বিষয়বস্তুতে চলুন

ডমরু-চরিত/সপ্তম গল্প/সপ্তম পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে

সপ্তম পরিচ্ছেদ।

আবার এলোকেশী।

 মা দয়াময়ী। মা আমার কান্না শুনিলেন। রাত্রি তিনটার সময় গোয়ালে অন্ধকারে বসিয়া আমি একটু চক্ষু বুজিয়াছি, এমন সময় মা আমাকে দর্শন দিলেন। মা বলিলেন,—“ডমরুধর! তুমি আমার বরপুত্র, কিছু ভয় নাই, সরস্বতীর কৃপায় তোমার মুখ হইতে জিলেট মন্ত্র বাহির হইয়াছিল, সেই মহামন্ত্রের প্রভাবে তুমি ঢাকের পশুত্ব মোচন কর। কুন্তলাকে উদ্ধার কর, কেশবকে সমুদ্রযাত্রাজনিত পাপ হইতে মুক্ত কর। সমুদ্রযাত্রাতো সামান্য কথা। জিলেট মন্ত্র প্রভাবে মানুষের সকল পাপ দূর হয়। এই মহামন্ত্রের মহিমা অপার। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলেকিশ।”

 এইরূপ উপদেশ দিয়া মা অন্তর্দ্ধান হইলেন। প্রাতঃকালে উঠিয়া আমি প্রথমে স্নান করিলাম, শুচি হইয়া গোয়ালে প্রবেশ করিয়া একচক্ষুহীন দামড়া গরুর অর্থাৎ ঢাক মহাশয়ের গায়ে হাত বুলাইয়া আমি জিলেট মন্ত্র পাঠ করিতে লাগিলাম। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলেকিশ,—সাতবার এই মহামন্ত্র পাঠ করিতেই ঢাক মহাশয়ের দামড়া রূপ ঘুচিয়া পুনরায় মনুষ্যরূপ হইল।

 তাহার পর জিলেট মন্ত্র উচ্চারণ করিতে করিতে আমি ঢাক মহাশয়ের বাড়ী তিনবার প্রদক্ষিণ করিলাম। তৎক্ষণাৎ আকাশ হইতে পুষ্পক রথ নামিয়া আসিল। সেই রথে চড়িয়া কুন্তলা স্বর্গে গমন করিলেন। জিলেট মন্ত্রের এমনি প্রভাব। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলেকিশ।

 ঢাক মহাশয়ের পুনরায় মা দুর্গার প্রতি অসীম ভক্তি হইল। তিনি প্রতিমা গঠনের নিমিত্ত আদেশ করিলেন ও মহা সমারোহে পূজার আয়োজন করিতে লগিলেন। জিলেট জিলেকি সিলেমল কিলেকিট কিলেকিশ।

 জামাতা কেশবকে তিনি ডাকিতে পাঠাইলেন। জিলেট মন্ত্রে তাঁহার গায়ে হাত বুলাইয়া আমি তাঁহাকে সকল পাপ হইতে মুক্ত করিলাম। শ্বশুর জামাতায় অক্ষুণ্ণ অপরিসীম স্নেহ মমতা ও সদ্ভাব হইল। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিনেকিশ।

 দুই চারিদিন পরে জিন আসিয়া উপস্থিত হইল। সে বলিল, —এই যে ডমরু মহাশয়, মনুষ্য মধ্যে ইনি রত্ন বিশেষ। ইনি জিলেট মন্ত্র প্রাপ্ত হইয়াছেন। সেই মহামন্ত্র বলে ইনি না পারেন এমন কাজ নাই। আজ রাত্রিতে ইহাকে আমি শাহারজাদি দিনারজাদির নাচ দেখাইব। পুস্তকে লেখা আছে যে, শাহারজাদি- গল্প বলিয়া বাদশাহকে বশ করিয়াছিলেন। সে মিথ্যা কথা। দুই ভগিনীর নাচ দেখিয়া বাদশাহ বশ হইয়াছিলেন।

 সেই রাত্রি আমি পুনরায় ঢাক মহাশয়ের বাটী গমন করিলাম। রাত্রি নয়টার সময় দুই জন পরমা সুন্দরী রমণীর সহিত জিন আসিয়া উপস্থিত হইল। সেই দুইটী রমণী আমাদের সম্মুখে নানা ভাব ভঙ্গী করিয়া নাচিতে লাগিল। কেবল ঢাক মহাশয় ও কেশব ও আমি সে নাচ দেখিয়াছিলাম। রমণী দুইটার অপূর্ব্ব সৌন্দর্য্য ও অদ্ভুত নাচ দেখিয়া আমার মুণ্ড ঘুরিয়া গেল। দুর্লভী বাগদিনীকে আমি ভুলিয়া যাইলাম।


শাহারজাদি।