টমকাকার কুটীর/নবম পরিচ্ছেদ
নবম পরিচ্ছেদ
গ্রীষ্মকাল। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। মিঃ সেল্বি বারান্দার উপর ইজি-চেয়ারে ব’সে আছেন। মিসেস্ সেল্বি কতকগুলি সেলাই নিয়ে ব্যস্ত। সেলাই ক’রতে ক’রতে তিনি ব’লেন—“ক্লো টমের কাছ থেকে একখানা চিঠি পেয়েছে। টম বিশেষ ক’রে জান্তে চেয়েছে যে, কবে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে!”
মিঃ সেল্বি উত্তর দিলেন —“সে কথা আমি মোটেই ব’ল্তে পারি না।”
“আচ্ছা, কোন রকমে কি আমরা টাকাটা তুলতে পারি না? আহা, ক্লো বেচারা ভারী আশা ক’রে ব’সে আছে!”
এমন সময় দরজার পাশে ক্লো কাকীকে দেখা গেল। মিসেস্ সেল্বি ঘরে ঢুকে জিজ্ঞাসা ক’রলেন—“কি ক্লো, কি মনে ক’রে?”
“গিন্নী মা, আপনারা টাকার জন্যে ভাবছেন কেন? হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তাই কুড়িয়ে নিলেই ত টাকার যোঁগাড় হ’য়ে যায়!”
তাঁদের সব কথাবার্তা ক্লো শুনতে পেয়েছে বুঝতে পেরে, মিসেস্ সেল্বি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি ব’ল্ছো, ক্লো?”
“কেন মা! এই দেখুন্ না, অন্য লোকেরা তাদের ঝি-চাকরাণী দিয়ে কেমন টাকা রোজগার করে। স্যাম্ ব’ল্ছিল যে, ‘লুইস্ভাইলের’ একজন মিঠাইওয়ালা একটি লোক খুঁজছে। সে সপ্তাহে চার ডলার ক’রে দিতে রাজি আছে। আপনি যদি না যেতে দেন, তা’হলে সপ্তাহে ও ডলার কটা আমিই নিয়ে আসতে পারি।”
“ছেলেমেয়েগুলিকে কোথায় রেখে যাবে?”
“কেন মা, তারা ত এখন বড় হ’য়েছে। শুধু ছোট খোকার জন্য ভাবনা; তাকে স্যালির কাছে রেখে যাবো!”
“তা’হলে তুমি খুব যেতে পার। তুমি যে মাইনে পাবে, টমকে ছাড়িয়ে আন্বার জন্যে আমি তা জমিয়ে রাখ্বো।”
“মা, আপনার মত এমন দয়ালু আর নেই। আমি তবে কাল সকালেই স্যামের সঙ্গে যাই, কি বলেন?”
“আচ্ছা, আমি মিঃ সেল্বিকে এ কথা আজই ব’ল্বো।”
এই ব’লে মিসেস্ সেল্বি আবার বারান্দায় ফিরে এলেন। ক্লো কাকী বিশেষ খুসী হ’য়ে, নিজের কুটরীতে চলে গেল। সেখানে ঢুকেই জর্জকে দেখ্তে পেয়ে, সে ব’লে উঠলো – “মাষ্টার জর্জ, তুমি বোধ হয় জান না যে, কালই আমি লুইস্ভাইলে যাচ্ছি। আমি সেখানে সপ্তাহে চার ডলার ক’রে পাব। মা বলেছেন, সেগুলো আমার টমকে ছাড়িয়ে আন্বার জন্যে জমিয়ে রাখবেন!”
জর্জ বল্লে—“তাই না কি! কখন যাবে?”
“কাল সকালেই স্যামের সঙ্গে যাবো। তোমায় কিন্তু মাষ্টার জর্জ, এখনই ব’সে টমকে একখানা চিঠি লিখে দিতে হবে।”
“নিশ্চয়ই দেব। আমি কাগজ কলম সব নিয়ে আস্ছি।”