নজরুলকে যেমন দেখেছি (১৯৫৮)
নজরুলকে
যেমন
দেখেছি
প্রথম প্রকাশ
আষাঢ় ১৩৬৫
প্রকাশক
এ. হক
২১ বি, নাসিরুদ্দীন রোড
প্রচ্ছদপট
খালেদ চৌধুরী
মুদ্রাকর
ঐগণেশপ্রসাদ সরাফ্
মুদ্রক মণ্ডল লিমিটেড্
১৭।১, বিন্দুপালিত লেন
কলিকাতা-৬
পরিবেশক
ভারতী লাইব্রেরী
৬, বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট
কলিকাতা-১২
নওরোজ কিতাবিস্তান ৪৬,
বাংলা বাজার, ঢাকা
দাম ২.৫০
যাকে দিয়ে নজরুলের সঙ্গে পরিচয়, আমার জীবনের
পথপ্রদর্শক, আবাল্য-সহচর সেই জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা
বাহারকে দিলাম।
লেখিকার কথা
এ বই যার লেখার কথা ছিল, তিনি নজরুলের প্রিয় সহচর আমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বাহার। স্বাস্থ্য ভঙ্গ হওয়ার দরুন তাঁর ভাগ্যে যা কুলিয়ে উঠল না, সে কাজে হাত দিতে হ’ল আমাকে। নজরুল সম্বন্ধে যে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা তাঁর হাত দিয়ে বেরুতে পারত, তার যোগ্যতা আমার নেই, তা বলাই বাহুল্য। তবু আমি এ কাজে হাত দিতে গেলাম কেন?
কবি নজরুল ইস্লামের কাব্য ও জীবন সম্পর্কে বিস্তর গবেষণার অবকাশ ও প্রয়োজন আছে। যাঁরা এ কাজের দায়িত্ব নেবেন, তাঁদের আরও যথেষ্ট মাল-মসলা যোগাড় করতে হবে। এ কাজ যে কত ধৈর্য ও শ্রমসাপেক্ষ, যাঁরা এ ধরনের কাজ করেছেন, তা’ ভাল ক’রে বুঝবেন শুধু তাঁরাই। পাকিস্তান লাভের পর এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, চেষ্টাও দেখা গেছে কিছু কিছু, কিন্তু কাজ বেশী দূর এগোয়নি। আজকের এই রাজনৈতিক কোলাহলপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও একান্তে তরুণ সমাজের—যতই ছোট হোক না কেন—একটা দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে একটা গবেষণার মনোভাব। যাঁরা তাঁদের নিকট সংস্পর্শে আসবার সুযোগ পান, তাঁদের কেউ কেউ অনুভব করছেন, আমি নিজেও তার কিছু আভাস পেয়েছি। সমাজের পক্ষে এটা সত্যই আশার লক্ষণ সন্দেহ নেই।
নজরুল-প্রতিভার উদয়, প্রকাশ ও পূর্ণ গৌরবের যুগে যাঁরা তাঁর কাছাকাছি আসবার, তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে জানবার ও বুঝবার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাঁদের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসবে এবার। কবির অগণিত ভক্তদের মধ্যে যাঁরা তাঁর এবং তাঁর যুগ সম্পর্কে গবেষণার ভার নিচ্ছেন বা নেবেন, তাঁদের প্রতি পূর্ববর্তীদের কিছুটা দায়িত্ব আছে। অথচ কোন কোন ক্ষেত্রে এ সব ব্যাপারে বয়োজ্যেষ্ঠদের সহানুভূতি ও সহযোগিতার সম্পূর্ণ অভাব দেখা গেছে বলে নবীন সাহিত্যিকদের মধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। এঁদের কাজ যাতে সহজতর হয়, তার জন্যে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যার যতটুকু সাধ্য মালমসলা তৈরি ক’রে দেওয়া আমাদের কর্তব্য বলে আমি মনে করি এবং এ ধারণা থেকেই এই লেখায় হাত দিয়েছি আমি।
আমাদের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কবির একটা স্নেহের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কবির সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্যের পটভূমিতে আমি তাঁরই স্মৃতিকথা পেশ করবার চেষ্টা করলাম। কবি সম্বন্ধে এ আলোচনা আরও সম্পূর্ণ হবে মনে ক’রে বইয়ের শেষের দিকে জুড়ে দিলাম কবিতা ক’টি।
নজরুলের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে গভীর এবং ব্যাপক গবেষণা করতে গিয়ে যদি কেউ এই সীমাবদ্ধ পটভূমিকায় লেখা বইখানি থেকে সামান্যও সাহায্য পান, তবেই সার্থক হবে আমার পরিশ্রম। কবিদা’র স্বহস্ত লিখিত কবিতা ও পত্রাবলী, চট্টগ্রামের পাহাড়ে-জঙ্গলে, ঝর্ণাতলে, সিন্ধু-সৈকতে, কর্ণফুলীর তীরে এবং আমাদের গৃহ-প্রাঙ্গণে তোলা তাঁর বহু অপ্রকাশিত ছবি (তার মধ্যে বিস্তর আমার ভাইয়ের নিজের হাতে তোলা) এবং সে-যুগের বহু পত্র-পত্রিকা আমাদের কাছে ছিল। কালের ধ্বংসলীলার মধ্যে তা’ এতকাল ধরে যক্ষের ধনের মত রক্ষা ক’রেও দেশ বিভাগের ওলট-পালটের সময় শত চেষ্টা সত্ত্বেও অনেক নষ্ট হয়ে গেছে। আমার ভাইয়ের কাছে বাকী পুঁজিপাটা যা ছিল, বই লেখার সময় তা’ আমাকে এগিয়ে দিয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা আমার সেলিনা ফুফু আম্মা। ছবিগুলোর পরিচয় সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করেছেন আমার ভাই নিজে।
এ বই লেখার সময় আমার হাতের কাছে ছিল নজরুল সম্পর্কে জনাব আবুল ফজল ও জনাব আজহারউদ্দীন খানের সুলিখিত গ্রন্থ দু’খানি, পুরনো ধূমকেতু এবং নূতন ও পুরাতন অন্যান্য পত্র-পত্রিকা। নজরুল সম্পর্কে আমার ভাইয়ের রচনা বেরিয়েছিল ‘মাহে নও’ পত্রিকায় এবং আমার রচনা বেরিয়েছিল ‘নয়া সড়ক’ পত্রিকায়। মালমসলার খোঁজে আমাকে ও আমার স্বামীকে কলকাতায় শ্রীযুত বুদ্ধদেব বসু ও শ্রীমতী প্রতিভা বসুর আতিথ্য গ্রহণ ক’রে বৃষ্টিঝরা একটা গোটা দুপুর তাঁদের চা ধ্বংস করতে হয়েছিল। বইপত্রের ব্যাপারে আরও কিছু সাহায্য করেছেন অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, শ্রীমতী বাসন্তী গুহ ঠাকুরতা ও আমার কবি বেয়ান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা। বইয়ের ভেতরকার লেখাগুলো সাজাবার ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন ‘কাশবনের কন্যা’ রচয়িতা সুসাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন। জনাব নাসির আলী ও জনাব আয়নুল হক খাঁ সাহিত্য-ক্ষেত্রে আমার ভাইয়ের অন্তরঙ্গ বন্ধু। নজরুলের সঙ্গেও ছিল তাঁদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়। নজরুল সম্পর্কে এ বই তাঁরা প্রকাশ করবার ভার নেওয়ায় আমি নিশ্চিন্ত হয়েছি। এঁদের সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।
পরিচ্ছেদ (মূল গ্রন্থে নেই)
সূচীপত্র
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।