দুর্য্যোধন বধ কাব্য/তৃতীয় সর্গ
তৃতীয় সর্গ।
তোমার শরণ লয়ে, চলি এবার,
দেবি, যথা সেই হ্রদ দ্বৈপায়ন; অতি
প্রশান্ত সলিল তার, নিবীড়, নিলীম;
চারিধারে বনরাজি কিবা শোভা পায়:
শোভিত পল্লব ফুলে, মৃদু মন্দ বায়ু-
ভবে নাচয়ে, সতত, বিস্তারি চৌদিকে
অতিমধুর সৌরভ! পুলকিত হয়
তাহে সবার অন্তর। তাপিত হৃদয়
যদি আসে হেন স্থানে, তিরপিত হয়
তার চিত সেই ক্ষণে; জুড়ায় তাপিত
প্রাণ; মনের যাতনা যত সব দূরে
যায়, যতেক ভাবনা যাহা কাল রিপু-
সম শোষয়ে হৃদয় মানবের, আর
হেথা স্থান নাহি পায়। বৈষয়িক আশা,—
যার মদে মত্ত হয়ে মানব মণ্ডলী
ধায় সদা অবিরাম অবিশ্রাম গতি;
যাহার ছলনে, হায়, ক্ষণ কাল তরে
না পায় সুস্থির হতে কখন মানব,—
সেই আশা পিশাচিনী বিদূরিত হয়:
আর না কুহুক তার ভুলায় মানবে।
ঋষিজনোচিত স্থান, শান্তি নিকেতন।
কোন তট প্রান্তে, আহা! নাতিশয় দূরে,
নিবীড় তমাল রাজি কিবা শোভা ধরে।
তালবন অগণন, শোভা নিরুপম,
প্রীতিকর নয়নের, শান্তি হৃদয়ের।
সেই বনরাজি-ছায়া পড়িয়াছে জলে,
মুকুর হৃদয়ে যেন দৃশ্যমান হয়ে।
কূজিছে অশেষ জাতি বিহঙ্গম-কুল
বৃক্ষগণ শাখে বসি, কারো বা চূড়ায়;
সুমধুর রবে তারা আকুলিত কবি,
উচ্চরবে কূজিতেছে মনের হরষে।
ভাসিছে হ্রদের বক্ষে হংস নানাজাতি,
কিবা দৃশ্য মনোহর! কভুবা নাচিছে,
পবন হিল্লোলে যদা নাচিছে সলিল।
হেন শান্তস্থানে একি, আসি উপনীত,
হীনবেশে মহারাজ দুর্য্যোধন! আহা,
এই কি সে হস্তিনার পতি? কার সাধ্য
চিনিতে ইহাঁরে। নাহি সে রূপের ছটা,
অতিম্লান মুখ-কান্তি; নয়নের প্রান্তে
আহা, কালিমা পড়েছে। নাহি সে উন্নত
গ্রীবা, নয়নের দীপ্তি; নাহি সে সতেজ
বক্ষ, নাহি তেজ দম্ভ; কি দশা ইহার
আজি! যাহার দাপটে কাঁপিত মেদিনী,
কিহেতু সেজন হেন হীন বেশে?
পাত্রমিত্র সভাসদ নাহি কেহ সঙ্গে!
কোথায় সকলে তারা? কিঙ্করের দল,
ঢলাত চামর যারা ক্লান্তি নাশ তরে,
কোথায় তাহারা এবে? কেন বা না ধরে
ছত্র আজি ছত্রধর? রবির প্রখর
কর লাগিছে শ্রীমুখে, স্বেদ জলে সিক্ত
করি তাহা। কি ভাবনা নিদারুণ, হায়,
দহিছে অন্তর তার? কি জ্বালা জুড়াতে
উপনীত মহারাজ দ্বৈপায়ন কূলে!
নিঃশব্দে নীরবে রহি বহুক্ষণ ব্যাপি
এক দৃষ্টে চাহি সেই শান্ত জল পানে,
দীর্ঘ শ্বাস ফেলি রাজা কহিতে লাগিল।
“আর না উপায় দেখি জীবন রক্ষার।
মনুষ্যের নিকেতনে কেমনে রহিব?
মানব,—চক্ষের শূল, না পারি দেখিতে
তারে। মনুষ্য আলয়,—বিষময় স্থান:
তথায় আমার বাস আর না সম্ভবে।
রাজরাজেশ্বর ভাবে, সদর্পে কেটেছে,
যথায় এতেক কাল, তথায় আবার,
চরণে দলিত হয়ে দীন হীন ভাবে,
পামর সেজন, হায়, বাস যেই করে।
বরঞ্চ অরণ্য ভাল, তথায় পশিব।
চিনিবেনা কেহ মোরে, পূর্ব্বস্মৃতি সব,
ডুবায়ে সাগর তলে তথায় রহিব।
নীচ দুরাশয় যত, চরণে দলিনু
যাবে এযাবৎকাল, তাহারাই উচ্চ
এবে! দাসত্ব তাদের? ধিক্, তাহা, প্রাশে
না নহিবে। নতশির হয়ে যারা ছিল
অনুগত, হায়, আর না মানিবে তারা,
বিদ্রূপ করিবে। পুন কিহেতু ফিরিয়া
তবে যাব লোকালয়ে? বরঞ্চ অনলে
পশি, নাশিব জীবনে। কৌরব সৌভাগ্য
রবি হল অস্তমিত, চিরদিন তরে;
আর না উদিবে তাহা, আর না হাসিবে
লোক, তাহার কিরণে। হায়! আমা হতে
অস্তমিত কুরুকুল রবি? শতধিক্
মোরে এখনি পশিয়া জ্বলন্ত অনলে
আজ্, করিব নির্ব্বাণ হৃদয়ের মম
এদারুণ জ্বালা। আর না পারি সহিতে।
“আর না বসিব আমি রাজ সিংহাসনে:—
সেই সিংহাসন, যাহা লভিবারে, হায়,
কত যে দারুণ পাপ করিছে সতত,
ভাবিলে সেসব কথা জ্ঞান লোপ হয়;
শিহরিয়া উঠে, প্রতি অঙ্গ শরীরের
হৃদয় কাঁপিয়া উঠে, শ্বাস ঘন বহে।
ধিক মোরে, হায় এবে কি করি উপায়।
এই যে সলিলরাশি, পশিব ইহাতে?
শীতগুণ সলিলের সর্ব্বত্র শুনেছি।
পারিবে কি তুমি দেব, ওহে দ্বৈপায়ন,
জুড়াইতে হৃদযের জ্বালা নিদারুণ:
তুমি না পারিলে বল, কে তবে পারিবে।
লইনু শরণ আজি তোমার চরণে,
জীবন রক্ষার তরে তুমিই উপায়।
“এইত আমার দশা! হস্তিনার রাজ-
অন্তঃপুর,—কি সম্বাদ তথাকার? হায়,
বিদরে হৃদয় যেন সে কথা স্মরিলে।
কোথা মম অন্ধ পিতা, কোথায় গান্ধারী
মাতা, হায়! নিরুপায় করিনু তাদের।
স্নেহময়ী সে জননী, এ জনমে, হায়,
কভু না শুনিনু আমি তাঁর উপদেশ,
না হলে ঘটিবে কেন আজি এ জঞ্জাল।
আর সেই জন কোথা, ভাবিতে যাহার
কথা, হৃদয় বিদীর্ণ বুঝি হয়। কোথা
সেই প্রাণের প্রতিমা মম, সরলতা
নিরুপমা, কোথা সেই নয়নের তারা?
হৃদয়ের শান্তি মম, সতী ভানুমতী,—
কোথায় রয়েছ এবে? কি দশা লিখেছে
বিধি, হায়, তব ভালে: ভাবিলে সে কথা
জ্ঞান বুদ্ধি নাহি রয়, চৈতন্য বিলোপ
হয়, না রহে পরাণ, এ দেহ ভিতরে।”
এতেক কহিয়া তবে হইয়া বিহ্বল,
আকুলিত কলেবর স্বেদাপ্লুত হয়ে,
থরথর ভাবে কাঁপি, এ কি অকস্মাৎ,
পড়িল ভূতলে রাজা। হায়রে, যেমতি
পড়ে, ঘোর মহাবনে, প্রবৃদ্ধ বিটপি
যবে কুঠার আঘাতে। নিষ্পন্দ শরীর
তার রহিল পড়িয়া, কত ক্ষণ ধরা-
তলে, কেবা কবে লক্ষ্য। বিধাতার খেলা
সব; এই রাজদেহ ভূতলে পড়িয়।
এবে, অলক্ষিত ভাবে? এ বারতা হায়,
কহিব কাহারে। এই ভাবে কতক্ষণ
রহি, লভিল চেতন পুন দুর্য্যোধন
রাজা। উঠিয়া বসিল অতি ধীরে ধীরে।
শূন্য দৃষ্টি চতুর্দিকে, পাগলের প্রায়
কোথায় বসিয়া আছে, কিবা হেতু তার,
কেমনে আইলা তথা, কিছুই স্মরণ
পথে না হয় উদয়। পুন অকস্মাৎ,
কি ভীষণ দৃশ্য ওই সম্মুখে দেখিয়া,
দাঁড়ায়ে উঠিল রাজা দন্ত কড়মড়ি
রক্তবর্ণ চক্ষুদ্বয়, কহিতে লাগিল;—
“কিরে পাপ ভীমসেন, এতই সাহস
তোর বাড়িয়াছে এবে? এখন(ও) জানিস
আমি রয়েছি জীবিত; এখন(ও) ধরিয়ে
গদা আমার হস্তেতে; এখন(ও) সঞ্চবে
রক্ত এ দেহ ভিতরে: কিসে বল্ তবে
তোর বাড়িল সাহস? কি সাহসে, ধিক্
থাক্, নরাধম, তুই, ধরিস কেশাগ্রে
আজি ভানুমতী সতী? কি বলিলে প্রিয়ে,
প্রতিফল এই মম পূর্ব্ব দুষ্কৃতির?
আমারি দুষ্কর্ম্ম তরে তব অপমান?
ধিক্ মোরে, বৃথা আমি ধরি এ জীবন।
কি বলিলে প্রাণ-প্রিয়ে, এমনি দারুণ
ব্যথা দিয়েছিনু আমি, যবে ধরেছিনু
হায়, কুক্ষণে কেশাগ্রে, রাজসভা মাঝে
সেই পাঞ্চালী সুন্দরী। পঞ্চভ্রাতৃ-হৃদে
এমনি আঘাত, হায়, লেগেছিল তদা।
“দেখিতে দেখিতে একি, কোথা ভানুমতী,
কোথা সেই ভীমসেন, দেখিতে না পাই!
কোথা গেল তারা চলি? অথবা পাগল
কি হইনু আমি, হায়, অবশেষে? এই
দশা ঘটিল কি মোর ভাগ্যে? এ কি দেখি
পুন, কি ভীষণ দৃশ্য, এই না সে চির-
পরিচিত হস্তিনার রাজ সভাস্থল?
আমি উপনীত হেথা আজি একি ভাবে?
রাজসিংহাসন কই?—অধিকার তাহা
করিয়াছে অন্যে?—কেবা সেই অন্য জন,
দেখি নিরখিয়া: উঃ! এই না সে চির-
শত্রু পাণ্ডুর তনয়? যুধিষ্ঠির যারে
কহে। কেমনে আইলা হেথা, কিবা হেতু?
রাজসিংহাসন, ইহা অধিকার মম;
কি সাধ্য অন্যের তাহা করয়ে স্পর্শন।
একি? দুই পার্শ্বে মম নিকটে প্রহরী,
কেন দাঁড়াইয়া আছে এত সন্নিকটে?
কি চাও তোমরা? যথাবিধি, যাও গিয়া
অন্তরে দাঁড়াও। তাহা নহে:—কি বলিলে?
বন্দী আমি আজি হেথা, রক্ষার্থে তোমরা
দাঁড়াইয়া আছ তেঁই সন্নিকটে মম?
যুধিষ্ঠির রাজা আজি, আমি বন্দী তার?
ভয়ানক দৃশ্য, হায়, না পারি দেখিতে।
চিরপরিচিত মম, রাজসভা মাঝে,
পাত্র মিত্র সভাসদ্ যতেক বসিয়া,
সকলেই হৃষ্টচিত্ত দুঃখেতে আমার।
কেবল অদূরে দেখি, এ কি ভয়ানক,
অন্ধ পিতা বসি হেথা; গান্ধারী জননী,
অবিরল অশ্রুজল করেন বর্ষণ:
এই কি দেখাতে মোরে হেথায় আনিলে?
নয়ন মুদিব আমি আর না দেখিব।
“এ কি দৃশ্য পুনরায়! বণে, হতপতি
কুরু-কুলবধূ যত, দল বদ্ধ হয়ে
আজি কোথায় ধাইছে? বদন তাদের
মরি বিবর্ণ শ্রীহীন; যথা দিনকর-
কবে স্নান কুমুদিনী, নীরব সকলে।
ওই যে গর্জ্জিয়া তারা কি কহিছে শুন।”
‘চল চল ত্বরা করি পশিব তথায়
যথা রাজা দুর্য্যোধন; জিজ্ঞাসিব তারে,
কি হেতু এ দশা আজি ঘটাইলে বল
তুমি, কুরুকুল পতি? রাজার উচিত
কার্য্য এই কি করেছ? নিজ পাপ ফলে
মজিলে আপনি, হায়, সবারে মঙ্গলে?’
“হে কর্ণ, বধির তুমি হও এইক্ষণে
শুনিতে নাহিক পারি আর যে লাঞ্ছনা।
“এ কি পুন দেখি? ঐ যে দাঁড়ায়ে, অদূরে
মলিনবেশে বালিকা সুন্দরী; নীরবে
নয়ন-জলে বসন ভিজিছে; সীমন্তে
সিন্দুর নাই, বুঝিবা ইহার পুড়েছে
কপাল এই তরুণ বয়সে। হায়রে,
চিনেছি, এই না আমার নবনীত সমা,
সেই প্রাণ প্রিয়তমা বালা পুত্রবধূ?
হায়, কি বলে বুঝাব এখন ইহাবে?
প্রবোধ কি বলে দিব?” কহিতে কহিতে
অচেতন হয়ে রাজা পড়িল ভূতলে,
ভূধর শিখর যথা পড়ে আচম্বিতে।
নির্বন্ধ বিধির! অতুল ঐশ্বর্য্য ভোগে
মত্ত ছিল যেই জন সদা দিবানিশি;
অগণিত সেনা দল আজ্ঞাকারী যার;
অষ্টাদশ অক্ষৌহিণী যার সনে সদা;
হায়! সেই জন আজি, দীন হীন ভাবে
পড়ি, লুটায় ভূতলে। কার না হয়রে
দুঃখ এ দৃশ্য দেখিয়া। পূজিত সকলে
যারে পৃথ্বীনাথ বলি, অনাথ সে জন
আজি। প্রখর সূর্য্যের কর লাগিতেছে
মুখে; কেবা হায়, ধরে ছত্র, স্বেদজলে
আপ্লুত শরীর, কেবা করয়ে ব্যজন।
কতক্ষণ, এই ভাবে, রহিল পড়িয়া
রাজা হয়ে অচেতন: সংজ্ঞা লাভ করি
পুন বসিল উঠিয়া। হেনকালে তথা
উপনীত হইলেন আসিয়া সঞ্জয়।
জিজ্ঞাসিল মহারাজ দেখিয়া তাহারে;—
“কি হেতু সঞ্জয় তুমি আইলে এখানে?
কহ মোরে শীঘ্র করি রণের বারতা;
কে আছে জীবিত আর এ কাল সমরে?
কি বলিলে হে সঞ্জয়, নিদারুণ কথা;
কৃপাচার্য্য, কৃতবর্ম্মা, দ্রোণের তনয়.
এই তিন জন মাত্র জীবিত কেবল,
নিহত সকলে আর। রে দারুণ বিধি,
এই ছিল তব মনে? এ বিশাল কুরু-
কুল নির্ম্মূল করিতে সমূলে? কি কব
তোমায় বল, দোষিব কেমনে। হায়রে
মজিনু আপন পাপে, মজানু সকলে।
কি কাজ সংসারে আর, কি কাজ জীবনে,
পশিয়া হ্রদের জলে নাশিব জীবনে।
“ত্বরিত গমনে তুমি, যাওহে সঞ্জয়,
যথা অন্ধ পিতা মম, কহিও তাঁহারে,
এ সংসারক্ষেত্র হতে, বিলোপ হইল
এবে দুর্য্যোধন নাম; আর না করিবে
কেহ সে নাম স্মরণ; পুত্রের কামনা
করে যে আশায় পিতা, সকলি বিফল
তাহা হ’ল আমা হ’তে। কোথায় জননী,
জীবন্তে যাতনা কত দিলাম তোমায়,
সমধিক জ্বালাতন হইবে মৃত্যুতে।”
বিদায় সঞ্জয়ে করি, এতেক কহিয়া
পশিতে উদ্যত রাজা হ্রদজল মাঝে;
ভাবিল আবার মনে ব্যাকুলিত চিত্তে,
কহিতে লাগিল পুন অতি মৃদু স্বরে;—
“নাশিলে জীবন, হায়, কিবা ফল তাহে।
হাসিবে শত্রুর দল, চিরদিন তরে।
মনের আনন্দে তারা, হাসিবে সকলে।
বৃদ্ধ পিতা, মাতা, আর প্রিয়া ভানুমতী,
কে রক্ষিবে তাহাদের অপমান হতে?
হৃদয়-আকাশ, বটে, গাঢ় ঘনাবৃত,
তবু যেন মাঝে মাঝে আশার বিজলী,
খেলিছে তাহার পরে; নৈরাশ্য হইতে
পুন আশা সঞ্চারিছে; রাখিতে জীবন
মোরে কে যেন কহিছে। কে যেন কহিছে,
‘কি ভাবনা তব, ওহে, রাজা দুর্য্যোধন,
কিছুকাল তরে তুমি রহ লুক্কায়িত।
পাইবে সময় পুন অবিলম্বে অতি,
হত মান, হৃত রাজ্য, উদ্ধারিতে রণে।’
সমুচিত কোন কার্য্য, ভাবিয়া না পাই:
রাখিব জীবন? কিবা নাশিব জীবন?
কর্ত্তব্য সতত বটে জীবন রক্ষণ;
ফুরাবে সকল আশা জীবন নাশিলে।
রাখিলে জীবন পুন, সময় পাইব।
বরঞ্চ ইহাই শ্রেয়ঃ এই জল মাঝে,
মায়ার প্রভাবে রহি জলস্তম্ভ করি।
সুযোগ পাইলে পুন সংগ্রাম করিব।
সুযোগ সন্ধান লব। এই যে সাহস,
দমিত কভু না হবে বিপদে সম্পদে।”
এতেক কহিয়া তবে, অতি দ্রুত পদে
পশিল তখনি রাজা হ্রদজল মাঝে।