দিল্লী চলো

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
দিল্লী চলো

দিল্লী চলো

নেতাজি

সুভাষচন্দ্র বসু

বেঙ্গল পাবলিশার্স

১৪, বঙ্কিম চাটুজ্জে ষ্ট্রীট,

কলিকাতা

আড়াই টাকা

ফাল্গুন, ১৩৫২

বেঙ্গল পাবলিশার্সের পক্ষে প্রকাশক শ্রীশচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, ১৪, বঙ্কিম চাটুজ্জে ষ্ট্রীট, কলিকাতা। বেঙ্গল ইউনাইটেড ট্রেডার্স লিমিটেডের মুদ্রণ বিভাগের [ম্যাগনেট প্রেস—৩৫, দর্পনারায়ণ ঠাকুর ষ্ট্রীট, কলিকাতা] পক্ষে মুদ্রাকর—বিমলাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।



ভূমিকা

 আজাদ-হিন্দ গবর্নমেণ্ট, আজাদ-হিন্দ ফৌজ ও নেতাজীর অলৌকিক কর্মকাহিনী আজ ইতিহাসের বস্তু। দুর্বার সংগঠনশক্তি, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়, সাম্প্রদায়িকতা এবং প্রাদেশিকতার কৃত্রিম বিভেদ অবলীলাক্রমে বিলুপ্ত করে লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীকে সর্বস্বত্যাগে অনুপ্রাণিত করেছিল,—তার সকল সংবাদ-লাভের জন্য মুক্তিকামী দেশবাসী উদগ্রীব হয়ে আছেন।

 আজাদ-হিন্দ সংঘ (ইণ্ডিয়ান ইণ্ডিপেণ্ডেন্স লীগ) হেড কোয়ার্টার্স থেকে Blood-bath (রক্ত স্নান) নামে নেতাজির কতকগুলি রচনা ও বক্তৃতা প্রকাশিত হয়। সেই বইটির সমগ্র এবং আরও চারটি বক্তৃতার প্রাঞ্জল অনুবাদ সুষ্ঠু মূদ্রণে পরম শ্রদ্ধায় গ্রন্থাকারে উপস্থাপিত হয়েছে। আজাদ-হিন্দ গবর্নমেণ্টের উদ্দেশ্য, ইউরোপ, পূর্ব্ব-এশিয়া ও ভারতবর্ষের সমসাময়িক ঘটনাবলীর সুনিপুণ বিশ্লেষণ এবং নেতাজির অনন্য দেশপ্রেমের পরিচয় রচনাগুলির ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

 প্রকাশকেরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বইয়ের অর্ধেক লভ্য আজাদ-হিন্দ ফৌজ সাহায্য-ভাণ্ডারে দিতে প্রতিশ্রুত হয়েছেন। এর জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই।

১নং উডবার্ণ পার্ক
২০শে ফাল্গুন, ১৩৫২

অমিয়নাথ বসু

দিল্লী চলো - সুভাষচন্দ্র বসু (page 8 crop).jpg

আজাদ-হিন্দ ফৌজের সমর-সঙ্গীত

দিল্লী চলো - সুভাষচন্দ্র বসু (page 9 crop).jpg

অব্ দিল্লী চলো, দিল্লী চলো, দিল্লী চলেংগে
রোকেন হম কিসী কে রুকেঁ হৈঁ, ন রুকেংগে।
ঝণ্ডা তিরংগা লাল কিলে পৈ উড়ায়েংগে
‘জয় হিন্দ’কে নারোঁ[১] সে ফলক[২] কো হিলায়েংগে।
হিন্দোস্তাঁ মে হিন্দী হী অব রাজ করেংগে
অব্ দিল্লী চলো,··· ··· ··· ··· ··· ··· ··· ··· ···

আগে হী বড়েংগে ন কিসী সে ভী ডরেংগে
হম মৌত[৩] কা ভী সামনা হঁস হঁস কে করেংগে।
অব্ পাক[৪] জমী পৈ ন উদু[৫] পাঁও ধরেংঙ্গে।
অব্ দিল্লী চলাে,··· ··· ··· ··· ··· ··· ··· ···
অংগরেজ চলে জাঁয়, এ হৈ দেশ হমারা।
প্রাণো সে হৈ প্যারা হমে এ জী[৬] সে দুলারা[৭]
ইস কে লিয়ে সর রখকে, হথেলী[৮] পৈ লড়েংগে।
“ইমান[৯]কে বু[১০] হিন্দীয়ােমেঁ গরচে[১১] রহেগী।
লন্দন পৈ তেগে[১২] হিন্দ বঢ়েগী, ঔর পঢ়েগী”
শাহে[১৩] জফর কে কৌল[১৪] কী হম শান[১৫] রখেংগে।
অব্ দিল্লী চলো,··· ··· ··· ··· ··· ··· ···।

 ভাবার্থ। দিল্লী, দিল্লী আমি যাব, কোন বাধাই আমি মানব না। লালকেল্লার উপরে ত্রিবর্ণ-পতাকা উড়াব আমি, ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনিতে আকাশকেও কাঁপিয়ে দেব, হিন্দুস্থানে এবার হিন্দুস্থানীই রাজত্ব করবে। এগিয়ে যাব, ভয় করব না কাউকে, হাসিমুখে মৃত্যুরও সম্মুখীন হব, আমাদের পবিত্র ভূমিতে শত্রুকে পা রাখতে দেব না। এ দেশ আমার, ইংরেজ চলে যাক, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, হৃদয়ের চেয়েও প্রিয় আমার এই দেশের জন্য আমি মৃত্যুপণ করে লড়াই করব। হিন্দুস্থানীদের মধ্যে এতটুকু সততা থাকে তো বাদশাহ্ জাফরের প্রতিজ্ঞা ‘লণ্ডন পর্য্যন্ত হিন্দুস্থানের তলােয়ার এগিয়ে যাবে’—সে প্রতিজ্ঞার আমি গৌরব রাখব।

  1. নারোঁ—জয়ধ্বনি।
  2. ফলক-আকাশ।
  3. মৌত-মৃত্যু।
  4. পাক-পবিত্র।
  5. উদু-শত্রু।
  6. জী-হৃদয়।
  7. দুলারা—প্রিয়।
  8. হথেলী-হাতের তালু।
  9. ইমান—সততা।
  10. বু—সৌরভ।
  11. গরচে-যদি।
  12. তেগ-তলােয়ার।
  13. শাহে—বাদশাহ (ভারতের শেষ স্বাধীন সম্রাট বাহাদুর শাহ, জাফর।)
  14. কৌল—প্রতিজ্ঞা।
  15. শান—গৌরব।



এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২২ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬২ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।