বিষয়বস্তুতে চলুন

চারণ

উইকিসংকলন থেকে

চারণ

শ্রীকনকভূষণ মুখোপাধ্যায়

কলিকাতা

বাগচী এণ্ড সন্স্ :

২০৩।২, কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট

বাগচী এণ্ড সন্স্, ২০৩।২ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট

কলিকাতা হইতে শ্রীহেমচন্দ্র বাগচী, এম-এ

কর্ত্তৃক প্রকাশিত

প্রথম প্রকাশ,

জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৭

প্রিণ্টার—শ্রীশশধর ভট্টাচার্য্য
 দাম বারো আনা]
মাসপয়লা প্রেস 
১৫।এ, ঝামাপুকুর লেন,কলিকাতা

শ্রীযুক্ত শক্তিপদ ভট্টাচার্য

 অগ্রজপ্রতিমেষু—

মনে পড়ে একদিন জীবনের প্রভাত-বেলায়,
মেবার-কাহিনীগুলি ধরেছিলে সম্মুখে আমার;
তখনো ফোটেনি আলো আঁখিপাতে আছিল আঁধার—
বিকাশ-উন্মুখ হিয়া কোরকের স্ফুটন-মেলায়!

তুমি এলে বাঁশী হাতে কণ্ঠে ভরি’ মহিমার গান
আঁকিলে সে কোন্ ছবি ছিলনাক মুখে যার ভাষা!
নিখিল পাগল-করা অপরূপ যার ভালোবাসা—
সেই মোরে ভুলাইল; সে মাধুরী ভরিল পরাণ!

তখনো কি জানিতাম এই ছবি মনে একদিন
স্মৃতির মালিকা গাঁথি’ দোলাইবে কবে মোর মন!
প্রকাশ-ব্যথার শেষে মোর মনে আসিবে ‘চারণ’—
বিস্ময়ে হেরিনু আজ আসিল সে হারানো নবীন।

মধুর স্মৃতির মালা গাঁথি’ তাই দিনু তব করে—
জানি মোর ক্ষুদ্র দান, তবু তুমি লবে সমাদরে।

পরিচায়িকা

 অতীত যুগের ইতিহাস সকল দেশের কাব্যেই রস-সৃষ্টির উপযোগী উপকরণ দান করিয়াছে। যে দেশে ঐতিহ্যের মহিমা নাই—সে দেশের কাব্য দরিদ্র। বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস যতটা মাধুর্য্যের উপাদান দিয়াছে—ততটা শৌর্য্য, বীর্য্য, পৌরুষ ও মনুষ্যত্বের উচ্চাদর্শের উপকরণ দিতে পারে নাই। রাজস্থানের ইতিহাস আমাদের সে অভাব পূরণ করিয়াছে। বাঙ্গালী কবি দেশ-মাতৃকার গৌরবের বিষয় অনুধ্যান করিতে গিয়া কেবল বাংলাদেশের কথা-ই ভাবে নাই—ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমার সংকীর্ণতা সে সহজেই উত্তীর্ণ হইতে পারিয়াছে। বোধ হয় বাঙ্গালীর মত ভারতের কোন জাতি রাজস্থানের ইতিহাসকে এমন করিয়া রস-সৃষ্টির উপকরণ স্বরূপে বিনিয়োগ করিতে পারে নাই।

 আমাদের দেশে রঙ্গলাল সর্ব্বপ্রথম রাজস্থানের কাহিনীকে কাব্যের মধ্যে স্থান দেন—তারপর হইতে বহু কাব্য, নাট্য ও উপন্যাস রচনায় রাজস্থানের ইতিহাস প্রচুর উপকরণ দান করিয়াছে। রাজস্থানের কাহিনী লইয়া রবীন্দ্রনাথ সর্ব্বপ্রথম স্কটিশ ব্যালাডের ভঙ্গিতে গাথা রচনা করেন।

 রঙ্গলাল ঐতিহাসিক উপকরণে রস-সৃষ্টি অপেক্ষা মহত্বের আদর্শ সৃষ্টির দিকেই অধিকতর মনোনিবেশ করিয়াছিলেন। রবীন্দ্রনাথ গাথা কয়েকটিতে রস-সৃষ্টির দিকেই অধিকতর মনোযোগী হইয়াছেন।

 শ্রীমান কনকভূষণ এই গ্রন্থের গাথাগুলিতে রবীন্দ্রনাথেরই অনুসরণ করিয়াছেন এবং রাজস্থানের কাহিনীর সাহায্যে রস সৃষ্টির চেষ্টা করিয়াছেন; কনকভূষণের এই চেষ্টা বিফল হয় নাই। নবীন কবির পক্ষে ইহা অল্প প্রশংসার কথা নহে।

 রস-সৃষ্টির কথা ছাড়িয়া দিলেও এই চারণী গাথাগুলির অন্য মূল্যও যথেষ্ট আছে। লেখক রাজপুতানার নারীর শৌর্য্য বীর্য্য ও আত্মোৎসর্গের চিত্রগুলি বেশ উজ্জ্বল করিয়া-ই ফুটাইতে পারিয়াছেন।

 দেশের বর্ত্তমান সময়ে দেশাত্মবোধ জাগরণে এই চিত্রগুলির মূল্য যথেষ্ট। আজ অর্দ্ধশতাব্দী ধরিয়া বাঙ্গালীর জাতীয় চরিত্রগঠনে রাজপুত জাতির ইতিহাস যথেষ্ট সহায়তা করিয়াছে—বাঙ্গালীর অলস, বিলাসাবসন্ন শঙ্কাতুর জীবনে ইহা নবজীবন সঞ্চার করিয়াছে। ঐ ইতিহাস যত প্রকারে যত রূপে যত ছদ্মে যত ভঙ্গিতে আমাদের পাঠক-সমাজে উপস্থাপিত হয়—ততই মঙ্গল।

 কনকভূষণ রাজস্থানের গৌরবময় বৈচিত্র্যগুলিকে অভিনব ভঙ্গিতে আমাদের সম্মুখে উপস্থাপিত করিয়া আমাদের জাতীয় জীবনের কল্যাণ সাধন-ই করিলেন।

 আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীগণ এই গাথাগুলি পড়িলে চরিত্রগঠনের সহায়ক নব নব আদর্শ লাভ করিয়া উপকৃত হইতে পারিবে।

১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৭
শ্রীকালিদাস রায়
 কালীঘাট

নিবেদন

 ‘চারণে’ সন্নিবেশিত গাথাগুলির অধিকাংশই কোন-না-কোন মাসিক ও সাময়িকে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গাথাগুলিকে একত্র বই-আকারে দেখবার ইচ্ছা অনেক বন্ধুই প্রকাশ করেছেন। একদিন কথা প্রসঙ্গে কবি হেমচন্দ্র বাগচী আমাকে ঐ রকম অনুরোধ করেছিলেন।

 ছ’ বছর আগে ‘টড্’ পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গভীর আন্তরিকতা ও দরদ দিয়ে লেখা এই গাথাগুলি। আমার ক্ষুদ্র শক্তিতে যতদূর সম্ভব এই বিচ্ছিন্ন গাথাগুলিকে একত্র ক’রে বই আকারে প্রকাশ করলাম। সহৃদয় পাঠক-পাঠিকার সহানুভূতিতেই গ্রন্থের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করছে।

 যাঁর প্রেরণায় একদিন ‘চারণ’ লেখা সম্ভব হ’য়েছিল, সেই নীরব সাহিত্যিক, শ্রীযুক্ত শক্তিপদ ভট্টাচার্য্যের হাতেই আমার ‘চারণ’ তুলে দিলাম। পরম শ্রদ্ধেয় কবিশেখর শ্রীযুক্ত কালিদাস রায় গ্রন্থখানির পরিচয়-লিপি লিখে দিয়ে কবি-অন্তরের সত্যকার আন্তরিকতা জানিয়েছেন। শিল্পী শ্রীযুক্ত অখিল নিয়োগী চারণের প্রচ্ছদপট এঁকে আমায় কৃতজ্ঞতায় বেঁধেছেন। বন্ধুবর শ্রীসুবল মুখোপাধ্যায়, আনিস্ উদ্দিন আমেদ, রাধিকা মিত্র এ বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট আন্তরিকতা জানিয়েছেন। তাঁদের আমার প্রীতি জানাই। ক্ষুদ্র জীবনে যাঁদের স্নেহঋণে আমি আজও জড়িয়ে আছি, তাঁদের প্রত্যেককেই আমি আজ বিশেষভাবে স্মরণ করি।

বিরূডিহা গ্রাম
বৰ্দ্ধমান
জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৭

শ্রীকনকভূষণ মুখোপাধ্যায়

সূচী

১০
১৩
১৬
২০
২২
২৪
২৭
৩২
   
৩৬

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।