ধম্মপদ/পণ্ডিত বর্গ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


ষষ্ঠ সর্গ।—পণ্ডিতবর্গ।

 

গুপ্তধন-প্রদর্শক জনের মতন
সত্যধর্ম্ম প্রদর্শন করেন যেজন,
বর্জ্জনীয় কার্য্য যিনি দেন দেখাইয়া,
ভর্ৎসনা করেন যিনি কুকর্ম্ম দেখিয়া,
এ হেন মেধাবী জনে দেখিবে যখন
তাহাকে পণ্ডিত জ্ঞানে করিবে ভজন;
তাঁহার পদাঙ্ক ধরি অগ্রসর হ’বে,
অনর্থের নাহি ভয়, মঙ্গল হইবে॥ ১।৭৬॥
করিবেন তিরস্কার পণ্ডিত যেজন
কুকাজে নিবৃত্ত করি করিয়া শাসন;
সজ্জনেরা প্রিয় বলি, তাহাকে ধরিবে
অসাধু অপ্রিয় বলি’ তাহাকে বুঝিবে ॥ ২॥
পাতকী পুরুষাধম সহিত কখন
ক’রোনা সংসারে কেহ মিত্রতা স্থাপন;

ধার্ম্মিক পুরুষ শ্রেষ্ঠ যেইজন হয়,
সংসারে প্রকৃত মিত্র জানিবে নিশ্চয়॥ ২৩॥
ধার্ম্মিক প্রসন্ন মনে করেন বসতি
বৌদ্ধের সাধন পথে পণ্ডিতের রতি॥ ৪॥
মৃত্তিকা খননকারী সলিলে যেমন—
ইচ্ছামত ইতস্ততঃ করে সঞ্চালন,
বাণকে নমিত করে যথা ইষুকার,
কাষ্ঠখণ্ডে দ্রব্য গড়ে যথা সূত্রধার,
পণ্ডিতেরা সেইরূপ আপনার মন
ইচ্ছামত অবিরত করেন শাসন॥ ৫॥ ৮০॥
কঠিন প্রস্তরময় পর্ব্বত যেমন
বায়ুবেগে বিচলিত না হয় কখন,
সেইরূপ এ জগতে পণ্ডিত সকল
নিন্দাস্তুতি উভয়েতে অচল অটল॥ ৬॥
ধর্ম্মের গভীর তত্ত্ব করিয়া শ্রবণ—
—গভীর, তরঙ্গহীন হ্রদের মতন,

প্রশান্ত-হৃদয়ে ধীর পণ্ডিত সুজন
করেন সংসার মাঝে জীবন যাপন॥ ৭॥
সর্ব্ববিধ অবস্থায় পড়ি বিজ্ঞবর
সতত সৎপথ ধরি হন অগ্রসর;
সাধুব্যক্তি কাম্য-বস্তু বিষয় লইয়া,
না করেন কালক্ষয় আলাপ করিয়া।
সুখ বা দুঃখের মাঝে পড়িয়া সেজন,
উদ্ধত বা অবনত না হন কখন॥ ৮॥
পরের নিমিত্ত কিংবা আপনার তরে
রাজ্যধন পুত্র যেই ইচ্ছা নাহি করে,
অধর্ম্মে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি ইচ্ছা যা’র নয়,
সচ্চরিত্র, ধর্ম্মরত, জ্ঞানী সেই হয়॥ ৯॥
নির্ব্বাণ জলধিপারে অল্পলোক যায়
অধিকাংশ তীরে শুধু দৌড়িয়া বেড়ায়॥ ১০॥
ব্যাখ্যাত হইলে ধর্ম্ম উত্তম প্রকারে,
ধর্ম্মের আশ্রয় ভবে যেই জন ধরে,

নিশ্চিত সেজন ত্যজি এ ঘোর সংসার
সুদুস্তর মৃত্যুরাজ্য হইবেক পার॥ ১১॥
প্রকৃত পণ্ডিত ব্যক্তি সংসারে আসিয়া,
দুঃখমলীমসময় জীবন ত্যজিয়া,
সতত স্বচ্ছন্দে সুখে করেন যাপন
শুচিশুভ্র শান্তিময় পবিত্র জীবন॥
ধরি ভিক্ষুব্রত, করি বিবেকে আশ্রয়,
ত্যাগ করি বিষময় বাসনা নিচয়,
চিত্তানন্দে এ জীবন করেন হরণ
সংসারে পণ্ডিত শ্রেষ্ঠ ধন্য সেইজন॥ ১২-১৩॥
বোধিজ্ঞানে[১] প্রতিষ্ঠিত মানস যাহার
বাসনা ত্যজিয়া করে আনন্দে বিহার,
রাগাদি রিপুবিজয়ী সেই জ্যোতিষ্মান্‌
করেন নির্ম্মুক্ত ভাবে ভবে অবস্থান॥ ১৪॥

  1. নিত্য, দিব্য, অনন্ত জ্ঞানের নাম বোধিজ্ঞান। এই জ্ঞান লাভ করিবার সাতটি প্রকরণ আছেঃ―স্মৃতি, ধর্ম্ম প্রবিচয় (ধর্ম্ম-তত্ত্বানুসন্ধান) বীর্য্য, প্রীতি, শান্তি, সমাধি ও উপেক্ষা।