জীবনী কোষ/ভারতীয়-পৌরাণিক/ভদ্রকালী

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভদ্রকালী

(১) দেবী কাত্যায়নীর অন্যতম নাম। মহিষাসুরের সহিত দেবগণের যুদ্ধকালে তিনি ব্রহ্মাদি দেবগণের দেহনিঃসৃত তেজ সমুদয় হইতে উৎপন্না হন। মার্ক-৮৩। ভগবতী দেখ। তাঁহারই নামান্তর চণ্ডিকা, অম্বিকা, দুর্গা ইত্যাদি। কাত্যায়নী দেখ। স্কন্দ-ব্রহ্ম-সেতু-৭।

(২) দক্ষযজ্ঞ ধ্বংস করিবার জন্য মহেশ্বর বীরভদ্রকে উৎপাদন করেন। বীরভদ্র আপনার সহিত গমন করিবার জন্য ক্রোধ দ্বারা ভদ্রা নাম্নী মহেশ্বরী ভদ্রকালীর সৃজন করিলেন। বীরভদ্র শিবাদেশে ভদ্রকালীকে সঙ্গে লইয়া দক্ষযজ্ঞ ধ্বংস করিতে গমন করেন। যজ্ঞ ধ্বংসকালে বীরভদ্র দক্ষের ছিন্ন মস্তক ভদ্রকালীকে প্রদান করেন। যজ্ঞান্তে ভদ্রকালী বীরভদ্র সহ প্রত্যাবর্ত্তন করিলে মহাদেবী তাঁহাদিগকে নানাবিধ উপহারাদি প্রদান করেন। শিব-বায়ু-পূ-১৭-২০। বাম-৪।

(৩) মহেশ্বর বীরভদ্রকে দক্ষযজ্ঞ নাশ করিবার জন্য প্রেরণ করিলে, মহেশ্বরীও স্বয়ং সমস্ত ঘটনা স্বচক্ষে দেখিবার জন্য ক্রোধভরে ভয়ঙ্কর ভদ্রকালী মূর্ত্তি ধারণ করিয়া তাঁহার অনুগমন করেন। বায়ু-৩০। ব্রহ্মা-৩১১।

(৪) বীরভদ্র উৎপন্ন হইবার পর দেবী ভদ্রকালী দাক্ষায়ণীর ক্রোধ হইতে উৎপন্না হন। সৌ-৭।

(৫) অনন্ত, অব্যয়, সর্ব্বব্যাপী মহাবিষ্ণুর পরমাশক্তি, মহর্ষিগণ কর্ত্তৃক মায়া, উমা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গিরিজা, অম্বিকা, দুর্গা, ভদ্রকালী, চণ্ডী, মাহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বারাহী, ঐন্দ্রী, ব্রাহ্মী, বিদ্যা, অবিদ্যা, মূল-প্রকৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিতা হন। বৃহন্না-৩। (মাতৃকাগণ দেখ)।

(৬) মহেশ্বরীর ভদ্রকালী মূর্ত্তিই কৃষ্ণরূপে পৃথিবীতলে অবতীর্ণা হন এবং শিব নিজ অংশে রাধা-রূপে অবতীর্ণ হন। শ্রীমহাভা-৪৯।

(৭) বক নামক অসুর গো-চারণরত বলরাম ও কৃষ্ণকে আক্রমণ করিলে দেবগণ সেই অসুরকে বধ করিবার জন্য সশস্ত্র আগমন করেন। তখন ভদ্রকালীও গদাঘাতে ঐ বকাসুরকে বধ করিবার প্রয়াস পান। গর্গ-বৃ-৫।

(৮) কংস নিহত হইলে, জরাসন্ধ ও তৎপক্ষীয় লোকদিগের সহিত যাদবগণের ঘোরতর সংগ্রাম সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধাকালে যে সমুদয় নর, অশ্ব, গজ প্রভৃতি নিহত হয়, তাহাদের উষ্ণ শোণিতধারা পান করিবার জন্য ভদ্রকালী শত শত ডাকিনী, যোগিনী পরিবৃত হইয়া আগমন করেন। গর্গ-দ্বা-১।

(৯) প্রদ্যুম্ন-নন্দন অনিরুদ্ধ যখন যজ্ঞাশ্ব লইয়া দেশ পর্য্যটনে যাত্রা করেন, তখন অন্যান্য দেবদেবীর ন্যায় ভদ্রকালী তাঁহাকে এক গুরু গদা প্রদান করেন। গর্গ-অশ্ব-১২।

(১০) ত্রিপুর তন্ত্রের পূজা প্রকরণে জয়ন্তী, মঙ্গলা, কালী, ভদ্রকালী, কপালিনী, দুর্গা, শিবা, ক্ষমা, ধাত্রী, স্বাহা ও স্বধার পূজা বিধেয়। কালি-৬৩।

(১১) সমুদ্র-মন্থনের পর দেবাসুরে যে যুদ্ধ হয়, তাহাতে ভদ্রকালী দেবীর সহিত শুম্ভ ও নিশুম্ভের সংগ্রাম হয়। ভাগ-৮স্ক-১০।

(১২) দেবী শঙ্করীর গাত্রোৎপন্না কুলদেবতাদের অন্যতম। ভট্টারিকী দেখ।

(১৩) ভদ্রকালী বীরভদ্রের পত্নী। কাশীস্থিত তাঁহাদের মূর্ত্তির পূজা করিলে কাশীবাসের ফললাভ হয়। স্কন্দ-কাশী-উ-৫৫।

(১৪) কাশীস্থিত ভদ্রবাপীতে স্নান করিয়া যে ব্যক্তি ভদ্রনাগের সম্মুখবর্ত্তিনী ভদ্রকালীকে দর্শন করে, তাহার সকল অমঙ্গল নাশ হয়। স্কন্দ-কাশী-উ-৭০।

(১৫) প্রভাসক্ষেত্রে কুবের নগরের উত্তরে ভদ্রকালী দেবী অবস্থিতা। চৈত্র মাসের তৃতীয়ায় তাঁহার পূজা বিশেষ ফলদায়ক। স্কন্দ-প্রভা-প্রভা-২৯১।

(১৬) তন্ত্রোক্ত শ্রীবিদ্যার পূজায় প্রথমে সূর্য্যপূজা তারপরে সরস্বতী, শ্রী, মায়া, দুর্গা, ভদ্রকালী, স্বস্তি, স্বাহা, শুভঙ্করী, গৌরী, লোকধাত্রী ও বাগীশ্বরী এই সকল দেবতার পূজা কর্ত্তব্য। তন্ত্রসার-৪১৫ পৃঃ।

(১৭) মায়াতন্ত্রে তারিণীদেবীর উগ্রা, কামেশ্বরী, তারা, নীলা, বজ্রা, ভদ্রকালী, মহোগ্রা ও সরস্বতী এই অষ্টবিধ মূর্ত্তির উল্লেখ আছে। তাঁহাদের অষ্টবিধ মন্ত্র। তন্ত্রসার-৫৩৪ পৃঃ।

(১৮) তন্ত্রোক্ত দুর্গার অষ্টোত্তর শত নামের অন্যতম। তন্ত্রসার-৭৩৩ পৃঃ।

(১৯) মাতৃকাগণের অন্যতম। গরু-পূ-১৩৫।

(২০) সীতার লোমকূপ হইতে বিনির্গতা কল্যাণদায়িনী মাতৃকাগণের অন্যতমা। অদ্ভু-রামা-২৩। সীতা দেখ।

হইয়া তাঁহাকে “রায়” উপাধি প্রদান পূর্ব্বক তাঁহাকে শ্রীহট্টের কাননগু ও দস্তিদার পদে নিযুক্ত করেন। কবিবল্লভের সুবিদ রায় ও শ্যাম দাস রায় নামে দুই পুত্র জন্মে। তন্মধ্যে সুবিদ রায় পিতৃপদ প্রাপ্ত হন। সুবিদ রায়ের পুত্র সম্পদ রায়, সম্পদ রায়ের পুত্র যাদব রায়। ইহাঁরা উভয়েই শ্রীহট্টের কাননগু ও দস্তিদার ছিলেন। নিঃসন্তান যাদব রায়ের পরে, শ্যাম দাস রায়ের পৌত্র, লক্ষ্মী নারায়ের পুত্র হরকৃষ্ণ রায় শ্রীহট্টের শাসনকর্ত্তা হইয়াছিলেন। হরকৃষ্ণ রায়ের কৃষ্ণ রায় নামে এক জ্যেষ্ঠ সহোদরও ছিলেন।

কবিরত্ন সরস্বতী—তাঁহার পিতা চক্রপাণি কায়স্থ এবং আসামের কামরূপের রাজা দুর্লভ নারায়ণের একজন রাজস্ব আদায়কারী ছিলেন। কবিরঞ্জন সরস্বতী তাঁহার পুত্র রাজ ইন্দ্রনারায়ণের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি আসামী ভাষায় ‘জয়দ্রথ বধ’ কাব্য রচনা করেন।

কবিরাজ—একজন অসমীয়া কবি। তিনি জয়ন্তিয়া-রাজ কামদেবের সভাপণ্ডিত ছিলেন। তৎরচিত গ্রন্থের নাম ‘রাঘব পাণ্ডবীয়’। তিনি খ্রীঃ একাদশ শতাব্দীতে বর্ত্তমান ছিলেন।

কবিরাজ চক্রবর্ত্তী—তিনি আসামের অন্তর্গত কামরূপের অধিবাসী। তাঁহার রচিত জ্যোতীষ সম্বন্ধীয় ‘ভাস্বতী’ নামে একখানা গ্রন্থ আছে।


কবিশূর—রাঢ়দেশের একজন রাজা। তিনি খুব সম্ভব খ্রীঃ সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে দক্ষিণাঞ্চল হইতে আসিয়া রাঢ়দেশে একটি রাজ্য স্থাপন করেন। কবিশূরের পুত্র মাধবশূর। তৎপুত্র আদিশূর। (ইনি বাঙ্গালার অন্যতম প্রসিদ্ধ নরপতি আদিশূর নহেন।) এই গ্রন্থের শ্লোক সমূহ দ্ব্যর্থ বোধক। এক অর্থে রাঘববংশীয়দিগের এবং অপর অর্থে পাণ্ডবদিগের গৌরব গৃহীত হয়।

কবীন্দ্র—‘গোরক্ষবিজয়’ অথবা ‘মীনকেতন’ নামক গ্রন্থের রচয়িতা একজন কবি। গোরক্ষনাথের মাহাত্ম্য প্রচার জন্যই উক্ত গ্রন্থ রচিত হয়। গোরক্ষনাথ দেখ।

কবীর—মধ্যযুগে মুসলমান রাজত্বের সময়ে ভারতে অনেক ধর্ম্ম-সংস্কারক জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহাদের মধ্যে রামনন্দের শিষ্য কবীর একজন প্রধান। তাঁহার পরবর্ত্তী ধর্ম্ম সংস্কারকদের উপরও তাঁহার প্রভাব বহুল পরিমাণে বিস্তার লাভ করিয়াছিল। কবীর ১৩৯৮ খ্রীঃ অব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫১৮ সালে (মতান্তরে ১৪৫০) পরলোক গমন করেন। তিনি মুসলমানজাতীয় জোলার (তাঁতির) ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম নীরু ও মাতার নাম নীমা ছিল। মুসলমান আমলে অনেক হিন্দু তাঁতি মুসলমান হইয়া