেলি কান্দে মালি কান্দে আরো কান্দে ধুপি।
শয্যা হৈতে উঠিয়া কান্দে ছয় মাসিয়া রুগি॥
পানিত কান্দে পানকৌড়ি সুটানে কান্দে রুত।৫৬০
গাভির বাছুর ছাড়িয়া কান্দে না খায় মাএর দুদ॥
কান্দময় সংসার হৈল রাজার অন্তপুরি॥

সন্ন্যাস হবার কান্দন দেখি রাজার দয়া হৈল।[৫০]
কত হাজার মন খ্যাসারি পাক করিয়া নিল॥
সন্য সেনাক খোআইলে সন্তোস করিয়া।৫৬৫
বাপ কালিয়া টাঙ্গন রাখিলে এলাগান নাগিয়া॥
কত শত হেঙ্গল রাখিলে বন্ধন করিয়া।
কত শত গাভি রাজা রাখিলে বান্ধিয়া॥
দুদ কলা খোআইলে সারি শুআ পঙ্খিক সন্তোস করিয়া।
সারি শুআ পঙ্খি থুইলে দরজাত টাঙ্গেয়া[৫১]৫৭০
বারখানে চকি বসাইল ত্যারখানে থানা।
বার বছর হুকুম কৈল্ল লোক আসবার মানা॥
রামজালে ব্রম্মজালে রাজপুরি নইলে ঘিরিয়া।
সত্যের রন্ন থুইলে চুংগিতে টাঙ্গেয়া॥[৫২]

জে দিন প্রানপতি আসিবে ফিরিয়া।৫৭৫
বিনি আনলে অন্ন পড়ে উতলিয়া॥
জোড় জোড় নাগাড়া থুইলে দরজাএ লপটাইয়া।
জে দিন প্রানপতি আসিবে ফিরিয়া।
আপনে জোড় নাগাড়া উঠিবে বাদ্য হইয়া॥
সত্যের পসার নিলে হস্তে করিয়া।৫৮০
বার বৎসর থাকিবে আনি সোআমির নাম লইয়া॥[৫৩]
পসার টলিবে জেদিন পসার হবে চুরি।
নিশ্চয় জানিবেন সোআমি জাইবে জমপুরি॥
জখন রদুনা রানি উপদেশ পাইল।
কান্দি কাটি সোনার বাটাএ ভিক্‌খা সাজাইল॥৫৮৫

এখন ন্যাও ন্যাও ভিক্‌খা সোআমি ঝোলাএ ভরিয়া।
গুরু শিস্‌সে খাএন বৈদেশক জাইয়া॥
বাম হস্ত দিয়া সিদ্দা ডাইন হস্ত ধরিল।
বৈদেশ নাগিয়া গুরু শিস্‌সে পন্থ ম্যালা দিল॥[৫৪]
এক দরজা দুই দরজা তিন দরজাএ গ্যাল।৫৯০
রাজার ভাই খেতুআ পচ্ছাৎ কান্দিতে নাগিল॥
সিতা ম’লে সিতা পাব প্রতি ঘরে ঘরে।
গুনের ভাই লক্‌খন ছাড়ি গ্যালে আমি ভাই কইব কারে॥
বার বছর জায় দাদা রুদাসিনি হৈয়া।
তোমার রাজাই কে করবে তোমার পাটতে বসিয়া॥৫৯৫
রাজা বলছে ওরে গুনের ভাই,—
বার বছর জাইছি আমি রুদাসিনি হইয়া।
তুমি রাজাই করেন আমার পাটতে বসিয়া॥
সুবুদ্ধ ছিল খেতুআ কুবোধ নাগাল পাইল।
রাজ বাক্য খেতুআ ব্রথা না করিল॥৬০০
এক ডণ্ড থাকেন আজা পন্থে ডাড়াএয়া।
দোহাই ফিরিয়া আইসোঁ বন্দরোতে জাএয়া॥

বন্দরক নাগিয়া খেতু গমন করিল।
দোহাই দোহাই বলি খেতু চেচাইতে নাগিল॥
দোহাই রাজার দোহাই রাজার বন্দরিয়া ঘরেঘর।৬০৫
আইজ হইতে আমি রাজা হৈনু খেতুআ লঙ্কেশ্বর॥
জ্যান কালে খেতুআ দোহাই ফিরাইল।
বন্দরিয়া আইয়তেরে মাথায় বজ্জর ভাঙ্গিয়া পৈল॥
একনা পরামানিকের চ্যাংরা আছে আটিয়া খ্যাচর।
তাঁর উত্তর দ্যায় খেতুআ বরাবর॥৬১০
আইয়ত বলে ওরে খেতুআ,—
ছোট নোকের ছাওয়া জদি বড় বিসই পায়।
টেড়িয়া করি পাগ্‌ড়ি বান্দি ছেঞার দিগ্‌গে চায়॥
বাশের পাতারি নাকান ফ্যার ফ্যারিয়া ব্যাড়ায়॥
ওরে খেতুআ তোর আজাই মানি না।—৬১৫
বার বছর জাএছে রাজা মাউরিয়া করিয়া॥
বার বছর খাজনা থোব মোকোর করিয়া॥
জে দিন দেখব ধম্মিরাজা আসিবে ফিরিয়া।
বার বছর খাজনা দিব হিসাব করিয়া॥
জ্যান রাইয়ত সকলে একথা বলিল।৬২০
সোল স্যার ছিল খেতু এক পোআ হৈল॥
পাইকালি নাঠি খেতু পাক দিয়া ফ্যালাইল।
ফিরিয়া আসিয়া রাজাক কথা বলিতে নাগিল॥
ওগো গুনের ভাই,—আমার আজাই মানে না;
জে দিন বোলে ধম্মিরাজা আসিবেন ফিরিয়া।৬২৫
বার বছরি খাজনা তোমাক দিবে হিসাব করিয়া॥
রাজ। বলে শুনেক খেতু খেতুআ লঙ্কেশ্বর।
বার বছর জাএছি আমি উদাসিনি হৈয়া।
মিছা পাটে রাজাই করেক পাটত বসিয়া॥
এক দণ্ড দুই দণ্ড তিন দণ্ড হৈল।৬৩০

রাজাক ধরি হাড়ি সিদ্দা গমন করিল॥
ছোট রাইয়ত বলে বড় রাইয়ত ভাই।
কোন দেশি বৈস্‌টম রাজাগ নিগায় বাউরা করিয়া।
চল সবাই মিলি পাছত জাই আরো সাজিয়া॥
আধ ঘাটা হৈতে রাজাক আনিতো ছিনিয়া॥৬৩৫
রাজাক ছিনি আনিবার তরে এদৌড় ধরিল।
সুবুদ্ধ ছিল রাজার কুরোধ নাগাল পাইল॥
আপনার মহলের ভিতি ফিরিয়া দেখিল।
আইয়ত প্রজাক দেখি রাজা কান্দিতে নাগিল॥
গুরু জিগ্‌গাস না করাতে রাজা পন্থে বসিল॥৬৪০
ন্যাওঁ আরে ডোর কোপিন ন্যাওঁ আরে হস্‌কিয়া।
আর জাওয়া হৈল না আমার বৈদেশ নাগিয়া॥
জিগ্‌লার জন্য জাই গুরু রুদাসিনি হৈয়া।
সেই আইয়ত প্রজা আ’সছে আমার পাছতে কান্দিয়া॥
জখনে রাজার ডোর কপিন হস্তে হস্‌কিয়া দিবার চাইল।৬৪৫
আউটহাতে হাড়ি সিদ্দার মন বিদুর হৈয়া গ্যাল॥
প্রথম শিস্‌স করিলাম আমি হরিনাম মন্ত্র দিয়া।
আইয়তেক দেখিয়া কপিনি দেইস আরো হস্‌কিয়া॥
কিবা কর রাজপুত্র নিছন্তে বসিয়া।
বিন্নার ডাল নে এক্‌না হস্তে করিয়া॥৬৫০
দণ্ডখিরন কর পন্থে বসিয়া।
আপনেত রাইয়ত প্রজা জাইবে ফিরিয়া॥[৫৫]

সুবুদ্ধ ছিল রাজার কুবোধ নাগাল পাইল।
বিন্নার ডাল দিয়া রাজা দন্ত খিরন করিল॥
কপালের লকুখি রাজার ছাড়িয়া পলাইল॥৬৫৫
পাত্রর গোড়া দিয়া গোড়া চুলকাইল।
বাহ বছর দুগ্ধ রাজার কপালেক বসিল॥[৫৬]
জত আছে আইয়ত প্রজা ফিরি পালায়া গ্যাল॥
রাহু কেতু শনি আসি গব্ববাস হইল॥
বাম হস্ত দিয়া সিদ্দা ডাইন হস্ত ধরিল।৬৬০
বৈদেশ নাগিয়া পন্থ ম্যালা দিল॥
সাত দিনকার রাস্তা জাএয়া সিদ্দার বুদ্ধি আলেক হইল।
রাজার কন্দের ঝোলা ধিয়ানত পসান করিল॥

ঝোলার ভারতে মহারাজ কান্দিতে নাগিল॥
রাজা কএছে―মহলতে আন্নু ঝোলা সোলাতে পাতল।৬৬৫
পন্থে আসি ঝোলা হইল বাইশ মন পাতর॥
এতেক জদি জান গুরু পন্থ অনেক দূর।
এক ঝন জদি ভাণ্ডারি আন্নু হয় সঙ্গত করিয়া।
তার ঘাড়তে ঝোল দিয়া গেইলাম হয় চলিয়া॥
জখনে ধম্মিরাজ এই কথা বলিল। ৬৭০
ও কথাতো হাড়ি গাএ মাখিয়া নিল॥
হয় হয় রে জাদু ধন এই তোদের ব্যাপার।
তুমি রাজার ছাইলা জাও শুন্যে হাটিয়া।
আমি তোদের ভাণ্ডারি জাই ঝোলাটা ধরিয়া॥
ঐঠে হতে গুরু শিস্‌সে পন্থ ম্যালা দিল। ৬৭৫
ছয় মাসের পন্থ হতে কুআ সিজ্জাইল॥
চান জ্যাম ঘটি মারিলে পৃথিবি হয় অন্ধকার।
এই প্রকার পৃথিবিখান হাড়ি করিলে অন্ধকার॥
অন্ধকারের ভিতরে ভিতরে জঙ্গল সিজ্জাইল।
উড্ডাভারনি গাজার ঠাঞি ঠাঞি। ৬৮০
বাকআছুরা পানিমুখারি ন্যাখা জোখা নাই।
বিশ কুডুলি লজ্জাবতি ডেকিয়া বিন্নাখোপ আখিলে গাড়িয়া।
তিন কোরোশের আস্তা দিলে জঙ্গল সিজ্জাইয়া॥
ঐ পন্থ দিয়া রাজার ছেইলাক নিগায় তো হাটায়া॥
শাল মান্দার পালাস গাজার তার ন্যাখা জোখা নাই।৬৮৫
শুন্যের হাড়ি জায় শুন্যে চলিয়া।
দুই হস্তে জায় রাজা জঙ্গল ভাঙ্গিয়া॥
ইন্নি কাটে বিন্নি কাটে রাজার রক্ত পড়ে ধারে।
চলিতে না পারে রাজা কপালে চওড় মারে॥
ওহে গুরু ওহে গুরু গুরুপায় জলন্তরি। ৬৯০
তোমার মহিমা গুলান বুঝিতে না পারি॥

সাত দিন নও রাত্রি চলি জঙ্গল বাড়ি দিয়া।
চান সুজ্য না দেখিলাম আমরা অভাগিয়া॥
এতই জদি জানেন তোমরা পন্থেতে জঙ্গল।
এও কথা কহিলেন না তোমরা মহলের ভিতর॥[৫৭]৬৯

গুরু,―কত গিলা হস্তি ছাইল্লাম মহলের ভিতর।
একটা জদি আইন্নু হয় সঙ্গতে করিয়া।
হস্তিত চড়ি জঙ্গল দিয়া গেইলাম হয় চলিয়া॥

জ্যান কালে ধম্মিরাজা এ গল্প করিল।
এওটা দোস হাড়ি সিদ্দা গাএ মাখিয়া নিল॥ ৭০০
তুমি রাজার ছেইলা জাও হস্তিত চড়িয়া।
আমি তোদের মাহুত জাই চার কাটিয়া॥

থাউক থাউক এগুলা দুস্ক পাঞ্জারের ভিতর।
একনা দুস্ক দিব এলায় বড় জঙ্গলের ভিতর॥
ওঠে হতে হাড়ি সিদ্দা পন্থ ম্যালা দিল।৭০৫
ধিয়ানের হাড়ি সিদ্দা ধিয়ানত দেখিল॥

মুনি মন্ত্র গিয়ান নিলে রিদএ জপিয়া।
ছয় মাসের আস্তা দিল অরুন জলঙ্গ সিজ্জাইয়া॥
ঐ জঙ্গল দিয়া গুরু শিস্‌সে জাইছে চলিয়া॥
কতেক দুর জাএয়া সিদ্দা কতেক পন্থ পাইল।৭১০
মাজার জঙ্গলে রাজাক ছাড়িয়া অগ্রে চলিয়া গ্যাল॥

জখনে ধম্মিরাজা গুরুক না দেখিল।
গুরু গুরু বলিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল॥
মহল হতে আ’নলে গুরু বুধ ভরসা দিয়া।
অরুন জঙ্গলে বনবাস দিয়া গুরু পালাইল ছাড়িয়া॥৭১৫
চ্যাংরা বয়ক্রমে রাজার গাএ ছিল বল।
দুই হস্তে ধম্মিরাজা ভাঙ্গিল জঙ্গল॥

দুই হস্তে মহারাজ জঙ্গল দ্যায় ভাঙ্গিয়া।
নাটার কাটায় দেবুর নাগি পড়িল উলটিয়া॥
কত কত কাটা রাজার বুক্‌খে বসিল।৭২০
মৃত্যু সমান হএ রাজা কান্দিতে নাগিল॥
ছয় কোরোশ অন্তরে হাড়ি সিদ্দা ফিরিয়া দেখিল।
রাজাগ না দেখি হাড়ি সিদ্দ। চমকিয়া উঠিল॥
আইজ জদি রাজপুত্র জঙ্গলে জায় আরো মরিয়া।
কাইল ডাহিনি মএনা মারিবে আমাক নোহার ছুরি দিয়া॥৭২৫
ছয় কোরোশ অন্ত্রে হাড়ি সিদ্ধা আসিল ফিরিয়া।
ব্যাত্যন্ত চাপরেক রাজাক মারিল তুলিয়া॥
তুই বড় রসিয়া ছাইলা তুই বড় রসিয়া।
সাত দিনকার নিদ্রা পাল্লু জঞ্জলে শুতিয়া॥
জ্যান কালে ধম্মিরাজা গুরুক দেখিল।৭৩০
গুরুকে দেখিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল॥
দ্যাখ দ্যাখ গুরুবাপ কমবোক্তার কপালে।
কত গিলা কাটা বইসছে হিরিদের মাজারে॥
ক্যানে ক্যানে গুরু বাপ ভক্তের ছাড় দয়া।
খানিক স্যান্‌হ না হয় পুত্রধন বলিয়া॥৭৩৫

হাতে ধরোঁ গুরু বাপ পাও ধরোঁ তোক।
তোমার ধম্মের দোহাই নাগে দমটি রক্‌খা কর॥
রাজার কান্দন দেখিয়া গুরুর দয়া হৈল।
বুক্‌খে পাও দিয়া কাটা টানিয়া তুলিল॥
ডেবু বর্সার ভুলের নাকান অক্ত ছুটিল।৭৪০
রক্তবা নদি হৈয়া বহিতে নাগিল॥
মুনি মন্ত্র গিয়ান নিলে সিদ্দা রিদয়ে জপিয়া।
শুন্যের নদিকে দিলে শুন্যত মিলাইয়া॥
ঐ জঙ্গলে জঙ্গলে ধরি জায় রাজাক বৈদেশ নাগিয়া॥
রাজা বলে শুন গুরু আমি বলি তোরে।৭৪৫
ছয় মাস হাটিছি গুরু জঙ্গল বাড়ির মাঝে।
চান সুরজ কোন দিক বয়া জায় তারি না পাওঁ দিসা॥
দ্যাও দ্যাও গুরু বাপ একনা সুরজ সিজ্জাইয়া।
এক ঘড়ি দ্যাখোঁ সুজ্য নয়ন ভরিয়া॥
হাড়ি সিদ্দা বলে জয় বিধি কন্মের বোঝোঁ ফল।৭৫০
ছায়াত্র ছায়াএ রাজাক নিগাও বৈদেশ সহর।
চান সুরজক দেখিবার চাএছে পন্থের উপর॥
তেমনিয়া হাড়ি সিদ্দা এই নাওঁ পাড়াব।
চান হুরজের জ্বালা আমি একটাএ করাব॥
ছয় কোরোশের আস্তা ধিয়ানত বালু সিরজি দেব॥৭৫৫
হুহু বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
শুন্যের জঙ্গল হাড়ি শুন্যে উড়ি দিল॥
ছয় মাসের পন্থ হইতে হাড়ি বালা সিজ্জাইল॥
হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
এখনি বুঝা জাইবে মোর ভক্তের মন॥৭৬০
সুজ্যদ্যাব বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
ডাক মধ্যে সুজ্যদ্যাব দিলে দরশন॥
সুজারাজা আসিয়া হাড়িক প্রনাম।

ক্যান ক্যান ডাকেন গুরু আমার কিবা কাম॥
ব্রম্মাদ্যাব বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।৭৬৫
ডাক মধ্যে ব্রম্মাদ্যাব দরশন দিল।
ব্রম্মাদ্যাব আসি হাড়িক প্রনাম।
ক্যান ডাকেন দাদা আমার কি কাম॥
হাড়ি বলে শুজ্যদ্যাব কার প্রানে চাও।
ত্যারটা সুজ্যের জালা দ্যাও তো ছাড়িয়া॥৭৭০
তলে হউক তপ্তি বালা উপরে ঔদ্রের জালা।
চলিবার না পারে রাজা শরিল জ্যান হয় কালা॥
কি করহে ব্রহ্মাদ্যাব কার প্রানে চাও।
জত মোনে বালা আছে আমাক তপ্ত করি দ্যাও॥
ব্রম্মাদ্যাব বলে দাদা আমাক দিলে লাজ।৭৭৫
বালা তপ্ত করা বড় নহে কাজ॥
ত্যারটা সুজ্যের জালা দিলে ছাড়িয়া।
ব্রহ্মাদ্যাব গ্যাল বালা তপ্ত করিয়া॥
জখন ধশ্মিরাজা বালা দেখিল।
শিশু ব্যালার খ্যালা রাজার মনে পড়িল।৭৮০
দৌড়িয়া জাইয়া বালাএ দিলে পাও।
সব্বাঙ্গ শরিলে রাজার জলে সব্ব গাও॥[৫৮]

গুরু গুরু বলি রাজা কান্দন জুড়িল।
দুই নয়নে প্রেমধারা বহিতে নাগিল॥
ওহে গুরু ওহে গুরু গুরুপা জলন্দরি।৭৮৫
তোমার মহিমা আমি বুঝিতে না পারি॥
তলে হইল তপ্তি বালা উপরে রবির জালা।
চলিতে না পারোঁ আমার শরিল হইল কালা॥
বাড়ি হ’তে আনিলেন আমাক বুদ্দি ভরসা দিয়া।
এত ক্যান দুক্‌খ দ্যাএছেন আমাক বৈদেশ আনিয়া॥৭৯০
রাজা কহেছে শুন গুরুপা জলন্দরি।
এই বালার মধ্যে জদি একটা বৃক্‌খ পাই।
গুরু শিস্‌সে জাইয়া আমরা সেই বৃক্‌খের তলে দাণ্ডাই॥
দ্যাও দ্যাও গুরু বাপ একনা বিরিখ সিরজাইয়া।
এক ঘড়ি দম ন্যাওঁ বিরিখের তলে জাইয়া॥৭৯৫
তারপরে গুরু শিস্‌সে জাই আরো চলিয়া॥
ভক্তের কান্দন দেখি গুরুর দয়া হৈল।
মায়া করি পন্থের মধ্যে নিম বিরিখের গাছ সিজ্জাইল॥
চাক্‌খসে ধম্মিরাজা বিরিখের গাছ দেখিল।
গুরুদ্যাবক পাছত ফ্যালে অগ্রে চলি গ্যাল॥৮০০
তেমনিয়া হাড়ি সিদ্দা এনাওঁ পাড়াব।
শুন্যের বিরিখ আমি শুন্যে চালেয়া দেব॥
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে সিদ্দা রিদএ জপিয়া।
শুন্যের বিরিখ হাড়ি সিদ্দা দিল শুন্যেতে চালেয়া॥
বিরিখ বুলি মহারাজ জাএছে দৌড়িয়া।৮০৫
সেও জে নিদারুন বিরিখ জাএছে পাওছাইয়া॥
দৌড়ি জাএয়া ধম্মিরাজ বিরিখের তলে বসিল।
ডাল ভাঙ্গি নিদারুন বিরিখ ভুমিতলে পড়িল॥
করুনা করিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল॥
আহা রে কমবোক্তা নছিব কভু নহে ভাল।৮১০

জেনা বিরিখের নইলাম ছেঞা তারো ভাঙ্গিল ডাল॥
ডাল ভাঙ্গিয়া নিদারুন বিরিখ পৈল ভূমিতলে।
আহা রে কম্‌বোক্তা নছিব এই ছিল কপালে॥
হ্যানকালে গুরু জাএয়া রুপস্থিত হৈল।
গুরুর চরন ধরি রাজা কান্দিতে নাগিল॥৮১৫
বিরিখের তলে দাড়াইলাম ছেঞা পাবার আশে।
ডাল ভাঙ্গি নিদারুন বিরিখ পৈল ভূমিতলে॥
দ্যাও দ্যাও গুরু বাপ একনা বিরিখ সিজ্জাইয়া।
এক ঘড়ি দম ন্যাওঁ বিরিখের তলে জাএয়া॥
বিরিখ বিরিখ বলি রাজা কান্দিতে নাগিল।৮২০
ভক্তের কান্দন দেখি গুরুর দয়া হৈল॥
আবার তিন কোরোশ অন্তরে একনা খেইল কদমের গাছ সিজ্জাইল॥[৫৯]
গুরু শিস্‌সে গ্যাল গাছের তলত চলিয়া।
গুরুর তরে কথা কান্দি দ্যাএছে বলিয়া॥
গুরু! তিন কোরোশ আসিনু গুরু জঙ্গলে হাটিয়া।৮২৫
আরো তিন কোরোশ আইনু গুরু বালুবাড়ি দিয়া॥
তোমার হাটুয়া দ্যাও মোক শিওরে নাগিয়া।
এক দণ্ড ঘুম পাড়ি ন্যাওঁ বিরিথের তলে শুতিয়া॥

ভক্তের কান্দন দেখিয়া গুরুর দয়া হৈল।
বাম হাটুয়া হাড়ি সিদ্দা শিওরে নাগি দিল॥৮৩০
গুরুর হাটুয়া সিতান দিয়া রাজা নিদ্রাত পড়িল॥
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে রিদএ জপিয়া।
হুঙ্কারেতে নিদ্রালিক আইনলেন ডাক দিয়া॥
সাতদিনকার নিদ্রা দিলে রাজার চক্‌খে ছাড়িয়া॥
হিঞালি পবনের বাও দিলেতো নাগায়া।৮৩৫
রাজপুত্র থুইলে সিদ্দা নিদ্রাত ফ্যালাইয়া॥
হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
রাজার ছেইলা নিদ্রা জায় বৃক্‌খের তল।
কার হস্তে পালঙ্ক আনাওঁ হাড়ি লঙ্কেশ্বর॥
ধিয়ানের হাড়ি ধিয়ান করি চায়।৮৪০
ধিয়ানের মধ্যে জমলানির লাগ্য পায়॥
জমপুরক নাগি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
ডাক মধ্যে জম সকলের আসন নড়িল॥
গোদা জম উঠি বলে আবাল জম ভাই।
আমার রকম মরদ নাই রাজ্যের ভিতর॥৮৪৫
আসন কে নড়াইলে মোর ঘড়িকের ভিতর॥
সকল জম সাজি গ্যাল আবাল জমের বাড়ি।
আবাল জম খাড়া হইল তার মাটিত পৈল দাড়ি॥
ধিয়ানের জম সকল ধিয়ান করি চায়।
ধিয়ানের মধ্যে হাড়ির লাগ্য পায়॥৮৫০
রাজার ছেইলা নিদ্রা জাইছে বৃক্‌খের তলে।
তে কারনে গুরু ডাকায় আমার বরাবরে॥
কি কর জমের মা কার প্রনে চাও।
একখান পালঙ্ক ন্যাও মস্তকে করিয়া।
একখান পাঙ্কা ন্যাও হস্তে করিয়া।৮৫৫
শিঘ্র করি চলি জাও বৃক্‌খের তল বলিয়া॥

জখন জমের মাও একথা শুনিল।
একখান পালঙ্ক নিলে মস্তকে করিয়া॥
একখান পাঙ্কা নইলে হস্তে করিয়া॥
শিঘ্র করি জায় বুড়ি বৃক্‌খের তল বলিয়া॥৮৬০
জখন হাড়ি সিদ্দা পালঙ্ক দেখিল।
পালঙ্ক দেখিয়া সিদ্দা খুসি ভালা হইল॥
রাজাক কোলে নইয়া হাড়ি পালঙ্কে শোয়াইল।
চান বদন ভ’রে রাজার লৈক্‌খ চুম্ব দিল।
জমলানির তরে কথা বলিতে নাগিল॥৮৬৫
কি কর জমের মাও কার প্রানে চাও।
ছাইলার পৈতানে বেটি বৈস ভিড়িয়া।
আচ্ছা জতনে ছাইলাক বাতাস কর বসিয়া॥
কোনখানে নাগিয়াছে খোছা গাঞ্চা বাহির কর টানিয়া॥
হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।৮৭০
রাজার ছেইলা নিদ্রা গ্যাল বৃক্‌খের তলে।
মারুলি বান্দি নইব আমি ডারাইপুর সহরে॥
হাড়ি বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।
বিশকম্মা বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
গাড়াঅন্যা বলি ডাকাইতে নাগিল।৮৭৫
ডাক মধ্যে তিনজন দরশন দিল॥
তিনজনে আসি হাড়িক প্রনাম।
ক্যান ডাকেন গুরু আমায় কি কারন॥
হাড়ি বলে হারে জাদু কার প্রানে চাও।
রাজার ছেইলা নিদ্রা পইল বৃক্‌খের তলে।৮৮০
মারুলি বান্ধি নইব আমি ডারাইপুর সহরে॥
জা জা গাড়াঅন্যা জঙ্গল ভাঙ্গিয়া।
জা জা বিশকম্মা বেটা ডিট্‌মুণ্ড হইয়া॥
কাম কাজ্য করিয়া পাইয়া গ্যাল কুল।

বিদায় হইবার আসিল হাড়ির হুজুর॥৮৮৫
বিদায় দ্যাও বিদায় দ্যাও গুরুপা জলন্দরি।
আলক রথে চলি জাই শ্রীঘর বাড়ি॥
হাড়ি বলে হারে জাদু কার প্রানে চাও।
একদণ্ড রহিবেন তোমরা ধৈরন ধরিয়া।
জাবত না আইসোঁ মুঞি হাড়ি সিদ্দা মারুলি দেখিয়া॥৮৯০
ওখানে থাকি হাড়ির হরসিত মন।
মারুলির কুলে জাইয়া দিল দরশন॥
মারুলি দেখি হাড়ি খুসি ভালা হইল।
ভাল মাল্লি স্থির করিয়াছেন ডারাইপুর সহরে॥
হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।৮৯৫
কার হস্তে মারুলি বান্দি নেই ডারাইপুর সহর॥
ধেয়ানের হাড়ি ফির ধেয়ান করি চায়।
ধেয়ানের মধ্যে হাড়ি জমের লাগ্য পায়॥
হাত মেলিলে হাড়ি সিদ্দা হাত গ্যাল আকাশ।
পাও মেলিলে হাড়ি সিদ্দা পাও গ্যাল পাতাল॥৯০০
গাএ রোমা বাড়াইয়ে দিলে নাড়া তালের গাছ॥
এই রোম জাএয়া সিদ্দাক জমপুরে ঠেকিল।
লৈক্‌খ লৈক্‌খ জম তবে চমকিয়া উঠিল॥[৬০]
বড় জমে বলে দাদা ছোট জম ভাই।
গুরু বাপ ক্যানে ডাকায় চল দ্যাখতে জাই॥৯০৫
সাজ সাজ বলি জম সাজিতে নাগিল।

চ্যাংরা চ্যাংরা জম সাজিল মাথাএ সোনার টুপি।
জুআন জুআন জম সাজিল গালাএ রসের কাটি॥
বুড়া বুড়া জম সাজিল হাতে সোনার নাটি॥
সৌক জম সাজিয়া গ্যাল আবাল জমের বাড়ি।৯১০
আবাল জম খাড়া হইল মাটিত পৈল্ল দাড়ি॥
সাজে জম অমলা উটপতি কমলা।
খসিল জমের মণ্ডবের কাপাট।
সাজে জম রজ্জন ধনুকে বান্দিয়া গুন
ঐটা দ্যাখ জত জমের কাড়ি॥ ৯১৫
সাজে আবাল জার অষ্ট কপাল।
এটা দ্যাখ জত জমের সদ্দার।
সাজে জম হস্তিকন কুলা হ্যান জার কান
মুলা হ্যান জার মুখের দন্ত॥
সাজে জম এঙ্গা প্যাঙ্গা সাজে জম পিপিড়াঠ্যাঙ্গা৯২০
দুআরধরা তুঙ্কুরপড়া সব জম সাজিতে নাগিল॥
এক ঝন ব্যারায় দুই ঝন ব্যারায় ব্যারায় হল্‌কে হল্‌কে।
এইটি হতে ঠ্যাং নাগিল গুরুদেবের সাক্‌খাতে॥
গুরুর নিকট জাএয়া জম রুপস্থিত হৈল।
গুরু গুরু বলিয়া তখন প্রনাম জানাইল॥৯২৫
সিদ্দা হাড়ি জমক বলিতেছেন,—
রে বেটা জম,—তোমাকে আমি এই জন্য ডাকছি।
আমি একটি রাজার পুত্র আনছি সঙ্গেতে করিয়া।
তাঁয় হাটিতে পারে না জাদু বালাএ আসিয়া॥
হাটিবার না পারায়ওঁ ছেইলা বালির উপর।৯৩০
ইহার মাল্লি বান্দি দ্যাও ডারাইপুর সহর॥
ডারাইপুর সহরের মাল্লি দ্যাও আরো বান্দিয়া
রাজাক ধরি জাই আমি বৈদেশ নাগিয়া॥
জ্যান কালে জম বেটা একথা শুনিল।

থর থর করি জমগুলা কাঁপিয়া উঠিল॥৯৩৫
দ্যাও দ্যাও গুরু বাপ কোদাল দ্যাও আনিয়া।
ডারাইপুর সহরের মাল্লি দেই আরো বান্দিয়া॥
জ্যান কালে জম বেটা কোদাল চাহিল।
কোদালক নাগিয়া সিদ্দা হুঙ্কার ছাড়িল॥
ডাক মধ্যে লওশো আসিয়া হাজির হইল।৯৪০
জম বেটার তরে সিদ্দা কামের ফরমাইস দিল॥
জুআন জুআন জমে জাও চাপা কাটিয়া।
চ্যাংরা চ্যাংরা জমে জাও চাপারে উঠিয়া॥
বুড়া বিরধু জমে জাও চাপারে রাখিয়া।
শও হাত ওসার করবেন মাল্লিক এ বুক উচল।[৬১]৯৪৫
দুরে দুরে খুড়ি জাইবেন পুষ্করিনির জল॥
গুরুর বাক্য জম বেটা ব্রথা না করিল।
ছয় মাসের কাজ জম ছয় দণ্ডে করিল॥
করদস্ত হএ জম গুরুর কাছে বিদায় চাইল॥
বিদায় দ্যাও বিদায় দ্যাও গুরু বিদায় দ্যাও আমারে।৯৫০
তোমার আগ্‌গা পাইলে জাই জমপুরির মাঝারে৷
জ্যান কালে জম বেটা বিদায় ভালা চাইল॥
সকল জমক হাড়ি সিদ্দা বিদায় করি দিল॥
গাছের লতা দিয়া আবাল গোদাক বান্দিয়া রাখিল॥
কচ্ছপ মুনিক নাগি সিদ্দা হুঙ্কার ছাড়িল।৯৫৫
ডাক মধ্যে কচ্ছপ মুনি আসিয়া খাড়া হৈল॥
কিবা কর কচ্ছপ মুনি নিছন্তে বসিয়া।
বুক ঢাকুরি মারুলি দে সামান করিয়া॥

গুরুর বাক্য কচ্ছপ মুনি ব্রথা না করিল।
বুক ঢাকুরি মারুলিক সামান করিল॥৯৬০
হাইড়ানিক নাগিয়া সিদ্দা হুঙ্কার ছাড়িল।
ডাক মধ্যে হাইড়ানি আসিয়া হাজির হৈল॥
খোলা খাপড় ঘাস জাবুরা চেছিয়া ফ্যালাইল॥
বাইন কুচিয়াক নাগি হুঙ্কার ছাড়িল।
ডাক মধ্যে বাইন কুচিয়া আসিয়া হাজির হইল॥৯৬৫
গাএর ন্যাট দিয়া মাল্লি নেপিতে নাগিল॥
মাইলানিক নাগিয়া সিদ্দা হুঙ্কার ছাড়িল।
ডাক মধ্যে মাইলানি আসিয়া খাড়া হইল॥
কিবা কর মাইলানি নিছন্তে বসিয়া।
আতর গুলাপ চন্দন দে তুই মারুলিত ছিটায়ঞা॥৯৭০
গুরুর বাক্য মাইলানি ব্রথা না করিল।
আতর গুলাপ চন্দন মারুলিত ছিটাইল॥
সউক দ্যাবাগণক সিদ্দা বিদায় করি দিল॥
হাত মেলিল হাড়ি সিদ্দা হাত গ্যাল আকাশ।
পাও মেলিল হাড়ি সিদ্দা পাও গ্যাল পাতাল॥৯৭৫
গাএর রোমা বাড়ে দিলে নাড়া তালের গাছ।
এই রোমা জাএয়া সিদ্দাক লঙ্কাএ ঠেকিল।
এক হনুমান লৈক্‌খ বানর চমকিয়া উঠিল॥[৬২]
ছোট হনুমান বলে দাদা বড় হনুমান ভাই।
গুরু বা ক্যানে তলপ কৈচ্ছে চল দ্যাখতে জাই॥৯৮০
কলা পাকিয়া দ্যাখ মঞ্জিয়া আছে পাত।
এক এক হনুমান খাইল পির ছয় জে সাত॥

লঙ্কাক নাগি হাড়ি সিদ্দা হস্ত আগেয়া দিল।
লক্‌খি লক্‌খি হনুমান হাড়ির হস্তে চড়িল॥[৬৩]
লঙ্কা হইতে হনুমান মঞ্চকে নামিল।৯৮৫
গুরু গুরু বলিয়া তখন প্রনাম জানাইল॥
হনুমান আসিয়া বলছে ওগো গুরু
আমাক ডাকছেন কি কারন—
এই কারনে হনুমান আন্নু ডাক দিয়া।
এক দণ্ড জাও পাহাড় পর্ব্বতক নাগিয়া॥[৬৪]৯৯০
কত কত পসান আনিবেন বুক্‌খে করিয়া।
আর কত পসান আনিবেন ন্যাজে পলটিয়া॥
আর কত পসান আনবেন মস্তকে করিয়া॥
গুরুর বাক্য হনুমান ব্রথা না করিল।
পাহাড় পব্বতক নাগি গমন করিল॥[৬৫]৯৯৫
কত কত পসান আনিলেক বুক্‌খে করিয়া।
আর কত পসান নিলে ন্যাজে পলটিয়া॥

আর কত পসান নিলে মস্তকে করিয়া।
আর কত ফুলের গাছ নিলে উকাড়িয়া॥
পসান আনিয়া হনুমান গুরুর নিকট দিল।১০০০
আবাল গোদার বন্দন সিদ্দা খলাস করি দিল॥

কিবা কর আবাল গোদা নিছন্তে বসিয়া।
পসান দিয়া ডিগির দ্যাও চা’র ঘাট বান্দিয়া॥

ফুলের বাগিচা দ্যাও মারুলির বগলে নাগায়া॥
জখনে হাড়ি সিদ্দা নয়নে মারুলিক দেখিল।১০০৫
আবাল গোদা দুই জমক বিদায় করি দিল॥
লঙ্কাক নাগিয়া সিদ্দা হস্ত আগেয়া দিল।
লক্‌খি লক্‌খি হনুমান হস্তে চড়িল॥
লঙ্কাএ জাএয়া হনুমানের বুদ্ধি আলোক হৈল॥
ছোট হনুমান বলে দাদা বড় হনুমান ভাই।১০১০
হাড়িয়া একটা কে হইল উঁআয় কোন জন।
উঁআর হুকুমে গেনু দাদা রৌদত খাটিবার॥[৬৬]
রাম রতের ডোর আনিতো নিগিয়া।
হাড়ি শালার হাতত নাগাই বস্‌সি গিট দিয়া॥

ছাওআয় ছোটায় লঙ্কার নাগি তুলি টান দিয়া॥
রাম রতের ডোর হাড়ির হস্তে নাগাইল।১০১৫
ছাওআয় ছোটায় হনুমানের ঘর টানিতে নাগিল॥

থাক পড়ি হাড়িক তুলিবার হাত খান নড়াইতে না পাইল।
সৌগ হনুমান হাড়ির হস্তত প্রনাম জানাইল॥
অন্তর ধিয়ানে হাড়ি সিদ্দা জানিতে পারিল॥
বেটা নিকট আসিয়া ডাকায় আমাক গুরু গুরু বলিয়া।১০২০
লঙ্কাএ জাএঞা গালি দিলেন শালি বলিয়া॥
জা জারে হনুমান বেটা তোক দিলাম বর।
মুখ পোড়া বানর হৈয়া থাক শয়ালের ভিতর॥

টিকাত চাপড় দিয়া নিবে ত্যালেঙ্গা সক্কল॥
জখন হাড়ি সিদ্দা রভিশাপ দিল।১০২৫
মুখ পোড়া বান্দর হৈয়া বনোতে থাকিল॥
লঙ্কা হৈতে হস্ত হাড়ি টানিয়া নামাইল।
মারুলি দেখিয়া সিদ্দা বড় সুখি হৈল॥
হাড়ি সিদ্দা বলে জয় বিধি কম্মের বোঝঁ ফল।
বড় দুস্কে মারুলি বান্দি নিনু ডারাইপুর সহর॥১০৩০
বাজ্জন্ত চাপড়[৬৭] রাজাক মারোঁ তুলিয়া।
জদি কালে ওঠে উআক মাএর নাম নিয়া।
তবে রাজাক না নিব মারুলিত হাটেয়া॥[৬৮]
জদি কালে ওঠে গুরু গুরু বলিয়া।
তবে রাজাক নিগাব মারুলিত চড়ায়া॥১০৩৫
বাজ্জন্ত চাপড় রাজাক তুলিয়া মারিল।
গুরু গুরু বলিয়া রাজা কান্দিয়া উঠিল॥
বাম হস্ত দিয়া রাজার ডাইন হস্ত ধরিল।
মারুলি দেখিয়া রাজা বড় সুখি হৈল॥[৬৯]
নানা জাতি পুষ্প রাজা নয়নে দেখিল।১০৪০
সুবুদ্ধ ছিল রাজার কুবোধ নাগাল পাইল।
গুরুর তরে কটু বাক্য বলিতে নাগিল॥

নিজিবার দিনে নিগাইস গুরু এই কিনা পথে।
আর গোটা চারি ফুল নিগামু রানির কারনে[৭০]
হাড়ি বলে জয় বিধি কন্মের বোঝঁ ফল।১০৪৫
বড় দুস্কে মারুলি বান্দনু পথের উপর॥
একটা পুষ্প নাই দেই আমি ঈশ্বরক বাড়ায়া।
তাতে পুষ্প নিগার চালি তোর রানিক বলিয়া॥
থাক একেনা দুস্ক পাঞ্জারের ভিতর।
একনা দুস্ক দিম বেটাক কলিঙ্কা বন্দর॥[৭১]১০৫০
এখন গুরু শিস্‌সে জাএছে পন্থ হাটিয়া।
হাড়ি বলে হারে জাদু রাজদুলালিয়া॥
মারুলি বান্দিয়া আমি বড় পাইনু দুখ।
বার কড়া কড়ি দে আমাক গাঞ্জা কিনিয়া খাই॥
গাঞ্জা কিনিয়া খাইয়া আমি গাএ করি বল।১০৫৫
তবে নি ধরিয়া জাইম তোক ডারাইপুর সহর॥
রাজা বলে শুন গুরু গুরুপা জলন্দরি।
তোমার মহিমা আমি বুঝিবার না পারি॥
আমিত না জানি তোমরা অনাচারে খাও।
অনাচারের সঙ্গে আইম কোন জন।১০৬০
অনাচারের সঙ্গে আইলে অবশ্য মরন॥
হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
ডম্প কথা কইস আমার বরাবর॥
কতক দুরে জায় হাড়ি কতক পন্থ পায়।
কড়ি কড়ি বুলিয়া ঐ হাড়ি চ্যাঁচায়॥১০৬৫

রাজা বলে শুন গুরু গুরুপা জলন্দরি।
বার কড়া নাগে ক্যান বার কাহন আছে।
এআর ভাঙ্গ ধুতিরা খাইয়া ভুলেন জ্যান শ্যাসে॥[৭২]
হাড়ি সিদ্দা বলে জয় বিধি কন্মের বোঝঁ ফল।
এর মা মএনা জ্ঞানত ডাঙ্গর।১০৭০
বার কাহন কড়ি দিছে ঝোলঙ্গার ভিতর॥
এই ধন ধরিয়া বেটার গরব হৈছে বড়।
তেমনিয়া হাড়ি সিদ্দা এই নাওঁ পাড়াব।
ঝোলার মানিক মোহর কড়ি শুন্যে চালি দিব॥

বার কড়া কড়ির থাকি বান্দা থুইয়া খাব॥১০৭৫
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে হাড়ি রিদএ জপিয়া।
ঝোলার মোহর মানিক কড়ি দিলে শুন্যত চালিয়া॥[৭৩]
কতেক দুর জাইয়া হাড়ি কতেক পন্থ পায়।
কড়ি কড়ি বলিয়া ঐ হাড়ি চ্যাঁচায়॥
হাড়ির জিদ্দি রাজা সইবার না পারিল।১০৮০
আস্তব্যস্ত হইয়া রাজা ঝোলাএ হাত দিল
ঝুলিত হস্ত দিয়া রাজা পড়িয়া গ্যাল ধান্দা।
ঝুলির কড়ি ঝুলিত নাই গুরুবাপ এ ক্যামন কথা॥
উপরে আছে গিরো গাইট তলত নাই জে ভাঙ্গা।
ঝুলির কড়ি ঝুলিত নাই গুরুবাপ মোগ থুইয়া খা বান্দা[৭৪]১০৮৫

জ্যান কালে ধম্মিরাজা বান্দার নাম নিল।
বসমাতাক ইস্‌টদ্যাবতাক প্রমান রাখিল॥
রইও রইও বসমাতা তুমি রইও সাক্‌খি।
রাজ পুত্র বন্দক নিল হাড়ির দোস কি॥[৭৫]
বার গাইটা দড়ি দিয়া ভিড়িয়া বান্দিল।১০৯০
বান্দা বান্দা বলি সিদ্দা চ্যাঁচাইতে নাগিল।
কলিঙ্কার বাজার নাগি গমন করিল॥[৭৬]
বোল্লাচাকি কলিঙ্কার বাজার গেইছে নাগিয়া।
ঐ হাটক নাগি গুরু শিস্‌সে গ্যালত চলিয়া॥
বান্দা বান্দা বলি হাড়ি ব্যাড়ায় ত চ্যাঁচাইয়া॥১০৯৫
বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও লবনবেচি বাই।
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
বান্দ। ন্যাও বান্দা ন্যাও সুপারিবেচি বাই।
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও তেইলানি হ্যার বাই।১১০০
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও মাইলানি হ্যার বাই।
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
বান্দা বান্দা বলি বাজারত চ্যাঁচাইতে নাগিল।
ছাইলার রূপ দেখিয়া কেউ বন্দক না নিল॥১১০৫

পুব্ব পশ্চিম উত্তর গলি ব্যাড়াইল ঘুরিয়া।
অবশ্যাসে গ্যাল সিদ্দা কালাইপট্টি নাগিয়া॥
বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও কালাইবেচি বাই।
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
জ্যান কালে কালাইবেচি রাজাক দেখিল।১১১০
রাজার রূপ দেখিয়া ঢলিয়া পড়িল॥[৭৭]

কালাইর দোকান কালাইবেচি ন্যাদেয়া ফ্যালায়া।
ধম্মিরাজার কমর ধৈল্লে মরিম বলিয়া॥
কালাইবেচি জখন রাজার কমর ধরিল।
জত দোকানির মাথাএ বজ্জর ভাঙ্গি পৈল॥১১১৫
লবনবেচি বলে দিদি কমরক ছাড়েক তুই।
লবনের দোকান থুইয়া কমর আগে ধরছোঁ মুঞি।
সুপরিবেচি বলে দিদি কমরক ছাড়েক তুই।
সুপারির দোকান থুইয়া কমর আগে ধরছোঁ মুঞি॥
মাইলানি বলে পিশাই কমরক ছাড়েক তুই।১১২০
ফুলের দোকান থুইয়া কমর আগে ধরছোঁ মুঞি॥
হলদিবেচি বলে দিদি কমরক ছাড়েক তুই।

হলদির দোকান থুইয়া কমর আগে ধরছোঁ মুঞি॥
তেইলানি বলে ওগো জ্যাঠাই কমর ছাড়েক তুই।
ত্যালের দোকান থুইয়া কমর আগে ধরছোঁ মুঞি॥১১২৫
টানাটানি বিচাঘিচি ব্যালার এক দুপর।
আর এক টান দিলে রাজার ছিঁড়ায় কমর॥
সক্কল দোকানি রাজাক টানিতে নাগিল।
অকারন করিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল।
গুরু গুরু বলি রাজা কান্দিতে নাগিল॥১১৩০

ওগো গুরুবাপ!  নগরের ঝগড়া বন্দরে আনিয়া।
বন্দরিয়া বেটি ছাওয়ায় কমর ফ্যালাইল ছিড়িয়া॥
রাজার কান্দন দেখিয়া গুরুর দয়া হৈল।
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে রিদএ জপিয়া।
বাও ছঞ্চরে ইন্দ্র রাজাক আইনলো ডাকিয়া॥১১৩৫
ইন্দ্র রাজাক নাগি সিদ্দা হুঙ্কার ছাড়িল।
ইন্দ্ররাজা আসিয়া হাড়িক প্রনাম।
ক্যান ক্যান ডাকান গুরু হামার কিবা কাম॥

কিবা কর ইন্দ্ররাজা নিচন্তে বসিয়া।
ঘুঙ্গানি বৈস্‌সন তুই দে আরো ছাড়িয়া॥১১৪০
নাগাও ফ্যারেন্তা ম্যাঘ হইয়া ছাড়াছাড়া।
কোন দিয়া জল বেরষ্টি কোন দিগে খরা॥
এলা হানে আইস ঝড়ি ব্যাল হ্যান পাতর।
তিন মুল্লুক ছাড়িয়া বৈস দোকানের উপর॥
হাড়ির বাক্য ইন্দ্ররাজা ব্রথা না করিল।১১৪৫
রিমিঝিমি বৈস্‌সন বস্‌সিতে নাগিল॥

রিমিঝিমি বৈস্‌সন বস্‌সে ব্যাল হ্যান পাতর।
আর কোনটে না পড়িল দোকানের উপর॥
ধুমধাম করিয়া ঝড়ি পাতর বস্‌সিতে নাগিল।
সব দোকানি পাতরের কোপেতে রাজার কমর দিলে ছাড়িয়া।১১৫০
কালাইবেচি কমর ধরছে মরিম বলিয়া॥

আর তো না দিব আমি রাজাক ছাড়িয়া॥[৭৮]
হাড়ি সিদ্দা বলে জয় বিধি কম্মের বোঝঁ ফল।
সব দোকানি রাজার কমর দিলেত ছাড়িয়া।
ছেছড়ি বেটি কমর ধরছে মরিম বলিয়া।১১৫৫
তেমনিয়া হাড়ি সিদ্দা এই নাওঁ পাড়াব।
ছেছড়ি বেটির খ্যাতি বন্দরে রাখিব॥
কিবা কর ইন্দ্ররাজা নিছন্তে বসিয়া।
দশসেরি পসান দে কালাইবেচির পিঠেতে ফ্যালাইয়া॥[৭৯]
কোদ্ধমান হইয়া ইন্দ্ররাজা কোদ্ধে জলিয়া গ্যাল।১১৬০
দশসেরি পসান কালাইবেচির পিঠে ফ্যালাইয়া দিল।
মেদ্দারা ভাঙ্গিয়া কালাইবেচির কুজ বাহির হৈল॥
তেমনিয়া ধম্মি রাজার কমর ছাড়িয়া দিল॥
বাম হস্ত দিয়া রাজার ডাইন হস্ত নিল।
বৈদেশ নাগিয়া গুরু শিস্‌সে পন্থ মেলা দিল॥১১৬৫
কালাইর দোকান কালাইবেচি নিলে জড়েয়া।
হেচ্‌কে হেচ্‌কে জাএছে আপনার মহলক নাগিয়া॥

কালাইব্যাচা গরু নিগায় ভিজিয়া ভিজিয়া।
আউগাও আউগাও বুড়া মরা দোকান নিগ্ আসিয়া॥[৮০]
বাঙ্গালিয়া বরকন্দাজ কমর ফ্যালাইলে ভাঙ্গিয়া॥১১৭০
হাউকদাউক করি কালাইব্যাচা দোকান আগেয়া নিল।
চালের খড় খসাইয়া কালাইবেচি আগুন জালাইয়া দিল॥
গাও কোনা সেকিয়া ঝরঝরা করিল॥
জলতোলা দড়ি কালাইব্যাচা আনিল তলাসিয়া।
কালাইবেচির হাতত নাগাইলে বস্‌সি গিট দিয়া॥১১৭৫
বড় ঘরের তিরত টাঙ্গাইলে ঢুলানি করিয়া॥
কালাইছেটা গাইন কোনা আনলে তলাসিয়া।
তিন ডাং ডাঙ্গাইলে আর কুজতে আসিয়া॥[৮১]
এক ডাং দুই ডাং তিন ডাং দিল।
বাপ দায় দিয়া কালাইবেচি কান্দিতে নাগিল॥১১৮০
আর না ডাঙ্গাইস বুড়া বিস্তর করিয়া।
পরপুরুষের পাছত আমি না জাব চলিয়া॥
কালাইবেচি খাউক এখন গারস্তি করিয়া।
রাজাক ধরি হাড়ি সিদ্দা জাএছে চলিয়া॥[৮২]

কতেক দুর জাএয়া সিদ্দা কতেক পন্থ পাইল।১১৮৫
হালুয়া নিকট জাএয়া রুপস্থিত হৈল॥

বান্দা বান্দা বলি সিদ্দা চ্যাঁচাইতে নাগিল।[৮৩]
বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও হালুয়া প্রানের ভাই।[৮৪]
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
জখন হালুয়া রাজাক দেখিল।১১৯০
রাজার রুপ্প দেখি হালুয়া ঢলিয়া পড়িল॥
হাউক দাউক করি হালুয়া হাল ছাড়িয়া দিল।
হালের ন্যাংরা নিল হালুয়া গালাতে পাল্‌টায়া।
করদস্ত হৈয়া কথা দ্যাএছে বলিয়া॥
হাতে পদ্দ, পাএ পদ্দ, কপালে রতন জলে।১১৯৫
গৌর বদন শরিল নাকছে জলিবারে॥
এমন রুপ্প দেখি নাই দ্যাবের দ্যাবস্থান।
কি দিয়া গড়ছে দেহা নাকছে জলিবারে॥
জ্যামন রুপ আছে রাজার শরিলের উপর।
এই কি খাটিবার পারে আমার চাসা নোকের ঘর॥[৮৫]১২০০

নাহি লাগে তামা কাসা নাহি লাগে সিসা।
কোন বিধি ঘটাইছে তনু পাওয়া না জায় দিসা॥
এমনি ইয়ার বাপ মায় ধরিয়া আছে হিয়া।
তরুন বয়সেতে দিছে তোক বোনবাস পাঠাএয়া॥
জ্যামন ছাইলাক দেখি ছাইলা রতন জলে।১২০৫
ইয়ার জোগ্যমান আছে সেই হিরা নটির ঘরে॥
সেই জে হিরা নটি বড় ভাগ্যবান।
জোড় নাগরা[৮৬] রাখিছে নটি দরজায় টাঙ্গিয়া।
কোন ঠাকার রাজা বাস্‌সা জদি জায় আরো সাজিয়া॥
এক ডাং ও দ্যায় দাম্মাতে জাএয়া।১২১০
এক হাজার টাকা ন্যায় দরজাএ[৮৭] গনিয়া॥
সোনালিয়া খড়ম দিবে চরনত নাগাইয়া॥
চামরের বাও দিয়া নিয়া জাবে হাকাইয়া॥
এক হাজার টাকা জে বা দিতে নাই পারে।
ঘাড়ে হাত দিয়া তারে চতুরার বা’র করে॥১২১৫
হালুয়ার বাক্য শুনি সিদ্দার বড় খুসি হৈল।
হালুয়াকে হাড়ি সিদ্দা আশিব্বাদ দিল॥
জা জারে হালুয়া বেটা তোক দিলাম বর।
জেখান গ্রামে থাক জাদু ঐ খান গ্রাম তোর॥
হালে নাড় হালে চাড় লাম পাড়াইও চাসা।১২২০
জত দ্যাখেন রাজা বাস্‌সা রতিত দ্যাবাগন তোমার ঘরে আসা॥
হালুয়াকে হাড়ি সিদ্দা আশিব্বাদ দিয়া।
হিরা নটির মহলক নাগি জাএছে চলিয়া॥[৮৮]

হাড়ি সিদ্দা বলে বিধি কন্মের বোঝঁ ফল।
তেমনিয়া হাড়ি সিদ্দা এই নাওঁ পাড়াব।১২২৫
ক্যামন হিরা নটি ভাগ্যবান নয়নে দেখিব॥
বাম হস্ত দিয়া সিদ্দা ডা’ন হাত ধরিল।
হিরা নটির মহলক নাগি পন্থ ম্যালা দিল॥
হিরা নটির দারেতে জাএয়া সিদ্দা খাড়া হৈল।
নকরি দেখিয়া হাড়ি নাগরা বাজাবার চায়।১২৩০
হাউক দাউক করিয়া রাজা দোআই ফিরায়॥
এক ডাং মারেন জদি নাগরাএ তুলিয়া।
এক হাজার টাকা নিবে নটি দরজাএ গনিয়া॥
কোঠে হতে টাকা দিম রাজ দুলালিয়া॥
হাড়ি বলে হারে জাদু রাজ দুলালিয়া।১২৩৫
ভাল ভাল নাগরা থুইছে দরজাএ তুলিয়া।
নাগরা বাদ্য করি শুন রাজ দুলালিয়া।
এক ডাং মা’ল্লে হাড়ি নাগরাএ তুলিয়া।
দুম দুম করিয়া পুরিটা উঠিলে কাপিয়া॥
নটি বলে হারে ভাড়ুয়া কার প্রানে চাও।১২৪০
ভৈচাল জাইছে আ’জ হরি হরি কও॥[৮৯]

ফির এক ডাং মা’ল্লে হাড়ি নাগরাএ তুলিয়া।
শব্দ হইল নটির পুরি বাত্তা জানিল।
সোনালিয়া খড়ম হিরা বান্দিক মারিল॥
কোনঠাকার রাজা বাস্‌সা আ’চ্ছে চলিয়া।১২৪৫
দুই হাজার টাকা নেইস দরজাএ গনিয়া॥
থাকিতে থাকিতে হাড়ির গোসা নাগাল পাইল।
আর এক ডাং নাগরাএ মারিল॥
নটি বলে হারে বান্দি কার প্রানে চাও।
সলেয়া সরকারক ত আইস ধরিয়া।১২৫০
তিন হাজার টাকা থুক দপ্তরে নেখিয়া॥
নটি সরকার টাকা ন্যাখে মহলের ভিতর।
হাড়ি জানিতে পাইল বাহিরে সক্কল॥
তিন হাজার টাকা নটি দপ্তরে নেখিল।
টুপ্পস করিয়া এক ডাং হাড়ি নাগরাএ ডাঙ্গাইল॥১২৫৫
চাইর হাজার টাকা নটি দপ্তরে নেখিল॥
থাকিতে থাকিতে হাড়ির গোসা নাগাল পাইল।
আর এক ডাং নাগরাএ ডাঙ্গাইল।
পাচ হাজার টাকা সরকার দপ্তরে নেখিল॥

থর থর করি হাড়ি কাপিবার নাগিল।১২৬০
নিদ্দাম ছয় বুড়ি ডাং নাগরাএ ডাঙ্গাইল॥
হাতের কলম ভুমে থুইয়া সলেয়া সরকার টকটকি নাগিল॥
এক দরজা, দুই দরজা, তিন দরজা গ্যাল।
হাড়ি সিদ্দাক দেখি বান্দি চমকিয়া উঠিল॥[৯০]

ভিতর অন্দর জাএয়া নটিক বলিতে নাগিল।১২৬৫
ওগো মা! নাই আইসে রাজা বাস্‌সা নাই আইসে সাজিয়া।
কোন ঠাগার বৈস্‌টম একটা আসছে সাজিয়া॥
বাওন্নি মুনি ক্যাঁথা আনছে কমরে বান্দিয়া।
চাল্লিশ মুনি সোডা নিছে বগলে উঠিয়া॥
পঞ্চাশ মুনি টোপ নিছে মস্তকে করিয়া।১২৭০
নয় মুনিয়া লোহার খড়ম নিছে চরনে নাগায়া॥
কান দুইটা দ্যাখা জায় মা ঝাড়ি খেওয়া কুলা।
চক্‌খু দুটা দ্যাখা জাএছে জ্যান সরগের তারা॥
দন্তগুলা দ্যাখা জায় মা—মাঘ মাসের মুলা॥
ওগো বান্দি জুআয় না বেটি বৈস্‌টম নিন্দিবার।১২৭৫
তবে ন্যাও চাউল কড়ি উপরে কাঁচা সোনা।
ভিক্‌খা দিয়া বিদায় করি দ্যাও চাপাই বান্দি কোনা॥
নটির বাক্য বান্দি দাসি ব্রথা না করিল।
সোনার বাটাত বান্দি ভিক্‌খা সাজাইল॥
ভিক্‌খা ধরি জাএছে বান্দি বাহেরার নাগিয়া।১২৮০
বৈস্‌টমের তরে কথা দ্যাএছে বলিয়া॥

ভিক্‌খা ন্যাও ভিক্‌খা ন্যাও রতিতের কোঙর।
গিরির ঘরের বউ বেটি ফিরিয়া জাই ঘর॥
একে একে দুয়ে দুয়ে তিন বার বলিল।
তবু আরো হাড়ি সিদ্দা করে না শুনিল॥১২৮৫
বেটাক বলি বান্দি বলিতে নাগিল॥
ভিক্‌খা নেরে বৈস্‌টম বেটা রতিতের কোঙর।
গিরির ঘরের বউ বেটি ফিরিয়া জাই ঘর॥
জখন বান্দি দাসি বেটা বলিল।
তুর তুর করি হাড়ি গিজ্জিয়া উঠিল॥১২৯০
হিরা নটির পাট পিড়া নড়িতে নাগিল।
কোদ্দ হৈয়া হাড়ি সিদ্দা বান্দিক নিন্দা করিল॥
দক্‌খিন দ্যাশে থাকি বান্দি নামে ব্রম্মচারি।
বান্দি লোকের ভিক্‌খাত আমি লগ্‌গি না বের করি॥
বারেক জদি ভিক্‌খা দ্যায় তোর সাইবানি সক্কল॥১২৯৫
তেমনিয়া ভিক্‌খা নিব রতিতের কোঙর॥
জখন হাড়ি সিদ্দা বান্দিক নিন্দা করিল।
চাউল কড়ি বান্দি বেটি পাক দিয়া ফ্যালাইল॥
চাউল কড়ি ফ্যালাইতে বান্দি চ্যালাক দেখিল।
ছাইলার রুপ্প দেখি বান্দি ঢলিয়া পড়িল॥[৯১]১৩০০

ভিতর অন্দর জাএয়া নটিক বলিতে নাগিল॥
ওগো মা জননি!
আমার হস্তে সে বৈস্‌টমে ভিক্‌খা ন্যায় না।
বারেক জদি ভিক্‌খা খান মা সাইবানি সক্কল।
তেমনিয়া ভিক্‌খা ন্যায় অতিতের কোঙর॥১৩০০
ওগো মা জননি,—আর এক কথা শুইনাছ।
জেই রাজার বাদে তপ কর এ বার বছর।
সেই রাজা আইছে তোমার দরজার উপর॥
জ্যামন রুপ্প আছে তার চরনের উপর।
এমন রুপ্প নাই তোমার কপালের উপর॥[৯২]১৩১০
জ্যান কালে হিরা নটি এ কথা শুনিল।
কোদ্দমান হৈয়া নটি কোদ্দে জলি গ্যাল॥
এক দণ্ড দুই দণ্ড তিন দণ্ড হৈল।
ভাড়ুয়ার তরে কথা বলিতে নাগিল॥
কিবা কর ভাড়ুয়া বেটা নিছন্তে বসিয়া।১৩১৫
জলদি বানাতের কারোআল ন্যাও আরো ঘিরিয়া॥[৯৩]

হিরা নটি জাঁও তবে বাহেরার নাগিয়া।
কোন্ দেশি বৈস্‌টম আইসছে আইসোঁ মুঞি দেখিয়া।
হির। নটির বাক্য ভাড়ুয়া ব্রথা না করিল।
আগ দেউড়ির ভিতর আন্দর বানাতের কাওরালত ঘিরিল॥১৩২০
বানাতের কাওরাওল দিয়া জাএছে চলিয়া॥
দুই দুই আঙ্গুলি নটি তুলিয়া ফ্যালায় পাও।
ঝুনু ঝুনু বুলিয়া নুপুরে ছাড়ে রাও॥
জখন হিরা নটি চতুরার বাহির হৈল।
এই বায় বাতাসে নটি হালিতে নাগিল॥১৩২৫
জেই দিয়া হিরা নটি নয়ন তুলিয়া চায়।
থাক্ পড়িয়া মানুস, দ্যাবতা ভুলিয়া জায়॥
দুই বান্দি নিলে নটি সঙ্গেতে করিয়া।
চতুরার বাহির হইয়া নটি আইল চলিয়া॥
এক দরজা দুই দরজা তিন দরজাএ গ্যাল।১৩৩০
বান্দা বান্দা বলি হাড়ি সিদ্দা চ্যাঁচাইতে নাগিল॥
বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও হিরা নটি বাই।
বার কড়া কড়ি দ্যাও ছাইলাক বান্দা থুই॥
জখন হিরা নটি রাজাক দেখিল।
গৈড়মুণ্ড হইয়া রাজাক প্রনাম করিল॥
থাল ভরি দেই মোহর ঝোলা ভরি ন্যাও।[৯৪]১৩৩৫

বান্দা ছান্দার কাজ্য নাই এইখানে ব্যাচাইয়া জাও॥
এই জে—দক্‌খিন দ্যাশে থাকি বৈস্‌টম নামে ব্রহ্মচারি।
পরের ছাইলাক আনি[৯৫] আমি ব্যাচাইতে না পারি॥
বার কড়া কড়ি দ্যাও মোর হস্তের উপর।১৩৪০
বার বৎসরকার খত দ্যাওছোঁ দরজার উপর॥
জখন হিরা নটি এ কথা শুনিল।
তিন জনা মহাজনক[৯৬] ডাকাইয়া আনিল॥
এক কিত্তা কাগজ আইল ধরিয়া।
একটা দোয়াত কলম জোগাইল আনিয়া॥[৯৭]১৩৪৫
জখন ধম্মিরাজা দোয়াত কলম দেখিল।
হাতে কলম নিয়া রাজা খত নিখিবার নাগিল॥
সনশ্রী[৯৮] ফ্যালাইলে নিখিয়া।
নটির নাম রাজা থুইলে কাগজে নিখিয়া।
কড়ি বার কড়া থুইলে নিখিয়া॥১৩৫০
তিন জন মহাজনক থুইলে সাক্‌খি করিয়া।
আপনার দিলে রাজা দস্তখত করিয়া॥
ঐ খত দিলে হাড়ির হস্তত তুলিয়া॥
জখন হাড়ি খত হস্ততে পাইল।

ঐ খত নিগিয়া হাড়ি হিরা নটির হাতে দিল॥[৯৯]
কড়ি বার কড়া আনিয়া হিরা হাড়ির হস্তে দিল॥
হস্ত ধরিয়া রাজাক নটির হস্তে দিল॥
জখন হিরা নটি রাজাক পাইল।
খট্ মট্ করিয়া নটি হাসিয়া উঠিল॥
টুপুস্ টুপুস্ করিয়া হাড়ি মাথা দমকাইল॥[১০০]
বড় রুপ্প আছে চ্যালার শরিলের উপর।
তিন দিন রং তামসা হইলে জাবে জমের ঘর॥
বাও সঞ্চরে রাজার গব্বে সোন্দাইল।

না তিরি না পুরুস রাজাক করাইল।
কাম, ক্রোধ, রতি, মায়া সকলি টুটাইল॥[১০১]
জখন হিরা নটি ব্যানামুখ্‌খ হইল।
কড়ি বার কড়া নটির দরজাএ গাড়িল॥
কপাল ফাড়িয়া হাড়ি ফুল বড়ি বসাইল।
সোনার ভোমরা হইয়। হাড়ি পাতাল ভেজি হইল॥[১০২]

চদ্দ’তাল জলোত জাইয়া ধিয়ানে বসিল।
উড্ডা ভাবনি হাড়ির মস্তকে গাজাইল॥
ব্রম্মতাল ভেদিয়া হাড়ির একটা তালের গাছ ব্যারাইল।
বার বৎসর হাড়ি ধিয়ানে বসিল॥
জখনে ধম্মিরাজ গুরুক না দেখিল।
করুনা করিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল॥
মহল হৈতে আনলে গুরু বুধ ভরসা দিয়া।
নটির মহলত বান্দা থুইয়া পালাইল ছাড়িয়া॥
হিরা নটি বান্দিক বলিছে,—ওগো মা,
ত্যালে খৈলে ন্যাও রাজাক ছিনান করিয়া।
জেটে জেখান সাজে বস্ত্র দ্যাও পরিধান করিয়া॥
ছিনান কৈরে ফুল চৌকিতে রাখ বসায়া॥
নটির বাক্য বান্দি দাসি ব্রথা না করিল।
ত্যালে খৈলে মহারাজাক ছিনান করাইল॥
জেটে জেখান সাজে বস্ত্র পরিধান করায়া।
ছিনান করায়া ফুল চৌকিতে রাখে বসায়া॥
কিবা কর বান্দি বেটি নিছন্তে বসিয়া।
জলদি তুই সোনার পালঙ্গ নে সাজন করিয়া॥
টাটির[১০৩] উপর পাটি বিছাও এক বুক উচল।
হাউসাত থাকি বিছায়া দে তুই রিদয়ের কুম্মর॥[১০৪]
আস গাড়ু পাশ গাড়ু বিছাও শিয়রের মছরা।

হাউসাত থাকি বিছায়া দে তুই ছয় বুড়ি পাচেরা॥
নটির বাক্য বান্দি দাসি ব্রথা না করিল।
জোড় বাঙ্গলাত বান্দি দাসি পালঙ্গ সাজাইল॥
টাটির উপর পাটি বিছাইলে এক বুক উচল।
হাউসাত থাকি বিছায়া দিলে রিদএর কুম্মর॥
আস গাড়ু পাশ গাড়ু শিয়রের মছরা।
হাউসাত থাকি বিছায়া দিলে ছয় বুড়ি পাচেরা॥
বান্দি দাসি বলে যাও পালঙ্গ হৈছে ভাল।
ইহার উপর বিছায় দ্যাও মা গোটা দশেক শাল॥
আতর গুলাপ দিলে পালঙ্গে ছিটাইয়া।
সোনার চালন বাতি নিলে ত ধরেয়া॥[১০৫]
দধি চিড়া দিলে নটি রাজাক বিস্তর করিয়া।
নটির জিদ্দি রাজা সইবার না পারিয়া॥
দধি চিড়া খায় রাজা ঐখানে বসিয়া॥
দধি চিড়া খাইয়া রাজার তুস্‌ট হইল মন।
কুসুমের পালঙ্গে জাইয়া রাজা করিল শয়ন॥

জে চিড়া ছাড়িলে রাজা থালোত ফ্যালায়া।
ঐ চিড়া খায় নটি বদন ভরিয়া॥
দধি চিড়া খাইয়া নটির হরসিত মন।
রাজার চরনে জাএয়া করিলে প্রনাম॥
জয় জোকারে নিগি রাজাক পালঙ্গে বসাইল।
পালঙ্গে বসিয়া রাজা বড় খুসি হৈল।
সাজ সাজ বলি নটি সাজিতে নাগিল॥
নিগাল ছোরান খানি ঘুচাইল ঢাকনি।
দুই অঙ্গুলে বাইর কৈল্ল নাসের কাকই খানি॥
কাকেয়া কাকেয়া নটি চূলের ভাঙ্গে জালি।
সিতার গোড়ে পিন্দিলে মুক্তা সারি সারি॥
কাকেয়া কাকেয়া নটি চূল করিল গোটা।
মাজ কপালে তুলিয়া পেন্দে তিলকের নওডা ফোডা॥
প্রথমেতে পিন্দলে খোপা হাটে ট্যাংরা।
খোপার ভিতর খ্যালা খ্যালায় ছয় বুড়ি চ্যাংরা॥
ও খোপা পিন্দি নটি রুপের দিগে চায়।
মনতে না খায় খোপা আউলাইয়া ফ্যালায়॥
তার পাছত পিন্দে খোপা চ্যাং আর ব্যাং।
কোন জন্মে দ্যাখছেন নিকি খোপার সোল ঠ্যাং[১০৬]
ঐ খোপা পিন্দিয়া নটি রুপের দিগে চায়।
মনতে না খাইল খোপা আউলিয়া ফ্যালায়

তার পচ্ছাত পিন্দে খোপা নাটি আরো নটি।
ঐ খোপায় ভুড়িয়া আনে ছয় বুড়ি পাইকের নাটি॥
ঐ খোপা পিন্দিয়া নটি রুপের দিগে চায়।
মনতে না খাইল খোপা আউলিয়া ফাালায়॥
তার পচ্ছাত পিন্দে খোপা গুঞ্জরি ভোমরা।
সন্ধা হৈলে ভোমরা নাগায় কলহার।[১০৭]
এক খান খোপাএ কৈল্লে তিন খান দুআর॥
এক খান দুআরে গাএতা গিত গায়।
আর এক খান দুআরে ব্রাম্মনে তিতি চায়।
আর এক খান দুআরে নটুয়া নাচন পায়॥
ঐ খোপা পিন্দিয়া নটি রুপের দিকে চায়।

নটির ছাটাএ খোপার ছাটাএ এক লাগ্য পায়॥
মহলে থাকিয়া নটির হরসিত মন।
বান্দি বান্দি বলি তখন ডাকে ঘন ঘন॥
কি কর বান্দির বেটি কার প্রানে চাও।
বাপ কালিয়া কাপড়ের ঝাপা আনিয়া জোগাও॥
আনিলে প্যাটেরা বান্দি ঘুচা’লে ঢাকনি।
দুই নগুলে বাহির কৈল্ল বাঙ্গালগাইয়ার ভনি॥
ঐ সাড়ি পরে নটি উপ নেহালায়।
মনত না খাইল সাড়ি বান্দিকে বিলায়॥
আর একনা সাড়ি পরে নিয়র মেলানি।
রাইত হ’লে সাড়ি খানি থাকে নিয়রে ভিজিয়া।
দিন হইলে নটির সাড়ি উঠে জলিয়া॥
ঐ সাড়ি নিলে নটি পরিধান করিয়া।
সাড়ি আর নটি এখন গেইল মিলিয়া॥[১০৮]
কি কর বান্দির বেটি কার প্রানে চাও।
বাপ কালিয়া গএনার ঝাপা আনিয়া জোগাও॥
আনিল প্যাটেরা বান্দি ঘুচা’ল ঢাকনি।
দুই নগুলে বাহির কৈল্ল নাকের নতখানি॥
নাক মধ্যে নিলে নটি নাকের নতখানি।
হেট কানে পেন্দে ঢেরি উপর কানে চাকি॥
গালা মধ্যে তুলে দিলে শতেশ্বরি হার।

দুই বাহাএ তুলিয়া নিলে নয়শ রুপার তার॥
পাএর মধ্যে তুলিয়া নিলে পাএর বাগটি।
হিদ্দের উপর তুলে দিলে সোনার কাচলি॥
ভোটগার ভুটলি সাজিল মেচগার মেচনি।
ঘর হতে ব্যারায় নটি চিতিয়া বাঘিনি॥
পানের খিলি নিলে নটি হস্তে করিয়া।
কাঙ্কিনি গাছের গুআ নিল মহুরি গাছের পান।
এ খিলি বানায়। নটি কৈল্লে দুই খান॥
হেট খিলি রুপ খিলি মহর বান্দিয়া।
পানের খিলি নিলে নটি হস্তে করিয়া॥
রাজার পালঙ্গ নাগি জাএছে চলিয়া।
এক ভাড়য়। ধৈল্লে মস্তকে ছত্র টাঙ্গাইয়া॥
এক বান্দি নিলে নটিক পাঙ্খা হাকাইয়া।
আর এক বান্দি নিলে নটিক চন্দন মাখাইয়া।
কারোআল দিয়া জাএছে নটি পালঙ্গক নাগিয়া॥[১০৯]
ডাইনে বাঞে জাইয়া নটি ভিড়িয়া বসিল।
মধুর বচনে কথা বলিতে নাগিল॥
প্যাঙ্‌টা কথা কয় নটি বসি রাজার কাছে।
মধুর বচনে কথা কয়া প্রান কাড়িয়া ন্যাএছে॥
গুআ খিলি খাও রাজা পান খিলি খাও।
অভাগিয়া নটির দিকে মাথা তুলে চাও॥[১১০]

খিলি দেখিয়া[১১১] রাজার মনে হইল খুসি।
একেবারে তুলি দিল মুখে খিলি চারি পাচি॥
এক ডাবন দুই ডাবন তিন ডাবন[১১২] দিল।
মায় জে কইছে কথা মনত পড়িল॥[১১৩]
তিন ডাবন দিয়া খিলি ওকোলে ফেলিল।
ঐটে কোনা নটির মন খাপা হইয়া গ্যাল॥
কি তোরা পাইলেন রাজা খিলির ভিতর।
ঝারিতে জল আছে মুখ পাখল করিও।
দোসরা খিলি মুখে তুলিয়া দিও॥
জতকে ধম্মিরাজা সরি সরি জায়।
অভাগিয়া হিরা নটি গাও ঘেসিয়া জায়॥[১১৪]

মদনের জালা নটি সইবার না পারিল।
রাজার সঙ্গে নটি কৌতুক জুড়িল॥
গোটা চারিক নটিক কথা রাজা বলিবার নাগিল॥
কি তুমি নেহালাও নটি তোমার পাজায় পাজায় চুল।
দুই স্তন দেখি জ্যান তোর ধুতুরার ফুল॥
উপরত দ্যাখা জায় জ্যামন শান্ত মহাকালের ফল।
তলত ভাঙ্গিয়া দ্যাখ ছাই আর আঙ্গার॥[১১৫]

হিরা নটি বলে ওগো মহারাজ—
নারি হৈয়া ফল দেই তোমাক পুরুস জাচিয়া।
এই ফল ক্যানে ফেলি দ্যান পাএ লুটিয়া॥
রাজা বলে শুনেক নটি আমি বলি তোরে।
কি প্যাঙ্‌টা কর বেওলালি দুইও স্থান।
ছোটতে খাছি মাএর ফল পুন্নি রোজার মন
গেইছিলাম জোড় বাঙ্গলা পন্থে অনেক দুর।
খাইয়াছিলাম নারির ফল তিতায় আর মধুর॥
খাইয়াছিলাম নারির ফল প্যাট নাহি ভরে।
এই কারনে বান্দি সকল ভেরন খাইটা মরে॥
জ্যামন রদুনা রানিক ছাড়ি আইছোঁ নাট মন্দির ঘরে।
তার বান্দির পাএর রুপ নাই তোর কপালের মাঝারে॥
বান্দির পাএর রুপ নাই তোর কপাল ভরিয়া।
কি দিয়া ভুলিয়া রাখবু নিবুদ্দিয়া রাজা॥
মদনের জালা নটি সইবার না পারিল।
রাজার হস্ত ধরি নটি হিদ্দে তুলি দিল॥
মাও মাও বলি স্তন খাইবার নাগিল॥
নটি বলে শুন রাজা বিলাতের নাগর।
হাটুয়ার হেট নটি পাএর পএজার।
জুআয় না বোঝা মড়া মাও বলিবার॥
ফের ঐ রাজার হাত হিদ্দে তুলে দিল।
মাও বলি রাজা স্তন খাইবার নাগিল॥[১১৬]

বুক্কে পাও দিয়া রাজাক নটি গুড়াইয়া ফেলিল।[১১৭]
বান্দি বান্দি বলে নটি ডাকিবার নাগিল॥
কথার নাগর বুড়া দিদি কথার নাগর বুড়া।
কাম কোদ্দ নাই বেটাক ভাদাই ধানের কুড়া॥
এই কারনে বন্দক থুইল হিরানটির মহলক আনিয়া॥
জে দিছেন পোসাক আদি সব কাড়ি ন্যাও।
এক খান দ্যাও সিক্কা বাঙ্কুআ দুইটা জলের হাড়ি।
জল উবাইয়া ভাত খাউক ঐ হিরা নটির বাড়ি॥
হুকুম করিলে নটি দিনে বার ভার গঙ্গাজল।
বার ভার গঙ্গার জল জোগাইবে আনিয়া।
আট ভাড়ুআয়[১১৮] ধরবে রাজাক চিত্র করিয়া॥
সোনালিয়া খড়ম দিম মুঞি চরনে নাগায়া।
রাজার বুক্‌খে গাও ধুইম দোমায়া দোমায়া॥
দিনান্তরে জাএয়া দিবা এক খানি সিদা।
অকারিয়া চাউল দ্যাও বিচিয়া বাত্তকি।
বিচিয়া বাত্তকি দ্যাও পুড়ি খাইতে সানা।
তাহাতে করিয়া দ্যাও লবন তৈল্ল মানা॥
থাকিবার শয়ানে দ্যাও ছাগলের খুপুরি।
মাঘ মাসিয়া জারত দ্যাও বুড়া এক খান চটি[১১৯]
ছাগলের লগ্‌গি দ্যাও বেটাক হরিদ্রা বরন।

কোদাল চেচি মএলা পড়ুক শরিলের উপর।
ঝেচু পঙ্খি ভাসা করুক মস্তকের উপর॥
জ্যান কালে হিরা নটি হুকুম করিল।
নয়া সিকিয়াএ বাউঙ্কা রাজাক সাজায়া দিল॥
এক খান দিলে সিকিয়া বাঙ্কুয়া দুইটা জলের হাঁড়ি।
জল ভরিবার জায় রাজা করতোয়া নদি॥
নটির পরবার হইল আগুন পাটের সাড়ি।
তাই রাজার পরিবার হইলে বার গাটি ধড়ি॥
থাকিবার শয়ানে দিল ছাগলের খুপুরি।
মাঘ মাসিয়া জারতে দিল বুড়া এক খান চটি॥
ছাগলের লগ্‌গি হইল গাঁও হরিদ্রা বরন।
কোদাল চেচি মএলা পৈল শরিলের উপর
ঝেচু পাখি বাসা কৈল্ল মস্তকের উপর।
দিনান্তরে জাএছে দ্যাএছে এক খানি সিদা।
অকারিয়া[১২০] চাউল দিল বিচিয়া বাত্তকি।
বিচিয়া বাত্তকি দিল পুড়িয়া খাইতে সানা।
তাহাতে করিল নটি লবন তৈল মানা॥
জল খাইতে দিলে রাজাক হাটকুড়া বাসনা।
নয়া সিকিয়া বাউস্কা দিলে পিতলের নাগিরি।
এখন বার বছর জল ওবাইছে হিরা নটির বাড়ি
এক ভাড়ুআক[১২১] দিলে নটি সঙ্গে করিয়া।
কত্তোয়ার ঘাট আসিল দ্যাখায়া॥
জখন হিরা নটি হুকুম করিল।
বার বছর নটির মহলে জল জোগাইল॥[১২২]

বার ভার পানির মাঝত এক ভার কমি পায়।
জল ভারর বদলি সাত জনে কিলায়॥
আজি আজি কালি কালি এ বার বছর।
দিনে বার ভার জল জোগাইল নিজিয়া।
মাট ভাড়ুআয় ধরল রাজাক চিত্র করিয়া॥

সোনার খড়ম হিরা নটি চরনে নাগায়া।
রাজার বুক্‌খে গাও ধোএছে দোমায়া দোমায়া॥[১২৩]
পাঞ্জারের খাটি রাজার ফ্যালাইল ভাঙ্গিয়া॥
ভিজা বস্ত্র চিপে দ্যায় রাজার মুখের উপর।
মুখ ধরিয়া কান্দে রাজা ব্যালার তিন পহর॥
আজি আজি কালি কালি এ বার বচ্ছর।
কোদাল চাচা মএলা হৈল রাজার শরিলের উপর॥
আ’জ মরে কা’ল মরে বাচেবার আশ্রা নাই।
নাক দিয়া পবন বেটা করে আসি জাই॥
বার বচ্ছর বাদে রাজার মনোত পড়িল।
দরিয়ার ঘাটে জাইয়া কান্দন জুড়িল॥
রদুনা রানির কথা আমি না শুনিলাম কানে।
জাহান হারাইতে আইলাম বুড়া মাএর বচনে॥
জ্যান কালে ধম্মি রাজা রানির নাম নিল।
সত্যের পাসা চিহ্ন থুইছে চালত আউলাইয়া পড়িল॥

রদুনা পদুনা রানি কান্দিতে নাগিল॥[১২৪]
জে দিন বোলে সত্যের পাসা পড়িবে আউলিয়া।
নিশ্চয় বিদেশে প্রানপতি জাইবে মরিয়া॥
আইজ আরো সত্যের পাসা পড়িল আউলিয়া।
নিচ্চয় বিদেশে সোআমি ধন গ্যাল মরিয়া॥
সোআমির শোগে রানি কান্দিতে নাগিল।
সাইল শুআ পঙ্খি পিজিরাএ শুনিল॥
সার বলে শুন দাদা শুআ প্রানের ভাই।
মাও ক্যানে রোদন করে চল দ্যাখ্‌তে জাই।
ওগো মা! তুমি কান্দ কি কারন—
আমার দুভাইর বন্দন দ্যাও আরো ছাড়িয়া।
উড়াও দিয়া জাই মা বৈদেশ নাগিয়া॥
মরছে কি আর বাচি আছে আসিতো দেখিয়া॥
এলায় জদি তোমার বান্দন মুঞি দ্যাওঁ ছাড়িয়া।
বোনের পঙ্খি বোনেতে জদি জাবেন আরো চলিয়া।
তোমার শোগে দুই বোইন জাব মরিয়া॥
মা এক সত্য দুই সত্য তিন সত্য হরি।
জদি তোমাক ছাড়ি জাই মা প্রানে ফাটে মরি॥

সারি শুআ পঙ্খি জখন সত্য করিল।
কান্দি কাটি পঙ্খির বান্দন খলাস করিয়া দিল॥[১২৫][১২৬]
দুধ কলা খোআইলে পঙ্খিক সন্তোস করিয়া।১৬০৫
ভোগ নাড়ু তিয়াস নাড়ু দিলে বাহাত বান্দিয়া॥
জদি তোমার পিতার লাগ্য পাএন আরো খুঁজিয়া।
তিন বাপতে জল পান খান ভাঙ্গতে বসিয়া॥
জননির আগ্গা নিয়া পঙ্খি উড়ান কারাইল।[১২৭]
মাটিতে পড়িয়া পঙ্খি পাকাএ মারলে সাত।১৬১০
এক্কে ব্যালাএ উড়ি গ্যাল এক ঠেঙ্গিয়ার দ্যাশ॥
এক ঠেঙ্গিয়ার দ্যাশের কথা কহন না জায়।
এক ঠ্যাংএ রান্ধে বাড়ে এক ঠ্যাংএ খায়।[১২৮]
তাজিবা তুরুকি ঘোড়া লাগ্য নাহি পায়॥[১২৯]

ও কোনা দ্যাশে পঙ্খি ব্যাড়ায় তালাসিয়া।১৬১৫
তবু আরো পিতার লাগ্য না পায় খুঁজিয়া॥
মাটিতে পড়িয়া পঙ্খি পাকাত মাইল্ল সাত।
এক্ক কালে উড়িয়া গ্যাল কানপড়ার দ্যাশ॥
কানপড়ার রাজ্যের কথা কহন না জায়।
এক কান পাড়াইয়া জায় একে কান ওড়ে।১৬২০
পুস মাসি জার একে কানে সারে॥
ও কোনা দ্যাশে পঙ্খি ব্যাড়ায় তালাসিয়া।
তবু আরো পিতার লাগ্য না পায় খুঁজিয়া॥
ঐঠে হৈতে পঙ্খি জোড়া পাখাত মা’ল্ল সাত।
এক্কে কালে উড়ি গ্যাল মোশা রাজার দ্যাশ॥১৬২৫
মোশা রাজার আজ্যের কথা কহন না জায়।
কাউআ চিলার নাখান মোশা ভোমরিয়া ব্যাড়ায়॥
তিন পো ব্যালা থাকতে গিরস্ত ধুমাফো নাগায়।
ঢোলত বাড়ি দিয়া মোশাক খ্যাদায়॥
সাগাই সোদর গ্যালে তাক খাইয়া ফ্যালাইবার চায়।১৬৩০
দুআর দ্যাওয়া ঠ্যাঙ্গা দিয়া মোশাক ডাঙ্গায়॥
ও কোনা দ্যাশে পঙ্খি ব্যাড়ায় তালাসিয়া।
তবু আরো পিতার লাগ্য না পাইলেন খুঁজিয়া॥
মাটিতে পড়িয়া পঙ্খি পাকাত মা’ল্ল সাত।
এক্কে কালে উড়ি গ্যাল মেচ পাড়ার দ্যাশ॥১৬৩৫
মেচ পাড়ার আজ্যের কথা কহন না জায়।
এক বেটি মেচনি আছে বাম চৌক তার ট্যার।
আশি হাত কাপড়া হইলে কমরের এক ব্যাড়॥
তার সোআমির নাম হেমাই পাত্তর।
মোন দশেক ধান শুগায় পিঠের উপর॥১৬৪০
তার ছোট ভাই আছে বাম ঠ্যাংয়া গোদ।
হস্তি ঘোড়ায় চলি জায় গোদের না পায় বোদ॥

তার ছোট বইন আছে নাই তারো কোক।
নও হাড়ি পানতা খায় দশ হাড়ি তপত॥
তার ছোট বইন আছে নামে হদুমতানি।১৬৪৫
আশি মদ্দে পাড়িয়া কিলায় নাই চোকোত পানি॥
ঐঠে হৈতে পঙ্খিগুলা উড়াও কারাইল।
ত্রি পাটনের দ্যাশে জাইয়া পঙ্খি খাড়াইল॥
ত্রি পাটন আজ্যের কথা কহন না জায়।
মদ্দে আন্দে ভাত মাইয়ায় বসিয়া খায়।১৬৫০
হাকতে ভাত না পাইলে মদ্দেরে পাড়িয়া কিলায়॥
কত গিলা দ্যাশে পঙ্খি ব্যাড়ায় ত ঘুরিয়া।
গয়া গঙ্গা কাশি বিন্দাবন আসে তালাসিয়া॥
তবু আরো পিতার লাগ্য না পাইল খুঁজিয়া॥
সারন উঠিয়া বলে শুআ প্রানের ভাই।১৬৫৫
এলাই জদি জাই মোরা মহলক নাগিয়া।
তিরি বদ্দ দিবে মাও চরনে পড়িয়া॥
দাদা,
শব্দে শুনিয়াছি আমরা খিলনদি সাগর।
উআত পড়ি মইলে পুন্য হয় বিস্তর॥১৬৬০
দরিয়ার রাগো বইল নেউক মোক ভক্‌খন করিয়া।
ফিরিয়া না জাইম আর মহলক নাগিয়া॥
উড়াও দিয়া জাইয়া পঙ্খি দরিয়া দেখিল।
জড়াজড়ি করিয়া পঙ্খি দরিয়াএ পড়িল॥
গঙ্গা মাতা বলে বিধি মোর করমের ফল।১৬৬৫
মএনার নাতি আসি পইল মোর দরিয়ার উপর॥
জে রাগো সকল ধরিয়া করিবেন বল।
এআর জে আই আছে মএনা গেয়ানে ডাঙ্গর।
বাম হস্ত দিয়া দরিয়া ফ্যালাইবে বান্ধিয়া।
ডা’ন হাতে দরিয়ার জল ফ্যালাইবে ছেকিয়া।১৬৭০

তোমাক মারিবে মএনা প্যাটত পাও দিয়া॥
সাত দিন নও আইত ভাসে দরিয়ার উপর।
তবুত ধরিয়া না খায় রাগো সকল॥
সাত দিন নও আইত ধরি অন্ন নাই খাই।[১৩০]
জে ঘাটে জল ভরে রাজার কুঙর।১৬৭৫
ঐ ঘাটের উপর আছে বট আর পাকর॥
উড়াও দিয়া জাইয়া পঙ্খি বৃক্‌খ ডালে পইল।
গোটা কএক ফল পঙ্খি বদন ভ’রে খাইল॥
বার ভার জলে রাজার এক ভার কমি আছে।
জল ভারের বাদে রাজা এ দৌড় কারাইছে॥১৬৮০[১৩১]

সার বলে শুন দাদা শুআ প্রানের ভাই।
এই ভারি আইসছে জল ভরিবার॥
বাপের নাখান হাটে দাদা বাপের ছন্দন।
পিতার নাখান দেখি দাদা চুলের বান্দনা॥[১৩২]
শুআ বলে শুন দাদা সার প্রানের ভাই।১৬৮৫
কোন বা ঠাগার শুড়ির ভারি আইসে জল ভরিবার।
ইহা কি হৈতে পারে মোর জোগ্য মার॥
শুআ বলে শুন দাদা আমি বলি তোরে।
দল ঝগড়ার কায্য নাই ফিরতি করি ন্যাই॥[১৩৩]
ভারি বেটা জল ভরুক হেড্‌ মুণ্ড হএয়া।১৬৯০
উআর মাথার উপর দিয়া ব্যাড়াই উড়াও করিয়া॥
গুপিনাথ গুপিনাথ বলিয়া এ ডাক ডাকাই।
জদি কালে শুড়ির ভারি হয় তো জাইবে চলিয়া।
জদি আমার পিতা হয় দেখিবে ফিরিয়া।
জদি আমার পিতা হয় নিবেত চিনিয়া॥১৬৯৫
কতেক দুরে জাএয়া রাজা কতেক পন্থ পাইল।
কত্তোআর ঘাটে জাএয়া রুপস্থিত হৈল॥
নয়া সিকিয়া বাউঙ্খা থুইল ডাঙ্গাত খসায়া।
পিতলের ঘাড়ু নিলে হস্তে করিয়া॥
জল ভরে মহারাজা গঙ্গা এ ডাড়ায়া।১৭০০
অকালিয়া চাউল দিলে দরিয়াত ফ্যালাইয়া॥

দরিয়ার মাছ মগর খায় আরো ঠোকরাএয়া।
তার তামাসা দ্যাখে রাজা দুই নয়ন ভরিয়া॥
সাইল শুআ দুই ভাই উড়াও কারাইল।
মাথার উপার জাএয়া রাজার ঘুরিতে নাগিল॥[১৩৪]১৭০৫
হেট মুণ্ড হইয়া রাজা জল ভরিবার নাগিল।
মাথার উপর সারি শুআ ভোমিবার নাগিল॥
পঙ্খির অব ছায়া জলত দেখিল।
হেট মুণ্ড ছিল রাজার উপর মুণ্ড হইল॥
পঙ্খি জোড়া দেখি[১৩৫] রাজা কান্দন জুড়িল।১৭১০
জখন আছিলাম আমি আজ্যের ঈশ্বর।
এই দান্তি[১৩৬] পাখি আমি পুইসাছি এক জোড়॥
এখন ক’ল্লে ভগবান্ আমাক কড়াকের ভিখারি
এই মত পাখি আমি পুসিবার না পারি।
বার বছর হইলাম আমি বৈদেশে আসিয়া।১৭১৫
আমাক না দেখি পঙ্খি গেইছে মরিয়া॥[১৩৭]
গুপিচন্দ্র গুপিচন্দ্র বলি পঙ্খি তুলিয়| কৈল্ল রাও।
চমৎক্রত হৈল তবে রাজার সব্ব গাও॥

এওখানে কেউ নাই রঙ্গের বাপ ভাই।
নাম ধরিয়া কে ডাকাইলি বঙ্গের গোসাঞি॥১৭২০
জ্যান কালে ধম্মি রাজা পঙ্খিক দেখিল।
পঙ্খিক দেখিয়া রাজা বাহা আগায়ে দিল॥
জাদুরে—আমার নামে জদি বাছা আসছেন চলিয়া।
আইস আইস জাদুধন মোর বাহা পরসিয়া॥
তোমার চুম্বন খায়া ন্যাওঁ মুঞি বদন ভরিয়া॥১৭২৫
পঙ্খি বলে শুনেক ভাই বচন মোর হিয়া।
এমনি না পড়িম তোমার দুই বাহাতে জাএয়া॥
কে তোর মাতা কে তোর পিতা পরিচয় দে গঙ্গাএ দাড়ায়া।
শুনিয়া পড়িম ভোর দুই বাহাতে জাএয়া॥
সাইল শুআ পঙ্খি জখন পরিচয় চাইল।১৭৩০
গঙ্গাএ দাড়ায়া রাজা পরিচয় দিল॥
জাদুরে— মানিকচন্দ্র রাজার স্ত্রী মএনামতি মাই।
মনেয়ার পুত্র আমি গুপিচন্দ্র রাজা।
রদুনা পদুনা রানি মোর হয় ভারজা॥
মাএর জোআবে আসছুঁ হাড়ি গুরুর সঙ্গে উদাসিন হৈয়া॥১৭৩৫
জ্যান কালে পঙ্খি জোড়া পরিচয় পাইল।
উড়াও দিয়া দোন ভাই বাহাএ[১৩৮] পড়িল।
পঙ্খির চুম্বন মহারাজা বদন ভরি খাইল॥
জাদুরে—মহাল হতে আনছে গুরু বুধ ভরসা দিয়া।
বড় দুস্ক দিছে গুরু বিদেশে আনিয়া॥১৭৪০
প্রথম দুস্ক দিছে আমাক জঙ্গল বাড়ির মাজে।
তার পরে দুস্ক দিছে তপত বালার মাজে॥
তার পরে দুস্ক দিছে কলিঙ্কার বন্দরে।

বান্দা থুইয়া পালাইছে গুরু হিরা নটির ঘরে॥[১৩৯]
সেই হিরার পরিতে আগুন পাটের সাড়ি।১৭৪৫
মোর রাজার পরিবার হইছে বার গাঠিয়া ধড়ি।
পাপের বিছনা ফ্যালাওঁ মুঞি পাপের গনোঁ কড়ি॥
সেই জে নটির কড়ি জয় মালায় গনিয়া চায়।
তাহার মধ্যে জদি জাদু একনা খানা পায়।
সাতবার কানা কড়ি আমার চক্‌খে ঘেসোরায়।১৭৫০
থাকিবার শয়ন দ্যাছে আমাক ছাগলের খুপুরি।
মাঘ মাসিয়া জারত দ্যাছে আমাক বুড়া একখান চটি॥
জাদুরে ছাগলের লগ্‌গি গাও হএছে মোর হরিদ্রা বরন।
কোদাল চেছি মালা পড়ছে শরিলের উপর।
ঝেচু পাখি বাসা কইচ্ছে মস্তকের উপর॥১৭৫৫
দিনান্তরে জাএয়া দ্যাছে একখানি সিদা।
অকারিয়া চাউল দ্যায় মোক বিচিয়া বাত্তকি।
বিচিয়া বাত্তকি দ্যায় মোক পুড়ি খাইতে সানা।
তাহাতে কইছে নটি লবন তৈল্ল মানা॥
নয়া সিকিয়া বাউঙ্খা দ্যাছে পিতলের নাগিরি।১৭৬০
বার বছর জল উবাওঁ হিরা নটির বাড়ি॥
জাদুরে—বার ভার জলের মধ্যে জদি এক ভার কম পায়।
সাতটা মদ্দ নাগি দিয়া সাতবার কিলায়॥
জাদুরে—বার ভার গঙ্গাজল জোগাব নিজিয়া।
আট ভাড়ুআয় ধরে আমাক চিত্র করিয়া॥১৭৬৫
হিরা নটি গাও ধোয় আমার বুক্‌খেতে চড়িয়া।
দ্যাখেক জাদু পাঞ্জারের খাটি মোর ফ্যালাছে ভাঙ্গিয়া॥

পিতা, থুয়েন তোমার দুস্কের কথা এক দিক্ করিয়া।
ছেনান কর পিতা ঠাকুর জলপান খাই বসিয়া॥
ভোগ নাড়ু তেস্‌টা নাড়ু দিছে আমার বাজুত বান্দিয়া।১৭৭০
ছেনান কর তিন বাপতে নাড়ু খাই বসিয়া॥
এলায় জদি ধড়ি কোনা হিরা ভিজা পায়।
সাত পহর হিরার ভাড়ুআ আমাক কিলায়॥
জাদুরে—এলায় জদি গাও ধোওঁ ন্যাংটি ভিজিয়া।
পাচ জুতা মারবে নটি চালতে টাঙ্গাইয়া॥১৭৭৫
পঙ্খির জিদ্দি মহারাজা সইবার না পাইল।
বার গাইটা ন্যাংটি ডাঙ্গাত খসাইয়া থুইল॥[১৪০]
একখান জিগার ছাল নিলে পরিধান করিয়া।
গাও ধুইছে মহারাজ গঙ্গাএ নামিয়া॥
চক্‌খু মুদি মহারাজ দৌড়িয়া ঝম্প দিল।১৭৮০
পাঙ্খা দিয়া জল পাখি ছেকিবার নাগিল।
ঠোঁট দিয়া গাএর মএলা কাটিবার নাগিল॥
গাত্রর মএলা দিয়া তিন বাগের জল ঘোলা করিল।
এক ডুব দুই ডুব তিন ডুব দিল॥
রাজার ন্যাংটি ধোপানি চিলাত উড়িয়া নিগ্যাল॥[১৪১]১৭৮৫

রাজার ন্যাংটি ধোপানি চিলাত নিলেন উড়িয়া।
সেও ন্যাংটি দিল মাজ দরিয়ায় ছাড়িয়া॥
আগব বোয়াইলে ন্যাংটি ফ্যালাইল গিলিয়া।
ন্যাংটি বুলি কান্দে রাজা গঙ্গাএ দাড়ায়া॥
জাদুরে পরিবার দিছে আমাক বার গাইঠা ধড়ি।১৭৯০
মারগে ভিজাই মারগে শুকাই আর নাই জে পরি॥
এই ন্যাংটি নিগ্যাল মোর চিলায় উড়ায়া।
কি পিন্দিয়া জাব নটিক মহলক নাগিয়া॥
ন্যাংটি বুলিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল।
রাজার কান্দনে গঙ্গা মাতার দয়া জরমিল॥১৭৯৫
শন্য করি ধবল বস্ত্র দিলেত ভাসাইয়া।
ঐ বস্ত্র নিলে রাজা পরিধান করিয়া॥[১৪২]
হাসিয়া উঠিল রাজা ডাঙ্গার নাগিয়া।
তিনো বাপতে জল পান খান ডাঙ্গাত বসিয়া॥
নাড়ু খাইয়া রাজার হরসিত মন।১৮০০
দরিয়ার জল দিয়া রাজা করিল আচমন॥
নাকর পাকর[১৪৩] দুইটা পাত আনিল ছিড়িয়া।
দাদ দিয়া কলম মাঠাইলে বসিয়া॥
ডাইন হস্ত দিয়া রাজা বাওঁ উরাত ফাড়িল।
ঐ অক্ত দিয়া নেখন নেখিবার নাগিল॥[১৪৪]১৮০৫

রদুনা রানির পত্র ন্যাখে হাসিয়া খেলিয়া।
আর না জাব রানি মহলক ফিরিয়া॥
নিচ্ছয় তুমি হিল্লা করেন ভাই খেতুয়াট্টে জাওয়া॥
জ্যামন রাজাই ছাড়িয়াছি নাট মন্দির ঘরে।
ত্রেগুন রাজাই পাছি আসি বৈদেশ সহরে॥[১৪৫]১৮১০
এখন জননির পত্র ন্যাখেন কান্দিয়া কাটিয়া,—
সুমাও হইলে নিবেন উদ্ধার করিয়া।
কুমাও হইলে থুইবেন পাপত ফ্যালায়া॥
ওগো মা—মহল হৈতে আনছে গুরু বুধ ভরসা দিয়া।
প্রথম দুস্ক দিছে আমাক জঙ্গলে ফ্যালায়া।১৮১৫
তার পর দুস্ক দিছে তপত বালার মাজে।
তাহার পর দুস্ক দিছে কলিঙ্কার বাজারে।
বান্দা থুইয়া পালাইছে গুরু হিরা নটির ঘরে॥
সেই হিরার পরিতে হৈছে বার গাইটা ধড়ি।
মারগে শুকাই মারগে ভিজাই আর নাই জে পরি॥১৮২০
থাকবার শয়ানে দিছে মোক ছাগলের কুটুরি।
মাঘ মাসিয়া জারত দিছে মা বুড়া এক খান চটি॥
মা, ছাগলের লগ্‌গি গাও হইছে মোর হরিদ্রা বরন।
কোদাল চাচি মএলা পইছে মোক শরিলের উপর।
ঝেচু পঙ্খি বাসা কইছে মা মোর মস্তকের উপর॥১৮২৫
দিনান্তরে দ্যায় মা এক খানা সিদা।

অকালিয়া চাউল দ্যায় মা বিচিয়া বাত্তকি।
বিচিয়া বাত্তকি দ্যায় মা পুড়ি খাইতে সানা।
তাহাতে করিয়া দিছে লবন তৈল মানা।
মা,—নয়া সিকিয়া বাউঙ্খা দিছে মোক পিতলের নাগিরি।১৮৩০
বার বছর জল উবাইছে। হিরা নটির বাড়ি॥
বার ভার গঙ্গার জল জোগাওঁ নিজিয়া।
আট ভাড়ুআয় ধরে মোক চিত্র করিয়া॥
হিরা নটি গা ধোয় মা মোক বুক্‌খতে চড়িয়া।
পাঞ্জারের খাটি মা মোক ফ্যালাইছে ভাঙ্গিয়া॥১৮৩৫
বার ভার জলের মধ্যে জদি এক ভার কমি পায়।
সাত মদ্দক নাগি দিয়া সাত বার কিলায়॥
সুক্কের নেখন নিখিয়া দিলে শুআর বরাবর।
দুক্কের নেখন নিখিয়া দিলে সারির বরাবর॥[১৪৬]
জখন পখি জোড়া লিখন পাইল।১৮৪০
পিতার চরনে পখি প্রনাম করিল॥
জল ধরিয়া ভারি বেটা নটির মহলক গ্যাল।
আট ভাড়ুআয় ধরছে রাজাক চিত্র করিয়া।
হিরা নটি গাও ধোয় বুক্‌খত চড়িয়া॥
মহলক নাগিয়া পঙ্খি জাএছে উড়িয়া।১৮৪৫
মাটিতে পড়িয়া পঙ্খি উড়াও কারাইল।
ফেরুসাতে জাএয়া পঙ্খি খাড়া হৈল॥

বাঁশের চরকা নিছে মএনা বাঁশের টাকুয়া।
শিমুলের তুলা নিছে এ পাইজ করিয়া।
বুড়ি মএনা চরকা কাটে দুআরে বসিয়া ॥১৮৫০
মুখের আগে জাএয়া, পঙ্খি লিখন ফ্যালায়া দিল।[১৪৭]
পঙ্খিক দেখিয়া মএনা গাইলাইতে নাগিল॥
কোন ভাউজের বেটি ভাউজ দিছে পঙ্খি ছাড়িয়া।
সে ভাউজক মারুম এলায় নোআর ছড়ি দিয়া॥
সার বলে শুন দাদা শুআ প্রানের ভাই।১৮৫৫
পিতার খবর ওহে দাদা আন্নু নিখিয়া।
মাও জে মারিবার চায় নোআর ছড়ি দিয়া॥
দ্যাখ দ্যাখ এ বুড়ি শালি তোর মুণ্ডু খান পড়িয়া।
তার পর জাএয়া মারিস নোআর ছড়ি দিয়া॥

জ্যান কালে বুড়ি মএনা একথা শুনিল।১৮৬০
চরকা কাটা নড়ি দিয়া লিখন টানিয়া আনিল।
রক্খর ধরিলে মএনা রক্খর চিনিল॥
চরকা টাকুআ বুড়ি মএনা কপালে ভাঙ্গিল।[১৪৮]
রানির মহলক নাগি পঙ্খি উড়াও দিয়া গ্যাল
জ্যান কালে রদুনা রানি পঙ্খিক দেখিল।১৮৬৫
রানির পত্র[১৪৯] পঙ্খি জোড়া রানিরে ফ্যালায়া দিল ॥
রক্খর ধরিয়া রানি রক্‌খর পড়িল।
খট্ খট্ করি দোনা বইনে হাসিয়া উঠিল॥
দিদি আরতো না আসবে রাজা দ্যাশে চলিয়া।
হিল্লা করবার কএছে আমাক খেতুআর কাছে জাএয়া॥১৮৭০
জ্যামন বোলে রাজাই ছাড়ি গেইছে বৈদেশ নাগিয়া।
ত্রিগুন রাজাই পাইছে দিদি বৈদেশত জাএয়া॥
জ্যামন বোলে রানি ছাড়ি গেইছে নাট মন্দির ঘরে।
ত্রিগুন রানি পাইছে রাজা বৈদেশ সহরে ॥
দিদি এমনি জদি দুই বইনে জাইতো মরিয়া।১৮৭৫
তবু খেতুক ভাত খাব না পাটতে বসিয়া ॥
এই পখি জোড়া নিব সঙ্গে করিয়া।
কোঠে আছে মহারাজ দেখিব আসিয়া ॥
জে দ্যাশেতে খাইবে রাজা রাজস্ব করিয়া।
ঐ রানির খাইব দিদি বান্দি রুপ হৈয়া ॥১৮৮০
ঐ দ্যাশত নাগি দিদি জাবতো চলিয়া ॥
এক দণ্ড, দুই দণ্ড, তিন দণ্ড হৈল।
ক্রোদ্দমান হৈয়া মএনা ক্রোদ্দে জলি গ্যাল ॥

আমার ছাইলাক নিগাইছে বুধ ভরসা দিয়া।
এই দুস্ক ক্যান দ্যাএছে বিদেশে নিজিয়া॥১৮৮৫
সোআরিত করিয়া জাদুক সোল কাহারে বয়।
তাহার শরিলে কি এত দুক্‌খ সয়॥
তেমনিয়া মএনা বুড়ি এই নাওঁ পাড়াব।
তিন দিনকার মধ্যে ছাইলাক আনায়া নিব ॥
মহামন্ত্র গিয়ান মএনা হৃদএ জপিল।১৮৯০
কপাল ফাড়িয়া মএনা ধেয়ানত বসিল॥
ধেয়ানের মএনামতি ধেয়ান করি চায়।
ধেয়ানের মধ্যে হাড়ির পাতালে নাগাল পায়॥
বজ্র চাপড় হাড়িক মএনা মারিলে তুলিয়া।
ধেয়ানে ছিল হাড়ি উঠিল চমকিয়া ॥১৮৯৫
হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
আমার নাকান সিদ্ধা নাই সায়ালের ভিতর।
তপ ভঙ্গ ক’ল্লে কাঁয় আমাক ঘড়িকের ভিতর॥
ধেয়ানের হাড়ি সিদ্দা ধেয়ান করি চায়।
ধিয়ানের মধ্যে হাড়ি মএনার নাগাল পায়॥[১৫০]১৯০০
হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
রাজার ছেইলাক বান্দা থুইছোঁ হিরা নটির ঘরে।
মইল কি বত্তিল ছেইলা না গ্যালাম খবরে॥

তালের গাছ থুইলে হাড়ি পৃথিমিতে গাড়িয়া।
উঠিলে হাড়ি সিদ্দা গাও মোড়া দিয়া ॥১৯০৫
সাজ সাজ বলিয়া সিদ্দা হাড়ি সাজিতে নাগিল।
বাওন্নমনি ক্যাঁথা নিল কোমরে বান্দিয়া।
আশিমনি সোডা নিলে কপালে ডাবিয়া ॥
নয়মনিয়া খড়ম নিলে চরনে নাগায়া।
মন পঞ্চাশে ভাঙ্গের গুড়া মুখের মধ্যে দিয়া।১৯১০
কলসি দশেক জল দিয়া ফ্যালাইল গিলিয়া।
আর গৈড় মার গৈড় তিন গৈড় দিয়া।

পুঠি চৌদ্দ ধুলা নিলে হিরদে মাখিয়া।
ওঠে এলা হাড়ি সিদ্দা গা মোড়া দিয়া॥
সগ্‌গতে ঠেকিল মাথা হুটুস করিয়া॥১৯১৫
একনা পাও বাড়ায়া ফ্যালায় আশে আর পাশে।
আর এক পাও বাড়াইয়া ফ্যালায় বিরাশি কোশে॥
জেওখানে হাড়ি সিদ্দা পাও ফ্যালায়া জায় ভারি।
সেওখানে হএ জায় কুমল পুকরি॥
ছয় মাসের আস্তা হাড়ি ছয় দণ্ডে গ্যাল।১৯২০
কত্তোয়ার ঘাটে জাএয়া সিদ্দা খাড়া হৈল॥
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে রিদএ জপিয়া।
ন্যাঙ্গা ঘাটিয়াল হৈল কায়া বদলিয়া॥
বার ভার জলের মধ্যে রাজার এক ভার কমি আছে।
জল ভারের বাদে রাজা এ দৌড় ধরিছে॥১৯২৫
ঘাটের পর জাএয়া রুপস্থিত হৈল।
নয়নেক গুরুক দেখি গুরুক চিনিল॥
নয়া সিকিয়া বাউঙ্খা দিলে, জলতে ভাসায়া।
পিতলের নাগিরি রাজা ডাঙ্গেয়া ভাঙ্গিল।
গুরুর চরনে ধরি রাজা কান্দিতে নাগিল॥[১৫১]১৯৩৫
রাজার কান্দন দেখি গুরুর দয়া হৈল।
বাও ছঞ্চরে হাড়ি সিদ্দা রাজার গব্বে সোন্দাইল।
পাপ অপরাধ কিছুই না পাইল॥

টোরা মাছ করিয়া রাজাক ঝুলিত ভরি নিল॥[১৫২]
হিরা নটির মহলক নাগি পন্থ ম্যালা দিল।১৯৩৫
লকুড়ি খসায়া দামাক ডাং দশেক দিল॥[১৫৩]
হিরা জিরা দুই বোইন চমকিয়া উঠিল।
ঝারির মুখের গামছা দিয়া বান্দিক ফিকাইল॥
জাও জাও বান্দি বেটি বাহিরাক নাগিয়া।
কোন দ্যাশের রাজা আইসছে আইসত দেখিয়া॥১৯৪০
নটির বাক্য বান্দি দাসি ব্রথা না করিল।
বাহেরাক নাগিয়া বান্দি গমন করিল॥
হাড়ি সিদ্ধাক দেখি বান্দি চমকিয়া উঠিল।
ভিতর অন্দর জাএয়া নটিক বলিতে নাগিল॥॥[১৫৪]

ওগোমা,—নাই আসে রাজা বাস্সা নাই আসে সাজিয়া।১৯৪৫
ও খেপির বৈরাগিটা আসছে সাজিয়া॥
জ্যানকালে হিরা নটি হাড়ির নাম শুনিল।
হাতে মাতে দোনো বইনে চমকিয়া উঠিল॥
বান্দির তরে কথা বলিতে নাগিল॥
কিবা কর বান্দি বেটি নিছন্তে বসিয়া।১৯৫০
পাচখানি পোসাক নে ঝাম্পাএ করিয়া॥
ত্যাল খইলা নে বান্দি তুই কোটরা ভরিয়া।
বাইরে বাইরে জা কত্তোয়ার ঘাটতো নাগিয়া॥
ত্যাল খইলে মহারাজাক নে ছিনান করিয়া।
পাচখানি পোসাক দেইস পরিধান করিয়া[১৫৫]১৯৫৫
কানপাই ঘোড়াত চড়ি আন তো জলদি করিয়া॥[১৫৬]
হিরা নটি জখন বান্দিক হুকুম করিল।
কানপাই ঘোড়া বান্দি সাজাইতে নাগিল॥
পাচখানা পোসাক নিলে ঝাম্পায় করিয়া।
ত্যাল খৈলা নিলে বান্দি কোটরাএ ভরিয়া॥১৯৬০

পাছ দেউড়ি দিয়া জাএছে ঘাটক নাগিয়া[১৫৭]
নয়া সিকিয়া বাউঙ্খা ব্যাড়াএ জলতে ভাসিয়া॥
পিতলের গাড়ু আছে ডাঙ্গাত গুড়া হএয়া॥
ইহাকে দেখিয়া বান্দি ফিরিয়া ঘরত গ্যাল।
হিরা জিরা দুইটা নটিক বলিতে নাগিল॥১৯৬৫
মা জে দুস্ক দিলেন রাজাক নাটমন্দির ঘরে।
দুস্ক পাওয়া মরি গেইছে দরিয়া মাঝারে॥
পিতলের গাড়ু দুটা আছে ডাঙ্গাত গুড়া হৈয়া।
নয়া সিকিয়া বাউঙ্খা ব্যাড়ায় জলতে ভাসিয়া॥
দুস্ক পাইয়া রাজার ছাইলা গেইছে মরিয়া।১৯৭০
কি জব দিবেন এখন হাড়ির সাক্খাত জাএয়া॥
ফিরি আসি বান্দি দাসি একথা বলিল।
অন্তর ধিয়ানে হাড়ি জানিতে পাইল॥
তুর তুর বলি সিদ্দা গিজ্জিতে নাগিল।
নটি,—বার কড়া কড়ি নে তোর হিসাব করিয়া।১৯৭৫
জলদি আমার ছেইলাক জোগাওতো আনিয়া॥
চ্যালা বলি হাড়ি সিদ্দা গিজ্জিতে নাগিল।
সোনার খড়ম পাএ দিয়া নটি চটকিয়া ব্যারাল॥[১৫৮]

এলায় তোমার চ্যালা আছিল পালঙ্কে বসিয়া।
পাশা খ্যালার জন্য গ্যাল বন্দর নাগিয়া॥[১৫৯]১৯৫০
ঝোলাত থাকি ধম্মিরাজা নড়ে আর চড়ে।
বাম বগল দিয়া সিদ্দা চিপি চিপি ধরে॥[১৬০]
এক দণ্ড থাক জাদু ধৈরন ধরিয়া।

আর গোটা চারিক গল্প সালির মুঞি শোনো বসিয়া।[১৬১]
হিরা বলে—আজকার মোনে থাক বৈস্‌টম ধৈরন ধরিয়া।১৯৮৫
কাল প্রাতকে তোমার চ্যালাক দিবতো আনিয়া॥
তেমনিয়া হাড়ি সিদ্দা আমি এই নাওঁ পাড়াব।
দিনতে ত্রলায় আত্রি আমি ঘড়িকে করাব ॥
সরগের তারা থুইলে সিদ্দা কোথায় লুকিয়া।
চান সুয্য থুইল সিদ্দা দুই কানে ভরিয়া ॥১৯৯০
জল কুআ হাড়ি ম্যাঘ দিলেতো নাগিয়া॥
আত্রি করে ঝিকি মিকি কোকিলাএ কারে রাও।
শেত কাউআয় বলে রাত্রি প্রোভাও প্রোভাও॥
আমার চ্যালাক হিরা নটি আনিয়া জোগাও॥
নটি বলে শুন গুরু করি নিবেদন।[১৬২]১৯৯৫

তোমার ঘরের ছেইলা অঁয় বড় রসিয়া।
বিন শিকারে ভাত না খায় রাজ দুলালিয়া ॥
শিকার করিবার গ্যাল রাজা জঙ্গলের ভিতর।
মইল কি বত্তিল তার না পাই খবর॥
জদি কালে বোনের বাঘ খাইছে ধরিয়া।২০০০
কোন গুনা চ্যালাক দিম এলায় হাজির করিয়া ॥
হাড়ি বলে হারে নটি কার প্রানে চাও।
খাইছে খাইছে চ্যালাক বাঘে তার নাই দায়।
কড়ি বার কড়া ন্যাও তোমার দরজায়॥
বার বচ্ছরকার খত খান জোগাও আনিয়া।২০০৫
আশিব্বাদ করিয়া জাইম কৈল্লাস নাগিয়া ॥
জখন হিরা নটি একথা শুনিল।
আস্ত ব্যস্ত করি আনি খতখান জোগাইল ॥
জখন হাড়ি সিদ্দা খত দেখিল।
কড়ি বার কড়া হাড়ি দরজায় তুলিল ॥২০১০
কড়ি বার কড়া দিলে হাড়ি হিরার হস্ততে তুলিয়া।
বার বচ্ছরকার খত খানা দিলে নটি হাড়ির হস্তে তুলিয়া ॥

জখন হাড়ি সিদ্দা খত হাতে পাইল।
হরি বোল বলিয়া হাড়ি খত খান ফাড়িয়া ফেলিল॥
রাধা কৃষ্ণ বল বাপু রাম রাম বল।২০১৫
মহারাজার খত ফাড়লে হরি হরি বল॥
হাড়ি বলে হারে নটি কার প্রানে চাও।
এক ঝারি জল আন মস্তকে করিয়া।
আশিব্বাদ করিয়া জাওঁ মুই কৈলাসক নাগিয়া॥
এক ঝারি জল নটি বিরসে ভরিয়া।২০২০
মস্তকে করিয়া জল দিলে আনিয়া ॥
জখন হাড়ি সিদ্দা জল দেখিল।
হাত ধরিয়া ধম্মিরাজাক বাহির করিল॥
হাড়ি বলে আসা নড়ি কার প্রানে চাও।
শিঘ্র গতি হিরা নটিক ধর চিত্তর করিয়া।২০২৫
বার বচ্ছর গাও ধুইছে ছেইলার বুকত চড়িয়া ॥
এক দিন ছিনান করুক ধম্মিরাজ নটির বুকত চড়িয়া ॥
রাজার হস্ত ধরি হাড়ি সিদ্দা নটির বুকত চড়ি দিল।
জেই জল আনলে নটি মস্তকে করিয়া।
ঐ জল দিয়া ছিনান করুক রাজা দুলালিয়া॥২০৩০
রাজাক ছেনানে নটি একতিল নড়িল।
কমরোতে পাও দিয়া নটির ছিড়িয়া ফেলিল॥[১৬৩]

ছিনান করি মহারাজাক মিতিঙ্গাএ নামাইল।[১৬৪]
নটির ভাড়ুআক সিদ্দা বলিতে নাগিল॥
ভাড়ুআ নটির হুকুমে খড়ম পিড়া জোগাইছ আনিয়া।২০৩৫
জা জা ভাড়ুআ বেটা তোক দিলাম বর।
কাটগুআ হৈয়া থাক তুই জঙ্গলের ভিতর॥
জা জা হিরার বান্দি তোক দিনু বর।
বেশ্যা রূপ হইয়া থাকিস বন্দরের উপর।![১৬৫]
ওগো হিরা নটি ধনের জোরোতে চড়ছেন ছাইলার বুক্খের মাঝারে।২০৪০

জা জা হিরা নটি তোক দিলাম বর।
জোড় বগদুল হএয়া থাক সয়ালের ভিতর॥[১৬৬]
মুক্খে খাও মুক্খে হাগ মুক্খ শস্ জাও।
এজনমের মধ্যে নটি রক্খা নাহি পাও॥
জা জা হিরার ধন কড়ি তোক দিলাম বর।২০৪৫
খোলাহাটি সহর হইয়া থাক তুই রাজ্যের ভিতর॥[১৬৭]
জখন হিরা নটিক অভিশাপ করিল।
জোড় বগদুল হৈয়া উড়াও করিল॥
হিরার বাড়ি হাড়ি নন ভন করিয়া।
উদ্ধারোক নাগিয়া হাড়ি চলিল হাটিয়া॥২০৫০
কতেক দুর জায় হাড়ি কতেক পন্থ পায়।
আর কতেক দুর জাইতে হাড়ি ফম করিয়া চায়॥
বার বচ্ছর দুস্ক হইল ছেইলার হিরা নটির ঘরে।
কিছু গেয়ান না দিমু ছেইলার বরাবরে॥

এর মাও আছে মএনা গেয়ানে ডাঙ্গর।২০৫৫
গেয়ান পরিক্খা নিবে এর ঘড়িকের ভিতর॥
হড়ি বলে হারে জাদু রাজ দুলালিয়া।
কিছু ভিক্‌খা করেক এই বন্দরের ভিতর।[১৬৮]
গুরু শিস্যে খাই আমরা পন্থের উপর॥[১৬৯]
রাজা কহে গুরু গুরুপা জলন্তরি।২০৬০
ক্যামন করি খুজি ভিক্‌খা আমি নিন্নয় না জানি॥
হাড়ি বলে হারে জাদু রাজ দুলালিয়া।
দক্খিন দেশি রথিত আমরা নামে ব্রহ্মচারি।
ভিক্খা খুজিতে আমি সরম না করি॥
এই তুম্বা নেরে জাদু হস্তে করিয়া।২০৬৫
ভিক্খা ভিক্খা করি উঠিস চ্যাঁচাইয়া॥
চাউল কড়ি দিবেক তোক বিস্তর করিয়া॥
গুরুর বাক্য ধম্মিরাজা ব্রথা না করিল।
ভিক্‌খা মাগিবার জন্য নগরেতে গ্যাল॥
হাড়ি বলে জয় বিধি কর্ম্মের বুঝি ফল।২০৭০
নয়া শিষ্যের মন বুঝি পন্থের উপর॥

বড় রুপ্প আছে জাদুর শরিলের উপর।
গিরির ঘরের বউ বেটি সব করিবে পাগল॥
ও রুপ থুইলে হাড়ি একতর করিয়া।
ন্যাঙ্গা[১৭০] কোটাল হৈল হাড়ি সিদ্দা কায়া বদলিয়া॥২০৭৫
রাজা নাই পৌছিতে গ্যাল অগ্রে চলিয়া।
বন্দরেতে হাড়ি সিদ্দা ব্যাড়ায় চ্যাঁচাইয়া॥
ঘরে ঘরে আইসে দোহাই ফিরাইয়া॥
একনা চ্যাংরা আইসছে বন্দর নাগিয়া।
তোমার বউ বেটি নে জাবে পাগল করিয়া॥২০৮০
সবাই থাকেন দুআর নাগাইয়া।
একটা চ্যাংরা একটা কুত্তা দ্যান আর ছাড়িয়া॥[১৭১]
ভিক্‌খা বলে জে না উঠিবে চ্যাঁচাইয়া।
জত মোনে চ্যাংরা দিবেন কুকুর হিলিয়া॥
বন্দুরিয়া নোক হন নিদয়া নিঠুর।২০৮৫
ভিক্‌খা না দ্যান রথিতক হিলিয়া দ্যান কুকুর॥
একথা জানাইয়া হাড়ি সিদ্দা পন্তম্যালা দিল।
বাঁশের তলতে হাড়ি সিদ্দা আপন নয়নে লক্‌খিকে দেখিল॥[১৭২]
লক্খির তরে কথা বলিতে নাগিল॥
সেই জে হাড়ি সিদ্দা কার বা ঘরে খায়।২০৯০
মুক্খের জবাবে তার ছয় কাম জোগায়॥
আপনি মা লক্‌খি সিদ্দা হাড়িক আন্ধিয়া দিলে ভাত।[১৭৩]
দ্যাবপুরের পাঁচ কন্যা খোআইয়া দিলে তাক॥

সুবচনি বাড়িয়া দ্যায় গুআ হাড়ি সিদ্দা বসিয়া খায়।
মুক্খের জবাবে তিন কাম জোগায়॥২০৯৫
মা লক্‌খির অন্ন নিল সিদ্দা হাড়ি তিন খান পারস করিয়া।
আপনার ভাগের অন্ন খাইল সিদ্দা হাড়ি সন্তোস করিয়া॥
রাজার ভাগের অন্ন থুইলে জতন করিয়া।
আড়াই পুটি[১৭৪] অমর মন্ত্র দিলে রন্নত ছাড়িয়া॥
শিয়ান ঘ্যাঙ্গরে চেড়াই ঘুগরি রন্নক দিলে ছাড়িয়া।[১৭৫]২১০০
এক মুঠ থুকরা দিয়া রন্ন রাখিলে ঢাকিয়া॥[১৭৬]
বন্দুরিয়া চ্যাংরা রাজাক কুত্তা হ্যালাইয়া দিল!
ভিক্খা করিবার না পাইয়া রাজা ফিরিয়া আসিল॥[১৭৭]
কান্দি কান্দি গুরুক কথা বলিতে নাগিল॥

গুরু ভারতি ভিক্‌খা বলি গ্যালাম আমি বন্দর নাগিয়া।২১০৫
বন্দুরিয়া চ্যাংরা দিলে আমাক কুত্তা হ্যালাইয়া॥
ভিক্‌খা পাই নাই গুরু আইলাম ফিরিয়া॥
হাড়ি বলে শুন ভক্ত বচন মোরে হিয়া।
একনা ভক্ত গ্যাল আমার পন্ত হাটিয়া।
তাঁয় রন্ন পাকাইলে পন্তে বসিয়া॥[১৭৮]২১১০
আমার ভাগের রন্ন জাদু খাছি বসিয়া।
তোদের ভাগের রন্ন জাদু থুছি জতন করিয়া॥

খাও জাদু রন্ন গুরু শিস্যে জাই মহলক নাগিয়া ॥
জখন ধম্মিরাজ রন্নের নাম শুনিল।
হাউক দাউক করি মহারাজা রন্নের কাছে গ্যাল।[১৭৯]২১১৫
রন্ন দেখি মহারাজা কান্দিতে নাগিল॥
ঠ্যাং দিয়া রন্ন রাজাক দিলে দ্যাখাইয়া।
কপালে চড়াইয়া কান্দে রাজ দুলালিয়া॥[১৮০]

মাছি করে ঘিন ঘিন পিপড়ায় ছাড়ি জায়।
এই মত অন্ন আমার কুত্তায় না খায়॥২১২০
হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
বাম হস্তে দোনো চৌক ধর চিপিয়া॥
ডা’ন হাতে রন্নের থুকরা ক্যাল বাছিয়া।
এই থালের রন্ন খা তুই রাজ দুলালিয়া॥
ছি ছি ঘিন ঘিন করি রন্নের কাছে গ্যাল।২১২৫
শুরু দেবের বাক্য রাজা ব্রথা না করিল।
বাম হস্তে দোনো চৌক ধরিল চিপিয়া।
ডা’ন হাতে রন্নের থুকরা ফ্যালাইলে বাছিয়া |
ছি ছি ঘিন ঘিন করি এগাস অন্ন খাইল।
অমৃত মিঠা রাজার মুখত নাগিল॥[১৮১]২১৩০
কেলনা দুবা অমরি হৈল॥
ওগাস খাইয়া রাজা ফির গাস খাইল।
অমিত্র পাইয়া রন্ন গিলিয়া ফেলিল॥
লিজু জিগা অমরি হৈল ॥

দুই গাস আন্ন খাইয়া ফির গাস তুলিল।২১৩৫
খপ করি হাড়ি জাইয়া রাজার দোনো হাত ধরিল॥[১৮২]
কাড়াকাড়ি হুড়াহুড়ি আড়াই গাস খাইল॥
আড়াই গাস অন্ন খাইলে রাজ পুত্র পন্তে বসিয়া।
আড়াই পুটি অমর মন্ত্র নিলে শিখিয়া॥
আধ পুটি গেয়ান হাড়ি সগ্‌গে উড়াই দিল।২১৪০
সেই কাল হইতে রোজা বৈদ্দ পৃথিমিতে হইল॥
এখন গুরু শিস্যে জাএছে মহলে চলিয়া।
কতক দুর জাএয়া সিদ্দা কতেক পন্থ পাইল।
কতক দুর অন্তরে সিদ্দার বুদ্ধি আলোক হইল॥
জাও জাও সোনার চান দুখনির দুলালিয়া।২১৪৫
এই দিয়া চলি জাইস তোর মাএর বরাবর।
মুঞি হাড়ি জাওঁ এলা আপনার মহল ॥
মহামন্ত্র গিয়ান নিলে রিদএ জপিয়া।
শুন্যতে হাড়ি সিদ্দা গ্যাল শুন্যতে মিশায়া॥[১৮৩]

গোবাগা জনওআর হৈল কায়া বদলিয়া ॥২১৫০
জখনে ধম্মি রাজা জনওআর দেখিল।
অন্তর ধিয়ানে রাজা জানিয়া পাইল।
ইয়ার জনোআর নয় জনোগার নয় গুরু দ্যাবের চক্কর।
মায়া করি ছলিবে গুরু পথের উপর।
নয়া গুরুর মন্ত্র নিলে রিদত্র জপিয়া।২১৫৫
মার মার বলি জনোআর নিগায় তো পিট্টিয়া ॥
খট্ খট্ করি ব্রম্মচারি উঠিল হাসিয়া।
শুরু শিস্যে জাএছে এখন মহলক নাগিয়া ॥
মুনিমন্ত্র গিয়ান নিলে সিদ্ধা হাড়ি রিদএ জপিয়া।
রাস্তাএ জাইয়া দিলে একটা দরিয়া সিরজিয়া।[১৮৪]২১৬০
জখনে ধম্মিরাজা দরিয়া দেখিল।
দরিয়া দেখিয়া কথা বলিতে নাগিল॥
জাওআর ব্যালা গেনু আমি হাটু খানেক পানি।
কোন দিক্ দিয়া বরসিল দ্যাওয়া নিরলয় না জানি॥
দরিয়া নয় দরিয়া নয় গুরু দ্যাবের চক্কর।২১৬৫
মায়া করি ছলবে আমাক পথের উপর ॥
নয়া গুরুর মন্ত্র নিলে রিদএ জপিয়া।[১৮৫]
সোনার ভোমরা হৈল কায়া বদলিয়া॥
সোনার ভোমরা হৈয়া রাজা দরিয়া পার হৈল।
শুন্যের দরিয়া হাড়ি সিদ্ধা শুন্যত মিশাইয়া দিল॥২১৭০
আপেনার ভক্‌তক কথা বলিতে নাগিল॥

এখন জাদু জাও তুমি মহলক চলিয়া।
আমি সিদ্দা হাড়ি জাইছি ফেরুসা চলিয়া॥
রাজাক ছাড়ি হাড়ি সিদ্দা শুন্যত গ্যালত মিশাইয়া।২১৭৫
একা প্রানে জাএছে রাজা মহলক নাগিয়া॥
কতক দুরে জাএয়া রাজা কতেক পন্থ পাইল।
আখোআলের নিকট জাএয়া রুপস্থিত হৈল॥
আখোআলের তারে কথা পুছিতে নাগিল॥
খাটো গছি গুআ দ্যাখ ডাব নারিকোল।২১৮০
হুর ময়ালে দ্যাখ ওটা কার বাড়ি ঘর॥
রাখাল বলে—একশালা, রাজা ছিল ডমপাইয়া বড় রাজা।
রদুনা রানিক বিআাও কচ্ছে পুস্প সেঞেরা দিয়া।
রছনা রানিক বিআও ক’চ্ছে পদুনা পাইছে দানে।
তার জত বান্দি পাইছে ব্যাবারের কারনে॥২১৮৫
পুসিবার না পেরায় শালা গেইছে উদাসিন হৈয়া।
উআরে রানিক জদি মুঞি আখোআল পাওঁ।
আরো চাইট্টা পালের গরু বেশি করি চরাওঁ॥
রাজার সাক্খাত আখোআল কটুবাক্য বলিল।
আউট হাতে জিউ রাজার বিদুর হৈয়া গেল॥২১৯০
রাজা অভিশাপ হ্যা এছেন;—
জা জারে আখোআাল বেটা তোক দিলাম বর।
চুন্নি গরু হউক তোর পালের উপর॥
চুন্নি গরু হৈয়া খাউক গিরাস্তের পাকা ধান।
খোলা দিয়া মলি দেউক তোর নাক আরো কান॥২১৯৫
কান্দি কাটি জা তোর বাপ মাওর কাছে।
হুলি গুতি পেঠায়া দেউক জা গরুর পালতে॥
আখোআালক অভিশাপ দিয়া পন্থ ম্যালা দিল।
হালুআর নিকট জাএয়া রাজা খাড়া হৈল॥
হালুআর তরে কথা বলিতে নাগিল॥২২০০

হালুআরে,—খাটো গছি গুআ দ্যাখ ডাব নারিকোল।
হুর ময়ালে দ্যাখ এটা কার বাড়ি ঘর॥
জখনে হালুআ মুনি রাজাক দেখিল।
তৎখণে হালুআ মুনি হাল ছাড়িয়া দিল॥
হালের ন্যাংড়া নিল হালুআ গালাতে পালটায়া।২২০৫
কান্দি কাটি রাজাক কথা দ্যাএছে বলিয়া॥
মহারাজ! খাটো গছি গুয়া দ্যাখ ডাব নারিকোল।
হুর ময়ালে দ্যাখেন রাজা তোমার বাড়ি ঘর॥
জে দিন গেইছেন ধম্মিরাজ হামাক মাউরিয়া করিয়া।
তোমার নামে বার বছর হাল বমু ডাঙ্গাত আসিয়া॥২২১০
মধুর বচনে হালুআ রাজাক শ্রি সংবাদ বলিল।
তখনে ধম্মি রাজা হালুআক আশিব্বাদ দিল॥
জা জারে হালুআ বেটা তোক দিলাম বর।
জেখান গ্রামে থাক জাদু ঐখান গ্রাম তোর ॥
হালে নাড় হালে চাড় নাম পাড়াও চাসা।২২১৫
জত দ্যাখেন রতিত আবাগন তোমার করুক রাশা॥
আপনার মহলক নাগি রাজা পন্থ ম্যালা দিল।
রাজার দারে জাএয়া রুপস্থিত হৈল॥
ওরুপ্প থুইলে রাজা একতার করিয়া।
অদ্ভুত সন্ন্যাসি হইল কায়া বদলিয়া॥[১৮৬]২২২০

ভিক্‌খা ভিক্‌খা বলি চ্যাঁচাইবার নাগিল।
শুনিয়া রানির ঘর চমকি উঠিল॥

বার জায়গাত্র চৌকি দিলাম ত্যার জায়গাএ থানা।
রথিত বৈস্‌টম আসিবার এ বাড়িত মানা ॥
জাহা দেখিব নারি দরশন ধারি।২২২৫
কাটিয়া ফ্যালাব রথিত পুরুস প্রানের বৈরি ॥
কি কর বান্দির বেটি কার প্রানে চাও।
একশত হেঙ্গলের ডারুকা দ্যাওত ছাড়িয়া।
কোনঠাকার রথিত আছে ফেলুকত মারিয়া॥
একশত হেঙ্গলের ডারুকা দিলেতো ছাড়িয়া।২২৩০
মার মার বলি হেঙ্গল গ্যালত চলিয়া ॥
সারা ঘাটাএ গ‍্যাল হেঙ্গল মার মার বলিয়া।
কিসের আর মারবে হেঙ্গল কান্দে রাজার চরনে পড়িয়া ॥[১৮৭]
দৌড় পাড়ি বান্দি বেটি খবর জানাইল।
একশত হেঙ্গলের ডারুকা দিনু ছাড়িয়া।২২৩৫
কিসের আর নারিবে তাক কান্দে চরনে পড়িয়া॥
রদুনা পদুনা রানি কএছে;—
দিদি, কুকুর ভুলান গিয়ান জানে রথিতের কুঙর।
এই কারনে কুত্তা কান্দে চরনের উপর॥

বাপ কালিয়া পাগলা হস্তির বন্দন দেই আরো ছাড়িয়া।[১৮৮]২২৪০
শুঁড় দিয়া পাল্‌টাইয়া বেটাক ফ্যালাউক মারিয়া॥
মদ ভাঙ্গ খোআইলে হস্তিক বিস্তর করিয়া।
পাগলা হস্তির বন্দন রানি দিলেতো ছাড়িয়া॥
আঠার দেউরি আইসে হস্তি মার মার করিয়া
কিসের আর মারবে হস্তি কান্দে রাজার গলাটা ধরিয়া॥২২৪৫
দৌড় পাড়িয়া বান্দির বেটি খবর জানাইল।
মা সারা ঘাটাএ গ্যাল হস্তি মার মার বলিয়া।
কিসের মারবে কান্দে তার গলাটা ধরিয়া॥
দৌড় পাড়িয়া বান্দির বেটি খবর জানাইল।[১৮৯]

তলে নিলে চাউল কড়ি উপরে কাঞ্চা সোনা।২২৫০
ভিক্‌খা ধরি ব্যারাইল তখন রসুন। পছন। ॥[১৯০]

ভিক্‌খা ন্যাও ভিক্‌খা ন্যাও রথিত গোঁসাই।
গিরির ঘরের বউ বেটি ফিরিয়া ঘরে জাই॥
রথিত বলে কথা গড্ডিয়া বচন।
পশ্চিম দেশি রথিত হামরা নামে ব্রহ্মচারি।২২৫৫
তিরি লোকের হাতে ভিক্‌খা লইতে না পারি॥
বারেক জদি ভিক্‌খা দ্যায় তোমার মাথার ছত্তর।
তবে নি ভিক্‌খা নিম রতিথের কুঙর॥
রানি বলে শুন রতিথ বাক্য আমার ন্যাও।
তিরি বই আর পুরুস নাই পাটের উপর।২২৬০
কাঁয় তোমাক ভিক্‌খা দিবে রথিতের কুঙর॥
হাতের ঠারে রানির ঘরক অঙ্গুরি দ্যাখাইল।
অঙ্গুরি দেখিয়া রানির ঘর ভাবিবার নাগিল॥
ছোট রানি আছে রাজার বুদ্ধির নাগর।
নিরখিয়া দ্যাখে রাজার হস্তের উপর॥২২৬৫
রানি কইছে হারে রথিত বাক্য আমার ন্যাও।
এই আঙ্গুট ছিল রাজার হস্তের উপর।
সেই আঙ্গুট কোঠে পাইলু তুই রথিতের কুঙর॥[১৯১]
রথিত কয় শুন রানি বাক্য আমার ন্যাও।
তোমার আজা আর ছিলাম আমি এক গুরুর শিস।
পইল সঞ্জাতে এক বাড়িত উত্তরিলাম জাএয়া।২২৭০
সেও গেরস্ত দিলে বিত্রি ধানের চাউল।
বিত্রি ধানের চাউল দিলে ঠাকুরি কলাইএর ডাইল॥
তাইতে তোমার রাজা খাইছে হতন্তুসি হইয়া।

প্যাট নামা কারিয়া তাঁয় গেইছে মরিয়া॥[১৯২]
কাখো দিলে ঝুলি মান্তা কাখো গোপাল ডাং।২২৭৫
ভাবোত থেকে শ্রি আঙ্গুট মোক ক’চ্ছে দান।[১৯৩]
হয় তোমার শ্রি আঙ্গুট ন্যাও চিনিয়া॥
বিদেশিয়া রথিত আমি জাই বৈদেশ নাগিয়া॥
রদুনা বলে বইন মোর পদুনা নাইওর দিদি।
নিশ্চয় জানো আমার সামি গেইছে মরিয়া।২২৮০
রেজি ছুরি নেই আমরা হস্তে করিয়া॥
তিরি বদ্দ দেই রথিতের চরনে পড়িয়া॥
হাতে রেজি নিয়া রানির ঘর আইল চলিয়॥
হাতে রেজি নিয়া রানি মরিবার চায়।
চ্যাংরা কালের হাসি রাখন না জায়॥২২৮৫
নাকে মুখে ফাপর খাইয়া দিলে পরিচয়॥
জখন ধম্মিরাজা মহল সোান্দাইল।
দুআরের জোড় নাগরা বাজিয়া উঠিল॥[১৯৪]

হস্ত ধরিয়া রানির ঘর রাজাক মন্দির ডুবাইল।
মন্দিরে সোন্দাইয়া রাজা ভাবিবার নাগিল॥২২৯০
গুরু আমার জাবার কইছে মাএর বরাবর।
মুঞি ক্যানে আসনু সুন্দরির মহল।[১৯৫]
গুরুর মন্ত্র রাজা শরিলে জপিয়া।
সোনার ভোমরা হইয়া গ্যাল উড়িয়া॥
ফেরুসাতে জাএয়া রাজা রুপস্থিত হৈল।২২৯৫
বুড়ি মএনা চরকা কাটে দুআরত বসিয়া।
ধিয়ানেতে মএনার চরকাক দিলে উড়াইয়া॥
ও মএনা পাইছে গোরখ নাথের বর
উড়িয়া জাইতে ধরিলে মএনা চরকার ছত্তর॥[১৯৬]
ধেয়ানের মএনা মতি ধেয়ান করি চায়।২৩০০
ধেয়ানের মধ্যে তার ছাইলার নাগাল পায়॥
আয় প্রানের বাছা ব’লে মএনা ডাকাবার নাগিল।
ডাক মধ্যে ধম্মিরাজা দরশন দিল॥

ছেইলাক কোলে নিয়া মএনা লৈক্‌খ চুম্ব খাইল॥
বাবা ভাল গেয়ান শিখা আইলু বিদেশ সহরে।২৩০৫
সুখে এলা রাজ্য কর পাটের উপরে॥
ধরিয়া বান্ধিয়া তোর গলাএ দ্যাওঁ মালা।
জমগুলা করি দিম তোক এলা চরনের ঘোড়া॥
ধবল বস্ত্র নিলে মএনা পরিধান করিয়া।
হেমতালের নাটি নিলে হস্তে করিয়া॥২৩১০
রানির মহলক নাগি গ্যালত চলিয়া।
খেতুআর তরে কথা মএনা দ্যাএছে বলিয়া॥
খেতুরে, সহরে সহরে আইসেক এ ঢোল পিটিয়া।
রাজার জত দেওয়ান পাত্র আসুক সাজিয়া॥
মএনার বাক্য খেতু ব্রথা না করিল।২৩১৫
সহর জাএয়া খেতুআ এ ঢোল পিটা’লো॥
রাজার জত দেওয়ান পাত্র আসিল সাজিয়া।
জত রাজার আইয়ত প্রজা সাজিয়া আইল।
সাদু গুরু বৈস্‌টম কত আসিয়া খাড়া হৈল।
কৈল্লাস নাগিয়া মএনা হুঙ্কার ছাড়িল॥২৩২০
মএনার গুরু শিব গোরেকনাথ আসিয়া হাজির হৈল।
ত্রিসাল কোটি দ্যাবগন সাজিয়া আসিল॥
নাপিতক আনিয়া মএনা রাজার মস্তক মুড়াইল।
পঞ্চজন ব্রাম্মন আনিয়া বেদবিধি পড়াইল॥[১৯৭]

দুআরের নাগরা বাজিয়া উঠিল।২৩২৫
জত মোনে সিপাই সান্ত্রি সাজিতে নাগিল॥

ভাঙ্গি পইছে জোড় বাঙ্গলা উঠিয়া খাড়া হৈল।
চৌদ্দ খান মধুকর ভাসিয়া উঠিল॥
জবুনার ঘাট বহিতে নাগিল।
নানা শব্দ বাইচ হইতে নাগিল॥২৩৩০
পাট হস্তি নিলে সাজন করিয়া।
মার মার বলিয়া হস্তি আইলে চলিয়া॥
শুঁড় উঠাইয়া হস্তি রাজাক প্রনাম করিল।
শুঁড় দিয়া মহারাজাক পিঠে তুলি নিল॥
পাট নাগিয়া রাজাক গমন করাইল॥২৩৩৫
হরিধ্বনি দিয়া ফুলের পালঙ্গে বসিল।
লৈক্‌খ লৈক্‌খ টাকা প্রনামি পাটত বসি পাইল॥
বন্দুকের জয় জয় ধোঁআর অন্ধকার।
বাপে বেটায় চেনা না জায় ডাকাডাকি সার॥
রাইঅত জনে রাজা বসিল সারি সারি।২৩৪০
মুল্লুকের হিসাব দ্যায় বিরসিং ভাণ্ডারি॥
বসিল ধম্মি রাজা সবার মাঝারে।
চতুদ্দিকে ঘিরিয়া ধরিলে বৈদ্দ ব্রাম্মনে॥
দরবারত থাকিয়া রাজার হরসিত মন।
আপনার মহলে গিয়া দিলে দরশন॥[১৯৮]২৩৪৫

ভিতা ভিতি রাইয়ত প্রজা গ্যালত চলিয়া।
সাদু গুরু বৈস্‌টম জত গ্যাল চলিয়া॥
শিব গোরেকনাথ দ্যাবগন গ্যাল কৈলাসক নাগিয়া।
রাজা আপন রাজাই করুক পাটতে বসিয়া॥[১৯৯]
রাজা রানি খাউক রাজ্য করিয়া।৩৩৫০
গুপিচন্দ্রের গান গ্যাল সমপ্পন হইয়া॥


  1. পাঠান্তর:—

    মা মা বলি রাজা ডাকিতে নাগিল।
    ডাক মধ্যে মএনামতি দরশন দিল॥
    আসিয়া নএনামতি নাপিতক দেখিল।
    নাপিত দেখি মএনা ভয়ঙ্কর হৈল॥
    নাপিতের তরে কথা বলিতে নাগিল॥
    মএনা বলে নাপিত কার প্রানে চাও।
    কামাইও ছাইলার মাতা না করিও ঘিন।
    সোনা দি বান্দাম খুর তোর মানিক দিম চিন॥
    গামারি পিড়া রাজাক বসিবার দিল।
    এক ঝাড়ি জল আনিয়া জোগাইল॥
    রাজার মস্তকের পাগুড়ি খেতুআর মাতাএ দিল॥
    জখন রাজার মাতাএ তুলি দিলে জল।
    রাজ্য পাট সিঙ্গাসন করে টলমল॥

  2. পাঠান্তর:—

    মস্তক ভিজাইয়া নাপিত পাইয়া গ্যাল কুল।
    ঝাড়িয়া ঝুড়িয়া বান্দে মস্তকের চুল॥
    হাতে খুর নইয়া নাপিত এদিগ ওদিগ চায়।
    কেহ হুকুম না দ্যায় রাজার হাজামত বানায়॥
    মএনা বলে হারে মধু কার প্রানে চাও।
    হাজামত কর ছাইলার মস্তক না কর ঘিন।
    সোনা দিয়া বান্দব খুর তোর মানিক দিব চিন॥
    আমার ছাইলার মস্তক কামাও নইদে হয়ে বাস।
    তোর নাম থুব মধু কেবল হরিদাস॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    এক নেওয়াইজ পাতা আনিল যোগাইয়া।
    স্বর্নর বাটিত লইল জল ঢালিয়া॥
    যেন মতে রাজার মাথায় তুলিয়া দিল জল।
    রাজ্য ভোম সিংহাসন করে টলমল॥
    ক্ষুর ধরিয়া নাপিতর বেটা চতুর্দ্দিকত চায়।
    কার হুকুম না পায় হাজামত বানায়॥
    ময়না বলে নাপিতর বেটা কার পানে চাও।
    মোর যাদুর মাথা কামাইতে না ঘিনাও।
    হিরা দিয়া বান্ধি দিমু মানিক দিমু চিন॥

  3. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ:—

    সকল চুল কামাইও রাইখ বংম চুলি।
    অবস্য উড়াইবু হারিবু কেন্থা ঝুলি॥
    ক্ষুর তুলিয়া এক সত দিন রাজার কেস মৃত্তিকায় পড়িল।
    কেসী গঙ্গা হইয়া বহিবার লাগিল॥

  4.  ইহার পর একটী পাঠে পাই:—
    অবল ধবল রাজার খিল্কা দিলে গলে।
    হয় দেখ শুক্লার পইতা রাম রাম কথা বলে॥

    রাম অবতারে ধনুকধারি কৃষ্ণ অবতারে বাশি।
    নিতাই অবতারে ডণ্ডধারি রাজা হইল সন্ন্যাসি॥
    আপনার ঝুলি মান্ত্রা রাজাক দান দিল।
    আপনার হরির নামের মালা রাজাক দান দিল॥
    করঙ্গ তুর্ম্মা রাজার হস্তে দিল॥

     পাঠান্তরে:—

    এক তাকর বস্ত্র নিলে কপিন ফাড়িয়া।
    চা’র আঙ্গুল বস্ত্র দিলে এ ডোর করিয়া॥
    তিন হাত বস্ত্রে দিলে খিড়কা বানেয়া॥

     গ্রীয়ারসন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে রাজাকে যোগী করার প্রক্রিয়াটী এইরূপে বর্ণিত হইয়াছে:—

    তুরু তুরু করিয়া ময়না হুঙ্কার ছাড়িল।
    সোল সত মুনি হুঙ্কারত নামিল॥
    পুষ্পরথে নামিল গোরক বিদ্যাধর।
    ঢেকি বাহনে নামিল নারদ মুনিবর॥
    বাসোয়ার পিঠিত নামিয়া গেল ভোলা মহেস্বর।
    ধনুকবানে নামিয়া গেল স্রীরামলক্ষন॥
    পাঁচ ভাই পাণ্ডব নামিল ঠাঁই ঠাঁই।
    কান কাটা হাড়ি সিদ্ধা লেখা যোখা নাই॥
    ঘসির ধুলা দিয়া বদন ঢাকিল।
    সম্রাট দেখিয়া মএনা কান্দিবার লাগিল॥

    মায়র দুই নয়নর তারা রে। আরে ও বাছা।
    আমার কেবা লইল রে॥ ধুয়া॥
    নাপিতর হস্তর ক্ষুর লইল কাড়িয়া।
    ঐ ক্ষুর কানফাড়ার হস্ত দিল তুলিয়া॥
    যেন মতে কানফাড়া ক্ষুর হস্তে পাইল।
    রাম রাম বলিয়া রাজার দুই কর্ন ফাড়িল॥
    ফাঠিকর কুণ্ডল রাজাক পড়াইল।
    ভগবান বস্ত্র আনিয়া যোগাইল॥
    পাঁচ বৈষ্ণব ধরিয়া কপিন পড়াইবার লাগিল।
    এ ডোর কপিন রাজাক পড়াইল॥
    রাম খিলিকা গলে তুলি দিল।
    কদুর থাল হস্তত তুলি দিল॥
    ডাঙ্গা কেঁথা ভাঙ্গা কপিন ভাঙ্গা বহির্বাস।
    সবে মেলিয়া দ্বারত আছে চৈত্যর দাস॥
    শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ অধিক রাধে নিতা।
    শ্রীগুরু বৈষ্ণব বন্দল ভাগবত গিতা॥
    ভিক্ষা বলিয়া রাজার বেটা কান্দিবার লাগিল।
    হাতি ঘোড়া দণ্ড ছত্র গোলাম খেতু ভিক্ষা দিন।
    ঐ ভিক্ষা গুরুর চরনত দিয়া পরনাম করিল॥
    যা যা রাজার বেটা তোমাক দিনু বর।
    তিন কোন পির্থিবি টলিয়া গেলে না যাও যমর ঘর॥
    যেন মতে ধর্ম্মিরাজা বেনা মুখ হইল।
    সর্গর মুনিগন সর্গত চলি গেল॥

  5. পাঠান্তর:—

    রাজা বলে শুন গুরু গুরুপা জলন্তরি।
    কিছু ভিক্‌খা নিব আমি মাএর বরাবর।
    তবু নি গুরু শিস্‌সে জাব আমি বৈদেশ সহর॥

  6. পাঠান্তর—‘কপালে মারিয়া চড়’। পরবর্ত্তী ছত্র

    চান বদন চাইরা লৈক্‌খ চুম্বন খাইল।

  7. পাঠান্তর—

    একঘড়ি রহিও বেটা ধৈরন ধরিয়া।
    জাবত না আইসঁ ছিলান করিয়া॥
    পাচ নোটা কুয়ার জলে ছিলান করিয়া।
    পাকশালার ঘর নইলে পরিস্কার করিয়া॥

  8. পাঠান্তর—

    সোনালিয়া ঝাড়িত জল নইলে ভরিয়া।
    ঐ জল দিলে আগা করিয়া॥

  9. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—

    অন্ন খাও অন্ন খাও রাজ দুলালীয়া।

  10. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ:—

    যেন মতে থালত অন্ন দেখিল।
    কপালত মারিয়া চড় কান্দিবার লাগিল॥

  11.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—
    একখান কলার পাত আনিলে কাটিয়া।
    তাহাত অন্ন গুটিক লইল ঢালিয়া॥

    ভাঙ্গা তুম্বা আনিল ধরিয়া।
    তাহাত জল ফুটিক লইল ঢালিয়া॥
    হাতত মুখত জল দিয়া কোন কাম করিল।
    শ্রীকৃষ্ট বলিয়া অন্ন মুখত তুলিয়া দিল।
    এক গাসে দুই গালে পঞ্চ গাস খাইল॥

     পাঠান্তরে পাই—

    এখান কলার পাতা আনিলে কাটিয়া।
    সোবনের থালের অন্ন নইলে পাতায় পারশিয়া॥
    সোনালিয়া ঝাড়ির জল নইলে তুর্ম্মায় ঢালিয়া।
    মৃত্তিঙ্গায় বসিল রাজা যোগ আসন ধরিয়া॥

  12. পাঠান্তর:—

    অন্ন খাইয়া রাজা জলের দিগে চায়।
    ভাঙ্গা তুর্ম্মা দিয়া জল উচ্ছিয়া পলায়॥
    মাটির জল রাজা চুম্বক দিয়া খাইল।

  13. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ:—

    দেবির ভাই সনি কপাল চড়িল॥
    সনি কেতু রাজার গর্ভবাস করিল।
    সকল সরীর রাজার মলিন পড়িল॥
    করুনা করিয়া ময়না কান্দিবার লাগিল॥

  14. পাঠান্তর:—

    অন্ন জল খাইয়া মুখে দিলে পান।
    মাএ পুত্রে কথা কহে ভর পুন্নিমার চান॥

  15. পাঠান্তর:—

    সোনার বাটা নিলে মএনা ভিক্‌খা সাজাঁয়া।
    বার কড়া কড়ি নিলে হরিদ্রা মাখাঁয়া।
    বারটা মোহর নিলে সোনার বাটাএ করিয়া॥
    কান্দি কাটি ভিক্‌খা দ্যাএছে পুত্রক নিগিয়া।
    নিজা নিজা ভিক্‌খা জাদু ঝোলাএ করিয়া॥
    গুরু শিস্‌সে খাএন তুমি বৈদেশেতে জাএয়া॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের পাঠে পাই:—

    সোল কাহন কড়ি দিল ঝোলঙ্গায় সাজাইয়া।
    কড়ীর কথা না কন তোর গুরুর বরাবর॥
    ছাই ভস্ম করিয়া কড়িক পটামু।
    যমর ঘর হারির পাছে গমন করিমু॥

  16. গ্রীয়াসন সাহেদের সংগৃহীত পাঠে পাই:—

    সরিসাতে সরু দুবলাতে হিন।
    তখনে পাবু পরদেশর চিন॥

  17. পাঠান্তর—

    গড় হয়ে প্রনাম কর জাহার গলায় দরশনের মালা॥

  18. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—

    ফুল গোটেক দেখিয়া ফুল না ফাড়িমু।
    পাখী গোটেক দেখিয়া ঢেল না মারিমু।
    পর স্ত্রীক দেখিয়া হাস্য না করিমু।
    আগত মা দায় দিয়া পশ্চাৎ ভিক্ষা লমু॥

  19.  পাঠান্তর:—
    হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।

    নড়িতে চড়িতে করুলু মুড়িয়া দুপ্রহর।
    কত্‌খন চলিয়া জাইব ডাড়াইপুর সহর॥
    রাজা কহে শুন গুরু গুরুপা জলন্তরি।
    জাইতেছি আমরা গুরুধন পরদেশক নাগিয়া।
    জাবার কালে রানি গুলাক মুই আইসোঁ দেখিয়া॥
    হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
    রানির কথা বলিস তোর গুরুর বরাবর॥
    থাকিল এখানা দুক্‌খ মোর পাঞ্জারের ভিতর।

    ইহার শাস্তি হইবে তোর জঙ্গলের ভিতর॥

    জাও জাও সোনার চান দুক্‌খিনির দুলালিয়া।
    জখন ধম্মি রাজা একথা শুনিল।
    সুন্দরির মহল নাগি গমন করিল॥

  20. পাঠান্তর:—

    রদুনা বলে বইন মোর পদুনা নাইওর দিদি।
    নিশ্চয় হারালাম আমি সোআমি নিজপতি।
    কি আছে প্রানে দিদি মহলের ভিতর।
    হর দ্যাখেক ধম্মি রাজা ছাড়ে বাড়ি ঘর॥
    মহারাজা জাইছে আমার সন্ন্যাসক নাগিয়া।
    আমরা দুই বহিন রহিব কার মুক্‌খ চাহিয়া॥
    এজি চুরি নেই দিদি হস্তে করিয়া।
    স্ত্রীবদ্দ দেই আমরা রাজার চরনে পড়িয়া॥
    হস্তে এজি লইয়া রানি আইল চলিয়া।
    স্ত্রীবদ্দ দিলে রাজার চরনে পড়িয়া॥
    হস্তে এজি নিয়া রানি গ্যাল মিত্যু হইয়া।
    গুরু গুরু বলি কান্দে রাজ দুলালিয়া॥

  21. গ্রীয়ারসন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    ‘না যাইও না যাইও’।

  22. গ্রীয়ারসন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    কারে লাগিয়া বান্দিলাম সীতল মন্দীর ঘর॥

  23. গ্রীয়ার্সনের পাঠে—‘বান্দিলাম বাঙ্গলা ঘর’।
  24. গ্রীয়ারসন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    ‘চৈতন’ হলে ‘দরিসন’ এবং নিম্ন লিখিত কয়েক পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়:—
    পালঙ্গে ফেলাইব হস্ত নাই প্রাণের ধন॥
    দস গিরির মাও বইন রবে স্যামি লইবে কোলে।
    আমি নারী রোদন করিব খালী ঘর মন্দীরে॥
    খালী ঘর জোড়া টাটি মারে লাঠির ঘা।
    বয়স কালে যুবতী রাড়ী নিতে কলঙ্ক রাও॥

  25. গ্রীয়ারসন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—

    আমাক সঙ্গে করি লইয়া যাও॥
    জীবর জীবন ধন আমি কন্যা সঙ্গে গেলে।
    রান্ধিয়া দিমু অন্ন ক্ষুধার কালে॥
    পিপাসার কালে দিমু পানী।
    হাঁসিয়া খেলিয়া পোহামু রজনী॥
    আইল পাতার দখিলে কথা কহিয়া যামু।
    গিরি লোকর বাড়ী গেলে গুরু স্যাম বলিমু॥
    সিতলপাটি বিছাইয়া দিমু বালীসে হেলান পাও।
    হাউস রঙ্গে যাতিমু হস্ত পাও॥
    হাতথানি দুঃখ হইলে পাওখানি যাতিমু।
    এরঙ্গর কৌতুকর বেলা সুতি ভুঞ্জিমু এনুতি ভুঞ্জাইমু॥
    গ্রীস কালে বদনত দিমু দণ্ড পাখার বাও।
    মাঘ মাসি সিতে ঘেসিয়া রমু গাও॥
    মাঘ মাসি সিতে সিত মরিচর ঝোল।
    ইন্দ্র মিঠা ভুঞ্জাইমু এক সত নারীর কোল॥

  26.  গ্রীয়ারসন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—
    রাজা বলে সুন কন্যা হরিচন্দ্রর বেটি।

    কত রঙ্গে কর মায়া সইবার না পারি॥
    বংস হরির গুয়া খাইয়ে দন্ত করিলে সোলা।
    কথা কহিতে জ্বলে দন্ত গুঞ্জরে ভ্রমরা॥
    নারী হবু চাকন চিকন পুরুষ কেন্থা ওড়া।

    দস গিরস্ত বলিবে অথীত নারীচোরা॥

    নারীচোরা অথীত বৈলে গিরস্ত না দিবে ঠাঁই।
    তোর আমার বড়ুয়ার বেটি কহিবার সঞ্জাত নাই॥
    রানী বলে সুন রাজা বিলাতের নাগর!
    এক নিবেদন করি তোমার বরাবর॥
    তোমার নাকান রামখিলিকা গলার মাঝত দিয়া।
    তোমার নাকান ডোর কপিন বান্ধিমু ভিঁড়িয়া॥
    দুই তন বান্ধিমু নেতে ঘোরা দিয়া॥
    ছামুর ছয়টা দন্ত ফেলাইমু ভাঙ্গিয়া।
    আউ টাক মাথার কেস মুই ফেলাও মুড়িয়া॥
    হাতত তুম্বা গলাত কেন্থা উদাসীনী হমু॥
    তোমার পাছে পাছে গিয়া ভিক্ষা মাগি খামু॥

  27. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—

    রাজা বলে জয় বিধি ঠেকিনু ময়াজালে।
    কি আমার প্রেমটা হইলো স্ত্রীলোকর সঙ্গে॥
    মোর সঙ্গে যাবু না অথীতর সঙ্গে যাবে॥
    সেটে আছে বনর বাঘ দেখিয়া ডড়াবে॥
    সেটে আছে বনর বাঘ দুর্জন বাঘর ভয়॥
    স্ত্রী আর পুরুসে যদি পথ বইয়া যায়।
    হেন দুঃখে বোনর বাঘে স্ত্রীক ধরিয়া খায়॥
    খাবে আর না খাবে বাঘে ফেলাইবে মারিয়া।
    কেনে আর মরিবি তুই অথীতর লগে যায়া॥

  28.  একটী পাঠে অতিরিক্ত পাই:—
    রানি কইছে পাগলা মরা বুদ্ধ নাই তোর।
    জার ঘরে বেটি ভাতিজি দুরত ব্যাচাইয়া খায়।

    জে ছেইলার মাও নাই তার বাপে আনবার জায়॥
    নাইওরি বলিয়া কি তার বেটিক বাঘে খায়॥

  29. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—

    কে কয় এ গুলা কথা কে আর পাইতায়॥
    পুরুসর সঙ্গে গেলে কি স্ত্রীক বাঘে ধরে খায়।
    ও গুলা কথা ঝুটমুট পালাবার উপায়॥
    খায়না কেনে বোনর বাঘে তাক নাই ডর।
    নিত কলঙ্কে নরন হউক স্যামির পদতল॥

  30. পাঠান্তর:—

    আমার সঙ্গে জাবার চাও স্তন দুস্কের কথা।
    ফ্যালাও রানি পাটের সাড়ি গলাএ বান্ধ ক্যাঁথা॥

  31. পাঠান্তর:—‘নকুড়ি বছর’ হলে ‘এ বার বৎসর॥’
  32. পাঠান্তর:—

    সাপের কুরুস আছে ক্যাথাএ আর মাকোরার জালি।
    এন্দুর সলেয়ার ভাসা ওরোস ডালি ডালিম॥
    ওরোস ডালি ডালি ক্যাঁথাত্র উকুনের ল্যাখা নাই॥

  33. পাঠান্তর:—

    হয় নানে সরা ক্যাঁথা আগুরু চন্দন।
    দুই বোনে করিব ক্যাঁথাক জাড়ের ওড়ন॥
    অধিক সরা হ’লে ফকিরক বিলাব।
    তাহার অধিক সরা হ’লে আনলে পুড়িব॥

  34. পাঠান্তর:—

    আনলে পুড়িয়া ক্যাঁথা জলে ভাসাইয়া দিব।

  35. একটা পাঠে ‘মানিক’ শব্দের পূর্ব্বে ‘মোহর’ পাওয়া যায়।
  36. পাঠান্তরে ‘পন্থ’ স্থলে ‘বাজার’ পাওয়া যায়।
  37. পাঠান্তর ‘রভাগির’ স্থলে ‘মানিকের’।
  38. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে:—

    তুমি হবু বটবৃক্ষ আমি তোমার লতা।
    রাঙ্গা চরন বেড়িয়া লমু পালাইয়া যাবু কোথা॥
    যখন আছিনু আমি মা বাপর ঘরে।
    তখন কেনে ধম্মিরাজা না গেলেন সন্ন্যাসি হইয়ে॥
    এখন হইনু রূপর নারী তোরে যোগ্যমান।
    মোকে ছাড়িয়া হবু সন্ন্যাস মুই তেজিম পরান॥

  39.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই:—
    তোমারে আগে কাল যৌবন মোর পড়ুক গড়িয়া।

    পাকিলে মাথার চুল যাবেন সন্ন্যাস হইয়া॥
    এ রঙ্গ মালতীর ঘরে লইয়া পড়ে ডাল।
    নারী হইয়ে রঙ্গ রূপ রাখিমু কত কাল॥
    কত কাল রাখিমু যৌবন বান্দিয়া ছান্দিয়া।

    নিরবধি ঝোড়ে প্রান স্যামী বলিয়া॥

    আমাক বিবাহ করিয়া যাও বল চলিয়া কান্দো তোমার লাগি।
    তোমার আছে বাপ ভাই মোর অভাগিনীর কেউ নাই॥
    আমি ছেড়ে এলেম তোর রাগর কারনে॥ ধুয়া॥
    অদুনা পদুনা বাছিয়া বিবাহ করিল।
    ভাট ব্রাহ্মন দিয়া অদুনা নাম থুইল॥
    অদুনা নাম থুইল দাসী দিল সঙ্গে।
    এমন পিরিতি ঘর ভাঙ্গিমু কেমনে॥
    কোন দরজায় ভিক্ষা লয়ে কোন দরজায় যামু।
    বানিয়া জাতি ক্ষেত্রিকূল হেলাতে হারামু॥
    আমার নাবালক সুন্দর কন্যা যেখানত দেখিমু।
    ঝুরিয়া ঝুরিয়া সেই স্থানত মরিমু॥
    তোমার নাকান সুন্দর কন্যা যেখানত দেখিমু।
    আগে মা দাও দিয়া পশ্চাত ভিক্ষা নমু॥
    হায় হায় স্যামি ধন কাড়িলু কাল রাও।
    চেঙ্গড়া কালে বিবাহ কৈরে যুবায় ছাড়িয়া যাও॥
    ইও কাল থাক হৃদে লৈয়া হাত।
    যাবৎ ঘুরিয়া আসি বৎসর পঞ্চাস॥
    মাথা তুলিয়া দেখ রাজা ডাব নারিকল।
    হৃদয় উপরত সোভা করে গুয়া নারিকল॥
    হাতে ছিড়িমু মুখত দিমু গায় নাই তোর বল।
    আছিল ফল যে পুরুস না খায় চৌদ্দ গোণ্ডা রসাতলে যায়॥

  40. পাঠান্তর:—

    চতুরাএ বলিয়া রাজা কে দেওয়ান করিবে।
    দ্যাড় বুড়ি খাজনা কে সাদিয়া নেবে॥

  41. পাঠান্তর:—

    রাজা কএছে শুন রানি জবাবে বুঝাই।
    আমার মনে রাজ্য ভার খেতুকে সপিয়া।
    একা প্রানে রাজার ছেইলা জাইম সন্ন্যাস হইয়া॥

  42.  পাঠান্তর:—

    কি করিব রাজ্য পাট দালান কোটার বাড়ি।
    ভাই খেতুআক সপিয়া জাইছি তোগ হ্যান সুন্দরি॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ:—
    রাজা বলে শুন কন্যা হরিচন্দ্রর বেটী।

    কথা ভাঙ্গি কথা বলিলে ও কথার মান যার॥
    আগে চড়ে হস্তির মাহুত পিছে চড়ে রাজা।

    হাটিয়া দেখিনু বড় বাঙ্গলা পথে অনেক দুর॥

    খেয়ে বুঝিনু নারিকলর ফল পেট নাই ভরে।
    মিছে থাকি গিরির বেটা ভেরন খাটিয়া মরে॥

  43. পাঠান্তর—

    জাবু জ্যামন ধম্মি রাজা বৈদেশক নাগিয়া।
    অদুনার কোলে একটি ছেইলা পদুনার কোলে দিয়া
    অবশ্যাসে ধম্মি রাজা জাও সন্ন্যাস হইয়া॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ:—

    রানী বলে সুন রাজা রসিক নাগর।
    একখানি নিবেদন করি তোমার বরাবর॥
    যাইস না ধম্মি রাজা পরদেশক নাগিয়া।
    একটি ছেলে দিয়া যাও কোলাক নাগিয়া॥

     তৎপরে ‘নালিমু পালিমু ছেলে’ ইত্যাদি।
  44. পাঠান্তর—

    ছেইলার কথা কলু রানি কাছে আইসা বইস।
    তোর ছেইলার কওঁ কথা ব্যাজার জ্যান না হইস॥
    বট পাকুরের ফল নয় যে ছিড়িয়া হস্তে দিব।
    মালির ঘরের গড়ন নয় জে বায়না পাঠাব॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    চিনি চাম্পা কলা নয় জলত মাখি খামু।
    গাছর ফল নয় ছিড়িয়া হস্তত দিমু॥
    তোমার কপালত ছেলে নাই আমি কি করিমু॥
    পূর্ব্বকালী গুরুর জ্ঞান হৃদয়ে জপিয়া।
    সাত মাসি ছেলে হই কায়া বদলাইয়া॥
    কোলাত বসাইয়া কন্যা আমাক বলিস পুত।
    ফেলাও রানী হৃদয়র বসন রাজা খাউক দুদ॥

  45.  পাঠান্তর—

    ফ্যালায় নারি হিদ্দের কাপড় রাজায় স্তন খাই।
    তোমার বেটা গুপিনাথ বৈরাগ হৈয়া জাই॥
    জখন রানিরঘর সম্বাদ শুনিল।
    কপালে মারিয়া চড় কান্দন জুড়িল॥
    জেও জন্ম দিছে রাজার সেও বরাবর।
    তোর মা মএনামতি গাড়িয়া শুঅর॥
    তারি পেটে জন্ম হছিস ছোকড়া ছাগল।
    ঘরের স্ত্রীলোক তোর পাএর পয়জার॥
    জুআয় না রে বোক্কা তোক মাও বলিবার॥
    রদুনা বলে বইন মোর পদুনা নাইওর দিদি।
    বেসাব বেসাব বলি ভরা হাট নাগিল।
    জার সঙ্গে বেসাব হাট সেও ছাড়ি গ্যাল॥
    কোন বেটা পণ্ডিত বলে নারির জন্ম ভাল।
    নারিকুলে জন্ম হইয়া আমার পোড়াইলে কপাল॥
    নারিকুল বিষ্ণুকুল আমি হেলায় হারা’লাম।
    এক নিশি সামির সঙ্গে সুখে না রহিলাম॥
    সুখ গ্যাল প্রিয়ার সাতে দুক্‌খ রইল সাতি।
    দুইটি আঙ্খি নিদ্রা গ্যাল চন্দ্র মুখের হাসি॥
    রাজা বলে শুন রানি জবাবে বুঝাই।
    ছাড়ি দ্যাওঁ রাজ্যের মায়া বৈদেশে জাই॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    তোমার গরবত ছিল রাজা ভেড়া সৃগাল।
    কড়ি কড়ার বুদ্ধি নাই সরীরর ভিতর॥
    আপ্ত রাড়ী দেখিয়া বধুক রাড়ী করে।
    বাড়ীর আগে ভাতারটি গেলে চক্ষু পাকেয়া মরে॥

  46. পাঠান্তর—

    গুরু গুরু বলি কান্দে রাজ দুলালিয়া।

  47.  পাঠান্তর—
    এই রানিক জদি জিব দান দ্যায় গুরু ভারতি আসিয়া।

    তবে রানির হস্তের ভিক্‌খা নিয়া জাব সন্ন্যাস নাগিয়া॥
    গুরু গুরু বলিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল।

    পথত থাকি হাড়ি সিদ্দা ধিয়ানে দেখিল॥

    ধিয়ানেতে হাড়ি সিদ্দা মিত্তুর লাগ্য পাইল।
    রাজার নিকট হাড়ি সিদ্দা দারে খাড়া হৈল॥
    গুরুর তরে কথা রাজা বলিতে নাগিল॥

  48. পাঠান্তর—

    দ্যাও দ্যাও গুরু বাপ রানি মোক দিয়া।
    তেমনিয়া জাব আমি সন্ন্যাস নাগিয়া॥
    জ্যান কালে ধম্মিরাজা একথা বলিল।
    ধিয়ানের হাড়ি সিদ্দা ধিয়ান করিল॥
    রানির হাতের এজি নিল হস্তে করিয়া।
    রদুনা পদুনার মুণ্ড ফ্যালাইলে ছাটিয়া।
    ইয়ার মুণ্ড উআর ধড়ে বদল করিয়া।
    খিলনি পাচরা দিয়া রাখিল ঢাকিয়া॥
    মহামন্ত্র গিয়ান নিল সিদ্দা হাড়ি রিদএ জপিয়া॥
    বান হস্ত দিয়া সিদ্দা ধুলা পড়া দিল।
    বাম ঠ্যাংও দিয়া সিদ্দা দুই গোত্তা দিল।
    রদুনা পদুনা রানি উঠিয়া বসিল॥
    সোআমির হস্ত নিগিয়া গুরুর হস্তত দিল॥

  49.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—
    গাছ কান্দে গাছানি কান্দে গাছর কান্দে পাতা।

    বনর হরিনী কান্দে হেট করিয়া মাথা॥
    ঘাটিয়ালর ঘাটত কান্দে বাইস কাহন নাও।
    বাইস কাহন নৌকা কান্দে তেইস কাহন ডাঁড়ি।
    তার মাঝত মাঝত কান্দে বিসাগর কাণ্ডারি॥
    হরিনর বালাখানা কান্দে ছোকরান হাওখানা।

    কান্দে বেস্তার তালীমখানা॥

    পিঞ্জিরার মাঝত কান্দে টিটিয়া মঞ্জুর।
    সিকারি খেলাইতে কান্দে নও বুড়ি কুকুর॥
    ডাক্‌টরখানা তোসাখানা কান্দে ঠাঁই ঠাঁই।
    জলটুঙ্গি গোকুল কান্দে লেখাযোখা নাই॥
    হাতিসালায় হাতি কান্দে পৈঘরত কান্দে ঘোড়া।
    পাটমহলর কান্দনে ভিজে জামাজোড়া॥
    এক সত গাবি কান্দে গলার নেজ দিয়া।
    নও বুড়ি কুত্তা কান্দে চরনত পড়িয়া॥
    এক সত রানী কান্দে মৃত্তিকার গৈড় দিয়া।
    অদুনা পদুনা কান্দে দুই চরন ধরিয়া॥

     পাঠান্তর—

    গুআ নারিকল কান্দে রাজার গাত্র হেলাহেলি।
    ধম্মি রাজা সন্ন্যাস হৈলে আমাক কে দিবে পানি॥
    এত সকল কান্দে রাজার শঙ্খ চক্র মোড়া।
    তাজিয়া টাঙ্গন কান্দে নও শত হাজার ঘোড়া॥
    এত সকল কান্দে রাজার তার নাহি রতি।
    পিলখানার মাঝে কান্দে বাইস কাহন হস্তি॥
    হস্তিশালায় হস্তি কান্দে উবত করি সুড়।
    হস্তির উপর মাহুত কান্দে জ্যান পিকিড়ার মুট॥
    অন্ন খাইতে কান্দে রাজার সোবন্নের পঞ্চ থালি।
    জল খাইতে কান্দে রাজার মানিকের ভিঙ্গারি॥

    শয়ন করিতে কান্দে কুসুমের পালঙ্কি।
    পাট মাঝে কান্দে রাজার হরিচন্দ্রের বেটি॥
    তেলি কান্দে মালি কান্দে আরও কান্দে ধুবি।
    রাজাক নাগিয়া কান্দে ছয় মাসি রুগি॥
    মহারাজা সন্ন্যাস হয় শব্দ গ্যাল দুর।
    পাতারে পড়ি কান্দে শৃগাল কুকুর।
    হরিনের বালাখানা কান্দে ছোকোড়ার হাওয়ালখানা।
    পাইক সিপাই কান্দনে ভিজে জামাজোড়া॥
    গুদারের ঘাটে কান্দে বাইস কাহন নাও।
    বাইস কাহন নাও কান্দে তেইস কাহন ডাড়ি।
    গলেআর মাজি কান্দে বিসাসয় কাণ্ডারি॥

  50. এই পাঠে এবং ডাঃ গ্রীয়ার্সনের সংগৃহীত পাঠে রাজার সন্ন্যাস বেশ গ্রহণের উপক্রম সময়েই ক্রন্দনের পালা।
  51. পাঠান্তরে—‘টাঙ্গেয়া’ স্থলে ‘লটকাইয়া’।
  52.  পাঠান্তর—
    অদুনা বলে বইন মোর পদুনা নাইওর দিদি।
    খ্যাড় কান্তার করি গ্যাল সোআমি নিজ পতি॥

    আপনার মহলে জাইয়া রানি সকল দরশন দিল।
    গুরুদেবের বাক্য রানি সকল ব্রথা না করিল॥
    রামজালে ব্রহ্মজালে বাড়িটা সমস্ত ঘিরিল॥
    বার জায়গাএ চৌকি দিলে ত্যার জায়গাএ থানা।
    রতিত বৈস্‌টম জাইতে এবাড়িত বাদা॥
    জাহা দেখিবেন নারি দুইটা দরশনধারি।
    কাটি ফ্যালাইবেন রতিত পুরুস প্রানের বৈরি॥
    এ কড়াএ ত্যাল দিয়া জুড়িল রতন বাতি।
    এই পৃদিপ জলিবে কিবা দিবারাতি॥
    দুগ্ধ চাউল থুইলে চালে লপ্‌টাইয়া॥

  53. পাঠান্তর—

    সত্যের পাসা থুইলে রাজা চালতে টাঙ্গিয়া।
    এক দাম্বা রাখিলে দরজায় টাংগায়া॥
    রানি কএছে,—ওগো মহারাজ, ইহার উপদেশ কি?
    রাজা কএছে,-জেদিন দ্যাখেন সত্যের অন্ন বিনা ব্রহ্মায় পড়বে উতলিয়া
    নিশ্চয় ধম্মিরাজা আসিবে ফিরিয়া॥
    জে দিন দ্যাখেন সত্যের পাশা পড়িল আউলিয়া।
    নিচ্চয় বিদেশে রানি আমি জাবতো মরিয়া॥

  54. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    একসত রাণী গেল খেতুর বরাবর।
    অদুনা পদুনা গেল আপনার মহল॥
    বার জাগায় চৌকী পহরা তের জাগায় থানা।
    অতিত বৈষ্ণব যাবার ঐ বাড়ী মানা॥
    যেন মতে কন্যা দুইটি মন্দীর সোন্দাইল।
    বিন ছোড়ানে ধর্ম্মর কপাট আপনে লাগিল॥
    পাসা ধরিয়া বসিল আও না করিয়া॥
    যে দিন হস্তর পাসা পড়িবে আউলিয়া॥
    ঐ দিন মোর স্যামী যাইবে মরিয়া॥
    রাজ্য ভার রইল জননী মায়র কোলত।
    হাড়ি রাজা চলিয়া গেল পরদেস সচরত॥

  55.  পাঠান্তর—
    গুরু শিস্‌স পন্ত মেলা দিল।

    কর্ত্তেক দুর জাইয়া হাড়ি কর্ত্ত পন্ত পায়॥
    কর্ত্তেক দুর জাইতে ফিরিয়া দেখিল।
    সন্য সেনাক দেখি হাড়ি ভয়ঙ্কর হইল॥
    হাড়ি বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।

    বড় কপাল দ্যাখ পন্তের উপর॥

    জদি কালে ফিরি না দ্যাখে রাজ দুলালিয়া।
    বাইস দণ্ডের রাজা করিম ঐপাটত বসেয়া॥
    সুবুদ্ধি রাজার বেটা কুবুদ্ধি নাগাল পাইল।
    কর্ত্তেক দুর জাইয়া রাজা ফিরিয়া দেখিল॥
    সন্য সেনা দেখি রাজা ভয়ঙ্কর হইল॥
    জেই জেটে গুরু ধন মুরিরা জাওছোঁ মাতা।
    সেই সন্য সেনা আইসে মোর পাছে সাজিয়া॥
    হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
    রাজুলি আড়ির বেটা আজলে গ্যাল কাল।
    হাড়ি সিদ্দা হইয়া তোমাক বুঝাব কত কাল॥
    গোড়ার উপব গোড়া থুইয়া পা চুল্কাও।
    আড়াই অঙ্গুলি বিন্নর খ্যাড়ে দাঁত মাঞ্জন কর।
    দেখি সন্য সেনা ফিরি ঘর জাইবে॥

  56. পাঠান্তর—

    গুরুদেবের বাক্য লঙ্ঘন না করিল।
    পাএর উপর পা থুইয়া পা চুলকাইল॥
    আড়াই অঙ্গুলি বিন্নার খ্যাড়ে দাঁত মাঞ্জন করিল।
    বার বৎসর দুক্‌খ রাজার কপালে লিখিল॥

  57.  ইহার পর একটি পাঠে পাই:—
    বিস্তর ঘোড়া ছাড়ি আইলাম আমি তবিলের ভিতর॥

    একটা ঘোড়া আইনলাম জদি হয় নগের দোসর।
    গুরুই শিস্‌সে চড়ি গ্যালাম হয় ডাড়াইপুর সহর॥
    হাড়ি বলে হারে বেটা এই তোর ব্যাবহার।
    ডম্প কথা বলিস তুই আমার বরাবর॥
    একটা ঘোড়া আনুলু হয় তুই নগের দোসর।
    তুমি হইলেন হয় ঘোড়ার সোআর।
    বৃদ্ধু দেখি আমাকে কহিলু হয় ঘাস কাটিবার॥
    সন্ধ্যাকালে কহিলু হয় দানা সিদ্দ করিবারে।
    হাড়ি দেখি কহিলু হয় আগে দৌড়িবারে॥
    থাউক থাউক একনা দুক্‌খ পাঞ্জারের ভিতর।
    ইহার শাস্তি হএছে তোর ঘড়িকের ভিতর॥
    হুহু বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    এক গুন জঙ্গল ত্রিগুন হইল॥
    শুন্যের হাড়ি জায় শুন্যে চলিয়া।
    জখন ধম্মিরাজা রাজা জঙ্গল দেখিল।
    কপালে মারিয়া চওড় কান্দন জুড়িল।
    দুই নয়নে প্রেম ধারা বহিতে নাগিল।
    দুই হস্তে চক্‌খের জল মুছিতে নাগিল।
    জঙ্গলত জাইয়া মহারাজা চিৎকার করিতে নাগিল॥
    বার অঙ্গুল তৃন থোপ রাজার বুক্‌খে বসিল।
    বুক ধরি ধম্মিরাজা কান্দন জুড়িল॥
    গাঁজার নিসাতে হাড়ি পন্ত চলিতে নাগিল।
    অকারন করিয়া রাজা কান্দন জুড়িল।

    পাটে থাকি শমন রাজা জমের দুত সংবাদ পাইল।

    গোদা জম উঠি বলে আবাল জম ভাই।
    রাজার ছেইলা কান্দন করে জঙ্গলের ভিতর।
    নাম কলম লিখি দিচ্ছি জমপুরির ভিতর॥
    আঠার বৎসর গুপিনাথের জন্ম উনিস বৎসরে মরন।
    কুড়ি বৎসর হইল গুপিনাথের জঙ্গলের ভিতর॥
    নিশ্চয় করি নিয়া আইস গুপিনাথক জমপুরির ভিতর॥
    চামের দড়ি নোআর ডাং হস্তে করিয়া।
    গোদা জম আর আবাল জম ব্যারাইল সাজিয়া॥
    বৈতরনি পার হইয়া আইল জঙ্গলক নাগিয়া॥
    জঙ্গলতে জগইয়া জমের ঘর রাজাক দেখিল।
    রাজার রুপ দেখিয়া জমের ঘর ঢলিয়া পড়িল॥
    হাতে পদ পাএ পদ কপালে রতন জলে।
    কপালতে রাজ্য ভার টলমল করে॥
    গোদা জম উঠি বলে আবাল জম ভাই।
    এমন রুপ দেখি নাই দ্যাবের দ্যাবস্থানে॥
    ইহার মাও মএনামতি গর্ব্বে দিয়াছে ঠাঞি।
    বিসকম্মায় কুন্দাইছে ছাইলাক একটুক খুদ নাই॥
    মএনার ছাইলাক দেই মএনার গৃহে নিয়া জাইয়া।
    মএনার ছাইলাক নেই দাদা কোলে করিয়া।
    গোদা জম উঠি বলে আবাল জম ভাই।
    আঠার বৎসর জন্ম ছাইলার উনিসএ মরন।
    কুড়ি বৎসর পুরি গ্যাল নিয়া জাই ছাইলাক জমপুরির ভিতর॥
    ওতে গোদা জম আটিয়া খ্যাচর।
    লাফিয়া চড়িল রাজার বুক্‌খের উপর॥
    চামের দড়ি দিয়া রাজাক ফ্যালাইলে বান্দিয়া।
    নোহার মুদ্গর দিয়া ডাঙ্গাইতে নাগিল।
    রাম রাম বলি রাজা জিউ ছাড়ি দিল॥

    রাধা কৃষ্ণ বলো রাম রাম বলো।
    ধম্মিরাজা মৃত্যু হইল হরি হরি বলো॥
    কর্ত্তেক দুর জায় হাড়ি কর্ত্তেক পন্ত পায়।
    কর্ত্তেক দুর জাইতে হাড়ি ফিরিয়া দেখিল।
    ফিরিয়া দেখিল হাড়ি রাজা পিছে নাই।
    রাজাক না দেখি হাড়ি ভয়ঙ্কর হইল॥
    এই তো বোনের বাঘ ছাইলাক খাইল ধরিয়া।
    বাড়ি গ্যালে ম এনার সঙ্গে মিলিবে ঝগড়া॥
    হাড়ি বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।
    এওতো বাঘ গুলা মোর ঘরের নপর।
    মএনার ছাইলাক খাইতে কি কার প্রানে নাই হয় ডর॥
    বোনের বাঘ বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    চৌদ্দ লাএক বোনের বাঘ সাজিয়া বাহির হইল॥
    নাকাড়ি খাড়ি বাঘ বাঘ বিড়াদ্বার।
    বাহান্ন কোটি বাঘ আসিল হাড়িক প্রনাম॥
    ক্যান ক্যান ডাক গুরু আমার কিবা কারন।
    কি জন্ত ডাকাইলেন তার কও বিবরন॥
    বোনের বাঘ বলে গুরু বলি নিবেদন।
    কেহ তোমার ছাইলাক নাই খাই ধরিয়া।
    রাজার ছাইলার মহুও হইয়াছে জঙ্গলের ভিতরা॥
    জখন হাড়ি একথা শুনিল।
    জেপথে গিয়াছিল হাড়ি ঐ পথে ফিরি আইল॥
    কর্ত্তেক চর জায় হাড়ি কর্ত্তেক পন্ত পায়।
    আর কর্ত্তেক দুর জাইতে রাজার নাগাল পায়॥
    গোপিনাথ গোপিনাথ বলি ডাকেবার নাগিল॥

    এক ডাক দুই ডাক তিন ডাক দিল।
    তিন ডাকের সময় রাজা শুনাই নাহি দিল॥
    হাড়ি বলে হারে বেটা রাজ দুলালিয়া।
    জত নিদ্রা নাহি জাও আপনার মহলে।
    তত নিদ্রা গিয়াছ তুমি জঙ্গলের ভিতরে॥
    এক পাএ দুই পাএ গমন করিল।
    রাজাক দেখি হাড়ি ভয়ঙ্কর হইল॥
    রাজার ছাইলা মহুও হইল জঙ্গলের ভিতরা।
    বাড়ি গেইলে মএনার সাথে হইবে ঝগড়া॥
    পুরান খুলিয়া হাড়ি বিচার করিবার নাগিল।
    পুরান খুলিয়া হাড়ি পুরানের পাইলে ন্যাখা।
    জনদুতে কালদুতে ঐখানে পাইলে দ্যাখা॥
    বোনের বাঘ বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    জত সকল বোনের বাঘ আসিয়া জুটিল॥
    বোনের বাঘ আসি করে হাড়িক প্রনাম।
    ক্যান ক্যান ডাকেন গুরু আমার কিবা কাম॥
    হাড়ি বলে হারে জাদু কার প্রানে চাও।
    এই জন্য ডাকিলাম আমি তোমার বরাবর।
    রাজার ছাইলার মহুও হইল জঙ্গলের ভিতর॥
    সকলই থাক তোমরা পহরা দিয়া।
    জাবত না আইসোঁ মুঞি হাড়িসিদ্ধা জমপুরি দেখিয়া॥
    জমপুরক নাগি হাড়ি গমন করিল।
    সোনার ভোমরা হইয়া হাড়ি শুন্যে চলি গ্যাল॥
    বৈতরনি পার হইয়া জমপুরে পড়িল।
    সোনার পাচ নন্দির নগনে দেখিল॥

    জনের মাও তপ করে জনপুরির ভিতর॥

    সোনা খাটে বসিছে বুড়ি রৌপ্যের খাটে পাও।
    চা’র দিগে ঢুলে শেত চহঁরের বাও॥
    হাড়ি বলে এইটা নিশ্চয় জমের মাও॥
    চক্‌খে না দ্যাখে বুড়ি কানে নাহি শুনে।
    জমলানি বলি হাড়ি ডাকাইতে নাগিল॥
    এক ডাক দুই ডাক তিন ডাক দিল।
    তিন ডাকের সমএ বুড়ি শুনি নাহি দিল॥
    হাড়ি বলে হারে বেটি এই তোর ব্যাবহার।
    জমের মাও দেখি ডম্প করিস আমার বরাবর॥
    বজ্র চাপর জমলানিক মারিল তুলিয়া।
    জমের পাটক নাগি বুড়ি জায় দৌড়াইয়া॥
    জমের দরবারে জাইয়া বুড়ি দরশন দিল।
    জমে কহেছে শুন জননি লক্‌খি রাই।
    কি কারনে আসিলেন দরবারের উপর।
    তার সংবাদ বল ঘড়িকের ভিতর॥
    জমলানি বলে হারে বেটা কার প্রানে চাও।
    হাড়ি সিদ্দা আসিয়াছে জমপুরির ভিতর।
    জম মাশ করিবে তোমার ঘড়িকের ভিতর॥
    জখন জনের সকল এ কথা শুনিল।
    এক এক করি সকলই পলাইতে নাগিল॥
    দরবারে জাইয়া হাড়ি দরশন দিল।
    জখন জম সকল হাড়িক দেখিল।
    চিত্রগোবিন কথা হাড়ি বলিবার নাগিল॥
    হাড়ি বলে হারে জাদু কার প্রানে চাও।

    এই জন্য আসিলাম আমি তোমার দরবারে নাগিয়া।
    রাজার জিউ কে আনিয়াছেন জমপুরক নাগিয়া॥
    চিত্রগোবিন বলে গুরু শুন নিবেদন।
    আটার বৎসর জন্ম ঊনিস বৎসরে মরন॥
    কুড়ি বৎসর পুরিছে রাজার জঙ্গলের ভিতর।
    এ কারনে আনিয়াছি আমরা রাজাক জমপুরির ভিতর॥
    কোনটি হয় তোমার রাজার জিউ ন্যাও চিন্ন করিয়া।
    হাড়ি বলে হারে বেটা কার প্রানে চাও।
    জ্যামন আনিয়াছেন রাজার জিউ জমপুরির ভিতর।
    সেই রকম জিউ দিয়া আইস জঙ্গলের ভিতর॥
    গোদা জম আর আবাল জম নইলে রাজার জিউ সঙ্গে করিয়া।
    শিঘ্র করি চলি জায় জঙ্গলক বলিয়া॥
    জঙ্গলতে জাইরা জন দরশন দিল।
    হস্ত ধরি হাড়ি রাজাক চিৎ করিল॥
    বাম পা দিলে রাজার বুকত তুলিয়া।
    বার অঙ্গুলি তৃন খোচা খুলিলে টানিয়া॥
    হুহু বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    শরিলের রক্ত রাজার শরিলে মিলাইল॥
    তাড়াতাড়ি করি রাজার জিউ জম দিলে ছাড়িয়া।
    জিত্তাশঙ্ক মন্ত্র হাড়ি শরিলে জপিয়া।
    জিবদান দিলে রাজাক হাড়ি ঐখানে বসিয়া॥
    জখন ধম্মিরাজা জিবদান পাইল।
    গুরু গুরু বলি মহারাজা কান্দন জুড়িল॥

    ক্যান ক্যান গুরুধন অধমের ছাড়েন দয়া।
    পরদেশে আসিয়া আমার এই করিলেন বিড়মনা॥
    হস্ত ধরি হাড়ি রাজাক টানিয়া তুলিল।
    দুই অঙ্গুলে রাজার কন্দে তুলি দিলে ভার।
    না বলিও দুক্‌খের কথা তোর গুরুর বরাবর॥
    রাজা কহেছে শুন গুরু বলি নিবেদন।
    সাত দিন নও রাত্রি-চলি আমি জঙ্গল বাড়ি দিয়া।
    চন্দ্র সুজ্য না দেখিলাম আমি অভাগিয়া॥
    রাজা কহেছে গুরু শুন নিবেদন।
    এই জঙ্গলের মাঝে এখান বালা পাই।
    গুরুই শিস্‌সে আমরা বালাএ চলি জাই॥

  58. পাঠান্তর:—

    চান সুরজের জালায় একোটে করিয়া।
    ছয় কোরোশের আস্তাএ দিল বালু সিরজাইয়া॥
    বালাত ধিয়ানত দিলে ব্রহ্মা ছিটাইয়া।
    এই পন্থ দিয়া রাজাক নিগায়ত হাটেয়া॥
    জ্যানকালে ধম্মিরাজা বালুত পাও দিল।
    চ্যাঙ্গা মোড়া সাপের নাকান চট্‌কিয়া উঠিল॥
    গুরুর তরে কথা রাজা বলিতে নাগিল॥

  59. পাঠান্তর—

    সগ্‌গ হইতে একটি বৃক্‌খ মঞ্চে নামাইল।
    সোআ ক্রোশ হইতে একটি বৃক্‌খ পন্তে জন্মাইল॥
    আগে আগে হাড়ি সিদ্দা জায় চলিয়া।
    ঝুলি ক্যাঁথার বোঝা নইলে ঘাড়ে করিয়া॥
    আগে আগে হাড়ি সিদ্দা জায় চলিয়া।
    পিছে জায় দ্যাখ রাজ দুলালিয়া॥
    কর্ত্তেক দুর জাইতে কর্ত্তেক পন্ত পায়।
    আর কর্ত্তেক দুর জাইতে বৃক্‌খের তলে জায়॥
    গুরুই শিস্‌সে গ্যাল বৃক্‌খের তলে।
    নিহি কিহিলি বাও দিলেতো তুলিয়া॥

  60. পাঠান্তর—

    জমপুরক নাগি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    চৌদ্দ লাক জমের দুত সাজি বাহির হইল॥
    জম রাজা আসি হাড়িক প্রনাম।
    ক্যান ক্যান ডাকায় গুরু হামার কি কাম॥

  61. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    সাত হাত ওসার মাল্লি এক বুক উচ্চ

     পাঠান্তরে—

    সোআ হস্ত ওসার এক বুক উচ্চা।

  62. পাঠান্তর—

    হনুমানক নাগি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    ডাক মধ্যে হনুমানের আসন নড়িল॥

  63. পাঠান্তর—

    চৌদ্দ লাক হনুমান সাজিয়া বাহির হইল।
    সারা আস্তাএ আইল হনুমান করি তাড়াতাড়ি।
    হাড়ির আগে ডাড়াই হএ চৌদ্দ কুড়ি॥
    সারা আস্তায় আইল হনুমান গল্প সল্প করিয়া।
    হাড়ি সিদ্ধাক প্রনাম করিল টক্ করিয়া॥

  64. পাঠান্তর—

    রাজার ছাইলা নিদ্রা পইল বৃক্‌খের তলে।
    বড় রৌদ্রের জালা হইয়াছে মারলির উপরে॥
    দুই পাশে বৃক্‌খ দ্যাও নাগাইয়া।
    ছায়ায় ছায়ায় ধরি জাইব রাজ দুলালিয়া॥

  65.  পাঠান্তর—
    একেনা হনু আছে টেটিয়া বজর।
    সেই উত্তর করছে হনুর বরাবর॥

    দাদা কার ঘরে খাই আমারা কার ঘরে রহি।
    তিন কোনার মানুষ গরু এক কোন করিতে পারি॥
    খুদ্র হাড়ির কথায় আমারা ব্যাগার খাটি মরি॥
    হনু বলে শুন গুরু কার প্রানে চাও।
    খিদা তেষ্টা হইয়াছে আমার শরিলের ভিতর।
    ক্যামন করি বৃক্‌খ আনিব পবনের নন্দন॥
    হাড়ি বলে হায় হহু এই তোর ব্যাবহার।
    হু হু বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    কলার বাগুচা ঐ খানে জন্মাইল।
    হস্তের ঠার দিয়া কলার বাগুচা দ্যাখাইল॥
    হাড়ি বলে হনুমান কার প্রানে চাও।
    পাকিয়াছে কলা মঞ্জিয়া আছে পাত।
    এক এক হনুমান খাও কলা পির ছয় সাত॥
    জখন হনুমান বাগুচা দেখিল।
    ঝাপাঝাপি লাফালাফি করি কলার বাগুচা প্রবেশ করিল॥
    পাকিয়াছে কলা মঞ্জিয়াছে পাত।
    এক এক হনুমান খাইলে কলা পির ছয় সাত॥
    কলা খাইয়া হনুমানের না ভরিল প্যাট।
    ক্রোধ হএ কামড়ায় হনুমান কলার মুড়াত।
    সমুখের সমস্ত দাঁত হএ গ্যাল বিনাস॥
    হাড়ি বলে হারে জাদু পবনের নন্দন।
    ক্যামন করি বৃক্‌খ আনিবেন আমার টে ন্যাও শুনিয়া॥
    বৃক্‌খ মধ্যে আনিবেন আম্র কাঁটাল।
    বৃক্‌খ মধ্যে আনিবেন শাল আর সিমল॥
    বৃক্‌খ মধ্যে আনিবেন পালাস মান্দার।
    বৃক্‌খ মধ্যে আনিবেন বট আর পাইকর॥

    বৃক্‌খ মধ্যে আনিবেন গুআ নারিকেল।
    ফুল মধ্যে লাগাইবেন দিতিয়া মালতি।
    তার পরে লাগাইবেন সন্ধা মালতি॥
    ফুল মধ্যে লাগাইবেন চাম্পা নাকেস্‌সর।
    ফুল কুটি নাস করিবে রাজার কুঙর॥
    নটুক পানিয়াল গাড়েন সারি সারি।
    ফুল লাগাইবেন হনুমান ফুলের না পান দিশা।
    সরেস্‌সতি পুজে হনুমান লইয়া জাএন কানসিসা॥
    দুই পাশে বৃক্‌খ দ্যাও লাগাইয়া।
    ছায়ায় ছায়ায় ধরি জাব রাজ দুলালিয়া॥
    আম্রের গাছত লাগাইবেন পান বেশআল।
    গুআর কাছে লাগাইয়া থুইবেন চুনের ভাণ্ডার॥
    মুখ শুকাইলে পান খাইবে রাজার ছাওআল॥
    জখন হনুমান এ সংবাদ শুনিল।
    রাম রাম হনুমান হৃদএ জপিল॥
    ওখানে থাকি হনুমান করি গ্যাল তাপ।
    পর্ব্বতক নাগি বেটা মারিলেন এক লাফ।
    পর্ব্বতের কুলে জাইয়া গাএ হইল বল।
    আপন আপন করি বৃক্‌খ নইলে ভিন্ন করিয়া।
    কোন কোন বৃক্‌খ নইলে ন্যাজে বান্দিয়া॥
    কোন কোন বৃক্‌খ নইলে মস্তকে তুলিয়া।
    আদোনের মৃত্তিক হইতেএক এক বৃক্‌খ নইলে তুলিয়া॥
    ওখানে থাকি হনুমানের হরসিত মন।
    মারলির কুলে জাইয়া দিল দরশন॥
    মারলির কুলে জাইয়া দরশন দিল।
    ক্রমে ক্রমে বৃক্‌খ গাড়িতে নাগিল॥
    বৃক্‌খ নাগাইয়া হনুমান পাইয়া গ্যাল কুল।
    বিদায় হইতে জায় হাড়ির হুজুর॥

  66.  পাঠান্তর—
    একনা হনুমান আছে টেটিয়া বজর।

    সেই উত্তর জানায় হাড়ির বরাবর॥
    কার গৃহে খাই আমরা কার গৃহে রহি।
    অল্প কথায় আমরা হাড়িক ব্যাগার দিতে জাই॥
    আনিবার সময় আন’লে হাড়ি মন্তরের তাপে।
    জাবার সময় জাব আমরা কোন্ কোন্ পথে॥
    তবুনি হনুমান আমি এ নাম পাড়াব।
    জাবার সময় হাড়ির সঙ্গে একটি জুদ্ধ করিব॥
    ক্যামন আছে হাড়ি সিদ্ধা আমি পরিক্ষা করি নব॥
    সমস্ত আস্তাএ জায় হনুমান গল্প সল্প করিরা।
    হাড়ি সিদ্দাক প্রনাম করে জোড় হস্ত করিয়া॥
    হাড়ি বলে হারে বেটা পবনের নন্দন।
    জে গল্প করিয়াছেন পন্তের উপর।
    তার সংবাদ জানি পাইয়াছি বৃক্‌খের তল॥
    আনিবার সময় আনিলাম আমি মন্তরের জোরে।

    জাবার সময় জাও বেটা আমার শরিলের উপরে॥

    একটা একটা করিয়া চড় আমার হস্তের উপর।
    হস্তে হস্তে তুলি থুব আমি পর্ব্বতের উপর॥
    আপনার সাজন হাড়ি সাজিতে নাগিল।
    আলগৈড় মাল গৈড় তিনটা গৈড় দিল॥
    মন রাশি ধুলা শরিলে মাখিল॥
    উঠিল হাড়ি সিদ্ধা গাও মোড়া দিয়া।
    সগ্‌গে নাগিল মস্তক ঠেকিয়া॥
    হস্ত ম্যালে হাড়ি সিদ্ধার হস্ত গ্যাল আকাশ।
    পা ম্যালে হাড়ি সিদ্ধা পা গ্যাল পাতাল॥
    রোম গ্যাল হাড়ি সিদ্ধার নাড়িয়া তালের গাছ।
    দেখিয়া হনুমানক নাগিল তরাস॥
    বড় বড় হনুমান প্রনাম করিয়া, একটা একটা করি চড়ে শবিলের উপর।
    হস্তে হস্তে তুলি রাখে পর্ব্বতের উপর॥
    গৈড় পাড়ি ব্যাড়ায় মৃত্তিঙ্গার উপর॥
    হাড়ি বলে হারে বিধি মোর করমের ফল।
    কান কাজ্য করিতে পাইছে এইটা হনুমান রসাতল॥
    এও হনুমানের বদ্দ লাগিবে মস্তকের উপর
    জখন হনুমান এ কথা শুনিল।
    মনে মনে হনুমান জলিয়া ক্রোধ হইল॥
    রাম রাম হনুমান হৃদএ জপিল॥
    ওখানে থাকি হনুমান করিলেন তাপ।
    হাড়ির ঘাড় বলি মারিলে এক ঝাপ॥
    ঘাড়ে জাইয়া দরশন দিল।
    হাড়ির ঘাড় ধরি তিনটা দোবান দিল॥
    ত্রি কোন পৃথিবি কম্পবান হইল।
    হাড়ি না নড়িল তার জমিন খান নড়িল॥

    রাম রাম হনুমান তার শরিলে আরও জপিল।
    আপনার সিমানাএ জাইয়া বেটার গাএ হইল বল॥
    লম্প লম্প করি ল্যাজ বাড়াইতে নাগিল।
    এক প্যাঁচ দুই প্যাঁচ তিন প্যাচ দিল॥
    দিয়া হাড়িক ভিড়িয়া বান্ধিল॥
    ক্রমে ক্রমে হাড়িক টানিতে নাগিল॥
    হাড়ি বলে হারে বেটা এই তোর ব্যবহার।
    খুদ্র হইয়া নড় বেটা আমার বরাবর॥
    হু হু বলি হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    খুরুপা বান মারিলে তুলিয়া॥
    হনুমানের ল্যাজ হাড়ি ফ্যালাইল কাটিয়া॥
    ছিড়া ল্যাজ নিলে হনুমান বোকনা করিয়া।
    রাম বলিতে বলিতে চলিল হাটিয়া॥
    হাড়ি বলে হনুমান তোক দিলাম বর।
    মুখ পোড়া বানর হএ থাক রাজ্যের ভিতর॥
    টিকরা ডাঙ্গাইয়া নিবে ত্যালেঙ্গা সকল॥
    মুনির বাক্য লঙ্ঘন না জায়।
    জৎ ঘড়ি শাপিল হাড়ি তৎ ঘড়ি পোআইল॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    হনুমান বলিয়া হুঙ্কার ছাড়িল।
    কিছু কিছু বৃক্ষ মাড়াল লাগাইল॥

  67. পাঠান্তর—‘বজ্র চাপড়’।
  68. পাঠান্তর—

    জদি উঠে ছাইলা মাও মাও বলিয়া।
    আর কিছু দুস্ক দিব জঙ্গল বেড় দিয়া॥

  69. পাঠান্তরে পাই—

    দুই নঙ্গুলে রাজার কান্দে তুলিয়া দিল ভার।
    এবায় বাতাসে রাজা নাগিল হালিবার॥

  70. পাঠান্তর—

    ‘ছোট রানির বাদে’।

  71. পাঠান্তর—

    দুনো রানি দিম এলার শ্রীকলার বন্দরে॥

  72.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ—

    বার কড়ার গাঞ্জা খাঁওঁ কিনিয়া।
    তবে তোমাক লইয়া যাই ঘাড়পুরক লাগাইয়া॥
    যেন মতে ধর্ম্মি রাজা সম্বাদ সুনিল।
    রাম রাম বলিয়া কর্নত হাত দিল॥
    এ গুলাক খান গুরু বাপ মোঁ না জানোঁ॥
    এমন অনাচার সঙ্গত আইসে কোন জন।
    অনাচারর সঙ্গত আইলে অবশ্য মরন॥
    বার কড়ার বদলত গুরু বারো কাওন লও।
    বান্দা ছান্দার কার্য্য নাই ফিরিয়া ঘরে যাও॥
    ধ্যানত আছিল হাড়ি চমকিয়া উঠিল।
    ধ্যানত হাড়ি গুরু ধ্যান করি চার।
    ধ্যানর মাঝত সোল কাওন কড়ী ঝোলার লাগাল পায়।

     অপর পাঠ—
    কতেক দুরে জাএঞা সিদ্দা কতেক পন্থ পাইল।

    দুধ খাবার বারো কোড়া কড়ি রাজার কাছে চাইল॥
    জাদু—মারুলি বান্দিয়া বেটা বড় পানু দুখ।
    বারো কোড়া কড়ি দে মুঞি কিনিয়া খাইম দুধ॥
    জখন হাড়ি সিদ্দা দুধ খাবার কড়ি চাহিল।

    গুরুর সাক্‌খাৎ মহারাজা গল্প করিল॥

    বারো কোড়া ক্যানে গুরু বার কাওন আছে।
    মদ ভাঙ্গ যাএঞা তোরা ফ্যালান জদি শ্যাসে॥

  73. পাঠান্তর—

    হু হু শব্দ করিয়া হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    বার কাহন কড়ি রাজার শুন্যে উড়াই দিল॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    সোল কাওন কড়ী সুন্নত উড়া উড়াইয়া দিল॥

     এবং তৎপরে—

    আদ মোন করিয়া এক মোন পাথর ঝোলায় সিজাইল।
    ভাত ধরিয়া ধর্ম্মিরাজা ডুগিবার লাগিল॥
    দে দে কড়ি বলিয়া হাড়ি কাউসিবার লাগিল॥
    একবার দুই বার গোস্যা নাগাইল পাইল।
    ঝোলঙ্গার গিরা খুলিয়া ফেলাইল॥
    ঝোলার গির খুলিয়া পড়িয়া গেল ধান্দা।
    ঝোলার কড়ি ঝোলায় নাই অচম্বিতের কথা॥

  74.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—‘কমবকতাক রাখ বান্দা’।
     পাঠান্তরে—‘আমার লাগে চোখের ধান্দা’ এবং তৎপরে—

    কড়ি দিবার না পারিলাম আমি তোমার বরাবর।
    বান্দা থুইয়া খাও আমার বন্দরের ভিতর॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    চট করি সাক্ষী থুইল হাড়ি বহুমাতা মাই।

  75. পাঠান্তর—

    চট করিয়া হাড়ি সাক্‌খি মানিল।
    হেরন তেরন বসুমতি তোমরা রন সাক্‌খি।
    আপনি মএনার ছেইলা মানিল বিক্রি॥

  76. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে:—

    ধর্ম্মি রাজাক লইল ঝোলায় ভড়িয়া।
    দারিয়াপুর সহরত গেল চলিয়া॥

  77.  পাঠান্তর—
    বান্দা বান্দা বুলিয়া হাড়ি চ্যাঁচাবার নাগিল।

    ঘর হইতে মুড়িআনি বাহিরা বারাল॥
    ক্যামন চ্যালা আনছেন তোরা আমার বরাবর।
    চ্যালা কোনা দ্যাখবার চাই মুড়িআনি॥
    হস্ত ধরিয়া ধম্মিরাজাক দিলে দ্যাখাইয়া।
    রাজার রূপ দেখি মুড়িআনি ঢলিয়া পড়িল।
    মিনতি করিয়া কথা বলিবার নাগিল॥
    থাল ভরিয়া দেই টাকা ঝোলা ভরিয়া ন্যাও।
    বান্দা ছান্দার কাজ্য নাই এইঠে ব্যাচাইয়া জাও॥
    হাড়ি বলে আরে মুড়িআনি তোর গালে পড়ুক চওড়।
    বান্দা ছান্দ। হইলে থুইয়া জাইবার পারি।
    আমার বাপের সাধ্য নাই, ব্যাচাইবার না পারি॥
    মুড়িআনি বলে শুন রতিথ বাক্য মোর ন্যাও।
    এর তুল্য তিন তৌল মোহর মুঞি দ্যাওঁ মাপিয়া।
    বান্দা ছান্দার কাজ্য নাই জাও ক্যানে ব্যাচাইয়া॥
    হাড়ি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
    দম্ভ কথা কইলে বেটি আমার বরাবর॥
    জখন মুড়িআনি বেটি বাড়ি মুখো হইল।
    সোনার ভোমরা হইয়া হাড়ি শুন্যে উড়িয়া গ্যাল॥
    হু হু করিয়া হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    তিন গোলা ধন কড়ি শুন্যে উড়িয়া গ্যাল।

    ধন না দেখিয়া মুড়িআনি কান্দন জুড়িল॥

    গুরুদেবের নাগিয়া মুড়িআনি এ দৌড় করিল।
    জাইয়া মুড়িআনি গুরুদেবের চরনে পড়িল॥
    মুড়িআনির তরে হাড়ির দয়া জন্মিল।
    লক্‌খি লক্‌খি বলিয়া হাড়ি ডাকিবার নাগিল॥
    ডাক মধ্যে লক্‌খি মাতা দরশন দিল॥
    হাড়ি বলে লক্‌খি মাতা কার প্রানে চাও।
    এই ত মুড়িআনির ধন তিন ভাগ করিও॥
    এক ভাগ ধন দ্যাও কুবিরের বরাবর।
    এক ভাগ ধন দ্যাও গৃহস্থের বরাবর।
    এক ভাগ ধন দ্যাও মুড়িআনির বরাবর॥
    ওঠে থাকিয়া হাড়ির হরসিত মন।
    পলিন্তার বন্দরে জাইয়া দিল দরশন॥
    পলিন্তার বন্দর হাড়ি তেগারন করিয়া।
    শ্রীকলার বন্দরে হাড়ি উত্তরিল গিয়া॥
    শ্রীকলার বন্দরে মাঝে মাঝে শুন।
    থাক পড়িয়া দোকানি নিকারির কথা শোন॥
    শ্রীকলার বন্দরে হাড়ি জাইয়া দরশন দিল।
    বান্দা বান্দা বুলিয়া হাড়ি চ্যাঁচাবার নাগিল॥

    বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও মোলাবেচি মাই।
    সুন্দর চ্যালা আনছি বান্দা থোবার চাই।
    জখন মোলাবেচি রাজাক দেখিল।
    জত মোলা চ্যাংরার হাতে দিয়া।
    ঐ রাজার কোমর ধৈল্লে মরিম বলিয়া॥
    থাল ভরি দেই টাকা ঝোলা ভরি ন্যাও।
    বান্দা ছান্দার কাজ্য নাই এইটে ব্যাচাইয়া জাও॥
    ওঠে থাকিয়া হাড়ির হরসিত মন।
    কলাবেচির কাছে গিয়া দিল দরশন॥
    জখন কলাবেচি রাজাক দেখিল।
    জত মোনে কলাগুলা বুড়ার হাতে দিয়া।
    ঐ রাজার কোমর ধৈল্লে মরিম বলিয়া।
    ওঠে থাকিয়া হাড়ির হরসিত মন।
    হলদিবেচির কাছে গিয়া দিলে দরশন॥
    জখন হল্‌দিবেচি রাজাক দেখিল।
    হলদির দোকান খানা ন্যাদাইয়া ফ্যালাইয়া।
    ঐ রাজার কোমর ধৈল্লে মরিম বলিয়া॥
    ওঠে থাকিয়া হাড়ির হরসিত মন।
    কালাইবেচির কাছে গিয়া দিল দরশন॥
    বান্দা ন্যাও বান্দা ন্যাও কালাইবেচি মাই।
    সুন্দর চ্যালা আনছি আমি বান্দা থুইবার চাই॥

    জখন কালাইবেচি রাজাক দেখিল।
    কালাইর দোকান খানা দোকোনা করিয়া।
    আপনার মহলে নাগি চলিল হাটিয়া॥
    আপনার মহলে জাইয়া দরশন দিল।
    ঘরের সৌআমিক বাপ দায় দিয়া।
    ঐ রাজার কোমর ধৈল্লে মরিম বলিয়া॥
    থাল ভরি দেই টাকা ঝোলা ভরি ন্যাও।
    বান্দা ছান্দার কাজ্য নাই এইঠে ব্যাচাই জাও॥
    হাড়ি বলে হারে কালাইবেচি কার পানে চাও।
    দক্‌খিনদেশি রথিত নামে ব্রম্মচারি।
    কখন চ্যালাক আমি ব্যাচাবার না পারি॥
    বান্দা হইলে একবার থুইয়া জাইবার পারি।
    আমার বাপের সাধ্য নাই ব্যাচাইবার পারি॥
    কলাবেচি, মোলাবেচি, হলদিবেচি, কালাইবেচি
    সবায় ধৈল্লে রাজার কোমর মরিম বলিয়া।
    আপনা আপনি নিবার চায় আপনার বাড়ি বুলিয়া॥
    টানাটানি করে রাজাক ব্যালার তিন পহর।
    এর একনা টান দিলে ছিড়ে কোমর॥
    অকাবন করিয়া রাজা কান্দন জুড়িল।
    ক্যানে ক্যানে গুরু অধমের ছাড় দয়া।
    বিদেশে আনিয়া আমার মিলালু ঝগড়া।

    হাড়ি বলে হারে বেটা রাজদুলালিয়া।
    রানির কথা বলছিস বেটা মোক মারলির উপর।
    ক্যামন রানি ছাড়ি আইলু আপনার মহল।
    দোনো রানি নে বেটা শ্রীকলার বন্দর॥
    আর নে রানি নাগে তোর বরাবর।
    আর কিছু রানি দ্যাওঁ তোর গলার উপর॥
    অকারন করি রাজা কান্দন জুড়িল।
    হল্‌দিবেচি আর কালাইবেচি বড় ঝগড়া নাগাইল॥
    মোলাবেচি উঠি বলে কলাবেচি বাই।
    ছাড়ি দেই রাজার কোমর আগোত ধচ্ছি মুঞি।
    হল্‌দিবেচি উঠি বলে কালাই বেচি বাই।
    দন্দ ঝগড়ার কাজ্য নাই পিরিতি করিয়া জাই॥
    রাজার কান্দনে হাড়ির দয়া জরমিল।
    ইন্দ্র রাজা বলি হাড়ি ডাকিবার নাগিল॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    বান্দা নেও বান্দা নেও গোয়ালীনী মাই।
    বার কড়া কড়ি থাকিয়া বান্দা থুইবার চাই।
    বার কড়া কড়ি পাইলে গাঞ্জা খাইবার চাই॥
    দেখি দেখি কেমন চেলা দেখিবার চাই॥
    হাত কোনা ধরিয়া রাজাক বেইর কৈল টানিয়া।
    ঝলমল করিয়া রাজা উঠিল জলিয়া॥

    গোয়ালিনী বলে গুরু করি নিবেদন।
    সুন্দর রুপ দেখি রাজাক ভাতর উপর।
    এও নাকি খাবার পারে গোয়াল লোকর ঘর॥
    কাড়িয়া ভরিয়া টাকা দেও ঝোলা ভরিয়া নেও।
    আমার মহল ছাড়িয়া অন্য মহল যাও॥
    মহারাজাক লইলে তবে হস্তত ধরিয়া।
    দোকানর গলি বেড়ায় হাঁটিয়া॥
    বান্দা নেও বান্দা নেও চিড়া বেচি মাই।
    যেন মতে চিড়া বেচি রাজাক দেখিল।
    চিড়ার দোকান খান পাকেয়া ফেলিল॥
    রাজার কমর ধল্যে মরোঁ বলিয়া।
    অনেক করিয়া নিল ছোড়াইয়া॥
    বান্দা নেও বান্দা নেও হলদি বেচি মাই।
    বান্দা নেও বান্দা নেও সাক বেচি মাই॥
    বান্দা নেও বান্দা নেও আড়ই বেচি মাই।
    বান্দা নেও বান্দা নেও কালাই বেচি মাই॥
    যেন মতে কালাই বেচি রাজাক দেখিল।
    ঘরর স্যামিক আইল বাপ দায় দিয়া॥
    যেত দোকান সব ফেলাইল পাকেয়া।
    রাজার কমর ধরিল মরিনু বলিয়া॥
    চিড়াবেচি উঠিয়া বলে কালাবেচি হুত্তিয়া তুই।
    ছাড়িয়া দে রাজার কমর আরো ধরনু মুই॥
    রাজার কমর ধরিয়া টানিবার লাগিল।
    অকারন করিয়া রাজা কান্দিবার লাগিল॥

    রাজার কান্দনে হাড়ির দয়া জনমিল।
    ইন্দ্র রাজাক লাগিয়া হুঙ্কার ছাড়িল॥
    ধূম ধাম করিয়া পাথর পড়িতে লাগিল।
    রাজার কমর ছাড়িয়া সব ঘরাঘরি গেল॥

  78. পাঠান্তর—

    কালাইবেচি আটিয়া খ্যাচর।
    সিকিম করিয়া ধৈল্লে রাজার কোমর॥
    ঘরের সোআমি আনু বাপ দায় দিয়া।
    এই রাজার কোমর মুঞি না দিম ছাড়িয়া॥

  79. পাঠান্তর—

    থাকিতে থাকিতে ইন্দ্রের গোসা নাগাল পাইল।
    বাইস মন পাত্থর একটা কালাইবেচির কোমরে পড়িল॥
    বাপ বাপ বলি বেটি কোমর ছাড়ি দিল॥

  80. পাঠান্তর—

    দুআর ছাড় দুআর ছাড় কালাইব্যাচা বোল।
    ভিজিয়া মরছোঁ মুই বাহিরে এতখন॥
    কালাইবচ্যাা ভাবে এলা মাথাএ হাত দিয়া।
    এলার গ্যাল কালাইবেচি বাপ দায় দিয়া॥
    ঘুরি ক্যানে আইল শালির বেটি মহলের নাগিয়া॥

  81. এই হলে গ্রীয়াসন সাহেব যে পাঠ প্রকাশ করিয়াছেন

    তাহার কোন অর্থবোধ হয় না। তাঁহার প্রকাশিত অর্থ
    একেবারেই অযৌক্তিক। বোধ হয় তাঁহার সংগৃহীত
    পাঠে অংশ বিশেষ উদ্ধৃত হয় নাই।

  82.  পাঠান্তর—
    শ্রীকলার বন্দর হাড়ি ননভন করিয়া।
    হিরার মহলক নাগি চলে হাটিয়া॥
     একটি পাঠে হালুয়ার নিকট যাইবার পূর্ব্বে এক রাখালের নিকট যাইবার নিম্নলিখিতরূপ বিবরণ আছে,—

    রাজাক দুস্ক দিলে সিদ্দা কলিঙ্কার বন্দরে নিগিয়া।
    ওঠে হইতে গ্যাল সিদ্দা আখোআলক নাগিয়া॥
    বান্দা নে বান্দা নে আখাল প্রানের ভাই।
    বার কোড়া কড়ি দে ছেইলাক বান্দা থুই॥
    জ্যান কালে রাখাল মুনি রাজাক দেখিল।
    হাড়ি সিদ্দা তরে কথা বলিতে নাগিল॥
    বার কোড়া ক্যানেরে বৈস্‌টব বার কাহন ন্যাও।
    আর বান্দা ছান্দার কাজ্য নাই আমার ঠে ব্যাচেয়া জাও॥
    সিদ্দা বলে শোনেক আখোআল নন্দন।
    দক্‌খিন দ্যাশে থাকি আমি নামে ব্রহ্মচারি।
    পরের ছাইলাক আমি ব্যাচাইতে না পারি॥
    আথাল বলে এই কোনাক চ্যাংরা জদি মুঞি আখোআল পাও
    আর চাইট্টা পালের গরু বেশি করিয়া চরাওঁ॥
    মুঞি আখোআল থাকিম্ আইলত বসিয়া।
    শালার হস্তে নিব ধেনু খ্যাদাইয়া॥
    হাড়ি সিদ্দা বলে আখোআল,—
    বান্দা নেইক বা না নেইক ধেনুর পালে থাকিয়া।
    বিনা অপরাধে শালা বল্লু আমারি চাক্‌খসে ডাড়েয়া॥
    বেটা অহঙ্কারি তোর কাছে আর বন্দক থুইম না।
    জা জারে আখাল বেটা তোক দিলাম বর।
    চুন্নি পালাটি গরু হউক তোর পালের উপর॥
    চুন্নি পালাটি গরু হএয়া গারস্তের থাউক পাকা ধান।
    আর খোলা দিয়া মলি দেউক তোর নাক আর কান॥
    কান্দি কাটি জা’ক তোর বাপ মাওর কাছে।
    হুলিয়া গুতিয়া পাঠেয়া দেউক জা গরুরু পালতে॥

    হাড়ি সিদ্দা অখোআলক জখন রভিশাপ দিল।
    চুন্নি পালাটি গরু হএয়া ধেনুর পালে থাকিল॥
    বাম হস্ত দিয়া আবার ডাইন হস্ত ধরিল।
    ঐ ঠে হতে হাড়ি সিদ্দা পন্থ ম্যালা দিল।

  83. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগ্রহীত পাঠে বিজয় হালুয়ার উল্লেখ আছে। যথা,—

    ওক ছাড়িয়া গমন বিজয় হালুয়া।
    সাক্ষাত উতরিল যাইয়া॥

  84. পাঠান্তরে ‘হালুয়া প্রানের ভাই’ হলে ‘তোরা হালুয়া সকল’; গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে ‘হালুয়ার ঘর’।
  85. পাঠান্তর—

    জ্যামনতর ছাইলা দেখি ছাইলা রতন জলে।
    এই নাকি থাকতে পারে আমার চাসা লোকের ঘরে॥
    হাতে রতন পাত্র রতন কপালে রতন জলে।
    বেনির উপর দুইটি তারা ডগমগ করে॥

  86. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সগ্রংহীত পাঠে ‘ষোড় ঘোড় দামরা’, পাঠান্তরে ‘এক দাম্মা’।
  87. পাঠান্তরে ‘মাচিয়াত’।
  88.  একটী পাঠে পাই,—
    খাট খোট গুআ দ্যাখা জায় দিগল নারিকল।
    হুর ময়ালে দ্যাখা জায় ওটা কার বাড়ি ঘর॥

    হালুয়া বলে কথা গড্ডিয়া বচন।
    আগে খাও রতিথ বেটা পিছে ঘুম জাও।
    সারা কালে খাও ভিক্‌খা করিয়া।
    হিরা নটির বাড়ি তুই না পা’স দেখিয়া॥
    জখন হালুয়া ব্যানামুখ্‌খ হইল।
    সোনার ভোমরা করি রাজাক ঝোলঙ্গাএ ভরিল॥

  89.  পাঠান্তর:—
    নকরি খসেয়া দাম্মাত ডাং বসাইল।

    হিরা জিরা দুই বো’ন চম্‌কিয়া উঠিল॥

    সোনার ঝাড়ির মুখোত গামছা বান্দি ফিকাইল॥

    কিবা কর বান্দি বেটি নিছন্তে বসিয়া।
    কোন বা ঠাকার রাজা বাস্‌সা আইল চলিয়া॥
    দশ ডাং দিলে দাম্মাত আসিয়া।
    দশ হাজার টাকা ন্যাও মাচিয়া এ গনিয়া॥
    পিতলের ডালি নিগা বান্দি বগলে করিয়া।
    এক দুই করি দশ হাজার টাকা নেইস আরো গনিয়া॥
    জখন হিরা নটি হুকুম করিল।
    পিতলের ডালি নিলে বান্দি বগলে করিয়া।
    টাকা নিবার বাদে জাএছে বান্দি বাহেরার নাগিয়া॥

  90.  পাঠান্তর—
    নটি বলে হারে বান্দি কার প্রানে চাও।

    দুই জন হিরার বান্দি সাজিয়া ব্যারাও॥
    এক হাজার টাকা নেইস দরজাএ গনিয়া।
    সোনালি খড়ম দেইস চরনে নাগাইয়া॥
    শিঘ্রগতি ধরি আয় আমার মহলক নাগিয়া॥
    জখন হিরার বান্দি সাজিয়া ব্যারাল।
    ব্যারায়া বান্দির ঘর হাড়িক দেখিল॥
    গজ্জিয়া গজ্জিয়া কথা বলিবার নাগিল॥
    তুমি কি জাইবেন মোর মহলক নাগিয়া।
    এই ন্যাও সোনালি খড়ম চরনে নাগাইয়া॥
    এক হাজার টাকা দ্যাও আমার দরজাএ গনিয়া॥
    জখন হাড়ি এ কথা শুনিল।
    বান্দির তরে কথা বলিবার নাগিল॥
    গুণ্ডা নই গুণ্ডা নই রতিথের কুঙর।
    ভাল চ্যালা বান্ধা থুইম তোর হিরা নটির ঘর॥
    জখন বান্দির বেটি এ কথা শুনিল।
    জোড়হস্ত হইয়া কথা বলিতে নাগিল॥
    ক্যামন চ্যালা আনছেন আমার মার বরাবর।
    চ্যালা কোনা বা’র কর দেখি মোরা বইন দুই জন॥
    হস্ত ধরি ধম্মি রাজাক দিলে ছাড়িয়া।
    পুন্নিমার শশির নাকান উঠিল জলিয়া॥

    রাজার রূপ্প দেখি বান্দি পইল ঢলিয়া॥

    দিদি!
    এমন রুপ দেখি নাই দ্যাবের দ্যাবস্থানে।
    কি দিয়া গড়ছে দেহা নাগছে জলিবারে॥
    কোন রাগৌবরি গরবে দিছে ঠাঞি।
    বিশকম্মাএ গড়িছে ছেইলাক খানিক খুত নাই॥
    আমার সোমার হইলে দিদি গলাএ বান্ধি নেব।
    নগরে মাগিয়া ভিক্ ঘরে বইসা খাব॥
    হাড়ি বলে হারে বান্দি কান্দ কি কারন।
    দৌড় পাড়ে জা খবর জানাও হিরার বরাবর॥
    বান্দা নি নবে তোমার হিরা সক্কল॥
    দৌড় পাড়ে বান্দির বেটি খবর জানায় হিরার বরাবর॥

  91.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই,—
    এই কথা শুনিয়া বান্দি না থাকিল রয়া।

    হাড়ির সাক্ষাত গেল চলিয়া॥
    কেনে কেনে গুরুধন এত দুর গমন।
    সিংহাসন থাকিতে কেন মৃত্তিকায় সয়ন॥
    বাসা খোড়া নাই আমার ঝোলার ভিতর।
    একনা চেলা আছে ঝোলাঙ্গার ভিতর॥
    বার কড়া কড়ি থাকিয়া বান্দা থুইবার চাই।

    বার কড়া কড়ি পাইলে গাঞ্জা কিনিয়া খাই॥

    বান্দা নাকি নিবে তোমার হিরা নটি নাই।
    দেখোঁ দেখোঁ কেমন চেলা দেখিবারে চাই॥
    হাত কোনা ধরিয়া বের করিল টানিয়া।
    ঢল মল করিয়া রাজা উঠিল জ্বলিয়া॥

  92. পাঠান্তর:—

    সেই জে বৈস্‌টম বেটা একনা চ্যাংরা আন্‌ছে মা সঙ্গে করিয়া।
    তার পায়ের রূপ নাই মা জননি তোমার কপাল ভরিয়া॥

  93.  পাঠান্তর:—
    নটি বলে হারে বান্দি কার প্রানে চাও।

    বাপ কালিয়া কাকই খানা জোগাও আনিয়া।
    লাস ঠ্যাঁস করিয়া জাওঁ বাহিরার নাগিয়া॥

    কোঠে আইছে ধম্মিরাজা (মুঞি আইসোঁ) দেখিয়া।

    আনিল প্যাটেরা বান্দি ঘুচাইল ঢাকনি।
    দুই নগুলে বাহির কৈল্ল নাসের কাকই খানি॥

     এইরূপ বেশভূষার বর্ণনা মূল পাঠে পরবর্ত্তী অংশে পাওয়া যায়।
  94. পাঠান্তর:—

    জখন হিরা নটি গুপিচন্দ্র রাজাক দেখিল।
    রাজার রুপ দেখি দুই বোন চলিয়া পড়িল॥
    বার কোড়া ক্যান বৈস্‌টম বার কাহন ন্যাও।

  95. পাঠান্তর:—

    ‘কখন চ্যালাক হামরা’।

  96. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে,—

    ‘বন্দরর সাউদ মহাজনক’।

  97. উক্ত পাঠে,—

    দোয়াত খত কলম যোগাইল আনিয়া।

  98. উক্ত পাঠে,—

    ‘সন তারিখ স্রী’

  99. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    ধর্ম্মর নামটা কাগজত লিখিল।
    ঐ কলম ফেলাইয়া দিল হাড়ির বরাবর॥
    যেন মতে হাড়ি সিদ্ধা হস্তত কলম পাইল।
    রাম রাম করিয়া দস্তখৎ করিয়া দিল॥

  100. পাঠান্তর—

    বার কোড়া কড়ি আনেক হরিদ্রা মাখিয়া।
    একখান ভুটুয়া কাগজ জোগাও তো আনিয়া॥
    বার বছরি খত রাজা দেউক আরো নিখিয়া॥
    বার কোড়া কড়ি নিলে হিরা নটি হরিদ্রা মাখিয়া।
    একখান কাগজ জোগাইলে আনিয়া॥
    আপানার বন্দনের খত রাজা ন্যাখে বসিয়া॥
    আহারে কম্‌বোক্তা নছিব এই ছিল কপালে।
    ধম্মি রাজার বন্দন হৈল হিরা নটির ঘরে॥
    খত নিথি মহারাজা দাখিল করিল।
    বার কোড়া কড়ি নিয়া গুরুর হস্তে দিল॥
    মহামন্ত্র গিয়ান নিলে সিদ্দা হাড়ি রিদএ জপিয়া।
    জোড় বাঙ্গালার দুআরে কড়ি আখিলে গাড়িয়া॥
    মহামন্ত্র গিয়ান নিলে রিদএ জপিয়া।
    শুন্যতে হাড়ি সিদ্দা শুন্যত গ্যালত মিশাইয়া॥

  101. পাঠান্তর—

    লোভ মায়া কাম কোরধ টুটিয়া ফ্যালাইল।
    না স্ত্রী না পুরুস ঘড়িকে করাইল॥

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    কাম ক্রোধ মনি ভিড়িয়া বান্ধিল।
    না রাণ্ডী না পুরুস রাজাক করিল॥

     একটা পাঠের অতিরিক্ত অংশ—

    লক্‌খি লক্‌খি বলি হাড়ি ডাকাবার নাগিল।
    ডাক মধ্যে লক্‌খি মাতা দরশন দিল॥
    হাড়ি বলে লক্‌খি মাতা কার প্রানে চাও।
    রাজার ছেইলাক বান্ধা থুইলাম হিরা নটির ঘরে।
    বার বৎসর থাক ছেইলার নাভিত বসিয়া।
    খিদা তেসটা না হয় জাদুর শরিলে আসিয়া॥
    নিদ্রালি বলিয়া হাড়ি ডাকাবার নাগিল।
    ডাক মধ্যে জোগমায়া নিদ্রালি দরশন দিল॥
    নিদ্রালি আসিয়া হাড়িক প্রনাম।
    কি কারনে ডাকান গুরু হামার কিবা কাম॥
    হাড়ি বলে নিদ্রালি কার প্রানে চাও।
    রাজার ছেইলাক বান্ধা থুইছোঁ হিরা নটির ঘরে।
    বার বচ্ছর থাক ছেইলার চউকে আরপিয়া।
    নিদ্রা জ্যান না হয় জাদুর শরিলে আসিয়া॥

  102.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—
    যেন মত ধর্ম্মিরাজা বেনামুখ হইল।
    সুনালী কুমড়া হইয়ে পাতাল ভেজিল॥

    চৌদ্দতাল জলর ভিতর যোগ আসন ধরিল।
    বার বতসর থাকিল হাড়ি ধ্যান ধরিয়া॥

     পাঠান্তর—

    সেনার কুমড়া হইল সিদ্দা কায়া বদলিয়া।
    বার বছর থাকিল সিদ্দা পাতালে সোন্দাইয়া॥

  103. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ,—‘সাটীর’।
  104. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—‘ইন্দ্র কম্বল’।
  105.  পাঠান্তর—
    বাচ্চা হ’তে বিছানা ফ্যালাইতে নটি ভাল জানে।

    আগে গিরদা পাছে গিরদা কৌতক বালিস।
    এই ঠে কোনা ধম্মি রাজা মারিবে আলিস॥
    ইন্দ্র পুরির গুআ ডাল মহুরি পান।
    ধর্ম্মি রাজা গুআ করিবা দুই খান॥
    পানের বুকত চুনের ন্যাওয়া দিয়া।
    লঙ্গ, জায়ফল, জৈত্রিক দিলে বিস্তর করিয়া॥
    সওআ নও গণ্ডা খিলি রাখিলে বানাইয়া।
    পানের বাটা নিগা থুইলে শিতানে তুলিয়া॥
    বিদারি হুকার মধ্যে জল বদলাইয়া।
    এক ছিলিম তামাক থুইলে টিকা ধরাইয়া।

    ছেলান করিয়া ধম্মি রাজাক আইল ধরিয়া॥

    আপনার ঝারির জলে নটি রাজার ধোআয় দুই পাও।
    মাথার ক্যাশে ধম্মি রাজার মোছায় দুই পাও॥
    সোনালি খড়ম দিলে রাজার চরনে নাগাইয়া।

    আপনার মহলে নাগি চলিল হাটিয়া॥
    * * * *
  106. পাঠান্তর—‘তিন খান ঠ্যাং’।
  107.  পাঠান্তর—
    কাকিয়া কুকিয়া নটি চুল করিল গোটা।

    মাঝ কপালে তুলিয়া মারে সেন্দূরের লৈক্‌খ ফোটা॥
    চুলের গোড়ে গোড়ে দিলে চাম্পা গোটা গোটা॥
    ও খোপা বান্ধিয়া নটি রুপ নেহালায়।
    মনত না নাগিল খোপা আউলিয়া ফ্যালায়॥
    আর এক খান খোপা বান্ধে ডাল মরুআর ডাল।
    থোপার উপর নাগা’লে নানা ফুলের ঝাড়॥
    রাইত হ’লে ফোটে ফুল জ্যান সরগের তারা।
    খোপার ফুলে থ্যালা করে গুঞ্জরের ভোমরা॥
    ও খোপা বান্ধে নটি উপ নেহালায়।
    মনত না নাগিল খোপা আউলিয়া ফ্যালায়॥
    এর একনা খোপা বান্ধে নাওঁ তার হুনি।
    থোপার ভিতর ভাসা করে বাঙ্গাল গাইয়ার টুনি॥
    ও খোপা বান্ধে নটি আগে পাছে চায়।
    মনত না নাগিল খোপা আউলিয়া ফ্যালায়॥
    আর একনা খোপা বান্ধে নাওঁ চ্যাং ব্যাং।

    দ্যাখছেন নাকি বাপু সকল খোপার তিন খান ঠ্যাং॥

    ও খোপা বান্ধে নটি আগে পাছে চায়।
    মনত না নাগে খোপা আউলিয়া ফ্যালায়॥
    আর একনা খোপা বান্ধে নাওঁ তার ঢালা।
    ঐ খোপার উপর নাগায় নটি আলোআখোআর ম্যালা॥
    ঐ খোপাএ নটি গ্যাল্ মিলিয়া।
    আচ্ছা জতনে খোপা আখিলে বান্ধিয়া॥

  108. পাঠান্তর—

    আগুন পাটের সাড়ি নিলে পরিধান করিয়া।

  109. পাঠান্তর—হাসিয়া খেলিয়া উঠিলে নটি পালঙ্কের উপর।
  110. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই,—

    যেন ধর্ম্মিরাজা দুয়ারত পাও দিল।
    কোলাত করিয়া রাজাক বিছানায় বসাইল।
    পানর বাটা দিল হাজির করিয়া॥
    পান খিলি খাও হে রাজা গুয়া খানি খাও
    এ অভাগিনী নটী আমি মাথা তুলিয়া চাও॥

  111. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই,—‘লং জায়ফল কর্পুর দেখিয়া
  112. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে ‘ডাবন’ স্থলে ‘ঠাসন’।
  113. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে এই স্থলে পাই,—

    মাও যে করিছে বাধা মনত পড়িল।
    পরদেশ যাইয়া যাদু পড়াও বহির্ব্বাস।
    আগত খাইবে গিরিলোক পশ্চাৎ তল্লাস॥
    অতিত বৈষ্ণব দেখিয়া না করিও হেলা।
    গড় হয়ে পরনাম জানান যার গলত মালা॥
    ফুল গোটেক দেখিয়া ফুল না পাড়িবু।
    পাখি গোটেক দেখিয়া ডিমা না মারিবু॥
    পরার স্ত্রী দেখিয়া হাস্য না করিবু॥
    সরিসাতে সরু দুবলাতে হিন।
    তখনে পাবু পরদেসর চিন॥
    মাত্রর কথা যেন রাজার মনত পড়িল।
    রাম রাম বলিয়া পানর খিলি ঢালিয়া ফেলাইল॥

  114.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ—
    কেনে কেনে পান না খাও রাজরাজেশ্বর।
    তোর গুনে তপ করি এ বার বৎসর॥

    আপনা হইতে লইল পাঁচটা খিলি হস্তত করিয়া।
    ধার্ম্মিকরাজার মুখত দিল তুলিয়া।
    থু থু করিয়া ফেলাইল ঢালিয়া॥
    যেৎকে ধর্ম্মিরাজা সইরে সইরে বৈসে।
    তেৎ কে হিরা নটী গাও ঘিসিয়া বৈসে॥
    সার চন্দন রক্ত চন্দন রাজাক ছিটিবার লাগিল।
    মা মা করিয়া রাজা নটিক ডাকিবার লাগিল॥

     পাঠান্তরে খিলি চিবাইবার কথা একেবারই নাই—

    হেসে হেসে পানের থিলি রাজার মুখখে তুলি দিল।
    রাম রাম বলিয়া খিলি ওগ্‌রিয়া ফেলিল।
    কি অপরাধ পাইলেন রাজা পানের উপর।
    পাশ্‌শ জুতা গনিয়া মার মস্তকের উপর॥
    রাজা বলিতেছে ওগো নাটি—
    কি অপরাধ পাব পানের উপর।
    পুত্ত্র বলিয়া পালন কর এ বার বছর॥

  115.  গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—
    তোর নটীর ব্যাভার দেখোঁ খেওয়া নাটর নাও।

    ঘাটত কড়ি দিয়া আদমি হয় পার।

    এই মত দেখি নটী তোর ছারের ব্যভার॥

    তোর নটী রূপ দেখোঁ যেন অন্ধকুপ।
    হাড়িডোমে ছুইয়া বাবনে পাড়ে ডুব॥

  116.  পাঠান্তর—

    জখন ধম্মিরাজা নটিক নিন্দা করিল।
    একে নাদাই পালঙ্গ হৈতে মিত্তিঙ্গাএ ফ্যালাইল।
    পালঙ্গের খুটাত নাগি রাজার দন্ত ভাঙ্গিয়া গ্যাল।

     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    ঘাড়ত হস্ত দিয়া রাজাক বাহের করিয়া দিল।

  117. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    চারি পহর গেল নটী বছাল করিয়া।
    তাহাতেও ডাকায় ধর্ম্মি রাজ! নটিক নাও বলিয়া

  118. পাঠান্তরে—‘চাইর বান্দি’।
  119. পাঠান্তর—‘সড়ি’
  120. গ্রীয়ার্সন সাহেবের পাঠে ‘আকারি’।
  121. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে ‘সাত ভাড়ুয়া’।
  122.  একটী পাঠে পাওয়া যায়—
    দুই বান্দি দুইটা কলস কাপে করি নিলে।
    দরিয়ার ঘাটে গিয়া দরশন দিলে॥

    জল ভরিয়া রাজার ভার সাজাই দিল।
    জখন ধর্ম্মি রাজা তার কান্দে নিল।
    ডাইন কান্দ রাজার ভাঙ্গিয়া পড়িল॥
    বান্দির চরনে পড়িয়া রাজা নাও দায় দিল॥
    দুই বান্দি দুইটা কলস কাথে করি নিল।
    বাড়ির আটতে আনি রাজার ভার সাজাই দিল॥
    কান্দিয়া কাটিয়া রাজা তার ধরি মহলত গ্যাল॥
    জখন হিরা নটি রাজাক দেখিল।
    ঘর হইতে হিরা নটি বাহিরে ব্যারাইল॥
    বুক্কে হাত দিয়া রাজার বুক্কের পরান নিল।
    নাক মোচড়া কান মোচড়া রাজাক বিস্তর করি দিল॥
    বান্দির তরে কথা বলিবার নাগিল॥
    সারা ঘাটায় আনছেন কলস কাথতে করিয়া।
    বাড়ির আটতে রাজাক দিছেন ভার সাজাইয়া॥
    দরিয়ার ঘাটে গিয়া রাজা কান্দন জুড়িল।
    সত্য ছিল গঙ্গা মাতা সত্য দিল ভাও।
    নর দেহ হইয়া গঙ্গা মাতা কারে পঞ্চ রাও॥
    গঙ্গা বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
    এয়ার ঘরে পুজা খাইলাম এ বার বৎসর।
    মএনার ছেইলার দুস্ক হইল হিরা নটির ঘর॥
    জা জা রাজার পুত্র তোক দিনু বর।
    আমার ঘাটের জল হইল সোলায় পাতল॥
    এক ভার জল নিগাও বিরসে ভরিয়া।
    এক বার জল নিগা দেইস বার ভার মাপিয়া॥

    জল ভরিয়া জাএক রাজ দুলানিয়া।
    ফিরিয়া না দ্যাখ আমার বলিয়া॥
    জল ভরিয়া রাজার হরসিত মন।
    নটির মহলক নাগি করিল গমন॥
    জে জল নিগায় রাজা ঘাড়ত করিয়া।
    ঐ জল দিয়া ছান করে নটি রাজার বুকত চড়িয়া॥

  123. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে ‘দোমায়া দোমায়া’ স্থলে ‘ঠসক মারিয়া’ এবং

    ছিনান করে হিরা নটী হাসিয়া থেলিয়া॥
    ছিনান করিয়া অঙ্গে হইল যতি।
    ভিজা বস্তু ফেলাইয়া পিন্দে সুকলা পাটর সারি॥

  124. পাঠান্তর—

    মন্দিরে থাকিয়া রানির ঘরের পসা চুরি হইল।
    রানির প্রদিপ নিবিল॥
    অকারন করিয়া রানির ঘর কান্দন জুড়িল॥
    বার বৎসর গ্যাল সোআমি আওদা করিয়া।
    ত্যার বৎসর হইল সোআমি না আইল ফিরিয়া॥
    পসার চুরি হইল আমার প্রদিপ নিবিল।
    না জানি আমার সোআমি বৈদেশে মরিল॥
    অকারন করিয়া রানির ঘর কান্দন জুড়িল।
    পিঞ্জিরা থাকিয়া সারি শুয়া জানিতে পাইল॥

  125. পাঠান্তর—

    ঠোঁট দিয়া পিঞ্জিরার পাতি ফ্যালা’লে কাটিয়া।
    মন্দিরের উপর রানির পইল উড়াও দিয়া॥

     ইহার পর গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    চালর খেড় নিচিয়া কন্যার বাজুত পড়ে।
    কেনে কেনে মাও রোদন কর নাট মন্দির ঘরে॥
    কন্যা বলে শুন বাছা পক্ষি সকল।
    বার বৎসর গেল তোর বাবা রাওদা করিয়া।
    তের বৎসর ভার পাইল না আইল ফিরিয়া॥

  126. পাঠান্তরে পাই—

    সত্যের পসা দিছে রাজা হস্তে করিয়া।
    বার বছর থেলিলাম পসা সোআমির নাম লইয়া॥

  127. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    জননীর চরনত পাথী পরনাম করিল।
    দক্ষিন পাটনে পাথী উড়াও দিয়া গেল॥

  128. পাঠান্তর—একে ঠ্যাংএ খায় ওরা একে ঠ্যাংএ জায়॥
  129. পাঠান্তর—তেজি ঘোড়ার আগত দৌড়ায়॥
  130. পাঠান্তর—

    সার বলে শুন দাদা শুআ প্রানের ভাই।
    কত গিলা দ্যাশ তিত্থ আসিলাম ভ্রমনিয়া।
    তবু আরো পিতার লাগ্য না পাইলাম খুজিয়া।
    এমুখ না দেখাইম জননিক নিজিয়া॥
    তুমি জাও দাদা মহলক চলিয়া আমি না জাব।
    আমার মাকে এই কথা বলি দিও॥
    তোমার পুত্র শুআ ছিল সে বা জলে ডুবিয়া মৈল।
    জড়া জড়ি করিয়া পঙ্খি দৌড়িয়া ঝাপ দিল॥
    তাহাকে গাঙ্গিক বেটি নয়নে দেখিল।
    এক্কি ঢেউএ পঙ্খি জোড়াক কিরন চাপে দিল॥
    সার বলে শুন দাদা শুআ প্রানের ভাই।
    কি অপরাধ করছি দাদা মাএর বরাবর।
    এই কারনে না খায় দরিয়ার মজ্য মগর॥
    ঐঠে হইতে পঙ্খি জোড়া উড়াও কারাইল।
    কত্তোআর ঘাটের পাড়োত জাএয়া পঙ্খি খাড়া হইল॥

  131. পাঠান্তরে ‘কারাইছে’ স্থলে ‘ধরিছে’।
     গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    পশ্চিম ঠাল হইতে পাখী পুর্ব্ব ঠাল যায়।
    ভার ধরি ধর্ম্মিরাজা জল ভরিবার যায়॥

  132. পাঠান্তর—

    বাপের নাকা ধাজা গজা বাপের নাকা রাখি।
    বাপের নাকা দেখি ঐ চুলের বান্ধনি॥

  133. পাঠান্তর—

    সারন উঠিয়া বলে শুআ প্রানের ভাই।
    ও কোনা কথা তোর সন্ধান না পাই॥

  134. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    জলত নামিয়া দত্ত মাঞ্জিবার লাগিল।
    মাথার উপর পাখি রাজার উড়িবার লাগিল॥

  135. পাঠান্তর—‘কপালে মারিয়া চড়’
  136. পাঠান্তর ‘এই মত’
  137. এইখানে একটা পাঠের অতিরিক্ত অংশ এইরূপ—

    সার বলে শুন দাদা শুআ প্রানের ভাই।
    চল দেখি ভারি বেটা জায় মহলক চলিয়া।
    আমার ছায়া দেখি কান্দে গঙ্গাএ দাড়ায়া॥

     পাঠান্তের পাওয়া যায়—

    পাখি বলে শুন পিতা বলি নিবেদন।
    তোমারি খবরে আইছি ভাই দুইজন

  138. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে ‘বাহাএ’ স্থলে ‘বাজুত’।
  139. পাঠান্তর—

    হাড়ি গুরু আনি থুইছে আমাক হিরার ঘরে বান্ধা।
    আমার কপালে হইছে এই বিড়ম্বনা॥

  140. পাঠান্তরে—

    বার গাইঠা ধড়ি শুদ্ধা রাজা সিনানে নামিল।

  141. পাঠান্তর—

    পুন্নিমার চন্দ্র জ্যান জলিয়া উঠিল।
    সরু সরু দুই মানিক মুখ দিয়া পড়িল॥
    সরগের দ্যাবগন জয় জয় হইল।
    রাহু কেতু শনি রাজার ছাড়িয়া পালাইল॥
    রাজার ছেলানে গঙ্গা পাতার চল বাড়িয়া গ্যাল।
    বার গাঠি ধড়ি রাজার সোতে নইয়া গ্যাল॥
    উড়াও দিয়া পখি জোড়া বৃক্‌খ ডালে পইল।
    অকারন করিয়া রাজা কান্দিতে নাগিল!

  142. পাঠান্তর—

    রাজার কান্দন দেখি মদন গোপালের দয়া হৈল।
    রাজার নেংটি মদন গোপাল আনিয়া জোগাইল॥
    এই বস্ত্র নিলে রাজা পরিধান করিয়া॥

  143. পাঠান্তর—

    ‘নাইকেলের পাইকোর’।

  144. পাঠান্তর—

    অক্‌খয় বটের পাত দুকুনা আছে ছিড়িয়া।
    আপনার কানেয়া আঙ্গুল নিলে দন্তে ফারিয়া॥
    জত দুস্ক দিলেন পত্রে লিখিয়া॥

    গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    নাকিড়ি পাকিড়ি পাত আনিলেন ছিড়িয়া।
    দাঁত দিয়া খাগড়ার কলম মাঠাইলে বসিয়া॥
    কাঞ্জী অঙ্গুলী দিয়া বাঁও উড়াত ফাড়িল।
    ঐ রক্ত দিয়া লেখন লিখিবার লাগিল॥

  145. পাঠান্তর—

    দুনা রাজা হছি আমি শ্রীকলার বন্দরে।

  146. পাঠান্তর—
    সারন উঠিয়া বলে শুয়া প্রানের ভাই।

    কোনটা হয় হিরা নটি চল দেখিবার জাই॥
    উড়াও দিয়া জাইয়া পঙ্খি নটির বাঙ্গলাএ পড়িল।
    নানা শব্দে বুলি বুলিবার লাগিল।
    ঘর হ’তে হিরা নটি বাহেরা এ ব্যারাল।

    বান্দি বান্দি বলে নটি ডাকাবার নাগিল॥

    কি কর বান্দির বেটি কার প্রানে চাও।
    ভাল পখি আসিয়া পইল মোর মন্দিরের পর।
    পখি ধরিয়া থোবো পিঞ্জেরার ভিতর॥
    দুগ্দ চাউল নইয়া নটি ডাকিবার নাগিল।
    উড়াও দিয়া দুই পখি নটির দুই বাহাএ পড়িল॥
    দুগ্দ চাউল খায় পখি ট্যার চক্খে চায়।
    ডা’ন হস্ত দিয়া নটি পখি ধরিবার চায়।
    বাওঁ চক্খু ধরিয়া নটির পখি উড়িয়া পালায়॥
    আইও বাবা বলিয়া নটি কান্দিতে নাগিল।
    ওঠে আসিয়া পখির হরসিত মন।
    মেচপুরের রাজ্যে গিয়া দিল দরশন॥
    মেচ পাড়া জাইয়া পখি নয়ান তুইলা চায়।
    আপনার বাড়ি ঘর খানিক দ্যাখা জায়॥
    ওঠে থাকিয়া পথির হরসিত মন।
    সুন্দরির মহলে জাইয়া দিলে দরশন॥

  147. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—


    চাল ছেন্দা করিয়া লেখন দিল ফেলাইয়া।

  148. পাঠান্তর—


    কপালে মারিয়া চড় কান্দন জুড়িল।

  149. পাঠান্তরে ‘রানির পত্র’ স্থলে ‘সুক্কের লেখন’
  150. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠ—

    ধ্যানত ময়না বুড়ী ধ্যান করি চায়।
    চৌদ্দ তাল জলর ভিতর হাড়ির নাগাল পায়॥
    খরুপা জ্ঞান নাইলে তুলিয়া।
    চাক ভাঁয় হাড়ি সিদ্ধার ফেলাইল কাটিয়া।
    সরদি সাগর দিয়া যাছে ভাসিয়া।
    চুল জোড়া ধরিয়া ময়না ডাঙ্গাত উঠাইল॥

    বজ্জর চাপড় হাড়িক কসিয়া মারিল।
    ধ্যানত আছিল হাড়ি চমকিয়া উঠিল॥
    ধ্যানত হাড়ী গুরু ধ্যান করি চায়।
    ধ্যানর মাঝত ময়নার লাগাল পায়॥
    যাঁও যাঁও দিদি রাজাক নাগিয়া।
    তোর বেটাক উদ্ধার করিলে পিছে খামু গাঞ্জা॥

    পাঠান্তর— 

    আগে ছেইলাক উদ্ধারিয়া পিছে গাঁজা খাব।

    ইহার পর গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে— 

    যদি কালে ছাইলার জ্ঞান অল্প দেখিব।
    চাই ভস্ম করিয়া হাড়ি তোক যম ঘর পাঠাব॥

    পাঠান্তরে পাই— 

    বাজ্জন্ত চাপড় মিত্তিঙ্গাএ মারিল।
    পাতালেতে সিদ্দার আসন নড়িল॥
    বট খাগরা গাওত ডাঙ্গাইতে নাগিল।
    সাজ সাজ বলি সিদ্দা সাজিতে নাগিল॥
    দিদির ছাইলাক বন্দক থুইছি হিরা নটির ঘরে।
    এই কারনে ডাঙ্গায় দিদি কানে আর কপালে॥
    তেমনিয়া হাড়ি সিন্দা এই নাওঁ পাড়াব।
    দিদির ছাইলাক আনি দিয়া তেমনি লজ্জা দিব॥

  151. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    মাথার চুল রাজা দুই অর্দ্ধ করিল।
    হাড়ির চরনত রাজা পড়িল ভজিয়া॥
    ঐ ধর্ম্মি রাজাক ঝোলঙ্গায় ভড়িয়া।
    নটীর মহলত গেল চলিয়া॥

  152. পাঠান্তর—

    হাড়ি বলে হারে বাছা রাজ দুলালিয়া।
    কান্দন না বাপধন কান্দন খেমা কর।
    তোর কান্দনে আমার শরিল হইছে জরজর॥
    কপাল ফাড়িয়া রাজার ফুলবড়ি বসাইল।
    সোনার ভোমরা করিয়া রাজাক হাড়ি ঝোলঙ্গায় ডুবাইল॥
    নটির মহলক নাগি জাত্রা করিল॥

  153. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে এইখানে পাই—

    নটীর মহলত যায়া হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    হুম হুম করি পুরি নড়িবার লাগিল॥

  154. পাঠান্তর—

    দুআরের জোড় নাগরা নটির ডাঙ্গিয়া ভাঙ্গিল।
    দুইজনা হিরার বান্দি সাজিয়া ব্যারাইল॥
    ব্যারাইয়া বান্দির ঘর হাড়িক দেখিল।
    গৈড়মণ্ড হইয়া বান্দি হাড়িক প্রনাম করিল॥
    হাড়ি বলে হারে বান্দি তোর গালে পড়ুক চড়।
    দৌড় পাড়িয়া খবর জানাও তোর হিরার বরাবর॥

    কড়ি বার কড়া নেউক ওর দরজায় গনিয়া।
    আমার ঘরের সুন্দর চ্যালা দেউকতো আনিয়া॥
    দৌড় পাড়িয়া বান্দির বেটি খবর জানাইল।
    জেই রাজা বান্দা থুইছে হাড়ি লঙ্কেশ্বর।
    সেই হাড়ি আইছে তোমার দরজার উপর॥

  155. পাঠান্তর—

    মেহি মেহি কাপড় ন্যাও বোকনা করিয়া।
    আচ্ছা জতনে রাজাক সেনান করাইয়া।
    জেইঠে জেখান কাপড় শোভে সউক ন্যাও পরিয়া॥

  156. পাঠান্তর—

    পাছ দুয়ার দিয়া রাজাক আইস ধরিয়া।

  157. পাঠান্তর—

    পাছ দুয়ার দিয়া বান্দি গ্যাল চলিয়া।
    আগ দুয়ারে হিরা নটি ব্যারাইল সাজিয়া॥

  158. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে বান্দীর নিকট হাড়ির আগমনবার্তা শুনিবার পর—
    এই কথা শুনিয়া নটী কোন কাম করিল।

    ঘরর ভিতর নটী লুকিয়া রহিল॥
    নটী লুকাইয়া রইল মনে আর মনে।
    হাড়ি সিদ্ধা জানিতে পাইল অন্তর ধ্যানে॥

    হাতর আসা নড়ি মারিল তুলিয়া॥

    তোক বলোঁ আসা নড়ি বাক্য মোর ধর।
    হাত গলত বান্ধিয়া হিরা নটিক হাজির কর॥
    এক আজ্ঞা পাইলে সহস্র আজ্ঞা পাইল।
    গর্জিয়া হিরানটীর মহলত সোন্দাইল॥
    ঢেকাইতে ঢেকাইতে নটি বাইর কৈরে আনিল।
    বার কড়া কড়ি হাড়ী তখন উঠাইল॥
    বার বৎসরিয়া খত নটী আনিয়া যোগাইল।
    বার কড়া কড়ী গনিয়া নটীর হাতত দিল॥
    নটীর হাতর খতখান হাড়ীর হাতত দিল।
    রাম রাম বলিয়া খত ফাড়িয়া ফেলাইল॥

  159. পাঠান্তর—
    তোমার ঘরের চ্যাংরাকোন অঁয় বড় রসিয়া।
    কড়ি ধরি খ্যালাবার গ্যাছে বন্দরের ভিতর॥
    হাড়ি বলে হারে নটি তোর গালে পড়ুক চড়।
    হয় মোর অসিয়া ছোঁড়া জোগাও আনিয়া।
    কড়ি বার কড়া ন্যাও তোমার দরজাএ গনিয়া॥
    নটি বলে হারে হাড়ি কার প্রানে চাও।
    বড়াবড়ি কথা কইস তুই আমার বরাবর।
    তোমার চ্যালা আমার সঙ্গে ক’চ্ছে নড়ানড়ি।
    ঝুলি ক্যাঁথা বেচাইয়া নিম তোর খরচের কড়ি॥
    জখন ঐ হিরা নটি ডম্ফ কথা বলে।
    ঝোলঙ্গায় থাকিয়া রাজা খচর মচর করে॥
  160. পাঠান্তরে ‘বাম বগলে’ হলে ‘বাম উরাত’।
  161. পাঠান্তরে এই সময়ে হীরার বান্দির আবির্ভাব—

    পাছ দুআর দিয়া বান্দির ঘর আইল চলিয়া।
    হাত ইসারা করি বান্দি ডাকাছে বসিয়া॥
    কি গল্প নাগাছিস মা গুরুর বরাবর।
    দুক্‌খ দেখিয়া রাজার পুত্র গেইছে মরিয়া ॥
    দুইঠে দুইটা কলস আছে ডাঙ্গাত ভাঙ্গিয়া।
    সিকিয়া বাঙ্কুয়া ব্যাড়ায় জলত ভাসিয়া ॥
    দুক্খ দেখিয়া রাজার পুত্র গেইছে মরিয়া।
    কোন গুনা চ্যালাক দেই এখন হাজির করিয়া॥

  162. পাঠান্তর—

    একদণ্ড দুইদণ্ড তিন দণ্ড হৈল।
    রাজাক দিবার না পারিয়া সিদ্দার চরনত পড়িল।
    টোরা মাছের নাকান রাজা ঝুলি হতে পড়িল॥
    গুরুর তরে কথা বলিতে নাগিল॥
    গুরু, একনা হুকুম দ্যাও গুরু আমার বরাবর।
    এক্‌কেব্যালায় নটি সালিক প্যাটাও রসাতল॥

    হাড়ি সিদ্ধা বলে শুনেক জাদু আমি বলি তোরে।
    জে দুস্ক দিছে নটি তোক নাটমন্দির ঘরে।
    তার সাজা দ্যাওছোঁ হাড়ি সিদ্ধা ঘড়িকের ভিতরে॥
    কিবা কর নটির ভাড়ুআ নিছন্তে বসিয়া।
    এক ভার গঙ্গার জল জোগাও আনিয়া॥
    হাড়ি সিদ্ধার বাক্য ভাড়ুআ ব্রথা না করিল।
    এক ভার গঙ্গার জল আনিয়া জোগাইল॥
    আট ভাড়ুআয় ধরলো নটিক চিত্র করিয়া।
    নটির খড়ম নিল রাজা চরনে নাগায়া॥
    নটির বুক্খে গাও ধোএছে রাজা দোমায়া দোমায়া॥

  163. পাঠান্তরে এই স্থলে—

    আগিলে ধড় ধ’ল্লে নটির হাড়ি ঠ্যাং দি চিপিয়া।
    পাছিলা ধড় দিলে সগ্‌গে উড়াইয়া ॥
    জা জা হিরার পাছিলা তোক দিলাম বর।
    জেই ঠ্যাংএ গাও ধুইছিস রাজার বুকত চড়িয়া।
    এই ঠ্যাং ঝুলিয়া রয় তোর বৃক্খর নাগিয়া॥
    জখন হাড়ি সিদ্দা এ কথা বলিল।
    হাড়ির চরনে পাছিলা প্রনাম করিয়া।
    বউকধুর রুপ্পে গ্যাল শুন্যে উড়িয়া ॥

  164. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    রাম রাম বলিয়া যেন জন মস্তকত ঢালী দিল।
    যত কিছু পাপ গুনা দূরে চলিয়া গেল ॥
    ছিনান করিয়া রাজার অঙ্গত হইল যতি।
    ভিজা বস্ত্র ফেলায়া পিন্দে সুকলা পাটর ধুতি ॥
    হাড়ী বলে রাজার বেটা বাক্য মোর ধর।
    বারো বৎসর তপ করে নটী মহলর ভিতর।
    কিছু বাক্য সিদ্ধ কর নটীর বরাবর॥

  165. পাঠান্তর—

    জা জা তোর হিরার বড় বান্দি তোক দিলাম বর।
    চামচিকা বাদুর হৈয়া থাক তুই গিরাস্তের ঘর॥
    জা জা ছোট বান্দি তোক দিলাম বর।
    ম্যাড়া হৈয়া থাক তুই গিরাস্তের ঘর॥
    শনিবারে মঙ্গলবারে তোর দড়ি জাবে ডেঠিয়া।
    আঠার বছরের শনি তাক ধরিল ঠাসিয়া॥
    গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই— 
    যা যা চাপাই বান্দী তোক দিনু বর।
    বেস্যা হইয়া থাক রাজ্যর ভিতর॥
    জুয়ান কালত খাও কামাই করিয়া।
    সেস কালত ধরেক পাইক ভাতার।
    হুলিয়া গুড়িয়া ভাঙ্গিবে তোর বত্রিস পাঞ্জর॥

  166. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    বগদুল পাখি হইয়া থাক রাজ্যর ভিতর॥
    মনি বাক্য বৃথা না হইল।
    বগদুল রুপ হইয়ে সর্গত উড়ে গেল॥
    বামহস্ত দিয়া নটীক ধরিল।
    নটীক ধরিয়া দুইখান করিল॥
    আগ ধর দিলে সর্গত উড়াইয়া।
    পাছ ধর দিল দরিয়াত ফেলাইয়া॥
    দরিয়াত পড়িয়া নটী দোহাই ফিরাইল॥
    যা যা নটী তোক দিনু বর।
    চেকা মাছ হইয়া থাক জলর ভিতর॥

  167. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    যা যা হিরা ধন কড়ী তোক দিনু বর।
    খোলাহাটি হইয়া থাক খোলাহাটি সহর॥

  168. পাঠান্তর—

    হিরা নটিক ধন দিল খোলা করিয়া।
    এই ধন রাখি দিল তেপথি রাস্তাএ ফেলিয়া॥
    রাজাক ধরিয়া জাইছে হাড়ি সিদ্দা আপনাক মহলক নাগিয়া॥
    কতক দুর জাইয়া সিদ্দা কতক পন্থ পাইল।
    রাজার তরে কথা বলিতে নাগিল॥
    ওরে গোপিনাথ,—তুমি একটি কম্ম কর—
    এক ডণ্ড আছি আমি পথে বসিয়া।
    কিছু ভিক্‌খা নাগি আন নগরেতে জাইয়া॥

  169. গ্রীয়ার্সন সাহেবের প্রকাশিত পাঠে—
    ‘রান্ধি খাই পরদা সহর’—‘পরদা সহর’ সম্ভবতঃ লিপিকর প্রমাদ।
  170. পাঠান্তরে ‘ন্যাঙ্গা’ স্থলে ‘বন্দুরি’।
  171. পাঠান্তর—ভিক্থা সিক্‌খা না দ্যান দ্যান কুত্তা হেলাইয়া।
  172. পাঠাত্তর—লক্‌খি লক্‌খি বুলিয়া হাড়ি ডাকাছে বসিয়া।
  173. পাঠান্তর—

    জখন লক্‌খি মাতা একথা শুনিল।
    পাচথালি রন্ন নিয়া হাড়ির কাছে গ্যাল॥

  174. মতান্তরে ‘তিন পুটি’।
  175. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    থুক ঘাঙ্গার অন্নক থুইল মাখিয়া।
    মোড়া মিসরি রস দিয়া খুইল মাখিয়া॥
    সাইল কেল্লা দুরা থুইল ঢাকিয়া।

  176. পাঠান্তর—

    থুকুরা দিয়া রন্ন গুটি রাখিলে ঢাকিয়া।


  177. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—


    হাপরে ঝাপরে রাজাক হিলায় কুকুর।
    ভিক সিক না পাইয়া গেল হাড়ীর হুজুর॥
    গুরু ধন তোর দেসর লোক দেখিনু নিদয় নিঠুর।
    ভিক সিক না দেয় হিলায় কুকুর॥
    পাঠান্তর— 
    ভিক্খা ভিক্খা বলি রাজা চ্যাঁচাইবার নাগিল।
    জত মোনে চ্যাংরা গুলা কুকুর হিলিয়া দিল॥
    কপালে চাপড়াইয়া রাজা কান্দন জুড়িল।
    এ দ্যাশের লোক বাপু নিদয়া নিঠুর।
    ভিক্খা না দ্যায় আমাকে হিলায় কুকুর॥

    রাজার কান্দনে লক্খির হইল দয়া।
    লক্‌খি বলে হায় বিধি মোর করমের ফল।
    রাজার ছেইলার দুস্ক হইল বন্দরের ভিতর।
    এয়ার ঘরের পুজা খাইনু এ বার বৎসর।
    সেই রাজার দুস্ক হইল আমার বন্দরের ভিতর॥
    কান্দ না বাপের ঘর কান্দন খেমা কর।
    তোর কান্দনে আমার শরিল হইল জরজর॥
    এক ঘড়ি থাক জাদু ব্যানামুক্খ হইয়া।
    চাউল কড়ি দ্যাওছোঁ তোক বিস্তর করিয়া॥
    চাউল কড়ি ভিক্‌খা দিলে রাজাক বিস্তর করিয়া।
    ভিক্খা ধরি ধম্মিরাজা আইসে চলিয়া॥
    পরে— 
    হাড়ি বলে হারে জাদু রাজদুলালিয়া।
    এতে সিদ্দা হইলু তুই মোর সয়ালের ভিতর।
    কায় তোক ভিক্খা দিলে বন্দরের উপর॥
    তোর ভিক্খা খো জাদু একতার করিয়া।
    এই দিয়া চলি জায় এক বিধবা বামনি।
    গোটা চারিক অন্ন আমি তার ঠে নইলাম খুজিয়া॥

  178. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    একনা সতীর নাগাল পানু পন্থে বসিয়া।
    তাঁয় গুটিক অন্ন দিয়া গেইল আসিয়া॥

  179. মতান্তরে এই সময়ে আহারের পূর্ব্বে আর একবার স্নান।
  180. একটী পাঠে এই স্থলে পাই—

    রাজা বলিতেছে জগদিশ্বর হায় আমার কি কর্ম্মে এই ছিল।
    পয়ার ধুয়া—আমার কপাল নয় ভাল। জদি গুরু পার কর
    মোরে— সবারি ভাগ্যে আছে হরি, আমারে
    ভাগ্যে নাই, জদি গুরু পার কর মোরে॥
    জখন ধম্মিরাজ রন্ন দেখিল।
    করুনা করি মহারাজা কান্দিতে নাগিল॥
    জখনে আছিলাম গুরু আজ্যের ঈশ্বর।
    এমন ধান্তি রন্ন নাই খায় কুরুতা সক্কল॥
    এখন সিদ্দা হাড়ি বলিতেছে—ওরে জাদু ধন তুমি
    কান্দ কি কারন।
    এখন রাজা বল্তেছে—ওগো গুরু ভারতি
    আমি জে কান্দি তাহা শুনতে চাও,
    জখনে আছিলাম আমি রাজ্যের ঈশ্বর
    এমন রন্ন নাহি খায় আমার কুরুতা সক্কল॥
    তখন সিদ্দা বল্তেছে,—বাবা জদি অন্ন না খাবে মনের গরবে
    আরো কিছু দুস্ক দিব হিরা নটির ঘরে॥
    জখন মতে মহারাজা হিরার নাম শুনিল।
    রত্ন খাইতে মহারাজা রন্নের কাছে গ্যাল॥
    গুরুর বাক্য মহারাজা ব্রথা না করিল।
    পন্তে বসিয়া রাজা রন্ন খাইল॥
    প্রথম এক গাস রন্ন মুক্খে তুলিয়া দিল।
    অমেত্র পাইয়া রন্ন গিলিয়া ফেলিল॥

  181. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে পাই—

    তুরু তুরু করিয়া হাড়ি হুঙ্কার ছাড়িল।
    বার বৎসর খিদা সরীরত নাগাইল॥
    ছি ছি খিন খিন করিয়া এক গ্রাস খাইল।
    অমৃত মিঠা রাজা মুখত লাগিল॥
    ফির একনা গাসর বেলা হাত কোনা ধরিল।
    কাড়াকাড়ী করিয়া আড়াই গাস খাইল।
    আড়াই পুটী জ্ঞান তখনই সিখিল॥
    জ্ঞানে ধ্যানত বান্দি দিল হুলী।
    গোদা যমর মায়র সঙ্গত কৈল্ল কোলাকোলী॥
    জ্ঞানে ধ্যানত বান্দি দিল চূড়া।
    গোদা যমক করিয়া দিল খোঁড়া॥

  182. পাঠান্তর—

    আধা গাস খাইতে সিদ্দা হস্ত ধরিল।
    তুরু তুরু করিয়া হাড়ী হুঙ্কার ছাড়িল।
    বাড়ির কথা বার্তা রাজার মনত পড়িল।
    বিদায় দেও বিদায় দেও গুরু ধরম তরি।
    আলক রথে দেখি আসি ঘর ছিরি বাড়ী।
    হাতর আস তুলিয়া দিল রাজার হাতর উপর।
    হাড়ীর চরনত রাজা পরনাম জানাইল॥
    আসী মোনী আসা লইল ঘাড়ত করিয়া।
    রাস্তা দিয়া চলিয়া যায় রাজা দুলালীয়া॥
    হাড়ী সিদ্ধা হাসে খল খল করিয়া।

  183. পাঠান্তর—

    জখন ধম্মিরাজা হাড়িক প্রনাম জানাইল।
    সোনার ভোমরা হইয়া হাড়ি শুন্যে উড়ি গ্যাল॥

  184. পাঠান্তর—

    ছয়মাসের পথ হইতে একটা দরিয়া সিরজিল।

  185. পাঠান্তর—

    কপাল ফাড়িয়া রাজা ফুলবড়ি বসাইল।
    সোনার ভোমরা হইয়া রাজা শুন্যে উড়ি গ্যাল॥

  186. পাঠান্তর—

    নয়া গুরুর মন্ত্র নিলে রিদএ জপিয়া।
    কুড়িয়া আতুর বৈটম হৈল রাজা কায়া বদলিয়া
    ভালি ডালি মাছি জাএছে পচ্ছাতে উড়িয়া।
    দুইটা আমের পল্লব নিলে হস্তে করিয়া॥
    সরাপচার গোন্দো দিলে পাছোতে ছাড়িয়া।
    মাছি খ্যাদায়ে জাএছে রাজা দরবারক নাগিয়া।
    ইন্জ মুনিক নাগি রাজা হুঙ্কার ছাড়িল।

    কিবা কর ইন্দ্র মুনি নিছন্তে বসিয়া।
    রিমি ঝিমি করি বৈস্যন দে আরো ছাড়িয়া ॥
    রিমি ঝিমি করি বৈস্যন বস্সিতে নাগিল।
    ভিজি টিজি মহারাজা ভিক্খা চাইল॥
    ভিক্‌খা দ্যাও মোক ভিক্খা ঠাও মোক রদুনাহের বাই।
    তোমার ঘরের ভিক্খা পাইলে অন্য ঘরে জাই॥
    ভিক্খা ভিক্খা করি রাজা তুলি কাইল্ল রাও।
    চম্যক্রত হইল জে রানির সব্ব গাও॥
    দিদি, বার বছর না আইসে রতিত দারতো সাজিয়া।
    আইজ কোনঠাগার বৈস্‌টম আস্ছে মহলক নাগিয়া ॥
    চল চল জাই দিদি বাহেরাক নাগিয়া।
    আমার সোআমির গননা একনা নেই আরো গনিয়া ॥
    গননা শুনিবার বাদে রানি বাহেরা ব্যারাল।
    বৈস্‌টমের তরে কথা বলিতে নাগিল॥
    বৈস্‌টমরে—পানি পড়ে রিমি ঝিমি ক্যানে বৈস্‌টম ভেজ।
    চালিত আছে উছল পিড়া এইঠে আসিয়া বস॥
    মোর সোআমির গননা একনা শুনান তো বসিয়া ॥
    জ্যান কালে রদুনা রানি গননা শুনিবার চাইল।
    মাটিত র‍্যাখা দিয়া গননা গনিতে নাগিল॥
    ওহে রানি; তোর সোআমি আমি একে গুরুর শিস্।
    গুরু শিস্যে প্রবাস কচ্ছি এক গিরস্তের ঘরে।
    সেই জে গিরস্ত দিছে মাসকলাইর ডাইল।
    মাস কলাইর ডাইল খাইছে তোমার সোআমি সন্তোস করিয়া।
    প্যাট দাম্বা হইয়া তোমার সোআমি গেইছে মরিয়া॥
    হাউসাতে খাকি শ্রিআাঙ্গুট মোক দিছে ফ্যালায়া॥
    জ্যান কালে রদুনা রানি রাজার শ্রিআঙ্গুট দেখিল।
    দোনো বইনে কথা বলিতে নাগিল॥

    এই বৈস্‌টম আমি আমার সোআমিক ফ্যালাইছে মারিয়া।
    এই জে সোআমির আঙ্গুট নেইছে, কাড়িয়া॥
    আমার জে হেঙ্গল গুলা দেই আরো ছাড়িয়া ৷
    জেই বৈস্‌টম বেটাক ফ্যালাক তো মারিয়া ॥

  187. পাঠান্তর—

    হেঙ্গলের বন্দন রানি দিলে ছাড়িয়া।
    আটার দেউড়ি আইচ্ছে হেঙ্গল মার মার বলিয়া।
    ধর্ম্মিরাজার চরনে ধরি কান্দে বাপ বাপ বলিয়া ॥
    পিতা, বারবছর গেইছেন আমাক বন্দন করিয়া।
    বারবছর খেতুআ খেসারি নাই দ্যায় পাকিয়া

  188. পাঠান্তর—পাগলা হস্তির দারুকা দ্যাওত ছাড়িয়া।
  189. মতান্তরে এইস্থলেই হস্তী রাজাকে লইয়া ভিতরে গেল—

    পিতা বারবছর গেইছেন আমাক বন্দন করিয়া।
    কোন দিন খেতু না দ্যায় চারা কাটিয়া।
    শুঁড় দিয়া পাল্‌টায়া হস্তি রাজাক নন্তকে তুলিল।
    পুন্নিমার চন্দ্রের নাকান রাজা জলিয়া উঠিল॥
    জোড় বাঙ্গালার নাগি এ দৌড় ধরিল॥
    দ্যাখে বিনা ব্রহ্মায় সত্যের অন্ন উথলিয়া পৈল।
    দোনো বইনে কথা বলিতে নাগিল॥
    বিনা ব্রহ্মায় সত্যের অন্ন উথলিয়া পৈল।
    বার বছর অন্তরে পতি মহলে আসিল॥
    রতিত নয় রতিত নয় দুলাল ভগবান্।
    মায়া করি ছলিল আসে আপনার মহাল॥
    মস্তকে করিয়া হস্তি ভিতর অন্দর গ্যাল
    এই শব্দ ডাহিনি মএনা ফেরুসাএ শুনিল॥
    গ্রীয়ার্সন্ সাহেবর সংগৃহীত পাঠে নিম্নরূপ— 
    হস্তির দারুকা কাটিয়া দেও।
    মোর সোয়ামি নিবে চিন করিয়া।
    বিদেশী অথীত হইলে ফেলাবে মারিয়া॥

    হস্তির দারুকা দিলে কাটিয়া।
    দুর হইতে আইসে হস্তি আইল চড়িয়া ॥
    দুর হইতে রাজাক পরনাম করিল।
    সুঁড় দিয়া ধরিয়া রাজাক কান্ধত চড়াইল ॥
    এক ঘড়ি থাকিলে হস্তি ধৈর্য্য ধরিয়া।
    যাবত না আইসে কন্যা ছলনা করিয়া ॥
    হস্তির পিটি হইতে রাজা মৃত্তিকায় নামিল।
    হস্ত ধরি কন্যা দুইটা রাজাক মন্দীরত লইয়া গেল।
    হাসিয়া খেলিয়া কন্যা চিনা পুছা দিল॥
    কোন গুরু তোক জ্ঞান দিল সরীরর ভিতর।
    কেমন করি যাও তোর মায়র বরাবর ॥

     এই উভয় মতেই অদুনা ও পদুনা রাণীর বহির্গমনের পরে অঙ্গুরী দেখিয়া রাজার নিকট হস্তী প্রেরণ। একমতে হস্তীর পরে আবার ‘সার শুয়া’ পক্ষী প্রেরণ।

    রানি বলে হারে বান্দি তোর গালে পড়ুক চড়।
    সারশুয়া পক্‌খি দুটাক দ্যাওত ছাড়িয়া।
    কোন ঠাকার রতিত আইছে ফেলুক মারিয়া ॥
    জখন বান্দির বেটি এ কথা শুনিল।
    সারশুয়া পক্‌খি দুটাক দিলেত ছাড়িয়া।
    সারা ঘাটাএ গ্যাল পক্খি মার মার বলিয়া।
    কিসের আর মারবে তাক কান্দে গলাটা ধরিয়া॥

  190. গ্রীয়ার্সন সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—প্রথমে বান্দী দিগের ভিক্খা লইয়া আগমন, বান্দীদিগের হস্তে ভিক্‌খা লইতে অস্বীকার করায় ‘সাইবানী’ বা রাণীদিগের ভিক্‌খা আনয়ন।

    যেন মতে কন্যা দুইটা সম্বাদ সুনিল।
    ভিক্ষা ধরি কন্যা দুইটা খাড়া হইয়া রহিল॥
    বিন ছোড়ানি ধর্ম্মর কপাট আপনে খসিল
    ভিক্ষা ধরি অদুনা পদুনা বাহির হইয়া আইল ॥

  191. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    স্ত্রীর আঙ্গুল দেখি তোমার হস্তর উপর।
    তোমরা হন আমার মাথার ছতর॥
    ইহার প্রথম ছত্র অর্থশূন্য বিকৃতি। 


  192. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সাগৃহীত পাঠে ‘হতন্তুসি’ স্থলে

    ‘হা হুতাসী,’ ‘প্যাটনামা কারিয়া’ স্থলে ‘ভেদ বমি হইয়া’।

  193. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—

    ‘কাঁহো পাইলা ডাঙ্গ মাইল্ল কাঁহো গোপাল ডাঙ্গ’ এবং


    পরবর্ত্তী ছত্রে ‘ভাগত থাকিয়া আঙ্গটি জোড়া মোক কল্যে দান’।

  194. গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে রাজার রাজদ্বারে আসিবার সময়েই এই নাগরার বাজনা—

    তুরু তুরু করিয়া রাজা সিংনাদ বাজায়।
    নিন্দত আছিল কন্যা চেতন হয়া যায়॥
    বিন খড়ী দাম্বা ঘড়ি বাজিবার লাগিল।
    বিন আগুন দুগ্ধ চাউল উথলীয়া পড়িল॥
    হাটি হাটি প্রদীপ জ্বলিবার লাগিল।
    সরদি সাগরত রাজা বহিবার লাগিল॥

    চৌদ্দখান মধুকর ভাসিয়া উঠিল।
    স্ত্রীবৃন্দাবন রাজা মুখ লস হইল।
    গর্ভবতি নারী সব প্রসব হইল॥
    অথীত আইল রে।
    আমার দরজার মাঝারে॥ ধূয়া॥
    কোন্‌টে গেল বান্দী আগেয়া পান খামু।
    কোন্ টেকার অথীত আইছে বিদায় করি দিমু॥

    ইহার পরই বান্দীর ভিক্ষা লইয়া বহির্গমন।

  195. মতান্তরে রাণীদিগের নিকটে আসিবার পূর্ব্বে ময়নামতীর নিকট গমন বর্ণিত হইয়াছে।
  196. পাঠান্তর—

    খপ করি বুড়ি মএনা চড়কা ধরিল।
    চড়কা ধরতে বুড়ি মএনা পুত্রক দেখিল॥
    ছাইলাক দেখিয়া মএনা বড় খুশি হৈল॥

  197.  গ্রীয়ার্সন্ সাহেবের সংগৃহীত পাঠে—
    মধু নাপিতক আনিল ডাকিয়া।

    রাজা কিরা সুদ করিবার লাগিল।
    বামনে আসিয়া নৈবদ ভানা দিল॥
    সংকীর্ত্তন রাজা করিবার লাগিল।

    সাত গোলা ধান খয়রাত করিল॥

    গভীর নেঙ্গুল ধরিয়া বৈতরনি হইল পার।
    রাজার পিতা মাতা বৈকুণ্ঠে হইল পার॥
    পঞ্চ লোটা জলে ময়না ছিনান করিয়া।
    হাসিয়ালী ঘরত সোন্দাইল লহর দিয়া॥
    এক ভাত পঞ্চাস ব্যঞ্জন রন্ধন করিয়া।
    তিনখান লইল অম্বলে মাজিয়া॥
    হাড়ির লাগিয়া ময়না হুঙ্কার ছাড়িল।
    তখনি হাড়ী আসিয়া খাড়া হইল॥
    প্রথম থাল অন্ন দিল হাড়ীর বরাবর।
    ফির থাল অন্ন নিলে ময়না সুন্দর।
    ফির থাল অন্ন দিলে রাজার বরাবর॥
    হাত মুখত জল দিয়া কোন কাম করিল।
    স্রীকৃস্‌ট বলিয়া অন্ন মুখত তুলি দিল।
    এক গাস দুই গাস পঞ্চ গাস খাইল॥
    অন্ন জল খাইয়া তুষ্ট হইল মন।
    ভিঙ্গার ঝাড়ীর জলে করিল আচমন॥
    বাঁও ঠেঙ্গ তুলিয়া রাজার মস্তকে দিল।
    কৈলাসর হাড়ী কৈলাসত চলি গেল।
    রাজার পাট লইল পুস্কর করিয়া।
    হনুমান দণ্ড ছত্র বেড়াইম সাজিয়া।
    পাট হস্তি আইল সাজিয়া॥
    রাজাকি পোসাক পড়িবার লাগিল।
    সুড় দিয়া ধরিয়া রাজাক কান্ধত চড়াইল॥
    বাইজ বাজনায় পাটত লইয়া গেল।
    রাজার পাটত পরনাম করিল।
    সুর দিয়া ধরি রাজাক পাটত বসাইল॥
    দেড় বুড়ি কড়ি থাজনা সাধিবার লাগিল।
    রাজার রাজ্যত সুখময় হইল॥

  198.  একটী পাঠে ইহার পর—
    জখন রানির ঘর রাজাক দেখিল।

    পাঁচ নোটা কুআর জলে সিনান করিল॥
    রসাই ঘরা নিলে পুস্কর করিয়া।
    এক ভাত পঞ্চাশ ব্যঞ্জন রন্ধন করিয়া॥
    সুবন্নের খালে রন্ন নিলে পারশিয়া।
    আইস আইস প্রানপিয়া ভোজন কর সিয়া॥

    অস্ত ব্যাক্ত করে রাজা রণের কাছে গ্যাল।

    রন্ন খাইয়া রাজার হরসিত মন।
    মানিক ভিঙ্গারের জলে ক’ল্লে আচমন॥
    রন্ন জল খাইয়া রাজার তুস্‌ট হইল মন।
    কুসুমের পালঙ্কে রাজা করিলে শয়ন॥
    রন্ন জল খায় রানির ঘর বদন ভরিয়া।
    রন্ন খাইয়া রানির ঘরের তুস্‌ট হইল মন।
    সোআমির চরনে গিয়া করলে পরনাম।
    পানের বাটা নিলে রানি হস্তত করিয়া।
    হাসিয়া খেলিয়া উঠিল রানি পালঙ্কর নাগিয়া॥

  199. একটী পাঠে ইহার পর

    শঙ্খচক্র গদাপদ্দ চতুর্ভুজ ধারি।
    পরিধান পিতাম্বর মুকুন্দ মুরারি॥
    ধম্মিরাজা পাটত বসল বল হরি হরি।
    রাজ কল তৈয়ার কইরাছে কেশরী॥