বিষয়বস্তুতে চলুন

টমকাকার কুটীর/সপ্তম পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে

সপ্তম পরিচ্ছেদ

 মিঃ বার্ডের কৌশলে হ্যালির সকল চেষ্টা বিফল হ’লো। ইলাইজার যখন কোনই সন্ধান পাওয়া গেল না, তখন অগত্যা তিনি ফিরে গেলেন।

 এর পর ইলাইজা কোয়েকার দলের সাহায্যে তার স্বামীর সন্ধান ক’র্‌তে লাগলো। এই কোরেকার দলে অনেক ভাল ভাল লোক ছিলেন। নানা রকমে বিপন্ন লোকের সাহায্য করাই তাঁদের জীবনের ব্রত। পলাতক দাসদাসীগণকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাহাদিগকে নিরাপদে কেনাডায় পৌঁছে দেওয়া তাঁরা ধর্ম্মকার্য্য ব’লে মনে করতেন। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ঘাটিতে ঘাটিতে তাঁরা দলবদ্ধ হ’য়ে বাস করতেন, এবং দাসব্যবসায়ীদের সকল রকম ফন্দী ব্যর্থ ক’রে দিতেন। এ কাজে অনেক সময় তাঁদের প্রাণ নিয়ে টানাটানি পড়তো, তবুও ঈশ্বরের ও মানুষের প্রতি কর্তব্য মনে ক’রে, তাঁরা কখনো নিরস্ত হ’তেন না।

 ইলাইজার দুঃখের কথা শুনে, কোয়েকার রমণীরা চোখের জল রাখ্‌তে পারলেন না। তাকে ভগ্নীর ন্যায় ভালবাসতে লাগলেন। কোয়েকার পুরুষগণ নানা স্থানে ইলাইজার স্বামীর সন্ধানে ব্যস্ত হ’লেন। অবশেষে তাঁদের চেষ্টায় জর্জ ও ইলাইজা একত্র হ’লো।

 তারপর পালাবার আয়োজন হ’তে লাগ্‌লো। টম লকার, মার্ক প্রভৃতি গুণ্ডারা ইলাইজা ও তার স্বামীকে ধরবার জন্য চেষ্টার ত্রুটী করেনি, কিন্তু কোয়েকার পুরুষগণের কৌশলে তাদের সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হ’লো। পদে পদে নানা বিপদ। সেই সমস্ত বিপদ মাথায় নিয়ে ইলাইজার দল জাহাজে গিয়ে উঠলো। জাহাজেও গুপ্তচরের অভাব ছিল না, কিন্তু ইলাইজা প্রভৃতি এরূপ ছদ্মবেশ ক’রেছিল যে, কেহই তাদের চিন্‌তে পারে নাই। জাহাজ ছেড়ে দিলে তারা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলে!

 বায়ুভরে নাচ্‌তে নাচ্‌তে জাহাজ চ’ল্‌তে লাগলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল। অবশেষে স্বাধীনতার রাজ্য কেনাডার দৃশ্য চক্ষে প’ড়্‌লো।

 আজন্ম যাদের দাসত্বে কেটেছে, আজ প্রথম মুক্তির আস্বাদ পেয়ে, তারা যেন নূতন জীবন লাভ ক’র্‌লে! জাহাজ ঘাটে লাগলে, তারা মুক্তিদাতা ভগবানকে ধন্যবাদ দিতে দিতে নীচে নেমে গেল!