টমকাকার কুটীর/একাদশ পরিচ্ছেদ
একাদশ পরিচ্ছেদ
দিনের পর দিন যেতে লাগলো। ঘর-সংসারের কাজ আবার আগের মতই চলছে। সেণ্ট্ ক্লেয়ার টমের স্বাধীনতার জন্য লেখা পড়া ঠিক ক’র্তে আরম্ভ করলেন, এবং একদিন কথায় কথায় সে কথা টমকেও বল্লেন। ইভা চ’লে যাবার পর টমকে কেহ হাসতে দেখে নাই। সেদিন স্বাধীনতার কথা শুনে, টমের মুখে হঠাৎ আনন্দের চিহ্ন ফুটে উঠলো!
তখন সন্ধ্যাবেলা। টম বারান্দায় ব’সে তার স্বাধীনতার কথা ভাব্তে ভাব্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। একটু পরেই বাইরে কড়া নাড়ার শব্দে ও লোকজনের গোলমালে হঠাৎ তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তাড়াতাড়ি দরজা খুল্তেই দেখতে পেলে, কয়েকজনে এক ব্যক্তিকে খাটিয়ায় ক’রে, ব’য়ে নিয়ে আস্ছে। বাতির আলো সেই লোকটির মুখের উপর পড়তেই, টম চীৎকার ক’রে কেঁদে উঠলো।
সেণ্ট্ ক্লেয়ার খবরের কাগজ পড়্বার জন্য একটা হোটেলে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাগজ পড়্ছেন, এমন সময় দুজন গুণ্ডাতে মারামারি বেধে গেল। সেণ্ট্ ক্লেয়ার ও আর কয়েকজনে মারামারি থামাতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর পাঁজরে মারাত্মক একটা ছুরির আঘাত লেগেছে!
সেণ্ট্ ক্লেয়ারকে ধরাধরি ক’রে একটা বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হ’ল। বাড়ীতে ভয়ানক কান্নাকাটি প’ড়ে গেল। তিনি অনেকক্ষণ চোখ বুজে শুয়ে রইলেন। তারপর টমের হাতের উপর হাত রেখে ব’ল্লেন, “টম, আমি এখনই ইভার কাছে চ’ল্লাম! তুমি আমার জন্যে একটু প্রার্থনা করো!”
টম তার সমস্ত প্রাণ মন দিয়ে সেণ্ট ক্লেয়ারের আত্মার জন্য প্রার্থনা ক’র্লে। সেণ্ট্ ক্লেয়ার টমের হাতখানি টেনে নিজের বুকের উপর রেখে, আগ্রহের সহিত তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। হঠাৎ তাঁর মুখে যেন আনন্দ ফুটে উঠলো! তিনি একবার মাত্র ব’লে উঠলেন—“মা!”—তার পরই সব শেষ! স্নেহময় পিতা ইভার উদ্দেশে আনন্দধামে যাত্রা ক’রলেন!
সেণ্ট্ ক্লেয়ারের মৃত্যুর কয়েকদিন পরে, টম একদিন বাগানে দাঁড়িয়ে আছে, এমন সময় “এড্ল্ফ” নামে একজন কৃতদাস এসে বল্লে,—“শুনেছ টম, আমাদের সকলকে বিক্রী ক’রে ফেলা হবে?”
দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে টম বল্লে—“ভগবানের যা ইচ্ছা তাই হবে!”
তারপর টন মিস্ ওফেলিয়ার কাছে গিয়ে বল্লে—“স্বর্গীয় কর্ত্তা আমার স্বাধীন ক’রে দিবেন বলেছিলেন। আপনি যদি এ বিষয় মা-ঠাকরুণকে একটু বলেন!”
“আচ্ছা, আমি চেষ্টা করে দেখ্বো।” এই ব’লে তিনি তখনই মেরীর কাছে গিয়ে বললেন—“তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে! সেণ্ট্ ক্লেয়ার টমকে স্বাধীন ক’রে দিতে চেয়েছিলেন, আশা করি, তুমি তাঁর কথামতই কাজ ক’রবে?”
মেরী উত্তর দিলেন—“সে আমার দ্বারা হবে না। সকলকেই আমি এক সঙ্গে নিলামে পাঠাবো। টম একজন খুব দামী চাকর!”
মিস্ ওফেলিয়া আর কোন কথাই বল্লেন না। মেরীকে তিনি ভাল রকমেই চিনেছিলেন। সুতরাং তিনি বেশ জানতেন, তাঁর কাছে অনুরোধ করা মিছে! তিনি তাড়াতাড়ি মিসেস্ সেল্বিকে একখানা চিঠি লিখলেন। সেই চিঠিতে টমের কষ্টের কথা জানিয়ে, তাকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য টাকা পাঠাতে, বিশেষ ক’রে অনুরোধ করেন।
পরদিন টম এবং আর সব দাসদাসীকে নিলামে পাঠান হলো। ইভার মৃত্যুশয্যার একমাত্র প্রার্থনা এবং সেণ্ট্ ক্লেয়ারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মেরী উচিত মনে ক’রলেন না! জানি না, ভগবান কি দিয়ে তাঁকে গড়েছিলেন!