ছেলেবেলা/বালক

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বয়স তখন ছিল কাঁচা , হালকা দেহখানা
ছিল পাখির মতো , শুধু ছিল না তার ডানা ।
উড়ত পাশের ছাদের থেকে পায়রাগুলোর ঝাঁক ,
বারান্দাটার রেলিঙ- ‘ রে ডাকত এসে কাক ।
ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ও পার থেকে
তপসিমাছের ঝুড়িখানা গামছা দিয়ে ঢেকে ।
বেহালাটা হেলিয়ে কাঁধে ছাদের ‘ রে দাদা ,
সন্ধ্যাতারার সুরে যেন সুর হত তাঁর সাধা ।
জুটেছি বৌদিদির কাছে ইংরেজি পাঠ ছেড়ে ,
মুখখানিতে-ঘেরদেওয়া তাঁর শাড়িটি লালপেড়ে ।
চুরি করে চাবির গোছা লুকিয়ে ফুলের টবে
স্নেহের রাগে রাগিয়ে দিতেম নানান উপদ্রবে ।
কিশোরী চাটুজ্যে হঠাৎ জুটত সন্ধ্যা হলে ,
বাঁ হাতে তার থেলো হুঁকো , চাদর কাঁধে ঝোলে ।
দ্রুতলয়ে আউড়ে যেত লবকুশের ছড়া ,
থাকত আমার খাতা লেখা , পড়ে থাকত পড়া ;
মনে মনে ইচ্ছে হত যদিই কোনো ছলে
ভরতি হওয়া সহজ হত এই পাঁচালির দলে ,
ভাবনা মাথায় চাপত নাকো ক্লাসে ওঠার দায়ে ,
গান শুনিয়ে চলে যেতুম নতুন নতুন গাঁয়ে ।
স্কুলের ছুটি হয়ে গেলে বাড়ির কাছে এসে
হঠাৎ দেখি , মেঘ নেমেছে ছাদের কাছে ঘেঁষে ।
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে , রাস্তা ভাসে জলে ,
ঐরাবতের শুঁড় দেখা দেয় জল-ঢালা সব নলে ।
অন্ধকারে শোনা যেত রিম্‌ঝিমিনি ধারা ,
রাজপুত্র তেপান্তরে কোথা সে পথহারা ।
ম্যাপে যে-সব পাহাড় জানি , জানি যে-সব গাঙ
কুয়েন্‌লুন আর মিসিসিপি , ইয়াংসিকিয়াঙ —
জানার সঙ্গে আধেক-জানা , দূরের থেকে শোনা ,
নানা রঙের নানা সুতোয় সব দিয়ে জাল-বোনা ,
নানারকম ধ্বনির সঙ্গে নানান চলাফেরা
সব দিয়ে এক হালকা জগৎ মন দিয়ে মোর ঘেরা —
ভাবনাগুলো তারি মধ্যে ফিরত থাকি থাকি
বানের জলে শ্যাওলা যেমন , মেঘের তলে পাখি ।