ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের মতো সুন্দর
আল-মা'আরির কবিতা
ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের
মতো সুন্দর
আবু আল আলা আল মা'আরি
(৯৭৩-১০৫৭)
অনুবাদ
এনামূল হক পলাশ
আল-মা'আরির কবিতা
ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের মতো সুন্দর
প্রথম প্রকাশ
মার্চ ২০২১
ISBN : 978-984-35-0133-2
কাভার ডিজাইন: আল নোমান
প্রিন্ট পোয়েটি পাবলিকেশন
১৯/এ কালিবাড়ি রোড। ময়মনসিংহ-২২০০
০১৮২২ ৩০৯৩০৭, ০১৭৯৪ ৭৬৮৬৮১
printpoetrypub@gmail.com
প্রেস
মার্ভেলাস প্রিন্টার্স লি. ৩৮ আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
পরিবেশক
জনান্তিক, ৫০ নীচতলা, আজিজ সুপার মার্কেট।
শাহবাগ, ঢাকা-১০০
১৫০ টাকা (বাংলাদেশ) ১৫০ রুপি (ইন্ডিয়া)
US $ 4 (Other Countries)
উৎসর্গ
আমরা একই মাটির সন্তান,
আমার কবি মনোয়ার সুলতান।
তারপর চক্ষু হয়েছে স্থির
স্মার্ট কবি মাহবুব কবির।
পড়ুয়া আড্ডাবাজ বলে যারে জানি
তিনি লোকমান হেকিম তত্ত্ব জ্ঞানী।
কিছু কথা কওয়া দরকার
‘‘অনুবাদ ছাড়া ‘বিশ্ব সাহিত্য' বলে কিছুর অস্থিত্ব থাকত না। সব সাহিত্যই থেকে যেত আঞ্চলিক সাহিত্য। অনুবাদকের মূল কৃতিত্ব তিনি পৃথিবীর এক প্রান্তের গল্প আরেক প্রান্তের মানুষের কাছে নিয়ে যান। অনুবাদকেরা পুরো পৃথিবীকে এক অখণ্ড বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগীয় ভুবন বানিয়ে তুলেছেন।
কলম্বিয়ার মাকোন্দো গ্রামের গল্প বাংলাদেশের জলেশ্বরীর লোকেদের কাছে নিয়ে এসেছেন অনুবাদক।
দুনিয়ার সব অনুবাদককে লাল সালাম।”- মশিউল আলম
আর এই জায়গা থাইকাই এনামূল হক পলাশরেও সালাম জানানো যায়। আল-মা'আরিরে বাংলায় তরজমার কোশিশের লাইগা। পলাশের কারণেই মা'আরি লগে আমারও পরিচয় ঘটে। সেই পরিচয়ের সূত্রেই আল-মা'আরিরে নিয়া একটু-আধটু গুগলে সার্চ দিতে গিয়া দেখি আগেও আল-মা'আরি বিচ্ছিন্নভাবে বাংলায় তরজমা হইছেন কিন্তু বই আকারে প্রকাশ হইছে কি-না তা নিশ্চিত কইতে পারলাম না। যদি হইয়াও থাকে তবে তা খুব একটা জানাশোনার মাঝে নাই। অনুবাদ হইল দুইটা ভাষার মইধ্যে সম্পর্কের বিষয়। একটা টেক্সট আর একটা টেক্সটে রিডিং হয়। ফলে টেক্সটা ঠিক মতো আপনাইতে পারলে অনুবাদে আসলে নতুন রিডিংই ক্রিয়েট হয়। মা’আরি লেখছেন আরবিতে, সেইখান থাইকা ইংরেজি আর ইংরেজি থাইকা বাংলা করছেন এনামূল হক পলাশ। সেই জায়গায় পলাশ কতটুকু আপনাইতে পারছেন সেইটা তার পাঠকরাই বিচার কিংবা বিবেচনা করবেন। পলাশ মা'আরিরে তরজমা কইরা তার পাঠকের কাছে হাজির করতেছেন; এইটাও একটা বড় বিষয়। আর কোন একজনের সাহিত্য এক অনুবাদে থাইমা থাকে না। এর পরে আরো অনেকে মা'আরির তরজমায় আগাইয়া আসবেন এবং আরো ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে মা'আরি বাংলা পাঠকের সামনে হাজির হবেন, সেই আশাও থাকল।
আল-মা'আরি। পুরা নাম আল আলা আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মা'আরি। ৯৭৩ সাল থাইকা ১০৫৭ সাল পর্যন্ত তার জীবনকাল। তার সময়ে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে খ্যাতি লাভ করছিলেন। মা’আরি বর্তমান সিরিয়ার আলেপ্পোর মা'আরাত আল-নুমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আরবের আল-তানুখি গোত্রের প্রসিদ্ধ পরিবার, বনু সোলায়মানের লোক। বনু সোলায়মানের কিছু লোক কবি হিসাবে খ্যাত ছিলেন। সেই প্রভাবে হয়তো মা'আরিও কবি হইয়া উঠেন। আলমা'আরি গুটি বসন্তের কারণে চার বছর বয়সে আন্ধা হইয়া যান। ১১/১২ বছর বয়সে তার কবি জীবনের শুরু হয়। তিনি মা'আরা ও আলেপ্পোয় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তার গুরু আছিলেন ইবনে খালাওয়াহ। গুরুর মৃত্যুর পর মূলতঃ তার কবি জীবন শুরু হয় যখন তিনি আসলেই ছিলেন শিশু।
মা’আরির ‘সাক্ট আয-জাণ্ড’ আর ‘লুজুমিয়াত' বই দুইখান খুব বিখ্যাত। এই দুইখান বই নিয়াই বেশি আলোচনা হয়। আর আলোচনা হয় তার ধর্ম বিশ্বাস নিয়া। বড় তিনখান ধর্মের জন্মস্থান আরবে জন্মানোর জন্যই হয়তো তার ধর্ম বিশ্বাস নিয়া এই আলোচনাটা বেশি হয়। কোনো জায়গায় মা'আরিরে নাস্তিক আবার কোনো জায়গায় সংশয়বাদি কইয়া উল্লেখ আছে। মা'আরি তিনখান আব্রাহামিক ধর্মরেই আক্রমণ করতেন বইলা উল্লেখ আছে। আর তার আক্রমণের উল্লেখে আছে যে, মা’আরি কইতেন, “উপাসনালয়ের সন্ন্যাসীরা কিংবা উপাসনাকারিরা তাদের লোকালয়ের বিশ্বাসকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে চলছে; যদি তারা অগ্নি উপাসক কিংবা সাবিয়ানদের মধ্যে জন্ম গ্রহণ করত, তবে তারা অগ্নি উপাসক কিংবা সাবিয়ান হতে পারত।” এই কথারে আসলে ধর্মরে আক্রমণের মধ্যে আমি ফেলতে পারি না যদি না তিনি আরো বিশেষ কিছু কইয়া না থাকেন। এই বয়ানে আসলে ধর্মের চাইতেও ধর্মরে ইনহেরিট করা কিংবা ধর্মের সোল এজেন্সি নেওয়া লোকজনরে আক্রমণ করাই আমার এণ্টেনায় ধরা পরে। তার এই কথার সাথে হযরত আলী (রাঃ) কওয়া, “তোমার ধর্ম সম্পর্কে জান, তারে ইনহেরিট কইর না।” অনেক বেশি রিলেট করে।
কওয়া হয়, আল-মা'আরি নাকি জীবনের পবিত্রতায় বিশ্বাসী ছিলেন। নিজের কবিতা সম্পর্কে তিনি কন, “আমি কল্পকাহিনি দিয়া আমার কবিতাগুলা সাজাইতে চাই নাই কিংবা আমার পাতাগুলা প্রেমের প্রতিমা, যুদ্ধের দৃশ্য, মদ খাওয়ার বিবরণ দিয়া পূরণ করতে চাই নাই। আমার উদ্দেশ্য সত্য কওয়া। তাই এর লাইগা অবশ্যই আমার পাঠকদের সহযোগিতা প্রার্থনা করি।
সেই সময়ের আরবরা তারে সহযোগিতা করছিল কি না তা জানা না গেলেও তারে কতল করে নাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মাথা তার ঘাড়ের উপ্রেই ছিল। বর্তমানে হইলে বোধহয় তা আর হইত না। তবে মা'আরিরে না পারলেও বর্তমান জিহাদীরা তার মারা যাওয়ার ১০০০ বছর পরে ২০১৩ সালে আল-মা'আরির প্রতিকৃতির শিরোচ্ছেদ করে।
আল-মা'আরি জীবিত প্রাণীর ক্ষতি না করতে অনুরোধ করছিলেন। নিজে ছিলেন নিরামিষাশী। যাপন করছেন সন্নাসি জীবন। নিজের ঐতিহ্য আর ধর্মীয় দৈববাণীর উপ্রে জায়গা দিছিলেন যুক্তিরে। চাইর বছর বয়সের অন্ধত্ব কিংবা মায়ের অসুস্থতার খবর পাইয়া নিজের শহরে ফিইরা আইসা মায়েরে না পাওয়া এইসব থাইকাই তার কাছে উচ্চারিত হয়-
গুছিয়ে বলতে পারা এক বন্ধুর কথা শুনতে শুনতে
নীরবে কেটে যাওয়া সময়ই দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত।
কিংবা
যদি একজন দুর্বিনীত মানুষ
তোমাকে বিদ্ধ করে কথার তলোয়ারে,
তার প্রান্তটি ভেঙে দিতে,
ধৈর্যের সাথে বিরোধিতা করো তারে।
অর্থাৎ তার উচ্চারণগুলা অহংবোধ থাইকা মানুষরে দূরে সরাইয়া নেয়। সামান্য বিন্দু পরিমান অহংকার প্রকাশ করাইতো ধর্ম থাইকা বিচ্যুত হওয়া। ধর্ম নাশের প্রধান কারন অহংবোধ-তা যে কোনা দিক দিয়াই হউক। এমন কি আমার ধর্মই একমাত্র সত্য, আর আমিই সব জানি এও তো এক ধরনের অহংবোধ। মানুষের অর্জিত জ্ঞান মানুষরে অহংকার থাইকা বাইরে আইনা যে উপলব্ধি দেয় তা হইল, “আমি কিছু নয় রে আমি কিছু নয়/অন্তরে বাহিরে দেখি কেবল দয়াময়।” আর আল-মা'আরির উচ্চারণগুলাও আসলে এই উপলব্দিই দেয়-মানুষরে নিয়া আসে অহংবোধের বাইরে।
সিলেট
ফেব্রুয়ারি, ২০২১এই লেখাটি ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন শেয়ার অ্যালাইক ৪.০ আন্তর্জাতিক লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিনামূল্যে ব্যবহার, বিতরণ ও অভিযোজন করার অনুমতি দেয়, যতক্ষণ পর্যন্ত লাইসেন্সটি অপরিবর্তিত ও পরিষ্কার ভাবে বলা থাকে এবং মূল লেখককে কৃতিত্ব দেওয়া হয় — এবং আপনি যদি এই লেখাটি পরিবর্তন, রূপান্তর বা এর ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেন, তবে আপনাকে অবশ্যই আপনার অবদান মূল লাইসেন্সের মত একই রকমের লাইসেন্সের আওতায় তা বিতরণ করতে হবে।