টল্স্টয়ের গল্প/আলো
আলো
পূর্ব্বে, বিশেষতঃ ১৮৬১ খৃষ্টাব্দের পূর্ব্ব পর্য্যন্ত, জমিদারদের মধ্যে দুইটি শ্রেণী ছিল। এক শ্রেণীর জমিদার ছিলেন ধর্ম্মভীরু, তাঁরা মনে করিতেন—মানুষ আজ আছে কাল নাই; কাজে কাজেই তাঁরা তাঁদের রায়তদের উপর দয়া-মায়া দেখাইতেন। কিন্তু আর এক শ্রেণীর জমিদার ছিলেন নিতান্ত নিষ্ঠুর। তাঁরা না ভাবিতেন ধর্ম্মের কথা, না নিজেদের ক্ষণস্থায়ী জীবনের কথা। এই সব জমিদারের ম্যানেজারেরা ছিলেন আরও নিষ্ঠুর। বিশেষতঃ রায়তদের ভিতর থেকে যাঁরা ম্যানেজার হইতেন কিংবা রায়তদের শাসন করিবার ক্ষমতা পাইতেন, তাঁরা ছিলেন সব চাইতে খারাপ। তাঁদের অধীনে কাজ করা ভয়ানক কষ্টকর ছিল।
এই রকম একজন ম্যানেজার এক জমিদারীতে নিযুক্ত হইলেন। তখনকার নিয়মানুসারে প্রজাদিগকে জোর করিয়া খাটান হইত। তারা পারুক আর নাই পারুক, সপ্তাহে নির্দ্দিষ্ট কয়েক দিন খাটিতেই হইত। সেই জমিদারী খুব বড় এবং ভাল। তার ভিতরে খুব বড় বড় মাঠ ছিল, প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড বন্যভূমি ছিল, মাঠে জল সেচনেরও খুব সুবন্দোবস্ত ছিল। সেখানে জমিদার এবং কৃষক-প্রজারা সকলেই বেশ সুখে শান্তিতে ছিল, কাজ-কর্ম্ম বেশ চলিতেছিল, কিন্তু এই রকম সময়েই সেই ম্যানেজারটি নিযুক্ত হইলেন।
ম্যানেজার শাসন-ভার লইয়াই কৃষকদের ওপর খুব অত্যাচার করিতে আরম্ভ করিলেন। তাঁর পরিবারের মধ্যে ছিল স্ত্রী আর দুইটি বিবাহিতা কন্যা। কিন্তু পরিবার প্রকাণ্ড না হইলেও তাঁর টাকা জমানই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। তিনি কেবল টাকা আয়ের দিকেই লক্ষ্য করিতেন, তা সদুপায়েই হউক আর অসদুপায়ে-ই হউক। সপ্তাহে যে কয়েকদিন খাটিবার কথা, তিনি তার চেয়েও বেশী দিন কৃষকদের খাটাইবার জন্য জুলুম করিতে লাগিলেন। তারপর তিনি একটা ইটের কারখানা খুলিলেন; খাটাইয়া খাটাইয়া কৃষক-স্ত্রীলোকদিগকে পর্য্যন্ত মারিয়া ফেলিবার উপক্রম করিলেন। অন্যের কষ্টের দিকে তাঁর আদৌ দৃষ্টি ছিল না।
তারা বাধ্য হইয়া মস্কো নগরে স্বয়ং জমিদারের কাছেই আবেদন করিতে গেল। কিন্তু তাদের আবেদন অগ্রাহ্য হইল। তিনি ম্যানেজারের ঘোর অত্যাচারের প্রতিকারের জন্য কিছুই করিলেন না। উপরন্তু তাহাদিগকে তাড়াইয়া দিলেন। ম্যানেজারও অতি অল্প সময়ের মধ্যে শুনিতে পাইলেন যে, তারা তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ করিতে গিয়াছে। তিনি ইহার প্রতিশোধ এমন ভাবে লইতে আরম্ভ করিলেন যে, তাহাদের দৈনিক কার্য্য আরো কঠোর হইয়া উঠিল, আর একটা কাণ্ড হইল এই যে, নিজেদের ভিতরে দলাদলি আরম্ভ হইল। একজন আর একজনের কথা ম্যানেজারকে বলিয়া দিত, তাদের জীবন আরও কষ্টকর হইয়া পড়িল।
অত্যাচার ক্রমশ বাড়িয়াই চলিল। ম্যানেজারকে সকলে ঠিক বাঘের মত ভয় করিত। গ্রামের ভিতর দিয়া তিনি যখন ঘোড়ায় চড়িয়া যাইতেন, তখন সকলেই তাঁকে দেখিয়া ভয়ে পলাইত; তাঁর সঙ্গে আর কেউ দেখা করিত না। এই সকল দেখিয়া শুনিয়া তিনি খুব রাগিয়া গেলেন এবং লোকেদের উপর আরও অত্যাচার করিতে লাগিলেন। কৃষকেরা খাটিয়া খাটিয়া অবসন্ন হইয়া পড়িত, আর তিনিও একটু কোন অপরাধ পাইলেই কথায় কথায় চাবুক মারিতেন। তাদের কষ্টের আর সীমা রহিল না।
কিছুকাল পরে অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া তারা মরিয়া হইয়া উঠিল এবং ইহা লইয়া তারা আলোচনা করিতে আরম্ভ করিল। কোন নির্জ্জন স্থানে তারা জড় হইল এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে যে বেশী সাহসী সে বলিল—“আর কতকাল আমরা এই পাশবিক অত্যাচার সহ্য করব? এস আমরা এর প্রতিকার করি। এটা চিরদিনের জন্য নির্ম্মূল করতে হবে। এই রকম লোককে খুন কর্লে কোন পাপ নাই।”
একদিন কৃষকদের একটা বন কাটিয়া পরিষ্কার করিবার জন্য আদেশ করা হইল। ঠিক ইষ্টারের ছুটির পূর্ব্বের দিনেই ম্যানেজার এই হুকুম জারি করিলেন। দুপুরবেলায় তারা খাইবার জন্য এক জায়গায় জড় হইল এবং নিজেদের ভিতরে বলিতে লাগিল—
“এমনি ক’রে আর কতকাল কাটাব? ওর অত্যাচার সয়ে সয়ে আমরা মরিয়া হ’য়ে উঠেছি, আর সহ্য কর্তে পারছি না। দিনরাত্তির এমন খাটাচ্ছে যে আমরা কি, আমাদের মেয়েরা পর্য্যন্ত মাসের মধ্যে এক দিনের জন্য একটু সময়ও বিশ্রাম করতে পায় নি। তা’ছাড়া যদি কোন কাজ ঠিক মনের মত না হয় তা’হলেই চটে লাল, আর আমাদের ওপর কেবল প্রহার। কথায় কথায় মার। এই ত সেদিন সাইমন চাবুক খেয়েই মারা গেল। আবার এনিসিমেরও চাবুক হ’ল, কি অসহ্য কষ্টটা সে সহ্য কর্লে! ভবিষ্যতে আরও কি হবে কে বল্তে পারে? আমরা আরও মার খাবার আশায় বসে থাক্ব? ওটা ত মানুষ নয়, একটা জানোয়ার। আজকে সন্ধ্যার সময় ঘোড়ায় চেপে আবার এখানে আসবে, আর আমাদের যা তা ব’লে গালাগাল দেবে। আমাদের এখন করা দরকার—ওকে ঘোড়া থেকে টেনে ফেলে, কুড়ুল দিয়ে মাথার খুলিটা উড়িয়ে দেওয়া এবং সমস্ত অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়া। তারপর ওকে কেটে টুকরো টুকরো ক’রে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া। এখন বিশেষ দরকার এই যে আমাদের সকলের একমত হওয়া চাই, এক-জোট হওয়া চাই। বিশ্বাসঘাতকতা একেবারে থাক্বে না, তা হ’লে চল্বে না।”
এ ব্যাপারে ভোসিলির একটা জেদ ছিল। সকলের চাইতে ম্যানেজারের ওপর তার বেশী রাগ ছিল। ম্যানেজার যে কেবল তাকে ফি সপ্তাহে চাবুক মারিতেন তাই নহে—তার স্ত্রীকে তিনি লইয়া গিয়া রাঁধুনী করিয়াছিলেন। এই সব কারণেই তার একটা বিষম রাগ ছিল।
তারা এইরূপে নিজেদের মধ্যে নানাপ্রকার পরামর্শ আঁটিল। সন্ধ্যার সময় ম্যানেজার সেখানে আসিলেন। আসিয়াই দেখিলেন যে, বন কাটা তাঁর পছন্দমত হয় নাই, কাজে কাজেই ভয়ানক রাগিয়া গেলেন। তা’ছাড়া এক আটি কাঠের ভিতর একটা ডাল কে রাখিয়াছিল। তিনি বলিলেন—“তোমাদের ডাল কাট্তে আমি কতবার বারণ করেছি, তবু এ কাজ কে কর্লে? আমায় বল শীগ্গির, নইলে তোমাদের সকলকে চাবুক মারবো।”
কার আটিতে ডাল ছিল, ম্যানেজার তাদের বারে বারে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন, তখন তারা খুব ভয় খাইয়া সিভোরকে দেখাইয়া দিল। অমনি তিনি তাহার মুখের ওপর চাবুক মারিতে আরম্ভ করিলেন। চাবুকের ঘায়ে তার মুখ কাটিয়া রক্ত বাহির হইল। ভোসিলির আটিটা বড্ড ছোট দেখিয়া তাহাকেও এমন এক যা বসাইয়া দিলেন যে, তাহার শরীরও কাটিয়া গেল।
সেই দিন সন্ধ্যার সময় কৃষকেরা আবার পূর্ব্বের মত জড় হইল। ভোসিলি বলিতে লাগিল—
“তোমরা কি রকম লোক হে! তোমরা আবার মানুষ? তোমরা ঠিক ঐ চড়ুই পাখীরই মত। এদিকে মুখে বল্বার সময়ে বল্বে ‘প্রস্তুত থাক, প্রস্তুত থাক,’ কিন্তু সময়কালে সকলেই ভয়ে জড়সড় হ’য়ে পড়। ঠিক এমনি ভাবে একটা বাজপাখীকে আট্কাবার জন্যে কতকগুলি চড়ুই পাখী প্রস্তুত হয়েছিল। তারাও বলেছিল—‘প্রস্তুত থাক, প্রস্তুত থাক, বিশ্বাসঘাতক হয়ো না, হয়োনা।’ কিন্তু বাজ যখন সত্যিই সত্যি ছোঁ মার্লে তখন তারা সব ঝোপের আড়ালে কোথায় গিয়ে সরে পড়ল, আর বাজটা একটা চড়ুইকে থাবার সঙ্গে ঝুলিয়ে উড়ে গেল। তারপর সব চড়ুই বেরিয়ে এসে দেখলে যে, ঝাঁকের একটা পাখী নেই। তারা বল্লে, ‘কাকে পাওয়া যাচ্ছে না? ও ছোট্ট ভোসিয়াকে নিয়ে গেছে। বরাতে ছিল এই হবে, হয়েছে। আমাদের দুষ্কর্ম্মের ফল সে ভোগ করছে।’ তোমাদেরও ঠিক তাই হয়েছে, মুখে কেবল বল্বে—‘বিশ্বাসঘাতক হয়ো না,’ ‘প্রস্তুত হয়ে থাক!’ সে যখন সিভোরকে চাবুক মারছিল, তখন তোমাদের উচিত ছিল মায়া-মমতা সব ত্যাগ ক’রে ওকে একদম সাবাড় ক’রে দেওয়া। কিন্তু তা না ক’রে কেবল প্রস্তুত থাক, আর প্রবঞ্চনা করো না―যেমন বাজে ছোঁ মার্লে অমনি সকলেই ঝোপের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে রইল।”
এই কথা লইয়া তারা অনেকক্ষণ আলোচনা করিল, শেষে ম্যানেজারকে হত্যা করিবার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হইল।
একবার একদিন কৃষকদের ওপর ম্যানেজার হুকুম করিলেন যে, পর্ব্বদিনেও তাহারা ছুটি পাইবে না, সেদিনও জমি চাষ করিতে প্রস্তুত থাকিবে। কৃষকেরা মনে করিল যে, সেদিন কাজ করানই হচ্ছে ধর্ম্ম নষ্ট করা। সুতরাং তারা সকলে জড় হইয়া এই সম্বন্ধে আলোচনা করিতে লাগিল—
“যদি সে ধর্ম্ম ভুলে গিয়ে আমাদের এই সব কাজ করতে বলে তা’ হলে তাকে খুন করা আমাদের অবশ্য কর্ত্তব্য। এ সম্বন্ধে দ্বিধা করলে চলবে না। ওকে খুনই করা যাক।”
ঠিক এই সময়ে পিটার সেখানে আসিল। সে অত্যন্ত নিরীহ লোক ও অত্যন্ত শান্তি-প্রিয়। এ পর্য্যন্ত সে এই আলোচনায় যোগ দেয় নাই। সে একটু শুনিয়া বলিল―
“ভাই সকল, তোমরা একটা গুরুতর পাপ করতে যাচ্ছ। একটা লোকের জীবননাশ করা বড়ই ভয়াবহ ব্যাপার। একজনকে খুন করা বড়ই সোজা, কিন্তু নিজেদের জীবনের কি হবে? যদি এই লোকটা অন্যায়ই ক’রে থাকে তা’ হ’লে ওর অমঙ্গল হবেই। তোমাদের এখন কেবলমাত্র সহিষ্ণু হওয়াই দরকার, বুঝলে ভাই?”
এই কথা শুনিয়াই ভোসিলি অত্যন্ত চটিয়া গেল। সে বলিল—“স্বীকার করি তোমার মতে নরহত্যাটা পাপ, বাস্তবিক পাপও বটে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে একেবারেই পাপ নয়। সৎলোকের প্রাণনাশ করা পাপ বটে, কিন্তু ওর মত একটা কুকুরকে মারাও কি পাপ? ভগবান্ ওকে খুন করতেই আমাদের আদেশ দিয়েছেন। লোকে আর দশজনের উপকারের জন্যই পাগলা কুকুর মারে; ওর মত বদ লোককে হত্যা করার চাইতে হত্যা না করাই পাপ। সে কেন এমনি ভাবে আমাদের জীবনটা নাশ করতে থাক্বে? যদি ওকে খুন করার জন্যে আমাদের দুঃখ ভোগ করতে হয়, তা’ হ’লেও ত আমাদের আর আর লোকেদের জন্যই করা হবে। তারা বেশ শান্তিতে থাক্বে আর আমাদের আশীর্ব্বাদ করবে। তোমার কথা একদম বাজে, পিটার। এই পবিত্র পর্ব্বের দিনে মাঠে গিয়ে উপাসনা ছেড়ে কাজ করা কি কম পাপ মনে কর? তুমি নিজেও নিশ্চয় যেতে চাইবে না, কেমন?”
পিটার উত্তর করিল—“কেন যাব না? যদি আমাকে কাজ কর্তে পাঠানো হয়, আমি যাব। আমি যে কাজ কর্ব সেটা কেবল আমার নিজের জন্য নয়। কার পাপ—কেবল ভগবান্ই জানবেন। আমাদের কর্ত্তব্য হচ্ছে এই যে, মাঠে কাজ কর্বার সময়ও তাঁকেই মনে রাখ্ব, তাঁর কথাই ভাব্ব। এ সব আমার নিজের কথা নয় ভাই। যদি ভগবান্ ইচ্ছে কর্তেন যে, আমরা অন্যায়ের প্রতিকার কর্ব আর একটা অন্যায়ের দ্বারা, তা’ হ’লে তিনি আমাদের সে বিধান দিতেন এবং সেইটাই যে ব্যবস্থা তাও আমাদের দেখিয়ে দিতেন, কিন্তু তা’ নয়। যদি অন্যায়ের দ্বারা অন্যায়ের প্রতিকার কর, তা’ হ’লে সে অন্যায় তোমাদের কাছেই ফিরে আস্বে। দেহের সঙ্গে মানুষের আত্মার একটা সংযোগ আছে, সুতরাং মানুষকে হত্যা করা বোকামি। অন্যের প্রাণ যদি নাশ কর, তোমার আত্মাও কলুষিত হবে। যদি তোমরা মনে কর যে, যাকে তোমরা খুন কর্লে সে নিতান্ত অসৎ ছিল এবং তাকে খুন করেই এই জগৎ থেকে অন্যায় অবিচার ও অত্যাচার সব দূর ক’রে দিলে, তা’ হ’লেও জানবে যে, তার সব অন্যায় কাজের চেয়েও এই কাজটা আরও বড় অন্যায় হবে। তার চেয়ে তোমরা সব সহ্য কর্তে শেখ, যত বিপদ্ হোক্, যত দুর্ঘটনাই হোক্, সব প্রতিকূল ঘটনা তোমাদের অনুকূল হ’য়ে যাবে।”
পিটারের কথা শুনিয়া কৃষকদের ভিতরে দুই দল হইল। কতক ভোসিলির সঙ্গে যোগ দিল আর কতক সব সহ্য করা এবং পাপ না করাই ভাল মনে করিয়া পিটারের সঙ্গে যোগ দিল।
পর্ব্বের প্রথম দিন রবিবার, তারা সেদিন কাজ বন্ধ রাখিল। সন্ধ্যার সময় জমিদার-বাড়ী থেকে কয়েকজন লোক সঙ্গে করিয়া একজন গোমস্তা আসিয়া বলিল―
“ম্যানেজার মাইকেল আমাদের দিয়ে ব’লে পাঠিয়েছেন যে, তোমরা কাল জই বোন্বার জন্যে মাঠে গিয়ে চাষ করতে প্রস্তুত থাক্বে।”
গোমস্তা আর তার লোকেরা গ্রামের মধ্যে সকল জায়গায় ঘুরিয়া ঘুরিয়া সকল কৃষককেই এই খবর দিল। মহাপুণ্যের দিন তারা ভগবানের নাম লইয়া একটু আনন্দ করিতে পারিবে না, মাঠে গিয়া চাষ করিতে হইবে শুনিয়া অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ণ হইল, কিন্তু হুকুম অমান্য করিবার সাহস কাহারও হইল না। পরের দিন ভোরে ঠিক সময়ে লাঙ্গল ও গরু লইয়া মাঠে গিয়া চাষ করিতে আরম্ভ করিল। এদিকে তখন সব মন্দিরে মন্দিরে ঘণ্টা বাজিয়া উঠিয়াছে, সারা জগতের লোক উপাসনা আরম্ভ করিয়াছে; সকলের মনে একটা উল্লাস ও আনন্দ। কিন্তু সেই কৃষকদের আর সে আনন্দে যোগ দিবার সুযোগ রহিল না।
ম্যানেজার সেদিন অনেকটা বিলম্বে বিছানা ছাড়িয়া উঠিলেন এবং তাঁর বাড়ীর চারিদিক্ একবার ঘুরিয়া সব দেখিলেন। তাঁর বাড়ীর লোকেরা সকলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড়-চোপড় পরিয়া গাড়ী চাপিয়া বরাবর গীর্জ্জার দিকে চলিয়া গেল। উপাসনা থেকে ফিরিয়া আসিবামাত্রই চাকরাণী টেবিলে কাপড় বিছাইয়া দিল। গোলাবাড়ী থেকে ম্যানেজার ফিরিয়া আসিলে সকলে টেবিলে চা খাইতে বসিয়া গেল। চা-পান শেষ হইয়া গেলে মাইকেল চুরুটের পাইপ ধরাইয়া গোমস্তাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—
“কৃষকদের কাজে লাগিয়েছিলে ত?”
—“আজ্ঞে হ্যাঁ।”
—“তাদের সকলেই কাজে গিয়েছিল?”
—“আজ্ঞে হ্যাঁ, গিয়েছিল, তাদের কে কোন্ জায়গায় চাষ করবে তা’ আমি নিজেই স্থির ক’রে দিয়েছি।”
—“তুমি সব স্থির ক’রে দিয়ে এসেছ, ভালই। কিন্তু তারা কি সত্যিই চাষ করছে? যাও, দেখ গিয়ে তারা কাজ কর্ছে কি না। তাদের গিয়ে বল যে, আমার খাওয়া হ’লে নিজেই তাদের ওখানে যাচ্ছি। হ্যাঁ, তাদের আরও বল্বে যেন দু’খানা লাঙ্গলে একখানা জমি চাষ করা হয়, আর যেন ভাল ক’রেই জমিতে চাষ দেওয়া হয়। আজকে পর্ব্বের দিন হোক্ বা নাই হোক্ আমি কিছুই মান্ব না; যদি গিয়ে ঠিক কাজ না পাই তা’ হলে উচিত শিক্ষা দেব, যেন মনে রাখে।”
“আচ্ছা বেশ,” বলিয়া গোমস্তা চলিয়া যাইতেছিল, এমন সময় মাইকেল তাকে আবার ডাকিলেন। তিনি কিছু বলিবেন ভাবিয়াছিলেন, কিন্তু কি বলিবেন কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না। খানিকক্ষণ এটা সেটা ইয়ে ইত্যাদি করিয়া শেষে বলিলেন—
“হ্যাঁ, তোমায় বল্ছিলুম এই যে, আমি চাই বদ্মাইসগুলো কি বলে তুমি বেশ ক’রে শুন্বে। যদি আমাকে কেউ গালাগালি দেয় আমাকে এসে বল্বে। ও বদ্মাইসগুলোকে আমি ভাল রকম চিনি। ওরা একদম কাজ করতে চায় না। চায় কেবল বেশ আরাম ক’রে শুয়ে থাক্তে। বেশ ছুটী থাক্বে, মদ খাবে, স্ফূর্ত্তি করবে—ব্যস, এই ত ওরা ভালবাসে। জমি চাষ করা হোক্ বা নাই হোক্ ওরা গ্রাহ্যই করে না। কাজেই তুমি এখুনি যাও, গিয়ে শোন ওরা কি বলে। কে কি বলে লক্ষ্য করবে এবং আমাকে ক্রমে সব কথা খুলে বল্বে। যাও, দেখ গে সব, কোন কিছু গোপন রাখ্বে না, যাও।”
গোমস্তা ঘর হইতে বাহির হইয়া ঘোড়ায় চাপিয়া মাঠে কৃষকদের কাছে চলিয়া গেল।
গোমস্তার সঙ্গে যে সব কথা হইয়াছিল তা সবই ম্যানেজারের স্ত্রী শুনিতে পাইয়াছিল। কৃষকদের জন্য দুই একটা কথা বলিবার উদ্দেশ্যে সে ম্যানেজারের কাছে আসিল। সে ছিল খুব সরলপ্রকৃতির স্ত্রীলোক, তার মনটাও ছিল খুব ভাল। যখনই কোন সুযোগ পাইত তখনই সে আসিয়া তার স্বামীর মন নরম করিবার চেষ্টা করিত এবং দরিদ্র চাষাদের উপর যাতে কোন অত্যাচার না হয় তারই চেষ্টা করিত।
স্বামীর কাছে আসিয়াই সে বলিল—“প্রিয়তম মাইকেল, আজ এই পুণ্যের দিনে তুমি এ রকম একটা মহাপাতকের কাজ করো না যীশুর নামে, যীশুর জন্যে আজকে ওদের ছেড়ে দাও।”
স্ত্রীর কথা মাইকেল গ্রাহ্যই করিল না, সব কথাই হাসিয়া উড়াইয়া দিল। পরে বলিল—
—“কেন, তোমার পিঠের সঙ্গে চাবুকের পরিচয়ের কি এতই অভাব হয়েছে যে, অনধিকার চর্চ্চা করতে তুমি এতটা সাহসী হয়েছ?”
—“প্রিয়তম মাইকেল, আমি একটা বড্ড খারাপ স্বপ্ন দেখেছি। তুমি একবার আমার কথাটা শোন, ওদের এবার ছেড়ে দাও।”
ষোড়শোপচারে থালায় থালায় খাবার আসিল। চপ, কাটলেট, মাংস, মোরব্বা ও পুডিং। মাইকেল একে একে সব গিলিতে লাগিলেন, খাওয়ার পর বড় এক গ্লাস মদ খাইলেন। মদ খাইয়াও খাওয়া শেষ হইল না, এক থালা ফল নিঃশেষ করিলেন। তার পরে রাঁধুনী স্ত্রীলোকটিকে ডাকিয়া আনিয়া পিয়ানো বাজাইতে বসাইয়া দিলেন এবং তার সঙ্গে নিজেও একটা সেতার লইয়া বাজাইতে আরম্ভ করিলেন।
মাইকেলের স্ফুর্ত্তি খুব জমিয়া আসিল। তিনি মাঝে মাঝে কাসিতে ছিলেন আর সেতারের কাণ মোচড়াইতে ছিলেন, ঠিক এমন সময়ে গোমস্তা আসিয়া সেলাম ঠুকিয়া মাঠে কৃষকদের কাজ সম্বন্ধে বলিতে লাগিল।
মাইকেল জিজ্ঞাসা করিলেন—“যার যতটুকু জমি চাষ করবার কথা ঠিক করছে ত?”
গোমস্তা বলিল—“আজ্ঞে হ্যাঁ, তারা এরই মধ্যে অর্দ্ধেকের বেশী জমি চ’যে ফেলেছে।
—“কোনখানে, কিছু ফাঁকিটাকি দেয় নি ত?”
—“আজ্ঞে না, আমি ত কিছুই দেখ্তে পাই নি। তারা বেশ চাষ করছে। তারা আপনাকে খুব ভয় করে!”
—“আচ্ছা, জমি ভাল তৈরী হয়েছে ত?’
—“হ্যাঁ, খুব নরম গুঁড়ো হ’য়ে পোস্তর দানার মত উড়্ছে।”
মাইকেল কিছুক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন।
একটু পরেই জিজ্ঞাসা করিলেন—“আচ্ছা বেশ। তারা আমার সম্বন্ধে কি বল্ছে? আমায় গালাগালি দিচ্ছে?”
গোমস্তা একটু ইতস্তত করিল, কিন্তু মাইকেল বলিলেন―“হ্যাঁ, আমায় সব কথা বল। তোমার নিজের কথা ত আর আমায় বল্বে না, তাদের কথাই বল্বে। সত্যি বল, আমি তোমায় পুরস্কার দেব; কিন্তু তুমি যদি কোন কথা গোপন কর তা’ হ’লে তোমার উপর আর আমার দয়া-মায়া থাক্বে না। তোমাকে আচ্ছা ক’রে চাবুক মারব। এই যে রাঁধুনী, দাও ত ওকে এক গ্লাস মদ এনে, খেয়ে একটু জোর হোক্।”
রাঁধুনী গিয়া এক গ্লাস মদ আনিয়া গোমস্তার হাতে দিল। গোমস্তা মাইকেলকে খুব ভক্তির সহিত সেলাম ঠুকিয়া গ্লাসটি নিঃশেষ করিয়া মুখ মুছিতে লাগিল। মনে মনে ভাবিল―
‘এঁকে যে কেউ প্রশংসা করে না, সে ত আমার দোষ নয়, দোষ ওঁর নিজেরই, যাক্ আমায় যখন সত্যি কথা বল্বার জন্য বল্ছেন তখন সত্যি বল্ব।’
মনে খুব সাহস করিয়া গোমস্তা বলিতে লাগিল—“তারা ভয়ানক অসন্তোষ প্রকাশ করছে।”
—“তারা কি বলে আমায় বল।”
—“তাদের সকলেই একটা কথা বল্ছে এই যে, আপনার ভগবানে আদৌ বিশ্বাস নেই।”
মাইকেল হো হো করিয়া এক মুখ হাসিয়া ফেলিলেন। জিজ্ঞাসা করিলেন—“তাদের ভিতরে তা’ বল্ছে কে?”
—“তারা সকলেই বলে। তারা বলে আপনি শয়তানের সেবাই করছেন।”
মাইকেল আরো বেশী হাসিয়া বলিলেন—“চমৎকার! আচ্ছা আমায় এখন বল দেখি তারা পৃথক্ ভাবে কে কি বল্ছে; ধর যেমন ভোসিলি। সে কি বল্ছে?”
গোমস্তা এ পর্য্যন্ত তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলিতে নিতান্ত অনিচ্ছুক ছিল, কিন্তু ভোসিলি ও তার ভিতরে অনেক দিনের ঝগড়া ছিল বলিয়া এবারে বলিল—“ভোসিলি সকলের চাইতে আপনাকে বেশী গালাগালি দেয়।”
—“সে কি বলে আমায় বল না।”
—“আমার বল্তে বড্ড লজ্জা হয়। তার আশা হচ্ছে, একদিন-না-একদিন এর ভয়ানক পরিণাম আপনাকে ভোগ করতে হবে।”
মাইকেল চেঁচাইয়া বলিয়া উঠিল—“ওঃ সে তাই বল্ছে? সে আমায় মার্তে পার্বে না, আমার গায়ে হাত ঠেকাবার সুযোগ আর সে পাচ্ছে না। আচ্ছা ভোসিলি, তোমার সঙ্গে আমার বোঝাপড়া হবে এখন। হ্যাঁ, সেই কুকুরটা কি বল্লে?”
—“আপনাকে কেউ ভালবাসে না সকলেই গালাগালি দেয় ও শাসায়।”
—“আচ্ছা, পিটার কি বলে? যারা গালাগালি দেয় তাদের ভিতরে বুড়ো বদ্মাইসটাও আছে নিশ্চয়।”
—“না না—সে নয় মাইকেল।”
—“সে কি বল্ছে?”
—“তাদের ভিতরে কেবল সে-ই একদম কিছুই বলে নি। চাষাদের ভিতরে সে অনেক জানে-শুনে। তাকে আজ দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলুম।”
—“কেন বিস্মিত হয়েছিলে?”
— “সে যা কর্ছিল তাই দেখে। অন্যেও আশ্চর্য হয়েছিল।”
—“সে কি কর্ছিল?”
—“সে একটা অদ্ভুত ব্যাপার! সে চাষ কর্ছিল; আমি যখন ঘোড়া ছুটিয়ে তার কাছে গেলুম, বোধ হ’ল কেউ খুব মৃদু সুন্দর সুমিষ্ট সুরে গান গাইছে আর তার লাঙ্গলের ফালের ঠিক মাঝখানে কি যেন একটা চকচক ক’রে জ্বলছিল।”
—“বাঃ!”
—“সেটা ঠিক যেন একটা আগুনের শিখার মত জ্বল্ছিল। আমি তার কাছাকাছি হলুম, দেখ্লুম একটা মোমবাতি তার লাঙ্গলের ফালের খুব কাছে ছিল বটে, কিন্তু বাতিটা কিছুতেই নিব্ল না!”
—“সে কি বল্ছিল?”
—“সে কিছুই বলে নি। আমায় দেখে ইষ্টারের নমস্কার কর্লে, তার পরে আবার গান গাইতে আরম্ভ কর্ল। তার গায়ে একটা নতুন জামা। চাষ কর্তে কর্তে স্তোত্র গান কর্ছিল। জমির একদিক্ থেকে আর একদিকে গিয়ে যখন ফির্ছিল কিংবা লাঙ্গল নাড়াচ্ছিল তখনও বাতি নেবে নি। নাড়া দিয়ে ফাল থেকে যখন মাটি ঝরাচ্ছিল এবং হাতল ধ’রে লাঙ্গল উঁচু কর্ছিল তখনও আমি তার একেবারে কাছে ছিলুম। কিন্তু সব সময়েই বাতিটা সমান জ্বছিল, কিছুতেই নিব্ল না।”
—“তুমি তাকে কি বল্লে?”
—“আমি কিছুই বলি নি। কতকগুলো কৃষক এসে তাকে দেখে খুব হাস্ছিল। তারা বল্ছিল, এই ইষ্টারের দিনে চাষ করার জন্য পিটারকে একশো বছর প্রায়শ্চিত্ত কর্তে হবে।”
—"তাতে পিটার কি বল্লে?”
—“সে কেবল বলে, ‘পৃথিবীতে শান্তি আর মানুষের মঙ্গলেরই ইচ্ছা।’ তার পরে আবার হেঁট হ’য়ে লাঙ্গলটি ধরলে, ঘোড়াগুলি চালালে, আবার খুব সুমিষ্ট স্বরে গান গাইতে গাইতে চাষ কর্তে লাগ্ল। কিন্তু তার বাতি সমানে জ্বলতেই লাগ্ল, কিছুতেই নিব্ল না।”
মাইকেল আর হাসিলেন না। সেতারটা এক পাশে রাখিয়া দিলেন। বুকের উপর মাথা নুইয়া পড়িল, চুপ করিয়া কেবল ভাবিতে লাগিলেন।
গোমস্তা ও রাঁধুনীকে তিনি চলিয়া যাইতে বলিলেন, খানিকক্ষণ ঠিক সেই ভাবে একেবারে চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। তারপর শুইবার ঘরে গিয়া বিছানায় শুইয়া পড়িলেন। গাড়ী যেমন বোঝার ভরে ঘর্ ঘর্ শব্দ করে, তেমনি তিনিও খুব দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়িয়া আর্ত্তনাদ করিতে লাগিলেন। তাঁর স্ত্রী কাছে আসিল এবং অনেক যুক্তিতর্ক করিতে লাগিল; কিন্তু তিনি অনেকক্ষণ কোন জবাব দিলেন না।
অবশেষে কোন রকমে তিনি বলিলেন—“ঐ লোকটা দেখ্ছি জিতে গেল। এখন আমি সব বুঝ্তে পারছি।”
তাঁর স্ত্রী অনেক কাকুতি মিনতি করিয়া বলিল—“তুমি গিয়ে কৃষকদের ছেড়ে দাও। অবশ্য এটা কিছুই নয়। তুমি যে-সব কাজ করেছ এবং যা করতে মনে তোমার একটু দ্বিধা হয়নি, তাই একবার ভাব দেখি। এখনই বা তুমি তাদের ছেড়ে দিতে ভয় খাবে কেন?”
তিনি কিন্তু কেবল বলিলেন—“ঐ লোকটাই আমাকে হারিয়েছে। আমি ভেঙ্গে পড়েছি। তুমি এখনও সুস্থ ও সবল আছ। এই বেলা সরে পড়। তুমি এসব কিছুই বুঝ্তে পার্বে না।”
মাইকেল শুইয়াই রহিলেন।
পরের দিন ভোরের বেলা তিনি উঠিলেন এবং পূর্ব্বেরই মত কাজ-কর্ম্ম করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাঁর অনেকটা পরিবর্ত্তন হইল। তিনি যে মনে খুব বড় একটা আঘাত পাইয়াছেন, তা বেশ পরিষ্কার বুঝিতে পারা গেল। মাঝে মাঝে হতাশায় মন অবসন্ন হইয়া পড়িত, তিনি মূর্চ্ছিত হইতেন। কোনও কাজই করিতেন না, বাড়ীতে বসিয়া বসিয়া কেবল ভাবিতেন। তাঁর প্রভুত্ব আর বেশী দিন রহিল না। আর একটা উৎসব উপলক্ষে জমিদার স্বয়ং তাঁর জমিদারী দেখিতে আসিলেন। তিনি ম্যানেজারকে ডাকিয়া পাঠাইলেন, ম্যানেজার অসুস্থ; দেখা হইল না। দ্বিতীয় দিন আবার ডাকিয়া পাঠাইলেন, সে দিনও অসুস্থ। জমিদার শুনিতে পাইলেন, মাইকেল মদ খাইয়া অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া আছে। কাজে কাজেই তিনি তাকে বরখাস্ত করিলেন। মাইকেল তবুও বাড়ীতে বসিয়া রহিলেন, কোনও কাজ করিলেন না, কেবল দুঃখে আর্ত্তনাদ করিলেন। যা কিছু তাঁর ছিল সব মদ খাইয়া উড়াইয়া দিলেন; এমন কি তাঁর স্ত্রীর শাল, আলোয়ান ও গয়না পর্য্যন্ত চুরি করিয়া শুঁড়ীর দোকানে গিয়া মদ খাইতেন। তাঁকে দেখিয়া কৃষকদের পর্য্যন্ত দয়া হইতে লাগিল, তারাও তাঁকে মদ দিত। যাহা হউক, মাইকেলের জীবন আর একটি বৎসরও কাটিল না। হঠাৎ একদিন খুব বেশী মদ খাইয়া তিনি মারা গেলেন।