ছবি ও গান/বিদায় (ছবি ও গান)

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

          সে যখন বিদায় নিয়ে গেল ,
তখন নবমীর চাঁদ অস্তাচলে যায় ।
          গভীর রাতি নিঝুম চারি দিক ,
          আকাশেতে তারা অনিমিখ ,
                  ধরণী নীরবে ঘুমায় ।
          হাত দুটি তার ধরে দুই হাতে
                  মুখের পানে চেয়ে সে রহিল ,
           কাননে বকুল তরুতলে
                  একটিও সে কথা না কহিল ।
          অধরে প্রাণের মলিন ছায়া ,
                  চোখের জলে মলিন চাঁদের আলো ,
          যাবার বেলা দুটি কথা বলে
                  বনপথ দিয়ে সে চলে গেল ।
ঘন গাছের পাতার মাঝে আঁধার পাখি গুটিয়ে পাখা ,
          তারি উপর চাঁদের আলো শুয়েছে ,
ছায়াগুলি এলিয়ে দেহ আঁচলখানি পেতে যেন
          গাছের তলায় ঘুমিয়ে রয়েছে ।
গভীর রাতে বাতাসটি নেই — নিশীথে সরসীর জলে
          কাঁপে না বনের কালো ছায়া ,
ঘুম যেন ঘোমটা-পরা বসে আছে ঝোপেঝাপে ,
          পড়ছে বসে কী যেন এক মায়া ।
  
          চুপ করে হেলে সে বকুল গাছে ,
          রমণী একেলা দাঁড়ায়ে আছে ।
এলোথেলো চুলের মাঝে বিষাদমাখা সে মুখখানি ,
          চাঁদের আলো পড়েছে তার'পরে ।
পথের পানে চেয়ে ছিল , পথের পানেই চেয়ে আছে ,
          পলক নাহি তিলেক কালের তরে ।
গেল রে কে চলে গেল , ধীরে ধীরে চলে গেল ,
          কী কথা সে বলে গেল হায় ,
অতি দূর অশথের ছায়ে মিশায়ে কে গেল রে ,
          রমণী দাঁড়ায়ে জোছনায় ।
সীমাহীন জগতের মাঝে আশা তার হারায়ে গেল ,
          আজি এই গভীরে নিশীথে ,
শূন্য অন্ধকারখানি মলিন মুখশ্রী নিয়ে
          দাঁড়িয়ে রহিল একভিতে ।
  
          পশ্চিমের আকাশসীমায়
          চাঁদখানি অস্তে যায় যায় ।
ছোটো ছোটো মেঘগুলি সাদা সাদা পাখা তুলি
          চলে যায় চাঁদের চুমো নিয়ে ,
আঁধার গাছের ছায় ডুবু ডুবু জোছনায়
          ম্লানমুখী রমণী দাঁড়িয়ে ।