টল্স্টয়ের গল্প
প্রকাশক
বৃন্দাবন ধর এণ্ড সন্স্ লিঃ
স্বত্বাধিকারী—আশুতোষ লাইব্রেরী
৫নং বঙ্কিম চাটার্জ্জি ষ্ট্রীট্, কলিকাতা
দ্বাদশ সংস্করণ
১৩৬২
প্রিণ্টার শ্রীগোবিন্দপদ ভট্টাচার্য
শৈলেন প্রেস
৪নং সিমলা ষ্ট্রীট
কলিকাতা-৬
ভূমিকা
রুশিয়ার কাউণ্ট টল্স্টয়কে যুগাবতার বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। সকল দেশেই দেখা যায়, সাধারণতঃ মধ্যবিত্ত অবস্থাপন্ন সম্প্রদায়েই ধর্ম্মবীর, সাহিত্যরথী, বিজ্ঞানাচার্য্য, রাজনীতিক নেতা প্রভৃতির আবির্ভাব হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে সে নিয়মের ব্যতিক্রম হয়। কাউণ্ট টল্স্টয় তাহার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। তিনি রুশিয়ার ক্ষমতাগর্ব্বিত—স্বাধিকার প্রমত্ত—বিলাসী অভিজাত সম্প্রদায়ে জন্ম গ্রহণ করিয়া সমাজের দরিদ্র, অবজ্ঞাত ও উপেক্ষিত লোকের দুঃখে অশ্রুবিসর্জ্জন করিযাছেন তাঁহার শিক্ষা যদি জগতে গৃহীত হয় তবে এই শোকদুঃখময় সংসার নন্দনে পরিণত হইবে। যখন জার্ম্মাণ যুদ্ধে বিধ্বস্ত হইবার পূর্ব্বে রুশিয়ার অবস্থা বিবেচনা করা যায়, তখন সেই দেশে বিলাসী অভিজাত সম্প্রদায়ে টল্স্টয়ের আবির্ভাব পঙ্কিল সলিল পঙ্কজের বিকাশের মতই বোধ হয়। যে প্রাকৃতিক নিয়মে পঙ্কিল জলে পদ্মের ও অভিজাত সম্প্রদায়ে টল্স্টয়ের আবির্ভাব সে নিয়ম—নিয়ম কি ব্যতিক্রম তাহা কে বলিবে?
টল্স্টর ঋষি—টল্স্টয় সাহিত্য-শিল্পী। টল্স্টয়ের ঋষিত্ব-গৌরব অধিক কি সাহিত্য-শিল্পীর কৃতিত্ব অধিক, তাহার বিচারে আমরা প্রবৃত্ত হইব না। তবে এ কথা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে যে, তাঁহার সাহিত্য-সাধনাও শেষে তাঁহার উদার মতে প্রভাবিত হইয়াছিল; তিনি সাহিত্যের পথে তাঁহার মত জগতে ব্যক্ত করিয়াছিলেন।
টল্স্টয়ের মত প্রতিভাবান ঔপন্যাসিক পৃথিবীতে দুর্ল্লভ। তাঁহার রচনায় জটিল মনস্তত্ত্বের যেরূপ বিশ্লেষণ দেখা যায়—মানব চরিত্রাভিজ্ঞতার যে পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়, তাহা সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ তাঁহার উপন্যাসে সমসাময়িক রুশ সমাজের যে চিত্র মানসপটে প্রতিফলিত হয় তাহা সযত্নে সংরক্ষিত হইবার উপযুক্ত।
দুঃখের বিষয় এতদিন বাঙ্গালী পাঠক টল্স্টয়ের রচনার সহিত অপরিচিত ছিলেন। আমরা ইংরাজের দ্বৈপায়ন সঙ্কীর্ণতার নিন্দা করি, কিন্তু ইংরাজ সকল দেশের সাহিত্যের উৎকৃষ্ট রচনা আপনার মাতৃভাষায় অনুবাদ করিয়া ইংরাজ পাঠককে তাহার রচনাস্বাদনের সুযোগ দিয়াছেন,—বাঙ্গালী লেখকের রচনাও বাদ পড়ে নাই। এ বিষয়ে আমাদের সংকীর্ণতার সীমা নাই। তাই আজ টল্স্টয়ের কয়েকটি গল্পের বাঙ্গালা অনুবাদ পাইয়া পরম প্রীতি লাভ করিলাম। অনুবাদ কঠিন কার্য্য। এন্ড্রুলাং ও পল্ সিলভেষ্টার যথার্থই বলিয়াছেন, কোন কোন কৌশল লুপ্ত হইয়াছে—অনুবাদের কৌশল কখন আবিষ্কৃত হয় নাই। যিনি টল্স্টয়ের গল্প কয়টির অনুবাদ করিয়াছেন, তাঁহাকে, বোধ হয় রুশ ভাষায় রচিত গল্পের ইংরাজী অনুবাদ অবলম্বন করিতে হইয়াছে। তবুও তিনি অনুবাদে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখাইয়াছেন।
আমরা আশা করি, বাঙ্গালী পাঠক টল্স্টয়ের এই রচনা পাঠ করিয়া আনন্দ ও শিক্ষা লাভ করিবেন এবং তাঁহাদের আদরে উৎসাহিত হইয়া গ্রন্থকার আমাদিগকে টল্স্টয়ের আরও রচনা উপহার দিবেন।
*
* *
সঙ্কীর্ণ স্বার্থের ক্ষোভে ক্ষুণ্ণ ক্ষুব্ধ ছিল জগজন
অন্ধকূপে বন্দী সম; তুমি খুলে দিলে বাতায়ন,
ওগো ঋষি রুশিয়ার! মুক্তরন্ধ্রে স্বর্গের বাতাস
প্রবেশিলে অন্ধকূপে; বিশ্ববাসী বাঁচিল নিশ্বাস
ফেলি; ওগো টল্স্টয়! বিনাশিলে তুমি মহাভয়
মানবের; প্রচারিলে পৃথ্বীতলে বিশ্বাসের জয়।
মহাবৈষম্যের মাঝে প্রচারিলে সাম্যের বারতা,
উচ্চারিলে, দ্রষ্টা! তুমি, মহা মিলনের পূর্ব্ব কথা!
বাণী তব মৃত্যুহীন এ মর্ত্ত্যভূবনে
ওগো মৃত্যুঞ্জয় কবি! হে মনীযি, জাগে আজি মনে
সিদ্ধার্থের সুপ্ত স্মৃতি,—তোমার শুনিয়া কণ্ঠরব,
সেই সুর, সেই কথা; তারি মত—তারি মত সব!
সেই ত্যাগ! সেই তপ! সে মহামৈত্রীর বাখান!
বুদ্ধকল্প বিশ্বপ্রেমে বর্ত্তমান তুমি মহাপ্রাণ!
নিবেদন
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষী ও কর্ম্মবীর, রুশিয়ার যুগপ্রবর্ত্তক কাউণ্ট টল্স্টয়ের জগদ্বিখ্যাত কয়েকটি গল্পের সরল স্বচ্ছন্দ অনুবাদ এই পুস্তকে প্রকাশিত হইল। ক্ষুদ্রশক্তি আমি, আমার এই প্রয়াসে কতদূর কৃতকার্য্য হইয়াছি বাংলার পাঠক-পাঠিকা তার বিচার করিবেন।
এ সম্বন্ধে সুপ্রসিদ্ধ ঔপন্যাসিক, “বহুমতী”র বিখ্যাত সম্পাদক শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ মহাশয় এই পুস্তকের ভূমিকায় সব কথা বলিয়াছেন; এজন্য তাঁর নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। ইতি—
চুঁচুড়া |
বিনীত |
সূচী
| ১। | ১ |
| ২। | ২২ |
| ৩। | ৬২ |
| ৪। | ৭৬ |
| ৫। | ৯৬ |
| ৬। | ১১৬ |
| ৭। | ১২৪ |
| ৮। | ১৬৬ |
| ৯। | ১৭৫ |
| ১০। | ১৭৮ |
| ১১। | ১৯৪ |
এই লেখাটি ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালের পূর্বে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উক্ত লেখকের মৃত্যুর পর কমপক্ষে ১০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথবা লেখাটি ১০০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে ।
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।