ছবি ও গান/স্মৃতি-প্রতিমা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

                   আজ কিছু করিব না আর,
সমুখেতে চেয়ে চেয়ে গুন গুন গেয়ে গেয়ে
                   বসে বসে ভাবি একবার ।
আজি বহু দিন পরে যেন সেই দ্বিপ্রহরে
                   সেদিনের বায়ু বহে যায়,
হা রে হা শৈশবমায়া অতীত প্রাণের ছায়া,
                   এখনো কি আছিস হেথায় ?
এখনো কি থেকে থেকে উঠিস রে ডেকে ডেকে,
                   সাড়া দিবে সে কি আর কাছে ?
যা ছিল তা আছে সেই, আমি যে সে আমি নেই,
                   কেন রে আসিস মোর কাছে ?
কেন রে পুরানো স্নেহে পরানের শূন্য গেহে
                   দাঁড়ায়ে মুখের পানে চাস ?
অভিমানে ছলছল নয়নে কি কথা বল,
                   কেঁদে ওঠে হৃদয় উদাস।
আছিল যে আপনার সে বুঝি রে নাই আর,
                   সে বুঝি রে হয়ে গেছে পর —
তবু সে কেমন আছে শুধাতে আসিস কাছে,
                   দাঁড়ায়ে কাঁপিস থর থর ।
আয় রে আয় রে অয়ি, শৈশবের স্মৃতিময়ী,
                   আয় তোর আপনার দেশে —
যে প্রাণ আছিল তোরি তাহারি দুয়ার ধরি
                   কেন আজ ভিখারিনী-বেশে!
আগুসরি ধীরি ধীরি বার বার চাস ফিরি,
                   সংশয়েতে চলে না চরণ —
ভয়ে ভয়ে মুখপানে — চাহিস আকুল প্রাণে,
                   ম্লান মুখে না সরে বচন ।
দেহে যেন নাহি বল, চোখে পড়ে-পড়ে জল,
                   এলো চুলে, মলিন বসনে —
কথা কেহ বলে পাছে ভয়ে না আসিস কাছে,
                   চেয়ে রোস আকুল নয়নে ।
সেই ঘর সেই দ্বার মনে পড়ে বার বার
                   কত যে করিলি খেলাধূলি —
খেলা ফেলে গেলি চলে, কথাটি না গেলি বলে,
                   অভিমানে নয়ন আকুলি ।
যেথা যা গেছিলি রেখে, ধুলায় গিয়েছে ঢেকে,
                   দেখ‍্‍ রে তেমনি আছে পড়ি —
সেই অশ্রু সেই গান সেই হাসি অভিমান,
                   ধুলায় যেতেছে গড়াগড়ি ।
তব রে বারেক আয় বোস‍্‍ হেথা পুনরায়
                   ধূলিমাখা অতীতের মাঝে —
শূন্য গৃহ জনহীন পড়ে আছে কত দিন,
                   আর হেথা বাঁশি নাহি বাজে ।
কেন তবে আসিবে নে কেন কাছে বসিবি নে
                   এখনো বাসিস যদি ভালো!
আয় রে ব্যাকুল প্রাণে চাই দুঁহু মুখপানে,
                   গোধূলিতে নিব-নিব আলো ।
নিবিছে সাঁঝের ভাতি, আসিছে আঁধার রাতি
                   এখনি ছাইবে চারি ভিতে —
রজনীর অন্ধকারে মরণসাগরপারে
                   কেহ কারে নারিব দেখিতে ।
আকাশের পানে চাই — চন্দ্র নাই, তারা নাই,
                   একটু না বহিছে বাতাস,
শুধু দীর্ঘ দীর্ঘ নিশি দুজনে আঁধারে মিশি
                   শুনিব দোঁহার দীর্ঘশ্বাস ।
এক বার চেয়ে দেখি কোন‍্‍খানে আছে যে কী,
                   কোন‍্‍খানে করেছিনু খেলা —
শুকানো এ মালাগুলি রাখি রে কন্ঠেতে তুলি,
                   কখন চলিয়া যাবে বেলা ।
আয় তবে আয় হেথা, কোলে তোর রাখি মাথা,
                   কেশপাশে মুখ দে রে ঢেকে —
বিন্দু বিন্দু ধীরে ধীরে অশ্রু পড়ে অশ্রুনীরে,
                   নিশ্বাস উঠিছে থেকে থেকে ।
সেই পুরাতন স্নেহে হাতটি বুলাও দেহে,
                   মাথাটি বুকেতে তুলে রাখি —
কথা কও নাহি কও চোখে চোখে চেয়ে রও,
                   আঁখিতে ডুবিয়া যাক আঁখি ।