ধৰ্ম্মপুস্তক অর্থাৎ পুরাতন ও নূতন নিয়মের অন্তর্গত গ্রন্থসমূহ/আদিপুস্তক

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

জগত-সৃষ্টির বিবরণ।

আদিতে ঈশ্বর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করিলেন।

পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল, এবং অন্ধকার জলধির উপরে ছিল, আর ঈশ্বরের আত্মা জলের উপরে অবস্থিতি করিতেছিলেন। পরে ঈশ্বর কহিলেন, দীপ্তি হউক; তাহাতে দীপ্তি হইল। তখন ঈশ্বর দীপ্তি উত্তম দেখিলেন, এবং ঈশ্বর অন্ধকার হইতে দীপ্তি পৃথক্‌ করিলেন। আর ঈশ্বর দীপ্তির নাম দিবস ও অন্ধকারের নাম রাত্রি রাখিলেন। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে প্রথম দিবস হইল।

পরে ঈশ্বর কহিলেন, জলের মধ্যে বিতান হউক, ও জলকে দুই ভাগে পৃথক্‌ করুক। ঈশ্বর এইরূপে বিতান করিয়া বিতানের ঊৰ্দ্ধ্বস্থিত জল হইতে বিতানের অধঃস্থিত জল পৃথক্‌ করিলেন; তাহাতে সেইরূপ হইল। পরে ঈশ্বর বিতানের নাম আকাশমণ্ডল রাখিলেন। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে দ্বিতীয় দিবস হইল।

পরে ঈশ্বর কহিলেন, আকাশমণ্ডলের নীচস্থ সমস্ত জল এক স্থানে সংগৃহীত হউক ও স্থল সপ্রকাশ হউক; তাহাতে সেইরূপ হইল। ১০তখন ঈশ্বর স্থলের নাম ভূমি, ও জলরাশির নাম সমুদ্র রাখিলেন; আর ঈশ্বর দেখিলেন যে, তাহা উত্তম। ১১পরে ঈশ্বর কহিলেন, ভূমি তৃণ, বীজোৎপাদক ওষধি, ও সবীজ স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী ফলের উৎপাদক ফলবৃক্ষ, ভূমির উপরে উৎপন্ন করুক; তাহাতে সেইরূপ হইল। ১২ফলতঃ ভূমি তৃণ, স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী বীজোৎপাদক ওষধি, ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী সবীজ ফলের উৎপাদক বৃক্ষ, উৎপন্ন করিল; আর ঈশ্বর দেখিলেন যে, সে সকল উত্তম। ১৩আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে তৃতীয় দিবস হইল।

১৪পরে ঈশ্বর কহিলেন, রাত্রি হইতে দিবসকে বিভিন্ন করণার্থে আকাশমণ্ডলের বিতানে জ্যোতির্গণ হউক; সে সমস্ত চিহ্নের জন্য, ঋতুর জন্য এবং দিবসের ও বৎসরের জন্য হউক; ১৫এবং পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য দীপ বলিয়া আকাশমণ্ডলের বিতানে থাকুক; তাহাতে সেইরূপ হইল। ১৬ফলতঃ ঈশ্বর দিনের উপরে কর্ত্ত্বত্ব করিতে এক মহাজ্যোতিঃ, ও রাত্রির উপরে কর্ত্তৃত্ব করিতে তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এক জ্যোতিঃ, এই দুই বৃহৎ জ্যোতিঃ, এবং নক্ষত্রসমূহ নিৰ্ম্মাণ করিলেন। ১৭আর পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য, এবং দিবস ও রাত্রির উপরে কর্ত্তৃত্ব করণার্থে, ১৮এবং দীপ্তি হইতে অন্ধকার বিভিন্ন করণার্থে ঈশ্বর ঐ জ্যোতিঃসমূহকে আকাশমণ্ডলের বিতানে স্থাপন করিলেন, এবং ঈশ্বর দেখিলেন যে, সে সকল উত্তম। ১৯আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে চতুর্থ দিবস হইল।

২০পরে ঈশ্বর কহিলেন, জল নানাজাতীয় জঙ্গম প্রাণিবর্গে প্রাণিময় হউক, এবং ভূমির ঊর্দ্ধ্বে আকাশমণ্ডলের বিতানে পক্ষিগণ উড়ুক। ২১তখন ঈশ্বর বৃহৎ তিমিগণের, ও যে নানাজাতীয় জঙ্গম প্রাণিবর্গে জল প্রাণিময় আছে, সে সকলের, এবং নানাজাতীয় পক্ষীর সৃষ্টি করিলেন। পরে ঈশ্বর দেখিলেন যে, সে সকল উত্তম। ২২আর ঈশ্বর সে সকলকে আশীর্ব্বাদ করিয়া কহিলেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, সমুদ্রের জল পরিপূর্ণ কর, এবং পৃথিবীতে পক্ষিগণের বাহুল্য হউক। ২৩আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে পঞ্চম দিবস হইল।

২৪পরে ঈশ্বর কহিলেন, ভূমি নানাজাতীয় প্রাণিবর্গ, অর্থাৎ স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী গ্রাম্য পশু, সরীসৃপ ও বন্য পশু উৎপন্ন করুক; তাহাতে সেইরূপ হইল। ২৫ফলতঃ ঈশ্বর স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী বন্য পশু ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী গ্রাম্য পশু ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী যাবতীয় ভূচর সরীসৃপ নিৰ্ম্মাণ করিলেন; আর ঈশ্বর দেখিলেন যে, সে সকল উত্তম।

২৬পরে ঈশ্বর কহিলেন, আমরা আমাদের প্রতিমূৰ্ত্তিতে, আমাদের সাদৃশ্যে মনুষ্য নিৰ্ম্মাণ করি; আর তাহারা সমুদ্রের মৎস্যদের উপরে, আকাশের পক্ষীদের উপরে, পশুগণের উপরে, সমস্ত পৃথিবীর উপরে, ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় সরীসৃপের উপরে কর্ত্তৃত্ব করুক। ২৭পরে ঈশ্বর আপনার প্রতিমূৰ্ত্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন; ঈশ্বরের প্রতিমূৰ্ত্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে সৃষ্টি করিলেন। ২৮পরে ঈশ্বর তাহাদিগকে আশীর্ব্বাদ করিলেন; ঈশ্বর কহিলেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, এবং পৃথিবী পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর, আর সমুদ্রের মৎস্যগণের উপরে, আকাশের পক্ষিগণের উপরে, এবং ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্ত্তৃত্ব কর। ২৯ঈশ্বর আরও কহিলেন, দেখ, আমি সমস্ত ভূতলে স্থিত যাবতীয় বীজোৎপাদক ওষধি ও যাবতীয় সবীজ ফলদায়ী বৃক্ষ তোমাদিগকে দিলাম, তাহা তোমাদের খাদ্য হইবে। ৩০আর ভূচর যাবতীয় পশু ও আকাশের যাবতীয় পক্ষী ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় কীট, এই সকল প্রাণীর আহারার্থ হরিৎ ওষধি সকল দিলাম। তাহাতে সেইরূপ হইল। ৩১পরে ঈশ্বর আপনার নির্ম্মিত বস্তু সকলের প্রতি দৃষ্টি করিলেন, আর দেখ, সে সকলই অতি উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে ষষ্ঠ দিবস হইল।

এইরূপে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী এবং তদুভয়স্থ সমস্ত বস্তুব্যূহ সমাপ্ত হইল। পরে ঈশ্বর সপ্তম দিনে আপনার কৃত কার্য্য হইতে নিবৃত্ত হইলেন, সেই সপ্তম দিনে আপনার কৃত সমস্ত কার্য্য হইতে বিশ্রাম করিলেন। আর ঈশ্বর সেই সপ্তম দিনকে আশীর্ব্বাদ করিয়া পবিত্র করিলেন, কেননা সেই দিনে ঈশ্বর আপনার সৃষ্ট ও কৃত সমস্ত কার্য্য হইতে বিশ্রাম করিলেন।

প্রথম নরনারীর বিবরণ।

সৃষ্টিকালে যে দিন সদাপ্রভু ঈশ্বর পৃথিবী ও আকাশমণ্ডল নির্ম্মাণ করিলেন, তখনকার আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী বৃত্তান্ত এই। সেই সময়ে পৃথিবীতে ক্ষেত্রের কোন উদ্ভিজ্জ হইত না, আর ক্ষেত্রের কোন ওষধি উৎপন্ন হইত না, কেননা সদাপ্রভু ঈশ্বর পৃথিবীতে বৃষ্টি বর্ষান নাই, আর ভূমিতে কৃষিকর্ম্ম করিতে মনুষ্য ছিল না। আর পৃথিবী হইতে কুজ্‌ঝটিকা উঠিয়া সমস্ত ভূতলকে জলসিক্ত করিল। আর সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিতে আদমকে [অর্থাৎ মনুষ্যকে] নির্ম্মাণ করিলেন, এবং তাহার নাসিকায় ফুঁ দিয়া প্রাণবায়ু প্রবেশ করাইলেন; তাহাতে মনুষ্য সজীব প্রাণী হইল।

আর সদাপ্রভু ঈশ্বর পূর্ব্বদিকে, এদনে, এক উদ্যান প্রস্তুত করিলেন, এবং সেই স্থানে আপনার নির্ম্মিত ঐ মনুষ্যকে রাখিলেন। আর সদাপ্রভু ঈশ্বর ভূমি হইতে সর্ব্বজাতীয় সুদৃশ্য ও সুখাদ্য-দায়ক বৃক্ষ, এবং সেই উদ্যানে মধ্যস্থানে জীবনবৃক্ষ ও সদসদ্‌-জ্ঞান-দায়ক বৃক্ষ, উৎপন্ন করিলেন। ১০আর উদ্যানে জলসেচনার্থে এদন হইতে এক নদী নির্গত হইল, উহা তথা হইতে বিভিন্ন হইয়া চতুর্ম্মুখ হইল। ১১প্রথম নদীর নাম পীশোন; ইহা সমস্ত হবীলা দেশ বেষ্টন করে, তথায় স্বর্ণ পাওয়া যায়, ১২আর সেই দেশের স্বর্ণ উত্তম, এবং সেই স্থানে গুগ্‌গুলু ও গোমেদকমণি জন্মে। ১৩দ্বিতীয় নদীর নাম গীহোন; ইহা সমস্ত কূশ দেশ বেষ্টন করে। ১৪তৃতীয় নদীর নাম হিদ্দেকল, ইহা অশূরিয়া দেশের সম্মুখ দিয়া প্রবাহিত হয়। চতুর্থ নদী ফরাৎ।

১৫পরে সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে লইয়া এদনস্থ উদ্যানের কৃষিকর্ম্ম ও রক্ষার্থে তথায় রাখিলেন। ১৬আর সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে এই আজ্ঞা দিলেন, তুমি এই উদ্যানের সমস্ত বৃক্ষের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করিও; ১৭কিন্তু সদসদ্‌-জ্ঞান-দায়ক যে বৃক্ষ, তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে।

১৮আর সদাপ্রভু ঈশ্বর কহিলেন, মনুষ্যের একাকী থাকা ভাল নয়, আমি তাহার জন্য তাহার অনুরূপ সহকারিণী নির্ম্মাণ করি। ১৯আর সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকা হইতে সকল বন্য পশু ও আকাশের সকল পক্ষী নির্ম্মাণ করিলেন; পরে আদম তাহাদের কি কি নাম রাখিবেন, তাহা জানিতে সেই সকলকে তাঁহার নিকটে আনিলেন, তাহাতে আদম যে সজীব প্রাণীর যে নাম রাখিলেন, তাহার সেই নাম হইল। ২০আদম যাবতীয় গ্রাম্য পশুর ও খেচর পক্ষীর ও যাবতীয় বন্য পশুর নাম রাখিলেন, কিন্তু মনুষ্যের জন্য তাঁহার অনুরূপ সহকারিনী পাওয়া গেল না। ২১পরে সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে ঘোর নিদ্রায় মগ্ন করিলে তিনি নিদ্রিত হইলেন; আর তিনি তাঁহার একখান পঞ্জর লইয়া মাংস দ্বারা সেই স্থান পূরাইলেন। ২২সদাপ্রভু ঈশ্বর আদম হইতে গৃহীত সেই পঞ্জরে এক স্ত্রী নির্ম্মাণ করিলেন ও তাঁহাকে আদমের নিকটে আনিলেন। ২৩তখন আদম কহিলেন, এবার [হইয়াছে]; ইনি আমার অস্থির অস্থি ও মাংসের মাংস; ইহাঁর নাম নারী হইবে, কেননা ইনি নর হইতে গৃহীত হইয়াছেন। ২৪এই কারণ মনুষ্য আপন পিতা মাতাকে ত্যাগ করিয়া আপন স্ত্রীতে আসক্ত হইবে, এবং তাহারা একাঙ্গ হইবে। ২৫ঐ সময়ে আদম ও তাঁহার স্ত্রী উভয়ে উলঙ্গ থাকিতেন, আর তাঁহাদের লজ্জা বোধ ছিল না।

মানবজাতির পাপে পতন।

সদাপ্রভু ঈশ্বরের নির্ম্মিত ভূচর প্রাণীদের মধ্যে সর্প সর্ব্বাপেক্ষা খল ছিল। সে ঐ নারীকে কহিল, ঈশ্বর কি বাস্তবিক বলিয়াছেন, তোমরা এই উদ্যানে কোন বৃক্ষের ফল খাইও না? নারী সর্পকে কহিলেন, আমরা এই উদ্যানস্থ বৃক্ষ সকলের ফল খাইতে পারি; কেবল উদ্যানের মধ্যস্থানে যে বৃক্ষ আছে, তাহার ফলের বিষয় ঈশ্বর বলিয়াছেন, তোমরা তাহা ভোজন করিও না, স্পর্শও করিও না, করিলে মরিবে। তখন সর্প নারীকে কহিল, কোন ক্রমে মরিবে না; কেননা ঈশ্বর জানেন, যে দিন তোমরা তাহা খাইবে, সেই দিন তোমাদের চক্ষু খুলিয়া যাইবে, তাহাতে তোমরা ঈশ্বরের সদৃশ হইয়া সদসদ্‌-জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে। নারী যখন দেখিলেন, ঐ বৃক্ষ সুখাদ্যদায়ক ও চক্ষুর লোভজনক, আর ঐ বৃক্ষ জ্ঞানদায়ক বলিয়া বাঞ্ছনীয়, তখন তিনি তাহার ফল পাড়িয়া ভোজন করিলেন; পরে আপনার মত নিজ স্বামীকে দিলেন, আর তিনিও ভোজন করিলেন। তাহাতে তাঁহাদের উভয়ের চক্ষু খুলিয়া গেল, এবং তাঁহারা বুঝিতে পারিলেন যে তাঁহারা উলঙ্গ; আর ডুমুরবৃক্ষের পত্র সিঙ্গাইয়া ঘাগ্‌রা প্রস্তুত করিয়া লইলেন।

পরে তাঁহারা সদাপ্রভু ঈশ্বরের রব শুনিতে পাইলেন, তিনি দিবাবসানে উদ্যানে গমনাগমন করিতেছিলেন; তাহাতে আদম ও তাঁহার স্ত্রী সদাপ্রভু ঈশ্বরের সম্মুখ হইতে উদ্যানস্থ বৃক্ষসমূহের মধ্যে লুকাইলেন। তখন সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে ডাকিয়া কহিলেন, তুমি কোথায়? ১০তিনি কহিলেন, আমি উদ্যানে তোমার রব শুনিয়া ভীত হইলাম, কারণ আমি উলঙ্গ, তাই আপনাকে লুকাইয়াছি। ১১তিনি কহিলেন, তুমি যে উলঙ্গ, ইহা তোমাকে কে বলিল? যে বৃক্ষের ফল ভোজন করিতে তোমাকে নিষেধ করিয়াছিলাম, তুমি কি তাহার ফল ভোজন করিয়াছ? ১২তাহাতে আদম কহিলেন, তুমি আমার সঙ্গিনী করিয়া যে স্ত্রী দিয়াছ, সে আমাকে ঐ বৃক্ষের ফল দিয়াছিল, তাই খাইয়াছি। ১৩তখন সদাপ্রভু ঈশ্বর নারীকে কহিলেন, তুমি এ কি করিলে? নারী কহিলেন, সর্প আমাকে ভুলাইয়াছিল, তাই খাইয়াছি।

১৪পরে সদাপ্রভু ঈশ্বর সর্পকে কহিলেন, তুমি এই কর্ম্ম করিয়াছ, এই জন্য গ্রাম্য ও বন্য পশুগণের মধ্যে তুমি সর্ব্বাপেক্ষা অধিক শাপগ্রস্ত; তুমি বুকে হাঁটিবে, এবং যাবজ্জীবন ভোজন করিবে। ১৫আর আমি তোমাতে ও নারীতে, এবং তোমার বংশে ও তাহার বংশে পরস্পর শত্রুতা জন্মাইব; সে তোমার মস্তক চূর্ণ করিবে, এবং তুমি তাহার পাদমূল চুর্ণ করিবে।

১৬পরে তিনি নারীকে কহিলেন, আমি তোমার গর্ব্ভবেদনা অতিশয় বৃদ্ধি করিব, তুমি বেদনাতে সন্তান প্রসব করিবে; এবং স্বামীর প্রতি তোমার বাসনা থাকিবে; ও সে তোমার উপরে কর্ত্তৃত্ব করিবে। ১৭আর তিনি আদমকে কহিলেন, যে বৃক্ষের ফলের বিষয়ে আমি তোমাকে বলিয়াছিলাম, তুমি তাহা ভোজন করিও না, তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনিয়া তাহার ফল ভোজন করিয়াছ, এই জন্য তোমার নিমিত্ত ভূমি অভিশপ্ত হইল; তুমি যাবজ্জীবন ক্লেশে উহা ভোগ করিবে; ১৮আর উহাতে তোমার জন্য কণ্টক ও শেয়াল-কাঁটা জন্মিবে, এবং তুমি ক্ষেত্রের ওষধি ভোজন করিবে। ১৯তুমি ঘর্ম্মাক্ত মুখে আহার করিবে, যে পর্য্যন্ত তুমি মৃত্তিকায় প্রতিগমন না করিবে; তুমি ত তাহা হইতেই গৃহীত হইয়াছ; কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে প্রতিগমন করিবে।

২০পরে আদম আপন স্ত্রীর নাম হবা [জীবিত] রাখিলেন, কেননা তিনি জীবিত সকলের মাতা হইলেন। ২১আর সদাপ্রভু ঈশ্বর আদম ও তাঁহার স্ত্রীর নিমিত্ত চর্ম্মের বস্ত্র প্রস্তুত করিয়া তাহাদিগকে পরাইলেন।

২২আর সদাপ্রভু ঈশ্বর কহিলেন, দেখ, মনুষ্য সদসদ্‌-জ্ঞান প্রাপ্ত হইবার বিষয়ে আমাদের একের মত হইল; এখন পাছে সে হস্ত বিস্তার করিয়া জীবনবৃক্ষের ফলও পাড়িয়া ভোজন করে ও অনন্তজীবী হয়। ২৩এই নিমিত্ত সদাপ্রভু ঈশ্বর তাঁহাকে এদনের উদ্যান হইতে বাহির করিয়া দিলেন, যেন, তিনি যাহা হইতে গৃহীত, সেই মৃত্তিকাতে কৃষিকর্ম্ম করেন। ২৪এইরূপে ঈশ্বর মনুষ্যকে তাড়াইয়া দিলেন, এবং জীবনবৃক্ষের পথ রক্ষা করিবার জন্য এদনস্থ উদ্যানের পূর্ব্বদিকে করূবগণকে ও ঘূর্ণায়মান তেজোময় খড়্গ রাগিলেন।

কয়িন ও হেবলের বিবরণ।

পরে আদম আপন স্ত্রী হবার পরিচয় লইলে তিনি গর্ব্ভবতী হইয়া কয়িনকে প্রসব করিয়া কহিলেন, সদাপ্রভুর সহায়তায় আমার নরলাভ হইল। পরে তিনি হেবল নামে তাহার সহোদরকে প্রসব করিলেন। হেবল মেষপালক ছিল, ও কয়িন ভুমিকর্ষক ছিল। পরে কালানুক্রমে কয়িন উপহাররূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভূমির ফল উৎসর্গ করিল। আর হেবলও আপন পালের প্রথমজাত কএকটী পশু ও তাহাদের মেদ উৎসর্গ করিল। তখন সদাপ্রভু হেবলকে ও তাহার উপহার গ্রাহ্য করিলেন; কিন্তু কয়িনকে ও তাহার উপহার গ্রাহ্য করিলেন না; এই নিমিত্ত কয়িন অতিশয় ক্রুদ্ধ হইল, তাহার মুখ বিষণ্ণ হইল। তাহাতে সদাপ্রভু কয়িনকে কহিলেন, তুমি কেন ক্রোধ করিয়াছ? তোমার মুখ কেন বিষণ্ণ হইয়াছে? যদি সদাচরণ কর, তবে কি গ্রাহ্য হইবে না? আর যদি সদাচরণ না কর, তবে পাপ দ্বারে গুঁড়ি মারিয়া রহিয়াছে। তোমার প্রতি তাহার বাসনা থাকিবে, এবং তুমি তাহার উপরে কর্ত্তৃত্ব করিবে। আর কয়িন আপন ভ্রাতা হেবলের সহিত কথোপকথন করিল; পরে তাহার ক্ষেত্রে গেলে কয়িন আপন ভ্রাতা হেবলের বিরুদ্ধে উঠিয়া তাহাকে বধ করিল। পরে সদাপ্রভু কয়িনকে বলিলেন, তোমার ভ্রাতা হেবল কোথায়? সে উত্তর করিল, আমি জানি না; আমার ভ্রাতার রক্ষক কি আমি? ১০তিনি কহিলেন, তুমি কি করিয়াছ? তোমার ভ্রাতার রক্ত ভূমি হইতে আমার কাছে ক্রন্দন করিতেছে। ১১আর এখন, যে ভূমি তোমার হস্ত হইতে তোমার ভ্রাতার রক্ত গ্রহণার্থে আপন মুখ খুলিয়াছে, সেই ভূমিতে তুমি শাপগ্রস্ত হইলে। ১২ভূমিতে কৃষিকর্ম্ম করিলেও তাহা আপন শক্তি দিয়া তোমার সেবা আর করিবে না; তুমি পৃথিবীতে পলাতক ও ভ্রমণকারী হইবে। ১৩তাহাতে কয়িন সদাপ্রভুকে কহিল, আমার অপরাধের ভার অসহ্য। ১৪দেখ, অদ্য তুমি ভূতল হইতে আমাকে তাড়াইয়া দিলে, আর তোমার দৃষ্টি হইতে আমি লুক্কায়িত হইব। আমি পৃথিবীতে পলাতক ও ভ্রমণকারী হইব, আর আমাকে যে পাইবে, সেই বধ করিবে। ১৫তাহাতে সদাপ্রভু তাহাকে কহিলেন, এই জন্য কয়িনকে যে বধ করিবে, সে সাত গুণ প্রতিফল পাইবে। আর সদাপ্রভু কয়িনের নিমিত্ত এক চিহ্ন রাখিলেন, পাছে কেহ তাহাকে পাইলে বধ করে।

১৬পরে কয়িন সদাপ্রভুর সাক্ষাৎ হইতে প্রস্থান করিয়া এদনের পূর্ব্বদিকে নোদ দেশে বাস করিল। ১৭আর কয়িন আপন স্ত্রীর পরিচয় লইলে সে গর্ব্ভবতী হইয়া হনোককে প্রসব করিল। আর কয়িন এক নগর পত্তন করিয়া আপন পুত্ত্রের নামানুসারে তাহার নাম হনেক রাখিল৷ ১৮হনোকের পুত্ত্র ঈরদ, ঈরদের পুত্ত্র মহূয়ায়েল, মহূয়ায়েলের পুত্ত্র মথুশায়েল ও মথূশায়েলের পুত্ত্র লেমক। ১৯লেমক দুই স্ত্রী গ্রহণ করিল, এক স্ত্রীর নাম আদা, অন্যার নাম সিল্লা। ২০আদার গর্ব্ভে যাবল জন্মিল, সে তাম্বুবাসী পশুপালকদের আদিপুরুষ ছিল। ২১তাহার ভ্রাতার নাম যুবল; সে বীণা ও বংশীধারী সকলের আদিপুরুষ ছিল। ২২আর সিল্লার গর্ব্ভে তুবল-কয়িন জন্মিল, সে পিত্তলের ও লৌহের নানা প্রকার অস্ত্র গঠন করিত; তুবল-কয়িনের ভগিনীর নাম নয়মা। ২৩আর লেমক আপন দুই স্ত্রীকে কহিল,

আদে, সিল্লে, তোমরা আমার কথা শুন,
লেমকের ভার্য্যাদ্বয়, আমার বাক্যে কর্ণপাত কর;
কারণ আমি আঘাতের পরিশোধে পুরুষকে,
প্রহারের পরিশোধে যুবাকে বধ করিয়াছি।
২৪যদি কয়িনের বধের প্রতিফল সাত গুণ হয়,
লেমকের বধের প্রতিফল সাতাত্তর গুণ হইবে।

২৫আর আদম পুনর্ব্বার আপন স্ত্রীর পরিচয় লইলে তিনি পুত্ত্র প্রসব করিলেন, ও তাহার নাম শেথ রাখিলেন। কেননা [তিনি কহিলেন,] কয়িন কর্ত্তৃক হত হেবলের পরিবর্ত্তে ঈশ্বর আমাকে আর এক সন্তান দিলেন। ২৬পরে শেথেরও পুত্ত্র জন্মিল, আর তিনি তাহার নাম ইনোশ রাখিলেন। তৎকালে লোকের সদাপ্রভুর নামে ডাকিতে আরম্ভ করিল।

আদম-বংশের বিবরণ।

আদমের বংশাবলি-পত্র এই। যে দিন ঈশ্বর মনুষ্যের সৃষ্টি করিলেন, সেই দিনে ঈশ্বরের সাদৃশ্যেই তাঁহাকে নির্ম্মাণ করিলেন; পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাঁহাদিগের সৃষ্টি করিলেন; এবং সেই সৃষ্টিদিনে তাঁহাদিগকে আশীর্ব্বাদ করিয়া আদম, এই নাম দিলেন। পরে আদম এক শত ত্রিশ বৎসর বয়সে আপনার সাদৃশ্যে ও প্রতিমূর্ত্তিতে পুত্ত্রের জন্ম দিয়া তাহার নাম শেথ রাখিলেন। শেথের জন্ম দিলে পর আদম আট শত বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। সর্ব্বশুদ্ধ আদমের নয় শত ত্রিশ বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

শেথ এক শত পাঁচ বৎসর বয়সে ইনোশের জন্ম দিলেন। ইনোশের জন্ম দিলে পর শেথ আট শত সাত বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। সর্ব্বশুদ্ধ শেথের নয় শত বার বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

ইনোশ নব্বই বৎসর বয়সে কৈননের জন্ম দিলেন। ১০কৈননের জন্ম দিলে পর ইনোশ আট শত পনের বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ১১সর্ব্বশুদ্ধ ইনোশের নয় শত পাঁচ বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

১২কৈনন সত্তর বৎসর বয়সে মহললেলের জন্ম দিলেন। ১৩মহললেলের জন্ম দিলে পর কৈনন আট শত চল্লিশ বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ১৪সর্ব্বশুদ্ধ কৈননের নয় শত দশ বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

১৫মহললেল পঁয়ষট্টি বৎসর বয়সে যেরদের জন্ম দিলেন। ১৬যেরদের জন্ম দিলে পর মহললেল আট শত ত্রিশ বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ১৭সর্ব্বশুদ্ধ মহললেলের আট শত পঁচানব্বই বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

১৮যেরদ এক শত বাষট্টি বৎসর বয়সে হনোকের জন্ম দিলেন। ১৯হনোকের জন্ম দিলে পর যেরদ আট শত বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ২০সর্ব্বশুদ্ধ যেরদের নয় শত বাষট্টি বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

২১হনোক পঁয়ষট্টি বৎসর বয়সে মথূশেলহের জন্ম দিলেন। ২২মথূশেলহের জন্ম দিলে পর হনোক তিন শত বৎসর ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিলেন, এবং আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ২৩সর্ব্বশুদ্ধ হনোক তিন শত পঁয়ষট্টি বৎসর রহিলেন। ২৪হনোক ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন। পরে তিনি আর রহিলেন না, কেননা ঈশ্বর তাঁহাকে গ্রহণ করিলেন।

২৫মথূশেলহ এক শত সাতাশী বৎসর বয়সে লেমকের জন্ম দিলেন। ২৬লেমকের জন্ম দিলে পর মথূশেলহ সাত শত বিরাশী বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ২৭সর্ব্বশুদ্ধ মথূশেলহের নয় শত ঊনসত্তর বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল।

২৮লেমক এক শত বিরাশী বৎসর বয়সে পুত্ত্রের জন্ম দিয়া তাহার নাম নোহ [বিশ্রাম] রাখিলেন; ২৯কেননা তিনি কহিলেন, সদাপ্রভু কর্ত্তৃক অভিশপ্ত ভূমি হইতে আমাদের যে শ্রম ও হস্তের ক্লেশ হয়, তদ্বিষয়ে এ আমাদিগকে সান্ত্বনা করিবে। ৩০নোহের জন্ম দিলে পর লেমক পাঁচ শত পঁচানব্বই বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ৩১সর্ব্বশুদ্ধ লেমকের সাত শত সাতাত্তর বৎসর বয়স হইলে তাঁহার মৃত্যু হইল। ৩২পরে নোহ পাঁচ শত বৎসর বয়সে শেম, হাম ও যেফতের জন্ম দিলেন।

নোহ ও জলপ্লাবনের বৃত্তান্ত

এইরূপে যখন ভূমণ্ডলে মনুষ্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইতে লাগিল ও অনেক কন্যা জন্মিল, তখন ঈশ্বরের পুত্রের মনুষ্যদের কন্যাগণকে সুন্দরী দেখিয়া, যাহার যাহাকে ইচ্ছা, সে তাহাকে বিবাহ ৩ করিতে লাগিল। তাহাতে সদাপ্রভু কহিলেন, আমার আত্মা মনুষ্যদের মধ্যে নিত্য অধিষ্ঠান করিবেন না, তাহাদের বিপথগমনে তাহার। মাংস মাত্র; পরস্তু তাহাদের সময় এক শত বিংশতি বৎসর হইবে। তৎকালে পৃথিবীতে মহাবীরগণ ছিল, এবং তৎপরেও ঈশ্বরের পুত্রের মনুষ্যদের কস্তাদের কাছে গমন করিলে তাহীদের গর্ত্তে সন্তান জন্মিল, তাহারাই সেকালের প্রসিদ্ধ বীর। আর সদাপ্রভু দেখিলেন, পৃথিবীতে মনুয্যের দুষ্টত। বড়, এবং তাহার অন্তঃকরণের চিন্তার সমস্ত কল্পনা নিরন্তর কেবল মন্দ। তাই সদাপ্রভু পৃথিবীতে মনুষ্যের নির্মাণ প্রযুক্ত অনুশোচনা করিলেন, ও মনঃপীড়া পাইলেন। আর সদাপ্রভু কহিলেন, আমি যে মনুষ্যকে স্বষ্টি করিয়াছি, তাহাকে ভূমণ্ডল হইতে উচ্ছিন্ন করিব; মনুষ্যের সহিত পশু, সরীস্বপ জীব ও আকাশের পক্ষীদিগকেও উচ্ছিন্ন করিব; কেনন তাহদের নির্ম্মাণ প্রযুক্ত আমার ৮ অনুশোচনা হইতেছে। কিন্তু নোহ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইলেন।


নোহের বংশ-বৃত্তান্ত এই। নোহ তাৎকালিক লোকদের মধ্যে ধার্ম্মিক ও সিদ্ধ লোক ছিলেন, নোহ ১• ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন। ১০নোহ শেম, ১১ হাম ও যেফৎ নামে তিন পুত্রের জন্ম দেন। ১১তৎকালে পৃথিবী ঈশ্বরের সাক্ষাতে ভ্রষ্ট, পৃথিবী দৌরাত্ম্যে ১২ পরিপূর্ণ ছিল। ১২আর ঈশ্বর পৃথিবীতে দৃষ্টিপাত কারলেন, আর দেখ, সে ভ্রষ্ট হইয়াছে, কেননা পৃথিবস্থ সমুদয় প্রাণী ভ্রষ্টাচারী হইয়াছিল।

১৩তখন ঈশ্বর নোহকে কহিলেন, আমার গোচরে সকল প্রাণীর অন্তিমকাল উপস্থিত, কেনন। তাহাদের দ্বারা পৃথিবী দৌরাত্ম্যে পরিপূর্ণ হইয়াছে; আর দেখ, আমি পৃথিবীর সহিত তাহাদিগকে বিনষ্ট করিব। ১৪তুমি গোফর কাষ্ঠ দ্বার এক জাহাজ নির্ম্মাণ কর। সেই জাহাজের মধ্যে কুঠরী নির্ম্মাণ করিবে, ও তাহার ১৫ ভিতরে ও বাহিরে ধূনা দিয়া লেপন করিবে। ১৫এই প্রকারে তাহ নির্ম্মাণ করিবে। জাহাজ দীর্ঘে তিন শত হত, প্রস্থে পঞ্চাশ হাত ও উচ্চতায় ত্রিশ হাত ১৬ হইবে। ১৬আর তাহার ছাদের এক হাত নীচে বাতায়ন প্রস্তুত করিয়া রাখিবে, ও জাহাজের পাশ্বে দ্বার রাগিবে; তাহার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তাল নির্ম্মাণ ১৭ করিবে। ১৭আর দেখ, আকাশের নীচে প্রাণবায়ুবিশিষ্ট যত জীবজন্তু আছে, সকলকে বিনষ্ট করশীর্থে আমি পৃথিবীর উপরে জলপ্লাবন আনিব, পৃথিবীস্থ সকলে ১৮ প্রাণত্যাগ করিবে। ১৮কিন্তু তোমার সহিত আমি আপনার নিয়ম স্থির করিব; তুমি আপন পুত্রগণ, স্ত্রী ও পুত্রবধূদিগকে সঙ্গে লইয়া সেই জাহাজে প্রবেশ ১৯ করিবে। ১৯আর মাংসবিশিষ্ট সমস্ত জীবজন্তুর স্ত্রীপুরুষ যোড়া যোড়া লইয়। তাহীদের প্রাণরক্ষার্থে আপনার ২• সহিত সেই জাহাজে প্রবেশ করাইবে; ২০সর্ব্বজাতীয় পক্ষী ও সর্ব্বজাতীয় পশু ও সর্ব্বজাতীয় ভূচর সরীস্বপ যোড়া যোড়। প্রাণরক্ষার্থে তোমার নিকটে প্রবেশ ২১ করিবে। ২১আর তোমার ও তাহদের আহারার্থে তুমি সর্ব্বপ্রকার খাদ্য সামগ্রী আনিয়া আপনার নিকটে ২২ সঞ্চয় করিবে। ২২তাহাতে নোহ সেইরূপ করিলেন, ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারেই সকল কর্ম্ম করিলেন।

আর সদাপ্রভু নোহকে কহিলেন, তুমি সপরিবীরে জাহাজে প্রবেশ কর, কেননা এই কালের লোকদের মধ্যে আমার সাক্ষাতে তোমাকেই ধার্ম্মিক ২ দেখিয়াছি। তুমি শুচি পশুর স্ত্রীপুরুষ লইয়। প্রত্যেক জাতির সাত সাত যোড়া, এবং অশুচি পশুর স্ত্রীপুরুল ৩ লইয়। প্রত্যেক জাতির এক এক যোড়া, এবং আকশের পক্ষীদিগেরও স্ত্রীপুরুষ লইয়া প্রত্যেক জাতির সাত সাত যোড়া, সমস্ত ভূমণ্ডলে তাহদের বংশ ৪ রক্ষার্থে তাiপনার সঙ্গে রাখ। কেননা সাত দিনের পর আমি পৃথিবীতে চল্লিশ দিবারাত্র বৃষ্টি বর্ষাইয়। আমার নির্ম্মিত যাবতীয় প্রাণীকে তুমণ্ডল হইতে ৫ উচ্ছিন্ন করিব। তপন নোহ সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে সকল কর্ম্ম করিলেন।

নোহের ছয় শত বৎসর বয়সে পৃথিবীতে জলপ্লাবন ৭ হইল। জলপ্লাবনের অপেক্ষাতে নোহ ও তাহার পুত্রগণ এবং তাহার স্ত্রী ও পুত্রবধূগণ জাহাজে প্রবেশ ৮ করিলেন। নোহের প্রতি ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে শুচি ৯ অশুচি পশুর, এবং পক্ষীর ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবের স্ত্রীপুরুষ যোড়া যোড়ী জাহাজে নোহের নিকটে ১• প্রবেশ করিল। ১০পরে সেই সাত দিন গত হইলে ১১ পৃথিবীতে জলপ্লাবন হইল। ১১নোহের বয়সের ছয় শত বৎসরের দ্বিতীয় মাসের সপ্তদশ দিনে মহাজলধির সমস্ত উনুই ভাঙ্গিয়া গেল, এবং আকাশের ১২ বাতায়ন সকল মুক্ত হইল; ১২তাহাতে পৃথিবীতে চল্লিশ ১৩ দিবারাত্র মহাবৃষ্টি হইল। ১৩সেই দিন নোহ, এবং শেম, হাম ও যেফৎ নামে নোহের পুত্রগণ, এবং তাঁহাদের সহিত নোহের স্ত্রী ও তিন পুত্রবধু জাহাজে প্রবেশ করিলেন। ১৪আর তাহদের সহিত সর্ববজাতীয় বহু পশু, সর্ব্বজাতীয় গ্রাম্য পশু, সর্ব্বজাতীয় ভূচর সরীস্বপ জীব ও সর্ব্বজাতীয় পক্ষী, সর্ব্বজাতীয় গেচর, ১৫প্রাণবায়ুবিশিষ্ট সর্ব্বপ্রকার জীবজন্তু যোড়া যোড়া জাহাজে নোহের নিকটে প্রবেশ করিল। ১৬ফলতঃ তাহার প্রতি ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে সমস্ত প্রাণীর স্ত্রীপুরুষ প্রবেশ করিল। পরে সদাপ্রভু তাহার পশ্চাৎ দ্বার বদ্ধ করিলেন।

১৭আর চল্লিশ দিন পর্য্যন্ত পৃথিবীতে জলপ্লাবন হইল, তাহাতে জল বৃদ্ধি পাইয়া জাহাজ ভাসাইলে ১৮ তাহ মৃত্তিক ছাড়িয়া উঠিল। ১৮পরে জল প্রবল হইয়া পৃথিবীতে অতিশয় বৃদ্ধি পাইল, এবং জাহাজ জলের ১৯ উপরে ভাসিয়া গেল। ১৯আর পৃথিবীতে জল অত্যন্ত প্রবল হইল, আকাশমণ্ডলের অধঃস্থিত সকল মহা২০ পর্ব্বত মগ্ন হইল। ২০তাহার উপরে পনের হাত জল ২১ উঠিয়া প্রবল হইল, পর্ব্বত সকল মগ্ন হইল। ২১তাহাতে ভূচর যাবতীয় প্রাণী—পক্ষী, গ্রাম্য ও বন্য পশু, ভূচর সরীস্বপ সকল এবং মনুষ্য সকল মরিল। ২২স্থলচর যত প্রাণীর নাসিকাতে প্রাণবায়ুর সঞ্চার ২৩ ছিল, সকলে মরিল। ২৩এইরূপে ভূমণ্ডল-নিবাসী সমস্ত প্রাণী—মনুষ্য, পশু, সরীস্বপ জীব ও আকাশীয় পক্ষী সকল উচ্ছিন্ন হইল, পৃথিবী হইতে উচ্ছিন্ন হইল, কেবল নোহ ও তাঁহার সঙ্গী জাহাজস্থ প্রাণীর ২৪ বাচিলেন। ২৪আর জল পৃথিবীর উপরে এক শত পঞ্চাশ দিন পর্য্যন্ত প্রবল থাকিল।

আর ঈশ্বর নোহকে ও জাহাজে স্থিত তাহার সঙ্গী পশ্বাদি যাবতীয় প্রাণীকে স্মরণ করিলেন, ঈশ্বর পৃথিবীতে বায়ু বহাইলেন, তাহাতে জল থামিল। আর জলধির উলুই ও আকাশের বাতায়ন সকল বদ্ধ ৩ এবং আকাশের মহাবৃষ্টি নিবৃত্ত হইল। আর জল ক্রমশঃ ভূমির উপর হইতে সরিয়া গিয়া এক শত ৪ পঞ্চাশ দিনের শেষে হ্রাস পাইল। তাহাতে সপ্তম মাসে, সপ্তদশ দিনে অররটের পকতের উপরে ৫ জাহাজ লাগিয়া রহিল। পরে দশম মাস পর্য্যন্ত জল ক্রমশঃ সরিয়া হ্রাস পাইল; ঐ দশম মাসের প্রথম দিনে পর্ব্বতগণের শৃঙ্গ দেখা গেল।

অীর চল্লিশ দিন গত হইলে নোহ আপনার ৭ নির্ম্মিত জাহাজের বাতায়ন খুলিয়া, একটা দাঁড়কাক ছাড়িয়া দিলেন; তাহাতে সে উড়িয়া ভূমির উপরিস্থ জল শুষ্ক না হওয়া পর্য্যন্ত ইতস্ততঃ গতায়াত করিল। আর ভূমির উপরে জল হ্রাস পাইয়াছে কি না, তাহ জানিবার জন্য তিনি আপনার নিকট হইতে এক ৯ কপোত ছাড়িয়া দিলেন। তাহাতে সমস্ত পৃথিবী জলে আচ্ছাদিত থাকতে কপোত পদার্পণের স্থান পাইল ন, তাই জাহাজে তাহার নিকটে ফিরিয়া আসিল। তখন তিনি হাত বাড়াইয় তাহাকে ধরিলেন ও জাহাজের ভিতরে আপনার নিকটে রাখিলেন। ১০পরে তিনি আর সাত দিন বিলম্ব করিয়া জাহাজ ১১ হইতে সেই কপোত পুনকার ছাড়িয়া দিলেন, ১১এবং কপোতটা সন্ধ্যাকালে তাহার নিকটে ফিরিয়া আসিল। আর দেখ, তাহার চঞ্চুতে জিতবৃক্ষের একটী নবীন পত্র ছিল; ইহাতে নোহ বুঝিলেন, ভূমির উপরে জল ১২ হ্রাস পাইয়াছে। ১২পরে তিনি আর সাত দিন বিলম্ব করিয়া সেই কপোত ছাড়িয়া দিলেন, তখন সে তাহার ১৩ নিকটে আর ফিরিয়া আসিল না। ১৩[ নোহের বয়সের ] ছয় শত এক বৎসরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে পৃথিবীর উপরে জল শুষ্ক হইল; তাহতে নোহ জাহাজের ছাদ খুলিয়া দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, ভূতল ১৪ নির্জল। ১৪পরে দ্বিতীয় মাসের সাতাইশ দিনে ভূমি শুষ্ক হইল।

নোহের সহিত কৃত ঈশ্বরের নিয়ম।

১৫পরে ঈশ্বর নোহকে কহিলেন, ১৬তুমি আপনার স্ত্রী, পুত্রগণ ও পুত্রবধূগণকে সঙ্গে লইয়া জাহাজ হইতে ১৭ বাহিরে যাও। ১৭আর তোমার সঙ্গী পশু, পক্ষী, ও ভূচর সরীস্বপ প্রভৃতি মাংসময় যত জীবজন্তু আছে, সেই সকলকে তোমার সঙ্গে বাহিরে আন, তাহারা পৃথিবীকে প্রাণিময় করুক, এবং পৃথিবীতে প্রজীবন্ত ও ১৮ বহুবংশ হউক। ১৮তখন নোহ আপনার পুত্রগণ এবং আপনার স্ত্রী ও পুত্রবধূগণকে সঙ্গে লইয়া বাহির ১৯ হইলেন। ১৯আর স্ব স্ব জাতি অনুসারে প্রত্যেক পশু, সরীস্বপ জীব ও পক্ষী, সমস্ত ভূচর প্রাণী জাহাজ হইতে বাহির হইল।

২০পরে নোহ সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞবেদি নির্ম্মাণ করিলেন, এবং সর্ব্বপ্রকার শুচি পশুর ও সর্ব্বপ্রকার শুচি পক্ষীর মধ্যে কতকগুলি লইয়া বেদির উপরে ২১ হোম করিলেন। ২১তাহাতে সদাপ্রভু তাহার সৌরভ আম্রাণ করিলেন, আর সদাপ্রভু মনে মনে কহিলেন, আমি মনুষ্যের জন্য ভূমিকে আর অভিশাপ দিব না, কারণ বাল্যকাল অবধি মনুষ্যের মনস্কল্পনা দুষ্ট; যেমন করিলাম, তেমন আর কখনও সকল প্রাণীকে ২২ সংহার করিব না। ২২যাবৎ পৃথিবী থাকিবে, তাবৎ শস্ত বপনের ও শস্ত ছেদনের সময়, এবং শীত ও উত্তাপ, এবং গ্রীষ্মকাল ও হেমন্তকাল, এবং দিবা ও রাত্রি, এই সকলের নিবৃত্তি হইবে না।

পরে ঈশ্বর নোহকে ও তাহার পুত্রগণকে এই আশীর্ব্ববাদ করিলেন, তোমরা প্রজীবন্ত ও বহুবংশ ২ হও, পৃথিবী পরিপূর্ণ কর। পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও আকাশের যাবতীয় পক্ষী তোমাদের হইতে ভীত ও ত্রাদযুক্ত হইবে; সমস্ত ভূচর জীব ও সমুদ্রের সমস্ত মৎস্য শুদ্ধ সে সকল তোমাদেরই হস্তে সমর্পিত। প্রত্যেক গমনশীল প্রাণী তোমাদের খাদ্য হইবে . আমি হরিৎ ওষধির ন্তায় সে সকল তোমাদিগকে ৪ দিলাম। কিন্তু সপ্রাণ অর্থাৎ সরক্ত মাংস ভোজন ৫ করিও না। আর তোমাদের রক্তপাত হইলে আমি তোমাদের প্রাণের পক্ষে তাহার পরিশোধ অবশ্য লইব; সকল পশুর নিকটে তাহার পরিশোধ লইব, এবং মনুষ্যের ভ্রাতা মনুষ্যের নিকটে আমি মনুষ্যের ৬ প্রাণের পরিশোধ লইব। যে কেহ মনুষ্যের রক্তপাত করিবে, মনুষ্য কর্তৃক তাহার রক্তপাত করা যাইবে: কেননা ঈশ্বর আপন প্রতিমূর্ত্তিতে মনুষ্যকে নির্ম্মাণ ৭ করিয়াছেন। তোমরা প্রজীবন্ত ও বহুবংশ হও, পৃথিবীকে প্রাণিময় কর, ও তন্মধ্যে বর্দ্ধিষ্ণু হও।

পরে ঈশ্বর নোহকে ও তাঁহার সঙ্গী পুত্রগণকে কহিলেন, দেখ, তোমাদের সহিত, তোমাদের ভাবী বংশের সহিত ১০ও তোমাদের সঙ্গী যাবতীয় প্রাণীর ১• সহিত, পক্ষী এবং গ্রাম্য ও বন্য পশু, পৃথিবীস্থ যত প্রাণী জাহাজ হইতে বাহির হইয়াছে, তাহদের সহিত ১১ আমি আমার নিয়ম স্থির করি। ১১আমি তোমাদের সহিত আমার নিয়ম স্থির করি; জলপ্লাবন দ্বারা সমস্ত প্রাণী আর উচ্ছিন্ন হইবে না; এবং পৃথিবীর ১২ বিনাশার্থ জলপ্লাবন আর হইবে না। ১২ঈশ্বর আরও কহিলেন, আমি তোমাদের সহিত ও তোমাদের সঙ্গী যাবতীয় প্রাণীর সহিত চিরস্থায়ী পুরুষপরম্পরার জন্য ১৩ যে নিয়ম স্থির করিলাম, তাহার চিহ্ন এই। ১৩আমি মেঘে আপন ধনু স্থাপন করি, তাহাই পৃথিবীর সহিত ১৪ আমার নিয়মের চিহ্ন হইবে। ১৪যখন আমি পুথিবীর উর্দ্ধে মেঘের সঞ্চার করিব, তখন সেই ধনু মেঘে দৃষ্ট ১৫ হইবে; ১৫তাহাতে তোমাদের সহিত ও মাংসময় সমস্ত প্রাণীর সহিত আমার যে নিয়ম আছে, তাহ আমার স্মরণ হইবে, এবং সকল প্রাণীর বিনাশার্থ জলপ্লাবন ১৬ আর হইবে না। ১৬আর মেঘধনুক হইলে আমি তাহার প্রতি দৃষ্টিপাত করিব; তাহাতে মাংসময় যত প্রাণী পৃথিবীতে আছে, তাহদের সহিত ঈশ্বরের যে চির১৭ স্থায়ী নিয়ম, তাহ। আমি স্মরণ করিব। ১৭ঈশ্বর নোহকে কহিলেন, পৃথিবীস্থ সমস্ত প্রাণীর সহিত আমার স্থাপিত নিয়মের এই চিহ্ন হইবে।

নোহের তিন পুত্রের বিবরণ।

১৮নোহের যে পুত্রেরা জাহাজ হইতে বাহির হইলেন, তাহদের নাম শেম, হাম ও যেফৎ; সেই হাম ১৯ কনানের পিত। ১৯এই তিন জন নোহের পুত্র; ইহাদেরই বংশ সমস্ত পৃথিবীতে ব্যাপ্ত হইল।

২০পরে নোহ কৃষিকর্ম্মে প্রবৃত্ত হইয়া দ্রাক্ষাক্ষেত্র ২১ করিলেন। ২১আর তিনি দ্রাক্ষারস পান করিয়া মত্ত হইলেন, এবং তাম্বুর মধ্যে বিবস্ত্র হইয়া পড়ি২২ লেন। ২২তখন কনানের পিতা হাম আপন পিতার উলঙ্গতা দেখিয়া বাহিরে আপন দুই ভ্রাতাকে ২৩ সমাচার দিল। ২৩তাহাতে শেম ও যেফৎ বস্ত্র লইয়া আপনাদের স্বন্ধে রাখিয়া পশ্চাৎ হাটিয়া পিতার উলঙ্গত আচ্ছাদন করিলেন; পশ্চাদিকে মুখ থাকাতে তাহাবা পিতার উলঙ্গতা দেখিলেন না। ২৪পরে নোহ দ্রাক্ষরসের নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইয়া আপনার প্রতি কনিষ্ঠ পুত্রের আচরণ অবগত হই২৫ লেন। ২৫আর তিনি কহিলেন,

কনান অভিশপ্ত হউক,
সে আপন ভ্রাতাদের দাসানুদাস হইবে।

২৬তিনি আরও কহিলেন,

শেমের ঈশ্বর সদাপ্রভু ধন্য;
কনান তাহার দাস হউক।
২৭ঈশ্বর যেফৎকে বিস্তীর্ণ করুন:

সে শেমের তাম্বুতে বাস করুক,
আর কনান তাহার দাস হউক।

২৮জলপ্লাবনের পরে নোহ তিন শত পঞ্চাশ বৎসর ২৯ জীবৎ থাকিলেন। ২৯সর্ব্বশুদ্ধ নোহের নয় শত পঞ্চাশ বৎসর বয়স হইলে তাহার মৃত্যু হইল।

নোহের বংশের বিবরণ।

১০নোহের পুত্র শেম, হাম ও যেফতের বংশবৃত্তান্ত এই। জলপ্লাবনের পরে তাহদের সন্তান সন্ততি জন্মিল।

যেফতের সন্তান—গোমর, মাগোগ, মাদয়, যবন, ৩ তুবল, মেশক ও তীরস। গোমরের সন্তান—অস্কিনস, ৪ রফিৎ ও তোগম। যবনের সন্তান—ইলীশ, তশীশ, ৫ কির্ত্তীম ও দোদীনীম। এই সকল হইতে জাতিগণের দ্বীপনিবাসীরা আপন আপন দেশে স্ব স্ব ভাষানুসারে আপন আপন জাতির নানা গোষ্ঠীতে বিভক্ত হইল।

আর হামের সন্তান-কুশ, মিসর, পূট ও কনান। কুশের সন্তান—সব, হবীল, সপ্ত, রয়ম ও ৭ সপ্তকা। রয়মার সন্তান—শিব ও দদন। নিম্রোদ কুশের পুত্র; তিনি পৃথিবীতে পরাক্রমা ৯ হইতে লাগিলেন। তিনি সদাপ্রভুর সাক্ষাতে পরাক্রান্ত ব্যাধ হইলেন; তজ্জন্ত লোরে বলে, সদাপ্রভুর ১০ সাক্ষাতে পরাক্রান্ত ব্যাধ নিম্রোদের তুল্য। ১০শিনিয়র দেশে বাবিল, এরক, অক্কদ ও কলনী, এই সকল ১১ স্থান তাহার রাজ্যের প্রথম অংশ ছিল। ১১সেই দেশ হইতে তিনি অশূরে গিয়া নীনবী, রহোবোৎ পুরা, ১২ কেলহ, ১২এবং নীনবী ও কেলহের মধ্যস্থিত রেষণ পত্তন ১৩ করিলেন; উহা মহানগর। ১৩আর লুদায়, অনামীয়, ১৪ লহাবীয়, নধুহীয়, ১৪পথেষীয়, পলেষ্টীয়দের আদিপুরুষ কসলুহায়, এবং কপ্তোরীয়, এই সকল মিসরের ১৫ সন্তান। ১৫এবং কনানের জ্যেষ্ঠ পুত্র সীদোন, তাহার ১৬ পর হেৎ, ১৬যিবুরীয়, ইমোরীয়, গির্গাশীয়, ১৭হিব্বীয়, ১৭ অকীয়, সীনীয়, ১৮অর্বদীয়, সমারীয় ও হমাতীয়। পরে ১৮ কনানীয়দের গোষ্ঠী সকল বিস্তারিত হইল। ১৯সীদোন ১৯ হইতে গরীরের দিকে ঘসা পর্য্যন্ত, এবং সদোম, ঘমোরা, অদূম ও সবোয়মের দিকে লাশ। পয্যন্ত ২০ কনানীয়দের সীমা ছিল। ২০আপন আপন গোষ্ঠী, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারে এই সকল হামের সন্তান।

২১যে শেম এবরের সকল সন্তানের আদিপুরুষ, আর যেফতের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, তাহারও সন্তান সন্ততি ছিল। ২২শেমের এই সকল সন্তান—এলম, অশূর, আফকষদ, ২৩ লুদ ও অরাম। ২৩অরামের সন্তান—উষ, হল, গেথর ২৪ ও মশ। ২৪আর অফক্ষদ শেলহের জন্ম দিলেন, ও শেলহ ২৫ এবরের জন্ম দিলেন। ২৫এবরের দুই পুত্র; একের নাম পেলগ [বিভাগ], কেনন তৎকালে পৃথিবী বিভক্ত ২৬ হইল; তাহার ভ্রাতার নাম যক্তন। ২৬আর যক্তন ২৭ অলমোদদ, শেলফ, হৎসমাবৎ, যেরহ, ২৭হদোরাম ২৮ উষল, দিক্ল, ২৮ওবল, আবীমায়েল, শিবা, ২৯ওফীর, হবীল। ア ২৯ ও যোববের জন্ম দিলেন ; এই সকলে যক্তনের ৩• সন্তান। মেষ অবধি পুৰ্ব্বদিকের সফার পর্বত পৰ্য্যন্ত ৩১ তাহীদের বসতি ছিল । আপন আপন গোষ্ঠী, ভাষা, দেশ, ও জাতি অনুসারে এই সকল শেমের সন্তান । আপন আপন বংশ ও জাতি অনুসারে ইহার নোহের সন্তানদের গোষ্ঠী ; এবং জলপ্লাবনের পরে ইহাদের হইতে উৎপন্ন নানা জাতি পৃথিবীতে বিভক্ত হইল । ৩২ বাবিলে ভাষা-ভেদ । SS সমস্ত পৃথিবীতে এক ভাষা ও একরূপ কথা ছিল। পরে লোকেরা পূৰ্ব্বদিকে ভ্রমণ করিতে ২ করিতে শিনিয়র দেশে এক সমস্থলী পাইয়া সে ৩ স্থানে বসতি করিল ; আর পরস্পর কহিল, আইস, আমরা ইষ্টক নিৰ্ম্মাণ করিয়া অগ্নিতে দগ্ধ করি ; তাহাতে ইষ্টক তাহদের প্রস্তর ও মেটিয়া তৈল চূণ ৪ হইল। পরে তাহার। কহিল, আইস, আমরা আপনাদের নিমিত্তে এক নগর ও গগনস্পর্শী এক উচ্চগৃহ নিৰ্ম্মাণ করিয়া আপনাদের নাম বিখ্যাত করি, পাছে সমস্ত ভূমণ্ডলে ছিন্নভিন্ন হই । পরে মনুষ্যসন্তানের যে নগর ও উচ্চগৃহ নিৰ্ম্মাণ করিতেছিল, ৬ তাহ দেখিতে সদাপ্রভু নামিয়া আসিলেন। আর সদাপ্রভু কহিলেন, দেখ, তাহারা সকলে এক জাতি ও এক ভাষাবাদী ; এখন এই কৰ্ম্মে প্রবৃত্ত হইল : ইহার পরে যে কিছু করিতে সঙ্কল্প করিবে, তাহ। ৭ হইতে নিবারিত হইবে না। আইস, আমরা নীচে গিয়া, সেই স্থানে তাহীদের ভাষার ভেদ জন্মাই, যেন তাহার এক জন অন্তের ভাষা বুঝিতে ৮ ন পারে। আর সদাপ্রভু তথা হইতে সমস্ত ভূমণ্ডলে তাহাদিগকে ছিন্নভিন্ন করিলেন, এবং ৯ তাহারা নগর পত্তন হইতে নিবৃত্ত হইল। এই জন্ত সেই নগরের নাম বাবিল (ভেদ] থাকিল ; কেনন। সেই স্থানে সদাপ্রভু সমস্ত পৃথিবীর ভাষার ভেদ জন্মাইয়াছিলেন, এবং তথা হইতে সদাপ্রভু তাহাদিগকে সমস্ত ভূমণ্ডলে ছিন্নভিন্ন করিয়াছিলেন। শেম-বংশের বিবরণ । শেমের বংশ-বৃত্তান্ত এই । শেম এক শত বৎসর বয়সে, জলপ্লাবনের দুই বৎসর পরে, আফক্ষদের ১১ জন্ম দিলেন। আফক্ষদের জন্ম দিলে পর শেম পাচ শত বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন । - ১২ অফক্ষদ পয়ত্রিশ বৎসর বয়সে শেলহের জন্ম ১৩ দিলেন। শেলহের জন্ম দিলে পর অফক্ষদ চারি শত তিন বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন । শেলহ ত্রিশ বৎসর বয়সে এবরের জন্ম দিলেন । У о > 8 আদিপুস্তক । [ > 0 ; ২৯– ১ ২ ; ৩ । ১৫ এবরের জন্ম দিলে পর শেলহ চারি শত তিন বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ১৬ এবর চৌত্রিশ বৎসর বয়সে পেলগের জন্ম ১৭ দিলেন । পেলগের জন্ম দিলে পর এবর চারি শত ত্রিশ বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ৰকস্তার জন্ম দিলেন । ১৮ পেলগ ত্রিশ বৎসর বয়সে রিয়ুর জন্ম দিলেন। ১৯ রিয়ুর জন্ম দিলে পর পেলগ দুই শত নয় বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ২• রিয়ু বত্রিশ বৎসর বয়সে সরূগের জন্ম দিলেন। ২১ সরূগের জন্ম দিলে পর রিয়ু দুই শত সপ্ত বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন । ২২ সরূগ ত্রিশ বৎসর বয়সে নাহোরের জন্ম দিলেন । ২৩ নাহোরের জন্ম দিলে পর সরূগ দুই শত বৎসর জীবৎ থাকিয় আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন। ২৪ নাহোর উনত্রিশ বৎসর বয়সে তেরহের জন্ম ২৫ দিলেন । তেরহের জন্ম দিলে পর নাহোর এক শত উনিশ বৎসর জীবৎ থাকিয়া আরও পুত্ৰকস্তার জন্ম দিলেন । তেরহ সত্তর বৎসর বয়সে অব্রাম, মাহোর ও হারণের জন্ম দিলেন । তেরহের বংশ-বৃত্তান্ত এই । তেরহ আব্রাম, নাহোর ও হারণের জন্ম দিলেন। আর হারণ লোটের জন্ম ২৮ দিলেন। কিন্তু হারণ আপন পিতা তেরহের সাক্ষাতে আপন জন্মস্থান কল্দীয় দেশের উরে প্রাণত্যাগ ২৯ করিলেন। অব্রাম ও নাহোর উভয়েই বিবাহ করিলেন ; অব্রামের স্ত্রীর নাম সারী, ও নাহোরের স্ত্রীর নাম মিল্ক । এই স্ত্রী হারণের কন্যা ; হারণ ৩০ মিলকার ও যিস্কার পিতা। সারী বন্ধ্যা ছিলেন, তাহার সন্তান হইল না । আর তেরহ আপন পুত্র অব্রামকে ও হারণের পুত্ৰ আপন পৌত্র লোটকে এবং আব্রামের স্ত্রী সারী নামী পুত্রবধূকে সঙ্গে লইলেন ; তাহারা একসঙ্গে কনান দেশে যাইবার নিমিত্তে কলদীয় দেশের উর হইতে যাত্র করিলেন ; আর হীরণ নগর পয্যন্ত গিয়া ৩২ তথায় বসতি করিলেন। পরে তেরহের দুই শত পাচ বৎসর বয়স হইলে ঐ হারণে তাহার মৃত্যু হইল। অব্রামের বিবরণ। S ૨ সদাপ্রভু আব্রামকে কহিলেন, তুমি আপন দেশ, জ্ঞাতিকুটুম্ব ও পৈতৃক বাট পরিত্যাগ করিয়া, আমি যে দেশ তোমাকে দেখাই, সেই দেশে ২ চল । আমি তোমা হইতে এক মহাজাতি উৎপন্ন করিব, এবং তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়া তোমার নাম মহৎ করিব, তাহাতে তুমি আশীৰ্ব্ববাদের আকর ৩ হইবে । যাহার তোমাকে আশীৰ্ব্ববাদ করিবে, তাহাদিগকে আমি আশীৰ্ব্বাদ করিব . যে কেহ তোমাকে অভিশাপ দিবে, তাহাকে আমি অভিশাপ দিব : ミや ミ* ○> [1 وا لا ; (گ و س-8 ; * لا এবং তোমাতে ভূমণ্ডলের যাবতীয় গোষ্ঠী আশীৰ্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে । পরে অব্রাম সদাপ্রভুর সেই বাক্যানুসারে যাত্র করিলেন ; এবং লোটও তাহার সঙ্গে গেলেন। হরণ হইতে প্রস্থান কালে অব্রামের পচাত্তর বৎসর ৫ বয়স ছিল । অব্রাম আপন স্ত্রী সারীকে ও ভ্রাতুষ্পপুত্র লোটকে এবং হারণে র্তাহারা যে ধন উপার্জন করিয়াছিলেন, ও যে প্রাণিগণকে লাভ করিয়াছিলেন, সে সমস্ত লইয়া কনান দেশে গমনার্থে যাত্র করিলেন, ৬ এবং কনান দেশে আসিলেন । আর আব্রাম দেশ দিয়া যাইতে যাইতে শিথিম স্থানে, মোরির এলোন বৃক্ষের নিকটে উপস্থিত হইলেন। তৎকালে কনানীয়ের সেই দেশে বাস করিত। পরে সদাপ্রভু অব্রামকে দর্শন দিয়া কহিলেন, আমি তোমার বংশকে এই দেশ দিব ; আর সেই স্থানে অব্রাম সেই সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিলেন, যিনি তাহাকে দর্শন দিয়াছিলেন। পরে তিনি ঐ স্থান ত্যাগ করিয়া পৰ্ব্বতে গিয়া বৈথেলের পূর্বদিকে আপনার তাম্বু স্থাপন করিলেন ; তাহার পশ্চিমে বৈথেল ও পূৰ্ব্বদিকে অয় ছিল ; তিনি সে স্থানে সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিলেন, ও সদাপ্রভুর নামে ডাকিলেন । ৯ পরে অব্রাম ক্রমে ক্রমে দক্ষিণে গমন করিলেন। ১. আর দেশে দুর্ভিক্ষ হইল, তখন অব্রাম মিসরে প্রবাস করিতে যাত্র করিলেন ; কেননা কিনান] ১১ দেশে ভারী দুর্ভিক্ষ হইয়াছিল। আর অব্রাম যখন মিসরে প্রবেশ করিতে উদ্যত হন, তখন আপন স্ত্রী সারীকে কহিলেন, দেখ, আমি জানি, তুমি দেখিতে ১২ সুন্দরী ; এ কারণ মিশ্ৰীয়ের যথন তোমাকে দেখিবে, তখন তুমি আমার স্ত্রী বলিয়। আমাকে বধ ১৩ করিবে, আর তোমাকে জীবিত রাখিবে । বিনয় করি, এই কথা বলিও যে, তুমি আমার ভগিনী ; যেন তোমার অনুরোধে আমার মঙ্গল হয়, ও তোমাহেতু আমার প্রাণ বাচে। ১৪ পরে অব্রাম মিসরে প্রবেশ করিলে মিশ্ৰীয়ের ১৫ ঐ স্ত্রীকে পরমসুন্দরী দেখিল। আর ফরেীণের অধ্যক্ষগণ র্তাহাকে দেখিয়া ফরেীণের সাক্ষাতে র্তাহার প্রশংসা করিলেন ; তাহাতে সেই স্ত্রী ফরেী১৬ শের বাটীতে নীত হইলেন। আর তাহার অনুরোধে তিনি অব্রামকে আদর করিলেন ; তাহাতে অব্রাম মেষ, গোরু, গর্দভ এবং দাস দাসী, গর্দভী ও ১৭ উষ্ট পাইলেন। কিন্তু অব্রামের স্ত্রী সারীর জন্য সদাপ্রভু ফরেীণ ও তাহার পরিবারের উপরে ভারী ১৮ ভারী উৎপাত ঘটাইলেন। তাহাতে ফরেীণ অব্রামকে ডাকিয়া কহিলেন, আপনি আমার সহিত এ কি ব্যবহার করিলেন ? উনি আপনার স্ত্রী, এ কথা ১৯ আমাকে কেন বলেন নাই ? উহাকে আপনার ভগিনী কেন বলিলেন ? আমি ত উহঁাকে বিবাহ

8

bo আদিপুস্তক । o করিতে লইয়াছিলাম। এখন আপনার স্ত্রীকে লইয়৷ ২• চলিয়া যাউন। তখন ফরেীণ লোকদিগকে তাহার বিষয়ে আজ্ঞা দিলেন, আর তাহারা সৰ্ব্বস্বের সহিত তাহাকে ও র্তাহার স্ত্রীকে বিদায় করিল। অব্রাম ও লোটের বিবরণ । S○ পরে অব্রাম ও তাহার স্ত্রী সমস্ত সম্পত্তি লইয়া লোটের সঙ্গে মিসর হইতে কেনন ২ দেশের] দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রা করিলেন। অব্রাম পশু৩ ধনে ও স্বর্ণ রৌপ্যে অতিশয় ধনবান ছিলেন। পরে তিনি দক্ষিণ হইতে বৈথেলের দিকে যাইতে যাইতে বৈঞ্চেলের ও অয়ের মধ্যবৰ্ত্তা যে স্থানে ৪ পূর্বে তাহার তাম্বু স্থাপিত ছিল, সেই স্থানে আপনার পূর্বনিৰ্ম্মিত যজ্ঞবেদির নিকটে উপস্থিত হইলেন ; তথায় অব্রাম সদাপ্রভুর নামে ৫ ডাকিলেন। আর অব্রামের সহযাত্রী লোটেরও ৬ অনেক মেষ ও গো এবং তাম্বু ছিল। আর সেই দেশে একত্র বাস সম্পোষ্য হইল না, কেনন। তাহাদের প্রচুর সম্পত্তি থাকাতে তাহার একত্র ৭ বাস করিতে পারিলেন না। আর অব্রামের পশুপালকদের ও লেটের পশুপালকদের পরস্পর বিবাদ হইল। — তৎকালে সেই দেশে কনানীয়েরা ও ৮ পরিষয়ের বসতি করিত।— তাহাতে অব্রাম লোটকে কহিলেন, বিনয় করি, তোমাতে ও আমাতে এবং তোমার পশুপালকগণে ও অামার পশুপালকগণে বিবাদ না হউক ; কেননা আমরা ৯ পরস্পর জ্ঞাতি। তোমার সম্মুখে কি সমস্ত দেশ নাই ? বিনয় করি, আম৷ হইতে পৃথক হও ; হয়, তুমি বামে যাও, আমি দক্ষিণে যাই ; নয়, তুমি দক্ষিণে যাও, আমি বামে যাই । তখন লোট চক্ষু তুলিয়া দেখিলেন, যদিনের সমস্ত অঞ্চল সোয়র পর্য্যন্ত সৰ্ব্বত্র সজল, সদাপ্রভুর উদ্যানের ন্যায়, মিসর দেশের হ্যায়, কেনন। তৎকালে সদাপ্রভু সদোম ও ঘমোরা বিনষ্ট ১১ করেন নাই । অতএব লোট আপনার নিমিত্তে যর্দনের সমস্ত অঞ্চল মনোনীত করিয়৷ পূৰ্ব্বদিকে প্রস্থান করিলেন ; এইরূপে তাহারা পরস্পর পৃথকৃ ১২ হইলেন । অব্রাম কনান দেশে থাকিলেন, এবং লোট সেই অঞ্চলস্থিত নগরসমূহের মধ্যে থাকিয়া সদোমের নিকট পর্য্যন্ত তাম্বু স্থাপন করিতে ১৩ লাগিলেন। সদোমের লোকেরা অতি দুষ্ট ও সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে অতি পাপিষ্ঠ ছিল। অব্রাম হইতে লোট পৃথক্ হইলে পর সদাপ্রভু অব্রামকে কহিলেন, চক্ষু তুলিয়৷ এই যে স্থানে তুমি আছ, এই স্থান হইতে উত্তর দক্ষিণে ও পূৰ্ব্ব ১t পশ্চিমে দৃষ্টিপাত কর ; কেননা এই যে সমস্ত দেশ তুমি দেখিতে পাইতেছ, ইহা আমি তোমাকে ১৬ ও যুগে যুগে তোমার বংশকে দিব । আর পৃথিবীস্থ > 6 S 8 9 У о ধুলির স্তায় তোমার বংশবৃদ্ধি করিব ; কেহ যদি পৃথিবীস্থ ধূলি গণিতে পারে, তবে তোমার বংশও ১৭ গণ যাইবে। উঠ, এই দেশের দীর্ঘপ্রস্থে পৰ্য্যটন কর, কেননা আমি তোমাকেই ইহা দিব । তখন অব্রাম তাম্বু তুলিয়া হিরোণে স্থিত মস্ত্রির এলোন বনের নিকটে গিয়া বাস করিলেন, এবং সেখানে সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিলেন । লোটের বন্দিত্ব ও পুনরুদ্ধার । $8 শিনিয়রের অম্রাফল রাজা, ইল্লাসরের অরিয়েক রাজী, এলমের কদলায়োমর রাজা এবং ২ গোয়ীমের তিদিয়ল রাজার সময়ে ঐ রাজগণ সদেীমের রাজ বির, ঘমোরার রাজা বিশা, অদমার রাজ। শিনাব, সবোয়িমের রাজা শিমেবর ও বিলার অর্থাৎ সোয়রের রাজার সহিত যুদ্ধ করিলেন । ৩ ইহার! সকলে সিদৗম তলভূমিতে অর্থাৎ লবণসমুদ্রে ৪ একত্র হইয়াছিলেন । ইহার দ্বাদশ বৎসর পর্য্যন্ত কদলায়েমরের দাসত্বে থাকিয়া ত্রয়োদশ বৎসরে ৫ বিদ্রোহী হন । পরে চতুর্দশ বৎসরে কদর্লায়োমর ও তাহার সহায় রাজগণ আসিয়া অস্তরোৎ কর্ণয়িমে রফায়ীয়দিগকে, হমে সুষীয়দিগকে, শাবি কিরিয়া৬ খয়িমে এমীয়দিগকে ও প্রান্তরের পাশ্বস্থ এল পারণ পৰ্য্যন্ত সেয়ীর পবর্বতে তথাকার হোরীয়দিগকে ৭ আঘাত করিলেন । পরে তথা হইতে ফিরিয়া ঐনমিম্পটে অর্থাৎ কাদেশে গিয়া আমালেকীয়দের সমস্ত দেশকে এবং হৎসসোন-তামর নিবাসী ইমোরীয়৮ দিগকে আঘাত করিলেন। আর সদোমের রাজা, ঘমোরার রাজা, অদমীর রাজা, সবোয়িমের রাজা ও বিলার অর্থাৎ সোয়রের রাজা বাহির হইয়া ৯ এলমের কদলীয়েমের রাজার, গোয়ীমের তিদিয়ল রাজার, শিনিয়রের অম্রাফল রাজার ও ইল্লা সরের অরিয়োক রাজার সহিত, পাঁচ জন রাজা চারি জন রাজার সহিত, যুদ্ধ করশার্থে সিদীম ১• তলভূমিতে সেনা স্থাপন করিলেম । ঐ সিদীম তলভূমিতে মেটিয়া তৈলের অনেক খাত ছিল : আর সদোম ও ঘমোরার রাজগণ পলায়ন করিলেন ও তাহার মধ্যে পতিত হইলেন, এবং অবশিষ্টের ১১ পৰ্ব্বতে পলায়ন করিলেন। আর শক্ররা সদোম ও ঘমোরার সমস্ত সম্পত্তি ও ভক্ষ্য দ্রব্য লইয়া ১২ প্রস্থান করিলেন । বিশেষতঃ তাহারা অব্রামের ভ্রাতুষ্পপুত্ৰ লোটকে ও তাহার সম্পত্তি লইয়া গেলেন, কেনন। তিনি সদোমে বাস করিতেছিলেন। - তখন এক জন পলাতক ইত্ৰীয় অব্রামকে সমাচার দিল ; ঐ সময়ে তিনি ইস্কোলের ভ্রাতা ও আনেরের ভ্রাতা ইমোরীয় মম্রির এলোন বনে বাস করিতে ছিলেন, এবং তাহারা অব্রামের সহায় ছিলেন । ১৪ অভ্রাম যখন শুনিলেন, তাহার জ্ঞাতি ধৃত হইয়া X by చి আদিপুস্তক। [○○ ; >aー > G : 8 ] ছেন, তখন তিনি আপন গৃহজাত তিন শত আঠার জন অভ্যস্ত দাসকে লইয়া দান পর্য্যন্ত ধাবমান ১৫ হইয়া গেলেন। পরে রাত্রিকালে আপন দাসদিগকে দুই দল করিয়া তিনি শত্রগণকে আঘাত করিলেন, এবং দম্মেশকের উত্তরে স্থিত হোবা পৰ্য্যন্ত ১৬ তাড়াইয়া দিলেন। এবং সকল সম্পত্তি, আর আপন জ্ঞাতি লোট ও তাহার সম্পত্তি এবং স্ত্রীলোকদিগকে ও লোক সকলকে ফিরাইয়া আনিলেন । আব্রাম কদলায়োমরকে ও তাহার সঙ্গী রাজগণকে জয় করিয়া ফিরিয়া আসিলে পর, সদোমের রাজা তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে শাবী তলভূমিতে অর্থাৎ রাজার তলভূমিতে গমন করিলেন। ১৮ এবং শালেমের রাজা মন্ধীষেদক রুট ও দ্রাক্ষারস বাহির করিয়া আনিলেন , তিনি পরাৎপর ঈশ্বরের ১৯ যাজক । তিনি আব্রামকে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন, বলিলেন, তীব্রাম স্বর্গমর্তোর অধিকারী পরাৎপর ২• ঈশ্বরের আশীৰ্ব্বাদপত্রে হউন , আর পরাৎপর ঈশ্বর ধন্য হউন, যিনি তোমার বিপক্ষগণকে তোমার হস্তে সমর্পণ করিয়াছেন । তখন আব্রাম সমস্ত দ্রব্যের ২১ দশমাংশ তাহাকে দিলেন । আর সদোমের রাজ। আব্রামকে কহিলেন, মনুষ্য সকল আমাকে দিউন, ২২ সম্পত্তি আপনার জন্ত লউন । তখন আব্রাম সদোমের রাজাকে উত্তর করিলেন, আমি স্বর্গমর্তোর অধিকারী পরাৎপর ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে হস্ত ২৩ উঠাইয়া কহিতেছি, আমি আপনার কিছুই লইব না, এক গাছি স্বতা কি পাদুকার বন্ধনীও লইব না ; পাছে আপনি বলেন, আমি অব্রামকে ধনবান ২৪ করিয়াছি । কেবল {আমার যুবগণ যাহা খাইয়াছে তাহা লইব, এবং যে ব্যক্তির। আমার সঙ্গে গিয়াছিলেন, আনের, ইস্কোল ও মস্ত্রি, তাহারা আপন আপন প্রাপ্তব্য অংশ গ্রহণ করুন । অব্রামের সহিত ঈশ্বরের নিয়ম স্থাপন । S(C ঐ ঘটনার পরে দর্শনযোগে সদাপ্রভুর বাক্য আব্রামের নিকটে উপস্থিত হইল, তিনি বলি- ' লেন, অব্রাম, ভয় করিও না, আমিই তোমার ২ ঢাল ও তোমার মহাপুরস্কার। আব্রাম কহিলেন, হে প্ৰভু সদাপ্রভু, তুমি আমাকে কি দিবে ? আমি ত নিঃসন্তান হহয় প্রয়াণ করিতেছি, এবং এই দম্মেশকীয় ইলীয়েষর আমার গৃহের ধনাধিকারী। ৩ আর অব্রাম কহিলেন, দেখ, তুমি আমাকে সন্তান দিলে না, এবং আমার গৃহজাত এক জন আমার ৪ উত্তরাধিকারী হইবে । তখন দেখ, তাহার কাছে সদাপ্রভুর বাক্য উপস্থিত হইল, যথা, ঐ ব্যক্তি তোমার উত্তরাধিকারী হইবে না, কিন্তু যে তোমার ঔরসে জন্মিবে, সেই তোমার উত্তরাধিকারী হইবে । > * 10 [1 وه لا ; نه لا -ـــــه ; ¢ د ৫ পরে তিনি তাহাকে বাহিরে অনিয়া কহিলেন, তুমি আকাশে দৃষ্ট করিয়া যদি তারা গণিতে পার, তবে গণিয়া বল ; তিনি তাহাকে আরও বলিলেন, ৬ এইরূপ তোমার বংশ হইবে। তখন তিনি সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করিলেন, আর সদাপ্রভু তাহার ৭ পক্ষে তাহ ধাৰ্ম্মিকতা বলিয়া গণনা করিলেন। আর তাহাকে কহিলেন, যিনি তোমার অধিকারার্থে এই দেশ দিবার জন্য কল্দীয় দেশের উর হইতে তোমাকে বাহির করিয়া আনিয়াছেন, সেই সদাপ্রভু আমি । ৮ তখন তিনি কহিলেন, হে প্ৰভু সদাপ্রভু, আমি যে ইহার অধিকারী হইব, তাহ কিসে জানিব ? ৯ তিনি তাহাকে কহিলেন, তুমি তিন বৎসরের এক গাভী, তিন বৎসরের এক ছাগী, তিন বৎসরের এক মেষ এবং এক ঘুঘু ও এক কপোতশাবক ১ • আমার নিকটে আন । পরে তিনি ঐ সকল তাহার নিকটে আনিয়া দুই দুই খণ্ড করিলেন, এবং এক এক খণ্ডের অগ্ৰে অন্য অন্য খণ্ড রাখিলেন, ১১ কিন্তু পক্ষিগণকে দ্বিখণ্ড করিলেন না। পরে হিংস্র পক্ষিগণ সেই মৃত পশুদের উপরে পড়িলে আব্রাম ১২ তাহাদিগকে তাড়াইয়া দিলেন। পরে স্থয্যের অস্তগমন সময়ে অব্রাম ঘোর নিদ্রাগত হইলেন ; আর ১৩ দেখ, তিনি ত্রাসে ও অন্ধকারে মগ্ন হইলেন । তখন তিনি অব্রামকে কহিলেন, নিশ্চয় জানিও, তোমার সন্তানগণ পরদেশে প্রবাসী থাকিবে, এবং বিদেশী লোকদের দাস্ত্যকৰ্ম্ম করিবে, ও লোকে তাহাদিগকে ১৪ দুঃখ দিবে—চারি শত বৎসর পয্যন্ত; আবার তাহার যে জাতির দাস হইবে, আমিই তাহার বিচার করিব : তৎপরে তাহারা যথেষ্ট সম্পত্তি লইয়া বাহির হইবে । ১৫ আর তুমি শান্তিতে আপন পূৰ্ব্বপুরুষদের নিকটে ১৬ যাইবে, ও শুভ বৃদ্ধাবস্থায় কবর প্রাপ্ত হইবে । আর [তোমার বংশের চতুর্থ পুরুষ এই দেশে ফিরিয়া আসিবে ; কেননা ইমোরীয়দের অপরাধ এখনও ১৭ সম্পূর্ণ হয় নাই। পরে স্বৰ্য্য অস্তগত ও অন্ধকার হইলে দেখ, ধূমযুক্ত চুল ও অগ্নিময় উল্কা ঐ দুই ১৮ খণ্ডশ্রেণীর মধ্য দিয়া চলিয়া গেল। সেই দিন সদাপ্রভু অব্রামের সহিত নিয়ম স্থির করিয়া কহিলেন, আমি মিসরের নদী অবধি মহানদী, ফরাৎ নদী পৰ্য্যন্ত এই দেশ তোমার বংশকে দিলাম : ১৯২০ কেনীয়, কনিষীয়, কদমোনীয়, হিৰ্ত্তীয়, পরিষীয়, ২১ রফায়ীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, গিগাশীয় ও যিবুৰীয় লোকদের দেশ দিলাম । ইশ্মায়েলের জন্ম । S\b অব্রামের স্ত্রী সারী নিঃসন্তানী ছিলেন, এবং হাগার নামে তাহার এক মিশ্ৰীয়া দাসী ২ ছিল। তাহাতে সারা অব্রামকে কহিলেন, দেখ, সদাপ্রভু আমাকে বন্ধ্যা করিয়াছেন ; বিনয় করি, আদিপুস্তক। 2 o' তুমি আমার দাসীর কাছে গমন কর ; কি জানি, ইহা দ্বারা আমি পুত্রবতী হইতে পারিব। তখন ৩ অব্রাম সারীর বাক্যে সম্মত হইলেন । এইরূপে কনান দেশে অব্রাম দশ বৎসর বাস করিলে পর অব্রামের স্ত্রী সারী আপন দাসী মিশ্ৰীয়া হাগারকে লইয়া আপন স্বামী অব্রামের সহিত বিবাহ দিলেন । ৪ পরে অব্রাম হাগারের কাছে গমন করিলে সে গৰ্ত্তবতী হইল ; এবং আপনার গৰ্ত্ত হইয়াছে দেখিয়া নিজ কত্রীকে তুচ্ছজান করিতে লাগিল। ৫ তাহাতে সারী অব্রামকে কহিলেন, আমার প্রতি কৃত এই অন্যায় তোমাতেই ফলুক ; আমি আপনার দাসীকে তোমার ক্রোড়ে দিয়াছিলাম, সে আপনাকে গৰ্ত্তবতী দেখিয়া আমাকে তুচ্ছজান করিতেছে ; সদাপ্রভুই তোমার ও আমার বিচার ৬ করুন ! তখন আব্রাম সারীকে কহিলেন, দেখ, তোমার দাসী তোমারই হাতে ; তোমার যাহ! ভাল বোধ হয়, তাহার প্রতি তাহাই কর । তাহাতে সারী হাগারকে দুঃপ দিলেন, আর সে তাহার নিকট ৭ হইতে পলায়ন করিল। পরে সদাপ্রভুর দূত প্রান্তরের মধ্যে এক জলের উলুইয়ের নিকটে, শূরের পথে যে উলুই আছে, তাহার নিকটে তাহাকে ৮ পাইয়া কহিলেন, হে সারীর দাসি হাগার, তুমি কোথা হইতে আসিলে ? এবং কোথায় যাইবে ? তাহাতে সে কহিল, আমি আপন কত্রী সারীর ৯ নিকট হইতে পলাইতেছি। তখন সদাপ্রভুর দূত তাহাকে কহিলেন, তুমি আপন কত্রীর নিকটে ফিরিয়া গিয়া নম্র ভাবে তাহার হস্তের বশীভূত ১• হও। সদাপ্রভুর দূত তাহাকে আরও বলিলেন, আমি তোমার বংশের এমন বৃদ্ধি করিব যে, বাহুল্য প্রযুক্ত ১১ অগণ্য হইবে। সদাপ্রভুর দূত তাহাকে আরও কহিলেন, দেখ, তোমার গৰ্ত্ত হইয়াছে তুমি পুত্ৰ প্রসব করিবে, ও তাহার নাম ইশ্মায়েল ঈশ্বর শুনেন] রাখিবে, কেননা সদা প্ৰভু তোমার দুঃখ ১২ শ্রবণ করিলেন । আর সে বনগর্দভস্বরূপ মনুষ্য হইবে ; তাহার হস্ত সকলের বিরুদ্ধ ও সকলের হস্ত তাহার বিরুদ্ধ হইবে ; সে তাহার সকল ভ্রাতার সম্মুখে ১৩ বসতি করিবে । পরে হাগার, যিনি তাহার সহিত কথা কহিলেন, সেই সদাপ্রভুর এই নাম রাখিল, তুমি দর্শনকারী ঈশ্বর ; কেননা সে কহিল, যিনি আমাকে দর্শন করেন, আমি কি এই স্থানেই তাহার ১৪ অনুদৰ্শন করিয়াছি । এই কারণ সেই কুপের নাম বের লহয়-রোয়ী জীবৎ মদর্শকের কূপ হইল : দেখ, তাহা কাদেশ ও বেরদের মধ্যে রহিয়াছে । পরে হাগার অব্রামের নিমিত্তে পুত্র প্রসব করিল ; আর অব্রাম হাগারের গৰ্ত্তজাত আপনার ১৬ সেই পুত্রের নাম ইশ্মায়েল রাখিলেন। অব্রামের ছিয়াশী বৎসর বয়সে হাগার অব্রামের নিমিত্তে ইশ্মায়েলকে প্রসব করিল। > ○ 11 > R ত্বকৃছেদের নিয়ম স্থাপন । $% অব্রামের নিরানব্বই বৎসর বয়সে সদাপ্রভু তাহাকে দর্শন দিলেন ও কহিলেন, আমি সৰ্ব্বশক্তিমান ঈশ্বর, তুমি আমার সাক্ষাতে গমনা২ গমন করিয়া সিদ্ধ হও । আর আমি তোমার সহিত আপন নিয়ম স্থির করিব, ও তোমার আতিশয় বংশ৩ বৃদ্ধি করিব। তখন অব্রাম উবুড় হইয়া পড়িলেন, এবং ঈশ্বর তাহার সহিত আলাপ করিয়া কহিলেন, ৪ দেখ, আমিই তোমার সহিত আপন নিয়ম স্থির করিতেছি, তুমি বহুজাতির আদিপিত হইবে। ৫ তোমার নাম অব্রাম [মহাপিত ] আর থাকিবে না, কিন্তু তোমার নাম অব্রাহাম [ বহুলোকের পিতা] হইবে ; কেননা আমি তোমাকে বহুজাতির আদি৬ পিতা করিলাম। আমি তোমাকে অতিশয় ফলবান করিব, এবং তোমা হইতে বহুজাতি জন্মাইব ; আর ৭ রাজার তোম৷ হইতে উৎপন্ন হইবে । আমি তোমার সহিত ও পুরুষানুক্রমে তোমার ভাবী বংশের সহিত যে নিয়ম স্থাপন করিব, তাহ চিরকালের নিয়ম হইবে ; ফলতঃ আমি তোমার ঈশ্বর ও তোমার ৮ ভাবী ৰংশের ঈশ্বর হইব । আর তুমি এই যে কনান দেশে প্রবাস করিতেছ, ইহার সমুদয় আমি তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশকে চিরস্থায়ী অধিকারার্থে দিব, আর আমি তাহদের ঈশ্বর হইব । ৯ ঈশ্বর অব্রাহামকে আরও কহিলেন, তুমিও আমার নিয়ম পালন করিবে ; তুমি ও তোমার ভাবী বংশ ১০ পুরুষানুক্রমে তাহ পালন করিবে । তোমাদের সহিত ও তোমার ভাবী বংশের সহিত কুত আমার যে নিয়ম তোমরা পালন করিবে, তাহ এই, তোমা১১ দের প্রত্যেক পুরুষের ত্বকৃছেদ হইবে। তোমরা আপন আপন লিঙ্গাগ্রচর্ম ছেদন করিবে ; তাহাই তোমাদের সহিত আমার নিয়মের চিহ্ন হইবে । ১২ পুরুষানুক্রমে তোমাদের প্রত্যেক পুত্রসন্তানের আট দিন বয়সে ত্বক্ছেদ হইবে, এবং যাহার তোমার বংশ নয়, এমন পরজাতীয়দের মধ্যে তোমাদের গৃহে জাত কিম্বা মূল্য দ্বারা ক্রীত লোকেরও ত্বকৃছেদ হইবে। ১৩ তোমার গৃহজাত কিম্বা মূল্য দ্বারা ক্রীত লোকের ত্বক্ছেদ অবশ্য কৰ্ত্তব্য ; আর তোমাদের মাংসে বিদ্যমান আমার নিয়ম চিরকালের নিয়ম হইবে । ১৪ কিন্তু যাহার লিঙ্গীগ্রচন্ম ছেদন না হইবে, এমন অচ্ছিন্নত্বক পুরুষ আপন লোকদের মধ্য হইতে উচ্ছিন্ন হইবে ; সে আমার নিয়ম ভঙ্গ করিয়াছে। আর ঈশ্বর অব্রাহীমকে কহিলেন, তুমি তোমার স্ত্রী সারীকে আর সারী বলিয়া ডাকিও না ; তাহার ১৬ নাম সারা [ রাণী ] হইল। আর আমি তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিব, এবং তাহ হইতে এক পুত্রও তোমাকে দিব ; আমি তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিব, তাহাতে সে জাতিগণের [আদিমাতা] হইবে, X 6. আদিপুস্তক। [ > ? ; >ー>レ; c l তাহা হইতে লোকবৃন্দের রাজগণ উৎপন্ন হইবে । তখন অব্রাহাম উবুড় হইয়া পড়িয়া হাসিলেন, মনে মনে কহিলেন, শতবর্ষবয়স্ক পুরুষের কি সন্তান হইবে ? আর নব্বই বৎসর বয়স্ক সারা কি প্রসব করিবে ? ১৮ পরে অব্রাহীম ঈশ্বরকে কহিলেন, ইশ্মায়েলই ১৯ তোমার গোচরে বাচিয়া থাকুক। তখন ঈশ্বর কহিলেন, তোমার স্ত্রী সারা অবশ্য তোমার নিমিত্তে পুত্র প্রসব করিবে, এবং তুমি তাহার নাম ইসহাক [ হাস্য] রাখিবে, আর আমি তাহর সহিত আমার নিয়ম স্থাপন করিব, তাহ তাহার ভাধী বংশের পক্ষে চিরস্থায়ী নিয়ম হইবে । আর ইশ্মায়েলের বিষয়েও তোমার প্রার্থনা শুনিলাম ; দেখ, আমি তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিলাম, এবং তাহাকে ফলবান করিয়া তাহার অতিশয় বংশবৃদ্ধি করিব ; তাহ হইতে দ্বাদশ রাজা উৎপন্ন হইবে, ও আমি তাহাকে বড় জাতি করিব। কিন্তু আগামী বৎসরের এই ঋতুতে সারা তোমার নিমিত্তে যাহাকে প্রসব করিবে, সেই ইস্হকের সহিত আমি আপন নিয়ম স্থাপন করিব। ২২ পরে কথোপকথন সাঙ্গ করিয়া ঈশ্বর অব্রা হামের নিকট হইতে উৰ্দ্ধগমন করিলেন । পরে অব্রাহাম আপন পুত্র ইশ্মায়েলকে ও আপন গৃহজাত ও মূল্য দ্বারা ক্রীত সকল লোককে, অব্রাহামের গৃহে যত পুরুষ ছিল, সেই সকলকে লইয়া ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে সেই দিনে তাহাদের লিঙ্গাগ্রচন্ম ছেদন ২৪ করিলেন। অব্রাহামের লিঙ্গাগ্রের ত্বকৃছেদন কালে ২৫ তাহার বয়স নিরানব্বই বৎসর। আর তাহার পুত্ৰ ইশ্মায়েলের লিঙ্গাগ্রের ত্বকৃছেদন কালে তাহার বয়স ২৬ তের বৎসর। সেই দিনেই অব্রাহাম ও তাহার পুত্ৰ ২৭ ইশ্মায়েল, উভয়ের ত্বকৃছেদ হইল। আর তাহার গৃহজাত এবং পরজাতীয়দের নিকটে মূল্য দ্বারা ক্রীত তাহার গৃহের সকল পুরুষেরও ত্বকছেদ সেই সময়ে হইল । So ૨ ૦ ミ> ఫి లి অব্রাহীমের কাছে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞ । সদোমের জন্ত অব্রাহীমের প্রার্থনা । পরে সদাপ্রভু মম্রির এলেন বনের নিকটে Sbア তাহাকে দর্শন দিলেন । তিনি দিনের উত্তাপ ২ সময়ে তাম্বুদ্ধারে বসিয়াছিলেন ; আর চক্ষু তুলিয়৷ দৃষ্টি করিলেন, আর দেখ, তিনটা পুরুষ সম্মুখে দণ্ডায়মান । দেখিবামাত্র তিনি তাম্বুদ্বার হইতে তাহাদের নিকট দৌড়িয়া গিয়া ভূমিতে প্ৰণিপাত করিয়া কহি৩ লেন, হে প্রভো, বিনয় করি, যদি আমি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হইয়া থাকি, তবে আপনার ৪ এই দাসের নিকট হইতে অগ্রসর হইবেন না। বিনয় করি, কিঞ্চিৎ জল আনাইয়া দিই, আপনার প। ৫ ধুইয়৷ এই বৃক্ষতলে বিশ্রাম করুন, এবং কিছু খাদ্য আনিয়া দিই, তাহ দ্বারা প্রাণ আপ্যায়িত 12 { اج زوج لا – و و سي لا করুন, পরে পথে অগ্রসর হইবেন ; কেননা ইহারই নিমিত্তে আপন দাসের নিকটে আগত হইলেন। তখন তাহারা কহিলেন, যাহা বলিলে, তাহাই কর । ৬ তাহাতে অব্রাহাম ত্বর করিয়া তাম্বুতে সারার নিকটে গিয়া কহিলেন, শীঘ্র তিন মান উত্তম ময়দা লইয়। ৭ ছানিয়া পিষ্টক প্রস্তুত কর। পরে অব্রাহাম ত্বরায় বাখানে গিয়া উৎকৃষ্ট কোমল এক গোবৎস লইয়া ৮ দাসকে দিলে সে তাহ শীঘ্ৰ পাক করিল। তখন তিনি দধি, দুগ্ধ ও পঙ্ক মাংস লইয়া তাহদের সম্মুখে দিলেন, এবং তাঁহাদের নিকটে বৃক্ষতলে দাড়াইলেন, ৯ ও তাহার ভোজন করিলেন। আর তাহারা তাহাকে | জিজ্ঞাসিলেন, তোমার স্ত্রী সারা কোথায় ? তিনি ১• কহিলেন, দেখুন, তিনি তাম্বুতে আছেন। তাহাতে তাহাদের এক ব্যক্তি কহিলেন, এই ঋতু পুনরায় উপস্থিত হইলে আমি অবশ্য তোমার কাছে ফিরিয়া আসিব ; আর দেখ, তোমার স্ত্রী সারার এক পুত্র হইবে। এই কথা সারা তাম্বুদ্ধারে তাহার পশ্চাৎ ১১ থাকিয়া শুনিলেন। সেই সময়ে অব্রাহাম ও সারা বুদ্ধ ও গতবয়স্ক ছিলেন ; সারার স্ত্রীধৰ্ম্ম নিবুক্ত হইয়া১২ ছিল। অতএব সারা মনে মনে হাসিয়া কহিলেন, আমার এই শীর্ণ দশার পরে কি এমন আনন্দ হইবে ? ১৩ আমার প্রভুও ত বৃদ্ধ। তখন সদাপ্রভু অব্রাহামকে কহিলেন, সারা কেন এই বলিয়া হাসিল যে, আমি ১৪ কি সত্যই প্রসব করিব, আমি যে বুড়ী ? কোন কৰ্ম্ম কি সদাপ্রভুর অসাধ্য ? নিরূপিত সময়ে এই ঋতু আবার উপস্থিত হইলে আমি তোমার কাছে ১৫ ফিরিয়া আসিব, আর সারার পুত্র হইবে । তাহাতে সারা অস্বীকার করিয়া কহিলেন, আমি হাসি নাই ; কেননা তিনি ভয় পাইয়াছিলেন । কিন্তু তিনি কহিলেন, অবশ্য হাসিয়াছিলে । পরে সেই ব্যক্তিরা তথা হইতে উঠিয়া সদোমের দিকে দৃষ্টি করিলেন, আর অব্রাহাম তাহাদিগকে বিদায় ১৭ দিতে তাহাদের সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন । তাঁহাতে সদাপ্রভু কহিলেন, আমি যাহা করিব, তাহ কি অব্রা১৮ হাম হইতে লুকাইব ? আব্রাহাম হইতে মহতী ও বলবতী এক জাতি উৎপন্ন হইবে, এবং পৃথিবীর যাবতীয় জাতি তাঁহাতেই আশীৰ্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে । ১৯ কেনন। আমি তাহাকে জানিয়াছি, যেন সে আপন ভাবী সন্তানগণকে ও পরিবারদিগকে আদেশ করে, যেন তাহার। ধৰ্ম্মসঙ্গত ও ন্যায্য আচরণ করিতে করিতে সদাপ্রভুর পথে চলে ; এইরূপে সদাপ্রভু যেন আব্রাহীমের বিষয়ে কথিত আপনার বাক্য সফল ২• করেন। পরে সদাপ্রভু কহিলেন, সদোমের ও ঘমোরার ক্ৰন্দন আত্যন্তিক, এবং তাঁহাদের পাপ ২১ অতিশয় ভারী ; আমি নীচে গিয়া দেখিব, আমার নিকটে আগত ক্ৰন্দনানুসারে তাহার। সৰ্ব্বতোভাবে করিয়াছে কি না ; যদি না করিয়া থাকে, তাহ জানিব । S আদিপুস্তক । 》○ পরে সেই ব্যক্তিরা তথা হইতে ফিরিয়া সদোমের দিকে গমন করিলেন ; কিন্তু অব্রাহাম তখনও সদা২৩ প্রভুর সাক্ষাতে দণ্ডায়মান থাকিলেন । পরে অব্রাহাম নিকটে গিয়া কহিলেন, আপনি কি দুষ্টের সহিত ২৪ ধাৰ্ম্মিককেও সংহার করিবেন ? সেই নগরের মধ্যে যদি পঞ্চাশ জন ধাৰ্ম্মিক পাওয়া যায়, তবে আপনি কি তথাকার পঞ্চাশ জন ধাৰ্ম্মিকের অনুরোধে সেই স্থানের প্রতি দয়া না করিয়া তাহ বিনষ্ট করিবেন ? ২৫ দুষ্টের সহিত ধাৰ্ম্মিকের বিনাশ করা, এই প্রকার কৰ্ম্ম আপন হইতে দূরে থাকুক ; ধাৰ্ম্মিককে দুষ্টের সমান করা আপন হইতে দূরে থাকুক। সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্তা কি ন্যায়বিচার করিবেন না ? ২৬ সদাপ্রভু কহিলেন, আমি যদি সদোমের মধ্যে পঞ্চাশ জন ধাৰ্ম্মিক দেখি, তবে তাহীদের অনুরোধে সেই ২৭ সমস্ত স্থানের প্রতি দয়া করিব । অব্রাহীম উত্তর করিয়া কহিলেন, দেখুন, ধূলি ও ভষ্মমাত্র যে আমি, আমি প্রভুর সঙ্গে কথা কহিতে সাহসী হইয়াছি । ২৮ কি জানি, পঞ্চাশ জন ধাৰ্ম্মিকের পাঁচ জন নুন হইবে ; সেই পাঁচ জনের অভাব প্রযুক্ত আপনি কি সমস্ত নগর বিনষ্ট করিবেন ? তিনি কহিলেন, সেই স্থানে পয়তাল্লিশ জন পাইলে আমি তাহ বিনষ্ট ২৯ করিব না । তিনি তাহাকে আবার কহিলেন, বলিলেন, সে স্থানে যদি চল্লিশ জন পাওয়া যায় ? তিনি কহিলেন, সেই চল্লিশ জনের অনুরোধে তাহা করিব ৩• না। আবার তিনি কহিলেন, প্রভু বিরক্ত হইবেন না, আমি আরও কহি ; যদি সেখানে ত্ৰিশ জন পাওয়া যায় ? তিনি কহিলেন, সেখানে ত্রিশ জন পাইলে ৩১ তাহা করিব না। তিনি কহিলেন, দেখুন, প্রভুর কাছে আমি সাহসী হইয়া পুনৰ্ব্বার বলি, যদি সেখানে বিংশতি জন পাওয়া যায় ? তিনি কহিলেন, সেই বিংশতি জনের অনুরোধে তাহা বিনষ্ট ৩২ করিব না। তিনি কহিলেন, প্রভু ক্রুদ্ধ হইবেন না, আমি কেবল আর এই এক বীর বলি ; যদি সেখানে দশ জন পাওয়া যায় ? তিনি কহিলেন, সেই দশ ৩৩ জনের অনুরোধে তাহ বিনষ্ট করিব না। তখন সদাপ্রভু অব্রাহামের সহিত কথোপকথন সমাপন করিয়া প্রস্থান করিলেন ; এবং আব্রাহাম স্বস্থানে ফিরিয়া আসিলেন । সদোম ও ঘমোরার বিনাশ । লোটের শেষগতি । পরে সন্ধ্যাকালে ঐ দুই দূত সদোমে আসিSఏ লেন। তখন লোট সদোমের দ্বারে বসিয়া ছিলেন, আর তাহাদিগকে দেখিয়া তাহাদের নিকট যাইবার জন্ত উঠিলেন, এবং ভূমিতে মুখ দিয়া ২ প্ৰণিপাত করিয়া কহিলেন, হে আমার প্রভুরা, দেখুন, বিনয় করি, আপনাদের এই দাসের গৃহে २२ 13 * 8 পদার্পণ করিয়া রীত্রি বাস করুন ও পা ধুউন , পরে প্রত্যুষে উঠিয়া স্বযাত্রায় অগ্রসর হইবেন । তাহার কহিলেন, না, আমরা চকেই রাত্রি যাপন করিব । কিন্তু লোট অতিশয় আগ্রহ দেখাইলে তাহার তাহার সঙ্গে গেলেন, ও তাহার বাটীতে প্রবেশ করিলেন ; তাহাতে তিনি তাহাদের জন্য ভোজ প্রস্তুত করিলেন, ও তাড়ীশূন্ত রুট পাক করিলেন, আর তাহারা ভোজন করিলেন। পরে তাহদের শয়নের পূৰ্ব্বে ঐ নগরের পুরুষেরা, সদোমের আবাল বৃদ্ধ সমস্ত লোক চতুর্দিক হইতে আসিয় তাহার ৰাট ঘেরিল, এবং লোটকে ডাকিয়া কহিল, আদ্য রাত্রিতে যে দুই ব্যক্তি তোমার বাটীতে আসিল, তাহার কোথায় ? তাহাদিগকে বাহির করিয়া আমাদের নিকটে আনি, আমরা তাহদের পরিচয় লইব । তখন লোট গৃহদ্বারের বহিরে তাহাদের নিকটে ত্যাসিয় আপনার পশ্চাৎ কবাট বন্ধ করিয়া কহিলেন, ভাই সকল, বিনয় করি, এমন কুব্যবহার করি ও না । দেখ, পুরুষের পরিচয় অপ্রাপ্ত। আমার দুইটী কন্যা আছে,তাহাদিগকে তোমাদের নিকটে আনি, তোমাদের দৃষ্টিতে যাহা ভাল, তাহা কর, কিন্তু সেই ব্যক্তিদের প্রতি কিছুই করিও না, কেননা এই নিমিত্তে তাহার। আমার গৃহের ছায়। আশ্রয় করিলেন। তখন তাহার কহিল, সরিয়া যা । আরও কহিল, এ একাকী প্রবাস করিতে আসিয়া আমাদের বিচারকর্তী হইল ; এখন তাহদের অপেক্ষ তোর প্রতি আরও কুব্যবহার করিব । ইহা বলিয়। তাহার লোটের উপরে ভারী চড়াউ হইয়। কবাট ভাঙ্গিতে গেল । তখন সেই দুই ব্যক্তি হস্ত বাড়াইয়। লোটকে গৃহের মধ্যে আপনাদের নিকটে টানিয়া লইয়া কবাট বন্ধ করিলেন; এবং গৃহদ্বারের নিকটবৰ্ত্তা ক্ষুদ্র ও মহান সকল লোককে অন্ধতায় আহত করিলেন ; তাহাতে তাহার। দ্বার খুঁজিতে খুজিতে পারশ্রান্ত হইল। পরে সেই ব্যক্তির লোটকে কহিলেন, এই স্থানে তোমার আর কে কে তাছে ? তোমার জামাত ও পুত্র কন্য। যত জন এই নগরে আছে, সে সকলকে এই স্থান হইতে লইয়া যাও । কেনন। আমরা এই স্থান উচ্ছিন্ন করিব ; কারণ সদাপ্রভুর সাক্ষাতে এই লোকদের বিপরীতে মহাক্ৰন্দন উঠিয়াছে, তাই সদাপ্রভু ইহা উচ্ছিন্ন করিতে আমাদিগকে পাঠাইয়াছেন। তখন লোট বাহিরে গিয়া, যাহার তাহার কন্যাদিগকে বিবাহ করিয়াছিল, আপনার সেই জামাতাদিগকে কহিলেন, উঠ, এ স্থান হইতে বাহির হও, কেননা সদাপ্রভু এই নগর উচ্ছিন্ন করিবেন । কিন্তু তাহার জামাতার তাহাকে উপহাসকারী বলিয়। জ্ঞান করিল। - পরে প্রভাত হইলে সেই দূতের লোটকে সত্বর করিলেন, কহিলেন, উঠ, তোমার স্ত্রীকে ও এই যে কন্যা দুইটী এখানে আছে, ইহাদিগকে লইয়া যাও, পাছে ১৬ তোমরা নগরের অপরাধে বিনষ্ট হও । কিন্তু তিনি

Y > X 2 Y 8 > & আদিপুস্তক । [ ১ ৯ ; ৩- ৩২ ৷ ইতস্ততঃ করিতে লাগিলেন ; তাহাতে তাহার প্রতি সদাপ্রভুর স্নেহ প্রযুক্ত সেই ব্যক্তিরা তাহার ও তাহার স্ত্রীর ও কন্যা দুইটীর হস্ত ধরিয়া নগরের বাহিরে লইয়। ১৭ রাখিলেন । এইরূপে তাহাদিগকে বাহির করিয়া তিনি লোটকে কহিলেন, প্রাণরক্ষার্থ পলায়ন কর, পশ্চাৎ দিকে দৃষ্টি করিও না ; এই সমস্ত অঞ্চলের মধ্যেও দাড়াহয় থাকিও না ; পৰ্ব্বতে পলায়ন কর, পাছে ১৮ বিনষ্ট হও । তাহাতে লোট তাহাদিগকে কহিলেন, ১৯ হে আমার প্রভো, এমন না হউক । দেখুন, আপনার দাস আপনার কাছে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইয়াছে ; আমার প্রাণরক্ষা করাতে আপনি আমার প্রতি আপনার মহাদয় প্রকাশ করিয়াছেন ; কিন্তু আমি পৰ্ব্বতে পলায়ন করিতে পারি না ; কি জানি, সেই বিপদ ২• আসিয়া পড়িলে আমিও মরিব । দেখুন, পলায়ন জন্ত ঐ নগর নিকটবৰ্ত্ত, উহ। ক্ষুদ্র ; ওখানে পলাইবার অনুমতি দিউন, তাহ হইলে আমার প্রাণ ২১ বাচিবে ; উহা কি ক্ষুদ্র নয় । তিনি কহিলেন, ভাল, আমি এ বিষয়েও তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়া, ঐ যে নগরের কথা কহিলে, উহা উৎপাটন করিব ২২ ন । শীঘ্রই ঐ স্থানে পলায়ন কর, কেননা তুমি ঐ স্থানে না পহুছিলে আমি কিছু করিতে পারি না। এই হেতু সেই স্থানের নাম সোয়র ক্ষুদ্র ৷ হইল । ২৩ দেশের উপরে সূর্য উদিত হইলে লোট সোয়রে ২৪ প্রবেশ করিলেন, এমন সময়ে সদাপ্রভু আপনার নিকট হইতে, গগন হইতে, সদোমের ও ঘমোরার ২৫ উপরে গন্ধক ও অগ্নি বর্ষাইয়। সেই সমুদয় নগর, সমস্ত অঞ্চল. নগরনিবাসী সকল লোক ও সেহ ২৬ ভূমিতে জাত সমস্ত বস্তু উৎপাটন করিলেন । আর লোটের স্ত্রী তাহার পিছন হইতে পশ্চাৎ দিকে দৃষ্টি করিল, আর লবণস্তম্ভ হইয়া গেল । আর অব্রাহাম প্রত্যুষে উঠিয়া, পূৰ্ব্বে যে স্থানে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে দাড়াইয়াছিলেন, তথায় গমন করি ২৮ লেন ; এবং সদোম ও ঘমোরার দিকে ও সেই অঞ্চলের সমস্ত ভূমির দিকে চাহিয়া দেখিলেন, আর দেখ, ভাটীর ধুমের স্থায় সেই দেশের ধূম উঠিতেছে। ২৯ এইরূপে সেই অঞ্চলে স্থিত সমস্ত নগরের বিনাশকালে ঈশ্বর অব্রাহামকে স্মরণ করিয়া, যে যে নগরে লোট বাস করিতেন, সেই সেই নগরের উৎপাটনকালে উৎপাটনের মধ্য হইতে লোটকে প্রেরণ করিলেন । পরে লোট ও র্তাহার দুইটী কন্যা সোয়র হইতে পৰ্ব্বতে উঠিয়া গিয়া তথায় থাকিলেন ; কেননা তিনি সোয়রে বাস করিতে ভয় করিলেন আর তিনি ও ৩১ তাহার সেই দুই কন্যা গুহামধ্যে বসতি করিলেন। পরে তাহার জ্যেষ্ঠ কন্য। কনিষ্ঠীকে কহিল, আমাদের পিতা বুদ্ধ, এবং জগৎসংসারের ব্যবহার অনুসারে আমাদিগেতে উপগত হইতে এ দেশে কোন পুরুষ ৩২ নাই , আইস, আমরা পিতাকে দ্রাক্ষারস পান করা ২৭ లి 14 >> ; ○○ー* > ; l] ইয়া তাহার সহিত শয়ন করি, এইরূপে পিতার বংশ ৩৩ রক্ষা করিব। তাহাতে তাহারা সেই রাত্রিতে আপনাদের পিতাকে দ্রাক্ষারস পান করাইল, পরে তাহার জ্যেষ্ঠ কন্যা পিতার সহিত শয়ন করিতে গেল , কিন্তু তাহার শয়ন ও উঠিয়া যাওয়া লোট টের ৩৪ পাইলেন না। আর পরদিন জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠাকে কহিল, দেখ, গত রাত্রিতে আমি পিতার সহিত শয়ন করিয়াছিলাম : আইস, আমরা অদ্য রাত্রিতেও পিতাকে দ্রাক্ষারস পান করাই ; পরে তুমি যাইয়া তাহার সহিত শয়ন কর, এইরূপে পিতার বংশ রক্ষা ৩৫ করিব । এইরূপে তাহারা সেই রাত্রিতেও পিতাকে দ্রাক্ষারস পান করাইল ; পরে কনিষ্ঠ উঠিয়া তাহার সহিত শয়ন করিল ; কিন্তু তাহার শয়ন ও উঠিয়৷ ৩ও যাওয়া লোট টের পাইলেন না । এইরূপে লোটের দুই কন্যাই আপনাদের পিতা হইতে গৰ্ত্তবর্তী হইল । ৩৭ পরে জ্যেষ্ঠা কন্যা পুত্র প্রসব করিয়া তাহার নাম মোয়াব রাখিল ; সে এখনকার মোয়াবীয়দের আদি৩৮ পিতা । আর কনিষ্ঠ কন্যাও পুত্র প্রসব করিয়া তাহার নাম বিন্‌-অন্মি রাখিল, সে এখনকার অন্মোনসন্তানদের আদিপিতা । অব্রাহীম আবার ভার্য্যা অস্বীকার করেন । २० আর অব্রাহাম তথা হইতে দক্ষিণ দেশে যাত্রা করিয়া কাদেশ ও শূরের মধ্যস্থানে ২ থাকিলেন, ও গরীরে প্রবাস করিলেন। আর অব্রাহাম আপন স্ত্রী সারার বিষয়ে কহিলেন, এ আমার ভগিনী , তাহাতে গরীরের রাজা অবীমেলক লোক ৩ পাঠাইয়। সারাকে গ্রহণ করিলেন। কিন্তু রাত্রিতে ঈশ্বর স্বপ্নযোগে অবীমেলকের নিকটে আসিয়া কহিলেন, দেগ, ঐ যে নারীকে গ্রহণ করিয়াছ, তাহার জন্য তুমি মৃত্যুর পাত্র, কেননা সে এক ব্যক্তির স্ত্রী। ৪ তখন আবীমেলক তাহার কাছে যান নাই ; তাই তিনি কহিলেন, হে প্রভো, যে জাতি নির্দোষ, তাহাও কেও কি আপনি বধ করিবেন ? সেই ব্যক্তি কি আমাকে বলে নাই, এ আমার ভগিনী? এবং সেই স্ত্রীও কি বলে নাই, এ আমার ভ্রাতা ? আমি যাহা করিয়াছি, তাহ অন্তঃকরণের সরলতায় ও হস্তের ৬ নির্দোষতায় করিয়াছি । তখন ঈশ্বর স্বপ্নযোগে তাহাকে কহিলেন, তুমি অন্তঃকরণের সরলতায় এ কৰ্ম্ম করিয়াছ, তাহ। আমিও জানি, তাই আমার বিরুদ্ধে পাপ করিতে আমি তোমাকে বারণ করিলাম : ৭ এই জন্য তাহাকে স্পর্শ করিতে দিলাম না । অতএব এখন সেই ব্যক্তির স্ত্রী তাহাকে ফিরাইয়া দেও, কেনন। সে ভাববাদী ; আর সে তোমার জন্য প্রার্থনা করিবে, তাহাতে তুমি বাচিবে ; কিন্তু যদি তাহাকে ফিরাইয়ী ন দেও, তবে জানিও, তুমি ও ৮ তোমার সকলেই নিশ্চয় মরিবে। পরে অবৗমেলক প্রত্যুষে উঠিয়া আপনার সকল দাসকে ডাকিয়৷ আদিপুস্তক ।

  • @

ঐ সমস্ত বৃত্তান্ত তাহদের কর্ণগোচরে কহিলেন : ৯ তাহাতে তাহারা অতিশয় ভীত হইল। পরে অবীমেলক অব্রাহামকে ডাকাইয়ী কহিলেন, আপনি আমাদের সহিত এ কি ব্যবহার করিলেন ? আমি আপনার কাছে কি দোষ করিয়াছি যে, আপনি আমাকে ও আমার রাজ্যকে এমন মহাপাপগ্ৰস্ত করিলেন ? আপনি আমার প্রতি অনুচিত কৰ্ম্ম করিলেন । ১• অবমেলক অব্রাহামকে আরও কহিলেন, আপনি কি ১১ দেখিয়াছিলেন যে, এমন কৰ্ম্ম করিলেন ? তখন আব্রাহাম কহিলেন, আমি ভাবিয়ছিলাম, এই স্থানে আদলে ঈশ্বর-ভয় নাই, অতএব ইহারা আমার স্ত্রীর লোভে ১২ আমাকে বধ করিবে। আর সে আমার ভগিনী, ইহাও সত্য বটে ; কেনন। সে আমার পিতৃকন্ত, কিন্তু মাতৃ১৩ কন্ত্য নহে, পরে আমার ভাৰ্য্য হইল। আর যখন ঈশ্বর আমাকে পৈতৃক বাট হইতে ভ্রমণ করাইয়াছিলেন, তখন আমি তাহাকে বলিয়াছিলাম, আমার প্রতি তোমার এই দয়া করিতে হইবে, আমরা যে যে স্থানে যাইব, সেই সেই স্থানে তুমি আমার বিষয়ে বলিও, এ ১৪ আমার ভ্রাতা। তখন আবীমেলক মেষ, গোরু ও দাস দাসী আনাইয়া অব্রাহামকে দান করিলেন, এবং তাহার ১৫ গ্ৰী সারাকেও ফিরাইয়া দিলেন আর অবমেলক কহিলেন, দেখুন, আমার দেশ আপনার সমক্ষে আছে আপ১৬ নার যথা ইচ্ছ, বসতি করুন। আর তিনি সারাকে কহিলেন, দেখুন, আমি তাপনার ভ্রাতাকে সহস্র থান রৌপ্য দিলাম ; দেখুন, আপনার সঙ্গী সকলের নিকটে তাহা আপনার চক্ষুর আবরণস্বরূপ : সকল বিষয়ে ১৭ আপনার বিচার নিষ্পত্তি হইল। পরে অব্রাহাম ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিলেন, আর ঈশ্বর অবীমেলককে ও তাহার স্ত্রীকে ও র্তাহীর দাসীগণকে সুস্থ করিলেন : ১৮ তাহাতে তাহার প্রসব করিল। কেননা আব্রাহামের স্ত্রী সারার নিমিত্ত সদাপ্রভু আবীমেলকের গৃহে সমস্ত গৰ্ত্ত রোধ করিয়াছিলেন । ইস্হাকের জন্ম । ইশ্বায়েল দূরীকৃত। RS পরে সদাপ্রভু আপন বাক্যানুসারে সারার তত্ত্বাবধান করিলেন ; সদাপ্রভু যাহা বলিয়া২ ছিলেন, সারার প্রতি তাহা করিলেন । আর সার। গৰ্ত্তবতী হইয়। ঈশ্বরের উক্ত নিরূপিত সময়ে অব্রাহামের বৃদ্ধকালে তাহার নিমিত্ত পুত্র প্রসব করি৩ লেন। তখন আব্রাহাম সারার গর্ভজাত নিজ পুত্রের ৪ নাম ইসহাক হাস্ত রাগিলেন। পরে ঐ পুত্র ইস্হকের আট দিন বয়সে অব্রাহাম ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে ৫ তাহার ত্বকছেদ করিলেন । আব্রাহামের এক শত বৎ৬ সর বয়সে তাহার পুত্র ইসহাকের জন্ম হয় । আর সার কহিলেন, ঈশ্বর আমাকে হাস্ত করাইলেন ; যে কেহ ৭ ইহা শুনিবে, সে আমার সহিত হাস্য করিবে । তিনি আরও কছিলেন, সারা বালকদিগকে স্তন পান করাইবে, এমন কথা অব্রাহামকে কে বলিতে পারিত ? 15 > ○ কেননা আমি তাহার বৃদ্ধকালে তাহার নিমিত্ত পুত্র প্রসব করিলাম । ৮ পরে বালকট বড় হইয়৷ স্তন পান ত্যাগ করিল ; এবং যে দিন ইসহাক স্তন পান ত্যাগ করিল, সেই ৯ দিন অব্রাহাম মহাভোজ প্রস্তুত করিলেন । আর মিস্ত্ৰীয়া হাগার অব্রাহামের নিমিত্ত যে পুত্র প্রসব করিয়াছিল, সারা তাহাকে পরিহাস করিতে দেখি১• লেন। তাহাতে তিনি অব্রাহামকে কহিলেন, তুমি ঐ দাসীকে ও উহার পুত্রকে দূর করিয়া দেও ; কেননা আমার পুত্র ইস্হাকের সহিত ঐ দাসীপুত্র উত্তরাধি১১ কারী হুইবে না। এই কথায় অব্রাহাম আপন পুত্রের ১২ বিষয়ে অতি অসন্তুষ্ট হইলেন। আর ঈশ্বর অব্রাহামকে কহিলেন, ঐ বালকের বিষয়ে ও তোমার ঐ দাসীর বিষয়ে অসন্তুষ্ট হইও না ; সারা তোমাকে যাহা বলিতেছে, তাহার সেই কথা শুন ; কেননা ইসহাকেই ১৩ তোমার বংশ আখ্যাত হইবে। আর ঐ দাসীপুত্র হইতেও আমি এক জাতি উৎপন্ন করিব, কারণ সে ১৪ তোমার বংশীয়। পরে অব্রাহাম প্রত্যুষে উঠিয়া রুটী ও জলপূর্ণ কুপা লইয়া হাগারের স্বন্ধে দিয়া বালকটকে সমর্পণ করিয়া তাহাকে বিদায় করিলেন। তাহাতে সে প্রস্থান করিয়া বের শেবা প্রান্তরে ঘূরিয়৷ বেড়াইল । ১৫ পরে কুপার জল শেষ হইল, তাহাতে সে এক ঝোপের ১৬ নীচে বালকটীকে ফেলিয়া রাখিল ; আর তাপনি তাহার সন্মুখ হইতে অনেকটা দুরে, অনুমান এক তীর দুরে গিয়া বসিল, কারণ সে কহিল, বালকটার মৃত্যু আমি দেখিব না। আর সে তাহার সম্মুখ হইতে দূরে ১৭ বসিয়া উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিতে লাগিল। তথন ঈশ্বর বালকটর রব শুনিলেন ; আর ঈশ্বরের দূত আকাশ হইতে ডাকিয়া হাগারকে কহিলেন, হাগার, তোমার কি হইল ? ভয় করিও না, বালকট যেখানে ১৮ আছে, ঈশ্বর তথা হইতে উহার রব শুনিলেন ; তুমি উঠিয়া বালকটকে তুলিয়া তোমার হাতে ধর ; কারণ ১৯ আমি উহাকে এক মহাজাতি করিব। তখন ঈশ্বর তাহার চক্ষু খুলিয়া দিলেন, তাহাতে সে এক সজল কুপ দেখিতে পাইল, আর তথায় গিয়া কুপাতে জল ২• পুরিয়া বালকটকে পান করাইল। পরে ঈশ্বর বালকটর সহবৰ্ত্তী হইলেন, আর সে বড় হইয়া উঠিল, ২১ এবং প্রান্তরে থাকিয়া ধনুৰ্দ্ধর হইল। সে পারণ প্রান্তরে বসতি করিল। আর তাহার মাত৷ তাহার বিবাহার্থে মিসর দেশ হইতে এক কন্য। অনিল । ঐ সময়ে অবীমেলক এবং তাহার সেনাপতি ফীখোল অব্রাহীমকে কহিলেন, আপনি যে কিছু করেন, সে সকলেতেই ঈশ্বর আপনার সহবত্তী । ২৩ অতএব আপনি এখন এই স্থানে ঈশ্বরের দিব্য করিয়া আমাকে বলুন যে, আমার প্রতি ও আমার পুত্র পৌত্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিবেন না ; এবং আমি আপনার প্রতি যেরূপ দয়া করিয়াছি, আপ ーマ আদিপুস্তক। [ ९ ४ ; v – ९ ९ ; १ । নিও আমার প্রতি ও আপনার প্রবাসস্থান এই ২৪ দেশের প্রতি তক্রপ দয়া করিবেন । তখন অব্রাহাম ২৫ কহিলেন, দিব্য করিব। কিন্তু অবৗমেলকের দাসগণ এক সজল কুপ সবলে অধিকার করিয়াছিল, এই জন্ত ২৬ অব্রাহাম অবামেলককে অনুযোগ করিলেন। তাহাতে অবীমেলক কহিলেন, এই কৰ্ম্ম কে করিয়াছে, তাহা আমি জানি না ; আপনিও আমাকে জানান নাই, ২৭ এবং আমিও কেবল আদ্য এ কথা শুনিলাম। পরে তব্ৰাহাম মেষ ও গোরু লইয়া অবীমেলককে দিলেন, ২৮ এবং উভয়ে এক নিয়ম স্থির করিলেন। আর অব্রাহাম পাল হইতে সাতটা মেষবৎসা পৃথক্ করিয়া ২৯ রাখিলেন। অবমেলক তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি কি অভিপ্রায়ে এই সাত মেষবৎসা পৃথক ৩• করিয়া রাখলেন ? তিনি কহিলেন, আমি যে এই কুপ খনন করিয়াছি, তাহার প্রমাণার্থে আমা হইতে এই সাত মেষবৎসা আপনাকে গ্রহণ করিতে হইবে । ৩১ এজন্ত তিনি সেই স্থানের নাম বেরুশেবা দিব্যের কুপ] রাখিলেন, কেনন। সেই স্থানে তাহারী উভয়ে দিব্য ৩২ করিলেন। এইরূপে তাহারা বের শেবাতে নিয়ম স্থির করিলেন ; পরে অবামেলক ও তাহার সেনাপতি ফীথোল উঠিয়৷ পলেষ্টীয়দের দেশে ফিরিয়া গেলেন । পরে অব্রাহাম বের শেবায় ঝাউ গাছ রোপণ করিয়া সেই স্থানে অনাদি অনন্ত ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে ৩৪ ডাকিলেন । আর অব্রাহাম পলেষ্টীয়দের দেশে অনেক দিন প্রবাস করিলেন । অব্রাহামের মহাপরীক্ষা । २ २ এই সকল ঘটনার পরে ঈশ্বর অব্রাহামের পরীক্ষা করিলেন । তিনি তাহাকে কহিলেন, হে অব্রাহাম ; তিনি উত্তর করিলেন, দেখুন, এই আমি । ২ তখন তিনি কহিলেন, তুমি আপন পুত্রকে, তোমার অদ্বিতীয় পুত্ৰকে, যাহাকে তুমি ভাল বাস, সেই ইস্হাককে লহয়৷ মোরিয়া দেশে যাও, এবং তথাকার যে এক পৰ্ব্বতের কথা আমি তোমাকে বলিব, তাহার ৩ উপরে তাহাকে হোমার্থে বলিদান কর। পরে অব্রাহাম প্রত্যুষে উঠিয়া গর্দভ সাজাইয়া দুই জন দাস ও আপন পুত্র ইসহাককে সঙ্গে লইলেন, হোমের নিমিত্তে কাষ্ঠ কাটিলেন, আর উঠিয়া ঈশ্বরের নির্দিষ্ট স্থানের ৪ দিকে গমন করিলেন। তৃতীয় দিবসে অব্রাহাম চক্ষু ৫ তুলিয়া দূর হইতে সেই স্থান দেখিলেন। তখন অব্রাহাম আপন দাসদিগকে কহিলেন, তোমরা এই স্থানে গর্দভের সহিত থাক ; আমি ও যুবক, আমরা ঐ স্থানে গিয়া প্ৰণিপাত করি, পরে তোমাদের কাছে ফিরিয়া ৬ আসিব । তখন অব্রাহাম হোমের কাষ্ঠ লইয়া আপন পুত্র ইস্হাকের স্বন্ধে দিলেন, এবং নিজ হন্তে অগ্নি ও খড়গ লইলেন ; পরে উভয়ে একত্র চলিয়া গেলেন । ৭ আর ইসহাক আপন পিতা অব্রাহামকে কহিলেন, হে Nう○ 16 ২২ ; ৮ – ২৩ ; ১৬ । ] আমার পিতঃ । তিনি কহিলেন, হে বৎস, দেখ, এই আমি। তখন তিনি কহিলেন, এই দেখুন, অগ্নি ও কাষ্ঠ, কিন্তু হোমের নিমিত্তে মেষশাবক কোথায় ? ৮ অব্রাহাম কহিলেন, বৎস, ঈশ্বর আপনি হোমের জন্ত মেষশাবক যোগাইবেন । পরে উভয়ে একসঙ্গে চলিয়৷ গেলেন । ঈশ্বরের নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হইলে অব্রাহাম সেখানে যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিয়া কাষ্ঠ সাজাইলেন, পরে আপন পুত্র ইসহাককে বাধিয়া বেদিতে কাঠের ১• উপরে রাখিলেন । পরে অব্রাহাম হস্ত বিস্তার করিয়া আপন পুত্রকে বধ করণার্থে খড়গ গ্রহণ করিলেন। ১১ এমন সময়ে আকাশ হইতে সদাপ্রভুর দূত তাহাকে ডাকিলেন, কহিলেন, অব্রাহাম, অব্রাহাম । তিনি ১২ কহিলেন, দেখুন, এই আমি। তখন তিনি বলিলেন, যুবকের প্রতি তোমার হস্ত বিস্তার করিও না, উহার প্রতি কিছুই করিও না, কেনন। এখন আমি বুঝিলাম, তুমি ঈশ্বরকে ভয় কর, আমাকে আপনার ১৩ অদ্বিতীয় পুত্র দিতেও অসম্মত নও। তখন অব্রাহাম চক্ষু তুলিয়। চাহিলেন, আর দেখ, তাহার পশ্চাৎ দিকে একটা মেষ, তাহার শৃঙ্গ ঝোপে বদ্ধ; পরে অব্রাহাম গিয়৷ সেই মেষটা লইয়া আপন পুত্রের পরিবৰ্ত্তে হোমার্থ ১৪ বলিদান করিলেন । আর অব্রাহাম সেই স্থানের নাম যিহোব-ফিরি | সদাপ্রভু যোগাইবেন) রাখিলেন। এই জন্য অদ্যপি লোকে বলে, সদাপ্রভুর পর্বতে যোগান হইবে। ১৫ পরে সদাপ্রভুর দূত দ্বিতীয় বার আকাশ হইতে । ১৬ অব্রাহামকে ডাকিয় কহিলেন, সদাপ্রভু বলিতেছেন, । তুমি এই কাৰ্য্য করিলে, আমাকে আপনার অদ্বিতীয় : পুত্র দিতে অসম্মত হইলে না, এই হেতু আমি আমারই ১৭ দিব্য করিয়া কহিতেছি, আমি অবস্থা তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করিব, এবং আকাশের তারাগণের ও সমুদ্রতীরস্থ বালুকার হ্যায় তোমার অতিশয় বংশবৃদ্ধি করিব ; তোমার বংশ শক্রগণের পুরদ্বার অধিকার করিবে ; ১৮ আর তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশীৰ্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে ; কারণ তুমি আমার বাক্যে অবধান ১৯ করিয়াছ । পরে অব্রাহাম আপিন দাসদের নিকটে ফিরিয়া গেলেন, আর সকলে উঠিয় একত্র বেরশেবতে গেলেন ; এবং অব্রাহাম বের-শেবাতে বসতি করিলেন। ঐ ঘটনার পরে অব্রাহীমের নিকটে এই সমাচার আসিল, দেখুন, আপনার ভ্রাতা নাহোরের জন্য ২১ মিল্কাও পুত্ৰগণকে প্রসব করিয়াছেন ; তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র উষ ও তাহার ভ্রাত। বৃষ ও অরামের পিতা কমূ ২২ য়েল, এবং কেন্দ, হুলে, পিলদশ, যিদলফ ও বথুয়েল। ২৩ বধূয়েলের কন্য। রিবিক। অব্রাহামের ভ্রাতা নাহোরের సి ২০ আদিপুস্তক । ২৪ জন্য মিন্ধী এই আট জনকে প্রসব করেন। আর রূম | নামে তাহার উপপত্নী টেবহ, গহম, তহশ এবং মাথা, এই সকলকে প্রসব করিল। | о. т. 4) 》 সারার মৃত্যু ও সমাধি । འདྲེ༄) সারার বয়স এক শত সাতাইশ বৎসর হইয়াছিল ; সারার জীবনকাল এত বৎসর। পরে সারা কনান দেশস্থ কিরিয়থর্বে অর্থাৎ হিত্ৰোণে মরিলেন। আর অব্রাহাম সারার নিমিত্তে শোক ও রোদন ৩ করিতে আসিলেন। পরে অব্রাহীম আপন মৃতের সম্মুখ হইতে উঠিয়া গিয়া হেতের সন্তানদিগকে কহি৪ লেন, আমি আপনাদের মধ্যে বিদেশী ও প্রবাসী ; আপনাদের মধ্যে আমাকে কবরস্থানের অধিকার দিউন ; আমি আমার সম্মুখ হইতে আমার এ মৃতকে কবর দিই। তখন হেতের সন্তানের অব্রা৬ হামকে উত্তর করিলেন, হে প্রভো, আমাদের কথা শুনুন ; আপনি আমাদের মধ্যে ঈশ্বরনিযুক্ত রাজাস্বরূপ ; আপনার মৃতকে আমাদের কবরস্থানের মধ্যে আপনার অভীষ্ট কবরে রাখুন, আপনার মৃতকে কবর দিবার জন্য আমাদের কেহ নিজ কবর অস্বীকার করিবে ৭ না । তখন অব্রাহাম উঠিয়৷ তদেশীয় লোকদিগের, অর্থাৎ হেতের সন্তানগণের কাছে প্ৰণিপাত করিলেন, ৮ ও সম্ভাষণ করিয়া কহিলেন, আমার সম্মুখ হইতে আমার মৃতকে কবরে রাথিতে যদি আপনাদের সন্মতি হয়, তবে আমার কথা শুনুন । আপনার আমার জন্য সৌহরের পুত্র ইফ্রোণের কাছে নিবেদন করুন ; ৯ তাহার ক্ষেত্রের প্রান্তে মকপেলা গুহা আছে, আপনাদের মধ্যে আমার কবরস্থানের অধিকারার্থে তিনি আমাকে তাহাই দিউন ; সম্পূর্ণ মূল্য লইয়া দিউন। ১০ তপন ইফোণ হেতের সন্তানদের মধ্যে বসিয়া ছিলেন ; আর হেতের যত সন্তান তাহার নগরদ্বারে প্রবেশ করিলেন, তাহদের কর্ণগোচরে সেই হিৰ্ত্তীয় ইফ্রোণ ১১ অব্রাহামকে উত্তর করিলেন, হে আমার প্রভো, তাহ হইবে না ; আমার কথা শুনুন, আমি সেই ক্ষেত্র ও তথাকার গুহা আপনাকে দান করিলাম ; আমি নিজ জাতির সন্তানদের সাক্ষাতেই আপনাকে তাহা ১২ দিলাম, আপনার মৃতকে কবর দিউন । তখন অব্রাহাম তদেশীয় লোকদের সাক্ষাতে প্ৰণিপাত ১৩ করিলেন, আর তদেশীয় সকলের কর্ণগোচরে ইফ্রোণকে কহিলেন, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, নিবেদন করি, আমার কথা শুনুন, আমি সেই ক্ষেত্রের মূল্য দিই, আপনি আমার নিকটে তাহ। গ্রহণ করুন, পরে আমি সে স্থানে আমার মৃতকে কবর ১৪ দিব। তখন ইফ্রোণ উত্তর দিয়া অব্রাহামকে কহিলেন, ১৫ হে আমার প্রভো, আমার কথা শুনুন, সেই ভুমির মূল্য চারি শত শেকল রৌপ্যমাত্র ; ইহাতে আপনার ও আমার কি আইসে যায় ? আপনি নিজ ১৬ মৃতকে কবর দিউন । তখন অব্রাহাম ইফ্রোণের বাক্যে অবধান করিলেন ; ইফ্রোণ হেতের সন্তানদের কর্ণগোচরে যে রৌপ্যের কথা বলিয়াছিলেন, অব্রাহাম তাহ, অর্থাৎ বণিকদের মধ্যে প্রচলিত 17 ○ デ চারি শত শেকল রৌপ্য তৌল করিয়া ইফ্রোণকে দিলেন । এইরূপে মন্ত্রির সম্মুখে মক্‌পেলায় ইফ্রোণের যে ক্ষেত্র ছিল, সেই ক্ষেত্র, তথাকার গুহা ও সেই ক্ষেত্রস্থ ১৮ বৃক্ষ সকল, তাহার চতুঃসীমার অন্তর্গত বৃক্ষসমূহ, এই সকলেতে হেভের সন্তানদের সাক্ষাতে, তাহার নগরদ্বারে প্রবেশকারী সকলের সাক্ষাতে, অব্রাহীমের স্বত্বt ১৯ ধিকার স্থিরীকৃত হইল। তৎপরে অব্রাহাম কনান দেশস্থ মন্ত্রির, অর্থাৎ হিরোণের সম্মুখে মকপেলা ক্ষেত্রে স্থিত ২০ গুহাতে আপন স্ত্রী সারার কবর দিলেন । এইরূপে কবরস্থানের অধিকারার্থে সেই ক্ষেত্রে ও তথাকার গুহাতে অব্রাহামের অধিকার হেতের সন্তানগণ কর্তৃক স্থিরীকৃত হইল । ইসহাকের বিবাহ। R8 তৎকালে অব্রাহাম বৃদ্ধ ও গতবয়স্ক ছিলেন ; এবং সদাপ্রভু অব্রাহামকে সৰ্ব্ববিষয়ে আশীৰ্ব্বাদ ২ করিয়াছিলেন । তখন অব্রাহাম আপন দাসকে, তাহার সমস্ত বিষয়ের অধ্যক্ষ, গৃহের প্রাচীনকে কহিলেন, বিনয় করি, তুমি আমার জঙ্ঘার নীচে হস্ত দেও ; ৩ আমি তোমাকে স্বৰ্গ মৰ্ত্তোর ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে এই দিব্য করাই, যে কনানীয় লোকদের মধ্যে আমি বাস করিতেছি, তুমি আমার পুত্রের বিবাহের ৪ জন্ত তাহদের কোন কন্যা গ্রহণ করিবে না, কিন্তু আমার দেশে আমার জ্ঞাতিদের নিকটে গিয়া ৫ আমার পুত্র ইস্হাকের জন্য কন্যা আনিবে। তখন সেই দাস তাহাকে কহিলেন, কি জানি, আমার সহিত এই দেশে আসিতে কোন কন্যা সম্মত হইবে না ; আপনি যে দেশ ছাড়িয়া আসিয়াছেন, আপনার পুত্রকে ৬ কি আবার সেই দেশে লইয়। যাইব ? তখন আব্রাহাম তাহাকে কহিলেন, সাবধান, কোন ক্রমে আমার ৭ পুত্রকে আবার সেখানে লইয়া যাইও না। সদাপ্রভু, স্বর্গের ঈশ্বর, যিনি আমাকে পৈতৃক বাট ও জন্মদেশের মধ্য হইতে আনিয়াছেন, আমার সহিত আলাপ করিয়াছেন, এবং এমন দিব্য করিয়াছেন যে, আমি তোমার বংশকে এই দেশ দিব, তিনিই তোমার অগ্রে আপন দূত পাঠাইবেন ; তাহাতে তুমি আমার পুত্রের জন্ত তথা হইতে একটী কন্যা অনিতে পরিবে । ৮ যদি কোন কন্যা তোমার সহিত আসিতে সম্মত ন৷ হয়, তবে তুমি আমার এই দিব্য হইতে মুক্ত হইবে ; কিন্তু কোন ক্রমে আমার পুত্রকে আবার সে দেশে ন লইয়। যাইও না। তাহাতে সেই দাস আপন প্ৰভু অব্রাহীমের জঙ্ঘার নীচে হস্ত দিয়া তদ্বিষয়ে দিব্য করিলেন । পরে সেই দাস আপন প্রভুর উষ্ট্রদের মধ্য হইতে দশটা উষ্ট্র ও আপন প্রভুর সর্বববিধ উত্তম দ্রব্য হস্তে লইয়। প্রস্থান করিলেন, আরাম-নহরয়িম দেশে, নাহো১১ রের নগরে যাত্রা করিলেন। আর সন্ধ্যাকালে যে সময়ে > ግ 3 G আদিপুস্তক । [ ९० ; >१ - ९ 8 ; २४ ॥ স্ত্রীলোকের জল তুলিতে বাহির হয়, তৎকালে তিনি নগরের বাহিরে সজল কুপের নিকটে উদ্ভদিগকে বসা১২ ইয়া রাখিলেন, এবং কহিলেন, হে সদাপ্রভো, আমার কৰ্ত্ত অব্রাহামের ঈশ্বর, বিনয় করি, অদ্য আমার সম্মুখে শুভফল উপস্থিত কর, আমার প্রভু অব্রাহামের ১৩ প্রতি দয়া কর। দেখ, আমি এই সজল কুপের নিকটে দাড়াইয়া আছি, এবং এই নগরবাসীদের কন্যাগণ জল ১৪ তুলিতে বাহিরে আসিতেছে ; অতএব যে কন্যাকে আমি বলিব, আপনার কলশ নামাইয়। আমাকে জল পান করাউন, সে যদি বলে, পান কর, তোমার উষ্ট্রদিগকেও পান করাইব, তবে তোমার দাস ইস্হাকের জন্য তোমার নিরূপিত কন্য। সেই হউক ; ইহাতে আমি জানিব যে, তুমি আমার প্রভুর প্রতি দয়া করিলে। এই কথা কহিতে না কহিতে, দেখ, রিবিক কলশ স্বন্ধে করিয়া বাহিরে আসিলেন ; তিনি অব্রাহামের নাহোর নামক ভ্রাতার স্ত্রী মিষ্কার পুত্র বথুয়েলের কন্য। ১৬ সেই কন্য। দেখিতে বড়ই সুন্দরী এবং অবিবাহিত। ও পুরুষের পরিচয় অপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি কুপে নামিয়া ১৭ কলশ পুরিয়া উঠিয়া আসিতেছেন, এমন সময়ে সেই দাস দৌড়িয় তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া কহিলেন, বিনয় করি, আপনার কলশ হইতে আমাকে কিঞ্চিৎ ১৮ জল পান করিতে দিউন। তিনি কহিলেন, মহাশয়, পান করুন; ইহা বলিয়া তিনি শীঘ্ৰ কলশ হাতের ১৯ উপরে নামাইয় তাহাকে পান করিতে দিলেন । আর তাহাকে পান করাইবার পর কহিলেন, যাবৎ আপনার উষ্ট্র সকলের পান সমাপ্ত না হয়, তাবৎ আমি ২০ উহাদের জন্যও জল তুলিব। পরে তিনি শীঘ্ৰ নিপানে কলশের জল ঢালিয়া পুনশ্চ জল তুলিতে কুপের নিকটে দৌড়িয়া গিয় তাহার উষ্ট সকলের নিমিত্ত জল তুলি২১ লেন। তাহাতে সেই পুরুষ তাহার প্রতি একদৃষ্টি চাহিয়, সদাপ্রভু তাহার যাত্র সফল করেন কি না, ২২ তাহ জানিবার জন্ত নীরব রহিলেন । উষ্ট্র সকল জল পান করিলে পর সেই পুরুষ অৰ্দ্ধ তোলা পরিমিত সোণার নথ, এবং দশ তোলা পরিমিত দুই হাতের ২৩ সোণার বালা লইয়া কহিলেন, আপনি কাহার কন্যা ? বিনয় করি, আমাকে বলুন, আপনার পিতার বাটতে ২৪ কি আমাদের রাত্রি যাপনের স্থান আছে ? তিনি উত্তর করিলেন, আমি সেই বথুয়েলের কন্যা, যিনি মিষ্কার পুত্র, যাহাকে তিনি নাহোরের জন্য প্রসব করিয়াছিলেন। ২৫ তিনি আরও কহিলেন, পোয়াল ও কলাই আমাদের কাছে যথেষ্ট আছে, এবং রাত্রি যাপনের স্থানও আছে। ২৬ তখন সে ব্যক্তি মস্তক নমন করিয়া সদাপ্রভুর উদ্দেশে ২৭ প্ৰণিপাত করিলেন, আর কহিলেন, আমার কৰ্ত্ত অব্রাহামের ঈশ্বর সদাপ্রভু ধন্য হউন, তিনি আমার কৰ্ত্তার সহিত আপন দয়া ও সত্য ব্যবহার নিবৃত্ত করেন নাই ; সদাপ্রভু আমাকেও পথঘটনাতে আমার কৰ্ত্তার জ্ঞাতিদের বাটীতে আনিলেন। পরে সেই কন্যা দৌড়িয়া গিয়া আপন মাতার গৃহের S Q. ミ* 18 ২ 8 ; ২৯ - ৬০ | | ২৯ লোকদিগকে এই সকল কথা জানাইলেন। আর রিবিকার এক ভ্রাতা ছিলেন, তাহার নাম লাবন ; সেই লাবন বাহিরে ঐ ব্যক্তির উদ্দেশে কুপের নিকটে দৌড়িয়া ৩০ গেলেন। নর্থ ও ভগিনীর হাতে বালা দেখিয়া, এবং “সেই ব্যক্তি আমাকে এই এই কথা কছিলেন, আপন ভগিনী রিবিকার মুখে ইহা শুনিয়া, তিনি সেই পুরুষের নিকটে গেলেন, আর দেখ, তিনি কুপের নিকটে উষ্ট্রদের কাছে ৩১ দাড়াইয়া ছিলেন ; আর লাবন কহিলেন, হে সদাপ্রভুর আশীৰ্ব্বাদপত্র, আইয়ন, কেন বাহিরে দাড়াইয়া আছেন? আমি ত ঘর এবং উদ্ভদের জন্যও স্থান প্রস্তুত ৩২ করিয়াছি । তখন ঐ ব্যক্তি বাটীতে প্রবেশ করিয়া উষ্ট্রদের সজ্জা খুলিলে তিনি উষ্ট্রদের জন্য পোয়াল ও কলাই দিলেন, এবং তাহার ও তৎসঙ্গী লোকদের পা ৩৩ ধুইবার জল দিলেন। পরে তাহার সম্মুখে আহারীয় দ্রব্য স্থাপন করা হইল, কিন্তু তিনি কহিলেন, বক্তব্য কথা না বলিয়া আমি আহার করিব না । লাবন কহিলেন, বলুন । ৩৪ তখন তিনি বলিতে লাগিলেন, আমি অব্রাহামের ৩৫ দাস ; সদাপ্রভু আমার কৰ্ত্তাকে বিলক্ষণ আশীৰ্ব্বাদ করিয়াছেন, আর তিনি বড় মানুষ হইয়াছেন, এবং [সদাপ্রভু] তাহাকে মেষ ও গবাদি পাল এবং রৌপ্য ও স্বর্ণ এবং দাস ও দাসী এবং উঃ ও গর্দভ দিয়াছেন । ৩৬ আর আমার কৰ্ত্তার ভাৰ্য্য। সারা বৃদ্ধকালে তাহার জন্য এক পুত্র প্রসব করিয়াছেন, তাহাকেই তিনি আপনার ৩৭ সৰ্ব্বস্ব দিয়াছেন। আর আমার কর্তা আমাকে দিব্য করাইয়া কহিলেন, আমি যাহাঁদের দেশে বাস করিতেছি, তুমি আমার পুত্রের জন্য সেই কন৩৮ নীয়দের কোন কন্যা আনিও না ; কিন্তু আমার পিতৃকুলের ও আমার গোষ্ঠীর নিকটে গিয়া আমার ৩৯ পুত্রের জন্য কন্যা আনিও। তখন আমি কৰ্ত্তাকে কহিলাম, কি জানি, কোন কন্যা আমার সঙ্গে ৪০ আসিবে না। তিনি কহিলেন, আমি যাহার সাক্ষাতে গমনাগমন করি, সেই সদাপ্রভু তোমার সঙ্গে আপন দূত পঠাইয়া তোমার যাত্র সফল করিবেন ; এবং তুমি আমার গোষ্ঠী ও আমার পিতৃকুল হইতে আমার ৪১ পুত্রের জন্য কন্যা আনিবে। তাহা করিলে এই দিব্য হইতে মুক্ত হইবে ; আমার গোষ্ঠীর নিকটে গেলে যদি তাহারা কিন্ত] না দেয়, তবে তুমি এই ৪২ দিব্য হইতে মুক্ত হইবে। আর অদ্য আমি ঐ কূপের নিকটে উপস্থিত হইলাম, আর বলিলাম, হে সদাপ্রভো, আমার কৰ্ত্ত অব্রাহামের ঈশ্বর, তুমি যদি আমার ৪৩ এই যাত্র সফল কর, তবে দেখ, আমি এই সজল কুপের নিকটে দাড়াইয়া আছি; অতএব জল তুলিবার নিমিত্তে আগত যে কন্যাকে আমি বলিব, আপনার কলশ হইতে আমাকে কিঞ্চিৎ জল পান করিতে ৪৪ দিউন, তিনি যদি বলেন, তুমিও পান কর, এবং তিনি সেই কন্যা হউন, যাহাকে সদাপ্রভু আমার কৰ্ত্তার আদিপুস্তক। ^ ఎ ৪৫ পুত্রের জন্ত নিরূপণ করিয়াছেন । এই কথা আমি মনে মনে বলিতে না বলিতে, দেখ, রিবিক কলশ স্বন্ধে করিয়াবাহিরে আসিলেন ; পরে তিনি কুপে নামিয় জল তুলিলে আমি কহিলাম, বিনয় করি, আমাকে জল পান ৪৬ করাউন । তখন তিনি শীঘ্র স্কন্ধ হইতে কলশ নামইয়া কহিলেন, পান করুন, আমি আপনার উঐদিগকেও পান করাইব। তখন আমি পান করিলাম ; আর ৪ । তিনি উষ্ট্রগণকেও পান করাইলেন। পরে আমি তাহাকে জিজ্ঞাসিলাম, আপনি কাহার কন্যা ? তিনি উত্তর করিলেন, আমি বথুয়েলের কন্যা, তিনি নাহোরের পুত্র, যাহাকে মিল্ক তাহার জন্য প্রসব করিয়াছিলেন। তখন আমি তাহার নাকে ৪৮ নথ ও হাতে বাল পরাইয়া দিলাম। আর মস্তক নমন করিয়া সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্ৰণিপাত করিলাম, এবং যিনি আমার কৰ্ত্তার পুত্রের জন্য র্তাহার ভ্ৰাতৃকন্ত গ্রহণার্থে আমাকে প্রকৃত পথে আনিলেন, আমার কৰ্ত্ত অব্রাহীমের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর ৪৯ ধন্যবাদ করিলাম। অতএব আপনার যদি এখন আমার কৰ্ত্তার সহিত দয়া ও সত্য ব্যবহার করিতে সম্মত হন, তাহ বলুন ; আর যদি না হন, তাহও বলুন ; তাহাতে আমি দক্ষিণে কিম্বা বামে ফিরিতে পারিব। - ৫০ তখন লাবন ও বথুয়েল উত্তর করিলেন, কহিলেন, সদাপ্রভু হইতে এই ঘটনা হইল, আমরা ভাল মন্দ ৫১ কিছুই বলিতে পারি না। ঐ দেখুন, রিবিক। আপনার সম্মুখে আছে ; উহাকে লইয়া প্রস্থান করুন ; এ আপনার কৰ্ত্তার পুত্রের ভাৰ্য্যা হউক, যেমন সদাপ্রভু বলি৫২ য়াছেন। তাহদের কথা শুনিবামাত্র অব্রাহামের দাস ৫৩ সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভূমিতে প্ৰণিপাত করিলেন। পরে সেই দাস রৌপ্যের ও কুবর্ণের আভরণ ও বস্ত্র বাহির করিয়। রিবিকাকে দিলেন, এবং তাহার ভ্রাতাকে ও ৫৪ মাতাকে বহুমূল্য দ্রব্য দিলেন। আর তিনি ও তাহার সঙ্গিগণ ভোজন পান করিয়া তথায় রাত্রিবাস করিলেন ; পরে তাহারা প্রাতঃকালে উঠিলে তিনি কহিলেন, আমার কর্তার নিকটে যাইতে আমাকে বিদায় ৫৫ করুন। তাহাতে রিবিকীর ভ্রাতা ও মাত কহিলেন, কন্যাটা আমাদের নিকটে কিছু দিন থাকুক, নুনিকল্পে ৫৬ দশ দিন থাকুক, পরে যাইবে । কিন্তু তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, আমাকে বিলম্ব করাইবেন না, কেননা সদাপ্রভু আমার যাত্রা সফল করিলেন ; আমাকে বিদায় করুন ; আমি নিজ কৰ্ত্তার নিকটে ৫৭ যাই । তাঁহাতে র্তাহারা কহিলেন, আমরা কন্যাকে ৫৮ ডাকিয় তাহাকে সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করি। পরে তাহারা রিবিকাকে ডাকিয় কহিলেন, তুমি কি এই ব্যক্তির সহিত যাইবে ? তিনি কহিলেন, যাইব । e৯ তখন র্তাহারা আপনাদের ভগিনী রিবিকাকে ও তাহার ধাত্রীকে এবং অব্রাহামের দাসকে ও তাহার লোক৬• দিগকে বিদায় করিলেন । আর রিবিকাকে আশীৰ্ব্ববাদ 19 3. o করিয়া কহিলেন, তুমি আমাদের ভগিনী, সহস্র সহস্ৰ অযুতের জননী হও ; তোমার বংশ আপন ৬১ শক্রগণের পুরদ্বার অধিকার করুক। পরে রিবিক ও তাহার দাসীগণ উঠিলেন, এবং উষ্ট্রে চড়িয়া সেই মনুষ্যের পশ্চাৎ গমন করিলেন ; এইরূপে সেই দাস রিবিকাকে লইয়। প্রস্থান করিলেন ; আর ইসহাক বের লহয়,-রোয়ী নামক স্থানে গিয়া ফিরিয়া আসিয়াছিলেন, কেনন। তিনি দক্ষিণ দেশে বাস ৬৩ করিতেছিলেন । ইসহাক সন্ধ্যাকালে ধ্যান করিতে ক্ষেত্রে গিয়াছিলেন, পরে চক্ষু তুলিয়া-চাহিলেন, আর ৬৪ দেখ, উস্ত্র আসিতেছে । আর রিবিক চক্ষু তুলিয়া যখন ৬৫ ইসহাককে দেখিলেন, তখন উষ্ট্র হইতে নামিয়া সেই দাসকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে ক্ষেত্রের মধ্য দিয়া আসিতেছেন, ঐ পুরুষ কে ? দাস কহিলেন, উনি আমার কৰ্ত্ত । তখন রিবিক। আবরক লইয়া আপনাকে আচ্ছাদন করিলেন । পরে সেই দাস ইসহাককে আপনার কৃত সমস্ত কৰ্ম্মের বিবরণ কহিলেন। তখন ইসহাক রিবিকাকে গ্রহণ করিয়া সারা মাতার তাম্বুতে লইয়া গিয়া তাহাকে বিবাহ করিলেন, এবং তাঁহাকে প্রেম করিলেন । তাহাতে ইসহাক মাতৃবিয়োগের শোক হইতে সান্তন পাইলেন। অব্রাহামের আরও বিবাহ ও মৃত্যু। ર.(c . । ..." কুটুর নামী আর এক স্ত্রীকে বিবাহ করেন । তিনি তাহার জন্য সিস্ত্রণ, যকৃষণ, মদীন, মিদিয়ন, যিশধক ও শূহ, এই সকলকে প্রসব ৩ করিলেন যকৰ্ষণ হইতে শিব ও দদান জন্মে। অশুরীয়, লটুশীয় ও লিয়ুৰ্ম্মীয় লোকের দদানের সন্তান । ৪ এবং মিদিয়নের সন্তান ঐফ, এফর, হনোক, অবাদ ও ইলদায় ; এই সকল কটুরার সন্তান। ৫ আর অব্রাহাম ইসহাককে আপনার সর্বস্ব দিলেন । ৬ কিন্তু আপন উপপত্নীদের সন্তানদিগকে অব্রাহাম ভিন্ন ভিন্ন দান দিয়া আপনার জীবদ্দশাতেই আপন পুত্ৰ পূৰ্ব্বদেশে প্রেরণ করিলেন। ৭ অব্রাহীমের জীবনকাল এক শত পচাত্তর বৎসর ; ৮ তিনি এত বৎসর জীবিত ছিলেন। পরে অব্রাহাম বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হইয়া শুভ বৃদ্ধাবস্থায় প্রাণত্যাগ করিয়া আপন লোকদের নিকটে সংগৃহীত হইলেন। = আর তাহার পুত্র ইসহাক ও ইশ্বায়েল মম্রির সম্মুখে হেতীয় সোহরের পুত্র ইফ্রোণের ক্ষেত্রস্থিত মক্‌পেলা ১০ গুহাতে তাহার কবর দিলেন। অব্রাহাম হেতের । সন্তানদের কাছে সেই ক্ষেত্র ক্রয় করিয়াছিলেন । সেই | স্থানে অব্রাহীমের ও তাহার স্ত্রী সারার কবর দেওয়া | ১১ হয় । অব্রাহামের মৃত্যু হইলে পর ঈশ্বর তাহার পুত্ৰ | ইসহাককে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন ; এবং ইসহাক বের ; লহয়,-রোয়ার নিকটে বসতি করিলেন। ৬২ ولا ما گونه আদিপুস্তক । هری از G به س- لایز 8 ه ] ১২ অব্রাহীমের পুত্র ইশ্মায়েলের বংশ-বৃত্তান্ত এই ৷ সারার দ্বাসী মিস্ত্ৰীয়া হাগার অব্রাহীমের জন্ত তাহাকে ১৩ প্রসব করিয়াছিল। আপন আপন নাম ও গোষ্ঠী অনুসারে ইশ্মায়েলের সন্তানদের নাম এই । ইশ্মায়েলের ১৪ জ্যেষ্ঠ পুত্র নবায়োৎ, পরে কেদর, অদবেল, মিক্সম, ১৫ মিশম, দুম, মস, হুদদ, তেম, যিটুর, নাফীশ ও ১৬ কেদম । এই সকল ইশ্মায়েলের সন্তান ; এবং তঁহাদের গ্রাম ও তাম্বুপল্লী অনুসারে তাহদের এই এই নাম; তাহারা আপন আপন জাতি অনুসারে দ্বাদশ ১৭ জন অধ্যক্ষ ছিলেন । ইশ্মায়েলের জীবনকাল এক শত সাঁইত্রিশ বৎসর ছিল ; পরে তিনি প্রাণত্যাগ করিয়া ১৮ আপন লোকদের নিকটে সংগৃহীত হইলেন। আর তাহার সন্তানগণ হীল অবধি অশুরিয়ার দিকে মিসরের সম্মুখস্থ শুর পর্যন্ত বসতি করিল ; তিনি তাহার সকল ভ্রাতার সম্মুখে বসতিস্থান পাইলেন । ইসহাকের বৃত্তান্ত। ১৯ অব্রাহীমের পুত্র ইস্হাকের বংশ বৃত্তান্ত এই । অব্রা২০ হাম ইস্হাকের জন্ম দিয়াছিলেন। চল্লিশ বৎসর বয়সে ইসহাক আরামীয় বথুয়েলের কন্যা আরামীয় লাবনের ভগিনী রিবিক্যকে পদন অরাম হইতে আনা২১ ইয়া বিবাহ করেন। ইস্হাকের স্ত্রী বন্ধ্য হওয়াতে তিনি তাহার নিমিত্তে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করিলেন। তাহাতে সদাপ্রভু তাহার প্রার্থনা শুনিলেন, ২২ তাহার স্ত্রী রিবিক গৰ্ত্তবতী হইলেন। পরে তাঁহার গৰ্ত্তমধ্যে শিশুরা জড় জড়ি করিল, তাহাতে তিনি কহিলেন, যদি এরূপ হয়, তবে আমি কেন বাচিয় আছি । আর তিনি সদাপ্রভুর কাছে জিজ্ঞাসা করিতে ২৩ গেলেন। তখন সদাপ্রভু তাহাকে কহিলেন, তোমার জঠরে দুই জাতি আছে, ও তোমার উদর হইতে দুই বংশ বিভিন্ন হইবে ; এক বংশ অন্ত বংশ অপেক্ষ বলবান হইবে, ও জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠের দাস হইবে। ২৪ পরে প্রসবকাল সম্পূর্ণ হইল, আর দেখ, ২৫ গৰ্ত্তে যমজ পুত্র। যে প্রথমে ভূমিষ্ঠ হইল, সে রক্তবণ এবং তাহার সর্ববঙ্গ লোমশ বস্ত্রের সদৃশ ছিল। তাহার ২৬ নাম এষে [লোমশ ] রাখা গেল। পরে তাহার ভ্রাতা ভূমিষ্ঠ হইল। তাহার হস্ত এধেীর পাদমূল ধরিয়াছিল, আর তাহার নাম যাকোব [পাদগ্ৰাহী হইল ; ইস্হাকের ষষ্টি বৎসর বয়সে এই যমজ পুত্র হইল । পরে সেই বালকের বড় হইলে এষে নিপূণ শিকারী ও প্রান্তরবিহারী হইলেন ; কিন্তু যাকোব শান্ত ছিলেন, ২৮ তিনি তাম্বুতে বাস করিতেন। ইসহাক এষোঁকে ভাল বাসিতেন, কেননা তাহার মুখে মৃগমাংস ভাল লাগিত ; ২৯ কিন্তু রিকি যাকোবকে ভাল বাসিতেন। একদ। যাকোব দাইল পাক করিয়াছেন, এমন সময়ে এীে ক্লান্ত হইয়া প্রান্তর হইতে আসিয়া যাকোবকে কহিলেন, তাহার ৩০ আমি ক্লান্ত হইয়াছি, বিনয় করি, ঐ রাঙ্গা, ঐ রাঙ্গ৷ 20 ২৫ ; ৩১ – ২ ৬ ; ২৮ । ] দ্বারা আমার উদর পূর্ণ কর। এই জষ্ঠ উহার নাম ৩১ ইদোম (রাঙ্গ] খ্যাত হইল। তখন যাকোব কহিলেন, অদ্য তোমার জ্যেষ্ঠাধিকার আমার কাছে বিক্রয় কর । ৩২ এষে বলিলেন, দেখ, আমি মৃতপ্রায়, জ্যেষ্ঠাধিকারে ৩৩ আমার কি লাভ ? যাকোব কহিলেন, তুমি অদ্য আমার কাছে দিব্য কর । তাহাতে তিনি তাহার কাছে দিব্য করিলেন । এইরূপে তিনি আপন জ্যেষ্ঠাধিকার ৩s যাকোবের কাছে বিক্রয় করিলেন। আর যাকোব এৰোঁকে রুট ও মহুরের রান্ধ দাইল দিলেন ; এবং তিনি ভোজন পান করিলেন, পরে উঠিয়া চলিয়া গেলেন । এইরূপে এম্বো আপন জ্যেষ্ঠাধিকার তুচ্ছ করিলেন। পূৰ্ব্বে অব্রাহামের সময়ে যে দুর্ভিক্ষ হয়, তাহ। ર૭ ছাড়া দেশে আর এক দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হইল । তখন ইসহাক গরারে পলেষ্টীয়দের রাজা অধীমেল২ কের কাছে গেলেন। আর সদাপ্রভু তাহাকে দর্শন দিয়া কহিলেন, তুমি মিসর দেশে নামিয়া যাইও না, আমি তোমাকে যে দেশের কথা বলিব, তথায় শু থাক। এই দেশে প্রবাস কর ; আমি তোমার সহবত্তা হইয়া তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করিব, কেননা আমি তোমাকে ও তোমার বংশকে এই সমস্ত দেশ দিব, এবং তোমার পিতা অব্রাহীমের নিকটে যে দিব্য করিয়া৪ ছিলাম, তাহ সফল করিব। আমি আকাশের তারাগণের স্থায় তোমার বংশ বৃদ্ধি করিব, তোমার বংশকে এই সকল দেশ দিব, ও তোমার বংশে পৃথিবীর যাবতীয় ৪ জাতি আশীৰ্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে। কারণ অব্রাহাম আমার বাক্য মানিয়া আমার আদেশ, আমার আজ্ঞা, আমার বিধি ও আমার ব্যবস্থা সকল পালন করিয়াছে । ৬, ৭ পরে ইসহাক গরারে বাস করিলেন। আর সে স্থানের লোকেরা তাহার স্ত্রীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কহিলেন, উনি আমার ভগিনী ; কারণ, এ আমার স্ত্রী, এই কথা বলিতে তিনি ভীত হইলেন, ভাবিলেন, কি জানি এই স্থানের লোকের রিবিকার নিমিত্তে আমাকে বধ করিবে ; কেনন। তিনি দেখিতে সুন্দরী ৮ ছিলেন । কিন্তু সে স্থানে বহুকাল বাস করিলে পর কোন সময়ে পলেষ্টীয়দের রাজা অবীমেলক বাতায়ন দিয়া দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, ইসহাক আপন স্ত্রী = রিবিকার সহিত ক্রীড়া করিতেছেন। তখন আবীমেলক ইসহাককে ডাকাইয়। কহিলেন, দেখুন, ঐ স্ত্রী অবশ্য আপনার ভাৰ্য্যা ; তবে আপনি ভগিনী বলিয় তাহার পরিচয় কেন দিয়াছিলেন ? ইসহাক উত্তর করিলেন, আমি ভাবিয়াছিলাম, কি জানি, তাহার জন্ত আমার ১- মৃত্যু হইবে। তখন অবমেলক কহিলেন, আপনি আমাদের সহিত এ কি ব্যবহার করিলেন ? কোন লোক আপনকার ভাৰ্য্যার সহিত অনায়াসে শয়ন করিতে পারিত ; তাহ হইলে আপনি আমাদিগকে ১১ দোষগ্রস্ত করিতেন। পরে অবীমেলক সকল লোককে এই আজ্ঞা দিলেন, যে কেহ এই ব্যক্তিকে কিম্বা ইহার স্ত্রীকে স্পর্শ করিবে, তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে। আদিপুস্তক । & S. আর ইসহাক সেই দেশে চাসকৰ্ম্ম করিয়া সেই বৎসর শত গুণ শস্ত পাইলেন, এবং সদাপ্রভু তাহাকে ১৩ আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। আর তিনি বদ্ধিষ্ণু হইলেন, এবং ১৪ উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাইয়া অতি বড় লোক হইলেন ; আর তাহার মেষধন ও গোধন এবং অনেক দাস দাসী হইল : আর পলেষ্টয়েরা তাহার প্রতি ঈর্ষা করিতে লাগিল । এবং তাহার পিতা অব্রাহামের সময়ে তাহার দাসগণ যে যে কুপ খুঁড়িয়াছিল, পলেষ্টয়ের সে সমস্ত বুজাইয়৷ ১৬ ফেলিয়াছিল ও ধূলিতে পরিপূর্ণ করিয়াছিল। পরে অবমেলক ইসহাককে কহিলেন, আমাদের নিকট হইতে প্রস্থান করুন, কেনন। আপনি আমাদের অপেক্ষ অতি বলবান হইয়াছেন। পরে ইসহাক তথা হইতে যাত্রা করিলেন, ও গরীরের উপত্যকাতে তাম্বু স্থাপন করির সে স্থানে বাস করি১৮ লেন । আর ইসহাক আপনার পিতা অব্রাহীমের সময়ে খনিত কুপ সকল আবার খুঁড়িলেন ; কারণ অব্রাহামের মৃত্যুর পরে পলেষ্টয়ের সে সকল বুজাইয়৷ ফেলিয়াছিল ; আর তাহার পিতা সেই সকলের যে যে নাম রাখিয়াছিলেন, তিনিও সেই সেই নাম রাখিলেন। ১৯ সেই উপত্যকায় ইস্হাকের দাসগণ খুঁড়িয়া জলের ২. উলুইবিশিষ্ট এক কূপ পাইল। তাহাতে গরীরর পশুপালকের ইসহাকের পশুপালকদের সহিত বিবাদ করিয়া কহিল, এ জল আমাদের ; অতএব তিনি সেই কূপের নাম এষক [বিবাদ] রাগিলেন, যেহেতু তাহারা তাহার সহিত বিবাদ করিয়াছিল। পরে তাহার_দাসগণ আর এক কূপ খনন করিলে তাহার সেটার জন্তও বিবাদ করিল ; তাহাতে ২২ তিনি সেটার নাম লিটুন [বিপক্ষতা] রাখিলেন। তিনি তথা হইতে প্রস্থান করিয়৷ অন্ত এক কুপ খনন করিলেন ; সেটার নিমিত্ত তাহার বিবাদ করিল না ; তাই তিনি সেটার নাম রহোবোৎ [প্রশস্ত স্থান] রাখিয়া কহিলেন, এখন সদাপ্রভু আমাদিগকে প্রশস্ত স্থান দিলেন, ২৩ আমরা দেশে ফলবন্ত হইব। পরে তিনি তথা হইতে ২৪ বের শেবাতে উঠিয়া গেলেন। সেই রাত্রিতে সদাপ্রভু তাহাকে দর্শন দিয়া কহিলেন, আমি তোমার পিত। তত্ৰাহামের ঈশ্বর, ভয় করিও না, কেননা আমি আপন দাস অব্রাহামের অনুরোধে তোমার সহবর্তী, আমি তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করিব ও তোমার বংশ বৃদ্ধি ২৫ করিব। পরে ইসহাক সে স্থানে যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিয়া সদাপ্রভুর নামে ডাকিলেন, আর সেই স্থানে তিনি তাম্বু স্থাপন করিলেন ; ও তাহার দাসগণ তথায় এক কুপ খুড়িল । আর অবীমেলক আপন মিত্র অহ্ষৎকে ও সেনাপতি ফাঁকোলকে সঙ্গে লইয়। গরার হইতে ইস্হাকের ২৭ নিকটে গমন করিলেন। তখন ইসহাক তাহাদিগকে কহিলেন, আপনার আমার কাছে কি নিমিত্ত আসিলেন ? আপনার ত আমাকে দ্বেষ করিয়া আপনাদের ২৮ মধ্য হইতে দুর করিয়া দিয়াছেন। তাহারা বলিলেন, > R >Q ∶ ግ ミや 21 * ९ আমরা স্পষ্টই দেখিলাম, সদাপ্রভু আপনার সহবৰ্ত্ত, এই জষ্ঠ্য বলিলাম, আমাদের মধ্যে, অর্থাৎ আমাদের ও আপনার মধ্যে এক শপথ হউক, আর আমরা এক ২৯ নিয়ম স্থির করি। আমরা যেমন আপনাকে স্পর্শ করি নাই, ও আপনার মঙ্গল ব্যতিরেকে আর কিছুই করি নাই, বরং আপনাকে শান্তিতে বিদায় করিয়াছি, তদ্রুপ আপনিও আমাদের উপর হিংসা করিবেন না ; ৩• আপনিই এখন সদাপ্রভুর আশীৰ্ব্বাদের পাত্র। তখন ইস্হাক তাহদের নিমিত্তে ভোজ প্রস্তুত করিলে ৩১ তাহার ভোজন পান করিলেন। পরে তাহার প্রত্যুষে উঠিয়া পরস্পর দিব্য করিলেন ; তখন ইস্হাক তাহাদিগকে বিদায় করিলে তাহার। শান্তিতে র্তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করিলেন। সেই দিন ইস্হাকের দাসগণ আসিয়া আপনাদের খনিত কুপের বিষয়ে সংবাদ দিয়া তাহাকে কহিল, জল ৩৩ পাইয়াছি। আর তিনি তাহার নাম শিবিয়া [ দিব্য ] রাখিলেন, এই জন্য অদ্য পৰ্য্যন্ত সেই নগরের নাম বেরু-শেবা রহিয়াছে। আর এষে চল্লিশ বৎসর বয়সে হিৰ্ত্তীয় বেরির বিহুদীৎ নাম্নী কন্যাকে এবং হিৰ্ত্তীয় এলোনের বাসমত ৩৫ নাম্নী কস্তাকে বিবাহ করিলেন । ইহার ইস্হাকের ও রিবিকণর মনের দুঃখদায়িকা হইল । যাকোব ছলপূৰ্ব্বক পিতার আশীৰ্ব্বাদ লন। ՀԳ পরে ইসহাক বৃদ্ধ হইলে চক্ষু নিস্তেজ হওয়ায় আর দেখিতে পাইতেন না ; তখন তিনি আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্ৰ এষোঁকে ডাকিয়া কহিলেন, বৎস। ২ তিনি উত্তর করিলেন, দেখুন, এই আমি। তখন ইস্হাক কহিলেন, দেখ, আমি বৃদ্ধ হইয়াছি ; কোন দিন ৩ আমার মৃত্যু হয়, জানি না। এখন বিনয় করি, তোমার শস্ত্র, তোমার তুণ ও ধনুক লইয়া প্রান্তরে যাও, আমার ৪ জন্ত মৃগ শিকার করিয়া আন । আর আমি যেরূপ ভাল বাসি, তদ্রুপ স্বস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করিয়া আমার নিকটে আন, আমি ভোজন করিব ; যেন মৃত্যুর পুৰ্ব্বে আমার প্রাণ তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করে। ও যখন ইস্হাক আপন পুত্ৰ এষেকে এই কথা বলেন, তখন রিবিক তাহ শুনিয়াছিলেন। অতএব এষে মৃগ শিকার করিয়া আনিবার জন্ত প্রান্তরে গমন করিলে ৬ পর রিবিক। আপন পুত্র যাকোবকে কহিলেন, দেখ, তোমার ভ্রাতা এধেীকে তোমার পিতা যাহা বলিয়াছেন, ৭ আমি শুনিয়াছি ; তিনি বলিয়াছেন, তুমি আমার জন্ত মৃগ শিকার করিয়া আনিয়া স্বস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত কর, তাহাতে আমি ভোজন করিয়৷ মৃত্যুর পূর্বে সদা৮ প্রভুর সাক্ষাতে তোমাকে আশীব্বাদ করিব। হে আমার পুত্র, এখন আমি তোমাকে যাহ আজ্ঞা করি, ৯ আমার সেই কথা শুন । তুমি পালে গিয়া তথা হইতে উত্তম দুইটী ছাগ-বৎস আন, তোমার পিতা যেরূপ ভাল বাসেন, তদ্রুপ স্বস্বাদু খাদ্য আমি প্রস্তুত ఇవి: “రి 3 আদিপুস্তক। [ ২ ৩ ; ২৯ – ২৭ ; ২৭ f ১• করিয়া দিই ; পরে তুমি আপন পিতার নিকটে তাহ লইয়া যাও, তিনি তাহ ভোজন করুন ; যেন তিনি ১১ মৃত্যুর পূৰ্ব্বে তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করেন। তখন যাকোব আপন মাতা রিবিকাকে কহিলেন, দেখ, আমার ভ্রাত এীে লোমশ, কিন্তু আমি নির্লোম । ১২ কি জানি, পিতা আমাকে স্পর্শ করিবেন, আর আমি তাহার দৃষ্টিতে প্রবঞ্চক বলিয়া গণ্য হইব ; তাহা হইলে আমি আমার প্রতি আশীৰ্ব্বাদ না বৰ্ত্তাইয়। ১৩ অভিশাপ বৰ্ত্তাইব । কিন্তু তাহার মাত কহিলেন, বৎস, সেই অভিশাপ আমাতেই বর্ভূক, কেবল আমার কথা শুন, ছাগ-বৎস লইয়। আইস । পরে যাকোব গিয়া তাহ লইয়৷ মাতার নিকটে আনিলেন, আর তাহার পিতা যেরূপ ভাল বাসিতেন, ১৫ মাত সেইরূপ স্বস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করিলেন। আর ঘরে আপনার কাছে জ্যেষ্ঠ পুত্ৰ এষোঁর যে যে মনোহর বস্ত্র ছিল, রিবিক তাহ লইয়৷ কনিষ্ঠ পুত্র যাকোবকে ১৬ পরাইয়া দিলেন। আর ঐ দুই ছাগ-বৎসের চৰ্ম্ম লইয়। তাহার হস্তে ও গলদেশের নির্লোম স্থানে জড়াইয়। ১৭ দিলেন। আর তিনি যে সুস্বাদু খাদ্য ও রুটী পাক করিয়াছিলেন, তাহ তাহার পুত্র যাকোবের হস্তে দিলেন । পরে তিনি আপন পিতার নিকট গিয়া কহিলেন, পিতঃ । তিনি উত্তর করিলেন, দেখ, এই আমি ; বৎস, ১৯ তুমি কে ? যাকোব আপন পিতাকে কহিলেন, আমি আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্র এীে : আপনি আমাকে যাহা আজ্ঞা করিয়াছিলেন, তাহা করিয়াছি। বিনয় করি, আপনি উঠিয়া বসিয়া আমার আনীত মৃগমাংস ভোজন করুন, ২০ যেন আপনার প্রাণ আমাকে আশীৰ্ব্ববাদ করে । তখন ইসহাক আপন পুত্রকে কহিলেন, বৎস, কেমন করিয়৷ এত শীঘ্ৰ উহ পাইলে ? তিনি কহিলেন, আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমার সম্মুখে শুভফল উপস্থিত করিলেন। ২১ ইসহাক যাকোবকে কহিলেন, বৎস, নিকটে আইস ; আমি তোমাকে স্পশ করিয়া বুঝি, তুমি নিশ্চয় আমার ২২ পুত্ৰ এষে কি না। তখন যাকোব আপন পিত ইস্হাকের নিকটে গেলে তিনি তাহাকে স্পর্শ করিয়া কহিলেন, স্বর ত যাকোবের স্বর, কিন্তু হস্ত এষেীর ২৩ হস্ত। বাস্তবিক তিনি তাহকে চিনিতে পারিলেন না, কারণ ভ্রাতা এধেীর হস্তের স্থায় তাহার হস্ত লোমযুক্ত ছিল ; অতএব তিনি তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। ২৪ তিনি কহিলেন, তুমি কি নিশ্চয়ই আমার পুত্ৰ এষে ? ২৫ তিনি কহিলেন, ই। তখন ইস্হাক কহিলেন, আমার কাছে আন ; আমি পুত্রের আনীত মৃগমাংস ভোজন করি, যেন আমার প্রাণ তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করে। তখন তিনি মাংস আনিলে ইসৃহাক ভোজন করিলেন, এবং দ্রাক্ষারস আনিয়া দিলে তাহ পান ২৬ করিলেন। পরে তাহার পিতা ইসহাক কহিলেন, বৎস, বিনয় করি, নিকটে আসিয়া আমাকে চুম্বন কর। ২৭ তখন তিনি নিকটে গিয়া চুম্বন করিলেন, আর ইসহাক S 8 Sly 22 * १ ; २४- २>~ ; v । ] তাহার বস্ত্রের গন্ধ লইয়া তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়া কহিলেন, দেখ, আমার পুত্রের স্বগন্ধ সদাপ্রভুর আশীব্বাদযুক্ত ক্ষেত্রের স্বগন্ধের স্থায় । ঈশ্বর আকাশের শিশির হইতে ও ভূমির সরসতা হইতে তোমাকে দিউন : প্রচুর শস্ত ও দ্রাক্ষারস তোমাকে দিউন। লোকবৃন্দ তোমার দাস হউক, জাতিগণ তোমার কাছে প্ৰণিপাত করুক ; তুমি আপন জ্ঞাতিদের কৰ্ত্তী হও, তোমার মাতৃপুত্রেরা তোমার কাছে প্ৰণিপাত করুক। যে কেহ তোমাকে অভিশাপ দেয়,সে অভিশপ্ত হউক ; যে o তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করে, সে আশীৰ্ব্ববাদযুক্ত ক । ইস্হাক যখন যাকোবের প্রতি আশীৰ্ব্বাদ শেষ করিলেন, তখন যাকোব আপন পিতা ইস্হাকের সম্মুখ হইতে যাইতে ন যাইতেই তাহার ভ্রাতা এষে৷ ৩১ মৃগয়া করিয়৷ ঘরে আসিলেন। তিনিও সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করিয়া পিতার নিকটে আনিয়া কহিলেন, পিতঃ, আপনি উঠিয়৷ পুত্রের আনীত মৃগমাংস ভোজন করুন, ৩২ যেন আপনার প্রাণ আমাকে আশীৰ্ব্বাদ করে। তখন তাহার পিতা ইসহাক কহিলেন, তুমি কে ? তিনি ৩৩ কহিলেন, আমি আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্র এম্বেী। তখন ইস্হাক মহাকম্পনে অতিশয় কম্পিত হইয়। কহিলেন, তবে সে কে, যে মৃগয়া করিয়া আমার নিকটে মৃগমাংস আনিয়াছিল ? আমি তোমার আসিবার পূৰ্ব্বেই তাহ ভোজন করিয়া তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়াছি, আর সেই ৩৪ আশীব্বাদযুক্ত থাকিবে । পিতার এই কথা শুনিবামাত্র এষে সাতিশয় ব্যাকুলচিত্তে মহাচীৎকার শব্দ করিতে লাগিলেন, এবং আপন পিতাকে কহিলেন, হে পিতঃ, ৩৫ আমাকে, আমাকেও আশীৰ্ব্বাদ করুন। ইস্হাক কহিলেন, তোমার ভ্রাত ছল ভাবে আসিয়া তোমার আশী৩৬ বৰ্বাদ হরণ করিয়াছে। এষেী কহিলেন, তাহার নাম কি যাকোব [বঞ্চক] নয় ? বাস্তবিক সে দুই বার আমাকে প্রবঞ্চন করিয়াছে ; সে আমার জ্যেষ্ঠাধিকার হরণ করিয়াছিল, এবং দেখুন, এখন আমার আশীৰ্ব্বাদও হরণ করিয়াছে । তিনি আবার কহিলেন, আপনি কি ৩৭ আমার জন্ত কিছুই আশীৰ্ব্বাদ রাখেন নাই ? তখন ইসহাক উত্তর করিয়া এৰোঁকে কহিলেন, দেখ, আমি তাহাকে তোমার কৰ্ত্ত করিয়াছি, এবং তাহার জ্ঞাতি সকলকে তাহারই দাস করিয়াছি, এবং তাহাকে শস্ত ও দ্রাক্ষারস দিয়া সবল করিয়াছি ; বৎস, এখন ৩৮ তোমার জন্ত আর কি করিতে পারি ? এষে আবার আপন পিতাকে কহিলেন, হে পিতঃ, আপনার কি কেবল ঐ একটা আশীব্বাদ ছিল ? হে পিতঃ, আমাকে, আমাকেও আশীৰ্ব্ববাদ করুন। ইহা বলিয়া এষে উচ্চৈঃ৩৯ স্বরে রোদন করিতে লাগিলেন। তখন তাহার পিতা ইসৃহাক উত্তর করিয়া কহিলেন, 을 ২৯ No o আদিপুস্তক । २ ॐ দেখ, তোমার বসতি ভূমির সরসতাবিহীন হইবে, উপরিস্থ আকাশের শিশিরবিহীন হইবে। ৪• তুমি খড়গজীবী এবং আপন ভ্রাতার দাস হইবে ; কিন্তু যখন তুমি আস্ফালন করিবে, আপন গ্রীব। হইতে তাহার যোয়ালি ভাঙ্গিবে। যাকোব হারণে যান। ৪১ যাকোব আপন পিতা হইতে আশীৰ্ব্বাদ পাইয়াছিলেন বলিয়৷ এষে যাকোবকে দ্বেষ করিতে লাগিলেন । আর এষে মনে মনে কহিলেন, আমার পিতৃশোকের কাল প্রায় উপস্থিত, তৎপরে আমার ভাই যাকোবকে ৪২ বধ করিব। জ্যেষ্ঠ পুত্র এীের এরূপ কথা রিবিকার কর্ণগোচর হইল, তাহাতে তিনি লোক পাঠাইয়৷ কনিষ্ঠ পুত্র যাকোবকে ডাকাইলেন, কহিলেন, দেখ, তোমার ভ্রাত এযে তোমাকে বধ করিবার ৪৩ আশাতেই মনকে প্রবোধ দিতেছে। এখন, হে বৎস, আমার কথা শুন ; উঠ, হারণে আমার ভ্রাতা লাবনের ৪৪ নিকট পলাইয় যাও ; এবং সেখানে কিছু কাল থাক, যে পৰ্য্যন্ত তোমার ভ্রাতার ক্রোধ নিবৃত্ত না হয়। ৪৫ তোমার প্রতি ভ্রাতার ক্রোধ নিবৃত্ত হইলে, এবং তুমি তাহার প্রতি যাহা করিয়াছ, তাহ সে ভুলিয়া গেলে আমি লোক পাঠাইয়া তথা হইতে তোমাকে আনাইব । এক দিনে তোমাদের দুই জনকেই কেন হারাইব ? আর রিবিক ইস্হাককে কহিলেন, এই হিৰ্ত্তীয়দের কষ্ঠাদের বিষয় আমার প্রাণে ঘৃণা হইতেছে : যদি যাকোবও ইহাদের মত কোন হিৰ্ত্তীয় কষ্ঠাকে, এতদেশীয় কস্তাদের মধ্যে কোন কন্যাকে বিবাহ করে, তবে প্রাণধারণে আমার কি লাভ ? २b’ তখন ইসহাক যাকোবকে ডাকিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিলেন, এবং এই আজ্ঞা দিয় তাহাকে কহিলেন, তুমি কনান দেশীয় কোন কস্তাকে বিবাহ করিও ২ না। উঠ, পদন-অরামে আপন মাতামহ বথুয়েলের বাটীতে গিয়া সে স্থানে আপন মাতুল লাবনের কোন ৩ কন্যাকে বিবাহ কর । আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমাকে আশীৰ্ব্ববাদ করিয়া ফলবান ও বহুপ্রজ করুন, যেন তুমি ৪ জাতিসমাজ হইয়। উঠ । তিনি অব্রাহীমের আশীৰ্ব্ববাদ তোমাকে ও তোমার সহিত তোমার বংশকে দিডন ; যেন তোমার প্রবাসস্থান এই যে দেশ ঈশ্বর অব্রাহামকে ৫ দিয়াছেন, ইহাতে তোমার অধিকার হয়। পরে ইসহাক যাকোবকে বিদায় করিলে তিনি পদ্ধন-অরামে আরামীয় বথুয়েলের পুত্র লাবনের নিকট যাত্রা করিলেন ; সেই ব্যক্তি যাকোবের ও এষেীর মাতা রিবিকার ভ্রাতা । ৬ এম্বেী যখন দেখিলেন, ইসহাক যাকোবকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়া বিবাহাৰ্থ কষ্ঠ গ্রহণজষ্ঠ পদন-অরামে বিদায় করিয়াছেন, এবং আশীৰ্ব্ববাদের সময় কনানীয় কোন কন্যাকে বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন, ৭ এবং যাকোব মাতা পিতার আজ্ঞা মানিয়া পদন-আরামে ৮ যাত্রা করিয়াছেন, তখন এষে দেখিলেন যে, কনানীয় 8や 23 २ 8 কন্যার তাহার পিতা ইস্হাকের অসন্তোষপাত্ৰী ; ৯ অতএব দুই স্ত্রী থাকিলেও এষে ইশ্মায়েলের নিকট গিয়া অব্রাহামের পুত্র ইশ্মায়েলের কস্তা, নবায়োতের ভগিনী, মহলৎকে বিবাহ করিলেন। ১• আর যাকোব বের শেব হইতে বাহির হইয়া হার১১ ণের দিকে যাত্রা করিলেন, এবং কোন এক স্থানে পহছিলে সূৰ্য্য অস্তগত হওয়াতে তথায় রাত্রিযাপন করিলেন। আর তিনি তথাকার প্রস্তর লইয়া বালিশ করিয়া সেই স্থানে নিদ্রা যাইবার জন্ত শয়ন করিলেন । ১২ পরে তিনি স্বপ্ন দেখিলেন, আর দেখ, পৃথিবীর উপরে এক সিড়ি স্থাপিত, তাহার মস্তক গগনস্পশী, আর দেখ, তাহ দিয়া ঈশ্বরের দূতগণ উঠিতেছেন ও ১৩ নামিতেছেন। আর দেখ, সদাপ্রভু তাহার উপরে দণ্ডায়মান ; তিনি কহিলেন, আমি সদাপ্রভু, তোমার পিতা অব্রাহামের ঈশ্বর ও ইস্হাকের ঈশ্বর ; এই যে ভূমিতে তুমি শয়ন করিয়া আছ, ইহা আমি ১৪ তোমাকে ও তোমার বংশকে দিব । তোমার বংশ পৃথিবীর ধুলির স্থায় [অসংখ্য] হইবে, এবং তুমি পশ্চিম ও পূৰ্ব্ব, উত্তর ও দক্ষিণ চারিদিকে বিস্তীর্ণ হইবে, এবং তোমাতে ও তোমার বংশে পৃথিবীস্থ যাব১৫ তীয় গোষ্ঠী আশীৰ্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে। আর দেখ, আমি তোমার সহবত্তা, যে যে স্থানে তুমি যাইবে, সেই সেই স্থানে তোমাকে রক্ষা করিব, ও পুনর্বার এই দেশে আনিব ; কেননা আমি তোমাকে যাহ। যাহা বলিলাম, তাহা যাবৎ সফল না করি, তাবৎ তোমাকে ত্যাগ ১৬ করিব না। পরে নিদ্রাভঙ্গ হইলে যাকোব কহিলেন, অবশ্য এই স্থানে সদাপ্রভু আছেন, আর আমি তাহা ১৭ জ্ঞাত ছিলাম না। আর তিনি ভীত হইয়া কহিলেন, এ কেমন ভয়াবহ স্থান ! এ নিতান্তই ঈশ্বরের গৃহ, এ স্বর্গের দ্বার। পরে যাকোব প্রত্যুষে উঠিয়া বালিশের নিমিত্ত যে প্রস্তর রাখিয়াছিলেন, তাহ লইয়া স্তম্ভরূপে স্থাপন ১৯ করিয়া তাহার উপর তৈল ঢালিয়া দিলেন । আর সেই স্থানের নাম বৈথেল [ঈশ্বরের গৃহ] রাখিলেন, কিন্তু ২০ পূবে ঐ নগরের নাম লুস ছিল। আর যাকোব মানত করিয়৷ এই প্রতিজ্ঞ করিলেন, যদি ঈশ্বর আমার সহবত্তী হন, আমার এই গন্তব্য পথে আমাকে রক্ষা করেন, এবং আহারার্থ খাদ্য ও পরিধানাথ বস্ত্র দেন, ২১ আর আমি যদি কুশলে পিত্রালয়ে ফিরিয়া আসিতে পাই, ২২ তবে সদাপ্রভু আমার ঈশ্বর হইবেন, এবং এই যে প্রস্তর আমি স্তস্তরূপে স্থাপন করিয়াছি, ইহা ঈশ্বরের গৃহ হইবে ; আর তুমি আমাকে যে কিছু দিবে, তাহার দশমাংশ আমি তোমাকে অবষ্ঠ দিব । যাকোবের বিবাহ ও পরিবারের বিবরণ। રજ পরে যাকোব চরণ তুলিয়া পূৰ্ব্বদিকৃস্থ বংশীয়দের দেশে গমন করিলেন। তথায় দেখিলেন, মাঠের মধ্যে এক কুপ আছে, আর দেখ, তাহার নিকটে >bア আদিপুস্তক । [ * b~; సె — * ఎ ; పిసె ! মেষের তিনটী পাল শয়ন করিয়া রহিয়াছে ; কারণ লোকে মেষপাল সকলকে সেই কূপের জল পান করাইত ; আর সেই কূপের মুখে এক বৃহৎ প্রস্তর ছিল। ৩ সেই স্থানে পাল সকল একত্র করা হইলে লোকে কূপের মুখ হইতে প্রস্তরখান সরাইয়। মেষগণকে জল পান করাইত, পরে পুনকবার কূপের মুখে যথাস্থানে সেই ৪ প্রস্তর রাখিত। আর যাকোব তাহাদিগকে বলিলেন, ভাই সকল, তোমরা কোন স্থানের লোক ? তাহার। ৫ কহিল, আমরা হারণ-নিবাসী। তখন তিনি বলিলেন, নাহোরের পৌত্র লাবনকে চিন কি না ? তাহার। ৬ কহিল, চিনি। তিনি বলিলেন, তাহার মঙ্গল ত ? তাহার কহিল, মঙ্গল ; দেখ, তাহার কন্যা রাহেল ৭ মেষপাল লইয়া আসিতেছেন। তখন তিনি বলিলেন, দেখ, এখনও অনেক বেলা আছে ; পশুপাল একত্র করণের সময় হয় নাই ; তোমরা মেষগণকে জল পান ৮ করাহয় পুনর্কবার চরাইতে লইয়া যাও । তাহার কহিল, যতক্ষণ পাল সকল একত্র না হয়, ততক্ষণ আমরা তাহা করিতে পারি না ; পরে কুপের মুখ হইতে প্রস্তরখান সরান যায় ; তখন আমরা মেষদিগকে জল পান করাই । ৯ যাকোব তাহদের সহিত এইরূপ কথাবার্তা কহিতেছেন, এমন সময়ে রাহেল আপন পিতার মেষপাল লইয়। উপস্থিত হইলেন, কেননা তিনি মেষপালক ছিলেন । ১০ তখন যাকোব আপন মাতুল লাবনের কন্য। রাহেলকে ও মাতুলের মেষপালকে দেখিবামাত্র নিকটে গিয় কুপের মুখ হইতে প্রস্তরখান সরাইয় তাহার মাতুল লাব১১ নের মেষপালকে জল পান করাহলেন । পরে যাকোব রাহেলকে চুম্বন করিয়া উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিতে ১২ লাগিলেন। আর আপনি যে তাহার পিতার কুটুম্ব ও রিবিকার পুত্র, যাকোব রাহেলকে এই পরিচয় দিলে রাহেল দৌড়িয়া গিয়া আপন পিতাকে সংবাদ দিলেন । ১৩ তাহাতে লাবন আপন ভাগিনেয় যাকোবের সংবাদ পাইয়৷ দৌড়িয় তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলেন, তাহাকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করিলেন, ও আপন বাটতে লইয়া গেলেন ; পরে তিনি লাবনকে উক্ত সমস্ত বৃত্তান্ত ১৪ জ্ঞাত করিলেন। তাহাতে লাবন কহিলন, তুমি নিতান্তই আমার অস্থি ও আমার মাংস। পরে যাকোব তাহার গৃহে এক মাস কাল বাস করিলেন। পরে লাবন যাকোবকে কহিলেন, তুমি কুটুম্ব বলিয়া কি বিনা বেতনে আমার দস্তিকৰ্ম্ম করিবে ? ১৬ বল দেখি, কি বেতন লইবে ? লাবনের দুই কন্যা ছিলেন ; জ্যেষ্ঠার নাম লেয়া ও কনিষ্ঠার নাম রাহেল । ১৭ লেয়৷ মৃদুলেচন, কিন্তু রাহেল রূপবতী ও সুন্দরী ১৮ ছিলেন । আর যাকোব রাহেলকে ভাল বাসিতেন, এজন্ত তিনি উত্তর করিলেন, আপনার কনিষ্ঠ কন্ত। রাহেলের জন্ত আমি সাত বৎসর আপনার দাস্ত্যকৰ্ম্ম ১৯ করিব। লাবন কহিলেন, অন্ত পাত্রকে দান করা অপেক্ষী তোমাকে দান করা উত্তম বটে ; আমার > G. 24 ९ > ; २० - ० ० ; २० । ] ২• নিকটে থাক। এইরূপে যাকোব রাহেলের জন্ত সাত বৎসর দস্তিকৰ্ম্ম করিলেন ; রাহেলের প্রতি তাহার অনুরাগ প্রযুক্ত এক এক বৎসর তাহার কাছে এক এক দিন মনে হইল। পরে যাকোব লাবনকে কহিলেন, আমার নিয়মিত কাল সম্পূর্ণ হইল, এখন আমার ভাৰ্য্য। আমাকে দিউন, ২২ আমি তাহার কাছে গমন করিব। তখন লাবন ঐ স্থানের সকল লোককে একত্র করিয়া ভোজ প্রস্তুত ২৩ করিলেন। আর সন্ধ্যাকালে তিনি আপন কস্তা লেয়াকে লইয়। তাহার নিকট আনিয়া দিলেন, আর ২৪ যাকোব তাহার কাছে গমন করিলেন। আর লাবন সিল্প নাম্নী আপন দাসীকে আপন কস্তা লেয়ার দাসী ২৫ বলিয়া তাহাকে দিলেন। আর প্রভাত হইলে, দেখ, তিনি লেয়া । তাহাতে যাকোব লাবনকে কহিলেন, আপনি আমার সহিত এ কি ব্যবহার করিলেন ? আমি কি রাহেলের জন্য আপনার দস্তিকৰ্ম্ম করি নাই ? ২৬ তবে কেন আমাকে প্রবঞ্চনা করিলেন ? তখন লাবন কহিলেন, জ্যেষ্ঠার অগ্ৰে কনিষ্ঠাকে দান করা আমাদের ২৭ এই স্থানে অকৰ্ত্তব্য। তুমি ইহার সপ্তাহ পূর্ণ কর; পরে আরও সাত বৎসর আমার দস্তিকৰ্ম্ম স্বীকার করিবে, সেজন্য আমরা উহাকেও তোমাকে দান করিব। ২৮ তাহাতে যাকোব সেই প্রকার করিলেন, তাহার সপ্তাহ পূর্ণ করিলেন ; পরে লবন তাহার সহিত আপন কন্য ২৯ রাহেলের বিবাহ দিলেন। তার লাবন বিলুহ নাম্নী আপন দাসীকে রাহেলের দাসী বলিয় তাহাকে দিলেন । ৩০ তখন তিনি রাহেলের কাছেও গমন করিলেন, এবং লেয়া অপেক্ষ রাহেলকে অধিক ভাল বাসিলেন ; এবং আর সাত বৎসর লাবনের নিকট দস্তিকৰ্ম্ম করিলেন । পরে সদাপ্রভু লেয়াকে অবজ্ঞাত৷ দেখিয় তাহার গৰ্ত্ত মুক্ত করিলেন, কিন্তু রাহেল বন্ধ্য হইলেন। ৩২ আর লেয়া গৰ্ত্তবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিলেন, ও তাহার নাম রূবেণ [পুত্রকে দেখ] রাখিলেন ; কেননা তিনি কহিলেন, সদাপ্রভু আমার দুঃখ দেখিয়াছেন ; ৩৩ এখন আমার স্বামী আমাকে ভাল বাসিবেন । পরে তিনি পুনৰ্ব্বার গর্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিয়া কহিলেন, সদাপ্রভু শুনিয়াছেন যে, আমি ঘৃণার পাত্রী, তাই আমাকে এই পুত্রও দিলেন ; আর তাহার নাম ৩৪ শিমিয়োন (শ্রবণ] রাখিলেন। আবার তিনি গৰ্ত্তবর্তী হইয় পুত্র প্রসব করিয়া কহিলেন, এ বার আমার স্বামী আমাতে আসক্ত হইবেন, কেননা আমি তাহার জন্ত তিন পুত্র প্রসব করিয়াছি ; অতএব তাহার নাম লেবি ৩৫ [আসক্ত] রাখা গেল। পরে পুনকবার তাহার গৰ্ত্ত হইলে তিনি পুত্র প্রসব করিয়া কহিলেন, এ বার আমি সদাপ্রভুর স্তব গান করি ; অতএব তিনি তাহার নাম যিহ্ৰদ [স্তব) রাখিলেন। তৎপরে তাহার গৰ্ত্তনিবৃত্তি হইল। S) ο রাহেল যখন দেখিলেন, তাহ হইতে যাকোবের সন্তান জন্মে নাই, তখন তিনি ভগিনীর প্রতি ঈর্ষা করিলেন, ও যাকোবকে কহিলেন, আমাকে সন্তান দেও, SRN

  • ご>

আদিপুস্তক । ९ 6 ২ নতুব। আমি মরিব । তাঁহাতে রাহেলের প্রতি বাকোবের ক্রোধ প্রজ্বলিত হইল ; তিনি কহিলেন, আমি কি ঈশ্বরের প্রতিনিধি ? তিনিই তোমাকে গৰ্ত্তফল ৩ দিতে অস্বীকার করিয়াছেন। তখন রাহেল কহিলেন, দেখ, আমার দাসী বিলুহা আছে, উহার কাছে গমন কর ; যেন ও পুত্র প্রসব করিয়া আমার কোলে ৪ দেয়, এবং উহার দ্বারা আমিও পুত্রবতী হই । ইহা বলিয়। তিনি তাহার সহিত আপন দাসী বিলুহার ৫ বিবাহ দিলেন। তখন যাকোব তাহার কাছে গমন করিলেন, আর বিলুহা গৰ্ত্তবতী হইয়। যাকোবের জন্ত ৬ পুত্র প্রসব করিল। তখন রাহেল কহিলেন, ঈশ্বর আমার বিচার করিলেন, এবং আমার রবও শুনিয়া আমাকে পুত্র দিলেন ; অতএব তিনি তাহার নাম ৭ দান [বিচার] রাখিলেন। পরে রাহেলের বিলুহা দাসী পুনকবার গৰ্ত্তধারণ করিয়া যাকোবের জন্ত দ্বিতীয় ৮ পুত্র প্রসব করিল। তখন রাহেল কহিলেন, আমি ভগিনীর সহিত ঈশ্বরসম্বন্ধীয় মল্লযুদ্ধ করিয়া জয়লাভ করিলাম ; আর তিনি তাহার নাম নপ্তালি [মল্লযুদ্ধ] ৯ রাখলেন। পরে লেয় আপনার গৰ্ত্তনিবৃত্তি হইল বুঝিয় আপনার দাসী সিল্লাকে লইয়া যাকোবের সহিত ১০ বিবাহ দিলেন। তাহাতে লেয়ার দাসী সিল্প যাকোবের ১১ জষ্ঠ এক পুত্র প্রসব করিল। তখন লেয়া কহিলেন, সৌভাগ্য হইল ; আর তাহার নাম গাদ [সৌভাগ্য ] ১২ রাখিলেন। পরে লেয়ার দাসী সিল্লা যাকোবের জন্য ১৩ দ্বিতীয় পুত্র প্রসব করিল। তখন লেয়া কহিলেন, আমি ধন্ত, যুবতীগণ আমাকে ধন্ত বলিবে ; আর তিনি তাহার নাম আশের [ধন্ত] রাখিলেন। ১s আর গোম কাটার সময়ে রূবেণ বাহিরে গিয়া ক্ষেত্রে দৃদাফল পাইয় আপন মাতা লেয়াকে আনিয়া দিল ; তাহাতে রাহুেল লেয়াকে কহিলেন, তোমার পুত্রের ১৫ কতকগুলি দূৰ্দাফল আমাকে দেও না। তাহাতে তিনি কহিলেন, তুমি আমার স্বামীকে হরণ করিয়াছ, এ কি ক্ষুদ্র বিষয় ? আমার পুত্রের দূৰ্দ্দাফলও কি হরণ করিবে ? তখন রাহেল কহিলেন, তবে তোমার পুত্রের দুদাফলের পরিবর্তে তিনি অদ্য রাত্রিতে তোমার সহিত ১৬ শয়ন করিবেন । পরে সন্ধ্যাকালে ক্ষেত্র হইতে যাকোবের আগমন সময়ে লেয়া বাহিরে তাহার কাছে গিয়া কহিলেন, আমার কাছে আসিতে হইবে, কেননা আমি আপন পুত্রের দুদাফল দিয়া তোমাকে ভাড়া করিয়াছি ; তাই সেই রাত্রিতে তিনি তাহার ১৭ সহিত শয়ন করিলেন। আর ঈশ্বর লেয়ার প্রার্থনা শ্রবণ করাতে তিনি গৰ্ত্তবতী হইয়া যাকেীবের জন্ত ১৮ পঞ্চম পুত্র প্রসব করিলেন। তখন লেয়া কহিলেন, আমি স্বামীকে আপন দাসী দিয়াছিলাম, তাহার বেতন ঈশ্বর আমাকে দিলেন ; আর তিনি তাহার নাম ইষীখর [বেতন] রাখিলেন। ১৯ পরে লেয় পুনৰবার গৰ্ত্তধারণ করিয়া যাকোবের ২• জন্ত ষষ্ঠ পুত্র প্রসব করিলেন। তখন লেয়া কহিলেন, 25 ९ ७ ঈশ্বর আমাকে উত্তম যৌতুক দিলেন, এখন আমার স্বামী আমার সহিত বাস করিবেন, কেননা আমি তাহার জন্য ছয় পুত্র প্রসব করিয়াছি ; আর তিনি ২১ তাহার নাম সবুলন বাস] রাখিলেন। তৎপরে তাহার এক কন্যা জন্মিল, আর তিনি তাহার নাম দীণ৷ রাখিলেন । ২২ আর ঈশ্বর রাহেলকে স্মরণ করিলেন, ঈশ্বর তাহার ২৩ প্রার্থনা শুনিলেন, তাহার গৰ্ত্ত মুক্ত করিলেন। তখন তাহার গৰ্ত্ত হইলে তিনি পুত্র প্রসব করিয়া কহিলেন, ২৪ ঈশ্বর আমার অপযশ হরণ করিয়াছেন। আর তিনি তাহার নাম যোষেফ [বৃদ্ধি] রাখিলেন, কহিলেন, সদাপ্রভু আমাকে আরও এক পুত্র দিউন। আর রাহেলের গৰ্ত্তে যোষেফ জন্মিলে পর যাকোব লাবনকে কহিলেন, আমাকে বিদায় করুন, আমি ২৬ স্বস্থানে, নিজ দেশে, প্রস্থান করি ; আমি যাহাদের জন্ত আপনার দস্তিকৰ্ম্ম করিয়াছি, আমার সেই স্ত্রীদিগকে ও সন্তানগণকে আমার হস্তে সমর্পণ করিয়া আমাকে যাইতে দিউন ; কেননা আমি যেরূপ পরিশ্রমে আপনার দাস্ত্যকৰ্ম্ম করিয়াছি, তাহ। আপনি জ্ঞাত আছেন। ২৭ তখন লাবন তাহাকে কহিলেন, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকি (তবে থাক ] ; কেননা আমি অনুভবে জানিলাম, তোমার অনুরোধে সদাপ্ৰভু ২৮ আমাকে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। তিনি আরও কহিলেন, তোমার বেতন স্থির করিয়া আমাকে বল, আমি দিব । ২৯ তখন যাকোব তাহাকে কহিলেন, আমি যেরূপ আপনার দাস্ত্যকৰ্ম্ম করিয়াছি, এবং আমার নিকটে আপনার যেরূপ পশুধন হইয়াছে, তাহ। আপনি জানেন । ৩• কেননা আমার আসিবার পূৰ্ব্বে আপনার অল্প সম্পত্তি ছিল, এখন বৃদ্ধি পাইয় প্রচুর হইয়াছে ; আমার যত্নে সদাপ্রভু আপনাকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়াছেন ; কিন্তু ৩১ আমি নিজ পরিবারের জন্য কবে সঞ্চয় করিব ? তাহতে লাবন কহিলেন, আমি তোমাকে কি দিব ? যাকোব কহিলেন, আপনি আমাকে আর কিছুই না দিয়া যদি আমার জন্য এক কৰ্ম্ম করেন, তবে আমি আপনার ৩২ পশুদিগকে পুনৰ্ব্বার চরাইব ও পালন করিব। অদ্য আমি আপনার সমস্ত পশুপালের মধ্য দিয়া গমন করিব ; আমি মেষদের মধ্যে বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রাঙ্গ ও কৃষ্ণবর্ণ সকল, এবং ছাগদের মধ্যে চিত্রাঙ্গ ও বিন্দুচিহ্নিত সকলকে পৃথক করি ; সেইগুলি আমার ৩৩ বেতন হইবে। ইহার পরে যখন আপনার সম্মুখে উপস্থিত বেতনের নিমিত্ত আপনি আসিবেন, তখন আমার ধাৰ্ম্মিকতা আমার পক্ষে উত্তর দিবে ; ফলতঃ ছাগদের বিন্দুচিহ্নিত কি চিত্রাঙ্গ ভিন্ন ও মেষদের মধ্যে কৃষ্ণবর্ণ ভিন্ন যাহ থাকিবে, তাহ আমার চৌর্য্যরূপে গণ্য ৩৪ হইবে। তখন লাবন কহিলেন, দেখ, তোমার বাক্যা৩৫ নুসারেই হউক। পরে তিনি সেই দিন রেখাঙ্কিত ও চিত্রাঙ্গ ছাগ সকল এবং বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রাঙ্গ, যাহাতে যাহাতে কিঞ্চিৎ শুক্লবৰ্ণ ছিল, এমন ছাগী こ● আদিপুস্তক । [○o ; Q>ー○○ 5 s 1 সকল এবং কৃষ্ণবর্ণ মেষ সকল পৃথক্ করিয়া আপন ৩৬ পুত্রদের হস্তে সমর্পণ করিলেন, এবং আপনার ও যাকোবের মধ্যে তিন দিনের পথ ব্যবধান রাখিলেন । আর যাকোব লাবনের অবশিষ্ট পশুপাল চরাইতে লাগিলেন । আর যাকোব লিবৃনী, লুস ও আর্মোণ বৃক্ষের সরস শাখা কাটিয় তাহার ছাল খুলিয়। কাঠের শুক্ল রেখা ৩৮ বাহির করিলেন। পরে যে স্থানে পশুপাল জল পানার্থে আইসে, সেই স্থানে পালের সম্মুখে নিপানের মধ্যে ঐ ত্বক্ৰশ্বন্ত রেখাবিশিষ্ট শাখা সকল রাখিতে লাগিলেন ; তাহাতে জল পান করিবার সময়ে তাহারা গৰ্ত্ত ধারণ ৩৯ করিত। আর সেই শাখার নিকটে তাহদের গৰ্ত্তধারণ প্রযুক্ত রেখাঙ্কিত ও বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রাঙ্গ বৎস ৪০ জন্মিত। পরে যাকোব সেই সকল বৎস পৃথক্ করিতেন, এবং লাবনের রেখাঙ্কিত ও কৃষ্ণবর্ণ মেষের প্রতি মেঘীদের দৃষ্টি রাখিতেন ; এইরূপে তিনি লাবনের পালের সহিত না রাখিয় আপন পালকে পৃথক ৪১ করিতেন। আর বলবান পশুগণ যেন শাখার নিকটে গৰ্ত্তধারণ করে, এই জন্য নিপানের মধ্যে পশুদের ৪২ সম্মুখে ঐ শাখ রাখিতেন ; কিন্তু দুৰ্ব্বল পশুদের সম্মুখে রাখিতেন না। তাহাতে দুৰ্ব্বল পশুগণ লাবনের ও ৪৩ বলবানৃ পশুগণ যাকোবের হইত। আর যাকোব অতি বৰ্দ্ধিষ্ণু হইলেন, এবং তাহার পশু ও দাস দাসী এবং উষ্ট ও গর্দভ যথেষ্ট হইল । হারণ হইতে যাকোবের পলায়ন। ○S পরে তিনি লাবনের পুত্রদের এই কথা শুনিতে পাইলেন, যাকোব আমাদের পিতার সর্বস্ব হরণ করিয়াছে, আমাদের পিতার ধন হইতে তাহার এই ২ সমস্ত ঐশ্বৰ্য্য হইয়াছে। আর যাকোব লাবনের মুখ দেখিলেন, আর দেখ, উহা আর তাহার প্রতি পূৰ্ব্বকার ৩ মত নয়। আর সদাপ্রভু যাকোবকে কহিলেন, তুমি আপন পৈতৃক দেশে জ্ঞাতিদের নিকটে ফিরিয়া যাও, ৪ আমি তোমার সহবত্তী হইব । অতএব যাকোব লোক পাঠাইয়৷ মাঠে পশুদের নিকটে রাহেল ও লেয়াকে ৫ ডাকাইয় কহিলেন, আমি তোমাদের পিতার মুখ দেখিয়া বুঝিতে পারিতেছি, উহা আর আমার প্রতি পূৰ্ব্বকার মত নয়, কিন্তু আমার পিতার ঈশ্বর আমার ৬ সহবত্তী রহিয়াছেন। আর তোমরা আপনার জান, আমি যথাশক্তি তোমাদের পিতার দাস্ত্যকৰ্ম্ম করিয়াছি । ৭ তথাপি তোমাদের পিতা আমাকে প্রবঞ্চনা করিয়া দশ বার আমার বেতন অন্যথা করিয়াছেন ; কিন্তু ঈশ্বর তাহাকে আমার ক্ষতি করিতে দেন নাই । ৮ কেননা যখন তিনি কহিতেন, বিন্দুচিহ্নিত পশুগণ তোমার বেতনস্বরূপ হইবে, তখন সমস্ত পাল বিন্দু চিহ্নিত শাবক প্রসব করিত ; এবং যখন কহিতেন, রেখাঙ্কিত পশু সকল তোমার বেতনস্বরূপ হইবে, তখন ৯ মেষাদি সকলে রেখাঙ্কিত শাবক প্রসব করিত। এইরূপে ❖ዓ 26 ○ ; >・一8> 1] ঈশ্বর তোমাদের পিতার পশুধন লইয়া আমাকে ১• দিয়াছেন। পশুদের গৰ্ত্তধারণকালে আমি স্বপ্নে চক্ষু তুলিয়৷ দেখিলাম, আর দেখ, পালের মধ্যে স্বীপশুদের উপরে যত পুংপশু উঠিতেছে, সকলেই রেখাঙ্কিত, ১১ বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রবিচিত্র। তখন ঈশ্বরের দূত স্বপ্নে আমাকে বলিলেন, হে যাকোব ; আর আমি ১২ কহিলাম, দেখুন, এই আমি। তিনি বলিলেন, তোমার চক্ষু তুলিয়া দেখ, স্ত্রীপশুদের উপরে যত পুংপশু উঠিতেছে, সকলেই রেখাঙ্কিত, চিত্রাঙ্গ ও চিত্রবিচিত্র ; কেননা, লাবন তোমার প্রতি যাহা ১৩ যাহা করে, তাহ৷ সকলই আমি দেখিলাম। যে স্থানে তুমি স্তম্ভের অভিষেক ও আমার নিকটে মানত করিয়াছ, সেই বৈথেলের ঈশ্বর আমি ; এখন উঠ, এই দেশ ত্যাগ করিয়া আপন জন্মভূমিতে ফিরিয়া যাও। ১৪ তখন রাহেল ও লেয়া উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, পিতার বাটীতে আমাদের কি আর কিছু ১৫ অংশ ও অধিকার আছে ? আমরা কি তাহার কাছে বিদেশিনীরূপে গণ্য নহি ? তিনি ত আমাদিগকে বিক্রয় করিয়াছেন এবং আমাদের রৌপ্য আপনি ভোগ ১৬ করিয়াছেন। ঈশ্বর আমাদের পিতা হইতে যে সকল ধন হরণ করিয়াছেন, সে সকলই আমাদের ও আমাদের সন্তানদের। অতএব ঈশ্বর তোমাকে যাহা কিছু বলিয়াছেন, তুমি তাঁহাই কর। ১৭ তখন যাকোব উঠিয়া আপন সন্তানগণ ও স্ত্রীদিগকে ১৮ উটে চড়াইয় আপনার উপাজ্জিত পশ্বাদি সকল ধন, অর্থাৎ পদন-অরামে যে পশু ও যে সম্পত্তি উপার্জন করিয়াছিলেন, তাহ লইয়। কনান দেশে আপন পিতা ইস্হাকের নিকটে যাত্রা করিলেন। ১৯ তৎকালে লাবন মেষলোম ছেদন করিতে গিয়াছিলেন ; তখন রাহেল আপন পিতার ঠাকুরগুলাকে হরণ করি২০ লেন । আর যাকোব আপন পলায়নের কোন সংবাদ ২১ না দিয়া আরামীয় লাবনকে বঞ্চন করিলেন। তিনি আপনার সৰ্ব্বস্ব লইয়। পলায়ন করিলেন, এবং উঠিয়৷ {ফরাৎ] নদী পার হইয়৷ গিলিয়দ পৰ্ববত সম্মুখে রাখিয়৷ | ২২ পরে তৃতীয় দিনে লাবন যাকোবের পলায়নের ২৩ সংবাদ পাইলেন, এবং আপন কুটুম্বদিগকে সঙ্গে লইয় সাত দিনের পথ তাহার পশ্চাৎ ধাবমান হইলেন, ও ২৪ গিলিয়দ পৰ্ব্বতে তাহার দেখা পাইলেন । কিন্তু ঈশ্বর রাত্রিতে স্বপ্নযোগে আরামীয় লাবনের নিকটে উপস্থিত হইয় তাহাকে কহিলেন, সাবধান, যাকোবকে ভাল মন্দ কিছুই বলিও না। লাবন যখন যাকোবের দেখা পাইলেন, তখন যাকোবের তাম্বু পৰ্ব্বতের উপরে স্থাপিত ছিল ; তাহাতে লাবনও কুটুম্বদের সহিত গিলিয়দ পৰ্ব্বতের উপরে ২৬ তাম্বু স্থাপন করিলেন। পরে লাবন যাকোবকে কহি লেন, তুমি কেন এমন কৰ্ম্ম করিলে ? আমাকে বঞ্চন করিয়া আমার কন্যাদিগকে কেন খড়গধূত বন্দিগণের ২৫ আদিপুস্তক। ९ *ी ২৭ স্থায় লইয়া আসিলে ? তুমি আমাকে বঞ্চনা করিয়া কেন গোপনে পলাইলে ? কেন আমাকে সংবাদ দিলে না ? দিলে আমি তোমাকে আহলাদ ও গান এবং তবলের ও বীণার বাদ্য পুরঃসর বিদায় করিতাম। ২৮ তুমি আমার পুত্ৰ কন্যাগণকে চুম্বন করিতেও আমাকে দিলে না ; এ অজ্ঞানের কৰ্ম্ম করিয়াছ । ২৯ তোমাদের হিংসা করিতে আমার হস্ত সমর্থ ; কিন্তু গত রাত্রিতে তোমাদের পৈতৃক ঈশ্বর আমাকে কহিলেন, সাবধান, যাকোবকে ভাল মন্দ কিছুই বলিও না। ৩০ এখন পিত্রালয়ে যাইবার আকাঙ্ক্ষায় মানবদন হওয়াতে তুমি যাত্রা করিলে বটে ; কিন্তু আমার দেবতাদিগকে ৩১ কেন চুরি করিলে ? যাকোব লাবনকে উত্তর করিলেন, আমি ভীত হইয়াছিলাম ; কারণ ভাবিয়াছিলাম, পাছে আপনি আম৷ হইতে আপনার কন্যাগণকে বলে ৩২ কাড়িয়া লন। আপনি যাহার কাছে আপনার দেবতাদিগকে পাইবেন, সে বাচিবে না। আমাদের কুটুম্বদের সাক্ষাতে অন্বেষণ করিয়া আমার কাছে আপনার যাহ আছে, তাহ লউন। বাস্তবিক যাকোব জানিতেন ৩৩ ন যে, রাহেল সেগুলী চুরি করিয়াছেন। তখন লাবন যাকোবের তাম্বুতে ও লেয়ার তাম্বুতে ও দুই দাসীর তাম্বুতে প্রবেশ করিলেন, কিন্তু পাইলেন না। পরে তিনি লেয়ার তাম্বু হইতে রাহেলের তাম্বুতে প্রবেশ ৩৪ করিলেন। কিন্তু রাহেল সেই ঠাকুরগুলাকে লইয়া উষ্ট্রের গদীর ভিতরে রাখিয়া তাহদের উপরে বসিয়াছিলেন ; সেই জন্ত লাবন তাহার তাম্বুর সকল স্থান ৩৫ হাতড়াইলেও তাহাদিগকে পাইলেন না। তখন রাহেল পিতাকে কহিলেন, কৰ্ত্তা, আপনার সাক্ষাতে আমি উঠিতে পারিলাম না, ইহাতে বিরক্ত হইবেন না, কেননা আমি স্ত্রীধৰ্ম্মিণী আছি। এইরূপে তিনি অন্বেষণ করিলেও সেই ঠাকুরগুলাকে পাইলেন না । তখন যাকোব ক্রুদ্ধ হইয়। লাবনের সহিত বিবাদ করিতে লাগিলেন । যাকোব লাবনকে কহিলেন, আমার অধৰ্ম্ম কি, ও আমার পাপ কি যে, তুমি প্রজ্বলিত হইয়। আমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ দৌড়িয়া ৩৭ আসিয়াছ ? তুমি আমার সকল সামগ্ৰী হাতড়াইয়। তোমার বাটীর কোন দ্রব্য পাইলে ? আমার ও তোমার এই কুটুম্বদের সাক্ষাতে তাহ রাখ, ইহার ৩৮ উভয় পক্ষের বিচার করুন। এই বিংশতি বৎসর আমি তোমার নিকটে আছি ; তোমার মেধীদের কি ছাগীদের গর্ভপাত হয় নাই, এবং আমি তোমার পালের ৩৯ মেষদিগকে খাই নাই ; বিদীর্ণ মেষ তোমার নিকটে অনিতাম না ; সে ক্ষতি আপনি স্বীকার করিতাম ; দিনে কিম্ব রাত্রিতে যাহা চুরি হইত, তাহার পরিবর্ত ৪০ তুমি আম হইতে লইতে। আমার এরূপ দশা হইত, আমি দিবাতে উত্তাপের ও রাত্রিতে শীতের গ্রাসে পতিত হইতাম ; নিদ্রা আমার চক্ষু হইতে দূরে পলায়ন ৪১ করিত। এই বিংশতি বৎসর আমি তোমার বাটীতে । ○○ 27 3 b রহিয়াছি ; তোমার দুই কন্যার জন্ত চৌদ্দ বৎসর, ও তোমার পশুপালের জন্য ছয় বৎসর দাস্তবৃত্তি করিয়াছি; ইহার মধ্যে তুমি দশ বার আমার বেতন ৪২ অন্যথা করিয়াছ। আমার পৈতৃক ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর ও ইস্হাকের ভয়স্থান যদি আমার পক্ষ না হইতেন, তবে অবগু এখন তুমি আমাকে রিক্তহস্তে বিদায় করিতে। ঈশ্বর আমার দুঃখ ও হস্তের পরিশ্রম দেখিয়াছেন, এই জন্ত গত রাত্রিতে তোমাকে ধম্‌কাইলেন । তখন লবন উত্তর করিয়া যাকোবকে কহিলেন, এই কন্যাগণ আমারই কন্য, এই বালকেরা আমারই বালক, এবং এই পশুপাল আমারই পশুপাল ; যাহা যাহা দেখিতেছ, এ সকলই আমার। এখন আমার এই কন্যাদিগকে ও ইহাদের প্রস্থত এই বালকদিগকে ৪৪ অামি কি করিব ? আইস, তোমাতে ও আমাতে নিয়ম স্থির করি, তাহ তোমার ও আমার সাক্ষী ৪৫ থাকিবে । তখন যাকোব এক প্রস্তর লইয়া স্তস্তরূপে ৪৬ স্থাপন করিলেন। আর যাকোব আপন কুটুম্বদিগকে কহিলেন, আপনারাও প্রস্তর সংগ্রহ করুন। তাহাতে তাহার। প্রস্তর আনিয়া এক রাশি করিলেন, এবং সেই ৪৭ স্থানে ঐ রাশির নিকটে ভোজন করিলেন। আর লাবন তাহার নাম যিগৰ্ব-সাহদুৰ্থ। [সাক্ষি-রাশি] রাখিলেন, কিন্তু যাকোব তাহার নাম গল্‌-এদ সাক্ষি৪৮ রাশি] রাখিলেন। তখন লাবন কহিলেন, এই রাশি ৪৯ অদ্য তোমার ও আমার সাক্ষী থাকিল। এই জন্ত তাহার নাম গিলিয়দ, এবং মিস্পা (প্রহর-স্থান] রাখা গেল ; কেনন। তিনি কহিলেন, আমরা পরস্পর অদৃষ্ঠ হইলে সদাপ্রভু আমার ও তোমার প্রহরী ৫• থাকিবেন । তুমি যদি আমার কন্যাদিগকে দুঃখ দেও, আর যদি আমার কন্তী ব্যতিরেকে অন্ত স্ত্রীকে বিবাহ কর, তবে কোন মনুষ্য আমাদের নিকটে থাকিবে না বটে, কিন্তু দেখ, ঈশ্বর আমার ও তোমার সাক্ষী ৪১ হইবেন । লাবন যাকোবকে আরও কহিলেন, এই রাশি দেখ, এবং এই স্তম্ভ দেখ, আমার ও তোমার e২ মধ্যে আমি ইহ স্থাপন করিলাম। হিংসাভাবে আমিও এই রাশি পার হইয়। তোমার নিকটে যাইব না, এবং তুমিও এই রাশি ও এই স্তম্ভ পার হইয়া আমার নিকটে আসিবে না, ইহার সাক্ষী এই রাশি ও ইহার 2৩ সাক্ষী এই স্তম্ভ ; অব্রাহামের ঈশ্বর, নাহোরের ঈশ্বর ও তাহদের পিতার ঈশ্বর আমাদের মধ্যে বিচার করিবেন। তখন যাকোব আপন পিতা ইস্হাকের ৫৪ ভয়স্থানের দিব্য করিলেন। পরে যাকোব সেই পৰ্ব্বতে বলিদান করিয়৷ আহার করিতে আপন কুটুম্বদিগকে নিমন্ত্রণ করিলেন, তাহাতে তাহারা ভোজন করিয়া ৫৫ পৰ্ব্বতে রাত্রি যাপন করিলেন। পরে লাবন প্রত্যুষে উঠিয় আপন পুত্র কন্যাগণকে চুম্বনপূর্ববক আশীৰ্ব্ববাদ করিলেন। আর লাবন স্বস্থানে ফিরিয়৷ গেলেন । ES আদিপুস্তক । రిచి [○> ; 8ミー○* ; >a l যাকোবের প্রার্থনা ও এষের সহিত পুনৰ্ম্মিলন। আর যাকোব তাপন পথে অগ্রসর হইলে ঈশ্বরের দূতগণ র্তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিলেন। ২ তখন যাকোব তাহাদিগকে দেখিয়া কহিলেন, এ ঈশ্বরের সেনাদল, অতএব সেই স্থানের নাম মহনয়িম ৩ [দুই সেনাদল] রাখিলেন। তাহার পর যাকোৰ আপনার অগ্ৰে সেয়ীর দেশের ইদোম অঞ্চলে তাহার ৪ ভ্রাত এৰোঁর নিকটে দূতগণকে পাঠাইলেন। তিনি তাহাদিগকে এই আজ্ঞা করিলেন, তোমরা আমার প্রভু এধেীকে বলিবে, আপনার দাস যাকোব আপনাকে জানাইলেন, আমি লাবনের কাছে প্রবাস করিতে৫ ছিলাম, এ পর্য্যন্ত অবস্থিতি করিয়াছি। আমার গোরু, গর্দভ, মেষপাল ও দাস দাসী আছে, আর আমি প্রভুর অনুগ্রহদৃষ্টি পাইবার জন্য আপনাকে সংবাদ পাঠাইলাম । ৬ পরে দূতগণ যাকোবের নিকটে ফিরিয়া আসিয়া কহিল, আমরা আপনার ভ্রাতা এযেীর কাছে গিয়াছিলাম ; আর তিনি চারি শত লোক সঙ্গে লইয়া আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিতেছেন। ৭ তখন যাকোব অতিশয় ভীত ও উদ্বিগ্ন হইলেন, আর যে সকল লোক তাহার সঙ্গে ছিল, তাহাদিগকে ও গোমেষাদির সমস্ত পাল ও উষ্ট্রগণকে বিভক্ত করিয়া ৮ দুই দল করিলেন, কহিলেন, এষে আসিয়া যদ্যপি এক দলকে প্রহার করেন, তথাপি অন্ত দল অবশিষ্ট ৯ থাকিয় রক্ষা পাইবে। তখন যাকোব কহিলেন, হে আমার পিতা আব্রাহীমের ঈশ্বর ও আমার পিত। ইসহাকের ঈশ্বর, তুমি সদাপ্রভু আপনি আমাকে বলিয়াছিলে, তোমার দেশে জ্ঞাতিদের নিকটে ফিরিয়া ১০ যাও, তাহাতে আমি তোমার মঙ্গল করিব। তুমি এই দাসের প্রতি যে সমস্ত দয়া ও যে সমস্ত সত্যাচরণ করিয়াছ, আমি তাহার কিছুরই যোগ্য নই ; কেননা আমি নিজ যষ্টিখানি লইয়। এই যদিন পার হইয়া১১ ছিলাম, এখন দুই দল হইয়াছি। বিনয় করি, আমার ভ্রাতার হস্ত হইতে, এষের হস্ত হইতে আমাকে রক্ষা কর, কেননা আমি তাহাকে ভয় করি, পাছে সে আসিয়া আমাকে, ছেলেদের সহিত মাতাকে বধ করে। ১২ তুমিই ত বলিয়াছ, আমি অবগু তোমার মঙ্গল করিব, এবং সমুদ্রতীরস্থ যে বালি বাহুল্য প্রযুক্ত গণনা করা যায় না, তাহার হ্যায় তোমার বংশ বৃদ্ধি করিব। পরে যাকোব সেই স্থানে রাত্রি যাপন করিলেন : ও তাহার নিকটে যাহা ছিল, তাহার কতক লইয়। র্তাহীর ভ্রাত এষের জন্য এই উপঢৌকন প্রস্তুত ১৪ করিলেন ; দুই শত ছাগী ও বিংশতি ছাগ, দুই শত ১৫ মঘী ও বিংশতি মেষ, সবৎস দুগ্ধবতী ত্রিশ উষ্ট্রী, চল্লিশ গাভী ও দশ বৃষ, এবং বিংশতি গর্দভী ও দশ গর্দভশাবক। \రి 2S ৩২ : ১৬ – ৩৩ ; ১৫ । ] ১৬ পরে তিনি আপনার এক এক দাসের হস্তে এক এক পাল সমৰ্পণ করিয়া দাসদিগকে এই আজ্ঞ দিলেন, তোমরা আমার অগ্রে পার হইয়া যাও, এবং ১৭ মধ্যে মধ্যে স্থান রাখিয়া প্রত্যেক পাল পৃথক কর। পরে তিনি অগ্রবত্তী দাসকে এই আজ্ঞা দিলেন, আমার ভ্রাত এর্ষেীর সহিত তোমার সাক্ষাৎ হইলে তিনি যখন জিজ্ঞাসা করিবেন, তুমি কাহার দাস ? কোথায় যাইতেছ ? আর তোমার অগ্রস্থিত এই সমস্ত কাহার ? ১৮ তখন তুমি উত্তর করিবে, এই সকল আপনার দাস যাকোবের ; তিনি উপঢৌকনরূপে এই সকল আমার প্রভু এঘোঁর জন্য প্রেরণ করিলেন ; আর দেখুন, তিনিও ১৯ আমাদের পশ্চাৎ আসিতেছেন। পরে তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রভৃতি পালের পশ্চাদগামী দাস সকলকেও আজ্ঞা দিয়া কহিলেন, এষেীর সহিত দেখা হইলে ২০ তোমরা এই এই প্রকার কথা বলিও । আরও বলিও, দেখুন, আপনার দাস যাকোবও আমাদের পশ্চাৎ আসিতেছেন । কেনন। তিনি বলিলেন, আমি অগ্ৰে উপঢৌকন পাঠাইয় তাহাকে শান্ত করিব, পশ্চাৎ তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিব, তাহাতে তিনি আমার ২১ প্রতি অনুগ্রহ করিলেও করিতে পারেন। অতএব তাহার অগ্ৰে উপঢৌকন দ্রব্য পার হইয় গেল, কিন্তু আপনি সেই রাত্রিতে দলের মধ্যে থাকিলেন । পরে তিনি রাত্রিতে উঠিয় আপনার দুই স্ত্রী, দুই দাসী ও একাদশ পুত্রকে লইয়। তরণস্থানে যবেবাক নদী ২৩ পার হইলেন। তিনি তাহাদিগকে নদী পার করাইয়া আপনার সমস্ত দ্রব্য পারে পাঠাইয়া দিলেন। ২৪ আর যাকোব তথায় একাকী রহিলেন, এবং এক পুরুষ প্রভাত পৰ্য্যন্ত তাহার সহিত মল্লযুদ্ধ করিলেন ; ২৫ কিন্তু তাহাকে জয় করিতে পারিলেন না দেখিয়া, তিনি যাকোবের শ্রোণিফলকে আঘাত করিলেন । তাহার সহিত এইরূপ মল্লযুদ্ধ করাতে যাকোবের উরুফলক ২৬ স্থানচ্যুত হইল। পরে সেই পুরুষ কহিলেন, আমাকে ছাড়, কেননা প্রভাত হইল। যাকোব কহিলেন, আপনি আমাকে আশীৰ্ব্বাদ না করিলে আপনাকে ২৭ ছাড়িব না । পুনশ্চ তিনি কহিলেন, তোমার নাম কি ? ২৮ তিনি উত্তর করিলেন, যাকোব । তিনি কহিলেন, তুমি যাকোব নামে আর আখ্যাত হইবে না, কিন্তু হস্ৰয়েল ঈশ্বরের সহিত যুদ্ধকারী ] নামে আখ্যাত হইবে ; কেনন। তুমি ঈশ্বরের ও মনুষ্যদের সহিত যুদ্ধ ২৯ করিয়া জয়ী হইয়াছ । তখন যাকোব জিজ্ঞাসা করিয়৷ কহিলন, বিনয় করি, আপনকার নাম কি ? বলুন। তিনি বললেন, কি জন্ত আমার নাম জিজ্ঞাস কর ? ৩০ পরে তথায় যাকোবকে আশীৰ্ব্ববাদ করিলেন । তখন যাকোব সেই স্থানের নাম পনুয়েল (ঈশ্বরের মুখ] রাখিলেন ; কেনন। তিনি কহিলেন, আমি ঈশ্বরকে সম্মুখাসম্মুখি হইয়। দেখিলাম, তথাপি আমার প্রাণ বাচিল । পরে তিনি পনুয়েল পার হইলে স্বৰ্য্যোদয় হইল। ૨૨ ఇలి) আদিপুস্তক । ९ =o ৩২ আর তিনি উরুতে খোড়াইতে লাগিলেন। এই কারণ ইস্রায়েল-সন্তানের অদ্যাপি শ্রোণিফলকের উপরিস্থ উরুসন্ধির শিরা ভোজন করে না, কেনন। তিনি যাকোবের শ্রোণিফলক অর্থাৎ উরুসন্ধির শিরা স্পর্শ করিয়াছিলেন । ৩৩ পরে স্থাকো চক্ষু তুলিয়া চছিলেন, আর দেখ, এষে আসিতেছেন, ও তাহার সহিত চারি শত লোক। তখন তিনি বালকদিগকে বিভাগ করিয়৷ লেয়াকে, রাহেলকে ও দুই দাসীকে সমর্পণ করিলেন ; ২ সকলের অগ্ৰে দুই দাসী ও তাহদের সন্তানদিগকে, তৎপশ্চাৎ লেয়া ও তাহার সন্তানদিগকে, সকলের ৩ পশ্চাৎ রাহেল ও যোযেফকে রাখিলেন। পরে আপনি সকলের অগ্ৰে গিয়া সাত বার ভূমিতে প্ৰণিপাত করিতে করিতে আপন ভ্রাতার নিকটে উপস্থিত ৪ হইলেন। তখন এষে তাহার সঙ্গে দেখা করিতে দৌড়িয়া আসিয়া তাহার গলা ধরিয়া আলিঙ্গন ও ৫ চুম্বন করিলেন, এবং উভয়েই রোদন করিলেন। পরে এষে চক্ষু তুলিয়া নারীগণকে ও বালকগণকে দেখিয়৷ জিজ্ঞাসিলেন, ইহার তোমার কে ? তিনি কহিলেন, ঈশ্বর অনুগ্রহ করিয়া আপনার দাসকে এই সকল ৬ সন্তান দিয়াছেন। তখন দাসীরা ও তাহদের সন্তানগণ ৭ নিকটে আসিয়৷ প্ৰণিপাত করিল ; পরে লেয়া ও তাহার সন্তানগণ নিকটে আসিয়া প্ৰণিপাত করিলেন ; শেষে যোষেফ ও রাহেল নিকটে আসিয়৷ প্ৰণিপাত ৮ করিলেন। পরে এষে জিজ্ঞাসিলেন, আমি যে সকল সমারোহের সহিত মিলিলাম, সে সমস্ত কিসের নিমিত্ত ? তিনি কহিলেন, প্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইবার জন্ত । ৯ তখন এষেী কহিলেন, আমার যথেষ্ট আছে, ভাই, ১০ তোমার যাহা তাহ তোমার থাকুক। যাকোব কহিলেন, তাহ নয়, বিনয় করি, আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকি, তবে আমার হস্ত হইতে উপঢৌকন গ্রহণ করুন ; কেননা আমি ঈশ্বরের মুখ দর্শনের ন্যায় আপনার মুখ দর্শন করিলাম, আপনিও ১১ আমার প্রতি প্রসন্ন হইলেন। বিনয় করি, আপনার কাছে যে উপঢৌকন আনা হইয়াছে, তাহ গ্রহণ করুন ; কেননা ঈশ্বর আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন, এবং আমার সকলই আছে। এইরূপ সাধ্যসাধন ১২ করিলে এষে তাহ গ্রহণ করিলেন। পরে এষে৷ কহিলেন, আইস, আমরা যাই ; আমি তোমার অগ্ৰে ১৩ অগ্ৰে যাইব । তিনি তাহাকে কহিলেন, আমার প্রভু জানেন, এই বালকগণ কোমল, এবং দুগ্ধবতী মেষী ও গাভী সকল আমার সঙ্গে আছে ; এক দিন ১৪ মাত্র বেগে চালাইলে সকল পালই মরিবে। নিবেদন করি, হে আমার প্রভু, আপনি আপন দাসের অগ্ৰে গমন করুন ; আর আমি যাবৎ সেয়ারে আমার প্রভু নিকটে উপস্থিত না হই, তাবৎ আমার অগ্রবত্তী পশুগণের চলিবার শক্তি অনুসারে এবং এই বালকগণের ১৫ চলিবার শক্তি অনুসারে ধীরে ধীরে চালাই। এষেী কহি 29 9 о লেন, তবে আমার সঙ্গী কতক লোক তোমার নিকটে রাখিয়া যাই । তিনি কহিলেন, তাহতেই বা প্রয়োজন ಕ್ প্রভুর দৃষ্টিতে আমি অনুগ্রহ পাইলেই | ১৬ আর এষে সেই দিন সেয়ীরের পথে ফিরিয়া ১৭ গেলেন। কিন্তু যাকোব সুক্কোতে গমন করিয়া আপনার জন্ত গৃহ ও পশুদের জন্ত কয়েকট কুটার নির্মাণ করিলেন, এই জন্য সেই স্থান সুকোৎ [কুটীর সকল] নামে আখ্যাত আছে । যাকোবের শিখিমে বাস । পরে যাকোব পদ-অরাম হইতে আসিয়া, কুশলে কনান দেশস্থ শিখিমের নগরে উপস্থিত হইয়া, নগরের ১৯ বাহিরে তাম্বু স্থাপন করিলেন। পরে শিখিমের পিতা যে হমোর, তাহার সন্তানদিগকে রৌপ্যের এক শত কসীতা মুদ্রা] দিয়া তিনি আপন তাম্বু স্থাপনের ২০ ভূমিখণ্ড ক্রয় করিলেন ; এবং তথায় এক যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিয়া তাহার নাম এল্‌-ইলোহে-ইস্রায়েল [ঈশ্বর, ইস্রায়েলের ঈশ্বর] রাখিলেন। 38 আর লেয়ার কন্ত। দীণা, যাহাকে তিনি যাকোবের জন্ত প্রসব করিয়াছিলেন, সেই দেশের ২ কন্যাদের সঙ্গে দেখা করিতে বাহিরে গেল। আর হিব্বীয় হমোর নামক দেশাধিপতির পুত্র শিথিম তাহাকে দেখিতে পাইল, এবং তাহাকে হরণ করিয়া ৩ তাহার সহিত শয়ন করিল, তাহাকে ভ্ৰষ্ট করিল। আর যাকোবের কন্যা দীণার প্রতি তাহার প্রাণ অনুরক্ত হওয়াতে সে সেই যুবতীকে প্রেম করিল ও তাহাকে ৪ মিষ্ট কথা বলিল। পরে শিথিম আপন পিতা হমোরকে কহিল, তুমি আমার সহিত বিবাহ ৫ দিবার জন্ত এই কস্তাকে গ্রহণ কর। আর যাকোব শুনিলেন, সে তাহার কন্যা দীণাকে ভ্ৰষ্ট করিয়াছে ; ঐ সময়ে তাহার পুত্ৰগণ মাঠে পশুপালের সঙ্গে ছিল ; আর যাকোব তাহদের আগমন পৰ্য্যন্ত মৌনী ৬ থাকিলেন। পরে শিখিমের পিতা হমোর যাকোবের ৭ সহিত কথোপকথন করিতে গেল। যাকোবের পুত্রগণও ঐ সংবাদ পাইয়া মাঠ হইতে আসিয়াছিল ; তাহার ক্ষুব্ধ ও অতি ক্রোধান্বিত হইয়াছিল, কেননা যাকোবের কন্যার সহিত শয়ন করাতে শিথিম ইস্রায়েলের মধ্যে মূঢ়তার ক্রিয়া ও অকৰ্ত্তব্য কৰ্ম্ম ৮ করিয়াছিল। তখন হমোর তাহদের সহিত কথোপকথন করিয়া কহিল, তোমাদের সেই কন্যার প্রতি আমার পুত্র শিখিমের প্রাণ আসক্ত হইয়াছে ; নিবেদন করি, আমার পুত্রের সহিত তাহার বিবাহ দেও। ৯ এবং আমাদের সহিত কুটুম্বত কর ; তোমাদের কন্যাগণ আমাদিগকে দান কর, এবং আমাদের কন্যা১• দিগকে তোমরা গ্রহণ কর। আর আমাদের সহিত বাস কর ; এই দেশ তোমাদের সম্মুখে রহিল, তোমরা এখানে বসতি ও বাণিজ্য কর, এখানে অধিকার গ্রহণ

আদিপুস্তক । [ ৩৩ ; ১৬–৩৪ ; ২৭ ৷ ১১ কর। আর শিখিম দীণার পিতাকে ও ভ্রাতৃগণকে কহিল, আমার প্রতি তোমাদের অনু হউক ; ১২ তাহা হইলে যাহা বলিবে, তাহাই দিব। যৌতুক ও দান যত অধিক চাহিবে, তোমাদের কথানুসারে তাহাই দিব ; কোন মতে আমার সহিত ঐ কন্যার ১৩ বিবাহ দেও। কিন্তু সে তাহদের ভগিনী দীণাকে ভ্ৰষ্ট করিয়াছিল বলিয়া যাকোবের পুত্রগণ ছলপূৰ্ব্বক আলাপ করিয়া শিথিমকে ও তাহার পিতা হমোরকে ১৪ উত্তর দিল ; তাহারা তাহাদিগকে কহিল, অচ্ছিন্নত্বক লোককে যে আমাদের ভগিনী দিই, এমন কৰ্ম্ম আমরা করিতে পারি না ; করিলে আমাদের দুর্নাম ১৫ হইবে । কেবল এই কৰ্ম্মট করিলে আমরা তোমাদের কথায় সম্মত হইব ; আমাদের দ্যায় তোমরা প্রত্যেক ১৬ পুরুষ যদি ছিন্নত্বক হও, তবে আমরা তোমাদিগকে আপনাদের কস্তাগণ দিব, এবং তোমাদের কন্থাগণকে গ্রহণ করিব, ও তোমাদের সহিত বাস করিয়া এক ১৭ জাতি হইব। কিন্তু যদি ত্বক্ছেদের বিষয়ে আমাদের কথা না শুন, তবে আমরা আপনাদের ঐ কন্যাকে লইয়। ১৮ চলিয়া যাইব । তখন তাহদের এই কথায় হমোর ও ১৯ তাহার পুত্র শিথিম সন্তুষ্ট হইল। আর সেই যুব অবিলম্বে সেই কৰ্ম্ম করিল, কেননা সে যাকোবের কন্যাতে প্রীত হইয়াছিল ; আর সে আপন পিতৃকুলে সৰ্ব্বাপেক্ষ সন্ত্রান্ত ছিল। পরে হমোর ও তাহার পুত্র শিখিম আপন নগরের দ্বারে আসিয়া নগরনিবাসীদের সহিত কথোপকথন ২১ করিয়া কহিল, সেই লোকেরা আমাদের সহিত নিবিবরোধে রহিয়াছে ; অতএব তাহার এই দেশে বাস ও বাণিজ্য করুক ; কেননা দেখ, তাহদের সম্মুখে দেশটা স্থপ্রশস্ত ; আইস, আমরা তাহদের কন্যাগণকে গ্রহণ করি, ও আমাদের কন্যাগণ তাহাদিগকে দিই। ২২ কিন্তু তাহদের এই এক পণ আছে, আমাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষ যদি তাহদের মত ছিন্নত্বক হয়, তবে তাহারা আমাদের সহিত বাস করিয়৷ এক জাতি ২৩ হইতে সম্মত আছে। আর তাহদের ধন, সম্পত্তি ও পশু সকল কি আমাদের হইবে না ? আমরা তাহাদের কথায় সম্মত হইলেই তাহার। আমাদের ২৪ সহিত বাস করিবে। তখন হমোরের ও তাহার পুত্র শিখিমের কথায় তাহার নগরের দ্বার দিয়া যে সকল লোক বাহিরে যাইত, তাহারা সম্মত হইল, আর তাহার নগরদ্বার দিয়া যে সকল পুরুষ বাহিরে যাইত, তাহদের ২৫ ত্বক্ছেদ করা হইল। পরে তৃতীয় দিবসে তাহার পীড়িত হইলে দীণার সহোদর শিমিয়োন ও লেবি, যাকোবের এই দুই পুত্র আপন আপন খড়গ গ্রহণ করিয়া নিৰ্ভয়ে নগর আক্রমণ করতঃ সকল পুরুষকে ২৬ বধ করিল। এবং হমোর ও তাহার পুত্র শিখিমকে খড়গাঘাতে বধ করিয়া শিখিমের বাটী হইতে দীণাকে ২৭ লইয়া চলিয়া আসিল । উহারা তাহদের ভগিনীকে ভ্ৰষ্ট করিয়াছিল, এই জন্ত যাকোবের পুত্ৰগণ হত লোকদের ૨૦ 30 ○S; ミレー○○ ; ミs l ] ২৮ নিকটে গিয়া নগর লুট করিল। তাহার। উহাদের মেষ, গোরু ও গর্দভ সকল এবং নগরস্থ ও ক্ষেত্রস্থ ২৯ যাবতীয় দ্রব্য হরণ করিল ; আর উহাদের শিশু ও স্ত্রীগণকে বন্দি করিয়া উহাদের সমস্ত ধন ও গৃহের ৩• সৰ্ব্বস্ব লুট করিল। তখন যাকোব শিমিয়োন ও লেবিকে কহিলেন, তোমরা এই দেশনিবাসী কনানীয় ও পরিষীয়দের নিকটে আমাকে দুৰ্গন্ধস্বরূপ করিয়া ব্যাকুল করিলে ; আমার লোক অল্প, তাহারা আমার বিরুদ্ধে একত্র হইয়। আমাকে আঘাত করিবে ; ৩১ আর আমি সপরিবারে বিনষ্ট হইব। তাহার উত্তর করিল, যেমন বেখ্যার সহিত, তেমনি আমাদের ভগি নীর সহিত ব্যবহার করা কি তাহার উচিত ছিল ? যাকোবের বৈথেলে গমন । রাহেলের মৃত্যু। বৈথেলে গিয়া সে স্থানে বাস কর ; এবং তোমার ভ্রাত এষের সম্মুখ হইতে তোমার পলায়নকালে যে ঈশ্বর তোমাকে দর্শন দিয়াছিলেন, তাহার উদ্দেশে ২ সেই স্থানে যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ কর। তখন যাকোব আপন পরিজন ও সঙ্গী লোক সকলকে কহিলেন, তোমাদের কাছে যে সকল ইতর দেবতা আছে, তাহাদিগকে দূর কর, এবং শুচি হও, ও অন্ত বস্ত্র পর। ৩ আর আইস, আমরা উঠিয় বৈথেলে যাই ; যে ঈশ্বর আমার সঙ্কটের দিনে আমাকে প্রার্থনার উত্তর দিয়াছিলেন, এবং আমার গমনপথে সহবৰ্ত্তী ছিলেন, তাহার উদ্দেশে আমি সেই স্থানে এক যজ্ঞবেদি ৪ নিৰ্ম্মাণ করিব। তাহাতে তাহারা আপনাদের হস্তগত ইতর দেবতা ও কর্ণকুণ্ডল সকল যাকোবকে দিল, এবং তিনি ঐ সকল শিখিমের নিকটবৰ্ত্তী এল। বৃক্ষের ৫ তলে পুতিয়া রাখিলেন। পরে তাহার। তথা হইতে যাত্রা করিলেন। তখন চারি দিকের নগরসমূহে ঈশ্বর হইতে ত্ৰাস উপস্থিত হইল, তাই তথাকার লোকের যাকোবের পুত্রদের পশ্চাৎ ধাবমান হইল না। ৬ পরে যাকোব ও তাহার সঙ্গীরা সকলে কনান ৭ দেশস্থ লুসে অর্থাৎ বৈথেলে উপস্থিত হইলেন। তথায় তিনি এক যজ্ঞবেদি নিৰ্ম্মাণ করিয়৷ সেই স্থানের নাম এল্‌-বৈথেল [ বৈথেলের ঈশ্বর ] রাখিলেন ; কারণ ভ্রাতার সম্মুখ হইতে তাহার পলায়নকালে ঈশ্বর সেই ৮ স্থানে তাহাকে দর্শন দিয়াছিলেন। আর রিবিকার দবোর নামী ধাত্রীর মৃত্যু হইল, এবং বৈথেলের অধঃস্থিত আলোন বৃক্ষের তলে তাহার কবর হইল, এবং সেই স্থানের নাম অলোন-বাখুৎ [রোদন-বৃক্ষ হইল। ৯ পদন অরাম হইতে যাকোব ফিরিয়া আসিলে ঈশ্বর তাহাকে পুনৰ্ব্বার দর্শন দিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিলেন । ১০ ফলতঃ ঈশ্বর তাহাকে কহিলেন, তোমার নাম যাকোব ; লোকে তোমাকে আর যাকোব বলিবে না, তোমার নাম ইস্রায়েল হইবে ; আর তিনি তাহার নাম আদিপুস্তক। ○ > ১১ ইস্রায়েল রাখিলেন। ঈশ্বর তাহাকে আরও কহিলেন, আমিই সৰ্ব্বশক্তিমান ঈশ্বর, তুমি প্রজাবান ও বহুবংশ হও ; তোমা হইতে এক জাতি, এমন কি, জাতিসমাজ উৎপন্ন হইবে, আর তোমার কটি হইতে রাজগণ ১২ উৎপন্ন হইবে। আর আমি অব্রাহামকে ও ইসহাককে যে দেশ দান করিয়াছি, সেই দেশ তোমাকে ও ১৩ তোমার ভাবী বংশকে দিব। সেই স্থানে তাহার সহিত কথোপকথন করিয়া ঈশ্বর তাহার নিকট ১৪ হইতে উৰ্দ্ধগমন করিলেন । আর যাকোব সেই কথোপকথন স্থানে এক স্তম্ভ, প্রস্তরের স্তম্ভ, স্থাপন করিয়া তাহার উপরে পেয় নৈবেদ্য উৎসর্গ করিলেন ও তৈল ১৫ ঢালিয়া দিলেন । এবং যে স্থানে ঈশ্বর তাহার সহিত কথা কহিলেন, যাকোব সেই স্থানের নাম বৈথেল রাখিলেন । পরে তাহার বৈথেল হইতে প্রস্থান করিলেন, আর ইফ্রাথে উপস্থিত হইবার অল্প পথ অবশিষ্ট থাকিতে রাহেলের প্রসব-বেদন হইল ; এবং তাহার প্রসব ১৭ করিতে বড় কষ্ট হইল। আর প্রসব-ব্যথা কঠিন হইলে ধাত্রী তাহাকে কহিল, ভয় করিও না, কারণ এ বারও ১৮ তোমার পুত্রসন্তান হইবে। পরে তাহার মৃত্যু হইল, আর প্রাণবিয়োগ সময়ে তিনি পুত্রের নাম বিনোনী [আমার কষ্টের পুত্র] রাখিলেন, কিন্তু তাহার পিতা তাহার নাম বিস্তামীন [ দক্ষিণ হস্তের পুত্র ] রাখিলেন। ১৯ এইরূপে রাহেলের মৃত্যু হইল, এবং ইক্ৰাধ অর্থাৎ ২০ বৈৎলেহমের পথের পার্থে তাহার কবর হইল। পরে যাকোব তাহার কবরের উপরে এক স্তন্ত স্থাপন করিলেন, রাহেলের সেই কবর-স্তস্ত অদ্যাপি আছে। ২১ পরে ইস্রায়েল তথা হইতে যাত্রা করিলেন, এবং ২২ মিগৃদল-এদরের ওপার্থে তাম্বু স্থাপন করিলেন। সেই দেশে ইস্রায়েলের অবস্থিতি কালে রূবেণ গিয়া আপন পিতার বিলুহা নাম্নী উপপত্নীর সহিত শয়ন করিল, এবং ইস্রায়েল তাহ শুনিতে পাইলেন। ২৩ যাকোবের দ্বাদশ পুত্র। লেয়ার সন্তান ; যাকোবের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেণ, এবং শিমিয়োন, লেবি, যিহুদা, ২৪ ইষীখর ও সবুলুন। রাহেলের সন্তান ; যোষেফ ও ২৫ বিস্তামীন। রাহেলের দাসী বিলুহার সন্তান ; দান ২৬ ও নপ্তালি । লেয়ার দাসী সিল্লার সন্তান ; গাদ ও আশের। ইহারা যাকোবের পুত্র, পদ-অরামে জন্মে। ইস্হাকের মৃত্যু। এষোঁর বংশাবলি। পরে কিরিয়থর্বের অর্থাৎ হিত্রোণের নিকটবৰ্ত্তী মম্রি নামক যে স্থানে অব্রাহাম ও ইসহাক প্রবাস করিয়াছিলেন, সেই স্থানে যাকোব আপন পিতা ইস্হাকের নিকটে উপস্থিত হইলেন। ২৮ ইসহাকের বয়স এক শত আশী বৎসর হইয়াছিল। ২৯ পরে ইসহাক বৃদ্ধ ও পুর্ণায়ু হইয়া প্রাণত্যাগ করিয়া আপন লোকদের নিকটে সংগৃহীত হইলেন ; এবং তাহার পুত্ৰ এষে ও যাকোব তাহার কবর দিলেন। >や 을 31 ○*。 আদিপুস্তক । ৩৬ নর অর্থাৎ ইদ্রামের "ত্ব এই ৷ এষেী কনানীয়দের দুই কন্যাকে, অর্থাৎ হিত্তীয় এলোনের কন্য। আদাকে, ও হিববীয় সিবিয়োনের ৩ পৌত্রী অনার কন্যা অহলীবামাকে, তদ্ভিন্ন নবায়োতের ভগিনীকে, অর্থাৎ ইশ্মায়েলের বাসমৎ নাম্নী কন্যাকে ৪ বিবাহ করিলেন। আর এষের জন্ত অাদ ইলীফসকে, ৫ ও বাসমৎ রূয়েলকে প্রসব করে । এবং অহলীবাম৷ যিযুশ, যালম ও কোরহকে প্রসব করে ; ইহার এষের পুত্র, কনান দেশে জন্মে। ৬ পরে এষে আপন স্ত্রী পুত্র কন্যাগণ ও গৃহস্থিত অন্ত সকল প্রাণীকে, এবং আপন পশ্বাদি সমস্ত ধন ও কনান দেশে উপজ্জিত সমস্ত সম্পত্তি লইয়। যাকোব ভ্রাতার সম্মুখ হইতে আর এক দেশে প্রস্থান ৭ করিলেন। কেননা তাহদের প্রচুর সম্পত্তি থাকাতে একত্র বাস সম্পোষ্য হইল না, এবং পশুধন প্রযুক্ত ৮ তাহদের সেই প্রবাস-দেশে স্থান কুলাইল না। এইরূপে এষে সেয়ীর পবর্বতে বাস করিলেন ; তিনিই ইদোম । = সেয়ীর পর্বতস্থ ইদোমীয়দের পূর্বপুরুষ এষেীর বংশ১• বৃত্তান্ত এই। এনীের সন্তানদের নাম এই এই। এধেীর স্ত্রী আদার পুত্র ইলীফস, ও এযোঁর স্ত্রী বাসমতের পুত্র ১১ রূয়েল। আর ইলীফসের পুত্র তৈমন, ওমর, সফো, ১২ গয়িতম ও কনস। আর এষেীর পুত্র ইলীফসের তিম্ন৷ নাম্নী এক উপপত্নী ছিল, সে ইলীফসের জন্য অমালেককে প্রসব করিল। ইহার এষের স্ত্রী আদার ১৩ সন্তান। আর রূয়েলের পুত্ৰ নহৎ, সেরহ, শম্ম ও ১৪ মিস ; ইহার এম্বেীর স্ত্রী বাসমতের সন্তান। আর সিবিয়োনের পৌত্রী অনার কন্য। যে অহলীবাম এষের স্ত্রী ছিল, তাহার সন্তান যিয়ুশ, যালম ও কোরহ । ১৫ এষের সন্তানদের দলপতিগণ এই। এষৌর জ্যেষ্ঠ পুত্ৰ যে ইলীফস, তাহার পুত্র দলপতি তৈমন, দলপতি ১৬ ওমার, দলপতি সফো, দলপতি কনস, দলপতি কোরহ, দলপতি গয়িতম ও দলপতি আমালেক ; ইদোম দেশের ইলীফস বংশীয় এই দলপতিগণ আদার সন্তান। ১৭ এম্বেীর পুত্র রূয়েলের সন্তান দলপতি নহৎ, দলপতি সেরহ, দলপতি শৰ্ম্ম ও দলপতি মিস ; ইদোম দেশের রূয়েল বংশীর এই দলপতিগণ এর্ষেীর স্ত্রী বাসমতের ১৮ সন্তান। আর এম্বেীর স্ত্রী অহলীবামার সন্তান দলপতি যিয়ুশ, দলপতি যালম ও দলপতি কোরহ ; অনার কন্তী যে অহলবাম। এধেীর স্ত্রী ছিল, এই দলপতির ১৯ তাহার সন্তান। ইহার এষের অর্থাৎ ইদোমের সন্তান, ও ইহার তাহদের দলপতি । ২• তদেশনিবাসী হোরীয় সেয়ারের সন্তান লেটিন, ২১ শোবল, শিবিয়োন, অনা, দিশোন, এৎসর ও দীশন ; সেয়ারের এই পুত্ৰগণ ইদোম দেশের হোরীয় বংশোদ্ভব ২২ দলপতি ছিলেন। লোটনের পুত্র হোরি ও হেমম, এবং ২৩ fতম লোটনের ভগিনী ছিল। আর শোবলের পুত্র ২৪ অলুবন, মানহৎ, এবল, শফে ও ওনম। আর সিবি [○○ ; >ー○? 5 9 。 য়োনের পুত্র অয়া ও অনা ; এই অনা আপন পিতা সিবিয়োনের গর্দভ চরাইবার সময়ে প্রান্তরে উষ্ণজলের ২৫ উনুই আবিষ্কার করিয়াছিল। অনার পুত্র দিশোন ও ২৬ অনার কষ্ঠ অহলবাম। আর দিশোনের পুত্র হিমৃদন, ২৭ ইশ্ববন, যিত্রণ ও করণ। আর এৎসরের পুত্র বিলুহন, ২৮ সাবন ও আকন। আর দৗশনের পুত্র উষ ও অরাণ । ২৯ হোরীয় বংশোদ্ভব দলপতিগণ এই ; দলপতি লোটন, ৩০ দলপতি শোবল, দলপতি সিবিয়োন, দলপতি অনা, দলপতি দিশোন, দলপতি এৎসর ও দলপতি দশন । ইহারা সেয়ীর দেশের হোরীয় বংশোদ্ভব দলপতি । ৩১ ইস্রায়েল-সন্তানদের উপরে কোন রাজা রাজত্ব করিবার পূর্বে ইহারা ইদোম দেশের রাজা ছিলেন । ৩২ বিয়োরের পুত্র বেলা ইদোম দেশে রাজত্ব করেন, ৩৩ তাহার রাজধানীর নাম দিনহাবা। আর বেলা মরিলে পর তাহার পদে বস্ত্রী-নিবাসী সেরহের পুত্র যোবৰ ৩৪ রাজত্ব করেন। আর যোবৰ মরিলে পর তৈমন দেশীয় ৩৫ হ্রশম তাহার পদে রাজত্ব করেন। আর হ্রশম মরিলে পর বদদের পুত্র যে হদদ মোয়াব-ক্ষেত্রে মিদিয়নকে আঘাত করিয়াছিলেন, তিনি তাহার পদে রাজত্ব ৩৬ করেন ; তাহার রাজধানীর নাম আবীৎ । আর হদদ মরিলে পর মস্ৰেক-নিবাসী সম্ন তাহার পদে রাজত্ব ৩৭ করেন। আর সন্ন মরিলে পর [ফরাৎ] নদীর নিকটবৰ্ত্তা রহোবোৎ-নিবাসী শোল তাহার পদে রাজত্ব ৩৮ করেন। আর শেল মরিলে পর অক্বোরের পুত্ৰ ৩৯ বাল্হানন তাহার পদে রাজত্ব করেন। আর অকৃবোরের পুত্র বাল্হানন মরিলে পর হদর তাহার পদে রাজত্ব করেন ; তাহার রাজধানীর নাম পায়ু, ও ভাৰ্য্যার নাম মহেটবেল, সে মট্রেদের কন্যা ও মেষাহবের দৌহিত্রী। ৪০ গোষ্ঠী, স্থান ও নাম ভেদে এযে হইতে উৎপন্ন যে সকল দলপতি ছিলেন, তাহীদের নাম এই এই ; ৪১ দলপতি তিম্ন, দলপতি অল্ব, দলপতি যিথেৎ, দলপতি ৪২ অহলাবামা, দলপতি এলা, দলপতি পীনোন, দলপতি ৪৩ কনস, দলপতি তৈমন, দলপতি মিক্সর, দলপতি মগদীয়েল ও দলপতি ঈরম । ইহঁরা আপন আপন অধিকার দেশে, আপন আপন বসতিস্থান ভেদে ইদোমের দলপতি ছিলেন। ইদোমীয়দের আদিপুরুষ এম্বেীর বৃত্তান্ত সমাপ্ত । যোষেফের বিবরণ। ©ፃ তৎকালে যাকোব আপন পিতার প্রবাস-দেশে, কনান দেশে বাস করিতেছিলেন। ২ যাকোবের বংশ-বৃত্তান্ত এই । যোষেফ সতের বৎসর বয়সে আপন ভ্রাতৃগণের সহিত পশুপাল চরাইত ; সে বাল্যকালে আপন পিতৃভাৰ্য্যা বিলুহার ও সিল্লার পুত্ৰগণের সহচর ছিল, এবং যোষেফ তাহদের কুব্যব৩ হারের বার্তা পিতার নিকটে আনিত। যোষেফ ইস্রায়েলের বুদ্ধাবস্থার সন্তান, এই জন্য ইস্রায়েল সকল পুত্ৰ 32 ♦ a ; 8-©g I ] অপেক্ষা তাহাকে অধিক ভাল বাসিতেন, এবং তাহাকে ৪ একখানি চোগ। প্রস্তুত করিয়া দিয়াছিলেন। কিন্তু পিতা তাহার সকল ভ্রাতা অপেক্ষ তাহাকে অধিক ভাল বাসেন, ইহা দেখিয় তাহার ভ্রাতৃগণ তাহাকে দ্বেষ করত, তাহার সঙ্গে প্রণয়ভাবে কথা কহিতে পারিত না। ৫ আর যোষেফ স্বপ্ন দেখিয়া আপন ভ্রাতাদিগকে তাহা কহিল ; ইহাতে তাহার। তাহাকে আরও অধিক ৬ ম্বেষ করিল। সে তাহাদিগকে কহিল, আমি এক স্বপ্ন ৭ দেখিয়াছি, নিবেদন করি, তাহ শুন । দেখ, আমরা ক্ষেত্রে আটি বঁ,ধতছিলাম, আর দেখ, আমার আটি উঠিয় দাড়াইয়া রহিল, এবং দেখ, তোমাদের আটি সকল আমার আটিক চারিদিকে ঘেরিয় তাহার কাছে ৮ প্ৰণিপাত করিল। ইহাতে তাহার ভ্রাতৃগণ তাহাকে কহিল, তুই কি বাস্তবিক আমাদের রাজা হইবি ? আমাদের উপরে বাস্তবিক কর্তৃত্ব করিবি ? ফলে তাহারা তাহার স্বপ্ন ও তাহার বাক্য প্রযুক্ত তাহাকে আরও দ্বেষ করিল। ৯ পর সে আরও এক স্বপ্ন দেখিয়া ভ্রাতৃগণকে তাহার বৃত্তান্ত কহিল। সে বলিল, দেখ, আমি আর এক স্বপ্ন দেখিলাম ; দেখ, স্থৰ্য্য, চন্দ্র ও একাদশ নক্ষত্র ১• আমাকে প্ৰণিপাত করিল। সে আপন পিতা ও ভ্রাতুগণকে ইহার বৃত্তান্ত কহিল, তাহাতে তাহার পিত তাহাক ধম্‌কাইয়া কহিলন, তুমি এ কেমন স্বপ্ন দেখিলে ? আমি, তোমার মাতা ও তোমার ভ্রাতৃগণ, আমরা কি বাস্তবক তোমার কাছে ভূমিত প্ৰণিপাত ১১ করিতে আসিব ? আর তাহার ভ্রাতৃগণ তাহার প্রতি ঈর্ষা করিল, কিন্তু তাহার পিতা সেই কথা মনে রাখিলেন । ১২ একদা তাহার ভ্রাতৃগণ পিতার পশুপাল চরাইতে ১৩ শিখিমে গিয়াছিল। তখন ইস্রায়েল যোষেফকে কহিলেন, তোমার ভ্রাতৃগণ কি শিখিমে পশুপাল চরাইতেছে না ? আইস, আমি তাহদের কাছে তোমাকে পাঠাই । ১৪ সে কহিল, দেখুন, এই আমি । তখন তিনি তাহাকে কহিলেন, তুমি গিয়া তোমার ভ্রাতৃগণের কুশল ও পশুপালের কুশল জানিয়া আমাক সংবাদ আনিয়া দেও। এইরূপে তিনি হি ব্রাণের তলভূমি হইতে যোষেফকে পাঠাইল সে শিখcম উপস্থিত হইল । ১৫ তখন এক জন লোক তাহীক দেখিতে পাইল, আর দেখ, সে প্রান্তরে ভ্রমণ করিতেছে ; সেই লোকটী তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, কিসের অন্বেষণ করি তছ ? ১৬ সে কহিল, আমার ভ্রাতৃগণের অন্বষণ করিতেছি ; অনুগ্রহ করিয়া আমাকে বল, উহার কোথায় ১৭ পাল চরাইতেছেন। সে ব্যক্তি কহিল, তাহার। এ স্থান হইতে চলিয়া গিয়াছে, কেননা ‘চল, দোখনে যাই, তাহাuদর এই কথা শুনিয়াছিলাম। পরে যোষেফ আপন ভ্রাতাuদর পশ্চাৎ পশ্চাৎ গিয়া দেখলে তাহাদর ১৮ উদশ পাইল। তাহার দূর হইতে তাহাকে দেখিতে o. т. 3 আদিপুস্তক । SDO পাইল, এবং সে নিকটে উপস্থিত হইবার পুৰ্ব্বে ১৯ তাহাকে বধ করিবার জন্ত ষড়যন্ত্র করিল। তাছাৱ৷ পরস্পর কহিল, ঐ দেখ, স্বপ্নদর্শক মহাশয় আসিতে২• ছেন ; এখন আইস, আমরা উহাকে বধ করিয়া একটা গৰ্ত্তে ফেলিয়া দিই ; পরে বলিব, কোন হিংস্র জন্তু তাহাকে খাইয় ফেলিয়াছে ; তাহাতে দেখিব, ২১ উহার স্বপ্নের কি হয়। রূবেণ ইহা শুনিয় তাহাদের হস্ত হইতে তাহাকে উদ্ধার করিল, কহিল, না, আমরা ২২ উহাকে প্রাণে মারিব না। আর রূবেণ তাহাদিগকে কহিল, তোমরা রক্তপাত করিও না, উহাকে প্রান্তরের এই গৰ্ত্তমধ্যে ফেলিয়া দেও, কিন্তু উহার উপরে হস্ত তুলিও না। এইরূপে রূবেণ তাহদের হস্ত হইতে তাহাকে উদ্ধার করিয়৷ পিতার নিকটে ফিরিয়া পাঠাইবার চেষ্টা করিল। পরে যোষেফ আপন ভ্রাতৃগণের নিকটে আসিলে তাহারা তাহার গাত্র হইতে সেই বস্ত্র, সেই চোগাখানি ২৪ খুলিয়া লইল ; আর তাহাকে ধরিয়া গৰ্ত্তমধ্যে ফেলিয়৷ দিল ; সেই গৰ্ত্ত শূন্ত ছিল, তাহাত জল ছিল না। ২৫ পরে তাহার। আহার করিতে বসিল; এবং চক্ষু তুলিয়৷ চাহিল, আর দেখ, গিলিয়দ হইতে এক দল ইশ্মায়েলীয় ব্যবসায়ী লোক আসিতেছে ; তাহারা উ&বাহনে সুগন্ধি দ্রব্য, গুগগুলু ও গন্ধরস লইয়। মিসর দেশে যাইতেছিল। ২৬ তখন যিহদ। আপন ভ্রাতৃগণক কহিল, আমাদের ভ্রাতাকে বধ করিয়া তাহার রক্ত গোপন করিলে ২৭ আমাদের কি লাভ ? আইস, আমরা ঐ ইশ্মায়েলীয়দের কাছে তাহাকে বিক্রয় করি, আমরা তাহার উপরে হাত তুলিব না ; কেননা সে আমাদের ভ্রাতা, আমাদের ২৮ মাংস। ইহাতে তাহার ভ্রাতৃগণ সম্মত হইল। পরে মিদিয়নীয় বণিকের নিকটে আসিলে উহারা যোষেফকে গৰ্ত্ত হইতে টানিয়া তুলিল ; এবং বিংশতি রৌপ্যমুদ্রায় সেই ইশ্বায়েলীয়দের কাছে যোষেফকে বিক্রয় করিল : আর তাহারা যোষেফকে মিসর দেশে লইয়া গেল । পরে রূবেণ গৰ্ত্তের নিকটে ফিরিয়া গেল, আর দেখ, যোষেফ সেখানে নাই ; তখন সে আপন বস্ত্র চিfরল, ৩০ আর ভ্রাতাদের নিকটে ফিরিয়া আসিয়া কহিল, যুবকটী ৩১ নাই, আর আমি । আমি কোথায় যাই ? পরে তাহার যোষেফের বস্ত্র লইয়। একটা ছাগ মারিয়া তাহার রক্তে ৩২ তাহী ডুবাইল ; আর লোক পাঠাইয়৷ সেই চোগাখনি পিতার নিকটে উপস্থিত করিয়া কহিল, আমরা এইমাত্র পাইলাম, নিরীক্ষণ করিয়া দেখ, ইহা তোমার ৩৩ পুত্রের বস্ত্র কি না ? তিনি চিনিতে পারিয়া কহিলন, এ ত আমার পুত্ররই বস্ত্র ; কোন হিংস্ৰ জন্তু তাহাকে খাইয়া ফেলিয়াছ, যোষেফ অবঙ্গ খণ্ড খণ্ড হইয়াছে। ৩৪ তখন যাকোব আপন বস্ত্র চিরিয়া কটিদেশে চট পরিধান করিয়া পুত্রের জন্ত অনেক দিন পয্যন্ত শোক ৩৫ করিলেন। আর তাহার সমস্ত পুত্ৰকস্ত উঠিয় তাহাকে সন্তন করিতে যত্ন করিলেও তিনি প্রবোধ না মানিয়া কহিলেন, আমি শোক করিতে করিতে পুত্রের নিকটে ২৩ 있 33 S) 8 পাতালে নামিব। এইরূপে তাহার পিতা তাহার জন্ত ৩৬ রোদন করিলেন । আর ঐ মিদিয়নীয়ের যোষেফকে মিসরে লইয়। গিয়া ফরোণের কৰ্ম্মচারী রক্ষক-সেনা পতি পোটফরের নিকটে বিক্রয় করিল। যিহুদার বিবরণ। ○ケ ঐ সময়ে বিহুদ আপন ভ্রাতৃগণের নিকট হইতে প্রস্থান করিয়া অদুল্লমীয় হীরা নামে একটা ২ লোকের কাছে গেল। সে স্থানে শূয় নামে এক কনানীয় পুরুষের কস্তাকে দেখিয় যিহুদী তাহাকে ৩ গ্রহণ করিয়া তাহার কাছে গমন করিল। পরে সে গৰ্ত্তবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিল, ও যিহুদী তাহার ৪ নাম এর রাখিল । পরে পুনকবার তাহার গৰ্ত্ত হইলে সে পুত্র প্রসব করিয়া তাহার নাম ওনন রাখিল । ৫ পুনৰ্ব্বার তাহার গৰ্ত্ত হইলে সে পুত্র প্রসব করিয়া তাহার নাম শেল রাখিল ; ইহার জন্মকালে যিহদ। ৬ কীবে ছিল। পরে যিহুদী তমের নাম্নী একটী কন্যাকে আনিয়া আপন জ্যেষ্ঠ পুত্র এরের সঙ্গে বিবাহ দিল । ৭ কিন্তু যিহুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র এর সদাপ্রভুর সাক্ষাতে দুষ্ট ৮ হওয়াতে সদাপ্রভু তাহাকে মারিয়া ফেলিলেন। তাহাতে বিহুদী ওননকে কহিল, তুমি আপন ভ্রাতার স্ত্রীর কাছে গমন কর, ও তাহার প্রতি দেবরের কৰ্ত্তব্য সাধন করিয়৷ নিজ ভ্রাতার জম্ভ বংশ উৎপন্ন কর। ৯ কিন্তু ঐ বংশ আপনার হইবে না, ইহা বুঝিয়া ওনন ভ্রাতৃজায়ার কাছে গমন করিলেও ভ্রাতৃবংশ উৎপন্ন ১• করিবার অনিচ্ছাতে ভূমিতে রেতঃপাত করিল। তাহার সেই কাৰ্য্য সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ হওয়াতে তিনি ১১ তাহাকেও বধ করিলেন। তখন যিহুদী পুত্রবধু তামরকে কহিল, যে পর্য্যন্ত আমার পুত্র শেলা বড় না হয়, তাবৎ তুমি আপন পত্রালয়ে গিয়া বিধবাই থাক । কেননা সে বলিল, পাছে ভ্রাতাদের স্থায় সেও মরে । অতএব তামর পিত্রালয়ে গিয়া বাস করিল। পরে বহু দিবস গত হইলে শুয়ের কন্যা যিহুদার স্ত্রী মরিয়া গেল, পরে যিহুদী সত্ত্বনযুক্ত হইয় আপন বন্ধু অদুল্লমীয় হীরার সহিত তিস্নায়, যাহারা তাহার মেষগণের লোম কাটিতেছিল, তাহদের নিকটে চলিল । ১৩ তখন কেহ তামরকে বলিল, দেখ, তোমার শ্বশুর আপন মেষগণের লোম কাটিতে তিম্নায় যাইতেছেন । ১৪ তখন সে বৈধব্য বস্ত্র ত্যাগ করিয়া আবরণ দ্বারা আপনাকে আচ্ছাদন করিল, ও গায়ে কাপড় দিয়া তিস্নার পথের পাশ্বস্থিত ঐনয়িমের প্রবেশস্থানে বসিয়া রহিল ; কারণ সে দেখিল, শেলা বড় হইলেও তাহার ১৫ সহিত তাহার বিবাহ হইল না। পরে যিহুদ। তাহাকে দেখিয়া বেষ্ঠ মনে করিল, কেননা সে মুখ আচ্ছাদন ১৬ করিয়াছিল। অতএব সে পুত্রবধূকে চিনিতে ন৷ পারাতে পথের পার্শ্বে তাহার নিকটে গিয়া কহিল, আইস, আমি তোমার কাছে গমন করি। তামর কহিল, আমার কাছে আসিবার জন্য আমাকে কি ! ○マ আদিপুস্তক । [రిగి ; రిల– రిమె ; : 1 ১৭ দিবে ? সে কহিল, পাল হইতে একটা ছাগবৎস পঠাইয়া দিব। তমের কহিল, যাবৎ তাহ না পাঠাও, ১৮ তাবৎ আমার কাছে কি কিছু বন্ধক রাখিবে ? সে কহিল, কি বন্ধক রাখিব ? তামর কহিল, তোমার এই মোহর ও সূত্র ও হস্তের যষ্টি । তখন সে তাহাকে সেইগুলি দিয়া তাহার কাছে গমন করিল ; ১৯ তাহাতে সে তাহ হইতে গৰ্ত্তবতী হইল। পরে সে উঠিয়৷ চলিয়া গেল, এবং সেই আবরণ ত্যাগ ২০ করিয়া আপনার বৈধব্য বস্ত্র পরিধান করিল। পরে যিহদ সেই স্ত্রীলোকের নিকট হইতে বন্ধক দ্রব্য লইবার জন্য আপন অদুল্লমীয় বন্ধুর হাতে ছাগবৎসটা ২১ পাঠাইয়। দিল, কিন্তু সে তাহকে পাইল না। তখন সে তথাকার লোকদিগকে জিজ্ঞাসিল, ঐনয়িমে পথের পার্শ্বে যে বেষ্ঠা ছিল, সে কোথায় ? তাহারা ২২ কহিল, এ স্থানে কোন বেষ্ঠা আইসে নাই। পরে সে যিহদার নিকটে ফিরিয়া গিয়া কহিল, আমি তাহাকে পাইলাম না, এবং তথাকরি লোকেরাও বলিল, এ ২৩ স্থানে কোন বেগু আইসে নাই । তখন যিহুদী কহিল, তাহার কাছে যাহা আছে, সে তাহ রাখুক, নতুবা আমরা লজ্জায় পড়িব । দেখ, আমি এই ছাগবৎসটা পঠাইয়াছিলাম, কিন্তু তুমি তাহাকে পাইলে না। প্রায় তিন মাস পরে কেহ যিহদাকে কহিল, তোমার পুত্রবধু তামর ব্যভিচারিণী হইয়াছে, আরও দেখ, ব্যভিচারহেতু তাহার গৰ্ত্ত হইয়াছে। তখন যিহুদী কহিল, তাহীকে বাহিরে আনিয়া পোড়াইয়৷ ২০ দেও। পরে বাহিরে আনীত হইবার সময়ে সে শ্বশুরকে বলিয়া পাঠাইল, যাহার এই সকল বস্তু, সেই পুরুষ হইতে আমার গৰ্ত্ত হইয়াছে। সে আরও কহিল, এই মোহর, স্বত্র ও যষ্টি কাহার ? চিনিয়া ২৬ দেখ। তখন যিহ্ৰদ সেগুলি চিনিয় কহিল, সে আমা হইতেও অধিক ধাৰ্ম্মিক, কেননা আমি তাহাকে আপন পুত্ৰ শেলাকে দিই নাই। আর যিহুদা তাহাতে অীর উপগত হইল না । ২৭ পরে তামরের প্রসবকাল উপস্থিত হইল, আর ২৮ দেখ, তাহার উদরে যমজ সন্তান। তাহার প্রসবকালে একটা বালক হস্ত বাহির করিল , তাহাতে ধাত্রী তাহার সেই হস্ত ধরিয়া রক্তবর্ণ সুত্র বাধিয়া কহিল, এই ২৯ প্রথমে ভূমিষ্ঠ হইল। কিন্তু সে আপন হস্ত টানিয়া লইলে দেখ, তাহার ভ্রাতা ভূমিষ্ট হইল ; তখন ধাত্রী কহিল, তুমি কি প্রকারে আপনার জন্য ভেদ করিয়া অসিলে ? অতএব তাহার নাম পেরস (ভেদ হইল । ৩• পরে হস্তে রক্তবর্ণ স্বত্রবদ্ধ তাহার ভ্রাত ভুমিষ্ঠ হইলে তাহার নাম সেরহ হইল । যোষেফের দাসত্ব ও কারাবাস । যোষেফ মিসর দেশে আনীত হইলে পর, যে ইশ্মায়েলীয়ের তাহাকে তথায় লইয়া গিয়াছিল, তাহাদের নিকটে ফরেীণের কৰ্ম্মচারী পোটফর 있8 O) 34. రిఎ ; ఇ – 8 a ; : 0 ! ] র্তাহাকে ক্রয় করিলেন ; ইনি রক্ষক-সেনাপতি, এক ২ জন মিস্ত্রীয় লোক। আর সদাপ্রভু যোষেফের সহবৰ্ত্তা ছিলেন, এবং তিনি সফলকৰ্ম্ম৷ হইলেন, ও আপন ৩ মিস্ত্রীয় প্রভুর গৃহে রহিলেন। আর সদাপ্রভু তাহার সহবত্তী আছেন, এবং তিনি যে কিছু করেন, সদাপ্রভু তাহার হস্তে তাহ সফল করিতেছেন, ইহা ৪ তাহার প্রভু দেখিলেন। অতএব যোযেফ তাহার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইলেন, ও তাহার পরিচারক হইলেন, এবং তিনি যোষেফকে আপন বাটীর অধ্যক্ষ করিয়৷ তাহার হস্তে আপনার সর্বস্ব ও সমর্পণ করিলেন। যে অবধি তিনি যোষেফকে আপন বাটীর ও সৰ্ব্বস্বের অধ্যক্ষ করিলেন, সেই অবধি সদাপ্রভু যোষেফের অনুরোধে সেই মিশ্ৰীয় ব্যক্তির বাটীর প্রতি আশীৰ্ব্বাদ করিলেন ; বাটীতে ও ক্ষেত্রে স্থিত তাহার সমস্ত সম্পদের প্রতি সদাপ্রভুর ও আশীৰ্ব্বাদ বৰ্ত্তিল। অতএব তিনি যোষেফের হস্তে আপনার সর্বশ্বের ভার দিলেন, আপনি নিজ আহারীয় দ্রব্য ব্যতীত আর কিছুরই তত্ত্ব লইতেন না। যোষেফ রূপবান ও স্বন্দর ছিলেন। ৭ এই সকল ঘটনার পর তাহার প্রভুর স্ত্রী যোষেফের প্রতি দৃষ্টিপাত করিল ; আর তাহাকে কহিল, আমার ৮ সহিত শয়ন কর । কিন্তু তিনি অস্বীকার করতঃ আপন প্রভুর স্ত্রীকে কহিলেন, দেখুন, এই বাটতে আমার হস্তে কি কি আছে, আমার প্রভু তাহ জানেন না ; আমারই হস্তে সৰ্ব্বস্ব রাখিয়াছেন ; ৯ এই বাটীতে আমা অপেক্ষ বড় কেহই নাই ; তিনি সমুদয়ের মধ্যে কেবল আপনাকেই আমার অধীন করেন নাই, কারণ আপনি তাহার ভার্য্য। অতএব আমি কিরূপে এই মহা দুষ্কৰ্ম্ম করিতে ও ১০ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করিতে পারি ? সে দিন দিন যোষেফকে সেই কথা কহিলেও তিনি তাহার সহিত শয়ন করিতে কিম্বা সঙ্গে থাকিতে তাহার কথায় ১১ সন্মত হইতেন না। পরে এক দিন যোষেফ কাৰ্য্য করিবার জন্ত গৃহমধ্যে গেলেন, বাটীর লোকদের মধ্যে অন্ত কেহ তথায় ছিল না, তখন সে যোষেফের বস্ত্র ১২ ধরিয়া বলিল, আমার সহিত শয়ন কর ; কিন্তু যোষেফ তাহার হস্তে আপন বস্ত্র ফেলিয়া বাহিরে ১৩ পলাইয়া গেলেন। তখন যোষেফ তাহার হস্তে বস্ত্র ফেলিয়া বাহিরে পলাইলেন দেখিয়া, সে নিজ ঘরের ১৪ লোকদিগকে ডাকিয়া কহিল, দেখ, তিনি আমাদের সহিত ঠাট্টা করিতে এক জন ইব্রীয় পুরুষকে অনিয়া* ছেন ; সে আমার সঙ্গে শয়ন করিবার জন্ত আমার নিকটে আসিয়াছিল, তাহাতে আমি চীৎকার করিয়া ১৫ উঠিলাম ; আমার চীৎকার শুনিয়া সে আমার নিকটে নিজ বস্ত্রখানি ফেলিয়া বাহিরে পলাইয়া গেল। ১৬ আর যে পৰ্য্যন্ত তাহার কৰ্ত্ত ঘরে না আসিলেন, সে পর্য্যন্ত সেই স্ত্রীলোক তাহার বস্ত্র আপনার কাছে ১৭ রাখিয়া দিল। পরে সেই বাক্যানুসারে তাহাকে কহিল, আদিপুস্তক । ←❍ ☾ তুমি যে ইব্রীয় দাসকে আমাদের কাছে আনিয়াছ, সে আমার সহিত ঠাট্ট করিতে আমার কাছে ১৮ আসিয়ছিল ; পরে আমি চীৎকার করিয়া উঠিলে সে আমার নিকটে তাহার বস্ত্রখানি ফেলিয়া বাহিরে পলাইয় গেল । তাহার প্রভু যখন আপন স্ত্রীর এই কথা শুনিলেন যে, “তোমার দাস আমার প্রতি এইরূপ ব্যবহার করিয়াছে, তখন ক্রোধে প্রজ্বলিত হইয়া উঠিলেন । ২• অতএব যোষেফের প্রভু তাহকে লইয়। কারাগারে রাখিলেন, যে স্থানে রাজার বন্দিগণ বদ্ধ থাকিত : তাহাতে তিনি সেখানে, সেই কারাগারে থাকিলেন । ২১ কিন্তু সদাপ্রভু যোষেফের সহবৰ্ত্তী ছিলেন, এবং তাহার প্রতি দয়া করিলেন ; ও তাহকে কারারক্ষকের ২২ দৃষ্টিতে অনুগ্রহ-পাত্র করিলেন। তাহাতে কারারক্ষক কারাস্থিত সমস্ত বন্দির ভার যোষেফের হস্তে সমর্পণ করিলেন, এবং তথাকার লোকদের সমস্ত কৰ্ম্ম ২৩ যোষেফের আজ্ঞানুসারে চলিতে লাগিল। কারারক্ষক তাহার হস্তগত কোন বিষয়ে দৃষ্টিপাত করিতেন না, কেননা সদাপ্রভু তাহার সহবৰ্ত্তী ছিলেন, এবং তিনি যাহা কিছু করিতেন, সদাপ্রভু তাহ সফল করিতেন। 3o ঐ সকল ঘটনার পরে মিসর-রাজের পানপাত্রবাহক ও মোদক আপনাদের প্রভু মিসর২ রাজের বিরুদ্ধে দোষ করিল। তাহাতে ফরেীণ আপনার সেই দুই কৰ্ম্মচারীর প্রতি, ঐ প্রধান পানপত্রবাহ৩ কের ও প্রধান মোদকের প্রতি, ক্রুদ্ধ হইলেন, এবং তাহাদিগকে বন্দি করিয়া রক্ষক-সেনাপতির বাটীতে, কারাগারে, যোষেফ যে স্থানে বদ্ধ ছিলেন, সেই ৪ স্থানে রাখিলেন। তাহীতে রক্ষক-সেনাপতি তাহাদের কাছে যোষেফকে নিযুক্ত করিলেন, আর তিনি তাহীদের পরিচর্য্যা করিতে লাগিলেন । এইরূপে তাহারী কিছু দিন কারাগারে রহিল। ৫ পরে মিসর-রাজের পানপত্রিবাহক ও মোদক, যাহার কারাবদ্ধ হইয়াছিল, সেই দুই জনে এক রাত্রিতে দুই প্রকার অর্থবিশিষ্ট দুই স্বপ্ন দেখিল । ৬ আর যোষেফ প্রত্যুষে তাহদের নিকটে আসিয়৷ তাহাদিগকে দেখিলেন, আর দেখ, তাহার বিষন্ন । ৭ তখন তাহার সঙ্গে ফরেীণের ঐ যে দুই কৰ্ম্মচারী তাহার প্রভুর বাটতে কারাবদ্ধ ছিল, তাহাদিগকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, অদ্য আপনাদের মুখ বিবঃ ৮ কেন ? তাহার। উত্তর করিল, আমর! স্বপ্ন দেখিয়াছি, কিন্তু অর্থকারক কেহ নাই। যোষেফ তাহাদিগকে কহিলেন, অর্থ করিবার শক্তি কি ঈশ্বর হইতে হয় না ? বিনয় করি, স্বপ্নবৃত্তান্ত আমাকে বলুন। ৯ তখন প্রধান পানপত্রিবাহক যোবেফকে আপন স্বপ্নবৃত্তান্ত জানাইল, তাহকে কহিল, আমার স্বপ্নে, দেখ, ১• আমার সম্মুখে এক দ্রাক্ষালতা। সেই দ্রাক্ষালতার তিনটী শাখা ; তাহ যেন পল্লবিত হইল ও তাহাতে পুষ্প হইল, এবং স্তবকে স্তবকে তাহার ফল হইয়। 3 35 ○○ ১১ পক্ক হইল। তখন আমার হন্তে ফরেীণের পানপত্র ছিল, আর আমি সেই দ্রাক্ষাফল লইয়া ফরেীণের পাত্রে ১২ নিঙ্গড়াইয় ফরেীণের হন্তে সেই পাত্র দিলাম। যোষেফ তাহাকে কহিলেন, ইহার অর্থ এই ; ঐ তিন শাখায় ১৩ তিন দিন বুঝায়। তিন দিনের মধ্যে ফরেীণ আপনকার মস্তক উঠাইয়া আপনাকে পূৰ্ব্বপদে নিযুক্ত করিবেন ; আর আপনি পূর্ববরীতি অনুসারে পানপত্রবাহক হইয়া পুনৰ্ব্বার ফরোণের হস্তে পানপত্র দিবেন। ১৪ কিন্তু বিনয় করি, যখন আপনকার মঙ্গল হইবে, তখন আমাকে স্মরণে রাখিবেন, এবং আমার প্রতি দয়৷ করিয়া ফরেীণের কাছে আমার কথা বলিয়। আমাকে ১৫ এই গৃহ হইতে উদ্ধার করিবেন। কেননা ইব্রীয়দের দেশ হইতে আমাকে নিতান্তই চুরি করিয়৷ আন৷ হইয়াছে ; আর এ স্থানেও আমি কিছুই করি নাই, যাহার জন্ত এই কারাকুপে বদ্ধ হই। প্রধান মোদক যখন দেখিল, অর্থ ভাল, তখন সে যোষেফকে কহিল, আমিও স্বপ্ন দেখিয়াছি ; দেখ, আমার মস্তকের উপরে শুক্ল পিষ্টকের তিনটী ডলী । ১৭ তাহার উপরের ডালীতে ফরেীণের জন্ত সকল প্রকার পক্কান্ন ছিল ; আর পক্ষিগণ আমার মস্তকের উপরিস্থ ১৮ ডলী হইতে তাহ লইয়া খাইয়া ফেলিল । যোষেফ উত্তর করিলেন, ইহার অর্থ এই, সেই তিন ডলীতে ১৯ তিন দিন বুঝায়। তিন দিনের মধ্যে ফরেীণ আপনকার দেহ হইতে মস্তক উঠাইয়া আপনাকে গাছে টাঙ্গাইয়া দিবেন, এবং পক্ষিগণ আপনকার দেহ হইতে মাংস ভক্ষণ করিবে । পরে তৃতীয় দিনে ফরেীণের জন্মদিন হইল, আর তিনি আপনার সকল দাসের জন্ত ভোজ প্রস্তুত করিলেন, এবং আপনার দাসগণের মধ্যে প্রধান পানপত্রবাহকের ও প্রধান মোদকের মস্তক উঠা২১ ইলেন। তিনি প্রধান পানপাত্রবাহককে তাহার নিজ পদে পুনর্বার নিযুক্ত করিলেন, তাহাতে সে ২২ ফরেীণের হস্তে পানপত্র দিতে লাগিল ; কিন্তু তিনি প্রধান মোদককে টাঙ্গাইয় দিলেন ; যেমন যোষেফ ২৩ তাহাদিগকে অর্থ বলিয়ছিলেন । তথাপি প্রধান পানপত্রেবাহক যোষেফকে স্মরণ করিল না, ভুলিয়৷ গেল । যোষেফের উন্নতি ও বিবাহ। 8S দুই বৎসর পরে ফরেীণ স্বপ্ন দেখিলেন । দেখ, তিনি নদীকূলে দাড়াইয়া আছেন, আর দেখ, নদী হইতে সাতটা হৃষ্টপুষ্ট স্বন্দর গাভী উঠিল, ও ও খাগড়। বনে চরিতে লাগিল । সেগুলির পরে, দেখ, আর সাতটা কৃশ ও বিশ্ৰী গাভী নদী হইতে উঠিল, ৪ ও নদীর তীরে ঐ গভীদের নিকটে দাড়াইল । পরে সেই কৃশ বিপ্ৰ গাভীর ঐ সাতটা হৃষ্টপুষ্ট সুন্দর গাভীকে খাইয়। ফেলিল। তখন ফরেীণের নিদ্রভঙ্গ ও হইল। তাহার পরে তিনি নিদ্রিত হইয়৷ দ্বিতীয় | 〉や ૨ ૭ আদিপুস্তক । [ 8 ० ; > > - 8 ४ ; २२ ? বার স্বপ্ন দেখিলেন ; দেখ, এক বোটাতে সাতটী ৬ জুলাকার উত্তম শীষ উঠিল। সেগুলির পরে, দেখ, পুৰ্ব্বীয় বায়ুতে শোষিত অস্ত সাতটা ক্ষীণ শীষ উঠিল । ৭ আর এই ক্ষীণ শীৰ্ষগুলি ঐ সাতটা স্থূলাকার পূর্ণ শীষ গ্রাস করিল। পরে ফরেীণের নিদ্রাভঙ্গ হইল, আর দেখ, উহা স্বল্পমাত্র। পরে প্রাতঃকালে তাহার মন অস্থির হইল ; আর তিনি লোক পঠাইয়। মিসরের সকল মন্ত্রবেত্ত ও তথাকার সকল জ্ঞানীকে ডাকাইলেন ; আর ফরেীণ উtহাদের কাছে সেই স্বপ্নবৃত্তান্ত কহিলেন, কিন্তু তাহাদের মধ্যে কেহই ফুরেীণকে তাহার অর্থ বলিতে পারিলেন না । তখন প্রধান পানপত্রবাহক ফরেীণকে নিবেদন করিল, অদ্য আমার দোষ মনে পড়িতেছে। ১• ফরেীণ অপেন দুই দাসের প্রতি, আমার ও প্রধান মোদকের প্রতি, ক্রোধান্বিত হইয়া আমাদিগকে রক্ষক-সেনাপতির বাটীতে কারাবদ্ধ করিয়ছিলেন । ১১ আর সে ও আমি এক রাত্রিতে স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম ; এবং দুই জনের স্বপ্নের দুই প্রকার অর্থ ১২ হইল। তখন সে স্থানে রক্ষক-সেনাপতির দাস এক জন ইব্রীয় যুবক আমাদের সহিত ছিল ; তাহাকে স্বপ্নবৃত্তান্ত কহিলে সে আমাদিগকে তাহার ১৩ অর্থ বলিল ; উভয়েরই স্বপ্নের অর্থ বলিল। আর সে আমাদিগকে যেরূপ অর্থ বলিয়াছিল, তদ্রুপই ঘটিল ; মহারাজ আমাকে পূৰ্ব্বপদে নিযুক্ত করিলেন, ও তাহীকে টাঙ্গাইয়া দিলেন । তখন ফরেীণ যোষেফকে ডাকিয় পাঠাইলে লোকের কারাকূপ হইতে তাহাকে শীঘ্ৰ আনিল। পরে তিনি ক্ষেীরী হইয়া অন্ত বস্ত্র পরিধান করিয়া ১৫ ফুরেীণের নিকটে উপস্থিত হইলেন। তখন ফরেীণ যোষেফকে কহিলেন, আমি এক স্বপ্ন দেখিয়াছি, তাহার অর্থ করিতে পারে, এমন কেহ নাই । কিন্তু তোমার বিষয়ে আমি শুনিয়াছি যে, তুমি স্বপ্ন ১৬ শুনিলে অর্থ করিতে পার। যোষেফ ফরেীণকে উত্তর করিলেন, তাহ আমার অসাধ্য, ঈশ্বরই ফরেীণকে ১৭ মঙ্গলযুক্ত উত্তর দিবেন। তখন ফরেীণ যোষেফকে কহিলেন, দেখ, আমি স্বপ্নে নদীর তীরে দাড়া১৮ ইয়াছিলাম। আর দেখ, নদী হইতে সাতটা হৃষ্টপুষ্ট সুন্দর গাভী উঠিয়া খাগড়া বনে চরিতে লাগিল । ১৯ সেগুলির পরে, দেখ, কুশ ও অতিশয় বিত্র ও শুষ্কাঙ্গ অন্ত সাতটা গাভী উঠিল ; আমি সমস্ত মিসর দেশে তাদৃশ বিত্ৰ গাভী কখনও দেখি নাই । ২• আর এই কৃশ ও বিত্ৰ গাভীর সেই পূবেবর হৃষ্টপুষ্ট ২১ সাতটা গভীকে খাইয়। ফেলিল । কিন্তু তাহারা ইহাদের উদরস্থ হইলে পর, উদরন্থ যে হইয়াছে, এমন বোধ হইল না, কেননা ইহার পূর্বকার স্থায় ২২ বিত্রই রহিল। তখন আমার নিদ্রাভঙ্গ হইল। পরে আমি আর এক স্বপ্ন দেখিলাম ; আর দেখ, এক |b” సి Y 8 36 8 > ; २०-८१ । ] ২৩ বোটায় স্থূলাকার উত্তম সাতটা শীষ উঠিল। আর দেখ, সেগুলির পরে স্নান, ক্ষীণ ও পুৰ্ব্বীয় বায়ুতে শোষিত ২৪ সাতটা শীষ উঠিল। আর এই ক্ষীণ শীষগুলি সেই উত্তম সাতটি শীষকে গ্রাস করিল। এই স্বপ্ন আমি মন্ত্রবেত্তাদিগকে কহিলাম, কিন্তু কেহই ইহার অর্থ আমাকে বলিতে পারিল না । তখন যোষেফ ফরেীণকে বলিলেন, ফরেীণের স্বপ্ন এক ; ঈশ্বর যাহা করিতে উদ্যত হইয়াছেন, তাহাই ২৬ ফরেীণকে জ্ঞাত করিয়াছেন । ঐ সাতটী উত্তম গাভী সাত বৎসর, এবং ঐ সাতটী উত্তম শীষও সাত ২৭ বৎসর ; স্বপ্ন এক । আর তাহার পশ্চাৎ যে সাতটী কুশ ও বিশ্ৰী গাভী উঠিল, তাহারাও সাত বৎসর ; এবং পূৰ্ব্বীয় বায়ুতে শোষিত যে সাতটা কৃশ শীষ উঠিল, ২৮ তাহ দুর্ভিক্ষের সাত বৎসর হইবে। আমি ফরোণকে ইহাই বলিলাম ; ঈশ্বর যাহা করিতে উদ্যত হইয়াছেন, ২৯ তাহ ফরেীণকে দেখাইয়াছেন । দেখুন, সমস্ত মিসর দেশে সাত বৎসর অতিশয় শস্তবাহুল্য হইবে । ৩• তাহার পরে সাত বৎসর এমন দুর্ভিক্ষ হইবে যে, মিসর দেশে সমস্ত শস্ত বাহুল্যের বিস্মৃতি হইবে, এবং ৩১ সেই দুভিক্ষে দেশ নষ্ট হইবে। আর সেই পশ্চাদ্বত্তী দুর্ভিক্ষ প্রযুক্ত দেশে পূৰ্ব্বকার শস্তবাহুল্যের কথা মনে পড়িবে না ; কারণ তাহ অতীব কষ্টকর হইবে । ৩২ অার ফরেীণের নিকটে দুই বার স্বপ্ন দেখাইবার ভাব এই ; ঈশ্বর ইহ। স্থির করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর ইহা ৩৩ শীঘ্ৰ ঘটাইবেন । অতএব এখন ফরেীণ এক জন স্ববুদ্ধি ও জ্ঞানবীন পুরুষের চেষ্টা করিয়া তাহাকে ১৪ মিসর দেশের উপরে নিযুক্ত করুন। আর ফরেীণ এই কৰ্ম্ম করুন ; দেশে অধ্যক্ষগণ নিযুক্ত করিয়া যে সাত বৎসর শস্তবাহুল্য হইবে, সেই সময়ে মিসর দেশ হইতে শস্তের পঞ্চমাংশ গ্রহণ করুন। ৩৫ তাহার। সেই আগামী শুভ বৎসরসমূহের ভক্ষ্য সংগ্ৰহ করুন, ও ফরেীণের অধীনে নগরে নগরে খাদ্যের জন্ত ১৬ শস্ত সঞ্চয় করুন, ও রক্ষা করুন। এইরূপে মিসর দেশে যে দুর্ভিক্ষ হইবে, সেই দুর্ভিক্ষের সাত বৎসরের নিমিত্ত সেই ভক্ষ্য দেশের জন্ত সঞ্চিত থাকিবে, তাহাতে দুর্ভিক্ষে দেশ উচ্ছিন্ন হইবে না। ৩৭ তখন ফরেণের ও র্তাহার সকল দাসের দৃষ্টিতে ৩৮ এই কথা উত্তম বোধ হইল। আর ফরেীণ আপন দাসদিগকে কহিলেন, ইহার তুল্য পুরুষ, যাহার অন্তরে ঈশ্বরের আত্মা আছেন, এমন আর কাহাকে শু৯ পাইব ? তখন ফরেীণ যোষেফকে কহিলেন, ঈশ্বর তোমাকে এই সকল জ্ঞাত করিয়াছেন, অতএব তোমার তুল্য স্ববুদ্ধি ও জ্ঞানবান কেহই নাই । ৪• তুমিই আমার বাটীর অধ্যক্ষ হও ; আমার সমস্ত প্রজ। তোমার বাক্য শিরোধাৰ্য্য করিবে, কেবল সিংহাসনে ৪১ আমি তোম৷ হইতে বড় থাকিব । ফরেীণ যোষেফকে আরও কহিলেন, দেখ, আমি তোমাকে সমস্ত মিসর ৪২ দেশের উপরে নিযুক্ত করিলাম। পরে ফরেীণ হস্ত 출C আদিপুস্তক । ○" হইতে নিজ অঙ্গুরীয় খুলিয়া যোষেফের হন্তে দিলেন, তাহাকে কার্পাসের শুভ্র বসন পরিধান করাইলেন, ৪৩ এবং তাহার কণ্ঠদেশে স্ববর্ণহীর দিলেন। আর তাহাকে আপনার দ্বিতীয় রথে আরোহণ করাইলেন, এবং লোকের তাহার অগ্রে অগ্ৰে ইটুে পাত, হাটু পাত’ বলিয়া ঘোষণা করিল। এইরূপে তিনি সমস্ত ৪৪ মিসর দেশের অধ্যক্ষপদে নিযুক্ত হইলেন। আর ফরেীণ যোষেফকে কহিলেন, আমি ফরেীণ, তোমার আজ্ঞা ব্যতিরেকে সমস্ত মিসর দেশে কোন লোক ৪৫ হাত কি পা তুলিতে পারিবে না। আর ফরেীণ যোষেফের নাম সাফনৎ-পানেহ রাখিলেন । এবং তাহার সঙ্গে ওন নগর-নিবাসী পোটীফেরঃ নামক যাজকের আসনৎ নাম্নী কন্যার বিবাহ দিলেন । পরে যোষেফ মিসর দেশের মধ্যে যাতায়াত করিতে লাগিলেন । যোষেফ ত্রিশ বৎসর বয়সে মিসর-রাজ ফরেণের সাক্ষাত দণ্ডায়মান হইয়াছিলেন। পরে যোষেফ ফরেীণের নিকট হইতে প্রস্থান করিয়া মিসর দেশের ৪৭ সকবত্র ভ্রমণ করিলেন । আর সেই শস্ত্যবাহুল্যের সপ্ত ৪৮ বৎসর ভূমিতে অপৰ্য্যাপ্ত শস্ত জন্মিল। মিসর দেশে উপস্থিত সেই সপ্ত বৎসরে সকল শস্ত সংগ্ৰহ করিয়া তিনি প্রতিনগরে সঞ্চয় করিলেন ; যে নগরের চারি সীমায় যে শস্ত হইল, সেই নগরে তাহ সঞ্চয় ৪৯ করিলেন । এইরূপে যোষেফ সমুদ্রের বালুকার স্তায় এমন প্রচুর শস্ত সংগ্ৰহ করিলেন যে, তাহ মাপিতে নিবৃত্ত হইলেন, কেননা তাহ অপরিমেয় ছিল। দুভিক্ষ বৎসরের পূৰ্ব্বে যোষেফের দুই পুত্র জন্মিল ; ওন-নিবাসী পোটীফেরঃ যাজকের কন্তু আসনৎ তাহার ৫১ জন্ত তাহাদিগকে প্রসব করিলেন। আর যোষেফ তাহী দের জোম্ভের নাম মনঃশি [বিস্মৃতি-জনক] রাখিলেন, কেনন। তিনি কহিলেন, ঈশ্বর আমার সমস্ত ক্লেশের ও আমার সমস্ত পিতৃকুলের বিস্মৃতি জন্মাইয়াছেন। ৫২ পরে দ্বিতীয় পুত্রের নাম ইফুয়িম। ফলবান রাখিলেন, কেননী তিনি কহিলেন, আমার দুঃখভোগের দেশে ঈশ্বর আমাকে ফলবা করিয়াছেন । ৫৩ পরে মিসর দেশে উপস্থিত শস্তবাহুল্যের সাত ৫৪ বৎসর শেষ হইল, এবং যোষেফ যেমন বলিয়াছিলেন, তদনুসারে দুর্ভিক্ষের সাত বৎসর আরস্ত হইল । সকল দেশে দুর্ভিক্ষ হইল, কিন্তু সমস্ত মিসর দেশে ৫৫ ভক্ষ্য ছিল। পরে সমস্ত মিসর দেশে দুর্ভিক্ষ হইলে প্রজার ফরেীণের নিকটে ভক্ষ্যের জন্ত ক্ৰন্দন করিল, তাহাতে ফরেীণ মিশ্রীয়দের সকলকে কহিলেন, তোমরা যোষেফের নিকটে যাও ; তিনি তোমাদিগকে ৫৬ যাহা বলেন, তাহাই কর। তখন সমস্ত দেশেই দুর্ভিক্ষ হইয়াছিল। আর যোষেফ সকল স্থানের গোল খুলিয়া মিস্ত্রীয়দের কাছে শস্ত বিক্রয় করিতে লাগিলেন : e৭ আর মিসর দেশে দুর্ভিক্ষ প্রবল হইয়া উঠিল । এবং সৰ্ব্বদেশীয় লোকে মিসর দেশে যোষেফের নিকটে শস্ত 8● Q e. 37 ○レ* ক্রয় করিতে আসিল, কেনন। সৰ্ব্বদেশেই দুর্ভিক্ষ প্রবল হইয়াছিল। যোষেফের ভ্রাতৃগণের মিসরযাত্রা। 8 R আর যাকোব দেখিলেন যে, মিসর দেশে শস্ত 囊 আছে, তাই যাকোব আপন পুত্রদিগকে কহিলেন, তোমরা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করিতেছ ২ কেন ? তিনি আরও কহিলেন, দেখ, আমি শুনিলাম, মিসরে শস্ত আছে, তোমরা তথায় যাও, আমাদের জন্ত শস্ত ক্রয় করিয়া আন ; তাহ হইলে আমরা ৩ বাচিব, মরিব না। পরে যোষেফের দশ জন ভ্রাতা ৪ শস্ত ক্রয় করিতে মিসরে নামিয়া গেলেন । কিন্তু যাকোব যোষেফের সহোদর বিদ্যামীনকে ভাইদের সঙ্গে পাঠাইলেন না ; কেনন। তিনি কহিলেন, পাছে ইহার বিপদ ঘটে । ৫ যাহারা তথায় গিয়াছিল, তাহদের মধ্যে ইস্রায়েলের পুত্ৰগণও শস্ত কিনিবার জন্ত গেলেন, কেনন কনান ৬ দেশেও দুর্ভিক্ষ হইয়াছিল। তৎকালে যোষেফই ঐ দেশের অধ্যক্ষ ছিলেন, তিনিই দেশীয় লোক সকলের নিকটে শস্ত বিক্রয় করিতেছিলেন ; অতএব যোযেফের ভ্রাতার তাহার কাছে গিয়া ভূমিতে মুখ ৭ দিয়া প্ৰণিপাত করিলেন। তখন যোষেফ আপন ভ্রাতাদিগকে দেখিয়া চিনিলেন, কিন্তু তাহীদের কাছে অপরিচিতের স্থায় ব্যবহার করিলেন, ও কর্কশভাবে তাহাদের সঙ্গে কথা কহিলেন ; তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, তোমরা কোথা হইতে আসিয়াছ ? তাহারা কহিলেন, কনান দেশ হইতে খাদ্য দ্রব্য কিনিতে অসি৮ য়ছি। বাস্তবিক যোষেফ আপন ভ্রাতাদিগকে চিনিলেন, কিন্তু তাহারা তাহীকে চিনিতে পারিলেন না । ৯ আর যোষেফ তাহদের বিষয়ে যে যে স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন, তাহ তাহার স্মরণ হইল ; এবং তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা চর, দেশের ছিদ্র ১০ দেখিতে আসিয়াছ। তাহারা কহিলেন, না, প্রভো, আপনার এই দাসের খাদ্য দ্রব্য কিনিতে আসিয়াছে : ১১ আমরা সকলে এক পিতার সন্তান ; আমরা সৎলোক, ১২ আপনার এই দাসের চর নহে। কিন্তু তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, নী, না, তোমরা দেশের ছিদ্র ১৩ দেখিতে আসিয়াছ । তাহারা কহিলেন, আপনার এই দাসের বার ভাই, কনান দেশনিবাসী এক জনের পুত্র ; দেখুন, আমাদের ছোট ভাই অদ্য ১৪ পিতার কাছে আছে, এবং এক জন নাই। তথন যোষেফ তাহাদিগকে কহিলেন, আমি যে তোমা১৫ দিগকে বলিলাম, তোমরা চর, তাহাই বটে। ইহা দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করা যাইবে ; আমি ফরোণের প্রাণের দিব্য করিয়া কহিতেছি, তোমাদের ছোট ভাই এখানে না আসিলে তোমরা এখান হইতে ১৬ বাহির হইতে পরিবে না। তোমাদের এক জনকে পঠাইয়া তোমাদের সেই ভাইকে আনাও, তোমরা বদ্ধ আদিপুস্তক । [ 8 & ; ) - రి ! থাক ; এইরূপে তোমাদের কথার পরীক্ষা হুইবে, তোমরা সত্যবাদী কি না, তাহ জানা যাইবে ; নতুবা আমি ফরেণের প্রাণের দিব্য করিয়া কহিতেছি, ১৭ তোমরা অবগুই চর। পরে তিনি তাহাদিগকে তিন দিন কারাগারে বদ্ধ রাখিলেন । পরে তৃতীয় দিনে যোষেফ র্তাহাদিগকে কহিলেন, এই কৰ্ম্ম কর, তাহাতে বাচিবে ; আমি ঈশ্বরকে ১৯ ভয় করি । তোমরা যদি সংলোক হও, তবে তোমাদের এক ভাই তোমাদের এই কারাগারে বদ্ধ থাকুক ; তোমরা আপন আপন গৃহের দুর্ভিক্ষের জন্য ২• শস্ত লইয়া যাও ; পরে তোমাদের ছোট ভাইকে আমার নিকটে আনিও ; এইরূপে তোমাদের কথাসপ্রমাণ হইলে তোমরা মারা যাইবে না। তাহার। তাঁহাই ২১ করিলেন। আর তাহারা পরস্পর কহিলেন, নিশ্চয়ই আমরা আপনাদের ভাইয়ের বিষয়ে অপরাধী, কেননা সে আমাদের কাছে বিনতি করিলে আমরা তাহার প্রাণের কষ্ট দেখিয়াও তাঁহা শুনি নাই ; এই জন্ত ২২ আমাদের উপরে এই সঙ্কট উপস্থিত হইয়াছে। তখন রূবেণ উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, আমি না তোমাদিগকে বলিয়ছিলাম, বলিকটার বিরুদ্ধে পাপ করিও না ? কিন্তু তোমরা তাহ শুন নাই ; দেখ, এখন তাহার রক্তেরও নিকাশ দিতে হইতেছে। ২৩ কিন্তু যোষেফ যে তাহদের এই কথা বুঝিলেন, ইহা তাহারা জানিতে পারিলেন না, কেননা দ্বিভাষী দ্বারা ২৪ উভয় পক্ষের মধ্যে কথাবাৰ্ত্ত হইতেছিল। তখন তিনি তাহদের নিকট হইতে সরিয়া গিয়া রোদন করিলেন ; পরে ফিরিয়া আসিয়া তাহদের সঙ্গে কথা বলিলেন, ও তাঁহাদের মধ্যে শিমিয়োনকে ধরিয়া র্তাহীদের সাক্ষাতেই বাধিলেন । পরে যোষেফ তাহদের সকল ছালীয় শস্ত ভরিতে, প্রত্যেক জনের ছালtয় টাকা ফিরাইয়া দিতে ও তাহাদিগকে পাথেয় দ্রব্য দিতে আজ্ঞা দিলেন ; আর ২৬ তাহীদের জন্ত তদ্রুপ করা গেল। পরে তাহারা আপন আপন গর্দভের উপরে শস্ত্য চাপাইয়। তথা ২৭ হইতে প্রস্থান করিলেন। কিন্তু উত্তরণ স্থানে যখন এক জন তাপন গর্দভকে আহার দিতে ছাল৷ খুলিলেন, তখন আপনার টাকা দেখিলেন, আর ২৮ দেখ, ছালার মুখেই টাকা। তাহীতে তিনি ভাইদের কহিলেন, আমার টাকা ফিরিয়াছে ; দেখ, আমার ছালাতেই রহিয়াছে । তখন তাহদের প্রাণ উড়িয় গেল, ও সকলে ভয়ে কাপিতে কঁাপিতে কহিলেন, ঈশ্বর আমাদের প্রতি এ কি করিলেন ? পরে তাহার কনান দেশে আপনাদের পিতা যাকোবের নিকটে উপস্থিত হইলেন, ও তাহাদেয় প্রতি যাহা যাহা ঘটিয়াছিল, সে সমস্ত তাহাকে জ্ঞাত ৩০ করিলেন, কহিলেন, যে ব্যক্তি সেই দেশের অধ্যক্ষ, তিনি অমাদিগকে কর্কশ কথা কহিলেন, তার দেশ ৩১ অনুসন্ধানকারী চর মনে করিলেন। আমরা তাহাকে Σb' ー&Q ২৯ 38 3 ২ ; ৩২ – ৪ ৩ ; ১৯ । ] ৩২ বলিলাম, আমরা সৎলোক, চর নহি ; আমরা বার ভাই, সকলেই এক পিতার সন্তান ; কিন্তু এক জন নাই, এবং ছোটটী অদ্য কনান দেশে পিতার কাছে ৩৩ অাছে । তখন সেই ব্যক্তি, সেই দেশাধ্যক্ষ আমাদিগকে কহিলেন, ইহাতেই জানিতে পারিব যে, তোমরা সৎলোক ; তোমাদের এক ভাইকে আমার নিকটে রাখিয় তোমাদের গৃহের দুর্ভিক্ষের জন্য শস্ত ৩৪ লইয়া যাও । পরে তোমাদের ছোট ভাইকে আমার নিকটে আনিও, তাহাতে বুঝিতে পারিব যে, তোমর চর নও, তোমরা সৎলোক ; আর আমি তোমাদের ভাইকে তোমাদের কাছে দিব, এবং তোমর দেশে বাণিজ্য করিতে পাইবে । পরে তাহারা ছাল হইতে শস্ত ঢালিলে দেখ, প্রত্যেক জন অপেন আiপন ছালায় আপন তাপন টাকার গ্রন্থি পাইলেন। তখন সেই সকল টাকার গ্রন্থি দেখিয়া তাহার ও তাহীদের পিতা ভীত হইলেন । ৩৬ আর তাহদের পিতা যাকোব কহিলেন, তোমরা আমাকে পুত্রহীন করিয়াছ ; যোষেফ নাই, শিমিয়োন নাই, আবার বিদ্যামীনকেও লইয়া যাইতে চাহিতেছ : ৩৭ এই সকলই আমার প্রতিকুল। তখন রূবেণ তাপন পিতাকে কহিলেন, আমি যদি তোমার নিকটে তাহাকে না আনি, তবে আমার দুই পুত্রকে বধ করিও ; আমার হস্তে তাহাকে সমর্পণ কর ; আমি তোমার কাছে তাহাকে পুনৰ্ব্বার আনিয়া দিব । ৩৮ তখন তিনি কহিলেন, আমার পুত্র তোমাদের সঙ্গে যাইবে না, কেননা তাহার সহোদর মরিয়া গিয়াছে, সে এক রহিয়াছে ; তোমরা যে পথে যাইবে, সেই পথে যদি ইহার কোন বিপদ ঘটে, তবে শোকে এই পাকা চুলে আমাকে পাতালে নামাইয়া দিবে। যোষেফের ভ্রাতৃগণ দ্বিতীয় বার মিসরে যান। যোষেফ আত্ম-পরিচয় দেন । 3○ তখন দেশে অতিশয় দুর্ভিক্ষ ছিল। আর তাহার। মিসর হইতে যে শস্ত আনিয়াছিলেন, সে সমস্ত ভক্ষিত হইলে তাহীদের পিতা তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা আবার যাও, আমাদের জন্ত কিছু ৩ ভক্ষ্য কিনিয়া আন । তখন যিহুদী তাহাকে কহিলেন, সেই ব্যক্তি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করিয়া আমাদিগকে বলিয়াছেন, তোমাদের ভাই তোমাদের সঙ্গে ন৷ আসিলে তোমরা আমার মুখ দেখিতে পাইবে ৪ ন । যদি তুমি আমাদের সঙ্গে আমাদের ভাইকে পাঠাও, তবে আমরা গিয়া তোমার জন্য ভক্ষ্য ৫ কিনিয়া আনিব । কিন্তু যদি না পাঠাও, তবে যাইব নী ; কেনন। সে ব্যক্তি আমাদিগকে বলিয়াছেন, তোমাদের ভাই তোমাদের সঙ্গে না আসিলে তোমর। ৬ আমার মুখ দেখিতে পাইবে না। তখন ইস্রায়েল কহিলেন, আমার সহিত এমন কুব্যবহার কেন করিয়াছ ? ঐ ব্যক্তিকে কেন বলিয়াছ যে, তোমা ‘LA আদিপুস্তক। ○> ৭ দের আর এক ভাই আছে ? তাহার কহিলেন, তিনি আমাদের বিষয়ে ও আমাদের বংশের বিষয়ে সূক্ষ্মরূপে জিজ্ঞাসা করিলেন, বলিলেন, তোমাদের পিতা কি এখনও জীবিত আছেন ? তোমাদের কি আরও ভাই আছে ? তাহাতে আমরা সেই কথা অনুসারে উত্তর করিয়াছিলাম। আমরা কি প্রকারে জানিব যে, তিনি বলিবেন, তোমাদের ভাইকে ৮ এখানে আন ? যিহ্ৰদ আপন পিতা ইস্রায়েলকে আরও কহিলেন, বালকটকে আমার সঙ্গে পাঠাইয়৷ দেও ; আমরা উঠিয় প্রস্থান করি, তাহাতে তুমি ও আমাদের বালকের ও আমরা বাচিব ; কেহ মরিব ৯ না । আমিই তাহার জামিন হইলাম, আমারই হস্ত ত তাহাকে লইও, আমি যদি তোমার কাছে তাহাকে না আনি, তোমার সম্মুখে তাহাকে উপস্থিত না করি, তবে আমি যাবজ্জীবন তোমার নিকটে ১০ অপরাধী থাকিব । এত বিলম্ব না করিলে আমরা ইহার মধ্যে দ্বিতীয় বার ফিরিয়া আসিতে ১১ পরিতাম । তখন তাহদের পিতা ইস্রায়েল তাহtদিগকে কহিলেন, যদি তাহাই হয়, তবে এক কৰ্ম্ম কর ; তোমরা আপন আপন পাত্রে এই দেশের প্রশংসিত দ্রব্য,—গুগগুলু, মধু, সুগন্ধি দ্রব্য, গন্ধরস, পেস্ত ও বাদাম কিছু কিছু লইয়া গিয়৷ সেই ব্যক্তিকে ১২ উপঢৌকন দেও। আর আপন আপন হস্তে দ্বিগুণ টাকা লও, এবং তোমাদের ছালার মুখে যে টাক৷ ফিরিয়৷ আসিয়াছে, তাহাও হস্তে করিয়া পুনরায় লইয়। ১৩ যাও ; কি জানি বা ভ্রান্তি হইয়াছিল। আর তোমাদের ভাইকে লও, উঠ, পুনৰ্ব্বার সেই ব্যক্তির নিকটে ১৪ যাও । সৰ্ব্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমাদিগকে সেই ব্যক্তির কাছে করুণার পাত্র করুন, যেন তিনি তোমাদের অন্ত ভাইকে ও বিদ্যামীনকে ছাড়িয়া দেন। আর যদি আমাকে পুত্রহীন হইতে হয়, তবে পুত্রহীন হইলাম। তখন তাহার সেই উপঢৌকন দ্রব্য লইলেন, আর হাতে দ্বিগুণ টাকা ও বিদ্যমীনকে লইয়া যাত্রা করিলেন, এবং মিসরে গিয়া যোষেফের সম্মুখে দাড়াইলেন । ১৬ যোষেফ তাহদের সঙ্গে বিদ্যামীনকে দেখিয়া অপেন গৃহাধ্যক্ষকে কহিলেন, এই কয়েকটা লোককে বাটীর ভিতরে লইয়া যাও, আর পশু মারিয়া আয়োজন কর; কেননা ইহার মধ্যাহ্নে আমার সঙ্গে আহার ১৭ করিবে । তাহাতে সেই ব্যক্তি, যোষেফ যেমন বলিলেন, সেইরূপ করিল, তাহাদিগকে যোষেফের বাটীতে লইয়া ১৮ গেল। কিন্তু যোষেফের বাটাতে নীত হওয়াতে তাহারা ভীত হইলেন, ও পরস্পর কহিলেন, পূর্বে আমাদের ছালায় যে টাকা ফিরিয়া গিয়াছিল, তাহারই জন্য ইনি আমাদিগকে এখানে আনিতেছেন ; এখন আমাদের উপরে পড়িয়া আক্রমণ করিবেন ও আমাদের গর্দভ ১৯ লইয়া আমাদিগকে দাস করিয়া রাখিবেন । অতএব তাহারা যেযেফের গৃহাধ্যক্ষের কাছে গিয়া বাটার দ্বারে Y & 39 8 o ২• তাহার সঙ্গে কথা কহিলেন, বলিলেন, মহাশয়, ২১ আমরা পূৰ্ব্বে ভক্ষ্য কিনিতে আসিয়াছিলাম ; পরে উত্তরণ স্থানে গিয়া আপন আপন ছাল খুলিলাম, আর দেখুন, প্রত্যেক জনের ছালার মুখে তাহার টাকা, যথাতেীল আমাদের টাকা আছে ; তাহ ২২ আমরা পুনরায় হস্তে করিয়া আনিয়াছি ; এবং ভক্ষ্য কিনিবার নিমিত্তে আরও টাকা আনিয়াছি ; আমাদের সেই টাকা আমাদের ছালায় কে রাখিয়াছিল, ২৩ তাহ আমরা জানি না । সেই ব্যক্তি কহিল, তোমাদের মঙ্গল হউক, ভয় করিও না ; তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পৈতৃক ঈশ্বর তোমাদের ছালায় তোমাদিগকে গুপ্ত ধন দিয়াছেন ; আমি তোমাদের টাকা পাইয়াছি। পরে সে শিমিয়োনকে র্ত্যহাদের ২৪ নিকটে আনিল । আর সে তাহাদিগকে যোষেফের বাটীর ভিতরে লইয়া গিয়া জল দিল, তাহাতে তাহার পা ধুইলেন, এবং সে তাহদের গর্দভদিগকে আহার ২৫ দিল । আর মধ্যাহ্নে যোষেফ আসিবেন বলিয়া তাহার। উপঢৌকন সাজাইলেন, কেননা তাহারা শুনিয়াছিলেন যে, সেখানে তাহাদিগকে আহার করিতে হইবে । পরে যোষেফ গৃহে আসিলে তাহারী হস্তস্থিত উপঢৌকন গৃহমধ্যে র্তাহার কাছে আনিলেন, ও ২৭ তাহার সাক্ষাতে ভূমিতে প্ৰণিপাত করিলেন। তখন তিনি কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের যে বৃদ্ধ পিতার কথা বলিয়াছিলে, তাহার কুশল ত ? তিনি কি এখনও জীবিত আছেন ? ২৮ তাহার কছিলেন, আপনকার দাস আমাদের পিতা কুশলে আছেন, তিনি এখনও জীবিত আছেন। পরে তাহারা মস্তক নমনপূর্বক প্ৰণিপাত করিলেন। ২৯ তখন যোষেফ চক্ষু তুলিয়া আপন ভাই বিস্তামীনকে, আপন সহোদরকে দেখিয়া কহিলেন, তোমাদের যে ছোট ভাইয়ের কথা আমাকে বলিয়াছিলে, সে কি এই ? আর তিনি কহিলেন, বৎস, ঈশ্বর তোমার ৩• প্রতি অনুগ্রহ করুন। তখন যোষেফ ত্বর করিলেন, কেননা তাহার ভাইয়ের জন্ত তাহার প্রাণ কাদিতেছিল, তাই তিনি রোদন করিবার স্থান অন্বেষণ করিলেন, আর আপন কুঠরীতে প্রবেশ করিয়া ৩১ সেখানে রোদন করিলেন। পরে তিনি মুখ ধুইয়৷ বাহিরে আসিলেন, ও আত্মসম্বরণপুৰ্ব্বক খাদ্য ৩২ পরিবেষণ করিতে আজ্ঞা করিলেন। তখন তাহার জন্ত পৃথক্ ও তাহার ভ্রাতৃগণের জন্ত পৃথকৃ, এবং তাহার সঙ্গে ভোজনকারী মিত্রীয়দের জন্য পৃথকৃ পরিবেষণ করা হইল, কেননা ইব্রীয়দের সহিত মিশ্ৰীয়ের আহার ব্যবহার করে না ; কারণ তাহা ৩৩ মিশ্রীয়দের ঘৃণিত কৰ্ম্ম । আর তাহার যোষেফের সম্মুখে জ্যেষ্ঠ জ্যেষ্ঠের স্থানে ও কনিষ্ঠ কনিষ্ঠের স্থানে বসিলেন ; তখন তাহার। পরস্পর আশ্চৰ্য্য ৩৪ জ্ঞান করিলেন। আর তিনি আপনার সন্মুখ হইতে ভক্ষ্যের অংশ তুলিয়৷ ডাহাদিগকে পরিবেষণ করাই ২৬ আদিপুস্তক । [ 8 ৩ ; ২০ – ৪ ৪ ; ১৬ । লেন ; কিন্তু সকলের অংশ হইতে বিদ্যমীনের অংশ পাচ গুণ অধিক ছিল। পরে তাহারা পান করিলেন, ও তাঁহার সহিত হৃষ্টচিত্ত হইলেন । ৪৪ _আর যেবে আপন গৃহাধ্যক্ষকে আজ্ঞা করি লেন, এই লোকদের ছালায় যত শস্ত ধরে, ভরিয়া দেও, এবং প্রতিজনের টাকা তাহার ছালার ২ মুখে রাখ। আর কনিম্ভের ছালার মুখে তাহার শস্তক্রয়ের টাকার সহিত আমার বাটি অর্থাৎ রৌপ্যের বাটি রাখ। তখন সে যোষেফের উক্ত কথানুসারে ৩ কাৰ্য্য করিল। আর প্রভাত হইবামাত্র তাহারা গর্দভ৪ দিগের সহিত বিদায় পাইলেন। তাহারা নগর হইতে বাহির হইয়া বিস্তর দূরে যাইতে না যাইতে যোষেফ আপন গৃহাধ্যক্ষকে কহিলেন, উঠ, ঐ লোকদের পশ্চাৎ দৌড়িয়া গিয় তাহদের সঙ্গ ধরিয়া বল, তোমরা উপকারের পরিবর্তে কেন অপকার করিলে ? ও আমার প্রভু যাহাতে পান করেন ও যদ্বারা গণনা করেন, এ কি সেই বাট নয় ? এই কৰ্ম্ম করায় তোমরা দোষ করিয়াছ । ৬ পরে সে তাহাদিগের লাগাইল পাইয়। সেই কথা ৭ কহিল। তাহার। বলিলেন, মহাশয়, কেন এমন কথ। বলেন ? আপনার দাসেরা যে এমন কৰ্ম্ম করিবে, ৮ তাহ দূরে থাকুক। দেখুন, আমরা আপন আপন ছালার মুখে যে টাকা পাইয়াছিলাম, তাহ৷ কনান দেশ হইতে পুনর্ববার আপনার কাছে আনিয়াছি ; তবে আমরা কি কোন মতে আপনার প্রভুর গৃহ হইতে রৌপ্য ৯ বা স্বর্ণ চুরি করিব ? আপনার দাসদের মধ্যে যাহার নিকটে তাহ পাওয়া যায়, সে মরুক, এবং আমরাও ১• প্রভুর দাস হইব। সে কহিল, ভাল, এক্ষণে তোমাদের কথানুসারেই হউক ; যাহার কাছে তাহ পাওয়৷ যাইবে, সে আমার দাস হইবে, কিন্তু আর সকলে ১১ নির্দোষ হইবে । তখন তাহার। শীঘ্ৰ করিয়া আপনাদের ছালাগুলি ভুমিতে নামাইয় প্রত্যেকে আপন ১২ আপন ছাল খুলিলেন। আর সে জ্যেষ্ঠ অবধি আরম্ভ করিয়া কনিষ্ঠ পৰ্য্যন্ত খুজিল ; আর বিদ্যা১৩ মীনের ছালায় সেই বাটি পাওয়া গেল। তখন তাহার আপন আপন বস্ত্র চিরিলেন, ও আপন আপন গর্দভে ছালা চাপাইয়৷ নগরে ফিরিয়া গেলেন । ১৪ পরে যিহুদী ও তাহার ভ্রাতৃগণ যোষেফের বাটীতে আসিলেন ; তিনি তখনও তথায় ছিলেন ; আর ১৫ তাহারা তাহার অগ্ৰে ভুতলে পড়িলেন। তখন যোষেফ তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা এ কেমন কাৰ্য্য করিলে ? আমার মত পুরুষ অবগু গণনা ১৬ করিতে পারে, ইহা কি তোমরা জান না ? যিহুদ। কহিলেন, আমরা প্রভুর নিকটে কি উত্তর দিব ? কি কথা কহিব ? কিসেই বা আপনাদিগকে নির্দোষ দেখাইব ? ঈশ্বর আপনকার দাসদের অপরাধ প্রকাশ করিয়াছেন, দেখুন, আমরা ও যাহার কাছে বাটি পাওয়া গিয়াছে, সকলেই প্রভুর দাস হইলাম। 40 . 8 8 ; > * – 8 & ; ১৩ । ] ১৭ যোবেফ কহিলেন, এমন কৰ্ম্ম আম৷ হইতে দূরে থাকুক ; যাহার কাছে বাটি পাওয়া গিয়াছে, সেই আমার দাস হইবে, কিন্তু তোমরা কুশলে পিতার নিকটে প্রস্থান কর। তখন বিহ্রদ। নিকটে গিয়া কহিলেন, হে প্রভো, বিনয় করি, আপনকার দাসকে প্রভুর কর্ণগোচরে একটা কথা বলিতে অনুমতি দিউন ; এই দাসের প্রতি আপনকার ক্রোধ প্রজ্বলিত না হউক, কারণ আপনি ১৯ ফরোণের তুল্য। প্রভু এই দাসদিগকে জিজ্ঞাস করিয়াছিলেন, তোমাদের পিতা কি ভ্রাতা আছে ? ২• আমরা প্রভুকে উত্তর করিয়াছিলাম, আমাদের বৃদ্ধ পিতা আছেন, এবং তাহার বৃদ্ধাবস্থার এক কনিষ্ঠ পুত্র আছে; তাহার সহোদর মরিয়াছে ; সেইমাত্র তাহার মাতার অবশিষ্ট পুত্র ; এবং তাহার পিতা ২১ তাহাকে স্নেহ করেন। পরে আপনি এই দাসদিগকে বলিয়াছিলেন, তোমরা আমার কাছে তাহাকে আন, ২২ আমি তাহাকে স্বচক্ষে দেখিব। তখন আমরা প্রভুকে বলিয়াছিলাম, সেই যুবক পিতাকে ছাড়িয়া আদিতে পারিবে না, সে পিতাকে ছাড়িয়া আসিলে পিতা মরিয়া ২৩ যাইবেন । তাহাতে আপনি এই দাসদিগকে বলিয়াছিলেন, সেই ছোট ভাইটী তোমাদের সঙ্গে না আসিলে তোমরা আমার মুখ আর দেখিতে পাইবে না। ২৪ আমরা আপনকার দাস যে আমার পিতা, তাহার নিকটে গিয়র্তাহাকে প্রভুর সেই সকল কথা কহিলাম । ২৫ পরে আমাদের পিত কহিলেন, তোমরা আবার যাও, ২৬ আমাদের জন্ত কিছু ভক্ষ্য কিনিয়া আন । আমরা কহিলাম, যাইতে পারিব না ; যদি ছোট ভাই আমাদের সঙ্গে থাকে, তবে যাই ; কেনন। ছোট ভাইট সঙ্গে না থাকিলে আমরা সেই ব্যক্তির মুখ ২৭ দেখিতে পাইব না। তাহাতে আপনকার দাস আমার পিতা কহিলেন, তোমরা জান, আমার ২৮ সেই স্ত্রী হইতে দুইটী মাত্র সন্তান জন্মে। তাহদের মধ্যে এক জন আমার নিকট হইতে প্রস্থান করিল, আর আমি কহিলাম, সে নিশ্চয় খণ্ড খণ্ড হইয়াছে, এবং সেই অবধি আমি তাহাকে আর দেখিতে পাই ২৯ নাই। এখন আমার নিকট হইতে ইহাকেও লইয়। গেলে যদি ইহার কোন বিপদ ঘটে, তবে তোমরা শোকে এই পাক চুলে আমাকে পাতালে নামাইয়া ৩০ দিবে। অতএব আপনকার দাস যে আমার পিতা, আমি তাহার কাছে উপস্থিত হইলে আমাদের সঙ্গে ৩১ যদি এই যুবক না থাকে, তবে এই যুবকের প্রাণে তাহার প্রাণ বাধা আছে বলিয়া, যুবকট নাই দেখিলে তিনি মারা পড়িবেন : এইরূপে আপনকার এই দাসের শোকে পাকা চুলে আপনকার দাস আমাদের ৩২ পিতাকে পাতালে নামাইয়া দিবে। আবার আপনকার দাস আমি পিতার নিকটে এই যুবকটীর জামিন হইয়া বলিয়াছিলাম, আমি যদি তাহাকে তোমার নিকটে না আনি, তবে যাবজ্জীবন পিতার কাছে ○b/ আদিপুস্তক । 8 Ꮌ ৩৩ অপরাধী থাকিব। অতএব বিনয় করি, প্রভুর নিকটে এই যুবকটার পরিবর্তে আপনকার দাস আমি প্রভুর দাস হইয়া থাকি, কিন্তু এই যুবককে আপনি ৩৪ তাহার ভাইদের সঙ্গে যাইতে দিউন। কেননা এই যুবকট আমার সহিত না থাকিলে আমি কি প্রকারে পিতার নিকটে যাইতে পারি ? পাছে পিতার যে আপদ ঘটিবে, তাহাই আমাকে দেখিতে হয়। 8(。 তখন যোষেফ আপনার নিকটে দণ্ডায়মান লোকদের সাক্ষাতে আত্ম-সম্বরণ করিতে পারিলেন না ; তিনি উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন, আমার সম্মুখ হইতে সব লোককে বাহির কর । তাহাতে কেহ তাহার কাছে দাড়াইল না, আর তখনই যোষেফ ভাইদের ২ কাছে আপনার পরিচয় দিতে লাগিলেন। তিনি উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিলেন ; মিশ্ৰীয়ের তাহ শুনিতে পাইল ও ফরেণের গৃহস্থিত লোকেরাও শুনিতে পাইল । ৩ পরে যোষেফ আপন ভাইদের কহিলেন, আমি যোষেফ ; আমার পিতা কি এখনও জীবিত আছেন ? ইহাতে তাহার ভাইরা তাহার সাক্ষাতে বিহ্বল হইয়। ৪ পড়িলেন, উত্তর করিতে পারিলেন না। পরে যোষেফ আপন ভাইদের কহিলেন, বিনয় করি, আমার নিকটে আইস । তাহার নিকটে গেলেন। তিনি কহিলেন, আমি যোষেফ, তোমাদের ভাই, বাহকে তোমরা ৫ মিসরগামীদের কাছে বিক্রয় করিয়াছিলে। কিন্তু তোমরা আমাকে এই স্থানে বিক্রয় করিয়াছ বলিয়৷ এখন দুঃখিত কি বিরক্ত হইও না ; কেননা প্রাণ রক্ষা করিবার জন্যই ঈশ্বর তোমাদের অগ্রে আমাকে ৬ পাঠাইয়াছেন। কারণ দুই বৎসরাবধি দেশে দুর্ভিক্ষ হইয়াছে ; আরও পাচ বৎসর পর্য্যন্ত চাস কি ফসল ৭ হইবে না। আর ঈশ্বর পৃথিবীতে তোমাদের বংশ রক্ষা করিতে ও মহৎ উদ্ধারের দ্বারা তোমাদিগকে বাচাইতে ৮ তোমাদের অগ্রে আমাকে পঠাইয়াছেন। অতএব তোমরাই আমাকে এই স্থানে পাঠাইয়াছ, তাহ নয়, ঈশ্বর পাঠাইয়াছেন, এবং আমাকে ফরেণের পিতৃস্থানীয়, তাহার সমস্ত বাটীর প্রভু ও সমস্ত মিসর দেশের ৯ উপরে শাসনকৰ্ত্ত করিয়াছেন । তোমরা শীঘ্ৰ করিয়া আমার পিতার নিকটে বাও, তাহাকে বল, “তোমার পুত্র যোযেফ এইরূপ কহিল, ঈশ্বর আমাকে সমস্ত মিসর দেশের কৰ্ত্ত করিয়াছেন ; তুমি আমার নিকটে ১• চলিয়া আইস, বিলম্ব করিও না । তুমি পুত্র পৌত্রদির ও গোমেষাদি সৰ্ব্বস্বের সহিত গোশন প্রদেশে ১১ বাস করিবে ; তুমি আমার নিকটেই থাকিবে । সে স্থানে আমি তোমাকে প্রতিপালন করিব, কেনন। আর পাচ বৎসর দুর্ভিক্ষ থাকিবে ; পাছে তোমার ও তোমার পরিজনের ও তোমার সকল লোকের দৈন্তদশ ১২ ঘটে। আর দেখ, তোমরা ও আমার সহোদর বিস্তামীন চক্ষুষ দেখিতেছ যে, আমি নিজ মুখে তোমাদের সহিত ১৩ কথাবাৰ্ত্ত কহিতেছি । অতএব এই মিসর দেশে আমার প্রতাপ ও তোমরা যাহা বাহ দেখিয়াছ, সে সকল 41 8义 আমার পিতাকে জ্ঞাত করিবে, এবং তাঁহাকে শীঘ্র ১৪ এই স্থানে আনিবে। পরে যোষেফ আপন ভাই বিদ্যামীনের গলা ধরিয়া রোদন করিলেন, এবং বিদ্যা১৫ মীনও তাহার গলা ধরিয়া রোদন করিলেন। আর যোষেফ অন্ত সকল ভাইকেও চুম্বন করিলেন, ও তাহাদের গলা ধরিয়া রোদন করিলেন ; তাহার পরে তাহার ভ্রাতার। তাহার সহিত আলাপ করিতে লাগিলেন । আর যোষেফের ভাইরা আসিয়াছে, ফরেীণের বাটতে এই কথা উপস্থিত হইলে ফরেীণ ও তাহার দাসগণ ১৭ সকলে সন্তুষ্ট হইলেন। আর ফরেীণ যোষেফকে কহিলেন, তুমি তোমার ভাইদের বল, তোমরা এই কৰ্ম্ম কর ; তোমাদের পশুগণের পৃষ্ঠে শস্ত চাপাইয়া ১৮ কনান দেশে গমন কর, এবং তোমাদের পিতাকে ও আপন আপন পরিবারকে আমার নিকটে লইয়া আইস ; আমি তোমাদিগকে মিসর দেশের উৎকৃষ্ট দ্রব্য দিব, আর তোমরা দেশের সারাংশ ভোগ করিবে । ১৯ এখন তোমার প্রতি আমার আজ্ঞা এই, তোমরা এই কৰ্ম্ম কর, তোমরা আপন আপন বালক বালিকা ও স্ত্রীদের নিমিত্তে মিসর দেশ হইতে শকট লইয়া গিয়৷ তাহাদিগকে ও আপনাদের পিতাকে লইয়া আইস : ২• আর আপন আপন দ্রব্য সামগ্রীর মমতা করিও না, কেননা সমুদয় মিসর দেশের উৎকৃষ্ট দ্রব্য তোমাদেরই। তখন ইস্রায়েলের পুত্ৰগণ তাহাই করিলেন। এবং যোযেফ ফরেণের অজ্ঞানুসারে তাহাদিগকে ২২ শকট দিলেন, এবং পাথেয় দ্রব্যও দিলেন ; তিনি প্রত্যেক জনকে এক এক যোড় বস্ত্র দিলেন, কিন্তু বিদ্যামীনকে তিন শত রৌপ্যমুদ্র ও পাঁচ যোড়া বস্ত্র ২৩ দিলেন । আর পিতার জন্ত এই সকল দ্রব্য পাঠাইলেন, দশ গর্দভে চাপাইয়া মিসরের উৎকৃষ্ট দ্রব্য এবং পিতার পথেয়ের জন্ত দশ গর্দভীতে চাপাইয়া শস্ত ও রুটী ২৪ প্রভৃতি ভক্ষ্য দ্রব্য। এইরূপে তিনি আপন ভ্রাতাদিগকে বিদায় করিলে তাহারা প্রস্থান করিলেন ; তিনি তাহাদিগকে বলিয়া দিলেন, পথে বিবাদ করিও না। ২৫ পরে তাহারা মিসর হইতে যাত্রা করিয়া কনান দেশে ২৬ তাহদের পিতা যাকোবের নিকটে উপস্থিত হইলেন, ও তাহাকে কহিলেন, যোষেফ এখনও জীবিত আছে, আরার সমস্ত মিসর দেশের উপরে সেই শাসনকৰ্ত্ত হইয়াছে। তথাপি তাহার হৃদয় জড়বৎ থাকিল, কারণ ২৭ তাহদের কথায় তাহার বিশ্বাস জন্মিল না। কিন্তু যোষেফ তাহাদিগকে যে সকল কথা বলিয়াছিলেন, সে সকল যখন তাহারা তাহাকে বলিলেন, এবং তাহাকে লইয়। যাইবার নিমিত্তে যোষেফ যে সকল শকট পঠাইয়াছিলেন, তাহাও যখন তিনি দেখিলেন, তখন তাহদের পিতা যাকোবের আত্মা পুনর্জীবিত হইয়া উঠিল। ২৮ আর ইস্রায়েল কহিলেন, এই যথেষ্ট ; আমার পুত্র যোষেফ এখনও জীবিত আছে ; আমি গিয়া মরিবার পুর্বে তাহাকে দেখিব। >W。 ミ》 আদিপুস্তক । [ 8 G ; >8 - 8 ७ ; २० ॥ যাকোব সবংশে মিসরে যান। 8○ পরে ইস্রায়েল আপনার সর্বশ্বের সহিত যাত্র করিয়া বের শেবাতে আসিলেন, এবং আপন পিতা ইসহাকের ঈশ্বরের উদ্দেশে বলিদান করিলেন। ২ পরে ঈশ্বর রাত্রিতে ইস্রায়েলকে দর্শন দিয়া কহিলেন, হে যাকোব, হে যাকোব । তিনি উত্তর করিলেন, দেখ, ৩ এই আমি। তখন তিনি কহিলেন, আমি ঈশ্বর, তোমার পিতার ঈশ্বর ; তুমি মিসরে যাইতে ভয় করিও না, কেননা আমি সেই স্থানে তোমাকে বৃহৎ ৪ জাতি করিব । আমিই তোমার সঙ্গে মিসরে যাইব, এবং আমিই তথা হইতে তোমাকে ফিরাইয়াও আনিব, আর যোষেফ তোমার চক্ষে হস্তাপণ করিবে । ৫ পরে যাকোব বের-শেব হইতে যাত্রা করিলেন। ইস্রায়েলের পুত্ৰগণ আপনাদের পিতা যাকোবকে এবং আপন আপন বালক বালিকা ও স্ত্রীদিগকে সেই সকল শকটে করিয়া লইয়া গেলেন, যাহ। ফরেীণ তাহদের ৬ বহনার্থে পাঠাইয়াছিলেন। পরে তাহার, যাকোব ও তাহার সমস্ত বংশ, আপনাদের পশুগণ ও কনান দেশে উপার্জিত সকল সম্পত্তি লইয়া মিসর দেশে পহুছিলেন । ৭ এইরূপে যাকোব আপন পুত্র পৌত্র, পুত্ৰী পৌত্রী প্রভৃতি সমস্ত বংশকে সঙ্গে করিয়া মিসরে লইয়। গেলেন । ৮ ইস্রায়েল-সন্তানগণ, যাকোব ও তাহার সন্তানগণ, যাহারা মিসরে গেলেন, তাহীদের নাম। যাকেীবের জ্যেষ্ঠ ন পুত্র রূবেণ রূবেণের পুত্ৰ হনেক, পল্লু, হিন্ত্রেণ ও ১• কর্মি। শিমিয়োনের পুত্ৰ যিমুয়েল, যামন, ওহদ, যাখীন, সোহর ও তাহার কনানীয় স্ত্রীজাত পুত্ৰ ১১ শৌল। লেবির পুত্র গের্শোন, কহৎ ও মরারি। ১২ যিহদার পুত্র এর, ওনন, শেলা, পেরস ও সেরহ। কিন্তু এর ও ওনন কনান দেশে মরিয়াছিল ; এবং পেরসের ১৩ পুত্র হিষোণ ও হামূল। ইযাথরের পুত্র তোলয়, পূয়, ১৪ যোব ও শিম্রোণ। আর সবুলুনের পুত্র সেরদ, এলোন ও ১৫ যহলেল। ইহার লেয়ার সন্তান ; তিনি পদন-অরামে যাকোবের জন্ত ইহাদিগকে ও তাহার কন্যা দীণাকে • প্রসব করেন। যাকোবের এই পুত্র কম্বারা সৰ্ব্বশুদ্ধ তেত্রিশ প্রাণী । ১৬ আর গাদের পুত্র সিফিয়োন, হগি, শুনী, ইম্‌বোন, ১৭ এরি, অরোদী ও অরেলী। আশেরের পুত্ৰ যিমা, যিশৃব, যিশবি, বরিয় ও তাহীদের ভগিনী সেরহ । ১৮ বরিয়ের পুত্র হেবর ও মন্ধীয়েল। ইহার সেই সিল্লার সন্তান, যাহাকে লাবন আপন কষ্ঠ লেয়াকে দিয়াছিলেন ; সে যাকোবের জন্ত ইহাদিগকে প্রসব করিয়াছিল। ইহার ষোল প্রাণী । ১৯ আর যাকোবের স্ত্রী রাহেলের পুত্র যোষেফ ও ২• বিম্বামীন। যোষেফের পুত্র মনঃশি ও ইক্রয়িম মিসর দেশে জন্মিয়াছিল ; ওন নগরের পোটীফেরঃ যাজকের কন্ত। আসনৎ তাহার জন্ত তাহাদিগকে প্রসব 42 8 や お R>ー89 ; >レ1] ২১ করিয়াছিলেন। বিদ্যমীনের পুত্র বেল, বেখর, অস্বেল, গের, নামন, এহী, রোশ, মুপ্ৰপীম, হুপ্ৰপীম ও অৰ্দ। ২২ এই চোঁদ প্রাণী যাকোব হইতে জাত রাহেলের সন্তান । ২৩,২৪ আর দানের পুত্ৰ হুশীম । নগুলির পুত্ৰ যহসিয়েল, ২৫ গুনি, যেৎসর ও শিল্পেম । ইহার সেই বিলুহার সন্তান, যাহাকে লাবন আপন কন্ত রাহেলকে দিয়াছিলেন। সে যাকোবের জন্য ইহাদিগকে প্রসব করিয়াছিল ; ইহারা সৰ্ব্বশুদ্ধ সাত প্রাণী । যাকোবের কটি হইতে উৎপন্ন যে প্রাণিগণ র্তাহার সঙ্গে মিসরে উপস্থিত হইল, যাকোবের পুত্রবধূরা ছাড়া ২৭ তাহারা সৰ্ব্বশুদ্ধ ছেষটি প্রাণী । মিসরে যোষেফের যে পুত্রেরা জন্মিয়াছিল, তাহারা দুই প্রাণী । যাকোবের ಕ್ಗ যাহার মিসরে গেল, তাহারা সৰ্ব্বশুদ্ধ সত্তর প্রাণী । পরে আগে আগে গোশনের পথ দেখাইবার নিমিত্তে যাকোব আপনার অগ্ৰে বিহদাকে যোৰেফের নিকটে পাঠাইলেন ; আর তাহারা গোশন প্রদেশে পহুছিলেন। ২৯ তখন যোষেফ আপন রথ সাজাইয়া গোশনে আপন পিতা ইস্রায়েলের সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলেন ; আর তাহাকে দেখা দিয়া তাহার গলা ধরিয়া অনেকক্ষণ ৩০ রোদন করিলেন। তখন ইস্রায়েল যোষেফকে কহিলেন, এখন স্বচ্ছন্দে মরিব, কেননা তোমার মুখ দেখিতে ৩১ পাইলাম, তুমি এখনও জীবিত আছ। পরে যোফে আপন ভ্রাতাদিগকে ও পিতার পরিজনকে কহিলেন, আমি গিয়া ফরেীণকে সংবাদ দিব, তাহাকে বলিব, আমার ভ্রাতার ও পিতার সমস্ত পরিজন কনান দেশ ৩২ হইতে আমার নিকটে আসিয়াছেন ; তাহারা মেষপালক, তাহারা পশুপাল রাখিয়া থাকেন ; আর তাহাদের গোমেষাদি পাল এবং সৰ্ব্বস্ব আনিয়া৩৩ ছেন । তাহীতে ফরেীণ তোমাদিগকে ডাকিয়া যখন ৩৪ জিজ্ঞাসা করিবেন, তোমাদের ব্যবসায় কি ? তখন তোমরা বলিবে, আপনকার এই দাসগণ পিতৃপুরুষানুক্রমে বাল্যাবধি অদ্য পৰ্য্যন্ত পশুপাল রাখিয়া আসিতেছে ; তাহাতে তোমরা গোশন প্রদেশে বাস করিতে পাইবে ; কেননা পশুপালক মাত্রেই মিস্ত্রীয়দের ঘূণাস্পদ । 8% পরে যোযেফ গিয়া ফরেীণকে সংবাদ দিলেন, বলিলেন, আমার পিতা ও ভ্রাতারা আপন আপন গোমেষাদির পাল এবং সৰ্ব্বস্ব কনান দেশ হইতে লইয়া আসিয়াছেন ; আর দেখুন, তাহার গোশন ২ প্রদেশে আছেন। আর তিনি আপন ভ্রাতাদের মধ্যে পাঁচ জনকে লইয়া ফরেণের সম্মুখে উপস্থিত করি৩ লেন। তাহাতে ফরেীণ যোষেফের ভ্রাতাদিগকে জিজ্ঞাস করিলেন, তোমাদের ব্যবসায় কি ? তাহারা ফরেীণকে কহিলেন, আপনকার এই দাসগণ পিতৃপুরুষানুক্রমে ৪ পশুপালক। তাহার ফরেীণকে আরও কহিলেন, আমরা এই দেশে প্রবাস করিতে আসিয়াছি, কারণ আপনকার এই দাসদের পশুপালের চরাণী হয় না, ২৬ ミb" আদিপুস্তক । 8 SX কারণ কনান দেশে অতি ভারী ছুর্ভিক্ষ হইয়াছে : অতএব বিনয় করি, আপনকার এই দাসদিগকে গোশন ৫ প্রদেশে বাস করিতে দিউন। ফরেীণ যোষেফকে কহিলেন, তোমার পিতা ও ভ্রাতার তোমার কাছে আসি৬ য়াছে ; মিসর দেশ তোমার সম্মুখে রহিয়াছে ; দেশের উত্তম স্থানে আপন পিতা ও ভ্রাতাদিগকে বাস করাও ; তাহার গোশন প্রদেশে বাস করুক ; আর যদি তাহদের মধ্যে কাহাকেও কাহাকেও কাৰ্য্যদক্ষ লোক বলিয়া জান, তবে তাহাদিগকে আমার পশুপালের অধ্যক্ষ পদে ৭ নিযুক্ত কর। পরে যোষেফ আপন পিতা যাকোবকে আনাইয় ফরেণের সম্মুখে উপস্থিত করিলেন, ৮ আর যাকোব ফরেীণকে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। তখন ফরেীণ যাকোবকে জিজ্ঞাসিলেন, আপনার কত বৎসর ৯ বয়স হইয়াছে ? যাকোব ফরেীণকে কহিলেন, আমার প্রবাসকালের এক শত ত্রিশ বৎসর হইয়াছে ; আমার আয়ুর দিন অল্প ও কষ্টকর হইয়াছে, এবং আমার পিতৃপুরুষদের প্রবাসকালের আয়ুর তুল্য হয় নাই। ১০ পরে যাকোব ফরেীণকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়া তাহার ১১ সন্মুখ হইতে বিদায় হইলেন। তখন যোষেফ ফরেণের আজ্ঞানুসারে মিসর দেশের উত্তম অঞ্চলে, রামিষেষ প্রদেশে, অধিকার দিয়া আপন পিতা, ও ভ্রাতাদিগকে ১২ বসাইয়া দিলেন। আর যোষেফ আপন পিতা ও ভ্রাতাদিগকে এবং পিতার সমস্ত পরিজনকে তাহদের পরিবারানুসারে ভক্ষ্য দ্রব্য দিয়া প্রতিপালন করিলেন। যোষেফের মিসর দেশ শাসন । ১৩ তৎকালে সমগ্র দেশে ভক্ষ্য দ্রব্য ছিল না, কারণ অতি ভারী দুর্ভিক্ষ হইয়াছিল, তাহাতে মিসর দেশ ও ১৪ কনান দেশ দুর্ভিক্ষপ্রযুক্ত অবসন্ন হইয়া পড়িল । আর মিসর দেশে ও কনান দেশে যত রৌপ্য ছিল, লোকে তাহা দিয়া শস্ত ক্রয় করাতে যোষেফ সেই সমস্ত রৌপ্য ১৫ সংগ্ৰহ করিয়া ফরেীণের ভাণ্ডারে আনিলেন। মিসর দেশে ও কনান দেশে রৌপ্য ব্যয় হইয় গেলে মিশ্ৰীয়েরা সকলে যোষেফের নিকটে আসিয়া কহিল, আমাদিগকে খাদ্য দ্রব্য দিউন, আমাদের রৌপ্য শেষ হইয়া গিয়াছে বলিয়। আমরা কি আপনকার সম্মুখে মরিব ? ১৬ যোষেফ কহিলেন, তোমাদের পশু দেও ; যদি রৌপ্য শেষ হইয়া থাকে, তবে তোমাদের পশুর পরিবর্তে ১৭ তোমাদিগকে ভক্ষ্য দিব । তখন তাহারা যোষেফের কাছে আপন আপন পশু আনিলে যোষেফ অশ্ব, মেষপাল, গোপাল ও গর্দভদিগকে পরিবর্ত লইয়া তাহাদিগকে ভক্ষ্য দিতে লাগিলেন ; এইরূপে যোষেফ তাহীদের সমস্ত পশু লইয়া সেই বৎসর ভক্ষ্য দিয়া তাহদের চালাইয়া দিলেন। ১৮ আর সেই বৎসর অতীত হইলে দ্বিতীয় বৎসরে তাহারা তাহার নিকটে আসিয়া কহিল, আমরা প্ৰভু হইতে কিছু গোপন করিব না ; আমাদের সমস্ত রৌপ্য শেষ হইয়া গিয়াছে, এবং পশুধনও প্রভুরই 43 38 হইয়াছে; এখন প্রভুর সাক্ষাতে আর কিছুই অবশিষ্ট নাই, কেবল আমাদের শরীর ও ভূমি রহিয়াছে। ১৯ আমরা আপন আপন ভূমির সহিত আপনকার চক্ষুগোচরে কেন মারা যাইব ? আপনি ভক্ষ্য দিয়া আমাদিগকে ও আমাদের ভূমি ক্রয় করিয়া লউন ; আমরা আপন আপন ভূমির সহিত ফরেণের দাস হইব ; আর আমাদিগকে বীজ দিউন, তাহ হইলে আমরা বাচিব, মারা পড়িব না, ভূমিও নষ্ট হইবে না। ২• তখন যোষেফ মিসরের সমস্ত ভূমি ফরোণের নিমিত্তে ক্রয় করিলেন, কেননা দুভিক্ষ তাহদের অসহ হওয়াতে মিশ্ৰীয়ের প্রত্যেকে আপন আপন ক্ষেত্র বিক্রয় করিল। ২১ অতএব মাটি ফরেীণের হইল। আর তিনি মিসরের এক সীমা অবধি অন্ত সীমা পর্য্যন্ত প্রজাদিগকে নগরে ২২ নগরে প্রবাস করাইলেন। তিনি কেবল যাজকদের ভূমি ক্রয় করিলেন না, কারণ ফরেীণ যাজকদিগকে বৃত্তি দিতেন, এবং তাহারা ফরেণের দত্ত বৃত্তি ভোগ করিত ; এই জন্ত আপন আপন ভূমি বিক্রয় করিল না । পরে যোষেফ প্রজাগণকে কহিলেন, দেখ, আমি অদ্য তোমাদিগকে ও তোমাদের ভূমি ফরেণের নিমিত্তে ক্রয় করিলাম। দেখ, এই বীজ লইয়া ভূমিতে ২৪ বপন কর; তাহাতে যাহা যাহ উৎপন্ন হইবে, তাহার পঞ্চমাংশ ফরেীণকে দিও, অন্ত চারি অংশ ক্ষেত্রের বীজের নিমিত্তে এবং আপনাদের ও পরিজনদের ও শিশুগণের খাদ্যের নিমিত্তে তোমাদেরই থাকিবে । ২৫ তাহাতে তাহারা কহিল, আপনি আমাদের প্রাণ রক্ষা করিলেন ; আমাদের প্রতি আপনকার অনুগ্রহদৃষ্টি ২৬ হউক, আমরা ফরেীণের দাস হইব । মিসরের ভূমির সম্বন্ধে যোষেফ এই ব্যবস্থা স্থাপন করেন, আর ইহা অদ্যাবধি চলিতেছে যে, পঞ্চমাংশ ফরেীণ পাইবেন ; কেবল যাজকদের ভূমি ফরেণের হয় নাই। আর ইস্রায়েল মিসর দেশে, গোশন অঞ্চলে, বাস করিল, তাহার। তথায় অধিকার পাইয়া ফলবন্ত ও আতি বহুবংশ হইয়া উঠিল । যাকোব যোষেফের দুই পুত্রকে আশীৰ্ব্বাদ করেন । মিসর দেশে যাকোব সতের বৎসর জীবিত রহিলেন ; যাকোবের আয়ুর পরিমাণ এক শত সাতচল্লিশ ২৯ বৎসর হইল। পরে ইস্রায়েলের মরণ দিন সন্নিকট হইল। তখন তিনি আপন পুত্র যোষেফকে ডাকাইয়া কহিলেন, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকি, তবে বিনয় করি, তুমি আমার জঙ্ঘার নীচে হস্ত দেও, এবং আমার প্রতি সদয় ও সত্য ব্যবহার কর ; মিসরে আমাকে কবর দিও না । ৩• আমি যখন আপন পিতৃপুরুষদের নিকটে শয়ন করিব, তখন তুমি আমাকে মিসর হইতে লইয়৷ গিয় তাহীদের কবরস্থানে কবরশায়ী করিও । - చి -Rbア আদিপুস্তক। [ 8 ৭ ; ১৯ – ৪৮ ; ১৪ । ঘোষেফ কহিলেন, আপনি যাহা বলিলেন, তাঁহাই ৩১ করিব। আর যাকোব তাহাকে দিব্য করিতে কহিলে তিনি তাহার নিকটে দিব্য করিলেন। তখন ইস্রায়েল শয্যার শিয়রের দিকে প্ৰণিপাত করিলেন । 8b~ এই সকল ঘটনা হইলে পর কেহ যোধেফকে বলিল, দেখুন- আপনকার পিতা পীড়িত: তাহাতে তিনি আপনার দুই পুত্র মনঃশি ও ২ ইফ্লয়িমকে সঙ্গে লইয়া গেলেন। তখন কেহ যাকোবকে সংবাদ দিয়া কহিল, দেখুন, আপনার পুত্ৰ যোষেফ আসিয়াছেন ; তাহীতে ইস্রায়েল আপনাকে ও সবল করিয়া শয্যায় উঠিয়া বসিলেন । আর যাকোব যোষেফকে কহিলেন, কনান দেশে, লুস নামক স্থানে, সৰ্ব্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাকে দর্শন দিয়া আশীৰ্ব্বাদ ৪ করিয়াছিলেন, ও বলিয়াছিলেন, দেখ, আমি তোমাকে ফলবান ও বহুবংশ করিব, আর তোম৷ হইতে জাতিসমাজ উৎপন্ন করিব, এবং তোমার ভাবী ৫ বংশকে চিরস্থায়ী অধিকারার্থে এই দেশ দিব । আর মিসরে তোমার কাছে আমার আসিবার পূৰ্ব্বে তোমার যে দুই পুত্র মিসর দেশে জন্মিয়াছে, তাহার আমারই ; রূবেণ ও শিমিয়োনের স্থায় ইক্রয়িম ও ৬ মনঃশিও আমারই হইবে । কিন্তু তুমি ইহাদের পরে যাহাঁদের জন্ম দিয়াছ, তোমার সেই সন্তানের তোমারই হইবে, এবং এই দুই ভ্রাতার নামে ইহাদেরই অধিকারে ৭ আখ্যাত হইবে । আর পদন হইতে আমার আসিবার সময়ে কনান দেশে রাহেল ইক্রাথে পহুছিবার অল্প পথ থাকিতে পথিমধ্যে আমার কাছে মরিলেন : তাহাতে আমি তথায়, ইফ্রাথের, অর্থাৎ বৈৎলেহমের, পথের পাশ্বে তাহার কবর দিলাম। ৮ পরে ইস্রায়েল যোষেফের দুই পুত্রকে দেখিয়া ৯ জিজ্ঞাসিলেন, ইহার কে ? যোষেদ্ধ পিতাকে কহিলেন, ইহারা আমার পুত্র, যাহাদিগকে ঈশ্বর এই দেশে আমাকে দিয়াছেন । তখন তিনি কহিলেন, বিনয় করি, ইহাদিগকে আমার কাছে আন, আমি ১০ ইহাদিগকে আশীৰ্ব্বাদ করিব । তখন ইস্রায়েল বাৰ্দ্ধক্য প্রযুক্ত ক্ষীণ-দৃষ্টি হওয়াতে দেখিতে পাইলেন না ; আর তাহার নিকটে আনীত হইলে তিনি ১১ তাহাদিগকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করিলেন। পরে ইস্রায়েল যোষেফকে কহিলেন, আমি ভাবিয়াছিলাম, তোমার মুখ আর দেখিতে পাইব না ; কিন্তু দেখ, ১২ ঈশ্বর আমাকে তোমার বংশও দেখাইলেন । তখন যোষেফ দুই জানুর মধ্য হইতে তাহাদিগকে বাহির করিলেন, ও ভূমিতে মুখ দিয়া প্ৰণিপাত করিলেন। ১৩ পরে যোষেফ দুই জনকে লইয়। আপন দক্ষিণ হস্ত দ্বারা ইক্রয়িমকে ধরিয়া ইস্রায়েলের বামদিকে, ও বাম হস্ত দ্বারা মনঃশিকে ধরিয়া হস্রায়েলের দক্ষিণদিকে ১৪ তাহার নিকটে উপস্থিত করিলেন। তখন ইস্রায়েল দক্ষিণ হস্ত বাড়াইয়া কনিষ্ঠ ইফ্রয়িমের মস্তকে দিলেন, এবং বাম হস্ত মনঃশির মস্তকে রাখিলেন। এ 44 ৪৮ ; ১৫–8 ৯ ; ২১ । ] তাহার বিবেচনাসিদ্ধ বাহুচালন, কারণ মনঃশি প্রথমজাত । পরে তিনি যোষেফকে আশীৰ্ব্বাদ করিয়া কহিলেন, সেই ঈশ্বর, যাহার সাক্ষাতে আমার পিতৃপুরুষ অব্রাহীম ও ইসহাক গমনাগমন করিতেন—সেই ঈশ্বর, যিনি প্রথমাবধি অদ্য পর্য্যন্ত আমার পালক হইয়। ১৬ আদিতেছেন—সেই দূত, যিনি আমাকে সমস্ত আপদ হইতে মুক্ত করিয়াছেন—তিনিই এই বালক দুইটাকে আশীৰ্ব্বাদ করুন । ইহাদের দ্বারা আমার নাম ও আমার পিতৃপুরুষ অব্রাহামের ও ইস্হাকের নাম আখ্যাত হউক, এবং ইহার দেশের মধ্যে বহুগোষ্ঠীক ১৭ হউক। তখন ইফ্রয়িমের মস্তকে পিতা দক্ষিণ হস্ত দিয়াছেন দেখিয়া যোষেফ অসন্তুষ্ট হইলেন, আর তিনি ইফ্রায়মের মস্তক হইতে মনঃশির মস্তকে স্থাপনার্থে ১৮ পিতার হস্ত তুলিয়া ধরিলেন। যোষেফ পিতাকে কহিলেন, পিতঃ, এমন নয়, এই প্রথমজাত, ইহারই ১৯ মস্তকে দক্ষিণ হস্ত দিউন । কিন্তু তাহার পিতা অসম্মত হইয়া কহিলেন, বৎস, তাহ আমি জানি, আমি জানি , এও এক জাতি হইবে, এবং মহানও হইবে, তথাপি ইহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা ইহা অপেক্ষাও মহান হইবে, ও তাহার বংশ বহুগোষ্ঠীক হইবে । সেই দিন তিনি তাহাদিগকে আশীৰ্ব্ববাদ করিয়া কহিলেন, ইস্রায়েল তোমার নাম করিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিবে, বলিবে, ঈশ্বর তোমাকে ইক্রয়িমের ও মনঃশির তুল্য করুন। এইরূপ তিনি মনঃশি হইতে ইক্রয়িমকে অগ্রগণ্য করিলেন। পরে ইস্রায়েল যোগ্যফকে কহিলেন, দেখ, আমি মরিতেছি ; কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের সহবত্তী থাকিবেন, ও তোমাদিগকে আবার তোমাদের পিতৃপুরুষদের দেশে লইয়। যাইবেন । আর তোমার ভ্রাতাদের অপেক্ষ এক অংশ তোমাকে বেশী দিলাম ; তাহা আমি আপন খড়গ ও ধনুর দ্বারা ইমারীয়দের হস্ত হইতে লইয়াছি। যাকোব পুত্ৰগণকে আশীৰ্ব্বাদ করেন। 8) পরে যাকোব আপন পুত্রগণকে ডাকিয় কহিলেন, তোমরা একত্র হও, উত্তর কালে তোমাদের প্রতি যাহা ঘটিবে, তাহ। তোমাদিগকে বলিতেছি। ২ যাকোবের পুত্ৰগণ, সমবেত হও, শুন, তোমাদের পিতা হস্রায়েলের বাক্য শুন । ৩ রূবেণ, তুমি আমার প্রথমজাত, আমার বল ও আমার শক্তির প্রথম ফল, মহিমার প্রাধান্ত ও পরাক্রমের প্রাধান্ত । ৪ তুমি তপ্ত] জলবৎ চপল, তোমার প্রাধান্ত থাকিবে না; কেনন। তুমি আপন পিতার শয্যায় গিয়াছিলে ; তখন অপবিত্র কৰ্ম্ম করিয়াছিল ; সে আমার শয্যায় গিয়াছিল । ৫ শিমিয়োন ও লেবি দুই সহোদর : তাহাদের খড়গ দেীরাত্ম্যের অস্ত্র । > 6. ২০ } R ২২ আদিপুস্তক 8 (t ৬ হে মম প্রাণ । তাহদের সভায় যাইও না ; হে মম গৌরব । তাহদের সমাজে যোগ দিও না ; কেননা তাহার ক্রোধে নরহত্যা করিল, স্বেচ্ছাচারিতায় বৃষের শিরা ছেদন করিল। ৭ অভিশপ্ত তাহদের ক্রোধ, কেননা তাহ প্রচণ্ড , তাহদের কোপ, কেননা তাহ নিষ্ঠুর ; আমি তাহাদিগকে যাকোবের মধ্যে বিভাগ করিব, ইস্রায়েলের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করিব। ৮ যিহ্ৰদ, তোমার ভ্রাতৃগণ তোমারই স্তব করিবে: তোমার হস্ত তোমার শক্রগণের ঘাড় ধরিবে: তব পিতৃসন্তানের তোমার সম্মুখে প্ৰণিপাত করিবে ৮ ৯ যিহদ সিংহশাবক ; বৎস, তুমি মৃগবিদারণ হইতে উঠিয়া আসিলে ; সে শয়ন করিল, ওঁড়ি মারিল, সিংহের স্যায়, ও সিংহীর স্থায় ; কে তাহাকে উঠাইবে ? ১• যিহ্রদ হইতে রাজদণ্ড যাইবে না, তাহার চরণযুগলের মধ্য হইতে বিচারদও যাইবে না, যে পৰ্য্যন্ত শীলে* না আইসেন : জাতিগণ তাহারই আজ্ঞাবহতা স্বীকার করিবে । ১১ সে দ্রাক্ষালতায় আপন গর্দভ বাধবে, উত্তম দ্রাক্ষালতায় আপন খরশাবক বধিবে ; সে দ্রাক্ষরসে আপন পরিচ্ছদ কাচিয়াছে, দ্রাক্ষার রক্তে আপন কাপড় কাচিয়াছে। ১২ তাহার চক্ষু দ্রাক্ষরসে রক্তবর্ণ, তাহার দন্ত দুগ্ধে শ্বেতবর্ণ। সবুলুন সমুদ্র-তীরে বাস করিবে, তাহ পোতাশ্রয়ের তাঁর হইবে, সীদোন পৰ্য্যন্ত তাহার সীমা হইবে। ১৪ ইষাথর বলবান গর্দভ, সে খোয়াড়ের মধ্যে শয়ন করে। ১৫ সে দেখিল, বিশ্রামস্থান উত্তম, দেখিল, এই দেশ রমণীয়, তাই ভার বহিতে কাধ পাতিয়া দিল, আর করাধীন দাস হইল । দান আপন প্রজাবৃন্দের বিচার করিবে, ইস্রায়েলের এক বংশের দ্যায়। ১৭ দান পথে অবস্থিত সপ, সে মার্গে অবস্থিত ফণী, যে ঘোটকের চরণে দংশন করে, আর তদারূঢ় ব্যক্তি পশ্চাতে পতিত হয়। ১৮ সদাপ্রভো, আমি তোমার পরিত্রাণের অপেক্ষীয় রহিয়াছি - ১৯ গাদকে সৈন্যদল আঘাত কারবে ; কিন্তু সে তাহীদের পশ্চাদ্ভাগে আঘাত করিবে । আশের হইতে অতি উত্তম খাদ্য জন্মিবে: সে রাজার উপাদেয় ভক্ষ্য যোগাইয়া দিবে। নপ্তালি উন্মুক্ত হরিণ, সে মনোহর বাক্য বলে ।

  • (ৰা) র্যাদ্ধাৰ অধিকার অাছে, তিনি।

SNరి )W。 ૨૦ 을》 45 8 や ২২ যোষেফ ফলবান তরু-পল্লব, জলপ্রবাহের পাশ্বস্থিত ফলবান তরু-পল্লব ; তাহার শাখা সকল প্রাচীর অতিক্রম করে। ধনুৰ্দ্ধরেরা তাহাকে কঠোর ক্লেশ দিয়াছিল, বাণাঘাতে তাহাকে উৎপীড়ন করিয়াছিল ; ২৪ কিন্তু তাহার ধনুক দৃঢ় থাকিল, তাহার হস্তের বাহুযুগল বলবান রহিল, যাকোবের একবীরের হস্ত দ্বারা, যিনি ইস্রায়েলের পালক ও শৈল, তাহার দ্বারা, ২৫ তোমার পিতার সেই ঈশ্বরের দ্বারা,—যিনি তোমাকে সাহায্য করবেন,— সেই সৰ্ব্বশক্তিমানের দ্বারা,—যিনি তোমাকে আশীৰ্ব্বাদ করবেন, উপরিস্থ আকাশ হইতে নিঃস্বত আশীর্বাদে, অধোবিস্তীর্ণ জলধি হইতে নিঃস্বত আশীৰ্ব্বাদে, স্তন ও গৰ্ত্ত হইতে নিঃস্বত আশীৰ্ব্বাদে । ২৬ আমার পিতৃপুরুষদের আশীৰ্ব্বাদ অপেক্ষা তোমার পিতার আশীৰ্ব্বাদ উৎকৃষ্ট । তাহা চিরন্তন গিরিমালার সীমা পর্য্যন্ত ব্যাপ্ত : তাহা বৰ্ত্তিবে যোষেফের মস্তকে, ভ্রাতৃগণ হইতে পৃথককৃতের মস্তকের তালুতে । বিস্তামীন বিদারক নেকড়িয়ার তুল্য ; প্রাতঃকালে সে শিকার ভক্ষণ করিবে, সন্ধ্যাকালে সে লুট দ্রব্য বণ্টন করবে। " ইহারা সকলে ইস্রায়েলের দ্বাদশ বংশ : ইহঁদের পিতা আশীৰ্ব্বাদ করিবার সময়ে এই কথা কহিলেন ; ইহাদের প্রত্যেক জনকে বিশেষ বিশেষ আশীৰ্ব্বাদ করিলেন । যাকোবের ও যেযেফের মৃত্যু। পরে যাকোব তাহাদিগকে আদেশ দিয়া কহিলেন, আমি আপন লোকদের নিকটে সংগৃহীত হইতে ৩০ উদ্যত। হেতীয় ইফ্রোণের ক্ষেত্রস্থিত গুহাতে আমার পিতৃপুরুষদের নিকটে আমার কবর দিও ; সেই গুহ। কনান দেশে মম্রির সন্মুখস্থ মক্‌পেলা ক্ষেত্রে স্থিত ; আব্রাহাম হেতীয় ইফ্রোণের কাছে তাহ কবরস্থানের ৩১ অধিকার জন্ত কিনিয়াছিলেন । সেই স্থানে অব্রাহীমের ও তাহার ভাৰ্য্য। সারার কবর হইয়াছে, সেই স্থানে ইস্হাকের ও তাহার ভাৰ্য্য। রিবিকার কবর হইয়াছে, ৩২ এবং সেই স্থানে আমিও লেয়ার কবর দিয়াছি ; সেই ক্ষেত্র ও তাহার মধ্যবত্তী গুহা হেতের সন্তানদের কাছে ৩৩ কেন হইয়াছিল। যাকেবে আপন পুত্রদের প্রতি আদেশ সমাপ্ত করিলে পর শয্যাতে দুই চরণ একত্র করিলেন, ও প্রাণত্যাগ করিয়া আপন লোকদের নিকটে সংগৃহীত হইলেন। (ζο তখন যোযেফ আপন পিতার মুখে মুখ দিয়৷ রোদন করিলেন, ও তাঁহাকে চুম্বন করিলেন। ২ আর যোষেফ আপন পিতার দেহে ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য ২৭ ২৮ ఇని আদিপুস্তক । [ 8 > ; २२ - G ० ; २१ ॥ দিতে আপন দাস চিকিৎসকগণকে আজ্ঞা করিলেন, তাহাতে চিকিৎসকের ইস্রায়েলের দেহে ক্ষয়-নিবারক ৩ দ্রব্য দিল । তাহার সেই কার্য্যে চল্লিশ দিন যাপন করিল, কেননা সেই ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিতে চল্লিশ দিবস লাগে ; আর মিশ্ৰীয়ের তাহার নিমিত্তে সত্তর দিন ৪ যাবৎ শোক করিল। সেই শোকের দিন অতীত হইলে যোষেফ ফরোণের পরিজনকে কহিলেন, যদি আমি আপনাদের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকি, তবে ৫ ফরেীণের কর্ণগোচরে এই কথা বলুন, আমার পিত আমাকে দিব্য করাইয়া বলিয়াছেন, দেখ, আমি মরিতেছি, কনান দেশে আমার জন্য যে কবর খনন করিয়াছি, তুমি আমাকে সেই কবরে রাখিও । অতএব বিনয় করি, আমাকে যাইতে দিউন ; আমি পিতাকে ৬ কবর দিয়া আবার আসিব। ফরেীণ কহিলেন, যাও, তোমার পিতা তোমাকে যে দিব্য করাইয়াছেন, তুমি তদনুসারে তাহার কবর দেও। পরে যোষেফ আপন পিতার কবর দিতে যাত্র করিলেন ; আর ফরেীণের দাসগণ সকলে—তাহার গৃহের প্রাচীনগণ ও মিসর দেশের প্রাচীনের সকলে— ৮ এবং যোষেফের সকল পরিবার, তাহার ভ্রাতৃগণ ও তাহার পিতৃকুল তাহার সঙ্গে গমন করিলেন ; তাহার গোশন প্রদেশে কেবল তাহদের বালক বালিকাগণ, মেষপাল ৯ ও গোপাল রাখিয়া গেলেন। তাহার সহিত রথ ও অশ্বারোহিগণ গমন করিল ; অতি ভারী সমারোহ হইল । ১০ পরে তাহার। যদিনের পারস্থ আটদের খামারে উপস্থিত হইয়৷ তথায় মহাবিলাপ করিয়া রোদন করিলেন : যোষেফ সেই স্থানে পিতার উদ্দেশে সাত দিন শোক ১১ করিলেন। আটদের খামারে তাহদের তাদশ শোক দেখিয়া সেই দেশনিবাসী কনানীয়ের কহিল, মিশ্রীয়দের এ অতি দারুণ শোক ; এই নিমিত্তে যদিনপরিস্থ সেই স্থান আবেল্‌-মিশ্রয়ীম [মিস্ত্রীয়দের শোক] নামে ১২ আখ্যাত হইল । যাকোব আপন পুত্রগণকে যেরূপ আজ্ঞা দিয়াছিলেন, তাহার তদনুসারে তাহার সৎকার ১৩ করিলেন । ফলতঃ তাহার পুত্রগণ তাহাকে কনান দেশে লইয়া গেলেন, এবং মস্ত্রির সম্মুখস্থ মক্‌পেলা ক্ষেত্রের মধ্যবৰ্ত্তী গুহাতে তাহার কবর দিলেন, যাহা আব্রাহীম ক্ষেত্রসহ কবরস্থানের অধিকারার্থে হেতীয় ১৪ ইফ্রোণের কাছে ক্রয় করিয়াছিলেন। পিতার কবর হইলে পর যোষেফ, তাহার ভ্রাতৃগণ, এবং যত লোক তাহার পিতার কবর দিতে তাহার সঙ্গে গিয়াছিলেন, সকলে মিসরে ফিরিয়৷ অসিলেন । আর পিতার মৃত্যু হইল দেখিয়া যোষেফের ভ্রাতৃগণ কহিলেন, হয় ত যোষেফ আমাদিগকে ঘৃণা করিবে, আর আমরা তাহার যে সকল অপকার করিয়াছি, তাহার ১৬ সম্পূর্ণ প্রতিফল আমাদিগকে দিবে। আর তাহারা যোষেফের নিকটে এই কথা বলিয়া পাঠাইলেন, তোমার পিতা মৃত্যুর পূর্বে এই আদেশ দিয়াছিলেন, ১৭ তোমরা যোষেফকে এই কথা বলিও, তোমার ভ্রাতৃগণ 월 > 6. 46 с о ; Sъ — 5 ; зо I তোমার অপকার করিয়াছে, কিন্তু বিনয় করি, তুমি তাহদের সেই অধৰ্ম্ম ও পাপ ক্ষমা কর । অতএব এখন আমরা বিনয় করি, তোমার পিতার ঈশ্বরের এই দাসদের অধৰ্ম্ম ক্ষমা কর। তাহদের এই কথায় যোষেফ ১৮ রোদন করিতে লাগিলেন। পরে তাহার ভ্রাতৃগণ আপনার গিয়া তাহার সম্মুখে প্ৰণিপাত করিয়া ১৯ কহিলেন, দেখ, আমরা তোমার দাস। তখন যোষেফ তাহাদিগকে কহিলেন, ভয় করিও না, আমি কি ২৪ ঈশ্বরের প্রতিনিধি ? তোমরা আমার বিরুদ্ধে অনিষ্ট কল্পনা করিয়াছিলে বটে, কিন্তু ঈশ্বর তাহা মঙ্গলের কল্পনা করিলেন ; আদ্য যেরূপ দেখিতেছ, এইরূপে অনেক লোকের প্রাণ রক্ষা করাই তাহার অভি২১ প্রায় ছিল। তোমরা এখন ভীত হইও না, আমিই তোমাদিগকে ও তোমাদের বালক বালিকাগণকে প্রতিপালন করিব। এইরূপে তিনি তাহাদিগকে সাম্বন করিলেন, ও চিত্ততোষক কথা কহিলেন । আদিপুস্তক—যাত্রাপুস্তক । 8 ዓ পরে যোষেফ ও র্তাহার পিতৃকুল মিসরে বাস করিতে থাকিলেন ; এবং যোষেফ এক শত দশ বৎসর জীবিত ২৩ রহিলেন। যোষেফ ইক্ৰয়িমের পৌত্র পর্য্যন্ত দেখিলেন ; মনঃশির মার্থীর নামক পুত্রের শিশুসন্তানেরাও যোষে২৪ ফের ক্রোড়ে ভূমিষ্ঠ হইল। পরে যোষেফ আপন ভ্রাতৃগণকে কহিলেন, আমি মরিতেছি, কিন্তু ঈশ্বর অবষ্ঠ তোমাদের তত্ত্বাবধান করিবেন, এবং অব্রাহীমের, ইস্হাকের ও যাকোবের নিকটে যে দেশ দিতে দিব্য করিয়াছেন, তোমাদিগকে এই দেশ হইতে সেই দেশে ২৫ লইয়া যাইবেন। আর যোষেফ ইস্রায়েল-সন্তানগণকে এই দিব্য করাইলেন, কহিলেন, ঈশ্বর অবস্থা তোমাদের তত্ত্বাবধান করিবেন, আর তোমরা এ স্থান হইতে ২৬ আমার অস্থি লইয়। যাইবে । যোষেফ এক শত দশ বৎসর বয়সে মরিলেন ; আর লোকের তাহার দেহে ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিয় তাহ মিসর দেশে এক শবাধারের মধ্যে রাখিল । ९९ যাত্রাপূস্তক। ইস্রায়েলীয়দের বৃদ্ধি ও দৌরাত্ম্যভোগ। Ş ইস্রায়েলের পুত্ৰগণ, যাহারা মিসর দেশে গিয়াছিলেন, সপরিবারে যাকোবের সহিত গিয়া২ ছিলেন, তাহদের নাম এই এই —রবেণ, শিমিয়োন, ৩.৪ লেবি ও বিহ্রদ, ইষাখর, সবুলুন ও বিদ্যামন, দান ও ৫ নপ্তালি, গাদ ও আশের । যাকোবের কটি হইতে উৎপন্ন প্রাণী সৰ্ব্বশুদ্ধ সত্তর জন ছিল ; আর যোষেফ ৬ মিসরেই ছিলেন। পরে যোষেফ, তাহার ভ্রাতৃগণ ও ৭ তাৎকালিক সমস্ত লোক মরিয়া গেলেন। আর ইস্রায়েল-সন্তানের ফলবন্ত, অতি বদ্ধিষ্ণু ও বহুবংশ হইয়া উঠিল, ও অতিশয় প্রবল হইল, এবং তাঁহাদের দ্বারা দেশ পরিপূর্ণ হইল। ৮. পরে মিসরের উপরে এক নুতন রাজ উঠিলেন, ৯ তিনি যোষেফকে জানিতেন না । তিনি আপন প্রজাদিগকে কহিলেন, দেখ, আমাদের অপেক্ষ ইস্রায়েল১০ সন্তানদের জাতি বহুসংখ্যক ও বলবান ; আইস, আমরা তাহদের সহিত বিবেচনাপূর্বক ব্যবহার করি, পাছে তাহারা বাড়িয়া উঠে, এবং যুদ্ধ উপস্থিত হইলে তাহারাও শক্রপক্ষে যোগ দিয়া আমাদের সহিত যুদ্ধ করে, এবং এ দেশ হইতে প্রস্থান করে। ১১ অতএব তাহারা ভার বহন দ্বারা উহাদিগকে দুঃখ দিবার জন্ত উহাদের উপরে কার্য্যশাসকদিগকে নিযুক্ত করিল। আর উহারু ফরেণের নিমিত্ত ভণ্ডারের নগর, ১২ পিথোম ও রামিষ্যে গাখিল । কিন্তু উহার তাহীদের দ্বারা যত দুঃখ পাইল, ততই বৃদ্ধি পাইতে ও ব্যাপ্ত হইতে লাগিল ; তাই ইস্রায়েল-সন্তানদের বিষয়ে ১৩ তাহারা অতিশয় উদ্বিগ্ন হইল। আর মিশ্ৰীয়ের৷ নির্দয়তাপূর্বক ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে দাস্ত্যকৰ্ম্ম করা১৪ ইল ; তাহার কর্দম, ইষ্টক ও ক্ষেত্রের সমস্ত কার্য্যে কঠিন দস্তিকৰ্ম্ম দ্বারা উহাদের প্রাণ তিক্ত করিতে লাগিল। তাহারা উহাদের দ্বারা যে যে দস্তকৰ্ম্ম করাইত, সে সমস্ত নির্দয়তাপূর্বক করাইত। ১৫ পরে মিসরের রাজ শিফ্র নামে ও পূয়া নামে ১৬ দুই ইব্রীয় ধাত্রীকে এই কথা কহিলেন, যে সময়ে তোমরা ইব্রীয় স্ত্রীলোকদের ধাত্রীকাৰ্য্য করিবে, ও তাহাদিগকে প্রসব-আধারে দেখিবে, যদি পুত্রসন্তান হয়, তাহাকে বধ করিবে ; আর যদি কন্যা হয়, তাহাকে ১৭ জীবিত রাখিবে । কিন্তু ঐ ধাত্রীরা ঈশ্বরকে ভয় করিত, স্বতরাং মিসর-রাজের আজ্ঞানুসারে না করিয়া পুত্র১৮ সন্তানদিগকে জীবিত রাখিত। তাই মিসর-রাজ সেই ধাত্ৰাদিগকে ডাকাইয়া কহিলেন, এ কৰ্ম্ম কেন করিয়াছ ? পুত্রসন্তানগণকে কেন জীবিত রাখিয়াছ ? ১৯ ধাত্রীরা ফরেীণকে উত্তর করিল, ইব্রীয় স্ত্রীলোকের মিস্ত্রীয় স্ত্রীলোকদের স্তায় নহে ; তাহারা বলবতী, তাহাদের কাছে ধাত্রী যাইবার পূর্বেই তাহারা ২০ প্রসব হয়। অতএব ঈশ্বর ঐ ধাত্রীদের মঙ্গল করিলেন ; এবং লোকের বৃদ্ধি পাইয়৷ অতিশয় বলবান হইল । 47