ডমরু-চরিত

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 

ডমরু-চরিত

 
প্ৰথম গল্প

প্ৰথম পরিচ্ছেদ সূচনা ডমরুধর বলিলেন,- “এই যে দুর্গোৎসবটি, এটি তোমরা সামান্য জ্ঞান করিও না । কিন্তু এখনকার বাবুদের সে বোধ নাই। বাবুৱা এখন হাওয়াখোর হইয়াছেন। দেশে হাওয়া নাই, বিদেশে গমন করিয়া বাবুরা হাওয়া সেবন করেন, আর বাপ-পিতামহের পূজার দালান ছুচো-চামচিকাতে অপরিষ্কার করে।” লম্বোদর বলিলেন,- “সত্য কথা! সেকালে পূজার সময় লোকে বিদেশ হইতে বাড়ী আসিত। বন্ধু-বান্ধবের সহিত মিলিত হইত। যাহার যেমন ক্ষমতা মায়ের পূজা করিত, গরীবদুঃখীরা অন্ততঃ একসরা খয়ে-মুড়কি ও দুইটা নারিকেল-নাড়ু পাইত।” শঙ্কর ঘোষ বলিলেন,- “শুনিয়াছি যে, করা এক নূতন ব্যবসা হইয়াছে। একটি প্রতিমা খাড়া করিয়া বন্ধু-বান্ধবদিগকে ণ করে, পরে তাঁহাদের কান মলিয়া প্ৰণামি আদায় করে। পূজা করিয়া অনেকে দুই প্ৰয়সী উপাৰ্জন করে।” ডমরুধর বলিলেন,- “তাহাতে মারুফুল্লীর্ষ কি? পূজার সময় আমি আমার আবাদের প্ৰজাগণকে নিমন্ত্ৰণ করি। ভক্তিভাবে মােয়র পাদপদ্মে তাহারা যদি কিছু প্ৰণামি প্ৰদান করে, ষ্ট্রক, বিলক্ষণ ঠেকিয়া এই দুর্গোৎসবটি আরম্ভ করিয়াছি। আমি এখন বুঝিয়াছি যে, ভগবতীর আরাধনা করলে ধন-সম্পদ হয়।” পুরোহিত বলিলেন, — “তে সম্মত জনপদেষু ধনানি তেষাং তেষাং যশাং সি ন চ সীদন্তি ধৰ্ম্মবৰ্গঃ। হে দেবী। তুমি যাহার প্রতি কৃপা কর, জনপদে সে পূজিত হয়; তাহার ধন ও যশ হয়, তাহার ধৰ্ম্ম অক্ষুন্ন থাকে।” কলিকাতার দক্ষিণে একখানি গ্রামে ডমরুধারের বাস। প্ৰথম বয়সে তিনি নিতান্ত দরিদ্র ছিলেন। অনেক কৌশল করিয়া, সাধ্যমতে একটি পয়সাও খরচ না করিয়া তিনি এখন প্ৰভূত ধনশালী হইয়াছেন। অন্যান্য সম্পত্তির মধ্যে সুন্দরবনের আবাদে তাঁহার এখন বিলক্ষণ লাভ হইয়াছে। ডমরুধর এখন পাকা ইমারতে বাস করেন। পূজার পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যার পর দালানে, যেস্থানে প্রতিমা হইয়াছে, সেই স্থানে গল্পগাছা প্রসঙ্গে এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইতেছিল। ডমরুধর পুনরায় বলিলেন,- “হাঁ! মা আমাকে ঘোরতর বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। সেই বিপদে পড়িয়া, একান্ত মনে মাকে ডাকিয়া আমি বলিয়াছিলাম, মা! তুমি আমাকে এ সঙ্কট হইতে পরিত্রণ কর। তাহা করিলে প্রতি বৎসর আমি তোমার পূজা করিব।” লম্বোদর বলিলেন,- “তুমি তো কেবল তিন বৎসর পূজা করিতেছ। এ তিন বৎসরের ভিতর তোমাকে তো কোন বিপদে পড়িতে দেখি নাই। বরং তিন বৎসর পূৰ্ব্বে এই বৃদ্ধবয়সে ডমরু-চরিত ԳԵՏ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro তুমি নূতন পত্নী লাভ করিয়াছ।” ডমরুধর বলিলেন,— “তিন বৎসর পূৰ্ব্বে আমি ঘোরতর বিপদে পড়িয়াছিলাম। তৃতীয় পক্ষ বিবাহের সময় আমি সঙ্কটাপন্ন হইয়াছিলাম। গ্রামের লোক, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব কেহই সে কথা জানে না। মুখ ফুটিয়া আজ পৰ্যন্ত কাহারও নিকট সে কথা আমি প্ৰকাশ করি নাই। মা জগদম্বা আমাকে সে বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছেন। দুৰ্গতিনাশিনী দুর্গার প্রতি লোকের ভক্তি ক্ৰমে লোপ হইতেছে। কলেরা ম্যালেরিয়া বসন্ত প্লেগ তো আছেই, মায়ের প্রতি ভক্তির অভাবে এখন আবার ফুলো রোগ দেখা দিয়াছে, ঘুমন্ত রোগও আসিয়াছে।। জগদম্বার প্রতি ভক্তি থাকিলে লোকের এ সব বিপদ হয় না।” পুরোহিত অপরিস্ফুট স্বরে বলিলেন,- “দুর্গে স্মৃত হরসি ভীতিমশেষজন্তোঃ, স্বস্থৈঃ স্মৃতা মতিমতীব শুভ্যং দদাসি৷ দারিদ্রদুঃখভয়হারিণি! কী ত্বদন্যা, সৰ্ব্বোপকার্যকরণীয় সদাৰ্দচিত্তা৷” হে দুর্গে বিপদে পড়িয়া তোমাকে স্মরণ করিলে জীবগণের ভয় তুমি দূর কর। সুস্থ অবস্থায় তোমাকে স্মরণ করিলে তুমি তাহাকে মঙ্গল কর। হে দারিদ্র্যদুঃখহারিণি! সৰ্ব্বপ্রকার উপকার করিবার নিমিত্ত তুমি ভিন্ন দয়াৰ্দচিত্তা আর কে আছে?” লম্বোদর বলিলেন,- “কিন্তু বিপদটা কি? কি বিপদে তুমি পড়িয়াছিলে?” ডমরুধর বলিলেন,- “এতদিন পরে সে বি থা আজ আমি প্ৰকাশ করিতেছি, শুন ।” ডমরুধর বলিলেন,—“আমার তৃতীয় বিবাহের সময় এ বিপদ ঘটিয়াছিল। আমার বয়স তখন পয়ষট্টি বৎসর। এত বয়সে লোক বিবাহ করে না। তবে আমার ছেলে-বেটা মানুষ হইল না। আমি তাহাকে ত্যাজ্যপুত্র করিলাম। কোথায় সে চলিয়া গেল। সে একটি স্বতন্ত্র গল্প।” শঙ্কর ঘোষ বলিলেন,- “সে গল্প আর একদিন হইবে।” ডমরুধর বলিলেন,— “তাহার পর বিবাহ না করিলে গৃহ শূন্য হইয়া থাকে। কিন্তু বিবাহ করিলেও কি হয়, তা জান তো লম্বোদর?” লম্বোদর উত্তর করিলেন,- “খ্যাচ খ্যাচ, রাত্রি দিন খ্যাচ খ্যাচ ।” ডমরুধর বলিলেন,- “হাঁ, তুমি ভুক্তিভোগী। ঘটনাক্রমে আমার এই বিবাহের কথা স্থির হইয়াছিল। আমডাঙ্গার মাঠে আমার যে বৃহৎ বাগান আছে, সে বৎসর বৈশাখ মাসে সেই বাগানে গিয়া আমি ডাব পাড়াইতেছিলাম। দুই চারি দিন পূৰ্ব্বে আমার পুরাতন উড়ে মালী দেশে গিয়াছিল, ভাইপোকে তাহার স্থানে রাখিয়া গিয়াছিল। সে আমাকে কখন দেখে নাই, ԳԵՀ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.confািকস্তািন"ৰ "চা" সংগ্ৰহ আমি তাহাকে কখন দেখি নাই। উদ্ধাব ঘোষের জামাতা সেই ছোড়ার সহিত সড় করিয়া চোর বলিয়া আমাকে বাধিয়া ফেলিল। তাহার পর মারিতে মারিতে কুতবপুরের মহকুমাতে আমাকে লইয়া গেল। কিন্তু সে আবার একটি স্বতন্ত্র গল্প।” শঙ্কর ঘোষ জিজ্ঞাসা করিলেন,- “এই বিপদ?” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — “রাম রাম! এ সামান্য কথা ইহা অপেক্ষা ঘোরতর সঙ্কটে আমি পড়িয়াছিলাম। সেই সঙ্কট হইতে মা দুৰ্গা আমাকে রক্ষা করিয়াছিলেন।” দীর্ঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া ডমরুধর পুনরায় বলিলেন,- “কুতবপুরে ঘটকীর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইল, পুনরায় বিবাহ করিতে সে আমাকে প্রবৃত্তি দিল। আমি বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম। বিবাহের কথাবাৰ্ত্তা চলিতে লাগিল। টাকায় কি না হয়? বঁাশপুরের এক বয়স্কা কন্যার সহিত বিবাহ স্থির হইল। তিনিই আমার বর্তমান গৃহিণী।” লম্বোেদর বলিলেন,- “সে কথা আমরা জানি, আমরা বরযাত্রী গিয়াছিলাম।” ডমরুধর বলিলেন,- “কন্যার মাতা-পিতা অর্থহীন বটে, কিন্তু আমার নিকট নগদ টাকা চাহিলেন না। তবে ঘটকী বলিল যে, বিবাহের সমুদয় খরচা আমাকে দিতে হইবে এবং কন্যার শরীরে যেখানে যা ধরে, সেইরূপ অলঙ্কার দিতে হইবে। তোমরা জান যে, আমি কখন একটি পয়সা বাজে খরচ করি না। লোক পাছে অলস হইয়া পড়ে, সেই ভয়ে ভিখারীকে কখন মুষ্টিভিক্ষা প্ৰদান করি না। সেকরার পেট ভরাইতে প্ৰথম আমি সম্মত হইলাম না। আমি বলিলাম যে, গহনার পরিবৰ্ত্তে কন্যার আচলে নোট দিব। কিন্তু কন্যার মাতা-পিতা সে প্ৰস্তাবে সম্মত হইলেন না। অবশেষে আমি ভাবিয়া যে, আমার বয়স পয়ষট্টি বৎসর, তাহার পর আমাকে দেখিয়া কেহ বলে না যে, কন্দৰ্প-পুরুষ। নিজের কথা নিজে বলিতে ক্ষতি নাই—এই দেখ, আমার &বর্ণটি ঠিক যেন দময়ন্তীর পোড়া শোউল মাছ। দাঁত একটিও নাই, মাথার মাঝখানে চারিদিকে চুল, তাহাতে একগাছিও কাঁচা চুল নাই, মুখে ঠোঁটের দুইপাশে সাদা কি হইয়াছে। এইসব কথা ভাবিয়া গহনা দিতে আমি সম্মত হইলাম। যতদূর সাধ্য সাদা-মাটা পেটা সোনার গহনা গড়াইলাম; কিন্তু তাহাতেও আমার অনেক টাকা খরচ হইল। ফৰ্দ অনেক। একবাক্স গহনা হইল।” শঙ্কর ঘোষ বলিলেন,- “তা বটে। কিন্তু বিপদটা কি?” ডমরুধর বলিলেন,- “ব্যস্ত হইও না। শুনা।” ‰፧ তৃতীয় পরিচ্ছেদ গাছে-ঝোলা সাধু ডমরুধর বলিলেন, — “গ্রামের প্রান্তভাগে বিন্দী গোয়ালিনীর যে ভিটা আছে, সে জমি আমার । কিছুদিন পূৰ্ব্বে বিন্দী মরিয়া গিয়াছিল। তাহার চালাঘরখানি তখনও ছিল। দুইজন চেলা সঙ্গে কোথা হইতে এক সাধু আসিয়া সেই চালাঘরে আশ্ৰয় লইল। সে সাধুকে তোমরা সকলেই দেখিয়াছ, তাহাকে সকলেই জান। সাধুর দুইটি চক্ষু অন্ধ। চেলারা বলিল যে, তাহার বয়স - firls six g3 &g a www.amarboicom a ԳԵ՞Ց পাঁচশত তিপ্লান্ন বৎসর। চালাঘরের সম্মুখে যে আমগাছ আছে, চেলারা তাহার ডালে সাধুর দুই পা বঁধিয়া দিত। প্রতিদিন প্ৰাতঃকালে এক ঘণ্টাকাল নীচের দিকে মুখ করিয়া সাধু বুলিয়া থাকিত। চারিদিকে হৈ-হৈ পড়িয়া গেল। যাহারা বি-এ, এম-এ পাস করিয়াছে, সেই ছোড়ারা আসিয়া সাধুর কেহ পা টিপিতে লাগিল, কেহ বাতাস করিতে লাগিল, সকলেই পাদোদক খাইতে লাগিল। একখানি হুজুগে ইংরেজী কাগজের লোক আসিয়া সাধুকে দর্শন করিল ও তাহাদের কাগজে সাধুর মহিমা গান করিয়া দীর্ঘ দীর্ঘ প্ৰবন্ধ লিখিতে লাগিল। ফল কথা, দেশের লোকের ভক্তি একেবারে উথলিয়া পড়িল। সাধুর মাথার নিম্নে চেলারা একটি ধামা রাখিল; সেই ধামায় পয়সা-বৃষ্টি হইতে লাগিল।” লম্বোদর বলিলেন, — “তুমিও সেই হুজুগে দু’পয়সা লাভ করিয়াছিলে!” ডমরুধর বলিলেন,- “সে জমি আমার, সে চালা আমার, সে আমগাছ আমার; কেন আমি লাভ করিব না? আমি সাধুকে গিয়া বলিলাম,- “ঠাকুর! সন্ন্যাসী মোহান্তের প্রতি আমার যে ভক্তি নাই, তাহা নহে। তবে কি জান, আমি বিষয়ী লোক। তুমি আমার জমিতে আস্তানা গাড়িয়াছ। দু’পয়সা বিলক্ষণ তোমার আমদানি হইতেছে। ভূস্বামীকে ট্যাক্স দিতে হইবে।” সাধু উত্তর করিলেন, — “আমরা উদাসীন। আমি নিজে বায়ু ভক্ষণ করি। চেলারা এখন যৎকিঞ্চিৎ আহার করে। দীন-দুঃখীকে আমরা কিছু দান করি। কোন পরিব্রাজক আসিলে তাহার সেবায় কিঞ্চিৎ অর্থব্যয় করি। সেজন্য পুণ্যাত্মা ভক্তগণ যাহা প্ৰদান করে, আমার শিষ্যদ্বয় এ স্থানে খরচের জন্য তাহার অৰ্দ্ধেক রাখিয়া অবশিষ্ট ধন প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় তোমাকে দিয়া আসিবো।” বলা বাহুল্য যে, আমি এ প্রস্তাবে সম্মত হইলাম। কােনদিন চারি টাকা কােনদিন পাঁচ টাকা আমূহূৰ্ত্তীর্ভ হইতে লাগিল। সন্ন্যাসীর প্রতি আমার প্রগাঢ় ভক্তি হইল। যাহাতে তাহার প্রসাদৃশুষ্ঠপূক্ত আরও বৃদ্ধি হয়, দেশের যত উজবুক ২ষ্ট্ৰচষ্টা করিতে লাগিলাম । মনে মনে সঙ্কল্প করিলাম অধিক দিন থাকিতে পারে না। হুজুগ একটু পুরাতন হইলেই বাঙ্গালী পুনরায় নূতন হুজুগের সৃষ্টি করে। অথবা এই বঙ্গভূমির মাটীর গুণে আপনা হইতেই নূতন হুজুগের উৎপত্তি হয়। এই সময় এ স্থান হইতে চারি ক্রোশ দূরে পাঁচগেছে রসিক মণ্ডলের সপ্তমবৰ্ষীয়া কন্যার স্কন্ধে মাকালঠাকুর অধিষ্ঠান হইলেন। রসিক মণ্ডল জাতিতে পোদ। মাকালঠাকুরের ভরে সেই কন্যা লোককে ঔষধ দিতে লাগিল। দেবদত্ত ঔষধের গুণে অন্ধের চক্ষু, বধিরের কৰ্ণ, পঙ্গুর পা হইতে লাগিল। বোবার কথা ফুটিতে লাগিল। কতকগুলি সুস্থ লোককে কানা খোড়া, হাবা কালা, জোরো অম্বুলে সাজাইতে হয়, তা না করিলে এ কাজে পাসার হয় না। তুলসীর মালা গলায় দিয়া সেই ইংরাজী কাগজের লেখকও সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইল। ভক্তিতে গদগদ হইয়া কত কি তাহাদের কাগজে লিখিয়া বসিল। বি-এ, এম-এ পাস করা ছোড়ারা আবার সন্ন্যাসীকে ছাড়িয়া সেই পোদ ছুড়ীর পাদক-জল খাইতে গেল। কাতারে কাতারে সেই গ্রামে লোক ভাঙ্গিয়া পড়িল। রসিক মণ্ডলের ঘরে টাকা-পয়সা আর ধরে না। আমার সন্ন্যাসীর আস্তানা ভোঁ ভোঁ হইয়া গেল। রসিক মণ্ডলের মত আমার কেন বুদ্ধি যোগায় নাই, আমি কেন সেইরূপ ফন্দি করি নাই, আমি কেন একটা ছোট ছুড়ীকে বাহির করি নাই, সেই আপশোসে আমার বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল। এইরূপ দুঃখে আছি, এমন সময় একজন চেলা সন্ন্যাসীর হাত ধরিয়া আমার বাড়ীতে ԳԵ8 fi:Ilă zi, o go sel - www.amarboicom** আনিয়া উপস্থিত করিল। সন্ন্যাসী বলিল যে, নিভৃতে তোমার সহিত কোন কথা আছে। আমি সন্ন্যাসী ও তাহার চেলা এক ঘরে যাইলাম। সন্ন্যাসী বলিল যে, ট্যাক্স বন্ধ হইয়া গিয়াছে, সে জন্য নিশ্চয় তোমার মনে সন্দী হইয়াছে, কিন্তু দুঃখ করিও না, অন্য উপায়ে তোমাকে আমি বিপুল ধনের অধিকারী করিব। একটি টাকা দাও দেখি! সন্ন্যাসীর হাতে আমি একটি টাকা দিলাম। সেই টাকাটিকে তৎক্ষণাৎ দ্বিগুণ করিয়া দুইটি টাকা আমার হাতে দিল। তাহার পর সন্ন্যাসীর আদেশে ভিতর হইতে একটি মোহর আনিয়া দিলাম, তাহাও ডবল করিয়া দুইটি মোহর সন্ন্যাসী আমার হাতে দিল। শেষে একখানি দশ টাকার নোটও ডাবল করিয়া আমার হাতে দিল । তাহার পর সন্ন্যাসী আমাকে বলিল,- “এ কাজ অধিক পরিমাণে করিতে গেলে পূজাপাঠের আবশ্যক। তোমার ঘরে যত টাকা, মোহর, নৌট, সোনা-রূপা আছে, পূজা-পাঠ করিয়া সমুদয় আমি ডবল করিয়া দিব।” আমি উত্তর করিলাম,- “সন্ন্যাসীঠাকুর! আমি নিতান্ত বোকা নই। এরূপ বুজরুকির কথা আমি অনেক শুনিয়াছি। গৃহস্থের বাড়ী গিয়া দুই-একটি টাকা অথবা নােটি ডবল করিয়া তােমরা গৃহস্বামীর বিশ্বাস উৎপাদন কর। তোমাদের কুহকে পড়িয়া গৃহস্বামী ঘরের সমুদয় টাকা-কড়ি গহনা-পত্ৰ আনিয়া দেয়। হাঁড়ী অথবা বাক্সের ভিতর সেগুলি বন্ধ করিয়া তোমরা পূজা কর। পূজা সমাপ্ত করিয়া সাত দিন কি আট দিন পরে গৃহস্বামীকে খুলিয়া দেখিতে বল। সেই অনুসাের তােমারু চপটি দাও! সাত আট দিন পুরে গৃহস্থায়ী খুলিয়া দেখে যে হাঁড়ী ঢল ঢল। বাজিকরের ও-চালাকি আমার কাছে খাটিবে না।” 6 সন্ন্যাসী বলিল,— “পূজা পাঠ করিয়া আমি চুল্লিয়া যাইব না। তোমার ঘরে তুমি আমাকে বন্ধ করিয়া রাখিও । আর দেখি আমি অন্ধ ও সহায়তা ভিন্ন দুই পা চলিতে পারি না। পালাইব কি করিয়া? পূজার দিন কোন আমি এ স্থানে আসিতে দিব না। সাত আট দিন পরে তোমাকে টাকা-কড়ি বলিব না; পূজা সমাপ্ত হইলেই তৎক্ষণাৎ তুমি খুলিয়া দেখিবে যে, সমুদয় সম্পত্তি দ্বিগুণ হইয়া গিয়াছে।” সন্ন্যাসীর এরূপ প্ৰস্তাবে আমি সম্মত হইলাম। সন্ন্যাসী শুভদিন ও শুভলগ্ন স্থির করিল। পূজা ও হােমের উপকরণের ফৰ্দ দিল। সে সমুদয় আমি সংগ্ৰহ করিলাম। বাড়ীর দোতলায় নিভৃত একটি ঘরে পূজার আয়োজন করিলাম। ঘরে টাকা, মোহর, নোট যত ছিল ও বিবাহের নিমিত্ত যে গহনা গড়াইয়াছিলাম, সে সমুদয় বৃহৎ একটি বাক্সের মধ্যে বন্ধ করিয়া পূজার স্থানে লইয়া যাইলাম । চতুর্থ পরিচ্ছেদ চিত্রগুপ্তের গলায় দড়ি—মোটা দড়ি নয় নিৰ্দ্ধারিত দিন সন্ধ্যার সময় কেবল সন্ন্যাসী ও আমি সেই ঘরে গিয়া উপবেশন করিলাম। সন্ন্যাসী পাছে কোনরূপে পলায়ন করে, সেজন্য ঘরের দ্বারে চাকরকে কুলুপ দিয়া বন্ধ করিতে

  • fila -i»3 g3 g6 - www.amarboi.com - br? বলিলাম এবং একটু দূরে তাহাকে সতর্কভাবে পাহারা দিতে আদেশ করিলাম। সন্ন্যাসী ঘাট স্থাপন করিল। দধি, পিঠালি ও সিন্দুর দিয়া ঘটে কি সব অঙ্কন করিল। তাহার পর ফাঁটু বিষটু শ্ৰীং ঐং এইরূপ কত কি মন্ত্র উচ্চারণ করিল। অবশেষে হােম করিতে আরম্ভ করিল। কিছুক্ষণ পর স্বাহা স্বাহা বলিয়া আগুনে ঘূত দিয়া সন্ন্যাসী আপনার থলি হাতড়াইয়া একটি টিনের কীেটা বাহির করিল। সেই কীেটাতে এক প্রকার সবুজ রঙের গুড়া ছিল। হরিৎ বর্ণের সেই চূর্ণ সন্ন্যাসী আগুনে ফেলিয়া দিল ।

ঘর সবুজ বর্ণের ধূমে পরিপূর্ণ হইল। আমার নিদ্রার আবেশ হইল। আমি ভাবিলাম যে, কোনরূপে পলায়ন করিবে। উঠিয়া, দ্বারে ধাক্কা মারিয়া আমার চাকরকে ডাকিব, এইরূপ মানস করিলাম। আমি উঠিতে পারিলাম না। আমার হাত-পা অবশ অসাড় হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু আমার জ্ঞান ছিল। হঠাৎ আমার মাথা হইতে “আমি” বাহির হইয়া পড়িলাম। আমার শরীরটি তৎক্ষণাৎ মাটির উপর শুইয়া পড়িল। শরীর হইতে যে “আমি” বাহির হইয়াছি, তাহার দিকে তখন চাহিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, সে “আমি” অতি ক্ষুদ্র, ঠিক বড়ো আঙ্গুলের মত, আর সে শরীর বায়ু দিয়া গঠিত। সেই ক্ষুদ্রশরীরে আমি উপর দিকে উঠিতে লাগিলাম। সূক্ষ্ম বা লিঙ্গশরীরের কথা পূৰ্ব্বে শুনিয়াছিলাম। মনে করিলাম যে, ঔষধের ধূমে সন্ন্যাসী আমাকে হত্যা করিয়াছে, মৃত্যুর পর লোকের যে লিঙ্গশরীর থাকে, তাহাই এখন যমের বাড়ী যাইতেছে। ছাদ ফুড়িয়া আমি উপরে উঠিয়া পড়িলাম। সো সেঁকেরিয়া আকাশ-পথে চলিলাম। দূরদূর-দূর-কতদূর উপরে উঠিয়া পড়িলাম, তাহা পারি না। মেঘ পার হইয়া যাইলাম, চন্দ্ৰলোক পার হইয়া যাইলাম, সূৰ্য্যলােকে গিয়ান্তর্ভূপিস্থত হইলাম। সে স্থানে আশ্চৰ্য্য ঘটনা ಙ್ಞ್ಞಞ್! সূৰ্য্যটিকে কুটি কুটি করিয়া কাটিতেছে, শুক্লপ্ছােট ছােট সেই সূৰ্যখণ্ডগুলি আকাশ-পটে জুড়িয়া দিতেছে। তখন আমি ভাবিলাম,- ঔনক্ষত্র এই প্রকারে হয় বটে। তবে এই যে খণ্ডগুলি বুড়ী আকাশ-পটে ভাল করিয়া জুড়িয়া দিতে পারে না, আলগা হইয়া সেইগুলি খসিয়া পড়ে। তখন লোকে বলে,— “নক্ষত্র পাত হইল।” কিছুক্ষণ পরে আমার ভয় হইল যে,-সূৰ্য্যটি তো গেল, পৃথিবীতে পুনরায় দিন হইবে কি করিয়া? আকাশ-বুড়ী আমার মনের ভাব বুঝিয়া হাসিয়া বলিল,- “ভোরে ভোরে উঠিয়া আকাশে ঝাড়ু দিয়া সমুদয় নক্ষত্রগুলি জুড়িয়া আমি একত্র করিব। সেইগুলি জুড়িয়া পুনরায় আস্ত সূৰ্য্য করিয়া প্ৰাতঃকালে উদয় হইতে পাঠাইব । প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা আঁশবিটি দিয়া সূৰ্য্য কাটিয়া নক্ষত্ৰ করি, সকালবেলা আবার সেইগুলি জুড়িয়া আস্ত সূৰ্য প্রস্তুত করি। আমার এই কাজ।” আকাশ-বুড়ীর নিকট হইতে বিদায় হইয়া, আমি ভাবিলাম যে, নভোমণ্ডলের সমুদয় ব্যাপারটা ভাল করিয়া দেখিতে হইবে। এইরূপ ভাবিয়া পুনরায় আমি শূন্যপথে সো সৌ করিয়া ভ্ৰমণ করিতে লাগিলাম। কিন্তু সৰ্ব্বনাশ! কিছুদূর গিয়া দেখি যে, দুইটা বিকটাকার যমদূত আমার মত আর একটা সূক্ষ্ম শরীরকে লইয়া যাইতেছে। আমার বড় ভয় হইল। সে স্থানে মেঘ নাই যে, তাহার ভিতর লুকাইব । পলাইবার সময় পাইলাম না। খপ করিয়া তাহারা আমাকে ধরিয়া ফেলিল। একজন জিজ্ঞাসা করিল,—“তুই বেটা কে রে? সত্যযুগের রাজা হরিশ্চন্দ্র ভিন বে-ওয়ারিশ হইয়া আর কাহারও এখানে বেড়াইবার হুকুম নাই। নিশ্চয় তুমি বেটা কুস্ক্রিপাক অথবা রৌরব নরকের ফেরারি আসামী।” এই বলিয়া তাহারা আমাকে বাধিয়া ফেলিল ও ধাক্কা ԳԵՆ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarbot.comািঙপািকস্তানাথ রাষ্ট’ সংগ্ৰহ মারিতে মারিতে লইয়া চলিল । ক্রমে আমরা যমপুরীতে গিয়া উপস্থিত হইলাম। যম দরবার করিয়া সিংহাসনে বসিয়া আছেন। পাশে স্তুপাকার খাতাপত্রের সহিত চিত্ৰগুপ্ত, সম্মুখে ডাঙ্গস হাতে ভীষণমূৰ্ত্তি যমদূতের পাল। আমাদের দুইজনকে যমদূতেরা সেই রাজসভায় হাজির করিল। প্রথমে অপর লোকটির বিচার আরম্ভ হইল । চিত্ৰগুপ্ত তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমার নাম?” সে উত্তর করিল,- “আমার নাম বৃন্দাবন ঔই।” তাহার পর কোথায় নিবাস, কি জাতি প্রভৃতি জিজ্ঞাসা করিয়া খাতা-পত্ৰ দেখিয়া যমকে চিত্ৰগুপ্ত বলিলেন,- “মহাশয়! এ লোকটি অতি ধাৰ্ম্মিক, অতি পুণ্যবান। পৃথিবীতে বসিয়া এ বার মাসে তের পাৰ্ব্বণ করিত, দীন-দুঃখীর প্রতি সৰ্ব্বদা দয়া করিত, সত্য ও পরোপকার ইহার ব্ৰত ছিল।” এই কথা শুনিয়া যম চটিয়া গেলেন। তিনি বলিলেন,- “চিত্রগুপ্ত। তোমাকে আমি বারবার বলিয়াছি যে, পৃথিবীতে গিয়া মানুষ কি কাজ করিয়াছে, কি কাজ না করিয়াছে, তাহার আমি বিচার করি না। মানুষ কি খাইয়াছে, কি না খাইয়াছে, তাহার। আমি বিচার করি। ব্ৰহ্মহত্যা, গো-হত্যা, স্ত্রী-হত্যা করিলে এখন মানুষের পাপ হয় না, অশাস্ত্রীয় খাদ্য খাইলে মানুষের পাপ হয়। তবে শিবোত্তৰু তন্ত্রশাস্ত্ৰ মতে সংশোধন করিয়া খাইলে পাপ হয় না। তন্ত্রশাস্ত্ৰে শিব বলিয়াছেন,- “গোমাংস, মেষমাংস, অশ্বমাংস, মৃগমাংস— এই অষ্টবিধ মাংসকে ংস বলে। এই সকল মাংসই দেবতাদিগের তৃপ্তিদায়ক। ‘ওঁ প্ৰতিদ্বিষ্ণুস্তবতে’ ওঁ ব্ৰহ্মাৰ্পণমস্তু।” এই মন্ত্রে সংশোধন করিয়া লইলে বেদজ্ঞ ব্ৰাহ্মণও এই সমুদয় মাংস ভক্ষণ করিতে পারে। মৃগমাংসের ভিতর শূকরের মাংসও ধরিয়া লইতে হইবে। তন্ত্রশাস্ত্ৰে যাহাকে কলামাংস বলে, শিব তাহা খাইতেও অনুমতি দিয়াছেন আর দেখ, চিত্রগুপ্ত! তুমি এ কেরাণীগিরি ছাড়িয়া দাও । পৃথিবীতে তোমার বংশধর কায়স্থগণ কি করিতেছে, একবার চাহিয়া দেখ। উড়ে গয়লার মত এক এক গাছা সূতা অনেকে গলায় পরিতেছে। ব্ৰাহ্মণকে তাহারা আর প্রণাম করে না। ইংরাজী পড়িয়া তোমার হেডটি গরম কর। হেডটি গরম করিয়া তুমিও গলায় দড়ি দাও। মোটা দড়ি নয়। বুঝিয়াছ তো? গলায় দড়ি দিয়া “চিত্ৰবৰ্ম্মা’ নাম গ্ৰহণ কর।” এই কথা বলিয়া যম নিজে সেই লোকটিকে জেরা করিতে লাগিলেন,- “কেমন হে বাপু! কখনও বিলাতি বিস্কুট খাইয়াছিলে?” সে উত্তর করিল,- “আৰ্জেজ্ঞ না।” যম জিজ্ঞাসা করিলেন,- “বিলাতি পানি? যাহা খুলিতে ফটু করিয়া শব্দ হয়? যাহার জল সে উত্তর করিল,— “আৰ্জেজ্ঞ না।” যম পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,- “সত্য করিয়া বল, কোনরূপ আশাস্ত্রীয় খাদ্য ভক্ষণ করিয়াছিলে কি না?” ডমরু-চরিত sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ԳԵԳ সে ভাবিয়া-চিন্তিয়া উত্তর করিল,— “আজ্ঞা একবার ভ্ৰমক্রমে একাদশীর দিন পুঁইশাক খাইয়া ফেলিয়াছিলাম।” যমের সর্বশরীর শিহরিয়া উঠিল। তিনি বলিলেন,- “সৰ্ব্বনাশ! করিয়াছ কি একাদশীর দিন পুঁইশাক! ওরে! এই মুহূৰ্ত্তে ইহাকে রৌরব নরকে নিক্ষেপ কর। ইহার পূৰ্ব্বপুরুষ, যাহারা স্বর্গে আছে, তাহাদিগকেও সেই নরকে নিক্ষেপ কবৃ। পরে ইহার বংশধরগণের চোঁদপুরুষ পৰ্য্যন্তও সেই নরকে যাইবে । চিত্রগুপ্ত!! আমার এই আদেশ তোমার খাতায় লিখিয়া রাখা ।” যমের এই বিচার দেখিয়া আমি তো অবাক । এইবার আমার বিচার। কিন্তু আমার বিচার আরম্ভ হইতে না হইতে আমি উচ্চৈঃস্বরে বলিলাম,- “মহারাজ ! আমি কখন একাদশীর দিন পুঁই শাক ভক্ষণ করি নাই।” আমার কথায় যম চমৎকৃত হইলেন। হৰ্ষোৎফুল্ল লোচনে তিনি বলিলেন,- “সাধু সাধু! এই লোকটি একাদশীর দিন পুঁই শাক খায় নাই। সাধু সাধু! এই মহাত্মার শুভাগমনে আমার যমালয় পবিত্র হইল। যিমানীকে শীঘ্ৰ শঙ্খ বাজাইতে বল। যমকন্যাদিগকে পুষ্পবৃষ্টি করিতে বল। বিশ্বকৰ্ম্মাকে ডাকিয়া আন, —ভূঃ ভুবঃ স্বঃ মহঃ জনঃ তপঃ সত্যলোক পারে ধ্রুবলোকের উপরে এই মহাত্মার জন্য মন্দাকিনী-কলকলিত, পারিজাত-পরিশোভিত কোকিল কুহরিত, অন্সরাপদ-নূপুর-কুনকুনিত হীরা-মাণিক-খচিত নূতন একটি স্বৰ্গ নিৰ্ম্মাণ করিতে বল।” চিত্রগুপ্তের—ওঁ খুড়ি! চিত্তবৰ্ম্মার হিংসা হইল। তিনি বলিলেন,- “মহাশয়! পৃথিবীতে লুকটুকু এখনও আয়ু শেষ হয় নাই। স্থল দেহের রঙ্গুসের আঁসটে গন্ধ এখনও ইহার সৃদ্ধ শরীরে রহিয়াছে। 9م এই কথা শুনিয়া যম চটিয়া আগুন হইলেন। আমার আদর লোপ হইল। তিনি বলিলেন, — “কি! সাদা সাদা গোল গোল হাসের ডিমের কণ্ঠীয়ে। মার, ইহার মাথায় দশ ঘা ডাঙ্গস মাত্র।” যম বলিবামাত্র তাঁহার একজন দূতস্বৰ্গীর মাথায় এক ঘা ডাঙ্গস মারিল। বলিব কি হে, মাথায় আমার যেন ঠিক বজ্ৰাঘাত হক্টৰ্যাতনায় ত্ৰাহি মধুসূদন বলিয়া আমি চীৎকার করিতে লাগিলাম। সেই এক ঘা ডাঙ্গসে যমপুরী হইতে আকাশপথে অনেক নিম্নে আসিয়া পড়িলাম। দমাস করিয়া আর এক ডাঙ্গসের ঘা! শূন্যপথে আরও নীচে আসিয়া পড়িলাম। আর এক ঘা! আরও নিম্নে আসিয়া পড়িলাম। এইরূপ দশম আঘাতে পৃথিবীতে আসিয়া আমার বাড়ীর ছাদ ফুড়িয়া আমার সূক্ষ্ম শরীর পুনরায় সেই পূজার ঘরে আসিয়া পড়িল । নিজের বাড়ীতে সেই পূজার ঘরে আসিয়া ক্ষুদ্র মাথায় ক্ষুদ্ৰ হাত বুলাইতে লাগিলাম। প্ৰহারের চোটে চক্ষুতে সরিষা-ফুল দেখিতেছিলাম। অনেকক্ষণ কিছুই দেখিতে পাইলাম না। অনেকক্ষণ পরে চাহিয়া দেখি যে, “আমি” বসিয়া আছি। অর্থাৎ আমার সেই বড় শরীর আসনে বসিয়া আছে, আর সন্ন্যাসীর শরীর মাটীতে পড়িয়া আছে। কি হইয়াছে, তখন বুঝিতে পারিলাম। বুঝিলাম, যে সবুজ গুড়ার ধূম দিয়া আমার স্থূল অন্নময় কোষ অধিকার করিয়াছে। আমার শরীর হইতে প্ৰাণময় কোষ, মনোময় কোষ, আর সকল কোষ বাহির করিয়া, সন্ন্যাসী আপনার সূক্ষ্ম শরীর দ্বারা আমার শরীর বটে, কিন্তু ঐ যে আসনে বসিয়া আছে, ও আমি নই, ও সন্ন্যাসী। সূক্ষ্ম শরীরে মুখ দিয়া আমি সন্ন্যাসীর সহিত কথোপকথন করিতে পারিলাম না! সেজন্য নিরুপায় হইয়া আমি সন্ন্যাসীর দেহে প্ৰবেশ করিলাম। ዓbrbr sig airž3. g3 ze! A www.amarboi.comfo%7"o"*"*********** পঞ্চম পরিচ্ছেদ ডমরুধারের তপস্যা সন্ন্যাসীর দেহে প্রবিষ্ট হইয়া আমি উঠিয়া বসিলাম। তাহার পর ক্ৰোধে আমি সন্ন্যাসীকে বলিলাম,- “ভণ্ড!! আমার শরীর ছাড়িয়া নিজের শরীরে পুনরায় প্রবেশ কর।” সন্ন্যাসী উত্তর করিল,— “এ পৃথিবীতে অন্ধ হইয়া দুঃখে কালযাপন করিতেছিলাম। ভোগবাসনা এখনও আমার পরিতৃপ্ত হয় নাই। মানস করিয়াছিলাম যে, কোন যুবা ধনবান লোকের শরীর আশ্রয় করিব। সেরূপ লোকের যোগাড় করিতে পারি নাই। কাজেই তোমার জীর্ণ শরীরে প্ৰবেশ করিতে বাধ্য হইয়াছি। তোমার এই শরীর দ্বারা এখন সুখাদ্য ভক্ষণ করিব, নানারূপ আমোদ-প্ৰমোদ করিব। তোমার বিবাহসম্বন্ধ হইয়াছে। তোমার শরীরে আমি বিবাহ করিব, তোমার গৃহিণীকে লইয়া ঘরকন্না করিব। মিছামিছি। তুমি গোল করিও না। লোকের নিজের যেরূপ অভ্যাস হয় অর্থাৎ শরীরকে আত্মা বলিয়া মনে হয়, অন্য লোকেরও সেইরূপ হয়। তোমার শরীর দেখিয়া লোকেরও সেইরূপ হয়। তোমার শরীর দেখিয়া সকলে বলিবে যে, এই ডমরুধার; আমার শরীর দেখিয়া সকলে বলিবে যে, এই সন্ন্যাসী। কেহই বিশ্বাস করিবে না যে, আমার আত্মা তোমার শরীরে প্রবেশ করিয়াছে। শঙ্করাচাৰ্য্য ও হস্তামিলকের গল্প শুনিয়া থাকিবে। আজ তাই হইয়াছে! বেশীর ভাগ কেবল একটু “হের-ফের।” ক্ৰোধে অধীর হইয়া হাতড়াইতে হাতড়াইতে আমি র গলা টিপিয়া ধরিলাম। কিন্তু তখন আমি পাঁচ শত তিপ্লান্ন বৎসরের পুরাতন শরীরে ছিলাম। তাহার উপর আবার দুই চকু অন্ধ। সন্ন্যাসীর আমি কিছুই করতে পৃষ্টি না। হাসিয়া সে দূরে আমাকে ফেলিয়া দিল । আমার দেহধারী সন্ন্যাসী পুনরায় বার্ল,-“যদি গােলমাল কর, তাহা হইলে তােমার ঘোরতর অনিষ্ট হইবে। তোমার চার্কারের দ্বারাই তোমাকে আমি এই বাড়ী হইতে দূর করিয়া দিব। এ অন্ধ ও বৃদ্ধ শরীর লইয়া তখন তুমি কি করিয়া দিনযাপন করিবে? আমার শিষ্যদ্বয় এ ব্যাপার অবগত আছে, তাহাদিগকে ডাকিতে পাঠাইয়াছি। তাহাদের সহিত আস্তে আস্তে আমার আস্তানায় গমন কর। প্ৰাতঃকালে এক ঘণ্টাকাল তাহারা তোমাকে নীচের দিকে মুখ করিয়া বুলাইবে । সমস্ত দিন তুমি বায়ু ভক্ষণ করিয়া থাকিবে । ঘোর রাত্রিতে চুপি চুপি আহার করিবে। যতদিন তোমার ঐ বৰ্ত্তমান শরীর জীবিত থাকে, ততদিন তোমাকে আমি খাইতে निद ।” আর উপায় কি? আমি নীরব হইয়া বসিয়া রহিলাম। সন্ন্যাসীর দুই জন চেলা আসিয়া আমার দুই হাত ধরিয়া লইয়া চলিল। অন্ধ দুইটি চক্ষু দিয়া দরদর ধারায় অশ্রুপাত হইতে লাগিল। বিন্দী গোয়ালিনীর চালা ঘরে আমাকে লইয়া গেল। সে রাত্রি মাটির উপর পড়িয়া কীদিয়া কাটাইলাম। পরদিন প্রত্যুষে চেলা দুই জন আমার দুই পায়ে দড়ি বঁধিয়া আমগাছের ডালে ঝুলাইয়া দিল। এক ঘণ্টাকাল অধোমুখে আমি বুলিতে লাগিলাম। সে যে কি যাতনা, তাহা আর তোমাদিগকে কি বলিব। অন্ধ, তা না হইলে চক্ষু দুইটি ঘোর রক্তবর্ণেরঞ্জিত হইত। সন্ন্যাসীর গায়ের বর্ণও কাল ছিল, তা না হইলে মুখ লাল হইয়া যাইত। ঘোর কষ্ট! ঘোর কষ্ট! কেন যে দম আটকাইয়া মরিয়া যাই নাই, তাহাই আশ্চৰ্য্য! লম্বোেদর প্রভৃতি একবাক্যে বলিয়া উঠিল,- “ঈশ! তুমি ত সামান্য বিপদে পড়া নাই।” छzाद्रम्-5छि sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ԳԵՏ» ডমরুধর বলিলেন,- “হাঁ। আমি ঘোর বিপদে পড়িয়াছিলাম। কেবল মা দুর্গার কৃপায় আমি সে বিপদ হইতে পরিত্রাণ পাইয়াছিলাম।” ডমরুধর বলিতে লাগিলেন, — “এক ঘণ্টা পরে তাহারা আমাকে গাছ হইতে নামাইয়া লাইল। তাহার পর সমস্ত দিন তাহারা আমাকে জলটুকু পৰ্যন্ত খাইতে দিল না। তােহাৱা কিন্তু একে একে আমার বাড়ীতে গিয়া আহার করিয়া আসিল। আসিয়া বলিল যে — ডমরু বাবুর বাড়ীতে আজ খুব ঘটা। পাঁচ ছয়টা খাসি কাটা হইয়াছে। নানা দ্রব্য প্ৰস্তুত হইয়াছে। গ্ৰামশুদ্ধকে তিনি নিমন্ত্ৰণ করিয়াছেন। তিনি আরও বলিয়াছেন যে, তাহার বিবাহ পৰ্যন্ত প্রতিদিন মহাসমারোহের সহিত সকলকে ভোজন করাইবেন।” লম্বোদর বলিলেন,- “হাঁ! সেই সময় দিনকত তোমার বাড়ীতে খুব ধূম হইয়াছিল। প্রতিদিন ষোড়শ উপাচারে তোমার বাড়ীতে আমরা ভোজন করিয়াছিলাম! তখন তোমার সেই শরীরটিকে ‘তুমি’ বলিয়াই আমরা মনে করিয়াছিলাম। সহসা তোমার মতিগতির কিরূপে পরিবর্তন হইল, তাহা ভাবিয়া সকলে আমরা আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়াছিলাম। তোমার কেনারাম চাকর ও চেলা দুই জন বলিল যে, সন্ন্যাসী ঠাকুর তোমার সমুদয় সম্পত্তি ডবল করিয়া দিয়াছেন, সেই আহাদে তুমি মুক্ত হস্ত হইয়ােছ। কেহ কেহ বলিল যে, নূতন বিবাহের আমোদে আটখানা হইয়া তুমি এত টাকা খরচ করিতেছ। কিন্তু এখন বুঝিলাম যে, সে তুমি নও, তোমার শরীরে অধিষ্ঠিত সন্ন্যাসী ।” ডমরুধর বলিলেন,— “আমি বৃথা টাকা খরচ কুরিব? আমি সে পাত্ৰ নাই। “আমি” খাবার লইয়া আসিল। পােলাও, কালিয়া, পরদিন প্ৰাতঃকালে পুনরায় আমাকে তাহারা গাছে ঝুলাইয়া দিল। তাহার পর সমস্ত দিন অনশনে রাখিয়া গভীর রাত্ৰিতে আমাকে খাবার দিল। প্রতিদিন এই ভাবে চলিতে লাগিল । ওদিকে আমার নিজ বাটীতে ধুমধামের সীমা-পরিসীমা নাই। প্রতি দিন যজ্ঞ। দিনের বেলা সাধারণ লোকের তোজন, রাত্রিতে বন্ধু-বান্ধবের ফিষ্টি । শুনিলাম, ঐ ফিষ্টিতে সন্ন্যাসী বন্ধুবান্ধবের সহিত কিছু উচ্চ রকমের ক্ষুৰ্ত্তি করিতেছিল। সেরি শ্যাম্পেন প্রভৃতি বহুমূল্য। মদ চলিতেছিল। কেবল আমার টাকার শ্ৰাদ্ধ! ক্ৰমে শ্রাবণ মাস আসিল। আমার বিবাহের জন্য যে শুভদিন স্থির হইয়াছিল, সেই দিন নিকটবৰ্ত্তী হইল। যে শরীরে আমি অবস্থান করিতেছিলাম, তাহা অন্ধ বটে, কিন্তু কান তো অন্ধ ছিল না; কয়দিন আগে থাকিতে রোশন চৌকি বাজনা আমার কানে প্রবেশ করিতেছিল। তাহার পর বিবাহের পূৰ্ব্ব দিনে ইংরাজী বাজনা, দেশী বাজনা, ঢাক ঢোল সানাইয়ের রোলে ও লোকের কোলাহলে আমার কান ছেদা হইয়া গেল। শুনিলাম যে “ডমরুবাবু” মহাসমারোহের সহিত বিবাহ করিতে যাইবেন। পাছে কোন যমদূতের সহিত সাক্ষাৎ হয়, পাছে বেওয়ারিস আসামী বলিয়া আমাকে ধরিয়া লইয়া যায়, পাছে পুনরায় আমার মাথায় ডাঙ্গস মারে, সেই ভয়ে এত দিন সন্ন্যাসীর শরীর ԳծC) দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.comন্মিলোকনাথ রচনাসংগ্ৰহ হইতে আমার সূক্ষ্ম শরীর বাহির করিতে চেষ্টা করি নাই। কিন্তু একে আমার টাকার শ্ৰাদ্ধ, তাহার উপর সন্ন্যাসী আমার শরীরে আমার জন্য মনোনীত কন্যাকে গিয়া বিবাহ করিবে, এই দুঃখে মনের ভিতর আমার দাবানল জ্বলিতে লাগিল। সে দিন চেলা দুই জন যখন গাছ হইতে আমাকে নামাইয়া চলিয়া গেল, তখন আমি আর থাকিতে পারিলাম না। সন্ন্যাসীর শরীর হইতে বাহির হইবার নিমিত্ত বার বার চেষ্টা করিতে লাগিলাম। অবশেষে কৃতকাৰ্য হইলাম, সন্ন্যাসীর শরীর অন্ধ, কিন্তু আমার লিঙ্গ শরীর অন্ধ নহে। অনেক দিন পরে পৃথিবীর বস্তুসমূহ দেখিয়া মনে আমার আনন্দ হইল। সন্ন্যাসীর দেহ বিন্দীর চালা ঘরে ফেলিয়া সূক্ষ্ম শরীরে আমি আমার নিজের বাটীতে গমন করিলাম। সে স্থানের ঘোর ঘটা দেখিয়া বুক আমার ফাটিয়া যাইতে লাগিল। বাড়ীটি সুসজ্জিত হইয়াছে, কোন স্থানে বাজনাওয়ালারা বসিয়া আছে, কোন স্থানে রোশনাইয়ের বন্দোবস্ত হইতেছে, বরযাত্রীদিগের নিমিত্ত কলিকাতা হইতে অনেকগুলি ফাষ্টেকেলাস গাড়ি আসিয়াছে। বরের জন্য চারি ঘোড়ার গাড়ি আসিয়াছে। আমাদের গ্রাম হইতে কন্যার গ্রাম সাত ক্রোশ। পথ ভাল নহে-মেটে রাস্তা, কিন্তু শুনিলাম যে, অনেক টাকা খরচ করিয়া “ডেমরু বাবু” সে রাস্তা মেরামত করিয়াছেন। ষষ্ঠ ( ) ছাল-ছািতন বাঘ ଝୁମ୍ଫ এইরূপে চারিদিকে আমি দেখিয়া গর্ম। বলা বাহুল্য যে, আমাকে কেহ দেখিতে পাইল না। সূক্ষ্মশরীর অতি ক্ষুদ্র, হাওয়া দিয়া গঠিত, সূক্ষ্মশরীর কেহ দেখিতে পায় না। একে যমদূতের ভয়, তাহার উপর আবার এই সমুদয় হৃদয়-বিদারক দৃশ্য! সে স্থানে আমি অধিকক্ষণ তিষ্ঠিতে পারিলাম না। আমি ভাবিলাম,- “দূর কর! বনে গিয়া বসিয়া থাকি। সুন্দরবনে মনুষ্যের অধিক বাস নাই, যমদূতাদিগের সে দিকে বড় যাতায়াত নাই, সেই সুন্দরবনে গিয়া বসিয়া থাকি।” বায়ুবেগে সুন্দরবনের দিকে চলিলাম। প্রথম আমি আমার আবাদে গিয়া উপস্থিত হইলাম। সে স্থানে আমার কোন কৰ্ম্মচারীকে দেখিতে পাইলাম না। কেহ মাছ, কেহ ঘূত, কেহ মধু, কেহ পাঠা লইয়া তাহারা “আমার” বিবাহে নিমন্ত্রণে গিয়াছিল। সে স্থান হইতে আমি গভীর বনে প্রবেশ করিলাম। দেখিলাম যে, এক গাঙের ধারে একখানি নীেকা লাগিয়া আছে, উপরে পাঁচ ছয়জন কাঠুরিয়া কাঠ কাটিতেছে। তাঁহাদের সঙ্গে মুগুর হাতে একজন ফকীর আছে। মন্ত্র পড়িয়া ফকীর বাঘদিগের মুখ বন্ধ করিয়া দিয়াছে। নিৰ্ভয়ে কাঠুরিয়াগণ কাঠ কাটিতেছে। সেই স্থানে গিয়া আমি একটি শুষ্ক কাঠের উপর উপবেশন করিলাম। বলা বাহুল্য যে, তাহারা আমাকে দেখিতে পাইল না । এই স্থানে বসিয়া মনের বেদনায় আমি কাঁদিতে লাগিলাম। অশ্রুজলে আমার বক্ষঃস্থল ভাসিয়া গেল। না এদিক, না। ওদিক, না মরা, না বাঁচা, আমার অবস্থা ভাবিয়া আমি আকুল छsट्रष्ट-कृछि sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Գֆֆ গান করিবে, তাহার পর ফুলশয্যা হইবে,-ওঃt আর আমার প্রাণে সয় না। হায় হায়! আমার সব গেল। হঠাৎ এই সময় মা দুৰ্গাকে আমার স্মরণ হইল। প্ৰাণ ভরিয়া মাকে আমি ডাকিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম,- “মা! তুমি জগতের মা! তোমার এই অভাগা পুত্রের প্রতি তুমি কৃপা কর। মহিষাসুরের হাত হইতে দেবতাদিগকে তুমি পরিত্রাণ করিয়াছিলে, সন্ন্যাসীর হাত হইতে তুমি আমাকে নিস্তার কর। মনসা লক্ষ্মীর কখন পূজা করি নাই, ঘেটু পূজাও করি নাই, কোন দেবতার পূজা করি নাই। কিন্তু এখন হইতে, মা প্রতি বৎসর তোমার পূজা করিব। অকালে তোমার পূজা করিয়া রামচন্দ্র বিপদ হইতে উদ্ধার হইয়াছিলেন। আমিও মা! সেইরূপ অকালে তোমার পূজা করিব। তুমি আমাকে বিপদ হইতে উদ্ধার কর।” ব্ৰজের নন্দ ঘোষের স্বজাতি কলিকাতার হরিভক্ত গোয়ালা মহাপ্রভুরা কসাইকে যখন নবপ্রসূত গলায় দড়ি দিয়া হিচড়াইয়া লইয়া যায়, তখন সেই দুধের বাছুরটি নিদারুণ কান্তরকষ্ঠে যেরূপ মা মা বলিয়া ডাকিতে থাকে, সেইরূপ কাতর স্বরে আমিও মা দুৰ্গাকে ডাকিতে লাগিলাম। জগদম্বর মহিমা কে জানে! প্ৰাণ ভরিয়া আঁহাকে ডাকিলে তিনি কৃপা করেন। জগদম্বা আমায় কৃপা করিলেন। বন হইতে হঠাৎ এক বাঘা আসিয়া কাঠুরিয়াদিগের মাঝখানে পড়িল। সুন্দরবনের মানুষখেকো প্ৰকাণ্ড ব্যাঘ!! শরীরটি হরিদ্রাবর্ণের লোমে আচ্ছাদিত, তাহার উপর কাল কাল ডোরা। এ তোমার চিতে বাঘ নয়, গুল বাঘ নয়, এ বাবা টাইগার। ইংরাজীতে যাহাকে রয়াল টাইগার বলে, এই সেই আসল রয়াল টাইগার! এক চাপড়ে একজন কাঠুরিয়াকে বাঘ ভুতলশায়ী কৃরিল, ফকীরের মন্ত্রে তাহার মুখ বন্ধ ছিল। মুখে করিয়া তাহাকে সে ধরিতে পারিল না। স্থানে শুইয়া থাবা দিয়া মানুষটাকে পিঠে তুলিতে চেষ্টা করিল। না মোটা না সরু একটা গাছ ছিল। বাঘের দীর্ঘ লাঙ্গুলটি সেই গাছের পাশে পড়িয়াছিল। একজন র একবার উপস্থিত বুদ্ধি দেখ! বাঘের লাঙ্গুলটি লইয়া সে সেই গাছে এক য়া দিল, তাহার পর লেজের আগাটি সে টানিয়া ধরিল। বাঘের ভয় হইল। বাঘ মনে কীৱৰ্ল,—মানুষ ধরিয়া মানুষ খাইয়া বড় হইলাম, আমার লেজ বাপধন ! তোমাদের একি কাণ্ড! পলায়ন করিতে বাঘ চেষ্টা করিল। একবার, দুইবার, তিনবার বিষম বল প্ৰকাশ করিয়া বাঘ পলাইতে চেষ্টা করিল। কিন্তু গাছে লেজের পাক, বাঘ পলাইতে পারিল না। অসুরের মত বাঘ যেরূপ বল প্ৰকাশ করিতেছিল, তাহাতে আমার মনে হইল যে, যাঃ। লেজটি বা ছিড়িয়া যায়। কিন্তু দৈবের ঘটনা একবার দেখ! এত টানাটানিতেও বাঘের লাঙ্গুল ছিড়িয়া গেল না। তবে এক অসম্ভব ঘটনা ঘটিল। প্ৰাণের দায়ে ঘোরতর বলে বাঘ শেষকালে যেমন এক হ্যাচােকা টান মারিল, আর চামড়া হইতে তাহার আস্ত শরীরটা বাহির হইয়া পড়িল। অস্থি মাংশের দগদগে গোটা শরীর, কিন্তু উপরে চৰ্ম্ম নাই! পাকা আমের নীচের দিকটা সবলে টিপিয়া ধরিলে যেরূপ আটিটা হাড়াৎ করিয়া বাহির হইয়া পড়ে, বাঘের ছাল হইতে শরীরটি সেইরূপ বাহির হইয়া পড়িল, কলিকাতার হিন্দু কসাই মহাশয়েরা জীবন্ত পাঠার ছাল ছাড়াইলে চৰ্ম্মবিহীন পাঠার শরীর যেরূপ হয়, বাঘের শরীরও সেইরূপ হইল। মাংসে বাঘ রুদ্ধশ্বাসে বনে পলায়ন করিল। ফকীর ও কাঠুরিয়াগণ ঘোরতর বিস্মিত হইয়া এক দৃষ্টি হাঁ করিয়া সেই দিকে চাহিয়া রহিল। বাঘের লাঙ্গুল লইয়া গাছে যে পাক দিয়াছিল, লেজ ফেলিয়া দিয়া সেও সেই দিকে হাঁ করিয়া চাহিয়া রহিল। বাঘশূন্য ব্যাঘ্ৰচৰ্ম্ম সেই স্থানে পড়িয়া রহিল। আমার কি মতি হইল, গরম গরম সেই বাঘ-ছালের ভিতর আমি প্রবেশ করিলাম। ব্যাঘ-চৰ্ম্মের ভিতর আমার সূক্ষ্ম শরীর ግእSS fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** প্রবিষ্ট হইবামাত্ৰ ছালটা সজীব হইল। গা ঝাড়া দিয়া আমি উঠিয়া দাঁড়াইলাম। গাছ হইতে লাঙ্গুলটি সরাইয়া লইলাম। পাছে ফের পাক দেয়! তাহার পর দুই একবার আস্ফালন করিলাম। পূৰ্ব্বে তো অবাক হইয়াছিল, তাহা অপেক্ষা এখন দশগুণ অবাক হইয়া ফকীর ও কাঠুরিয়াগণ দৌড়িয়া নীেকায় গিয়া উঠিল। তাড়াতাড়ি নীেকা নদীর মাঝখানে লইয়া দ্রুতবেগে ভাটার স্রোতে তাহারা পলায়ন করিল। এখন এই নৃতন শরীরের প্রতি একবার আমি চাহিয়া দেখিলাম। এখন আমি সুন্দরবনের কেঁদোবাঘ হইয়াছি—সেই যারে বলে রয়াল টাইগার। ভাবিলাম যে,-এ মন্দ কথা নয়, এখন যাই, এই শরীরে বিবাহ-আসরে গিয়া উপস্থিত হই। এখন দেখি, সন্ন্যাসী বেটা কেমন করিয়া আমার কন্যাকে বিবাহ করে। এইরূপ স্থির করিয়া আমি দীেড়িলাম! কখন নিবিড় বনের ভিতর দিয়া চলিলাম, কখন লোকের আবাদের ধার দিয়া চলিলাম। সীতার দিয়া অথবা লম্প দিয়া শত শত নদী-নালা পার হইলাম। যে গ্রামে কন্যার বাড়ী সন্ধ্যার সময় তাহার এক ক্রোশ দূরে গিয়া পৌছিলাম। দূর হইতে আলো দেখিয়া ও বাজনা-বাদ্যের শব্দ শুনিয়া বুঝিলাম যে, ঐ বর আসিতেছে। সেই দিকে দ্রুতবেগে ধাবিত হইলাম। আলুম করিয়া এক লাফ দিয়া প্ৰথম বাদ্যকরদিগের ভিতর পড়িলাম, কালো কালো বিলাতী সাহেবেরা কোট-পেন্ট পিন্ধে যাহারা বিলাতী বাজনা বাজাইতেছিল, তাহারা আমার সেই মেঘগৰ্জ্জনের ন্যায় আলুম শব্দ শুনিয়া আর আমার সেই রুদ্রমূৰ্ত্তি দেখিয়া আপন আপন যন্ত্র ফেলিয়া যে যেদিকে পারিল পলায়ন করিল। ঢাকী ঢুলীদের ত কথাই নাই। তাঁহাদের কেহ পলাইল কেহ কেহ সেই স্থানে মূৰ্ছিত হইয়া পড়িল। যাহারা আলো প্রভৃতি লইয়া চলিয়াছিল, সকলে পলায়ন করিল। তাহার পর পুনরায় আলুম করিয়া আমি বরযাত্রদিগের গাড়ীর নিকট উপস্থিত হইলাম। টপ টপ করিয়া তাহারা গাড়ী হইতে লাফাইয়া পড়িল ও যে পারিল পলায়ন করিল। লম্বোদর বলিলেন,- “আমিও শ্ৰী গিয়াছিলাম। আমি একটি গাছে গিয়া উঠিয়াছিলাম।” শঙ্কর ঘোষ বলিলেন, — “গাড়ী লাফাইয়া পড়িতে আমার পা ভাঙ্গিয়া গিয়াছিল। শেষে কেলেহাঁড়ী মাথায় দিয়া সমস্ত রাত্রি একটা পুষ্করিণীতে গা ডুবাইয়া বসিয়া রহিলাম।” সপ্তম পরিচ্ছেদ ডমরুধর বলিলেন, — “তাহার পর লম্ফ দিয়া একেবারে আমি বরের চারি ঘোড়ার গাড়ীতে গিয়া উঠিলাম। ঘোর ত্ৰাসে সন্ন্যাসীর হৃৎকম্প হইল। আমার শরীর হইতে ফন্ট করিয়া সে সূক্ষ্মশরীর বাহির করিল। আপনার সূক্ষ্মশরীর লইয়া কোথায় যে সে পলায়ন করিল, তাহা বলিতে পারি না। সেই দিন হইতে তাহাকে অথবা তাহার চেলা দুইজনকে আর কখন আমি দেখিতে পাই নাই। আমি দেখিলাম যে, গাড়ীর উপর আমার দেহটি পড়িয়া রহিয়াছে। বাঘছাল হইতে বাহির ডমরু-চরিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ ԳֆՖ হইয়া তৎক্ষণাৎ আমি নিজদেহে প্ৰবেশ করিলাম। গাড়ীর গদিতে বাঘছালখানি পাতিয়া তাহার উপর আমি গঠ হইয়া বসিলাম। নিজের শরীর পুনরায় পাইয়া আনন্দে একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগ করিলাম। কন্যার জন্য যে সমুদয় গহনা প্ৰস্তুত করিয়াছিলাম, সম্মুখে দেখিলাম যে সেই গহনার বাক্সটি রহিয়াছে। পরে শুনিলাম যে, ঘটকীর পরামর্শে সন্ন্যাসী এই গহনার বাক্স সঙ্গে আনিয়াছিল। এখন বিবাহ-বাড়ীতে যাইতে হইবে। কিন্তু নিকটে জনপ্ৰাণী ছিল না। একেলা বিবাহবাড়ীতে যাইতে পারি না। গাড়ী হইতে নামিলাম। পথ হইতে একটি ঢোল লইয়া নিজেই ঢ্যাং ঢ্যাং করিয়া বাজাইতে লাগিলাম। যে তিন চারি জন্য ঢাকী ঢুলী বাঘ দেখিয়া কিছুক্ষণ চাহিয়া তাহারা উঠিয়া বসিলা। অন্য বাদ্যকর কেহ আসিল না। পরে শুনিলাম যে, তাহারা প্ৰাণপণে দৌড়িয়া একেবারে কলিকাতা গিয়া তবে নিশ্বাস ফেলিয়াছিল। ভালই হইয়াছিল। তাহাদিগকে টাকা দিতে হয় নাই। বিবাহের পর দিন, কন্যা লইয়া যখন নিজ গ্রামে আমি প্রত্যাগমন করি, তখন তাহাদের যন্ত্রগুলি আমি কুড়াইয়া আনিয়াছিলাম। কিছুদিন পরে যখন তাহারা আসিল, তখন অনেক কষ্টে আমার নিকট হইতে যন্ত্রগুলি বাহির করিল। টাকা আর চাহিবে কোন লজ্জায়? আমার কেনারাম চাকর ও দুই চারিজন বরযাত্রী ক্রমে আসিয়া জুটিল। প্রথম তাহারা মনে করিয়াছিল যে, নিকটে মানুষ আনিবার নিমিত্ত বাঘ স্বয়ং ঢোল বাজাইতেছে। যাহা হাইক, সেই দুই চারি জন বরযাত্রী ও দুই চারিজন বাদ্যকর লইয়া আমি বিবাহ-বাড়ীতে উপস্থিত হইলাম। অধিক কথায় প্রয়ােজন কি? প্রথম তাে কন্যা সম্প্রদষ্ট হইল। তাহার পর আমাকে সকলে ছাদনাতলায় লইয়া গেল। এক পাল স্ত্রীলোক য়া আমাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। তাড়কা রাক্ষসীর মত এক মাগী প্ৰথম আমার এক য়া দিল, আর বলিল,- “বিবাহ তৃতীয় পক্ষে, সে কেবল পিত্ত রক্ষে।” পুনরায় আঁর এক কান মলিয়া বলিল,— “বিবাহ তৃতীয় পক্ষে, সে কেবল পিত্তি রক্ষে।” এ একবার এ কান একবার সে কান মালিতে লাগিল এবং ঐ কথা বলিতে লাগিল। মাগীয় হাত কি কড়া। আমি মনে করিলাম যে, সীড়াশি দিয়া বুঝি আমার কান ছিড়িয়া লইতেছে। তার দেখাদেখি, নয় দশ বৎসরের একটা ফচকে ছুড়ি ডিঙ্গি দিয়া আমার কান টানিতে লাগিল আর ঐ কথা বলিতে লাগিল । আমার আর সহ্য হইল। না। আমি বলিলাম,- “নে নে! তোর আর অন্ত ফচকুমিতে কাজ নাই, আমি তোর পিতে মোর বয়সি ” কিন্তু এই সময়ে আবার এক বিপত্তি ঘটিল। বরণ-ডালা হন্তে আমার শাশুড়ী ঠাকুরাণী বরণ করিতে আসিলেন। আমার মুখপানে একবার কটাক্ষ করিয়াই তিনি অজ্ঞান! বরণ-ডালা ফেলিয়া, কন্যার হাত ধরিয়া, প্রাঙ্গণের এক পার্শ্বে গিয়া মাটীর উপর তিনি শুইয়া পড়িলেন। সেই স্থানে শুইয়া উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিতে লাগিলেন। কান্নার সুরে তিনি বলিলেন, — “ও গো, মা গো, ও পোড়া বান্দরের হাতে তোরে কি করিয়া দিব গো! ও গো মা গো! ও বুড়ো ডেকরার হাতে কি করিয়া তোকে দিব গো! ঘরে যে কালীঘাটের কালীর পট আছে, যা এক পয়সা দিয়া কিনিয়াছিলাম, তার মত তোর যে মুখখানি গো! তুই যে আমার কেলেসোনা গো!” ইত্যাদি। কালীঘাটের পটের মত মুখ বটে! কন্যাকে বাড়ী আনিয়া যখন ভাল করিয়া প্রথম তাহার মুখ দেখিলাম, তখন আমার মনে হইল যে, ইনি মানুষ নহে, কালীঘাটে মা কালীর বাচ্ছা। হুড়তে পুড়তে এই সময় ঘটকী আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইল। ঘটকী বলিল,-“শীঘ্র ጫእ8 sig oriż35 gigs Re! ay www.amarboi.com%97'oro"********** গহনার বাক্স লইয়া এস।” কেনা চাকরের নিকট গহনার বাক্স আমি রাখিয়াছিলাম । গহনার বাক্স সে লইয়া আসিল । আমার নিকট হইতে চাবি লইয়া বাক্স খুলিয়া ঘটকী কন্যার গায়ে পরাইতে বসিল। বাম হাতে তাগা, জসম, তাবিজ, বাজু চুড়ি ও বালা পরাইল। কন্যার কালো গায়ে সোনা ঝকঝকি করিতে লাগিল। শাশুড়ী ঠাকুরাণী চক্ষুর জলের ভিতর দিয়া আড়ে আড়ে চাহিয়া দেখিতে লাগিলেন । তাহার কান্নার সুর ক্রমে ঢ়িলে হইয়া আসিল, আমার রূপবর্ণনাও কিঞ্চিৎ শিথিল হইল। এখন তিনি বলিলেন, — “ওগো মা গো! কালীঘাটের কালী ঠাকুরের মত তোর যে মুখখানি গো!” এবার এই পৰ্যন্ত হইল। যখন অপর হস্তে সমুদয় গহনা পরানো হইল, তখন তিনি বলিলেন,- “ওগো মা গো! কালীঘাটের কালী ঠাকুরের মত—।” এবার এই পৰ্যন্ত হইল। যখন গলার গহনা পরানো হইল, তখন চক্ষু মুছিয়া একবার ভাল করিয়া দেখিলেন। তাহার পর কান্নার সুরে বলিলেন,- “ওগো মা গো! কালীঘাটের- ” এবার এই পৰ্যন্ত। এইরূপে ক্রমেই কান্নার সুর মৃদু ও ছন্দ পাপড়িভাঙ্গা হইয়া আসিল। অবশেষে কন্যা যখন সমুদয় ভূষণে ভূষিত হইল, তখন তিনি উঠিয়া বসিলেন, দুইবার চক্ষু মুছিয়া বলিলেন,-“তা হউক! আমার এলোকেশী সুখে থাকিবে।” শুভদিনে শুভক্ষণে আমার বিবাহ হইয়া গেল। পরদিন কন্যা লইয়া আমি গৃহে প্ৰত্যাগমন করিলাম। কিন্তু দুঃখের কথা বলিব কি-সেই কৃষ্ণুস্বাক্ষসীর বােল সকলে নুন সুফিয়া আমি একটু বুঝিয়া-সুঝিয়া খরচপত্র করি আমাকেও “পিত্তি-র ক্ষো” বলে । আমার জন্য এখন ভোরে ভোরে তিনি বসুদের আমাদের কাটী গঙ্গার যেমন গঙ্গা কোথায় লাগে! সন্ন্যাসী আমার কত টাকা নষ্ট করিয়াছিল? সে কথায় এখন আর প্রয়োজন কি? কিন্তু চিরকাল আমি কপালে-পুরুষ, আমার সৌভাগ্যক্রমে এই সময় স্বদেশী হিড়িকটি পড়িল। আমি এক স্বদেশী কোম্পানী খুলিলাম। পূৰ্ব্বদেশের এক ছােকরাকে চারিদিকে বক্তৃতা করিতে পাঠাইলাম। তাহার বক্তৃতার ধমকে শত শত গরীব কেরাণী স্ত্রীর গহনা বেচিয়া শেয়ার কিনিল; শত শত দীনদরিদ্র লোকও ঘটি-বাটি বেচিয়া আমার নিকট টাকা পাঠাইল । তারপর-ঐঃ-ঐঃ-ঐঃ-ঐঃ গলায় কিরূপ কফ বসিয়াছে। লম্বোদর বলিলেন,- “কফ কাশীতে অ্যাবশ্যক কি? স্পষ্ট বল না। কেন যে, সমুদয় টাকাগুলি তুমি হাম করিয়াছ। তাহার পর, দেশশুদ্ধ লোক এখন মাথায় হাত দিয়া কাঁদিতেছে।” ডমরুধর বলিলেন, — “ভাগ্যবান পুরুষদিগের টাকা একদিক দিয়া যায়, অন্যদিক দিয়া আসে। যাহা হউক, মা দুৰ্গা আমাকে সেই সন্ন্যাসি-সঙ্কট হইতে উদ্ধার করিয়াছিলেন। সেই অবধি প্রতি বৎসর আমি মা দশভূজার পূজা করি।” পুরোহিত বলিলেন, — “যদি বাপি বিরো দেয়ত্ত্বয়াম্মাকং মহেশ্বরি । সংস্মৃত সংস্মৃত ত্বং নাে হিংসেথায় পরমাপদঃ৷ s ঈীয় স্নান করেন। কিন্তু যাই বল আর যাই কও, KN আর কোন গঙ্গার নয়; হরিদ্বার, প্রয়াগ, বৃন্দাবনের छaाद्धम्–कृछि sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro AGł দেবগণ বলিলেন,- “হে মহেশ্বরি! যদি আমাদিগকে বর দিবে, তবে ঘোর বিপদে পড়িয়া তােমাকে স্মরণ করলে, তুমি আমাদিগকে রক্ষা করিগু৯ C SNర్ @ ဒို့ချဲi® মন্তব্য। “পিত্তির ক্ষে” বলিয়াছেন। দুৰ্ল'পাঠকদিগের যদি আমার গল্পের সত্যতা সম্বন্ধে সন্দেহ হয়, তাহা হইলে তাঁহাদিগকে মর্মার নিকট পঠাইয়া দিবেন। সে বাঘছাল আমার ঘরে আছে। আমি তাঁহাদিগকে দেখাইব। তাঁহাদের সন্দেহ দূর হইবে।” sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro দ্বিতীয় গল্প প্ৰথম পরিচ্ছেদ পূৰ্ব্বকাহিনী ডমরুধর বলিলেন,- “পূজার সময় সন্ন্যাসীসঙ্কটের গল্পে আমার সম্বন্ধে আরও দুইটি বিষয়ের উল্লেখ করিয়াছিলাম। কিন্তু আমার একটু পূৰ্ব্বকাহিনী না বলিলে তোমরা সে সমুদয় বিষয় বুঝিতে পরিবে না। আজ যদি কৃত্তিবাস, কাশীদাস থাকিতেন, তাহা হইলে আমার বুদ্ধি, আমার বীরত্ব, আমার কীৰ্ত্তির বিষয়ে তাহারা ছড়া বঁধিতেন। ঘরে ঘরে লোকে তাহা পাঠ করিয়া কৃতাৰ্থ হইত। আর, যাত্রায় যাহারা দূতী সাজে, হাত নাড়িয়া নাড়িয়া তাহারা আমার বিষয়ে গান করিত। এক দিন রেলগাড়ীতে যাইবার সময় শুনিয়াছিলাম যে, কে এক জন মাইকেল ছিলেন। কে এক জন আবার তাহার জীবন-চরিত লিখিয়াছিলেন। এ বৎসর আমার বাগানে অনেক কাচাকলা হইয়াছে। খরিদদার নাই, র জীবন-চরিত লিখিয়াছেন, তিনি যদি আমুর বিষয়ে সেইরূপ একখানি পুস্তকৃত্যু তাহা হইলে তাঁহাকে আমি তের রলোষ্টিপমনে কলিকাতায় হর ঘোষের কাপড়ের দোকানে কাজ করিতাম। মাহিনা পাঁচ টাকা আর খাওয়া। যে বাড়ীতে বাবুর বাসা ছিল, তাহার নীচের এক সেতালে। ঘরে আমি থাকিতাম। বাবুর এক চাকরাণী ব্যতীত অন্য চাকর ছিল না। তাহার গৃহিণী স্বয়ং রন্ধন করিতেন। রান্না হইত—অন্ততঃ আমার ও ঝিয়ের জন্য—মুসূর দাল ও বেগুন বা আলু বা কুমড়া ভাজা। মুসূর দালে কেবল একটু হলুদের রং দেখিতে পাইতাম, দালের সম্পর্ক তাহাতে থাকিত কি না সন্দেহ। তাহার পর বলিহারি যাই গৃহিণীর হাত! কি করিয়া যে তিনি সেরূপ ঝিঝির পাতের ন্যায় বেগুন কুটিতেন, তাহাই আশ্চৰ্য্য! অভ্রের চেয়ে বোধ হয়। পাতলা। বাজারে যে চিংড়িমাছ বিক্রয় হইত না, যাহার বর্ণ লাল হইয়া যাইত, বেলা একটার সময় কালে-ভেদ্রে সেই চিংড়ি মাছ আসিত। তাহার গন্ধে পাড়ার লোককে নাকে কাপড় দিতে হইত। সেই চিংড়ি মাছের ধারগুলি বাবু ও তাঁহার গৃহিণী খাইতেন। মাথাগুলি আমাদের জন্য ঝাল দিয়া রান্না হইত। যে দিন চিংড়ি মাছ হইত, সেদিন আমাদের আহাদের সীমা থাকিত না। সেই পচা চিংড়ি অমৃত জ্ঞান করিয়া আমরা খাইতাম। দুইবার ভাত চাহিয়া লাইতাম। অধিক ভাত খরচ হইত বলিয়া চিংড়ি কিছুদিন পরে বন্ধ হইয়া গিয়াছিল। তাহার পর একপাট তেঁতুল ট্যাকে করিয়া আমি ভাত খাইতে বসিতাম। তাহা দিয়া কোনরূপে ভাত উদারস্থ করিতাম। যাহা হউক, এই স্থানে যাহা আমি শিক্ষা পাইয়াছিলাম, পরে তাহাতে আমার বিশেষ t7sाद्रन्-5छि as a sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Sష উপকার হইয়াছিল। আমি বুঝিয়াছিলাম যে, টাকা উপাৰ্জ্জন করিলেই টাকা থাকে না; টাকা খরচ না করিলেই টাকা থাকে। আমার বােধ হয় রাক্ষসগণ। আমার যখন পঁচিশ বৎসর বয়স, তখন আমার প্রথম গৃহিণীর কাল হইল। তাহার সন্তানাদি হয় নাই। তাহার পর দশ বৎসর। পৰ্যন্ত আমার আর বিবাহ হইল। না। আমার অবস্থা সেই; লোকে বিবাহ দিবে কেন? এই সময় পাশের বাড়ী আমাদের এক স্বজাতি ভাড়া লইলেন। তাহার নাম প্ৰহাদ সেন । দোতলায় সপরিবারে তিনি বাস করিলেন। একজন আত্মীয়কে নীচের দুইটি ঘর ভাড়া দিলেন। তাহার নাম গোলোক দে। প্ৰহলাদ বাবু কোন বণিকের আফিসে কাজ করিতেন। অবস্থা নিতান্ত মন্দ ছিল না, তবে টাকাকড়ি কি গহনা-পত্ৰ কিছু ছিল না। গোলোক বাবু সরকারী আফিসে অল্প টাকা বেতনে কেরাণিগিরি করিতেন। তাহার পুত্র পশ্চিমে কোথায় কাজ করিতেন, কলিকাতায় তিনি ও তাঁহার গৃহিণী থাকিতেন। প্ৰহাদবাবুর গৃহিণী, তাঁহার মাতা, এক বিধবা ভগিনী, দুই শিশুপুত্র ও এক কন্যা, তাঁহার পরিবার এই ছিল। এই সময়ে কন্যাটির বয়স দশ কি এগার ছিল । আমি তাহাকে যখন প্ৰথম দেখিলাম, তখন অকস্মাৎ আমার মনে উদয় হইল-কে যেন আমার কানে কানে বলিয়া দিল যে,-ডমরুধর। এই কন্যাটি তোমার দ্বিতীয় পক্ষ হইবে। তোমার জন্যই বিধাতা ইহাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। কিন্তু কি করিয়া কন্যার পিতার নিকট কথা উত্থাপন করি? বয়স তখন আমার পয়ত্রিশ বৎসর, রূপ আমার এই, অবস্থা আমার এই কথা উত্থাপন করিলে তিনি হয়ত হাসিয়া উড়াইয়া দিবেন। কিন্তু বিধাতার ভবিতব্য ত পারে? এই সময় এক ঘটনা ঘটিল, কন্যাটি নিদারুণ রোগ দ্বারা আক্রান্ত এই সূত্রে পাশের বাড়ীতে আমি যাওয়াআসা করিতে লাগিলাম । “আপনার কন্যা কেমন আছে?” দুইবেল প্ৰহাদবাবুকে সেই কথা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলাম । র জন্য কিছু কাজকৰ্ম্মও করিতে লাগিলাম। প্রয়োজন হইলে ঔষধ আনিয়া ও ডাক্তারের বাড়ী যাইতাম । নিজের পয়সা দিয়া তিনবার কন্যাটিকেও দেখিলাম। কন্যাটির রূপ ছিল না, তথাপি তাহাকে দেখিয়া আমার মন আরও মোহিত হইয়া গেল। এইরূপ আত্মীয়তার গুণে প্ৰহাদবাবুর সহিত আমার অনেকটা সীেহাদর্ঘ্য জন্মিল। শুনিলাম যে, কন্যাটির নাম মালতী। কেমন সুন্দর নাম দেখিয়াছ? নামটি শুনিলে কান জুড়ায় । ভগবানের কৃপায় মালতী আরোগ্যলাভ করিল। আমাদের ঝিকে মাঝে মাঝে দুই-একটি সন্দেশ, দুই-একটি রসগোল্লা, দুই-একখানি জিলেপি দিয়া বশ করিলাম, ক্ৰমে তাহার দ্বারা প্ৰহাদবাবুর মাতা, স্ত্রী ও বিধবা ভগিনীর নিকট কথা উত্থাপন করিলাম। প্ৰহাদবাবুর ভগিনী সংসারের কত্রী। যা বলিয়াছিলাম,- সে কথা তিনি হাসিয়া উড়াইয়া দিলেন। তিনি বলিলেন,- “কি ! ঐ জলার ভূতটার সঙ্গে মালতীর বিবাহ দিব? পোড়া কপাল!” কিন্তু কন্যার বিবাহের নিমিত্ত প্ৰহাদবাবু বিব্রত ছিলেন। তাঁহার টাকা ছিল না। কি করিয়া কন্যাদায় হইতে তিনি উদ্ধার হইবেন, সৰ্ব্বদাই তাহা ভাবিতেছিলেন। সুতরাং ঝি যে প্রস্তাব করিয়াছিল, সম্পূর্ণরূপে তিনি তাহা অগ্রাহ্য করিলেন না। তিনি বলিলেন,— “পুরুষমানুষের পক্ষে পয়ত্রিশ বৎসর বয়স কিছু অধিক নহে। তাহার পর রূপে কি করে গুণ থাকিলেই হইল। মালতীর পড়ার সময় সে আমাদের অনেক উপকার করিয়াছে। তাহাতে বোধ হয যে, ডমরুধর sy দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comািকস্তানাথ ******** মন্দ লোক নহে। কিন্তু কথা এই যে, সে সামান্য বেতনে কাপড়ের দোকানে কাজ করে। পরিবার প্রতিপালন সে কি করিয়া করিবে?” এ বিষয়ে পূৰ্ব্ব হইতেই আমি ঝিকে শিক্ষা দিয়াছিলাম। আমার অবস্থা সম্বন্ধে যখন কথা উঠিল, তখন ঝি বলিল যে, “দেশে ডমরুবাবুর অনেক জমি আছে, তাহাতে অনেক ধান হয়। আম-কঁঠাল-নারিকেলেরও অনেক বাগান আছে।” বলা বাহুল্য যে, এসব কথা সমুদয় মিথ্যা। এ সময়ে আমার কিছুই ছিল না। কন্যার মাতা, পিতা ও পিতামহী একপ্রকার সম্মত হইলেন! কিন্তু প্ৰহাদবাবুর ভগিনী ক্রমাগত আপত্তি করিতে লাগিলেন। অবশেষে তিনি বলিলেন যে,- হবু জামাতার যদি এত সম্পত্তি আছে, তাহা হইলে তাঁহাকে অন্ততঃ পাঁচশত টাকার গহনা দিতে হইবে। একথা শুনিয়া আমি হতাশ হইয়া পড়িলাম। পাঁচশত টাকা দূরে থাকুক, তখন আমার পাঁচশত কড়া কড়ি ছিল না। কিন্তু মালতী পয়মন্ত কন্যা। এই সময় সহসা আমার ভাগ্য খুলিয়া গেল। অভাবনীয় ঘটনাক্রমে অকস্মাৎ আমি দেহ হাজারের অধিক টাকা পাইলাম। আমার আনন্দের পরিসীমা রহিল না। কিন্তু মুখ ফুটিয়া আমি আনন্দ প্রকাশ করিতে পারিলাম না। আমার সৌভাগ্যের কথা কাহারও নিকট প্ৰকাশ করিতে পারিলাম না। আমি আমার গ্রামে যাইলাম। তেরশত টাকা কোন স্থানে লুক্কায়িত রাখিলাম। দুইশত টাকা লইয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিলাম । হইলাম। বিবাহের সমুদয় আয়োজন হইল। এ কোন বিড়ম্বনা ঘটে নাই! শুভদিনে আমার দ্বিতীয় বারের বিবাহ-কাৰ্য সম্পন্ন হইয়া সেইদিন সন্ধ্যাবেলা কন্যার নিমিত্ত টাকায় ক্রয় করিয়াছিলাম। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ একশত মোহর ইহার পর ছয় মাস পরম সুখে অতিবাহিত হইয়া গেল। পাশেই শ্বশুরবাড়ী। সে স্থানে সৰ্ব্বদাই আমার নিমন্ত্রণ হইত। আমার আদরের সীমা ছিল না। যখন আহার করিতে বসিতাম, তখন এটা খাই কি সেটা খাই, সৰ্ব্বদাই এই গোলে পড়িতাম। এত দ্রব্য তাহারা আমার সম্মুখে দিতেন । কিন্তু চিরদিন সমান যায় না। একদিন বেলা নয়টার সময় আহার করিয়া দোকানে যাইবার উদ্যোগ করিতেছি, এমন সময় আমার শ্বশুরবাড়ীর নীচের তলায় ঠিক আমার ঘরের পাশের ঘরে একটা ভয়ানক কোলাহল পড়িয়া গেল। আমি পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, আমার শ্বশুরবাড়ীর নীচের তলায় গোলোকবাবু নামে আমাদের একজন স্বজাতি বাস করিতেন। এ বাড়ীতে আমার ঘর, সে বাড়ীতে তাহার ঘর, ঠিক গায়ে গায়ে ছিল। এ বাড়ীতে আমার ঘর যেরূপ স্যাৎসেঁতে কদৰ্য ছিল, গোলোকবাবুর সেইরূপ ছিল না। তাহার ঘরটি খটুখটে শুষ্ক ফিটুফাট ছিল। তিনি sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro নিজে সরকারী আফিসে কাজ করিতেন, পশ্চিমে কোথায় তাহার পুত্র কাজ করিত। তাঁহার অবস্থা নিতান্ত মন্দ ছিল না। গোলোকবাবুর ঘরেই এই কোলাহল হইয়াছিল। গোল শুনিয়া আমি আমার শ্বশুরবাড়ীতে দৌড়িয়া যাইলাম, মনে করিলাম, হয়তো কোন বিপদ ঘটিয়া থাকিবে। সে স্থানে গিয়া দেখিলাম যে, আমার শ্বশুরবাড়ীর সমুদয় লোক নীচে আসিয়াছেন। আমাকে দেখিয়া মালতী উপরে পলায়ন করিল। অন্যান্য স্ত্রীলোকেরা ঘোমটা টানিয়া দিলেন। আমার শ্বশুর মহাশয়ের নিকট শুনিলাম যে, গোলোকবাবুর পুত্র মাঝে মাঝে পিতার নিকট টাকা পাঠাইতেন। পিতা সেই টাকায় মোহর গাথাইয়া তাহার ঘরের প্রাচীরের গায়ে যে আলমারি আছে, একটি বগুলি অর্থাৎ খালি করিয়া তাহার ভিতর রাখিয়া দিতেন। ক্রমে ক্রমে তিনি একশত মোহর গাথাইয়া আলমারির ভিতর রাখিয়াছিলেন। ঘরের প্রাচীরের গায়ে আলমারি, তাহাতে চারিটি তক্তার খোপ ছিল, সম্মুখে কাঠের কপাট ছিল, কপাট সৰ্ব্বদা চাবিবন্ধ থাকিত। গোলোকবাবুর এই একশত মোহর চুরি গিয়াছিল। তাহার জন্যই এ গোলমাল। গোলোকবাবু মনের দুঃখে নীরবে বসিয়া আছেন, তাহার স্ত্রী কাঁদিতেছেন। কবে চুরি গিয়াছে, তাহা তিনি বলিতে পারেন না। তিনি বলিলেন যে, এক বৎসর পূৰ্ব্বে ঐ মোহরগুলি তিনি আলমারির ভিতর রাখিয়াছিলেন। তাহার পর আর তিনি নূতন মোহর ক্রয় করিতে পারেন নাই। তিনি বলিলেন যে, এ ঘরে কেবল তিনি ও তাহার স্ত্রী থাকেন, অন্য কেহ এ-ঘরে প্রবেশ করে না। সেজন্য কাহাকেও তিনি সন্দেহ করিতে পারেন না। আমার শ্বশুর মহাশয় পুলিসে খবর দিবার প্রস্তাব করিলেন। কিন্তু আমি তাহাতে আপ “কখন কবে চুরি গিয়াছে, তাহার কোন ঠিক নাই, কাহীর তখন মিছামিছি পুলিসে আর সংবাদ দিয়া কি 卤梦 সন্ধ্যার পুত্র যখন আমি দােকান হইতৃেপ্তির আমাকে ডাকিয়া বলিলেন,- “ডমরুধারাষ্ট্রীড় বিপদের কথা। পাশের বাড়ীতে তুমি যে ঘরে প্রাচীর; দুই ঘরের কড়ি সেই এক”দেওয়ালের উপর। গোলোকবাবুর ঘরে যে স্থানে সে আলমারি আছে, সে স্থানের দেওয়ালটি কাজেই অতিশয় পাতলা। আজ তিনি আলমারির ভিতর ভাল করিয়া অনুসন্ধান করিতেছিলেন, যে স্থানে তিনি মোহর রাখিয়াছিলেন, তাহার হাত লাগিতেই সেই স্থানের দেওয়ালটি ভাঙ্গিয়া গেল। তখন তিনি দেখিলেন যে, সে স্থানে দেওয়ালে ইট ছিল না, কেবল একটু বালি খাম ছিল। সেই বালি ভাঙ্গিয়া প্রাচীরে ফুটা হইয়া গেল। দুই ঘরের এক দেওয়াল, সুতরাং সেই ছিদ্র তোমার ঘরেও হইল। তোমার উপর এখন বিলক্ষণ সন্দেহ হইয়াছে। যদি মোহরগুলি তুমি বাপু লইয়া থােক, তাহা হইলে আস্তে আস্তে ফিরাইয়া দাও। তাহা হইলে সকল কথা মিটিয়া যাইবে। তা না হইলে বড় গোলমাল হইবে।” এই কথা শুনিয়া আমি যেন আকাশ হইতে পড়িলাম। আমি বলিলাম,- “সে কি মহাশয়! আমি ভদ্রসন্তান, আমি চোর নই। তাহার পর আপনি আমার শ্বশুর। আমাকে ওরূপ কথা বিলিবেন না ।” তাহার পর গোলোকবাবু নিজে এবং তাঁহার গৃহিণী আমাকে অনেক মিনতি করিয়া বলিলেন,- “বাপু! ভুলভ্রান্তিক্ৰমে যদি মোহরগুলি তোমার হাতে পড়িয়া থাকে, তামাসা করিয়া যদি রাখিয়া থাক, তাহা হইলে ফিরাইয়া দাও, তোমার পায়ে পড়ি, মোহরগুলি ফিরাইয়া দাও।” broo află cios (gs se - www.amarboi conf** তাহাদের উপর আমি রাগিয়া উঠিলাম যে,- “আমাকে আপনারা চোর বলেন!! আপনারা ভাল মানুষ নহেন।” ইত্যাদি। ক্রমে কথা আমার মনিব হর ঘোষের কানে উঠিল। মোহর ফিরিয়া দিতে তিনিও আমাকে অনেক অনুরোধ করিলেন। আমি তাঁহাকে বলিলাম,- “মহাশয়! আজি কয়েক বৎসর আপনার দোকানে কাজ করিতেছি, আর কয় বৎসর। আপনার বাটীতে বাস করিতেছি। একটা পয়সা কখন কি আপনার লইয়াছি? আমার প্রতি সন্দেহ হয় এমন কাজ কখন কি আমি করিয়াছি?” দিনকয়েক বিলক্ষণ গোল চলিল। দেখ, লম্বোদর! মানুষ হাজার বুদ্ধিমান হউক, এরূপ কাজে একটা-না-একটা ভুল করে। আমিও তাঁহাই করিয়াছিলাম। এ অনেক দিনের কথা হইল, এখন আর প্রকাশ করিতে দােষ নাই। প্রকৃত ঘটনা এই হইয়াছিল, —মশার দীেরাত্ম্যে রাত্ৰিতে আমার নিদ্রা হইত না। অনেক কষ্টে পাঁচসিকা দিয়া একটি মশারি কিনিয়াছিলাম। মশারিটি খাটাইবার নিমিত্ত দেওয়ালে একদিন পেরেক মারিতেছিলাম। পেরেক মারিতে হঠাৎ দেওয়ালের কতকটা বালি ভাঙ্গিয়া পড়িল। সেই স্থানটিতে একটি ছিদ্ৰ হইল। ছিদ্রের ভিতর আমি হাত দিলাম। হাতে কি এক ভারী দ্রব্য ঠেকিয়া গেল। বাহির করিয়া দেখিলাম যে, মোহরপূর্ণ এক বগুলি। তৎক্ষণাৎ আমি আমার ঘরের দ্বার বন্ধ করিয়া দিলাম। তাহার পর পুনরায় গৰ্ত্তের ভিতর হাত দিয়া দেখিলাম যে, তাহার অপর পার্শ্বে কাঠ, হাতে সেই কাঠ ঠেকিয়া গেল। তখন ইহার অর্থ কিছু বুঝিতে পারিলাম না। কিন্তু তাহার পর প্রকাশ হইল যে, আমার ঘরের ও গােলোকবাবুর ঘরের এক প্রাচীর, প্রাচীরের অপর পার্শ্বে গােলোকবাবুর ঘরে আলমারি, আমার হাতে আলমারির কপাট NIC বলা বাহুল্য যে মোহরগুলি পাইয়া আমার হইল। চুপি চুপি সেইগুলি গণিতে লাগিলাম। পাছে শব্দ হয়, সেজন্য একটি করিয়া গণিলাম একশত মোহর। চিরকাল পরিশ্রম করিলেও কখন আমি এত করিতে পারিতাম না। দেখিলাম যে, এ সেকালের মোহর নহে, বিলাতি লোকে গিনি বলে। পরদিন একটু বালি ও চূণ আনিয়া দেওয়ালের ছিদ্রটি দিলাম। তাহার পর বাজারে গিয়া মোহরগুলি বিক্রয় করিলাম। পনেরশত টাকার অধিক হইল। দেশে গিয়া তেরশত টাকা কোন এক নিভৃত স্থানে পুঁতিয়া রাখিলাম। বিবাহের নিমিত্ত বাকী টাকা কাছে রাখিয়া দিলাম। মোহর যে গিয়াছে, ভাগ্যে গোলোকবাবু ছয় মাস পৰ্যন্ত দেখেন নাই। যে সময় মোহর হস্তগত হইয়াছিল, সে সময় যদি তিনি খোজ করিতেন, তাহা হইলে আমার আর বিবাহ হইত না। বলিতেছিলাম যে, এই মোহর সম্বন্ধে আমি একটি ভুল করিয়াছিলাম। বড়বাজারে আমাদের কাপড়ের দোকানের পার্শ্বে এক পোদারের দোকান ছিল। সেই দোকানে আমি মোহরগুলি বিক্রয় করিয়াছিলাম। একটু দূরে গিয়া যদি এ কাজ করিতাম, তাহা হইলে আর বিশেষ কোন গণ্ডগোল হইত না। পাশেই দোকান, সেজন্য পোদারের সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে আমার মনিব হর ঘোষ মহাশয় আমি যে মোহর বেচিয়াছিলাম, তাহা জানিতে পারিলেন। প্ৰহাদবাবুকে তিনি বলিয়া দিলেন। সকলে জটলা করিয়া আমাকে মোহর বিক্রয়ের টাকা গোলোকবাবুকে দিতে বলিলেন। আমি বলিলাম যে,- “এ মোহর আমার মায়ের ছিল। মৃত্যুকালে মা আমাকে দিয়া গিয়াছিলেন। বিবাহে ও অন্যান্য বিষয়ে মোহর বিক্রয়ের টাকা আমি খরচ করিয়া ফেলিয়াছি। সে টাকা এখন আমি কোথায় পাইব, আর যদি থাকিত, তাহা হইলে কেনই বা দিব?” অবশ্য আমার একথা তােহাৱা বিশ্বাস করিলেন না। যখন নিতান্ত আমার নিকট হইতে ডমরু-চরিত sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro toS করিলেন। আমি মনে মনে ভাবিলাম,- “তাহাতে ক্ষতি কি? এক বৎসর কি দুই বৎসর যদি আমার জেল হয়, তাহা হইলে মেয়াদ খাটিয়া পরে সেই টাকা লইয়া কোনরূপ ব্যবসা করিব। আর এখন যদি টাকাগুলি দিয়া দিই, তাহা হইলে আমার দশা কি হইবে? ভগবান আমাকে মোহরগুলি দিয়াছেন!! সে টাকা ফিরিয়া দিলে আমার মহাপাতক হইবে।” কিন্তু আমাকে পুলিসে দেওয়া হইল না। আমার শাশুড়ী ঠাকুরাণী কাদিয়া-কাটিয়া কুরুক্ষেত্ৰ করিলেন!! অবশেষে সকলে মিলিয়া আমার নিকট হইতে গোলোকবাবুর পুত্রের নামে এক হাজার টাকার হ্যাণ্ডনেট লিখিয়া লইলেন। আর আমি মালতীকে যে গহনাগুলি দিয়াছিলাম, প্ৰহাদবাবু সেগুলি গোলোকবাবুকে দিয়া দিলেন। তাহারা আরও অনুসন্ধান করিয়া জানিলেন। যে, আমার বিবাহের সময় যে জমি-জোৱাত বাগান-বাগিচার কথা বলিয়াছিলাম, সে সমুদয় মিথ্যা । তৃতীয় পরিচ্ছেদ সুন্দরবনের অদ্ভুজীব (9 আমার নিকট হইতে ইহাৱা যখন হ্যাণ্ড খয়া লইলেন, তখন আমি মনে মনে ভাবিলাম,- “যত পার হ্যাণ্ডনেট স্ট্রও। উপুড় হস্ত কখন আমি করিব না। নালিশ করিবে? ডিক্ৰী করিবে? ডিক্ৰী ধুইয়া খৃস্ট্রঞ্জাঁ কি বেচিয়া লইবে বাপু?” বস্তুতঃ এ হ্যাণ্ডনেটের একটি দেয়ার্সাও আমাকে দিতে হয় নাই। ইহার কিছুদিন পরে গোলোকবাবু কৰ্ম্মত্যাগ করিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। সে স্থানে তাঁহার ও তাঁহার স্ত্রীর মৃত্যু হইল। টাকা সম্বন্ধে তাঁহার পুত্র অনেকবার আমাকে পত্র লিখিয়াছিলেন। তাহার উত্তর আমি দিই নাই, তাহা নহে। দুইটা ছড়ি! সে কথা পরে বলিব। হর ঘোষ আমাকে দোকান হইতে ছাড়াইয়া দিলেন। সেজন্য আমি দুঃখিত হইলাম না। মনে জানি যে, আমার সেই তেরশত টাকা আছে। পূৰ্ব্বেই মনে মনে স্থির করিয়াছিলাম যে, সেই টাকা দিয়া হয় জমিদারী কিনিব। আর না হয় ব্যবসা করিব, কিন্তু যতদিন ঐ হ্যাণ্ডনেটের ভয় থাকিবে, ততদিন কিছু করিব না। আমার শ্বশুর মহাশয় বলিলেন,- “তোমাকে আর আমার বাড়ীতে আসিতে দিব না। আজ হইতে জানিলাম যে, আমার কন্যা বিধবা হইয়াছে। তোমার মুখ দেখিলেও পাপ হয়, আর জন্মে অনেক পাপ করিয়াছিলাম, সেজন্য তোমা হেন ইতরের হাতে আমি কন্যা দিয়াছি। তোমার ঘরে আমি কন্যা পাঠাইব না।” আমি ভাবিলাম যে,- “বটে, এখন আমার পুঁজি হইয়াছে, কি করিয়া অর্থ সঞ্চয় করিতে হয়, হর ঘোষের বাড়ীতে তাহা আমি শিখিয়াছি। যেমন করিয়া পারি, আমি ধন্যবান হইব, টাকা হইলে কেহ তখন জিজ্ঞাসা করে না যে, অমুক কি করিয়া সম্পত্তিশালী হইয়াছে। জাল করিয়া broS află cios (gs se - www.amarboi conf** এই কথা শুনিলেই ইতার-ভদ্র সকলেই গিয়া তাহার পদলেহন করে, সকলেই তাহার পায়ে তৈলমৰ্দ্দন করে, রিও একবার আমার টাকা হউক, তখন দেখিব যে, তুমি বাছাধন আমার বাড়ীতে ফ্যান চাটিতে যাও কি না।” অবশ্য এসব মনের চিন্তা প্ৰকাশ করিলাম না, কিন্তু যথাকলে আমার সে ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হইয়াছিল। আমার শ্বশুর মহাশয়ের রাগের আর একটি কারণ ছিল, মালতীকে আমি যে পাঁচশত টাকার গহনা দিয়াছিলাম, তাহা একশত টাকায় ক্রয় করিয়াছিলাম। দুইখানি ব্যতীত সমুদয় অলঙ্কার কেমিক্যাল সোনার অর্থাৎ গিল্টির গহনা ছিল। সুতরাং গহনাগুলি পাইয়া গোলোকবাবুর বিশেষ লাভ হয় নাই । করিয়াছিলাম । সেই সময় আবা সম্বন্ধে আমার অভিজ্ঞতা জনিল। কিছুদিন পরে যখন হ্যাণ্ডনেটের ভয় যাইল, তখন নিজের জন্য আমি একটি আবাদ খুঁজিতে লাগিলাম। খুঁজিতে খুঁজিতে শুনিলাম যে, দূরে নিবিড় বনের নিকট এক আবাদ সুলভ মূল্যে বিক্রয় হইবে। যাহার আবাদ, তাহার নিকট গিয়া সমুদয় তত্ত্ব আমি অবগত হইলাম। তিনি বলিলেন যে, এই আবাদ তিনি পাঁচ হাজার টাকায় ক্রয় করিয়াছিলেন। নোনাজল প্ৰবেশ নিবারণের নিমিত্ত ইহাতে তিনি ভেড়ি অর্থাৎ বাঁধ বাধিয়াছিলেন, পানীয় জলের নিমিত্ত পুষ্করিণী খনন করিয়াছিলেন, বন পরিষ্কার করিয়াছিলেন; দুই-চারি ঘর প্রজাও বসাইয়াছিলেন, কিন্তু সহসা তাহার বাধ কয়েক স্থানে ভাঙ্গিয়া গেল, আবাদের ভিত্রু নােনাজল প্ৰবেণুকুরিল, প্ৰজাগণ পলায়ন করিল, সে আবাদ পুনরায় বনে আবৃত হইয়া পড়িল । পুনরায় স্টুঠি এক্ষণে এক হাজার টাকা পাইলে ছাড়িয়া দিবে। দেখিতে যাইলাম। কিন্তু বাঘের ভয়ে মার্চ ইহঁতে নীচে নামিলাম না। এ অঞ্চলে তখন অধিক ಡಿ হইতে স্থানটি দেখিয়া আমার ত হইল। মনে ভাবিলাম যে, একটু বিপদের আশঙ্কা না। থাকিলে এরূপ সম্পত্তি হাজার টাকায় পাওয়া যায় না। মোহর প্রদান করিয়া ভগবান আমার প্রতি কৃপা প্ৰকাশ করিয়াছেন। আমার পড়তা খুলিয়া গিয়াছে। একটু যত্ন করিলেই এই আবাদে পরে সোনা ফলিবে। আরও ভাবিলাম যে, আমার কাছে পূৰ্ব্ব হইতেই তেরশত টাকা ছিল। তাহার পর আবাদে কাজ করিয়া আরও পাঁচশত টাকা সঞ্চয় করিয়াছি। এক হাজার টাকা দিয়া সম্পত্তি ক্রয় করিলে আমার কাছে আটশত টাকা থাকিবে। ভেড়ি। বঁধিতে, বন কাটিতে, প্রজা বসাইতে এই আটশত টাকা খরচ করিব। তাহার পর মাছের তোলে মাছ ভাজিব, অর্থাৎ ইহার আয় হইতেই বাকী ভূমি উঠিত করিব। এইরূপ ভাবিয়া-চিন্তিয়া সে বিষয় আমি ক্রয় করিলাম। তাহার পর শুন বিপত্তির কথা । আবাদে কাজ করিবার সময় একজন সাইয়ের সহিত আমার আলাপ হইয়াছিল। মন্ত্রবলে যাহারা বাঘ দূর করিতে পারে, এরূপ লোককে সীই বলে। বড়গাছের একখানি নীেকা ভাড়া করিলাম। তাহাতে ছয়জন মাঝি ছিল। আবাদে কোথায় কি করিতে হইবে, তাহা দেখিবার নিমিত্ত সাঁই ও আমি যাত্রা করিলাম। আমার আবাদের পাশেই এক গাঙ ছিল। এই নদী দিয়া পূৰ্ব্ব ও পশ্চিমবঙ্গের নীেকা যাতায়াত করিত। আমি, সঁই ও তিনজন মাঝি লাঠিসোটা লইয়া নীেকা হইতে নামিলাম। আবাদের এদিক-ওদিক্‌ কিয়ৎপরিমাণে ভ্ৰমণ করিলাম। অনেক ভূমি উ****ত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ br○○ বনে আবৃত, সকল স্থান দেখিতে পারিলাম না। যে যে স্থানে বীধ ভাঙ্গিয়া গিয়াছিল, তাহা দেখিলাম। পুষ্করিণীটি উচ্চ ভূমিতে ছিল, তবুও কতক পরিমাণে তাহার ভিতর জোয়ারের নােনাজল প্ৰবেশ করিয়াছিল। যে কয়জন কৃষক বাস করিয়াছিল, একখানি ব্যতীত আর সকলের ঘর ভূমিসাৎ হইয়া গিয়াছিল। সেই একখানি ঘরের ভিতর প্রবেশ করিতে আমার ইচ্ছা! হইল। কিন্তু একটু আগে গিয়া দেখিলাম যে, একটি মৃত ব্যাঘ্ৰ সেই স্থানে পড়িয়া রহিয়াছে। কিছুক্ষণ তাহার নিকট দাঁড়াইয়া আমরা দেখিতে লাগিলাম। আমার সাই বলিল যে, এ ব্যাঘাটিকে অন্য কোন সাই মন্ত্রবলে বধ করিয়া থাকিবে। কারণ ইহার শরীরে গুলী অথবা অন্য কোন অস্ত্ৰ চিহ্ন নাই । তাহার পর কৃষকের ভগ্নগৃহ অভিমুখে আমরা গমন করিলাম। এ ঘরখানির চারিদিকে প্রাচীর ও উপরে চাল ছিল, কিন্তু ঘরের দ্বারে আগড় অথবা কপাট ছিল না, যেই আমরা দ্বারের নিকট লক্ষ মৌমাছির গুনগুন রব। ভিতরে হয় তো বৃহৎ একটি চাক হইয়াছে। কিন্তু পরীক্ষণেই যাহা দেখিলাম, তাহাতে ঘোরতর আশ্চৰ্যন্বিত হইলাম। কালো কালো চড়াই পাখীর ন্যায় শত শত কি সব দেওয়ালের গায়ে বসিয়া আছে। তাহাদের সর্বশরীর কালো, কিন্তু পেটগুলি রক্তবর্ণের। তাহাদের দুইটি করিয়া ডানা আছে, উড়িবার নিমিত্ত ডানাগুলি নাড়িতেছে। তাহাতেই এরূপ বনবন। শব্দ হইতেছে, রক্তবর্ণের কোন দ্রব্য খাইয়া পেট পূর্ণ করিয়াছে, সেজন্য উড়িতে পারিতেছে না। এ কি জীব? কিছুই আমরা বুঝিতে পারিলাম না। যে জীব হউক, এই জীবই রক্তপান করিয়া ব্যাঘাটিকে বধ করিয়া থাকিবে। এই সময়ে সাঁই এক বড় নিৰ্ব্বোধের কাজ করিয়া বসিল, লাঠি দ্বারা মাটিতে আঘাত করিয়া খণ্ঠ করিল। গুটিদশ জীব যাহারা সম্পূর্ণভাবে উদর পূর্ণ করিয়া রক্তপান করে নাই, প্রাচীর্বােঞ্জািগ হইতে উড়ন্তীয়মান হইল। সঁই সকলের অগ্ৰে ছিল, জীব কয়টি তাহার গায়ে মূৰ্ত্তিীৰ্বািসল, প্রাণ গেল বলিয়া সীই দৌড়িল, দশহাত যাইতে-না-যাইতে সঁই ভূতলে গ ཙེ་རྩྭ་རྩེ་པོ་ ছটফট করিতে লাগিল । চতুর্থ পরিচ্ছেদ মশার মাংস ডমরুধর বলিতে লাগিলেন, আমরা দেখিলাম যে, সাইয়ের গায়ে দশ-বারটি কালো জীব বসিয়াছে। যাতনায় সাই ছট্‌ফটু করিতেছে। লাঠি দিয়া আমি সেই জীবগুলিকে তাড়াইতে চেষ্টা করিলাম। আমার লাঠির আঘাতে সাইয়ের দেহ হইতে তিনটি জীব উডউীয়মান হইল। তাহদের একটি আমার গায়ে বসিতে আসিল । সবলে তাহার উপর আমি লাঠি মারিলাম। লাঠির আঘাতে জীবটি মৃত হইয়া মাটিতে পড়িয়া গেল। আমি তাহার মৃতদেহ তুলিয়া লইলাম। ইতিমধ্যে আর দুইটি জীব একজন মাঝির গায়ে গিয়া বসিল। মাঝি চীৎকার করিয়া উঠিল। দশ-বার হাত দৌড়িয়া গিয়া সেও মাটিতে পড়িয়া ছটফটু করিতে লাগিল। আমি সঁইয়ের দিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, সঁই জীবিত নাই, সাঁই মরিয়া গিয়াছে। আমি বুঝিলাম brの8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comপূির্ডস”নািপ ********* যে, এ জীব কেবল যে রক্তপান করে, তাহা নহে, ইহার ভয়ানক বিষও আছে। তখন অবশিষ্ট দুইজন মাঝির সহিত আমি দৌড়িয়া নীেকায় গিয়া উঠিলাম ও তৎক্ষণাৎ নীেকা ছাড়িয়া দিয়া সে স্থান হইতে পলায়ন করিলাম। নীেকায় বসিয়া আমি ভাবিতে লাগিলাম। মনে করিলাম যে, মোহর বিক্রয়ের টাকাগুলি বুঝি জলাঞ্জলি দিলাম, পাপের ধন বুঝি প্ৰায়শ্চিত্তে গেল। এখন বুঝিতে পারিলাম যে, পাচ হাজার টাকার সম্পত্তি কেন সে লোক এক হাজার টাকায় বিক্রয় করিয়াছে। যে জীবটিকে লাঠি দিয়া মারিয়াছিলাম, যাহার মৃতদেহ আমি তুলিয়া লইয়াছিলাম, তাহা এখন পৰ্যন্ত আমার হাতেই ছিল। নীেকায় উপর রাখিয়া সেইটিকে নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ উল্টাইয়াপাল্টাইয়া আমি ঘোরতর আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলাম। দেখিলাম যে, —সে অন্য কোন জীব্য নহে, বৃহৎ মশা! চড়াই পাখীর ন্যায় বৃহৎ মশা! মশা যে এত বড় হয়, তাহা কখন শুনি নাই। শরীরটি চড়াই পাখীর ন্যায় বড়, ঔডুটি বৃহৎ জোকের ন্যায়। ডাক্তারেরা যেরূপ ছুরি দিয়া ফোঁড়া কাটে শুড়ের আগায় সেইরূপ ধারালো পদাৰ্থ আছে। জীব-জন্তু অথবা মানুষের গায়ে বসিয়া প্ৰথম সেই ছুরি দিয়া কতক চৰ্ম্ম ও মাংস কাটিয়ালয়। তারপর সেই স্থানে তঁড় বসাইয়া রক্তপান করে। কেবল যে রক্তপান করিয়া জীবজন্তুর প্রাণ বিনষ্ট করে তাহা নহে, ইহাদের ভয়ানক বিষ আছে, সেই বিষে অপর প্রাণী ধড়ফড় করিয়া মরিয়া যায়। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কি করিয়া জানিলে যে, সে জীব কোন নূতন প্রকার পক্ষী নহে?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “পক্ষীদের দুইটি ইহার ছয়টি পা; পক্ষীদের ডানায় পালক ছিল না; পক্ষীদের ঠোঁট থাকে, ঠোঁটের ইহার ঔড় ছিল; পক্ষীদের শরীরে হাড় থাকে, ইহার শরীর কাদার ন্যায় নরম। আমি স্থির করিলাম যে, ইহা পক্ষী নহে, মশা ।” ঢ় হয়, তাহা আমার বিশ্বাস হয় না।” হইবে না? হন্তী বৃহৎ মশা ব্যতীত আর কিছুই নহে। মশার শুড় আছে, হন্তীরও ভঁড় আছে। তবে হন্তী যদি রক্তপান করিত, তা হইলে পৃথিবীতে অপর কোন জীব জীবিত থাকিত না । সেইজন্য হস্তী গাছপালা খাইয়া প্ৰাণধারণ করে।” ডমরুধর বলিলেন,- “তাহা ভিন্ন আমি এ কথায় প্রমাণ রাখিয়াছি। যেমন সেই বাঘের ছালখানি ঘরে রাখিয়াছি, সেইরূপ এই মশার প্রমাণস্বরূপ আমি জোক রাখিয়াছি। আমাদের গ্রামের নিকট যে বিল আছে, মশার ঔড়টি কাটিয়া আমি সেই বিলে ছাড়িয়া দিয়াছিলাম। সেই ভঁড় হইতে এখন অনেক বড় বড় জোক হইয়াছে। আমার কথায় তোমাদের প্রত্যয় না। হয়, জলায় একবার নামিয়া দেখ। প্রমাণ ছাড়া আমি কথা বলি না।” লম্বোদর বলিলেন, — “মশার ভঁড় পচিয়া জোক হইতে পারে না।” শঙ্কর ঘোষ বলিলেন,- “কেন হইবে না? স্বেদ হইতে স্বেদাজ জীব হয়। বাদাবনের পাতা পচিয়া চিংড়ি মাছ হয়। কোন বিএ অথবা এমএ অথবা কি একটা পাশ করা লোক কৃষিকাৰ্য সম্বন্ধে একখানা বাঙ্গালা স্কুলপাঠ্য পুস্তক লিখিয়াছিলেন । পুদিনা গাছ সম্বন্ধে তাহাতে তিনি এরূপ লিখিয়াছিলেন, —একখণ্ড দাঁড়িতে গুড় মাখাইয়া বাহিরে বঁাধিয়া দিবে। গুড়ের লোভে তাহাতে মাছি বসিয়া মলত্যাগ করবে। মাছির মলমূত্রে দড়িটি যখন পূর্ণ হইবে, তখন সেই দড়ি রোপণ করিবে। তাহা হইতে পুদিনা গাছ উৎপন্ন হইবে। মক্ষিকার বিষ্ঠায় যদি পুদিন গাছ

          • ত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ troo হইতে পারে, তাহা হইলে মশার ভঁড় হইতে জোক হইবে না কেন?”

ডমরুধর বলিতে লাগিলেন, — যাহা হউক, আমার বড়ই চিন্তা হইল। এত কষ্টের টাকা সব বৃথায় গেল, তাহা ভাবিয়া আমার মন আকুল হইল। কিন্তু আমি সহজে কোন কাজে হতাশ হই না। গ্রামে ফিরিয়া আসিয়া, অনেক ভাবিয়াচিন্তিয়া বৃহৎ একটি মশারি প্রস্তুত করিলাম। কাপড়ের মশারি নহে, নেটের মশারি নহে, জেলেরা যে জাল দিয়া মাছ ধরে, সেই জালের মশারি। তাহার পর পাঁচজন সাঁওতালকে চাকর রাখিলাম। একখানি নীেকা ভাড়া করিয়া সেই নামিলাম। চারি কোণে চারিটি বঁাশ দিয়া চারিজন মাঝি ভিতর হইতে মশারি উচ্চ করিয়া ধরিল। তীর-ধনু হাতে লইয়া চারিপার্শ্বে চারিজন সাঁওতাল দাঁড়াইল। একজন সাঁওতালের অভ্যন্তরে অগ্রসর হইতে লাগিলাম। অধিক দূর যাইতে হয় নাই। বৃহৎ মশকগণ বােধ হয় অনেক দিন উপবাসী ছিল। মানুষের গন্ধ পাইয়া পালে পালে তাহারা মশারির গায়ে আসিয়া বসিল। কিন্তু মশারির ভিতর প্রবেশ করিতে পারিল না। সঁওতাল পাঁচজন ক্রমাগত তাহাদিগকে তীর দিয়া বধ করিতে লাগিল। সেদিন আমরা আড়াই হাজার মশা মারিয়াছিলাম। সন্ধ্যাবেলা কাজ বন্ধ করিয়া পুনরায় নীেকায় ফিরিয়া আসিলাম। সাঁওতালগণ এককুড়ি মৃত মশা সঙ্গে আনিয়াছিল। ভঁড়, ডানা ও পা ফেলিয়া দিয়া সাঁওতালরা মশা পোড়াইয়া ভক্ষণ করিল। তাহারা বলিল যে, ইহার মাংস অতি উপাদেয়; ঠিক বাদুড়ের মাংসের মত। আমাকে পরদিন আমরা দুই হাজার মশা বধ করি বার শত, এইরূপ প্ৰতিদিন মশার সংখ্যা কুমন্তই নিঃশেষ হইয়া গেল। হয় আমরা সী যুণ্ঠশি মারিয়া ফেললাম, আর না হয় অবশিষ্ট মশা নিবিড় বনে পলায়ন করিল। সেই দুইধি আমুর আবাদে এ বৃহৎ জাতীয় মশুরু উপদ্রব হয় নাই। মশার হাত হইতে অর্থাৎ শুড় ইইতে পরিত্রাণ পাইয়া আমি আবাদের চারিদিকে পুনরায় ভেড়ি বাধাইলাম। বন কাটিয়া ও পুষ্করিণীর সংস্কার করিয়া কয়েক ঘর প্রজা বসাইলাম। এই সমুদয় কাজ করিতে আমার আটশত টাকা খরচ হইয়া গেল। তখন দেখিলাম যে, আরও হাজার টাকা খরচ না করিলে কিছুই হইবে না। সে হাজার টাকা কোথায় পাই। পঞ্চম পরিচ্ছেদ শূন্যপথে লোহার সিন্দুক আমাদের গ্রাম হইতে সাত ক্রোশ দূরে কাচপুরের স্বরূপ সরকেলের সহিত আমার আলাপপরিচয় ছিল। কাপড়ের দোকানে যখন কাজ করিতাম, তখন তিনি আমাদের খরিদার ছিলেন। কাপড়ের দাম লইয়া তিনি বড় হেঁচড়া-হিচড়ি কচলা-কচলি করিতেন না। তিন সত্য করিয়া ধৰ্ম্মের দোহাই দিয়া আমি তাহাকে বলিতাম যে, “আপনার নিকট হইতে কখনও আমি এক brow দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%87oooooook আনার অধিক লাভ করিব না।” কিন্তু ফলে তাঁহাকে বিলক্ষণ ঠকাইতাম। আমি ব্যবসাদারের চাকর ছিলাম। দোকানদারের রীতি এই। আলাপী লোকেরা আমাদিগকে বিশ্বাস করে, আলােপী লোককে ঠকাইতে দোকানদারের বিলক্ষণ সুবিধা হয়। বড়বাজারে বসিয়া প্রতিদিন হাজার হাজার মিথ্যাকথা বলিতাম; শত শত লোককে আমরা ঠিকাইতাম। না ঠিকাইলে আমাদের কাজ চলে না। এই সূত্রে সরকেল মহাশয়ের সহিত আমার আলাপ-পরিচয় হইয়াছিল। সরকেল মহাশয়ের একটু জমিদারী আছে, তাহা ব্যতীত তিনি তেজাঁরতি করেন। আমি ভাবিলাম যে, তাহার নিকট হইতে এক হাজার টাকা ঋণ গ্ৰহণ করিয়া আমি আমার আবাদের পতিত ভূমি উঠিত করিব। এইরূপ মনে করিয়া আমি সরিকেল মহাশয়ের ভবনে গমন করিলাম। আবাদ বাধা রাখিয়া তাহার নিকট এক হাজার টাকা ঋণ চাহিলাম। তিনি বলিলেন যে, “আব্বাদ না দেখিয়া টাকা দিতে পারি না।” একজন গোমস্তাকে আমার আবাদ দেখিতে পাঠাইলেন। সাতদিন পরে পুনরায় আমাকে যাইতে বলিলেন। এই সময় আমি দেখিলাম যে, সেই গ্রামে দুইজন সন্ন্যাসী আসিয়াছেন। সরকেল মহাশয়ের বাড়ীর বাহিরে তাহারা আডিডা গাড়িয়াছেন। তাহদের সহিত তিনটি ঘোড়া ও বৃহৎ এক প্রস্তরনিৰ্ম্মিত কালীর প্রতিমা আছে। দিনের মধ্যে তিনবার শঙ্খ ও শিঙ্গা বাজাইয়া তাহারা দেবীর পূজা করেন। সমস্ত দিন অনেক লোক আসিয়া প্রতিমা দর্শন কর। খুব ধুম। যে পৰ্যন্ত সন্ন্যাসী মহাশয়েরা এই গ্রামে আসিয়াছেন, সেই পৰ্যন্ত সরকেল মহাশয় তাহদের সমুদয় ব্যয়নিকর্ধাহ করিতেছেন। ইহােৱ অনেক বৎসর পরে আমি নিজে সন্ন্যাসী-মাহাত্ম্য সম্বন্ধে তখন যদি কিছু অভিজ্ঞতা তাহা হইলে সরকেল মহাশয়কে সাবধান করিতাম । (ề সাতদিন পরে পুনরায় আমি র বাটী গমন করিলাম। সন্ধ্যাবেলা পৌছিলাম। সেজন্য টাকা-কড়ি সম্বন্ধে কোন কথাবাৰ্ত্ত হইল না। সরকেল মহাশয়ের দুই মহল কোটাবাড়ী। পূৰ্ব্বদিকে র, পশ্চিমদিকে সদরবাটী! সদরবাটীর উত্তরদিকে অভিভূত হইয়া পড়িলাম। রাত্রি বােধ হয় তখন একটা, এমন সময় ভিতরবাড়ীতে দুমৃদুম করিয়া শব্দ হইতে লাগিল। আমার নিদ্ৰাভঙ্গ হইল। ডাকাত পড়িয়াছে মনে করিয়া আমি উঠিয়া বসিলাম। কিন্তু লোকের সাড়া-শব্দ কিছুই পাইলাম না। শব্দটাও ডাকাতপাড়া শব্দের ন্যায় নহে। আমার বোধ হইল, যেন একটা ভারী বস্তু এক সিঁড়ি হইতে অপর সিঁড়িতে সবলে লাফাইয়া উপরতলা হইতে নীচের তলায় নামিতেছে। প্রথম মনে করিলাম যে, সরকেল মহাশয় বুঝি কোন বস্তু এই প্রকারে উপর হইতে নীচে আনিতেছেন। রথের সময় পুরুষোত্তমে জগন্নাথের কোমরে দড়ি বাধিয়া উড়ে পাণ্ডারা যেরূপ মন্দিরের এক পৈঠা হইতে অপর পৈঠায় নামায়, সরকেল মহাশয় বুঝি সেইরূপ কোন ভারী বস্তু নামাইতেছেন। কিছুক্ষণ পরে বাড়ীর ভিতর কোলাহল পড়িয়া গেল। সরকেল মহাশয় চীৎকার করিয়া বলিলেন যে, টাকাকড়িপূর্ণ তাঁহার লোহার সিন্দুক কে লইয়া যাইতেছে। তাহার পর স্ত্রীলোকেরা চীৎকার করিয়া বলিল যে, ভূতে লোহার সিন্দুক লইয়া যাইতেছে। আমি স্বচক্ষে দেখি নাই, কিন্তু পরে শুনিলাম যে, সিন্দুক আপনা। আপনি সিঁড়ির এক পৈঠা হইতে অপর পৈঠায় নামিতেছিল। লোহার সিন্দুক যখন উপর হইতে নীচে নামিতেছিল, তখন সরকেল মহাশয় একবার তাহার আংটা ধরিয়াছিলেন। পরমুহুৰ্ত্তে পায়ের উপর লোহার সিন্দুক পড়িয়া তাঁহার পা Essge sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ኬro“ሳ ছেচিয়া গিয়াছিল। তখন সরকেল মহাশয় অজ্ঞান হইয়া মাটিতে পড়িয়া রহিলেন। সিন্দুক নীচে গেল। সিন্দুক সদরবাড়ীর উঠানে আসিয়া উপস্থিত হইল। আমি দেখিলাম যে, মাটি হইতে চারি-পাঁচ হাত উপরে শূন্যপথে সিন্দুক আপনাআপনি সদরদ্বার অভিমুখে গমন করিতেছে। তাড়াতাড়ি দালান হইতে নামিয়া আমি একটি আংটা ধরিয়া টানিতে লাগিলাম। সেই সময়ে সরকেল মহাশয়ের দারোয়ান রামগোপাল সিংও আসিয়া সিন্দুকের অপর পার্শ্বের আংটা ধরিয়া ফেলিল। সিন্দুক তৎক্ষণাৎ ভূতলে পতিত হইয়া দ্বারবানের পা ছেচিয়া দিল। সে মাটিতে নাই। আমার পায়ে পড়িলে আমি মারা যাইতাম। এ নিশ্চয়ই ভীেতিক ব্যাপার, এইরূপ বুঝিয়া আমি আর সিন্দুক ধরিয়া রাখিতে চেষ্টা করিলাম না। সদর-দরজায় উপস্থিত হইয়া সিন্দুক গুরুভাবে তাঁহাতে আঘাত করিতে লাগিল। তিন ঘায়ে সদর-দরজা ভাঙ্গিয়া ফেলিল। সদরদ্বারা ভাঙ্গিয়া সিন্দুক শূন্যপথে গ্রাম পার হইয়া মাঠের দিকে যাইতে লাগিল। গভীর রাত্রিতে ভয়ানক শব্দ শুনিয়া গ্রামের লোক মনে করিল যে, “সরকেল মহাশয়ের বাড়ীতে ডাকাত পড়িয়াছে। লাঠিসোটা লইয়া প্রতিবেশিগণ দৌড়িয়া আসিল, কিন্তু তখন সিন্দুক গ্রামের প্রান্তভাগে গিয়া উপস্থিত হইয়াছিল। এই সময় আর একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটিল। সরকেল মহাশয়ের গৃহে ও নিকটস্থ প্রতিবেশীদিগের গৃহে হাতা, বেড়ি, কড়া, দা, কুড়ুল, ছুরি, কঁচি যাহা কিছু লোহার দ্রব্য ছিল, সমুদয়ুৰ্বোহির হইয়া সন্য সন্ন শব্দে শূন্যপথে সিঁদুকের পশ্চাৎ ধাবিত হইল। তাহার পর যাহা হাঁটুকু উইিহ বলিলে তােমরা হয় তাে বিশ্বাস করিবে না, অতএব চুপ করিয়া থাকাই ভাল।” @ရှ်လှို’ লম্বোদর বলিলেন,- “বিশ্বাস করি না। ভৃঙ্কুলেই O ক্টেভিতর প্রবেশ করিয়া যখন তােমাদের সম্মুখে খ্রিষ্টীকরিয়াছিলে। তখন পুকুরে গিয়া কেলে হাঁড়ি মাথায় লম্বোদর উত্তর করিলেন, — “বাঘ দেখি নাই। বাঘ বাঘ বলিয়া একটা গোল পড়িয়াছিল, তাহা শুনিয়াই গাড়ী হইতে লাফাইয়া পলায়ন করিয়াছিলাম।” শঙ্কর ঘোষ বলিলেন,- “না না, – বিশ্বাস করিব না কেন? তাহার পর কি হইল বল।” উপস্থিত। অন্যান্য ব্যক্তিগণও অনেক সাধ্য-সাধনা করিলেন। তখন ডমরুধর পুনরায় বলিতে আরম্ভ করিলেন । W আমার কোমরে তখন বড় একথোলো চাবি থাকিত। কিন্তু তখন কেবল আমার দুইটি বাক্স ছিল। লোকে মনে করিবে যে, ইহার অনেক টাকা আছে, টাকা রাখিতে স্থান হয় না, তাই অনেক বাক্স করিতে হইয়াছে, ঐ চাবিগুলো সেই সব বাক্সের। দেখ লম্বোদর! সত্য সত্য লোকের টাকা না থাকুক, একটা জনরব উঠিলেই হইল যে, অমুকের অনেক টাকা আছে। কাহাকেও একটি পয়সা দিতে হয় না। মুখবন্ধ গুড়ের কলসীর নিকট কত মাছি থাকে। তাহারা একফোঁটাও গুড় খাইতে পায় না, তথাপি আশেপাশে ভ্যান ভ্যান করে। সেইরূপ যদি লোকে শুনিতে পায় যে, আসিয়া ভ্যান ভ্যান করে, সে হাই তুলিলে তুড়ি দেয়। বিশেষতঃ আমার হাই। আমার হাই তোলা দেখিলে মানুষের প্রাণ শীতল হয়। হাই তুলিয়া একবার সকলকে দেখাই । brobr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicomo ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ সন্ন্যাসীর কালীঠাকুর সকলে মনে করিবে যে, আমার অনেক টাকা আছে, সেইজন্য বৃহৎ চাবির থােলো সৰ্ব্বদা আমি থোলো তাহাতে বাধিয়া আমি কোমরে পরিয়াছিলাম । গেল, তখন আমার চাবির থোলো বুলিয়া থাকে, এখন সোজা সটান হইয়া লোহার সিন্দুকের পশ্চাতে যাইবার নিমিত্ত চেষ্টা করিতে লাগিল। আমার পশ্চাৎদিকের কোমরের মাংসে ঘুনাসি বসিয়া গেল, আমার ঘোর যাতনা হইল, আমি ভাবিলাম যে, কোমরা পৰ্যন্ত কাটিয়া আমার শরীর বা দুইখানা হইয়া যায়। একটু আলগা করিবার নিমিত্ত আমি চাবির থোলোটি ধরিতে যাইলাম। যেই ছুইয়াছি, আর আমার হাতে যেন হাজার সূচ ফুটিয়া গেল। চাবি হইতে আমি হাত ছাড়াইয়া লইতে চেষ্টা করিলাম, কিন্তু তাহা পারিলাম না। চাবি আমাকে মাঠের দিকে টানিয়া লইয়া যাইতে লাগিল। “আমার প্রাণ বাঁচাও, আমার প্রাণ বাঁচাও” বলিয়া আমি গ্রামের লোককে ডাকিতে লাগিলাম, কিন্তু এ ভূতের কাণ্ড' এইরূপ মনে করিয়া সকলে পলায়ন করিল, আপন ঘরে গিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া দিল । চাবির থােলাে আমাকে মাঠের দিকে লইয়া চলিহা (১৯মাঠে উপস্থিত হইয়া দেখিলাম যে, আগে অনেক দূরে তিনটি ঘোড়া যাইতেছে। জোঙািরত্রি, সেজন্য অনেকটা স্পষ্ট দেখিতে পাইলাম। দুইটা ঘোড়ার উপর দুইজন সন্ন্যাসী চড়িয়াছে, তৃ কালীমূৰ্ত্তি ও পূজার আসবাব বােঝাই আছে৷”তাহার পশ্চাতে প্রায় পাঁচশত হাত দূরের মাটী ডু, কড়া, খন্তীঃ দা, কুডুল, লীেহ-নিৰ্ম্মিত দ্রব্যসমূহ সেইরূপ শূন্যপথে যাইতেছে। তাহার প্রায় দুইশত হাত দূরে চাবির থোলো আমাকে টানিয়া লইয়া যাইতেছে। কাণ্ডখানা কি, তখন আমি কিছুই বুঝিতে পারি নাই। তখন আমার প্রাণ লইয়া টানাটানি, কোমর কাটিয়া শরীরটি দুইখানা হইবার উপক্রম হইয়াছিল। ভাবিবার চিন্তিবার তখন সময় ছিল না । মাঠের উপর দিয়া প্ৰায় একক্রোশ পথ এই ভাবে আমাকে টানিয়া লইয়া চলিল। তাহার পর সহসা দুম করিয়া শব্দ হইল। চাহিয়া দেখিলাম যে দূরে সিন্দুকটি মাটীতে পড়িয়াছে, তাহার শব্দ। আরও নিরীক্ষণ করিলাম যে, সিন্দুকের অগ্র ঘোড়া তিনটি স্থির হইয়া দাঁড়াইয়া আছে, সন্ন্যাসী দুইজন ঘোড়ার পিঠ হইতে নামিয়াছে, আর তৃতীয় ঘোড়া হইতে কালীর প্রতিমাটিও নামাইয়া নীচে মাটীর উপর সিংহাসনে রাখিয়াছে। বুপঝাপ ঠসঠাস করিয়া মাটীতে পড়িয়া গেল। তাহার পরীক্ষণেই আমার চাবি পূর্বের ন্যায় কোমরে বুলিয়া পড়িল। কোমরে ঘুনাসির টান আর রহিল না। তখন আমার ধড়ে প্ৰাণ আসিল, তখন যথানিয়মে নিঃশ্বাস ফেলিয়া আমি সুস্থির হইলাম। সেই স্থানে আমি প্রায় একঘণ্টা পড়িয়া রহিলাম। একঘণ্টা পরে যখন আমি পুনরায় চাহিয়া দেখিলাম, তখন দেখিলাম যে, দূরে সে ঘোড়াও নাই, সে সন্ন্যাসীও নাই; অনেকক্ষণ পরে অতি সাবধানে, অতি ধীরে ধীরে, অতি ভয়ে

  • fila -1,3 goi se - www.amarboi.com - bros ভয়ে আমি সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইলাম; দেখিলাম যে, সন্ন্যাসী দুইজন লোহার সিন্দুকটি কোনরূপে ভাঙ্গিয়াছে অথবা খুলিয়াছে। তাহার ভিতর টাকাকড়ি, গহনা-পত্ৰ যাহা কিছু ছিল সে সমুদয় লইয়া গিয়াছে। চারিদিকে কাগজ-পত্র ছাড়াছড়ি হইয়া আছে। দুই চারিখানি কাগজে ষ্ট্যাম্প দেখিয়া বুঝিলাম যে, সে সব দলিলপত্র। তাঁহাতে আমি হাত দিলাম না। অন্য একতাড়া কাগজ তুলিয়া দেখিলাম যে, সে কোম্পানীর কাগজ, তাহা আমি ফেলিয়া দিলাম। আর একভাগ কাগজ লম্বোেদর! সেদিন তোমাদিগকে আমি বলিয়াছিলাম যে, আমি ভাগ্যবান পুরুষ। আজ তাহার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখ। কাগজ তাড়াটি একটু খুলিয়া দেখিলাম যে, সে সব নোেট ! তাহার পর দৌড়িয়া বেলা নয়টার সময় বাড়ীতে পৌঁছিয়া, তবে হাঁপ ছাড়িলাম।

লম্বোদর বলিলেন,- “এ সমুদয় তোমার আজগুবি গল্প। এ অনেক দিনের কথা, কিন্তু আমরা সেই সময় শুনিয়াছিলাম যে, সরকেলমহাশয়ের বাড়ী যথার্থই চুরি হইয়াছিল এবং সে চোরগণ তোমার অপরিচিত লোক ছিল না ।” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “সমুদয় মিথ্যাকথা, হিংসায় লোকে কি না বলে।” সপ্তম পরিচ্ছেদ (Nరీ ডমরুধর বলিতে লাগিলেন,— বাড়ীতে অর্সিয়া নােটগুলি গণিয়া দেখিলাম যে, দুইশত দশ টাকার নোট, মোট দুই হাজার টাকা অষ্ট্রর ঋণের প্রয়োজন কি? সরিকেলমহাশয়কে আমি এক পত্র লিখিলাম যে,- “সেদিন আঁটপনার বাড়ীতে গিয়া ভূতের হাতে প্ৰাণ হারাইতে বসিয়াছিলাম। আপনার টাকায় আমার প্রয়োজন নাই।” তাহার পর সেই টাকা দিয়া আমি সমুদয় আবাদটি উঠিত করিলাম। এখন সেই স্থানে সোনা ফলিতেছে। তাহার লাভ হইতে ক্ৰমে ক্ৰমে আমি আরও অনেক আবাদ ক্রয় করিলাম । আমি ছাই-মুঠি ধরিলে সোনা-মুঠা হইয়া যায়। সে অঞ্চলে এখন অনেক লোকের আবাদ হইয়াছে। বহুদূর পর্য্যন্ত এখন লোকের বাস হইয়াছে। নদীতে খেয়া বসিয়াছে, মাঝে মাঝে হাট বসিয়াছে। গ্ৰীষ্মকালে কোন কোন স্থানে বরফের কুলফি বিক্রয় হয়। শীতকালে হিন্দুস্থানীরা ফুলুরি ফেরি করিয়া বেড়ায়। যে সঁওতালগণ মশা মারিতে আমার সহায়তা করিয়াছিল, তাহাদিগকে আমি জমি দিয়াছি, তাহারা আমার প্রজা হইয়াছে। তাহাদিগের দেখাদেখি আরও অনেক সাঁওতাল নিকটস্থ আবাদসমূহে বাস করিয়াছে। এখন আমার কিরূপ সম্পত্তি হইয়াছে, কিরূপ জনসাধারণের নিকট আমি গণ্যমান্য হইয়াছি, তাহা তোমরা অবগত আছ। শ্বশুর। প্ৰহাদবাবু সম্বন্ধে আমি যে ভবিষ্যদ্বাণী বলিয়ছিলাম, তাহা পূর্ণ হইয়াছে। মালতীকে আপনা হইতে তিনি পঠাইয়া দিয়াছিলেন। তাহার পর তিনি নিজে, তাহার পুত্ৰগণ, তাহার ভগিনী কতবার যে আমার বাড়ীতে আসিয়াছিলেন, তাহার সংখ্যা নাই। এখন মালতী জীবিত নাই। এখন অবশ্য তাঁহাদের সহিত আমার কোন সম্বন্ধ নাই। শুনিয়াছি যে, এখন সংসারে তাহদের আর কেহ নাই। brNO fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** দেশে গিয়া ম্যালেরিয়া জুরে সে সংসার মরিয়া-হাজিয়া গিয়াছে। লম্বোদর বলিলেন,- “অনেক কথা তো শুনিলাম। তুমি বলিলে যে, সরকেলমহাশয়ের বাড়ী চুরি হয় নাই, আর সে চোরগণকে তুমি দ্বার খুলিয়া দাও নাই। তবে সন্ন্যাসী দুইজন কি করিয়াছিল যে, লোহার সিন্দুক ও অন্যান্য লোহা-লক্কড়ে টান ধরিয়াছিল?” ডমরুধর উত্তর করিলেন যে,- “আমি যখন কাপড়ের দোকানে কাজ করিতাম, তখন কোন কোন দিন সন্ধ্যার পর সে স্থানে পুথি পড়া হইত। মহাভারত রামায়ণের পর একজন আরব্য উপন্যাস পাঠ করিয়াছিলেন। তাঁহাতে এক রাজপুত্রের গল্প শুনিয়াছিলাম। জাহাজে চড়িয়া সমুদ্রপথে তিনি দেশ-বিদেশ পরিদর্শন করিয়াছিলেন। অবশেষে ঝড়ে তাড়িত হইয়া তাহার জাহাজ এক কৃষ্ণবর্ণের পাৰ্ব্বতের সমীপে উপস্থিত হইয়াছিল। জাহাজের যত পেরেক ছিল, সব খুলিয়া সেই পৰ্ব্বতে গিয়া লাগিল। জাহাজ জলমগ্ন হইল। আমার বোধ হয়, সন্ন্যাসীদের যে বৃহৎ কালীমূৰ্ত্তি ছিল, তাহা চুম্বক পাথরে গঠিত। কিন্তু সে সামান্য চুম্বক পাথর নহে। চোলাই করা চুম্বক পাথরের সার। সিংহ সম্রাট এরূপ পদার্থে গঠিত, যাহা ভেদ করিয়া চুম্বক প্রস্তরের আকর্ষণশক্তি দূরে যাইতে পারে না। প্রথম কয়দিন সন্ন্যাসী দুইজন দেবীকে সেই সিংহাসনে বসাইয়া পূজা করিয়াছিল। সে নির্মিত্ত সে কয়দিন লৌহদ্রব্যে টান ধরে নাই। শেষদিন গভীর রাত্ৰিতে তাহারা দেবীকে সিংহাসন হইতে নিম্নে রাখিয়াছিল, আর সেই সময় নিকটস্থ লীেহনিৰ্ম্মিত দ্রব্য আকৃষ্ট হইয়াছিল। সে রাত্রিতে প্রথম আমি দেখিয়াছিলাম যে, তৃতীয় ঘোড়ার উপর বলদের ছালার ন্যায় তাহারা দুইদিকে র বোঝা রাখিয়াছিল। বোধ হয়, একদিকে প্রতিমা, অপর দিকে সিংহাসন ও পূজার রাখিয়াছিল। সিংহাসন হইতে মূৰ্ত্তি পৃথক ছিল, সেজন্য তখনও লোহার দ্রব্য টান। তাহার পর মাঠে প্ৰতিমার আকর্ষণশক্তি লোপ হইয়াছিল। তাহার পর সিংহাসনের উ রাখিয়া ঘোড়ার উপর সেইভাবে বোঝাই দিয়া তাহারা পলায়ন করিয়াছিল। আমারাষ্ট্ৰীধ হয়, লৌহদ্রব্যসমূহ এই কারণে শূন্যপদে ভ্ৰবণ করিয়াছিল।” స్టో লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তুমি যে গল্পটি করিলে, উহার কোন প্রমাণ আছে?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “প্ৰমাণ নাই? নিশ্চয় আছে। সে চাবির থোলা এখনও আমার ঘরে আছে। বল তো এখনি আনিয়া দেখাই । অষ্টম পরিচ্ছেদ কুম্ভীর-বিভ্ৰাট শঙ্কর ঘোষ জিজ্ঞাসা করিলেন, — “শুনিয়াছি যে সুন্দরবনে নদীনালায় অনেক কুমীর আছে। তোমার আবাদে কুমীর কিরূপ?” ডমরুধর বলিলেন,- “কুমীর! আমার আবাদের কাছে যে নদী আছে, কুমীরে তাহা পরিপূর্ণ। খেজুর গাছের মত নদীতে তাহারা ভাসিয়া বেড়ায়, অথবা কিনারায় উঠিয়া পালে পালে তাহারা রৌদ্র পোহায়। গরুটা, মানুষটা, ভেড়াটা, ছাগলটা, বাগে পাইলেই লইয়া যায়। °***fF° gfGrRIlg{ °i12,35 (q35 zx8! ~ www.amarboi.com ~ br^እ» কিন্তু এ সব কুমীরকে আমরা গ্ৰাহ্য করি না। এবার আমার আবাদের নিকট এক বিষম কুমীরের আবির্ভাব হইয়াছিল। গন্ধমাদন পৰ্ব্বতে কালনিমের পুকুরে যে কুন্তীর হনুমানকে ধরিয়াছিল, ইহা তাহা অপেক্ষাও ভয়ানক, গঙ্গাদেবী যে মকরের পীঠে বসিয়া বায়ু সেবন করেন, সে মকরকে এ কুমীর একগালে খাইতে পারে। পৰ্ব্বতপ্ৰমাণ যে গজ সেকালে বহুকাল ধরিয়া কচ্ছপের সহিত যুদ্ধ করিয়াছিল, সে গজ-কচ্ছপকে এ কুমীর নস্যা করিতে পারে। ইহার দেহ বৃহৎ তালগাছের ন্যায় বড়, ইহার উদর এই দালানটির মত, অন্যান্য কুমীর জীব-জন্তুকে ছিড়িয়া ভক্ষণ করে কিন্তু এ কুমীরটা আস্ত গরু, আস্ত মহিষ গিলিয়া ফেলিত। রাত্ৰিতে সে লোকের ঘরে ও গোয়ালে সিঁদ দিয়া মানুষ ও গরু-বাছুর লইয়া যাইত। লাঙ্গুলো জল আনিয়া দেওয়াল ভিজাইয়া গৰ্ত্ত করিত। ইহার জ্বালায় নিকটস্থ আবাদের লোক অস্থির হইয়া পড়িল । আঘাতে নীেকা ডুবাইয়া আরোহীদিগকে ভক্ষণ করিতে লাগিল। সে নিমিত্ত এ পথ দিয়া নীেকায় যাতায়াত অনেক পরিমাণে বন্ধ হইয়া গেল । এই ভয়ানক কুন্তীরের হাত হইতে কিরূপে নিকৃতি পাই এইরূপ ভাবিতেছি, এমন সময় সমক্ষে সে গিলিয়া ফেলিল। এই নীেকায় এক ভদ্রলোক কলিকাতা হইতে সপরিবারে পূৰ্ব্বদেশে যাইতেছিলেন। নদীর তীরে দাঁড়াইয়া আমরা দেখিলাম যে, তাহার গৃহিণীর সৰ্ব্বাঙ্গ হইলে ইহার পেট চিরিয়া এই গহনাগুলি বৃষ্টি করি লাভ হইবে । స్త్ర এইরূপ চিন্তা করিয়া আমি ব: গুঞ্জয় গমন করিলাম। বড় একটি জাহাজের নম্বর কিিনয়া উকো ঘষিয়া তাহাতে ধার করিলাম, তাহার পর যে কাছিতে মানোয়ারি জাহাজ বাধা থাকে, সেইরূপ এক কাছি ক্রিয় করিলাম। এইরূপ আয়োজন করিয়া আমি আবাদে ফিরিয়া আসিলাম । আবাদে আসিয়া শুনিলাম যে, কুমীর আর একটা মানুষ খাইয়াছে। চারিদিন পূৰ্ব্বে এক সাঁওতালনী এককুড়ি বেগুন মাথায় লইয়া হাটে বেচিতে যাইতেছিল। সে যেই নদীর ধারে গিয়াছে, আর কুমীর তাঁহাকে ধরিয়া বেগুনের ঝুড়ির সহিত আস্ত গিলিয়া ফেলিয়াছে, তাহাতে সাঁওতাল প্ৰজাগণ ক্ষেপিয়া উঠিয়াছে; বলিতেছে যে, আবাদ ছাড়িয়া তাহারা দেশে চলিয়া যাইবে । আবাদে আসিয়া নাঙ্গরটিকে আমি বঁড়শী করিলাম। তাঁহাতে জাহাজের কাছি বধিয়া দিলাম, মাছ ধরিবার জন্য লোকে যে হাতসূতা ব্যবহার করে, বৃহৎ পরিমাণে এও সেইরূপ হাতসূতার ন্যায় হইল। নাঙ্গরের তীক্ষ্ণ অগ্রভাগে এক মহিষের বাছুর গাঁথিয়া নদীর জলের নিকট বাধিয়া দিলাম। কাছির অন্যদিক একগাছে পাক দিয়া রাখিলাম, তাহার পর পঞ্চাশ জন সবল লোককে নিকটে লুক্কায়িত রাখিলাম। বেলা তিনটার সময় আমাদের এই সমুদয় আয়োজন সমাপ্ত হইল। বঁড়শীতে মহিষের বাছুর বিধিয়া দিয়াছিলাম সত্য, কিন্তু তাহার প্রাণ আমরা একেবারে বধ করি নাই। নদীর ধারে দাড়াইয়া সে গা গা শব্দে ডাকিতে লাগিল, তাহার ডাক শুনিয়া সন্ধ্যার ঠিক পূৰ্ব্বে সেই প্ৰকাণ্ড কুমীর আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার লেজের ঝাপটে পৰ্ব্বতপ্রমাণ brðR sig ofiż 35 g35 RFG a www.amarboi.com 90777oJo"7**P*PFEFFR না, পরীক্ষণেই কাছিতে টান পড়িল। তখন আমরা বুঝিলাম যে, নঙ্গরবিদ্ধ বাছুরকে কুমীর গিলিয়াছে, বড়শীর ন্যায় নঙ্গর কুমীরের মুখে বিধিয়া গিয়াছে। তাড়াতাড়ি সেই পঞ্চাশ জন লোক আসিয়া দড়ি ধরিয়া টানিতে লাগিল। ভাগ্যে গাছ পাক দিয়া রাখিয়াছিলাম, তা না হইলে কুমীরের বলে এই পঞ্চাশ জন লোককে নদীতে গিয়া পড়িতে হইত। আমরা সেই রাক্ষস কুমীরকে বড়শীতে গাঁথিয়াছি, ঐ কথা শুনিয়া চারিদিকের আবাদ হইতে অনেক লোক দৌড়িয়া আসিল। প্ৰায় পাঁচশত লোক সেই রশি ধরিয়া টানিতে লাগিল। দারুণ আসুরিক বলে কুমীর সেই পাঁচশত লোকের সহিত ঘোর সংগ্রাম করিতে লাগিল। কখন আমাদের ভয় হইল যে, তাহার বিপুল বলে নাঙ্গর বা ভাঙ্গিয়া যায়, কখন ভয় হইল যে, সে জাহাজের দাড়া বা ছিড়িয়া যায়। কখন ভয় হইল, গাছ উৎপাটিত হইয়া নদীতে গিয়া বা পড়ে। নিশ্চয় একটা না একটা বিভ্ৰাট ঘটিত, যদি না সাঁওতালগণ কুমীরের মস্তকে ক্ৰমাগত তীরবর্ষণ করিত, যদি না নিকটস্থ দুইটি আবাদের লোক বন্দুক আনিয়া কুমীরের মাথায় গুলী মারিত। তীর ও গুলী খাইয়া কুমীর মাঝে মাঝে জলমগ্ন হইতে লাগিল। কিন্তু নিঃশ্বাস লইবার জন্য পুনরায় তাহাকে ভাসিয়া উঠিতে হইল। সেই সময় লোক তীর ও গুলীবর্ষণ করিতে লাগিল। কুমীরের রক্তে নদীর জল বহুদূর পর্যন্ত লোহিত বর্ণেরঞ্জিত হইয়া গেল। সমস্ত রাত্রি কুমীরের সহিত আমাদের এইরূপ যুদ্ধ চলিল। প্ৰাতঃকালে কুন্তীর হীনবল হইয়া পড়িল। বেলা নয়টার সময় তাহার মৃতদেহ জলে ডুবিয়া গেল। তখন অতি কষ্টে তাঁহাকে আমরা টানিয়া ট্ৰাপ্তরে তুলিলাম। বড় বড় ছােরা বড় বড় কাস্তে আনিয়া তাহার পৃেষ্ট্রক্টরি কুমীরের পেট অতি কঠিন ছিল। আমাদের সুমুদর্ঘ্য অস্ত্ৰ ভাঙ্গিয়া গেল। অবশেষে করাত কাটুইষ্টার্ম। কিন্তু পেট চিরিয়া তাহার পেটের ভিতর শঙ্কর ঘোষ জিজ্ঞাসা করিলেন,-“কি দেখিলে?” অন্যান্য শ্রোতৃগণ জিজ্ঞাসা করিলেন, — “কি দেখিলে?” ডমরুধর বলিলেন, — “বলিব কি ভাই, আর দুঃখের কথা, কুমীরের পেটের ভিতর দেখি না। যে সেই সাঁওতাল মাগী, চারদিন পূৰ্ব্বে কুমীর যাহাকে আস্ত ভক্ষণ করিয়াছিল, সেই মাগী পূৰ্ব্বদেশীয় সেই ভদ্রমহিলার সমুদয় গহনাগুলি আপনার সর্বাঙ্গে পরিয়াছে, তাহার পর নিজের বেগুনের ঝুড়িটি সে উপুড় করিয়াছে, সেই বেগুনগুলি সম্মুখে ডাই করিয়া রাখিয়াছে। বুড়ির উপর বসিয়া মাগী বেগুন বেচিতেছে।” শঙ্কর ঘোষ বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কুমীরের পেটের ভিতর ঝুড়ির উপর বসিয়া সে বেগুন বেচিতেছিল?” ডমরুধর বলিলেন, — “হাঁ ভাই! কুমীরের পেটের ভিতর সেই বুড়ির উপর বসিয়া মাগী বেগুন বেচিতেছিল।” লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কাহাকে সে বেগুন বেচিতেছিল? কুমীরের পেটের ভিতর সে খরিদার পাইল কোথা?” বিরক্ত হইয়া ডমরুধর বলিলেন, —“তোমার এক কথা! কাহাকে সে বেগুন বেচিতেছিল, সে খোঁজ করিবার আমার সময় ছিল না। সমুদয় গহনাগুলি সে নিজের গায়ে পড়িয়াছিল, তাহা "°"*-°f°° gfGrRIlg{ °ii%35 q35 zR8I mv www.amarboi.com ~v by Sw দেখিয়াই আমার হাড় জুলিয়া গেল। আমি বলিলাম,- “ম্যাগী! ও গহনা আমার। অনেক টাকা খরচ করিয়া আমি কুমীর ধরিয়াছি, ও গহনা খুলিয়া দে।” কেঁউ মেউ করিয়া মাগী আমার সহিত ঝগড়া করিতে লাগিল। তাহার পর তাহার পুত্ৰগণ ও তাহার জাতি-ভাইগণ কাঁড়বঁাশ ও লাঠিসোটা লইয়া আমাকে মারিতে দৌড়িল। আমার প্রজাগণ কেই আমার পক্ষ হইল না। সুতরাং আমাকে চুপ করিয়া থাকিতে হইল। সঁওতালগণ। সে মাগীকে ঘরে লইয়া গেল। দিনকয়েক শূকর মারিয়া ও মদ খাইয়া তাহারা আমোদ-প্ৰমোদ করিল। পূৰ্ব্বদেশীয় সে ভদ্রমহিলার একখানি গহনাও আমি পাইলাম না। মনে মনে ভাবিলাম যে, কপালে পুরুষের ভাগ্যও সকল সময় প্ৰসন্ন হয় না।” লম্বোদর বলিলেন, — “এত আজগুবি গল্প তুমি কোথায় পাও বল দেখি?” ডমরুধর বলিলেন,- “এতক্ষণ হাঁ করিয়া এক মনে এক ধ্যানে গল্পটি শুনিতেছিলো। যেই হইয়া গেল, তাই এখন বলিতেছ যে, আজগুবি গল্প। কলির ধৰ্ম্ম বটে!” শঙ্কর ঘোষ জিজ্ঞাসা করিলেন,- “এ কুমীরের গল্প যে সত্য, তাহার কোন প্ৰমাণ আছে?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “প্ৰমাণ? নিশ্চয় প্রমাণ আছে। কোমরে ব্যথার জন্য এই দেখ সেই কুমীরের দাঁত আমি পরিয়া আছি।” লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,— “সে কুমীর যদি তালগাছ অপেক্ষা বৃহৎ ছিল, তবে তাহার দাঁত এত ছােট কেন? ঠিক অন্য কুমীরের দাঁতের মত কেন?” ডুমুরুত্বর উত্তর করলেন- "অনেক মানুষ খৃষ্টয়া সে কুমীরের দাঁত ক্ষয় হইয়া গিয়াছিল।” 9 ം് ܣܛܘܢ ኩrS8 filá no g3 &e www.amarboi.com%"ooooo লম্বোদর বলিলেন, — “আবার বুঝি একটা আজগুবি গল্প হইবে?” ডমরুধর রাগিয়া বলিলেন, — “তোমার যদি শুনতে ইচ্ছা না থাকে, তাহা হইলে কানে আঙ্গুল দিয়া থাক।” তাহার পর পাঁচজনের অনুরোধে ডমরুধর এইরূপে গল্পটি বলিতে লাগিলেন, — গত বৎসর নবমী পূজার দিন। রাত্রি শেষ হইয়াছ। বাহির-বাড়ীতে কিরূপ একটা খুটখােট শব্দ হইতে লাগিল। দু’পয়সা আমার সঙ্গতি আছে। কাজেই আমাকে সৰ্ব্বদা সতর্ক ও শঙ্কিত থাকিতে হয়। আমি ধীরে ধীরে বাহিরে আসিয়া দেখি যে দালানের প্রতিমার সম্মুখে একটা বিকটাকার মর্দা পূজার সমুদয় দ্রব্যাদি লইয়া গাঠরি বঁাধিতেছে। পূজার সমুদয় উপকরণ যাহা তখন দালানে ছিল, মায় বেশ্যাবাড়ীর মৃত্তিকাটুকু পৰ্যন্ত, সমস্ত দ্রব্য সে বঁাধিয়া লইতেছে। তাহার নিকটে একটা ত্ৰিশূল পড়িয়া ছিল। বুচকি বঁধিয়া ত্ৰিশূলের আগায় আটকাইয়া সে কাঁধে তুলিবার উপক্ৰম করিল। রাগে আমার সাৰ্ব্বশরীর জুলিয়া উঠিল। পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, অবতার হইলে দেবতাদের আত্মবিস্মৃতি হয়। আমি যে ভগবতীর পুত্র কীৰ্ত্তিক, রাগের ধমকে সে কথা একেবারে ভুলিয়া যাইলাম। সেই লোকটাকে গালি দিয়া আমি বলিলাম,- “বদমায়েস চােৱা! পূজার দ্রব্য চুরি করিতেছি সু।” সে লোকটা একবার আমার মুখের দিকে চাহিয়া দেখিল। পোটলার একদিক ধরিয়া আমি টানিতে লাগিলাম। ঈষৎ হাসিয়া পোটলার অপর দিক্‌ ধরিয়া সে টানিতে লাগিল। আমি তাহাকে বলিলাম,- “পোটিলা ছাড়িয়া দে।” সে উত্তর ನ್ತಃ কালীঘাটের কুকুর হয়।” আমি বলিলাম,- “কৰ্ব্বেংসেঁকে এ সব জিনিষ আমি দিয়াছি?” পারিলাম না। অবশেষে হতাশ হইয়া তুগৃহদ্ভুক্তই সে লোকটি বলিল,— “ছি! তোমাক্ত এখনও দুষ্টুমি যায় নাই। দেবতারা পৃথিবীতে আসিয়া পুনরায় ফিরিয়া যাইতে ইচ্ছা করেন না। ইন্দ্র শূকর হইয়া ছানা-পোনা লইয়া সুখে কালব্যাপন করিতেছিলেন। অনেক সাধ-সাধনা করিয়া পুনরায় তাহাকে স্বৰ্গে লইয়া যাইতে হইয়াছিল। রামচন্দ্রকে অনেক কৌশল করিয়া বৈকুণ্ঠে লইয়া যাইতে হইয়াছিল। শ্ৰীকৃষ্ণের পুত্রপৌত্রদিগের পদভরে মেদিনী টলটিলায়মানা হইয়াছিল। আমার বাবাঠাকুরও অতি কষ্টে বলিয়াছিল,— ‘দুই শরা জল ছোিচয়া কোমরে দিলে হাত । এমনি করিয়া খাবে তুমি কোচিনী পাড়ার ভাত?” কৈলাসের মা আমার কাদিয়া কাটিয়া কুরুক্ষেত্ৰ করিয়াছিলেন। অনেক কষ্টে বাবাকে আমরা পুনরায় স্বস্থানে লইয়া গিয়াছিলাম। দাদাঠাকুর, তোমাকেও একটু কষ্ট দিতে হইবে, তবে তোমার বিবাহের সাধ মিটবে। সেজন্য আমি তোমাকে অভিশাপ দিতেছি,-ছয় মাস কাল তুমি সম্পূর্ণ আত্মবিস্মৃত হইয়া থাকিবে। ছয় মাস কাল তুমি নানা বিপদে পতিত হইবে। তুমি যেমন ফোকলা মুখে আমার হাতে কামড় মারিলে, সেইরূপ আর একজনের কামড় মারিয়া তোমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হইবে। byy দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি"******** দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ টাকে ঠোকর এই মুহূৰ্ত্ত হইতে আমি সম্পূর্ণভাবে আত্মবিস্মৃত হইয়া পড়িলাম। যে বুদ্ধির দ্বারা অসুরদিগকে জয় করিয়া দেবগণকে নির্ভর করিয়াছিলাম, সেই দেববুদ্ধি আমার লোপ হইয়া গেল। আমি ঠিক মনুষ্যের মত নিমেষপূর্ণ নয়নে চারিদিকে ফ্যাল ফ্যাল করিয়া চাহিয়া দেখিলাম। যাহা দেখিলাম, তাহা দেখিয়া আমি হতভম্ব হইয়া পড়িলাম। লম্বোদর প্রভৃতি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কি দেখিলে?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “বলিব কি ভাই আর আশ্চৰ্য্য কথা! আমি দেখিলাম যে, স্বয়ং মহাদেব গণেশের হাত ধরিয়া প্ৰতিমার সম্মুখে দাড়াইয়া আছেন। তাঁহার স্কন্ধে কিন্তু কাৰ্ত্তিক নাই। কি করিয়া শিব কাৰ্ত্তিককে লাইবেন? ডমরুপে এইমাত্র কাৰ্ত্তিক নদীর সহিত পোটলা কড়াকড়ি করিতেছিলেন। পশ্চাতে দেবী ছলছল নয়নে দণ্ডায়মানা আছেন। উঠানে সজ্জিত দোলা রহিয়াছে। উড়ে ভূতগণ দোলার পার্শ্বে দাঁড়াইয়া বলিতেছে- নদী কীেঠি গলা, দের হাউচি ঠিকে জলদি করা। ইত্যাদি। দেবী মহাদেবের কানে চুপি চুপি কি বলিলেন। কি বলিলেন, তখন আমি বুঝিতে পারি নাই। কিন্তু বােধ হয়। পৃথিবীতে আমাকে আরও অনেক দিন রাখিয়া শিক্ষা দিতে তাঁহারা পরামর্শ করিলেন। দুরন্ত বালককে শিক্ষা দিবার নিৰ্ত্তিং মনিচ্ছা সত্ত্বেও মাতা-পিতাকে কঠিন হইতে হয় । (Ο) আমি এখন সকল কথা বুঝিলাম, গত বৎসর রাত্রি থাকিতে দশমী পড়িয়াছিল; সেই শুভূ পূজার দিন ৫৮ দণ্ড নবমী ছিল। দুই দণ্ড ল’মা কৈলাস পৰ্ব্বতে প্ৰত্যাগমন করিতেছিলেন। গত বৎসর মা দোলায় গমন করিয়া সেজন্য মহামারী হইয়াছিল। উঠানে দোলা রাখিয়া উড়ে বেহারা ভূতগণ সেই জন্য র করিতেছিল। প্রথম আমি নদীদাদার পায়ে পড়িয়া ক্ষমা প্রার্থনা করিলাম। তখন অবশ্য নদীদাদা বলিল তাঁহাকে সম্বোধন করি নাই। তিনি বলিলেন, — “একথাবা থুতু তুমি আমার হাতে দিয়াছ, তোমার সহিত কথা কহিতে ইচ্ছা হয় না ।” তাহার পর শিবের পায়ে পড়িয়া আমি স্তব করিতে লাগিলাম। সন্তুষ্ট হইয়া শিব বলিলেন, — “নদীর শাপ আমি মোচন করিতে পারি না। অন্য বর প্রার্থনা কর।” কি বর প্রার্থনা করিব, তখন আমি খুঁজিয়া পাইলাম না। আমি বলিলাম,- “ভগবান। যদি বর দিবেন, তাহা হইলে আপনার একটি ভূত আমাকে প্ৰদান করুন।” হাসিয়া শিব বলিলেন,- “ছোটখাটাে ভাল মানুষ একটি ভূত তোমার নিকট আমি পাঠাইয়া দিব। কিন্তু তাহাকে তুমি অধিক দিন রাখিতে পরিবে না।” তাহার পর দেবীর পাদপদ্মে পড়িয়া আমি স্তবস্তুতি করিতে লাগিলাম। সন্তুষ্ট হইয়া দেবী বলিলেন, — “ডমরুধর! তুমি আমার পরম ভক্ত। সেজন্য সশরীরে তোমার পূজা গ্ৰহণ করিতে আমরা আসিয়াছিলাম। এ বঙ্গদেশে সহস্ৰ সহস্ৰ লোক আমার পূজা করে। কিন্তু তাঁহাদের অনেকে মুর্গি ভক্ষণ করে। সেজন্য তাঁহাদের পূজা আমি গ্ৰহণ করি না। তোমার মাথার মাঝখানে যদি টাক না থাকিত, তাহা হইলে তুমি টিকি রাখিতে। দেখ, আগামী বৎসরে তুমি অতি সংক্ষেপে আমার পূজা করিবে। এত দ্রব্যাদি দিলে নদী বহিয়া লইয়া যাইতে পারে না। ভিক্ষ-চৰিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ bryo এক্ষণে বর প্রার্থনা কর।” পুনরায় আমি ফাফরে পড়িলাম। কি চাহিব, তাহা খুঁজিয়া ঠিক করিতে পারিলাম না। অবশেষে আমি বলিলাম,— “মা! সুন্দরবনে আমার আবাদে মৃগনাভি হরিণের চাষ করিবার নিমিত্ত স্বদেশী কোম্পানী খুলিব মনে করিতেছি। ভেড়ার পালের ন্যায় বাঙ্গালার লোক যেন টাকা প্ৰদান করে, আমি এই বর প্রার্থনা করি।” দেবী বলিলেন,- “কৈলাস পৰ্ব্বতের নিকট তুষারাবৃত হিমাচলে কস্তুরী হরিণ বাস করে। সুন্দরবনে সে হরিণ জীবিত থাকিবে কেন?” আমি বলিলাম— “যে আজ সম্ভব, যে কাজে লাভ হইতে পারে, সে কাজে বাঙ্গালী বড় হস্তক্ষেপ করে না। উদ্ভট বিষয়েই বাঙ্গালী টাকা প্ৰদান করে।” দেবীর সহিত এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইতেছে, এমন সময় নদী তাহার দক্ষিণ হস্তের আঙ্গুলের উল্টা পিঠের গাট দিয়া আমার মাথায় টাকের উপর তিনটি ঠোকর মারিল । সেই ঠোকারের আঘাতে আমি অজ্ঞান হইয়া পড়িলাম। ডমরুধরের দালানে চতুৰ্ভুজ নামক এক ব্ৰাহ্মণ যুবক বসিয়া গল্প শুনিতেছিলেন। লম্বোদর তাহাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন,- “আচ্ছা, চতুর্ভুজ! তুমি তো বি-এ পাস করিয়াছ, অনেক লেখা-পড়া শিখিয়াছ। ডমরুধর শিব ও দুর্গার স্তবের কথা বলিলেন। তুমি একটা স্তোত্র বল দেখি, শুনি।” চতুৰ্ভুজ তৎক্ষণাৎ বলিলেন,— “শিব দুর্গার স্তোত্র এই, ওঁ অমৃতোপস্তরণমসি স্বাহা। ওঁ ་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་ ○ — “প্ৰভুমীশমনীশমশেষগুণং গুণহীনরং, প্ৰণমামি শিবং শিব কল্পতরুমা” ইত্যাদি। জগদ্ব্যাপিকে বিশ্বরূপে। নমস্তে জগদ্বন্দ্যপদারবিন্দে, ডমরুধর বলিতে লাগিলেন, — “কিছুক্ষণ পরে আমার চৈতন্য হইল। আমি উঠিয়া বসিলাম। চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, মহাদেব নাই, দুর্গা নাই, নদী নাই, দোলা নাই, সে স্থানে কেহই নাই। কিন্তু আশ্চৰ্য্য! আছে কেবল আর একটি “আমি।” সেই টাক, সেই পাকা চুল, সেই কৃষ্ণ বর্ণ, সেই নাক, সেই মুখ, ফলকথা—হুবহু সেই আমি। প্রতিমার একপার্শ্বে একটি আমি বসিয়া আছি। কোন আমিটি প্রকৃত আমি, তাহা আমি ঠিক করিতে পারিলাম না। একদিকের আমি অন্য দিকের আমিকে জিজ্ঞাসা করিল,— “মহাশয়ের নাম?” সে উত্তর hr፩br află cios (gs se - www.amarboi conf** করিল,- “ডমরুধর।” পুনরায় অপর আমি এ দিকের আমিকে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিল। সেও এইরূপ উত্তর করিল, ফলকথা, এ আমিও যা বলে, ও আমিও তাই করে ও তাই বলে । তখন আমার সকল কথা হৃদয়ঙ্গম হইল। সেবার সন্ন্যাসী-সঙ্কটে আমার লিঙ্গশরীর বাহির হইয়া যমালয়ে গিয়াছিল। শুনিয়াছি যে, আমাদের শরীর অন্নময় কোষ,প্ৰাণময় কোষ, মনোময় কোষ প্রভৃতি কয়েকটি কোষ দ্বারা গঠিত। একবার লিঙ্গশরীর বাহির হইয়াছিল বলিয়া কোষগুলির বাঁধন কিছু আলগা হইয়া গিয়াছিল। সেজন্য দুই একটি কোষ বাহির হইয়া আর একটি ডমরুধারের সৃষ্টি হইয়াছে। এখন উপায় কি? লোকে একটা আমির ভাত-কাপড় যোগাইতে পারে না। তা যোগাইবার যেন আমার সঙ্গতি আছে, কিন্তু একটা আমির পেট কামড়াইলে লোক ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়ে। একসঙ্গে দুইটা আমির পেট যদি কামড়ায়, তখন আমি কি করিব? একটা আমি অপরটাকে বলিল,- “তুই চলিয়া যা, আমি প্রকৃত ডমরুধর, তুই জাল ডমরুধর ।” অপরটাও সেই সেই কথা বলিল। দুই আমিতে ঘোরতর কলহ উপস্থিত হইল। ক্রমে হাতাহাতি হইবার উপক্রম হইল। এমন সময় প্রভাত হইল! প্ৰভাত হইবামাত্র আমি একটা হইয়া যাইলাম। তখন আমার ধড়ে প্ৰাণ আসিল । পাছে পুনরায় দুইটা হইয়া যাই, সেই দুশ্চিন্তায় সমস্ত দিন আমি মগ্ন রহিলাম। বিজয়ী দশমীর পূজার পর পুরোহিতষ্ঠাকুর যখন আমাকে মন্ত্র পড়াইলেন,-আয়ুৰ্দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে,- তখন আমার সুবল কুক্‌থা মনে পড়ল। দুর্গোৎসব করিয়া, ভক্তিতে গদগদ হইয়া সুবল নিজেই ঠাকুরের সম্মুখেঞ্জীৰ্ণপণ যতনে শঙ্খ বাজাইলেন। শঙ্খ বাজাইতে গিয়া সুবলের গোগগোল বাহির তাই রক্ষা কর৷” প্রতিমা বিসৰ্জ্জন হইয়া গেল। সন্ধ্যার সময় আমি এক সহস্ৰ দুৰ্গানাম লিখিলাম। পাড়ার ছেলেরা আমাকে নমস্কার করিয়া গেল । আহারাদি করিয়া যথাসময়ে দোতলায় আমার ঘরে গিয়া শয়ন করিলাম। সিদ্ধি খাইয়া শরীর একটু গরম হইয়াছিল। সেজন্য আমার নিদ্রা হইল না। বিছানা হইতে উঠিয়া জানালার ধারে দাঁড়াইলাম। জ্যোৎস্না রাত্রি। বাড়ীর বাহিরে বাগানে আমার জানালার নীচে ও কে দাড়াইয়া রহিয়াছে? সেই আর একটা আমি! হাত নাড়িয়া তাহাকে আমি বলিলাম,- “যা, চলিয়া যা!” নীচের আমিও উপরের আমিকে সেই কথা বলিল। উপরের আমি নীচে নামিলাম। খিড়কিদ্বার খুলিয়া আমি বাগানে যাইলাম। ওমা দেখি না নীচের আমিটা উপরে গিয়া ঠিক আমার ঘরের জানালার ধারে দাঁড়াইয়া আছে। এ আমিটা একবার উপরে, একবার নীচে, ও আমিটা একবার উপরে, একবার নীচে, কতবার যে এইরূপ হইল, তাহা বলিতে পারি না। তৃতীয় পক্ষে এলোকেশীর সহিত আমার কি প্রকারে বিবাহ হইয়াছিল, গত বৎসর সে কথা তোমাদের নিকট বলিয়াছি। আমি এলোেকশীকে জাগাইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম,- “এইমাত্র যখন আমি নীচে গিয়াছিলাম, তখন তোমার ঘরে আর একটা কে আসিয়াছিল।” এলোকেশী বলিল,— “মুখপোড়া, বুড়ো ডেকর! এখনি ঝাটাপেটা করিব।” -se sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro br.Sእ» এলোকেশীর স্বভাবটা কিছু উগ্র। তাহাতে তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী। জানালা বন্ধ করিয়া আমি পুনরায় শয়ন করিলাম। পরদিন রাত্ৰিতেও সেইরূপ হইল। প্রতি রাত্ৰিতে সেইরূপ উপরে একটা, নীচে একটা, দুইটা আমির উপদ্রব হইল। আমি ভাবিলাম যে, প্রতি রাত্ৰিতে আমার “ঘরে গৌতম বাহিরে গীেতম” হইতে লাগিল, এ তো ভাল কথা নহে! চতুর্ভুজ বলিলেন, — “এবার আমাকে ঠকাইতে পরিবে না। আমি জানি— “অহল্যা দ্ৰৌপদী কুন্তী তারা মন্দাদরী তথা । পঞ্চকন্যাঃ স্মরেনিত্যং মহাপাতকনাশনম৷” পুরোহিত বলিলেন,- “সকল প্রাণীর সৌন্দৰ্য্য লইয়া ব্ৰহ্মা অহল্যাকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন। “বস্যা ন বিদ্যতে হল্যং তেনাহিতে্যুতি বিশ্রুত ।” চতুর্থ পরিচ্ছেদ কাৰ্ত্তিকের কাধে বাঘ ডমরুধর বলিতে লাগিলেন, — দুইটা আমির উ জ্বালাতন হইলাম। দিনকতক সুন্দরবনে আমার আবাদে গিয়া বাস করি, এইরূপ করিয়া আমি সুন্দরবনে আবাদে গমন করিলাম । এই সময় সেই স্থানে এক বাঘূেরউল্প উপদ্রব হইয়াছিল। গরু বাছুর মানুষ খাইয়া সকলকে বড় জ্বালাতন করিয়াছিল। মন্ত্রক্টলে বাঘের মুখ বন্ধ করিবার নিমিত্ত একদিন বৈকালবেলা আমি এক ফকিরের নিকৃষ্ট্রyগমন করিতেছিলাম। পথে নানাস্থানে শুষ্ক ঘাস ও বৃক্ষপত্র পড়িয়াছিল। একস্থানে শুষ্কৰ্পত্রের ভিতর ছিদ্রের ন্যায় কি একটা দেখিতে পাইলাম। নিকটে যাইবামাত্র হুস করিয়া আমি এক গভীর গৰ্ত্তের ভিতর পড়িয়া যাইলাম। সৰ্ব্বনাশ! দেখি না, সেই গৰ্ত্তের ভিতর প্রকাণ্ড এক কেঁদো বাঘ রহিয়াছে। মুহুৰ্ত্তমধ্যে সকল কথা আমি বুঝিতে পারিলাম। বাঘ ধরিবার নিমিত্ত ধাঙ্গড় রেওতগণ গভীর গৰ্ত্ত করিয়া তাহার উপর পাতানাতা চাপা দিয়া রাখিয়াছিল। বাঘ সেই গৰ্ত্তে পড়িয়া গিয়াছিল। আর উঠিতে পারিতেছিল না। আমিও সেই গৰ্ত্তে পড়িয়া যাইলাম। গৰ্ত্তে পড়িয়া ব্যাঘের বিকট বদন দর্শন করিয়া আমার আত্মাপুরুষ শুকাইয়া গেল। আমি মনে করিলাম যে, ক্ষুধাৰ্ত্ত বাঘ এইবার আমাকে ছিড়িয়া খাইবে। প্ৰাণ ভরিয়া আমি মাকে ডাকিতে লাগিলাম। কারাতিকলে ইদুর পড়িলে যেরূপ ছট্‌ফটু করে, প্রাণভয়ে গৰ্ত্তের ভিতর আমি সেইরূপ করিতে লাগিলাম। বলিব কি ভাই, আমার উপর মা দুর্গার কৃপা! এক আশ্চৰ্য্য উপায়ে তিনি আমাকে রক্ষা করিলেন। আমি যেরূপ ফাঁদে পড়িয়াছিলাম, ব্যাঘও সেইরূপ ফাঁদে পড়িয়াছিল। ফাঁদে পড়িয়া আমার যেরূপ ভয় হইয়াছিল, তাহারও সেইরূপ ভয় হইয়াছিল। আমাকে ভক্ষণ না করিয়া, এক লাফ দিয়া সে আমার কাঁধের উপর উঠিল। আমার কাধে চড়িয়া যখন সে কতকটা উচ্চ হইল, তখন আর একলাফে সে গৰ্ত্তের উপর গিয়া উঠিল। তাহার পর বনে পলায়ন করিল। সন্ধ্যার পর ধাঙ্গড়েরা আসিয়া গৰ্ত্তের ভিতর হইতে আমাকে উঠাইল । তাহাদের সঙ্গে আমি।” brSo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্ভীক” ”সখিৰ বাসায় গমন করিলাম। আমি তখনও বাহিরে, কিন্তু দূর হইতে দেখিলাম যে, আর একটা “আমি বাসার ভিতর গটি হইয়া আছি। আবার বাহিরে একটা আমি, ভিতরে একটা আমি। আবার “ঘরে গৌতম বাহিরে গৌতম ।” বনবাসী হইয়াও আমি সে উৎপাত হইতে নিভৃতি লাভ করিতে পারিলাম না। তবে আর এ স্থানে থাকিয়া কি হইবে? তাহা ছাড়া আর একটা “আমি” সহসা যদি এই বনে আসিতে পারে, তাহা হইলে সে আমার গৃহেও থাকিতে পারে। সে স্থানে সে “আমিটা” কি করিতেছি না। করিতেছি, তাহার ঠিক কি? সেজন্য বাড়ী ফিরিয়া যাইতে আমি মানস করিলাম। সুন্দরবন হইতে আমাদের বাড়ী আসিতে হইলে অনেক দূর নীেকায় আসিতে হয়, তাহার পর সালতি লাগে, সে স্থান হইতে আমাদের গ্রাম পাঁচ ক্রোশ। সন্ধ্যার সময় সেই স্থানে আসিয়া আমার সালতি লাগিল। বাকী পাঁচ ক্রোশ পথ আমি হাঁটিয়া চলিলাম। ভেড়িতে একজনেরা মাছ ধরিতেছিল। তাহদের নিকট হইতে একটি ভেটকি মাছ চাহিয়া লইলাম । পঞ্চম পরিচ্ছেদ ছোটখাটো ভ মৃনুন্ন ভূত ভেটকিমাছটা হাতে লইয়া আমি পথ চলিতে । সকলেই জানে যে, মাছ দেখিলে ভূতের লোভ হয়। দুই ক্রোশ পথ গিয়াছিষ্ট্রোত্রি প্রায় একপ্রহর হইয়াছে। এমন সময় একটি ভূত আমার সঙ্গ লইল। “র্দেনা, দে দেনা” বলিয়া আমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ আসিতে লাগিল। বলা বাহুল্য যে, আমার বিলক্ষণ ভয় হইল। কিন্তু ভূতকে মাছ দিলে আর রক্ষা নাই। তৎক্ষণাৎ সে মানুষের প্রাণবধ করে। সেজন্য তাহার কথা আমি শুনিলাম না, তাহাকে আমি মাছ দিলাম না। কিছুদূর গিয়াছি, এমন সময় আর একটা ভূত আসিয়া জুটিল। একটা আমার দেনা” বলিতে বলিতে আমার সঙ্গে চলিল। কিন্তু কিছুতেই তাহাদিগকে আমি মাছ দিলাম না। অবশেষে তাহারা আর লোভ সামলাইতে পারিল না। মাছের মাথার দিক্‌ কানুকোতে হাত দিয়া আমি ধরিয়াছিলাম, মাছের অপর দিক তাহারা খপ্‌ করিয়া ধরিয়া ফেলিল। অপর দিক ধরিয়া তাহার মাছের লেজার দিক ধরিয়া; সেই মাঠের মাঝখানে ঘোরতর টানাটানি করিতে পারি? ক্ৰমে আমি শ্ৰান্ত হইয়া পড়িলাম। তখন নিরুপায় হইয়া একটা ভূতের হাতে আমি কামড় মারিলাম। বলিব কি হে, ভূতের হাতের কথা। ঠিক যেন কাঠের উপর কামড় মারিলাম। তাহার পর দুৰ্গন্ধ। সেইরূপ দুৰ্গন্ধ মানুষের নাকে কখনও প্ৰবেশ করে নাই। আমার দাঁত নাই সত্য, কিন্তু সেই ফোকলা মুখের এক কামড়েই ভূত দুইটি পলায়ন করিল। তখন আমার মুখে দুৰ্গন্ধা! দুৰ্গন্ধে আমি ক্রমাগত উদগার করিতে লাগিলাম। সেইখানে বসিয়া ন্যাকার ন্যাকার ন্যাকার! মনে হইল পেটের নাড়িষ্টুড়ি বুঝি বাহির হইয়া গেল। নিশ্চয় বুঝিলাম যে, এইবার আমার আসন্নকাল উপস্থিত হইয়াছে। আমি সেই স্থানে চক্ষু বুজিয়া শুইয়া छaाझष्-bfāछ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro brS পড়িলাম ও নদীর অভিশাপের কথা ভাবিতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পরে কে যেন আমার মাথায় ও মুখে জল দিতেছে এইরূপ বোধ হইল। তাহাতে শরীর কিঞ্চিৎ সুস্থ হইল। চক্ষু চাহিয়া দেখিলাম,- কি আশ্চৰ্য্য, এ আবার কি? দেখিলাম যে, ছােটখাটাে একটি নূতন ভূত আসিয়া সেবাশুশ্রুষা করিতেছে। আমি উঠিয়া বসিলাম। তৎক্ষণাৎ ভূতটি কিছুদূরে পলায়ন করিল। আমার মাছটি সে চুরি করে নাই। মাছটি সেই স্থানে পড়িয়াছিল। মাছটি লইয়া ধীরে ধীরে আমি আমাদের গ্রাম অভিমুখে আসিতে লাগিলাম। নূতন ভূতটি দূরে দূরে আমার সঙ্গে সঙ্গে আসিতে লাগিল। সে আমার নিকট হইতে মাছ চাহিল না। কোন কথাই বলিল না। দেখিলাম, সে অতি ভােলমানুষ ভূত। আরও দেখিলাম যে, অতি ভীত স্বভাবের ভূত। একবার আমি ডাকিলাম, আর অমনি সে ভয়ে দূরে পলায়ন করিল। একবার আমি হাঁচিলাম, আর অমনি সে পলায়ন করিল। একবার একখানি গ্রামে কুকুর ডাকিয়া উঠিল, অমনি সে গ্ৰাম হইতে অনেক দূরে গিয়া দাঁড়াইল। কিন্তু সে একেবার আমাকে ছাড়িয়া গেল না। ভয় পাইয়া একবার পলায়ন করে, তাহার পর পুনরায় আসিয়া উপস্থিত হয়। এরূপ ভীরু স্বভাবের ভূত কখনও দেখি নাই। তখন আমি বুঝিলাম, মহাদেব যে আমাকে একটি ছােটখাটাে ভালমানুষ ভূত দিবেন বলিয়াছিলেন, এটি সেই ভূত। অবশেষে আমি তাহাকে বলিলাম,- “দেখ ভালমানুষ ভূত। তুমি আমার উপকার করিয়াছ, তুমি আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছ। আমার সহিত তুমি চল, দুইখানা ভাজামাছ তোমাকে আমি ঘরে গিয়া এলোকেশীকে আমি মাছটি দিলাম। রান্নাঘরে এলাকেশী মাছ ভজিতে লাগিল । রান্নাঘরের ঘুলঘুলি দিয়া ভূতটি হাত বাড়াইল । ক আমি বলিলাম,- “পুনরায় কাল এস, গুঞ্জ পুষ্করিণীতে চুপি চুপি হাতসূতা ফেলিয়া একটি য় মাছটি আনিয়া এলোকেশীকে দিলাম। বলা বাহুল্য যে, আমি নিজের পুকুরের মাছ খরচ করি না, তাহা আমি বিক্রয় করি। সন্ধ্যার পর এলোকেশী যখন মাছ ভজিতেছিল, তখন আমি রান্নাঘরে গমন করিলাম। আমার সাড়া পাইয়া ভূতটি ঘুলঘুলি দিয়া হাত বাড়াইল। তাহার হাতে আমি মাছ দিলাম। এইরূপ প্রতিদিন খুদিরামের পুকুর হইতে গোপনে মাছ ধরিয়া ভূতটিকে আমি খাইতে দিতে লাগিলাম। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ এলোকেশীর রূপমৗধুরী একদিন এলোকেশী সহসা আমাকে জিজ্ঞাসা করিল,- “মাছ ভাজিবার সময়, প্রতিদিন তুমি রান্নাঘরে এস কেন? দিনের বেলা না আনিয়া প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় পুকুর হইতে তুমি মাছ লইয়া এস কেন? ঘুলঘুলির নিকট গিয়া কাহার সহিত তুমি চুপি চুপি কথাবাৰ্ত্তা কর? দুর্লভীকে ԵrՀՀ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comািকস্তানার্থ রচনা সংগ্ৰহ মাছ দাও বুঝি?” দুর্লভী বাগিন্দনীকে তোমরা সকলেই জােন। হাসিতে হাসিতে একদিন তাহাকে দুই একটা তামাসা করিয়াছিলাম। আমি এমন কাৰ্ত্তিক পুরুষ! সেজন্য আমার স্ত্রীর মনে সৰ্ব্বদা সন্দেহ। আমি বলিলাম,- “এলোকেশি ও দুর্লভী নয়। আবাদ হইতে এবার আমি একটি ভূত আনিয়াছি। আমি মনে করিয়াছি যে, ভূতটি ভালরূপে পোষ মানিলে উহাকে কলিকাতায় লইয়া যাইব । যাহারা ঘোড়ার নােচ করে, তাহাদিগের নিকট ভূতটিকে বিক্রয় করিব। অনেক টাকা পাইব। কিন্তু এ ভূতটি বড় ভীরু ভূত। তুমি ঘুলঘুলির নিকট যাইও না। তোমার চেহারা দেখিলে সে ভয়ে পলাইবে।” গত বৎসর সন্ন্যাসীসঙ্কটের গল্প বলিবার সময় আমি এলোকেশীর রূপের পরিচয় দিয়াছিলাম। আমার অভ্যাস হইয়া গিয়াছে তাই, তা না হ’লে এলোকেশীকে দেখিলে ভীমসেনও বোধ হয় আতঙ্কে পলায়ন করেন। এলোকেশীর মুখ হাঁড়ি হইল। মাছ ভজিতে লাগিল, আর গজর গজর করিয়া বলিতে লাগিল,- “আমার রূপ দেখিলে ভূত ভয়ে পলাইবে! বটে!” পরদিন সন্ধ্যার সময় নবাই ঘোষের পুষ্করিণী হইতে বড় একটা মিরগেল মাছ ধরিয়া আমি এলোকেশীকে দিলাম। এলোকেশী সেই মাছ যখন ভাজিতেছিল, সেই সময় যথারীতি আমি রান্নাঘরে গমন করিলাম। ভূতটি যথারীতি ঘুলঘুলিপথে হাত বাড়াইল। মাছ লইয়া যেমন তাহাকে আমি দিতেছি, এমন সময় আমার পশ্চাতে গিয়া এলোকেশী বলিয়া উঠিল,- দুর্লভ! হারামজাদি ! তোর আম্পৰ্দ্ধা তো কম নয়!” ভূতটি একবার মাত্র এলোকেশীর মুখপানে দেখিয়া আতঙ্কে রুদ্ধশ্বাসে সে স্থান হইতে সে “করিলে কি করিলে কি!” এই কথা তৎক্ষণাৎ আমি ঘর হইতে বাহির হইয়া পড়িলাম, তৎক্ষণাৎ বাটীর ভিতর হইলাম, তৎক্ষণাৎ বাগানে গিয়া উপস্থিত হইলাম। মনে করিলাম, বুঝাইয়া-সুরাইয়ী ভূতটিকে ফিরাইয়া আনিব। বাগানে গিয়া দেখিলাম যে, ভূতটি অতি দ্রুতবেগে আমার বাগানের ঈশান কোণের দিকে দৌড়িয়া যাইতেছে। সেই স্থানে খেজুর গাছের ন্যায় অপূৰ্ব্ব গাছ ছিল। সে গাছটিতে আমি রস কাটিতে দিতাম না, সে গাছটিকে স্বতন্ত্রভাবে আমি ঘিরিয়া রাখিতাম। প্রাণভয়ে ভূতটি সেই গাছটির উপর উঠিল। আমি ভাবিলাম,--যাঃ! এইবার ভূতটির প্রাণ বিনষ্ট হইল। আমার সখের ভূত এইবার মারা গেল। মহাদেব হয়তো আমার উপর রাগ করিবেন। বিস্ময়ে পুরোহিত জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ভূতের প্রাণ বিনষ্ট হইবে? খেজুর গাছের উপর উঠিয়া ভূত মারা পড়িবে। ভূত কি কখন মারা যায়?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “পুরোহিতমহাশয় আপনি সাদাসিদে লোক, আপনি এসব কথা বুঝিতে পরিবেন না। এ সামান্য খেজুর গাছ নহে। একবার একজন ধাঙ্গড়ের সঙ্গে আমি সুন্দরবনের ভিতর বেড়াইতেছিলাম। এ স্থানে এক গাছের নিম্নে স্তুপীকৃত হাড় পড়িয়াছিল। প্রথম মনে করিলাম— মানুষের অস্থি, ব্যাঘগণ বোধ হয় মানুষ ধরিয়া এই স্থানে আনিয়া ভক্ষণ করে। কিন্তু তাহার পর আরও নিরীক্ষণ করিয়া বুঝিতে পারিলাম যে, সে সব বানরের হাড়। গাছটি দেখিলাম যে, হেঁতালও নহে, খেজুরও নহে, খেজুরের ন্যায় একপ্রকার বৃক্ষ। কিন্তু খেজুর গাছের পাতাগুলি যেমন উচ্চ হইয়া থাকে, ইহার পাতা সেরূপ ছিল না, ইহার যাবতীয় কাঁচা পাতা নিম্নমুখ হইয়া গাছের গায়ে লাগিয়াছিল। গাছের মাথায় কাদি কাদি छ#द्रष्ट-bfāछ ԵrՀՏ) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro সোনার বর্ণের অতি চমৎকার ফল ফলিয়াছিল। সেই ফল পাড়িতে ধাঙ্গড়কে আমি গাছের উপর উঠিতে বলিলাম। ধাঙ্গড় গাছে উঠিল: পাতার ভিতর দিয়া যেই গাছের মাথার নিকট উঠিয়াছে, আর পাতাগুলি তৎক্ষণাৎ সোজা হইয়া তাহাকে ঢাকিয়া ফেলিল। সেই সময় ধাঙ্গড়ও প্ৰাণ গোল প্ৰাণ গেল বলিয়া চীৎকার করিতে লাগিল। তাহার পর ধাঙ্গড়ের চৰ্ম্মবৃত ভগ্ন হাড়গুলি নীচে পড়িতে লাগিল। তাহার পাতাগুলি পুনরায় নিম্ন হইয়া গায়ে গায়ে আসিয়া লাগিল। এই ভয়ানক ব্যাপার দেখিয়া স্তম্ভিত হইয়া আমি দাড়াইয়া রহিলাম, তাহার পর নিকটে গিয়া দেখিলাম যে, এই ভয়াবহ বৃক্ষ ধাঙ্গড়ের রক্ত-মাংস মায় হাড়ের রস পৰ্যন্ত চুষিয়া খাইয়াছে।” চতুৰ্ভুজ বলিলেন,- “পুস্তকে পড়িয়াছি যে, কয়েক প্রকার উদ্ভিদ আছে, তাহারা পোকামাকড় ধরিয়া ভক্ষণ করে। কিন্তু জীব-জন্তু ধরিয়া খায়, বানর ধরিয়া খায়, মানুষ ধরিয়া খায়, এরূপ বৃক্ষের কথা কখন শুনি নাই। ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “আমি তাহা স্বচক্ষে দেখিয়াছি। তলায় অনেকগুলি সে গাছের বীজ পড়িয়াছিল। আমি গুটিকতক বীজ আনিয়া আমার বাগানের এক কোণে পুঁতিয়াছিলাম। তাহা হইতে একটি গাছ হইয়াছিল। সে গাছ আমি সৰ্ব্বদা ঘিরিয়া রাখিতাম। কাহাকেও তাহার নিকট যাইতে দিতাম না। ভূত যখন সেই গাছের উপর গিয়া উঠিল, তখন আমি তাহার প্রাণের আশা ছাড়িয়া দিলাম।” ক্ৰমে যাহা ভয় করিয়াছিলাম, তাহাই ঘটিল। যেই ভূত গাছের মাথার নিকট গিয়া উঠিল, ভূতের কৃষ্ণবর্ণ রক্ত গাছের গা দিয়া দরদর ধারায় ব্যঞ্জয়া পড়িল। অবশেষে ভূতের খোসাটি নিম্নে পতিত হইল। (2 తో সপ্তম পরিচ্ছেদ মা তুমি কে? লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ভূতের খোসা । সে কিরূপ?” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — ভূতের অস্থি-মাংস-রক্ত সমুদয় এই ভয়ঙ্কর গাছ চুযিয়া খাইয়াছিল। ছারপোকার খোসা দেখিয়াছ? মটর-মুসুরির খোসা দেখিয়াছ? ভূতের খোসাও সেইরূপ। তবে অনেক বড়। যাহা হউক, পরদিন এই দুরন্ত গাছটিকে আমি কাটিয়া ফেলিলাম, তা না হইলে তোমাদিগকে আমি দেখাইতে পারিতাম। সে রাত্রে এলোকেশীর সহিত আমার তুমুল ঝগড়া হইল। আমি বলিলাম যে,- “দুর্লভী দুর্লভী করিয়া তুমি পাগল হইয়াছিলে। এমন সুন্দর ভূতটিকে তুমি তাড়াইলে, ভূতায় পাপে তুমি কলুষিত হইলে, আমার অনেক টাকা তুমি লোকসান করিলে।” এইরূপ ঝগড়া হইতেছে, এমন সময় একবার জানালার ধারে গিয়া দাঁড়াইলাম, দেখিলাম যে, দ্বিতীয় আমি যথারীতি বাগানে দাড়াইয়া আছি, তাহাকে দেখাইয়া আমি এলোকেশীকে গঞ্জনা দিবার নিমিত্ত বলিলাম,- “তুমি দুর্লভী দুর্লভী বল, দেখ দেখি ঐ নীচেতে কে? ԵrՀ8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicom." তোমারও যে — ঘরে গৌতম বাহিরে গৌতম।” এই কথা বলিবামাত্র এলোকেশীর সর্বশরীর রাগে জুলিয়া উঠিল। নিকটে এক মুড়া ঝাড়ু পড়িয়াছিল। তাহা লইয়া এলোকেশী আমাকে সবলে প্রহার করিতে লাগিল। আমার সৰ্ব্বশরীরে যেন বিষের জ্বালা ধরিল। গায়ে খেঙ্গরাকাটি ফুটিয়া যাইতে লাগিল। “আর নয়, আর নয়” বলিয়া আমি যত চীৎকার করি, এলোকেশী ততই আমাকে প্রহার করে। মাথার টাক হইতে পায়ের নখ পৰ্যন্ত প্ৰহারের চোটে ক্ষতবিক্ষত হইল। কিন্তু এই দুঃখের সময় এক সুখের বিষয় হইল। জানােলা দিয়া একবার নীচের দিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, সেই বাগানের আমিও বাঁটার আঘাতে ব্যথিত হইয়া গায়ে হাত বুলাইতেছি। তাহার পর দেখি না যে, দুই আমি একসঙ্গে ঘরের ভিতর রহিয়াছি। তাহার পর দেখি না যে, একটি আমি আরব্য উপন্যাসের দৈত্যের ন্যায় ধোঁয়ার মত হইয়া গেল। তাহার পর সেই ধুমটি সোৎ করিয়া আমার নাকের ভিতর প্রবেশ করিল। এতদিন আমি দুইখানা হইয়াছিলাম। আজ এলোকেশীর বাটার আঘাতে পুনরায় আমি একখানা হইলাম। এলোকেশীর এই অমানুষিক কাজ দেখিয়া আমি ঘোরতর বিস্মিত হইলাম। প্ৰহারের জ্বালা আমি ভুলিয়া যাইলাম। গলায় কাপড় দিয়া যোড়হাতে এলোকেশীর পায়ে পড়িয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “মা, তুমি কে বল?” (^ আমার এইরূপ বিনয়বাক্যে এলোকেশী কিছুমাত্ৰ সন্তুষ্ট হইল না। দ্বিগুণভাবে পুনরায় প্রহার আরম্ভ করিল। এই প্ৰহারে আর একটি আমার উপকার হইল। নদীর অভিশাপ মোচন হইয়া গেল। আমার আত্মবিস্মৃতি কিয়ৎপরিমাণে ঘুচিয়া গেল। আমি কে, তখন বুঝিতে পারিলাম। যোড়হাতে তখন আমি মা দুৰ্গাকে ডাকিতে লাগিলাম,- “মা! আমি অপরাধ করিয়াছি। বিবাহের সাধ আমার মিটিয়া গিয়াছে। আর বাটা-পেটা সইতে পারি না। আমাকে কৈলাস পৰ্ব্বতে লইয়া চল। সেস্থানে চিরকাল আমি আইবুড়ো হইয়া থাকিব। চামুণ্ডারূপিণী। এলোকেশীর সহিত আর আমি সংসারধৰ্ম্ম করিতে চাই না।” মা কোন উত্তর দিলেন না। আমি শুনিয়াছিলাম যে, শৈশবকালে কৃত্তিকা প্রভৃতি ছয়টি নক্ষত্র আমাকে প্রতিপালন করিয়াছিলেন। এখন আমি তাহাদিগকে ডাকিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম,- “জননীগণ! যখন নিঃসহায় অবস্থায় শরবনে আমি পড়িয়াছিলাম, তখন তোমরা আমাকে রক্ষা করিয়াছিলো। ছয়জনের স্তন্যপান করিবার নিমিত্ত ছয়টি মুখ আমি বাহির করিয়াছিলাম। দুৰ্দান্ত এলোকেশীর খেঙ্গরার প্রহার আর আমি সহ্য করিতে পারি না। আমার শরীর জরজর হইয়া গেল। তোমরা আমাকে রক্ষা কর।” আশ্চর্য্যের কথা বলিব কি ভাই, তৎক্ষণাৎ আকাশবাণী হইল,— “পৃথিবীতে তোমার আরও একশত বৎসর পরমায়ু আছে। বৎস! সুখে এই স্থানে এখন থাক। আরও একশত বৎসর ডমরু-চরিত ԵrՀՓ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro এলোকেশীকে লইয়া ঘরকন্না কর। তাহার পর কৈলাসে গমন করিও।” এলোকেশী এই সময় ক্লান্ত হইয়া পড়িল। আর তাহার হাত চলিল না। সেজন্য সে যাত্রা আমার প্রাণ বাঁচিয়া গেল । দেখ লম্বোদর ভায়া! মা দুৰ্গা কি বলিয়াছিলেন, তাহা তোমার মনে আছে তো? অতি সংক্ষেপে তিনি আমাকে পূজা করিতে বলিয়াছেন। এ বৎসর পূজার কোন উপকরণ আমি ক্রয় করিব না। গণেশের ইন্দুরের কাপড়টুকু পৰ্যন্ত দিব না। সমুদয় গঙ্গাজল দিয়া সারিব। মায়ের আজ্ঞা! তাহা ব্যতীত আমাদের এই ঘোষেদের কাটিগঙ্গার জল অতি পবিত্র। তাহা অপেক্ষা বহুমূল্য পদার্থ পৃথিবীতে আর কি আছে? পুরোহিত বলিলেন,- “তোমার পূজা তাহা হইলে এ বৎসর ঋষিশ্রাদ্ধের ন্যায় হইবে।” লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন, — “ঝষিশ্ৰাদ্ধ কিরূপ?” পুরোহিত উত্তর করিলেন,- “অজাযুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে প্ৰভাতে মেঘডম্বরে। দম্পত্যোঃ কলহে চৈব বহুবারম্ভে লঘুক্রয়া।” দুইটি ছাগলে বিবাদ হইলে যখন তারা আরক্তনয়নে শৃঙ্গ তুলিয়া দণ্ডায়মান হয়, তখন বোধ হয়, এবার বুঝি বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ড রসাতলে যাইবে। কিন্তু শেষে কেবলমাত্র একটি ঠিস। ঋষিদিগের শ্ৰাদ্ধে বিশজন ব্ৰাহ্মণে ক্ৰমাগত কলার খোলা কাটিতে থাকেন। মনে হয়, কত ধুমধাম না হইবে। কিন্তু ঐ খোলা কাঁটাই সার। এ দুর্গোৎসবেও দেখিতেছি, কেবল প্রতিমা, ঢোল ও গঙ্গাজল।” ডমরুধর বলিলেন, — “মায়ের আজ্ঞা! ভাল মনে দিয়াছেন। আমি আমার আবাদের দুইজন ধাঙ্গড়কে তাহাদের সেই চেপটা মাদল আনিয়ী পূজার সময় বাজাইতে বলিয়াছি। তাহাদিগকে কিছু দিতে হইবে না। দুইবেলা ভাত দিলেই হইবে। পূজার কয়দিন আমার বাড়ীতে রান্না হইবে না। পূজার লোকের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ খাইয়া আমরা ಙ್॰" বুঝিয়াছ তো?” Y. লম্বোদর উত্তর করিলেন,- “ বুঝিয়াছি, কিন্তু এ পূজা তোমার না করিলে কি নয়?” মুখ কুঞ্চিত করিয়া নাকি সুরে ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “তুমি তো বলিলে! কিন্তু পূজা যদি না করি, তাহা হইলে লোকের কােছ হইতে প্ৰণামীটি কি করিয়া আদায় করি? পুরোহিত অতি মৃদুস্বরে বলিতে লাগিলেন, — “কাৰ্ত্তিকেয়ং নমস্যামি গৌরীপুত্ৰং সূতপ্ৰদম্।। ষড়াননং মহাভাগং দৈত্যদর্পনিসূদনমূ৷” brSU frig -ibs gas se! - www.amarboiconfig" * চতুর্থ গল্প প্ৰথম পরিচ্ছেদ ডমরুধারের শিব-সাধনা ডমরুধরের পূজার দালান। প্রতিমা প্ৰস্তৃত। পঞ্চমীর দিন। পূৰ্ব্বের মতই প্ৰতিমার পার্শ্বে বসিয়া ডমরুধর বন্ধুবর্গের সহিত গল্পগাছা করিতেছেন। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমার প্রতিমায় এ বৎসর ব্যাঘ কেন? কাৰ্ত্তিকের ওরূপ বেশ কেন?” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — “ও কথা আর কেন বল ভাই! যে বিপদে পড়িয়ছিলাম, তা আমিই জানি।” সকলে জিজ্ঞাসা করিলেন, — “কি হইয়াছিল?” লম্বোদর বলিলেন,- “আবার বুঝি একটা আজগু র সূচনা হইতেছে!” ডমরুধর বলিলেন,- “তোমাদের শুনিয়া কাজ ক্লিষ্ট दनिऊ फ़ॉद मों।” সকলের কৌতুহল জন্মিল। বলিবার নিমিতুষ্ট্ৰেলৈ সাধ্য-সাধনা করিতে লাগিলেন। অনেক সাধ্য-সাধনার পর ডমরুধর বলিতে আরম্ভ করিলে সন্ন্যাসি-হাঙ্গামায় পড়িয়া আমার সূক্ষ্মঞ্জরীর আকাশে ভ্ৰমণ করিয়াছিল। অবশেষে যমালয়ে । সে গল্প পূৰ্ব্বে আমি বলিয়াছি। সেই অবধি সশরীরে আকাশ-ভ্ৰমণ করিতে আমার বড় সাধ হইয়াছিল। যতদূর চলে, মায়ের পূজা আমি গঙ্গাজল দিয়া সারি। গঙ্গাজলে মা যত পরিতোষ লাভ করেন, এমন আর কিছুতেই নয়। বিশেষতঃ আমাদের কাটি-গঙ্গার জল। কিন্তু পূজার জন্য প্রজাদের নিকট হইতে আমি ঘূত, মধু, পীঠ প্রভৃতি আদায় করি। তাহা আনিবার নিমিত্ত এই আশ্বিন মাসে আমি সুন্দরবনে আমার আবাদে গিয়াছিলাম। আসিল। গান গাহিয়া বার্ষিক চাহিল। আমার কাছারি হইতে পূজার সময় তাহারা চারি আনা বার্ষিক পায়। এবার সে বার্ষিক আমি বন্ধ করিয়া দিলাম। প্রথম তাহারা অনেক মিনতি করিল। শেষে যখন দেখিল যে, তাহদের বচনে আমি ভিজিবার ছেলে নই, তখন আমাকে অভিশাপ দিয়া গেল,- “পীর গোরাচাঁদের ব্যাঘ তোমাকে গ্ৰাস করুক।” শুনিলাম যে, পীর গোরাচাঁদ এক সিদ্ধপুরুষ ছিলেন। প্ৰকাণ্ড এক ব্যাঘা চড়িয়া সুন্দরবন অঞ্চলে তিনি ভ্ৰমণ করিতেন। তাঁহার অনেক ধন ছিল। যাহাকে তিনি যাহা বলিতেন,তাহাই ফলিত। আমি মনে মনে ভাবিলাম যে, সিদ্ধ হওয়া ব্যবসাটি তবে মন্দ নহে। আমিও সিদ্ধ হইব। আমি ডমরুধার; আমার অসাধ্য কি আছে? usag-Pfals ԵrՀԳ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro সিদ্ধ হইবার সহজ উপায় সকলের নিকট জানিয়া লইলাম। তাহারা বলিল, গভীর রাত্রিতে শ্মশানে গিয়া মড়ার পিঠে বসিয়া জপ করিতে হয়। বাঘ ভালুক ভূত প্ৰেত আসিয়া ভয় প্রদর্শন করে। ভয় করিলেই বিপদ, না ভয় করিলে দেবী স্বয়ং আসিয়া ব্যর প্রদান করেন। ভূতপ্রেতিদিগের নিমিত্ত সঙ্গে মদ ও মুড়ি-কড়াই-ভাজা লইয়া যাইতে হয়। আমি ভাবিলাম, এ তো সহজ কথা। মড়াকে আবার ভয় কি? মড়া আমি গুলিয়া খাইতে পারি। বাঘকেও আমার ভয় নাই। মন্ত্রবলে আমি বাঘের মুখ বন্ধ করিয়া দিতে পারি। ভূতকেও আমার ভয় নাই। মাছ লইয়া ভূতের সঙ্গে একবার কাড়াকড়ি করিয়াছিলাম। শেষে ভুতের হাতে কামড় মারিয়াছিল। আমার দাঁত নাই, তাই, দাঁত থাকিলে ভূতের হাতে এখনও ঘা থাকিত। তাহার পর একটি ভূত পুধিয়াছিলাম। এলোকেশী যদি সব পণ্ড না করিত, তাহা হইলে পোষা ভূতটি এখনও আমার কাছে থাকিত। দুই চারি দিন পরে সে স্থানে একটি লোক মরিয়া গেল। সে মজুরি করিতে আসিয়াছিল। আপনার লোক কেহ ছিল না। তাহার মৃতদেহ লোকে গাঙ্গে ফেলিয়া দিল। কুন্তীরে খাইতে না খাইতে আমি মড়টিকে টানিয়া উপরে তুলিলাম। তাহার পর যে স্থানে লোক মড়া পোড়ায়, সেই স্থানে রাখিয়া আসিলাম। এক বোতল মদ ও কিছু মুড়ি-কড়াই ভাজা সংগ্ৰহ করিলাম। গভীর রাত্ৰিতে একাকী শ্মশানে গমন করিলাম। মড়াটির মুখে মদ ও মুড়ি-কড়াই ভাজা দিলাম। কুড় কুড় করিয়া খাইতে লাগিল। তাহাকে উপুড় করিয়া পিঠে বসিয়া আমি কঠোর তপ আরম্ভ করিলাম । তোমাদের ওসব জপের মন্ত্র জানি না। হিড়িং বিড়িং আমি মানি না। কেবল দেবীর পাদপদ্ম আমি ধ্যান করিতে প্রথম আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইল। অবিরত বি ಪ್ರಣೆ ঘন ঘন বজনিনাদে পৃথিবী কম্পিত হইল। আমি উঁ ধ্যান করিতে লাগিলাম । মীর সম্মুখে লক্ষকাম্প করতে লাগিল। শৃঙ্গাঘাতে পৃথিবী চক্ষু মুদিত করিয়া মায়ের পাদপদ্ম ধ্যান করিতে লাগিলাম। ব্যাঘ আসিল। তাহার গভীর গর্জনে বন প্ৰতিধ্বনিত হইতে লাগিল। আমি চক্ষু চাহিলাম না। একমনে দেবীর পাদপদ্ম ধ্যান করিতে লাগিলাম । ভূত প্ৰেত দানা দৈত্য আসিল। আমার সম্মুখে নাচিতে লাগিল। খিলখিল হাসিতে চারিদিক পূর্ণ করিল। আমি ভয় পাইলাম না, চক্ষু চাহিলাম না, কেবল বলিলাম,- “ঐ মদ মুড়িকড়ইভাজা আছে। খাও, খাইয়া ঘরে যাও। তাহার পর পুনরায় ধ্যানে মগ্ন হইলাম।” দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ডমরুধারের সিদ্ধিলাভ এইরূপ কত যে বিভীষিকা হইল, সে কথা তোমাদিগকে কি আর বলিব। অবশেষে আমার পরলোকগত মাতা আসিলেন। তিনি বলিলেন,- “বাছ, ডমরুধর! অনেক তপ করিয়াছ, আর কাজ নাই, এখন ঘরে চল, এখানে বসিয়া থাকিলে অসুখ করিবে!” আমি কোন উত্তর করিলাম না। ԵrՀԵ află cios (gs se - www.amarboi conf** তাহার পর আমার স্ত্রী এলোকেশী আসিলেন। তিনি বলিলেন, — “ঘরে চল! না গেলে এখনি কান ধরিয়া লইয়া যাইব ।” তোমরা সকলেই জান যে, এলোকেশীকে আমি যমের মত ভয় করি। তাঁহার কণ্ঠস্বর শুনিয়া প্রথম আমার হৃৎকম্প হইয়াছিল। কিন্তু আমার স্মরণ হইল। যে, এসব মিথ্যা। তখন আমি পুনরায় ধ্যানে প্ৰবৃত্ত হইলাম। আমার সে কঠোর তপ যখন কেহ কিছুতেই ভঙ্গ করিতে পারিল না, তখন মা দুৰ্গা স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত হইলেন। মা বলিলেন,- “ডমরুধর! তোমার কঠোর তপস্যায় আমি সন্তোষ লাভ করিয়াছি। এক্ষণে বর প্রার্থনা কর।” আমি চক্ষু চাহিয়া দেখিলাম যে, ঠিক যেমন এই প্রতিমা, দেবী সেই বেশে আমার নিকট আগমন করিয়াছেন। মা দশভুজা, দক্ষিণে গণেশ ও লক্ষ্মী, বামে সরস্বতী ও কাৰ্ত্তিক, নিম্নে সিংহ অসুর। মায়ের সেই উজ্জ্বল রূপ দেখিয়া আমি হতবুদ্ধি হইয়া পড়িলাম। চারিদিক আঁধার দেখিতে লাগিলাম। মনের উপরও যেন ছানি পড়িয়া গেল। কিন্তু বর চাহিব, তাহা খুঁজিয়া পাইলাম না। আমার দূরদৃষ্ট! তা না হইলে কাছে লক্ষ্মী ছিলেন। যদি ধন চাহিতাম, এত ধন তিনি দিতেন যে, রাখিতে ঘরে স্থান হইত না। কাছে সরস্বতী ছিলেন, যদি বিদ্যা চাহিতাম, তাহা হইলে আমিও একটা বি-এ, এম-এ পাস করা ফোচকে ছোড়া হইতে পারিতাম। কিন্তু সে জ্ঞান আমার হইল না। কাৰ্ত্তিকের ময়ুরটি দেখিয়া আকাশ-ভ্রমণের সাধ আমার মূল উদয় স্থূল ভূমি বুলিলাম। যদি বহু দুই, ভূবে কার্ভিকের ময়ূরািট আমাকে প্রদান কর। উহার পিঠে চড়িয়া আমি আকাশ-ভ্ৰমণ করিব6 দেবী বলিলেন,— “ছি বাছা, ও কথা বলিও ৰা! ছেলেমানুষ। তাহার ময়ুরটি দিলে সে কাদিবে।” ஜூ আমি উত্তর করিলাম,- “অন্য না মা! নিদেন সকাল হইতে সন্ধ্যা পৰ্যন্ত একদিনের জন্য ময়ুরটিকে দাও, মাৰ্চ ১ পিঠে চড়িয়া সমস্ত দিন আকাশ-ভ্ৰমণ করিয়া সন্ধ্যাবেলা তোমাদের ময়ুর তোমাদিগকে ফিরাইয়া দিব। যদি না দাও, তবে পুনরায় আমি এই তপে বসিলাম ।” দেবীর ভয় হইল। তিনি বলিলেন, — “না বাছা! আর তপস্যা করিও না। তোমার তপে পৃথিবী তাপিত হইয়াছে। আর তপ করিলে মহাপ্রলয়ের অনল উত্থিত হইয়া সমস্ত জগৎ ভষ্ম হইয়া যাইবে।” এই কথা বলিয়া কাৰ্ত্তিকের সহিত দেবী চুপি চুপি কি পরামর্শ করিলেন। তাহার পর তিনি বলিলেন,- “আচ্ছা বাছা, একদিনের জন্য কাৰ্ত্তিক তোমাকে ময়ুরটি প্রদান করবে। আমার সিংহের একটি বাচ্চা দিয়া কাৰ্ত্তিককে আমি ভুলইয়া রাখিব। কিন্তু ডমরুধর! সন্ধ্যা হইলেই ময়ুরকে তুমি ছাড়িয়া দিবে। না ছাড়িয়া দিলে, সে তোমাকে লবণ, ইক্ষুরস, সুরা, ঘূত, ক্ষীর, দধিসমুদ্র পারে স্বাদুসমুদ্রে লইয়া ফেলিবে । সে সমুদ্রে তুমি হাবুডুবু খাইয়া মরিবে।” এইরূপ সাবধান করিয়া দেবী আমাকে ময়ূরাটি প্রদান করিলেন। কাৰ্ত্তিককে সিংহশাবক দিলেন। সিংহের বাচ্চাটি কোলে লইয়া কাৰ্ত্তিক কৈলাসে গমন করিলেন । প্রতিমায় যেরূপ গঠিত হয়, কাৰ্ত্তিকের ময়ুর প্রকৃত সেরূপ নহে। সে ময়ূর কিরূপ, খড়ি দিয়া এই শানের উপর আমি তোমাদিগকে আকিয়া দেখাই। ময়ূরের ছবি দেখিতে সকলে তাঁহার উপর ঝুকিয়া পড়িলেন। ছবি দেখিয়া লম্বোদর উ***** দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ brSసి একটু হাসিলেন,— কুপিত হইয়া ডমরুধর বলিলেন, — “হাসিও না। এ তোমাদের পৃথিবীর কঁ্যাক-কেঁকে প্যাকম-ধরা ময়ূর নহে। এ আসল কাৰ্ত্তিকের কৈলাসি ময়ূর। তাহার পর ডমরুধর পুনরায় গল্প আরম্ভ করিলেন, — গণেশ, লক্ষ্মী, দুৰ্গা ও সরস্বতীকে প্ৰণাম করিয়া আমি ময়ুরের পিঠে চড়িয়া বসিলাম। তাহাকে আকাশের দিকে চালাইতে চেষ্টা করিলাম। ময়ুর উপরে উঠিল না। তখন দেবী হাসিয়া বলিলেন,- “মন্ত্র না পড়িলে নরলোককে লইয়া ময়ুর উপরে উঠবে না। শূন্যে আরোহণ করিবার সময় তুমি এই মন্ত্রটি পাঠ করিবে— “জয় কৈলাসবাসিনী মহেশগৃহিণী গণেশজননী।” তাহার পর সন্ধ্যাবেলা তোমার বাসার উপরে আসিয়া এই মন্ত্রটি বলিবে,- “জয় কৈলাসবাসিনী ত্ৰ্যম্বকগুহিণী ষড়াননজননী।” দ্বিতীয় মন্ত্রটি অতি সাবধানে স্মরণ করিয়া রাখিবে। বাসার উপর আসিয়া এই মন্ত্রপাঠ না। করিলে ময়ুর তোমাকে সপ্তদ্বীপ সাত সমুদ্র তের নদী পারে লোকালোক পৰ্ব্বতের ওধারে সূৰ্যের অগম্য তিমিরপূর্ণ গভীর গহবরে ফেলিয়া চলিয়া যাইবে।” আমি বলিলাম,- “মন্ত্রটি অতি সহজ। কেন মনে করিয়া রাখিতে পারিব না? তবে দ্বিতীয় মন্ত্রে ঐ গুম্বজগৃহিণী কথাটা কিছু কঠিন।” দেবী হাসিয়া বলিলেন, — “গুম্বজগৃহিনী নহে, ত্ৰ্যম্বকগুহিণী।” আমি বলিলাম,- “এইবার আমি ভাল করিয়া স্মরণ রাখিব, গুম্বজ নহে ব্ৰ্যম্বক ৷” দেখ লম্বোদর, এই স্থানে তোমাদের একটা বলিয়া রাখি। প্রতিমায় এই যে কাৰ্ত্তিক সকলে করে, এ-কেলে কাৰ্ত্তিক নহে, ৫াির্কলে কাৰ্ত্তিক। লম্বা কেঁচা গ্রুফো ধেড়ে কাৰ্ত্তিক কি বাপুঃ এই কি তােমাদের ভক্তি, ছিংখ্রখনকার কাৰ্ত্তিক ছেলে-মানুষ। মােজাইজের কােটি টুপি পরা। সিংহশাবক কােলে কাৰ্ত্তিষ্ক ক আমি এইরূপ দেখিয়াছিলাম। প্রতিমায়ও তাই করিয়াছি। KN) প্ৰতিমা সহিত দেবী অন্তৰ্দ্ধান হইলেন। আমি প্রথম মন্ত্রটি পাঠ করলাম,— “জয় কৈলাসবাসিনী মহেশগৃহিণী গণেশজননী।” তৃতীয় পরিচ্ছেদ পিং মহাশয় ময়ুর তৎক্ষণাৎ উপরে উঠিল। অনেক—অনেক উপরে উঠিল। রেলগাড়ী বা কি? তড়িদৃগতি বা কি? তাহা অপেক্ষা দ্রুতবেগে শূন্যপথে চলিতে লাগিল। চন্দ্ৰলোক সূৰ্য্যলোক ধ্রুবলোক পার হইয়া গেল। কোটি কোটি যোজন পরে শেষে আমি পিঙের আকাশে গিয়া উপস্থিত হইলাম। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “পিং! সে কি?” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — পিং কি? পিং এইরূপ—বলিয়া তিনি পিং-এর চিত্র অঙ্কিত করিয়া দেখাইলাম । লম্বোেদর বলিলেন, — “তা যেন দেখিলাম। কিন্তু পিং কে?” br gfrila is gas sel - www.amarboiconf:"* ডমরুধর উত্তর করিলেন, — কি গেরো! পিং কে, তা আমি কি করিয়া জানিব? পিং আমার জাতি নয়, জ্ঞাতি নয় যে, তাহার পরিচয় আমি তোমাকে দিব। প্ৰাণ গেলেও আমি মিথ্যা কথা বলিব না । আমার সে স্বভাব নয় । ছোট একখণ্ড কালো মেঘের উপর পিং বসিয়াছিলেন । আমি তাহার নিকট গমন করিলাম। দেখ লম্বোেদর! তোমরা আমাকে কালো কুৎসিত কদাকার বলিয়া উপহাস কর । কিন্তু পিং আমার রূপের মৰ্য্যাদা জানেন। আমাকে দেখিবামাত্র পিংকি বলিলেন শুন । পিং বললেন,- “আহা, মহাশয়ের কি রূপ! ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, তাহার ভিতর হইতে খড়ি মাটীর আভা বাহির হইতেছে। তাহা দেখিয়া আমার উস্কো খুস্কো পালক-আবৃত কাক ভুষণ্ডীকে মনে হইল। বহুকালের প্রাচীন ছেৎলাপাড়া বীশের ঝোড়ার ন্যায় মহাশয়ের অস্থি-পিঞ্জর দেখা যাইতেছে। দধিপুচ্ছ শৃগালের পকৰ্মত-গহ্বরের ন্যায় আপনার দন্তশূন্য মুখগহবর। তাহার দুই ধারে কি দুইটি কাক বসিয়াছিল? ঐ যে ঠোঁটের দুই কোণে শুভ্ৰবর্ণের কি রহিয়াছে? আপনার টােল-পড়া গাল দুইটি দেখিয়া হনুমানের চড়-প্ৰহারিত রাবণ-মাতুল কালনেমির গণ্ডদেশ আমার স্মরণ হইল। পঙ্কচুল-পরিবেষ্টিত মস্তকের মধ্যস্থিত বিস্তৃত টাক দেখিয়া আমার মনে হইল, বিধাতা বুঝি পূর্ণচন্দ্রটিকে বসাইয়া তাহার চারিদিকে শুভ্ৰবর্ণের মেঘ গাঁথিয়া দিয়াছেন। ফলকথা, মহাশয়কে যখন দূরে দেখিলাম, তখন মনে করিলাম যে, ময়ুরে চড়িয়া টাক-চূড়ামণি কেলে-কাৰ্ত্তিক জগৎ আঁধার করিয়া আসিতেছেন।” পিঙের সুমিষ্ট স্তবে গ্ৰীতিলাভ করিয়া আমি তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “আমি আকাশে পিং উত্তর করিলেন,- “সমুদ্রকুলে বালুকস্ট্রের ন্যায়। ইহার পর আরও কোটি কোটি ব্ৰহ্মাণ্ড আছে। কিন্তু ব্ৰহ্মার কোন অণ্ডই অ্যােঞ্জর ওপারে আপনি গিয়া অশ্বাও দর্শন করুন। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “অ } কিরূপে? সে কোথায়?” পিং উত্তর করিলেন,- “অল্পদিন হইল ব্ৰহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের নিকট গিয়া যম আবেদন করিলেন যে, — “বঙ্গদেশের বিটলে কপট স্বদেশভক্তগণ শীঘই প্রেতত্ব হইবে। তাঁহাদের প্রেতকে আমার আলয়ে আমি স্থান দিতে পারিব না। তাঁহাদের কুহকে পড়িলে আমি উৎসন্ন যাইব । ছেলেখেকো বক্তারাও শীঘ্ৰ প্রেত হবে। তাহাদিগকে আমি স্থান দিব না। আমার ছেলেগুলি তাহা হইলে গোল্লায় যাইবে। স্বদেশী প্ৰবঞ্চকদিগের প্রেতীকেও আমি স্থান দিতে পারিব না। আমার আলয়ে আসিয়া তাহারা হয়তাে কোম্পানী খুলিয়া বসিবে। তখন যমনীকে হাতের খাড়ু বেচিয়া শেয়ার কিনিতে হইবে। তাহার মহাপ্রভুরা এককড়া কণাকড়িও উপুড়হস্ত করিবেন না। আপনারা ইহার ব্যবস্থা করুন। ব্ৰহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া ইন্দ্ৰেয় ঘোড়া উচ্চৈঃশ্রবাকে এক ডিম্ব প্রসব করিতে বলিলেন। বিশ্বসংসারের ওপারে, এই অণ্ড আছে। ইহাতে বিটলে স্বদেশভক্ত, ছেলেখেকো বক্তা ও স্বদেশী প্ৰবঞ্চকগণের প্ৰেত বাস করে। মহাশয় গিয়া অশ্বাণ্ড দর্শন করুন।” পিং আরও বলিলেন যে, অশ্বাণ্ডের দ্বারে এক প্রহরী আছে। প্রহরী যে কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করিবে ও তাহার উত্তরে কি বলিতে হইবে, পিং আমাকে শিখাইয়া দিলেন। পিঙের নিকট হইতে বিদায় লইয়া পুনরায় আমি শূন্যপথে চলিতে লাগিলাম। সমুদ্রকুলে বালুকারেণুর ন্যায় কোটি কোটি ব্ৰহ্মাণ্ড পার হইয়া যাইলাম। অবশেষে বিশ্ব-সংসারের ওপারে [छाद्रष्ट-कृष्टि sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro brరి দূর হইতে অশ্বাণ্ড দেখিতে পাইলাম। পরে নিকটে গিয়া উপস্থিত হইলাম। দেখিলাম যে, দ্বারে ভীষণ মূৰ্ত্তি প্রহরী বসিয়া আছে। চীৎকার করিয়া প্রহরী আমাকে জিজ্ঞাসা করিল,- “হু কামস দার?” (Who comes there?) আমি উত্তর করিলাম,- “ফ্রেণ্ড ।” (friend) প্রহরী বলিল,— “পাস ফ্রেণ্ড, অল ওয়েল” (Pass friend all well) এই বলিয়া প্রহরী দ্বার ছাড়িয়া দিল। অশ্বাণ্ডের ভিতর আমি প্ৰবেশ করিলাম। আমি দেখিলাম যে, ব্ৰহ্মাণ্ডের ন্যায় অশ্বাও ক্ষিতি অপৃ তেজ মরুৎ ব্যোম দিয়া গঠিত নহে। ইহা সম্পূর্ণ অন্ধকার দিয়া নিৰ্ম্মিত। দূর দূর বহু দূর গিয়া বিটলে স্বদেশে ভক্তদিগের দেশে গিয়া উপস্থিত হইলাম। এই প্রেতিদিগের রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত এক প্রহরী নিযুক্ত আছে। প্রহরী তাহাদিগকে বৃহৎ অট্টালিকার ভিতর বন্ধ করিয়া রাখে। আমাকে দেখাইবার নিমিত্ত তাহাদিগকে সে বাহির করিল। পৃথিবীতে ইহাদের শরীর নুদুর-নাদুর থাকে। এখানে ইহাদের এইরূপ মূৰ্ত্তি হইয়াছে। বঙ্গদেশের ইহারা সৰ্ব্বনাশ করিয়াছে। শত শত বাঙ্গালী যুবকের অনুলাভের পথ রোধ করিয়াছে। সাধারণের টাকা আত্মসাৎ করিয়াছে। প্রহরী আমাকে বলিল,— “সতুর এ স্থান হইতে প্ৰস্থান করুন। আপনার যে এমন অপূৰ্ব্ব রূপ, ইহাদের বাতাস লাগিলে সে সব মাটী হইয়া যাইবে। আপনাকে আরও এক বিষয়ে সাবধান করি। কিছুদূরে আপনি ছেলেখেকো বক্তাদিগের প্ৰেতগণকে দেখিতে পাইবেন! তাহাদে্যু যেন আপনার কর্ণকুহরে প্রবেশ না リエ মহলে সমাদৃত সৰ্ব্বত্র প্রচলিত ঘূত সদৃশ2আপনার হৃদয় কোমল। তাহাদের বক্তৃতা-উত্তাপে আপনার হৃদয় গলিয়া যাইবে । তখন শ্ৰীষ্টপনি যা নয়—তাই করিয়া বসিবেন। সভয়ে এ স্থান হইতে আমি পলায়ন করিলাম। দূরে কোটি কোটি যোজন দূরে আমি এক ছেলেখেকো বক্তা দেখিতে পাইলাম। একাকী দাঁড়াইয়া ইনি বক্তৃতা করিতেছিলেন। বক্তৃতাকালে ইনি অনেক অপোগণ্ড শিশুর ইহকাল-পরকাল ভক্ষণ করিয়াছিলেন। অনেক সংসার ছরেখারে দিয়াছিলেন। কানে আঙ্গুল দিয়া ইহার নিকট আমি গমন করিলাম। ইহার অপর কেহ শ্রোতা ছিল না। কিন্তু একখণ্ড অন্ধকারের উপর দীড়াইয়া রাত্রিদিন ইনি বক্তৃতা করেন। শুনিলাম যে পাতালে অসুরদিগের কানের পোকা হইলে, তাহারা ইহার বক্তৃতা শ্রবণ করিতে আগমন করে। পাঁচ মিনিট কাল ইহার বক্তৃতা তাহাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করিলেই কানের পোকা ধড়-ফড় করিয়া বাহির হইয়া যায়। এ স্থান হইতে বিদায় হইয়া আরও কোটি কোটি যোজন দূরে স্বদেশী প্ৰবঞ্চকদিগের দেশে উপস্থিত হইলাম। অনেকগুলি এই জাতীয় প্রেতি দর্শন করিলাম। তাঁহাদের একজন পৃথিবীতে ফাঁকি দিয়াছিলেন। অবশেষে এক বীমা-আফিস খুলিয়া মুটে-মজুরের টাকাও উদারস্থ করিয়াছিলেন। অনেকগুলি হাত ও পা বাহির করিয়া এই মহাপ্ৰভু এক্ষণে আমাকে ধরিতে আসিলেন । ইহার বীমা-আফিসে আমি অর্থ প্ৰদান করি, —সেই ইচ্ছায় তিনি আমাকে ধরিতে br8. află cios (gs se - www.amarboi conf** আসিয়াছিলেন। কিন্তু এ সব কাৰ্যে আমিও একজন ঘুণ। আমি ধরা দিলাম না। সত্বর সে স্থান হইতে পলায়ন করিলাম। বেলা তখন প্রায় তিনটা বাজিয়াছিল। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে আমার বাসায় পৌছিতে হইবে। তা না হইলে ময়ুর আমাকে সপ্তদ্বীপের ওপারে স্বাদুসমূদ্রে নিক্ষেপ করবে। সেজন্য পৃথিবীর দিকে ময়ূরকে আমি পরিচালিত করিলাম। চতুৰ্থ পরিচ্ছেদ জিলেট জিলেকি সিলেমেল করিয়াছিলাম, বক্তৃতা করিয়াছিলাম, স্বদেশের হিতের নিমিত্ত চাঁদা সংগ্ৰহ করিয়াছিলাম, তাহার পর চাঁদার টাকাগুলি নিজে হাম করিয়াছিলাম। সন্ন্যাসি-বিভ্রাটের পর আমিও এক স্বদেশী কোম্পানি খুলিয়া অনেক রাড়ী বালতি গরীব কেরাণীর মস্তকে হস্ত বুলাইয়াছিলাম। তবে প্রেত হইয়া আমাকেও কি ঐ অশ্বােণ্ড গমন করিতে হইবে? কিন্তু তাহার পর আমার স্মরণ হইল যে, যম অবগত আছেন, আমি মুরগী খাই না, পুঁই শাক ভক্ষণ করি না। সুতরাং সেই পুণ্যবলে অনায়াসে আমি সত্য-লোক, যেখানে ইচ্ছা সেইখানে গিয়া বাস। করিতে পারিব। যদি ধৰ্ম্ম শিখিতে চায় তো রা। আমার কাছে আসুক। হু হু শব্দে ময়ুর পৃথিবীর দিকে ধাৰ্বিস্তু ইহঁল। অসংখ্য ব্ৰহ্মাণ্ড অসংখ্য গ্ৰহ-নক্ষত্র পার হইয়া অবশেষে সূৰ্য্যমণ্ডল পার হইলাম। স্টেটস্থান হইতে পৃথিবী দেখিলাম,—অতি ক্ষুদ্র এক নক্ষত্রের ন্যায় ঝিকমিক করিতেছে। ময়ূরের দুই পার্শ্বে আমার দুইটি পা বুলিতেছিল। হঠাৎ কোথা হইতে কি একটা আসিয়া আমার বাম পায়ে কামড় মারিল। কিন্তু তৎক্ষণাৎ ছাড়িয়া দিল। চকিত হইয়া আমি সেই দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিলাম। দেখিলাম যে, অতি বিরক্তিসূচক মুখভঙ্গিমা করিয়া চাকার ন্যায় কি একটা গড়াইয়া গেল। আমি ভাবিতে লাগিলাম, চাকার ন্যায় ওটা কি? আমার পায়ে কামড় মারিল কেন? অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া শেষে বুঝিতে পারিলাম। আমার রূপে জগৎ আলো করিয়া শূন্যপথে আমি আসিতেছিলাম। চাকার ন্যায় ওটা রাহু। আমাকে পূর্ণিমার চন্দ্ৰ মনে করিয়া সে গ্ৰহণ লাগাইতে আসিয়াছিল। পূর্ণিমার পর প্রতিপদে চন্দ্ৰগ্ৰহণ হয়। কিন্তু আমার রূপে মুগ্ধ হইয়া সে লোভ সংবরণ করিতে পারে নাই। তারপর আমি যে পূৰ্ণচন্দ্র-তার আর প্রতিপদ হয় না। যাহা হউক, হতজ্ঞান হইয়া সে আগে থাকিতে আমাকে গিলিতে আসিয়াছিল। ভাগ্যে আমার গায়ে মাংস নাই, কেবল হাড়, তাই সে কামড় বসাইতে পারিল না। মুখ সিঁটকে চলিয়া গেল। রাহুর দুই চারিটা দাঁত ভাঙ্গিয়া গেল কি না তা বলিতে পারি না। আমার শরীর যদি সুস্বাদু হইত, তাহা হইলে আমার গ্ৰহণটি সৰ্ব্বগ্রাস হইত। সাপ যেরূপ আস্তে আস্তে ভেককে ভক্ষণ করে, রাহুও সেইরূপ ক্রমে ক্ৰমে আমাকে পেটস্থ করিত। চন্দ্র-সূর্য্যের ন্যায় আমার আর মুক্তি হইত। না। চিরকাল আমাকে রাহুর—সৰ্ব্বনাশ! রাহুর পেট নাই। আমাকে সৰ্ব্বগ্রাস করিয়া সে "f firls via gas xel a www.amarboicom a tro গালের ভিতর এক কষে রাখিত কি কোথায় রাখিত, জানি না। কিন্তু লম্বোদর! তোমরা আর আমাকে দেখিতে পাইতে না । লম্বোদর বলিলেন,- “ইস্, তাই তো।” সকলে বলিলেন,- “ইস্, তাই তো।” ময়ুর এই ঘটনার পর নক্ষত্ৰবেগে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হইল। সন্ধ্যা হয় হয়, এমন সময় আমি সমুদ্রের উপর আসিয়া উপস্থিত হইলাম। অল্পক্ষণের মধ্যেই সুন্দরবনের উপর আসিলাম । ময়ূর আমার বাসার দিকে ধাবিত হইল। তখনও ভূমি হইতে প্রায় একক্রোশ উচ্চে শূন্যপথে ময়ুর উড়িতেছিল। আমি ভাবিলাম, এ স্থান হইতে আমার বাসা প্রায় আর দুই ক্রোশ আছে, বাসার ঠিক উপরে যাইলেই সেই দ্বিতীয় মন্ত্রটি পড়ব। তখন ময়ূর আমাকে ধীরে ধীরে আমার বাসায় নামাইয়া দিবে। কিন্তু সে দ্বিতীয় মন্ত্রটি কি? সৰ্ব্বনাশ! আমি সে মন্ত্রটি ভুলিয়া গিয়াছি। মন্ত্রটি মনে করিতে না পারিলে ময়ুর আমাকে সাত সমুদ্র তের নদী পারে লইয়া লোকালোক পৰ্ব্বতের ওপারে অন্ধকার গহবরে ফেলিয়া স্বস্থানে চলিয়া যাইবে। তাহা ভাবিয়া প্ৰাণ আমার আকুল হইল। মন্ত্রটি কি? গুম্বজ? না, তা নয়! জলটুঙ্গী? না, তা নয়, ঝাপড়দা-মাকড়দা? না, তাও নয়। তবে কি? এ কথা নয়। সে কথা, নয় এ কথা—ক্রিমাগত ভাবিয়া মন্ত্রটি স্মরণ করিতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু তাহার একটি বর্ণও আমার মনে উদয় হইল না। এমন কি, হতভম্ব হইয়া আমি দুৰ্গা নামটি পৰ্যন্ত মনে করিতে পারিলাম না । আমি ভ যে, যাঃ ডমরুধর! এইবার তোমার সব লীলা-খেলা ফুৱাইল। যাহা হউক, অনেক চিন্তু ব্লয়া অবশেষে আমার মনে হইল যে, মন্ত্রটিতে জি আছে, ল আছে আর কি আছে। পর সেই অক্ষর কয়টি যোড়তাড় করিয়া লম্বোদর বলিলেন, — “এতও তুমি জান। এ কোন ভাষা?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “তা জানি না ভাই, এ ভিন্ন আমার আর কিছু তখন মনে श्न मां ।" মন্ত্রটি এইরূপ ঠিক করিয়া আমি ভাবিলাম, একবার পরীক্ষা করিয়া দেখি, উচ্চৈঃস্বরে আমি বলিলাম,- জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলোকিট কিলোকিশ । সেই কিচ-মিচ শব্দ শুনিয়া ময়ুর ভাবিল,- "কৈলাস পৰ্ব্বতে ভূত-প্ৰেত্য-দানা-দৈত্যের সহিত আমার বাস। অনেক তন্ত্র মন্ত্র শুনিয়াছি। এরূপ বিদঘুটে কখনও শুনি নাই। এ লোকটার ভাব-গতিক ভাল নহে। বাসায় লইয়া গিয়া আমাকে হয় তো এইরূপ ভীষণ পালকহার্ষণ মন্ত্রবলে খাচায় পুরিয়া বন্ধ করিয়া রাখিবো। আগে থাকিতে সাবধান হওয়া ভাল।” এইরূপ ভাবিয়া গাঝাড়া দিয়া ময়ূর আমাকে শূন্য দেশে ফেলিয়া দিল। তাহার পর শো শো করিয়া কৈলাস পৰ্ব্বতের দিকে উড়িয়া গেল। আমি তখন ভূমি হইতে প্ৰায় একক্রোশ উচ্চে আজকাল উড়োকাল হইতে মানুষ যেমন পড়ে, আমি সেইরূপ হু হু শব্দে শিশার ন্যায় নীচে পড়িতে লাগিলাম। হু হু, হু হু, হু হু, কানে আমার বাতাস লাগিতে লাগিল। আমি ভাবিলাম যে, brv°ዕ8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comাির্ড” “ৰ এইবার আমার দফা রফা হইল। হুহু হুহু শব্দে পড়িতে লাগিলাম, অবশেষে খপ করিয়া কাদার ন্যায় কি একটা কোমল বস্তুর উপর পড়িলাম। কোমল বস্তুর উপর পড়িলাম, সেজন্য আমার অস্থি মাংস চুৰ্ণ হইয়া গেল না, সেজন্য আমার প্ৰাণ বিনষ্ট হইল না। যখন আমার হৃদয়ের ধড়ফড়ানি কিছু স্থির হইল, তখন আমি এদিকওদিক চাহিয়া দেখিলাম, তাহাতে আমার চক্ষুস্থির হইল। আমি দেখিলাম যে, পৰ্ব্বতপ্ৰমাণ প্রকাণ্ড এক ব্যাঘের মুখগহ্বরে আমি পতিত হইয়াছি। ব্যাঘটি বৃদ্ধ হইয়াছিল। সেজন্য তাহার দন্ত ছিল না। দাঁত থাকিলে শূলসদৃশ্য দন্তে বিদ্ধ হইয়া তৎক্ষণাৎ আমার মৃত্যু হইত। আমার সকল কথা মনে হইল। পীর গোরাচাঁদের ফকীরদিগের অভিশাপে আমি পড়িয়াছি। এ সেই পীর গোরাচাঁদের ব্যাঘ। যে বাঘ চড়িয়া তিনি দেশভ্ৰমণ করিতেন। তোমার যে-সে ব্যাঘ নহে। এ রয়েল টাইগারের বাবা! এ মহারাজ ব্যাঘ । লোকে বলে যে, ঘুমন্ত সিংহ হাঁ করিয়া থাকিলে, তাহার মুখে মৃগ প্রবেশ করে না। সে ঠিক কথা নহে। রাজসাপ নামে এক প্রকার সর্প আছে। সে সাপ হী করিয়া থাকিলে তাহার মুখে অন্যান্য সাপ প্ৰবেশ করে। এ বৃদ্ধ ব্যােন্ত্র তাঁহাই করে। আকাশ-পাতাল জুড়িয়া হাঁ করিয়া থাকে। আর ইহার মুখে মৃগ প্রবেশ করে। আমি বসিয়া থাকিতে থাকিতে একটা বন্য মহিষ, চারিটা হরিণ ও দুইটা বরাহ ইহার মুখের ভিতর প্রবেশ করিল। তখন ব্যাঘ একেবারে কোৎ করিয়া আমাদের সকলকে গিলিয়া ফেলিল । ব্যাঘের পেটের ভিতর ঘোর অন্ধকার। আমি বিরস তাহার এককোণে গিয়া বসিলাম । বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম।-- “এখন করি কি? प्रेग नाश्। qशनि श्छाभ श्शा यांश्द। আমার চিহ্নমাত্ৰ থাকিবে না। দুই চারিদিন পরে মল হইয়া বাহির হইব ।” নিতান্ত সঙ্কটে পড়িলে মানুষের অনেক জোগায় । একবার কোন ডাক্তারের নিকট শুনিয়াছিলাম যে, জীবের উদর হইতে অম্নরস বাহির হয়; তাহাতেই খাদ্য গলিয়া পরিপাক পায়। তোমরা জান যে, অম্বলের সোডা ব্যবহার করি। ভাগ্যক্রমে আমার পকেটে কাগজে মোড়া খানিকটা ছিল, সেই সোডা উত্তমরূপে আমি গায়ে মাখিয়া বসিয়া রহিলাম। ব্যাঘের পেট হইতে অম্নরস বাহির হইয়া মহিষ, হরিণ, শূকর সব গলিয়া পরিপাক হইয়া গেল, কিন্তু সোডার প্রভাবে আমার শরীর গলিয়া গেল না, আপাততঃ আমার প্রাণ বাচিয়া গেল । তা যেন হইল। কিন্তু সে আর কয়দিন? ব্যাঘের উন্দর হইতে বাহির না হইতে পারিলে মৃত্যু নিশ্চয়, আজ হউক, কাল হউক, মৃত্যু নিশ্চয়। কিন্তু কি করিয়া বাহির হইব? মা দুর্গার নাম এখন আমার মনে হইল। একান্ত মনে তাঁহাকে ডাকিতে লাগিলাম। পীর গোরাচাদকে অনেক সিন্নি মানিলাম। মা ভগবতীর ও পীর সাহেবের আমার প্রতি কৃপা হইল। বাঘের পেটের ভিতর এককোণে বসিয়া গালে হাত দিয়া ভাবিতেছি, এমন সময় হঠাৎ কে যেন আমাকে বলিয়া দিল,— তোমার পকেটে কাগজ ও পেনসিল রহিয়াছে, আবাদের কৰ্ম্মচারীকে পত্র লেখ না। কেন? আমার তখন ভরসা হইল। পকেট হইতে কাগজ পেনসিল বাহির করিয়া আমি আমার কৰ্ম্মচারীকে এইরূপ এক চিঠি লিখিলাম,- “পীর গোরাচাঁদের কোপে আমি পড়িয়াছি। সেই ব্যাঘের উদরে আমি আছি। যদি কোনরূপে আমাকে উদ্ধার করিতে পাের, তাহার চেষ্টা কর।” আমার কৰ্ম্মচারী বুদ্ধিমান লোক। আমার চিঠি পাইবামাত্র সে দুই জোয়ারের পথে যে স্থানে "' firls it: gas xel - www.amarboicom a ኩy(5)ርኑ ডাক্তারখানা আছে, সে স্থানে চলিয়া গেল। ডাক্তারের সহিত পরামর্শ করিয়া, যাহাতে বামন হয়, এরূপ ঔষধ একসের ক্রয় করিল। ইংরেজীতে ইহাকে টারটার এমিটিক বলে। আবাদে ফিরিয়া সেই ঔষধ কাপড়ে রাখিয়া এক ছাগলের গলায় বঁধিয়া দিল। তাহার পর যে স্থানে পীর গোরাচাঁদের ব্যাঘ বাস করে, সেই স্থানে ছাগল ছাড়িয়া দিল। বলা বাহুল্য যে, ভ্যা ভ্যা করিতে করিতে ছাগল আপনা। আপনি ব্যাঘের উদরে প্রবেশ করিল। পঞ্চম পরিচ্ছেদ ধাঙ্গড়ের ঘরে কন্দৰ্প পুরুষ প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ঔষধের ক্রিয়া আরম্ভ হইল। প্রথম ব্যাঘের পেট কামড়াইতে লাগিল। পেটের কাপড়ে ব্যাঘ অস্থির হইয়া ছটফটু করিতে লাগিল। মাটীতে পড়িয়া গড়াগড়ি দিতে লাগিল। বৃদ্ধ হইলে কি হয়, পেটের কামড়ে সহস্র যুবা ব্যাঘের বলে সে এখন লক্ষ্মফব্বম্বফ করিতে লাগিল। ব্যথা যখন কিছুতেই নিবৃত্ত হইল না, তখন যে দিকে তাহার দুই চক্ষু গেল, সেই দিকে ঘোড়-দৌড়ের অশ্ববেগে সে ছুটিয়া চলিল। ছোট ছোটবেঙ্গুং লাফ দিয়া ও বড় বড় গাং সঁতার দিয়া পার হইতে লাগিল। ক্রমাগত দৌড়িতে করিয়া দোঁড়িতেছিল, সেজন্য পেটের হরিণ শূকর প্রভৃতি খাইয়াছিল, তাহাদের তাড়গােড় সমুদয় বমন করিয়া ফেলিল। উদৃগারের সহিত আমাকে সে বাহির করিয়া ফেলিল । কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়া আমার দিকে সে দুই একবার কাটুমটু করিয়া চাহিল। মনে মনে ভাবিল,- “এ লোকটাকে গিলিয়া ভাল কুকৰ্ম্ম করিয়াছিলাম। যেমন রূপ- তেমনি গুণ, না। আছে রস না আছে কষ! কালো চামড়া মোড়া কেবল খানকতক হাড়। এর চেয়ে যদি দশ মণ পাথুরে কয়লা গিলিতাম, তাহা হইলে কাজ হইত।” এই প্রকার চিন্তা করিযা ব্যাঘ দ্রুতবেগে সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিল। পশু! সে আমার রূপের মহিমা কি বুঝিবে? লম্বোদর বলিলেন, — “তা সব হইল। কিন্তু একটা কথা তোমাকে আমি জিজ্ঞাসা করি। ব্যাঘের পেটের ভিতর হইতে তোমার কৰ্ম্মচারীর নিকট সে চিঠি তুমি কি করিয়া পাঠাইলে?” কিয়াৎক্ষণের জন্য নীরব থাকিয়া ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “দেখ লম্বোেদর! সকল কথার খোচ ধরিও না। এইমাত্র তোমাকে আমি বলিতে পারি যে, বাঘের পেটের ভিতর ডাকঘর নাই, সে স্থানে টিকিট বিক্রয় হয় না, সে স্থানে মনিঅৰ্ডার হয় না। তিরিক্ষি মেজাজে ডাকবাবু সেখানে বসিয়া নাই।” পত্র প্রেরণের সমস্যা এইরূপে হেলায় মীমাংসা করিয়া ডমরুধর পুনরায় বলিতে লাগিলেন, — বাঘের পেটে কয়দিন আমার উদরে অন্নজল যায় নাই। আমি অতিশয় দুর্বল bre)\, află cios (gs se - www.amarboi conf** হইয়াছিলাম। ব্যাঘ চলিয়া গেলে কিছুক্ষণের নিমিত্ত সেই স্থানে নিজীবি হইয়া পরিয়া রহিলাম। তাহার পর আস্তে আস্তে উঠিয়া এদিক-ওদিক চাহিয়া দেখিলাম। নিকটে একখানি গ্রাম দেখিয়া তাহার ভিতর প্রবেশ করিলাম। গ্রামখানি ছোট, কেবল ইতরলোকের বাস। গ্রামবাসীদিগকে জিজ্ঞাসা করিয়া অবগত হইলাম যে, সে স্থান হইতে আমার আবাদ দূর, কেহ তাহার নামও জানে না। বরং আমার গ্রাম নিকট, সাত-আট ক্রোশ মাত্র। তপস্যা করিতে যখন আমি বনে গমন করি, তখন টাকা-কড়ি সঙ্গে লইয়া যাই নাই। সে নিমিত্ত নীেকা অথবা শালতি ভাড়া করিতে পারিলাম না। পদব্ৰজেই আমার গ্রাম অভিমুখে আমি চলিলাম। আকাশভ্ৰমণে, অনাহারে, নানারূপ ভাবনাচিন্তায় আমার পা আর উঠে না। তাহার পর বর্ষার শেষ। নদী-নালা জলে ও মাঠ-ঘােট কাদাকিচায় পরিপূর্ণ। বড়ই কষ্ট হইতে লাগিল। যাইতে যাইতে এক মাঠের মাঝখানে সন্ধ্যা হইয়া গেল। এখন কোথায় যাই। আর একটু আগে গিয়া মাঠের মাঝখানে নারিকেলপাতায় আচ্ছাদিত সামান্য একখানি চালা দেখিতে পাইলাম। সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইলাম। জনমানবকে সে নালায় দেখিতে পাইলাম না। প্রাঙ্গণে শস্যা গাছের এক মাচা ছিল। অনেকগুলি দুধে-শসা তাহা হইতে ঝুলিতেছিল। পেট ভরিয়া আমি সেই শস্যার অতি খাইলাম। কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়া আমি চালার ভিতর প্রবেশ করিলাম। গোটাকতক মেটে হাঁড়ী ভিন্ন তাহার ভিতর আর কিছু দেখিতে পাইলাম না। চালার একপার্শ্বে ছেচা বঁাশ দিয়া গঠিত একটি তক্তাপোষের মত ছিল। তাহার উপর একটা ছেড়া মাদুর ও ময়লা বালিশ ছিল । ঘোর ক্লান্তিতে কাতর হইয়া আমি উপর শুইয়া পড়িলাম। সন্ধ্যা হইল। অন্ধকার হইল । সেই সময় 愛 আছে। মাঝে মাঝে এ অঞ্চলে অনেকুঞ্জঈড় মজুরি করিতে আসে। আমি বুঝিলাম যে, টুর্গলার সাড়া দিলাম। সে আমার দিকে চাহিয়া দেখিল। ক বলিলাম যে,- বাঘের মুখ হইতে আমি অতি কষ্টে বাঁচিয়া সে স্থানে আসিয়াছি। আর পথ চলিতে পারি না। রাত্রিযাপনের নিমিত্ত তাহারা যদি একটু স্থান প্ৰদান করে, তাহা হইলে আমার বড় উপকার হয়। সাধে কি এলোকেশীর মনে সৰ্ব্বদা আমার প্রতি সন্দেহ! আমার গায়ের বর্ণটি কৃষ্ণঠাকুরের চেয়ে কালো। বাঘ মিথ্যাকথা বলে নাই—শরীরের ভিতর কেবল খানকতক হাড়। মাথার মাঝখানে কিন্তু এমন চকচকে টাক আর কার আছে? প্ৰকাণ্ড টাকা। টাকের চারিদিকে পাকা চুল, মুখের দুই পাশে সাদা ফেকো। দাঁত একটিও নাই। তথাপি আমার কিরূপ একটা শ্ৰী-ছাঁদ আছে, কিরূপ একটা লাবণ্য আছে যে, তাতে রাহুরও ভুল হয়। আর ম্যাগীগুলোও আমার গায়ে যেন ঢলিয়া পড়ে। অবাক হইয়া ধাঙ্গড় মাগী আমার টাক পানে চায়, আর মুচকে মুচকে হাসে। শেষে সে কেবল দুইটি কথা বলিল,— “মাঝি আসুক।” তোমাদের যেমন ‘বাবু, ইহাদের সেইরূপ সম্মানসূচক উপাধি “মাঝি।” কিছুক্ষণ পরে একটা হোৎকা মিনসে চালার ভিতর প্রবেশ করিল। তোমরা আমাকে কালো বল, কিন্তু তার রঙ্গের তুলনায় আমি তো ফিটু গৌরবর্ণ। সে আসিয়া যেই আমার দিকে দৃষ্টিপাত করিল, আর বামহাতে আমার মাথা নেওয়াইয়া দক্ষিণ হাতে আমার পিঠে বজ্ৰসম দুইটা কিল বসাইয়া দিল। গন্ধ পাইয়া আমি বুঝিলাম যে, ধাঙ্গড় মদ খাইয়াছিল। ডম্বক্ষ-চরিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ ኩrv©ፃ তাহার পর বলিল,- “এতদিন পরে বেটাকে আজ ধরিয়াছি। ফাঁক পাইলেই আসে-যায়, ধরিতে আর পারি না। আজ বেটাকে ধরিয়াছি। ইয়ারকি দিতে জায়গা পাও না, আমার ঘরে ইয়ারকি। হাড় গুড়া করিয়া এখানে আজ পুতিব!” এই কথা বলিয়া সে পুনরায় আর দুইটা কিল মারিল। আমি বলিলাম,- “আমি বিদেশী লোক। তোমার ঘরে আমি কখনও আসি নাই; আজি বিপদে পড়িয়া এ স্থানে আসিয়াছি।” ধাঙ্গড় বলিল,— “বিদেশী লোক! গ্ৰীষ্মকালে মোড়লদের পুকুরে ফেটিজালে কে মাছ ধরিতেছিল? মাঝিনীকে কে একরাশি চুনোমাছ দিয়াছিল? কেন দিয়াছিলি, তা কি আমি বুঝিতে द्वि ना?” এই কথা বলিয়া আবার দুইটা কিল মারিল। আমি বলিলাম,-- আমি কখনও ফেটিজালে মাছ ধরি নাই। আমি ভদ্রলোক। মিছামিছি বিনা দোষে আমাকে মারি কেন? ধাঙ্গড় বলিল,- “ভদ্রলোক! ভদ্রলোকের ঐ রকম টাকা হয়! ভদ্রলোকের ঐ রকম কিস্তৃতকিমাকার চেহারা হয়! আর মাঝিনীর পসন্দা; আমাকে পসন্দ হয় না, তোকে পসন্দ!” এই কথা বলিয়া সে পুনরায় আরও দুইটা কিল মারিল। আমি দেখিলাম যে, কথা কহিলেই দুইটা করিয়া কিল খাইতে হয়। তাহার পর, দারুণ প্ৰহার বরং সহ্য হয়, কিন্তু সে যে আমাকে কুৎসিত বলিল, সে কথা আমার প্রাণে সহ্য হইল না। আমি চুপ করিয়া রহিলাম। কিন্তু নীরব থাকিয়াও নিস্তার পাইলাম না। ফ্ৰেং করিল, তাহার পর আমার কাপড়-চোপড় কুড়ি য়া চল্লিীর্ম। অতি ক্লেশে বহুদূর একখানি গ্রামের নিকট গিয়া উপস্থিত হইলাম। এক তো রাত্রি হইয়াছে, তাহার পর উলঙ্গ, এ অবস্থায় সে গ্রামের ভিতর প্ৰবেশ করিলাম না। মনে করিলাম যে, প্ৰাতঃকালে কাহারও নিকট হইতে একখানি ছেড়া খোড়া গামছা চাহিয়া লইব । সেইখানি পরিয়া আপনার গ্রামে যাইব । নিকটে একটি বাগান দেখিতে পাইলাম। নারিকেল গাছ-বেষ্টিত শান-বাঁধা ঘাটবিশিষ্ট তাহার ভিতর একটি পুষ্করিণী ছিল। দারুণ প্ৰহারে শরীরে আমার বিষম বেদনা হইয়াছিল। ঘাটের চাতালে আমি শয়ন করিলাম। ঘোর ক্লেশে নিদারুণ প্ৰহারে শরীরে আর আমার কিছু ছিল না। অল্পক্ষণ পরেই আমি নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলাম। কখন রাত্রি অবসান হইয়াছিল, তাহা আমি জানিতে পারি নাই। সহসা “ভূত! ভূত!” চীৎকার শুনিয়া আমার নিদ্রাভঙ্গ হইল। আমি চাহিয়া দেখিলাম যে, প্ৰাতঃকাল হইয়াছে; সূৰ্য উদয় হইয়াছে? অন্য দিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, জনকয়েক স্ত্রীলোক সেই পুষ্করিণীতে জল লইতে আসিয়াছিল। সেই উলঙ্গ অবস্থায় আমাকে দেখিয়া “ভূত! ভূত!” বলিয়া চীৎকার করিতে করিত পলায়ন করিতেছে। তাহাদের কোমর হইতে কলসী পড়িয়া ভাঙ্গিয়া গেল। কিছুদূরে মাঠ হইতে কয়েক জন পুরুষমানুষ “কি হইয়াছে। কি হইয়াছে” বলিয়া দৌড়িয়া আসিল। bróbr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comস্থিািক "******* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ ডমরুধারের মেমের পোষাক আমি ভাবিলাম, আবার বা প্রহরী খাইতে হয়। সেই ভয়ে আমি রুদ্ধশ্বাসে দীেড়িলাম। “ঐ যাইতেছে, ঐ যাইতেছে", বলিয়া কেহ কেহ আমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবিত হইল। কিছুদূর গিয়া আমি আর দৌড়িতে পারিলাম না। এক স্থানে নিবিড় ভেরাণ্ডার বেড়া ছিল। তাহার ভিতর প্ৰবেশ করিয়া আমি লুক্কায়িত রহিলাম। আমায় আর দেখিতে না পাইয়া তাহারা ফিরিয়া গেল। যাইতে যাইতে একজন বলিল,— “ভূত কি কখন ধরা যায়? ভূত হওয়া। এতক্ষণ কোন কালে বাতাসের সহিত মিশিয়া গিয়াছে।” বেড়ার পার্শ্বে আমি বসিয়া হাঁপাইতেছিলাম; কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়া উঠিয়া বসিলাম। এদিক ওদিক চাহিয়া দেখিলাম যে, বেড়ার বাহিরে ছোট একটি তাঁবু রহিয়াছে। তাহার ভিতরে ও বাহিরে জন দুই পুরুষ ও ঘাগরা-পরা তিনজন স্ত্রীলোক রহিয়াছে। নিকটে চার পাঁচটি বালকবালিকা খেলা করিতেছে। একটু দূরে সম্মুখের পা-বাঁধা কটা টাটু ঘোড়া চরিতেছে। যাহাদিগকে বেদিয়া বা হা-ঘোরে কঞ্জড় বলে, আমি বুঝিলাম যে, ইহারা সেই জাতি। ইহাদের ঘর-দ্বার নাই। আজ এখানে, কাল সেখানে গিয়া ইহারা জীবনযাপন করে। ভিক্ষা করিয়া চরি করিয়া অথবা জরী বটি বেচিয়া ইহারা দিনপাত করে। ইহারা খোট্টা কথা বলে। বাজারে তুমি একশত টাকায়ও রামচন্দ্ৰি অথবা আকবরি মোহর পাইবে না। কিন্তু ইহাদের নিকট দুই তিন টাকায় পাওয়া যায়। সে মোহর পূজা ঘরে মা-লক্ষ্মী অচলা অটল বিরাজ করেন। স্ত্রীলোকেরা রন্ধন করিতেছিল। বেলুন্ঠদৈর্শটার সময়ে সকলে আহার করিয়া গ্ৰাম অভিমুখে চলিয়া গেল। ঘরে কেবল এক বুদ্ভিসেরহিল। বাহিরে বসিয়া বুড়ি আপনার মনে চুবড়ী বুনিতে লাগিল। যাইবার পূৰ্ব্বে এক তাহার কন্যার ছোট একটি সালুর ঘাঘরা শুষ্ক হইবার নিমিত্ত আমার নিকট ভেরাণ্ডাষ্টীছৈ ঝুলাইয়া দিল। সকলে চলিয়া গেলে সেই ঘাগরার দিকে আমার দৃষ্টি পড়িল। খুপ করিয়া ঘাগরাটি বেড়ার ভিতর টানিয়া লইলাম। ঘাগরাটি চুরি করিয়া আমি পরিধান করিলাম। আমার হাঁটু পৰ্যন্ত হইল। তাহার পর অন্যদিক দিয়া চুপে চুপে বেড়ার ভিতর হইতে বাহির হইয়া আমি পলায়ন করিলাম। আমার গ্রাম কোন দিকে, দিনের বেলা এখন অনেকটা বুঝিয়েছিলাম। হন হন করিয়া সেই দিকে চলিতে লাগিলাম। কিন্তু শরীর দুৰ্ব্বল, তাহার উপর। প্ৰহারের বেদনা; অধিক দ্রুতবেগে যাইতে পারিলাম না। লাল ঘাগরা পরিয়া আমাকে মন্দ দেখায় নাই। যাহার শ্ৰী আছে, সে যা পরিধান করুক না কেন, তাহাতেই তাকে ভাল দেখায়। যাহারা বঁােদর খেলায়, তাহাদের সহিত যেরূপ লাল ঘাগরা পরা একটা বীন্দরের মেম থাকে, আমাকেও সেইরূপ মোমের মত দেখাইল। আমার গায়ের রং একটু কালো, কেবল এই প্ৰভেদ। আমাকে ভাল দেখাইলে কি হয়, এরূপ মেম সাজিয়া পাঁচজনের সম্মুখে বাহির হইতে লজ্জা করে। সে জন্য আমি কোন গ্রামের ভিতর প্রবেশ করিলাম না। সেজন্য লোক দেখিলে তাহাদিগকে দূরে রাখিয়া আমি পথ চলিতে লাগিলাম। এই কারণে ক্ৰমে পৌছিতে আমার অনেক বিলম্ব হইল। বেলা প্ৰায় পাঁচটার সময় আমাদের গ্রামের নিকট মাঠে আসিয়া আমি উপস্থিত হইলাম। আমি ভাবিলাম, এ বেশে দিনের বেলা গ্রামের ভিতর প্রবেশ করিব না। পাঁচজনে দেখিলে হাসিবে। দুর্লভী বাগিন্দনীকে তোমরা সকলেই জান। মন্দ নয়— না? যাহার জন্য ও-বৎসর জন্ম-কৰিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ br; গৃহিণী আমার উপর ক্রুদ্ধ হইয়াছিলেন? তাহার মেটে ঘরটি গ্রামের শেষে এককোণে। আমি মনে করিলাম, কিছুক্ষণ তাহার ঘরে গিয়া বসিয়া থাকি। তাহার পর সন্ধ্যার সময় গা-ঢাকা অন্ধকার হইলে আস্তে আস্তে বাটী যাইব, এইরূপ মনে করিলাম, প্রথম সে আঁউমাউ করিয়া উঠিল। আমি তাহাকে বলিলাম,- “ভয় নাই! চুপ কর, বড় বিপদে পড়িয়া তোর ঘরে আসিয়াছি! গোল করিসূনে! পূজার সময় তোকে একখানা কাপড় দিব।” আমি ভাবয়ছিলাম, কেহ আমাকে দেখিতে পায় নাই; কিন্তু তা নয়। পরীক্ষিৎ ঘোষের কেষ্ট নামে সেই দুষ্ট ঐচোড়ে পাকা ছেলেটা আমাকে দেখিতে পাইয়াছিল। পরীক্ষিৎ ঘোষ আমার নিকট হইতে দশ টাকা ধার লইয়াছিল। দেড়শত টাকা সুন্দ দিয়াছিল। তাহার পর যখন সে আসল পরিশোধ করিল, তখন তাহাকে হাতে রাখিবার নিমিত্ত খতখানি ফিরিয়া দিলাম না। তাহার বিপক্ষে আদালতে একবার মিথ্যা সাক্ষ্যও দিয়াছিলাম। মোকদ্দমায় মিথ্যা বলিতে দোষ নাই। সেই অবধি আমার উপর তাহার। আক্ৰোশ । তাহার ছেলেটাও পথে-ঘাটে আমাকে দেখিতে পাইলে দূর হইতে ক্ষেপায়, সে বলে— “টাকচাঁদ, টাক-বাহাদুর, টাক টাক টাকেশ্বর—ডুরু ডুরু ডুরু।” ডুরু ডুরু মানে ডমরু। আমার নামটা ছোড়া সংক্ষেপ করিয়াছে। পরীক্ষিৎ ঘোষের কাছে তাহার ছেলের দেীরাত্ম্যের বিষয় একবার আমি নালিশ করিয়াছিলাম। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করিল,- “কেষ্টা কি আপনার দিকে চাহিয়া ও সব কথা বলে?” ছোড়া কি করে, মনে মনে চিন্তা করিয়া আমি উত্তর করিলাম,- “না। সে আমার দিকে চাহিয়া বলে না। কখনও উপর দিকে চাহিয়া এ বলে, কখনও বা গাছপালার দিকে চাহিয়া বলে, কখন বা আকাশপানে দুইটা পা মাটীর দিকে মুখ করিয়া, দুই হাতের উপর ভর দিয়া চলিতে চলিতে ঐ সব কথা বলেন। পরীক্ষিৎ ঘোষ বলিল,—“তবে?” যখে সে “তবে”র আমি আর উত্তর দিত্ত্বে क्रा । কেষ্টা তাড়াতাড়ি গিয়া আপনার ধাপকে সংবাদ দিল। আমি তা জানিতাম না। পরীক্ষিৎ ঘোষ আসিয়া দুর্লভীর ঘরের দ্বারে শিকল দিয়া দিল। দুর্লভীকে আর আমাকে ঘরের ভিতর বন্ধ করিয়া রাখিল । তাহার পর পাড়ার লোককে সংবাদ দিল। দুর্লভীর ঘরে আমাকে দেখিবার নিমিত্ত মেয়ে-পুরুষ ছেলে-বুড়ো সুদ্ধ লোক ভাঙিয়া পড়িল৷ জাহ্নবী সাই বলিলেন– “আমিও দেখিতে গিয়াছিলাম।” গণপতি ভড় বলিলে,- “আমিও গিয়াছিলাম!” পুঁটীরাম চাকী বলিলেন,- “আমিও গিয়াছিলাম।” লম্বোদর বলিলেন,- “আমি তখন বাড়ী ছিলাম না। বাড়ী থাকিলে আমিও যাইতাম।” ক্রুদ্ধ হইয়া ডমরুধর বলিলেন, — “যাইতে বই কি! তুমি না গেলে কি চলে?” দুর্লভীর ঘরের সম্মুখ দিকে দুইপার্শ্বে দুইটি ছোট ছোট জানােলা আছে। ঘরের পশ্চাৎ দিকের প্রাচীরেও সেইরূপ ছোট জানালা আছে। সম্মুখ দিকের দুইটি জানােলা দিয়া লোক সব উকি মারিয়া আমাকে দেখিতে লাগিল। সে দুইটি জানালার ভিড় করিয়া লোক ঠেলা ঠেলি করিতে লাগিল। কেষ্টার বন্ধু পাঁচ ছয় ছোড়া চালে উঠিয়া খড় ফাঁক করিয়া উপর হইতে উকি মারিয়া আমাকে দেখিতে লাগিল। পশ্চাৎ দিকের জানালাটা কিছু উচ্চ ছিল। মাটীতে দাঁড়াইয়া তাহা দিয়া দেখিতে পারা যায় না। কেষ্টা ছোড়ার একবার বদমায়েসি শুন । কোথা হইতে একটা টুল r8o দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্ড"*" ****** চাহিয়া আনিল। লোককে সেই টুলের উপর দাঁড় করাইয়া ঘরের ভিতর আমাকে ও দুর্লভীকে দেখাইতে লাগিল । পুঁটিরাম চাকী বলিলেন,- “আমনি দেখায় নি। এক পয়সা করিয়া টুলের ভাড়া লইয়াছিল। দেখিতে আমার একটু বিলম্ব হইয়াছিল বলিয়া আমার নিকট হইতে সে চারি পয়সা व्न३शांछिल ।” আধাকড়ি ঢাক বলিলেন,- “চারি পয়সা। আমাকে সাত পয়সা দিতে হইয়াছিল।” ডমরুধর মুখ কুঞ্চিত করিয়া বলিলেন,- “কি দেখিবার জন্য পয়সা খরচ করিয়াছিলে? আমাকে কি তোমরা কখনও দেখা নাই? আমি কি আলিপুরের বাগানের সিঙ্গি না বাঘ না কিযে, আমাকে দেখিবার জন্য তোমাদের এত হুড়াহুড়িী?” সপ্তম পরিচ্ছেদ এলোকেশীর মুড়ো খেঙরা দেখিতে দেখিতে কে একজন বলিয়া বসিল,—"ল্ল্যািক্তপী ঠাকুরাণীকে সংবাদ দাও। তিনি আসিয়া কৰ্ত্তাটিকে একবার দেখুন।” (9 তখন আমার হৃৎকম্প হইল। একে তৃতীয় পুঞ্জের আবার তাহার উপর আমি এক কন্দৰ্প পুর্বর্তী সৰ্ব্বদাই এলােকেশীর সন্দেহ। এ অবস্থায় আমাকে দেখিলে এলোকেশী যে উক্ত হাল করিবেন, তাই ভাবিয়া আকুল হইলাম। সেই হতভাগা ছোড়া কেষ্টা, —বলিতে আমার বাড়ীতে সংবাদ দিল। এলোকেশীর গায়ের রং আমা অপেক্ষা কালো। রাগে এখন তাঁহার মুখটি অনেক দিনের ভুষোপড়া ধানসিদ্ধ হাড়ীর ন্যায় হইল। ভীম যেরূপ ঘণ্টাওয়ালা লোহার। গদা লইয়া দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে দুৰ্য্যোধানের সহিত যুদ্ধ করিতে গিয়াছিলেন, এলোকেশীও সেইরূপ মুড়ো খেঙরা লইয়া দুর্লভীর ঘরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। এলোকেশীকে দেখিয়া লোকে পথ ছাড়িয়া দিল। দ্বারের শিকল খুলিয়া তিনি ঘরের ভিতর প্ৰবেশ করিলেন। তাহার পর— বলিব কি ভাই, আর দুঃখের কথা। “পোড়ার মুখো বুড়ো ডেকরা! ! আজি তোর ভূত ছাড়াইব” —এই কথা বলিয়া আমার মাথার টাক হইতে পায়ের আঙ্গুল পৰ্যন্ত সেই মুড়ো খেঙরা দিয়া ঝাড়াইতে লাগিলেন। এলোকেশীর নব্য বয়স, ধাঙ্গড়ের কিল বা কি! এলোকেশীর এক এক ঘা খেঙরা ভীমের গদার ন্যায় আমার গায়ে পড়িতে লাগিল। আমি যত বলি—আর নয়! আর নয়! যথেষ্ট হইয়াছে— ততই খেঙরার প্রহারে আমার পিঠ ফাটিয়া যাইতে লাগিল। মাথার টাকে ও পিঠে সেই মুড়ো খেঙরার অনেক কাঠি ফুটিয়া গেল। কেষ্টাকে মন্দ বলি, কিন্তু এই দুঃসময়ে সে আমার বন্ধু হইল। আমার নাকাল দেখিয়া আমোদে আটখানা হইয়া সে ও তাহার সঙ্গিগণ হাততালি দিয়া নাচিতে নাচিতে বলিতে লাগিল,- “টাক-চাঁদ, টাক-বাহাদুর, টাক টাক টাকেশ্বর, ডুরু ডুরু ডুরু।” छ#द्रन्-bछि sNNis viði (SS BS! ro www.amarboicom ro ክr83) তখন এলোকেশী আমাকে ছাড়িয়া— “তবে রে আটকুড়ীর বেটার!” বলিয়া তাঁহাদের মারিতে দৌড়িলেন। আমি অব্যাহতি পাইলাম। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে নয়। দুর্লভী তখন আপনার খেঙরা লইয়া আমাকে বলিল,- “তুই যেমন ঠাকুর তোর তেমনি করিয়াছেন। আমার মন ভুলাইতে রাঙা ঘাঘরা পড়িয়া সাজ-গোজ করিয়া আসা হইয়াছে; এখন আমি একবার ঝাড়াই।” এই কথা বলিয়া সেও ঘা-কত আমার পিঠে বসাইয়া দিল। কত কিল কত খেঙরা আর সহ্য করিব! আমার পিঠ তো আর পাথরের নয়! আমি সে স্থান হইতে পলায়ন করিলাম। দুর্লভীর ঘর হইতে যখন বাহির হই, তখন এলোকেশী বলিলেন,- “এখনও হইয়াছে কি! চল ঘরে চল! আজি তোর আমি হাড়ীর হাল করিব। খেঙরার চোটে তোর ভূত ছাড়াইব ।” সেই ভয়ে আমি বাড়ী যাইলাম না। আমার খিড়কির বাগানে একগাছ ঠেস দিয়া বিরস বদনে বসিয়া রহিলাম। বসিয়া বসিয়া মা ভগবতীকে ডাকিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম,- “মা! আমি তোমার পূজা করিব। তুমি দেখিয়াছ, আমার দালানে তোমার প্রতিমা গড়া হইতেছে। তবে কেন মা আমার উপর রাগ করিয়াছ?” সন্ধ্যা হইল, ক্রমে রাত্রি হইল। বাড়ী যাইতে আমার সাহসী হইল না, গাছে ঠেস দিয়া বসিয়া রহিলাম। মাঝে মাঝে একটু একটু তন্দ্ৰা আসে, কিন্তু তৎক্ষণাৎ ভাঙ্গিয়া যায়। স্বপ্ন দেখি যে, এলোকেশী বুঝি শূৰ্পণখার বেশ ধরিয়া আমার নাক কাটিতে আসিতেছেন। অথবা তাড়কা রাক্ষসী হইয়া আমাকে চকুণ করিতেছেন। প্ৰহারে শরীর জ্বর জ্বর হইয়াছিল। শেষ রাত্রিতে আর বসিয়া থাকিতে পারিলাম না । ভিজা (উপরেই শুইয়া পড়িলাম। একটু নিদ্রা আসিয়াছে, এমন সময় কে যেন আমাকে ডাকিলুৎ১ ধর! বাছা ডমরুধর !” తో অষ্টম পরিচ্ছেদ অমৃত কুণ্ডের জল চমকিত হইয়া আমি উঠিয়া বসিলাম । চক্ষু মুছিতে মুছিতে দেখিলাম সে- স্বয়ং মা দুৰ্গা একখানি চৌকীর উপর আমার সম্মুখে বসিয়া আছেন। এ তোমার দশ-হেতে হরিতাল রঙে গৰ্জ্জন তৈলে ব্যাড়বেড়ে রাঙতা-পরা দুৰ্গা নয়। এ কৈলাস পৰ্ব্বতের আসল মা দুর্গা; সুন্দর পরিচ্ছদে ও বহুমূল্য রত্ন-আভারণে ভূষিত করিয়া কুবের ইহাকে আমার নিকট পঠাইয়াছেন। জোড়হাতে মায়ের সম্মুখে দাঁড়াইয়া আমি স্তব-স্তুতি করিতে লাগিলাম। মা বলিলেন,- “ডমরুধর ! তুমি বড় অপরাধ করিয়াছ। যে মন্ত্র তোমাকে আমি শিক্ষা দিয়াছিলাম, তাহা ভুলিয়া ও কি উদ্ভট কথা সব বলিয়াছিলে? জিলেট জিলেকি সিলেমেল কলেকিট কিলোকিশ” কি বাছা? এরূপ মন্ত্র বেদে, কোরানে, বাইবেলে কোন স্থানে আমি দেখি নাই। পিড়িং ফিড়িং দুম বলিলেও একদিন কথা থাকিত। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ তোমার এত দুৰ্গতি হইয়াছে। যাহা হউক, তোমাকে আমি ক্ষমা করিয়াছি। এক্ষণ হী কর।” আমি হাঁ করিলাম! দেবী আমার মুখে একটু অমৃত কুণ্ডের জল ঢালিয়া দিলেন। তাঁহাতে ክr8S afraig -iibg gis so! - www.amarboi.comP37°'******** আমার সাৰ্ব্ব শরীরের ব্যথা দূর হইল। যেন নতুন জীবন নূতন শরীর আমি প্রাপ্ত হইলাম। তাহার পর মা আমাকে আশ্বাস প্ৰদান করিয়া বলিলেন, — “যাও বাছা । এখন ঘরে যাও। এলোকেশী আর তোমাকে কিছু বলিবে না।” এই কথা বলিয়া মা অন্তৰ্দ্ধান হইলেন। আমি বাড়ী আসিলাম । মায়ের বরে এলোকেশীর প্ৰসন্ন বদন দেখিয়া পরম সন্তোষ লাভ করিলাম। ডমরুধারের গল্প শুনিয়া সকলেই চমৎকৃত হইলেন। পুরোহিত বলিলেন,- “ধন্য ডমরুধর! তুমি ধন্য!” গণপতি ভড় বলিলেন, — “ডমরু কি বিপদেই না পড়িয়াছিলেন।” পুঁটিরাম চাকী বলিলেন,- “কেবল পুণ্যবলে ডমরুধর রক্ষা পাইয়াছেন।” আধাকড়ি ঢাক বলিলেন,- “চমৎকার গল্প।” লম্বোেদর বললেন,— “অতি চমৎকার!! বৃদ্ধৃদিগুরুত্বপুস্তত্ব সমালোচনা করিবার সময় কোন কোন লেখক যেরূপ প্রেমে মজিয়া রসে ভিজিয়া ভাবে গােঁজিয়া বলেন,— মরি মরি! আহা মরি! এও সেই আহা মরি!” 62 রুক্ষ কটাক্ষ ডমরুধর একবার দিকে চাহিয়া দেখিলেন। কিন্তু কোন উত্তর করিলেন না । 零 অবশেষে ডমরুধর বলিলেন, →“পীর গোরাচাঁদের ব্যাঘের উদরে যখন ছিলাম, তখন মনে মনে সংকল্প করিয়াছিলাম যে, এ বিপদ হইতে যদি আমাকে পরিত্রাণ করেন, তাহা হইলে মাকে আমি ব্যাঘ-বাহিনীরূপে পূজা করিব। আমার আদেশ সেই জন্য কারিগর সিংহ স্থানে ব্যাঘ গড়িয়াছে। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তুমি যে গল্পটি করিলে, কি করিয়া জানিব যে, তাহা সত্য?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “এই আমার পায়ে এখনও রাহুর কামড়ের দাগ রহিয়াছে।” সত্য সত্যই ডমরুধারের পায়ে একটা দাগ আছে, তা দেখিয়া সকলে অবাক! তখন লম্বোদর বলিলেন, — জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলোকিশ । sNNis viði (SS BS! ro www.amarboicom ro পঞ্চম গল্প প্ৰথম পরিচ্ছেদ স্বদেশী-কোম্পানী ডমরুধরের প্রথম উপাখ্যানে চিত্রগুপ্ত, যম, যমনী, পুঁই শাক, এলোকেশী, এলোকেশীর মাতা প্রভৃতির বিষয় বির্ণিত হইয়াছিল। এলোকেশী। ডমরুধরের তৃতীয় পক্ষের পত্নী। সেই উপাখ্যান পাঠের ফল এইরূপ,- “ডমরুচরিত পড় রে ভাই করে একান্ত ভক্তি। ইহকালে পাবে সুখ পরকালে মুক্তি৷ চিত্রগুপ্তর গলায় দড়ি যামনী বাজায় শাক । পুঁই শাকের নামে যমের সিটিকে উঠলো নাক৷ ঝক মক করে সোনার গহনা এলোকেশীর আড়নয়নে শাশুড়ী ঠাকরুণ পিটির পি 哥血 পয়সা দিয়া ডমরুচরিত কিনে রাখ , বরং অধিক। র সহিত নানারূপ গল্প করেন। পঞ্চমীর দিন নিকট তিনি বসিয়া আছেন। ডমরুধরের মুখের দিকে চাহিয়া লম্বোদর বলিলেন,- “এবার পুনরায় স্বদেশী কোম্পানী খুলিয়া তুমি অনেকগুলি টাকা উপাৰ্জন করিয়ােছ।” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — “হাঁ ভাই। স্বদেশী কোম্পানী বৃথা যায় না। কিছু না কিছু দিয়া যায়। কিন্তু ভাই, সম্প্রতি আমি এক ঘোর বিপদে পড়িয়ছিলাম। সে বিপদ হইতে মা দুৰ্গা আমাকে রক্ষা করিয়াছেন। আমার প্রতি মায়ের অসীম কৃপা । বলিতে গেলে আমি মা দুর্গার বরপুত্র।” লম্বোদর বলিলেন,- “সে বার স্বদেশী কোম্পানী খুলিয়া তুমি অনেক রাড়ী ভূড়ি গরীব দুঃখীর টাকা হাম করিয়াছিলে। একবার মোকদ্দমা হইয়াছিল জানি। কি হইয়াছিল বল দেখি!” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “মোকদ্দমা স্বদেশী কোম্পানীর প্রধান অঙ্গ। স্বদেশী কোম্পানী খুলিলে সকলেই মামলা-মোকদ্দমা করিতে হয়। যাহা হউক, এখন সব চুকিয়া গিয়াছে। এই নূতন স্বদেশী কোম্পানীর বৃত্তান্ত এখন আমি তোমাদিগকে বলিতে পারি, শুন৷” ডমরুধর এইরূপ বলিতে লাগিলেন,- গত বৎসর পূজার পর একদিন বেলা দশটার সময় আমি বাহিরে বসিয়া আছি, এমন সময় ክr88 xffff}} ~~" &bripମ୍ପଞ୍ଜୁ sNNis viði (SS BS! ro www.amarboicom ro ব্যাগ হাতে করিয়া এক ছোকরা আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার বয়স চব্বিশ কি পচিশ বৎসর। রঙ অল্প গীেরবর্ণ। কালো কালো গোফ আছে। দেখিতে সুশ্ৰী। ভদ্রলোকের ছেলে বলিয়া বোধ হইল । ব্যাগ হইতে চারিটি শিশি সে বাহির করিয়া বলিল,— “এইটি ম্যালেরিয়া জ্বারের আরক, এইটি অজীর্ণ রোগের ঔষধ, এইটি বহুমূত্র রোগের ব্ৰহ্মািন্ত্র; আর এইটি মুখে মাখিলে রং ফরসা হয়। প্রতি শিশির মূল্য একটাকা, চারিটি টাকা আমাকে প্রদান করুন।” আমি বলিলাম,-“ঔষধে আমার প্রয়োজন নাই। তুমি বোকা লোকদিগের নিকট গমন কর । তোমার একটিও ঔষধ আমি ক্ৰয় করিব না।” আমার কথা শুনিয়া সে চলিয়া গেল না। অতি সুমিষ্ট স্বরে সে ঔষধের গুণ ব্যাখ্যা করিতে লাগিল। সে বলিল,— “আমি তিনটা পাস দিয়াছি। যে বিদ্যা শিখিলে নানা পদার্থ মিশাইয়া উত্তম উত্তম নূতন বস্তু প্ৰস্তুত করিতে পারা যায়, আমি সেই বিদ্যা শিক্ষা করিয়াছি। সেই বিদ্যাবলে আমি এইসব ঔষধ প্ৰস্তুত করিয়াছি। ইহাদের গুণ আলৌকিক । দিন কয়েক ব্যবহার করিলেই আপনার শরীরে কান্তি ফুটিয়া পড়িবে। আপনি নব-যৌবন প্রাপ্ত হইবেন।” উত্তর করিলাম,- “আমার ম্যালেরিয়া জ্বর নাই, অজীর্ণ ও বহুমূত্র রোগ নাই। আমি বৃদ্ধ হইয়াছি, রং ফরসা হইবার সাধ নাই। তাহা ব্যতীত আমি বৃথা একটি পয়সাও খরচ করি না। তোমার ঔষধ আমি ক্রয় করিব না।” আমাদের দুইজনে এইরূপ তর্ক-বিতর্ক হইতে । কিন্তু সে ছোকরা নাছোড়বান্দা। এমনি সুমিষ্ট ভাষায় সে বক্তৃতা করিতে লাগিল আমার মন ভিজিয়া আসিল । অবশেষে সে বলিল,— “আপনি বৃদ্ধ হইয়াছেন হাড়, কিন্তু মন আপনার বৃদ্ধ হয় নাই। মনটি আপনার নব-যৌবনে ঢল ঢলা করিতেছে। ঔষধ লিউন আর নাই লাউন, আপনাকে এই রং ফরসা হইবার ঔষধটি লইতে । দিনকতক মুখে মাখিয়া দেখুন। আপনি ফট গৌরবর্ণ হইয়া পড়িবেন। সুন্দর বৎসরের যুবক হইবেন।” ছেলেবেলা হইতে ফরাসী হইবার সাধ ছিল। অনেক সাবাং মাখিয়াছিলাম। কিছুতে কিছু হয় নাই। মনে মনে ভাবিলাম,- “এই ঔষধটা পরীক্ষা করিয়া দেখি না কেন? যদি আমার রং ফরসা হয়, তাহা হইলে দুর্লভী বাগদিনী আমার রূপ দেখিয়া মোহিত হইবে।” শিশির মূল্য এক টাকা, কিন্তু সে আমাকে আট আনায় দিল। মূল্য লইয়া সে কিছুদূর গিয়াছে, এমন সময় আমার মনে এইরূপ চিন্তার উদয় হইল।—“আমি ডমরুধর! সুমিষ্ট বক্তৃতা করিয়া আমাকে ঠকাইয়া এ আট আনা লইয়া গেল। এ সামান্য ছােকরা নয়। ইহা দ্বারা কি কোনরূপ কাজ করিতে পারা যায় না?” এইরূপ ভাবিয়া আমি তাহাকে ডাকিলাম । আদর করিয়া আমার নিকট বসাইলাম। আমি বলিলাম,-“বাপু! তোমার নাম কি?” সে উত্তর করিল,- “আমার নাম শঙ্কর ঘোষ।” তাহার বাড়ী কোথায়, সে কি কাজ করে, প্রভৃতি তাহার পরিচয় গ্ৰহণ করিলাম,- “তুমি তিনটা পাস দিয়াছ। পাঁচ দ্রব্য মিশাইয়া নৃতন বস্তু প্ৰস্তুত করিতে পাের। ঔষধ বেচিয়া কি হইবে? কোন একটা লাভের বস্তু প্ৰস্তুত করিতে পার না?” কিছুক্ষণ নীরবে সে চিন্তা করিয়া আমাকে বলিল,- “কল্য আসিয়া আপনার এ কথার प्ठद्ध निद।" [छद्रz-Bलेिष्ठ sNNis viði (SS BS! ro www.amarboicom ro ክr86: পরদিন সে একরাশি এঁটেল মাটী ও চারি পাঁচখানি ধবধবে চিকুণ কাগজ আনিয়া আমাকে দেখাইল। সে বলিল— “এঁটেল মাটী হইতে আমি এই কাগজ প্ৰস্তুত করিয়াছি। এক টাকার ঐটেল মাটী হইতে দশ টাকার কাগজ হইবে। নয় টাকা লাভ থাকিবে। প্ৰথম প্ৰথম যাহা অল্প খরচ হইবে, তাহা যদি আপনি প্ৰদান করেন, তাহা হইলে আমরা এক স্বদেশী কোম্পানী খুলিব। লাভ অৰ্দ্ধেক আপনার অৰ্দ্ধেক আমার ।” এঁটেল মাটী ও কাগজ দেখিয়া আমি মনে মনে একটু হাসিলাম। স্বদেশী কোম্পানী সম্বন্ধে আমার একটু অভিজ্ঞতা আছে। ভাবিলাম যে, এ কাজ হালাগুলো বাঙ্গালীর উপযুক্ত বটে। তাহার প্রস্তাবে আমি সন্মত হইলাম । চারি পাঁচ দিন পরে আমরা দুইজনে কলিকাতা গমন করিলাম। ভালরূপ একটা স্বদেশী কোম্পানী খুলিতে হইলে দুই-চারিজন বড়লোকের নাম আবশ্যক। আমরা তাহার যোগাড় করিলাম। একটি মিটিং হইল। এঁটেল মাটী ও কাগজের নমুনা দেখিয়া বড়লোকেরা ঘোরতর আশ্চৰ্য্য হইলেন। তাঁহাদের মধ্যে কেবল একজন বলিলেন,- “এঁটেল মাটী দিয়া কাগজ প্ৰস্তুত হইতে পারে, তাহা আমি জানিতাম না। আমি মনে করিতাম যে, খড়িমাটি দিয়া কাগজ প্ৰস্তৃত হয়।” শঙ্কর ঘোষ উত্তর করিলেন, — “খড়িমাটী দিয়া হইতে পারে, কিন্তু তাহাতে খরচ অধিক পড়ে।” কাগজ সম্বন্ধে ইহার এইরূপ গভীর জ্ঞান দেখিয়া সকলে তাহার প্রশংসা করিতে লাগিলেন । (G) সেই যাহারা ইংরেজীতে বক্তৃতা করেন, য কৃতা শুনিয়া স্কুল-কলেজের ছোড়াগুলো আনন্দে হাততালি দিয়া গগন ফাটাইয়া দেয়... আমরা সেইরূপ দুইজন বক্তার যোগাড় করিয়াছিলাম। তাঁহারা ইজের দিয়া কেন্সর আঁটিয়া রাখেন। তাঁহাদের একজন বক্তৃতা করিলেন— S. আমাদের কোম্পানীর নাম হইল,— “গ্র্যাণ্ড স্বদেশী কোম্পানী লিমিটেড।” কয়েকজন বড়লোক ও উগ্ৰ বক্তা ডাইরেক্টর বা পরিচালক হইলেন। কারণ, এই সকল বড়লোক ও বক্তারা সকল প্রকার কারুকাৰ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্বন্ধে ধুরন্ধর। ইহারা না জানেন, এমন বিষয় নাই। শঙ্কর ঘোষ ইংরাজী ও বাঙ্গালায় কোম্পানীর বিবরণ প্ৰদান করিয়া কাগজ ছাপাইলেন ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্ৰকাশ করিলেন। বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল যে, যে ব্যক্তি একশত টাকার শেয়ার বা অংশ কিনিবে, প্রতিমাসে লাভম্বরূপ তাহাকে পঁচিশ টাকা প্ৰদান করা হইবে। দেশে ধন্য ধন্য পড়িয়া গেল। সকলে বলিতে লাগিল যে, আর আমাদের ভাবনা নাই। যখন এঁটেল মাটী হইতে কাগজ প্ৰস্তুত হইবে, তখন বালি হইতে কাপড় হইবে। বিদেশ হইতে কোন দ্রব্য আর আমাদিগকে আমদানি করিতে হইবে না। দেশ টাকায় পূর্ণ হইয়া যাইবে। এই কথা বলিয়া কলিকাতায় বাঙ্গালীরা একদিন সন্ধ্যাবেলা আপন আপন ঘর আলোকমালায় আলোকিত করিল। প্রথম প্রথম শত শত লোক শেয়ার কিনিতে লাগিল। হুড় হুড় করিয়া টাকা আসিতে লাগিল। আমি কোষাধ্যক্ষ ছিলাম। টাকা সব আমার কাছে আসিতে লাগিল। কয়েক মাস। গত হইয়া গেল। এঁটেল মাটী দিয়া শঙ্কর ঘোষ একখানি কাগজ প্রস্তুত করিলেন না। মাসে যে পঁচিশ টাকা লাভ দিবার কথা ছিল, তাহার একটি পয়সাও কেহ পাইল r8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্য","র্শী ****** না। আসল টাকার মুখও কেহ দেখিতে পাইল না। জনকয়েক আমাদের নামে নালিশ করিল। শঙ্কর ঘোষ চমৎকার এক হিসাবের বহি প্ৰস্তুত করিয়া কাছারীতে দাখিল করিলেন। লাভ দূরে থাকুক, হিসাবে লোকসান প্ৰদৰ্শিত হইয়াছিল। কোম্পানী “লিমিটেড” ছিল। মোকদ্দমা ফাঁস হইয়া গেল। আমাদের কাহারও গায় আঁচড়টি পর্যন্ত লাগিল না। অনেকগুলি টাকা লোকে দিয়াছিল। বলা বাহুল্য যে, সে টাকাগুলি সমুদয় আমি লইলাম। শঙ্কর ঘোষ ভাগ চাহিল। আমি তাহাকে বুঝাইয়া বলিলাম,- “হিসাবের বহি তুমি নিজে হাতে প্ৰস্তুত করিয়াছ। তাঁহাতে তুমি লিখিয়াছ যে, লোকসান হইয়াছে। কোম্পানী ফেলা হইয়া গিয়াছে। টাকা আর কোথা হইতে আসিবে। বরং যাহা লোকসান হইয়াছে, তাহা আমাকে দিয়া যাও।” আমার কথা শুদিয়া শঙ্কর ঘোষ ঘোরতর রাগান্বিত হইল। “তুমি আমাকে ফাঁকি দিলে; তোমাকে আমি দেখিয়া লইব,”—আমাকে এইরূপ ভয় দেখিয়া সে চলিয়া গেল। আমার দ্বিতীয় কোম্পানীর বৃত্তান্ত এই। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তুমি বলিলে যে সম্প্রতি বড় বিপদে পড়িয়াছিলো। আমরা পাড়ায় থাকি। কোন বিপদের কথা আমরা তো শুনি নাই।” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “সে বিপদের কথা আজ পৰ্যন্ত আমি কাহারও নিকট প্ৰকাশ করি নাই । আজ তাহা তোমাদিগকে বলিতেছি শুন ।” ള് S్సర్ পরিচ্ছেদ ডমরুধর বলিতে লাগিলেন, — ফাঁকতালে অনেকগুলি টাকা লাভ করিয়া মন আমার প্রফুল্প হইল। শরীরটি নাদুস-নুদুস নধর হইয়া উঠিল। আমি মনে করিলাম দুর্লভীকে দেখাইয়া আসি। সেবার এই বাগৃদিনী সম্বন্ধে কি হইয়াছিল, তাহা তোমাদিগকে বলিয়াছি। সুন্দরবনের আবাদ হইতে আমি বাটী ফিরিয়া আসিতেছিলাম। পথে এক বেটা সাঁওতাল আমার কাপড় কাড়িয়া লইয়া আমাকে উলঙ্গ করিয়া ছাড়িয়া দিল। কোন স্থানে একদল বেদিয়া তাঁবু ফেলিয়াছিল। তাঁহাদের ছোট একটি লাল ঘাঘরা বেড়ার গায়ে শুকাইতেছিল। সেই ঘাঘরা চুরি করিয়া আমি পরিধান করিলাম। আমি মনে করিলাম যে, সন্ধ্যা পৰ্যন্ত দুর্লভীর ঘরে লুকাইয়া থাকি। তাহার ঘরে যেই প্ৰবেশ করিয়াছি, আর কেষ্টা ছোড়ার বাপ আসিয়া দ্বারের শিকল দিয়া দিল। কেষ্টা গ্রামের লোককে ডাকিয়া আনিয়া আমাকে দেখাইল। “রাঙা ঘাঘরা পরিয়া পোড়ার মুখে ডেকরা বুড়ো আমার মন ভুলাইতে আসিয়াছে,”—এইরূপ গালি দিয়া দুর্লভী আমাকে অনেক ভৎসনা করিল। তাহার পর এলোকেশী আসিয়া আমাকে বাটার দ্বারা প্ৰহার করিলেন। এ সব কথা তোমাদিগকে আমি পূৰ্ব্বে বলিয়াছি। সেই অবধি দুর্লভী আমার সহিত কথা কয় না। পথে দেখা হইলে মুখ ফিরাইয়া চলিয়া যায়। যখন কন্দৰ্প পুরুষের ন্যায় আমার নাদুস-নুদুস নধর শরীর হইল, তখন আমি মনে ডমরু-চরিত sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro tr8 করিলাম যে, চুপি চুপি দুর্লভীকে দেখাইয়া আসি,-যেন এলোকেশী জানিতে না পারেন। দুর্লভীর ঘরে গিয়া দেখিলাম যে, সে কয়দিন জুরে পড়িয়া আছে। তাহার বোন-বিস্তু সেবা করিতে আসিয়াছে। বােন-ঝির নাম চঞ্চলা। পাঁচ ক্রোশ দূরে ঝিঝিরডাঙ্গা নামক গ্রামে তাদের বাস। সে বিধবা । বয়স প্রায় ত্রিশ। রং কালো বটে, কিন্তু দেখিতে মন্দ নহে। আমি মনে করিলাম, ইহার সহিত ডাব করিতে হইবে। তাহা করিলে দুর্লভীর হিংসা হইবে। আমার উপর আর তাহার রাগ থাকিবে না। রং ফরসা হইবার জন্য শঙ্কর ঘোষ আমাকে যে ঔষধ বিক্রয় করিয়াছিল, তাহা আমি ব্যবহার করি নাই। সেই ঔষধ দুর্লভীকে আমি খাইতে দিলাম। তাহা খাইয়া দুর্লভীর পেট ছাড়িয়া দিল, দুর্লভী মৃতপ্রায় হইল। গ্রামের সকলে আমাকে ছিছি করিতে লাগিল। পুলিশে সংবাদ দিবে বলিয়া কেষ্টার বাপ আমাকে ভয় দেখাইল । চঞ্চলা বলিল যে, তাহাদের গ্রামে ভিকু ডাক্তার নামক এক ভাল চিকিৎসক আছেন, তাঁহাকে আনিলে তাহার মাসী ভাল হইবে। আমার ঔষধ খাইয়া দুর্লভীর প্রাণ যাইতে বসিয়াছে, সেজন্য ভয়ে আমি খরচ দিতে সম্মত হইলাম। ব্যাগ হাতে করিয়া পাঁচ ক্রোশ দূরে ঝিঝিরডাঙ্গা হইতে ভিকু ডাক্তার পদব্ৰজে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ইনি হােমিওপ্যাথিক ঔষধ প্ৰদান করেন। শুনিলাম যে, ভিকু কলিকাতায় কোন ডাক্তারখানায় ছয় মাস কম্পাউণ্ডারি করিয়াছিলেন। একবার কোন রোগীকে কৃমির ঔষধের পরিবৰ্ত্তে কুচিলা বিষ প্ৰদান করিয়াছিলেন। রোগীর তাহাতে মৃত্যু হইয়াছিল। সেজন্য ভিকুর ছয় মাস কারাবৃষ হইয়াছিল। এইরূপ অভিজ্ঞতা লাভ করিয়া ডিকু এখন স্বগ্রামে আসিয়া ডাক্তার হইয়াছেন,6) ভিকুর বয়স চল্লিশের অধিক। শরীর রং ময়লা, তবে কালো নহে। সচরাচর হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের বিশেষতঃ যেরূপ হয়, ভিকুর মুখ দিয়াও সেইরূপ চড়বড় করিয়া কথার যেন খৈ ফুটিতে দুর্লভীকে দেখিয়া ভিকু বলিলেন,- “কোন ভয় নাই, সরিষাপ্রমাণ এক বড়িতে ভাল করিব। এ বা কি রোগ! আমি কত অসাধ্য রোগ ভাল করিয়াছি। কত মরা জীবন প্ৰদান করিয়াছি।” এইরূপ ভূমিকা করিয়া ভিকু নিজের বিদ্যার পরিচয় দিতে আরম্ভ করিলেন। ভিকু বলিলেন, — “নেহালা গ্রামের ত্ৰিলোচন সরকেলের পেট ক্রমে ক্রমে ফুলিতে লাগিল; পেট ফুলিয়া ক্ৰমে জালার মত হইল। কত ডাক্তার কত বৈদ্য আসিল। কেহ বলিল উদরী, কেহ। বলিল টিউমার। কত ঔষধ তিনি খাইলেন। কিছুতে কিছু হইল না। অবশেষে তাহার লোকেরা আমাকে লইয়া গেল। আমি অনেকক্ষণ ধরিয়া বিশেষরূপে পরীক্ষা করিয়া তাহার পেটটি দেখিলাম। অবশেষে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলাম, তোমাদের ঘরে মাছ ধরিবার সূতা বঁড়শী আছে? তাহারা সূতা বঁড়শী আনিয়া দিল। বঁড়শীতে হােমিওপ্যাথিক গুলির টােপ করিয়া সূতা সহিত রোগীকে গিলিতে বলিলাম। মুখের বাহিরে সূতাটির অপর দিক ধরিয়া আমি একদৃষ্টি তাহার দিক চাহিয়া রহিলাম। সূতা যেই একটু নড়িয়া উঠিল, আর সেই সময় আমি টান মারিলাম। বলিব কি মহাশয়! ধামার মত প্ৰকাণ্ড একটা কচ্ছপ তাহার পেট হইতে আমি বাহির করিলাম। জলের সহিত সামান্য শিশুকচ্ছপ সরকেলমহাশয় ভক্ষণ করিয়াছিলেন। উদরে সেই কচ্ছপ ক্রমে বড় হইয়া তাহার জীবন সংশয় করিয়াছিল। আমার চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হইলেন। আর একবার রাত্রি দুপ্ৰহরের সময় আমি ঝিল গ্রামের শশানঘাটের নিকট দিয়া br8br afraig -iibg gis so! - www.amarboicon"37********* যাইতেছিলাম। দেখিলাম যে, সে স্থানে কয়েকটি ভূত কেহ দাঁড়াইয়া কেহ বসিয়া কমিটী করিতেছে। আমি একটু দূরে বসিয়া ব্যাগ হইতে হােমিওপ্যাথিক পুস্তক বাহির করিলাম। দিয়াশলাই জ্বলিয়া তাহার আলোকে ভূতের ঔষধ দেখিলাম। তাহার পর যেই ঔষধের শিশি করিলে আমার ঔষধের গুণে তাহারা ভস্ম হইয়া যাইত। ভূতের ছাই দিয়া হিষ্টিরিয়া রোগের চমৎকার ঔষধ আমি প্ৰস্তুত করিতে পারিতাম।” ভিকু ডাক্তার আরও বলিলেন যে,— “ভূতগণ যখন পলায়ন করিল, তখন আমি সেই স্থানে গিয়া দেখিলাম যে, তাহারা এক মড়া ভক্ষণ করিতেছিল। মড়ার হাত-পা সৰ্ব্ব শরীর তাহারা খাইয়া ফেলিয়াছিল, কেবল মুখটি অবশিষ্ট ছিল। আমি তৎক্ষণাৎ দুইটি হােমিওপ্যাথিক ঔষধের গুলি বাহির করিয়া তাহার মুখে দিলাম। মুখে গুলি দিবামাত্র সে চাহিয়া দেখিল, তাহার পর আশ্চৰ্য্য কথা কি বলিব মহাশয়! আমার ঔষধের গুণে শরীর গজাইতে লাগিল । প্ৰথম গলা হইল, তাহার পর বক্ষঃস্থল হইল, তাহার পর উদর হইল, তাহার পর হাত-পা হইল। সে উঠিয়া বসিল। তখন আমি বুঝিলাম যে, সে হিন্দুস্থানী, বাঙ্গালী নহে। সে রাত্রি আমি তাহাকে আমার বাটীতে লইয়া যাইলাম। পরদিন সে আপনার দেশে চলিয়া গেল । এখানে থাকিলে আপনাদিগকে দেখাইতাম। হােমিওপ্যাথিক ঔষধের গুণ আছে বটে, কিন্তু ঠিক ঔষধটি ধরা বড় কঠিন। অনেক দেখিয়া-শুনিয়া আমার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা হইয়াছে। রোগীর চেহারা দেখিলেই আমি ঠিক ঔষধ ধরিতে । আমার হাতে একটিও মারা পড়ে না। সেজন্য কলিকাতার হোমরা-চোমরা ডাক্তারগণ/ফ্লেীহারা ষোল টাকা বত্ৰিশ টাকা ভিজিট গ্ৰহণ করেন তাহারা যখন হালে পানি পান তাহারা বলেন, ঝিঝিরডাঙ্গার ভিকু ডাক্তারকে লইয়া এস, তিনি না হইলে এ রোপ্লেক্স”ঔষধ। কেহ ঠিক করিতে পরিবে না। সেজন্য মাঝে মাঝে আমাকে কলিকাতায় যাইতে ভিকু পুনরায় বলিলেন, — ‘ র একটি চমৎকার ঔষধ বাহির করিয়াছি। যে ঔষধে প্ৰজাপতি দক্ষের গলায় ছাগলের মুণ্ড’জোড়া লাগিয়াছিল, ইহা সেই ঔষধ। হাত-পা এমন কি মানুষের মাথা কাটিয়া দুইখানা হইয়া গেলেও, আমি এক বড়িতে পুনরায় জুড়িয়া দিতে পারি।” ভিকু নানারূপ গল্প করিলেন। অবাক হইয়া সকলে তাহার গল্প শুনিতে লাগিল। সকলে মনে করিল যে, ইহার তুল্য বিচক্ষণ ডাক্তার জগতে নাই। দুর্লভীর চিকিৎসার জন্য আমি তাঁহাকে এক টাকা দিতে চাহিলাম। কিন্তু প্ৰথমে তিনি কিছুতেই তাহা লইলেন না। তিনি বলিলেন, — “আমি পাঁচ ক্রোশ পথ হইতে আসিয়াছি। চারি টাকা লইব ।” অনেক কচলাকচলির পর আমি বলিলাম যে,- “আপাততঃ আপনি এক টাকা লাউন, রোগী ভাল হইলে পরে আর তিন টাকা দিব ।” এ প্রস্তাবে সম্মত হইয়া তিনি এক টাকা লইয়া প্ৰস্থান করিলেন। দুর্লভী ভাল হইল। কিন্তু তাহার পর ডাক্তারকে ঘোড়ার ডিম! রোগ ভাল হইলে অনেকেই ডাক্তার-বৈদ্যাকে কলা দেখায় । छzाद्रन्-5छि sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro br8冷 তৃতীয় পরিচ্ছেদ চঞ্চলার গাই গরু দুর্লভী ভাল হইলে চঞ্চলা আপনার গ্রামে চলিয়া গেল। কিন্তু চঞ্চলার সহিত সদ্ভাব করিতে আমার বাসনা হইয়াছিল। তাঁহাদের গ্রাম অনেক দূরী। সৰ্ব্বদা আমি যাইতে পারিতাম না। কেবল মাঝে মাঝে যাইতাম। সেই গ্রামের পাশ দিয়া বড় রাস্তা গিয়াছে। তাহার উপর দিয়া গরুর গাড়ী সৰ্ব্বদা যায়। দুই-চারিটা পয়সা দিয়া তাহার উপর বসিয়া কখন কখন কতক দূর যাইতাম। ফিরতি ঘোড়ার গাড়ীতেও দুই একবার গিয়াছিলাম। এ পথে দুই তিনবার মোটর গাড়ী দেখিয়াছিলাম। স্বদেশী কোম্পানী স্থাপনের সময় বড়লোকদিগের সহিত সাক্ষাৎ করিবার নিমিত্ত শঙ্কর ঘোষ মোটর গাড়ী ভাড়া করিয়াছিলেন। সেই সময় আমি মোটর গাড়ী চড়িয়াছিলাম। কিন্তু অতি বেগে গমন করে। আমার ভয় হইয়াছিল। মোটর গাড়ী টানিবার কোনরূপ বিলাতী জন্তু-জানোয়ার থাকে কি না, তাহা আমি জানি না। মাঝে মাঝে চাঞ্চলাদের গ্রামে গিয়া তাহদের দাওয়াতে আমি বসিতাম। চঞ্চলার মা নাই, কেবল বাপ আছে। তাহার নাম সহদেব বাগদী । সহদেব মজুরি করে। চঞ্চলার একটি গাই গরু আছে। তাহার দুধ সে বিক্রয় করে। চঞ্চলার দাওয়াতে বসিয়া আমি গল্প-গাছা করিতাম। কখন কখন দুই-একটা রসের কথাও বলিতাম। তখন হাসিয়া সে লুটিপুট হইত। পাড়ার র। সে ডাকিয়া আনিত । আমার দিকে চক্ষু ঠারিয়া সকলে হাসিয়া লুটিপুট হইত৫% দেখিলে লোকের আনন্দ হয়। মুণীদের লুকাই নাই। আমার রূপ দেখৃিষ্টাৰ্ছদের মন ভুলিয়া যায়। মাপীগুলাে আমার গায়ে যেন ঢলিয়া পড়ে। চঞ্চলাকে দশ পয়সা দিয়া এ কিনিয়া দিয়াছিলাম। গামছা পাইয়া তাহার আহাদ হইয়াছে। আমি মনে 2 – দুর্লভী একবার এই কথা শুনিলে হয়। তাহা হইলে সে আর মুখ হাঁড়ী করিয়া থাকিবে না। লম্বোদর। এইবার ভাই সেই ঘোর দুর্ঘটনা ঘটিয়াছিল। এইবার সেই গ্রামে আমাকে প্ৰায় একমাস কয়েদ থাকিতে হইয়াছিল। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “সে কবে?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “আজ পঞ্চমী, ইহার তিনটা পঞ্চমী আগে, প্রায় দুই মাসের কথা।” লম্বোেদর বলিলেন,- “সে কি করিয়া হইবে। তুমি বলিতেছ। যে দুই মাস পূৰ্ব্বে দুর্ঘটনা ঘটিয়াছিল। তাহার পর এক মাস তুমি সেই গ্রামে কয়েদ হইয়াছিলে। কিন্তু গত ছয়মাস ধরিয়া তুমি গ্ৰাম হইতে কোন স্থানে গমন কর নাই। এই ছয়মাস প্রতিদিন তোমাকে আমরা দেখিয়াছি।” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “সকলই জগদম্বার মায়া! তাহার মায়াতে তোমরা আচ্ছন্ন হইয়াছিলো।” লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন, — “দুর্ঘটনাটা কি?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “তাহা বলিতেছি শুনা।” 泳 泳 § brQの fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** প্ৰায় দুই মাসের কথা হইল। একদিন রাত্রিতে আমি ঘরে শুইয়াছিলাম। শেষ রাত্ৰিতে ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। আর নিদ্রা হইল না। এ-পাশ ও-পাশ করিতে লাগিলাম। চঞ্চলার জন্য একখানি নয়।হাতি কাপড় কিনিয়াছিলাম। মনে করিলাম, বিছানায় আর বৃথা পড়িয়া থাকিব না। কাপড়খানি তাহাকো” দিয়া আসি। এলোকেশীর ভয়ে কাপড়খানি লইয়া চঞ্চলাদের গ্রাম অভিমুখে আমি হাঁটিয়া চলিলাম। যাইতে যাইতে সকাল হইয়া গেল। সূৰ্যোদয়ের পরে বড় রাস্তায় গিয়া উঠিলাম। বেলা প্ৰায় নয়টার সময় চঞ্চলাদের গ্রামের নিকট উপস্থিত হইলাম। চঞ্চলার পিতা সহদেবের সহিত বড় রাস্তায় সাক্ষাৎ হইল। চঞ্চলার গাই গরুর দড়ি ধরিয়া বড় রাস্তার উপর দিয়া সে তাহাকে মাঠে লইয়া যাইতেছিল। তাহার সহিত কথা কহিতে কহিতে আমি কিছুদূর চলিলাম, অন্যমনস্ক হইয়া আমরা দুইজনে যাইতেছি, পশ্চাতে যে ভোঁ ভো শব্দ হইয়াছিল, তাহার কিছুই শুনিতে পাই নাই। সহসা পশ্চাৎ হইতে এক মোটর গাড়ী আমার উপর আসিয়া পড়িল। গাড়ীর চাকায় আমার কোমরা পৰ্যন্ত কাটিয়া দুইখানা হইয়া গেল । আমার দুইটা কাটা পা গাড়ীর চাকায় কিরূপে আটকাইয়া গেল। কোমর হইতে আমার পা দুইটি লইয়া মোটর গাড়ী অতি দ্রুতবেগে পলায়ন করিল। লম্বোদর প্রভৃতি সকলে শিহরিয়া উঠিলেন। সকলে বলিয়া উঠিলেন— “বল কি হে? সত্য?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “হাঁ ভাই, সত্য ।” লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তাহার পর?” ডমরুধর বলিলেন, — রাস্তায় ধূলায় আমার ডুয়া কাটা ছাগলের ন্যায় ছটফট করিতে লাগিল। তখনও আমার প্রাণ বাহির নাই। তখনও সম্পূর্ণ আমি জ্ঞানহারা হই নাই। আমি এ-দিক ও-দিক চাহিয়া দেখ্রিলুম। দেখিলাম যে, সহদেব বাগদী হতভম্ব হইয়া দাড়াইয়া আছে। বোধ হয় যে, তাহাকে লাগে নাই। সে চঞ্চলার গরুর দিকে একদৃষ্টি চাহিয়া আছে। গরুটিও পথে পড়িয় ।। গাড়ীর আর একটি চাকায় তাহারও কোমরা পৰ্যন্ত কাটিয়া দুইখানা হইয়া গিয়াছিল। কোমর ও পা কিন্তু গাড়ীর চাকায় লাগিয়া যায় নাই। একদিকে গরুর ধড় ও অপরদিকে তাহার কোমর ও পা রাস্তার উপর পড়িয়াছিল। বিষগ্ন বদনে সহদেব তাহাই দেখিতেছিল। সেই পথ দিয়া ভিকু ডাক্তার ব্যাগ হাতে লইয়া চিকিৎসা করিতে যাইতেছিলেন। তিনি দৌড়িয়া আসিলেন। এ-দিক ও-দিক চাহিয়া আমার কোমর ও পা দেখিতে পাইলেন। তখন সেই গরুর কোমর ও পা আমার শরীরে তিনি জুড়িয়া দিলেন। তাঁহার ব্যাগ খুলিয়া দুইটি হােমিওপ্যাথিক ঔষধের গুলি আমার মুখে দিলেন। ঔষধের গুণে সেই গরুর কোমর ও পা আমার শরীরে জুড়িয়া গেল। তাহার পর আর দুইটি বড়ি তিনি আমার মুখে দিলেন। তাহা দেখিয়া আমি শরীরে বল পাইলাম। কিন্তু মানুষের মত গরুর দুই পায়ে আমি সোজা হইয়া দাঁড়াইতে পারিলাম না। গরুর দুই পা আর আমার দুই হাত মাটীতে পাতিয়া চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় আমাকে দাড়াইতে হইল । ইতিমধ্যে সে স্থানে অনেক লোক একত্র হইয়াছিল। এই অবস্থায় সকলে আমাকে গ্রামের ভিতর লইয়া গেল। সে স্থানে গিয়া ভিকু ডাক্তার বলিলেন,- “ডমরুবাবু! তুমি আমার পাওনা টাকা দাও নাই। আমাকে ফাঁকি দিয়াছিলে। কিন্তু এখন তোমার এই শরীরটি আমার হইল। গরুর কোমর তোমার শরীরে যদি আমি না জুড়িয়া দিতাম, তাহা হইলে এতক্ষণ কোন কালে ডমরু-চরিত sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro tr6ጽ^ তুমি মরিয়া যাইতে। দুইদিন পরে তোমার ধড়টি পচিয়া যাইত, অথবা পুড়িয়া ছাই হইত। অতএব তোমার এই শরীরটি এখন আমার। আমার চাষ আছে। যতদিন বঁাচিবে, ততদিন আমার ক্ষেত্রে তোমার কাজ করিতে হইবে।” এই কথা বলিয়া আমার গলায় গরুর দড়ি দিয়া তিনি টানিতে লাগিলেন। চঞ্চলার পিতা সহদেব তাঁহার হাত হইতে দড়ি কাড়িয়া লইল । সে বলিল,- “ভাল রে ভাল! ইনি তোমার? সে কিরূপ কথা? ইহার আধখানা চঞ্চলার গাই। এখনও ইহার দুধ হইবে। আমরা ইহাকে ছাড়িয়া দিব না।” আমাকে লইয়া দুইজনে বিবাদ বাধিয়া গেল। এ বলে ইনি আমার প্রাপ্য, ও বলে আমার প্ৰাপ্য। ক্রমে হাতাহাতি হইবার উপক্রম হইল। অবশেষে গ্রামের লোক সমস্যার এইরূপ মীমাংসা করিয়া দিল। দিনের বেলা আমাকে ভিকু ডাক্তারের কাছে থাকিতে হইবে। সমস্ত দিন তিনি আমাকে খাটাইয়া লইবেন । রাত্রিকালে আমি চঞ্চলার গোয়ালে বাধা থাকিব। প্ৰাতঃকালে চঞ্চলা আমার দুধ দুহিয়া ভিকু ডাক্তারের বাড়ীতে আমাকে পাঠাইয়া দিবে। একবেলা ভিকু ডাক্তার আমাকে খাইতে দিবেন, অন্য বেলা সহদেব বাগদী আমাকে খাইতে দিবে। প্ৰথম দিন আর আমাকে কোন কাজ করিতে হয় নাই। সেদিন চঞ্চলার গোয়ালে খোঁটায়। আমি বাধা রহিলাম, পাছে হাত দিয়া দড়ি খুলিয়া আমি পলায়ন করি, সেজন্য হাত দুইটিও তাহারা বধিয়া রাখিল । ইহার পর প্রতি রাত্রিতে তাহারা এইভাবে আমাকে বধিয়া রাখিত, সন্ধ্যাবেলা চঞ্চল আমাকে দুইটি মুড়ি খাইতে দিল। ইহাদের নিকট ছিলাম, ততদিন দুই বেলা দুইটি মুড়ি আমার আহার ছিল। ডাক্তার দিত, অন্য বেলা চঞ্চল দিত। আমার দীত নাই, মুড়ি চিবাইতে পারিভাষািপ প্ৰাণধারণের নিমিত্ত কােনরূপে গিলিয়া ফেলিতাম । (C) পরদিন প্ৰাতঃকালে চঞ্চলা আমার দুধ করিল। প্রায় দুই সের দুধ হইল। তাহার পর সে বাছুর ছাড়িয়া দিল, বাছুর খাইতে লাগিল ও মাঝে মাঝে বাছুর আমার পেটে মাথায় ঔতো মারিতে লাগিল। তাহার ঔতোতে আমি অস্থির হইয়া পড়িলাম। ভাগ্যক্রমে এই সময় ভিকু ডাক্তার আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি বলিলেন,- “ডমরুবাবুর ঐ পেট এখন আমার। পেট আমার ভাগে পড়িয়াছে। পেটে আমি বাছুরকে মারিতে দিব না। তাহার ঢুতে যদি ডমরুবাবুর নাড়ী-ভুড়ি ছিড়িয়া যায়, তাহা হইলে তোমাদের নামে নালিশ করিব।” সেইদিন হইতে চঞ্চলা বাছুরের দড়ি টানিয়া রাখিত। বাছুর আমার পেটে আর ঔতো মারিতে পারিত না । দুধ দোহন হইলে ভিকু ডাক্তার আমাকে তাঁহার ক্ষেত্রে লইয়া গেলেন। কৃষককে বলিলেন যে,- “একটা গরুর সহিত ইহাকে লাঙ্গলে জুড়িয়া দাও।” কৃষক তাঁহাই করিল। মানুষের হাত কোমল তাঁহাতে ক্ষুর নাই। কিন্তু এখন আমাকে দুইটি হাত মাটিতে পাতিয়া গরুর ন্যায় চরিতে হইয়াছিল। আমার হাতে কাটা খোঁচা ফুটিয়া যাইতে লাগিল। ঘোরতর কষ্টে আমার চক্ষু দুইটি জলে ভাসিয়া গেল। আমি ভাবিলাম যে, আমার নুদুস-নাদুস নধর শরীরটি এইবার মাটি হইয়া গেল। আমার সঙ্গী বলদের সহিত সমানভাবে আমি ক্ষেত্রের উপর লাঙ্গল কাঁধে করিয়া চলিতে পারিতেছিলাম না, সেজন্য কৃষক আমার লাঙ্গুলে সবলে মোচড় দিতে লাগিল। এমন সময় সহদেব সেই স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইল। সহদেব বলিল,- “ও কি! তুমি উহার লেজ মলিতে পাড়িবে না। লেজ তোমাদের নহে, লেজ ክrርrS fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboicorf** আমাদের ভাগে পড়িয়াছে।” কৃষক আর আমার লাঙ্গুল মর্দন করিল না বটে, কিন্তু আমার পিঠে ছড়ি মারিতে লাগিল। ফলকথা, আমার দুঃখের আর সীমা রহিল না। সন্ধ্যাবেল ভিকু ডাক্তার আমাকে চঞ্চলার বাড়ীতে পাঠাইয়া দিলেন। চঞ্চলা আমাকে তাহার গোয়ালে বাধিয়া রাখিল । পরদিন প্ৰাতঃকালে আমার দুধ দুহিয়া পুনরায় আমাকে ভিকু ডাক্তারের নিকট পঠাইয়া দিল । পুনরায় আমাকে লাঙ্গল ঘাড়ে করিয়া ক্ষেত চাষিতে হইল । প্রতিদিন এইরূপ হইতে লাগিল। মনের দুঃখে রাত্ৰিদিন আমি কাদিতেছিলাম। ভাবিতেছিলাম যে, হায় হায়! স্বদেশী কোম্পানী খুলিয়া দেশের লোকের মাথায় হাত বুলাইয়া যে এত টাকা উপাৰ্জ্জন করিলাম, সে সব বৃথা হইল। এলোকেশী অথবা তোমরা বন্ধু-বান্ধব কেহ আমার কোন সন্ধান লইল না, সেজন্য আমার বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল। লম্বোদর বলিলেন,- “আজ ছয়মাস প্রতিদিন দুইবেলা তোমাকে দেখিতেছি। তোমার আবার সন্ধান কি লাইব? কিন্তু তুমি বলিতেছ যে, সে সব জগদম্বার মায়া। তবে আমরা আর কি दनिद?" ডমরুধর পুনরায় বলিতে লাগিলেন,- দিন দিন আমি দুৰ্ব্বল হইয়া পড়িতে লাগিলাম। আমার সে নুদুস-নাদুস নধর শরীর শুকাইয়া কাঠ হইয়া গেল। অস্থিচৰ্ম্মসার হইয়া যাইলাম। ভালরূপ লাঙ্গলও টানিতে পারি না, দুধও দিতে পারি না। প্ৰায় একমাস কাটিয়া গেল। একদিন প্ৰাতঃকালে চঞ্চলা আমাকে যথারীতি দুহিতে আসিল। দুধ হইল না। পিতাকে গিয়া সে সেই কথা জানাইল । সহদেব বলিল যে,- ঃকালে আমি নিজে দুহিয়া দেখিব।” পরদিন প্ৰাতঃকালে সে নিজে আমাকে দুহিতে শুমাির্সল। একফোঁটাও দুধ বাহির হইল না। তখন সে বিড় বিড় করিয়া আপনা-আপনি বুল্লিীল – “পুনরায় বাছুর না হইলে দুধ হইবে না, তাহার যোগাড় করিতে হইবে।” ్వ এই কথা শুনিয়া আমার প্রাণ ভুঞ্জি গেল। একে লাঙ্গল টানিয়া প্ৰাণ আমার ওষ্ঠ্যাগত হইয়াছিল। তাহার উপর আবার বাছু যোগাড়! সে রাত্রি আমার নিদ্রা হইল না। ক্রমাগত আমি মা দুৰ্গাকে ডাকিত লাগিলাম। আমি বলিলাম,- “মা! চিরকাল তুমি আমাকে নানা বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছ। সন্ন্যাসীর হাত হইতে, বাঘের মুখ হইতে তুমি আমাকে উদ্ধার করিয়াছ। এখন কেন মা! তুমি আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছ?” এইরূপ স্তব-স্তুতি মিনতি করিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। সহসা কে যেন আমার পিঠে চাপড় মারিয়া বলিল,— “ভয় নাই বাছা, ভয় নাই। শীঘই তোমাকে আমি এ বিপদ হইতে পরিত্রাণ করিব। গত বৎসর তোমার পূজার কিঞ্চিৎ ক্ৰটি হইয়াছিল। সেই পাপের জন্য তোমাকে কষ্ট দিলাম । মা যাহা বলিলেন, তাহাই করিলেন। পরদিন প্ৰত্যুষে শঙ্কর ঘোষ আসিয়া বলিল,—“তুমি আমাকে টাকা ফাঁকি দিয়াছ। চল, তোমাকে আমি পুলিশে দিব।” এই বলিয়া সে আমার দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া টানিতে লাগিল। সে সংবাদ পাইয়া ভিকু ডাক্তার দৌড়িয়া আসিলেন, —তিনি বলিলেন, — “ধড়টি আমি রক্ষা করিয়াছি। এ ধড় আমার সম্পত্তি ।” এই কথা বলিয়া তিনি আমার বাম হাত ধরিয়া টানিতে লাগিলেন। গোলমাল শুনিয়া চঞ্চলা

    • firls six g3 &g! a www.amarboicom a brQ○ সে স্থানে দৌড়িয়া আসিল। সে বলিল,- “ইহার নীচের দিকটা আমর। আমার গাই-গরু।”

এই বলিয়া সে আমার পশ্চাৎ দিকের দক্ষিণ পায়ের খুর ধরিয়া টানিতে লাগিল। এমন সময় “হু হু” পালকির শব্দ হইল। আমি ও অপর সকলে সেইদিকে চাহিয়া রহিলাম। এলোকেশী ঠাকুরাণী উগ্ৰমূৰ্ত্তি ধারণ করিয়া পালকি হইতে নামিলেন। আমার নিকট আসিয়া তিনি বলিলেন,- “ইনি আমার স্বামী। তোমরা ছাড়িয়া দাও। ইহাকে আমি বাড়ী লইয়া যাইব । বাড়ী গিয়া বঁটা-পেটা করিয়া ইহার ভূত ছাড়াইব ।” এই কথা বলিয়া তিনি আমার পশ্চাৎ দিকের বাম পায়ের খুর ধরিয়া টানিতে লাগিলেন। আপন আপনি দিক কেহই ছাড়িয়া দিল না। একদিকে শঙ্কর ঘোষ ও ভিকু ডাক্তার আমার দুই হাত ধরিয়া টানিতে লাগিল। অপর দিকে চঞ্চল ও এলোকেশী দুই খুর ধরিয়া টানিতে লাগিল। তাহাদের টানাটানিতে আমার প্রাণ বাহির হইবার উপক্রম হইল। “ছাড়িয়া দাও, ছাড়িয়া দাও।” বলিয়া আমি চীৎকার করিতে লাগিলাম, কিন্তু কেহই ছাড়িল না। অবশেষে তাহদের টানাটানিতে আমার শরীর হইতে ফস করিয়া চঞ্চলার গাই-গরুর কোমর ও পা খসিয়া পৃথক হইয়া গেল। আমি অজ্ঞান হইয়া পড়িলাম। কতক্ষণ অজ্ঞান হইয়াছিলাম, তাহা জানি না; যখন আমার জ্ঞান হইল, তখন আমি চক্ষু চাহিয়া দেখিলাম যে, আমি আমার ঘরে শয়ন করিয়া আছি। উঠিয়া বসিলাম। পায়ের দিকে চাহিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, মানুষের দুইটি প্য(গল্প-র পা নহে। তাঁহাতে লেজ নাই, খুর ভ্ৰাম্ভীৰ্ব্ব পা। শরীরের দিকে চাহিয়া দেখিলাম। ওরূপ বকিতেছিলে কেন? চঞ্চলা কে?” আমি কোন উত্তর করিলাম না। মনে মনে ভাবিলাম যে,- সকলই জগদম্বার মায়া! সমুদয় মায়ের লীলা । tr¢8 figlig airž3. g35 ze! A www.amarboi.com%37************** প্ৰথম পরিচ্ছেদ সাহেবের কাজ ডমরুধরের বাস কলিকাতার দক্ষিণে, যেস্থানে অনেক কাটি-গঙ্গা আছে। প্রথম অবস্থায় ইনি দরিদ্র ছিলেন। নানা উপায় অবলম্বন করিয়া এক্ষণে ধনবান হইয়াছেন । এলোকেশী। ইহার তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী। ডমরুধর বৃদ্ধ, সুপুরুষ নহেন। তথাপি এলোকেশীর সর্বদাই সন্দেহ। গত বৎসর দুর্লভী বাগদিনী ডমরুধারকে ঝাটাপেটা করিয়াছিল। সেই উপলক্ষে এলোকেশীও তাহাকে উত্তম-মধ্যম দিয়াছিলেন। কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বে ডমরুধর সন্ন্যাসি-বিভ্রাটে পড়িয়াছিলেন। সেই অবধি ইনি দুর্গোৎসব করেন। সুন্দরবনে ডমরুধরের আবাদ আছে। প্ৰজাদিগের নিকট হইতে চাউল, ঘূত, মধু, মৎস্য প্রভৃতি আদায় করেন। প্রতিমাটি গড়া হয়, কিন্তু পূজার উপকরণ,- “প্রায় সমস্তই কাটি-গঙ্গার আজ পূজার পঞ্চমীর দিন, দালানে প্রতিমার পার্শ্বে বন্ধুগণের সহিত বসিয়া ডমরুধর গ্রন্থগুছিা করিতেছেন। লম্বোেদর বলিলেন, — “এবার তুমি মরিয়া বঁচিয়াছ, যে ভয়ানক রোগ হইয়াছিল তাহাতে পূজার সময় তােমার গল্প যে আমরা শুনিবুওতেঁজ আমরা করি নাই।” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — “হাঁ ভাই এবার আমি মরিয়া বাঁচিয়াছি। মা দুর্গার আমি বরপুত্র। সেবার সন্ন্যাসি-বিভ্ৰাট হইস্ট্রেপতিনি আমাকে রক্ষা করিয়াছিলেন। তাঁহার কৃপায় গত বৎসর বাঘের মুখ হইতে আমি বঁচিয়াছিলাম। এবার উৎকট রোগ হইতে তিনি আমাকে মুক্ত করিয়াছেন। সমুদয় দুর্ঘটনা নষ্টচন্দ্ৰ দেখিয়া ঘটিয়াছিল। আধাকড়ি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “নষ্টচন্দ্ৰ দেখিয়া কি হইয়াছিল?” ডমরুধর উত্তর করিলেন, — সে কথা এতদিন আমি প্ৰকাশ করি নাই। কি হইয়াছিল, তাহা শুন । এবার আমি নষ্টচন্দ্ৰ দেখিয়াছিলাম। নষ্টচন্দ্ৰ দেখিলে চুরি করিতে হয়। মনে করিলাম যে, দুর্লভীর উঠানে যে শসা গাছের মাচা আছে, তাহা হইতে শসা চুরি করিয়া আনি । বাহিরে যাহাই বলুক, কিন্তু দুর্লভীর মনটা আমার উপর আছে। শসা চুরি করিতে গিয়া যদি ধরা পড়ি, এলোকেশী যদি কিছু বলেন, তাহা হইলে আমি বলিব যে, নষ্টচন্দ্ৰ দেখিয়া চুরি না করিলে কলঙ্ক হয় । চুপে চুপে আমি শসা চুরি করিতে যাইলাম। কিন্তু দূর হইতে দেখিলাম যে, দুর্লভী কেরোসিনের ডিবে জ্বালাইয়া ঠেঙা হাতে করিয়া দাওয়াতে বসিয়া আছে। তাহার উগ্ৰমূৰ্ত্তি দেখিয়া আর অগ্রসর হইতে আমি সাহস করিলাম না। সে রাত্রি আমার চুরি করা হইল না। মনে করিলাম যে, আজ রাত্ৰিতে না হউক, তিন দিনের মধ্যে কিছু চুরি করিলেই নষ্টচন্দ্রের দোষ কাটিয়া যাইবে। কোথায় কি চুরি করি, রাত্ৰিতে শুইয়া ডমরু-চরিত brtt sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro শুইয়া তাহা ভাবিতে লাগিলাম। দুর্লভীর জিন্মায় পুষ্করিণীটি রাখিয়াছে। মনে করিলাম যে, কাল বৈকালবেলা ছিপ ফেলিয়া সেই পুষ্করিণী হইতে মাছ চুরি করিব। সুন্দরবনে আমার আবাদের নিকট একবার জনকয়েক সাহেব শিকার করিতে আসিয়াছিলেন। তাহারা একটি টুপি ফেলিয়া গিয়াছিলেন। টুপিটি কুড়াইয়া আমি বাড়ী আনিয়াছিলাম। পরদিন সন্ধ্যার কিছু পূৰ্ব্বে সেই টুপিট বগলে লইয়া ছিপ হাতে করিয়া আমি গদাই ঘোষের পুষ্করিণী পাড়ে উপস্থিত হইলাম; যে ধার দিয়া লোক গতায়াত করে, তাহার বিপরীত দিকে এককোণে বনে পূর্ণ ছিল। ঝোপের ভিতর গিয়া আমি সাহেবদের সেই কালো রঙের ধুচুনির মত লম্বা টুপিট মাথায় দিলাম। আজকালের বাবুদের মত গায়ে আমি জামা পরি না। কোমরে কেবল ধুতি ছিল। আমি ভাবিলাম যে, আমাকে কেহ চিনিতে পরিবে না। সকলে মনে করিবে যে, সাহেব মাছ ধরিতে আসিয়াছে। সাহেব দেখিলে কেহ কিছু বলিবে না। নিকটের জল—নাল-ফুল ও কলমি শাকের গাছে পূর্ণ ছিল। কেবল এক স্থানে একটু ফাঁক ছিল। ময়দার টােপ গাঁথিয়া আমি সেই পরিষ্কার স্থানে ছিপ ফেলিলাম। কিছুক্ষণ পর বোধ হইল যেন মাছে ঠোকরাইল। আমি টান মারিলাম। বঁড়িশি জলের ভিতর নাল গাছে লাগিয়া গেল। অনেক টানাটানি করিলাম, অনেক চেষ্টা করিলাম, কিছুতেই খুলিতে পারিলাম না। তখন বুঝিলাম যে, জলে নামিয়া না খুলিলে আর অন্য উপায় নাই। কিন্তু কাপড় ভিজিয়া যাইবে, জলে কি করিয়া নামি । চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম- কেহ কোথাও নাই। কাপড় খুলিয়া উলঙ্গ হইয়া জলে নামিলাম। একবুক জল হইল। অতিকষ্টে নাল গাছের ডাটা হইতে বড়শি খুলিয়া উপরে উঠিয়া কাপড় পরিতে যাই—সৰ্ব্ব স্থানে কাপড় রাখিয়া গিয়াছিলাম সে স্থানে কাপড় নাই। বনের ভিতর চারিদিকে কাপড় দেখিতে পাইলাম না। তখনও সম্পূর্ণ সন্ধ্যা হয় নাই। সে উলঙ্গ আমি বাটী ফিরিয়া যাইতে পারি না। কি করিব। চার করিয়া পুনরায় ছিপ মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম যে, এ সেই কেষ্টা ছোড়ার কৰ্ম্ম, সে আমার টাকের য়া আমাকে ক্ষেপায়। সে দূর হইতে আমাকে বলে— টাক-চাঁদ, টাক-বাহাদুর, টাকেশ্বর । কেষ্টা ছোড়ার অগম্য স্থান নাই। যখন জলে নামিয়া, পিছন ফিরিয়া এক মনে আমি বঁড়শি খুলিতেছিলাম, সেই সময় সে আমার কাপড় লইয়া গিয়াছে। কেবল তাহা নহে। সে দুর্লভীকে গিয়া সংবাদ দিয়াছিল। কারণ, অল্পক্ষিণ পরেই দুর্লভী ও হিরী বাগদিনী আসিয়া পুষ্করিণীর অপর পাড়ে দাড়াইল । কিছুক্ষণ একদৃষ্টি আমার দিকে চাহিয়া দুর্লভী বলিল,— “একটা সাহেব!” হিরী বাগদিনী বলিল,- “সাহেবটার গায়ের রং কালো মিশমিশে। যাহারা পাখী মারিতে আসে, সেই সাহেব।” দুর্লভী বলিল,- “সৰ্ব্বনাশ! নেঙটা গোরা! তবে আমি পলাই; যাকে বলে ব্ৰাণ্ডি, ভাই উহারা খায়।” দুর্লভী বলিল,- “চল, গদাই ঘোষকে গিয়া বলি।” আমি ভাবিলাম,- “ঘোর বিপদ হইল। সমস্ত গ্রামের লোককে সঙ্গে লইয়া গদাই ঘোষ হয় তো এখনি আসিয়া উপস্থিত হইবে। আমি সম্পূর্ণ উলঙ্গ, মাথায় কেবল এক সাহেবি টুপি । এ অবস্থায় সকলে হয় তো আমাকে এলোকেশীর নিকট ধরিয়া লইয়া যাইবে। সাহেবের পোষাক পরিয়া দুর্লভীর ঘরের নিকট আমি গিয়াছিলাম, তাহা শুনিলে এলোকেশী আর রক্ষা রাখিবেন না । broers দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comািলকানাথ রচনাসংখ্যাই দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ছিপগাছটা আমি ফেলিয়া দিলাম। প্রথম বনের ভিতর দিয়া, তাহার পর পুকুরপারের নীচে দিয়া দুর্লভীর ঘরের পশ্চাৎদিকে উপস্থিত হইলাম। ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া উকি মারিয়া দেখিলাম যে, তাহার ঘরে কেহ নাই। দ্বারটি কেবল ভেজানো আছে। চুপ করিয়া আমি তাহার ঘরে প্রবেশ করিলাম। ঘরের ভিতর অন্ধকার। চারিদিক চাহিয়া দেখিলাম। একখানি কাপড় কি একখানি গামছা দেখিতে পাইলাম না। কি করি টুপি মাথায় দিয়া উলঙ্গ অবস্থায় ঘরের এককোণে বসিয়া রহিলাম। মনে করিলাম যে একটু অন্ধকার হইলে পলায়ন করিব। আর যদি দুর্লভী দেখিতে পায়, তাহা হইলে আমার সাহেবের পোষাক দেখিয়া তাহার মনে আনন্দ হইবে। ওদিকে যাহা ভাবিয়ছিলাম, তাহাই হইল। গদাই ঘোষ গ্রামের চৌকিদার ও অন্যান্য লোক লইয়া পুষ্করিণীর ধারে উপস্থিত হইল। মহা গোল পড়িয়া গেল। ঘরের ভিতর বসিয়া আমি তাহা শুনিতে পাইলাম। ভয়ে সৰ্ব্বশরীর আমার কঁাপিতে লাগিল। পুকুরের সেই কোণে বনের ভিতর তাহারা অনেক অনুসন্ধান করিল। ছিপ দেখিতে পাইল। কিন্তু সাহেবকে তাহারা দেখিতে পাইল না। হতাশ হইয়া সকলে বাড়ী ফিরিয়া গেল। তখন দুর্লভী আসিয়া আপনার দাওয়া বা পিঁড়িতে বসিল। এমন সময় রসকের মা আসিয়া বলিল,- কৃষ্ণ আমাকে শসা দিবি বলিয়াছিলি, কৈ দে।” (ČS দুর্লভী বলি,—“শসা তুলিয়া রাখিয়াছি। কোণে ডালায় আছে, গিয়া লও।” আমি ঘরের বাম কোণে বসিয়াছিলাম ধর্তেসীমার ভয় হইল। কোণের দিকে আরও ঘোঁসিয়া বসিলাম । রসকের মা ঘরের ভিতর কোণের কাছে অন্ধকারে হাতড়াইতে লাগিল । সহসা বানাৎ করিয়া কি একটা শব্দ । সে চীৎকাৱা করিয়া উঠিল, বাম হােত আমার দিকে বাড়াইয়া দিল। আমার গায়ে তাহার হাত ঠেকিয়া গেল। সে চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল, ঘরের ভিতর একটা ভূত বসিয়া আছে। সে আমার হাতে কামড় মারিয়াছে। আমার আঙ্গুলগুলো চিবাইতেছে। এখন আমার সর্বশরীর খাইয়া ফেলিবে । পরে শুনিলাম, ঘরে যে দুর্লভীর করাতে ইদুরকল পাতিয়া রাখিয়াছিল, রসূকের মায়ের হাত তাহাতে পড়িয়া গিয়াছিল। কি হইয়াছে, কি হইয়াছে বলিয়া দুর্লভী দৌড়িয়া আসিল । দ্বারের নিকট তাহাকে ঠেলিয়া আমি ঘর হইতে বাহির হইয়া পড়িলাম। তখন দুর্লভী আমাকে দেখিতে পাইল। কিন্তু চিনিতে পারিল না। সে চীৎকার করিয়া বলিল,— “ভূত নহে ভূত নহে, এ সেই নেঙটা গোরা; এতক্ষণ নেঙটা গোরা আমার ঘরের ভিতর বসিয়াছিল।” তাহার চীৎকার শুনিয়া চারিদিক হইতে লোক ছুটিয়া আসিতে লাগিল। আমি আর বাটী পলাইতে অবসর পাইলাম না। কিছু আগে পথের বামদিকে বিন্দু ব্ৰাহ্মণীর ঘর। বিন্দু ব্ৰাহ্মণী তখন গোয়ালে বসিয়া ঘুটে ধরাইয়া ধোঁয়া করিতেছিল। তাহার সেই একখানি মেটে ঘরের দ্বার খোলা ছিল। তাড়াতাড়ি আমি সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলাম। ঘরের ভিতর মিটমিট করিয়া এক কেরোসিনের ডিবে জুলিতেছিল। বিন্দু ব্ৰাহ্মণীর কেহ। নাই। একলা সে সেই ঘরে বাস করে। তাহার অনেকগুলি নারিকেল, আম, কঁঠাল ও আতা

            • দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ ኩrG “ስ গাছ আছে। তাহার ফল বেচিয়া সে দিনপাত করে।

আমি দেখিলাম যে, ঘরের এককোণে অনেকগুলি নারিকেল স্তুপাকার হইয়া আছে। তাহার পার্শ্বে পােচ বোরা বা গুণের থলি নারিকেল পূর্ণ করিয়া তাঁহাদের মুখ বন্ধ করিয়া বিন্দু সারি সারি উচ্চভাবে বসাইয়া রাখিয়াছে। ইতিমধ্যে বাহিরে গোল পড়িয়া গেল। সকলে বলিল, নেঙটা গোরা এইদিকে আসিয়াছে। এস, বিন্দুর ঘরের ভিতর দেখি। হয় তো এই ঘরের ভিতর সে বসিয়া আছে। আমি তখন মা। দুৰ্গাকে ডাকিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম যে,- “মা! নষ্টচন্দ্ৰ দেখিলে লোককে কি এত সাজা দিতে হয়? প্রতি বৎসর আমি তোমার পূজা করি, এ বিপদ হইতে তুমি আমাকে রক্ষা কর।” তোমাদিগকে আমি বার বার বলিয়াছি যে, আমার উপর মায়ের অপাের কৃপা। মা তৎক্ষণাৎ আমার মনে বুদ্ধি দিলেন। নিকটে একটি খালি বোরা পড়িয়াছিল। সেই বোরার মুখে আমি আমার মাথা গলাইয়া দিলাম, তাহার পর টানিয়া আমার সর্ব শরীর পা পর্যন্ত তাহা দিয়া ঢাকিয়া ফেলিলাম। অবশেষে নারিকেলপূর্ণ থলির ন্যায় অপর পাঁচটি বােরার পার্শ্বে আমিও বসিয়া রহিলাম। তিন চারিজন গ্রামবাসী ঘরের ভিতর প্রবেশ করিল। এদিকে-ওদিকে চাহিয়া দেখিলে যে, নেঙটা গোরা ঘরের ভিতর নাই। কেবল ছয়টি নারিকেলপূর্ণ থলির সারি সারি বসিয়া আছে। ঘরের ভিতর নেঙটা গোরাকে দেখিতে না পাইয়া সকলের ভয় হইল। একজন বলিল,- “তাহাকে এই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিতে আমি নিশ্চয় দেখিয়াছি। তবে এখন কোথায় গেল? এ নেঙটা গোরা নহে; এই বর্ষাকালে জল-কাদায় নেঙটা কোথা হইতে আসিবে? তাহার পর নেঙটা গোরা এত মিশমিশে কালো হয় না । এ গোরা নহে, এ নেঙটা ভুত।” མཚན་གཞས་ s বলাই চিন্তির বিবরণ ভূতের কথা শুনিয়া সকলে ভয়ে আপন আপন গৃহে চলিয়া গেল। বিন্দু আপনার দাওয়াতে মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল। সে বলিল যে, কি কপাল করিয়া যে পৃথিবীতে আসিয়াছিলাম, তাহা বলিতে পারি না। আজ রাত্ৰিতে ভূতে আমাকে খাইয়া ফেলিবে। যাহা হউক, এমন সময় একখানি গরুর গাড়ী লইয়া বলাই চিন্তি বিন্দুর গৃহে আসিয়া উপস্থিত হইল। বলাই জাতিতে সদূগোপ। আমাদের গ্রাম হইতে আধিক্রোশ মাঠ পারে আমডাঙ্গায় তাহার বাস। বিন্দুর ফলপাকড় সে হাটে বিক্রয় করে। বলাই বলিল,- “মা ঠাকুরাণি! গাড়ী লইয়া আমি নিশ্চিন্তপুরে গিয়াছিলাম। বাড়ী ফিরিয়া যাইতেছি। নারিকেল দিবে বলিয়াছিলে, কই দাও। আজ আমার বাড়ীতে রাখিয়া দিব। কাল ভোরে হাটে লইয়া যাইব ।” বিন্দু বলিল,- “ঘরের ভিতর বোরা করিয়া আমি একশত নারিকেল রাখিয়াছি। আজ তাহা লইয়া যাও। বাকী পরে দিব।” ○ ኩr(አbr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~) www.amarboi.comশ্মির্ত্যািক্যনাথ ******** আমি সম্মুখেই বসিয়াছিলাম। আমার থলিটি সে প্রথম তুলিয়া লইল। পা দুইটি আমি থলির ভিতর গুটািইয়া লইলাম। সব বুনো’, এবার বেঁটা দেখে, এই কথা বলিয়া সে আমাকে গাড়ীর সম্মুখভাগে বসাইয়া দিল। তাহার পর আর পাঁচটি নারিকেলের খলি আনিয়া আমার পশ্চাতে উচ্চভাবেই বসাইয়া দিল । নারিকেল লইয়া বলাই গাড়ী হাঁকাইয়া দিল। বাড়ী যাইতেছে, সেজন্য গরু দ্রুতবেগে চলিতে লাগিল। গ্রাম পার হইয়া মাঠে গিয়া উপস্থিত হইল। গাড়ীর ভিতর বসিয়া থলির ভিতর যে স্থানে আমার চক্ষু দুইটি ছিল, সেই দুইটি স্থানে আঙ্গুল দিয়া আমি অল্প ফাক করিয়া লইলাম। তাহার পর থলির ভিতর হইতে আমি আমার হাত দুইটি বাহির করিতে চেষ্টা করিলাম। এমন সময় আমার মাথা দিয়া বলাইয়ের পিঠে টু লাগিয়া গেল। বলাই আপনাআপনি বলিল,- “সম্মুখে থলিটা নড়িতেছে। এখনি পড়িয়া যাইবে। ভাল করিয়া রাখি।” এই কথা বলিয়া সে গাড়ী থামাইল ও বাম পার্শ্বে নামিয়া পড়িল। সেই অবসরে আমিও দক্ষিণ পাশ দিয়া নামিয়া পড়িলাম। বলাই ভাবিল যে, থলিটা পড়িয়া গেল। গরুর সম্মুখ দিয়া ঘুরিয়া সে আমাকে তুলিতে আসিল। তাহার পর সে যাহা দেখিল, তাহাতে তাহার আত্মা-পুরুষ শুকাইয় গেল। নিশ্চয় সে মনে মনে ভাবিয়ছিল যে, এতকাল নারিকেল বেচিতেছি, নারিকেলপূৰ্ণ বোরার ভিতর হইতে কালো কালো দুইটা পা বাহির হইতে কখনও দেখি নাই। সেই কালো কালো পা দুইটা দিয়া নারিকেলের বোরা যে ছুটিয়া পলায়, তাহাও কখনও দেখি নাই। কিছুকাল সে সেই পা-ওয়ালা বোরার দিকে অবাক চাহিয়া রহিল। তাহার পর “বাপু” এইরূপ শব্দ করিয়ু মাঠের মাঝখানে গাড়ী ফেলিযু থ দিয়া ক্ষেত্রের আলি দিয়া পুনরায় অষ্টাির ভয়ে সোজাপথ দিয়া আসিতে সাহস করে নাই, তখন তাহা আমি জানিতাম নাkঠছে সে আসিয়া আমাকে ধরে, সেজন্য শরীর হইতে বােৱা খুলিবার নিমিত্ত আমি ভুর্কুড় ম না। গুণে আবদ্ধ শরীরেই যথাসাধ্য গুণের ঈষৎ ফাক দিয়া দেখিলাম যে, তাহার দোকান খোলা রহিয়াছে, দোকানে আলো জুলিতেছে। অনেকগুলি লোকের কথাবাৰ্ত্তা আমার কানে প্ৰবেশ করিল। দেখিলাম যে, দোকানের সম্মুখে একখানি খালি পাল্কি রহিয়াছে। এমন সময় একজন মানুষের সহিত আমার ধাক্কা লাগিল। সেও পড়িয়া গেল, আমিও পড়িয়া যাইলাম। তাড়াতাড়ি আমি উঠিয়া দাঁড়াইলাম। সেও উঠিয়া পাছে চীৎকার করে, সেজন্য পথের দক্ষিণ পার্শ্বে একটা বনে গিয়া আমি প্রবেশ করিলাম। বন দিয়া আরও কিছুদূর গিয়া মেনী গোয়ালা-চুড়ীর ঘরের পার্শ্বে গিয়া উপস্থিত হই। শরীর হইতে গুণটা খুলিয়া কোমরে জড়াইলাম। গুণ হইতে একটু সূতা বাহির করিয়া কোমরে বঁধিলাম। এখনও আমার মাথায় সেই সাহেবী টুপি ছিল। তাহার পর হী করিয়া দাঁড়াইয়া চারিদিক আমি দেখিতে লাগিলাম। টুপিট এখন আমি ফেলিয়া দিলাম। তাহার পর দেখিলাম যে, নেকের দোকানের সম্মুখে সে পাব্ধি নাই। কিন্তু সে স্থানে অনেকগুলি লোক একত্র হইয়াছে। তাহারা সকলেই বলাই চিন্তির বিবরণ শুনিতেছে। বলাই বলিতেছে, - “বিন্দু ঠাকুরাণীর নারিকেলের বোরার ভিতর ভূত ছিল। ভূত লইয়া আমি গাড়ীতে করিয়াছিলাম। মাঠের মাঝখানে সে আমার গাড় ভাঙ্গিয়া রক্ত খাইবার উপক্রম করিয়াছিল। অতি কষ্টে আমার প্রাণরক্ষা হইয়াছিল।”

    • ifrits six g3 8.8l www.amarboicom a brò এমন সময় কেষ্টা ছোড়া সেই স্থানে আসিয়া সকলকে জিজ্ঞাসা করিল,- “আমার ঠাকুরমা কোথায়? অনেকক্ষণ হইল তেল লইতে আমার ঠাকুরমা দোকানে আসিয়াছিলেন। আমার ঠাকুরমা কোথায়?”

কিছুদিন পূৰ্ব্বে কেষ্টা আমার বাগানে বাতাবি লেবু চুরি করিয়াছিল। সেজন্য তাহাকে পুলিশে দিতে আমি উদ্যত হইয়াছিলাম। অনেক মিনতি করিলে তাহাকে ছাড়িয়া দিয়াছিলাম। কিন্তু বলিয়া দিয়াছিলাম যে, পুনরায় যদি সে আমার কোন বস্তু চুরি করে, অথবা আমাকে ক্ষেপায়, তাহা হইলে তাহার নামে আমি নালিশ করিব। আজ আমার কাপড় লইয়া সে কোথায় ফেলিয়া দিয়াছিল। পাছে আমি নালিশ করি, সেই ভয়ে সে কাহারও নিকট আমার নাম করে নাই। “ঐ পুকুরে কে মাছ ধরিতেছে।” দুর্লভীকে কেবল এই কথা বলিয়া সে সরিয়া পড়িয়াছিল। এখন কেষ্টার ঠাকুরমা কোথায় গেল? কেষ্টার বাপ ও প্রতিবেশিগণ লণ্ঠন লইয়া চারিদিকে অনুসন্ধান করিতে লাগিল, ক্ৰমে হৈ হৈ পড়িয়া গেল। সকলে বলিল যে, নেঙটা ভূত কেষ্টা ঠাকুরমাকে লইয়া গিয়াছে। গোল শুনিয়া মেনী গোয়ালা-চুড়ী ঘর হইতে বাহির হইল। মেনীর বয়স দশ বৎসর। ছয় বৎসর বয়স্ক একটি ভাই ব্যতীত সংসারে তাঁহার আর কেহ নাই। কয় বৎসর হইল, তাহাদের বাপ ও মা মরিয়া গিয়াছে। তাহাদের মাসী কলিকাতায় এক বাবুর বাড়ীতে চাকরাণী ছিল। মাসী ইহাদিগকে টাকা দিত। মাসীও এখন মরিয়া গিয়াছে। (২ মেনীর ছয় বৎসর বয়স্ক ভাইয়ের নাম ভিলে । ভিলের হাত ধরিয়া মেনী ঘর হইতে বাহির হইল। পথের ধারে গিয়া দাঁড়াইল। আমি যে বনের ভিতর বসিয়াছিলাম, কেষ্টার ঠাকুরমাকে অনুসন্ধান করিতে পাছে লোকে সেই স্থানে আসে, সেই ভয়ে মেনীর ঘর খালি পাইয়া আমি তাহার ভিতর প্ৰবেশ করিলাম। মনে করিলাম যে, গোলটা একটু মিটিলে মেনী ও তাহার ভাই নিদ্রিত হইলে আস্তে আস্তে আমি ঘরে ফিরিয়া যাইব; গুণ পরিয়া বাহির হইলে লোকে আমাকে সন্দেহ করিবে। ভিলের হাত ধরিয়া মেনী পথের ধারে গিয়া দাঁড়াইল। সুগন্ধী গোয়ালিনী ও অন্যান্য লোক পথ দিয়া যাইতেছিল। মেনী জিজ্ঞাসা করিল,— “গান্ধী মাসিা কি হইয়াছে? চারিদিকে এত গোল কেন?” সুগন্ধী উত্তর করিল,— “আর বাছা, বলিব কি, সৰ্ব্বনাশ হইয়াছে! কোথা হইতে একটা নেঙটা গোরা ভূত আসিয়াছে। বলাই চিন্তিকে খাইতে গিয়াছিল। তাঁহাকে খাইতে না পাইয়া কেষ্টার ঠাকুরমাকে লইয়া গিয়াছে। কিন্তু আমি বলি যে, সে কেষ্টার ঠাকুরমাকে খাইবে না। সেটা গোরা ভূত, কেষ্টার ঠাকুরমাকে মেম করিবে, সেই জন্য তাঁহাকে লইয়া গিয়াছে।” ভূতের নাম শুনিয়া মেনী তাড়াতাড়ি ভাইকে লইয়া ঘরে আসিল ও ঘরের দ্বার বন্ধ করিয়া দুইজনে শয়ন করিল। আমি ঘরের এক কোণে বসিয়া রহিলাম। ভিলে বলিল,- “দিদি রায়েদের বাড়ী হইতে আর ভাত আন না কেন? কাল কেবল ክrN9O দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্যািক্যনাথ রচনাসংখ্যাই একটা তাল খাইয়া আমরা ছিলাম। আমাকে সমস্ত দিয়াছিলে, তুমি কেবল একটুখানি খাইয়াছিলে। আজ আমরা কিছুই খাই নাই। রায়েদের বাড়ী হইতে কবে ভাত আনিবে?” মেনী কেনারাম রায়ের শিশুপুত্রকে লাইত, তাহারা দুইবেলা দুইটি ভাত দিতেন। বাড়ীতে আনিয়া সেই ভাত ভাই-ভগিনীতে ভাগ করিয়া খাইত। আজ দুইদিন হইল রায়ের শিশুপুত্ৰ এক সো-পোকা ধরিয়াছিল, মেনী তাহা দেখে নাই, সেজন্য মেনীকে তাহারা ছাড়াইয়া দিয়াছেন। মেনী উত্তর করিল,- “রায়েদের খোকা সেঁ-পোকা ধরিয়াছিল। সেজন্য তাহারা আর আমাকে ভগত দিবেন না।” ভিলে বলিল,- “তবে দিদি, আমাদের কি হবে? ভাত কোথা হইতে আসিবে? ক্ষুধায় আমার পেট জুলিয়া যাইতেছে।” মেনী উত্তর করিল,- “দেখ ভিলু! পাড়ার লোকের নিকট হইতে কাল তোমাকে দুইটি ভাত আনিয়া দিতে পারি। কিন্তু চাউলের দাম বাড়িয়াছে, রোজ রোজ লোকে দিবে। কেন? আমাদের দশা কি হইবে, তাহাই ভাবিতেছি!” ভিলে বলিল,— “তবে দিদি কি হবে, ভাত না খাইয়া আর আমি থাকিতে পারি না। আজ সমস্ত দিন কিছু খাই নাই, আমার বড় ক্ষুধা পাইয়াছে। ক্ষুধায় আমার পেট জুলিয়া यांदेडgछ ।” মেনী বলিল,- “আর বৎসর ভাড়দের বাড়ী দুৰ্গঠিাকুর দেখিয়াছিলে! সেই দশ হাত আর কত রাঙতা? ভড়েরা তোমাকে মুড়কি ও নারিকেল দিয়াছিল? পূজা হইয়া গেলে বোসেন্দের গঙ্গার ভিতর আছেন । কাল যদি ভাত দিতে না পারি, তাহা হইলে আমরা দুইজনে বোসেন্দের গঙ্গায় যাইব । &কালে লইয়া আমি জলে ঝাঁপ দিব; জলের ভিতর মা দুৰ্গা আছে; তাহার কাছে । তিনি আমাদিগকে অনেক ভাত দিবেন, আমাদের সকল দুঃখ ঘুচাইবেন।” ঘরের কোণে বসিয়া ভাই-ভ পকথন আমি শুনিতেছিলাম। অল্পক্ষিণ পরে দুইজনে ঘুমাইয়া পড়িল। ধীরে ধীরে ঘর হইতে বাহির হইয়া আমি গৃহে প্রত্যাগমন করিলাম। রাত্রি তখন কেবল নয়টা হইয়াছিল, আমার বাড়ীর দ্বার বন্ধ হয় নাই। চুপি চুপি ঘরের ভিতর গিয়া গুণ ফেলিয়া কাপড় পরিলাম। তাহার পর এলোকেশীর মুখে শুনিলাম যে, কেষ্টার ঠাকুরমাকে লোকে তখনও খুঁজিয়া পায় নাই। পঞ্চম পরিচ্ছেদ মেনী গোয়ালা-স্টুড়ির ঘর ঠিক আমার বাগানের পাশে। ঐ স্থানটিতে আমার বাগানে একটি খোচ হইয়া আছে। মেনী ও তাহার ভাই মরিয়া গেলে এ ভূমিটুকু আমি লাইব। তাহা হইলে আমার বাগানের খোচটি ঘুচিয়া যাইবে। তাহারা সত্য সত্যই বোসেন্দের গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়া মরিবে কি না, তাহা জানিবার নিমিত্ত পরদিন প্ৰাতঃকালে বেলা দশটার সময় আমি ঘর হইতে চক্ষণ-চর্কিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ brey বাহির হইলাম। পথে দেখিলাম যে, কেষ্টাদের বাড়ীতে হু-হু করিয়া একখানা পান্ধী আসিয়া লাগিল, পান্ধীর ভিতর হইতে কেষ্টার ঠাকুরমা বুড়ী বাহির হইল; তাহার পর লাঠি ধরিয়া ঠিক ঠিক করিয়া গৃহে প্ৰবেশ করিল। বুড়ী কোথায় গিয়াছিল ও কোথা হইতে আসিল, তাহা জানিবার নিমিত্ত আমি সে স্থানে যাইলাম। শুনিলাম যে, গোবৰ্দ্ধনপুর হইতে একজনের বীে লইয়া একখানা পান্ধী নিশ্চিন্তপুরে গিয়াছিল। বীে রাখিয়া খালি পান্ধী সন্ধ্যার পর ফিরিয়া যাইতেছিল। নেকের দোকানে পাস্ত্রী রাখিয়া বেহারগণ তামাক খাইতেছিল। সেই সময় কেষ্টার ঠাকুরমা তেল লইতে দোকানে আসিতেছিল। বোরার ভিতর থাকিয়া যে নেঙটা ভূতটা বলাই চিন্তিকে খাইতে গিয়াছিল, সেই ভূতটা আসিয়া কেষ্টার ঠাকুরমাকে ধাক্কা মারিয়া ফেলিয়া দিল। কিন্তু দোকানে অনেক লোক দেখিয়া কেষ্টার ঠাকুরমাকে লইয়া যাইতে পারিল না। তৎক্ষণাৎ সে বাতাসে মিশিয়া গেল। কেষ্টার ঠাকুরমা উঠিয়া ঘোরতর ভয়বিহ্বল হইয়া, সম্মুখে একখানা পান্ধী ও তাহার দ্বার খোলা দেখিয়া তাহার ভিতর প্রবেশ করিল। তাহার পর দ্বার বন্ধ করিয়া পান্ধীর ভিতর সে অজ্ঞান হইয়া পড়িল। বেহারীগণ তাহা জানিতে পারে নাই। বলাই চিন্তির নিকট ভূতের গল্প শুনিয়া তাড়াতাড়ি পান্ধী তুলিয়া তাহারা চলিয়া গেল। রাত্রি দুই প্ৰহরের সময় তাহারা গোবৰ্দ্ধনপুর পৌছিল। সেই স্থানে গিয়া পান্ধীর ভিতর বুড়ীকে দেখিতে পাইল। কিন্তু ভূতের ভয়ে সে রাত্ৰিতে বুড়ীকে ফিরিয়া আনিতে পারিল না। কারণ, এ সামান্য ভূত নহে, এ নেঙটা গোরা ভূত! আজি প্ৰাতঃকালে বুড়ীকে বাড়ী ফিরিয়া আনিল ॥২অামি ভাবিলাম যে, সামান্য একটা ဇီးဇိုးနှီးနှီးချုံ့၊ ಇಬ್ಬ್ಜ್ಗ রা শিশি-বোতল ক্রয় করে, সেইরূপ একটা লোক সে স্থানে বসিয়া আছে। র হইতে একটা বোতল ও একটা শিশি আনিয়া মেনী তাহাকে দেখাইতেছে। তর ছোট একখণ্ড কাচের ন্যায় কি ছিল । ভিলে তাহা বাহির করিয়া খেলা করিতে আমি দেখিলাম যে, সেই ক্ষুদ্র কাচটাতে পল কাটা আছে, আর সেই পল হইতে নানা বর্ণের আভা বাহির হইতেছে। আমি ভাবিলাম যে, এরূপ কাচ ইহাদের ঘরে কোথা হইতে আসিল, যে স্থান হইতে আসুক, এ সামান্য কাচ নহে। বোতল ও শিশির লোকটা মেনীকে চারিটি পয়সা দিল । ভিলের ভিতর হইতে আমি কাচখণ্ড চাহিলাম। ভিলে দিতে সম্মত হইল না। দুই পয়সা দিয়া তাহা আমি কিনিতে চাহিলাম। তখন মেনী বলিল,—“দাও, দাদা, দাও। কাঁচটুকু লইয়া তুমি কি করিবে? ডমরুবাবু দুই পয়সা দিলে আমাদের ছয় পয়সা হইবে । ছয় পয়সার চাউল কিনিলে দুইদিন তোমাকে পেট ভরিয়া ভাত দিতে পারিব।” ভিলে বলিল,— “বড় ক্ষুধা পাইয়াছে। আমি কলাপাত কাটিয়া আনি?” মেনী বলিল,- “না ভাই, এখন নয়। রও, আগে নেকের দোকান হইতে চাউল কিনিয়া আনি, ভাত রাধি, তখন কলাপাত কাটিয়া আনিও।” শিশিী-বোতল লইয়া লোকটা চলিয়া গেল। কাচখণ্ড লইয়া আমিও বাটী আসিলাম! মনে করিলাম, কখনই কাচ নহে। এবার কলিকাতা গিয়া কোন জহুরীকে দেখাইব। কিন্তু সেই বৈকালবেলা আমি বিষম গোলযোগে পড়িলাম। কলিকাতা হইতে একটি লোক আসিয়াছিল। সে কেষ্টার বাপ, গ্রামের চৌকিদার, শিশি-বোতল ক্ৰেতা; মেনী, ভিলে ও অন্যান্য গ্রামবাসীকে সঙ্গে করিয়া আমার বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল। কলিকাতার সেই লোকটা ኮr\ኃS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসংখই বলিল,- “আমি যোগেশবাবুর সরকার। আমার বাবুর বাড়ীতে এই বালিকার মাসী চাকরাণী ছিল। যোগেশবাবুর স্ত্রী ঘোরতর পীড়িত হইয়াছেন। ইহার মাসী তাঁহার অনেক সেবা করিয়াছিল। যোগেশবাবুর স্ত্রীর কানে দুইটি হীরার টপ ছিল। কিছুদিন পূৰ্ব্বে একটি টপ হারাইয়া গিয়াছিল। ভালরূপ জোড়া মিলাইতে না পারিয়া অপর টপটি তাহার বাক্সতে তিনি ফেলিয়া রাখিয়াছিলেন। পুরস্কারস্বরূপ ইহার মাসীকে তিনি সেই টপটি দিয়াছিলেন। তাহার সোনাটুকু ইহার মাসী বােধ হয় বেচিয়া ফেলিয়াছিল। কাচ মনে করিয়া হীরকখণ্ড শিশির ভিতর ফেলিয়া রাখিয়াছিল। তাহার মূল্য চারিশত টাকা। আপনি দুই পয়সায় তাহা ফাঁকি দিয়া লইয়াছেন। যে টপটি হারাইয়া গিয়াছিল, এক্ষণে তাহা মিলিয়াছে। সেজন্য জোড়া মিলাইবার নিমিত্ত এই বালিকা ও তাহার ভ্রাতাকে চারিশত দিয়া হীরকখণ্ড লইতে বাবু আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন। হীরকখণ্ড আপনি আমাকে প্ৰদান করুন।” পয়সা দিয়া কিনিয়াছি, কেন আমি দিব, এইরূপ বলিয়া প্ৰথম আমি দিতে সম্মত হই নাই। কিন্তু পরে বুঝিলাম যে, যোগেশবাবু আমাকে সহজে ছাড়িবেন না। চিরকাল মামলা-মোকদ্দমা করিয়া আসিতেছি। মামলা-মোকদ্দমা আমি বিলক্ষণ জানি। আমি বুঝিলাম যে, মোকদ্দমা হইলে হীরা আমি রাখিতে পারিব না, চাই কি আমার সাজা হইলেও হইতে পারে। ফলকথা, হীরা আমাকে ফিরিয়া দিতে হইল। যোগেশবাবু হীরার মূল্য চারিশত টাকা মেনী ও ভিলের নামে এক স্থানে জমা রাখিয়াছেন। এক্ষণে প্রতি মাসে তিনি তাহাদিগকে পাঁচ টাকা করিয়া দিতেছেন। হীরকও গেল, বাগানের খোঁচটিও ভাঙ্গিল না। ঘোরতর দুঃখ হইল। মা দুৰ্গাকে ভৎসনা করিয়া আমি বলিতে লাগিলাম,- “ আমার এরূপ হরিষে বিষাদ করিলে? চারি শত টাকা আমার হাতে দিয়া কেন য়া লইলে? এবার হইতে আর মা, তোমার আমি পূজা করিব না।” পূজা করিব না শুনিয়া মা দুর্গার হয় রাগ হইল। আমাকে আক্রমণ করিবার নিমিত্ত Տ । কম্প দিয়া আমার জ্বর আসিল। একদিন গেল, দুই দিন গেল, জুর ক্রমেই বাড়িতে লাগিল। তিন দিনে আমি বেচু ভূঞাঁকে ডাকিতে পাঠাইলাম। বেচু জাতিতে কৈবৰ্ত্ত। প্রথম সে চাষ করিত, এখন কবিরাজ হইয়াছে। চারি-পাঁচখানা গ্রামে বেচুর বিলক্ষণ পসার হইয়াছে। আমার হাত দেখিয়া বেচু শ্লোক পড়িয়া বলিল,— “কম্প দিয়া জুর আসে কম্প দেয় নাড়ী। ধর ফাঁড় করে রোগী যায় যম-বাড়ী৷ ইহাকে বিষ-বড়ি দিতে হইবে।” এলোকেশী নিকটে ছিলেন। তিনি বলিলেন,- “সে কি তিন দিনের জুরে বিষ-বড়িী?” বেচু বলিল,— “এ সীমান্য বিষ-বড়ি নয়। এ নূতন ঔষধ সম্প্রতি আমি নিজে মনগড়া করিয়া প্ৰস্তুত করিয়াছি। ইহাতে কোন দোষ নাই। ইহার গুণ অনেক। এই দেখ, আমি নিজে আস্ত দুইটা খাইয়া ফেলি।” এই কথা বলিয়া বেচু নিজে দুইটা বড়ি গিলিয়া ফেলিল। তাহার পর মধুর সহিত খালে মাড়িয়া আমাকে কটা বড়ি খাইতে দিল । বেচু চলিয়া গেল। তিন ঘণ্টা পরে তাহার ঔষধের গুণ প্রকাশিত হইল। আমার চক্ষু দুইটি লাল হইয়া উঠিল। বুক ধড়ফড় করিতে লাগিল। শরীর অবসন্ন হইয়া আসিল। প্ৰাণ যায়। আর

    • ifrits six g3 8.8l www.amarboicom a ᏓrᏔᏌᏬ কি! এলোকেশীর মেজাজটা কড়া বটে, কিন্তু শরীরে অনেক গুণ আছে। মাটিতে পড়িয়া তিনি কাদিতে লাগিলেন ।

ডমরুধারের বন্ধু আধাকড়ি বলিলেন,— “হা, সেই সময় আমি তোমার বাড়ীতে আসিয়াছিলাম। তোমার সেই অবস্থা দেখিয়া তাড়াতাড়ি আমি বেচু ভূঞাকে ডাকিতে যাইলাম। বেচু ঘরে ছিল না। খুঁজিতে খুজিতে দেখিলাম যে, সে এক পানা-পুকুরের জলে গা ডুবাইয়া বসিয়া আছে। তাহার চক্ষু দুইটি জবাফুলের ন্যায় হইয়াছে। পানা-পুকুরের পচা পাক তুলিয়া মাথায় দিতেছে। আমি বলিলাম,— ‘বেচু! করিয়াছ কি? ডমরুধারকে তুমি কি ঔষধ দিয়ােছ? তোমার ঔষধ খাইয়া ডমরুধর মারা পড়িতে বসিয়াছে।” মাথায় কাদা দিতে দিতে বাজাখাই স্বরে বেচু উত্তর করিল,—‘বড়ি খাইয়া আমিই বা কোন ভাল আছি।” আমি বুঝিলাম যে, সে অবস্থায় তাহাকে আর কোন কথা বলা বৃথা । পুনরায় তােমার বাটীতে আসিয়া মাথায় অনেক জল দিয়া সে যাত্ৰা তোমার প্রাণ আমরা রক্ষা করিলাম।” ডমরুধর বলিলেন, — বেচুর ঔষধ হইতে প্রাণ রক্ষা হইবে বটে, কিন্তু জুর আমার গেল না। পীড়া কঠিন হইয়া উঠিল। তোমরা সকলেই আমাকে দেখিতে আসিতে। তোমরা সকলেই মনে করিয়াছিলে যে, সে যাত্ৰা আমি আর রক্ষা পাইব না। একদিন রাঘব ও নকুল ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন। বিছানার দুইপার্শ্বে দুইজনে বসিয়া আমাকে অনেক আশ্বাস ও ভরসা দিতে লাগিলেন । রাঘব বলিলেন, — “দেখুন ভট্টাচাৰ্য মহাশয়, অঙ্গদ শরীরটি ঠিক ডমরুধারের মত ছিল। এইরূপ কাটি আপনি জানিতেন? তাহার চর্বি একটুও ছিল না। তাহার পীড়াটিও রূপ হইয়াছিল। চিতার উপর তাহাকে শোয়াইয়া যখন আমরা আগুন দিলাম, ত আগুনের তাতে তাহার শরীরটি শটুকে উঠিল। ধনুকের মত হইয়া তাহার র উপর উঠিয়া পড়িল। কাঠ সব পুড়িয়া গেল। কিন্তু অঙ্গ পুড়িল না। তাহাকে আমরা জলে ফেলিয়া । কিন্তু আমরা স্নান করিয়া উঠিতে-না-উঠিতে, পাঁচছয়টা কুকুর ও শৃগাল আসিয়া জলে ঝাপঝাঁপি করিয়া তাহাকে খাইয়া ফেলিল। ডমরুবাবু, তোমার শরীরটিও ঠিক সেইরূপ। কিন্তু তোমার ভয় নাই। আমরা অধিক কাঠ দিয়া দেখিব। তবে নিতান্তই যদি তুমি পুড়িয়া না যাও, তাহা হইলে কাজেই তোমাকে আধাপোড়া করিয়া ফেলিয়া দিতে হইবে।” নকুল ভট্টাচাৰ্য আমাকে বলিলেন, — “তোমার পুরোহিতের বাড়ী এ স্থান হইতে দুই ক্রোশ। মন্ত্র পড়াইতে রাত্রিতে যদি আমাকে ঘাটে যাইতে হয়, তাহা হইলে শ্ৰাদ্ধ আমাকে দিয়া করাইতে হইবে। নিজের পুরোহিতকে দিয়া করাইতে পরিবে না। তুমি সে কথা বাড়ীতে বলিয়া রাখ। মৃত্যু হইয়া গেলে আর কথা বলিতে পরিবে না, – মনে কর শেষের সে দিন ভয়ঙ্কর । অন্যে বাক্য কবে কিন্তু তুমি রবে নিরুত্তর।” এলোকেশী পাশের ঘরে বসিয়া এইসব কথা শুনিতেছিলেন। সহসা খেঙরাহন্তে উগ্ৰচণ্ডীর ন্যায় রণমূৰ্ত্তিতে আসিয়া সম্পু করিয়া এক ঘা নকুলের পিঠে বসাইয়া দিলেন। তাহার পর আর এক ঘা রাঘবের মাথায়। ঘর হইতে দুইজনে পলাইলেন। এলোকেশী। তাঁহাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ গিয়া আরও দুই-চারি ঘা বসাইয়া দিলেন। brዩኃ8 fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ ঈষৎ হাস্য করিয়া আমি বলিলাম,- “এলোকেশী! তুমি এখন যাহা করিলে, তাহাতে আমার অৰ্দ্ধেক রোগ ভাল হইয়া গেল। আর আমাকে কোনরূপ ঔষধ খাইতে হইবে না।” এলোকেশী সে কথা শুনিলেন না। পরদিন গোবৰ্দ্ধনপুরে তিনি ডাক্তার আনিতে পাঠাইলেন। ডাক্তার আসিয়া আমার নাড়ী দেখিলেন, জিহবা দেখিলেন, পেট টিপিয়া দেখিলেন। বুকের উপর বামহস্ত রাখিয়া দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুলির ডগা দিয়া অনেক ঠোকাঠুকি করিলেন। তাহার পর আমার বুকে চোঙ বসাইলেন। চোঙের অন্যদিকে কান দিয়া তিনি বলিলেন,- “এখানে একটা প্যাচ আছে।” এইরূপ তিন-চারিটিা প্যাচের কথা তিনি বলিলেন। প্যাচ আছে শুনিয়া আমার মনে ভরসা হইল। আমি ভাবিলাম যে, আমার যখন এতগুলি প্যাচ আছে, তখন আমি মরিব না, বহুকাল আমি বঁচিব। ডাক্তার তাহার পর পুলটিস ও ঔষধের ব্যবস্থা করিলেন। খাইবার নিমিত্ত আমাকে সাবু দিতে বলিলেন। সাবুর নাম শুনিয়া আমার সাৰ্ব্বশরীর জুলিয়া উঠিল। আমি বলিলাম,- “কি । সাবুদােনা? বিলাতী জিনিষ। তাহা আমি কখনই খাইব না। চিরকাল আমি পরম নিষ্ঠাবান হিন্দু। অখাদ্য খাইয়া আমি অধৰ্ম্ম করিতে পারিব না। ডাক্তারবাবু! আপনি বোধ হয় জানেন না যে, কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বে সন্ন্যাসী-বিভ্রাটে পড়িয়া আমার রীর যমের বাড়ী গিয়াছিল! যখন ভক্ষণ করি নাই। যম সেই কথা শুনিয়া প্ৰসন্নবদ্যুনেইর্ষ্যৈাৎফুল্ল লোচনে পুলকিত মনে বলিলেন,- “সাধু সাধু সাধু! এই মহাত্মা একাদশীর দিনগুইশাক ভক্ষণ করেন না। ইহার পদার্পণে আজ আমার যমপুরী পবিত্ৰ হইল। শীঘ্ৰ তোমরা যামনীকে শঙ্খ বাজাইতে বল। যমকন্যাগণকে পুষ্পবৃষ্টি করিতে বল। বিশ্বকৰ্ম্মকে ডাকিয়া আন। ভূঃ তুবঃ স্বঃ মহঃ জনঃতপঃ সত্যলোক পারে। ধ্রুবলোকের উপরে এই মহাত্মার জন্য মন্দাকিনী-কলকলিত, পারিজাতপরিশোভিত, কোকিলকুহরিত, ভ্রমর-গুঞ্জরিত, অন্সরা-পদ-নূপুর-কুণ্ডুনিত, হীরা-মাণিক-খচিত, নৃতন এক স্বৰ্গ নিৰ্ম্মাণ করিতে বল।” শুনিলেন ডাক্তারবাবু! খাদ্যাখাদ্যের বিচার করিলে কত ফল হয়? আমি আশ্চৰ্য হই যে, টিকিনাড়ারা এখানে-ওখানে যায় কেন, ধৰ্ম্মকথা শিখিতে আমার কাছে আসে না কেন?” আমি পুনরায় বলিলাম,- “ডাক্তারবাবু! কেন আমি তোমার ও জগদ্দল পাথর মসূনের পুলটিস চাপাইব না, তোমার ঔষধও আমি খাইব না। কেবল আমি মা দুৰ্গাকে ডাকিব, আর আমাদের কাটিগঙ্গার জল খাইব । আমাদের কাটিগঙ্গার জল মকরধ্বজের বাবা।” আমি কাহারও কথা শুনিলাম না। সেই দিন হইতে আমি কেবল কাটিগঙ্গার জল খাইতে লাগিলাম। সেই রাত্ৰিতে মা দুৰ্গা শিয়রে বসিয়া আমার মাথায় হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলেন,- “ডমরুধর! বাছা! তুমি আমার বরপুত্র। কেন তুমি বলিয়াছিলে যে, আর আমার পূজা করিবে না? সেইজন্য তোমাকে এই রোগ দিয়াছি। কিন্তু ভয় নাই, তোমাকে আমি রোগ হইতে মুক্ত করিলাম। তাহার পর আরও একটু নূতন বুদ্ধি তোমাকে আমি দিলাম। এই বুদ্ধিটুকু তুমি খেলাইবে । তাহা হইলে হীরাখণ্ড হাতছাড়া হইয়া তোমার যে ক্ষতি হইয়াছে, তাহার দশগুণ তোমার লাভ হইবে। কিন্তু বাছা, তোমার পূজায় আমি যে তৃপ্তিলাভ করি, বঙ্গদেশে কাহারও পূজায় সেরূপ তৃপ্তিলাভ করি না।” ডম্বক্ষ-চৰিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ সপ্তম পরিচ্ছেদ সেই দিন হইতে আমার রোগ দূর হইয়া গেল। জুর গেল। দিন দিন শরীরে বল পাইতে লাগিলাম। রোগের পর আমার যেন নূতন শরীর হইল। এখন মা যে নূতন বুদ্ধিটুকু আমাকে দিয়াছেন, তাহা খেলাইয়া হীরকের দাশগুণ টাকা আদায় করিতে আমি চেষ্টা করিতে লাগিলাম। একদিন বসিয়া বুদ্ধি খেলাইতেছি এমন সময় আমার মনে কোন বিষয় উদয় হইল। আমি একটু হাসিয়া ফেলিলাম। এলোকেশী জিজ্ঞাসা করিলেন, — “হাসিতেছ। কেন?” আমি বলিলাম,- “চুপ কর। বুদ্ধি পাকিয়া আসিতেছে।” খুলনা জেলায় বাঘেরহাটের নিকট নীলামে আমি এক মহল কিনিয়াছিলাম। তাহা লইয়া আজ কয়েক বৎসর ধরিয়া ত্রিশঙ্কুবাবুর সহিত মোকদ্দমা চলিতেছিল। অন্য বিষয়ে আমি টাকা খরচ করি না বটে, কিন্তু মোকদ্দমার জন্য টাকা খরচ করিতে কখনও কাতর হই না। এক একটা দলিল জল করাইতে আমি পাঁচশত টাকা ব্যয় করি । এক একজন মিথ্যা মোকদ্দমা আমি যেমন শিখাইতে পারি, এমন আর কেহ পারে না। আদালতে হলফ করিয়া আমি নিজে যখন মিথ্যা সাক্ষ্য প্ৰদান করি, তখন কোন উকীল জেরা করিয়া আমাকে ঠকাইতে পারে না। ত্রিশঙ্কুবাবু আমার সহিত পরিবেন কেন? দুটা আদালতে তিনি হারিয়া গিয়াছিলেন। মহলের এক স্থানে বনের ভিতর প্রাচীন ইটে গাথা প্রাচীর ও শানের চাতাল ছিল। সেই চাতালের কথা আমার মনে পড়িল। আমি তায় যাইলাম। কোন লোককে টাকা দিয়া একখানি তামার পাতে সেকালের বাঙ্গ ঠাষীয় অনেকগুলি কথা ক্ষোদিত করাইলাম। তাহা লইয়া ঘিটটু ধাঙ্গড়ের সহিত আমিৰ্থঘেরহাট মহলে গমন করিলাম। ঘিটটুকে সেই করিত্যুেৰ্বেলিলাম। গাছের ডালপালা দিয়া তাহার উপর সে এক সেই পথ দিয়া গমন করেন। আমি টােপ ফেলিলাম। ত্ৰিশন্ধুবাবু এখন কি করেন, তাহা দেখিবার নিমিত্ত আমি খুলনায় আসিয়া বাসা ভাড়া করিয়া বসিয়া রহিলাম। একদিন প্ৰাতঃকালে ত্রিশঙ্কুবাবু মহলের নিকট সেই পথ দিয়া যাইতেছিলেন। তিনি দেখিলেন যে, ঘিটটু ধাঙ্গড়ের বৃদ্ধ মাতা ছােট একখানি তামার পাত মাজিয়া পরিষ্কার করিতেছে। ত্রিশঙ্কুবাবু তাহাতে জিজ্ঞাসা করিলেন,— “তোর হাতে ওটা কি?” বৃদ্ধা উত্তর করিল,— “জানি না বাবু কি! উনুন করিবার নিমিত্ত চাতালের শান খুঁড়িতে খুঁড়িতে এইটা আমি পাইয়াছি।” ত্রিশঙ্কবাবু হাতে করিয়া দেখিলেন । পুরাতন বাঙ্গালা ভাষায় তাহাতে যে কথাগুলি লেখা ছিল তাহার একটু দেখিয়াই তিনি চমকিত হইলেন। একটাকা দিয়া তাহার পাতটি বৃদ্ধার নিকট হইতে তিনি কিনিয়া লইলেন। তাহার পরদিন খুলনায় বাসায় তিনি আমার নিকট আসিয়া বলিলেন, — “ডমরুধীরবাবু সামান্য ঐ মহিলটা লইয়া মিছামিছি। আর মোকদ্দমা কেন? আপনারও টাকা খরচ হইতেছে, আমারও টাকা খরচ হইতেছে। দুইশত টাকায় আপনি মহলটি কিনিয়াছেন, পাঁচশত টাকায় মহলটি আমাকে ছাড়িয়া দিন।” আমি উত্তর করিলাম,- “মহলটির জন্য আমাকে অনেক কষ্ট পাইতে হইয়াছে। আমি উহা ছাড়িব না।” . ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাস। uskla »ižo 33 a www.amarboi.comio وہ ত্রিশঙ্কুবাবু মূল্য বৃদ্ধি করিতে লাগিলেন। হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার, চারি হাজার পৰ্যন্ত উঠিলেন । তথাপি আমি সম্মত হইলাম না। চারি হাজার পর্য্যন্ত উঠিয়া তিনি বলিলেন, — “আর আমি পারি না। আর আমার ক্ষমতা নাই।” অবশেষে সাড়ে চারি হাজার টাকায় আমি তাঁহাকে মহলটি বিক্রয় করিলাম। ধাঙ্গড়দিগকে লইয়া আমি গৃহে প্ৰত্যাবৰ্ত্তন করিলাম। পরে শুনিলাম যে, ত্রিশঙ্কুবাবু প্ৰায় বিশহত গভীর করিয়া সেই চাতাল ও নিকটবৰ্ত্তী স্থান খুঁড়িয়া ফেলিয়াছিলেন। তাঁহার পরিশ্রম বৃথা হইয়াছিল। মাটির ভিতর হইতে একটি পয়সাও বাহির হয় নাই। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কেন? কি পাইবেন তিনি আশা করিয়াছিলেন?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “পুরাতন বাঙ্গালা ভাষায় সেই তাম্রফলকে লেখা ছিল— বিসমিল্লা। আমি মহম্মদ তাহির প্রথমতঃ ব্ৰাহ্মণ । এক্ষণে পীর খাঞ্জে আলি সাহেব হইয়া মুসলমান হইয়াছি। আমার পুত্ৰগণ ব্ৰাহ্মণ তাহাদের বংশধরগণের ভরণপোষণের নিমিত্ত এই চাতালের দশহাত নিয়ে আমি ভুকুলীক্ষ রৌপ্য-মুদ্র পুঁতিয়া রাখলাম। এই অর্থ জিন্দাগাজী সাহেবের আশ্রয়ে রাখিলাম। র ব্ৰাহ্মণ বংশধরগণ নিতান্ত দরিদ্র হইবে, তখন তিনি এই অর্থ তাহাদিগকে রবেন। ইতি ১৫ই জিলহি।জা ৮৬২ হিজরি ।” ঐ তাম্রাপত্র আমি লেখাইয়া । ত্রিশঙ্কুবাবুকে দেখাইবার নিমিত্ত আমি ধাঙ্গড় বুড়ীকে দিয়াছিলাম। মায়ের কৃপায় বুদ্ধি খেলাইয়া হীরার দশগুণ মূল্য আমি লাভ করিলাম। লম্বোদর বলিলেন,- “ভদ্র মাসে ভূত ভূত বলিয়া গ্রামে একটা গোল উঠিয়াছিল বটে, কিন্তু তুমি যে তার গোঁসাই, তাহা জানিতাম না।” সকলে বলিল,— “ধন্য ডমরুধর, ধন্য তুমি।” ডমরুধর বলিলেন, — “তাই তোমাদের সকলকেই আমি বলি, মা দুৰ্গাকে তোমরা ভক্তি কর । মা দুর্গাঁ তোমাদিগকে ধন দিবেন, মান দিবেন, সব দিবেন। আর হাওয়াখোর বাবুদের আমি বলি যে, মায়ের পূজা ছাড়িয়া বিদেশে তোমরা হাওয়া খাইতে যাইও না। ঘরে থাকিয়া ভক্তিভাবে মায়ের পূজা কর। যত হাওয়া চাও, মা তোমাদিগকে দিবেন। ঘরে বসিয়া স্বচ্ছন্দে পেট ভরিয়া হাওয়া খাইতে পরিবে।” sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro সপ্তম গল্প প্ৰথম পরিচ্ছেদ জিলেট মন্ত্র পূজার পঞ্চমীর দিন ডমরুধর যথারীতি বন্ধু-বান্ধবের সহিত প্রতিমার সম্মুখে বসিয়া আছেন। হাঁ করিয়া তিনি বলিলেন,- “তোমরা একবার আমার মুখের ভিতরটা ভাল করিয়া দেখ।” সকলে দেখিলেন। লম্বোদর বলিলেন,- “তোমার মুখের ভিতর কি আছে? কিছুই নাই। ফোকলা মুখ। তিমির গিরিগহবরের ন্যায়।” ডমরু উত্তর করিলেন— “তোমাদের পাপচক্ষু তৈলপেষী বলদের ঠুলি দ্বারা আবৃত। তোমরা দেখিবে কেবল অন্ধকার।” গজানন জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তবে তোমার মুখের ভিতর কি আছে?” ডমরুধর উত্তর করিলেন,- “আমার জিহ্বা ও কষ্ঠে সরস্বতী দেবী অধিষ্ঠিতা আছেন। পূৰ্ব্বে বলিয়াছি যে, আমি মা দুর্গার বরপুত্র। তাহার প্রত্নাহার সঙ্গে যে দেবতাগুলি আগমন করেন, একে একে সকলের আরাধনা করিয়া আমি ভা করিয়াছি। কাৰ্ত্তিকের বরে আমার কন্দৰ্পের ন্যায় রূপ হইয়াছে। মা সরস্বতীর ཧྭ་ཚུལ་སྤྱིའི་ এতবড় বিদ্বান হইয়াছি। মেঘনাদবধ কে লিখিয়াছে জান?” লম্বোদর উত্তর করিলেন, — "কেন?ািকল মধুসূদন দত্ত ।” ডমরুধর বলিলেন,- “হা, র তাই বিশ্বাস। কিন্তু কলিকাতায় যখন আমি চাকরী করিতাম, তখন সন্ধ্যার পর সাহেবী পোষাক পরিয়া কে আমার নিকট আসিত? দুই ঘণ্টাকাল আমি যাহা বলিতাম, কে তাহা লিখিয়া লইত? সে লোকটি অপর কেহ নয়, সে লোকটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মেঘনাদবধ কাব্য আগাগোড়া আমার দ্বারা রচিত। কিন্তু মাইকেল আমাকে অধিক টাকা দিতে পারিতেন না। টাকা দিতেন। বঙ্কিম। কোনদিন পাঁচ, কোনদিন দশ। যেদিন ‘দুৰ্গেশনন্দিনী’ শেষ করিয়া তাঁহার হাতে দিলাম, সেদিন তিনি আমাকে একেবারে একশত টাকা দিয়াছিলেন। অন্যান্য পুস্তকের জন্যও তিনি আমাকে অনেক টাকা দিয়াছিলেন। মাইকেল ও বঙ্কিম অনেক কাকুতি-মিনতি করিয়া আমাকে বলিয়াছিলেন যে,- “মহাশয়। আপনি যে আমাদের পুস্তক লিখিয়া দিয়াছেন, আমরা বঁচিয়া থাকিতে সে কথা প্ৰকাশ করিবেন। না।” সেইজন্য এতদিন চুপ করিয়াছিলাম। আর দেখ, এখন যত বড় বড় গ্রন্থকার জীবিত আছেন, অন্ততঃ সাধারণে যাহাদিগকে গ্রন্থকার বলিয়া জানে, তাঁহাদের সমুদয় পুস্তকের প্রণেতা এই শৰ্ম্ম । হাসি পায়। নাম করিব না। নাম করিলে, তাঁহাদের মান-সন্ত্রম একেবারে যাইবে। অনেক অনুনয়-বিনয় করিয়া নাম করিতে তাঁহারা আমাকে মানা করিয়াছেন। সেইজন্য চুপ করিয়া আছি। কিন্তু তাঁহারা যে গ্রন্থকার বলিয়া লোকের নিকট পরিচয় দেন, তাই আমার হাসি পায় ।” ኪrሏebr �0:57] <!୬୩tor' :୪rti>{ଝଞ୧ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro এই দেখ, আজকাল হােমরুল বলিয়া একটা হুজুগ পড়িয়াছে! সেই সম্বন্ধে বক্তৃতা করিতেছেন। ইহা অপেক্ষা আমি শতগুণ বক্তৃতা করিতে পারি। আমার বক্তৃতা লোকে নানারূপ মুখভঙ্গী করিয়া অবাক হইয়া শ্রবণ করে। আমার প্রতি মা সরস্বতীর সামান্য কৃপা নহে। সে বৎসর কাৰ্ত্তিকের ময়ুরে চড়িয়া আমি যখন আকাশভ্রমণে গিয়াছিলাম, তখন মায়ের কৃপায় আমার মুখ দিয়া মহামন্ত্র বাহির হইয়াছিল। এ তোমার হিড়িং বিড়িং মন্ত্র নহে। জিলেট মন্ত্র। আসল বীজমন্ত্র। এ মন্ত্রের যে কি অদ্ভুত শক্তি, এতদিন তাহা আমি জানিতাম না? এইবার জানিতে পারিয়াছি। এই মন্ত্রের প্রভাবে আমি শুক্লাম্বর ঢাককে ঘোর বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছি। প্ৰেতিযোনি-প্ৰাপ্ত তাহার কন্যাকে উদ্ধার করিয়াছি, সমুদ্রযাত্ৰা-জনিত পাপ হইতে তাঁহার জামাতাকে পরিত্রাণ করিয়াছি। লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন, — “শুক্লাম্বর ঢাকা-মহাশয়ের কি হইয়াছিল?” দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ঢাকমহাশয় ডমরুধর বললেন,- শুক্লাম্বর ঢাকমহাশয় গুরুগিৰ্জিরিয়া তাঁহার বিলক্ষণ দুপিয়সা উপাৰ্জ্জন হয়। দােতলা কোঠা বাড়ীতে তিনি বাস কুৱেন্তর্গ মােকদ্দমা-মামলা সম্বন্ধে তাঁহার যেরূপ বুৎপত্তি, এরূপ বুৎপত্তি প্ৰায় দেখিতে খ্রীয় না। নানা বিষয়ে ঢাকমহাশয় আমার সহায়তা করেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। ত নিষ্ঠাবান পুরুষ। পূজা-আহ্নিক জপ-তপে তিনি অনেক সময় অতিবাহিত করেন। সেজন্য তাঁহার প্রতি আমার অগাধ ভক্তি। আজকাল ব্ৰাহ্মণের ত্রিসন্ধ্যা করে না। টিকিনাড়ারা সে উপদেশ কাহাকেও প্ৰদান করে না। কিন্তু ঢাকমহাশয় সে প্রকৃতির লোক নহেন। কাহাকেও চা বা বরফ খাইতে দেখিলে তিনি আগুনের ন্যায় জুলিয়া উঠেন। সন্ধ্যা-আহ্নিকে যাহাতে লোকের প্রবৃত্তি হয়, সে বিষয়ে তিনি চেষ্টা করেন। গত বৈশাখ মাসে একদিন ঢাকমহাশয় আমাকে ডাকিতে পাঠাইলেন। সূৰ্য অগ্নিবৃষ্টি করিতেছেন। রৌদ্রে পৃথিবী পুড়িয়া যাইতেছে। আমি তাঁহার বাড়ী গমন করিলাম। ঘোর পিপাসায় কাতর হইয়া আমি কোৎ কেঁৎ করিয়া একঘটি জল খাইয়া ফেলিলাম। কিঞ্চিৎ সুস্থ হইলে ঢাকমহাশয় আমাকে বলিলেন যে, তাঁহার কন্যা কুন্তলার প্রখর জুর হইয়াছে। কুন্তলার বয়স নয়। বৎসর। আট বৎসর বয়সে ঢাকমহাশয় তাহার বিবাহ দিয়াছিলেন। বিবাহের দুই মাস পরেই সে বিধবা হইয়াছিল, ঢাকমহাশয়ের সহিত আমি সেই ঘরে গমন করিলাম। জুরে কুন্তলার কাঠ ফাটিতেছে। আগুনের ন্যায় শরীরের উত্তাপ হইয়াছে। ক্রমাগত এ-পাশ ও-পাশ করিতেছে। মা একটু জল দাও, মা একটু জল দাও, ক্রমাগত এই কথা বলিতেছে। মা! পিপাসায় আমার বুক ফাটিয়া যাইতেছে। একটু জল দাও মা! একটুখানি দাও। কেবল মুখটি ভিজাইয়া দাও। একটু জল না খাইয়া আর থাকিতে পারি না। জল, জল, জল । বিরাস বদনে মা নিকটে বসিয়া আছেন। মাঝে মাঝে বাতাস করিতেছেন। মাঝে মাঝে চক্ষুর জল মুছিতেছেন। "f frig citya gas xel www.amarboicom a br\UsS» ঢাকমহাশয় আমাকে চুপি চুপি বলিলেন,- “আজ একাদশী। বিধবা। সেইজন্য জল দিতে বারণ করিয়াছি। কিন্তু জল দিতে আমার গৃহিণীর ইচ্ছ। এখন করি কি? সেইজন্য তোমাকে ডাকিতে পাঠাইয়াছিলাম।” নীচে গিয়া আমি বলিলাম,- “বাপ রে! জল কি দিতে পারা যায়? ব্ৰাহ্মণের ঘরের বিধবা। একাদশীর দিন জল খাইতে দিলে তাহার ধৰ্ম্মটি একেবারে লোপ হইয়া যাইবে!” ঢাকমহাশয় তাহাই করিলেন। কন্যাকে জল দিলেন না। রাত্ৰিতে কন্যা পাছে নিজে জল চুরি করিয়া খায়, অথবা তাহার কষ্ট দেখিয়া মাতা, ভগিনী কি অপর কেহ পাছে তাহাকে জল প্ৰদান করে, সেজন্য সন্ধ্যার সময় কুন্তলাকে তিনি নীচের তলার এক ঘরে বন্ধ করিয়া চাবি দিয়া দিলেন। সমস্ত রাত্রি পীড়িতা কন্যা একেলা সেই ঘরে রহিল। ধৰ্ম্মরক্ষা সম্বন্ধে ঢাকমহাশয়ের এমনি দৃঢ়পণ। প্ৰাতঃকালে যখন তিনি ঘরের চাবি খুলিলেন, তখন সকলে দেখিল যে, বালিকা পিপাসায় হতজ্ঞান হইয়া ঘরের ভিজা মেঝের একধার হইতে অপর ধারা পৰ্যন্ত সমস্ত রাত্রি বার বার চাটিয়াছে। অবশেষে অজ্ঞান হইয়া ঘরের এক কোণে পড়িয়া আছে। মাতা তাহাকে কোলে তুলিয়া লইলেন। কিন্তু তাহার মাথাটি লুটিয়া পড়িল । সেদিন দ্বাদশী। মাতা তাহার মুখে জল দিলেন, কিন্তু সে গিলিতে পারিল না। দুই কশ দিয়া জল বাহিরে আসিয়া পড়িল। সে আর কথা কহিল না । শেষকালে একবারমাত্র বলিল,— “জাল-জলি ।” এই কথা বলিয়া যে প্ৰাণত্যাগ করিল। এই ঘটনার কথা যখন চারিদিকে প্রচারিত হইল। দেশশুদ্ধ লোক ঢাকমহাশয়কে ধন্য ধন্য করিতে লাগিল। সকলে বলিল,-কি কন্যার মৃত্যুতে ঢাকমহাশয়ের অ যাপন করা অপেক্ষা মরাই ভাল। কিন্তু মৃত কন্যা তাঁহাকে অধিক দিন আনন্দভোগ করিতে দিল না। একদিন রাত্রি দুই প্ৰহরের সময় সহসা “জল, জল! হা জল! হা জল!” এইরূপ ভীষণ চীৎকার করিয়া সে বাড়ীর চারিদিকে ছটুফটু করিয়া বেড়াইল। সকলের নিদ্ৰাভঙ্গ হইল। সকলে ঘোর ভয়ে ভীত হইল। ইহার চারিদিন পরে ঢাকমহাশয়ের পুত্রটি মরিয়া গেল। এইবার ঢাকমহাশয় শোকে অভিভূত হইয়া পড়িলেন। পনের দিন পরে আবার কুন্তলার ভূত সেইরূপ জল জল করিয়া চীৎকার করিল। এবার মাতঙ্গিনী নামক দাসীর মৃত্যু হইল। ফলকথা, যখনই কুন্তলার ভূত চীৎকার করিত, তখনই বাড়ীর একটা-না-একটা লোক মরিতে লাগিল। দাসীর মৃত্যুর পর ঢাকমহাশয় গয়াতে পিণ্ড দিবার জন্য লোক পাঠাইলেন। কিন্তু তাঁহাতে কোন ফল হইল না। কারণ, কিছুদিন পরে পুনরায় যখন চীৎকার হইল, তখন ঢাকমহাশয়ের ছাট্ট নামক চাকর মরিয়া গেল। বিধবা হইয়া একাদশীর দিন ভিজা মেঝে চাটা পাপটি সামান্য নহে। গয়াতে হাজার পিণ্ড দিলেও ইহা ক্ষয় হয় না। yo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসংখহ তৃতীয় পরিচ্ছেদ মোল্লা জামাতা কুন্তলাকে কি উপায়ে উদ্ধার করা যায়, সেই সম্বন্ধে ঢাকমহাশয় আমার সহিত অনেক পরামর্শ করিলেন। কিন্তু আমি তাঁহাকে কিছু বলিতে পারিলাম না। ঢাকমহাশয়ের এক বালক দৌহিত্র আছে। তাহার নাম ভুলু। ভুলু ঢাকমহাশয়ের প্রাণস্বরূপ। এক মুহুৰ্ত্ত তাহাকে চক্ষুর আড় করিয়া ঢাকমহাশয় থাকিতে পারেন না। বিশেষতঃ পুত্ৰহীন হইয়া তাঁহার যত স্নেহ-মমতা ভুলুর উপর পড়িয়াছিল। পাছে কুন্তলার চীৎকারে ভুলুর কোন অনিষ্ট হয়, সেজন্য ঢাকমহাশয় ঘোরতর ভীত হইলেন। বিপদের উপর বিপদ। ঢাকমহাশয়ের জামাতা, ভুলুর পিতা, যাহার নাম কেশর, বোগদাদে গিয়াছিলেন। তাঁর সহিত ঢাকা-মহাশয়ের সদ্ভাব ছিল না। ঢাকমহাশয় আশা করিয়াছিলেন যে, তিনি লড়াইয়ে মারা পড়িবেন। ভুলু ও ভুলুর মাতা চিরকাল তাঁহার নিকট থাকিবে। ভুলুর মাতার নাম কালিকা। বাল্যকাল হইতে তাহাকে আমি কোলে-পিঠে করিয়াছি। কন্যার ন্যায় তাহাকে আমি স্নেহ করি। এত চুল কখন আমি কাহারও দেখি নাই। কিছুদিন পূৰ্ব্বে দোতলার ঘরে জানালার ধারে সে চুল এলো করিয়া বসিয়াছিল। সে যে কি অপূৰ্ব্ব শোভা হইয়াছিল, তাহা তোমাদিগকে আর কি বলিব! ঢাকমহাশয়ের জামাতা, কালিকা দেবীর স্বামী। পিতা কেশব লড়াইয়ে মারা যান নাই । তিনি দেশে ফিরিয়া আসিলেন । দেশে য়া তিনি কালিকা ও ভুলুকে লইতে পাঠাইলেন। ঢাকমহাশয়ের মাথায় ঠিক যেনুৱেঞ্জাঘাত হইল। তিনি বলিলেন,— “কিছুতেই ৰূর্বোিড়ী পাঠাইব না। সে সমুদ্র পার হইয়া বিদেশে গমন করিয়াছে। তাহার জাতি। গিয়াছে কিন্তু ঢাকমহাশয়ের কয়েকজন শিষ্ট যাহারা বি-এ, এম-এ পাশ করিয়ছে, তাহারা বলিল যে,- “মহাশয়! এমন কাজ করিবেন না। আপনার জামাতা রাজকাৰ্য্যে বিদেশে গমন করিয়াছিলেন। মহাসংগ্রামে পৃথিবী টলমল করিতেছে। জৰ্ম্মণদিগকে যদি সম্পূর্ণ পরাজিত করা না যায়, তাহা হইলে ভবিষ্যতে পৃথিবীর ঘোর অনিষ্ট ঘটবে। আমাদেরও সৰ্ব্বনাশ হইবে। ইংরেজের সাহায্য করা উচিত। আপনি যাহা মনস্থ করিয়াছেন, তাহা করিলে রাজার বিরুদ্ধে কাজ করা হইবে। এমন কাজ কখন করিবেন না।” এইরূপ কথা শুনিয়া ঢাকমহাশয় আমাকে ডাকিতে পাঠাইলেন। আমি গিয়া বলিলাম,- “ইংরেজ প্ৰজার ধৰ্ম্মে হস্তক্ষেপ করিবেন না। সাগর অতি ভয়ানক বস্তু। জগন্নাথে গিয়া আমি দেখিয়াছি তিনটা ঢেউ খাইয়া আমার প্রাণওষ্ঠাগত হইয়াছিল। সে সাগর-পারে কেহ যাইলে হিন্দুধৰ্ম্মের গন্ধটি পৰ্যন্ত তাহার গায়ে থাকে না।” আমি পুনরায় বলিলাম,- “আর দেখুন, ঢাকমহাশয়! বিলাতে গেলে বরং নিস্কৃতি আছে। বিলাত গেলে সাহেব হয়, সাহেবি পোষাক পরে, সাহেবি খানা খায়। তা এখন বিলাত না। গিয়াও লোকে এই কাজ করিতেছে। কিন্তু বোগদাদে গমন করিলে লোকে মোল্লা হয়। মোল্লা হইয়া পীরের গান করে। বলে,- “হঁকো বন্দিলাম, কলুকে বন্দিলাম, আর বন্দিলাম টিকে । ডম্বক-চর্কিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ ኩr “ስS আর তালগাছে বন্দিলাম প্ৰভু চামচিকে৷” তাহার পর সে আরব্য উপন্যাসের দেশ। জিন, দৈত্য ও দানবীতে পরিপূর্ণ। গুজব এই যে, আপনার জামাতা একটা দৈত্য সঙ্গে করিয়া আনিয়াছে। অতএব এরূপ লোকের সহিত কোন সংস্রব রাখিবেন না। তাহার বাড়ীতে আপনার কন্যাকে পাঠাইবেন না।” ঢাকমহাশয় তাহাই স্থির করিলেন। চতুৰ্থ পরিচ্ছেদ কিন্তু ঢাকমহাশয়ের কন্যা কালিকা তাঁহাতে সম্মত হইলেন না। তিনি শ্বশুরবাড়ী যাইবার নিমিত্ত মাতার নিকট কাদিতে লাগিলেন । স্বামীর নিকট তাহাকে পাঠাইবার নিমিত্ত মাতা ঢাকমহাশয়কে অনেক অনুরোধ করিলেন। কিন্তু ঢাকমহাশয় কিছুতেই সম্মত হইলেন না। তিনি বলিলেন যে,- সে পতিত পাপিষ্ঠ সমুদ্রপ্রত্যাগত নরাধমের নিকট পাঠাইয়া আমি কন্যার ইহকাল পরকাল নষ্ট করিতে পারি না। হতাশ হইয়া স্বামীকে পত্র লিখিলেন। পত্র পাইয়া একদিন সন্ধ্যার কিঞ্চিৎ পূৰ্ব্বে কেশব র খিড়কির নিকট এক বন্য জামতলায় স্ত্রীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। জাৰ্মষ্ঠলীয় অল্প বন ছিল। সেই বনের আড়ালে দীড়াইয়া দুইজনে কথাবার্তা করিতে লাগিন্ধেৰ্ম’ বন্য জামগাছ। অসময়ে ইহাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কসা জাম হইয়াছিল। এখন কেষ্টা ছোড়া জুমদাের্গাছে উঠিয় তাহাকে দেখেন নাই। পতি-পত্নীর সঁকেল কথা কেষ্টা শুনিতে পায় নাই। তবে, “বুধবার সন্ধ্যার সময়’ ইত্যাদি গোটা কতক কথা কেবল শুনিয়াছিল। যখন স্ত্রী-পুরুষের পরামর্শ শেষ হইবার উপক্রম হইল, তখন গাছ হইতে কেষ্টা বলিয়া উঠিল,- “ঢাকমহাশয়কে বলিয়া দিব।” দুইজনেই চমকিত হইলেন। একটু স্তব্ধ থাকিয়া কালিকা তাহাকে বলিলেন, — “না, দাদা! তা কি বলিতে আছে? লক্ষ্মী দাদা! কাহাকেও কিছু বলিও না।” কেশবকে লক্ষ্য করিয়া কেষ্টা জিজ্ঞাসা করিল, - “তুমি ইংরেজি জান?” কেশব উত্তর করিলেন,- “হাঁ, একটু একটু জানি। বি-এ পাশ করিয়াছি।” কেষ্ট বলিল,- “শীঘ্রই আমাদের পূজার ছুটী হইবে। ‘পূজার সময় তুমি কি করিয়াছ" এই মৰ্ম্মে মাষ্টার আমাদিগকে একটা প্ৰবন্ধ লিখিতে দিবেন। আমার এত কাজ যে, আমি লিখিতে অবসর পাইব না। তুমি যদি আমাকে লিখিয়া দাও, তাহা হইলে আমি বলিয়া দিব না।” কেশব স্বীকার করিলেন । কেষ্টা তাহাকে তিন সত্য করিতে বলিল। কালিকাকেও সত্য করিতে হইল। তখন কেষ্টা গাছ হইতে নামিয়া চলিয়া গেল। কেশবও আপনার গ্রামে চলিয়া গেলেন । “বুধবার সন্ধ্যার সময়’ এইরূপ দুই একটি কথা কেষ্টা সেদিন শুনিতে পাইয়াছিল। বুধবার সন্ধ্যাবেলা কেষ্টা ভাবিল,— যাই, গিয়া দেখি, আজ তাহারা কি করে। এইরূপ মনে করিয়া সে সেই জামগাছে উঠিয়া বসিয়া রহিল। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে সে দেখিল যে, কালিকা শরা-ঢাকা এক brዒ$ află cios (gs se - www.amarboi conf** নূতন হাঁড়ী লইয়া ঘর হইতে চুপি চুপি বাহির হইলেন। জামতলার বনের ভিতর হাঁড়ীটি লুকাইয়া রাখিয়া প্ৰস্থান করিলেন। কালিকা চলিয়া গেলে, কেষ্ট গাছ হইতে নামিল ও দেখিল যে, হাড়ীর মুখে শরাখানি কালিকা ময়দা দিয়া আঁটিয়া দিয়াছেন। কিন্তু ময়দা কাঁচা ছিল না। শরা একটু উঠাইয়া কেষ্ট দেখিল যে, হাঁড়ীটি সন্দেশে পরিপূর্ণ। কেশববাবু আসিয়া কালিকা দিদির সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছেন। সেই কথা ঢাকমহাশয়কে বলিয়া দিব না, আমি এই অঙ্গীকার করি নাই। অতএব আমি এই সন্দেশগুলি খাইব। এইরূপ মনে করিয়া কেষ্ট সন্দেশের হাঁড়ী লইয়া বন হইতে বাহির হইল। পথে দাড়াইয়া সে দেখিল যে, সম্মুখ দিকে দুইজন গ্রামের লোক আসিতেছে। পশ্চাদিকে চাহিয়া দেখিল যে, প্ৰেম চাকি ধান-বোঝাই গরুর গাড়ী লইয়া আসিতেছে। কেষ্ট ভাবিল যে, উদ্দোর বোঝা বুদের ঘাড়ে দিই, তা না করিলে আমি ধরা পড়িব । এইরূপ মনে করিয়া সে সন্দেশের হাড়ীটি গাড়ীওয়ালাকে দিয়া বলিল,- “প্রেমথুড়ো। কালিকা দিদি আমাকে সন্দেশ দিয়াছেন। আমি একেলা খাইব না। তোমাতে আমাতে দুইজনে খাইব। তুমি ঘোষেদের গঙ্গার ঘাটে গিয়া গাড়ী রােখ। একটু পরে আমি যাইতেছি।” কলিকাতার দক্ষিণে এই সমুদয় ঘটনা ঘটিয়াছিল। এ স্থানে প্রাচীন গঙ্গার গর্ত লোকে ভাগ করিয়া লইয়াছে। তাই ঘোষেদের গঙ্গা, বসুদের গঙ্গা ইত্যাদি] প্রেম চাকি সন্দেশের হাঁড়ী লইয়া গঙ্গার ঘাটে চলিল। প্ৰেম চাকি ঘাটে উপস্থিত হইয়া হাঁড়ীটি একটু খুলিয়া দেখিল যে, সন্দেশে পরিপূর্ণ। সে ভাবিল যে, আমার ছেলেদের জন্য সন্দেশ লইয়া যাইব! কেষ্টকে ভাগ দিব না। কিন্তু এই সময় দেখিল যে, দূরে কেষ্ট আসিতেছে। তুড়াতাড়ি হাঁড়ীটির মুখ পুনরায় বন্ধ করিল। গাড়ী হইতে একটি ঝুড়ি লইয়া হাঁড়ীটি পা দিয়া তাহার উপরে সে বসিয়া রহিল। কেষ্টা আসিয়া সন্দেশের ভাগ চাহিল। বলিল,— “আমার ক্ষুধা পাইয়াছিল, মুখে সন্দেশ ভাল লাগিল, আমি সব সন্দেহ ফেলিয়াছি।” দুইজনে ঝগড়া বাধিয়া গেল। এমন সময় কেষ্ট দেখিল যে দূরে । তাহাকে দেখিয়া কেষ্টা সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিল। 零 এ দিকে কালিকার মন সুস্থির নাই। জামতলায় সন্দেশের হাড়ী ঠিক আছে কি না, তাহা দেখিবার নিমিত্ত তিনি আর একবার বনের নিকট গমন করিলেন। সে স্থানে গিয়া দেখিলেন যে, বনের ভিতর সন্দেশের হাড়ী কে লইয়া গিয়াছে, এই বলিয়া ক্রমাগত কাদিতে व्नोिCब्लन्म । সেদিন বৈকালবেলা আমি ঢাকমহাশয়ের বাড়ী গিয়াছিলাম। ঢাকমহাশয় বলিয়াছিলেন যে, আমি নানা বিপদে পড়িতেছি। মা দুৰ্গা আমাকে রক্ষা করিতেছেন না, অতএব আর আমি মা দুৰ্গার পূজা করিব না। কথা শুনিয়া আমি থাকিতে পারিলাম না। আমি তাঁহাকে বুঝাইতে যাইলাম। আমি বলিলাম যে, মা দুৰ্গা পরম দয়াময়ী। যাহা হইবার, তাহা হইয়া গিয়াছে। ভক্তিভাবে ঘটা করিয়া দুর্গোৎসব করুন। তাহা হইলে আমাকেও যেরূপ তিনি নানা বিপদ হইতে রক্ষা করেন, আপনাকেও তিনি সেইরূপ নানা বিপদ হইতে রক্ষা করিবেন। কিন্তু প্রথম তিনি আমার কথায় কিছুতেই সম্মত হইলেন না। তাহার পর যখন আমি বলিলাম যে, পূজা বন্ধ করিলে, শিষ্য-সেবক যে বার্ষিক প্ৰদান করে, তাহার কি হইবে? তখন কি হইবে? তখন তিনি পূজা করিতে সম্মত হইলেন। আমাদের দুইজনে এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইতেছে, এমন সময় কালিকার কান্নার শব্দ আমাদের f firls six g3, 3el - www.amarboicom a br GRWS0 কানে প্ৰবেশ করিল। আমরা সেই স্থানে গিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কি হইয়াছে?” কালিকা উত্তর করিলেন যে,- “আমার সন্দেশের হাঁড়ী কে লইয়া গিয়াছে।” আমি বলিলাম,- “গোটা কত সন্দেশের জন্য এত কান্না কেন? ঢাকমহাশয় তোমাকে অনেক সন্দেশ কিনিয়া দিবেন।” পঞ্চম পরিচ্ছেদ উডুখ খু হাঁড়ী। ক্রমে সকল কথা প্ৰকাশ পাইল। পিতার অগোচরে কালিকা ঘর হইতে পলায়ন করিবেন, স্বামীর সহিত এইরূপ পরামর্শ করিয়াছিলেন। বুধবার সন্ধ্যাবেলা কেশব ঘোড়ার গাড়ীতে কাটিগঙ্গার ঘাটের নিকট লুক্কায়িত থাকিবেন। একটু অন্ধকার হইলে কালিকা ভুলুকে লইয়া সেই স্থানে গমন করিবেন। তাহার পর ঘোড়ার গাড়ীতে রেল-স্টেশন যাইবেন। সে স্থান হইতে রেল গাড়ীতে কেশব স্ত্রী-পুত্ৰ লইয়া আপনার গ্রামে গমন করিবেন? বাক্স লইয়া গেলে পাছে কেহ জানিতে পারে, সেজন্য কালিকা আপনার লি হাঁড়ীতে রাখিয়া তাহার উপর সন্দেশ চাপা দিয়া বনে রাখিয়াছিলেন। যাইবান্ত সময় লইয়া যাইবেন, এইরূপ মানস করিয়াছিলেন । SNర్ যখন এইসব কথা প্রকাশ হইল, তখনুৰ্ব্বক্লাটা হুলস্থল পড়িয়া গেল। কে সে হাঁড়ী লইয়া গেল, তাহার অনুসন্ধান হইতে লাগিল ষ্ট্ৰেইজন গ্রামের লোক বলিল যে, সন্ধ্যার সময় তাহারা জামগাছের নিকট দিয়া যাইতেছিল। প্ৰেম চাকি গরুর গাড়ী লইয়া সেই পথ দিয়া আসিতেছিল। কেষ্ট তাহাকে একটা হাঁড়ী দিল। ইহা তাহারা দেখিয়াছে। তৎক্ষণাৎ একজন লোক প্রেম চাকির বাড়ীতে দীেড়িল। আর একজন লোক কেষ্টার বাড়ীতে গেল। আমার চাকর গজরাজকে আমি গঙ্গার ঘাটে পাঠাইলাম। আমি তাহাকে আদেশ করিলাম যে,- “সেস্থানে যদি তুমি প্ৰেমা চাকিকে দেখিতে পাও, তাহা হইলে গাড়ীশুদ্ধ তাহাকে ধরিয়া আনিবে।” গজরাজ তাঁহাই করিল। প্রেম চাকির গাড়ী আমরা অনুসন্ধান করিয়া দেখিলাম। হাঁড়ী। পাইলাম না। কিন্তু যখন সে শুনিল যে, হাঁড়ীতে কেবল সন্দেশ ছিল না, তাহার ভিতর অনেক গহনা ছিল, তখন সে বলিল যে, যেস্থানে সে গাড়ী রাখিয়াছিল, তাহার নিম্নে ভূমিতে বুড়ি চাপা। সেই হাঁড়ী আছে। তখন আমরা সকলেই গঙ্গার ঘাটের দিকে দীেড়িলাম। এদিকে সন্ধ্যার সময় কেশব রেল-ষ্টেশন হইতে ঘোড়ার গাড়ী করিয়া কাটিগঙ্গার ঘাটে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। একটু দূরে ঘোড়ার গাড়ী রাখিয়া তিনি ঘাটের নিকট গমন করিলেন। তখনও সে স্থানে কালিকা ও ভুলু আসে নাই। কিন্তু দেখিলেন যে, একটা বুড়ি উপুড় হইয়া রহিয়াছে। বুড়িটি তুলিয়া দেখিলেন যে, নিম্নে একটি হাঁড়ী রহিয়াছে। হাঁড়ীর ভিতর সন্দেশ। কেশব মনে করিলেন যে, গাড়ীতে ভুলু খাইবে, সেই জন্য কালিকা এই সন্দেশগুলি কাহারও হাতে গোপনে পাঠাইয়া দিয়াছেন। হাঁড়ীটা কোলে লইয়া তিনি কালিকা ও Ե Գ8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিসঙ্গি"******** ভুলুর জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। অল্পীক্ষণ পরে কেশব দেখিলেন যে, কিছুদূরে অনেক লোক ঘাটের দিকে আসিতেছে। ব্যাপারটা কি জানিবার নিমিত্ত তিনি অন্য পথে দ্রুতবেগে ঢাকমহাশয়ের বাড়ীর দিকে গমন করিলেন। সে স্থানে উপস্থিত হইয়া কাহাকেও দেখিতে পাইলেন না। গোয়ালের কোণে হাঁড়ীটি রাখিয়া তিনি গোয়ালের পশ্চাতে লুকাইয়া রহিলেন। সকলে গঙ্গার ঘাটে গিয়া ঝুড়ি দেখিতে পাইল। কিন্তু বুড়ি তুলিয়া দেখিল যে, তাহার নিম্নে হাড়ী নাই। হতাশ হইয়া সকলে ঢাকমহাশয়ের বাড়ীতে ফিরিয়া আসিল । ক্রমে বিলক্ষণ একটা জনতা হইয়াছিল । কালিকাও সকলের সঙ্গে ঘাটে গিয়াছিলেন। ফিরিয়া আসিবার সময় তিনি একটু পশ্চাতে পড়িয়াছিলেন। তাঁহাকে দেখিয়া কেশব লুক্কায়িত স্থান হইতে বাহির হইয়া গোলমালের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। কালিকার মুখে সকল বিবরণ শ্ৰবণ করিয়া তিনি বলিলেন,- “কেন! হাঁড়ী আমি লইয়া আসিয়াছি। গোয়ালের কোণে তাহা আমি রাখিয়া शािछि।" অহাদিত হইয়া কালিকা আলোক লইয়া মাতা-পিতার সঙ্গে গোয়ালে প্ৰবেশ করিলেন। আঁতিপাতি করিয়া গোয়ালের সকল কোণে, গোয়ালের সকল স্থান অন্বেষণে করিলেন। কিন্তু হাঁড়ী পাইলেন না। কালিকা পুনরায় কাঁদিতে আরম্ভ করিলেন । তখন বিন্দি নামক ঢাকমহাশয়ের বিস্তু বলিল যে,- “সে প্রতিদিন সকলের পাতের খাবার কুড়াইয় তাহার বোনঝির নিমিত্ত গোয়ালের কোণে রাখিয়া দেয় । সন্ধ্যাবেলা তাহার বোনবি য়। সে হয়তো হাঁড়ী লইয়া গিয়াছে। বিন্দির বোনঝিকে খুঁজিতে লোক দৌড়িল । ধক দূর যায় নাই। হাঁড়ী সহিত সকলে তাহাকে ধরিয়া আনিল। ব্যস্ত হইয়া কালিকা হাড়ী খুলিয়া দেখিলেন। হরি হরি! তিনি দেখিলেন যে, সন্দেশের নিম্নে তিনি যে ভাবে সাজাইয়া রাখিয়াছিলেন, সেইরূপ আছে। হাঁড়ী লইয়া আনন্দে তিনি মাতা ও ভুলোর দোতলায় আপনার ঘরে গমন করিলেন । ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ আরব্য উপন্যাসের জিন কেশব আর লুক্কায়িত হন নাই। ভিড়ের অন্য লোকের সহিত দাঁড়াইয়া তিনি সমুদয় ঘটনা দেখিতেছিলেন। ঢাকমহাশয়ের দৃষ্টি তাঁহার উপর পড়িল। ক্রোধে প্রজুলিত হইয়া তিনি তাঁহাকে গালি দিতে লাগিলেন। তিনি বলিলেন,- “দূর হঃ, দূর হঃ! বােগদাদি মােল্লা আসিয়া আজ আমার হিন্দুধৰ্ম্ম নষ্ট করিল।” এইরূপ বলিতে বলিতে তাঁহার রাগ দাবানলের ন্যায় আরও জুলিয়া উঠিল। কেশবকে তিনি একপাটি জুতা ছুড়িয়া মারিলেন। কেশব ধীরে ধীরে বলিলেন, — “আপনি আমার পিতৃস্থানীয় গুরুজন। আমি প্ৰত্যুত্তর করিব না। চারিদিন পরে আপনার কন্যাকে ও আমার পুত্ৰকে আমি লইতে পাঠাইব, পাঠাইয়া দিবেন। না পাঠাইলে আপনাকে অনুতাপ করিতে হইবে।” "চমক-কৰিত দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com ~ brዓG: এই কথা বলিয়া কেশব চলিয়া গেলেন। কেশব তখনও বাড়ীর বাহির হন নাই। এমন সময় দাঁড়াইল। জিন ঠিক দৈত্য নহে। আমাদের দেশে যেরূপ যক্ষ রক্ষা অন্সর কিন্নর গন্ধৰ্ব্ব আছে, বোগদাদ অঞ্চলে সেইরূপ জিন নামক এক প্রকার ভৌতিক বায়বীয় জীব আছে। জিনকে দেখিয়া সকলে ভয়ে রুদ্ধশ্বাসে পলায়ন করিল। কেবল আমি ডমরুধর ভয় পাইলাম না । অনেক ভূত-প্রেতের সহিত আমি কারবার করিয়াছি। ঢাকমহাশয়ের নিকট গঢ় হইয়া বসিয়া রহিলাম। জিনটির কথা আমি এইরূপ শুনিলাম। একদিন কেশব ছিপ ফেলিয়া তাইগ্রিস নদীতে মাছ ধরিতেছিলেন। হঠাৎ তাঁহার বড়শীতে কি লাগিয়া গেল। সাবধানে উপরে তুলিয়া দেখিলেন যে, তাহা এক তাম-নিৰ্ম্মিত হাঁড়ী।। তামার ঢাকন দ্বারা হাঁড়ীর মুখ বন্ধ। সেই ঢাকনের উপর হিজিবিজি লেখা আছে ও তাহার উপর সিলমোহর আছে। হাড়ীর ভাব দেখিয়া তাঁহার আরব্য উপন্যাস বর্ণিত ধীবরের কথা স্মরণ হইল। তিনি ভাবিলেন যে, ঢাকন খুলিলে হয় তো হাঁড়ীর ভিতর হইতে প্রথম ধূম বাহির হইবে, তাহার পর সেই ধূম জিনের আকার ধারণ করিবে, তাহার পর জিন আমাকে বধ করিতে চাহিবে। এই ভয়ে তিনি তিনদিন হাঁড়ীর ঢাকন খুলিলেন না। তিনদিন পরে হাঁড়ীর ঢাকন খুলিবার ইচ্ছা তাঁহার মনে অতিশয় প্রবল হইল। ছুরি দিয়া অতিকষ্টে তিনি ঢাকন খুলিলেন। তাহার পর যে ভয় করিয়াছিলেন, তাহাই হইল। হাঁড়ী হইতে প্রথম ধূম বাহির হইল; ধূম গাঢ় হইয়া প্ৰকাণ্ড জিনে পরিণত হইল। কেশব ঘোরতর ভীত হইল। কিন্তু জিন তাহাকে আশ্বাস প্ৰদান করিয়া করিল,- “আলাদিন কোথায়? প্ৰদীপের সে জিন কোথায়? আলাদিনের নিমিত্ত অট্টালিকা প্রস্তুত করিতে প্রদীপের জিন আমাকে নিযুক্ত করিয়াছিল। তাহার নিকট আমার এক সহস্ৰ দিনার বা টাকা পাওনা আছে। সেই কথা লুইয়া তাহার সহিত আমার বিবাদ হইয়াছিল। সেজন্য প্ৰদীপের জিন আমাকে তামার ই বন্ধ করিয়া সিলমোহর করিয়া তাইগ্ৰীস নদীতে নিক্ষেপ করিয়াছিল। এখন তাহার আমি আমার টাকা আদায় করিব।” কেশব বলিলেন,- “আমি লোক। আরব্য উপন্যাসের সে আলাদিন কোথায়, তাহার সে প্ৰদীপের জিন কোথায়, তাহা আমি জানি না।” জিন বলিল,— “আমি আলাদিনকে ও প্রদীপের জিনকে খুঁজিয়া বাহির করিব। কিন্তু প্ৰথম আমি তোমার উপকার করিব। কারণ, তুমি আমাকে জল হইতে তুলিয়াছ, হাঁড়ী হইতে বাহির করিয়াছ। তোমার সহিত তোমার দেশে আমি যাইব । নানা বিপদ হইতে তোমাকে আমি রক্ষা করিব। তাহার পর তোমাকে লইয়া এ দেশে পুনরায় ফিরিয়া আসিব। সেই হাজার দিনার আদায় করিয়া তোমাকে আমি দিব।” কেশবের সহিত জিন সেই জন্য বঙ্গদেশে আসিয়াছে। জিন ঢাকমহাশয়ের দিকে ভয়ঙ্কর কোপদৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে লাগিল। তাহার চক্ষু দুইটি হইতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বৃষ্টি হইতে লাগিল। অবশেষে সে বলিল,—“নরাধম কাফের! তুই আমার বন্ধুকে অপমান করিয়াছিস। একচক্ষু কাণ দামড়া গরুর আকৃতি ধারণ করু।” তৎক্ষণাৎ ঢাকমহাশয় একচক্ষুহীন দামড়া গরু হইয়া গেলেন। সেই মুহূৰ্ত্তেজিন অদৃশ্য হইয়া গেল! ঘোর বিপদ দেখিয়া আমি দৌড়িয়া গিয়া পথে কেশবকে ধরিলাম। দুর্ঘটনার বিবরণ শুনিয়া তিনি বলিলেন,- “শ্বশুর মহাশয়কে পুনরায় মানুষ করি, সে ক্ষমতা আমার নাই। জিন কেবল মাঝে মাঝে আমার নিকট আগমন করে। পুনরায় কবে আসিবে, তাহা জানি না। এইবার যেদিন আসিবে, তাহার হাতে-পায়ে ধরিয়া শ্বশুর—মহাশয়কে ভাল করিতে চেষ্টা করিব। byr RM fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** এই কথা বলিয়া কেশব আপনার গৃহে চলিয়া গেলেন। এ স্থানে ঢাকমহাশয়ের বাড়ীতে কান্নাকাটি পড়িয়া গেল। কালিকা কাঁদিতে লাগিলেন, সকলেই কাঁদিতে লাগিল। ঢাকমহাশয় হাঁ করিয়া দেখাইলেন যে, তাহার মুখ শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। আমি একহাড়ী ভাতের ফোন আনিয়া তাহার সম্মুখে ধরিলাম। ঢাকমহাশয় চো চো করিয়া তাহা খাইয়া ফেলিলেন। তাহা খাইয়া তাহার শরীর কিঞ্চিৎ সুস্থ হইল। আমরা তাঁহাকে ঘরের ভিতর লইয়া যাইতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু তিনি পৈঠা উঠিতে সম্মত হইলেন না। অগত্যা তাঁহাকে গোয়ালে লইয়া যাইতে হইল। তাহার মুখের ভঙ্গী দেখিয়া আমি বুঝিলাম যে, তিনি আর সকলকে চলিয়া যাইতে বলিতেছেন। তাহার চক্ষু দিয়া দর দর ধারায় অশ্রষ্টপাত হইতে লাগিল। আমি তাঁহাকে আশ্বাস দিয়া বলিলাম,- “কিছু ভয় নাই, শীঘই পুনরায় আপনি মনুষ্য-শরীর পাইবেন। আর যতদিন না। পুনরায় আপনার মনুষ্যশরীর হয়, ততদিন আপনাকে আমি ছাড়িয়া যাইব না।” রাত্রি নয়টার সময় আমি নিজহাতে খড় কাটিয়া তাহাকে জাব দিলাম। তাহার পর গোয়ালের দেল ঠেস দিয়া বসিয়া আমি ক্রমাগত মা দুৰ্গাকে ডাকিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম যে,- “মা! তুমি আমাকে নানা বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছ। আমার বন্ধুকে তুমি এ বিপদ হইতে রক্ষা কর। ইনি পূজা করিবেন না বলিয়াছেন। কিন্তু মা! ভাবিও না; যাহাতে ইনি এ বৎসর ঘটা করিয়া তোমার পূজা করেন, আমি সে ব্যবস্থা করিব।” తో মা দয়াময়ী। মা আমার কান্না শুনিলেন। রাত্রি তিনটার সময় গোয়ালে অন্ধকারে বসিয়া আমি একটু চক্ষু বুজিয়াছি, এমন সময় মা আমাকে দর্শন দিলেন। মা বলিলেন,— “ডমরুধর! তুমি আমার বরপুত্র, কিছু ভয় নাই, সরস্বতীর কৃপায় তোমার মুখ হইতে জিলেট মন্ত্র বাহির হইয়াছিল, সেই মহামন্ত্রের প্রভাবে তুমি ঢাকের পশুত্ব মোচন কর । কুন্তলাকে উদ্ধার কর, কেশবকে সমুদ্রযাত্ৰাজনিত পাপ হইতে মুক্ত কর। সমুদ্রযাত্ৰা তো সামান্য কথা। জিলেট মন্ত্র-প্রভাবে মানুষের সকল পাপ দূর হয়। এই মহামন্ত্রের মহিমা অপাের। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলোকিট কিলোকিশ ।” এইরূপ উপদেশ দিয়া মা অন্তৰ্দ্ধান হইলেন। প্ৰাতঃকালে উঠিয়া আমি প্ৰথমে স্নান করিলাম, শুচি হইয়া গোয়ালে প্ৰবেশ করিয়া একচক্ষুহীন দামড়া গরুর অর্থাৎ ঢাকমহাশয়ের গায়ে হাত বুলাইয়া আমি জিলেট মন্ত্র পাঠ করিতে লাগিলাম। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলোকিট কিলোকিশ,—সাতবার এই মহামন্ত্র পাঠ করিতেই ঢাকমহাশয়ের দামড়া রূপ ঘুচিয়া পুনরায় মনুষ্যরূপ হইল। তাহার পর জিলেট মন্ত্র উচ্চারণ করিতে করিতে আমি ঢাকমহাশয়ের বাড়ী তিনবার প্রদক্ষিণ করিলাম। তৎক্ষণাৎ আকাশ হইতে পুষ্পক রথ নামিয়া আসিল । সেই রথে চড়িয়া কুন্তলা স্বর্গে গমন করিলেন। জিলেট মন্ত্রের এমনি প্রভাব। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলোকিশ । "°ʼ”*-Pf°° gfqRiigi ~ii%35 (q35 zR8! ~ www.amarboi.com ~ ኩr “እና ঢাকমহাশয়ের পুনরায় মা দুর্গার প্রতি অসীম ভক্তি হইল। তিনি প্রতিমা গঠনের নিমিত্ত আদেশ করিলেন ও মহাসমারোহে পূজার আয়োজন করিতে লাগিলেন। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলোকিশ । জামাতা কেশবকে তিনি ডাকিতে পাঠাইলেন। জিলেট মন্ত্রে তাহার গায়ে হাত বুলাইয়া আমি তাঁহাকে সকল পাপ হইতে মুক্ত করিলাম। শ্বশুর-জামাতায় অক্ষুন্ন অপরিসীম স্নেহ-মমতা ও সদ্ভাব হইল। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলোকিশ । দুই চারিদিন পরে জিন আসিয়া উপস্থিত হইল। সে বলিল,— এই যে ডমরুমহাশয়, মনুষ্য মধ্যে ইনি রত্নবিশেষ। ইনি জিলেট মন্ত্র প্রাপ্ত হইয়াছেন। সেই মহামন্ত্রবলে ইনি না পারেন, এমন কাজ নাই। আজ রাত্ৰিতে ইহাকে আমি শাহারাজাদি দিনারজাদির নাচ দেখাইব । পুস্তকে লেখা আছে যে, শাহারাজাদি গল্প বলিয়া বাদশাহকে বশ করিয়াছিলেন। সে মিথ্যা কথা। দুই ভগিনীর নাচ দেখিয়া বাদশাহ বশ হইয়াছিলেন। পরমা সুন্দরী রমণীর সহিত জিন আসিয়া উপস্থিত হইল। সেই দুইটি রমণী আমাদের সম্মুখে নানা ভাব-ভঙ্গী করিয়া নাচিতে লাগিল। কেবল ঢাকমহাশয়, কেশব ও আমি সে নাচ দেখিয়াছিলাম। রমণী দুইটির অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্য ও অদ্ভুত নাচ দেখিয়া আমার মুণ্ড ঘুরিয়া গেল। দুর্লভী বাগদিনীকে আমি ভুলিয়া যাইলাম। নাচ সমাপ্ত হইলে জিন বলিল,— “আজ রাত্রিতেই আমরা বোগদাদে গমন করিব। ডুমুরুমহাময় ও কেশবকে সঙ্গে লইয়া যাইব । বায়ুরুর্গ উড়িয়া মুহূৰ্ত্ত মধ্যে আমরা সে স্থানে পীেছিব। সে স্থানে গিয়া ডমরুমহাশয়ের সহিত স্থানু্রজাদির নিকা দিব ও দিনারজাদির সহিত কেশবের বিবাহ দিব।” இ সে প্ৰস্তাবে আমি সম্মত হইলাম । বলিলাম যে, এলোকেশীর মত না লইয়া আমি যাইতে পারিব না। কারণ, তাঁহাকে যুদ”না বলিয়া যাই, তাহা হইলে পৃথিবী খুঁজিয়া তিনি আমাকে বাহির করিবেন। আর টাক হইতে পায়ের অঙ্গুলি পৰ্যন্ত তিনি আমাকে বাটা-পেটা করিবেন। জিন এলোকেশীকে ডাকিতে পাঠাইল। বঁটা হাতে করিয়া নিবিড় তিমির দ্বারা গঠিত শরীরে জবাকুসুমসম লোহিত লোচনে এলোকেশী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তাঁহাকে দেখিয়াই জিনের মুখ শুষ্ক হইয়া গেল। তাহার পর শাহরজাদির সহিত আমার নিকার প্রস্তাব শুনিয়া যখন এলোকেশী জিনকে ঝাটা পেটা করিতে দৌড়িলেন, তখন জিন, শাহারজদি ও দিনারজাদির শরীর গলিয়া ধূমে পরিণত হইল। ধূম বাতাসে গেল। সেইদিন হইতে তাহারা কোথায় যে পলায়ন করিল, তাহা কেহ জানে না। কেশবের নিকট জিন আর আসে না। যাহা হউক, ঢাকমহাশয় এ বৎসর ঘোর ঘটা করিয়া দুর্গোৎসব করিলেন। লম্বোদর বলিলেন,-“আচ্ছা আজগুবি গল্প তুমি বানাইতে পার” ডমরুধর উত্তর করিলেন,-সকলই মহামায়ার মায়া! জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিিট কিলোকিশ । sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৯ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।